সামার ওয়ার্স (summer wars) লিখেছেন Torsha Fariha

 1513308_725623344116479_1745633721_n
ডিরেক্টর- মামোরু হোসোদা। (যার কিছু বিখ্যাত মুভির নাম- the girl who leapt through time, wolf children ইত্যাদি।)

জানরা- সায়েন্স-ফিকশন।

IMDb rating- 7.6

প্লট- এই গল্পের নায়ক নায়িকা হচ্ছে কেনজি আর নাৎসুকি। তারা দুইজনই একই হাইস্কুলে পড়ে। কেনজি পার্টটাইম মডারেটর হিসেবে কাজ করে একটা ইন্টারনেট বেইজড ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ‘OZ’ এ। নাৎসুকি হচ্ছে স্কুলের খুব বিখ্যাত একটা মেয়ে । কেনজির সেনপাই।

এক গ্রীষ্মে সে কেনজি আর তার ফ্রেন্ড তাকাশিকে বলে তারা একটা পার্টটাইম জব করবে কিনা! যে কোন একজনকে দরকার তার। গ্রামে যেতে হবে তার সাথে। দুইজনই তো শুনে সাথে সাথে রাজি! পরে রক-পেপার-সিসর খেলে সুযোগটা জিতে নেয় কেনজি।

গ্রেট-গ্র্যান্ডমাদার সাকায় জিন্নোচির ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নাৎসুকি গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। সেই সাথে আছে কেনজি যে তখনো বুঝেনি তার পার্টটাইম জবটা কি!
যা হোক পৌঁছানোর পর জানা গেল আসল কাহিনীটা কি! নাৎসুকি কেনজিকে ধরে নিয়ে এসেছে তার ফিয়ন্সে হিসেবে অভিনয় করার জন্য!

কেনজি হতভম্ব হয়ে দেখতে থাকল আশেপাশের পরিস্থিতি। ইয়া বিশাল একটা বাড়ি নাৎসুকির আত্মীয়-স্বজনে ভর্তি! এঁদের মাঝে তাকে অভিনয় করতে হবে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে!

যা হোক কোনোমত সামলে নিয়ে ঘুমাতে গেল সে। রাতে হুট করে তার ফোনে একটা দুর্বোধ্য সংখ্যায় ভর্তি মেসেজ আসলো। ম্যাথ পাগলা কেনজি সাথে সাথে বসে গেল সলভ করতে। সলভ করে সেটা সে পাঠিয়ে দিল রিপ্লাই হিসেবে।

পরদিন সকালে কেনজি জানতে পারলো আসলে গতরাত্রে সে ‘OZ’ এর পাসওয়ার্ড সলভ করে একজনকে পাঠিয়ে দিয়েছে। ‘লাভ মেশিন’ নামে এক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কেনজির অ্যাকাউন্ট আর তার অ্যাভাটার ইউজ করে ‘OZ’ এর ইনফ্রাস্ট্রাকচার হ্যাক করে ফেলে। যার ফলে সারা পৃথিবীতে নানারকম সমস্যা শুরু হয়।

কেনজি বুঝতে পারে সে যদি এই লাভ মেশিনকে থামাতে না পারে তবে সামনে আরও বড় বিপদ হবে। তাই সে, নাৎসুকির কাজিন কাজুমা আর নাৎসুকির বিশাল পরিবার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক যুদ্ধে- যে যুদ্ধ পিসির চারকোণার পর্দার ভেতর সীমাবদ্ধ হলেও এর উপর নির্ভর করে আছে পুরো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।

সংক্ষেপে এই হল কাহিনী। সত্যি বলতে যেমন জটিল শুনাচ্ছে কাহিনীটা আসলে দেখলে সেরকম মোটেও মনে হবে না। নাম সামার ওয়ার্স হলেও এটা কোন সিরিয়াস ধরনের মুভি না। বরং খুবই মজার, হালকা মেজাজের। পৃথিবীর এত বড় বিপদের মাঝেও তারা যেমন মন-প্রাণ ঢেলে সেটা ঠেকানোর চেষ্টার করছে তেমনি মজা-মস্করাও করছে। এই মুভির মূল থিমটাই হল- একতাই বল।

নাৎসুকিদের জিন্নোচি ক্ল্যান টা দেখে আপনি একবার হলেও আফসোস করবেন ‘ইশ! এরকম একটা জয়েন্ট ফ্যামিলি যদি থাকতো আমার!’ হ্যা। আমারও সেরকম মনে হয়েছে। সবাই হাত-পা ছড়িয়ে গল্প করছে, কাজ করছে, একসাথে খাওয়াদাওয়া করছে- ইশ! কি মজারই না ব্যাপারটা ! অ্যানালগ আর ডিজিটাল- দুই রকম ওয়ার্ল্ডের এত সুন্দর সমন্বয় আর কোথাও দেখিনি এখন পর্যন্ত!
একদম স্বপ্নের মত সুন্দর, হাশিখুশি আর রঙিন মুভিটা।

 

1512250_725623977449749_967160331_o

Comments