Now and Then, Here and There [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Now and Then Here and There 1

‘Don’t judge a book by it’s cover’
স্কুল জীবনের ‘English For Today’ এর কল্যাণেই হোক কিংবা বর্তমানের রিন পাওয়ার হোয়াইটের অ্যাডের কারণেই হোক প্রবাদটা আমাদের সবারই জানা। এ প্রবাদের উদাহরণও আছে অনেক এবং সেগুলো বাস্তব জীবন থেকে শুরু করে মুভি, বই, এনিমে সব স্থানেই দেখা যায়। সেই উদাহরনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ‘Now and Then, Here and There’.

এনিমে: Now and Then, Here and There (Ima, Soko ni Iru Boku)
জনরা: ড্রামা,মিলিটারি, ফ্যান্টাসি, সাই-ফাই, এ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড: ১৩
স্টুডিও/প্রযোজক: AIC
সোর্স: অরিজিনাল

সিনোপসিস: ‘শু’ মাতসুতানি একজন সাধারন হাইস্কুল পড়ুয়া বালক। সে অতি উৎসাহী,অতি আশাবাদী ও সর্বজয়ী মনোভাবের অধিকারী। স্কুলের কেন্ডো ক্লাবে তার রাইভালকে হারিয়েই নিজের পছন্দের মেয়েকে প্রপোজ করার প্রত্যয় নিয়ে স্কুলে গেলেও জয় তার হাতে ধরা দিলো না।’মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ পড়লো যখন ‘শু’ জানলো যে তার পছন্দের মেয়ের পছন্দ আবার সেই রাইভালই। ভাঙা মন নিয়ে হয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে শহরের পরিত্যক্ত চিমনির উপর’লালা-রু’ নামক এক রহস্যময়ী মেয়েকে বসে থাকতে দেখলো ‘শু’। অতি উৎসাহী ‘শু’ চিমনির উপর উঠে তার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করার সময় হঠাৎই ভোজবাজির মত হাওয়া থেকে উদয় হয় কিছু অদ্ভুত অস্ত্রসজ্জার মানুষের। যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তারা লালা-রুকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর লালা-রুকে বাঁচানোর চেষ্টায় তাদের সাথে শু-ও এসে হাজির হয় অন্য এক জগতে।

শু নিজেকে আবিষ্কার করলো “হেলিউড” নামক এক বিশাল মানবযানে যার পুরোটাই কংক্রিট আর লোহার বিশাল এক গোলকধাঁধাঁর মত। যার রাজত্বে এক নৃশংস স্বৈরশাসক, কিং হামদো। আর পুরো যানে ছড়ানো ছিটানো আছে তার অধীন সৈন্যদল। যাতে আছে বৃদ্ধ, মধ্যবয়স্ক,কিশোর এমনকি শিশু সৈন্যও! শু আটকা পরল কিং হামদোর হাতে। আর তারপর সে উপলব্ধি করল যে হেলিউডের চারপাশে যতদুর চোখ যায় ততদূর শুধু ধু-ধু মরুভূমি। নদী-সাগর দূরে থাক সেখানে এক ফোঁটা পানি পাওয়াও অনেক দুঃসাধ্য ব্যাপার! এ কঠিন পরিস্থিতিতে শু কি পারবে কিং হামদোর হাত থেকে বাঁচতে? সে কি বাঁচাতে পারবে লালা-রুকে?

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট: প্রথমত:
“First Episode is a BIG Fat Lie ”
প্রথম এপিসোড দেখে যদি ভাবেন ‘ আরে এটা তো আরেকটা টিপিকাল শৌনেন এনিমে” তাহলে বিশাল ভুল করছেন। কেননা সেই এপিসোডের পর আপনি এত এত শক খাবেন যে কল্পনাও করতে পারবেন না।
NTHT একটি ফ্যান্টাসি ডিস্টোপিয়ার চাদরে ঢাকা বাস্তব ওয়ার ড্রামা। এখানে যুদ্ধসময়কালীন পরিস্থিতিকে দেখানো হয়েছে শিশুদের চোখে। যুদ্ধের নৃশংসতা, তার ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। টর্চার রক্তপাত, ভায়োলেন্স,শিশু নির্যাতন,রেপ এর মত ভারী ভারী জিনিস তুলে ধরা হয়েছে। তবে NTHT শুধু ডিপ্রেসিং জিনিসই নয় সাথে আরও তুলে ধরেছে কঠিন পরিবেশে ইচ্ছাশক্তির বলে বেঁচে থাকার গল্প, ক্ষীন আশাকে পুঁজি করে বেঁচে থাকার গল্প, হার না মানার গল্প, পরিবার আর ভালোবাসার গল্প।
আর এগুলো একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরাই গল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বলে আমি মনে করি। আর লেখক এসবকিছুই খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে আলাদা কোনো আদিখ্যেতা ছাড়াই তুলে ধরেছেন। টেকনিক্যাল দিকগুলো উল্লেখ করলে প্রথমেই বলতে হবে এনিমের ডিরেক্টিং চমৎকার।ব্রিলিয়ান্ট স্টোরিটেলিং।
গল্পের পেসিং একটু ধীর মনে হতে পারে কিন্তু গল্পের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য করা হয়েছে ধারনা করা যায়। ভয়েস এক্টিং ছিল দূর্দান্ত!

Now and Then Here and There 2

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
NTHT এর প্রতিটি ক্যারেক্টার গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্রময়। প্রতিটি ক্যারেক্টারই যেন নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রতীক। শু যেখানে আশার প্রতীক সেখানে লালা-রু শোষিত মানুষের প্রতীক। কিং হামদো তুলে ধরে পৃথিবীর স্বৈরশাসকদের আর ‘আবেলিয়া’ চির আনুগত্যের প্রতীক। ‘নাবুকা’ মিথ্যে আশায় বেঁচে থাকা মানুষদের তুলে ধরে আর ‘সারা’ নির্মম বাস্তবতাকে। এছাড়া ‘সিস’,’তাবুল’,’বু’,’সুন’ সকলেই গুরুত্বপূর্ণ আর চিরকাল মনে রাখার মত ক্যারেক্টার।

ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে ‘সারা’ হচ্ছে সিরিজের সবচেয়ে ডেভেলপড ক্যারেক্টার। কিং হামদো আর আবেলিয়ার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়নি বললেই চলে। এছাড়া প্রায় সকলেরই কম বেশি ডেভেলপমেন্ট হয়েছে।

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
আর্ট ও অ্যানিমেশন কোনোটিই আহামরি নয়। ৯০এর দশকের এনিমে হওয়াতে(+ বাজেট স্বল্পতা) তা না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অ্যানিমেশনের ঘাটতি পুষিয়ে দেয় এর চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি। কিছু কিছু সিন একইসাথে খুব অসাধারন ও অর্থবহ ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
পুরো এনিমেজুড়ে ছিল Taku Iwasaki এর অসাধারন মিউজিকের কাজ। মেইন থিম হিসেবে থাকা Standing in the Sunset Glow অসম্ভবরকমের সুন্দর একটি সাউন্ডট্র্যাক। Tears আমার শোনা সবচেয়ে ইমোশনাল সাউন্ডট্র্যাকের একটি। ওপেনিং সং এতটা আহামরি নয় হলেও রেইকো ইয়াসুহারার গাওয়া এন্ডিং সং “Lullaby ” অনেক সুন্দর ছিল।

এন্জয়মেন্ট: খুব কম এনিমেই পারে দর্শকের সকল ইমোশন বের করে আনতে আর Now & Then, Here & There নিঃসন্দেহে সে লিস্টে থাকবে। এখানে কিং হামদোর কাজকর্ম যেমন আপনার মাঝে চরম ঘৃনার জন্ম দিবে তেমনিভাবে সিসের সরল উক্তি, ” Wars don’t raise children” আপনার মনকে আঘাত করবে। প্রতি এপিসোডের শুরুতে লালা-রু এর উক্তি, “Because 10 billion year’s time is so fragile, so ephemeral… it arouses such a bittersweet, almost heartbreaking fondness” আপনাকে যেমন ভালো খারাপের ধন্দে ফেলবে তেমনিভাবে বারবার শু এর বলা “Things may look bad now, but good things are bound to happen if you survive long enough.” আপনার মনে আশা যোগাবে। হ্যাঁ আশা যা সে নিরাশার রাজ্যে বেঁচে থাকার ও সামনে এগিয়ে যাবার নূন্যতম ইচ্ছাটাকে সজাগ রাখে। For sometimes hope is all there is to hold onto.
And sometimes, hope is enough.
এজন্যই Now & Then, Here & There অনন্য,অসাধারন এবং চিরকাল মনে রাখার মত এনিমে। তাই দেখে ফেলুন মাত্র ১৩ এপিসোডের চমৎকার এই এনিমেটি। আশা করি পস্তাবেন না।

MyAnimelist Rating: 7.79
Personal Rating: 9

P.S: ১. এনিমেটিতে নুডিটি, গোর নেই তবুও রোজা রেখে না দেখাটাই উত্তম
২. বয়সের পাশাপাশি মানসিক ভাবে ম্যাচিউর না হলে না দেখাই উচিত।

Now and Then Here and There 3

নাইন্টিন, টুয়েন্টি-ওয়ান [মানহোয়া রিকমেন্ডেশন] — Fatiha Subah

 

Nineteen Twenty-One

নাইন্টিন, টুয়েন্টি-ওয়ান
জনরা: জোসেই, ড্রামা, রোমান্স, স্লাইস অফ লাইফ
চ্যাপ্টার: ২১
লেখক: ইয়োহান (গল্প), কিম হিয়ে-জিন (আর্ট)
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.০২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

সময় খুবই মূল্যবান সম্পদ। কেউ হাতে সময় থাকতেও তার মূল্য না দিয়ে হেলায় হারিয়ে ফেলে। কেউবা হারিয়ে ফেলা সময়কে খুঁজে ফেরে। Yun-lee এমনই একজন মেয়ে যার জীবনের ২টি বছর হারিয়ে গেছে। এক ট্র্যাফিক অ্যাক্সিডেন্ট কেড়ে নিয়েছে তার ১৯ থেকে ২১ বছর বয়সের সময়টুকু। এই ২টি বছর বেঁচে থাকার পরেও যেন তাদের অস্তিত্ব নেই। অথচ সমাজ এই ২১কেই বলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়স। হঠাৎ করেই যেন Yun-lee কে এগিয়ে যাওয়া বাকি সবার সাথে জীবন যুদ্ধে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। হতাশাগ্রস্থ Yun-lee এই শূন্যতা বুকে নিয়েই তবু প্রিপারেটরি স্কুলে যায় নতুন করে সব শুরু করতে। তার এই বিবর্ণ জীবনে সান্ত্বনা খুঁজে পায় শুধু একটি জিনিস থেকে। আর তা হল লাঞ্চ ব্রেকে বিড়ালদের সাথে সময় কাটানো আর তাদেরকে খাবার কিনে খাওয়ানো।

এই বিড়ালের মাধ্যমেই সে আরেক বিড়াল প্রেমী Dong-hwi এর দেখা পায়। ১৯ বছর বয়সী Dong-hwi এর জীবনে আছে সেই ২টি বছর যা Yun-lee এর নেই। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই ছেলেটি সমাজের নিয়ম মেনে ইউনিভার্সিটিতে যেতে কিংবা চাকরি করতে চায় না। Dong-hwi এর কথা জীবনের ২০টি বছর যখন সে বড় হয়েই কাটাবে তবে ২০ বছর বয়সটা নিজের মত করে বেঁচে থাকতে চাওয়াটা খুব অপরাধের? চিন্তাভাবনায় উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু হলেও এই দুই তরুণ-তরুণীর মিল আছে একটি দিক থেকে। তারা দুজনেই বিড়াল ভালোবাসে এবং রাস্তার অবহেলিত বিড়ালদের জন্য কিছু করতে চায়। Dong-hwi Yun-lee কে বলে, “I read it in a book before, that animals don’t feel sorry for themselves. That touched my heart. The life of animals and simply devoted to the time given. The life of humans, with sympathy for other living beings. ..If we can travel halfway between those two paths, don’t you think our lives would be wonderful?”

শুরুতে জীবন নিয়ে ভারীক্কি গল্প মনে হলেও মজার ব্যাপার হলো বিড়াল নিয়েই গড়ে উঠেছে নাইন্টিন, টুয়েন্টি-ওয়ানের গল্প। মাইআনিমেলিস্ট এটাকে শৌজো ট্যাগ দিলেও এটি খুব সুন্দর একটি জোসেই মানহোয়া। লাইটহার্টেড কিন্তু ভাবানোর মত গল্প আর চোখ জুড়ানো চমৎকার রঙিন আর্টের সাথে আপনার সময়টা দারুণ কাটবে। আর আপনি যদি হন বিড়াল প্রেমিক তাহলে তো কথাই নেই! মানহোয়াটি পড়ে দেখতে ভুলবেন না।

Hikari Litchi Club [মাঙ্গা সাজেশন] — Ahmed Samira Niha

Hikari Litchi Club 1

মাঙ্গা: Hikari Litchi Club
মাঙ্গাকা: ফুরুয়া উসামারু
জন্রা: সেইনেন, ডার্ক, ম্যাচিওর, সাইকোলজিকাল, গোর
চ্যাপ্টার সংখ্যা:
স্ট্যাটাস: কমপ্লিটেড

আনসেন্সরড কিছু ব্যাপারস্যাপার আছে, ধুপধাপ করে কখন কি হয়ে যায়, কিছু টের পাওয়া যায় না।

গল্পের মেইন কাহিনি একদল ছেলে নিয়ে, যাদের এক ক্লাব আছে। ক্লাবের নাম হিকারি লিচি ক্লাব। লিচু নিয়ে হালকা অবসেশন আছে, তারা সৌন্দর্যের পূজারী। তাদের মতে পৃথিবীতে কুতসিত-কদর্য কোনো কিছু এক্সিস্ট করার অধিকার রাখেনা। তাই তারা ধরে ধরে অসুন্দর(তাদের মতে) মানুষকে মেরে ফেলে। কিন্তু তাদের ক্লাবের এক আলটেরিয়র মোটিভ আছে। তারা গোপনে হিউম্যানোয়েড এক রোবট বানাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা সবচেয়ে সুন্দর মেয়েকে নিজেদের মাঝে রাখতে পারবে। সেই রোবটের নাম দেওয়া হয় লিচি, যার ফুয়েলও লিচু ফল। এবং ঘটনার সূত্রপাত এক ভবিষ্যতবানী নিয়ে, যেটাকে ঠেকাতে মেইন ক্যারেক্টারের প্রানান্তর চেষ্টা।

মাঙ্গাকা এবং মেইন নায়ক elagabalus নামের এক কুখ্যাত রোমান এম্পেরোরের ইন্সপিরেশন নেয়, এবং দুজনেই batshit crazy. Elagabalus নিয়ে উইকিতে যা পড়লাম, তার সারমর্ম হলো মাথা পুরাই নষ্ট ছিল তার, নিজেকে সবচেয়ে জঘন্যতম কাজে বিলিয়ে দিয়ে আনন্দ পায়। ১৪ বছর বয়সে নিজে থেকেই স্রেফ মজা পাওয়ার জন্য প্রস্টিটিউট হয়ে বেড়াতো, এবং ছেলেসঙ্গ পছন্দ করতো। প্রায় ৫ বারের মত বিয়ে করে ফেলেছিলো, এবং ধর্মকে অবমাননা করে রোমে মোটামুটি হুলস্থুল বাঁধিয়ে দেয় সে। অবশেষে এত ইভেন্টফুল জীবন শেষ হয় ১৮ বছর বয়সে, এস্যাসিনেশনের মাধ্যমে, যার মেইন উদ্যোক্তা ছিল তার আপন দাদী। এক জার্মান মনীষী বলেছেন,
The name Elagabalus is branded in history above all others” because of his “unspeakably disgusting life

মাত্র ৯ চ্যাপ্টারের ইভেন্টফুল এই মাঙ্গা অবশ্যই পড়া উচিত সবার। ব্রুটালিটি, গোর, ইনার্ডস বেরিয়ে আসা ইত্যাদি পছন্দ হলে এই মাঙ্গা পড়া মাস্ট।
পার্সোনাল রেটিং: ০৯/১০

Sundome [মাঙ্গা রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Sundome 1

জনরা- ইরোটিক, সাইকোলোজিকাল, রোমান্স
চ্যাপ্টার-৭৬
MAL Link-https://myanimelist.net/manga/1501/Sundome

এই মাঙ্গাটি দেখতে হয়তোবা হেনটাই মাঙ্গা মানে হতে পারে,এটা পড়তেও হেনটাই মাঙ্গা মনে হতে পারে কিন্তু এটি হেনটাই কিংবা এচ্চি নয়।মাঙ্গাটি পড়ার আগে কিছু জিনিস নিয়ে সাবধান থাকবেন।প্রথমত,১৮ বছরের নিচে যারা আছেন তারা না পড়লেই ভালো কারণ তারা মাঙ্গার মুল উদ্দেশ্যটি বুঝতে না পারার সম্ভাবনা অনেক বেশি। দ্বীতিয়ত,আপনি যদি খুব সহজেই অফেন্ড্যাড হয়ে থাকেন তাহলে মাঙ্গাটি আপনার জন্য নয়।মাঙ্গাটি কিশোর বয়সের বহু যৌনগত বিষয়ের উপর।

কাহিনীঃ ৮.৫
“Sundome” শব্দটির অর্থ হচ্ছে “কোন কিছু শেষ হবার আগ মুহূর্তে থামা”।মাঙ্গার মূল কাহিনীটি মূলত এই নিয়মটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়।হিদেও আইবা এক সাধারণ ছাত্র যে স্কুলের রোমান ক্লাবের সদস্য।তাদের ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য যতো সব উদ্ভট জিনিস আছে তা নিয়ে গবেষণা করা।যেমন এলিয়েন কিংবা ভুতের বাড়ি।ক্লাবটি অনেক প্রভাবশালী মানুষদের দিয়ে চালিত।কেউ যদি ক্লাবের শর্ত না ভেঙে স্কুল পাশ করতে পারে তাহলে তাদেরকে ভালো জায়গায় চাকরি কিংবা পড়া-লেখা করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। শর্তটি হচ্ছে কোনো রোমান ক্লাব মেম্বার তাদের হাই স্কুল উত্তীর্ণ করার পূর্বে তাদের কুমারত্ব হারাতে পারবে না।হিদেও আইবার স্কুলের প্রথম বছর কুরুমি সাহানা নামের একটি মেয়ে ট্রান্সফার হয়ে তার শ্রেণীতে আসে।প্রথম দেখায় মেয়েটিকে খুব মিষ্টি কিংবা সহজ-সরল মনে হলেও সে খুব দ্রুত আইবার যৌন আকাঙ্খা ধরতে পারে এবং তা আইবার বিপক্ষে ব্যাবহার করে।তাদের মধ্যে একটি খেলার মতো শুরু হয়।কুরুমি আইবাকে সবকিছুই করতে দিবে কিন্তু আইবা বীর্য পাতন করতে পারবে না।আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই চিন্তা করছেন যে এটা তো পুরোপুরি হেনটাই কিন্তু আসলে তা নয়।মাঙ্গাটি অসাধারণ ভাবে কুরুমি এবং আইবার সম্পর্ক এবং বন্ধনটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।কিশোর জীবনের বহু সমস্যা এবং কঠিন বিষয় মাঙ্গাটি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।আমরা কতটুকু যৌন কর্মে লিপ্ত কে ভালবাসা বলতে পারি এবং কতটুকুকে বলতে পারি বিকৃত মনের আকাঙ্খা। দিন শেষে, মাঙ্গাটি কুরুমি এবং আইবার বন্ধন এবং তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে।এটি হাস্যকর কিন্তু এটি কান্নাদায়ক।এটি চমৎকার কিন্তু এটি সর্বনাশা।তাদের সম্পর্ক একটি মারাত্মক বিপর্যয়ের মতো যা আমরা পাঠক হয়ে নিজেদের চোখের সামনে ঘটতে দেখি।এই মাঙ্গার সমাপ্তি আমার সবচেয়ে প্রিয় সমাপ্তি।আমি কখনো বিশ্বাস করতে পারে নি যে এমন একটি দিন আসবে যখন অন্য কোনো মাঙ্গার সমাপ্তি “20th Century Boys” এর জায়গাটি দখল করে নিবে।

চরিত্রায়নঃ ৯.৫/১০
মাঙ্গাটিতে কিছু পার্শ্ব চরিত্র আছে যারা মূলত মাঙ্গার হাস্যকর দিক গুলোতে ব্যাবহারের জন্য রয়েছে।যেমন তাদের বিভিন্ন এলিয়েন এবং ভুতুরে বাড়ি ইনভেস্টিগেশনের সময় ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাবহার করা হয়।কিন্তু তারা মাঙ্গার মূল কেন্দ্রবিন্দু নয়।আমি বলব না যে আমি হাজারো মাঙ্গা পড়েছি কিন্তু মোটামোটি আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলতে পারি যে ভালো পরিমাণ মাঙ্গাই আমি পড়েছি। এই জন্য আমি মোটামোটি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে আইবা এবং কুরুমির মতো এমন অসাধরন চরিত্রায়ন বলতে গেলে অন্য কোনো মাঙ্গার কিশোর চরিত্রে নেই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উভয় চরিত্র অসাধারণ ভাবে কাহিনীর সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে।আইবা এবং কুরুমির সম্পর্ক এবং তাদের বন্ধনের আড়ালের লুকানো আবেগ গুলোই তাদের সংলাপ এবং মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তোলে।Sundome হলো মাঙ্গার Leaving Las Vegas.মাঙ্গার এন্ডিংটা কিছুটা নিকোলাস কেজের ১৯৯৫ সালের অস্কার জয়ী চলচিত্রটির মতো।

চিত্রঃ ৮.৫/১০
আমি বলবো না যে, মাঙ্গার চিত্রায়ন এতই চমৎকার যে আপনার চোখে পানি এসে যাবে।সত্যি কথা বলেতে এর চিত্রায়ন খুবই সাদা-মাটা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকারী। চমৎকার কালার কন্ট্র্যাস্ট এবং শ্যাডিং মাঙ্গাটিকে কিছুটা নিও-নুয়ার এবং পুরনো একটি ভাব তৈরি করে যা মাঙ্গার শেষ দিকে অসাধারণ ভাবে গল্পটিকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

Sundome মাঙ্গাটি আমি সবাইকেই পড়ার জন্য বলেতে চাই কিন্তু আমি তা বলবো না।আমি জানি অনেকজন এসব জিনিস সহ্য করতে পারবে না এবং তারা এর কাহিনীর মূল উদ্দেশ্য দেখতে পাবে না কারণ তারা মাঙ্গাটিকে এর বিকৃত জিনিসগুলোর জন্যই কেবল দেখবে এবং সমালোচনা করবে।কিন্তু তাতে সমস্যা নেই।সবকিছু তো আর সবার জন্য নয়।কিন্তু আপনি যদি এইসব জিনিস দেখে ভয় না পেয়ে থাকেন তাহলে চেষ্টা করতে তো দোষ নেই।প্রথম দিকে কাহিনী ঠিক মতো না আগালেও শেষটা আপনাকে মুগ্ধ করবে।সময় পেলে পড়ে দেখতে পারেন।আশা করি ভালো লাগবে।

আমার রেটিংঃ ৯/১০

মাঙ্গাটি যাদের জন্য-
মাঙ্গা- যারা আকু নো হানা,কুজু নো হোঙ্কাই, ইনিও আসনোর কাজ পছন্দ করেছেন।
এনিমে- যারা বেলাডোনা অফ স্যাডনেজ পছন্দ করেছেন।
মুভি- যারা লিভিং লস ভেগাস,নিম্ফমেনিয়াক পছন্দ করেছেন।

চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান -৫ – Atlanta [Fate/Apocrypha] — Shifat Mohiuddin

Atlanta 1

চরিত্র: আটলান্টা/Atlanta
উপাধি: আর্চার অফ রেড
এনিমে: Fate/Apocrypha
ভূমিকা: মধ্যমপন্থী
জাতীয়তা: গ্রীক
জন্ম ও মৃত্যু: জানা যায় নি
মৃত্যুর ধরণ: জানা যায় নি

ছোটবেলা হয়তো আমরা অনেকেই এমন একটা গল্প পড়েছি যে, একবার এক রাজকন্যা বিয়ের সময় শর্ত জুড়ে দেন যে তাকে বিয়ে করতে চাইলে তার সাথে পাণিপ্রার্থীকে একটা দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। জিততে পারলে রাজকন্যা মিলবে, হেরে গেলে প্রতিযোগীর শিরশ্ছেদ করা হবে। অনেক জায়গা থেকে বড়বড় বীরগণ ভিড় করলেও কাটা মাথার সংখ্যা বাড়তেই থাকে ক্রমান্বয়ে কারণ রাজকন্যা অত্যন্ত দ্রুতগতির ছিলেন। অবশেষে এক প্রতিযোগী রেসের মধ্যে একটা করে সোনার আপেল নিক্ষেপ করেন রাজকন্যাকে বিভ্রান্ত করার জন্য। স্বর্ণের আপেল জিনিসটা অনেক চিত্তাকর্ষক হওয়ায় রাজকন্যা ঝুঁকে দেখতে গেলে এই সুযোগে ঐ প্রতিযোগী রেস জিতে যান এবং ঐ রাজকন্যার স্বামী হবার সুযোগ লাভ করেন। আজকে Fate/Apocrypha এর চার নম্বর এপিসোড দেখার সময় এই কাহিনীর কথা মনে পড়ে গেল। হ্যাঁ, রেড সেকশনের আর্চার আটলান্টাই ছিলেন সেই রাজকন্যা। জটিলতা এড়ানোর জন্য রূপকথার বইয়ে কঠিন কঠিন গ্রীক নাম দেওয়া হত না আরকি। প্রায় দুই বছর আগে আমি ফেইট সিরিজের কতিপয় চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে ধারাবাহিক কিছু লেখা লিখেছিলাম। মধ্যে হুট করে লেখার আগ্রহ চলে যায়। আজ আবার হুট করে কীবোর্ডের গায়ে কিছু আগাছা জন্মানোর ইচ্ছা হল।

আটলান্টার পিতৃপরিচয় নিয়ে বিশেষ কিছু জানা যায় না। রাজা Iasus এর ঘরে তার জন্ম এই ধারণাটাই বেশি জনপ্রিয়। আটলান্টাকে জন্মের পরপরই মারাত্মক প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তার পিতা পুত্র সন্তানের আশা করেছিলেন, আটলান্টাকে দেখে তিনি আশাহত হন। কন্যাসন্তান পালনের ইচ্ছা না থাকায় তিনি আটলান্টাকে জঙ্গলে রেখে আসেন। একটি বন্য ভাল্লুক আটলান্টাকে প্রতিপালন করে। (এইসব ঘটনা গ্রীক পুরাণে নিত্যনৈমিত্তিক!) বয়ঃপ্রাপ্তির সাথে সাথে আটলান্টা শিকারিদের সাথে মেশা শুরু করেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করে অন্য সবার থেকে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেন। সভ্য সমাজের সাথে না চলা নিয়ে আটলান্টার মনে কোন দুঃখ ছিল না। আটলান্টা দেবী আর্টিমেসের অনুসারী হয়ে কুমারীব্রত গ্রহণ করেন। নিজের নারীত্ব নিয়ে তার মনে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা ছিল না এবং জীবনযাত্রায় পুরুষকে তিনি নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় মনে করতেন। তাছাড়া তার বিয়ে নিয়ে অমঙ্গলজনক ভবিষ্যৎবাণী ছিল।

আটলান্টার বীরত্বের প্রথম নিদর্শন পাওয়া যায় ‘ক্যালিডোনিয়ার বন্য শূকর’ শিকারের সময়। ঠিকমত পূজা না করায় দেবী আর্টেমিস ক্যালিডোনিয়া রাজ্যে একটা বন্য শূকর পাঠান সেখানের মানুষকে শায়েস্তা করার জন্য। ক্যালিডোনিয়ার রাজপুত্র মেলিয়েগারের নেতৃত্বে একদল শিকারি প্রস্তুত হয় শিকারের জন্য। আটলান্টা এই শিকারি দলে যোগ দিতে চাইলে নারী হওয়ার কারণে অনেকেই এর বিরোধিতা করে। মেলিয়েগার বিবাহিত হওয়ার পরও আটলান্টার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তার চাপাচাপিতেই আটলান্টাকে দলে নিতে সবাই রাজী হয়। আটলান্টার ছোঁড়া তীরই সর্বপ্রথম শূকরটার গায়ে আঘাত হানতে সমর্থ হয়। অবশেষে মেলিয়েগার তার বর্শা দিয়ে শূকরটাকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে মেলিয়েগার প্রথম আঘাতের কৃতিত্বস্বরূপ আটলান্টাকে শূকরের ছাল উপহার দিতে চাইলে মেলিয়েগারের মামারা এর বিরোধীতা করে। তারা আটলান্টার কাছ থেকে পুরষ্কার কেড়ে নিতে চাইলে মেলিয়েগার রেগেমেগে তার দুই মামাকে হত্যা করেন। ভাতৃদ্বয়ের মৃত্যুর কারণে রাগে অন্ধ হয়ে তাই মেলিয়েগারের মা আলথিয়া একটি জাদুর কাষ্ঠখণ্ডকে আগুনে নিক্ষেপ করে যাতে মেলিয়েগারের জীবনীশক্তি অবস্থান করছিল। ফলে মেলিয়েগার মারা যান এবং কিছুক্ষণ পরে জঙ্গল থেকে আরেকটা বন্য শূকর এসে আলথিয়াকে হত্যা করে।

¤

আটলান্টা কলচিস (Fate/stay night এর ক্যাস্টার মিডিয়ার রাজ্য) অভিযানে যেতে চাইলেও জ্যাসন (মিডিয়ার স্বামী) তাতে রাজী হন নি। কারণ হিসেবে আবারও সেই নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটাকেই দাঁড়া করানো হয়। তবে কলচিস অভিযান নিয়ে তৈরি হওয়া একাধিক কাহিনীর একটি অনুযায়ী আটলান্টা অভিযানে ঠিকই যোগ দিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধে আহতও হন এবং কথিত আছে যে মিডিয়া তাকে সেবাশুশ্রূষা দিয়ে সারিয়ে তোলেন।
(ফেইট সিরিজ বড়ই বিশাল ব্যাকগ্রাউন্ডওয়ালা একটা সিরিজ। অনেককিছুর সাথেই অনেককিছুর কানেকশান পাওয়া যায়!)

¤

Atlanta 2

আটলান্টাকে নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে কাহিনী সেটা হল রূপকথার সেই দৌড় প্রতিযোগিতার গল্প। ক্যালিডোনিয়ার শূকর শিকারের পর আটলান্টার বাবা নিজের মেয়েকে স্বীকৃতি দেন। তিনি নিজের মেয়েকে রাজ্যে ফিরিয়ে নেন এবং বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। সরাসরি বিরোধিতা করা বোকামি হবে ভেবে আটলান্টা শর্ত জুড়ে দেন যে তাকে রেসে পরাজিত করতে পারলেই বিয়ের অনুমতি মিলবে। আটলান্টা তার সময়ের সর্বাধিক গতি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন তাই তার কুমারীত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। কথিত আছে যে, আটলান্টা নানাভাবে তার প্রতিযোগীদের সুযোগ করে দিতেন। যেমন: বর্ম পরিধান করে অংশগ্রহণ অথবা প্রতিযোগীকে অর্ধেক পথ এগিয়ে দেওয়ার পর দৌড় দেওয়া। এরপরও কেউই তাকে পরাজিত করতে পারছিল না। তখনই দৃশ্যপটে আসেন মেলানিওন। (হিপ্পোমেনেস নামেও পরিচিত) মেলানিওন আটলান্টাকে ভালবাসতেন। তাই তিনি ভালবাসার দেবী আফ্রোদিতির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। আফ্রোদিতি প্রেমিকদের প্রতি দয়াশীল হওয়ায় মেলানিওনকে তিনটি সোনার আপেল দেন আটলান্টাকে বিভ্রান্ত করার জন্য। নির্দিষ্ট সময়ে রেস শুরু হওয়ার পর আটলান্টা কিছুক্ষণের মধ্যেই মেলানিওনকে পেরিয়ে যান। তখনই মেলানিওন প্রথম আপেলটি নিক্ষেপ করেন। সোনার সেই আপেল দেখতে এতই চিত্তাকর্ষক ছিল যে আটলান্টা সেটা তুলে নিতে গিয়ে দেখেন যে মেলানিওন তাকে পেরিয়ে গেছে। তারপরও আটলান্টা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রেসে জয়লাভ করার ব্যাপারে। এবং এর প্রমাণ দেন তিনি আবারও মেলানিওনকে পেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। তখনই মেলানিওন দ্বিতীয় আপেলটি নিক্ষেপ করেন। আত্মবিশ্বাসী আটলান্টা আবারও সেই আপেলটি কুড়িয়ে নেন। লক্ষ্যসীমার নিকটবর্তী হওয়ার পর যখন আটলান্টা মেলানিওনকে আবার পেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন মেলানিওন শেষ আপেলটি নিক্ষেপ করে আটলান্টাকে বিভ্রান্ত করে দেন এবং রেসে জয়লাভ করে আটলান্টাকে জিতে নেন।

কুমারীব্রত ভেঙ্গে গেলেও আটলান্টা এবং মেলানিওনের সংসার ঠিকমতই চলছিল। আনন্দের স্রোতে ভাসতে ভাসতে মেলানিওন আফ্রোদিতির প্রতি তার দায়বদ্ধতা ভুলে যান। তাই রাগান্বিত হয়ে আফ্রোদিতি সুযোগের অপেক্ষা করতে থাকেন। একবার জিউসের মন্দিরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার আফ্রোদিতি দম্পতির মাথায় নিষিদ্ধ কিছু করার প্ররোচনা ঢুকিয়ে দেন। ফলে মেলানিওন আটলান্টাকে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে তারা মিলিত হন। মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ায় জিউস ক্ষুদ্ধ হয়ে মেলানিওন ও আটলান্টাকে সিংহ বানিয়ে দেন। গ্রীকদের ধারণা অনুযায়ী ব্যাপারটা অত্যন্ত কাব্যিক এবং ট্র‍্যাজিক ছিল কারণ তারা বিশ্বাস করতো সিংহরা নিজেদের মাঝে প্রজনন করতে পারে না, তারা মনে করতো সিংহরা শুধুমাত্র চিতাদের সাথে প্রজনন করে। ফলে মেলানিওন এবং আটলান্টা চিরদিনের জন্য আলাদা হয়ে যান।
(প্রথমে আটলান্টার বিড়ালের মত কান আর লেজ দেখে অবাক হয়েছিলাম। এখন ব্যাপারটা খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে। সিংহী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার কারণে হয়তো সামনিংয়ে এর প্রভাব পড়েছে। নভেল পড়ি নি তাই জানি না সামনে এই ব্যাপারে কিছু বলা হবে কিনা। তবে টাইপ-মুনের প্রশংসা করতেই হবে, মিথের অনুসরণ আর ওয়াইফু চার্মের কাজ দুটোই একসাথে হয়ে গেল।

অ্যাকিলিসের আটলান্টাকে বড় বোন ডাকার ব্যাপারটা একটু ধোয়াটে লেগেছিল। এই ব্যাপারের সাথে একটা ঘটনার সংযোগ ঘটানো যায়। একবার এক শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অ্যাকিলিসের বাবা পেলেয়ুসের সাথে আটলান্টার একটা কুস্তি ম্যাচ হয়েছিল। ম্যাচে আটলান্টা জয়লাভ করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। হয়তো অ্যাকিলিস এই ঘটনার কথা জানতো। তবে আন্টি না ডেকে সিস ডাকার ব্যাপারটা এখনো পরিষ্কার হচ্ছে না।

আটলান্টা এক সন্তানের মা হয়েছিলেন। তবে সেই সন্তানের বাবা মেলানিওন নাকি মেলিয়েগার তা নিয়ে মতভেদ আছে। সেই সন্তান, পার্থেনোপাসকে নিয়েও অনেক বীরত্বের কাহিনী প্রচলিত আছে।

সোর্স: উইকিপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, greekmythology.com

Kino’s Journey: The Beautiful World [রিভিউ] — Siam Maksud

Kino no Tabi 1

কিনো নো তাবি – একটি অসাধারণ গোলমেলে যাত্রার গল্প
The world is not beautiful ; And that, in a way, lends it a sort of beauty…..

জনরাঃ এডভেঞ্চার ফিকশন, ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন
এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩ + ২ টি মুভি
ম্যাল রেটিংঃ ৮.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৮.৫
আমার রেটিংঃ আহা! রেটিং নিয়ে ঝামেলা ক্যান? অতি ভাল এনিমে তো………

কল্পনা করা যাক এমন একটি সমাজের কথা যেখানে মানুষকে জীবিকার জন্য লড়াই করতে হয় না, তারা সবদিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু তাদের কাছে কি জীবনের আর কোনো অর্থ থাকবে? অথবা এমন কোনো জায়গা যেখানে কেবল শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কদের বাস, বারো বছরের যেখানে পরেই যেখানে সরিয়ে ফেলা হয় অপ্রয়োজনীয় সব অনুভূতি, শিশুটি পরিণত হয় সমাজের ‘আদর্শ নাগরিকে’। এটা কি আসলেই সমাজের ভাল করছে? কিংবা চিরকাল সুখে থাকা এক কবি কি পারবে তার কবিতায় মানুষের দুঃখ কে তুলে ধরতে, এমনকি তাকে বাধ্য করা হলেও? এক উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণকারীর যাত্রাপথের এমন সব গোলমেলে গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে Kino’s Journey: The Beautiful World (Kino no Tabi)।

গল্পের শুরু কিনোকে নিয়ে, ভাবলেশহীন মুসাফির, যে কিনা একটি কথা বলা মোটরবাইক নিয়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়।
– কেন?
– কে জানে কেন? উদ্দেশ্য নেই।

কাজের কথায় আসি। তো কিনোর গুণাবলির মাঝে একটি অনন্য গুণ হচ্ছে বেচে থাকার প্রয়োজনে অনায়াসে মানুষ খুন করতে পারা। আর তার নির্মম নির্লিপ্ততা। সে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাচিয়ে তোলে , আবার সে মানুষটা বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাকে নির্দ্বিধায় মেরে ফেলতেও বাধে না। যাত্রাপথের কারো সমস্যাতেই নিজেকে জড়ায় না, পাশ কাটিয়ে চলে যায়।এ পাশ কাটানো কখনো মনে হয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, কখনো চরম নিষ্ঠুরতা। কিন্তু এটাই তার চরিত্রের বড় আকর্ষন। কিনো কিন্তু একা নয় এ যাত্রায় । তার সংগী মোটরবাইকের নাম হেরমেস। অতি ভাল যন্ত্র, কিনোর সব কথা শোনে। কথা বলে প্রচুর । তো এ দুজনের যাত্রার সংগী হিসেবে কিনো নো তাবি দেখার জন্য আমন্ত্রণ।

আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে এনিমেটি। এমন কিছু এনিমে মাঝে মাঝে পাওয়া যায় যা শেষ হয় কিছু চিন্তার খোরাক যুগিয়ে। হয়তো বদলে দেয় কোনো বিষয়ে পুরো দৃষ্টিভংগি। কিনো নো তাবিও এমনি একটি এনিমে কিন্তু পার্থক্যটা হলো এ পরিবর্তন ঘটবে প্রতি এপিসোডে । এপিসোডিক এনিমে, প্রতি এপিতেই নতুন নতুন গল্প, নতুন নতুন শহরের নতুন মানুষদের সাথে পরিচয়, বিভিন্ন ধরণের সমাজব্যবস্থার দেখা পাওয়া । এসবের মাঝেই কিনোর অতীত খুজে ফেরা, অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়া। মানুষের ভাল দিকগুলোর সাথে বিভৎস রূপটাও এখানে বেশ ভালভাবে দেখানো হয়েছে। ভালবাসা, করুণা , দয়ার সাথেই দেখা যায় ভয়াবহ স্বার্থপরতা, বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যায়ের অদ্ভূত মিশেল। এ যাত্রাপথে দেখা হয় কোনো এক ভবঘুরে, স্মৃতি হারিয়ে ফেলা এক জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রেমে পড়ে যাওয়া খুনী, ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সভ্যতার সর্বশেষ জীবিত মানুষটির মতোই আরো অনেকের সাথে। সমাজের বিভিন্ন নিয়মের সীমাবদ্ধতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে এনিমেটিতে। দেখতে দেখতে একসময় নিজের কাছে মনে হবে “ আরে! এটাতো এভাবেও চিন্তা করা যায়!” অন্যরকম এক বিষন্ন ভাললাগার মাঝেই যাত্রাপথ উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

গ্রাফিক্স আহামরি কিছু নয়, কিন্তু গল্পের সাথে চমৎকার ভাবে মানিয়ে গিয়েছে । আর সাউন্ডট্র্যাক অসাধারণ। বিশেষ করে এন্ডিং সং টি আমি অনেকবার ইনফিনিট লুপে বাজিয়েছি। গল্পের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অন্যরকম ভাললাগার জন্ম দেবে। এটা দেখে না থাকলে এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটি মাস্টারপিস মিস করা হবে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

বি.দ্রঃ মুশিশি ফ্যানদের জন্য এটা মাস্ট ওয়াচ এনিমে। মুশিশি টাইপের ভাইভ পাওয়া যাবে। তবে তা অনেকটাই ডার্ক।

বি.দ্র ২ঃ মুড ভাল হয়ে যাবে এ আশা নিয়ে বসলে পস্তাবেন। বিষন্নতা, হতাশা বেড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

Kino no Tabi 2

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-6); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-6
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

হাশিরামা উঠে দাঁড়ায়, ভাঙা গার্ড টার বাকি অংশ খুলে ফেলে গা থেকে। উত্তরের আসা হটাত বাতাস ওঁর বড়বড় চুলগুলো উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়,কপালের হেডব্যান্ডের জন্য চোখমুখে এলোমেলো চুল উড়ে এসে পরছে না। চোখের দৃষ্টি শান্ত, নিবদ্ধ, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বুড়ো নেতেরোর দিকে। নেতেরোকে এগোতে দেখেই সামনে পা বাড়ায় হাশিরামা। প্রায় ২০ গজ দূরত্ব পার হতে কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়। নেতেরোর বাড়িয়ে দেয়া এক হাতের নাগাল দ্রুত পাশ কাটিয়ে যায় হাশিরামা। তাকিয়ে থাকতে থাকতেই নিজের কনুই নেতেরোর কলার বোনের উপর ঠেকায় আর প্রায় একই সাথে ডান পা দিয়ে ওঁর বাম পায়ের ব্যালেন্স নষ্ট করে দেয়।
সেকেন্ডের ভেতর অনেকগুলো ঘটনা একেকফ্রেমে দ্রুত ঘটে গেলো বাকি সব উপস্থিত দর্শকদের কাছে যেন। তোবিরামা শান্ত চোখে নেতেরোকে ভূপাতিত হতে দেখলো। অনেক্ষন ধরে আটকে রাখা শ্বাস টা হালকা করে ছাড়তে লাগলো। ওদিকে মাদারাও কিছুটা স্বস্তি বোধ করছে বৈকি। আর যাই হোক, হাশিরামার হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটের জোর তার থেকে ভালো কেউ জানে না। সে নিজে মাংগেকিয়ু শারিংগান ব্যবহার করেও আনআর্মড কমব্যাটে খুব একটা সুবিধে করে উঠতে পারে নি হাশিরামার সাথে। আর হাশিরামাকেও কোন দিন নিজের ৫০ ভাগের বেশিটা দিয়ে লড়তে দেখে নি ও। কাজেই, ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তার জায়গাটুকু ফিকে হতে চাইছে।
ওদিকে নেতেরো হটাত আকাশের একটা অংশ দেখতেই সজোরে দু হাত চালালো। গন্তব্য হাশিরামার কানের দু’পাশ। কিন্তু ততক্ষণে হাশিরামার বদ্ধমুষ্টি হাত ওঁর বুক আর পেটের মাঝেটা স্পর্শ করে ফেলেছে।
নেতেরো চোখে শর্ষে ফুল দেখলো যেন। মুখটা হাঁ হয়ে গেলো ওঁর সাথে সাথেই। বাউন্স খেয়ে মাটিতে স্থির হবার পরপরই হাশিরামাকে খুঁজল।
নেই, আঘাতটা হেনেই একটু বামে সরে গেছে ওঁ। একটু রিল্যাক্স কি বোধ করছে এখন? নেতেরো হাসলো, বাম দিকে সরে গেলেও ওঁর নাগালের বাইরে যায় নি মোটেই। নেতেরো বাম হাতের তালু মাটিতে ঠেকালো, সাথে সাথেই এক পা ভাজ করে আরেক পা সজোরে চালালো।
হাশিরামা কিছু বুঝে উঠার আগেই নেতেরোর প্রচন্ড ঘুষিতে চোখে অন্ধকার দেখলো, তাল হারিয়ে পরে গেছে। উপর্যপুরি ঘুষি শেষ হতেই, হাটু ভেঙে বসলো হাশিরামা। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে দেখলো নেতেরোর মুখের হাসি ফিরে এসেছে। দাঁড়িয়ে দু হাত মুঠি করলো। মুখে বললো, Deep Forest Emergence
নেতেরো দেখলো, দ্রুত মাটি ফুঁরে বিশাল বিশাল গাছপালা বেরিয়ে এলো। চোখের পলকেই যেন আশেপাশে যদ্দূর চোখ যায় শুধু গাছ আর গাছ দেখতে পাচ্ছে ওঁ। নেতেরোর চোখে হাসির সাথে সাথেই বিস্ময়ের ভাব ফুটে ওঠে। হটাত বেড়ে ওঠা বনটা পূর্বপরিচিত লাগছে যেন ওর কাছে। তাকিয়ে দেখলো, একটা পাশ দিয়ে হিডেন লিফ ভিলেজে প্রায় পুরোটাই পরিস্কার দেখা যাচ্ছে।
নেতেরোর বিস্ময়বোধের নতুন মাত্রা যোগ হলো বিকট আর প্রকান্ড বিস্ফোরনের শব্দে। ১ বার ২ বার, অনেকবার। চোখের সামনেই ধীরে ধীরে ধসে পড়তে থাকলো সুন্দর সাজানো গোছানো গ্রামটা। নেতেরো অবাক হয়, ওর নির্দেশ অমান্য করে হামলা করবে ওর লোকেরা? এমন তো হবার কথা নয়। ওর কথার একচুল এদিক ওদিক হবার তো কথা না।
নেতেরোর সাথে সাথে হাশিরামাও তাকিয়ে থাকে।
ওদের চোখের সামনেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে থাকে হিডেন লিফ ভিলেজ।

Summer Wars [Movie Review] — Mizbahuddin Rafat

Summer Wars

Summer Wars
Directed by: Mamuro Hosoda
Studio: Madhouse

Summer wars নামটা শুনলেই মনে হয় গ্রীষ্মের যুদ্ধ বা Star wars জাতীয় কিছু। মুভির শুরুতে দেওয়া মিউজিকটা শুনলে Star wars ফিলিংসই পাওয়া যায়। মুভির নাম শুনে কাহিনী কিছু একটা প্রেডিক্ট করেছিলাম কিন্তু এই মুভিটা দেখার এক্সপেরিয়েন্স সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল।

মুভিটা শুরু হয় Oz নামক একটি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড দিয়ে। মুভির প্রথম দৃশ্যেই এমন সাইবার ওয়ার্ল্ড আর ভার্চুয়াল কণ্ঠস্বর শুনে একেবারে অন্যরকম লাগলো। Oz নামক ভার্চুয়াল দুনিয়াটি আলাদিনের চেরাগের মতো। যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ রয়েছে এখানে। শপিং, ফাইটিং, বিজনেস, যোগাযোগ, বিনোদন থেকে শুরু করে বলতে গেলে সব। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মুভিটিতে সম্পূর্ণ জাপানের মানুষের কাজকর্ম চলে এখানেই। মুভিটির প্রধান চরিত্র কেনজি কইসো নামের এক হাইস্কুল ছাত্র। সে জাপানের ম্যাথ অলিম্পিয়াডের রানার-আপ। সে ও সাকুমা নামের তার এক বন্ধু ওজের দুনিয়াতে তাদের সময় কাটায়। কেনজির হাইস্কুলের একজন আপারক্লাসম্যান নাতসুকি শিনোহারা হঠাৎ তাদের একটা অতি অদ্ভুত জব অফার করে। সেটা আর কিছুই নয় বরং নাতসুকিকে তার পৈত্রিক নিবাসে যাওয়ার পথে সঙ্গ দেওয়া। হুট করে এমন অভূতপূর্ব প্রস্তাব পেয়ে কেনজি লাফ দিয়ে রাজী হয়ে যায় নাতসুকির বাড়ির দিকে তার যাত্রা শুরু হয়। নাতসুকির বাড়িটি প্রাচীন জাপানিজ ঐতিহ্যবাহী বাড়ির মত। নাতসুকির এর বিশাল ম্যানশন আকারের বাড়িটির ডিজাইন করা হয়েছে জাপানের Ueda Castle থেকে। এনিমেতে নাতসুকির পৈত্রিক নিবাসও উয়েদা শহরে। বাস্তব ওয়েদা প্রাসদটি জাপানের ওয়েদা শহরেই অবস্থিত যা আবার ডিরেক্টর মামোরু হোসোদার নিবাসের অতি কাছে। এই Ueda Castleটির মালিক ছিল Sanada clan যারা কিনা জাপানের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নাতসুকির বাড়িতে আসার কারণ ছিল তার গ্রেইট-গ্র‍্যান্ডমাদারের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন। আর এই উপলক্ষে নাতসুকির পুরো পরিবারই জড়ো হয় তাদের পারিবারিক বাসস্থানে। Natsuki এর পরিবার বিরাট বড়। তাদের সম্পূর্ণ পরিবার দেখলে আমাদের একান্নবর্তী যৌথ পরিবারের কথা মনে পড়ে যায়। তাদের পরিবারের বিস্তৃতি পুরো জাপানে ছড়িয়ে আছে। কেনজি, নাতসুকির পরিবারের সাথে বেশ ভালো সময় কাটাতে থাকে যতক্ষণ না সেই কালোরাত্রিটা আসে। ছুটির প্রথম রাতেই তার মোবাইলের ওজ আইডিতে হঠাৎ একটি বিরাট কোড আসে যেটি সে পাগলামিবশত (এবং ঘুম না ধরায়) এক রাতের ভিতরেই কমপ্লিট করে বসে। তারপরের ঘটনাটা একেবারেই অন্যরকম। তার এই ডিকোডকে কাজে লাগিয়ে একটি ভাইরাস পুরো ওজের সিস্টেমে নিজের আধিপত্য ফলিয়ে একের পর এক অপকর্ম করতে থাকে। প্রায় চল্লিশ কোটি ওজ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়ে যায় যার মধ্যে রয়েছে কেনজির অ্যাকাউন্টটিও। যেহেতু কেনজির অ্যাকাউন্ট থেকে কোডটা ডিকোড করে পাঠানো হয়েছে তাই পরেরদিনেই সে মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী হয়ে যায়! তারপর ঘটনাক্রমে এই পরিবার তরফ থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর সেই ভাইরাসের বিপক্ষে এক সম্মিলিত লড়াই।

পরিচালক মামোরু হোসোদা Oz এর আইডিয়াটি নিয়েছেন একটি সুপার মার্কেট থেকে। যদিও এর সাথে Oz এর কোনো প্রকার মিল নেই। মুভির ফাইট সিন অর্থাৎ Oz এর ব্যাটেল সিস্টেমটি মুভির ডিরেক্টর Nintendo DS এর গেইমিং সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছেন। ভাল রকমের একটি স্টোরি এবং অনেক উত্তেজনা উপভোগ করতে চাইলে এই মুভিটা একটা অসাধারণ চয়েস। রেটিং এর ক্ষেত্রে মুভিটিকে A+ দেওয়া যায়। হালকা রোমান্টিসিজমের ছোঁয়াও পাওয়া যায় মুভিটিতে। অনেকগুলো গভীর পারিবারিক মুহূর্তের সমষ্টি সামার ওয়ারস আর এটাই মুভির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। মামোরু হোসোদার মুভিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এঞ্জয় করেছি এই মুভিটিই। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া মুভিটির ঝুলিতে আছে জাপান মিডিয়া আর্টস ফেস্টিভ্যাল ও জাপান অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের বেস্ট অ্যানিমেশনের পুরস্কার। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল মুভিটি।

Mushoku Tensei [লাইট নোভেল/ওয়েব নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

Mushoku Tensei 2

মুসোকো তেনসাই: ইসসেকাই জনরার এক গল্প

বর্তমানে জাপানির লাইট নভেলে যে ধরনের গল্প রাজ্যত্ব করেছে, সেটা হচ্ছে ইসসেকাই বা অন্য জগতকে নিয়ে গল্প। যেখানে সিরিজের মূল নায়ক তার জগত ছেড়ে অন্য আরেক জগতে চলে গিয়েছে এবং সেখানে খারাপদের বিরুদ্ধের যুদ্ধে নেমেছে।
এর আগে যারা লাইট নভেল সম্পর্কে জানেননা তাদের একটা হালকা ধারণা দিয়ে রাখি। লাইট নভেল হচ্ছে জাপানি ইয়াং অ্যাডাল্ট ফিকশন। মূলত কিশোর-কিশোরীদের কেন্দ্র করে এই নভেল লেখা হয়। নভেলের পরিধি থাকে ৪০,০০০ হাজার থেকে ৫০,০০০ হাজার শব্দের মধ্যে, অবশ্য এরচেয়ে বেশি শব্দের উপন্যাসও হয়ে থাকে।
আর লাইট নভেলগুলো মূলত ফ্যান্টাসি জনরার হয়ে থাকে (জাপানিরা আবার ফ্যান্টাসির চরম ভক্ত)। অবশ্য সামাজিক জীবন, সাই-ফাই জনরার কিছু লাইট নভেলও আছে। সেগুলোর আলোচনা পরে হবে। এখন মুসোকো তেনসাই সিরিজ নিয়ে কথা হয়ে যাক—

কাহিনী সংক্ষেপ:
উপন্যাসের কাহিনী শুরু হয় এক জাপানি ওতাকু নীট নিয়ে (ওতাকু মানে গীক, জাপানে যারা অ্যানিমে, লাইট নভেল, মাঙ্গা নিয়ে পড়ে থাকে তাদের ওতাকু বলে। আর নীট [NEET] No Education, Earn & Training সহজ কথায় ঘরে বসে থাকা লোকদের নীট বলে থাকে)। সে তার মৃত বাবা-মা অন্ত্যষ্টোক্রিয়ায় না অংশগ্রহণ করে নিজের রুমে বসে পর্ন দেখছিল। এর ক্ষিপ্ত হয় তার ভাই-বোনেরা। নায়ককে মেরে-ধুরে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।
রাস্তায় নামার পর নায়ক তার ভুল বুঝতে পারে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করতে থাকে তার ভুলগুলো নিয়ে, কিন্তু কিছু করার থাকেনা তার। ঠিক সেইসময় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে তর্ক করছিল তিন কিশোর-কিশোরী, আর একটা ট্রাক তাদের দিয়ে ধেয়ে আসছে, সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। তিন কিশোর-কিশোরীদের ট্রাক চাপার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে সে পড়ে যায় ট্রাকের নিচে…
নায়ক মনে করেছিল এখানেই তার কাহিনী শেষ, কিন্তু না— সে চোখ খুলে দেখতে পারে সে একজন মহিলার কোলে। সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছে সে। বুঝতে পারে শুরু হয়েছে তার নতুন জীবন।
নায়ক যে জগতে জন্ম নিয়েছে সেটা ছিল জাদুর জগত, যেটা কিনা শুধু ফ্যান্টাসি উপন্যাসের পাওয়া যায়। যেখানে সাধারণ মানুষের জাদুর ক্ষমতা আছে, আছে ডেমন জাতি থেকে শুরু করে ডেমি হিউম্যান জাতি। আর সেই জগত মাত্র কয়েকশ বছর আগে বিশাল যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছে, এবং শান্তির সাথে বসবাস করছে।
সেই জগতে নায়কের নাম হয় রুডিয়াস, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন উপাখ্যান।
ছোট বেলা থেকেই রুডিয়াসের জাদুর প্রতিভা বের হয়, খুশি হয় তার বাবা-মা। জাদুর শিক্ষকের জন্য আবেদন জানায় তারা। এর আগে রুডিয়াসের বাবা-মার সম্পর্কে একটু আলোকপাত করি, দুজনই সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে থেকে এসেছে, রুডিয়াসের বাবা পল গ্রে-র‍্যাটের পরিবার ছিল রাজার কাছের লোক এবং সম্রাজ্যের প্রভাবশালী পরিবার, আর মা জেনিথ ছিলেন অন্যরাজ্যে এক প্রভাবশালী ল্যাটেরিয়া পরিবারে মেয়ে যারা কিনা পোপের (খৃষ্টিয় ধর্মের আদলে হলে সম্পূর্ন আলাদা ব্যাপার এটা।) কাছাকাছির লোক ছিল। তারা পালিয়ে বিয়ে করায় পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় এবং পলের দুঃসম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের সাহায্যে পল দূরে ছোট এক গ্রামের জমিদারি পায়।
এক জাদুকর আসে, রুডিয়াসকে জাদু শেখানো জন্যে। নাম রক্সি, জাতি ডেমন। ডেমন জাতির হওয়ার কারণের রুডিয়াসের বাবা-মা প্রথম ইতস্তত করলেও রাজী হয় তারা। কারণ রক্সি যে জাতির ডেমন ছিল, তারা ছিল ছোট-খাট আর নিরীহ ধরনের।
রুডিয়াস পেয়ে গেলো তার জাদুর শিক্ষক, আসলে শিক্ষিকা। ছোট খাট ডেমন এই রক্সির সাথে রুডিয়াসের সম্পর্ক খুব ভালো হয়ে যায়, এবং ভালো বন্ধুত্বে পরিণত হয়। যখন রুডিয়াসের বছর পাঁচ তখন রক্সির জানা যত জাদু ছিল সে তার শিখে ফেলে। রক্সি তখন বুঝতে পারে তার জাদুর জ্ঞান এখনো অনেক সীমিত, সে বেরিয়ে পড়ে ভ্রমণে। যাওয়ার আগে পরামর্শ দিয়ে যায় যে রক্সির পড়া জাদুর বিশ্ববিদ্যালয়তে রুডিয়াস যেন অবশ্যই ভর্তি হয়।
তারপরে ঘটে যায় আরেক ঘটনা, রুডিয়াসের বাবা পল, জেনিথের সাথে সাথে চাকরানী লিলিয়াকে অন্তসত্ত্বা করে ফেলে, ফলে পরিবারের মধ্যে ভাঙ্গন আসতে শুরু করে। আগের জীবনের ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়, কিভাবে তার পরিবারে মধ্যে দূরত্ব চলে আসে এমং সেটা কত কষ্টের, রুডিয়াস নিজেই এই ভাঙ্গন থামায় এবং জানায় যে লিলিথকে মা হিসেবে নিতে সমস্যা নেই তার। জেনিথকেও মেনে নিতে বলে সে। পরিবারে ভাঙন থামে, দুই বোনের ভাই হয় সে।
এরপর পরিচয় এক মেয়ের সাথে, নাম সিলফিট্টে সংক্ষেপে সিলফি। হাফ এল্ভস আর হালফ ডেমিহিউম্যান আর মানুষের সংমিশ্রণ সে। তার সাথে বন্ধুত্ব হয় এবং সেটা বন্ধুত্বের একটু বেশিতে গড়ায়। রুডিয়াস তার বাবার কাছে দাবী করে যে সে আর সিলফি মিলে জাদুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। কিন্তু ছোট জমিদার হিসেবে রুডির বাবার ক্ষমতা ছিল একজনকে পড়ানোর। পল তখন জানায় যে, সে শুধু রুডিয়াস মানে রুডির খরচ দেয়ার সামর্থ্য আছে, সিলফির নেই। যদি চায় তাহলে নিজ থেকে খরচ আনতে হবে। রাজী হয় রুডি। বাবা তাকে পাঠিয়ে দিয়ে সে চাচাতো ভাইয়ের কাছে, সেখানের পরিচয় হয় এরিস গ্রে-র‍্যাট নামের এক এটম বোম মেয়ের সাথে।
প্রথম দিনই এরিসের হাতে ধোলাইখুড়ি হয় রুডির । কিন্তু রুডির চালাকি আর সাহসীকতার কারণে এরিসের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়, সেটা আবার বন্ধুত্বের চেয়ের একটু বেশি (মেয়েদের পিছনে ছোক ছোক করার স্বভাব সে তার বাপ পলের কাছে থেকেই পেয়েছে)!
সবকিছুই চলছিল ভালোভাবে, হঠাৎ ঘটে যায় এক দূর্ঘটনা। বিশাল এক টেলিপোর্ট ইন্সিডেন্ট ঘটে যায়। হয়ে যায় সবকিছু এলোমেলো। রুডি নিজেকে আবিষ্কার করে ডেমন কন্টিনেন্টে তার সাথে শুধু এরিস। স্বপ্নে দেখা দেয় হিতোগামি (বাংলা বললে মানব দেবতা) নামের এক রহস্যময় দেবতা। সে পরামর্শ দেয়, রুইজার্ড নামের ডেমনের সাথে থাকতে সেই নাকি তাদের ডেমন কন্টিনেন্ট থেকে মানুষের কন্টিনেন্টে পাঠাতে সাহায্য করবে। কিন্তু রুইজার্ড হচ্ছে সাপ্রাডিয়া জাতির ডেমন, যারা কিনা কুখ্যাত। শুরুতেই রুডিয়াস সন্দেহ করে বসে হিতোগামিকে। তারপরেও রুডি রুইজার্ডের সাহায্য নেয়।
ভুল ভাঙ্গে রুডির, রুইজার্ড আসলে দয়ালু প্রকৃতির, তবে সেটা বাচ্চাদের বেলায়। রুডি, এরিস আর রুইজার্ড মিলে ডেমন কন্টিনেন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে মানব কনিনেন্টের উদ্দ্যেশে। মাঝখানে দিয়ে জানতে পারে রুইজার্ডের অতীত আর দূর্ভাগ্য নিয়ে। সমব্যাথিত হয় রুডি, এরিস আর খুব ভালো বন্ধুত্বে পরিণত হয় তারা।
এর মাঝে হিতোগামি নামের সেই রহস্যময় দেবতা রুডির কাছে বেশ কয়েকবার আসে, তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। কিন্তু দেবতার সন্দেহময় আচরণের কারণে রুডি তাকে বিশ্বাস করতে পারেনা। একসময় তারা এসে পরে মানব কন্টিনেন্টে, দেখা পায় তার বাবা আর নিজ মায়ের পক্ষের ছোট বোন নর্নের, জানতে পারে সেই বিশাল টেলিপোর্টেশোনের কারণে রুডিয়াসের পরিবার আলাদা হয়ে গিয়েছে, মা— জেনিথ, সৎ মা ও বোন— লিলিয়া ও আশিয়া।
হিতোগামির সাহায্য সে তার সৎ মা ও বোনকে খুঁজে পায়। আর এরপরেই চলে যায় এরিস, কারণে সে মনে করে রুডিয়াসের যোগ্য সঙ্গী হবার যোগ্যতা নেই তার। এছাড়া টেলিপোর্টেশন ঘটনার কারণে তারা বাবা-মাও মারা গিয়েছে, এরিস তার তলোয়ার চালানোর শিক্ষিকাকে নিয়ে বের হয়ে পরে অভিযানে যাতে সে রুডিয়াসের যোগ্য সঙ্গী হতে পারে। রুডিয়াসকে না জানিয়েই চলে যায়।
হতাশ হয়ে যায় রুডি। তার বাবা সৎ মা আর বোনকে নিয়ে চলে যায় জেনিথের খোঁজে। আর রুডি একা একা অ্যাডেভাঞ্চারার হিসেবে ঘুরতে থাকে। আবার আসে হিতোগামি, সে পরামর্শ দেয় জাদুর ইউনিভার্সিটিতে যেতে। রুডি তা মেনেই যায়, এতদিনে সে হিতোগামিকে হালকা বিশ্বাস করা শুরু করেছে। সেখানে যায়, অনেক কাহিনীর পর সিলফির সাথে দেখা হয়, তার সাথে বিয়ে হয় রুডির। সুখের সংসার শুরু হয়েছে, বাবা হবে সে তখনই জানতে পারে, তার বাব পল খুঁজে পেয়েছে জেনিথকে। রুডি ছুটে চলে যায়, হিতোগামির সাবধানতা ও হুমকি না গ্রাহ্য করেই।
মাকে উদ্ধার করে, কিন্তু বাবাকে হারায় সে, আর দেখা হয় তার জাদুর শিক্ষিকা রক্সির সাথে। মা জীবিত আছে কিন্তু আশেপাশে জগত সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, বাবাও চলে গেছে না ফেরা দেশে, হতাশ হয়ে পড়ে সে, রক্সি সঙ্গ দেয়। সিলফির অনুমতিতেই রক্সিকে বিয়ে করে রুডি। আবার সুখের জীবনে চলে যায়।
কিন্তু এক ভয়ংকর সত্য জানতে পারে রুডি, হিতোগামি তার বন্ধু সেজে থাকলেও সে আসলে শত্রু। সে চায় রুডির পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে। রুডি যখন মরিয়া হয়, তখন হিতোগামি জানায় সে যদি ড্রাগন গড ওরস্ট্রেড কে পরাজিত করতে পারে তাহলে হিতোগামি রুডিয়াসের পরিবারকে ছেড়ে দিবে। কিন্তু ড্রাগন গড ওরস্ট্রেড হচ্ছে পুরো মানব আর ডেমন কন্টিনেন্টে শক্তিশালী। তার সাথে লড়াই করে এই পর্যন্ত কেউ জিততে পারেনি।
এখন রুডিয়াস কি পারবে পুরো ডেমন গড ওরস্ট্রেডকে হারাতে? পারবে হিতোগামির জাল থেকে বের হতে? পারবে তার পরিবারকে বাঁচাতে?
এটা নিয়েই আগায় মুসোকো তেনসাইয়ের কাহিনী।

Mushoku Tensei 1

অনেক বড় হয়ে গিয়েছে তাই না?
আসলেই, কারণে এটা প্রথম ষোল ভলিউমের কাহিনী সংক্ষেপ। আমি যতটুকু পেরেছি স্পয়লার এড়িয়েই লিখেছি, অল্প কিছু যা দিয়েছি সেটা কাহিনীর গুরুত্বপূর্ণতা উল্লেখ করতেই। এবার আসি আলোচনায়।
এই সিরিজ প্রথম প্রকাশ হয় ওয়েবে। সোয়েতসু নামে একটা ওয়েব সাইটে প্রকাশ হয় সিরিজটি (ওই সাইট থেকে অনেক হিট লাইট নভেলও বের হয়েছে এবং সেগুলোর অ্যানিমেও বের হয়েছে)। এরপর সেখান থেকে লাইট নভেল আকারে বের হয়। আই অবশ্য ওয়েব নভেলের প্রেক্ষিতেই আলোচনা করছি।
প্রথমেই আসি কাহিনী সম্পর্কে, প্রথম দিকে একটু কাঁচাভাব থেকেইগিয়েছিল সিরিজের বেলায়, হয়তো লেখকের প্রথমে লেখা বলেই, কিন্তু আস্তে আস্তে লেখকের লেখনীর মাঝে দক্ষতা এসেছে এবং সেটা পাঠক টেনে রাখার মত করেই। আর কাহিনীর প্ল্যানিং দেখলেই আপনি অবাক হবেন, শেষের দিকে এসে মনে হবে— আরে আমি কী আরেকটা কাহিনীর ভূমিকা পড়ছি নাকি? নায়ক কি আরেক নায়কের জন্য সবকিছু তৈরী করে রাখছে নাকি? আর শেষের টুইস্টটা ছিল অসাধারণ।
আর যে জিনিষটা ভালো লেগেছে সেটা হচ্ছে নায়কে চরিত্রের ধীরে ধীরে উন্নতিটা। একদিনের কেউ লিজেন্ড হয় না, অনেক পরিশ্রম আর ত্যাগ তিতিক্ষার পর লিজেন্ড হয় সেটা লেখক নায়কের মাধ্যমেই বুঝিয়েছেন। লেখক নায়ক রুডিকে ধীরে সুস্থেই শক্তিশালী করেছেন, হুট করেই না।
জাপানিজ লাইট নভেলে যেটা দেখা যায়, একটা বইয়ের মধ্যে সব ঝামেলা মিটিয়ে আরেক বইয়ে আরেকটা ঝামেলা নিয়ে আসে। আর লেখক মুসোকো তেনসাইয়ে সেই ঝামেল কীভাবে আসলো, কীভাবে সমাধান হবে সেটা খুব সুন্দর সাবলীল ভাবে দেখিয়েছে এবং সেখানে তাড়াহুড়ো আনেনি যেটা অন্যলাইট নভেল লেখকরে করে থাকেন।
কিছু ব্যাপার খারাপ লেগেছিল, অবশ্য সেতা উল্লেখ করতে নভেলের স্পয়লা হয়ে যায়। তবে যেটা উল্লেখ করলেই নয়, সেটা হচ্ছে নায়কের বিয়ে— আসলে তিন নায়িকাই ছিল বেস্ট, তবে রক্সি আর এরিসে ব্যাপারে একটু মনোযোগ দিলে ভালো হত, কারণে হুট অনেকদিন পর দেখা হল তারপর হল বিয়ে, এটা মানা যায়নি। সিলফি কিন্তু আবার অনেক সুযোগ পেয়েছে।
এবার আসি চরিত্রের বেলায়, লেখক এখানেও নিজের দক্ষতার সাথে চরিত্রগুলো সাজিয়েছেন, এবং প্রতিটা চরিত্র যাতে পাঠকের মনে ছাপ ফালাতে পারে সেই দিকেও ভালো নজর দিয়েছেন। তবে একটা ব্যাপার খারাপ লেগেছিল সেটা হচ্ছে নায়ক এক নায়িকার সাথে থাকাকালীন বাকী দুই নায়িকার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, মাঝে মধ্যে হয়তো মনে করেছেন কিন্তু পরে আবার ভুলে গিয়েছিলেন।
তবে নায়কের চরিত্রের বেলায় যে লেখক অনেক মনোযোগী ছিলেন সেটা পরিষ্কার বুঝা গিয়েছিল। তিনি সাধারণ লাইট নভেল নায়কদের মত হালকা বোকা-সোকা বা সম্পূর্ণ পার্ভাট না বানিয়ে। চালাক চতুর এর সাথে অনেক পার্ভাট বানিয়েছেন। যদিও সে একদিক দিয়ে সৎ ছিল, তিন বউ ছাড়া সে আর কোনো মেয়ের দিকে এগোয়নি, একটু উল্টা-পাল্টা চোখে তাকালেও সে তাদের কাছাকাছি যায়নি, এমনকি এক মেয়ে সিডিউস করার পরেও। এই কারণে তাকে বাহবা দিতে হয়, তাছাড়া বাবা হিসেবে নায়কের তুলনা ছিলনা, নিজের ছেলে মেয়ের জন্যে নিজের প্রাণ বিকিয়ে দেয়ার জন্যে প্রস্তুত ছিল সে।
নায়িকা হিসেবে সিলফির তুলনা হয়না (আমার ফেভারিট সে!)। মহৎ না হলে নিজের স্বামীকে আরো দুইটা বিয়ে করতে দেয় এবং তাদেরকে নিজের বন্ধুর করে মত নেয় (ভাগ্যিস ইন্ডিয়ান সিরিয়াল ছিল না এটা, তাহলে চুলোচুলি লাগিয়ে দিত ডিরেক্টর)। তাছাড়া নায়কের পরিবার মানে,অসুস্থ মা, দুই বোন আর সৎ মায়ের সাথেও মানিয়ে নিয়েছে। যতটুকু পেরেছে রুডিয়াসকে সাহায্য করেছে। এমন মেয়ের কী আর কারো সাথে তুলনা দেয়া যায়!
রক্সি ছিল সব চেয়ে আন্ডার লাইটে। পুরো সিরিজেই সে আন্ডার লাইটে রাখা হয়েছে যেটা তেমন ভালো লাগেনি।
এরিস, প্রথমে তার উপর অনেকেই রাগ করতে পারে। হুট করে চলে যাওয়াতে আরো ক্ষেপে যেতে পারেন অনেকেই। কিন্তু সেই মনে হয় বাকী দুইজনের চেয়ে সে রুডিকে বেশি ভালোবাসতো, মুখে প্রকাশ না করতে পারলেও সে হাতে প্রকাশ করেছিল! আর তার ডেডিকেশন দেখে নায়ক নিজেও অনেক হতবাক হয়েছিল।
এছাড়া আরো অনেক ইন্টারেস্টিং চরিত্র আছে, তাদের নিয়ে কথা-বার্তা বলতে গেলে লেখা আরো বড় হয়ে যাবে। তাই সিরিজটা পড়ে নিয়ে তাদের সম্পর্কে জানালে ভালো হয়।

এবার আসি কেন পড়বেন?
আমার প্রশ্ন হল কেন পড়বেন না? এমন সিরিজ সত্যি কথা বলতে হাতে গোণা কয়েকটা পাবেন। যেটা টিপিকাল পথে চলেও আলাদা একটা ভূমিকা রেখেছে।
লাইট নভেলে এমন কোন নায়ককে পাবেন, যে নিজের ভালোবাসার কথা সরাসরি প্রকাশ কয়েছে, নিজের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে। হাজার রকমে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শুধু নিজের পরিবারকে রক্ষা করার জন্যে।
রিডার্স ব্লকে আছেন? তাহলে একবার পড়ে দেখেন রিডার্স ব্লকটা কাটে কিনা।
নতুন কিছুর খোঁজে আছেন? তাহলে একবার ধরে দেখেন এটা আপনার তেষ্টা মেটাতে পারে কিনা।
আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি এই সিরিজ আপনার চাহিদা মেটাতে পারবে। পড়ার পর মনে হবে যাক অনেকদিন পর একটা ভালো কিছু পড়লাম।
আর লেখা বাড়াবো না কারণ অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। আশা করি আপনারা এই সিরিজ পড়ে অনেক আমোদিত হবেন আপনারা।
ছবিতে:
লাইট নভেলের ভলিউম একের কভার। কভারে পল, জেনিথ, রুডিয়াস, লিলিয়া , রক্সি আর সিলফিট্টে।
ভলিউম তের কভার। কভারে, রুডিয়াস, সিলফিট্টে— কোলে তাদের বাচ্চা, রক্সি, জেনিথ, লিলিয়া, আর দুই ছোট বোন নর্ন আর আশিয়া।

Mushoku Tensei 3

ছবিতে, রুডিয়াস, সাদা চুলের মেয়ে সিলফিট্টে, নীল চুলের মেয়ে রক্সি আর লাল চুলের এরিস।

Rose of Versailles [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Rose of Versailles

এনিমে: Rose of Versailles
পর্ব সংখ্যা: ৪০
জনরা: হিস্টোরিকাল রোমান্টিক-ড্রামা

ইতিহাস কবে থেকে এতো বিনোদনময়ী এবং চিত্তাকর্ষক? ছোটবেলায় আম্মু যখন জোড় করে সমাজ বইয়ে বাংলার নবাবদের কাহিনী পড়াতো, তখন তো এরকম আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতে পারি নি। সতেরশ শতাব্দীর ফ্রেঞ্চ বিদ্রোহের উপর ভিত্তি করে এই এনিমেটা তৈরি। এনিমে ইতিহাসের সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি এই এনিমে এবং সকল এনিমে ভক্তদের দেখা উচিৎ এনিমেটি।

কাহিনীঃ ১০/১০
খুব কম এনিমের কাহিনী আপনার চোখকে টিভির পর্দার সাথে এভাবে লাগিয়ে রাখবে। প্রতিটা পর্ব শেষ হবার পরেই পরবর্তীতে কি হবে এটি জানার জন্যে যে আপনি কখন পরের পর্বটি শুরু করে দিয়েছেন তা আপনি নিজেও টের পাবেন না। কাহিনীগত দিক থেকে এনিমেটি সাধারণত সত্য তথ্য ব্যাবহার করে থাকে, যদিও কাহিনীতে ছোট-খাটো বহু জিনিস আছে যা বাস্তবে ঘটে নি এবং কিছু নতুন চরিত্র আছে যাদেরকে এই কাহিনীটির জন্যে লেখা হয়েছে। তবে মূলত এনিমেটি সঠিক ইতিহাসটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। দর্শক হিসেবে আমরা নিজেদের চোখের সামনে দিয়েই দেখতে পাই শাসকদের জুলুমের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের বিদ্রোহ এবং ফ্রেঞ্চ শাসকতন্ত্রের পতন। অসাধারন ভাবে এনিমেটি এই বড় ইতিহাসটিকে ফুটিয়ে তুলেছে। এনিমের কাহিনীটি ২০ বছরের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতো বড় কাহিনীর উপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্য লেখা চারটি খানি কথা নয় অথচ এই এনিমেটি এই কঠিন জিনিসটিকে চমৎকার ভাবে প্রদর্শন করেছে। কাহিনীগত দিক থেকে এটি এনিমের সেরা কাহিনী মনস্টার, লেজেন্ড অফ দা গ্যালাক্টিক হিরোস, নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওনের কাতারেই নিজের জায়গা করে নেয়।

চরিত্রঃ ১০/১০
চরিত্র যেকোনো লেখার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। একটি ভালো কাহিনী হচ্ছে একটি মানুষের মস্তিস্ক এবং এর চরিত্রগুলো হচ্ছে দেহের অঙ্গ। ভালো চরিত্র ছাড়া একটি ভালো কাহিনী কখনই ফুটে উঠতে পারে না। ৪০ পর্বের এই এনিমেটির চরিত্রায়ন যেভাবে করা হয়েছে, আমার মনে হয় না যে, খুব বেশি নোবেল জয়ী লেখকও এত চমৎকার ভাবে কাজটি করতে পারবেন। অস্কার সম্ভবত এনিমে ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা নারী চরিত্র। চরিত্রায়নের দিক থেকে সম্ভবত আসুকা লেঙলেয় সরইয়ুই একমাত্র নারী চরিত্র যে অস্কার থেকে উত্তম। Rose of Versailles এনিমেটিতে প্রায় ২০ টির মতো মূল চরিত্র রয়েছে যারা সকলেই কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। মূল চরিত্রের অস্কার,আন্দ্রে,আন্তইন্নে ছাড়াও জিন, রোসালি, দি ব্রুর মতো পার্শ্ব চরিত্রগুলোও চমৎকার চরিত্রায়ন লাভ করে।

এনিমেশন এবং সাউন্ডট্র্যাকঃ ৯/১০
১৯৭৯ সালের এনিমেশন হওয়া সত্ত্বেও এর চিত্রায়ন মনোমুগ্ধকর। চরিত্রগুলোকে চমৎকার ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এনিমেশন খুবই স্বচ্ছন্দগতিবিশিষ্ট। এনিমেটার ওপেনিং “Bara wa Utsukushiku Chiru” আমার খুবই প্রিয়। এনিমেটার সাউন্ডট্র্যাকের গানগুলি যদিও এনিমের বাইরে খুব বেশি শুনতে ইচ্ছে হবে না কিন্তু এনিমের প্রতিটি মুহূর্ত ফুটিয়ে তুলতে এটি দুর্দান্ত ভুমিকা পালন করেছে।

Revolutionary Girl Utena এই এনিমেটি থেকে অনেক প্রভাবিত। উতেনা চরিত্রটি বলতে গেলে অস্কার কে উৎসর্গ করেই লেখা। Rose of Versailles এনিমের ইতিহাসে একটি অনন্ন্য অর্জন। কেবল ৭০ এর দশকেই নয়, বর্তমান সময়েও এই মানের এনিমে পাওয়া দুর্লভ। সময়ের সাথে সাথে হয়তবা এই এনিমের বয়স বেড়েছে কিন্তু এর চমত্কারী মহত্ত্ব এখনো অক্ষুন্ন আছে।

আমার রেটিংঃ ১০/১০