এনিমেঃ Yowamushi pedal সিজন ১
জনরাঃ স্পোর্টস(সাইক্লিং/রোড রেসিং)
এপিসোডঃ ৩৮
স্টুডিওঃ TMS
উৎসঃ Yowamushi pedal মাঙ্গা
¤
Yowamushi pedal শব্দটির শাব্দিক অর্থ weakling pedal.যার সুন্দর বঙ্গানুবাদ করেছিল আমার বন্ধু Siam Maksud,’হে দুর্বল,প্যাডাল ঘুরা।’তো এনিমের প্রধান চরিত্র যে অতি দুর্বল দেখামাত্রই আপনি তা স্বীকার করবেন।প্রধান চরিত্র,ওনোদা সাকামিচি একজন এক্সট্রিম লেভেলের এনিমখোর অর্থ্যাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে ‘ওতাকু’।তো বেশিরভাগ ওতাকুদের মত সেও লিকলিকে শরীর এবং গোল কাঁচের চশমার অধিকারী।আশ্চর্যজনক ভাবে সমগ্র মিডল স্কুল লাইফে সে একজন এনিমখোর বন্ধুও খুঁজে পায়নি।তাই হাইস্কুলে একটি এনিমে ক্লাব প্রতিষ্ঠার ধণুকভাঙ্গা পণ নিয়ে সে তার বাইসাইকেল সহ স্কুলের দিকে রওনা দেয়।পথিমধ্যে তার সামনে পড়ে দুই কিলোমিটার ব্যপ্তি বিশিষ্ট এক ঢাল যা সে তার ‘মমা বাইক’ অর্থ্যাৎ সাধারন সাইকেল চালিয়েই গুণগুণ করে গান গেয়ে অনায়াসেই পাড়ি দিতে থাকে।এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে অবাক হয় ‘ইমাইজুমি’ ওরফে ‘হটশট’ যে কিনা মিডল স্কুল রোড রেসিং কম্পিটিশনে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে এই সোহোকু হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছে।তাই অনেকটা হিংসার বশবর্তী হয়েই সে ওনোদাকে রেসের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।অপ্রস্তুত ওনোদা,ইমাইজুমির বিপক্ষে অসাধারন ভালো ফলাফলের কারণে স্কুলের বাইসাইকেল ক্লাবের সিনিয়রদের সুনজরে পড়ে।ওনোদা আর ইমাইজুমি দুজনেই বাইসাইকেল ক্লাবে জয়েন করে।তারা কি পারবে সিনিয়রদের সাথে লড়াই করে ক্লাবে টিকে থাকতে?তারা কি পারবে ইন্টার হাই রোড রেসিং টুর্নামেন্টের মত মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করতে?
¤
Yowamushi pedal এর সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক সম্পর্কে বলতে গেলে সবার আগে বলতে হবে এর ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্টের কথা।যেহেতু রোড রেসিং একটি দলগত খেলা তাই এখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সম্পূর্ণ একটি রেস জেতা সম্ভব না।সোহোকো রেসিং ক্লাবের ছয়জন সদস্যের উপরেই স্পটলাইটের আলো সমান ভাবে পড়েছে।খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ,মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব,একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সুন্দর করেই তুলে ধরা হয়েছে।বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের উপরও সমান আলোকপাত করা হয়েছে।প্রধান খল চরিত্র ‘মিডৌসুজি আকিরা’ এর চালচলন এবং সিদ্ধান্তগুলো পুরোপরি আনপ্রেডিক্টেবল মনে হবে আপনার কাছে।সোহোকু একাডেমির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হাকোনে একাডেমির রেসারদের সিরিজের মাঝপথে দেখলে আপনি ধন্দে পড়ে যাবেন যে এরাই নায়ক কিনা।পক্ষ-বিপক্ষ প্রতিটি দলের খেলোয়াড়েরই রয়েছে অম্লমধুর অতীত যা আপনার হৃদয়কে নাড়া দেবে।দলগত খেলা হওয়ার পরও সোহোকু আর হাকোনে একাডেমির সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যকার খন্ড লড়াই আপনাকে অন্যরকম একটা থ্রিল এনে দেবে।
¤
অ্যানিমেশন কোয়ালিটির কথা বলতে গেলে একে গড়পড়তার মধ্যেই ফেলা যায়।আর এনিমের বেশির ভাগ স্ক্রিনটাইম রেসিং ট্র্যাকের ওপর হওয়ায় অ্যানিমেশনের কোয়ালিটির অতটা গুরুত্বও ছিল না।তবে পাহাড়,গাছ-পালা ও রেসিং ট্র্যাকের আশেপাশের পরিবেশের গ্রাফিক্স আরেকটু ভালো হওয়া দরকার ছিল।
¤
এনিমেটির সাউন্ডট্র্যাক যথেষ্ট থ্রিলিং ছিল।বিশেষ করে সোহোকুর রেসারদের রেসে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় অসাধারন কিছু সাউন্ডট্র্যাক ব্যবহার করা হয়েছে।চারটি ওপেনিং সংয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Rookiez Is PunkD এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং ‘reclimb’.এছাড়া এন্ডিং সংগুলোও ভালোমানের ছিল।
¤
Yowamushi Pedal দেখলে আপনি একটা জিনিস নিশ্চিত জানতে পারবেন তা হল সাইক্লিংয়ের নিয়মকানুন ও খুঁটিনাটি।বাংলাদেশে অনেকে শখ করে সাইকেল চালালেও নেশা হিসেবে সাইক্লিংকে খুব কম মানুষই বেছে নেন।তার উপর ট্র্যাকের অপ্রতুলতা এবং এসএ গেমসে চিটিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুণ্ণ। কিন্তু Yowamushi pedal সাইক্লিংয়ের প্রতি আপনার পুরনো ভালোবাসাকে জাগিয়ে তুলবে।এনিমেটা দেখে থাকলে পরিচিত হবেন gear shifting, dancing, climbing, sprinting, cadence, king of the mountain ইত্যাদি সাইক্লিং বিষয়ক টার্মের সাথে।এছাড়া সাইকেল চালানোর সময় চালকরা যে মুক্ত বিহঙ্গ মার্কা অনুভূতি পেয়ে থাকে তার সাথেও পুনরায় সুপরিচিত হবেন।তাই যারা জীবনে একবার হলেও সাইকেল চালানো শিখেছেন তাদের প্রত্যেকেরই উচিত এনিমেটা দেখা।
¤
পুরোটা এনিমে দেখে আমি একটা বিষয় খুব ভালোভাবেই বুঝেছি যে,যতদিন পর্যন্ত না এদেশের যুবসমাজ গিয়ার সাইকেল চালানোকে পার্ট ধরার সরঞ্জাম হিসেব গণ্য করা বন্ধ না করবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সাইক্লিংয়ের ভবিষ্যত অন্ধকার।(এটাকে অনেকে ধৃষ্টতা হিসেবে নিতে পারেন কিন্তু ইহাই বাস্তব সত্য।)
¤
খুবই টানটান উত্তেজনাময় এক মূহূর্তে এনিমেটার প্রথম সিজন হয়ে যাই।তাই আজকে দ্বিতীয় সিজন নামানোর খুশিতে এই লেখা।ধন্যবাদ Siam Maksud ও M.M Rezwan কে এই অসাধারন এনিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।
চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান -৪ – Saito Hajime — Shifat Mohiuddin
চরিত্রঃ Saito Hajime
এনিমে: Rurouni Kenshin, Rurouni Kenshin: Trust and Betrayal
ভূমিকাঃ মধ্যপন্থী
আসল নামঃ Yamaguchi Hajime/Saito Hajime
জন্মঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৪
মৃত্যুঃ ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫
কর্মস্থলঃ শিনসেনগুমির তৃতীয় স্কোয়াড(জাপানিজ সামরিক সরকারের বিশেষ পুলিশ বাহিনী)
পদবিঃ ক্যাপ্টেন
¤
আমরা যারা রুরুনি কেনশিন এনিমেটা দেখেছি তারা সকলেই সাইটো চরিত্রটির সাথে পরিচিত।দুর্বিনীত,অহংকারী,অতি-আত্মবিশ্বাসী কিন্তু তলোয়ারবাজিতে অত্যন্ত দক্ষ;সর্বোপরি ব্যাডঅ্যাস এই চরিত্রটি আমাদের মনে ভালোই দাগ কেটেছে।গ্রুপের অধিকাংশ মেম্বারই বোধহয় জানেন যে সাইটো একটি ঐতিহাসিক চরিত্র হতে অনুপ্রানিত।কেনশিনের লেখক নবুহিরু ওয়াতসুকি একজন স্বঘোষিত শিনসেনগুমি ফ্যান এবং তাঁর অনেকগুলো চরিত্রই শিনসেনগুমির সদস্যদের হতে অনুপ্রানিত।সাইটোও তাদের মধ্যে একজন।এনিমের মতো বাস্তব জীবনের সাইটোও সেইরকম ব্যাডঅ্যাস ছিলেন এবং তার জীবন কোন অংশেই কেনশিনের চেয়ে কম বৈচিত্রপূর্ণ নয়।সাইটোই সেই অল্পসংখ্যক যোদ্ধাদের মধ্যে একজন যারা বাকুমাতসুর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছিলেন।
¤
সাইটো বর্তমান টোকিওতে জন্মগ্রহন করেন।
তার পিতার নাম Yamaguchi Yusuke যিনি কিনা একজন পদাতিক সৈন্য ছিলেন।তার আরও এক ভাই এবং এক বোন ছিল।পারিবারিক সূত্র হতে জানা যায় যে, দুর্ঘটনাবশত একজন যোদ্ধাকে হত্যা করায় সাইটোকে ১৮৬২ সালে গৃহত্যাগ করতে হয়।তিনি কিয়োটোতে চলে যান এবং yoshida নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে তলোয়ারবিদ্যার শিক্ষা নেন।তার পূর্বজীবন সম্পর্কে এর থেকে বেশি কিছু জানা যায় না।
¤
একজন দক্ষ তলোয়ারযোদ্ধা হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই সাইটো শিনসেনগুমিতে পদোন্নতি পান।সাইটো,Okita soji এবং todo heisuke এই তিনজন ছিলেন শিনসেনগুমির সবচেয়ে কম বয়স্ক এবং দক্ষ যোদ্ধা।১৮৬৪ সালে সাইটোকে শিনসেনগুমির চতুর্থ স্কোয়াডের প্রধান করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে ১৮৬৫ সালের এপ্রিলে তিনি তৃতীয় স্কোয়াডের প্রধান হন।তার দক্ষতা প্রথম স্কোয়াডের লিডার Okita soji[এই চরিত্রটিকে ট্রাস্ট এন্ড বিট্রেয়ালে দেখানো হয়েছে]এর সমকক্ষ ছিল এবং বলা হয় যে ওকিটা,সাইটোকে ভয় পেতেন।
¤
শিনসেমগুমিতে সাইটো মূলত ভাইস কমান্ডারের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।এছাড়াও তলোয়ারবিদ্যা শেখানোর কাজটাও তিনি করতেন।১৮৬৭ সালে সাইটো এবং তার শিনসেনগুমির অন্য সদস্যরা Hatamote(এমন সৈন্য যারা জাপান সামরিক সরকারের সরাসরি অধিনস্থ থাকতো)পদে পদোন্নতি পান।বুশিন ওয়ার(১৮৬৮-১৮৬৯) চলাকালিন সময়ে সাইটো Battle of toba-fusimi এবং battle of koshu-katsunuma তে অংশগ্রহন করেন।যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর সাইটো অবশিষ্ট যোদ্ধাদের নিয়ে জাপানের আইজু এলাকায় পলায়ন করেন।
¤
Utsunomiya দুর্গের লড়াইয়ে শিনসেনগুমির কমান্ডার Hijikata Toshizo মারাত্মক আহত হন।ফলশ্রুতিতে ১৮৬৮ সালের ২৬ মে তারিখে সাইটো আইজু শিনসেনগুমির কমান্ডার হন।Bonari pass এর লড়াইয়ের পর Hijikata আইজু হতে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিলেও সাইটো থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আইজু আর্মিকে সঙ্গে নিয়ে battle of aizu এর শেষপর্যন্ত লড়াই করেন।(এই বিচ্ছেদের ব্যাপারে বিতর্ক আছে।অনেকের মতে সাইটো হিজিকাতার কাছ থেকে আলাদা হন নি।)
সাইটো এবং তার অনুসারিরা Nyorai-do টেম্পলে ইমপেরিয়াল বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন।যুদ্ধে তারা মারাত্মকভাবে outnumbered হন এবং সকলে ধরে নেয় যে এই যুদ্ধে সাইটো মৃত্যুবরণ করেছেন।কিন্তু সাইটো পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং আইজুতে ফিরে এসে আইজুর সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করেন।আইজু দুর্গের পতনের পর সাইটো কিছু সহযোদ্ধাদের নিয়ে takada এলাকায় যান কিন্তু সেখানে তারা যুদ্ধবন্দী হন।আটক হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকায় সাইটোকে Ichinose Denpachi নামে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
¤
মেইজি পুনরুত্থানের পর সাইটো,Fujita Goro ছদ্মনাম নিয়ে Tonami অঞ্চলে চলে যান।সেখানে তিনি তার এক পুরনো বন্ধু Kurasawa Heijiemon এর বাসায় অবস্থান করেন।সেখানে,সাইটোর সাথে শিনোদা ইয়াসো নামক এক নারীর পরিচয় হয়।কুরাসাওয়ার ঘটকালিতে ১৮৭১ সালে সাইটোর সাথে ইয়াসোর বিবাহ সম্পন্ন হয়।তারা কুরাসাওয়ার বাড়িতেই থাকতেন।ধারনা করা হয় তখনই সাইটো পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন।১৮৭৪ সালে সাইটো tonami ছেড়ে টোকিও চলে যান।দুই বছর পরে সাইটো fujita goro নাম নিয়েই টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
¤
এর পর সাইটো Takagi Tokio নামক আরেক নারীকে বিয়ে করেন।তোকিও এর পিতা আইজুর একজন সম্ভ্রান্ত পুরুষ ছিলেন।সাইটো এবং তোকিওর ঘরে Tsutomu,Tsuyoshi এবং Tatsuo নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়।Tsutomu এর সন্তানরা এখনও সাইটোর বংশধারা বজায় রেখেছেন।
¤
তিনি মেইজি সরকারের আমলে Satsuma বিদ্রোহ দমনে পুলিশ বাহিনীর হয়ে জাপানিজ সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেন।পুলিশ বাহিনীতে তিনি অত্যন্ত সুনামের সহিত কাজ করেন এবং বীরত্বসূচক অনেক পুরষ্কারও পান।১৮৯০ সালে তিনি পুলিশ বাহিনী হতে অবসর গ্রহন করেন।পরবর্তিতে এক বন্ধুর সহায়তায় Tokyo Education Museum এ তিনি গার্ডের দায়িত্ব পালন করেন।তারপর তিনি টোকিও নরমাল হাই স্কুলে সাত বছর চাকরি করেন।১৯০৯ সালে তিনি এই চাকরি হতে অবসর গ্রহন করেন।
¤
শিনসেনগুমির অন্যান্য সদস্যদের মতই সাইটো ছিলেন অর্ন্তমুখী এবং রহস্যময় স্বভাবের।তিনি খুবই কম কথা বলতেন এবং খেজুরে আলাপে তার কোন আগ্রহ ছিল না।সবসময় বিশেষ করে জীবনের শেষের দিকে তিনি অত্যন্ত গর্বিত ভাবে জীবনযাপন করতেন।অবসর সময়ে সর্বদাই তাকে সেইজা(জাপানিজদের হাঁটু ভেঙ্গে বসার স্টাইল)রত অবস্থায় দেখা যেত।মেইজি যুগে সাইটোই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে কাতানা বহনের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।সাইটোর উচ্চতা ছিল ৫’ ১১” অর্থ্যাৎ এনিমের মত বাস্তব জীবনেও তিনি অত্যন্ত লম্বা ছিলেন।তিনি সর্বদাই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকতেন যেন যেকোন সময়ে যেকোন পরিস্হিতির মোকাবেলা করতে পারেন।
সাইটো অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন।তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধির কারণে শিনসেনগুমির অভ্যন্তরের গুপ্তচর ধরায় তার জুড়ি মেলা ভার ছিল।সদস্যরা সকলেই তাকে সমঝে চলতো।ফলে অনেকে তাকেই স্পাই মনে করতো।সাইটোর অন্যান্য সংস্হার ইন্টিলিজেন্স এবং গতিবিধির উপর নজর রাখাই ছিল তাদের সন্দেহের কারন।সাইটোর হাতে শিনসেনগুমির কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্যের মৃত্যু তাকে আরোও বিতর্কিত করে তুলেছিল।
¤
সাইটোর তলোয়ারবাজির স্টাইলের নাম ছিল Mugai Ryu যার উৎপত্তি হয়েছিল তার পারিবারিক স্টাইল Yamaguchi Itto-ryu হতে।সাইটো প্রচুর sake পান করতেন এবং পানরত অবস্থায় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে তিনি তার পূর্বকথা বলতেন।সাইটো তার কোন স্মৃতিকথাই লিখে রাখতেন না।
¤
এনিমেতে সাইটো যে গাটুটসু টেকনিকের ব্যবহার করতেন সেটা তার আসল তলোয়ারবিদ্যার সাথে মিল থাকলেও পুরোপুরি কল্পিত।’Aku Soku Zan’ অর্থ্যাৎ “Slay Evil Immediatly” নামক যে নীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন তা কাল্পনিক হলেও বাকুমাতসুর সময়ের শিনসেনগুমির এক সাধারন চিন্তাভাবনাই ছিল।কেনশিন ব্যতিত আরো কিছু শিল্পমাধ্যমেও সাইটোর উপস্হিতি আছে।
¤
অতিরিক্ত সাকে পান করার কারণেই স্টমাক আলসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯১৫ সালে ৭২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুর সময়ও তিনি সেইজা অবস্হাতেই বসে ছিলেন।
¤
source:wikipediaB-)
চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান – Angra Mainyu [Fate series] — Shifat Mohiuddin
চরিত্রঃ Angra Mainyu
এনিমে: Fate/stay night, Fate/Zero, Fate/stay night: Unlimited Blade Works
ভূমিকাঃ খলনায়ক
উপাধি/অপর নামঃ আহিরমান, Source of all evil in the world, Destructive spirit, Daeva of Daevas.
উপস্হিতিঃ জরুথ্রস্টবাদ, মানিবাদ এবং অন্যান্য খ্রিষ্টোত্তর ধর্ম।
¤
অ্যাংগ্রা মাইনয়ু আসলে এমন একটা চরিত্র যাকে কল্পনা করতেই যোগ্যতা লাগে।মূলত ফেইট সিরিজের এনিমেগুলোর শেষ এপিসোডে এর উপস্হিতি লক্ষ করা যায়।এর উপস্হিতি পঙ্কিল এবং বীভৎস(অনেকটা সাউরনের মত)।কাদার মত থকথকে বস্তু দ্বারা এর পুরো দেহ আবৃত।তো,এই চরিত্রটির আমদানি ঘটেছে জরুথ্রুস্টবাদ ধর্ম থেকে।তাদের ধর্মগ্রন্হ আবেস্তার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু অ্যাংগ্রা মাইনয়ু যার আসল নাম আহিরমান(পার্সি ভাষায় অ্যাংগ্রা মাইনয়ু বলা হয়)।আমি এই লেখায় আহিরমান শব্দটিই ব্যবহার করবো।
¤
অ্যাংগ্রা মাইনয়ু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ধ্বংসাত্মক আত্মা।জরুথ্রুস্টের মতে নামটি এখনো পরিপূর্ণতা লাভ করে নি।এখানে এমন এক মনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যার মন কলুষতায় পরিপূর্ণ এবং ধ্বংসই যার টিকে থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য।
¤
আবেস্তার প্রথম অংশে আহিরমানকে ডেভাদের (daeva) প্রধান হিসেবে অভিহিত করা হয়।জরুথ্রুস্টের মতে ডেভারা হল fallen angel দের মত,পুরোপরি ডিমন না।ডেভারা অন্ধকার জগতে বাস করে এবং আহিরমান তাদের সর্বময় কর্তা।আহিরমান যাবতীয় নেগেটিভ ইমোশন যেমনঃদুঃখ,কষ্ট,বেদনা,ঘৃণা,হিংসা ইত্যাদির প্রতিনিধিত্ব করে।ধারণা করা হয় যে,আহিরমানই ডেভাদের ভেতরে অন্ধকারের প্রবেশ ঘটিয়েছে,যদিও সে ডেভাদের স্রষ্টা নয়।
¤
জরুথ্রুস্টবাদে আহিরমানের উৎপত্তি নিয়ে সেইরকম কোন তথ্য নেই।যেন,সৃষ্টির প্রথম থেকেই আহিরমান ছিল।আর আহিরমানের বিপরীত সত্ত্বা হল ওহরমাজদা।ওহরমাজদা হল আলোর প্রতীক এবং সে ইয়াজদাদের (creature of light) নিয়ন্ত্রন করে।তবে ইয়াসনার ৩০.৩ স্লোক অনুযায়ি দুইজন পবিত্র যমজের উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে যাদের একজনের নাম অ্যাংগ্রা মাইনয়ু এবং অপরজনের নাম স্পেনটা মাইনয়ু।এই স্লোকটি চিরকালীন ওহরমাজদা-আহিরমান বিশ্বাসে চিড় ধরায়।তবে আহিরমানের উৎপত্তির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে জুরভানিজম ধর্মে।
¤
জুরভানিজম (zurvanism) হল জরুথ্রুস্টবাদের একটি শাখা ধর্ম যা ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়।পরে অবশ্য শাসকদের রক্তচক্ষুর প্রভাবে এই ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যায়।তবুও আধুনিক জরুথ্রুস্টবাদে এখনও জুরভানিজমের প্রভাব দেখা যায়।
জুরভানিজম অনুসারে,বিশ্বজগতে প্রথম উপাদান ছিল জুরওয়ান(time) নামের একজন উভলিঙ্গ দেবতা।জুরওয়ান বংশবৃদ্ধিতে আগ্রহী ছিল এবং চাইতো যে তার পক্ষ থেকে কেউ যেন স্বর্গ আর নরক তৈরি করে।সন্তান লাভের জন্য জুরওয়ান ১০০০ বছর ধরে সাধনা করে।এই দীর্ঘ সাধনার ফল না পাওয়ায় জুরওয়ানের মনে সামান্য সন্দেহ দেখা দেয় এবং তৎক্ষনাৎই সে যমজ সন্তানের অধিকারী হয়।এই সন্তানদ্বয় ছিল ওহরমাজদা এবং আহরিমান।বলা হয় যে,সেই সাধনার ফসল ছিল ওহরমাজদা এবং সেই সূক্ষ সন্দেহের ফসল ছিল আহরিমান।
জুরওয়ান সিদ্ধান্ত নেন,যে সন্তান আগে গর্ভ ভেদ করবে তাকেই তিনি সার্বভৌম ক্ষমতা দান করবেন।ওহরমাজদা এই কথা বুঝতে পারে এবং তার ভাই আহিরমানকে এই ব্যাপারে অবহিত করে।আহিরমান এই কথা শুনে জুরওয়ানের উদর বিদীর্ন করে বাইরে বের হয়ে আসে।জুরওয়ান তার কথা মতো,আহিরমানকে সার্বভৌম ক্ষমতা দান করেন তবে তা ৯০০০ বছরের জন্য।তিনি বলে দেন যে,৯০০০ বছর পরে ওহরমাজদাই এই মহাবিশ্ব শাসন করবে।
আহিরমান আর ওহরমাজদা পরষ্পরের সাথে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।অবশ্য সব ধর্মগ্রন্থের শেষেই বলা হয়েছে শেষমেষ আহিরমানই পরাজিত হবে এবং নরকে পতিত হবে।যেহেতু,নরক তার নিজেরই সৃষ্টি।
আহিরমান এবং ওহরমাজদা উভয়েই একে অপরকে চ্যালন্জের মাধ্যমে পৃথিবীকে বৈচিত্র্যময় বানিয়েছে।যেমনঃওহরমাজদার ষোলটি শুভ শক্তির বিপক্ষে আহিরমান ষোলটি অশুভ শক্তির ব্যবহার করেন।এই অশুভ শক্তি গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মহামারি,দুর্ভিক্ষ,শীত ইত্যাদি।মানুষ নিয়মিতই তাদের যুদ্ধের কেন্দ্রে থাকত এবং তাদের কাজ হতো চারিদিকের এই অন্ধকারের মধ্যে অন্তরের সততা বজায় রাখা।কলুষতার ছোঁয়া পেলেই ডেভারা মানুষের আত্মাকে অপবিত্র করে ফেলতে পারতো।
¤
আধুনিক যুগে অবশ্য আহিরমানের উৎপত্তি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করা হয়।১৮৬২ সালে মার্টিন হগ নামক একজন ব্যক্তি আহিরমানের উৎপত্তির নতুন ব্যাখা দেন।তাঁর মতে,আহিরমান,ওহরামাজদার সমসাময়িক কেউ নয়।বরং ওহরামাজদারই নিজস্ব দুই সৃষ্টি হল অ্যাংগ্রা মাইনয়ু এবং স্পেনটা মাইনয়ু,যারা যথাক্রমে ওহরামাজদার ‘সৃষ্টি’ এবং ‘ধ্বংস’ বৈশিষ্ট্যের প্রতিনিধিত্ব করে।এইখানে স্পেনটা মাইনয়ু নামক নতুন এক সৃষ্টির অস্তিত্ব ঘোষণা করা হয়।হগের মতে এটাই জরুথ্রুস্টবাদের মূলনীতি এবং কালেক্রমে এটাই বিকৃত হয়ে প্রচলিত রূপ নিয়েছে।
হগের এই তত্ত্ব ইয়াসনার ৩০.৩ স্লোকের যমজ সন্তান তত্ত্বকে মারাত্মক ভাবে সমর্থন করে।সমকালীন পন্ডিতেরাও হগের তত্ত্বে সমর্থন দেন এবং তাদের মতে হগের তত্ত্ব জরুথ্রুস্টবাদকে আধুনিক যুগের সাথে মানানসই করেছে।
মজার ব্যাপার হল,রুডলফ স্টাইনার নামক প্রখ্যাত একজন দার্শনিকের মতে আহিরমানের পূর্নজন্ম হবে।তাঁর মতে ৩০০০ খ্রিষ্টাব্দের পর আহিরমানের আবির্ভাব ঘটতে পারে।বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান অস্হিতিশীলতাই হবে তার আবির্ভাবের কারণ।তিনি আহিরমানকে মাত্র দুইজনের একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা কিনা যীশুর মৃত্যুর পর যীশুর ফোকাস নিজেদের দিকে টেনে নিতে সক্ষম হয়েছে।
¤
রেফারেন্সঃ সাহিত্য,সংষ্কৃতি এবং মিডিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আহিরমানকে প্রচুরভাবে উপস্হাপন করা হয়েছে।তবে একটি উদাহরন না দিলেই নয়।বাংলাদেশের সুলেখক তানজীম রহমানের থ্রিলার-হরর উপন্যাস ‘আর্কনে’ অ্যাংগ্রা মাইনয়ুর(আহিরমান) কথা উল্লেখ আছে।আর্কন উপন্যাসের একটি প্রধান খল চরিত্র হল আর্কনেরা।জানলে খুশি হবেন যে এই আর্কনেরা হল ডেভাদের অনুরূপ।তাদের শাসনকর্তাও হল আহিরমান।লেখক আর্কন উপন্যাসে মানিকেয়িজম নামক এক ধর্মের আশ্রয় নিয়েছেন যা জরুথ্রুস্টবাদের অনুরূপ ধর্ম।এমনকি বইয়ের কয়েক জায়গায় আহিরমান লেখাও আছে।বইটির পাঠকেরা নিশ্চয়ই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন।যারা ফেইট সিরিজের ভক্ত তারা অবশ্যই আর্কন বইটা পড়ে দেখতে পারেন।
¤
স্পয়লার অ্যালার্ট
Fate/hollow ataraxia অনুযায়ি (আমি hollow ataraxia খেলি নাই।অনিন্দ্য ভাইয়ের পোস্ট এবং পরে উইকিতে কাহিনী জানতে পারি।)অ্যাংগ্রা মাইনয়ুকে অ্যাভেন্জার ক্লাস হিসেবে থার্ড হোলি গ্রেইল ওয়ারে সামন করার চেষ্টা করা হয়।কিন্তু যে সামন হয় সে নাকি একজন সাধারন বালক ছিল যার জন্ম নাকি মধ্যপ্রাচ্যে।এক্ষেত্রে টাইপ মুনের প্রশংসাই করতে হয় কারণ জরুথ্রুস্টবাদের উৎপত্তি ঘটেছিল ইরাকে।মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে উপুযুক্ত কোন জায়গায় অ্যাভেন্জারের জন্ম নেওয়া সম্ভব ছিল না।
¤
source:all hail wikipedia 😛
চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান – Caster [Fate/stay night] — Shifat Mohiuddin
আরেকটি চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান
চরিত্র: মিদিয়া (ক্যাস্টার)
এনিম: Fate/stay night,Fate/stay night [unlimited blade works]
ভূমিকাঃ খলনায়িকা
¤
আসল নামঃমিডিয়া
জাতীয়তাঃগ্রীক,কলচিয়ান
সামাজিক পদমর্যাদাঃরাজকন্যা
জন্ম ও মৃত্যুঃ১১০০-৮০০ খ্রীষ্টপূর্বের মধ্যকার যেকোন সময়ে।
মৃত্যুর ধরনঃজানা যায় নি
সময়কালঃগ্রীক অন্ধকার যুগ
¤
আমরা যারা FSN এবং FSN UBW দেখেছি তারা রূপসী এবং রহস্যময়ী চরিত্র ক্যাস্টারের সাথে সুপরিচিত।ক্যাস্টারের প্রতিটি কাজ রহস্যমন্ডিত এবং তার চরিত্রটাও অনেক জটিল একটা চরিত্র।ক্যাস্টারের আচরন অনেকের কাছেই পুরোপুরি বোধগম্য হয় নি।শেষমূহূর্তে তার নাম সকলের সামনে উন্মোচিত হয় এবং আমরা জানতে পারি যে চরিত্রটি গ্রীক মিথের একটি অত্যন্ত খ্যাতনামা গল্পের একটি প্রধান চরিত্র থেকে নেওয়া।
¤
পূর্বকথাঃগ্রীক মিথ অনুযায়ী যুদ্ধদেবতা এরেস[রোমান নাম মার্স] এর দুটি পবিত্র বনভূমি আছে।এর মধ্যের একটি বনভূমির অবস্হান গ্রীসের কলচিস রাজ্যে।কলচিস রাজ্যটি মূল গ্রীক ভূখন্ড হতে অনেক দূরে কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্হিত।কলচিসের রাজা ঈটিস ছিলেন এরেসের অনেক বড় উপাসক।তাই এরেস খুশি হয়ে ঈটিসকে একটি Golden fleece[স্বর্নমন্ডিত মেষচামড়া] উপহার দেন।এই গোল্ডেন ফ্লিস কলচিসকে যাবতীয় মহামারী,প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করত।অন্যান্য রাজ্যের মানুষরা এই ফ্লিস দখল করতে চাইতো বলে এরেস একটি নরমাংসভোজী নির্ঘুম ড্রাগনকে ফ্লিসের পাহাড়ায় রাখেন।ড্রাগনটির দাঁত ছিল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন।এই দাঁত মাটিতে পুঁতে গোড়ায় সামান্য রক্ত ঢাললে কন্কালসদৃশ কিছু যোদ্ধা জন্ম নিত।এভাবে দাঁত রোপন করে ঈটিস এক বিশাল সেনাবাহিনীর নেতা হন।এছাড়াও এরেস ঈটিসকে একজোড়া ষাঁড় উপহার দেন।ষাঁড়গুলোর নাক থেকে আগুনের নিঃশ্বাস বের হত।এই ষাঁড়গুলোকে চাষ করাবার জন্য এরেস ঈটিসকে একটি অগ্নিনিরোধক বর্মও উপহার দেন।
¤
আমাদের কাহিনী শুরু হয় সুদূর Iolcus নগর হতে।এই নগরের রাজা ছিলেন ঈসন নামক একজন বয়স্ক ব্যাক্তি।কিন্তু তার ছেলে পেলিয়াস জোরপূর্বক তার সিংহাসন দখল করে।পেলিয়াস এর সৎ ভাই জ্যাসন সিংহাসনের দাবি জানালে পেলিয়াস মনে মনে অস্বীকৃতি জানালেও কৌশলে জ্যাসনকে গোল্ডেন ফ্লিস চুরি করে নিজেকে বীর প্রমান করার পরামর্শ দেয়।পেলিয়াস জ্যাসনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল কারন যারা এপর্যন্ত ফ্লিস উদ্ধারের অভিযানে গেছে তারা কেউই জীবিত ফেরত আসে নি।যাইহোক,জ্যাসন এই পরামর্শে রাজি হয়।[LIKE A TRUE HERO:-P]তবে এই শর্তে যে জ্যাসন যদি ফ্লিস নিয়ে আসতে পারে তাহলে পেলিয়াস সিংহাসন ছেড়ে দেবে।জ্যাসন তার সমসাময়িক বীরদের নিয়ে ‘Argonauts’ নামের একটি অভিযাত্রী দল গঠন করে।অনেকের মতে এই দলে নাকি হারকিউলিসও যোগ দিয়েছিলেন।তাঁরা ‘Argo’ নামের একটি জাহাজ তৈরি করেন এবং কলচিসের প্রতি যাত্রা শুরু করেন।যাত্রাপথের বিচিত্র ঘটনাগুলো আমি আর উল্লেখ করছি না।
¤
কলচিসের রাজা ঈটিসের মেয়ে ছিলেন মিডিয়া।তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী ডাইনী।জ্যাসন যখন দলবল নিয়ে কলচিসের রাজদরবারে গোল্ডেন ফ্লিস দাবি করেন তখন মিডিয়া জ্যাসনের প্রতি প্রথম দর্শনেই ভালোবাসার জালে আবদ্ধ হন।অনেকে মনে করেন দেবী হেরার(রোমান নাম জুনো) পরামর্শে ভালোবাসার দেবী আফ্রোদিতি(ভেনাস) মিডিয়াকে জ্যাসনের প্রতি আসক্ত করে দেন।জ্যাসন ফ্লিসের দাবি জানালে ঈটিস মৌখিকভাবে সম্মতি জানান কিন্তু মনে মনে জ্যাসনকে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেন।ঈটিস নিশ্চিত ছিলেন যে তাঁর পরীক্ষা থেকে জ্যাসন কোনমতেই বেঁচে ফিরে আসতে পারবে না।
¤
কিন্তু ভালোবাসায় অন্ধ মিডিয়া পিতার কূটচাল বুঝতে পারেন।মিডিয়া জ্যাসনের কাছে প্রেম নিবেদন করেন এবং জ্যাসনকে সাহায্য করেন প্রতিশ্রুতি দেন।জ্যাসন মিডিয়াকে গ্রহন করতে রাজি হয় একশর্তে যে মিডিয়াকে ফ্লিস উদ্ধার সাহায্য করতে হবে।প্রেমের জালে আবদ্ধ মিডিয়া পিতার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করতে সানন্দে রাজি হয়।
¤
ঈটিসের প্রথম পরীক্ষা এমন ছিল যে জ্যাসনকে আগুনের নিঃশ্বাস ফেলা ষাঁড়দুটোকে দিয়ে হালচাষ করতে হবে।কাজটি ছিল অত্যন্ত বিপদজনক কারন ষাঁড়ের নিঃশ্বাসে দেহ পুড়ে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল।কিন্তু মিডিয়া জ্যাসনের দেহে এক ধরনের মলম মেখে দেন ফলে জ্যাসন অতি সহজে ষাঁড়দুটোকে দিয়ে অতি সহজেই হালচাষ করে ফেলেন।
¤
দ্বিতীয় পরীক্ষা এমন ছিল যে ঐ চষা জমিতে জ্যাসনকে ঐ ড্রাগনের দাঁত মাটিতে রোপণ করতে হবে।জ্যাসন দাঁত রোপণ করার সাথেই একদল কন্কাল যোদ্ধা তাঁকে ঘেরাও করে ফেলে।কিন্তু মিডিয়ার পরামর্শ অনুযায়ী জ্যাসন কন্কাল যোদ্ধাদের ভিড়ের মধ্যে একটি পাথর নিক্ষেপ করেন।কোথা থেকে পাথরটি এসেছে বুঝতে না পেরে কন্কাল যোদ্ধারা নিজেদের মধ্যেই লড়াই শুরু করে এবং শীঘ্রই ধ্বংস হয়ে যায়।এইজন্যই বোধহয় এনিমেতে ক্যাস্টারকে দেখা যায় কন্কালসদৃশ কিছু প্রানীকে নিয়ন্ত্রন করতে।
¤
জ্যাসনের আসল কাজ ছিল ড্রাগনকে যেভাবেই হোক হারিয়ে ফ্লিস দখল করা।এক্ষেত্রেও মিডিয়া সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।এক রাতে জ্যাসন মিডিয়ার প্রস্তুতকৃত একধরনের ঔষধি স্প্রে ড্রাগনের শরীরে ছিটিয়ে দেয়।ফলে ড্রাগন ঘুমিয়ে পড়ে এবং জ্যাসন সহজেই ফ্লিস দখল করতে সক্ষম হন।
¤
জ্যাসন মিডিয়াকে নিয়ে কলচিস হতে পলায়ন করেন।জাহাজ দিয়ে পলায়নের সময় মিডিয়ার ভাই অ্যাপসাইরটাস তাদেরকে তাড়া করে।মিডিয়া অ্যাপসাইরটাসকে হত্যা করে তার দেহকে টুকরো করে সমুদ্রে ফেলে দেয় যাতে ঈটিস তার পুত্রের দেহাবশেষ উদ্ধারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন।এই ফাঁকে জ্যাসন এবং মিডিয়া Iolcus এ ফিরে আসেন।পথিমধ্যে অনেক বিচিত্র ঘটনা ঘটে।সেই ঘটনাগুলো এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
¤
Iolcus এ ফিরে আসার পরে জ্যাসন এবং মিডিয়া বিবাহ করেন।তাঁরা পাঁচ ছেলে এবং এক মেয়ের জনক-জননী হয়েছিলেন।কিন্তু কাহিনী এখানেই শেষ নয়।মিডিয়ার বাকী জীবনের বিবরন এই পোস্টে দেওয়া সম্ভব নয়।তাই আপাতত এখানেই সমাপ্তি ঘটাচ্ছি।
¤
এই পোস্টটা আগেরটার চেয়ে অনেক বড়।তাই অনেকেই পড়তে পড়তে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলতে পারেন।যাইহোক,সকল ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।
¤
তথ্যসূত্রঃপার্সি জ্যকসনস গ্রীক গডস(বই),উইকিপিডিয়া,গুগলের কতিপয় ওয়েবসাইট।
আবারও কৃতজ্ঞতাঃশাফিউল মুনির ভাই।
চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান – Caster [Fate/Zero] — Shifat Mohiuddin
¤
চরিত্র: Caster
এনিম: ফেইট/জিরো
ভূমিকা: খলনায়ক
¤
আসল নাম: Gilles de Rais
জাতীয়তা: ফ্রেন্ঞ্চ
উপাধি: মার্শাল,ব্যারন,ডিউক অব ব্রিটানি
জন্ম: সেপ্টেম্বর,১৪০৫
মৃত্যু: ২৬ অক্টোবর,১৪৪০
মৃত্যুর ধরন: মৃত্যুদন্ড
¤
আমরা অনেকেই ফেইট জিরো এনিমেতে অদ্ভুত চেহারা এবং খনখনে কন্ঠস্বর বিশিষ্ট চরিত্র ক্যাস্টারের কাজকর্ম দেখে আতঙ্কিত হয়েছি।শিশুহত্যায় পারদর্শি এই চরিত্রটি ইতিহাসের একটি বাস্তব চরিত্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত।যদিও তিনি আরতুরিয়া,ইস্কান্দর এবং গিলগামেশের মত সুপরিচিত নন এবং তার আসল নাম খুব কমই উল্লেখ করা হয়েছে।এনিমেতে তাকে অনেক আন্ডারএস্টিমেট করা হলেও বৈচিত্রের দিক দিয়ে তার জীবন অন্যান্য হিরোয়িক স্পিরিটদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
¤
গিলাস ডি রেইস ছিলেন একাধারে একজন বীর নাইট এবং অত্যন্ত ধনী একজন জমিদার।তিনি তার পিতামহ কর্তৃক লালিত হন এবং তার বিশাল সম্পত্তির মালিক হন।তিনি ছিলেন ফ্রান্সের ব্রিটানি প্রদেশের জমিদার।পরবর্তিতে তিনি বিয়ের মাধ্যমে তার সম্পত্তি আরো বৃদ্ধি করেন।তিনি Anjou এবং Poito প্রদেশের জমিদারিত্বও লাভ করেন।
¤
গিলাস ফেন্ঞ্চ সেনাবাহিনীতে ১৪২৭ থেকে ১৪৩৫ পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মধ্যে সংগঠিত হওয়া শতবর্ষী যুদ্ধে তিনি জোয়ান অফ আর্কের সাথে যুদ্ধ করেন।যুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য মার্শাল অফ ফ্রান্স উপাধি লাভ করেন।
¤
১৪৩১ সালে যখন জোয়ান অফ আর্ককে খুঁটিতে অগ্নিদগ্দ্ধ করা হয় তখন তিনি সেখানে উপস্হিত ছিলেন না।এই ব্যাপারে মনে হয় গিলাসের মনে অনেক আফসোস ছিল।ফেইট জিরো এনিমেতে জোয়ানের[আরতুরিয়ার]প্রতি তার দুর্বলতা দেখে বিষয়টা বোঝা যায়।
¤
১৪৩৫ সালে গিলাস সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন।তিনি একটি বিলাসবহুল বৃহৎ গির্জা নির্মানে হাত দেন।নির্মানকাজের অর্থ জোগাড়ের জন্য তিনি তার সব সম্পত্তি বিক্রি শুরু করেন।কিন্তু ক্যাথলিক কর্তৃপক্ষ গিলাসের আত্নীয়দের অনুরোধে তার এই গনহারে সম্পত্তি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।এতে গিলাস গির্জা কর্তৃপক্ষের উপর অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হন।
¤
১৪৩৮ সালে গিলাস অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য আলকেমি এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।কথিত আছে তিনি নাকি ব্যারন নামের একটি আত্নাকে নিজের অধীনে আনতে চেয়েছিলেন।
¤
১৪৩২ সালে গিলাসের বিপক্ষে প্রথম শিশুহত্যার অভিযোগ আনা হয়।এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গিলাসের বিপক্ষে ট্রায়াল গঠন করা হয়।ট্রায়ালে গিলাসের বিপক্ষে তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।তার বিরুদ্ধে ১৪০ জন শিশুহত্যার প্রমান পেশ করা হয়।অনেকের মতে নাকি হত্যাকান্ডের সংখ্যা নাকি ৬০০ এর উপরে!হত্যাকান্ডগুলো ১৪৩২ থেকে ১৪৪০ সালের মধ্যে সংগঠিত হয়।১৪৩৭ সালে গিলাসের এক আস্তানা থেকে ৩৭ টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।গিলাস তার চাকরদের সাহায্যে গ্রামান্ঞ্চল থেকে তার শিকারদের সংগ্রহ করতেন।তার ভিকটিমদের বয়স ছিলো ছয় থেকে আঠারো বছরের মধ্যে।মূলত ছেলে শিশুরাই তার মূল আকর্ষন ছিল।হত্যাকান্ডগুলোর বর্ননা অত্যন্ত নৃশংস বলে আমি বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছি।যারা ফেইট জিরো দেখেছন তারা বিষয়টি ভালো বুঝতে পারবেন।
¤
গিলাস জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে[পড়ুন রিমান্ডে] তার সকল অপরাধ স্বীকার করেন।তার এক বিশ্বস্ত চাকর হত্যাকান্ডের কৌশল এবং পদ্ধতি বর্ননা করে।গুরুতর অপরাধের সাজা হিসেবে গীর্জা গিলাস এবং তার দুই চাকরকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে।২৬ অক্টোবর,১৪৪০ সালে গিলাস ডি রেইসকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
¤
মজার ব্যাপার যে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে গিলাস নির্দোষ এবং সবকিছুই গীর্জার কারসাজি।সর্বোপরি বলা যায়,গিলাস ডি রেইস ছিলেন একজন জ্বাজল্যমান বীর যোদ্ধা,কিন্তু তিনি পতিত হলেন পাপের অন্ধকার গহ্বরে।
¤
আরেকটা ব্যাপার হলো এত নিষিদ্ধ কাজ করার পরেও গিলাস পুরোপুরি ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন।এই ব্যাপারটি ফেইট জিরোতে গিলাসের প্রতি ঈশ্বরের প্রত্যাখানের বিষয়টি ব্যাখা করে।
¤
অনেকে গিলাসকে বিখ্যাত লোককথা ‘Bluebeard’ এর উৎস মনে করে।এজন্যই বোধহয় গিলাস তার মাস্টার রিয়োনসকিকে গিলাসকে ব্লুবিয়ার্ড সম্বোধনে ডাকতে বলে।
¤
পোস্টটা অনেক বড় তাই অনেকে বিরক্ত হবেন।তবে আশা করি সকলেই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।




