গিন নো সাজি- রূপার চামচের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

000

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “অ্যানিমে কেন দেখ?” অনেক ধরণের উত্তরের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটা পাওয়া যায়, তা হল, “অ্যানিমে / মাঙ্গা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।” এই উত্তরটা আমাকে সবসময় খুব অবাক করত, কারণ আমি অ্যানিমে / মাঙ্গাকে সবসময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অন্তত এই একটি অ্যানিমে আমার ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই অ্যানিমেটা শেষ করার পর আমি মাঙ্গাটাও পড়ে ফেলি। তাই এই রিভিউটি গিন নো সাজির অ্যানিমে এবং মাঙ্গা দুটিই কভার করবে।

প্রথমে মাঙ্গা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই-
Genres: Comedy, Drama, School, Shounen
Authors: Arakawa, Hiromu (Story & Art)
Status: Publishing
Score: 8.26
Ranked: 428

Gin-no-Saji-Ep-2-Img-0016-1024x576

হাচিকেন ইয়্যুগো একজন শহুরে কিশোর। বলতে গেলে তার সারাজীবন কেটেছে চার দেয়ালের মাঝে। বাসা, স্কুল এবং পড়াশোনা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। এই শহুরে ছেলেটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সে কোন শহুরে হাইস্কুলে পড়বে না; বরং টোকিও থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি অ্যাগ্রিকালচারাল স্কুলে পড়বে, এবং সেখানে ডর্মিটরিতে থাকবে।

স্কুলের প্রথম দিন থেকেই হাচিকেন একের পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়ে! তার সহপাঠীরা সবাই খামারের কাজে ওস্তাদ; তারা সবাই এই স্কুলে এসেছে, কারণ তারা কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরিবারকে ব্যাবসায় সাহায্য করতে চায়। সেখানে হাচিকেন জীবনে কোনদিন কাছ থেকে গবাদি পশুও চোখে দেখেনি; অন্যদের কাছে যা স্বাভাবিক ঘটনা, হাচিকেনের কাছে সেগুলোই একেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ!

1

জীবনের টুকরা জনরার বিরূদ্ধে একটা সাধারণ অভিযোগ, এগুলো নাকি বোরিং। কিন্তু রূপার চামচের বিরূদ্ধে আমার অভিযোগ, এটা দেখতে বসলে খিদে পায়! আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো শুধু করার জন্য করি, সেগুলো যে আনন্দ নিয়েও করা যায়, তা গিন নো সাজি থেকে শিখেছি। একজন শহুরে ছাত্রের অ্যাগ্রিকালচার স্কুলে পড়তে যাওয়া, সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকার প্রচেষ্টা, বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক কিছু কথা- সব মিলিয়ে এই গল্পটি রূপার চামচের মতই এক টুকরো সম্পদ। সামান্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারও যে কতটা উপভোগ্য হতে পারে, আমরা যে পিজা দোকানে গিয়ে কিনে খাই, তা সবাই মিলে বানিয়ে খাওয়া কতটা মজার হতে পারে… একটা পশুকে নিজে হাতে যত্ন করে বড় করার পর তাকে খাদ্যে পরিণত হতে দেয়াটা একইসাথে কত কষ্টের এবং আনন্দের হতে পারে- জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোর গুরুত্ব এই গল্পটি আমাকে মনে করিয়েছে। সেইসাথে খামার বা কৃষিকাজ করে যারা জীবন যাপন করে, তাদের জীবনের সুখদুঃখটা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন মাঙ্গাকা, আর তা পারবেনই বা না কেন! এর আগে তিনিই যে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্টের মত অসাধারণ এক গল্প!

014

মাঙ্গাটি আরাকাওয়া সেনসেই এর কাজ, কাজেই আর্ট এবং গল্প বলার স্টাইলের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই, প্রতিটা পৃষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হালকা হাস্যরস তৈরি করেছেন, পড়ার সময় তা মনটাকে হালকা করে তোলে। সেইসাথে অ্যানিমেটিও কম যায়না, এর ঝকঝকে মন ভাল করা আর্ট এবং অসাধারণ ওএসটির কারণে।

একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মাঝে গল্প উপন্যাসকেও হার মানায়! সেই চ্যালেঞ্জ পার করতে “ও পারলে আমি পারব” ধরণের মানিসকতা কাজে দেয়না; বরং নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে সেখান থেকেই যা করা সম্ভব তা করতে হয়। নাকামা পাওয়ার নয়, এনিথিং ফর মাই নাকামা নয়, সাধ্যমত সাহায্য করা এবং না পারলে নিজের অক্ষমতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। গিন নো সাজিতে এই বার্তাটি খুব সুন্দর একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই, পারলে আজই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গাটি এবং আবিষ্কার করুন স্লাইস অফ লাইফ জনরার একটি অমূল্য রত্ন!

10847473_407429682754877_2032844622808354923_o

Comments