Kaiketsu Zorro/The Legend of Zorro রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

-blonde-hair-blue-eyes-flower-gloves-hat-kaiketsu-zorro-light-brown-hair-lolita-pulido-mask-pink-background-zorro--532b445ccc743.png

Kaiketsu Zorro/The Legend of Zorro:
স্মৃতিচারণমূলক রিভিউ

আমার শৈশব কেটেছে ঢাকার বাইরে, যেখানে কার্টুন নেটওয়ার্ক আসত না। কার্টুন দেখার একমাত্র ভরসা ছিল বিভিন্ন ইন্ডিয়ান চ্যানেলের হিন্দী ডাবড কার্টুন (পরে বুঝেছি তার অনেকগুলোই আসলে অ্যানিমে ছিল)।
সেই সময়ে দেখা অ্যানিমে দ্য লিজেন্ড অফ জোরো।

প্রথমে মাই অ্যানিমে লিস্ট থেকে কিছু তথ্য তুলে দিই-
Aired: Apr 5, 1996 to Apr 14, 1997
Producers: Mushi Productions
Genres: Adventure, Historical, Shounen
Score: 7.27
Ranked: #2117

এবার স্টোরিতে আসা যাক।
কাহিনীর নায়ক ডন ডিয়েগো ডে লা ভেগা, পড়াশোনা শেষ করে নিজের দেশে ফিরে আসতে থাকে জাহাজে করে। বাইরে থাকার সময় বাবা এবং বাল্যকালের বন্ধু ললিটার চিঠি থেকে সে জানতে পারে দেশে আর্মি একনায়কতন্ত্র চালু করেছে, সাধারণ মানুষ আর্মির অন্যায় অত্যাচারের কাছে মাথা নত করে রেখেছে প্রাণের ভয়ে। কেউ সাহস করে মাথা উঁচু করতে চেষ্টা করলে তাকে বিনা বিচারে প্রাণ হারাতে হয় সবার চোখের সামনে। ডিয়েগো ফিরে আসার পর নিজের চোখে আর্মির স্বেচ্ছাচারিতা দেখতে পায় প্রতি মূহুর্তে। তার মনে চিন্তা আসে যে করেই হোক, এই স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটাবে।
আর্মির অন্যায়ের বিরূদ্ধে মাথা তুলে দাড়ানো একজন ব্যাক্তি ও তার পরিবারের মানুষদের কোর্টমার্শালের দিনে স্যানটেসকোবাসীরা তাই দেখতে পায় এক মাস্কড হিরোকে, কালো পোষাক, কালো ক্লোক এবং মাস্ক পরে, সাদা ঘোড়ার পিঠে চড়ে যে আউট অফ নো হোয়্যার এসে হাজির হয় এবং প্রথমবারের মত আর্মির ষড়যন্ত্রকে কেউ তছনছ করে বন্দীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। শহরবাসীর মনে একটা আশার আলো জাগিয়ে যায়, যে আলোর নাম, জোরো।

কাহিনীটা ন্যায় অন্যায়ের কিছুটা ছেলেমানুষী একটা কনসেপ্ট নিয়ে এগিয়ে যায়, যেখানে বেশিরভাগ সময় “হিরো সেভস দ্য ডে” কনসেপ্টটাই প্রাধান্য পায়। ডিয়েগো/জোরো পুরোটা সময় নিজের দ্বৈত সত্ত্বা খুব ভালভাবে বজায় রাখে।
ডিয়েগো হিসেবে নিজেকে খুব বোকাসোকা আলসে একটা ছেলে হিসেবে প্রমাণ করে সবসময়, এবং এই কাজটা সে খুবই ভালভাবে করে।
অন্যদিকে জোরো হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সে কখনো পিছপা হয়না। ডিয়েগো তার ব্যাক্তিত্বের জন্যে তার বাল্যকালের বন্ধু ললিটার ভালবাসা পেতে ব্যর্থ হয়, কারণ ললিটা জোরোকেই তার স্বপ্নের নায়কের আসনে বসায়।

অ্যানিমেটার ব্যাপারে ম্যালে একজনের কমেন্ট ভাল লেগেছে- “This is hardly the type of anime you’d come across, even while searching randomly. Nor is it something you would give a second look or thought about.” আমার মতামতও একই। কিন্তু ওই আমলে যারা জোরো দেখেছে, নিঃসন্দেহে তারা এটাকে তাদের ফেভারিট লিস্টে রাখবেই। ১৮ বছর আগের একটা অ্যানিমে, কিন্তু এর কাহিনী, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি এখনও আমাকে মুগ্ধ করে (আবেগের কারণে হতে পারে অস্বীকার করছিনা)। একেকটা পর্ব দেখার জন্য প্রতিদিন আমি সাড়ে ছয়টা বাজার জন্য অপেক্ষা করে থাকতাম।

আশা করি আমার অত্যন্ত পছন্দের এই অ্যানিমেটি আরও অনেকেই দেখেছেন, আর যারা দেখেননি, আশা করব যদি কখনো দেখেন তাহলে ভাল লাগবে। অ্যানিমেটির (এবং রিভিউটির ব্যাপারে) মতামত
জানালে খুশি হব। পড়ার জন্য ধন্যবাদ !!

Diego.De.La.Vega.full.359557

Cardcaptor Sakura review – ইশমাম আনিকা

card-captor-sakura-anime-free_1465987

আনিমে রিভিউঃ ক্যার্ডক্যাপ্টর সাকুরা
জনরাঃ অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, ড্রামা, ম্যাজিক, রোম্যান্স, স্কুল, শৌজো
এপিসোড সংখ্যাঃ ৭০
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৯

বর্তমান অ্যানিম লাভারদের একটা ভালো অংশের অ্যানিমের সাথে পরিচয় ঘটেছে টুনামির মাধ্যমে। ২০০৩ সালের দিকে পোকেমন এবং কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা দিয়ে আমার অ্যানিম জগতে প্রবেশ ঘটে, যদিও তখন অ্যানিম কি এটাই জানতাম না। পোকেমনের অন্ধভক্ত ছিলাম তাই পরে গিয়ে আর কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা দেখা হয়নি। পরে কলেজ শেষ করার পর ফ্রেন্ডের কাছ থেকে নিয়ে দেখেছিলাম এবং আফসোস করেছিলাম, আরও আগে কেন দেখলাম না।

এই অ্যানিমটির জাপানিজ ভার্সন এবং ইংরেজী ভার্সনে কিছুটা পার্থক্য আছে, জাপানিজ ভার্সনটা দেখা হয়নি তাই ইংরেজী ভার্সনটা নিয়েই লিখছি।

সাকুরা অ্যাভলন, রিডিংটন নামক শহরের এক চঞ্চল স্কুলপড়ুয়া বালিকা। হাসিখুশি, খেলাধুলায় পারদর্শী, প্রাণবন্ত সাকুরার একটাই সমস্যা, সে কখনোই ঘুম থেকে জলদি উঠতে পারেনা। তার ভাইয়ের সাথে এ নিয়ে প্রায়ই তার মধুর ঝগড়া হয়।

মা হারা সাকুরার দিনকাল বাবা, ভাই, বন্ধু ম্যাডিসন ও ভাইয়ের বন্ধু জুলিয়ানের সাথে ভালই চলছিল, এমন সময় একটা ঘটনা সাকুরার জীবন পাল্টে দেয়। একদিন সাকুরা বাসায় ফিরে দেখতে পায় তার বাবা ভাই এখনো ফেরেনি। তখন সে বাবার লাইব্রেরী থেকে আওয়াজ শুনতে পায়। আওয়াজের উৎস খুঁজতে গিয়ে সেখানে সে একটা বই খুঁজে পায়, যেটা তার বাবা আগেরদিন কর্মস্থল থেকে নিয়ে এসেছিল কেউ বইটা খুলতে পারেনি বলে। সাকুরা বইটা হাতে নিতেই সেটা খুলে যায় এবং সে ভেতরে অনেকগুলো কার্ড দেখতে পায়।

সে “Windy” লেখা কার্ডটা হাতে নিয়ে সেটার নাম বলতেই হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস এসে বাকি সবগুলো কার্ড উড়িয়ে নিয়ে যায়, থেকে যায় শুধু উইনডি।

এরপরই সাকুরার জীবন পাল্টে যায়। কার্ডগুলোর গার্ডিয়ান বিস্ট কিরোবেরোস সাকুরাকে জানায় প্রতিটা কার্ডের আলাদা আলাদা পাওয়ার আছে এবং তাদেরকে খুঁজে ফেরত না আনলে তারা পুরো শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। কিরো সাকুরাকে দায়িত্ব দেয় প্রত্যেকটা কার্ড খুঁজে বের করে সেগুলোকে নিজের বশে নেয়ার। এরপর সাকুরা তার বন্ধুদের সাথে নেমে পড়ে কার্ড ক্যাপচার করার অভিযানে।

আমার খুব পছন্দের অ্যানিমের তালিকায় এই অ্যানিমটার জায়গা বেশ উপরের দিকে, ৭০ পর্ব একটানে দেখে শেষ করেছিলাম এবং এখনো সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যেই রিভিশন দেই।

 

3.1

পূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist) – ইশমাম আনিকা

O9NOqgoপূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist)
[spoiler থাকতে পারে, আমি নিজে নিশ্চিত নই]

“Humankind cannot gain anything without first giving something in return. To obtain, something of equal value must be lost. That is alchemy’s First Law of Equivalent Exchange. In those days, we really believed that to be the world’s one, and only, truth.”

যদি আপনার সামনে এমন সুযোগ আসে যে আপনি আপনার মৃত প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন, যদিও সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই, সেটার ফলাফল কি হবে কেউ জানেনা এবং এটা নিষিদ্ধ কাজ, তাহলে আপনি কি করবেন?

এডওয়ার্ড এলরিক এবং অ্যালফনস এলরিক দুই ভাই। দুজনের মাঝে বয়সের পার্থক্য ১ বছর। খুব ছোটবেলায় তাদের বাবা তাদের ছেড়ে কোথাও চলে যায় এবং এরপর তারা তাদের মায়ের সাথে জীবন কাটাতে থাকে। ছোট অবস্থাতেই দুজনেই “অ্যালকেমি” তে পারদর্শী হয়ে উঠতে থাকে। এমন সময় হঠাত তাদের মা মারা যায়। বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে এডওয়ার্ড ঠিক করে অ্যালকেমির সাহায্যে “হিউম্যান ট্র্যান্সমিউটেশন” এর মাধ্যমে তাদের মাকে ফিরিয়ে আনবে। প্রথমে ভয় পেলেও ভাই অন্তঃপ্রাণ অ্যালফনস ভাইকে ট্র্যান্সমিউটেশনে সাহায্য করে। কিন্তু ইক্যুইভ্যালেন্ট এক্সচেঞ্জ এর পরিনতি হিসেবে এড তার বাম পা হারায়, এবং অ্যাল তার শরীর হারায়। এই ট্র্যান্সমিউটেশনের ফল হিসেবে তৈরি হয় একটি হোমানকুলাই। অ্যাল এর আত্মাকে বাঁচানোর জন্যে এড সাথে সাথে একটা suit of Armour এর মাঝে চক্র আঁকে এবং নিজেকে উৎসর্গ করে, যেন নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও সে অ্যালকে ফেরত পায়। অবশেষে নিজের ডান হাতের বিনিময়ে সে অ্যালের আত্মা ফেরত পায় এবং অ্যাল suit of Armour এ বন্দী আত্মা হিসেবে জীবিত থেকে যায়। ওদের শরীর Gate of Alchemy র মাঝে আটকা পড়ে যায়। ডান হাত ও বাম পা হারানো এডকে নিয়ে অ্যাল দৌড়ে যায় তাদের প্রতিবেশী “রকবেল” দের কাছে যাদের অটোমেইল এর কারখানা আছে (কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বানানোর কারখানা), সেখানে এড কে মেকানিক্যাল হাত ও পা বানিয়ে দেয় উইনরি ও তার দাদি।

নিজের ভুলকে শোধরানোর জন্যে বদ্ধপরিকর এড ঠিক করে, যে করেই হোক, ফিলসফারস স্টোন খুঁজে বের করবে, এবং সেটার সাহায্যে সে যে ভুল করেছিল, সেটা শোধরাবে আর অ্যালকে তার আসল শরীরে ফিরিয়ে আনবে। এ জন্যে তার দরকার ছিল অনেক তথ্য, যেটা একমাত্র মিলিটারির লাইব্রেরীতে পাওয়া সম্ভব। তাই সে কর্নেল রয় মাসট্যাং এর পরামর্শে মিলিটারির অ্যালকেমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ও বিভিন্ন বাঁধা পেরিয়ে পরীক্ষা পাস করে “সর্বকনিষ্ঠ স্টেট অ্যালকেমিস্ট” হিসেবে যোগ দেয়। মিলিটারি থেকে সে বিভিন্ন জায়গায় অ্যাসাইনমেনট কমপ্লিট করতে যায় এবং একই সাথে খুঁজতে থাকে ফিলসফারস স্টোন।

ব্রাদারহুড এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি, কাজেই তুলনা করার প্রশ্নই আসেনা। তবে সবদিক মিলিয়ে আমার কাছে ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট খুবই ভালো লেগেছে এবং শেষ না করা পর্যন্ত নিঃশ্বাস নিতে পারিনি। এন্ডিংটা ভালো লেগেছে, খারাপ ও লেগেছে এডওয়ার্ড, অ্যালফনস এবং উইনরির জন্যে।

চরিত্র বিশ্লেষণে যাবনা, কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিটা চরিত্রই তার মর্যাদা রেখেছে। আর এডওয়ার্ড কে কেউ শর্ট বললে তার রিঅ্যাকশন, যতবার দেখি কখনো পুরনো হয়না! দুই ভাই এর মাঝে যে বন্ধন, সেটা দেখে অবাক হয়েছি অনেকবার ই।

প্রতিটা ওপেনিং আর এন্ডিং সুন্দর, তবে আমার কানে সবসময় বাজতে থাকে প্রথম ওপেনিং টা।

একই সাথে মজা, অ্যাকশন, রহস্য, ইমোশন আমার অল্প এনিম দেখা জীবনে আর পাইনি। কাজেই কেউ সাজেশন চাইলে একবাক্যে এটার নাম বলতে দ্বিধা করব না 

 

108065

Persona 4-Short anime review by ইশমাম আনিকা

Persona-4-p4-animation-anime-series-watch-online

 

Anime: Persona 4
Genre: action, mystery, fantasy

হাইস্কুল লাইফে ফ্রেন্ড দিয়ে ঘিরে থাকা এবং তাদের সাথে সময় কাটানো যেকোন মানুষের সবচেয়ে সুন্দর সময়। এনিমের শুরুতেই Yu Narukami কে টোকিও ছেড়ে ইনাবা নামক ছোট্ট, শান্ত শহরে আসতে হয় কারণ তার বাবা মা ট্যুরে যাচ্ছিল। সেখানে স্কুলে ভর্তি হয়ে আস্তে আস্তে যখন দু একজনের সাথে কথা শুরু হয় তার, ঠিক তখনই হঠাত্‍ অদ্ভুতভাবে মানুষ মারা যেতে শুরু করে। ইয়্যু তার নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে মিডনাইট চ্যানেলের কথা জানতে পারে এবং ওরা মৃত্যুর সাথে এই চ্যানেলের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে আজব এক দুনিয়ায় গিয়ে হাজির হয় ও সেই দুনিয়ার বাসিন্দা “কুমা” র সাহায্য নিয়ে একে একে রহস্যভেদ করতে থাকে এবং হত্যাকারীকে খুঁজতে থাকে।

N. B. – প্রথম ২ ৩ টা পর্ব মনোযোগ দিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক! ইগরকে কখনো ইগনোর করা যবে না, তাকে পাওয়া যাবে প্রতি এপিসোডের শুরুতেই!