Where do we come from?
What are we?
Where are we going?
২০৩৯ সাল…
প্রকৃতির বিরুপ পরিবরতন,বিশ্ব উষ্ণায়ন এর কারণে সমুদ্রের কর্তৃত্ব হারিয়েছে মানব্জাতি।দেশে দেশে সামুদ্রিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন,আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বন্ধ,পুরো পৃথিবী যেন কারাগারে বন্দী।আর তার কারণ নতুন এক পরাশক্তির উত্থান — “Fleet of Fog”
কারা এই “Fleet of Fog” ,কোথা থেকে এদের উতপত্তি,কেউ জানে না।কিন্ত এটুকু সবাই জানে মুক্তভ্রমণ হোক আর বাণিজ্য হোক,কোন নৌযান সমুদ্রে নামলে তাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এই ফ্লিটের জাহাজগুলো। “Admiralty Code” কোন এক সংবিধান অনুসরণ করে চলা এই বাহিনী পুরো পৃথিবীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।কোনকিছুই “Across The Sea” হতে দেওয়া যাবে না ,হোক সেটা বাণিজ্য,যোগাযোগ বা অন্যকিছু……
এখন লিখছি এনিমে নিয়ে তাহলে এর নিশ্চয়ই কোন প্রোটাগনিস্ট থাকবে যে মানবজাতিকে ফ্লিট অফ ফগের হাত থেকে রক্ষা করার ব্রত নিয়েছে। আবেগের বাত্তি বা মশাল নিয়ে ফ্লিট অফ ফগদের বিনাশের জন্য লম্ফঝম্ফ করছে। না চরমপন্থা বা প্রতিশোধ ছাড়াও পরিবর্তনের তৃতীয় রাস্তা থাকে যা হল সহাবস্থান।ব্যাপারটা পরিষ্কার করার জন্য কোড গিয়াসের রেফারেন্স আনা যেতে পারে।কোড গিয়াসে লেলুশ ছিল চিরায়ত চরমপন্থার প্রতীক,যদিও পরবর্তীতে তার পরিবর্তন হয়েছে।আর সুজাকু কুরুরুগি ছিল উল্লিখিত তৃতীয় রাস্তার অনুসারী। এখন অনেকেই বলবেন সুজাকুর মত মেইন ক্যারেক্টার হলে তো এই এনিমে দেখবোই না।ব্যাপারটা খোলাসা করি,সুজাকু মোটেই একটা পছন্দসই ক্যারেক্টার নয়,আর আমাদের গল্পের নায়ক “চিহায়া গুনজৌ” মোটেই সেরকম নয়।সে তৃতীয় রাস্তায় বিশ্বাসী হলেও দেখে দেখে মার খাওয়া বা সমঝোতার অবকাশ না থাকলেও ব্যর্থ চেষ্টা করে না…
চিহায়া গুনজৌ,একদিন তার ক্লাসরুমে এসে একটি মেয়ে তার খোঁজ করতে থাকে।নাম তার ইওনা,চোখদুটো বড় বড়,তাতে যেন কি একটা নেই,দেখতে মানুষ অপেক্ষা রোবটের মতই লাগে বেশি।আর চিহায়ার মুখোমুখি হওয়ার পর তার কথাগুলো ছিল এরকম – “চিহায়া গুনজৌর খোঁজে এসেছি।তার আদেশ মেনে চলাই আমার লক্ষ্য”
মুশকিল তো,কোত্থেকে এক মেয়ে এসে আপনার স্ত্রীর মত কথা বলে যাচ্ছে— স্বাভাবিকভাবেই বিব্রতকর অবস্থায় পরে যায় চিহায়া। পরে ঐদিন রাতেই চিহায়ার সাথে ইওনার দেখা হয় ডকইয়ার্ডে। সেখানেই নাটকীয়ভাবে জানতে পারে সে ইওনার পরিচয়,ইওনা মানবী নয়,সাবমেরিন I401 এর মেন্টাল মডেল…
তারপরেরটুকু এনিমেটা দেখে ফেললেই বোঝা যাবে। পুরো এনিমেতে ইওনা ছাড়াও আরও দুটো সাবমেরিন এবং বেশ কয়েকটি ব্যাটলশিপ আর হেভি ক্রুইজার দেখা যাবে।এনিমেটির অধিকাংশ সময়টুকুই সমুদ্রে যুদ্ধগুলো নিয়ে।ইওনা ও চিহায়া ছাড়াও ফগের নিজস্ব শিপগুলোর মাঝেও বিধ্বংসী যুদ্ধ দেখা গেছে। আশ্চর্য!! ফগরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়াবে কেন? এই কেন’র উত্তর এনিমেটা দেখলেই পেয়ে যাবেন……
তবে কঙ্গো ছাড়া বাকি শিপগুলোর স্ট্রাকচার,আক্রমণের প্যাটার্ন একইরকম লেগেছে,বোমা বের হওয়া,সুপারগ্রাভিটি ক্যানন ফায়ার করার সময়ের সাউন্ড—কোনটায় পার্থক্য নেই।আর I401 ছাড়া অন্যান্য শিপগুলোর ইন্টেরিয়র এবং ফাংশনাল সিস্টেমের খুটিনাটি কিছুই দেখায়নি……
ভয়েস এক্টিং মনে ধরেছে মাকো সাকুরাই এর…
হেভি ক্রুইজার মায়ার “কার্নিভ্যাল দায়ো” তো অন্য লেভেলের কিউটনেস।পুরো এনিমেটায় মায়ার সংলাপ এলেই বেশ কয়েকবার রিপিট করে শুনতাম।আর মাকো সাকুরাই নাতসু ড্রাগনিলের শৈশবকালের কন্ঠ দিয়েছেন।BON BON BLANCO ব্যান্ডের একজন সদস্য তিনি,এই ব্যান্ডই ওয়ান পিসের ওপেনিং “BON VOYAGE” এর আর্টিস্ট।
যারা মিলিটারি সাইন্স,যুদ্ধাস্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে আইডিয়া রাখেন,তাদের কাছে Ars Nova বেশ কম রেটিং পাবে,কারণ কিছু কিছু ঘটনা বেশ Illogical আরস নোভার, উদাহরণস্বরূপ – কঙ্গোর পানির তলদেশে গিয়ে সুপারগ্র্যাভিটি ক্যানন ফায়ার করা…
আর এনিমের অন্যতম বিশেষত্ব হল ইওনা (I401) র শক্তি ও সমরাস্ত্রে পিছিয়ে থেকেও কেবল স্ট্রাটেজি ও রণকৌশলের বদৌলতে ফগের শিপদের বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধ করা…
OST খুব বেশি অরডিনারি,তবে খারাপ বা বেমানান নয়। আর ওপেনিং টা বেশ ভালো,SAVIOR OF SONG নামের এই গানটি শুনে ফেলুন ……
Aoki Hagane no Arpeggio Ars- Nova
১২ এপিসোড
জনরা – একশন,মিলিটারি,সেইনেন
MAL রেটিং – ৭.৫৮
ব্যক্তিগত রেটিং – ৭.৪৫











