Hajime no Ippo [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

hajime-no-ippo-1

কারও উপর রাগ হলে , সেইরাগ কমানোর উপায় কি ? মেডিটেশন , উল্টাগোনা ? আমার মতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘুষানো ! যারা ফাইটক্লাব মুভিটা দেখসেন তারা জানেন মারামারির কি গুণ । এখন এই বিনোদনের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘুষাঘুষিকেই বলা হয় বক্সিং । এটা এমন একখেলা যেটাতে মৃত্যু অসম্ভব নয় । এবং এরকমন স্পোর্টস বেইজড এনিমে হবে না তা কি হয় !? এই বক্সিং নিয়েই হাজিমে নো ইপ্পোর কাহিনী ।

প্লট : এই এনিমের নায়ক অপাতদৃষ্টিতে ইপ্পো । বাবাহারা এক জেলে সন্তান , মাকে নৌকা ব্যাবসায় সাহায্য করা এবং পড়াশুনার মধ্যেই তার জীবন । বেশি বন্দ্ধু না থাকায় এবং চুপচাপ এবং লাজুক স্বভাবের হওয়ায় প্রায়ই বুলিইংএর শিকার হয় । এরকম এক পরস্থিতিতে পরে মার খাওয়ার সময় তাকে এক লোক গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচায় এবং ফার্স্ট এইড দেওয়ার জন্য জিমে নিয়ে যায় , এই লোক হচ্ছে এই এনিমের অন্যতম প্রধান ক্যারেকটার মামুরো টাকামুরা , যে একজন ট্যালেন্টেড এবং অজেয় উদীয়মান বক্সার । এখন রতনে রতন চেনে , মাকে নৌকা ভাড়া ব্যাবসায় ছোটবেলা থেকে সাহায্য করা দরুন ইপ্পোর শরীর ছিল সুগঠিত এবং আর ছিল ফাইটিং স্পিরিট যা টাকামুরার চোখ এড়ায় না । টাকামুরার জোরাজুরিতে এবং স্পারে ইপ্পোর পান্চিং পাওয়ার এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে জিমের কোচ গেনসান তাকে জিমে ভর্তি করে নেয় এবং শুরু হয় ইপ্পোর বক্সিং জগতে পথ চলা ।
আমি আত্নবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে সর্বকালের সেরা স্পোর্টস এনিমে বলতে গেলে ইপ্পোকে না রেখে কথা বলা যাবে না । প্রথম হল এর অসাধারন স্টোরিলাইন । এলাম .দেখলাম ,জয় করলাম এইরকম কাহিনী এখানে না । এখানে প্রত্যেক ক্যারেকটারকে স্ট্রাগল করতে হয়েছে এবং করতেই রয়েছে ।এখানে ইপ্পোকে প্রথমে মেইন ক্যারেকটার মনে হলেও ,পরে প্রত্যককেই মেইনক্যারেকটারের মতো মনে হবে । বক্সিং এমন এক স্পোর্টস যেখানে শুধু ট্যালেন্ট দিয়ে ভাত মেলে না । আগের যুগের বক্সারদের যে কি নারকীয় ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে যেতে হত তা এই এনিমে না দেখলে বোঝা যাবে না । এই এনিমের আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য দিক হল ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট । কিমুরা , আওকি , টাকামুরা . সেন্ডো এ ক্যারেকটারগুলোর শুধু সাইড ক্যারেকটার না , তারা এই এনিমের অপরিহার্য অংশ । এবং আপাতদৃষ্টিতে যাদের ভিলেন বা নায়কের প্রতিপক্ষ বলে মনে হবে তাদেরও রয়েছে হৃদয় ছোয়া ব্যাকস্টোরি । আমরা জানি যে মোহম্মদ আলী , মাইক টাইসন , জো ফ্রেজিয়ার এরা প্রত্যেকেই অস্বচ্ছল অবস্থা থেকে স্ট্রাগল কর পৃথিবীর চূড়ায় উঠেছে , এই এনিমে দেখলে কিছুটা হলেও তাদের স্ট্রাগল সম্পর্কে ধারনা পাবেন ।

এই এনিমে ম্যাডহাউজের সুতরাং এনিমেশন কোয়ালিটি পুরোনো হলেও অসাধারন । এর একশান বা ফাইটিং সিনগুলো দেখার সময় স্থির হয়ে বসে থাকতে পারবেন না । এই এনিমে দেখার পর আমনি বাসার দেয়ালের উপর জ্যাব প্র্যাকটিস করতে গিয়ে ঝাড়ি খাবেন না , তা হবে না ! এই এনিমে কমেডির দিক দিয়েও লেজেন্ডারি । টাকামুরা , কিমুরা এবং আওকির বাঁদরামি এবং পার্ভাটনেস আপনার পেটে খিল ধরিয়ে দেবে ।

প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের বিল্ডআপ নিঁখুত । রোমান্স আছে , কমেডি আছে , শরীরের কাঁটা দেওয়া একশান আছে কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে স্লাম ডাঙ্ক , কুরোকো , হাইয়াকু এসব এনিমের নাম যত শোনা যায় এটার নাম তত শোনা যায় না । যারা এটা একবার দেখেছে তারাই এটার মহাত্ন্য বুঝতে পারবে ।

hajime-no-ippo-2

এই এনিমের ৩টি সিজন
Hajime no ippo fighting যার ৭৫টা এপিসোড এবং Hajime no ippo rising এবং Hajime no ippo new challanger যার যথাক্রমে ২৪টি আর ২৬টি করে পর্ব । এই এনিমে দেখবেন আর ভালো লাগবে না , তা হয় না । পারফেক্ট স্পোর্টস একশান এনিমে দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন হাজিমে নো ইপ্পো বা প্রথম পদক্ষেপ ।
আমার রেটিং :10/10

Amv :https://www.youtube.com/watch?v=UPeNNA9-q4k

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৪: Hajime no Ippo — Arnab Basu

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – তৃতীয় স্থান অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

এনিম/মাঙ্গা : হাজিমে নো ইপ্পো
মাঙ্গাকা : জর্জ মোরিকাওয়া
জনরা : স্পোর্টস, কমেডি, একশন, ড্রামা, শৌনেন

হাজিমে নো ইপ্পো দেখেছে অথচ জ্যাব প্র্যাক্টিস করে নাই এমন মানুষ বোধহয় খুব একটা নেই। এটা এমন একটা এনিম যা দেখে খুব সহজেই অনুপ্রাণিত হওয়া যায়, “পরিশ্রমের ফল কখনও বৃথা যায় না” এ কথা সহজেই বিশ্বাস করা যায়। হাজিমে নো ইপ্পো তাই শুধুমাত্র বক্সিং এর গল্প না, জীবনের গল্প, বাধা ও বাধা অতিক্রমের গল্প এবং সর্বোপরি, অণুপ্রেরণার গল্প।

মাকুনৌচি ইপ্পো সহজ সরল ছেলে, যার জীবন স্কুল আর তার মাকে মাছ ধরার জাহাজের ব্যবসায় সাহায্য করার মাঝেই গণ্ডীবদ্ধ। স্কুলে সহপাঠীদের হাতে রোজকার মত অপদস্থ হওয়ার সময় তাকে রক্ষা করে তাকামুরা। এই তাকামুরাই তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় বক্সিং এর জগতের সাথে। ইপ্পো যখন বক্সিং শিখতে চায় তখন তাকামুরা তাকে এক কঠিন শর্ত দেয়। তাকামুরাকে অবাক করে সেই শর্ত পূরণ করে ইপ্পো। তাকামুরা তখন তাকে নিয়ে আসে কামোগাওয়া বক্সিং জিমে যেখানে অভিজ্ঞ মিয়াতার সাথে প্রথমবার রিং এ ঢোকা ইপ্পোর হার না মানা মনোভাব জয় করে নেয় কোচ কামোগাওয়ার মন। শুরু হয় বক্সার হিসাবে তার পথচলা। তবে গল্প শুধুমাত্র ইপ্পোর ম্যাচগুলোর মধ্যেই শেষ না, প্রতিটি ম্যাচের আগে প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষের কাহিনী, অন্যান্য চরিত্রদের কাহিনী, তাদের লড়াইগুলো সমান গুরুত্ব পেয়েছে। বক্সারদের জীবনের কষ্ট, আত্নত্যাগ আর সীমাবদ্ধতাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে কাহিনীতে।

হাজিমে নো ইপ্পোর সবচাইতে শক্তিশালী দিক এর চরিত্রগুলো। মিয়াতা, মাশিবা, ভর্গ, সেন্দো, দাতে এইজি, সাওয়ামুরার মত চরিত্রগুলোকে শুধুমাত্র ইপ্পোর প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখানো হয়নি, দেখানো হয়েছে তাদের জীবনের সংগ্রাম আর বক্সিং নিয়ে তাদের একাগ্রতা। তাকামুরার ম্যাচগুলা দেখার সময় মনে হবে এই লোকটাই বোধহয় নায়ক। প্রায় প্রতিটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই একটা মাঙ্গা বা এনিম তৈরি করা সম্ভব। এ থেকেই প্রতিটি চরিত্রের গভীরতা বোঝা যায়। তার পরেও এই গল্পের নায়ক ইপ্পো। সে এমন একটা চরিত্র যার শুরু শূন্য থেকে, যার প্রতিটি ম্যাচের পিছনে রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম, যে রিং এর বাইরে নিতান্তই সহজ সরল। ইপ্পোর থেকে অনেক ক্যারিশম্যাটিক চরিত্র থাকার পরেও সেই এই গল্পের নায়ক, কারণ তার সাথে খুব সহজেই একাত্নতা প্রকাশ করা যায়। রিং এর বাইরে কোচ কামোগাওয়ার কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। ইপ্পো বা তাকামুরার উত্থানের পিছনে এই মানুষটির অবদান সবচেয়ে বেশি। বক্সিং আর দশটা স্পোর্টস থেকে আলাদা। অধিকাংশ স্পোর্টস এনিমগুলো হাইস্কুল ভিত্তিক, যা জাপানের সীমানারর মধ্যেই গণ্ডীবদ্ধ। ব্রায়ান হক, ডেভিড ঈগল আর রিকার্ডো মারটিনেজ এর মত চরিত্রগুলো এটাই প্রমাণ করে যে ইপ্পোর কাহিনী জাপানের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত।

এনিমের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এর কমেডি। ডায়লগ তো আছেই, চরিত্রগুলোর বিভিন্ন অভিব্যক্তিই হাসির খোরাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট। অসাধারণ সব ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়াও আছে দুর্দান্ত কিছু ওপেনিং আর এন্ডিং সং। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এই মাঙ্গার এখন পর্যন্ত ১০০০ এর উপর চ্যাপ্টার বের হয়ছে। ২০০০ সালে আসে এনিমের প্রথম সিজন। এর পর আরো দুই সিজনসহ আছে একটি মুভি আর একটি ওভিএ।

দুর্দান্ত একশন, টানটান উত্তেজনা কিংবা দমফাঁটানো কমেডি, বিনোদনের জন্য প্রয়োজন সবকিছুর সাথে আছে সাবলীল কাহিনী। কোন ধরণের অতিপ্রাকৃত কিছু ছাড়াই এ কারণে হাজিমে নো ইপ্পো অনন্যসাধারণ। তাই অসাধারণ কিছু থেকে বঞ্চিত হতে না চাইলে দেখে ফেলুন হাজিমে নো ইপ্পো।

4 Hajime no Ippo

Coffee With Asif (CWA): Sports Corner – পর্ব ৬ – Hajime no ippo

 

“Hard work doesn’t always pay off.
But the ones who succeed are the ones who worked hard!!”

2347

এনিম – Hajime no Ippo

রিলেটেড স্পোর্টস – বক্সিং
অবস্থা – Completed
টোটাল এপি সংখ্যা – ৭৫
রিলেটেড এনিম – None

স্টোরি লাইন –
বক্সিং নিয়ে একটা এনিম। মাকুনচি ইপ্পো একটু “ইন্ট্রোভারট” টাইপ একটা ছেলে। এই জন্য সে সিনিওরদের কাছে সব সময় বুলিং এর স্বীকার হয়। একদিন জাপানিজ মিডেলওয়েট চ্যাম্পিয়ন তাকামুরা তাকে রক্ষা করে। তাকামুরাকে দেখেই ইপ্পোর বক্সিং জগতে প্রবেশ। বাকিটা শুধুই ইতিহাস!!

বেশ সহজ সরল এবং এক মুখী কাহিনী। কিন্তু কাহিনীর কোন জায়গায় এনিম ঝুলে যায় নি। খুব ফাস্ট পেসড এবং চমৎকার পার্শ্ব কাহিনী এনিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ফিলারের অনুপস্থিতি এনিমের আরেকটি ভাল দিক।

 

কেন দেখবেন –

Character development. এমন কয়টা এনিম পাবেন যেখানে দুই এক পর্বের জন্য আপনি subconsciously চাইবেন হিরো হেরে গিয়ে প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দিক? প্রতিটা চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড; তাদের স্ট্রাগল এতো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে মাঝে মাঝে কাকে সাপোর্ট করবেন সেটা নিজেই ঠিক করে উঠতে পারবেন না !!!

 

কেন দেখবেন না-

বক্সিং যদি আপনার কাছে বর্বরতার আরেক নাম হয়ে থাকে; দুজন মানুষ একটা চারকোন রিং এর ভিতর একজন আরেকজনকে মারছে – এই আইডিয়াটা আপনার কাছে খুব সুখকর না হয়ে থাকে; তবে এই এনিমটা বোধহয় আপনার জন্য নয়।

Ending Song- https://www.youtube.com/watch?v=9wcxvl378nI

1920x1440-hajime-no-ippo-desktop-wallpaper

পাব্লিক রিয়েকশন-

#1: “42 ep of Hajime no Ippo is such something. I am moved.Wish I could be a friend like Umezawa kun.”

#2: শুন্তেসি “hajime no ippo” এর এন্ডিং সং। মোস্ট ইন্সপায়ারিং এন্ডিং সং এর একটা লিস্ট থাকা উচিত মনে হয়; অয়াইন্ডার আর এইটা – এরা তাইলে এক কাতারে থাকতে পারবে।

 

আমার রিয়েকশন-

কখন বুঝবেন যে আপনি একটা এনিমকে ভালবেসে ফেলেছেন? যখন সেই সিরিজটার চরিত্রগুলো আপনাকে তার সাথে সাথে চিৎকার করতে বাধ্য করবে; দম আটকে রাখতে বাধ্য করবে; হিরোর বিজয় চিৎকারের সাথে আপ্নিও দুই হাত উপরে তুলে উল্লাস করবেন; বন্ধুকে সাজেস্ট করার সময় আরেকবার পুরো সিরিজটাই তার সাথে দেখে ফেলবেন; শেষ হয়ে যাবার পর এক ধরণের শুন্যতা অনুভব করবেন; পুরো জিনিসটাই এমন ভাবে বিশ্বাস করবেন যে আপনার মনে হতে থাকবে এইরকম একটা জগত বুঝি আসলেই আছে; এবং আপ্নিও সেই জগতে চলে গেছেন !!!!

Hajime no ippo আমার জন্য সেইরকমই একটা সিরিজ !!!

ছায়া অবলম্বনে- None

1920x1080_ippo-manga-anime-HD-Wallpaper

বক্সিং ট্রিভিয়া-

# মাইক টাইসন সবচেয়ে কম বয়সে হেভিওয়েট টাইটেল জিতে নেন। তিনি খেতাবটি দখল করেন মাত্র ২০ বছর বয়সে।
# Joe Louis টানা ১১ বছর ৮ মাস হেভিওয়েট চ্যাম্পিওন এর খেতাব ধরে রাখেন যা কিনা যে কোন ওজন শ্রেণীর জন্যই বিশ্বরেকর্ড।
# Archie Moore তার প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে ১৩১ বার প্রতিপক্ষকে নক আউট করেছেন। এই রেকর্ডের ধারেকাছেও কেউ খুব একটা নেই !!!

শুরুটা করেছিলাম ইপ্পোর কোট দিয়ে; শেষ করি সেন্দো তাকেশির একটা কোট দিয়ে –
“Hit, and get hit by a strong man. And win! Only then, can I truly believe that I’m strong. I…love that moment!“

– CWA প্রচারিত হচ্ছে প্রতি শুক্রবার; এনিমখোরে!! আমাদের আর কোথাও কোন শাখা নেই !!! স্পোর্টস এনিম নিয়ে আপনার যে কোন আবদার; আবেদন; আহ্লাদ; হুমকি; জিজ্ঞাসা – সব কিছুই জানাতে পারেন আমাদের; আমরা তার সমাধান দেবার চেষ্টা করব কোন না কোন সময় ইনশাল্লাহ !!! আমাদের সাথেই থাকুন !!!

(ছবি কৃতজ্ঞতাঃ মিস যাহুরা চৌধুরী অবন্তী)

Character Review – Makunouchi Ippo from Hajime no Ippo [মোঃ আসিফুল হক]

“Hard work doesn’t always pay off.
But the ones who succeed are the ones who worked hard!!“

জেনারের মধ্যে স্পোর্টস জেনার আমার সবচেয়ে প্রিয়; সেটা যত পেথেটিক এনিমই হোক না কেন – এটা অবশ্য এতদিনে সবার জানা হয়ে যাবার কথা !!! এর পেছনে একটা কারণও অবশ্য আমি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি – বাইরে থেকে আমি যতটা আশাবাদী ভিতরে হয়ত ততটা নই; হয়ত আমি কিছুটা হলেও নৈরাশ্যবাদি। সেক্ষেত্রে “লুজার”, “পেথেটিক” ট্রাজিক হিরো যারা প্রবল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শেষমেশ বিজয়ী হয় – এই থিমের হিরোরাই হয়ত আমার বেশি পছন্দ। কিছু ফাইটিং এনিম হিরো যেমন নারুতো বা অন্যরা হয়ত এই ক্যাটাগরিতে পড়ে; কিন্তু আমি তাদেরকে বাস্তব জীবনের সাথে তেমন রিলেট করতে পারি না। ঠিক সেই কারণেই শিনোজাকি মিকোতো এবং মাকুনৌচি ইপ্পোরা আমার ফেভারিট ক্যারেকটারের বা ফেভারিট এনিমের স্থান দখল করে রাখে; যেখানে প্রিন্স অফ টেনিস বা “বিশেষ কিছু রোমান্টিক এনিম” বা তাদের হিরোরা আমাকে তেমন আকৃষ্ট করে না।

যাই হোক; ভুমিকাতেই বিশাল জায়গা নিয়ে নিচ্ছি। এই রিভিউ লেখার সময়েও টানাপোড়েনে ছিলাম; মিকোতোকে নিয়ে লিখব না ইপ্পোকে নিয়ে। মিকোতোই মনে হয় একমাত্র ক্যারেক্টার যে আমাকে আনন্দে কাদাতে পেরেছে; কিন্তু সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য। বড় ইমপ্যাক্ট চিন্তা করলে আমার প্রথম পছন্দ মাকুনৌচি ইপ্পোই।

 

হাজিমে নো ইপ্পো এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মাকুনৌচি ইপ্পো; যে কি না বর্তমানে জাপানের ফেদারওয়েট ক্লাসের চ্যাম্পিয়ন। পিতার মৃত্যুর পর শাই; ভদ্র এবং বিনয়ী এই চরিত্রটি তার মায়ের সাথে তাদের পারিবারিক ফিশিং বোট বিজনেসে দিন রাত খেটে সাহায্য করে। চিরদিন বুলির শিকার ইপ্পো বক্সিং সমন্ধে জানতে পারে তাকামুরা মামোরু এর মাধ্যমে। সেই সময়েই সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয় সে তার জীবনকে বক্সিং এর দিকে নিয়ে যাবে এবং শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে সে শেষ পর্যন্ত জাপান চ্যাম্পিওন হয়।

 

ইপ্পোর যেই দিকগুলো আমার অত্যন্ত প্রিয় সেগুলা হল – সে খানিকটা ইন্ট্রোভার্ট এবং চুপচাপ স্বভাবের হলেও সে যেটা স্থির করে সেটার শেষ দেখেই তবে তার শান্তি। যার প্রমাণ মোটামুটি প্রথম দিকের পর্বেই পাওয়া যায় যখন সে তাকামুরার শর্ত মেনে নিয়ে ৭ দিন একা একা পরিশ্রম করে হাত দিয়ে ১০ টা পাতা ধরতে সক্ষম হয়।

 

ইপ্পো বুদ্ধিমান; সে তার মাথাকে ব্যাবহার করতে ইচ্ছুক; সে ভেবে চিনতে ডেম্পসি রোলের মতন জটিল মুভ আবিষ্কার করে এবং অত্যন্ত সাহসের সাথে কোন প্র্যাকটিস ছাড়াই রিয়েল ম্যাচে তার প্রয়োগ ঘটায় এবং সেটা খুব সফলভাবেই ( এই পর্বটা আমার অল টাইম ফেভারিট এনিম এপিসোডগুলার একটা J )। কামোগাওয়া কোচকে যখন ইপ্পো জিজ্ঞেস করে “what does it means to be strong?” এবং এর জবাবে যখন কামোগাওয়া রিপ্লাই দেয় “go and find it out finding” আমি সেখানে অনুপ্রেরণা পাই; এইজির কাছে ম্যাচ হারার পর দুই মাস অসম্ভব মনঃকষ্টের পর ফিরতি ম্যাচেই যখন সে পুরো ক্রাউডকে স্তব্দ করে দিয়ে “ডেম্পসি রোল” ইউজ করে আমি সেখানেও অনুপ্রেরণা খুজে বেড়াই; প্রবল লড়াই শেষে জয়ী হবার পরেও যখন ইপ্পোর মাঝে কোন ঔদ্ধত্য দেখা যায় না; বরং দর্শকদের মাথা নিচু করে সে অভিবাদন জানায় তখনও আমি শিক্ষা নিতে চেষ্টা করি।

 

শুরুতে যেই কোটটা করা সেটা কামোগাওয়ার; শেষ করি সেনডো তাকেশির একটা কোট দিয়ে –

Hit, and get hit by a strong man. And win! Only then, can I truly believe that I’m strong. I….love that moment!