91 Days – Ending: Theory and Analysis — Tahsin Faruque Aninda

91-days-ending

খুব অল্প সময় যখন হাতে থাকে, তখন তার মধ্যে দেখা সিরিজ এত ভাল হয়ে থাকলে মনে শান্তি লাগে। “সময়টা নষ্ট হয় নাই অন্তত” – এরকম অনুভূতি হয়ে থাকে। 91 Days সিরিজটা দেখে সেরকমই feel পেয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় বাজে এনিমেশন – এইটুক ব্যাপার বাদ দিলে সিরিজটাতে আর খুঁত পাচ্ছি না এতটুকু। বাক্কানোর পরে সম্ভবত এটাই এখন পর্যন্ত সেরা মাফিয়া গল্প। মাফিয়া সেটিং-এর গল্প যে আমার তেমন ভাল লাগে না তা না, কিন্তু এই সিরিজটা হয়তো আমার সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

আর হাজার হাজার এডাপশনের ভিড়ে ভাল মানের অরিজিনাল সিরিজ খুঁজেই পাওয়া যায় না ইদানিং, সেজন্যেও আরও বেশি ভাল লেগেছে এই সিরিজটার জন্যে।

শেষ পর্বে কী দেখায় সেই চিন্তায় ছিলাম। এত চমৎকারভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠা গল্পটার এন্ডিংটা ভাল না হলে পুরা সিরিজটার আকর্ষণ মাটি করে ফেলতো। অবশ্য শেষে যা হল, বছরের অন্যতম সেরা সিরিজটার এন্ডিংটা এর চাইতে ভালভাবে টানা যেত না! দুইজনেরই পরিণতি একদম দর্শকের উপর ছেড়ে দিয়েছে! Open-Ended গল্প, দর্শক কী ধরণের এন্ডিং চায় তা একদম তাদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া।

যেহেতু দুজনের শেষ মুহুর্ত দেখায় নি, তাই চার রকমের পরিণতিই হতে পারে এখানেঃ
a) নিরো-এঞ্জেলো দুইজনেই মৃত্যুবরণ করেঃ নিরো এঞ্জেলোকে গুলি করে মেরে ফেলে, অন্যদিকে ফেরত যাবার পথে তাকে ধাওয়া করা যেই লোকটাকে দেখালো, সে নিরোকে পরে মেরে ফেলে।
b) এঞ্জেলো মারা যায়, নিরো বেঁচে থাকেঃ একই ঘটনা, শুধু নিরোকে ধাওয়া করা লোকটা ওকে মারতে পারে না।
c) ও d) নিরো মারা যায়/বেঁচে থাকে, এঞ্জেলোও বেঁচে থাকেঃ
আপাতদৃষ্টিতে হয়তো মনে হতে পারে এঞ্জেলো মারা গিয়েছে, কিন্তু লক্ষ্য করুন – তার শেষ মুহুর্ত দেখানো হয় নি। গুলি যেকোন জায়গাতেই করতে পারে। এমন কি end-credit roll হবার পরে বীচের যে জায়গাতে এঞ্জেলোর থেমে যাওয়া দেখানো হয়, সেখানে তার শরীর দেখা যায় না। হ্যাঁ হতে পারে শরীর আর রক্ত সাগরে ভেসে চলে গিয়েছে। তবে এ-ও হতে পারে সে অন্য কোথাও চলে গিয়েছে হেঁটে হেঁটে। পায়ের ছাপ তো পানিতে মিশে যেতে পারে, এবং ঠিক এটাই দেখিয়েছে একদম শেষের দুই-তিন সেকেন্ডে। পায়ের বাকি চিহ্নগুলিও মুছে যায় স্রোতে।

তবে, এরকম অনেক অনেক clue দিয়ে রাখলেও, আমার নিজের যা মনে হয়েছে তা হল —
দুজনেই বেঁচে থাকে।

আর এটার পক্ষেই যুক্তি বেশি দেখানো হয়। কেন?
> দুজনের কেউই আরেকজনকে মারতে চায় নি শুরু থেকে, মারতে পারেও নি।
যতই ঘটনা ঘটুক, এঞ্জেলোর সুইসাইড প্ল্যান একদম ঠিকমত খেটে যাক, নিরো ৩ বার [ছোটকাল, থিয়েটারের সময়ে, এবং এরপর ওকে গালাসিয়াদের কাছ থেকে উঠিয়ে নেবার সময়ে/পরেও] সুযোগ পেয়েও মারে নাই।

> নিরোর ফেরত যাবার পথে খাবার ক্যান দেখে হাসি দেওয়া।
যতই মাফিয়া হোক বা খুন করে অভ্যস্ত হোক, চেনাজানা বা রিভেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপার হলেও কেউ আরেকজনকে মেরে ফেলার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদের পুরাতন স্মৃতি মনে করে এরকম “মন ভাল থাকা” হাসি দেয় না।

> এঞ্জেলোর শেষ দেখানো লোকেশনে বীচের বালু
পায়ের চিহ্ন বালুতে আছে, অথচ গুলি খেয়ে মরে গিয়ে থাকলে যদি মাটিতে পরে যেত, তাহলে শরীরের চাপে বালুতে আরও বেশি চাপ পরে ডেবে যেত। কিন্তু শেষ দৃশ্যে এমন কিছুই দেখায় নি। শুধু পায়ের চিহ্ন যেখানে শেষ সেখানে আর কিছুই নেই।

> গুলি খাবার পরে এঞ্জেলোর শরীর নিচে পরে যাবার শব্দ হয় নি, কিন্তু বালু ঠিকই উড়েছিল
এই সিরিজে মৃত্যুর মুহুর্তগুলি বেশ পরিষ্কারভাবে দেখানো + শুনানো হয়। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হলে মাটিতে পরে যাবার শব্দ একদম পরিষ্কারভাবেই শুনানো হয়ে এসেছে। কিন্তু শেষ দৃশ্যে এমন কিছুই শুনা যায় নি, অথচ বালি ঠিকই উড়েছে। বালিতে গুলি লাগার জন্যে বা বাতাসের বেগে সেই বালু উড়ে যাবার সম্ভাবনা তাই অনেক বেশি।

Open-ended পরিণতিগুলি এজন্যেই এত ভাল লাগে। সব কিছুই হওয়া সম্ভব – এরকম ধারণা দিলেও আসলে গল্পকারদের পছন্দ অনুযায়ী কোন পরিণতি ঘটে, সেগুলি অনেক অনেক হিন্টস দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়াও হয়ে থাকে একই সাথে; ঠিক যেমন Inception-এর শেষ দৃশ্য নিয়ে হাজার হাজার ব্যখ্যা থাকলেও আসলে কী হয়েছিল সেটা পুরা মুভি জুড়ে অজস্র হিন্টস দিয়ে শুরু থেকেই দেখিয়ে আসা হয়।

আশা করি এটার মতই আরও অনেক ভাল মানের অরিজিনাল সিরিজ পাব আমরা ভবিষ্যতে, আর সেগুলি ম্যাচুর গল্পের হলে তো কথাই নাই! এডাপশনের ভিড়ে ভাল মানের অরিজিনাল সিরিজ পাওয়া খুবই কঠিন এখন, তাই এই সিরিজ দেখে যেন অন্যান্য প্রস্তুতকারকরাও আগ্রহ পায়।

Maris the Chojo [OVA রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

maris-the-chojo

Name: Maris the chojo
Genere: Sci-fi, Comedy
Running time: 46 মিনিট

Rumiko Takahashi’র ১৯৮০ সালের ওয়ানশট মাংগা থেকে ১৯৮৬ সালের এডাপটেশন এই OVA টি। এটাকে “Loosely based Sci-fi” ও বলা যায়। চিরাচরিত সাই-ফাই থেকে এখানে পার্সোনাল এজেন্ডা বেশি মুখ্য ছিল।

Maris হল Inter galactic space patrol এর অধীনে কর্মরত একজন তরুণী। যে কিনা Thanatos নামক গ্রহে বাস করত। এই গ্রহে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে একটি স্পেশালিটি আছে। সাধারণ মানুষের চেয়ে ৬ গুণ বেশি শক্তিশালী এরা। কোন এক কারণে একসময় এই গ্রহ ধ্বংস হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তার আগেই ঐ গ্রহের মানুষদের সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তাদের সেই স্পেশালিটির কারণে তাদেরকে শেকল পড়ে থাকতে হত যাতে সেই পাওয়ার আনলিশ না হয়।
-যাই হোক একদিন এজেন্সি থেকে নির্দেশ আসে একটি কিডন্যাপিং কেস হ্যান্ডল করার। বিখ্যাত ধনকুবেরের ছেলে Maru Kogane কে কিডন্যাপ করেছে কে বা কারা। তাকে উদ্ধার করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে বেশ ভাল এ্যামাউন্টের টাকা পাবে। Maris এই দায়িত্ব পেয়ে খুশি হয়। কারণ তার মদ্যপ বাবার হিংস্র চালচলন আর মায়ের দেখভালের জন্য তাকে টাকা পাঠাতে হয় কিছুদিন পর পর। আর তার অসামান্য স্ট্রেংথের কারণে অলরেডি ৪টা স্পেসশিপ ধ্বংস হয়ে গেছে। যার দরুণ এজেন্সির পক্ষ থেকে বড় ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। এছাড়া তার নিজেরও এই জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসছে। তাই সে তার এ্যাসিস্টেন্ট নাইন-টেইল ফক্স Murphy’র সাথে রওয়ানা দেয়।
এক সময় কিডন্যাপারের কাছ থেকে কল আসে। সে আর কেউ না, তার একসময়কার প্রতিদ্বন্দ্বী Sue। যাকে সে রেসলিং এ হারায়। বাট থিংস গেট প্রিটি সিরিয়াস যখন জানা যায় তার এই কিডন্যাপে জড়ানোর কাহিনী। তো নানান ঝামেলা শেষে Maris পৌঁছে যায় Sue’ র বেইজমেন্টে। সেখানে আবার তাদের মধ্যে ছোটখাটো ম্যাচ হয়ে যায়। এরপরই ঘটে আন-এক্সপেক্টেড ঘটনা। Maris কি পারে ঐ ছেলেকে বাঁচাতে? শেষের দিকের টুইস্ট টার জন্যে হলেও পুরোটা দেখা উচিৎ বলে মনে করি। দেখার পর বারবার এটাই মাথায় আসবে Life is not a fairy tale.
-পুরোটা সময় নানা ধরণের কমেডিক এলিমেন্টে ভর্তি। এর মধ্যে ২-১ টা হয়ত ফোর্সড মনে হবে। কিন্তু বাকিগুলো ন্যাচারাল। কিছু হয়ত স্টুপিড মনে হতে পারে। কিন্তু ৮০’র এনিমে হিসেবে একটি OVA তে এর বেশি কিছু আশা করা যায়না। তবে যতটুক দরকার ততটুকুই আছে। আর আরেকটা মজার ব্যাপার হল গল্পের এক পর্যায়ে যখন তারা একটা গ্রহে ক্র্যাশ করে সেখানের কোন একটা বারের সামনে ডার্থ ভেডারকে (স্টার ওয়ার্স) জুস খেতে দেখা যায়। এছাড়াও অন্য এলিমেন্ট গুলো একদমই বোর হতে দিবেনা। এটা দেখে যে সময় নষ্ট হবেনা তা বলে দিতে পারি।
আর সাউন্ডট্র্যাকের ব্যাপারে বলব সেই পরিচিত ইউজুয়াল ৮০’র গান। শুনতে মজাই লাগবে। ওভারঅল হালকা ধাঁচের একটি এনিমে। দেখে খারাপ লাগবেনা।

ReLife [রিভিউ] — Zahin Mobashshir

relife-1

Anime: ReLife
Episode: 13
Genre: Romance, School, Slice of Life.

২৭ বছরের এক যুবক Kaizaki Arata। স্বদিচ্ছায় চাকরি ছেড়ে এখন বেকার জীবনযাপন করছে। বেকার বলে আজকাল সে আর ঘর থেকেও বের হয় না। তবে একদিন বন্ধুদের ডাকে সে সাড়া দেয় এবং বাসায় ফিরতে ফিরতে তার জীবন সম্পূর্ণরূপে পাল্টিয়ে যায়। সরকারের নতুন প্রজেক্টে কাজ করার জন্যে তাকে আহ্বান জানানো হয় এবং সে কি আর যেই সেই প্রজেক্ট! এ যে নতুন করে যৌবন অর্জন করার এক অভিনব আহ্বান।
স্বভাবতই বেকার যুবক Kaizaki ১ বছরের জন্যে মুফতে খাওয়া-দাওয়ার সাথে বছর শেষে একটা চাকরি লাভের আশায় সরকারের এই প্রজেক্টে কাজ করতে সম্মতি জানায় এবং শুরু হয় তার ReLife জীবন।
এই ব্যবস্থায় তাকে ফিরে যেতে হাইস্কুল লাইফে। তাকে ১৭ বছরের তরুন বানিয়ে হাইস্কুলের ৩য় বর্ষে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় এবং সেও প্রতিশ্রুতি মতো তার নতুন জীবন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী অতিবাহিত করতে শুরু করে দেয়।
এভাবেই শুরু হয় তার পুনরায় হাইস্কুল জীবন।
প্রথমদিন থেকেই তার বিভিন্ন কিম্ভূত কান্ডকারখানা দেখে সে রীতিমতো সবার নজর কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে তাই বাকি সহপাঠীদের সাথে পরিচিত হতে তার আর কোন বেগই পেতে হয়নি।

relife-3

এনিমেটার সেরা বিষয় হল প্রত্যেকটা ক্যারেকটারকেই খুবই সুন্দরভাবে তুলে ধরা। প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ডস্টোরি থেকে শুরু করে তাদের ক্যারেক্টার গঠন খুবই ভালো লেগেছে। এছাড়া এই এনিমে কমেডিগুলা খুবই মজার। বিশেষ করে এখানের ফানি ফেস গুলা থেকে না হেসে থাকাই যায় না। প্রায় প্রতি এপিসোডেই এইসব ফানি ফেসের দেখা মেলে।

পুরা কাহিনী আমার এত্ত ভালো লেগেছে যে এটা আরও অনেক অনেকবার দেখার ইচ্ছা আছে। এনিমেটার আর্টের প্রশংসা না করলেই নয়। এনিমেটা দেখলে অবশ্যই ৭২০পিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা হল।

এনিমেটার ওপেনিং এন্ডিং ভালোই লেগেছে। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। প্রতিটা ফানি ফেস দেখানোর সাথে থাকত খুবই উপযোগী কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

সর্বপরি এনিমেটা উপভোগ না করা প্রায় অসম্ভব। আর পুরা এনিমেটি যখন শেষ হয়ে আসবে তখন আপনাদের জন্যে উপস্থিত হবে ঠিক তখনই যেন আপনাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়বে।

যারা দেখেননি তারা শীঘ্রই এনিমেটা দেখে ফেলুন। আর যাদের কোন কারনে মন খারাপ, কাজের চাপে জীবন অতিষ্ঠ, কিছুই ভালো লাগে না; তাদেরকে বল্ব আপনারা এখনই এনিমেটা দেখে ফেলুন এবং নিজেদের চাঙ্গা করে তুলুন।

relife-4

Tsumiki no Ie/The House of Small Cubes [মুভি রিভিউ] — Anoy Lawliet

tsumiki-no-ie-1

১২ মিনিট

হ্যাঁ ১২ মিনিটই প্রয়োজন ।

MAL সাইটের এক ব্যাক্তির সাথে একমত হতেই হচ্ছে ২৬ পর্বের দরকার নেই। ১৩ পর্বও হতে হবে না । দরকার নেই ১ ঘণ্টা হওয়ার । আপনার দরকার মাত্র ১২ মিনিট।
এই ১২ মিনিটে বুঝিয়ে দিবে আপনার জীবনের কঠিন সত্য, সুন্দর ও শান্ত সময়গুলো (একই সময়ে)। Le Maison en Petits Cubes (The House of Small Cubes) হল এর বড় প্রমাণ।

এটি একটি Oscar বিজয়ী ছোট মুভি (হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়েছেন, ২০০৯ সালের সেরা এনিমেটেড ছোট মুভি বিভাগের বিজয়ী এই এনিমেটি) যা একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তির ভবনের তলা তৈরি করে পানি থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে। ভুলবশত তার তামাক খাওয়ার পাইপটি ঢুবে যাওয়া ভবনের তলায় পড়ে যায়। প্রিয় পাইপটি ফিরিয়ে আনার আশায় ঢুবে যাওয়া ভবনের যতো নিচের দিকে যেতে থাকে তার স্মৃতিগুলো ততো হানা দিতে থাকে। প্রতিটি তলা যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়। জীবনের চলে যাওয়া অমূল্যবান সে সময় যা মিশে ছিল অটুট হাসি আর কান্নাদিয়ে ফিরে আসতে থাকে।

tsumiki-no-ie-2

এক ঘণ্টার চার ভাগের এক ভাগেরও কম সময় হওয়ার অনেক গল্পই হয়তো তুলে ধরতে সক্ষম হয়নি কিন্তু তারমানে এই নয় যে কাহিনীতে অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তি দ্বারা উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের অতীত ভালোভাবে তুকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এই মুহূর্তে যদি আপনাকে বলা হয় এই সময়টিই আপনার জীবনের শেষ সময় তাহলে মাটিতে নিচে নিয়ে যাওয়ার মতো মুহূর্তগুলো কি হবে? আপনার প্রিয় মুহূর্তগুলো কি? যদি আপনি আজই মারা যান তবে আপনার মাটির উপর কাঁদার কেউ রয়েছে কি?

tsumiki-no-ie-3

না এই মুভিতে কোন ভয়েস নেই। তবে প্রতিটি মুহূর্তের সাথে এমন কিছু ভায়োলিন আর গিটারের সুর দেওয়া হয়েছে যা আপনাকে খুশি করে চোখ বন্ধ করে দিতে বাধ্য। নেই কোন উচ্চমাত্রার এনিমেশন স্টাইল। তবে আমি আশ্বাস দিয়ে বলতে পারি এতে আপনার মজা একটুও নষ্ট করবে না।

অবশেষে রেটিং যা না বললেই নয় । কোন ভাবনাচিন্তা ছারাই মন থেকে চলে আসবে ১০/১০

tsumiki-no-ie-4

Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu [রিভিউ/রিঅ্যাকশন] — Tahsin Faruque Aninda

Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu
Tag: Psychological, Thriller, Groundhog Loop

2-1

Re:Zero, or more like Rem = Zero :))

Yeah I had to do it, sorry for that…

এই বছরের অন্যতম হাইপ পাওয়া সিরিজ, এবং সব জনপ্রিয় বা মেইনস্ট্রিম সিরিজের মতই একগাদা সাপোর্টারের পাশাপাশি একগাদা হেটারও জন্মেছে এটার। এটাই আসলে এই যুগের আনিমের ভাগ্যে জুটবার মত সবচাইতে স্বাভাবিক ঘটনা, হয় সিরিজটা মোটামুটি, নাইলে বেশিইইই ভাল+খারাপ, আর কিছু নাই।
এত সব আলোচনা, সমালোচনার ভীরে পক্ষে-বিপক্ষের কথা অনেক শুনা হয়ে গিয়েছে হয়তো, তাই আমি বরং পুরান কথা আবার আওড়ানোর বদলে নিরপেক্ষভাবে সিরিজটার ভাল-খারাপ কিংবা সিম্পল-স্পেশাল জিনিসগুলি নিয়ে আমার আলোচনা পোস্ট শুরু করি।

সিরিজটা নিয়ে অনেক অনেক আগেই যখন ঘোষণা আসে, তখনই এর সিনোপসিস পড়ে বুঝতে পারি সিরিজটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার মত একটা কিছু হবে, হয় সেটা ভাল কারণে না হয় খারাপ কারণে। গল্পের নায়ক কোন এক কারণে হঠাত বাস্তব জগত থেকে এক ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসে, যা কিনা এখনকার যুগের লাইট নোভেল আর আনিমের মধ্যে সবচাইতে কমন থিম। তবে গল্পের মূল আকর্ষণ হল এই যে, নায়কের মৃত্যু হয়ে থাকলে অতীতের কোন এক সময়ে ফেরত চলে যাবে সে। অর্থাৎ গ্রাউন্ডহগ লুপ, যার ট্রিগের হয় নায়কের মৃত্যুর মাধ্যমে – অনেকটা গেমের মত, যেখানি আপনি খেলার সময়ে মৃত্যুবরণ করলে এরপর আগের কোন এক সেইভ পয়েন্ট থেকে কন্টিনিউ করতে পারবেন। তবে এরকম থিম নিয়ে গল্প হলেও এটা আবার এই যুগের আরেক জনপ্রিয় জনরা গেম + ফ্যান্টাসির মধ্যে পরে না। আর এই আইডিয়াটাই গল্পটাকে জনপ্রিয় করার জন্যে একটা বড় উপাদান!

প্রথম পর্বটাই double episode করার মাধ্যমে বুঝা যায়, প্রস্তুতকারকেরা সিরিজটাকে একদম ঠিকমত দর্শকদের কাছে তুলে ধরার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছে। White Fox স্টুডিওকে কৃতিত্ব দিতে হবে সিরিজটাকে চমৎকারভাবে তৈরি করবার জন্যে। অ্যানিমেশন, মিউজিক, ক্যারেক্টার আর্ট — সবকিছুতেই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে তারা। অতএব, প্রোডাকশনের দিক থেকে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই।

এবার আসি গল্পের কথায়। শুরুর দিকে দর্শকদের কাছে এটাকে “আরেকটি টিপিকাল ফ্যান্টাসি আনিমে” এরকম একটা আইডিয়া দিয়েই শুরু করেছে গল্পটি, তবে তার প্রধাণ কারণ যেন কয়েক পর্বের মধ্যেই সেই ভুল ভাংতে পারে। Travel to Fantasy World এই আইডিয়ার গল্পগুলার একটা Deconstruction সিরিজ হিসাবে Re:Zero বেশ ভাল ভূমিকা রেখেছে। এরকম গল্পে নায়ক যেমন সেরাদের সেরা, অদ্বিতীয় অপরাজেয়, এরকম ধারণা থেকে শুরুতেই বের হয়ে আসে যখন দেখা যায় গল্পের নায়কের প্রায় কোন ক্ষমতাই নাই কোন কিছু নিয়ে, একটা মাত্র জিনিস বাদে। তবে সেই একটা ক্ষমতাই অবশ্য সবচাইতে বড় Deus Ex Machina, আর তা হল Return by Death. Basically, নায়কের মৃত্যু হলে আগের একটা জায়গায় ফেরত আসবে, আর নায়কের মৃত্যুর আগের সব ঘটনা শুধু তারই মনে থাকবে, অন্য কেউ কিছু জানবে না। এই ক্ষমতাটাই বিশাল বড় একটা ব্যাপার হতে পারে, যদি সেটা ভালমত ব্যাবহার করতে পারা যায়। আর এইটা নিয়ে আমার প্রথম আপত্তিঃ শুধুমাত্র plot convenience-এর জন্যে আমরা দেখতে পাই “কী করবো, কেমন করবো” এরকম ধারণা নিয়ে চলা নায়ক বারবার মৃত্যুর পর যেবার বেঁচে থেকে পুরা একটা অধ্যায় শেষ করতে পারবে, সেই সময়ে অকল্পনীয়ভাবে মারাত্মক কঠিন সব সমস্যার সমাধান অনেক ভাল ভাল সমাধান দিতে পারে। অবশ্য গল্পের শেষের দিকে গিয়ে এই পরিস্থিতিতে একটু লাগাম পরানো হয়ে থাকে, তাই এইটুক ব্যাপার গল্পের শেষ পর্যন্ত আর বড় issue হয়ে উঠে নাই।

এখানে একটা জিনিস বলে রাখতে চাই, কোন সমস্যার সমাধান না হলে মৃত্যুর মাধ্যমে আবার পিছে ফিরে গিয়ে সেটা ঠিক করে দেওয়া যায় – এই ব্যাপারটাকে ছেলেখেলা হিসাবে দেখানো হয় নাই। মৃত্যু জিনিসটা অনেক কঠিন আর painful, আর সেটা নায়কের সাথে সাথে দর্শকও অনেক ভালভাবে বুঝে উঠতে পারবে। তাই Return by Death এই আইডিয়াটাকে অহেতুক স্প্যামিং করবে এরকম ভেবে থাকলে চিন্তামুক্ত হতে পারবেন যে যতটুকু দেখানো হয়, সেটা বেশ “বাস্তবসম্মত”ভাবেই দেখানো হয় [অর্থাৎ যদি বাস্তব হত আর কি! LOL KEK LOL]। আর মৃত্যুর ব্যাপারগুলি সেন্সরিং করে নাই, gore অনেক আছে, এইটার জন্যে White Foxকে আবার ধন্যবাদ দিতে হয়।

আনিমেটির এই সিজনে ৩টি আর্ক দেখানো হয়। গল্পের পেসিং শুরুর দিকে ভালমত আগাতে থাকলেও ২য় আর্কে এসে একটু ঝিমিয়ে পরে। অবশ্য ৩য় আর্ক থেকে সেটা আবার ভালভাবে আগাতে শুরু করে। আর প্রথম ২ আর্ক মোটামুটি হলেও ৩য় আর্ক বেশ চমৎকার হয়ে উঠে, এখানে দেখানো psychological aspect অনেক বেশি ভাল লেগেছে।

চরিত্রদের ব্যাপারে আসি এবার। প্রথমেই বলে রাখি, নায়ক Subaru বেশ বিরক্তিকর, এবং এটা আসলে গল্পের জন্যে ভাল মানিয়েছে। কারণ বিরক্তিকর একটা চরিত্র হবার কারণেই তার ক্যারেক্টার ডেভপমেন্ট খুব ভালমত হতে পেরেছে। বারবার মৃত্যুর ভয়াবহতা একটা irritating brat-কে কিভাবে শারীরিক আর মানসিকভাবে একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটা গল্পের ৩য় আর্কে গিয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। তবে সিরিজে সবচাইতে ভাল ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট যদি কারও হয়ে থাকে, সেটা এই মুহুর্তে আনিমে জগতের সবচাইতে জনপ্রিয় ক্যারেক্টার Rem-এর। Also, Rem is pretty much the MVP of this series. গল্পের আরেক প্রধাণ চরিত্র Emiliya-এর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট আরেকটু ভাল হতে পারতো। তার স্ক্রিনটাইম আরও কিছু বেশি হওয়া উচিত ছিল। বাকি চরিত্রদের উপস্থিতিও ভালভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।

বেশ ভাল ভাল অনেকগুলি দিকের কথা তুলে ধরলাম, এবার তাহলে সিরিজটির কিছু short-coming নিয়ে কথা বলা যাক। ২৫টা পর্ব দেখার পর একটা প্রশ্নই মনে জাগবে, গল্পের আসল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য কী? এরই মধ্যে অনেক অনেক নিউজের মাধ্যমে সিরিজটা না দেখা আনিমে দর্শকেরাও জেনে গিয়েছেন যে কাহিনী প্রথম সিজনে যেখানে শেষ হয়েছে তারপর গল্পে আরও অনেক অনেক কিছু আছে। প্রথম সিজনটা পুরা গল্পের অর্ধেকও না। অনেকে আবার একটু বাড়াবাড়ি করে বলে বসবে এটা প্রোলগ।
কথা হল, এটা প্রোলগ না। হ্যাঁ, গল্পের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র, কিন্তু প্রোলগ না। আর প্রোলগ হোক বা না হোক, যত বিশাল বিশাল গল্প আছে সেগুলির দিকে তাকালেও আপনি দেখতে পারবেন যে গল্পের মধ্যে অল্প কিছুদূর যাবার পরেই গল্পের শেষ পরিণতি বা মেইন ফোকাস কী তা জেনে গিয়েছেন। এরপর গল্প কিভাবে সেই লক্ষ্যের দিকে আগায় সেটা দেখার ব্যাপার। খুব বেশি খুঁজবার দরকার নাই, বিগ ৩-এর দিকেই তাকান, দেখবেন যে নারুতোর শুরুর দিকেই আমরা জেনে গিয়েছি গল্পের লক্ষ্য হল নারুতোর হোকাগে হওয়ার স্বপ্নপূরণ, ওয়ান পিসে লুফির পাইরেট কিং হওয়া, কিংবা ব্লিচের জন্যে ইচিগোর দলের লক্ষ্য আইজেনকে থামানো। রিঃজিরো এত বড় গল্প না, তারপরেও ২৫ পর্ব দেখে উঠার পরেও বুঝতে পারবেন না আসলে গল্পের ফোকাসটা কোথায়। সুবারুর প্রধাণ লক্ষ্য কী শুধুমাত্র নায়িকার মন জয় করা, নাকি ফ্যান্টাসি দুনিয়ায় নিজেকে অদ্বিতীয় এক “খেলোয়াড়” হিসাবে তুলে ধরা, নাকি নিজের বাস্তব জগতে ফিরে যাওয়া… এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন জেগে উঠবে। হ্যাঁ, প্রথম সিজন বলে এখনই অনেক উত্তর অজানা থেকে যাবে এটাই স্বাভাবিক, পরের কোন সিজন [যদি বের হয়] আমাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিবে, তবে গল্পের আসল উদ্দেশ্য কী এটা বুঝে উঠতে না পারা একটা বড় হতাশার কারণ হতে পারে।

আরেকটা বড় issue হল, সুবারু প্রথম পর্বের শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস্তব জগত থেকে হঠাত করে ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসলো, এরপর তার রিএকশন দেখে অনেক বেশি অবাক হতে হয়। এক দুনিয়া থেকে তুলে এনে আরেক দুনিয়ায় ফেলে দেবার পর নতুন জগতে কেন আসলাম, পুরান জগতের কী হল, হঠাত এরকম উলটাপালটা হয়ে গেল কেন সবকিছু – এরকম মনে হওয়া যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে সুবারু যেন ব্যাপারটাকে ডালভাত গিলে ফেলার মতই স্বাভাবিকভাবে নেয়; বা জাপানিজ টার্ম অনুযায়ী, র‍্যামেন ঢকঢক করে গিলে ফেলার মত মেনে নেয় (যেটা কল্পনা করতে আপনার সুবিধা হয়)। আর গল্পের অনেকদূর পর্যন্ত গিয়েও নায়কের এইটা নিয়ে আর কোন ভাবনা করতে না দেখাটাও তাই একটু হতাশাজনক লাগে।

প্রথম সিজনের গল্পের এন্ডিং নিয়ে অনেকের অনেক মত থাকতে পারে, তবে আমার মতে, একটা ভাল এন্ডিং হয়েছে। “প্রথম” সিজন, বা ইনকমপ্লিট গল্প — এসব হয়ে থাকার পরেও ক্লিফহ্যাঙ্গার না টেনে বরং একটা ভাল সিজন ফিনালি দিতে পেরেছে। গল্প এখানেই পুরাপুরি শেষ করে দিলেও খুব বেশি চোখে লাগবে না হয়তো।

মিউজিক আর গানের কথা আলাদাভাবে বলি আবার। OST এর ব্যবহার যথোপযুক্ত হয়েছে, ED 1, OP 2 এই দুইটা এত বেশি ভাল হয়েছে যে বছরের সেরা গানের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে এ দুটি। MYTH & ROID এর জন্যে ২০১৬ সালটা Hit আর Hit দিয়েই ভরা!

এখন একটা কথা বলে রাখি, মেইন্সট্রিম বা অতিরিক্ত জনপ্রিয় হলেই সিরিজটার প্রতি বিরক্তি পোষণ না করার আহ্বান জানাই। মেইন্সট্রিম জিনিসকে ঘৃণা করাও কিন্তু অনেক বেশি মেইন্সট্রিম হয়ে গিয়েছে এখন। এটা সত্যি, যেকোন সিরিজের ফ্যানবেজের বাড়াবাড়ি আচরণের কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক দর্শকের জন্যে সেটা বিরক্তিকর লাগতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সেগুলি ইগনর করতে পারেন। কোনরকমের বদ্ধ ধারণা নিয়ে দেখতে না বসে বরং রিলাক্স মন নিয়ে নিজে সিরিজটি দেখুন, তাহলে অন্যদের দেওয়া মত বারবার না আওড়িয়ে বরং নিজেই নিজের মত দিতে পারবেন। ভাল লাগলো না খারাপ, নাকি মিডিওকর, নিজেই সেটা বিচার করতে পারবেন।

সিরিজটি নিয়ে আমার মতামত শেষ করি দুটি প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমেঃ

> Re:Zero কী Masterpiece?
– না। Masterpiece হবার জন্যে আরও অনেক কিছু দরকার। সবার আগে দরকার গল্পটা শেষ হবার। ইনকমপ্লিট গল্পকে মাস্টারপিস দাবী করার মানে নেই। গল্পের মাঝপথে অনেক কিছুই ভাল লাগতে পারে, শেষে গিয়ে ভরাডুবি হলে একদম মত উলটে যেতে পারে। তাই আগে নতুন সিজন আসুক, গল্প শেষ হোক, তখন এই প্রশ্ন তুলবার সত্যিকারের সময়, এখন নয়।
আর গল্পের লেখক আনিমের এই জনপ্রিয়তা দেখে বলেছেন যে যথাসম্ভব খাটুনি দিয়ে যাচ্ছেন, আর আশা করছেন যে সামনের চার বছরের মধ্যে গল্পটি শেষ হবে। চার বছর বেশি সময় না কিন্তু; Shingeki no Kyojin প্রথম সিজন শেষ হয়ে যাবার চার বছর পর দ্বিতীয় সিজন আসতে যাচ্ছে সামনের বছর। Re:Zero-এর ক্ষেত্রেও দেখতে দেখতেই সময় চলে যাবে দ্বিতীয় সিজন আসার আগে।

> মাস্টারপিস না হলে Re:Zero কি তাহলে ভাল হবে?
– শুধু কি সেরাদের সেরা হলেই একটা জিনিস দেখার উপযুক্ত হয়? কোন সিরিজ ভাল হবার জন্যে সেটাকে তো সর্বকালের সেরা হবার দরকার নেই। সব মিলিয়ে ভাল একটা সিরিজ হলেই সেটা অনেক উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আর কোন সিরিজ যদি মেইন্সট্রিম হয়ে উঠে, নিশ্চয়ই সেটার মধ্যে এমন কিছু আছে যা “মেইন্সট্রিম” বা “বেশিরভাগ দর্শক”ই উপভোগ করতে পেরেছে, তাই না!?

অতএব সিরিজটি দেখুন। এই বছরের অন্যতম সেরা আর বিনোদনপূর্ণ সিরিজ। বছরের ১ নম্বর স্থান দখল করবে কি করবে না সেটা একেকজনের একেক মত, তবে সব কথার শেষ হল, আমরা মুভি, সিরিজ, আনিমে – এগুলি দেখি বিনোদন পাবার জন্যে। আর বিনোদনের জন্যে এই সিরিজটি অনেক ভাল একটি চয়েস হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।

Great Teacher Onizuka (G.T.O) [রিভিউ] — Portgas D. Soumik

gto-1

Anime: Great Teacher Onizuka (G.T.O)
Genre: Comedy, Slice of Life
Episode: 43
MAL Rating: 8.77
Personal Rating: 9.50

আমাদের প্রায় সবারই টিচার দের নিয়ে কম বেশি অনেক স্মৃতি আছে। কিন্তু এমন টিচার কখনো দেখেছেন যে কিনা ছাত্রদের কাছ থেকে eroge magazine বাজেয়াপ্ত করে আবার ওই ছাত্রদের সাথেই তা পড়ে…..আবার যে কিনা মাঝরাতে খালি গায়ে আর হাতে হাতুড়ি নিয়ে ছাত্রীর বাসায় যায় হোম ভিজিট করতে….আবার যে কিনা তার ছাত্রদের বাচাতে একবার না দুইবারও না.. তিন বার বিল্ডিং থেকে লাফায়ে পরে!!!!

বলছিলাম Eikichi Onizuka এর কথা…. ২২ বছর বয়স,ব্যাচেলর, সাবেক মোটরবাইক গ্যাং লিডার,ভয়ংকর পার্ভার্ট এবং………..টিচার!!!!!

gto-2

হঠাৎ করেই তার ইচ্ছে জাগে টিচার হওয়ার (মূল উদ্দেশ্য ৪০ বছর বয়সে যাতে ১৬ বছর এর বউ খুজে পায় তার ব্যবস্থা করা)
একসময় সে টিচার হিসেবে নিয়োগও পায় এক স্বনামধন্য প্রাইভেট স্কুলে(যদিও তা অত্যন্ত ঘটানাবহুল ইন্টার্ভিউ এর মাধ্যমে)
স্কুলে তাকে দেয়া হয় ক্লাস 3-4 এর হোমরুম টিচার এর দায়িত্ব… এই ক্লাস 3-4 এর আবার পুরো স্কুলে সুনাম(!) আছে টিচার বিতাড়ন,bullying সহ আরো নানান কাজকর্ম এর
স্কুলের চেয়ারম্যান এর বিশ্বাস একমাত্র ওনিজুকা সেন্সেই পারবে এই problem child দের সামলাতে আর স্কুলকে শুধু পড়াশোনার পাশাপাশি মজা করার জায়গাও করে তুলতে

গ্রেট টিচার ওনিজুকা এর গল্প মূলত ওনিজুকা সেনসেই আর তার ক্লাস 3-4 এর ছাত্রদের মাঝের সম্পর্ক, তাদের নানা সমস্যা এবং ওনিজুকা সেনসেই এর উদ্ভট সব সমাধান এসব কিছু নিয়েই গড়ে উঠেছে

আবার টিচাররাও যে মানুষ তাদেরও যে ভুল হতে পারে… তারাও যে ছাত্রদের নিয়ে নানা রকমের সমস্যায় পড়েন তাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে

GTO মূলত জীবন ভিত্তিক স্লাইস অফ লাইফ এনিমে যেখানে টিচার আর ছাত্রদের মধ্যকার সম্পর্ক, শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি হাসি ঠাট্টার মাঝে তুলে ধরা হয়েছে

যারা সিরিয়াস এনিমে দেখতে দেখতে ক্লান্ত এবং যারা লাইট,রিফ্রেশিং আর দম ফাটানো হাসির কিছু দেখতে চান তাদের জন্য এইটা মাষ্ট ওয়াচ

আর হ্যা এনিমেটা একটু পুরনো হওয়ায় এইটার আর্টস্টাইল আর এক্সপ্রেসন গুলো কিছুটা odd লাগতে পারে তবে আমি বলব এইটাকে এর কমেডির অংশ হিসেবে দেখতে

যারা Assassination classroom দেখেছেন তাদের অবশ্যই এই মাষ্টারপিস দেখা উচিৎ

Gintama Fanfiction: প্যারোডি — Rahat Rubayet

গিন্তোকি, কাগুরা আর শিনপাচি ৩ জনই তাদের অফিস রুমে বসে আছে! ওয়েল, তাদের অফিস রুমের বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা অন্যকোন দিনও করা যাবে। তবে, তাদের রুমের একপাশে একটি ১৭ইঞ্চি মনিটর সমেত কম্পিউটর আর তাতে ইন্টারনেট কানেকশান যে এসে পরেছে, তা জানানো প্রয়োজন। ৩ জন মিলে সেই মনিটর স্ক্রীনের দিকে ১ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নেট কানেকশন নিয়েই একটা ডোমেইন আর হোস্টিং নিয়ে একটা ফোরাম খুলে ওরা। ইতিমধ্যে বেশ ভালই সাড়া ফেলে দিয়েছে, শিনসেংগুমির প্রায় সবাইই ফোরামে জয়েন করেছে।
আজ সেই ফোরামে একজন কেউ একজন তাদের নিয়ে একটা ফিকশান পোস্ট করে বসে আছে! তাই ৩ জনে মিলে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে তা খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছে কোথাও উলটপালট কিছু লিখেছে কিনা! লিখা পড়তে পড়তেই হটাত, নতুন নোটিফিকেশন আসল, শিনসেংগুমির একজন হাতে আকা একটা ছবি পোস্ট করেছে!
লিখাটা রেখে ছবিটায় ক্লিক করল, গিন্তোকি!
ক্লিক করতেই মুখ দিয়ে অস্ফুটভাবে বেরোয়, “আরে….”
-“কি হল গিন-সান”
-“এই পুলা আবার আমাদের রাইখে ফুলমেটালের ক্যারেক্টার এর ফ্যান আরট আকসে! এত্ত কষ্ট করে, এত্ত এত্ত প্যারোডি বানায়ে এত্ত কমেডি কইরে মাই এনিমে লিস্টের ১ নম্বরে আসলাম- আর……… “

এই পর্যায়ে শিনপাচি তার চশমা ঠিক করতে করতে বলে, “গিন-সান, মাংগা আর এনিমেগুলার একটা আরেকটার প্রতি পারস্পরিক সম্মান রাখাটা উচিত, না হলে ফ্যান্ডমে খুনোখুনি বেধে যাবে! আর তাছাড়া,……… ” এইটুক বলে একটু রহস্যময় একটা লুক দেয় পাঞ্চলাইন-মাস্টার শিনপাচি।
“আর তাছাড়া,….??” অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে কাগুরা।
“তাছাড়া, মাই এনিমে লিস্টের টপ পজিশন আর আমাদের দখলে নেই। গেল হপ্তায় নূতন একটা এনিমে মুভি আমাদের কাছ থেকে এই পজিশন ছিনিয়ে নিয়েছে!”
“না, না না!!! এ হতে পারে না, চৌধুরী সাহেব! এ ঘটনা ঘটার আগে আমি কেন বেচে উঠলাম না!” বলে বিলাপ করতে থাকে কাগুরা।
“ওয়ে, কাগুরা! এইসব বাংলা সিনেমার ডায়লগ দিয়ো না! এইসব উলটাপালটা ডায়লগ শিখলেই বা কই থেকে”
“আরে, আমি কি করবো, ধুর! স্ক্রিপ্টে তো অমনই লিখে রেখেছে! সব ওই নচ্ছার লেখকের কারসাজি! সেইদিন আমার ইতাচিকুনকে পচায়ে কি প্যারোডিই না করলো এক লেখায়!”
” ওয়ে কাগুরা! শান্ত হও! আমরা এখনো তার লেখার ভিতরেই বন্দী। কাজেই ওকে নিয়া উলটাপালটা কিছু বলা ঠিক হবে না!”
এবার কথা পারলো শিনপাচি ” তাছাড়া, নারুতো এনিমেটা শেষ এর দিকে- আমার মনে হয়, আমাদের একটা ট্রিবিউট এর মতন দেয়া উচিৎ, গিনসান!”
-“হুম, বোকু নো হিরো আকাদেমিয়া থেকে এট্যু যেড কপি করলেও ফিলার দিয়ে এনিমেটা সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে”, বলে চলে গিন্তোকি সাকাতা “তাই আমাদের উচিৎ কিশিমোতো সেন্সেইর প্রতি একটা ট্রিবিউট দেয়া!”
“হুম হুম, ইতাচি আর ইতাচি শিপ্পুডেন এনিমেটা আসলেই সর্বকালের সেরা এনিমে” যেন ঘোষনা করল কাগুরা।”
“কিন্তু, গিনসান! তাহলে তো আমাদের ব্লিচ নিয়েও একটা প্যারোডি থুক্কু ট্রিবিউট দেয়া উচিৎ।”
গিন্তোকি উত্তর করে, শিনপাচির উদ্দেশ্যে, “না! কারন, এই ফিকশানের লেখক নারুতো এনিমের ফ্যান- ব্লিচের ফ্যান না! আমরা যদি ব্লিচ নিয়ে কিছু করতে যাই- নগদে খায়ে দেবে লেখক”
-“কিন্তু, গিনসান আমার তো ব্লিচের একশন বেশি ভাল্লাগে। ইভেন, আমার কাছে ব্লিচ ইজ বেটার দ্যান……………”
………………
………………
দু:খিত যান্ত্রিক গোলযোগ আর মব সাইকোর ১০ম এপিসোড দেখার জন্য ফ্যানফিকের রাশ এন্ডিং টানতে বাধ্য হলেন লেখক!

দ্রষ্টব্য : (সথাসম্ভব সংক্ষেপিত আর প্রচন্ড মাত্রায় পরিমার্জিত)

Black Joke [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

black-joke

ডার্ক, গোর, নুইডিটি আর সেইনেনের সাথে রসিকতার মিক্সে যে মাফিয়া নিয়ে এমন মাঙ্গা আছে কেই বা জানতো!? আন্দাজে উড়াধুরা মাঙ্গা সিলেক্ট করে পড়ার সময় পাইলাম এই কালো হীরা! মাসুদ রানার চাই ঐশ্চর্যর কথা মনে পড়ছিল এই মাঙ্গা পড়ার সময়।

এই মাঙ্গার কাহিনী হল জাপান U.S.A এর ৫১নাম্বার রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এবং সেখানের চলে মাফিয়াদের রাজত্ব। এই শহরে ড্রাগ চালান, দেহব্যাবসা সব লিগাল। জুয়াবাজি তো ডালভাত! তো এইখানে মূল ২ চরিত্র হল কিরা আর কোডামা, তারা এক ক্যাসিনোর ব্যাবস্থাপনায় যুক্ত। কিরা লম্বা, অতি সুদর্শন, চার্মিং, প্লেবয়, বহু ভাষায় পারদর্শী এবং শার্লকের মত অবজারভেশন ক্ষমতা। তার সহযোগী কোডামা। এর বডি যেন গ্রীক গড অফ ওয়ারের মত। শ্রীকান্তের ইন্দ্রের মত এর হাতের দৈর্ঘ এর হাটু পর্যন্ত। এবং তার মাথার চাইতে তার হাতের মুষ্টি বড়। তাদের বিভিন্ন মিশন নিয়েই কাহিনী।

আরও আছে স্যাডিস্টিক এসাসিন ললিতা আর পঙ্গু খুনে মাফিয়া বস আরও অনেক।
এই মাঙ্গাতে একটা ভালো বা সত্‍ ক্যারেক্টার নাই। সবাই শয়তান এবং সবাই ব্যাডাস! এইটার কাহিনী খুবই ইন্টারেস্টিং, কিরার বুদ্ধি আর কোডামার শক্তি দেখার মত জিনিস!!! তবে একটা কথা বলতে হচ্ছে এইটা প্রচুর ডির্স্টাবিং। এর আর্ট কাহিনীর সাথে পুরোপুরি মানায় । আর্ট ফ্রেশ এবং ডিটেইলড। এই মাঙ্গাতে অনেক রেফারেন্সও আছে যেমন পাল্প ফিকশান এবং ওল্ড বয়। নগ্নতা আর গোরে ভরা ফলে অনেকেরই ঘেন্না লাগতে পারে। তবে এর একশান এবং কিলিং সিনগুলা অস্থির। শিরদাঁড়া বের করে ফেলা, গুলি লেগে ধীরে ধীরে মগজ চোখ বের হয়ে যাওয়া, আইসক্রিমের চামচ দিয়ে চোখ তুলে ফেলা এইসব। এই মাঙ্গা পড়ার জন্য ১৬ প্লাস হওয়া উচিত এবং সবার হজম হবে না এটা আগেই বলে দিলাম, পরে বকতে পারবেন না কিন্তু! যার গোর, মাফিয়া এবং ইচ্চি ভক্ত তারা অবশ্যই পড়বেন। কমপ্লিট না। তবে আপডেট অনেক দেরীতে আসে। তবে এক বা ২ চ্যাপ্টারে এক একটা কাহিনী তাই পড়ে শান্তি আছে। আশা করি ভালো লাগবে পড়ে!

Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya) [মুভি রিভিউ] — Etminan Kabir

the-tale-of-the-princess-kaguya

Movie: Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya)
Duration: 2 hr 17 min
MAL Score: 8.39

নার্সারিতে পড়তে একটা বই প্রাইজ পেয়েছিলাম- ‘ফোক টেলস অফ বেঙ্গল’। বই পড়ার খুব নেশা ছিল তখন, শেষ করতে বেশিদিন লাগে নি (কোন ক্লাসে পড়েছি মনে নেই)। রাজা-রাজকন্যা, সোনার কাঠি-রুপোর কাঠি, রাক্ষস-পেত্নি…গল্প পড়ার সময় আমি সত্যি সত্যি বিভোর হয়ে যেতাম, মনে হত চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছি। সে থেকেই রুপকথার প্রতি আমার আগ্রহ; এর উপর বিদেশী অনেক গল্প পড়েছি, মুভি-এনিমেশন দেখেছি; কিন্তু আজকের অভিজ্ঞতা পুরো আলাদা।
মুভিটি নিয়ে বলতে চাইলে প্রথমেই এর এনিমেশনের কথা আসবে, আর ট্রেইলারে এই আর্ট স্টাইল দেখেই আমি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়েছি। প্রতিটি সিন অনেকটা মোমরঙে আঁকা ছবির মতো, মনে হবে হয়তো সময় ছিল না হাতে, তাড়াহুড়ো করে শখের কোন আঁকিয়ের আঁকা। কিন্তু এর মাঝে যে কী ছিল! মুভিটি দেখার সময় বারবার আর্টের দিকে চোখ পরছিল, কাহিনীর দিকে খেয়ালই নেই। ‘রুপকথা’ থিমের সাথে মিলিয়ে এর চেয়ে মানানসই এনিমেশন বোধ হয় সম্ভব না। ছোটবেলায় দাদীর কাছে গল্প শোনার সময় মনে যেমন ছবি ভাসে, এর আর্ট ঠিক সেরকম।

গল্পের কাহিনী খুবই সুন্দর, পরিপক্ব। গরিব কাঠুরে(!), বাঁশ কেটে জীবন চালায়, বাঁশ কাটতে গিয়ে একদিন অতিপ্রাকৃতভাবে ছোট্ট এক মেয়ের দেখা পায়। দু হাতের মাঝে এঁটে যাওয়া মেয়েটিকে আশীর্বাদ ভেবে সে বাড়িতে নিয়ে আসে। বুড়োবুড়ি মিলে ঠিক করে এখন থেকে নিজের মেয়ে হিসেবে বড় করবে তাকে। এরপর থেকে তাদের জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেল, বুড়ো মাঝে মাঝেই বাঁশ কাটতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত সব জিনিশ পায়। তার ধারণা হয়- মেয়েটিকে ‘noble princess’ হিসেবে বড় করার জন্য স্বর্গ তাকে আদেশ করছে। যে মেয়েটি গ্রামের আর ১০টি ছেলেমেয়ের মতো নেচে-কুঁদে বেড়াত তার স্থান হয় শহরের এক জমিদার বাড়িতে। বুড়ো বাবা স্বপ্ন দেখে ‘noble princess’ হবার মাঝেই মেয়ে সুখ খুঁজে পাবে, আর মেয়ে খাঁচায় বন্দী পাখির মতো শুধু ছটফট করে। রাজকন্যার রুপ-গুণের ভূয়সী প্রশংসা রাজ্যসম ছড়িয়ে পড়ে, বড় বড় রাজপুত্র এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে যায়, কিন্তু সুখ কোথায়? আর তার অস্তিত্বের রহস্যটাই বা কী!

মুভিজুড়ে রাজকন্যার বড় হওয়াটা দেখার মতো। গ্রামের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সাথে তার উচ্ছল বিচরণ, খুনসুটি আর দলবেঁধে কোরাস গাওয়া দেখে মনে হালকা এক ধরনের পবিত্রতা এসে ভর করে। আর শহরের হাজার নিয়মের বেড়াজালে সেই স্বত্বা যখন স্তিমিত হয়ে পড়ে, তখন চাপা কষ্ট অনুভুত হয়। এর মাঝেও নিয়ম ভেঙ্গে হঠাত হঠাত তার স্বেচ্ছাচারিতা দেখলে মন ভরে যায়।

মুভির soundtrack একেবারে জুতসই। বেশিরভাগ সময়েই কোন background sound থাকে না, মাঝে মাঝে পিয়ানোর মতো কি যেন একটা বাজে, মনে খুব ধরেছে সেটা।

সব মিলিয়ে রুপকথার যথাযথ আবেশ নিয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ রুপকথা The Tale of the Princess Kaguya। আর্ট আর মিউসিক এমনই যে আপনি হয়তো রুপকথার রাজ্যে ঘুরে আসার অনুভূতি পাবেন। at least আমি পেয়েছি। মুভিজুড়ে জাপানের অনেক ঐতিহ্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যাক্তিগতভাবে আমার কোন আগ্রহ ছিল না, কিন্তু মুভির সাথে ট্র্যাডিশনাল ব্যাপারগুলো এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে দেখতে ভালো লাগে (অবশেষে কোন এক Ghibli মুভি আমার মন কাড়ল)।

পছন্দের চরিত্রঃ Kaguya (স্বাভাবিক), Me no Warawa (বেঁটে করে ভোম্বল এক মেয়ে, যাকে দেখলেই হাসি পায়)।

BECK: Mongolian Chop Sqad [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

beck_mongolian_chop_squad

Anime: BECK: MONGOLIAN CHOP SQUAD
Genre: Music, Slice of life, Comedy-drama
Episode: 26
Year: 2004
Studio: Madhouse
¤
কুরবানির ছুটিতে কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম। একটা এনিমে দেখবো দেখবো করছিলাম। এক সিনিয়রের পরামর্শে বেক নামালাম ও দেখলাম। মিউজিক বোধহয় আসলেই জীবনের কথা বলে আর এজন্যই সব মিউজিক ভিত্তিক এনিমেগুলা ভালো হয়। BECK ও এর ব্যতিক্রম নয়। ছাব্বিশটা পর্ব আর হাতে সময় ছিল সাত দিন। কিন্তু ডেটলাইন শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই এনিমেটা দেখে শেষ করি। ক্লাসিকাল মিউজিক নিয়ে কিছু এনিমে দেখা হলেও রক মিউজিক নিয়ে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা। শিগাতসুর পর আরেকটা এনিমে পেলাম যার মধ্যে অনেকগুলো ভালো ভালো অরিজিনাল সং আছে।
¤
কাহিনী আবর্তিত হয় তানাকা কয়ুকি নামক এক নিরীহ মিডল স্কুল বালককে ঘিরে। ক্রমাগত বুলিংয়ের শিকার হওয়া কয়ুকি যখন পৃথিবীর সব ধরণের এলিমেন্টের উপর আকর্ষন হারিয়ে ফেলছিল ঠিক তখনই ঘটনাচক্রে BECK নামক এক অদ্ভুত দর্শন কুকুরের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। কিছু অল্প বয়স্ক বালকের কবল থেকে কুকুরটাকে রক্ষা করার পর কুকুরটির মালিক রিয়ুসকে মিনামি তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। পরবর্তিতে বন্ধু মারফত কয়ুকি জানতে পারে যে, রিয়ুসকে নিজেকে বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড ‘THE DYING BREED’ এর লিড গিটারিস্ট এডি লি এর বন্ধু বলে দাবি করে। রিয়ুসকে আট বছর USA এ তে কাটানোতে জাপানিজের চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি দক্ষ। তারপর কয়ুকি আবিষ্কার করে যে, রিয়ুসকে আসলেই একজন প্রতিভাবান গিটারিস্ট এবং তাকে নেকস্ট জিমি পেইজ নামে ডাকা হয়। রিয়ুসকে ‘SERIAL MAMA’ নামক একটা ব্যান্ডের সদস্য যারা কিনা বিভিন্ন কনসার্ট হলে লাইভ পারফরম্যান্স করে থাকে।কিন্তু ব্যান্ডের আরেক সদস্য এইজির সাথে রিয়ুসকের দ্বন্দ্ব বাঁধে এবং এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সিরিয়াল মামা ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। রিয়ুসকে ও এইজি উভয়েই একটি আল্টিমেট ব্যান্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নেয় এবং সেই লক্ষ্যে নতুন মেম্বার খোঁজা শুরু করে। রিয়ুসকে তায়রা কুন নামের এক প্রতিভাবান বেসিস্টকে বেস গিটারিস্ট হিসেবে পাশে পায়। নিমরাজি হওয়ার পরও চিবা কুনকে সে দলে নেয় ভোকাল হিসেবে যে কিনা কারাতেতেও পারদর্শী। আর কোগা সান নামক একজনকে ড্রামার হিসেবে ব্যান্ডে নেওয়া হয়। ব্যান্ডের নাম দেওয়া হয় রিয়ুসকের অদ্ভুতদর্শন কুকুর BECK এর নামে। এই ফাঁকে রিয়ুসকের সাথে কয়ুকির ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে ও এরই প্রভাবে সারাজীবন আইডল মার্কা গান শোনা কয়ুকি রক মিউজিকের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। সে BECK এর বিভিন্ন লাইভ শো তে উপস্থিত থাকা শুরু করে। এরকম এক শো তেই রিয়ুসকে তার চতুর্দশী কিশোরি বোন মাহো মিনামির সাথে কয়ুকির পরিচয় করিয়ে দেয়। সমবয়সী হওয়ায় মাহো আর কয়ুকির মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পশ্চিমা সংষ্কৃতির স্পর্শে বেড়ে উঠা মাহোর সাহসী চলাফেরা কয়ুকির মনে ভালোবাসার অনুভূতির সঞ্চার করে। মাহো নিজেও খুব ভালো গায়কির অধিকারী কিন্তু তারপরও সে মিউজিকে ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। একদিন রিয়ুসকের আস্তানা হতে ফেরার সময় সুইমিং পুলের পানিতে চাঁদের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখে অদ্ভুত সুরেলা কণ্ঠে মাহো ‘THE DYING BREED’ এর ‘MOON ON THE WATER’ গাওয়া শুরু করে। সঙ্গে থাকা কয়ুকিও তখন আবেগবশত গানটির প্রথম চার লাইন গেয়ে উঠে। তখনই মাহো কয়ুকির প্রতিভা অনুধাবণ করতে পারে এবং কয়ুকিকে BECK এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রিয়ুসকেকে অনুরোধ করে। ইতোমধ্যে কয়ুকি সাইটো সান নামক এক সাবেক সাঁতারু ও সঙ্গীতপ্রেমীর কাছে গিটারের তালিম নেওয়া শুরু করে। পরবর্তিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কয়ুকি BECK এর সদস্যপদ পায়। সাথে সঙ্গী হিসেবে পায় ট্রান্সফার হওয়া স্কুল ফ্রেন্ড সাকুরাই ওরফে সাক্কুকে যাকে কিনা কোগা সানের বদলে ড্রামার হিসেবে দলে নেওয়া হয়। শুরু হয় একদল নবীন অভিযাত্রী কাঁটাভরা পথে দুর্গম যাত্রা…
¤
বেক নিয়ে কথা বলতে গেলে এর গ্রাফিক্স নিয়ে কিছু কথা বলতেই হবে। এনিমেটা যে ম্যাডহাউজের তা একটুও আন্দাজ করতে পারি নি। এনিমেশন খুবই পুরনো ধাঁচের তবে তাতে পশ্চিমা সংষ্কৃতির ধাঁচটা ভালোভাবেই উঠে এসেছে। আর ক্যারেকটার ডিজাইন খুবই সাদামাটা। এতই সাদামাটা যে কোন চরিত্রকে অনিন্দ্যসুন্দর করে উপস্থাপন করার চেষ্টাই করা হয় নি (মানে এক দৃষ্টিতে ক্রাশ খাওয়ার মত করে কাউকে ডিজাইন করা হয় নি)। তবে গিটারগুলোর ডিজাইনে অসাধারণ কম্পিউটার গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে। গিটারগুলোকে অনেকটা বাস্তবই মনে হয়েছে বটে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Lucille আর White Falcon এর ডিজাইন দুটো।
¤
বেক এনিমেটার মূল আকর্ষনই হল মিউজিক যেখানে অরিজিনাল সংগুলাই মূখ্য, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকই বরং গৌণ। অসাধারণ একগাদা অরিজিনাল সং ব্যবহৃত হয়েছে এনিমেটাতে। বেক মূলত হিপহপ ও ওল্ড ব্লুজ রক ঘরানার গান পরিবেশন করে থাকে। এর মধ্যে চিবা কুনের গাওয়া ‘BRAINSTORM’ ও ‘SPICE OF LIFE’ গান দুটো উপভোগ্য। তবে মূল আকর্ষন হল কয়ুকির গাওয়া ব্লুজ রক গানগুলো। তার গাওয়া ‘FACE’, ‘MOON ON THE WATER’, ‘SLIP OUT’ গানগুলো আন্তর্জাতিক মানের বলে মনে করি। আর সাথে আছে একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে গাওয়া দ্য বিটলসের ‘I’ve got a feeling’ অসাধারণ গিটারওয়ার্কও এনিমেটার অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।আর BEAT CRUSEDARS এর গাওয়া ওপেনিং ‘HIT IN THE USA’ গানটা একেবারেও স্কিপ করতে পারবেন না। প্রথম এন্ডিং ‘MY WORLD DOWN’ গানটাও ভালো মানের।
¤
সর্বোপরি এনিমেটাকে আমি মাস্টারপিসের ক্যাটাগরিতে রাখতে চাইবো। কারণ এরকম একটা অপরিচিত সংষ্কৃতিকে কেন্দ্র করে শক্ত কাহিনীর গাঁথুনি দিয়ে এনিমেটাকে অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে এবং কাজটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাসপেন্স, থ্রিল, হালকা মিস্ট্রি, রোমান্স, ম্যাচিউরড কনটেন্ট, ব্যাকস্টেজ পলিটিকস সবকিছুই অত্যন্ত পরিমাণমত দেখানো হয়েছে। এনিমেটা সাবে দেখলেও এত বেশি ইংরেজি সংলাপ আছে যে মাঝে মাঝে মনে হত ইংলিশ ডাব দেখছি। আর মাহো আর কয়ুকির রিলেশন দেখে একটা জিনিসই শিখেছি আর তা হল, “বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে নেই।” আর মাহোর প্রতি রিয়ুসকের দায়িত্বপরায়ণতা দেখে আমি পুরা তব্দা খাইছি।