Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

অনেকদিন ধরে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। কোন এনিমের দুটো এপিসোড দেখে আর কন্টিনিউ করতে পারছিলাম না। ধৈর্য হচ্ছিল না মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখার। এরকম এক অবস্থায় যখন এটা সেটা খুঁজছিলাম তখন World Masterpiece Theater এর সন্ধান পাই। এবং randomly একটা বাছাই করে দেখতে বসি।

My Daddy Long Legs

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) এনিমে টি Jean Webster এর Daddy Long Legs এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। এক অনাথ মেয়ের জীবন ও তার স্বপ্ন-আকাঙ্খা নিয়ে এই এনিমে।
খুব ছোটবেলায় Judy Abott এর বাবা-মা তাকে এক চার্চের সামনে রেখে যায়। তার পাশেই John Grier নামের অনাথাশ্রমে তার জায়গা হয়। এই অনাথাশ্রমের ডিরেক্টর Mrs Lippet. ছোটবেলা থেকেই জুডি অনেক বেশি চঞ্চল ও ক্লামসি ছিল। যেকোন কাজেই কোন না কোন অঘটন ঘটাত। এর জন্য মিসেস লিপেটের বকাবকি তো আছেই। তবে ছোট বাচ্চাদের কাছে সে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রতিটা দিনই আনন্দে কাটত। কিন্তু তারপরও একটা সুপ্ত বাসনা ছিল। সে এই অনাথাশ্রম থেকে বের হতে চায়, নিজের মত করে বাঁচতে চায়। একসময় একটা সুযোগ ও আসে। অনাথাশ্রম এবং রেপুটেড কিছু স্কুলের ট্রাস্টি মেম্বারদের জন্য লাঞ্চের আয়োজন করা হয়। তারা একজনকে বাছাই করবে এবং তার পড়াশোনা ও মাসিক এ্যালাউয়েন্সের ভার বহন করবে। কিন্তু জুডি খেয়ালের বশে অনেক ভুল করে ফেলে। তার হাত থেকে এই সুযোগ চলেই যেত কিন্তু ঐদিন রাতে তার ত্রানকর্তা হয়ে আসে John Smith যে কিনা ট্রাস্টি মেম্বারদের একজন। যেহেতু এ্যানোনিমাসলি পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল তাই খুবই কমন এই নাম দিয়েই জুডির কাছে পরিচয় দেয়া হয়েছিল। যদিও জুডির সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। এবং পরবর্তী সময়ে সব ধরণের যোগাযোগ পালন করা হত তার সেক্রেটারি Walter Griggs এর মাধ্যমে। যাহোক, এর পর Lincoln Memorials High School এ শুরু হয় নতুন জীবন।
নতুন শহরে এসে নতুন এক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল জুডি কে। তার রুমমেট Julia Pendleton ও Sallie Mcbride দুজনই এলিট সমাজের বাসিন্দা। জুলিয়া খুব ইগোয়িস্ট আর নিজের বংশ নিয়ে খুব বড়াই করে। সে তুলনায় স্যালি চুপচাপ কিন্তু মিশুক। তার পরিবারও খুব অমায়িক। জুলিয়া সবসময় জুডিকে অপদস্থ করতে চায় আর স্যালি দুজনকে শান্ত করতে চায়। একসময় দেখা যায় তারা খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায়। তবে জুডি কিন্তু কখনোই তার ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা জানায়না। তারা শুধুই জানে জুডির একজন গার্ডিয়ান যাকে সে ‘Watashi no Ashinaga Ojisan’ বলে ডাকে। জুডি প্রায়ই তাকে চিঠি লিখে। তার জীবন কেমন যাচ্ছে বা যেকোন কিছুর জন্য পরামর্শ সবকিছু জানায়।
জুডির এই ধনী এলিট সমাজের মানুষের প্রতি সবসময় এক বিতৃষ্ণা কাজ করত। অনাথাশ্রমে থাকার সময় সে দেখেছে তাদের প্রতি কেমন করুণা করা হত। কিন্তু এই ধারণা বদলে দেয় Jervis Pendleton. জুলিয়ার চাচা। পেন্ডেল্টন বংশের অন্য সবার মত নাকউঁচু নয় সে। কোন অহংবোধ নেই। খুব সৎ, অমায়িক আর খামখেয়ালি মানুষ। জার্ভিসকে ভাল লেগে যায় সাথে সাথে। ভাল লাগার মতই এক চরিত্র। তার ব্যাক্তিত্বের এই সরলতা দেখে জুডির ধারণা বদলে যায়। একসময় সে জার্ভিসকে পছন্দ করাও শুরু করে। কিন্তু যখনই সে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখনই তার সবকিছু ঘোলাটে হয়ে আসে। জার্ভিস যদি জুডির ফ্যামিলি হিস্ট্রি জানে হয়ত সে তাকে আর মেনে নিবেনা। এর মধ্যে জুডি তার প্যাশন ঠিক করে। জুডি যতই চঞ্চল হোক না কেন তার লেখার হাত বেশ ভাল ছিল। তার লেখা essay ই তাকে এই স্কুলে পড়ার সুযোগ দেয়। একজন এ্যাস্পায়ারিং রাইটার হিসেবে স্কুলেও সে পরিচিতি পায়। এরপর সে ম্যাগাজিনে তার ছোট গল্প পাঠানো শুরু করে। প্রথমবার ছাপালেও পরে তার লেখা রিজেক্ট হয়। নিজের প্রতি হতাশা ঘিরে ফেলে তাকে। আবার অন্যদিকে দেখা যায় সে নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশন শুরু করে। সে স্বাধীন হতে চায়। অন্যের উপর নির্ভর করে থাকা – এই ব্যাপারটা সে মানতে পারেনা। কিন্তু জন স্মিথ তাকে নিষেধ করে দেয়। এর কারণে সে তার ‘বাবা’র প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে চিঠিও দেয়। এরকম মানসিক টানাপোড়ন আর চড়াই উৎরাই পার হয়ে তার গ্র্যাজুয়েটের দিন ঘনিয়ে আসে। যেহেতু কামিং অফ এজ স্টোরি, তাই পুরো গল্প জুড়ে জুডির মানসিক অবস্থা, চিন্তা ভাবনা এবং তার মানসিক পরিপক্কতা সবকিছুর চিত্র পাওয়া যায়। অনেক কিছুই রিলেটেবল মনে হয়। অনেককিছু মনে হয় আমি নিজেই ফেস করছি।
এই এনিমের যে বিষয়টা সবচেতে ভাল লেগেছে তা হল জুডির চিঠিগুলো। খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়েছি। মানে জুডি পড়ে শোনায় আর কি। আর শুধু জুডি নয়, জুলিয়া ও স্যালির মানসিক পরিবর্তন ও অবাক করে দেয়। আর টিনেজ বয়সের প্রেম যখন সিরিয়াস হয়ে যায়, সেই ট্রানজিশনটাও ভাল লেগেছে। অনেক মোমেন্ট ছিল যখন জুডির ব্লাশিং দেখে নিজেই ব্লাশড হয়েছি। জুডির সাথে সাথে যেন নিজেও আরেকটু বড় হয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা এই গল্পের হ্যাপি এন্ডিং। যদিও বেশকিছু জায়গা ক্রিঞ্জওয়ার্দি ছিল কিন্তু এমন সুখের সমাপ্তির কাছে তা কিছুই না।
এই এনিমে দেখার দুটো ওয়ে আছে। ১৪/১৫ এপিসোডের পরে স্পয়লার জেনে ফেলা আর নাহয় শেষ এপিসোড পর্যন্ত অপেক্ষা করা। আমি এ্যাক্সিডেন্টলি স্পয়লার জেনে গেছিলাম। প্রথমে ব্যাপারটা নিয়ে খুব বিরক্ত হলেও পরে মজাই পেয়েছিলাম। এবং মনে হল শুধুমাত্র স্পয়লার জানার কারণেই আরও বেশি উপভোগ করতে পেরেছি। মন ভালো করে দেয়ার মতই এনিমে।

দা তাতামি গ্যালাক্সি [রিভিউ] — Safin Zaman

The Tatami Galaxy

The Tatami Galaxy Review
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ মিস্টেরি, সাইকোলজিকাল, রোমান্স

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা কনসেপ্ট। ভাবতে মজাই লাগে আমাদের এই জগতের বাইরেও আরো অনেক জগত আছে যেখানে প্রায় সবকিছু একই, দুই একটা ক্ষুদ্র জিনিস ছাড়া। হয়তো আপনি এখন এই রিভিউ পড়ছেন, কিন্তু অন্য জগতের আরেক আপনি এই রিভিউ দেখেই স্ক্রল করে চলে গেছে। তার মানে বলা যায় এখন দুইটা জগত বিদ্যমান। একটাতে আপনি রিভিউ পড়ছেন, আরেকটাতে পড়ছেন না। হয়তো এমনও একটা জগত আছে যেইখানে আমি এই রিভিউই লেখি নাই। সব মিলিয়ে মজার হলেও বেশ জগাখিচুড়ি একটা অবস্থা। কিন্তু এই জগাখিচুড়ি কনসেপ্টকে এতটা সুন্দর আর উপভোগ্যভাবে দর্শকের সামনে উপস্থিত করেছে তাতামি গ্যালাক্সি তার প্রশংসা না করলেই নয়।

তাতামি গ্যালাক্সি তোমিহিকো মোরিমির লেখা এক উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন যা স্টুডিও ম্যাডহাউজ ২০১০ অ্যাডাপ্ট করে। উপন্যাসের পুরোটাই ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভে লেখা । তাই হয়তো এনিমের কোথাও প্রোটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করা হয় নি। লেখার স্বার্থে ধরি প্রোট্যাগনিস্টের নাম ‘ওয়াতাশি’। এই ওয়াতাশি এক কলেজ ছাত্র। অন্যসব কলেজ ছাত্রদের মতও তার স্বপ্ন এক পার্ফেক্ট কলেজ লাইফের যেখানে বন্ধুবান্ধব, ভালবাসার মানুষ নিয়ে কাটবে তার দিনকাল। তার ভাষায় এক “গোলাপী রঙ এর ক্যাম্পাস জীবন”। এই পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের জন্য সে বিভিন্ন সার্কেল বেছে নেয় আর স্বপ্ল দেখে সে বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকবে, কৃষ্ণকালো চুলের এক রমণী তার প্রেমে পড়বে… কিন্তু ফ্যান্টাসি তো ফ্যান্টাসিই। বাস্তব জীবনের সাথে তার আকাশ পাতাল তফাৎ। কৃষ্ণকালো চুলের রমণী তো দূরের কথা, পুরো ক্যাম্পাস লাইফে তার পরিচয়ই হয় দুইজন মেয়ের সাথে। আর বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকার বদলে তার সংগী ‘ওযু’ নামক এক আজব প্রাণীর যাকে দেখলেই পাতাল থেকে বের হওয়া এক ভূতের কথা মনে পরে।

তাতামি গ্যালাক্সির স্পেশালিটি এর গল্পকথন। কিংবা সোজা ভাষায় বললে, এর ন্যারেটিভ। এনিমের ১১টা এপিসোড ১১ রকমের পরিস্থিতি দেখায়, যার মুখোমুখি ওয়াতাশি হতে পারে। শেষ দুই পর্ব বাদে প্রত্যেক পর্ব শেষেই গল্প রিওয়াইন্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত যায় যেইখানে ওয়াতাশি কোন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন নিচ্ছিল। ফলাফল হিসেবে একেক এপিসোডে দর্শক ওয়াতাশির নেওয়া একেক ডিসিশনের ফলাফল দেখতে পারে। উদাহারণ হিসেবে এক এপিসোডে ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য আরেক এপিসোডে সিনেমা ক্লাব। এই ডিসিশনের ভিন্নতার কারণে তৈরী ওয়াতাশির ভিন্ন ভিন্ন জীবন , আরেক কথায় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য, তার পরিচিত মানুষজন এক রকম, তার চিন্তাভাবনা এক রকম। আবার আরেক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি সিনেমা ক্লাবের সদস্য।তার জীবন ইংলিশ ক্লাবের ওয়াতাশি থেকে ভিন্ন। এইভাবে নয় এপিসোডে ওয়াতাশির নেওয়া নয় রকম ডিসিশনের ফলাফল হিসেবে নয় রকমের জীবন দেখানো হয়। কিন্তু একটা জীবনও ওয়াতাশির পছন্দ নয়। তার চাই সেই কল্পনার “Rose colored campus life”।ওয়াতাশি তার পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের পিছনে আজীবনই ছুটে যেত যদি না ৪.৫ তাতামির লুপহোলে পড়ে সে জীবনের চরম সত্যটা অনুধাবন না করত, “যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা”।

ন্যারেটিভ বাদে তাতামি গ্যালাক্সির চরিত্রগুলো আর এর আর্টস্টাইলের কথা না বললেই নয়। চরিত্র এতে কম কিন্তু যেইগুলো আছে প্রত্যেকেই তাদের নিজস্বতায় পরিপূর্ণ। এমন কোন চরিত্র নাই যেইটা কেবল থাকার জন্য ছিল। প্রত্যেক চরিত্রেরই গল্পের পেছনে কিছুনা কিছু অবদান ছিল আর সেইটা চমৎকারভাবেই উপস্থাপন করেছে তাতামি গ্যালাক্সি।

তার পর আছে এর আর্টস্টাইল। এর আর্টস্টাইল শুরুতে কিছুটা অন্যরকম লাগলেও কাহিনী যত আগাবে তত মনে হবে এইরকম গল্পের জন্য এর চেয়ে ভালো আর্টস্টাইল হতেই পারে না। ডার্ক শেডেড কালার থেকে ভাইব্রেন্ট কালারের আর্টস্টাইলে শিফটগুলো অনেক সুন্দর ছিল। আর শেষ দুই পর্বে রিয়েল লাইফ ইম্যাজারি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সব মিলিয়ে এক অনবদ্য রঙের খেলা যেন এটা।

আমার কাছে এটা ১০/১০ এনিমে। তাই নেগেটিভ কোন পয়েন্ট থাকলেও খুঁজে পাচ্ছি না।আমার মতে এই এনিমে খারাপ লাগতে পারে একমাত্র যদি এই ধরণের এনিমে আপনার টেস্টের না হয়ে থাকে। এছাড়া তাতামি গ্যালাক্সি উপভোগ না করার কোন কারণ নেই। যদিও এর ন্যারেটিভ সাধারণ এনিমের তুলনায় একটু বেশিই দ্রুত তবে প্রথম ১০/১৫ মিনিটের পর অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আর অভ্যস্ত না হলে স্লো করে দেখার অপশন তো আছেই।

সব মিলিয়ে এক কথায় মাস্টারপিস লেভেলের এক এনিমে তাতামি গ্যালাক্সি। একটা বড় পাজল অনেকখন ধরে মেলানোর চেষ্টা করার পর মিলালে যেমন আনন্দময় একটা অনুভূতি হয় ঠিক তেমন অনুভূতি পেয়েছি এই এনিমে শেষ করে। যাদের কাছে ব্রেইন টিজার টাইপের শো পছন্দ তাদের জন্য অবশ্যই রেকমেন্ডেড।

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-8, Final); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-8 (Final)
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

হাশিরামা আর নেতেরোর লড়াই চলতে থাকে বহুক্ষণ, বহুক্ষন ধরে। নেতেরোর ৯৯ হ্যান্ড আর হাশিরামার ট্রু সেভেরাল থাউজান্ড হ্যান্ড, সবাই তাকিয়ে দেখতে থাকে, অত্যন্ত দ্রুতগতির, ভয়াবহ শক্তিমত্তার আর বুদ্ধিশক্তির উৎকৃষ্ট ব্যবহার। সবাই নির্বাক হয়ে দেখতে থাকলেও খুব কম মানুষই সত্যিকার অর্থে কি হচ্ছে তা খালি চোখে বুঝতে পারছে।
হাশিরামা দীর্ঘসময় ধরে তার সেঞ্জুতসু চাক্রা ব্যবহার করতে করতে একটা সময়ে ট্রু থাউজান্ড হ্যান্ডের স্ট্যাচু ছেড়ে নেমে আসতে বাধ্য হয়।
ওদিকে নেতেরো ওকে দেখে হ্যান্ড টু কমব্যাটের জন্য সামনে এগোয়। লাফ দিয়ে এক পা সামনে নিয়ে এসেই আরেক পা দিয়ে দিয়ে হাশিরামার বুক বরাবর লাথি হাকায় সজোরে। হাশিরামা স্রেফ বাউলি কেটে সরে যায় যেন। সাথেই পা টা ধরে ঘুরিয়ে ছুড়ে ফেলার ঝোঁক টা বহুকষ্টে দমন করলো। কারণ, ও জানে নেতেরো সে অপেক্ষাতেই আছে, তার বদলে পায়ের গোড়ার দিকে উরুসন্ধির কিছুটা নিচে সজোরে ভাজ করা পা চালালো। সাথে সাথেই কনুইটা বসিয়ে দিয়েছে বুক বরাবর। নেতেরো জানত, ফাঁদে পা দেবে না হাশিরামা। তাই, কনুই দিয়ে বুক বরাবর আঘাতটা এক্সপেক্ট করছিল ও। কিন্তু, উরুসন্ধির দিকের লাথিটা অপ্রত্যাশিত। বাম দিকে হেলে পরে নেতেরো, এক হাত ভাজ করে হাশিরামার কনুই ঠেকিয়েছে। কিন্তু পায়ের ব্যথা টা দ্রুত সিগন্যাল পাঠালো মাথায়। রিফ্লেক্স দেখাতে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মতন সময় দেরি করে ফেলে ও।
হাশিরামার জন্য ওটুকুই যথেষ্ট ছিলো ছোট্ট একটা লাফে ডান দিকে সরে যায় ও। হাতে প্রকান্ড একটা সোরড শোভা পাচ্ছে। নেতেরো উঠে দাঁড়ায়। বড্ড ক্লান্ত লাগছে নেতেরোকে। আসলে এতো বিশাল লড়াইয়ের ছাপ পড়েছে ২ জনের উপরেই। ২ জনেই হাপরের মতন হাপাচ্ছে। নেতেরো দু’হাত উঁচু করে ফাইটিং স্ট্যান্স নিতেই হাশিরামা বা পায়ের সবটুকু শক্তি খরচ করে সামনে লাফ দেয়। সোরড টা ঘাড়ের পেছন থেকে ঘুরিয়ে আনছে সেই সাথে। নেতেরো একটু যেন পা হড়কাল। সামনে দু’হাত দিয়ে হাশিরামার সোরড ঠেকাবার জন্য বাড়িয়ে দিলো।
হটাত, অবাক হয়ে খেয়াল করলো হাশিরামার বা হাতে কিচ্ছুটি নেই। ডান হাতে সোরড টা খাড়া করে ধরে রেখেছে। মুহূর্তের মাঝেই নেতেরোর পেটের একটা পাশে সেধিয়ে দিলো তা।
হাশিরামার গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে সদা হাস্যজ্জল নেতেরো, মুখ দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে কিছুটা।
ওদিকে শিনোবি আর হান্টারদের সবার চোখের সামনে নেতেরোর পরাজয় ঘটলেও, মূল ব্যপারটা কেবল ধরতে পারলো ২ জন। হাশিরামা নিজে, আর শারিংগান ব্যবহার করতে থাকা মাদারা।
সোরড দিয়ে আসলে এক ধরনের ডিভারশন হিসেবেই এটাক টা করে হাশিরামা। ও নিজেও খুব ভাল করে জানতো, এ ধরনের ডিসেপশনে কাবু হবার পাত্র সে না। তাছাড়া হাশিরামা খুব ভালো করেই জানে, নেতেরো তার আর্সেনালের চুড়ান্ত অস্ত্র ব্যবহার করে নি।
ওদিকে ব্যপারটা বুঝতে পেরে গম্ভীর হয়ে গেলো মাদারাও।

Seikaisuru Kado/Kado: The Right Answer [রিভিউ] — Safin Zaman

Kado

Seikaisuru Kado / Kado: The Right answer 
পর্ব সংখ্যাঃ ১২
জনরাঃ সাই-ফাই
ম্যাল রেটিংঃ ৭.১৭

অন্যসব দিনের মতই সাধারণ আরেকটা দিন। সব ঠিকই চলছে। কিন্তু হঠাত করেই আকাশ থেকে এক অজানা উড়ন্ত বস্তু নামলো, সেই অজানা বস্তুর ভেতর থেকে বের হলো কিম্ভুতাকার কিছু প্রাণী……অতিপরিচিত একটা সিনারিও।

‘ফার্স্ট কনট্যাক্ট’ বা এলিয়েনদের সাথে মানবজাতির দেখা সাক্ষাত নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। এ নিয়ে অজস্র মুভি,বই হয়েছে । কিছু জায়গায় এলিয়েনরা মানবজাতির ভাল চায়, আবার কিছু জায়গায় এলিয়েনদের কাজ হলো পিউ পিউ শব্দ করা লেজার গান নিয়ে মানবজাতি নির্মূল করা। তবে এত জনপ্রিয় হওয়ার পরেও এনিমেতে এই কনসেপ্টের উপর ভিত্তি করে এনিম ছিল না বললেই চলে। আর এই অভাব পুরন করতেই এল গত স্প্রিং ২০১৭ সিজনের এনিমে Seikaisuru Kado/ Kado: The Right Answer.

এনিমের শুরু অন্যসব ফার্স্ট কনট্যাক্টের মত করেই। একদিন হঠাত করে জাপানের এক এয়ারপোর্টের উপর আগমন ঘটে এক রহস্যময় কিউবের । ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ,প্রস্থ ও উচ্চতার এই পার্ফেক্ট কিউবের ভেতর আটকা পড়া প্যাসেঞ্জার প্লেন উদ্ধারে যখন দেশের উচ্চপদস্থরা ব্যস্ত তখন তাদের হতবাক করে দীয়ে কিউবের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে সাদা চুলের এক রহস্যময়ী ব্যক্তি যে নিজের পরিচিয় দেয় Yaha kui zaShunina নামক এক ‘হাইয়ার ডাইমেনশনাল’ সত্বা হিসেবে। শুধু তাই নয়, সে তার সাথে এমন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে যা মানবসভ্যতাকে কয়েক লক্ষ বছর সামনে এগিয়ে দিতে সক্ষম।

কিন্তু মানুষ মানুষই, এই হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইং আর এর প্রযুক্তি তারা কোনভাবেই ভালো মত নিতে পারল না। একদিকে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে কে প্রযুক্তিগুলোর মালিক হবে তা নিয়ে বাগড়া বাধল, আরেকদিকে মানবসভ্যতার এই আকস্মিক অগ্রগতির বিরুদ্ধেও মতামতও দেখা গেল। সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এই বিষয় নিয়ে পড়ল চরম বিশৃংখলায়। আর এভাবেই এগিয়ে চলে এনিমের কাহিনী।

সেইকাইসুরু কাডোর অন্যতম ভালো দিক হচ্ছে এটি কিভাবে অন্য জগত থেকে আসা এক প্রাণির সাথে মানবজাতির কনট্যাক্টকে বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছে। এলিয়েনরা মানবসভ্যতাকে তাদের প্রযুক্তি অফার করলে আমরা যে তা হাসিমুখে না নিয়ে সেইটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করব তা ভালোভাবেই দেখানো হয়েছে। অযথা কথাবার্তা নাই, মোটামুটি ফাস্ট পেইসড এই এনিমে একেবারে প্রথম এপিসোড থেকেই দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম।

আমার প্রথম ৮-৯ এপিসোড অনেকটা ভালোই লেগেছিল তবে সমস্যা শুরু হলো এপিসোড ১০ থেকে। এনিমে তার স্বাভাবিক রুপ বাদ দিয়ে হঠাত করেই যেন এক সেমি-রোমান্টিক, সেমি-একশন, হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইংদের ঠুকাঠুকিতে পরিণত হয়। কয়েকটা প্লট টুইস্ট ছিল যার কোন প্রয়োজনই ছিল না বলে আমি মনে করি। আর সিরিজটা যে তার নিজস্বতা বাদ দিয়ে অন্য পথ ধরে দৌড়ানো শুরু করে তা দেখে কিছুটা হতাশই হয়েছি বলা যায়। কাল্ট ক্লাসিক কিছু হওয়ার ভাল সম্ভাবনা ছিল।

তবে মনমত না হলেও যে এঞ্জয় করিনি তা বলা ভুল হবে। ভাগ্য ভাল যে শেষের দিকে গিয়ে যে এর কোয়ালিটি ড্রপ করা শুরু করে তার আন্দাজ আগে থেকেই ছিল। তা না হলে অনগোয়িং যারা দেখেছে তাদের মতই হতাশ হওয়া লাগত। মোটকথা, শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত কাডো আমি এঞ্জয় করেছি। এঞ্জয়মেন্টের হিসেবে স্কোর দিলে ইজিলি ৮/১০ দিয়ে দেওয়া যায়। খুব বেশি খুতখুতে না হয়ে স্রেফ এঞ্জয়মেন্টের জন্যও কাডো দেখা যায় চাইলে।

একটা জিনিস বলে রাখা ভাল যে এনিমেতে সিজির ব্যবহার ছিল কিন্তু তা যথেষ্ট ভাল। মুলত একশন সিরিজ না হয়ে ডায়ালগ বেইসড সিরিজ হওয়ায় এই সিজি অতটা চোখে লাগে নাই। সিজি সহ্য না করতে পারলেও এই সিজি খারাপ লাগবে না। সিজি হওয়া সত্বেও এর ভিজ্যুয়াল চমৎকার ছিল।বিশেষ করে কাডো এর ভেতরকার দিকের সিনগুলো।

সবশেষে যদি কোন সাই-ফাই জনরার এনিমে খুঁজে থাকেন তবে কাডো রেকমেন্ডেড।গতানুগতিক এনিমে বাদ দিয়ে একটু ম্যাচিউর ধরনের এনিমে খুঁজলে কাডো দেখতে পারেন। মাত্র ১২ পর্বের এই সিরিজ ভালো লাগবে আশা করি।

Lady Snowblood [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Lady Snowblood

নব্য জাপানের এক মহিলাদের জেলখানায় এক মহিলা প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে। জেলে সবাই তাকে বেশ্যা বলে ডাকে তার কারণ তার কাজই ছিল কয়েদের প্রহরী থেকে মন্দিরের পুরোহিতকে সিডিউস করা। কিন্তু এই বাবার পরীচয়হীন সন্তান প্রসবের সময়ে এসে সে জীবন বাজি রেখে বলল তাকে না বাচিয়ে তার সন্তানকে বাচাতে, কারণ তার সন্তানের জন্মদানের এক উদ্দেশ্য আছে। এই সন্তান তার হয়ে প্রতিশোধ নেবে। তার সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রতিশোধ এবং তার অতীতের কাহিনী শুনে তার আশেপাশের সবাই ঝরঝর করে কেদে দেয়।

তারপর থেকে প্রায় ১৮ বা ২০ বছর পরের কথা। জাপানে এক গুপ্তঘাতকের নাম ত্রাস ছড়াচ্ছে, সেই গুপ্তঘাতক একজন মেয়ে এবং সবাই তাকে চেনে রক্ত তুষার নামে। সে তার শিকারের কাছে যেতে তার অপরুপ সৌন্দর্য এবং ছলনাকে কাজে লাগায়। এবং তরবারি চালানো,ছবি আকায় অসম্ভব পারদর্শী! তবে তার আসল উদ্দ্যেশ্য চারজনকে হত্যা করা। এর জন্য সে নিজের দেহ জীবন সব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। তার জন্মর একমাত্র উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে প্রতিশোধ।

নব্য জাপানের নানা অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে এই মাঙ্গা। জাপানের ইয়াকুজা সিস্টেম, রিলইফ ডান্স সহ আরো নানা দিক।

বিখ্যাত হলিউড ডাইরেক্টর টরেন্টিনোর মুভি কিলবিল এই গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত। এই মাঙ্গা ১৯৭২ সালের। সেই হিসেবে আর্ট ডিসেন্ট। আপনার যদি ডার্ক, গোর এবং নুইড্যিটি সহ্য না হয় তাইলে এই মাঙ্গা পড়ার দরকার নেই। ইচি দ্যা কিলার টাইপের মাঙ্গা যাদের পছন্দ তারা পড়ে দেখতে পারেন। আরেকটা কথা হল অনেক মাঙ্গা সাইট এটাতে ইউরি ট্যাগ দিয়ে রেখেছে যা ভুয়া। নিজের শিকারের কাছে যেতে বা বিশ্বাস লাভ করতে অনেক নারীকেও সিডিউস করেছে তো হ্যা ইউরি সিন আছে ৩টার মত।

এর মাঙ্গাকা হল লেজেন্ডারি মাঙ্গা Lone wolf and cub এর মাঙ্গাকা। মাত্র ৪ভলিউম। চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।

বিদ্র: এর অসাধারণ এক লাইভ একশান মুভি আছে, সেম নামে।

Monster [রিভিউ] — Ripon W. Mahmud

Monster

Monster: Not just some artwork. A huge suspenseful creation of drama and thrill combined with uncertainty.

ছোটবেলায় রূপকথার গল্পের বইয়ে নানা রকম দৈত্য দানবের কথা পড়ে আমরা বড় হয়েছি। না খেতে চাইলে, কোন কথা না শুনলে আমাদেরকে দৈত্য দানোর ভয় দেখানো হত। বেসিক হিউম্যান ইন্সটিংক্ট আমাদেরকে ছোটকালেই সাবধান করে দিয়ে অনুগত ভদ্রটি হতে বাধ্য করতো। কেন? কী এই দৈত্য দানব?

বড় হয়ে জানলাম আসলে এগুলো সব ভুয়া ছিলো। দৈত্য দানব বলতে আমাদেরকে যে ইমেজারি চিন্তা ভাবনায় ফেলা হতো তা এক্সিস্ট করেনা। শৈশবের দানো গেল। এবার ম্যাচুরড কংক্রিট রিয়েলিটিতেও আমাদের ভয় পেতে হয়। সেই দৈত্য দানবের ভয় আবার ফিরে আসে। কীভাবে? এই দৈত্য দানবের বড় বড় শিং বা চোখা ছুরির মত দাঁত নেই। তারা মানুষের মতই হাত পা নাক চোখ কান নিয়ে আমাদের চারপাশেই বসবাস করে। কিন্তু তাদের ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনা ও কার্যকলাপের কারণে কখনও কখনও দানবের পর্যায়ে তাদের ফেলা যায়।

Monster অ্যানিমে নিয়ে লেখার ইচ্ছে হল। চাইলে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু তা না করে যারা এখনও দেখেনি তাদের জন্যে কীভাবে গুছিয়ে বলে দেয়া যায় তার চেষ্টাই করব। এই সিরিজটা অনেকগুলো টুকরো টুকরো ইভেন্ট ও আইডিয়োলজির মিশেল। যেখানে কেন্দ্রে বসে থাকা নামহীন এক দানবের গল্প আমাদেরকে নিশ্চিতভাবেই পুরো ৭৪টা পর্ব দেখতে বাধ্য করবে।

অ্যানিমেটা দেখতে দেখতে ডার্ক নাইট ট্রিলজিতে আলফ্রেড পেনিওয়ার্থের একটা কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। Some men just want to watch the whole world burn. তাদের কোন কারণ লাগেনা, কোন উদ্দেশ্য লাগেনা অ্যানার্কি সৃষ্টি করতে। তবে শেষবেলায় কাইবুতসু ইয়োহান লিবের্তের উদ্দেশ্যটা একটুখানি ভিন্ন লাগে বৈকি। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার এক চমৎকার এক্সাম্পল এই অ্যানিমে।

অ্যানিমেটার টাইমলাইন একটু বেশিই গভীর। কোল্ড ওয়ার রেফারেন্স, ঐসময়কার ব্ল্যাক ভার্সাস হোয়াইট ওয়ার/রেসিজম, বার্লিন ওয়াল ও দুই জার্মানির প্লট রিলেশনগুলো বুঝতে গেলে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কে, কেন, কোথায়, কীভাবে, কখন এই টার্মগুলো মাথায় রেখে বুঝে বুঝে এগোলে সিরিজটার পুরোটা নেয়া সম্ভব। কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই ইন্ট্রা-পারসন ইন্সিডেন্ট, প্লেস, টাইম আর অব্জেক্টিভিটির খেই হারিয়েছি ব্যস্ততার জন্য বা একটানা না দেখার কারণে। একটানা এবং এর মাঝে অন্য কিছু না দেখে শুধু কেনজো তেনমা, ইয়োহান লিবের্ত, নিনা ফোর্তোনার, ইন্সপেক্টর লুঙ্গের সাথে বুঝে বুঝে এগোলে ভাল হয়। এরা তাদের মাথার ভেতরে কোথায় কী হচ্ছে কেন হচ্ছে কী হতে পারে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা দিয়ে দিয়ে নিয়ে যাবে মন্সটারের গভীর থেকে গভীরে।

মিনিট ডিটেইল যাকে বলে এই অ্যানিমে সিরিজ তার ষোল আনাই তুলে ধরেছে। কোথাও এতটুকু ঢিলেঢালা ভাব নেই। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার যে পরিবেশ তার অলমোস্ট শতভাগ, প্লট টুইস্ট আর চেঞ্জিং এর গতিটা বজায় রেখে মাঝেমাঝে মাথা খারাপ করে দেবার জোগাড় করে দেবে এই অ্যানিমে। কেন? যখন দেখা যাবে যে চারপাশে এক দানবের অঙ্গুলি হেলনে কেবল অনাসৃষ্টিই হচ্ছে! কিন্তু কি তার উদ্দেশ্য, কী তার আদর্শ, কেন সে পর্দার আড়ালে থেকে সব করে যাচ্ছে এমন শত প্রশ্ন মাথার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

যখন কোন একটা ক্রিয়েশন মাঝপথে অসম্ভব ভালো লাগার পরিবেশ তৈরি করে তখনই একটা সন্দেহ জাগে যে এর সমাপ্তি বা এন্ডিং কেমন হবে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হবেতো? শেষে আবার কেলো করে দেবেনাতো? না। এন্ডিং ভালোই। ইনসেপশনে নোলান যেমন শেষে একটা ধাঁধা লাগিয়ে শেষ করেছেন, এই অ্যানিমেও অনেকটা সে রাস্তায়ই হেঁটেছে। তবে ভাল একটা ড্রামা থ্রিলারের বৈশিষ্ট্য হল ভিউয়ার যেন আগে থেকে অনুমান করতে না পারে যে কী হবে। ধাক্কাটা খায় সেভাবেই প্রি কন্সেপশনকে বুড়ো আঙুল দেখানো সিরিজ এটা। ইয়োহান লিবের্তের অত মায়ামাখা মুখ দেখেও অত আইডিয়া করে নেবার কিছু নেই। গুরু উচিহা ইতাচি বলে গেছেন – Do not judge others simply by their preconceptions, and judgement based on their appearance.

ম্যাচুরড এবং খুব অ্যাট্রাক্টিভ একটা সিরিজ। যার কয়েকটা রোল নিয়ে রীতিমত কিছুদিন ভাবা যায়। চিন্তা করা যায়। অনেক দেরি করে দেখার জন্য আফসোস নেই তবে আরেকবার নোটখাতা হাতে নিয়ে দেখার ইচ্ছে আছে। এই সিরিজটা নিয়ে বিবিসি বা নেটফ্লিক্স কিছু একটা করলে ভাল হত। ড. তেনমা আর ইয়োহান লিবের্তের দ্বৈরথটা অন্যভাবে দেখতে পেতাম।

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-7); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-7
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

হাশিরামা আর নেতেরোর চোখের সামনেই হিডেন লিফ ধ্বসে পড়তে থাকে। মানুষের ছুটোছুটি, হাহাকার আরর আর্তনাদে চারিদিকের বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
গমগম করতে থাকে হাশিরামার কন্ঠও, নেতেরোর জিজ্ঞাসু দৃষ্টির সামনে।
চকিতে নেতেরোর খেয়াল হলো, গ্রাম ধ্বংস হতে থাকলে হাশিরামা আর যাই হোক এভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতো না মোটেই। আর যে যেমনই হোক হাশিরামা নিজের শরীরের বিন্দু পরিমান রক্ত থাকা অব্দি গ্রামের এমন অবস্থা হতে দেবে না।
নেতেরো ভাবতে থাকে, নিশ্চয়ই এটা কোন এক ধরনের ইলিউশান। নিশ্চয়ই কেউ একজন তাকে ম্যানিউপুলেট করে এমন ইলিউশান দেখাচ্ছে।
সেক্ষেত্রে করণীয় কি হতে পারে?
নেতেরো নেন রিলিজ করে।
ধীরে ধীরে সামনের দৃশ্যগুলো মুছে যেতে থাকে। নেতেরোর মুখে স্বভাবসুলভ হাসি ফিরে আসতে থাকে, সেই সাথে অদ্ভুত শিশুসুলভ সারল্য চোখে পড়ার মতন।
আর কেউ না বুঝলেও মাদারা তার শারিংগান দিয়ে ঠিকই ধরতে পারলো যে ফিস্টফাইট বা তাইজুৎসুর পরপরই হাশিরামা গেঞ্জুৎসু কাস্ট করেছিল নেতেরোর উপরে।
নেতেরো দীর্ঘ কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় গেঞ্জুৎসুর ভেতরেই ছিল।
নেন রিলিজের মাধ্যমে শরীরের যে অংশগুলো দিয়ে হাশিরামা তার চাক্রা দিয়ে নেতেরোকে গেঞ্জুৎসু দেখাচ্ছিল তা সহজেই ব্রেক করে নেতেরো। আদতে নেন আর চাক্রা তো একই জিনিষ।
২ টাই লাইফ এনার্জি।
মাদারা গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে থাকে তোবিরামার মত।
এবারে হাশিরামা কি করে তা দেখার অপেক্ষায়।
হাশিরামা দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকে নেতেরোর চোখের দিকে। এরপর উড রিলিজ করে- ওঁর কেকে গেনকাই। উড রিলিজ করে উডেন গোলেম আর উডেন ড্রাগন সামোন করে।
উডেন গোলেমের ঘাড় আর শরীর পেঁচিয়ে থাকে উডেন ড্রাগন।
খুব অতিকায় না হলেও অনেকটাই বিশাল।
উডেন গোলেম দেখে হাকশেকি কেনোন সামোন করলো যা আদলে এক ধরনের নেন পাপেট।
হাশিরামা তার গোলেম নিয়ে লাফ দিয়ে সামনে যায়। নেতেরোর রিচের সামনে গিয়েই দু হাত দিয়ে জাপটে ধরতে যায়, সাথে সাথেই দেখলো নেতেরো দু হাত তুলে এনেছে বুকের কাছে।
প্রে করছে যেন!
হাশিরামা বুঝতে পারলো, এর নামই এতদিন শুনে এসেছে ওঁ, গ্যানিন বুদ্ধস্তম্ভ।
কিন্তু নেতেরোর বুকের কাছে হাত তোলার কারণ ধরতে পারছে না। দেখে মনে হচ্ছে প্রার্থনা করছে যেন। নাকি শরীরের ব্যালেন্স রক্ষা করছে?
না!!
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গোলেমের একটা পাশে প্রচণ্ড আঘাত হানলো নেতেরোর হাকশেকি কেনোনের এক হাত।
হাশিরামা দিশেহারা বোধ করছে না। ধাক্কাটা সামলানের সাথে সাথে সবকিছু বিশ্লেষণ করতে করতেই প্রতিপক্ষের দিকে চোখ রেখেছে। আবার দেখলো নেতেরো তার দু হাত উঁচু করছে বুকের কাছে, প্রার্থনার ভঙ্গিতে।
হাশিরামা জানে যে কোন মুহূর্তে আরেকটা আকস্মিক আঘাত হানবে ভয়ানক দ্রুতগতির ওই বুদ্ধস্তম্ভের হাত।
এবারের আক্রমণটা ডানে থেকে আসবে ভেবেই সিদ্ধান্ত আর প্রস্ততি নিয়ে ফেললো। অপেক্ষায় থাকলো পুঙ্খানুপুঙ্খ সময়ের জন্য।
নেতেরোর দু’ হাত নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছুবার সময়টা খেয়াল আর অনুমান করে নিয়ে উডেন গোলেম সমেত বডি ফ্লিকার দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো হাশিরামা।
নেতেরো মুচকি হাসলো শুধু।
একেবারে শেষ সময়ে হাশিরামাও ধরতে পারলো ভুল টা। টাইমিং এ হেরফের হয়ে গেছে।
হয়ে যায় নি আসলে, নেতেরো ইম্প্রোভাইজ করেছে। নেতেরো ভালো করেই জানতো, ২য়বার এটাক হজমের জন্য চুপচাপ বসে থাকবে না হাশিরামা। তাই ইচ্ছে করেই ওকে মুভ করার সুযোগ দিয়ে নিজের এটাককে ইম্প্রোভাইজ করেছে।
হাশিরামা নেতেরোর পিছনেরটায় মাটিতে ল্যান্ড করা মাত্র দেখলো নেতেরো তার দিকে ঘুরে আছে, আর সাথে সাথেই শব্দের গতিতে ছুটে এলো হাকশেকি কেনোনের এক হাত।
গোলেমের গা স্পর্শ করামাত্রই গোলেমের পিঠ বেয়ে উডেন ড্রাগন নেমে এসে পেঁচিয়ে ধরলো বুদ্ধস্তম্ভের হাত, প্রায় কিছুটা বাদেই গোলেমের দু’হাত ওঁ টা ধরে ফেললো।
উপায়ন্তর না দেখে নেতেরো হাকশেকি কেনোনের ৩ হাত ব্যবহার করলো।
এবারে হাশিরামার উডেন গোলেম ড্রাগন কিছুতেই কূলিয়ে উঠতে পারে না। হাশিরামা একবার ভাবলো লাফিং বুদ্ধ দিয়ে হাতগুলোকে নিউট্রালাইজ করা যায় কিনা!
নাহ, পরমুহূর্তে বাদ দিল সে চিন্তা।
সময় এসেছে আঘাত হানার। দু’হাত এক করে মুষ্টি করলো। এরপর তার ভান্ডারের সবথেকে ভয়ংকর অস্ত্র ট্রু সেভেরাল থাউজেন্ড হ্যান্ড সামোন করলো।
বিশাল দৈত্যাকৃতির বুদ্ধস্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে থাকে হাশিরামা। আর ওদিকে নিচে হাজার হাজার হাতের থেকে ক্রমাগত একের পর আঘাতে নাস্তানাবুদ হয়ে শেষে নেতেরোও তার ৯৯ হ্যান্ড ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
ওদের ব্যাটেল চলতে থাকে অনেক অনেকক্ষণ ধরে।
হান্টার এসোসিয়েশান আর নিঞ্জা ভিলেজের সবাই চুপচাপ দেখে যাচ্ছে ভয়ানক সে লড়াই।

Honobono Log [রিভিউ] — Fatiha Subah

Honobono Log 1

হনোবনো লগ
পর্ব: ১০
ডিউরেশন: প্রতি পর্ব ২ মিনিট
জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৪৭
ব্যক্তিগত রেটিং:

মাত্র ২ মিনিটে কিই বা দেখানো যায়? দেখানো গেলেও তা হবে নিশ্চয় অনেক গভীর, প্রতীকি, উচ্চমার্গীয় কিছু? আর শর্ট স্লাইফ অফ লাইফ আনিমে তো বেশ কিছুই আছে, এ আর এমন কি? নাহ! যদি এমনটা ভেবে থাকেন তো বিশাল ভুল করছেন। এই ছোট্ট দুই মিনিটের পর্বগুলোতেই হনোবনো লগ এমনভাবে দৈনন্দিন জীবনের সুখ, দু:খের ছোট ছোট মুহূর্ত তুলে ধরেছে যে আপনাকে অবাক করে দেবে। অহরহ ঘটে চলা এই মুহূর্তগুলোই যে দেখতে এত ভালো লাগতে পারে তাই নতুন করে আবিষ্কার করবেন। প্রতিটি পর্ব কোন না কোন কাপল বা পরিবারকে নিয়ে। তাদের গল্পগুলো এতই মিষ্টি যে অনেকে বলে তা নাকি ডায়াবেটিস ধরিয়ে দিতে পারে! তবে কথাটি নেগেটিভলি নেওয়ার মত কিছু না কিন্তু। কোন আনিমে অতিরিক্ত মিষ্টি হওয়ার পরেও যে তা চিনি দেওয়া সস্তা গল্প মনে না হয়ে মনের মধ্যে অন্যরকম ভালোলাগা সৃষ্টি করতে পারে তারই এক দারুণ উদাহরণ হনোবনো লগ। রোমান্স কিংবা অতি মিষ্টি কিছুতে আপনার এলার্জি থাকলেও চিন্তা নেই। তারপরেও আপনার ভালো লাগবে এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। কারণ যেই আমি কিনা লাভি-ডাভি কাপল দেখলেই চেতে গিয়ে দৌড়ানি দিতে চাই সেই আমিই আবার এটা দেখার সময় ভেবেছিলাম, ‘ইশ!! এরকম কিছু জীবনে থাকলে মন্দ হত না মনে হয়!’!! হুম!! এই আনিমের ক্ষমতা এতটাই!!

ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে শর্ট আনিমের আর্ট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব আনিমের আর্ট সাধারণ আনিমের তুলনায় অনেক সময় অদ্ভুত ধরণের হয়। আর্ট পছন্দ না হলেই সেটা দেখায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বলাই বাহুল্য হনোবনো লগ বানানোই হয়েছে একটি ছবির বই থেকে। ছবিগুলো দেখতে এবং এগুলোর রঙের ব্যবহার খুবই সুন্দর। ঠিক এই আর্টগুলোই শুধু অ্যানিমেট করা হয়েছে। আনিমের সাথে তা মানিয়ে গেছে ভালোভাবেই। ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদামাটা এক রঙা দেয়াল কিন্তু তা মোটেও কোন মুখ্য বিষয় না। খুব সাদামাটা কিন্তু সুন্দর এক কথায় বলতে গেলে।

এর সাথে আরো আছে মনকে শীতল, শান্ত করে দেওয়ার মত একটি ওপেনিং সং। আমে নো প্যারেডের মর্নিং। আনিমেটি এখনই দেখতে না চাইলেও গানটি একবার শুনে আসুন। মেজাজটা ঠাণ্ডা করার পাশাপাশি আনিমেটি দেখতেও আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করি। লিংক: https://youtu.be/VRn0cFH9-2Y

Honobono Log 2অল্প সময়ে সুন্দর কোন আনিমে দেখে ফেলার জন্য হনোবনো লগ খুবই উপযুক্ত। দশ দুগুণে মোট বিশ মিনিটেই কাছের মানুষদের মাঝে খুনসুটি দেখতে দেখতে কখন সময়টা পেরিয়ে যাবে খেয়ালই করবেন না। মাত্র ২০ মিনিটই তো! একটা সাধারণ দৈর্ঘ্যের আনিমের একটা পর্বের সমান। তাই কমের মাঝে উপভোগ্য সময় কাটাতে চাইলে দেখে ফেলুন হনোবনো লগ।

Shingeki No Bahamut Genesis [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Shingeki No Bahamut Genesis

মিথলজিতে আমরা যত ক্ল্যাশ দেখি তা বেশিরভাগ দেবকুল আর অসুরদের মধ্যে। স্বর্গ আর নরকের মধ্যে ক্ল্যাশ। বাট বাহামুত, এমন এক সত্তা যা স্বর্গ, নরক মানবকুল সবকিছুকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে এসেছে। তাকে মারা দেবতা বা ডিমনদের জন্য সনভব নয়। তখন দেবতা, মানুষ আর শয়তানের সম্মিলিত চেষ্টায় তাকে সাময়িক ভাবে বন্দি করে রাখা সম্ভব হয়।
এদিকে এক শহরে চলছে আরেক খেলা। ফাভারো এক আউলা চুলের পাগলা বাউন্টি হান্টার যার কথা হলো টাকা কামাবো, এক রাতে উড়াবো! মদ আর নারী হইলেই খুশি! তার পিছু নিয়েছে এক ফলেন নোবেলের ছেলে কায়সার। দুইজনের মধ্যে সারাদিন চলে চোর পুলিশ খেলা! কিন্তু তাদের এই রুটিনে বাধা পরে যখন এক সুন্দরী নারী এসে ফাভারোর সাহায্য চায়! মেয়ের যাত্রার লক্ষ্য হেলহাইম।
কম পর্বে কেউ যদি ভালো ফ্যান্টাসি এনিমে চায় তাইলে তার জন্য মাস্ট ওয়াচ। এনিমের কাজ করেছে স্টুডিও মাপ্পা।
এই এনিমের অসাধারন দিক হলো মাত্র ১২ পর্বে এক অসাধারন যাত্রা। মানুষ, দেবতা ও অসুরদের অন্তর্দন্দ, লোভ, লালসা আর হিংসার প্রতিফলন। একই সাথে আছে হাসির অনেক মোমেন্ট আবার আছে দুঃখের অনেক হার্টটাচিং মোমেন্ট! ক্যারেক্টারগুলা জোস। ক্যারেক্টারের চেইঞ্জ বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়!
এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ অস্থির। সিজিয়াইয়ের ব্যাবহার আছে কিন্তু এই মাপের ফ্যান্টাসি এনিমে বানাতে গেলে CGI ছাড়া কোন উপায় নাই! ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে বার্সাকের মুভি ট্রিলজির ক্যারেক্টার ডিজাইনের কথা মনে পড়ে গেসিল। গ্রাফিক্স চোখ ধাধানো সাথে অনেক সুন্দর ক্যারেক্টার ডিজাইন। মিউজিক ওপ্বনিং আর এন্ডিং অনেক অস্থির। এই এনিমে এক বসায় শেষ করতে পারবেন! ১২এপি মাত্র। দেখবেন আর ইঞ্জয় করবেন।
তো ওয়াচলিস্টের এক কোনায় ফেলে রাখবেন না অন্য সময় দেখবেন বলে। এখনই স্টার্ট করে দিন দেখা বাহামুতের ক্রোধ!!!
আমি নাম্বার দিতে পারি না আসলে, নিজেকে স্কুল মাস্টার মনে হয়, ভালো লাগলেই ১০ দিয়া দিতাম। তাই এই এনিমে দেখলে আপনার টাইম ওয়েস্ট হইবে? না ! দেখুন বাহামুত!!!

Golgo 13 [রিভিউ] — Amor Asad

Golgo 13 - 01

পেলে পুষে রাজকীয় ঘোড়াটাকে বড় করেছে তরুনী। রেসের ঘোড়া। কিন্তু তরুনীর চাচা মেরে ফেলতে চায় ঘোড়া, পিওর ব্লাড না বলে। একরকম অনার কিলিং বলা যায়। ভাড়া করে হিটম্যান। ঘটনাক্রমে তরুণী জেনে ফেলে হিটম্যানের নাম। তাঁর হোটেলরুমে গিয়ে চেষ্টা করে কনট্রাক্ট বাতিল করার, টাকা-পয়সাসহ সবরকম প্রলোভন দেখিয়ে। প্রিয় পোষ্যর জীবন বাচাতে মরিয়া তরুণী। তাঁর মুখখানি দেখলে যে কারও মায়া লাগবে।
হিটম্যান কী করে? ঘোড়া, ঘোড়ার মালকিন—তরুণী এবং তরুণীর চাচা, তিনজনকেই পরপারে।
.
হিটম্যান জাতীয় সিনেমার সাজেশন খুঁজতে গিয়েছিলাম Reddit-এ। রিকমেন্ডেশনে আসা সিনেমাগুলো সব দেখা থাকলেও, একজন Golgo 13 অ্যানিমে সাজেস্ট করলেন, বেশ জোর দিয়ে। তখনই দেখতে বসেছিলাম। ৫০ পর্ব, একটানা দেখে চারদিনেই শেষ করে ফেলেছি।
.
প্রোটাগনিস্ট Golgo 13 বা Duke Togo বিশ্বসেরা হিটম্যান, এক নম্বর স্নাইপার। তাঁর স্কিলের কাছে ক্রিস কাইলেরা নস্যি। রহস্যময় চরিত্র, চাইলেই খোঁজ পাওয়া যাবে না। তাঁকে ভাড়া করতে চাইলে সেই হাজির হবে। মূল্যও চড়া, প্রতিটা চুক্তির বিনিময়ে গুণতে হবে ৩ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বজোড়া সবাই তাঁর ক্লায়েন্ট। হোক সে মাফিয়া, CIA, FBI, লোকাল কোন বস বা প্রতারিত স্ত্রী। মিশন পছন্দ হলেই গ্রহণ করবে।
.
সিরিজের বৈশিষ্ট্য হলো, পুরোটাই এপিসোডিক, একটা এপিসোডের গল্প ওই এপিসোডেই শেষ। প্রায় প্রতিটা এপিসোডেই কোন না কোন খুনের কনট্রাক্ট এবং তাঁর বাস্তবায়ন দেখানো হয়।
সুতরাং খুব দ্রুতই একঘেয়ে লাগবার কথা। প্রথম দুই/তিন এপিসোডের পরের পাঁচ/ছয়টা এপিসোড লাগেও। সম্ভবত ক্রিয়েটরও বুঝতে পেরেছিলেন। এর পরের এপিসোডগুলোতে অ্যাসাসিনেশনের গল্প থাকলেও বিভিন্ন শর্ত আর জটিলতা যোগ করে গল্পে বিভিন্ন মাত্রা দেয়া হয়েছে। দেখতে ভালোই লাগে তখন। এছাড়া এপিসোডিক সিরিজের প্রতি বিশেষ পছন্দ কাজ করে। ধারাবাহিক গল্পের চেয়ে এপিসোডিক কিছু বিঞ্জ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
.
এছাড়াও গলগো ১৩ এর চরিত্রায়ন পছন্দ করেছি। “নো উইটনেস” কথাটাকে আক্ষরিকভাবেই নেয়, কনট্রাক্ট কিলিং তাঁর কাছে বাস্তবিকই পেশা, ভালো-খারাপ, শুভ-অশুভের পার্থক্য বা পাপবোধ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় গলগো। মানবরচিত নিয়মের সাথে সে কতখানি অসম্পর্কিত, সেটা ভালোভাবে টের পাওয়া যায় সিরিজের ৪৯ নম্বর এপিসোডে।
স্পাইদের মতো রোমাঞ্চকর জীবনে অভ্যস্ত নয় সে, ওম্যানাইজারও নয়। তবে কোন এক অদ্ভুত কারণে প্রায়শই নারীরা তাঁর শীতল, নির্লিপ্ত, পাথরে খোঁদাই মূর্তির প্রেমে পড়ে যায়।
এছাড়া আরেকটা কথা বলে নেয়া উচিৎ হবে, এই সিরিজে এক্সপ্লিসিট সিনের অভাব নেই, হুটহাট হাজির হয়। তাও একদম খুল্লাম-খুল্লা এবং এক দুই সেকেন্ডের নয়। । দর্শকের ব্যাপারটায় সমস্যা থাকলে একা দেখতে হবে।
.
অ্যানিমেশন স্টাইল দেখে মনে হয় কেউ যেন গামার নবটা ধরে জোরে ঘুল্লি দিয়েছে। অনেকটা Kino no tabi-র মতো সাদাটে ভাব। তবে কিনো থেকে কম ডিটেইল্ড ফ্রেমগুলো। চরিত্রগুলোর ডিজাইন কাউবয় বিবপ ঘরানার এবং আবহগত ভাবে মুশিশির সাথে মিল আছে খানিকটা, নৈশব্দ নির্লিপ্ততা বলা যায়।
.
গ্রেট সিরিজ? নাহ। স্ক্রিনপ্লেতে বড় ধরণের সমস্যা আছে।
তবে উপভোগ্য অবশ্যই। এই সিরিজ থেকে মূল পাওনা আসলে Golgo 13 চরিত্র। তাঁকে 47 এর অলটার ইগো বলা যায়।

Golgo 13 - 02