ব্যাটল রয়াল মাঙ্গা প্লাস মুভি রিভিউ – Torsha Fariha

মাঙ্গা- ব্যাটল রয়াল
ভলিউম- ১৫ (প্রতি ভলিউমে ৮ টা করে চ্যাপ্টার)
জানরা- Dystopian, thriller, horror Alternative history.
মুভি- ১১৩ মিনিট (অরিজিনাল রিলিজ)
ডিরেক্টর- কিনজি ফুকাসাকু।

১৯৯৬ সালে কউশুন তাকামি একটি নভেল লেখেন ‘ব্যাটল রয়াল’ নামে। যদিও সেটা ১৯৯৯ সালের আগে পাবলিশ করা যায় নি। যার পেছনে একটা কারণ ছিল এর কন্টেন্ট। এমনকি এই নভেলটা ১৯৯৭ সালে এক হরর বই কন্টেন্টের ফাইনাল রাউন্ড থেকে রিজেক্ট করা হয়। কারণ যেই একই- বই এর কন্টেন্ট। 

সবার আগ্রহ হতেই পারে কি সেই বিষয়বস্তু যা এত কন্ট্রোভার্সির জন্ম দিয়েছে সেই সময়।

সে এক কাল্পনিক সময়ের কথা। জাপান তখন রিপাবলিক অফ গ্রেটার ইস্ট এশিয়ার মেম্বার। Shiroiwa junior high school এর এক সেকশন ভর্তি ছেলে মেয়েকে স্টাডি ট্যুরের নাম করে স্কুল অথরিটি নিয়ে যায় একটা জনমানুষ শূন্য দ্বীপে। 

সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারে একটা মিলিটারি রিসার্চ প্রজেক্টে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। রিসার্চের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া- যাতে তারা কোন ধরণের অর্গানাইজড বিদ্রোহের কথা মাথায় না আনতে পারে। প্রত্যেক বছর খুব গোপনীয়তার সাথে কোন স্কুলের কোন সেকশান এই প্রোগ্রামে অংশ নিবে সেটা ঠিক করা হয়। 

তো এই প্রজেক্টে (গেইম বলা বেশি যুক্তিযুক্ত) তাদেরকে এই দ্বীপের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। প্রত্যেকের মূল লক্ষ্য থাকবে সারভাইভাল। সেটা প্রতিকূল পরিবেশের জন্য না বরং তাদের এতদিনের ক্লাসমেটদের জন্য। কারণ তাদের প্রত্যেকের টাস্ক হচ্ছে – একে অপরকে খুন করা। ততক্ষণ পর্যন্ত- যতক্ষণ না শুধু একজন বেঁচে থাকে। 

এটা এমন একটা গেইম যেখান থেকে কোন এস্কেপ নেই- এমনকি কেউ যদি চায়ও সে আর তার ফ্রেন্ড শুধু বেঁচে থাকবে – সেটাও সম্ভব না। একটা ট্র্যাকিং ডিভাইস সবসময় তাদের গলায় মেটাল কলার হিসেবে লাগানো থাকে। আমাদের নায়ক Shuya nanahara আর নায়িকা noriko nakagawa. পুরো কাহিনীতে আমরা দেখতে পাব কিভাবে তারা এই জটিল পরিস্থিতির ভেতর নিজেদের রক্ষার করছে। সেই সাথে আছে ক্লাসের অন্যান্যদের কাহিনীও।

সংক্ষেপে এটাই ব্যাটল রয়ালের কাহিনী। কাহিনী পড়ে কি সাম্প্রতিক কালের হাঙ্গার গেইমসের কথা মনে পড়ছে? খুব স্বাভাবিক। উইকি পড়লে সহজেই জানতে পারবেন মুভিটা রিলিজ হওয়ার পর একটা জোর সমালোচনা উঠেছিল আইডিয়া নকলের অভিযোগে। যদিও লেখিকা বলেছেন সমালোচনার আগে তিনি ‘ব্যাটল রয়াল’ এর নামই জানতেন না।  

অবশ্য এটা নতুন না। ক্রিটিকরা এরকম আরো কিছু মুভির ভেতর ব্যাটল রয়ালের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষ্য করেন। যেমন- কিল থিওরি, দ্য টুর্নামেন্ট, গান্টজ আর একটা ভিডিও গেইম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড এন্ডস উইথ ইউ’। আসলে তাকামির বইয়ের আইডিয়া এত বেশি মৌলিক যে সেটা ক্রিটিকরা লক্ষ্য না করে পারেননি। (ব্যাটল রয়ালের সাথে কিঞ্চিৎ একটা সিমিলারটি আছে স্টিফেন কিং এর ‘লং রান’ এর। স্টিফেন কিং সেটা নিজে বলেন। অবশ্য মিলটা খুবই অল্প। বই এর কাহিনী পড়ে আমার তাই মনে হয়েছে। কিং নিজেও পরে বলেছেন এটা তেমন কোন ম্যাটার না।) 
এবার আসি জনপ্রিয়তার কথায়। এটা সেসময়ের একটা বেস্ট সেলার বই ছিল – তার এমন বিষয়বস্তু থাকার কারণেও। উইকিতে সেসব বিশদ আছে। সেই নভেল ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, ইটালিয়ান,হাঙ্গেরিয়ান, রাশিয়ান- এরকম বহু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।

মাঙ্গা এডাপ্টেশনের কথায় আসি। এই নভেলের মাঙ্গা নভেলের লেখক নিজেই লিখেছেন। তিনি তার এ সম্পর্কে বলেছেন – নভেলের চেয়ে আরো বেশি বিস্তৃত মাঙ্গাটা। প্রত্যেকটি চরিত্রের উপর প্রায় সমান নজর দেয়া হয়েছে- তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে সারভাইভাল- সব। 
এটা সত্যি যে আমি মাঙ্গা পড়ি নাই। উইকি ঘেঁটে কথাগুলা বললাম।

এবার মুভির কথা। মুভি নিয়ে কথা বলার আগে আমি একটা জিনিস উল্লেখ করতে চাই। সেটা হল মুভিটা ঠিক নভেলের মতই সুন্দর। অনেক সময় মুভিতে যেটা হয় অনেক কাহিনী বাদ পড়ে যায় যেটা অনেকেই পছন্দ করেননা। এখানেও একই জিনিস হয়েছে তবে পার্থক্য আছে। মেকিংটা এত সুন্দর আর বাস্তবসম্মত যে কোন খুঁত ধরার অবকাশই থাকে না। (মুভির IMDb রেটিং ৭.৮)
মুভিটা আমি দেখেছি এবং এটা আমার খুব পছন্দের। আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই এই মুভিটা বিখ্যাত ডিরেক্টর টারান্টিনোর খুব পছন্দের। তিনি এই মুভিটা সতেরো বার দেখেছেন এবং উল্লেখ করেছেন এই মুভির মেকিং এবং কাহিনী তাঁকে খুব ইন্সপায়ার করেছে।

তাই বলছি কেউ যদি মাঙ্গা নাও পড়েন অ্যাটলিস্ট মুভিটা দেইখেন। যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। 
কেন দেখবেন/পড়বেন- কারণটা হল কাহিনীটা খুবই মৌলিক। অনেকটা সেই মধ্যযুগের গ্রিক গ্ল্যাডিয়েটরদের গেইমের মত। পার্থক্য আছে অবশ্য। ওরা ছিল গ্ল্যাডিয়েটর যারা নিজেদের পেশাই করে নিয়েছিল সেটা। আর এদিকে কিছু টিনএজ ছেলেপিলে যারা একটু আগ পর্যন্তও বন্ধু ছিল একে অপরের। এবং এই কারণেই কাহিনীটা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর, কৌতূহল উদ্দীপক। একদিকে নিষ্ঠুরতা অপরদিকে ফ্রেন্ডশিপ, প্রেম – সবার উপরে এক অমোঘ নিয়তি- সব মিলিয়ে যেমন অস্বস্তিকর তেমনই খুব মানবিক এক কাহিনী। নিজেকে ওদের জায়গায় কল্পনা করে আপনার গা শিউরে উঠবে একই সাথে কৌতূহলও জাগবে ‘শেষে কি হল?’

কেন দেখবেন/পড়বেন না- সত্যি বলতে একটা সেইরকম হরর মুভিও আপনার মনে এতটা ছাপ ফেলবে না- যতটা ফেলবে ‘ব্যাটল রয়াল’। মুভিতে প্রচুর ভায়োলেন্স সীন আছে যেগুলো দেখলে সত্যি গা গুলায় আসে। manga is far more sexually graphic than the novel and film versions, but like them, is noted for its intense, gory violence. তাই যারা এসব সহ্য করতে পারেননা তাদের না দেখাই বা পড়াই ভালো।

ব্যাটল রয়াল নিয়ে আমার অনুভূতির কথা বলি। আমি এক সকালে মুভিটা দেখে মিশ্র একটা অনুভূতি হয়েছিল। একই সাথে রাগ, ঘৃণা, ভয় – এই তিনটা এক সাথে কাজ করেছিল আমার উপর। এবং শেষ হওয়ার পর সত্যি মনে হচ্ছিল আমি যেন এই মাত্র সেই দ্বীপ থেকে আমার বাসায় এসে পড়লাম। একটা মুভি কতটা গভীরেই না মানুষকে নিয়ে যেতে পারে! 

হুট করে আমাদের মত কাউকে যখন এরকম জীবন- মৃত্যুর একটা খেলায় নামিয়ে দেয়া হবে তখন আমাদের মধ্যে কিছু স্বাভাবিক রিফ্লেক্স কাজ করবে। এই রিফ্লেক্স পারসোনালিটি অনুযায়ী ভ্যারি করে। কেউ শুরু থেকেই পাগলের মত কাউকে মারা শুরু করবে, কেউ গা ঢাকা দেবে, কেউ অপেক্ষা করবে বাকিরা কখন শেষ হবে , কেউ এই চাপ সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করবে, কেউ কেউ যৌথ বাহিনীর গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে অবিশ্বাস আর প্যানিকের মধ্যে একজন আরেকজনকে খুন করবে আর কেউ হয়তো নিজের চরিত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা খুনিটাকে এক ঝটকায়বের করবে, আর কেউ হয়তো বিদ্রোহী হয়ে পালানোর চিন্তা করবে। হ্যা এরকমই হবে আমাদের ক্ষেত্রে। কারণ আমরা ট্রেইনড না, কারণ আমরা প্রস্তুত না। 

অনেকটা এরকম সাইকোলোজি নিয়েই একটা স্টাডি আছে বইটায়, মুভিটায়। না দেখলে বা পড়লে সত্যি একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস মিস করবেন। 

(ব্যাটল রয়ালের একটা সেকেন্ড সিজন এবং মুভি আছে। কিন্তু সেটা তাকামির লেখা না বলে রিভিউ দিলাম না। )

 

মাঙ্গা- ওয়াতাশিতাচি নো শিয়াওয়াসে না জিকান/ Watashitachi no Shiawase na Jikan রিভিউ by Asfina Hassan Juicy

(Our Happy Hours/Our Happy Time)
ভলিউম- ১টি (৮ চ্যাপ্টার- মাত্র !!)
জেনরা- স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স, সেইনেন, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা

রোমান্স মাঙ্গা পড়তে গেলেই বেশিরভাগ সময় মাথায় প্রথম যে ধারণা আসে তা হল স্কুল সেটিং-য়ে একটা একটু অন্যরকম মেয়ে আর বেশ সুদর্শন একটা ছেলের ভালোবাসার কাহিনি।তবে রোমান্স জেনরারই এই মাঙ্গা আপনাকে নিয়ে যাবে এর থেকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে…বাস্তবতার অনেক কাছে কিন্তু অনেক গভীরে…উপলব্ধি করাবে জীবনের কিছু পরম সত্য, কিছু নিষ্ঠুর দিক ও কিছু সুন্দর আশাপূর্ণ মুহূর্ত…

মুতোউ জুরি একজন মাঝবয়সী ফর্মার পিয়ানিস্ট যিনি ৩ বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। জুরির মা তার কন্যার এরূপ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তাকে তার আন্টি মনিকার তত্ত্বাবধানে রেখে আসেন, যিনি একজন চার্চের পাদ্রী। আন্টি মনিকার সাথে জুরি আগে থেকেই পরিচিত এবং বলা যায় তিনিই জুরির সবচেয়ে আপনজন, এমনকি তার নিজের মা থেকেও। আন্টি মনিকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মানসিক সাহায্য করত। জীবনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য জুরিকে তিনি তার সাথে জেলে নিয়ে যান তেমনি এক আসামীর সাথে দেখা করতে। সেখানে জুরি পরিচিত হয় ইয়ু নামের সেই আসামীর সাথে যে তিনজন মানুষকে একবারে খুন করেছে এবং তার দন্ডের দিনগোনার সময় আবার বেশ কয়েকবার নিজেকেই খুন করতে চেষ্টা করেছে ! কি ধরনের নিষ্ঠুরতা জুরি আর ইয়ুকে ফেলে দিয়েছে এমন আশাহীন কষ্টকর জীবনে? কি তাদের পেছনের কাহিনী? এবং কিভাবে তারা রক্ষা পাবে পৃথিবীর এই ঘৃণা ও কষ্টের বেড়াজাল থেকে?

ডার্ক থিমের হলেও মাঙ্গাটির প্রতিটি চ্যাপ্টার রিফ্রেশিং ! সবার জীবনেই এক ধরনের কষ্ট, না পাওয়া থেকে থাকে কিন্তু আবার সবার জীবনেই থাকে একটু সুখ। স্বল্পক্ষণের জন্য হলেও প্রত্যেকের জীবনেই আসে একটু আশা, একটু ভালোবাসা, একটু মুক্তি। কষ্টের জন্য জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি ঘৃণা থেকে মুক্তি দিতে পারে সামান্য এসব জিনিসই। মাত্র ৮ চ্যাপ্টারের মধ্যে জীবনের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে! এই মাঙ্গাতে আপনি পাবেন না কোনো মাথা উল্টানো প্লট টুইস্ট, জটিল অ্যাকশন বা থ্রিল…এমনকি পাবেন না কোন মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক মুহূর্ত, গভীর ভালোবাসার বন্ধন বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা… শুধু পাবেন দুইজন মানুষের অতি সাধারণ কিন্তু একইসাথে অসাধারণ জীবনের এক অধ্যায়।

মাঙ্গার আর্টের কথা বলতে গেলে সহজভাবে বেশ সিম্পল কিন্তু সুন্দর। কাহিনীর সাথে বেশ ভালই সমন্বয় করেছে। কাহিনির জন্য একদম পর্যাপ্ত ও পারফেক্ট করে এভাবে আঁকা তবে অভাব না রাখা আসলে খুব কম মাঙ্গাকাই পারেন।

শেষে বলা যায়, এক কথায়, চমৎকার স্লাইস অফ লাইফ। ৮ চ্যাপ্টার- একদিন বসলেই খতম! মাঙ্গা পড়েন আর না পড়েন ট্রাই করে দেখতে পারেন। দিনশেষে হয়ত দিতে পারে আপনার জীবনেরই কোন প্রশ্নের উত্তর, করে তুলতে পারে আবেগি ও অনুপ্রেরণা দিতে পারে এগিয়ে যাওয়ার পথে

পরিশেষে রেটিং-
মাল রেটিং – ৯.১০
আমার রেটিং – ১০ (কাটার কিছু পাইলাম না )

 

মাঙ্গা-আনিমে মিক্সড রিভিউ: বাকুমান (Bakuman) – ফরহাদ মহসিন

বাকুমান মাঙ্গা পড়া এবং আনিমে দেখা, দুই ধরণের অভিজ্ঞতা হওয়ার পরেই রিভিউ লিখছি। কিছুটা পার্শিয়াল হতে পারি, আমার প্রথম পড়া স্লাইস অফ লাইফ। এবং সম্ভবত প্রথম আনিমে, যেটার মাঙ্গা পড়া থাকার পরেও অনেক আগ্রহ নিয়ে আমি আনিমেটা দেখেছি। এবং সত্যি বলতে এরকম মাঙ্গা আর হওয়া সম্ভব বলেই আমার মনে হয় না। পড়া শুরু করেছিলাম শুধুমাত্র এই কারণে যে বাকুমানের লেখক-আর্টিস্ট হচ্ছেন ডেথ নোটের লেখক-আর্টিস্ট সুগুমি ওহবা, তাকেশি ওবাতা। ডেথ নোটের কারণেই হয়তো অন্য কিছু আশা করে গেছিলাম। গিয়ে পেয়েছি পুরোপুরি অন্যরকম এক জিনিস। যাই হোক শুরু করি।

মরিতাকা মাশিরো আপাতদৃষ্টিতে একজন সাধারণ জাপানিজ মিডল স্কুল ছাত্র। সে একসময় খুব ভালো ছবি আঁকাতো, হতে চাইতো তার চাচা, মরিতাকা নবুহিরোর (যে কিনা কাওয়াগুচি তারো ছদ্মনামে মাঙ্গা লেখে) মত। কিন্তু চাচার মৃত্যুর পর বড্ড বেশি উদাসীন হয়ে পড়ে সে। তার বাবা-মা ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাইলে কিছু বলতে পারে না, নিজের মত করে কোন স্বপ্ন দেখতে পারে না, পারে না আজুকি মিহো, যাকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করে সে, তার সাথে গিয়ে কথা বলতে।

এই অবস্থায় হঠাৎ করেই তাকে অ্যাপ্রোচ করে ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র তাকাগি আকিতো। জানায় তার স্বপ্নের কথা, সে হতে চায় জাপানের সবচেয়ে বড় মাঙ্গাকা। সে চায় মাশিরো তার লেখা গল্পের সাথে ছবি আঁকাক। মাশিরোকে কনভিন্স করানর জন্য সে তাকে নিয়ে যায় আজকি মিহো’র বাসায়। সেখানের কথোপকথন থেকেই মাশিরো আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে, যে স্বপ্ন জড়িয়ে যায় আজুকি আর তাকাগির সাথে। বাকুমানের বাকি কাহিনী তাদের স্বপ্নপূরণের কাহিনী।

bakuman-349320

সামারি দেওয়া শেষ, এবার রিভিউ:

বাকুমানের ক্যারেক্টারাইজেশন বেশ ইন্টারেস্টিং। প্রধান দুই প্রোটাগোনিস্টের চরিত্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই ভালোভাবে ডেভেলপড হয়েছে। তাকাগি’র লেখার স্টাইল, মাশিরোর আঁকার স্কিল, মোটকথা তাদের মাঙ্গার ধরণ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের সাথে সাথেই যেন তারা নিজেদের জীবন নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকে।

এর প্যারালালি চলতে থাকে মাশিরো আর আজুকির প্রেমকাহিনী। এটা সম্বন্ধে আমি এতটুকুই বলব, বাকুমান পড়া/দেখার সময় একটা সময় গিয়ে এরকম একটা সম্পর্ক থাকার কথা আপনি নিজে চিন্তা করবেন না তা সম্ভবই না।

এবং তার সাথে আরেকটা যে সম্পর্কের কথা না বললেই না তা হল মাশিরো-তাকাগির সাথে, তাদের রাইভাল, নিজুমা এইজির সম্পর্কে। নিজুমা এইজি সম্ভবত বাকুমানের সবচেয়ে ‘রঙচঙে’ ক্যারেক্টার। পুরো সিরিজ জুড়েই যখনই প্যানেলে এইজি থাকে, মনোযোগ তার দিকে যেতে বাধ্য। ওয়ান পিস ফ্যানদের উদ্দেশ্যে বলছি, এইজির চরিত্র অনেকটাই ওয়ান পিসের মাঙ্গাকা এইচিরো ওদার কথা ভেবে লেখা। যাইহোক বাকুমান, সবকিছুর পরেও একটা শৌনেন মাঙ্গা। সুতরাং, এটাতে লড়াই থাকবেই। কিন্তু টিপিক্যাল শৌনেন লড়াই থেকে এখানকার সব লড়াইও অন্যরকম, প্রতিপক্ষরাও সবাই, শুধু এইজি না, অন্যরকম। এবং ‘Rivalry’ শব্দটা এত সুন্দরভাবে ডিফাইনড হতে আর কোন মাঙ্গা/আনিমেতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

বাকুমানের সাপোর্টিং কাস্ট খুবই ভালো, শুধুমাত্র মূল চরিত্রগুলো না। সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে এসে ফুকুদা শিনতা বা আওকি কো যদি আপনার প্রিয় চরিত্র হয়ে যায়, তাও আসলে কিছু বলার নাই। বাকুমানের ব্যাপারে একটা অভিযোগ আসে যে এর নারী চরিত্রগুলো সেভাবে ডেভেলপড না। প্রথম দিকে কখনো কখনো এটা মনে হলেও পরের দিকে গিয়ে এটা মোটামোটি কাটিয়ে ওঠেন ওহবা সেনসেই।

ক্যারেক্টারাইজেশন নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেছে। গল্প নিয়ে একটু বলি। মনে হতে পারে দুজন উঠতি মাঙ্গাকার জীবনে কি এমন ঘটতে পারে যা নিয়ে মাঙ্গাই লিখে ফেলা সম্ভব। বাস্তব-অবাস্তব সব ধরণের সিনারিও মিলিয়ে পুরো গল্পটা আসলেই অনেক অসাধারণ। আর আগে যেরকম বললাম, শৌনেন মাঙ্গার লড়াই সম্বন্ধে আপনার আইডিয়াটাই পরিবর্তিত হয়ে যাবে বাকুমানের পর। তারপর, ডেথ নোটের আর এটার মাঙ্গাকা একই শুনে যারা ভাবছেন, তাহলে নিশ্চয়ই খুব গম্ভীর ধরণের সেটাপ হবে, হাসির এলিমেন্ট থাকবে না, তারাও ভুল করছেন। বাকুমান স্টোরির সেটাপ, ডায়ালোগ, ক্যারেক্টার বিহেভিয়ার সব কিছু মিলিয়েই প্রচণ্ড হাস্যরসাত্মক একটি মাঙ্গা, গ্যাগ মাঙ্গা না হয়েও।

যাই হোক, শেষ কথা হচ্ছে: কখনো যদি আপনি লিখালিখি বা এ ধরণের কিছুর জন্য কলম হাতে নিয়ে থাকেন, ছবি আঁকা যদি আপনার প্যাশন হয়ে থাকে, যদি মারত্মক উচ্চাভিলাষী কোন স্বপ্ন থেকে থাকে আপনার, অথবা আপনি যদি এখনও ভীষণ রোমান্টিক কোন আইডিয়া নিয়ে বসে থাকেন, বাকুমান আপনার ভাল্লাগবেই।

এবং নিশ্চিত ভাবেই প্রকৃত মাঙ্গাকাদের জন্য, মাঙ্গা/আনিমের সাথে জড়িত সবার জন্য একটা অন্যরকমের সম্মান তৈরি হয়ে যাবে।

রেটিং:

মাঙ্গা: MyAnimeList rating: 8.54, আমার রেটিং: 9.5

আনিমে: MyAnimeList: 8.36, আমার রেটিং 8

Bakuman。.full.1225692

ড্রিফটিং ক্লাসরুম মাঙ্গা রিভিউ বাই মাহমুদা ইশরাত

যদিও গ্রুপটা আনিমেখোরদের নিয়ে তবুও এখানে আমার মত বেশ কিছু মাঙ্গাখোর ও আছে। এই রিভিউ পোস্ট তাদের জন্য। আগে কেউ এটা নিয়ে লিখে থাকলে দুঃখিত।

যারা যারা সারভাইভাল- হরর genre পছন্দ করে তাদের জন্য একটা আদর্শ রিকমেন্ডেশন হল drifting classroom।

শো তাকামাতসু হল যাকে বলে গিয়ে একেবারে পাজির পা ঝাড়া এক পিচ্চি। মায়ের সাথে ঝগড়া করে সেদিন স্কুলে গেছিল সে, যাবার আগে বলে গেছিল আর কোনদিন ফিরবে না। সেদিনই ঘটে এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। শহরের মানুষ আবিষ্কার করে ৮০০+ মানুষ সুদ্ধ একটা বিশাল স্কুল রীতিমত গায়েব হয়ে গেছে, সেখানে আছে শুধু এক বড়সড় গর্ত। আর স্কুলের মানুষজন আবিষ্কার করে তাদের আশে পাশে গাড়ি বাড়ি রাস্তা দোকানপাট গাছপালা সবকিছুরই বদলে কেবল ধুলাবালি। ভীত সন্ত্রস্ত মানুষগুলা আরও আবিস্কার করে সেখানে খাবার নেই পানি নেই এবং জীবিত একটা প্রানি পর্যন্ত নেই। ভয়ংকর এক অজানায় আটকা পড়েছে তারা। ভেঙে পড়ছে তাদের এতদিনের শিখে আসা সামাজিক, মানবিক জীবন ব্যাবস্থা। পারবে কি শো তার বন্ধুদের সাথে টিকে থাকতে? পারবে কি নিজেদের প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যেতে?

১৯৭২ সালের মাঙ্গা drifting classroom। বলা হয় সেই সময়কার সেরা হরর মাঙ্গা এটি। এর মাঙ্গাকা কাজুও উমেজু কে বলা হয় হরর মাঙ্গার গ্র্যান্ডমাস্টার। তবে এখনকার প্রেক্ষাপটে সার্বিকভাবে সেরা না বলতে পারলেও সারভাইভাল- হরর হিসেবে অন্যতম বলতেই হবে। আঁকা আঁকি এখনকার থেকে অত্যন্ত অন্য ধরনের এবং ডায়নামিক।

বিঃদ্রঃ সবার জন্য এই মাঙ্গা নয়। কেবল হরর-সারভাইভাল ফ্যানদের জন্য। বিশেষ করে বাচ্চা কাচ্চাদের মরতে দেখতে যাদের সমস্যা আছে তাদের জন্য তো অবশ্যই নয়।

547817_10151758496550493_1672270980_n

Change 123 a manga review by Farhad Mohsin

আমি মাঝে মাঝে মাঙ্গারিডারে Surprise Me দিয়ে বিভিন্ন মাঙ্গা পড়ি যা হয়তো সাধারণত আমার সামনে আসত না। ম্যাক্সিমামই চার-পাঁচ চ্যাপ্টার পড়ে আর পড়া হয় না। এর মধ্যে যেগুলো কমপ্লিটেড এবং চ্যাপ্টারের সঙ্খ্যা কম এ ধরণের গুলোর ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট কিছুটা বেশি থাকে। এরকম একটা মাঙ্গা ছিল Change 123.


Genre -> Action, Romantic, Ecchi
কাহিনীর শুরুটা অনেকটা এরকম: মোকোতো নামে এক মেয়ের তিন অ্যাডপ্টিভ বাবা। তারা তিনজন তিন ধরণের লড়াইয়ের স্টাইলে স্পেশালিস্ট, একজন হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কম্ব্যাট, একজন ওয়েপন বেইসড অ্যাটাকে, আরেকজন মনে হয় স্ট্রাটেজিকাল অ্যাটাকে। তারা তিনজন আলাদা করে ছোট থেকেই মেয়েকে ট্রেইন করে। মেয়ের কিন্তু তার অরিজিন নিয়ে কোন আইডিয়া নাই। তো এই ট্রেইনিং এর পাল্লায় পড়ে মেয়ের মাল্টিপল পার্সোনালিটি ফর্ম হয়, তিন মারামারির স্টাইল বিশিষ্ট তিনজন, যেই পার্সোনালিটিগুলো তার বিপদের সময়ে আগিয়ে আসে। আর তার কারণে তার অরিজিনাল পার্সোনালিটি হয়ে যায় নিতান্তই ভীতু, ভাজা মাছ উলটে খেতে জানে না ধরণের। তার সাথে একসময় পরিচয় হয় হিরোর(হিরো শুধু নামেই হিরো, বারকয়েক মার খাওয়া ছাড়া আর কিছু করে না), আর এরপর বিভিন্ন সময়ে তার সাথে মারামারি করতে আসে বিভিন্ন লড়াকু, তার অরিজিন সম্বন্ধে কিছু আইডিয়া পাওয়া যায়, ধারণা করা হয় তার অলরেডি স্প্লিট পার্সোনালিটি হয়তো আরও এক ভাগ হয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসবের মাঝে স্টোরি আগিয়ে চলে।

মূল কথা হচ্ছে এমন আহামরি কিছু না, বাট হাতে টাইম থাকলে আর হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট বেসড একটা ফানি-ইচি মাঙ্গা পড়তে চাইলে এটা পড়ে ফেলা যেতে পারে।

!!!! True Loyalty Never Dies !!!!!!!! by Kazi rafi

দেড় বছর আগেও আমি অনেককে দেখসিলাম, একেকটা নারুতর নতুন নতুন চ্যাপ্টার বাইর হয় আর মানুষের সে কি সমালোচনা আর মুন্ডুপাত কিশিমোটোর; কিশিমোটো গাজা খায়ে নারুটো লিখতেছে, নারুটো আর আগের মতন নাই, পুরা লেম হয়ে গেছে, এই ওয়ার আর্ক আর কতদিন ধরে টানবে, আর তো ভালো লাগে নাহ, কিশিমোটোর উচিত নারুটো বন্ধ করে দেয়া, হ্যান ত্যান হাবিজাবি ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ !!!!!!!!!!!!!!!!!! দেড় বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু এখনও সেই একি মানুষরা সেই একি প্যাঁনপ্যানানি এখনও করে যাইতেছে। আচ্ছা ওরা জানল কিভাবে যে নারুটো তে এখনও কি হইতেছে ??? এদের নাহ আরও দেড় বছর আগেই নারুটো পরা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ??? তাদের ভাষ্যমতে নারুটো তো এখন গাঁজাখুরি থেকে গাঁজাখুরিতোমো পর্যায়ে পৌঁছায়ে গেছে, তাইলে তারা কেন এখনও নারুটো পরা বন্ধ করে নাই ?????? কারন তারা চাইলেও বন্ধ করতে পারবে নাহ ! কেন ? কারন এরপরের কাহিনী জানার অদম্য কৌতহল তাদেরকে নারুটো পরা থেকে বিরত রাখতে পারে নি !!!!! আচ্ছা এইবার আমাকে বলেন একটা সিরিয়ালাইযড মাঙ্গার মূল উদ্দেশ্য কি ??? নিজদের বিক্রি বাড়ানো ?? হ্যাঁ তা তো অবশ্যই। নিজেদের বিক্রি বাড়াতে না পারলে তো পাবলিকেশন কোম্পানির ব্যাবসা লাটে উঠবে সেই সাথে মাঙ্গাকার ভাত মারা হবে, কিন্তু সেই বিক্রি বারানো হবে কিভাবে ?? কিভাবে আবার, নতুন পাঠকদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে !! এখন সেটা করার জন্য পাবলিকেশন কোম্পানির হাজাররকমের ব্যাবস্থা নিয়ে রাখা আছে, so ওইদিক দিয়ে লাভের একটা অংশ ঠিকঠাক ! এখন আসি আসল কোথায়, পুরা মাঙ্গা বিক্রির লাভ কিন্তু এই নতুন পাঠকদের থেকেই আসে নাহ, এর মূল লাভটা আসে EXISITNG পাঠকদের থেকে ! এখন এই গ্রুপটি আবার দুটি ভাগে বিভক্ত, এক অংশ এখনও নারুটোকে তাদের আস্থার মাধ্যমে পরে যাচ্ছে, দেখে যাচ্ছে এবং ভালবেসে যাচ্ছে আর আরেক গ্রুপের কথা তো উপরেই বললাম ! এই দ্বিতীয় গ্রুপটির সুন্দর একটা নাম আছে আর সেটা হচ্ছে HYPOCRITES !!!!!! এই হিপোক্রেটদের এতো এতো হিপোক্রেসির পরও কিন্তু তারা ব্যর্থ, কারন তাদের এতো বোলচালের পরেও তারা নারুটো পরা থামাতে পারেনি যেভাবে ঠেকাতে পারেনি এর সাফল্য, এর বিক্রি, এর Profit !!!!
আমার এখনও মনে আছে, যখন ব্লিচে আরাঙ্কার সাগা চলতেছে, এবং ফেক কারাকুরা টাউন আর্ক শুরু হইছে, মানুষের সে কি হতাশা, রাগ, hatred !! ফ্যানরা তো টিটে কুবো রে খেতাবই দিয়ে দিলো একটা “Troll King” নামে !!! তাদের অভিযোগ কি ??? ব্লিচ গোল্লায় গেছে, কুবো ভিয়েতনাম থেকে গাজা আনায় গাজা সেবন করে ব্লিচ লিখতেছে !!!! এরপরে আররাঙ্কার সাগা যখন শেষ হইল, আইযেন যখন পরাজিত হল এবং তারপরে যখন নতুন ফুলব্রিং আর্ক শুরু হইল তখন পাঠক/ তথাকথিত ফ্যানরা যা করল তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মতন নাহ!! কেও কুবো রে জীবনে যত গালি গালাজ শিখছিল তা আর বলতে বাকি রাখে নাই, ফ্যানরা এতটাই ‘অপমানিত’ হইছিল ওর এই কাজে !!!! তাদের ভাষ্যমতে আইযেন্রে আটক করার পরেই ব্লিচ ‘শেষ’ করা দেওয়া উচিত ছিল কারন ব্লিচ বলে তাদের জীবন তা নষ্ট করে দিছে, ব্লিচ বলে এতটাই ‘ফাউল’ একটা মাঙ্গায় পরিণত হইছিল যে তা একদম পড়ার অযোগ্য হয়ে পরছিল !!!! এবং এখানেই সবচেয়ে আশ্চর্যকর বিষয়টা আপনারা খেয়াল করবেন, তাদের অনুযায়ী ফেক কারাকুরা টাউন আর্কের আগ থেকেই বলে ব্লিচের পতন শুরু হইছিল AND YET এই হিপক্রেটরা কিন্তু ফুলব্রিং আর্ক পরা থেকে নিজেদেরকে আটকে রাখতে ব্যর্থ হইছিল তানাহলে তারা কিভাবে জানল যে এই আর্ক হচ্ছে ব্লিচের সবচেয়ে তাদের ভাষ্যমতে জঘন্নতম আর্ক ????? এখানেই শেষ নয় !! ফুলব্রিং আর্কের পরে যখন Thousand Year Blood War আর্ক শুরু হইল এইসব হিপক্রেটদের মধ্যে বেশীরভাগেরই সুর পালটায় গেলো ব্লিচের ব্যাপারে ! এখন এই আর্ক হচ্ছে Soul Society আর্কের পরে তাদের সবচেয়ে প্রিয় আর্ক !!!!!!! হিপক্রেটদের এই হচ্ছে অবস্থা !!!!!!!!!!
আর ফেইরি টেইল, এই মাঙ্গা তো হিপক্রেটদের কাছে অন্যভাবে পরিচিত। শুরু থেকেই এদের ঘৃণার স্বীকার এই মাঙ্গা তাদের ভাষ্যমতে হচ্ছে ‘ Total Rip-off/Copy Of One Piece with Fan Service’ !!!!!!!!! এইটা বলার কারন কি ?? এইটা বলার কারন হচ্ছে হিরো মাশিমা আর ইচিরো ওওডার আর্টের মধ্যে রয়েছে ‘অবিশ্বাস্য’ মিল ! এইরকম মিল বলে জমজ ভাই বঁদের মধ্যেও বলে দেখা যায়না, এবং সেইকারণে তারা মাশিমা কে আড়ালে আবদালে ‘চোর’, ‘কপিকেট’ ডাকা শুরু করলো !!!!!!!
এই হিপক্রেটদের দলটা, তারা থাকবে সবজায়গায়, সমসময়, করে যাবে থাদের অর্থহীন প্যানপ্যাঁনানি, ঘ্যানঘ্যা্নানি, কিন্তু এদেরকে টেক্কা দিতে একইসঙ্গে থাকবে সেইসব আসল পাঠক/ ফ্যানরা যারা প্রথম থেকে আজ অব্দি পর্যন্ত তাদের পছন্দের মাঙ্গাকে, মাঙ্গাকাকে দেখিয়ে গেছে তাদের অবিচল আস্থার, ভালবাসার নিদর্শন, এবং দেখিয়ে যাবে শেষ অব্দি পর্যন্ত !!!! True Loyalty Never Dies !!!!!!!!

Basilisk – Manga review by Farhad Mohsin

আজকে সকালে বাসিলিস্ক(Basilisk) পড়া শুরু করেছি। দিনে বেশ কয়েকবার ঘণ্টাখানিক করে ব্রেক দিয়ে একটু আগে শেষ করলাম। আর্টওয়ার্ক খুব বেশিই ভালো লাগসে। যথেষ্ট গোর, ভায়োলেন্স, নিউডিটি ইত্যাদি আছে। যাদের এসবে অ্যালার্জি আছে দূরে থাকতে পারেন।
যেভাবে শুরু হয়, আর যেহেতু জানতাম ৩৪ ইস্যুতে শেষ হয়ে যাবে, এন্ডিং কিরকম হবে সে সম্বন্ধেও আইডিয়া করা যায় আসলে। কাহিনীর শুরু এমন অনেকটা, এক রাজ-পরিবার টাইপের কিছুর উত্তারাধিকার নির্ধারণ করার জন্য দুইটি নিনজা ক্ল্যানের সদস্যদের মধ্যে লড়াই শুরু করা হয়। দুই ক্ল্যান থেকেই দশজন করে ঠিক করা হয়, যারা লড়াই করবে। শেষমেশ যারা জয়ী হবে তার উপর নির্ভর করছে উত্তরাধিকার।
ভালো লাগার মূল কারণ , এই যে এখানে বিশজন লড়াই করছে, প্রত্যেকের আলাদা আলাদা স্কিল আছে। যারা নারুতো’র সাথে পরিচিত তাদের হয়ত বিভিন্ন Kekkei Genkai’র কথা মনে পড়বে। এদের মধ্যে বিভিন্ন পারমুট্যেশন-কম্বিনেশনে লড়াই হয় বেশ কয়েকটা। কিছু friendly fire ধরণেরও হয় এক-দুইবার।
প্রত্যেকটা লড়াইই যথেষ্ট ভালো। অনেকগুলোতেই বেশ ভালো টুইস্ট আছে। প্রায় সবার সামর্থ্যকে বেশ সুন্দরভাবে ইউটিলাইজ করা হয়েছে। শুধু জ্ঞাতি-গোষ্ঠীগত মারামারি না রেখে অনেক ক্ষেত্রে personal stakes যোগ করা হয়েছে। ব্যাপারটা ভালোই হয়েছে বলব। ওভারালি এক টানে পড়ে ফেলার জন্য বেশ ভালো একটা মাঙ্গা।
আরেকটা জিনিস বলতে ভুলে গেছিলাম। বাসিলিস্কে কখনোই ঠিক এক দুইজন ক্যারেক্টারের উপর ফোকাস করে থাকা যায় না। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্যারেক্টার ফোকাসে আসে। এইটা ভাল্লাগসে।
এইটার এনিমে’ও আছে। আমি নিজে যদিও দেখি নাই, ভালো না হওয়ার কোন কারণ দেখি না।

 

মাঙ্গা- এইটা আবার কি জিনিস? খায় না মাথায় দেয়? – একটি জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব ধরা পোষ্ট —লেখক মো আসিফুল হক

যারা পোস্টের শুরুতেই বানান ভুলের জন্য কইশা গালিগালাজের ধান্ধা করতেছেন, তারা একটু থামেন। বানান ভুল করি নাই,আমি মাঙ্গার কথাই কইতাছি, মঙ্গা না। :):):) মাঙ্গা হইল এক ধরনের জাপানিজ কার্টুন। যারা নিয়মিত এনিম দেখেন তারা এই শব্দটার সাথে বেশ ভালভাবেই পরিচিত।

যেহেতু ভাব ধরা পোষ্ট, শুরুতেই ওয়িকিপিডিয়া থেইকা “মাঙ্গার সংজ্ঞা” মাইরা দেই-
Manga are comics created in Japan, or by Japanese creators in the Japanese language, conforming to a style developed in Japan in the late 19th century.[1] They have a long, complex pre-history in earlier Japanese art.

ছোটবেলায় অনেকেই “চাচা চৌধুরী”, “টিনটিন” বা এই ধরণের কমিক্স গুলা পরছি। সহজ ভাষায় এগুলারই জাপানিজ ভার্শন হইল মাঙ্গা। জাপানে মোটামুটি সব বয়সের লোকজনই এগুলা পড়ে। এগুলার বিষয়বস্তুও নানা ধরণের। একশন- এডভেঞ্চার, রোমান্স, খেলাধুলা, ঐতিহাসিক, কমেডি, সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি, রহস্য- কি নাই !!!! আর এই মাঙ্গার বাজার কিন্তু খুব একটা খারাপ না। জাপানেই ২০০৯ সালে বাজার ছিল মাত্র ৫.৫ বিলিওন ডলারের মত !!!

মাঙ্গাগুলা হয় সাধারণত সাদা কাল কাগজে। রেয়ার কেইসে রঙ্গিন মাঙ্গাও দেখা যায়। সাধারণত এক বইয়ে এক পর্ব থাকে। আর মাঝে মাঝে কয়েকটা পর্ব নিয়া একটা বই বাইর হয়। সেই বইকে কি বলে জানেন – tankobon । সুন্দর নাম না? :P:P:P

অনলাইনে বহু মাঙ্গা পরার সাইট আছে। কঠিন লেভেলের এনিম
খোররা সাধারণত এনিম দেখার আগেই এনিমের মাঙ্গা পইরা ফেলে। আপনারা পড়তে চাইলে এইখানে অথবা এইখানে দেখতে পারেন।