এফ এ সি ৪৭

রান্ডম টপিক

 রসনাবিলাস ২: ভাত

 

 

জাপানীরা যে ভাত খায়, সেটা আমাদের দেশের ভাতের মতো না, তুলনামুলকভাবে আঠালো আর মিষ্টি, অবশ্য এটাই স্বাভাবিক, আঠালো না হলে চপস্টিক এর মতো ভয়াবহ জিনিস ব্যবহার করবে কিভাবে? চালের বিশেষ প্রকরন চাষ করে তারা, সেই সাথে জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং তো আছেই। এই বিশেষ প্রকরণ দুই রকমের, একটার কথা তো আগেই বললাম, এটাকে বলে উরুচিমাই, আরেকটা হলো আরো আঠালো, নাম মচিগোমে। নাম থেকে বোঝা যাচ্ছে, মচি বানাতে এই ভাত ব্যবহার করা হয়.

 

 

আনিমে সাজেশন

 কিমি তো বকু[Kimi to Boku]

 

কয়েকজন বন্ধুর সম্পর্ক নিয়ে কাহিনী, তাদের বন্ধুত্ব, ভাললাগা, ভালবাসা, প্রত্যাখ্যাত হওয়া, সবকিছু নিয়েই এই কাহিনী। অবশ্যই ভিটামিন-টি গোছের কিছু না, অনেক বেশি ক্লাসি।

 

কেন দেখবেনঃ মানবিক সম্পর্কের স্লাইস অব লাইফগুলোর কথা বিবেচনা করলে সম্ভবত হানি অ্যান্ড ক্লোভারের পর এটাই আমার দেখা সেরা।

কেন দেখবেন নাঃ কড়া অ্যাকশানপ্রেমীদের জন্য অবশ্যই নয়। স্লাইস অব লাইফের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকলে না দেখতে বলা যাচ্ছে। এটা মুশি-শির মতো সুপারন্যাচারাল না, বাকুমানের মতো শউনেন না, আবার নন নন বিয়রির মতো মোয়ে ফ্লেভারের না। কাজেই সাবধান।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯১+৮.১৯

আমার রেটিং ৮+৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 দেঙ্গেকি ডেইজি[Dengeki Daisy]

 

 

তেরুর ভাই মারা যাবার আগে তার হাতে দিয়ে গিয়েছিল একটা সেলফোন, যাতে সেভ করা ছিল ডেইজির ইমেইল অ্যাড্রেস। কে এই ডেইজি? সে কি পুরুষ, নাকি মহিলা? তার বয়স কত? সে দেখতে কেমন? কিছুই জানে না তেরু, শুধু জানে এই, ডেইজি তার গার্জিয়ান এঞ্জেল, সারাক্ষণ মাথার উপর ছায়া দিয়ে আছে। আহারে বেচারী, সে যদি জানত, তাদের স্কুলের জ্যানিটর, একগাদা অগোছালো চুলওয়ালা, পাঁড় ধূমপায়ী, সারাক্ষন তেরুর সাথে বাজে ব্যবহার করা কুরোসাকিই আসলে ডেইজি!

 

কেন পড়বেনঃ ক্লাসি শউজো, খামোখা মানঅভিমান নেই, নায়ক-নায়িকা, সাইড ক্যারেক্টার, সবাই খুব ইন্টারেস্টিং। মূল দুই চরিত্রের কেমিস্ট্রি অসাধারণ। সেই সাথে রহস্য। দারুন আর্ট।

কেন পড়বেন নাঃ  এই মাঙ্গা না পড়া বোকামি। শউজো হলেও অ্যাকশান ফ্যানরাও ট্রাই করতে পারেন।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৬

আমার রেটিং নেই, কারণ পড়া শেষ হয়নি।

কিমি তো বকু by Torsha Fariha

1511888_721449834533830_348125133_o

 

জানরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ।
সিজনঃ ২ (প্রতি সিজনে ১৩ টা করে মোট ২৬ টা এপিসোড)

কিমি তো বকু অ্যানিমেটা আবর্তিত হতে থাকে পাঁচ জন হাইস্কুল পড়ুয়া ছেলেকে কেন্দ্র করে। স্লাইস অফ লাইফ দেখে বোঝাই যাচ্ছে দৈনন্দিন হাই স্কুল জীবন নিয়েই এর কাহিনী।
এই পাঁচ ছেলে হচ্ছে- শুন, কানামে, চিজুরু আর ইউতা-ইউকি টুইন। পাঁচ জন পাঁচ রকম পার্সোনালিটির।

শুন হচ্ছে খুব ভালো একটা ছেলে। ভদ্র, বিনয়ী। যার প্রেমে ২-১ টা এপিসোড পরেই পড়ে মাসাকি নামের একটা সুনদেরে মেয়ে। কানামে হচ্ছে ক্লাস রিপ্রেসেন্টেটিভ। সিরিয়াস টাইপের এক ছেলে।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার হচ্ছে ইউকি- ইউতা টুইন। হ্যান্ডসাম, কুল। তাদের সেন্স অফ হিউমার সেইরকম। গম্ভীর মুখে তারা এমন সব পচানি কানামেকে দেয় যে পুরাই হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে আসে।

একমাত্র চিজুরু বাদে সবাই সেই এলিমেন্টারি স্কুল থেকে একজন আরেকজনকে চিনত। চিজুরু হচ্ছে খুব হাসিখুশি একটু ইডিয়ট টাইপের ছেলে। হাফ জাপানিজ ট্রান্সফার স্টুডেন্ট।
পাঁচ জন পাঁচ রকম ক্যারেক্টারের পরও তারা খুব চমৎকার একটা সার্কেল হয়ে যায়।এক সাথে হ্যাং আউট কিংবা বাসায় একসাথে আড্ডা দেয়া, মেলায় একসাথে যাওয়া, প্রেম-বিরহ, ছোট্ট বেলার ক্রাশ- সব মিলিয়ে হাইস্কুল ছেলেদের যা থাকে সবই এদের আছে।

আমাদের জীবণ স্লো পেসে চলে তেমনি এদের গল্পও খুব স্লো পেসে স্বচ্ছন্দে চলে। তাই বলে একদমই বিরক্তিকর না। এক এপিসোড দেখলে পরেরটা অবশ্যই দেখতে মন চাইবে। যারা অনেক দিন ধরে অ্যাকশন, হরর, সাইকো থ্রিলার দেখছেন তাদের জন্য এটা হতে পারে চমৎকার একটা রিফ্রেশমেন্ট।

খুব সাধারণ কিন্তু কেন যেন মনে খুব অসাধারণ একটা ইম্প্রেশন রেখে যায় অ্যানিমেটা। হতে পারে কারণটা চিজিরুর ওয়ান সাইডেড ক্রাশ কিংবা খুব ছোট ছোট অনুভূতির জন্য যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না…

সবচেয়ে সুন্দর যে জিনসটা যেটা হল এই অ্যানিমেতে খুব নরমাল একটা দৃশ্য অথবা কনভার্সেশন -এর মাঝেই হুট করে অন্য রকম স্বপ্নের মত সুন্দর কিছু দৃশ্য দেখায়। আমি এরকমটা কখনো দেখি নি তাই প্রথমবারের মত দেখে খুব চমকে গিয়েছিলাম। বলা যায় এই ছোট্ট একটা কারণেই খুব স্পেশাল হয়ে আছে অ্যানিমেটা আমার কাছে।

হাইস্কুল লাইফের কথা শুনলেই আমাদের মনে কিছু জেনারালাইজড চিন্তা মাথায়

আসে। অনেকে বলেই দিতে পারে কি কি থাকতে পারে এইসব অ্যানিমেতে। মানছি সেগুলর সবই আছে এখানে কিন্তু তারপরেও এটা অসাধারণ। একবার দেখে ফেললে সেটা আপনিও বুঝতে পারবেন।

 

1498972_721450547867092_450171162_o