The Battle between 2 Bodhisattva: Hashirama vs Netero Part-3
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]
হিডেন লিফ ভিলেইজ এর প্রবেশমুখের সদর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে টোবিরামা সেঞ্জু। এই অসময়ে হোকাগের সহোদরের আগমনের কারন সম্পর্কে পরিষ্কার কোন ধারনা না থাকায় উশখুশ করতে থাকে ২ প্রহরি। তবে এটুকু আন্দাজ করে নিতেই পারছে গ্রামে নিশ্চয়ই কোন মান্যবর ব্যক্তি আসবে- যাকে অভিবাদন জানাতেই হয়ত টোবিরামার ছুটে আসা।
টোবিরামা স্বভাবসুলভ গম্ভীরতায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বহুদূর গাছে ঘেরা মেটো পথ টার দিকে। গাছের ঝাঁর দু’পাশ দিয়ে রাস্তাটাকে বুকে আগলে রেখেছে যেন। সন্ধ্যা পরতে শুরু করেছে। ঝিঁঝিঁর ডাকের সাথে সাথে দমকা বাতাসের এক একটা ঝাপটা গাছগুলোর ভেতর দিয়ে খেলা করে যেতে থাকে যেন। সাথে উড়িয়ে আনছে কাঁচা-সবুজ পাতা আর হালকা কিন্তু অদ্ভুত একটা গন্ধ। দমকা বাতাসের ঝাঁপটা খুব যে উপভোগ করছে টোবিরামা তেমন কিন্তু না। মাথায় রাজ্যের চিন্তার জাল শাখা-প্রশাখা মেলেছে। দুশ্চিন্তার লাগাম টেনে ধরতে চাইছে বারবার।
বুকে হাত বেঁধে ডান হাতের তর্জনী নাচাতে নাচাতেই খেয়াল করল পরিচিত দু’জন মানুষের চাকরা। শিমুরা আর সারুটোবি হেটে যাচ্ছে উত্তর দিকটায়। কি নিয়ে যেন তর্ক জুড়ে দিয়েছে শিমুরা, সারুটোবির সাথে। হটাত ওর দিকে চোখ পরতেই মিইয়ে গেল দুজনে। দ্রুত বাজারের দিকটায় পা চালিয়ে মিশে গেল ভিরের মাঝে।
আবার বাইরের দিকে মন দিল আগন্তকের উদ্দেশ্যে। হান্টার এসোসিয়েশনের প্রধান, আইজ্যাক নেতেরো ধির পায়ে খড়মের শব্দে ছন্দ মিলিয়ে হেটে আসছে যেন। তার পাশেই তার অদ্ভুতদর্শন সচিব। কিন্তু আর কাউকে না দেখে কিছুটা অবাকই হল টোবিরামা। তবে আরো অবাক হল পেছন দিকে তার ভাই হাশিরামার উপস্থিতি টের পেয়ে। নেতেরোকে স্বাগতম জানাতে সে নিজেই এসে পরেছে। প্রহরীরাওকম অবাক হয় নি। প্রথমে হোকাগের ভাই আর এরপর স্বয়ং হোকাগে- অবাক হওাটা স্বাভাবিক বৈকি।
প্রাথমিক কুশল বিনিময় শেষেই নেতেরোকে নিয়ে গ্রাম দেখতে বের হয় হাশিরামা। বিশ্রামের কথা বলতেই হেসে উড়িয়ে দেয় নেতেরো। । বাজারের দিকে এসেই একটা খাবারের দোকানে গিয়ে ঢুকে দু’জন। ওঁরা যে গ্রাম দেখতে বের হয়েছে কথাটা গ্রামে ভালই ছড়িয়ে গেছে গ্রামে। আর তাছাড়া ডার্ক কন্টিনেন্টের কথা না জানলেও হান্টাররা শিনোবি ওয়ার্ল্ডে এটাক করতে পারে, এমন একটা কথা চেপে রাখা যায় নি- কাজেই সবাই কিছুটা ভয় আর চাপা গুঞ্জন তুলেছে আজকের নেতেরোর এই সফর নিয়ে। খাবার এর দোকানে বসেও তার আঁচ অনুভব করতে পারছে হাশিরামা।
খাবার শেষ করে গ্রামের আধেকটা চক্কর দিয়ে এসে ওকে নিয়ে গ্যাম্বলিং এর আসরে বসে হাশিরামা। আর সবার মত টোবিরামা আর মাদারা কেউই ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। আজকের এই সফরের বিষয়বস্তুর জন্যই কেউই হালকা কোন খোশ মেজাজি গল্প আর আমোদের কথা আশা করবে না। টোবিরামা দূর থেকে ওদের ফলো করতে করতে উশখুশ করলেও কিছু বলে না। ওদিকে গ্যাম্বলিং শেষ করে নদীর ধারে টায় কিছুটা সময় কাটিয়েই নেতেরো কে নিজের বাসায় নিয়ে চলে আসে হাশিরামা।
হালকা পানীয় নিয়ে দুজনেই যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে আলাপ চালাতে থাকে- টোবিরামা ঠিকি করে এবারে সে গিয়ে নিজেই কাজের কথা পারবে। ইচ্ছে করলেই সরাসরি বারান্দায় চলে যেতে পারে সে ফ্লায়িং রাইজিন ইয়ুজ করে। কিন্তু অতিথির প্রতি অভদ্রতা দেখানো হতে পারে ভেবে, পায়ে হেটেই বড়ো ভায়ের কামড়ার দিকে এগোয় সে। দরোজার হাতলে হাত রেখেই বুঝলো লক করা নয়, কেবল ভেজানো রয়েছে। খুলতে গেলেই- কিছু কথা কানে আসে তার-
“তোমার বাসা থেকে গ্রামের এই ভিউটা সবথেকে সুন্দর”, বলতে থাকে নেতেরো।
হাশিরামা জবাব দেয়, “সুন্দর আর রাখতে পারলাম কই, বলো? ” জুয়োর টেবিলে টাকাগুলো হেরে হাশিরামার চোখে একটু ক্লান্তি ভর করেছে বলে মনে হতে থাকে নেতেরোর। বাতাসে ওর চুলগুলো উড়িয়ে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু তার মাঝেও নেতেরো স্পস্ট দেখতে পায় হাশিরামার চোখের তাঁরা যেন ঝিক করে ওঠে সেকেন্ডের সিকিভাগ সময়ের জন্যে।
নেতেরো মুখে হাসিটুক ধরে রেখে বলে, “ডোন্ট য়োরি, আম স্টিল এলাইভ!”
কথাবার্তা এটুকুন শুনেই উল্টো ঘুরে দাঁড়ায়।। করিডোর দিয়ে ফিরে যাবার সময় মাদারার সাথে চোখাচোখি হল ওর। দেয়ালের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। ওর মত মাদারাও শুনতে পেয়েছে কথাগুলো।
