এফ এ সি ১৮

রান্ডম টপিক

কোতাত্সু

 

 

জাপানে শীতের সময় সবচেয়ে আরামদায়ক অভিজ্ঞতা সম্ভবত কোতাত্সুর নিচে আরাম করে বসে থাকা আর মিকান অরেঞ্জ খাওয়া। কোতাত্সু মূলত একটা টপলেস কাঠের টেবিল, যার টপ একটা ভারী কম্বল দিয়ে ঢাকা থাকে।এর সাথে একটা বিল্ট ইন ইলেকট্রিক হিটার থাকে, যদিও ঐতিহ্যবাহী কোতাত্সুতে হিটিং সিস্টেম কয়লার। কোতাত্সুর ব্যবহার অবশ্য শুধু জাপানে না, অন্য অনেক দেশেই আছে, তবে ভিন্ন নামে। বলা হয়ে থাকে, কোতাত্সুর সান্নিধ্যে সব দুশ্চিন্তা চলে যায়, ঘিরে ধরে এক আরামদায়ক উষ্ণতা, আর প্রশান্তিতে ভরে যায় মন.

 

তাহলে আর দেরী কেন, কিনে ফেলুন কোতাত্সু, ৭৫*৩৬*৭৫ সাইজের একটা কোতাত্সুর দাম পড়বে ১০০ ডলারের মত.

 

 

আনিমে সাজেশন

টাইগার এন্ড বানি[Tiger & Bunny]

 

হিরোদের কাজ হচ্ছে মানুষকে বাঁচানো। কিন্তু যখন এই মানুষ বাঁচানোর সাথে ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িয়ে যায়, পুরো ব্যাপারটা হয়ে পড়ে একটা রিয়ালিটি শো, যাতে অংশগ্রহনকারী হিরোদের থাকে বিভিন্ন স্পন্সর, আর তারা পয়েন্ট পায় মানুষকে বাঁচানোর জন্য, তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াবে?

কেন দেখবেনঃবেশ নতুন ধরনের কনসেপ্ট, ডিসেন্ট অ্যাকশন, এবং সবচেয়ে ইম্পর্টান্ট পয়েন্ট হলো এখানের এক হিরোকে পেপসি স্পন্সর করে, প্রতি পর্বের মাঝে পেপসির বিজ্ঞাপন দেখায়।

কেন দেখবেন না: পরবর্তী সিজনের আভাস দিয়ে শেষ করেছে, কিন্তু এখনো তা রিলিজ করেনি। ক্লিফ্হ্যান্গারটা অনেকটা শার্লকের সিজন ৩ এর এপিসোড ৩ এর মত.

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৬

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ব্লাডি মানডে[Bloody Monday]

 

হাই স্কুলে পড়ুয়া জিনিয়াস হ্যাকার তাকাগিকে লড়াইয়ে নেমে পড়তে হলো ভয়াবহ এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে, যা কিনা মানুষের সংস্পর্শে আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মানুষের মৃত্যু ঘটবে। সংগঠিত ভয়াবহ শত্রুর বিরুদ্ধে কি করবে এখন তাকাগি?

 

কেন পড়বেনঃবেশ উত্তেজনাপূর্ণ, খানিকটা ওয়ান ম্যান শো-ই বলা যায়, সৌনেন+সেইনেন মাঙ্গার বেশ ভালো এগজাম্পল। এন্ডিংটাও যথেষ্ট স্যাটিসফ্যাক্টরি।

কেন পড়বেন না: না পড়ার তেমন কোনো কারণ নেই.

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.১১

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ১৭

রান্ডম টপিক

শিজু [四獣]

 

 

ফোর বিস্টের রেফারেন্স প্রচুর আনিমেতে পাবেন, ফুশিগি ইউগী, বেব্লেড, তরিকো, ইউ ইউ হাকুশো ইত্যাদি। তবে এর অরিজিন কিন্তু জাপানে না, চীনে। চাইনিজ মিথোলজিতে শিজু বা ফোর বিস্ট দিয়ে মূলত ৪টা প্রানীকে বোঝায়, যারা চাইনিজ সাম্রাজ্যকে রক্ষা করে. প্রতিটি প্রানী একটি করে দিক এবং একাধিক এলিমেন্ট রেপ্রেসেন্ট করে, যেমন সেইরিউ[ব্লু ড্রাগন]- পূর্ব-কাঠ, গেনবু[কৃষ্ণ কাছিম]-উত্তর-পানি, বিয়াককো[শ্বেত ব্যঘ্র]-পশ্চিম-ধাতু, সুযাকু[ফিনিক্স]-দক্ষিণ-অগ্নি। এছাড়া আরো একটি প্রাণী চাইনিজ সাম্রাজ্যকে রক্ষা করে সবার মাঝে থেকে, সেটি হচ্ছে ইয়েলো ড্রাগন। এগুলো মূলত এস্ট্রোলজিক্যাল ব্যাপারস্যাপার। এই ব্যাপারে আরো বেশি কিছু জানার আগ্রহ থাকলে এই লিঙ্কে যেতে পারেন, এছাড়া গুগল তো আছেই। http://www.onmarkproductions.com/html/ssu-ling.shtml

 

 

আনিমে সাজেশন

গোস্ট হান্ট[Ghost Hunt]

 

 

”দুর্ঘটনা”চক্রে সাধারণ মেয়ে তানিয়ামা মাই জড়িয়ে গেল পেশাদার এক্সরসিস্ট শিবুইয়া কাজুইয়ার সাথে। আস্তে আস্তে মাই বুঝতে পারল, বন্ধুদের সাথে ভূতের গল্প শেয়ার করা বেশ মজার হলেও আধিভৌতিক ব্যাপার-স্যাপার আসলে এত সহজ নয়, এতে পদে পদে আছে রক্তজল করা সব অভিজ্ঞতা।

 

কেন দেখবেনঃএটা রেয়ার সেসব হরর আনিমের একটা, যাতে হরর কন্টেন্টকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ভৌতিক সিকোয়েন্সগুলোর সাথে উপযুক্ত আবহ সঙ্গীত, আর সেই সাথে রোম খাড়া করে দেয়া ওপেনিং থিম. http://www.youtube.com/watch?v=eHaxcnHRJoc

কেন দেখবেন না:না দেখার তেমন কোনো কারণ নেই.

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.১৪

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

আজকে দুটো ওয়ান শট সাজেস্ট করব.

 

আদাবানা[Adabana]

 

ম্যাল রেটিং ৭.২৮

আমার রেটিং ৭

 

 

আকুমা গা কিতারিতে[Akuma ga Kitarite]

 

ম্যাল রেটিং ৭.৬৪

আমার রেটিং ৮

 

 

ওয়ান শট বলে আর ইউজুয়াল কাহিনী সংক্ষেপ ইত্যাদি বলছি না, অল্প ৩০-৪০ পেইজের, সাজেস্ট করব এখনি পড়ে এসে মতামত জানাতে।

আর এই দুটো ওয়ান শটের কাহিনীর সাথে খুবই জনপ্রিয় দুটো আনিমের মিল আছে.

 

সামার ওয়ার্স (summer wars) লিখেছেন Torsha Fariha

 1513308_725623344116479_1745633721_n
ডিরেক্টর- মামোরু হোসোদা। (যার কিছু বিখ্যাত মুভির নাম- the girl who leapt through time, wolf children ইত্যাদি।)

জানরা- সায়েন্স-ফিকশন।

IMDb rating- 7.6

প্লট- এই গল্পের নায়ক নায়িকা হচ্ছে কেনজি আর নাৎসুকি। তারা দুইজনই একই হাইস্কুলে পড়ে। কেনজি পার্টটাইম মডারেটর হিসেবে কাজ করে একটা ইন্টারনেট বেইজড ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ‘OZ’ এ। নাৎসুকি হচ্ছে স্কুলের খুব বিখ্যাত একটা মেয়ে । কেনজির সেনপাই।

এক গ্রীষ্মে সে কেনজি আর তার ফ্রেন্ড তাকাশিকে বলে তারা একটা পার্টটাইম জব করবে কিনা! যে কোন একজনকে দরকার তার। গ্রামে যেতে হবে তার সাথে। দুইজনই তো শুনে সাথে সাথে রাজি! পরে রক-পেপার-সিসর খেলে সুযোগটা জিতে নেয় কেনজি।

গ্রেট-গ্র্যান্ডমাদার সাকায় জিন্নোচির ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নাৎসুকি গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। সেই সাথে আছে কেনজি যে তখনো বুঝেনি তার পার্টটাইম জবটা কি!
যা হোক পৌঁছানোর পর জানা গেল আসল কাহিনীটা কি! নাৎসুকি কেনজিকে ধরে নিয়ে এসেছে তার ফিয়ন্সে হিসেবে অভিনয় করার জন্য!

কেনজি হতভম্ব হয়ে দেখতে থাকল আশেপাশের পরিস্থিতি। ইয়া বিশাল একটা বাড়ি নাৎসুকির আত্মীয়-স্বজনে ভর্তি! এঁদের মাঝে তাকে অভিনয় করতে হবে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে!

যা হোক কোনোমত সামলে নিয়ে ঘুমাতে গেল সে। রাতে হুট করে তার ফোনে একটা দুর্বোধ্য সংখ্যায় ভর্তি মেসেজ আসলো। ম্যাথ পাগলা কেনজি সাথে সাথে বসে গেল সলভ করতে। সলভ করে সেটা সে পাঠিয়ে দিল রিপ্লাই হিসেবে।

পরদিন সকালে কেনজি জানতে পারলো আসলে গতরাত্রে সে ‘OZ’ এর পাসওয়ার্ড সলভ করে একজনকে পাঠিয়ে দিয়েছে। ‘লাভ মেশিন’ নামে এক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কেনজির অ্যাকাউন্ট আর তার অ্যাভাটার ইউজ করে ‘OZ’ এর ইনফ্রাস্ট্রাকচার হ্যাক করে ফেলে। যার ফলে সারা পৃথিবীতে নানারকম সমস্যা শুরু হয়।

কেনজি বুঝতে পারে সে যদি এই লাভ মেশিনকে থামাতে না পারে তবে সামনে আরও বড় বিপদ হবে। তাই সে, নাৎসুকির কাজিন কাজুমা আর নাৎসুকির বিশাল পরিবার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক যুদ্ধে- যে যুদ্ধ পিসির চারকোণার পর্দার ভেতর সীমাবদ্ধ হলেও এর উপর নির্ভর করে আছে পুরো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।

সংক্ষেপে এই হল কাহিনী। সত্যি বলতে যেমন জটিল শুনাচ্ছে কাহিনীটা আসলে দেখলে সেরকম মোটেও মনে হবে না। নাম সামার ওয়ার্স হলেও এটা কোন সিরিয়াস ধরনের মুভি না। বরং খুবই মজার, হালকা মেজাজের। পৃথিবীর এত বড় বিপদের মাঝেও তারা যেমন মন-প্রাণ ঢেলে সেটা ঠেকানোর চেষ্টার করছে তেমনি মজা-মস্করাও করছে। এই মুভির মূল থিমটাই হল- একতাই বল।

নাৎসুকিদের জিন্নোচি ক্ল্যান টা দেখে আপনি একবার হলেও আফসোস করবেন ‘ইশ! এরকম একটা জয়েন্ট ফ্যামিলি যদি থাকতো আমার!’ হ্যা। আমারও সেরকম মনে হয়েছে। সবাই হাত-পা ছড়িয়ে গল্প করছে, কাজ করছে, একসাথে খাওয়াদাওয়া করছে- ইশ! কি মজারই না ব্যাপারটা ! অ্যানালগ আর ডিজিটাল- দুই রকম ওয়ার্ল্ডের এত সুন্দর সমন্বয় আর কোথাও দেখিনি এখন পর্যন্ত!
একদম স্বপ্নের মত সুন্দর, হাশিখুশি আর রঙিন মুভিটা।

 

1512250_725623977449749_967160331_o

এফ এ সি ১৬– Farsim Ahmed

লাস্ট উইকে বলা ফ্যাশনেবল কথাটা নিয়ে বেশ কিছু স্পেকুলেশন দেখেছিলাম। আসলে আজকের সবগুলো সেগমেন্টই ফ্যাশন নিয়ে।

 

 

রান্ডম টপিক

সেরাফুকু

 

জাপানি স্কুলের সেইলর ইউনিফর্ম(Sailor Uniform—>Serafuku[fuku=dress/uniform]) এর আইডিয়া এসেছে মূলত ইউরোপের অভিজাত পরিবারগুলোর বাচ্চাদের ইউনিফর্ম থেকে। এই আইডিয়া এডাপ্ট করার কারণ হলো, সেরাফুকুর ডিজাইন বেশ সুন্দর, আর সেই সাথে এগুলো সেলাই করাও সহজ। ঋতুভেদে সেরাফুকুর মেজারমেন্ট পাল্টে যায়। মোটামুটি ৫০% জুনিয়র হাইস্কুলে আর ২০% সিনিয়র হাইস্কুলে সেরাফুকু পরা হচ্ছে। তবে সেরাফুকুর ব্যাপারটা জাপানের একচেটিয়া নয়, সাউথ কোরিয়া আর চীনেও এর ব্যবহার আছে।

 

বি.দ্র.(শুধু ছেলেদের জন্য)জাপানের বিভিন্ন এলাকায় সেরাফুকুতে ব্যবহৃত স্কার্টের দৈর্ঘ্য বিভিন্ন রকম. কাজেই জাপানে ইমিগ্র্যান্ট হতে চাইলে কোন এলাকায় থাকবেন তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসাবে এটাকে কনসিডার করতেই পারেন।হেহেহে।

 

 

আনিমে সাজেশন

প্যারাডাইস কিস(Paradise Kiss)

ইউকারীর একঘেয়ে হাইস্কুল লাইফের মধ্যে ধুমকেতুর মত এসে হাজির হলো “প্যারাডাইস কিস”, কয়েকজন ফ্যাশন ডিজাইনিং স্টুডেন্টের গড়ে তোলা একটা প্রতিষ্ঠান। ইউকারীকে মডেল হবার প্রস্তাব দিল তারা। আমতা আমতা করে রাজিও গেল ইউকারী। তাদের সাথে ইউকারীর রসায়ন হলো চমত্কার, বুঝতে পারল, সে আসলে এমন রোমাঞ্চকর ঝলমলে জীবন চেয়েছিল, সাধারণ ম্যাড়মেড়ে জীবন নয়।ঘটনা মোড় নিল অন্যদিকে, যখন ইউকারী প্রেমে পড়ে গেল প্যারাডাইস কিসের নেতা জর্জের সাথে। ইউকারীর প্রাধান্য কি হবে, তার প্রেম, নাকি তার মডেলিং ক্যারিয়ার?

 

 

কেন দেখবেনঃম্যাচিউর স্লাইস অব লাইফ, অনেকটা হানি এন্ড ক্লোভার এর মত। যারা হাইস্কুল স্লাইস অব লাইফ(পড়ুন ফ্যানসার্ভিস) দেখতে গিয়ে ক্লান্ত, তারা টেস্ট বদল করতে পারেন এটা দেখে।ঝলমলে এবং ডিফরেন্ট ধরনের ভিজুয়াল, ওপেনিং সংটা প্রচন্ড ক্যাচি, শুনলে আপনাআপনি পা নাচা শুরু হয়ে যায়। http://www.youtube.com/watch?v=1nQJgzF6g6M

 

ইন্টারেষ্টিং এন্ডিং, আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.০১

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

দ্য ওয়ান(The One)

 

 

সুপার মডেল মা-বাবা যদি প্লেন ক্র্যাশে মারা যায় তাহলে নিশ্চই তাদের মেয়ের ফ্যাশন জগতে আসার আগ্রহ থাকে না। কিন্তু কেইন লেলেকে তার আন্টি বুঝিয়ে শুনিয়ে শেষ পর্যন্ত একটা ফটোশুটের জন্য রাজি করাতে পারলেন।দেখা হয়ে গেল তার জনপ্রিয় মডেল আঙ্গাস এর সাথে। কিন্তু সে তখন জানত না, আঙ্গাস এর জমজ ভাই এরোস ঘুরঘুর করছে আশেপাশেই। সুদর্শন দুই তরুণ, আর ফ্যাশন জগতে নবাগতা এক তরুণী- ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের জন্য আর কি মশলা লাগে?

 

 

কেন পড়বেনঃরীতিমত আকর্ষনীয় আঁকা, প্লটটা বহুল ব্যবহৃত মনে হতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় টুইস্ট আছে, ক্যারেক্টারদের ভালো ডেপথ আছে, সব মিলিয়ে বেশ ভালো প্যাকেজ।আর এর একটা সাইড স্টোরি আছে, ইটারনাল টেম্পটেশন, ওটা যদি শুধু একটা ওয়ান শট হত তাহলে আমি প্রবাবলি ওটাকে ১০ এ ৯ দিতাম। লিংক দিয়ে দিচ্ছি, আগে এটা পড়ে তারপর ঠিক করতে পারেন মূল কাহিনী পড়বেন কিনা।

 

http://mangafox.me/manga/the_one/v03/c017.5/3.html

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪২

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।

 

 

 

কেন দেখবেন না/পড়বেন না: আজকের সাজেস্ট করা দুটো সিরিজই মূলত স্লাইস অব লাইফ জোসেই। অ্যাকশন/কমেডির হার্ডকোর ফ্যানদের না দেখা/পড়াই ভালো।

 

এফ এ সি ১৫ – Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

সেন্পাই-কোউহাই

সেন্পাই-কোউহাই মূলত রিলেশনশিপসূচক শব্দ, যা ব্যবহার করা হয় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে, যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, চাকরিতে সহকর্মীর সাথে বা কোনো ক্লাবে সতীর্থদের সাথে।সহজ কথায়,  সেন্পাই দিয়ে বোঝানো হয় সিনিয়র, আর কোউহাই দিয়ে জুনিয়র। তবে সেন্পাই বা কোউহাই সম্বোধন করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে এটা যথাযথ হচ্ছে কিনা। একই প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সিনিয়র বা জুনিয়রের ক্ষেত্রে এই পন্থা অনুসরণ করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের মানুষের সাথে এসব কেইগো(সম্মানসূচক শব্দ) পরিহার করাটাই শ্রেয়। যেমন বাংলাদেশে ভাই, ভাইয়া ইত্যাদি টার্ম ব্যবহার করা হয়।

 

 

আনিমে সাজেশন

নাত্সুমে ইউজিন চো (Natsume Yuujinchou)

 

ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা হারা নাত্সুমে তাকাশি ইওকাইদের(ভুতপ্রেত) দেখতে পেত, এই অস্বাভাবিক ক্ষমতার কারণে সবাই তাকে এড়িয়ে চলত। আত্মীয়রা কেউই তার ভার নিতে চাইলেন না, সবাই তাকে চাপিয়ে দিলেন অন্যদের ঘাড়ে। একের পর এক আত্মীয়ের বাড়ি ঘুরে ঘুরে যখন নাত্সুমে এক জায়গায় থিতু হলো, তখন সে খুঁজে পেল একটা বই, যে বইয়ে লেখা আছে হাজারখানেক ইওকাই এর নাম। ইওকাই মাদারার মাধ্যমে সে পারল, এই বইটা তার দাদী নাত্সুমে রেইকোর, যিনি ছিলেন অসাধারণ আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী। ইওকাইদের হারিয়ে তাদের আনুগত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি এই নামগুলো যোগাড় করেছিলেন।তাকাশি ঠিক করলো সে এই ইওকাইদের মুক্ত করে দেবে, তার সাথী হলো মহা পরিক্রমশালী মাদারা।

 

কেন দেখবেনঃঅসাধারণ স্লাইস অব লাইফ।

কিছু আনিমে আছে, যেগুলো দেখলে মন ভীষণ শান্ত হয়ে যায়, কাম এন্ড সিরিন একটা ভাব আসে, আমি এই পর্যন্ত এমন  দুটো আনিমে দেখেছি, তার মধ্যে এটা একটা। ৪টা সিজন বেরিয়েছে, একটার চেয়ে এর পরেরটার রেটিং বেশি, তার মানে বোঝাই যাচ্ছে প্রতি সিকুয়েলেই আনিমেটা দর্শকদের মন ভরাতে সক্ষম হয়েছে।

 

কেন দেখবেন না:স্লো পেসিং, যেটা স্লাইস অব লাইফে মাস্ট। কাজেই ঘোর অ্যাকশনপ্রেমীর না দেখাই ভালো।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৬+৮.৬৮+৮.৭০+৮.৮০

আমার রেটিং ৯+৯+৯+৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

গুড এন্ডিং(Good Ending)

টেনিস ক্লাবের সিনিয়র ইকেতানি শো-কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলো উত্সুমি সেইজি। মন ভেঙ্গে গেল তার।তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এলো একই ক্লাবের সদস্য, রহস্যময়ী এক সুন্দরী, কুরোকাওয়া ইউকি।চমত্কার বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো তাদের মধ্যে। সেই বন্ধুত্ব গড়ালো প্রেমে। কিন্তু একদিন সেইজি দেখতে পেল বিধ্বস্ত শো-কে, তার প্রেমিক তার সাথে করেছে প্রতারণা। পুরনো অনুভূতিগুলো সব বাঁধ ভেঙ্গে ছুটে এলো সেইজির মাঝে। কি করবে এখন সে?

 

কেন পড়বেনঃবেশ ভালো রোমান্টিক গল্প, ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী এগিয়েছে ভালোভাবেই, গুড এন্ডিং নামটা মানানসই।বলে রাখা ভালো, গুড এন্ডিং প্রথমে ছিল ওয়ানশট, পরে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তায় কাহিনীটা নিয়ে পুরো ১৬ ভলিউমের মাঙ্গা বানিয়ে ফেলা হয়।

 

কেন পড়বেন নাঃ **স্পয়লার** সেইজি অনেকটা স্কুল ডেইস এর মাকোতোর মত, এটুকু বলাই যথেষ্ট। তার কিছু অ্যাকশন আমি কখনোই ক্ষমা করতে পারব না।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯১

আমার রেটিং ৮

 

 

 

পরের সপ্তাহে এই বছরের শেষ এফ এ সি, আর তা হবে ফ্যাশনেবল। রেডি থাকুন।

Annarasumanara [মানহোয়া রিভিউ] by Tahsin Faruque Aninda

 

ছোটকালে মানুষের জীবন থাকে অনেক রকমের স্বপ্নে পূর্ণ, জীবনের প্রতিটি ছোটবড় ঘটনা যেন জাদুর ছোঁয়ায় হয়ে উঠে রঙিন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যেন সেই সব অদ্ভুত সৌন্দর্যময় দিনগুলি জায়গা ছেড়ে দেয় কর্মব্যস্ততার জীবনকে, জাদুময় পৃথিবীকে গ্রাস করে নেয় নির্মম বাস্তবতা। সমাজে সম্মানজনক অবস্থানের জন্যে বেঁছে নিতে হয় ভাল পেশা, পরিবারকে দেখে শুনে রেখে দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে হেঁটে চলবার পথ। নিজে ভালমতো খেয়েপরে নিয়ে সবাই চায় তাদের সন্তানেরাও যেন তাদের দেখানো পথে চলে, সবাই যেন ঠিকমতো “বড় হয়ে উঠে”।
তবে কেউ যদি সমাজের দেখানো পথে “বড় হয়ে উঠতে” না চায়, তাহলে কী হবে? সমাজ কি তার এই “ছোট থেকে যাওয়া” মেনে নিবে? নাকি সবাই তাকে আর সবার মতই তথাকথিত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্যে উঠেপরে লাগবে?
তারচেয়েও বড় প্রশ্ন, সবার দেখানো পথে “বড় হয়ে উঠে” জীবন গড়ে তুলার বিরোধিতা করে ছোটকালের সেই স্বপ্নময় জীবনকে তাড়া করে ছুটলে কী হবে সেই মানুষটির? তার জীবন কি সেখানেই থেমে থাকবে? নাকি কারও তোয়াক্কা না করে আপন গতিতে ছুটে চলতে পারবে জীবনের পথে?

Annarasumanara নামক মানহোয়াটি পড়ার সময়ে এরকম বিচিত্র প্রশ্ন মাথায় আসবে পাঠকদের। Ha Il-Kwon এর আঁকা ও লেখা এই ওয়েবটুনটি ৩টি ভলিউমে ২৭ চ্যাপ্টারে প্রকাশিত হয়।

কাহিনী: গল্পের নায়িকা Yoon Ah-Ee এক গরীব পরিবারের মেয়ে। পড়াশুনায় তুখোড় এই ছাত্রীর জীবন দারিদ্রতায় অসহনীয় হয়ে উঠে। পরার কাপড় ছিড়ে গেলেও নতুন কাপড় কিনতে চিনতা করতে হয় যে এই খরচের পর মাসের বাকি দিনের জন্যে খাবার কিনবার মত টাকা থাকবে নাকি হাতে। নতুন ক্লাসে তার পাশের চেয়ারেই জায়গা হয় Na Il-Deung-এর, যে শহরের অন্যতম ধনী পরিবারের ছেলেই শুধু নয়, ভাল ফলাফলে সবাইকে ছাপিয়ে স্কুলের সেরা ছাত্রও বটে। পড়াশুনার জন্যে অঢেল টাকা খরচ করে ফেলা তার কাছে কোন ব্যাপারই নয়। এদিকে এত বড় সম্পদশালী পরিবারের ছেলের পাশে বসে থেকে Ah-Ee-এর চিন্তাভাবনায় সারাক্ষণ চলে আসে তাদের দুজনের মধ্যে জীবনধারণের পথের এত বড় পার্থক্যের ব্যাপারটি।

তাদের স্কুলে একদিন হঠাৎ একটি গুজব ছড়িয়ে পরে যে পরিত্যক্ত এমিউজমেন্ট পার্কে এক জাদুকর এসে উঠেছে, আর সেখানেই থাকে এখন। জাদুকরটি একটু রহস্যময়, আর সে নাকি যেকোন মানুষকে গায়েব করে দেবার জাদু দেখাতে গেলে সত্যি সত্যি সেই মানুষকে গায়েব করে ফেলতে পারে। Yoon Ah-Ee ঘটনাচক্রে একদিন সেই জাদুকরের সামনে পরে, যে তাকে প্রথমেই একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে, “Do you believe in magic?”

Ah-Ee এর ছোটকালে সবসময়ে শখ ছিল জাদু শিখা, বড় হয়ে সে হতে চেয়েছিল একজন জাদুকর। কিন্তু তার বাবা তাকে ও তার ছোট বোনকে ফেলে চলে যায় ঋণের বোঝা মাথায় চাপিয়ে দিয়ে। সংসারের টানাটানিতে এক সময়ে ছোটকালের সেই সুন্দর স্বপ্ন ঝেড়ে ফেলে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। নুন আনতে পান্তা ফুরানো জীবনে সে জলদি বুঝে উঠে, পড়াশুনায় ভাল ফলাফল করে ভাল একটি চাকুরী পেতে হবে তাকে। আর তাই এতদিন পর ছোটকালের সেই পূরণ করতে না পারা স্বপ্নের ব্যাপারটি তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। জাদুকরের জীবন বেঁছে নিলে পরিবারকে কী খাওয়াবে? সমাজ তাকে কী চোখে দেখবে? সত্যিকারের জাদু বলতে কিছু নেই। এটি শুধুই চোখে ধুলো দেওয়া এক খেলা, যা মানুষকে বিনোদনই দিতে পারে, এর বেশি কিছুই না।

এদিকে রহস্যময় জাদুকর বারবার তাকে একটি কথাই বলে, সে সত্যিকারের জাদুকর। সে সত্যি সত্যিই জাদু জানে। কথাটি Ah-Ee মেনে নিতে না চাইলেও তাকে মাঝেমাঝেই কিছু অবাস্তব ধরণের জাদু দেখিয়ে দিতে থাকে। আর সেই সাথে Ah-Ee-কে একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, তার ছোটকালের স্বপ্ন কি সে চাইলে এখনও পূরণ করতে পারবে?

চরিত্র: গল্পের মূলে রয়েছে তিন প্রধান চরিত্র: দরিদ্র কিন্তু মেধাবী ছাত্রি Yoon Ah-Ee, বড়লোক ঘরের দেখতে হ্যান্ডসাম ও মেধাবী ছাত্র Na Il-Deung, এবং রহস্যময় জাদুকর। পুরো গল্পটি এই তিনজনকে কেন্দ্র করে গড়ে হয়ে উঠে, আর ধীরে ধীরে তিনজনেরই চরিত্রের বিকাশ দেখানো হয়েছে সুন্দরভাবে।

বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে অনেক পরিণত চিন্তার Yoon Ah-Ee জানে অনেক পরিশ্রম করে গরীব পরিবারের হাল ধরতে হবে। আবেগে গা ভাসিয়ে না দিয়ে সত্যের মুখোমুখি হওয়া তার সিদ্ধ্বান্তে লক্ষণীয়।
Il-Deung বিশ্বাস করে উন্নত সুখময় জীবনের জন্যে দরকার অনেক টাকা-পয়সা ও ভাল পেশা। আর বড়লোকের ঘরে জন্মানোতে সে সেইসব সুবিধা উপভোগ করতে পেরে নিজেকে আসলেই অনেক সৌভাগ্যবান ভাবে।
বিলাসিতার জীবন ছেড়ে আসা জাদুকর নিজের জীবনের স্বপ্নের পথেই পা বাড়ায়। বয়স বাড়লেও, মানসিকভাবে কখনও বড় হয়ে উঠতে না চাওয়া এই জাদুকর সবাইকে মনের কোনে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট শিশুটিকে জাদু দেখিয়ে আনন্দ দেখিয়ে বেড়ায়। তার বিশ্বাস জীবনে সবসময়ে স্বপ্নের পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিৎ, সমাজের বাহবা পাওয়ার লক্ষ্যে নিজেকে বিলিয়ে না ইয়ে জীবন উপভোগ করাই হওয়া উচিৎ জীবনের সত্যিকারের লক্ষ্য।

আর্ট: মানহোয়াটির আর্টের মধ্যে একটা অন্যরকম সৌন্দর্যের ছোঁয়া আছে। মাঝে মাঝে এবস্ট্রাক্ট আর্টের ব্যাপারটি চোখে পরার মত, আর সেই সৌন্দর্য অনেক বেশি উপভোগ্য! জাদুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা মানহোয়াটিতে মাঝে মাঝেই দেখা যায় একটি পুরানো বন্ধ হয়ে যাওয়া এমিউজমেন্ট পার্কের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য! চিত্রবহুল এই মানহোয়াতে এক প্যানেল থেকে আরেক প্যানেলে অংকনের পরিবর্তনগুলি কাহিনীতে গভীর ছাপ ফেলে। সবচেয়ে বেশি চোখে যা পরবে তা হল আর্টে একটা ডার্ক থিম থাকলেও কাহিনী সেরকম ডার্ক নয়, যাতে এ দুটি জিনিসের কম্বিনেশন অসাধারণ হয়ে উঠেছে!

একজন বাস্তববাদী, একজন অভিজাত-বংশীয় এবং একজন জাদুকরের কাহিনী আপনাকে মনে করে দিবে শুধু লোকদেখানো নয়, নিজের জীবনকে নিজের মত করেও গড়ে তুলা উচিৎ। স্বপ্ন শুধু স্বপ্নে থেকে যাবার জন্যেই নয়, সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারাটা জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম দিক!

মনে গভীর ছাপ রেখে যাবার মত ঘটনাবহুল একেকটি অধ্যায়, সেই সাথে চোখজুড়ানো আর্ট এই মানহোয়াটিকে স্বাভাবিকভাবেই খুব জলদি আপনার মনোযোগ কেড়ে নিবে। গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, কাহিনী আগানোর সাথে সাথে চরিত্রগুলি অনেক সুন্দর ভাবে বিকশিত হয়। চরিত্রগুলিতে দেখার মতন পরিবর্তন আসে। জাদুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা কাহিনীতে চরিত্রগুলিও জাদুময় কিছু মুহুর্ত উপহার দিতে পারবে। 

প্রায় ৪০-৫০ পাতার একেকটি চ্যাপ্টার পড়তে খুব বেশি সময় নিবে না হয়তো। অতএব কমিক্স, মাঙ্গা, মানহুয়া ও মানহোয়া পাঠকেরা এই মানহোয়াটি না পড়ে থাকলে আর দেরী না করে এখনই পড়ে ফেলুন, আর উপভোগ করুন অসাধারণ সুন্দর একটি গল্প! জাদুময় কিছু মুহুর্তই আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে 

MyAnimeList Rating: ৮.৬৯/১০
আমার রেটিং: ১০/১০

[লেখাটি একই সাথে somewhereinblog-এও আপলোড করা হয়েছে, লিংক: http://www.somewhereinblog.net/blog/aulaaninda/29911178 ]

Animekhor topchart 2013 – Best sports – Chihayafuru 2

২০১৩ সাল স্পোর্টস এনিম লাভারদের জন্য পয়া এক্টি বছর। একের পর এক রক্ত গরম করা সিরিজ শুরু এবং শেষ হয়েছে এই বছর। এনিমখোররা তাদের সেরা নির্বাচন করতে গিয়ে তাই বিশাল হিমশিম খেয়েছেন। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ৫৫.৮৮% ভোট দিয়ে তারা বিজয়ী করেছেন Chihayafuru কেই !!! তবে এর পথ চলা খুব মসৃণ ছিল না। বিজয়ের পথে তাকে সাম্লাতে হয়েছে রক্ত গরম করা একশন আর ড্রিফটিং এ পূর্ণ শান্ত কিন্তু প্রতিভাবান রেসার তাকুমির সিরিজ ইনিশিয়াল ডি আর সম্মাননা পুরস্কার পাওয়া বাজারে আলোড়ন সৃষ্টিকারী; নারীদের অত্যন্ত প্রিয় এবং স্মার্ট ড্যাশিং কুল হ্যান্ডসাম একদল ছেলেকে নিয়ে সিরিজ ফ্রি এর রক্তচক্ষু; পাড়ি দিতে হয়েছে অনেকটা পথ। বিশ্লেষকদের ধারণা; ইন্টেন্স গেম সিন এর সাথে মাপা রোমান্স; চমৎকার গ্রাফিক্স এর কাজ; চোখ ধাঁধানো স্টাইলের বদলে প্রশান্তি এনে দেওয়া লুক এবং স্টাইল; সব মিলিয়ে একটা পুরনাঙ্গ প্যাকেজ হয়ে ওঠাতেই Chihayafuru র এই সাফল্য !!!

Chihayafuru-2-Soundtrack-Cover

 

Animekhor top-chart 2013 – Best ongoing shounen – Naruto Shippuden

ছোটখাট একটা আপসেটের জন্ম দিয়ে ‘নারুতো শিপ্পুডেন’ এবারের অনগোয়িং শোনেন এনিমে ক্যাটেগরীতে প্রথম স্থান অধিকার করে নেয়। নারুতোর ভোট ছিল ২৫, অপরদিকে নিকটতম কমপিটিটর নারুতোরই জ্ঞাতিভাই ‘হান্টার ইন্টু হান্টার’ ২০১১ পেয়েছে ২০ ভোট। আপসেট বলার মূল কারণ আসলে ২০১৩ সালে এই এনিমেগুলার পারফর্মেন্স।

নারুতো শিপ্পুডেন (মতান্তরে উচিহা কিংবা ফিলার শিপ্পুডেন) নামের প্রতি সুবিচার করে ২০১৩ সালের সূচনাটাও করেছিল একটা ফিলার দিয়ে, এরপর কবর থেকে উঠে আসা কিছু তরতাজা ভূতের দৃপ্ত পদচারণা, আরো বেশ কিছু ফিলার শেষে ধীরে ধীরে ট্র্যাকে ফিরে আসে। তবে বছরের শেষ দিকে বুড়ো উচিহার বুড়ো হাড়ের (সুসানো) ভেলকি আর কুলেস্ট ক্যারেক্টার ইতাচির ভাগ্যলিখন কৌশলের জৌলুসে শিরোপার দৌড়ে ব্যাপকভাবে ফেরত আসে ঐতিহ্যবাহী এনিমেটি।

অপরদিকে হান্টার-হান্টারে চলছিল অসাধারণ গ্রিড আইল্যান্ড আর্ক আর চিমেরা এন্ট আর্ক, পুরা বছর জুড়ে বেশিরভাগ এপিসোড ছিল উপভোগ্য আর টান টান উত্তেজনার, আর সমান তালে চলছিল তরিকোর খাওয়া দাওয়া। লাইভবেয়ারার, ফুড অনার আর ফোর বিস্ট আর্কের অস্থির সব পর্ব নিয়ে তরিকোর ভোটশূন্য থেকে যাওয়া খুবই হতাশাজনক। ওয়ান পিসে ছিল পাঙ্ক হেজার্ড আর্ক, অনেক ভালো ফাইটিং আর প্লট থাকা সত্ত্বেও অদ্ভুতভাবে এই অতি জনপ্রিয় এনিমেটি পেয়েছে মাত্র ৫ ভোট, সম্ভবত আর্কটির সমাপ্তি অতটা ডিসিসিভ না হবার কারণে।

বেশিরভাগ এনিমখোরের এনিমে ক্যারিয়ার এক্কেবারে শুরুর ভালবাসা নারুতো, কারো কারো হয়ত প্রথম প্রেম, এই পোলে নারুতোর জয়ের পিছনে এই ইমোশনের পাশাপাশি কাজ করেছে বছরের শেষদিকের খুব ভালো কিছু এপিসোড। আর সম্ভবত তরিকো আর হান্টার-হান্টারেররিগুলার ভিউয়ার কম হওয়াটাও অন্যতম কারণ। সবশেষে না বললেই নয়, আমি পারসোনালি খুব খুশি এই রেজাল্টে।

assistir-naruto-shippuuden-dublado-todos-os-episódios-online

 

Animekhor top-chart 2013 – Best movie – Steins; Gate: Deja Vu

এই বছরের সেরা মুভির পোলে বেশ প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেলেও “স্তেইন্স;গেট মুভি দে যা ভু” 30.43% ভোট পেয়ে “কতোনোহা নি নিয়া”কে (19.56% ভোট) পেছনে ফেলে, ২০১৩ সালের সেরা মুভি নির্বাচিত হয়েছে।

যেখানে ‘সেতেইন্স;গেট’ এনিমেটা শেষ তার ঠিক পর থেকেই ”স্তেইন্স;গেট মুভি দে যা ভু” মুভিটার শুরু । এনিমের মতই মূল চরিত্রগুলোর কেউ হতাশ করে নি। যথারীতি রিন্তারো অকাবে তার ‘ম্যাড সায়েন্টিস্ট’ আমেজ, কুরিসু মাইক্সে তার মনমুগ্ধকর ‘ক্রিস্টিনা’ আমেজ দিয়ে আবার স্তেইন্স গেটের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়!! সেই সাথে মুভির কাহিনীও ছিল চোখে পরার মত। এনিমের যারা দেখে হয়তো এতো দিন ভাবতেন যে বেস ভালো এবং যুক্তিপূর্ণ এক ending দিয়ে এনিমেটা শেষ হয়েছে। কিন্তু মুভি দেখতে গিয়ে সেই ভুল ভেঙ্গে আবার নিমজ্জিত হয়ে পরবেন নতুন এক শেষ দেখতে। এমন কাহিনী আর প্রধান চরিত্র সংবলিত মুভিটা যে সেরা মুভির যোগ্য দাবিদার, একবার দেখেই তা নিমিষে বলে ফেলা যায়!

5ab5d135a20969c92f9bae737f580255

 

Animekhor top-chart 2013 – Best Anime – Shingeki no Kyojin

২০১৩ সালের সেরা আনিমে ক্যাটাগরির বাকি সব আনিমে গুলার তুলনায় বিপুল পরিমান বেশি ভোট পেয়ে অনেক টা বাকিগুলাকে উড়িয়ে দিয়ে সেরা আনিমে নির্বাচিত হয়েছে শিঙ্গেকি নো কিওজিন (Attack on Titan)

শোনেন জেনারের আনিমে গুলার প্রতি এমনিতেই দর্শকের আকর্ষণ একটু বেশি থাকে । তার উপর শোনেন জেনারের সকল ধরনের মশলা এখানে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন উপায়ে উপস্থাপনা করা হয়েছে। ফলে এটা রিলিজের শুরু থেকেই দর্শক টানতে পেরেছে এবং শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে সক্ষমও হয়েছে।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা,অসাধারণ ফাইট,অ্যাডভেঞ্চার,রোমাঞ্চকর কাহিনী; দর্শকদের আকৃষ্ট করতে যা যা দরকার সবই আছে এর মধ্যে। এটার শুরুই হয়েছে বিশাল এক ধামাকা দিয়ে।মানব্জাতির উপর টাইটানদের হামলা।এরপর ধীরে ধীরে কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে খানিক টা এইভাবে;টাইটানদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন,এক পর্যায়ে মেইন প্রোটাগোনিস্টের নিজেরই টাইটান হয়ে যাওয়া এবং সাথে অনেক অনেক চমক দিয়ে।এই আনিমের অ্যাকশনও ছিল পুরাই চোখ ধাঁধানো।একটু ভিন্ন টাইপের অ্যাকশনই আনিমের টার সবথেকে বেস্ট পার্ট বলা যেতে পারে। থ্রি ডি গিয়ারের সাহায্যে ধারালো ব্লেডের সাহায্যে মানুষের টাইটানদের সাথে ফাইটই হোক কিনবা টাইটানের সাথে টাইটানের ফাইটই হোক সবই এক কথায় অসাধারণ।তাই এই বছরের সেরা আনিমে হিসেবে শিঙ্গেকি নো কিওজিনের জয় তা খানিক টা আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল বলা যেতে পারে।

Shingeki.no.Kyojin.full.1474341