Basilisk [রিভিউ] — Roronoa Sazzed

basilisk

৪০০ বছর ধরে দুই রাইভ্যাল ক্ল্যান “ইগা” ও “কোউগা” এর দুই মেম্বার এর মধ্যে নিনজা ডুয়েলটি দিয়ে এনিমে শুরু হয়।সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক মনোভাব একে অপরের মধ্যে শতাব্দী ধরে বহন করে আসছে।অনেক বছর আগে “হাতোরি হানজো” নামের এক শোগান এর মাধ্যমে তাদের যুদ্দের অবসান হয় দুই ক্ল্যান হাতোরি এর সার্ভিসে থাকার মাধ্যমে।কিন্তু অবশেষে হাতোরি রিটায়ার্ড হবার হবার সময় তার নাতিদের মধ্যে একজনকে তার সরকারের সাকসেসর নির্বাচনের সময় জটিলতা দেখা দেয় যা বাড়ার আগেই দুই ক্ল্যান এর শান্তি চুক্তি বাতিল করে দেয় এবং আদেশ দেয় দুই ক্ল্যান থেকে সবচেয়ে ভালো দশ জন করে নিনজা কে প্রস্তুত হতে যারা একেক নাতিকে রিপ্রেজেন্ট করবে।রক্তারক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে এক ক্ল্যান অন্য ক্ল্যান এর দশ জনকে শেষ করতে হবে।১০ জনের নামের তালিকা দিয়ে দেয়া হবে এবং এর মধ্যে যেই ক্ল্যান মেম্বার এই তালিকা নিয়ে বেঁচে থাকবে শেষ পর্যন্ত অই রিপ্রেসেন্টেটিভ ই ক্ষমতায় আসবে এবং জয়ী ক্ল্যান কে পরবর্তী ১০০০ বছরের জন্য সাপোর্ট দিবে।
এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে আমার মতো এয়ার হেডের একটু বেশি টাইম লেগে গিয়েছিলো।ব্যাপারটা অনেকটা ফাউল মনে হয়েছিলো এবং এখনো হচ্ছে কিন্তু
রক্তারক্তি হাড্ডা হাড্ডি,অসাধারন সব মারামারি দিয়ে ভরা ও আমরা নিনজা বলতে যা বুঝি তার থেকেও অনেক ব্যাতিক্রমি ভাবে তাদেরকে ফুটিয়ে তোলা আবার এর মধ্যে প্রেম ভালোবাসা নিবন্ধিত করে তোলা এক অসাধারন ভাবে সাজানো এক এনিমে এটি।আর সে কি ভয়েস এক্টিং,অসাধারন।আমি প্রথমে অল্প একটু ডাব দেখলেও মিউজিকের জ্বালা যন্ত্রণায় সাব দেখা স্টার্ট করসি।আর সিরিজ শেষে মনে হচ্ছে সাবটাই বেশি ভালো হয়েছে।
Specially যখন Oboro বলে “Gennosuke-Sama”.
যদিও প্রথমেই বুঝে গিয়েছিলাম কি হবে লাস্ট এ এরপর ও ভাবতে পারিনি এতো ভালো লাগবে ও এতো অসাধারন লাগবে আমার কাছে এনিমেটি। গ্রুপ এ এক ভাইয়ার কমেন্ট দেখে এনিমেটি নামিয়ে ছিলাম।কিচ্ছু বলবোনা আর, খালি বলবো This anime is Worth it,so if you can then watch it.
একটা কথা না বললেই নয় শিকি দেখার সময় “একটা” ফিলিংস কাজ করসিলো।এমন একটা,যা সাধারণত কাজ করেনা ঠিক সেই ফিলিংস এই সিরিজ দেখার সময় ও কাজ করছিলো।যদিও শুরুতে আমি আন্ডারডগ এর সাপোর্টার ছিলাম।

Aoi Bungaku Series [রিভিউ] — Barkat Hridoy

শুরু করি কবির ভাষায়,
কবি বলেছেন :
“যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই,
পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন”

এনিমের এই বিশাল দুনিয়াকে একটা ছাইয়ের গাদার সাথে তুলনা করা যেতেই পারে। এনিমের এই গাদায় ছাই (পড়ুন আজেবাজে এনিমে) অনেক থাকলেও ‘রত্ন’ খুব কমই আছে যা আমাদের বেশিরভাগরই দৃষ্টিগোচর থাকে। ঠিক তেমনই একটি রত্ন ‘আওই বুঙ্গাকু’।

aoi-bungaku-series-1

এনিমে: আওই বুঙ্গাকু সিরিজ (Aoi Bungaku Series)
জনরা: ড্রামা, সাইকোলজিকাল, সেইনেন, হিস্টোরিকাল, থ্রিলার
পর্ব: ১২
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

Synopsis: জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ছয়টি উপন্যাস/গল্পের অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে তৈরি এই এনিমে সিরিজ। গল্পগুলো হলো: ওসামু দাজাইয়ের ‘নো লংগার হিউম্যান’ ও ‘রান!মেলস’, আঙ্গো সাকাগুচির ‘আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম’, নাতসুমে সোসেকির ‘কোকোরো’ এবং আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের ‘ দ্য স্পাইডারস থ্রেড’ ও ‘হেল স্ক্রিন’।প্রতিটি গল্প ভিন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
সাইকোলজিকাল এনিমে মানেই যে ‘মাথার তিন হাত উপর দিয়ে যাওয়া ‘ স্টোরি বা ভুরি ভুরি গোর সিন ওয়ালা সিরিয়ালকিলিং সাইকোপ্যাথদের কাহিনী না, তার উৎকৃষ্ট উদাহরন হলো ‘আওই বুঙ্গাকু’। এ সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পর্যায় আর এ পর্যায়কালীন সময়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো।এর স্টোরিগুলো এতটাই ক্যাচি আর থ্রিলিং যে দেখতে দেখতে কখন যে সিরিজের চরিত্রগুলোর সাথে এক হয়ে যাবেন আর তাদের সুখ-দুঃখ,কষ্ট,বেদনা আপনার সুখ- দুঃখ হয়ে গেছে বুঝতেও পারবেন না।

aoi-bungaku-series-2

প্রতিটি স্টোরি একে অপর থেকে আলাদা। তাই প্রতিটি স্টোরির আলাদা আলাদা ইনসাইট/রিভিউ তুলে ধরলাম:

নো লংগার হিউম্যান:
সিরিজের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় গল্প। লেখক ওসামু দাজাইয়ের অনবদ্য এই সৃষ্টি অনেকটা অটোবায়োগ্রাফি ই বলা যেতে পারে কেননা লেখক প্রায় নিজের জীবনের কথায় কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। চার এপিসোডের এ গল্পে দেখানো হয়েছে ধনী,হতাশাগ্রস্থ ও প্রত্যাশার ভারে পিষ্ট এক তরুনের সমাজে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা।কোনো মানুষের জীবন যে এতটা দুঃখজনক আর ডিপ্রেসিং হতে পারে তা নো লংগার হিউম্যান না দেখলে জানা সম্ভব না। চিরকাল মনে দাগ কাটার মত ক্ষমতা রাখা এ গল্পটি কেন জাপানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রিত ও সর্বাধিক পঠিত গল্প/উপন্যাস তা দেখলেই জানতে পারবেন।

আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম:
সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড স্টোরি আর বড় ফ্ল বলা যায়। ফ্ল বলার কারণ হলো এর খারাপ অ্যাডাপ্টেশন। কারন বইয়ে যেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একধরনের ইন্টেসিটি ছিল এনিমেতে তা অনুপস্থিত।সেই সাথে প্রেজেন্টেশনও হতাশাজনক ছিল।

কোকোরো:
নাতসুমে সোসেকির অসাধারন সৃষ্টি এবং জাপানের সর্বোচ্চ বিক্রিত উপন্যাস। দুই এপিসোডের এ গল্পতে একটি ত্রিভুজ প্রেম দেখানো হয়েছে।কিন্তু নতুনত্ব হলো, এখানে দুই ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা আলাদাভাবে গল্পটিকে দেখানো হয়েছে। আমাদের মধ্যে একজনের দৃষ্টিকোণ অন্যজন থেকে কতটা ভিন্ন হতে পারে তাই তুলে ধরা হয়েছে।আর নামের সার্থকতা রক্ষার স্বার্থেই কিনা এটি আপনার ‘কোকোরো’ নিয়ে খেলবে এবং তা চুরমার করবে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও এটি সিরিজের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গল্প।

রান!মেলস:
সিরিজেরএকমাত্র প্যাঁচগোছহীন গল্প। Damon and Pythias নামক এক গ্রিক লেজেন্ড দিয়ে তৈরি নাটিকার সাথে তুলনা করে দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের গল্প বলা হয়েছে। হার্টওয়ার্মিং একটা গল্প।

দ্য স্পাইডারস থ্রেড:
‘ডুবন্ত মানুষ খড়কুঁটো ধরেও বেঁচে থাকতে চায়’ কথাটির জাপানিজ সংস্করণ হলো দ্য স্পাইডারস থ্রেড। পার্থক্য শুধু খড়কুটোর বদলে এখানে মাকড়শার সুতাকে দেখানো হয়েছে।একজন মৃত্যুভয়হীন গুপ্তঘাতক যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছায় তখন তার মধ্যে জেগে উঠা বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টাকে এ গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের লেখা এ ছোট গল্পটি মূলত বাচ্চাদের জন্য লেখা হলেও এনিমেতে ম্যাচিউর দর্শকদের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে। এর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভালো ছিল।

হেল স্ক্রিন :
আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের এ ছোটগল্পকে দুটি শব্দে প্রকাশ করা যায় এবং সেটি হলো ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। এতে দেখানো হয়েছে এক সৎ চিত্রশিল্পী ও তার মেয়ের কথা এবং তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প। এটির গল্প যেমন আপনার রক্ত হিম করে দিবে ঠিক তেমনি এর সৌন্দর্যে আপনি অস্ফুটে বলে উঠবেন ‘অসাধারন!’। অসাধারন একটি অ্যাডাপ্টেশন। আমার পার্সোনাল ফেভারিট।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, প্রতি গল্পের শুরুতে সে গল্পের লেখক সম্পর্কিত টীকাগুলো অসাধারন ছিল।

aoi-bungaku-series-3

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
প্রথমে আসি অ্যানিমেশনে,আমার দেখা স্টুডিও ম্যাডহাউসের কাজগুলোর মধ্যে বেস্ট। গল্পের ভাব বুঝে কালার আর অ্যানিমেশনের এত সুন্দর প্রেজেন্টেশন আর কোনো এনিমেতে দেখিনি। মন খারাপ করা পরিবেশ থেকে রঙে পরিপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তনগুলো(আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম বাদে) অসাধারন লেগেছে।

আর্ট অসাধারন। বিখ্যাত মাঙ্গাকারা আর্ট করেছেন তাই অসাধারন হওয়াটাই স্বাভাবিক।এনিমের পোস্টারে বসে থাকা ক্যারেক্টারকে দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, “আরে! ইয়াগামি লাইট না!!” এর কারন হলো এ এনিমের পোস্টার এবং দুটি গল্প নো লংগার হিউম্যান আর কোকোরো এর জন্য আর্ট করেছেন মাঙ্গাকা ‘তাকেশি ওবাতা'(ডেথনোট,বাকুমা­ন,প্লাটিনা এন্ড)।এছাড়া আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম, দ্য স্পাইডারস থ্রেড, হেল স্ক্রিনের আর্ট করেছেন ‘টিটে কুবো'( ব্লিচ)। রান মেলসের জন্য আর্ট করেছেন ‘তাকেশি কোনোমি'( প্রিন্স অফ টেনিস)।

aoi-bungaku-series-4

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমের দূর্বল জায়গা বলা যায়। সিরিজে কোনো ওপেনিং সং ছিল না আর এন্ডিংটা আমার শোনা সবচেয়ে বাজে এন্ডিং সংয়ের মধ্যে একটা। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মোটামুটি ভালো ছিল।

এন্জয়মেন্ট:
একটি এনিমের এন্জয়মেন্ট বড় একটি বিষয় কেননা দিনশেষে এনিমেটি এন্জয় করেছি কিনা সেটাই মূখ্য। এক্ষেত্রে আওই বুঙ্গাকুর এন্জয়মেন্টকে অনেকটা মরুভূমি ভ্রমনের সাথে তুলনা করা যায়। মরূভুমির মতো এনিমেটিরও পুরো পথ পাড়ি দিতে অনেক কষ্ট হতে পারে, এ পথ হয়ত মাঝেপথেই শেষ করতে চাইবেন।কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি পথটি শেষ করতে পারেন তবে এটি হতে পারে আপনার সেরা ভ্রমনের একটি। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন জাপানী সাহিত্যেকে অসাধারনভাবে ফুঁটিয়ে তোলা মারাত্মকরকমের সুন্দর এবং দূর্দান্ত এই এনিমেটি।

My Animelist Rating: 7.92
Personal Rating: 9

aoi-bungaku-series-5

তোমোদাচি নো হানাশি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

tomodachi-no-hanashi

তোমোদাচি নো হানাশি
ইংরেজি নামঃ দ্যা সিক্রেট অফ ফ্রেন্ডশিপ
জানরাঃ ড্রামা, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
চ্যাপ্টারঃ
মাঙ্গাকাঃ কাওয়াহারা আযুনে (গল্প), ইয়ামাকাওয়া আইজি (আর্ট)
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ১০/১০

শৌজো মাঙ্গায় সাধারণত কি হয়? একটি মেয়ে এবং ছেলে তাদের মনের মানুষকে খুঁজে পায় তারপর চারপাশের সবকিছু ভুলে নিজেদের জগতে হারিয়ে যায়। আচ্ছা এবার ভাবুন তো, আপনিও জীবনে ঠিক এমনটি ঘটতে দেখছেন। না না, নিজেকে শৌজো মাঙ্গার নায়ক বা নায়িকা ভাবতে বলিনি তো! থামেন! বলছি আপনার কাছের কোন মানুষের কথা। তার জীবনে এমন কিছুর সূচনা দেখলে আপনার কি প্রতিক্রিয়া হবে? আপনি সুন্দেরের মত অস্বীকার করেন আর নাই করেন, জানা কথা আপনি মনে মনে হলেও ইয়ুনো গাসাইয়ের মত ইয়ান্দেরে মোডে গিয়ে পারলে আপনার কাছের মানুষের জীবনে হাজির হওয়া ওই মানুষটাকে কোপ দিয়ে আসবেন!! আর কাছের মানুষটা যদি হয় আপনার জিগরি দোস্ত তাহলে তো কথাই নেই! কেননা এই নতুন মানুষটিই এতদিনের চেনা ফ্রেন্ডটিকে আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে। বাস্তবে যে এটা হয় তার অসংখ্য উদাহরণ আছে। এরূপ নিষ্ঠুর বাস্তবতায় বেঁচে থাকলে এইকো নামক মেয়েটিকে নিয়ে আপনার ঈর্ষা হবেই।

এইকো সাকামোতো বন্ধুত্ব নিয়ে এই মাঙ্গার প্রধান চরিত্র। তাকে কখনোই সম্পর্ক হয়েছে বলে বেস্ট ফ্রেন্ড হারিয়ে যাবে এই ভয়ে থাকতে হয় না। বরং ভয়ে থাকতে হয় তার উল্টোটা নিয়ে। সে শঙ্কিত কারণ তার জন্যেই তার ফ্রেন্ড মোয়ে হয়ত কখনও তার মনের মানুষ খুঁজে পাবে না। এমন না যে সে মোয়ের কাছে কোন ছেলেকে ঘেঁষতে দেয় না কিংবা সে খুবই সুন্দরী। মোয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর এবং অনেক ছেলেই তাকে পছন্দ করে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? প্রতিবার যখন কোন ছেলে মোয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় মোয়ে সবসময় একটি উত্তরই দেয়। সে রাজি হবে শুধু একটি শর্তে। সেই শর্ত হল তার চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে এইকোকে। মোয়ের সাথে সময় কাটানো মানেই এইকোর সাথে সময় কাটানো। যেই ছেলে তার এই শর্তে রাজি হবে তাকেই বেছে নেবে মোয়ে। কিন্তু কোন ছেলেই বা রাজি হবে এমন প্রেমিকা পেতে যে তাদের ডেটিংয়েও তার ফ্রেন্ডকে নিয়ে হাজির হবে? তবু শেষমেশ কেউ একজন রাজি হয়েই গেল। “বন্ধুত্বের গল্প” মাঙ্গার গল্পটা শুরু হল এখানেই।

শুরুতেই আপনার মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরঘুর করবে। মোয়ে কেন এরকম অদ্ভুত শর্তে জুড়ে দেয় ছেলেদের কাছে? স্কুলে কিংবা আলাদা করে ঘুরতে বেরিয়েই তো সে এইকোকে সময় দিতে পারে। তার এরপরের কিছু আচরণও অনেক বাড়াবাড়ি লাগবে। এমনও মনে হবে যে এই মেয়ের মানসিকতায়ই সমস্যা আছে। কিন্তু এরপরেই আপনি এমন ভাবার জন্য দুঃখ করবেন। এরপরের দুই চ্যাপ্টারে যে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং কাহিনী যেভাবে এগিয়েছে তা এক কথায় অসাধারণ। অন্যান্য মাঙ্গাগুলো ১০-২০ চ্যাপ্টারেও যা দেখাতে পারে না এই মাঙ্গা মাত্র ২ চ্যাপ্টারেই তা দেখিয়েছে। এত ছোট একটা মাঙ্গা যে পড়ছেন তা মনেই হবে না। মাত্র দুই এক দিনের কাহিনী দেখায়নি এখানে। দেখিয়েছে একটা সময় কালের ঘটনা। এবং তা খুব যত্ন নিয়েই তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও কোন তাড়াহুড়া নেই। শুরুতে যেমনই লাগুক চরিত্রগুলোও প্রত্যেকেই ভালো লাগার মত। যেসব ছেলে ভাবে মেয়েরা শুধু ন্যাকামি এবং অন্যের সমালোচনা, কূটনামি করে বেড়ায় তাদের নারুগামি চরিত্রটি বেশ ভালো কিছু শিক্ষা দেবে। আর মোয়ে আমার খুব বেশি পছন্দের একটা চরিত্র।

এত কিছু বলার পরেও আপনি ভাবতে পারেন মাঙ্গাটি কেন পড়বেন। অল্প চ্যাপ্টার, ভালো গল্প আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আছে-বোঝা গেল। কিন্তু এই কথা হয়ত অন্য আরো মাঙ্গার জন্যেও শুনবেন। তাহলে এত মাঙ্গা থাকতে তোমোদাচি নো হানাশিই কেন পড়বেন? পড়বেন কারণ এখানে খুব দুঃখ-কষ্ট, কে কাকে পছন্দ করে এই নিয়ে বিশাল প্যাঁচ, ত্রিভুজ প্রেম, নায়িকার ক্ষতি করতে চাবে এমন হিংসুটে মেয়ে, বুলিং, অতিরিক্ত মিষ্টি প্রেম এসবের বালাই নেই। আছে শুধু বন্ধুত্বের উষ্ণ গল্প আর হালকা রোমান্স। এইকো আর মোয়ের মাঝে যে বন্ধন আছে তা দেখলে মন ছুঁয়ে যায়। ওদের বন্ধুত্বের মতই হওয়া উচিৎ প্রতিটি বন্ধুত্ব। পড়তে পড়তে আপনারও এমন বন্ধু পাওয়ার ইচ্ছা জেগে উঠবে। যদিও শৌনেন মাঙ্গাতে এসব অহরহ দেখা যায় তারপরেও এখানকার গল্পটি একদম অনন্য। একেবারে “রেয়ার জেম” যাকে বলে।

আর্টের দিক থেকে বিচার করলে ভালো না খারাপ বলা উচিৎ ঠিক নিশ্চিত না। অনেক হালকা দাগ দিয়ে আবছা আবছা করে ছবিগুলো আঁকা হয়েছে। সাধারণ সাদা-কালো এর চেয়ে ধূসর ভাবটা বেশি। যে কারণে তাকিয়ে থাকতে অস্বস্তি লাগতে পারে। তবে সবকিছুর গঠন, অবয়ব একদম যথাযথ। আবার শৌজো মাঙ্গার চিরচেনা আর্ট স্টাইলে যে বিশাল গোল গোল, জ্বলজ্বলে চোখ থাকে তা এখানে একেবারেই অনুপস্থিত। বরং এখানে অনেক ছোট আর কুতকুতে চোখ। তাই যাদের ওই সাধারণ শৌজো মাঙ্গার আর্ট পছন্দ না তাদের কোন সমস্যা হবে না। এই ক্যারেক্টার ডিজাইন মাঙ্গাটির সাথে বেশ মানিয়ে গেছে।

দুঃখের বিষয় এই মাঙ্গার শেষ চ্যাপ্টারটি আজ অব্দি স্ক্যানলেশন করা হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে চতুর্থ চ্যাপ্টার স্ক্যানলেটেড হওয়ারও কোন আশা নেই। চ্যাপ্টার ৩ বেরিয়েছিল সেই ২০১৩ তে। তাই বলে মাঙ্গাটি না পড়ার কারণ নেই। ৩ নম্বর চ্যাপ্টার যেভাবে শেষ হয়েছে তা ছিল সন্তোষজনক। কাহিনী ওখানে শেষ ধরে নিলে কোন সমস্যা হবে না। শেষ চ্যাপ্টারে কি হতে পারে ওটা আগে থেকেই বুঝে নেওয়া যায়। তাই সমাপ্তিটা ফ্যানফিকশনের মত নিজের মনমত বানিয়ে নিতে পারবেন।

শেষ কথা, তোমোদাচি নো হানাশি আমার পড়া অন্যতম একটি অসাধারণ মাঙ্গা এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় মাঙ্গাগুলোর একটা। শৌজো হিসেবে নয়, এটিকে নাকামা বা তোমোদাচি নিয়ে তৈরি মাঙ্গা হিসেবেই পড়বেন। সুতরাং ছেলে মেয়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আশা করছি আপনারও আমার মত মাঙ্গাটি খুব ভালো লাগবে।

A Poet’s Life [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

a-poets-life

A Poet’s Life নামে একটা শর্ট স্পপ মোশন মুভি দেখে শেষ করলাম এখন। বরাবরের মতোই আমার এমন জিনিস ভালো লাগে, সেটা যদি এরকম উইয়ার্ড হয় তাহলে তো কথাই নাই।
গল্পের শুরুতে দেখা যায় এক কারখানার শ্রমিককে যে কিনা চাকরী হারায় কারখানার মালিকের সাথে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাক-বিতন্ডায়। বিষন্ন শ্রমিক বাড়িতে পড়ে থাকে হতাশায়। বাড়িতে তার সাথে থাকে বৃদ্ধা মা যে কিনা সর্বদায় সুতা তৈরীতে ব্যস্ত।

সুতো বুনতে বুনতে তিনি ক্লান্ত যেনো, একদম তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে গিয়েছেন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে। তেমনি সেদিন ক্লান্ত মা সুতো বুনে শেষ করলেন, বরাবরের মতোই ক্লান্ত ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে মেঝেতেই। ঠিক তখনই এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে গেলো, হঠাৎ করে নিজেই যেনো সুতোতে বনে গেলেন তিনি। অবশ্য এটা হওয়াই হয়তো বাকী ছিলো। সবার অন্তরালে ঘুমন্ত ছেলেকে পাশে রেখে সুতোর বান্ডিলে পরিণত হলেন তিনি। সেই সুতো এই হাত থেকে সেই হাতে হলো স্থানান্তর।
কারখানার মালিকরা তাদের আনন্দে মশগুল, সেই আনন্দে পিষে যাচ্ছে কারখানার শ্রমিকেরা। বিষন্ন-হতাশ-দরিদ্র শ্রমিকেরা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যেখানে হেরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেখানে উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা ব্যস্ত কি করে ব্যবসাতে আরো লাভ করা যায়। কিন্তু সেই হতাশা-বিষন্নতা যেনো পৃথিবীকে ঘিরে ফেললো, ঘিরে ফেললো শহরবাসীকে শুরু হলো প্রচন্ড তুষারঝড় এবং ঠান্ডা। যার কাছে কোনো শ্রেণীর ভেদাভেদ নেই, ধনী-গরীব কাউকে সে মানে না, কখনো মানেও নি। এইখানে হেরে যেতে লাগলো সেই উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা।
সিনেমাটাতে প্রচন্ড বিষন্নতায় ভরপুর হলেও কি করে যেনো শেষ দৃশ্যে এক টুকরো আনন্দ যেনো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখানো হয়েছে বৃদ্ধা মা এর ছেলের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং সবশেষে কবি হিসেবে নিজেই যেন আবিষ্কার করা নিজের কাছে।

**এনিমেশন টা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে, সবচেয়ে বেশি ভাল্লাগছে আমার সুতো হয়ে যাবার অংশটা। গল্প লেখলে এই অংশটা বলা যত সহজ কিন্তু ভিজ্যুয়ালি এই জিনিসটাই পোট্রে করা এবং দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করা ততটাই কঠিন বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমি দেখে পুরা ওয়াও অবস্থা। আহ ভাল্লাগছে।

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-5); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-5
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

আসলে Boar এর কথাই ঠিক। Don Freecs ডার্ক কন্টিনেন্টের উপর লিখা বইয়ের ১ম কপি পাওয়া গেলেও ২য় পর্ব বা কপিটা পাওয়া যায় নি। তবে, কথিত আছে নিনজা ভিলেইজগুলোর এদিকদিয়েই ওয়েস্টার্ন এন্ট্র্যান্স ডার্ক কন্টিনেন্টের। তাই বলা যায় অনেকটাই অনিশ্চিত অবস্থায়ই হান্টার এ্যাসোসিয়েশন এই মিশনে নামে। তবে, আর কোন উপায়ও ছিল না তাদের- সরকারের কাছে যে তাদের হাত বাঁধা। কাজেই বাধ্য হয়েই এই অপ্রিয় কাজে নেতেরোর আগমন।
আর ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর এর ফলাফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা খুব করে জানে নিনজা ভিলেইজগুলো। তাই সকলে একজোট হয়েছে আজ হান্টার এসোসিয়েশনকে আটকাবে বলে-যে কোন মূল্যে। তাদের থেকে হাশিরামা তথা হোকাগেই মুখপাত্র হিসেবে প্রতিনিধিতব করছে সবার। ক্যাজুয়ালিটি মিনিমাইজ করতে নেতেরোর ওয়ান-অন-ওয়ান ব্যাটেলের প্রস্তাবে সম্মত হয় হাশিরামা। আর ওদের কে জায়গা করে দেয় দু’পক্ষই।
হান্টার এসোসিয়েশানের মতন না হলেও কিছুটা নির্ভার বোধ করছে নিনজা ভিলেইজ গুলোর প্রধানেরা, এই ভেবে যে লোকালয়ে এর এফেক্ট পরবে না। অর্থাৎ গ্রামের মানুষেরা আপাতত নিরাপদ। আর হাশিরামার ওপর তাদের আস্থা আছে। হাশিরামাকে টপকে ওদের ওপর আর ভিলেইজে এটাক করতে আসা চাট্টিখানি কথা না। আর হান্টার এ্যাসোসিয়েশন আর গভঃ ফোরস পুরোপুরিই নেতেরোর দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে তাদের একজনও নেতেরোর ফুল পাওার ব্যাটেল তো দূরে থাক কোনদিন গুরুতর পরিস্থিতির সবীকার হয়ে লড়তেও দেখে নি। আর- কেউ দেখেছে বলেও জানা নেই কারো। কাজেই আস্থার মাত্রাটা অমূলক নয় মোটে।
হাশিরামাই আক্রমণ করলো প্রথমে। আন-আর্মড কমব্যাটে লড়তে শুরু করলো তার জীবনে সবচাইতে কঠিন প্রতিপক্ষের। যার নীতিবোধকে এতোদিন প্রশংসা আর সম্মানের সাথে দেখে এসেছে, তার বিরুদ্ধে এভাবে লড়াই করতে হবে ভাবে নি। অবশ্য, তাতে কি কিছু এসে যায়? নেতেরো এই মুহূর্তে তার গ্রামের জন্য একটা ‘থ্রেট’ আর তাকে প্রতিহত করার জন্য যতদূর যেতে হয় যাবে হাশিরামা।
মাথায় চিন্তার ঝড় বইতে থাকলেও থেমে নেই বডি মুভমেন্ট। নেতেরোর ঠিক বা পাশে দাঁড়িয়েই পায়ের পাতায় ভর দিয়ে কাঁধের নার্ভ পয়েন্টে সজোরে আঘাত করতে যায় সে। দেখলো বাতাসে ভেসে একটু যেন সরে গেল এক দিকে নেতেরো, মুখে তখনো হাসির ছটা লেগে রয়েছে। হাশিরামা জানতো এতো সহজে আঘাত হানা যাবে না তার ক্যালিবারের কাউকে। তাই অনেকটা ফাঁদে ফেলার জন্যেই অমন ডামি দিয়েছে। নেতেরো হালকা ডান দিকে সরে যেতেই দেখলো ইতিমধ্যেই হাশিরামার এক হাঁটু তার পাকস্থলি স্পর্শ করেছে। প্রথম আঘাতটা নেতেরো ডজ করবে জেনেই সাথেসাথেই ডান দিকে এক হাতের ওপর ভর করেই ভাঁজ করা হাঁটু সজরে ছুঁড়ে দিয়েছে।
পরক্ষনেই নেতেরো প্রায় উড়ে গিয়ে প্রায় ১০ হাত পিছনে ছিটকে পরলো। সজোর আঘাতে ফুসফুস খালি হয়ে গেছে নেতেরোর- জানে হাশিরামা। তাই ধাতস্থ হবার সময় দিবে না বলেই নেতেরোর দিকে ছুটে যায় সে। গিয়েই দেখলো কিসের কি- হাসি হাসি মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে আছে নেতেরো। হাত দুটো অদ্ভুতভাবে বুকের কাছে তুলে ধরেছে। প্রতিক্রিয়া দেখাবার সময় পায় না হাশিরামা। তার আগেই দেখলো নেতেরোর হাত অদৃশ্য হয়ে গেছে-পরমুহূর্তেই বুকে প্রচন্ড আঘাত চোখে অন্ধকার দেখলো। একটা পাথরে পিঠ ঠেকতেই উঠে বসতে বসতে বুঝলো, এতটা স্রেফ উড়ে এসে পরেছে নেতেরোর আঘাতে। আঘাতটার দিকে নজর দেয়ার দরকার নেই। তবে বুকের গার্ড ভেঙে গেছে সেটা ঠিকই লক্ষ্য করলো।
ওদিকে মাদারা, টোবিরামাও বাকি সবার সাথেই দেখতে পাচ্ছে লড়াইয়ের প্রতিটা বিষয়। অনেকটা ক্ষেদোক্তির মতন বলতে থাকল মাদারা-“আমি বুঝতে পারছি না হাশিরামা গেঞ্জুতসু ব্যবহার করছে না কেন?” টোবিরামা কিছু বলল না, তার বড় ভায়ের জাজমেন্ট আর এবিলিটির ওপর অগাধ বিশ্বাস আছে।

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-4); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-4
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

কাচের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই হাসছে যেন নেতেরো। উহু, হাসির কোন কিছুই ঘটেনি। তবে, বহুদিন-বহুদিন পর এমন এক যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়বে সে। রোমাঞ্চ অনুভব করাটাই স্বাভাবিক। তবে তার জন্যে সে আপন মনে হাসছে- এটা ভাবলে ভুল হবে। নেতেরো তার স্বভাবসুলভ যে হাসি সর্বক্ষণ ধরে রেখেছে ঠোঁটে তা বহুদিনের পুড়নো অভ্যেসের থেকে এসেছে। দেখলে মনে হয় কি এক কারনে থেকে থেকে তার প্রতিপক্ষকে বিদ্রুপ করছে যেন।
নিজেকে কাচের প্রতিবিম্বতে দেখে নেয় আর ভাবতে থাকে আসু লড়াইয়ের কথা। তা থেকে কি আর কেমন ধরনের ফলাফল আর সে সব পারিপার্শ্বিকতাকে কিভাবেই বা প্রভাবিত করতে পারে, তা নিয়েও ভাবতে থাকে।

ওদিকে হাশিরামা তার রুমে ব্যাটেলের ড্রেস পরছে। কাঁধ বুক আর পিঠে গার্ড লাগিয়ে তা টেনে পরিক্ষা করে দেখতে দেখতে খেয়াল করল, মাদারা দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুকে হাত বেঁধে। লক্ষ্য করলো মাদারাও ব্যাটেল ড্রেস পরে এসেছে। কিছু বলল না হাশিরামা। কিছু বলার দরকারও নেই। টোবিরামা, মাদারা, অন্য ৪ কাগে প্রত্যেককেই ভালমতন চেনে হাশিরামা। কার মনে কি খেলা করছে- তাও সহজেই আন্দাজ করতে পারে সে। সেখানে তাই কথা বলার প্রয়োজন বোধ হয় নেই। পিছনেই ছোট ভাই টোবিরামা উপস্থিত হয় শূন্য থেকেই যেন। অর্থাৎ, সময় হয়ে এসেছে।

হাশিরামা পৌঁছে দেখলো অন্য (প্রধান)৪গ্রামের কাগেরা আগেই জমায়েত হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের সাথেই তাদের গ্রামের সবচাইতে চৌকশ কিছু নিনজা কে নিয়ে এসেছেন। তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য দিবালোকের মতন পরিষ্কার। যে কোন মূল্যে হান্টার এ্যাসোসিয়েশন কে ঠেকাতে হবে এর ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করা থেকে। ওদিকে হান্টার এ্যাসোসিয়েশনের লোকেরা মাত্রই এসে নামলো।
ওদের থেকে এসেছে নেতেরো, ২ জোডিয়াক Monkey আর Boar আর তাদেরকে সঙ্গ দিচ্ছে গভঃ মিলিটারি ফোরস।
“বাহ! আমাদের স্বাগত জানাবার এতো আয়োজন করলে? তাহলে তো ভালই, হল। সবাই মিলেই যাওয়া যাক”, নেতেরোর আধখোলা চোখ আর মিটিমিটি হাসির কিছুই যেন স্পর্শ করলো না হাশিরামাকে। শীতল চোখে তাকিয়ে আছে নেতেরোর দিকে সে। নেতেরো যে হিডেন লিফে বেড়িয়ে যাওয়ার পরে সত্যি সত্যি আসবে- বা আক্রমণ করবে কিছুতেই বিশ্বাস হয় নি ওর। নেতেরোর রসিকতায় একটুও ভাবান্তর ঘটে না তাই।
“তুমি খুব ভাল করেই জানো আমরা কি জন্য এখানে অপেক্ষা করছি।”
“এখনও সময় আছে, আপোষের মাধ্যমে যদি,……..”
কথার মাঝপথেই তাকে থামিয়ে দেয় হাশিরামা, “You all, Will leave this place, right now”
দীর্ঘ কয়েক সেকেন্ড হাসিমুখো নেতেরো তাকিয়ে থাকে হাশিরামার অস্বাভাবিক শীতল চোখের দিকে। তারপর নিরবতা ভেঙ্গে বলল, “I guess there is no option to avoid the casuality. ” একটু থেমে যোগ করে, “আমার মনে হয় খামোখা হতাহতের চাইতে ২ জনে ব্যাপারটা ‘নিষ্পত্তি’ই সবথেকে ভাল হয়।”
হাশিরামা কিছু না বলে পিছনে গুঞ্জনরত কাগেদের দিকে পা চালাল, কথা বলবে বলে। ওদিকে নেতেরো ইশারা করতেই তার লোকজন দূরে-পিছু হটতে থাকে, হাশিরামা আর নেতেরোকে পর্যাপ্ত যায়গা দেবার জন্য। শুধু Boar যাবার সময় বলে গেল, “Don Freecs এর লিখা বইয়ের ২য় পার্ট টা কিন্তু আমরা হাতে পাই নি। পুরোপুরি একটা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণ করাটা কি আসলেই ঠিক হচ্ছে?”
নেতেরো উত্তর করে না, ঠোট টিপে হাসতে থাকে।

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-3); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-3
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

হিডেন লিফ ভিলেইজ এর প্রবেশমুখের সদর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে টোবিরামা সেঞ্জু। এই অসময়ে হোকাগের সহোদরের আগমনের কারন সম্পর্কে পরিষ্কার কোন ধারনা না থাকায় উশখুশ করতে থাকে ২ প্রহরি। তবে এটুকু আন্দাজ করে নিতেই পারছে গ্রামে নিশ্চয়ই কোন মান্যবর ব্যক্তি আসবে- যাকে অভিবাদন জানাতেই হয়ত টোবিরামার ছুটে আসা।
টোবিরামা স্বভাবসুলভ গম্ভীরতায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বহুদূর গাছে ঘেরা মেটো পথ টার দিকে। গাছের ঝাঁর দু’পাশ দিয়ে রাস্তাটাকে বুকে আগলে রেখেছে যেন। সন্ধ্যা পরতে শুরু করেছে। ঝিঁঝিঁর ডাকের সাথে সাথে দমকা বাতাসের এক একটা ঝাপটা গাছগুলোর ভেতর দিয়ে খেলা করে যেতে থাকে যেন। সাথে উড়িয়ে আনছে কাঁচা-সবুজ পাতা আর হালকা কিন্তু অদ্ভুত একটা গন্ধ। দমকা বাতাসের ঝাঁপটা খুব যে উপভোগ করছে টোবিরামা তেমন কিন্তু না। মাথায় রাজ্যের চিন্তার জাল শাখা-প্রশাখা মেলেছে। দুশ্চিন্তার লাগাম টেনে ধরতে চাইছে বারবার।
বুকে হাত বেঁধে ডান হাতের তর্জনী নাচাতে নাচাতেই খেয়াল করল পরিচিত দু’জন মানুষের চাকরা। শিমুরা আর সারুটোবি হেটে যাচ্ছে উত্তর দিকটায়। কি নিয়ে যেন তর্ক জুড়ে দিয়েছে শিমুরা, সারুটোবির সাথে। হটাত ওর দিকে চোখ পরতেই মিইয়ে গেল দুজনে। দ্রুত বাজারের দিকটায় পা চালিয়ে মিশে গেল ভিরের মাঝে।
আবার বাইরের দিকে মন দিল আগন্তকের উদ্দেশ্যে। হান্টার এসোসিয়েশনের প্রধান, আইজ্যাক নেতেরো ধির পায়ে খড়মের শব্দে ছন্দ মিলিয়ে হেটে আসছে যেন। তার পাশেই তার অদ্ভুতদর্শন সচিব। কিন্তু আর কাউকে না দেখে কিছুটা অবাকই হল টোবিরামা। তবে আরো অবাক হল পেছন দিকে তার ভাই হাশিরামার উপস্থিতি টের পেয়ে। নেতেরোকে স্বাগতম জানাতে সে নিজেই এসে পরেছে। প্রহরীরাওকম অবাক হয় নি। প্রথমে হোকাগের ভাই আর এরপর স্বয়ং হোকাগে- অবাক হওাটা স্বাভাবিক বৈকি।
প্রাথমিক কুশল বিনিময় শেষেই নেতেরোকে নিয়ে গ্রাম দেখতে বের হয় হাশিরামা। বিশ্রামের কথা বলতেই হেসে উড়িয়ে দেয় নেতেরো। । বাজারের দিকে এসেই একটা খাবারের দোকানে গিয়ে ঢুকে দু’জন। ওঁরা যে গ্রাম দেখতে বের হয়েছে কথাটা গ্রামে ভালই ছড়িয়ে গেছে গ্রামে। আর তাছাড়া ডার্ক কন্টিনেন্টের কথা না জানলেও হান্টাররা শিনোবি ওয়ার্ল্ডে এটাক করতে পারে, এমন একটা কথা চেপে রাখা যায় নি- কাজেই সবাই কিছুটা ভয় আর চাপা গুঞ্জন তুলেছে আজকের নেতেরোর এই সফর নিয়ে। খাবার এর দোকানে বসেও তার আঁচ অনুভব করতে পারছে হাশিরামা।
খাবার শেষ করে গ্রামের আধেকটা চক্কর দিয়ে এসে ওকে নিয়ে গ্যাম্বলিং এর আসরে বসে হাশিরামা। আর সবার মত টোবিরামা আর মাদারা কেউই ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। আজকের এই সফরের বিষয়বস্তুর জন্যই কেউই হালকা কোন খোশ মেজাজি গল্প আর আমোদের কথা আশা করবে না। টোবিরামা দূর থেকে ওদের ফলো করতে করতে উশখুশ করলেও কিছু বলে না। ওদিকে গ্যাম্বলিং শেষ করে নদীর ধারে টায় কিছুটা সময় কাটিয়েই নেতেরো কে নিজের বাসায় নিয়ে চলে আসে হাশিরামা।
হালকা পানীয় নিয়ে দুজনেই যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে আলাপ চালাতে থাকে- টোবিরামা ঠিকি করে এবারে সে গিয়ে নিজেই কাজের কথা পারবে। ইচ্ছে করলেই সরাসরি বারান্দায় চলে যেতে পারে সে ফ্লায়িং রাইজিন ইয়ুজ করে। কিন্তু অতিথির প্রতি অভদ্রতা দেখানো হতে পারে ভেবে, পায়ে হেটেই বড়ো ভায়ের কামড়ার দিকে এগোয় সে। দরোজার হাতলে হাত রেখেই বুঝলো লক করা নয়, কেবল ভেজানো রয়েছে। খুলতে গেলেই- কিছু কথা কানে আসে তার-
“তোমার বাসা থেকে গ্রামের এই ভিউটা সবথেকে সুন্দর”, বলতে থাকে নেতেরো।
হাশিরামা জবাব দেয়, “সুন্দর আর রাখতে পারলাম কই, বলো? ” জুয়োর টেবিলে টাকাগুলো হেরে হাশিরামার চোখে একটু ক্লান্তি ভর করেছে বলে মনে হতে থাকে নেতেরোর। বাতাসে ওর চুলগুলো উড়িয়ে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু তার মাঝেও নেতেরো স্পস্ট দেখতে পায় হাশিরামার চোখের তাঁরা যেন ঝিক করে ওঠে সেকেন্ডের সিকিভাগ সময়ের জন্যে।
নেতেরো মুখে হাসিটুক ধরে রেখে বলে, “ডোন্ট য়োরি, আম স্টিল এলাইভ!”
কথাবার্তা এটুকুন শুনেই উল্টো ঘুরে দাঁড়ায়।। করিডোর দিয়ে ফিরে যাবার সময় মাদারার সাথে চোখাচোখি হল ওর। দেয়ালের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। ওর মত মাদারাও শুনতে পেয়েছে কথাগুলো।

 

রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি ৪ – নারুতো আর বোরুতো মাঙ্গা দুটি আলাদা ইউনিভার্সের গল্প

২০১৫ সালেই ৭২টি ভলিউমের মাধ্যমেই শেষ হয়েছিল নারুতো মাঙ্গার যাত্রা। তারপর মাঙ্গাকা মাসাশি কিশিমোতো এই মাঙ্গার জনপ্রিয়তার উপর বিশ্বাস রেখেই আমাদের উপহার দিয়েছিলেন নারুতো গাইডেন আর দা লাস্ট এবং বোরুতো মুভি। বলেছিলেন, এর পরে আর নারুতো আসবে না। নারুতোর গল্প ফুরলো, নটে গাছটা মুড়লো… যাইহোক, কিন্তু এই শেষ কথার পরেও কেন বোরুতো মাঙ্গার আবির্ভাব হল? কিশিমোতো কি তাহলে মিথ্যাচার করেছিলেন?আমার মনে হয়, বোরুতো দা নেক্সট জেনারেশন মাঙ্গা সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন ইউনিভার্স। গল্পের ভিন্ন রিয়েলিটি। কিভাবে? বলছি।

বোরুতো মাঙ্গা পাব্লিশ করেছে শোনেন জাম্প, শুধুমাত্র নারুতোর জনপ্রিয়তার উপর ক্যাপিটালাইজ করার জন্য, এমন কি মাঙ্গাকা নিজে আর মাঙ্গা আঁকবেন না বলার পরেও অন্য মাঙ্গাকা জোগাড় হয়ে গেল সেই মাঙ্গা আঁকার জন্য। এখানে শোনেন জাম্প ম্যাগাজিনেরও কিন্তু নারুতোর উপর রাইটস আছে, তাই চাইলেই সেই রাইটস তারা ইউটিলাইজ করতে পারে। তাই, বোরুতো মাঙ্গা যে বের হবে এটা ছিল অনিবার্য। এই বরুতো মাঙ্গার প্রকাশ হবার উপলক্ষে মাঙ্গাকা কিশিমোতো একটা সাইড স্টোরি আঁকলেন মুতসুকি কে নিয়ে। মুতসুকি কে? ওরোচিমারুর ছেলে। যারা সাইড স্টোরিটা পড়েছেন তারা জানেন যে, ওরোচিমারুর দুই ছেলে আছে। বড় মুতসুকি, আর ছোটো মুতসুকি। বড় মুতসুকি প্রাপ্তবয়স্ক সেইজ নিঞ্জা। আর ছোটো মুতসুকি নারুতোর ছেলে বরুতোর সমবয়সী। আচ্ছা, তাহলে বড় মুতসুকি জন্ম হল কবে? ওরোচিমারু তো শিনোবি যুদ্ধের আগ পর্যন্ত কাবুতোর শরীরেই ছিল, তার আগে তো সে মুতসুকি কে জন্ম দিতে পারেন নি। তাহলে ?

বোরুতো অ্যানিমে থেকে মাঙ্গায় মাঙ্গায় সাসকের চুল এর ধরণ ও আলাদা। সারাদার ব্যাটেল গিয়ার মুভির থেকে আলাদা। কি জানি সামনে আরো কত কিছুর ভিন্নতা পাওয়া যায়। এমনকি এই ইউনিভার্সে হোকাগের অভিষেক অনুষ্ঠানে নারুতোর বদলে কোনোহামারু গিয়ে উপস্থিত হয়েছিল ( দা ডে নারুতো বিকেম হোকাগে মাঙ্গা স্পেশালে তাই দেখা যায়)তাহলে এমন কি হতে পারে, এই সকল পরিবর্তন আর প্লট হোল মাঙ্গাকা কিশিমোতোর নিজের পরিকল্পনা। তিনি কি নিজের গল্পের রিয়েলিটি থেকে বোরুতো মাঙ্গার রিয়েলিটির বিচ্যুতি ঘটানোর জন্যেই এই রকম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

এই মুহূর্তে আমার কাছে আর কোনো এভিডেন্স নেই, তবে থিওরিটি আজ হাইপোথেসিস হিসেবে রেখেই ইতি টানলাম।

অনন্য মাঙ্গা আসর – ৮ (Vento Aureo)

দক্ষিণ ইতালির Naples এয়ারপোর্টে কুজো জোটারোর নির্দেশে কোইচি হিরোসে এসেছে হারুনো শিওবানা নামের একজনকে খুঁজতে —

হুম প্রথম বাক্যে কুজো জোটারোর উপস্থিতি দেখেই অনুমান করতে পারা যায় এটা জোজো ফ্রাঞ্চাইজির সাথে সম্পর্কিত। মূলত Vento Aureo হল হিরোহিকো আরাকি’র JoJo’s Bizarre Adventure এর গল্পের পঞ্চম ভাগ যেখানে প্রোটাগোনিস্ট একজন গ্যাংস্টার – ঠিক গ্যাংস্টার এখনো নন তবে গল্পের সাথে সাথে পুরোদস্তর মাফিয়ার শিরায় শিরায় প্রবেশ করতে থাকবেন ……

গল্পের টাইমলাইন ২০০১ – দুর্নীতি আর মাফিয়ার আগ্রাসনে আক্রান্ত ইতালি – সমগ্র দেশে বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতিতে ছড়িয়ে আছে সুসংগঠিত মাফিয়া চক্র । আর প্রোটাগোনিস্ট জিওরনো জিওভানা’র জীবনের লক্ষ্যই হল গ্যাংস্টার হওয়া ……

vento-aureo-1

একটু টিপিক্যাল Thug স্টাইলে মাফিয়ার এক চক্রের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে জিওভানা – সেখান থেকে খুনোখুনি হয়ে গেলে এ খবর পৌঁছে যায় Higher Ups এর কাছে … গল্পের ধারাটা এখন পর্যন্ত বেশ টিপিক্যাল মাফিয়া স্টোরি আর বেশ প্রেডিক্টেবল মনে হচ্ছে তাই না?

কিন্ত আশ্বস্ত করতে পারি, আর যাই হোক টিপিক্যাল বা প্রেডিক্টেবল কথা দুটি ভেন্টো অরেওর ক্ষেত্রে ব্যবহার করাটা যথারীতি Insult মাংগাকার প্রতি। কারণ এই মাঙ্গা টিকে আঁকতে আঁকার স্কিলের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা আর সৃজনশীলতার যে ভালো একটা ম্যাশ আপ আছে যা অধিকাংশ “Action” মাঙ্গা তেই থাকেনা ……

vento-aureo-2

স্ট্যান্ডের বিচিত্রতা রীতিমত Overwhelming ! স্ট্যান্ড কি বস্ত তা জানতে হলে চলে যেতে হবে জোজো ফ্রাঞ্চাইজির ৩য় পাখ্যান Stardust Crusaders এ …

এ ভাগের স্ট্যান্ড গুলো আগের সব জোজোর ভার্শন কে ছাড়িয়ে গেছে …

ওয়েস্টার্ন মিউজিকের আদলে বা স্বতন্ত্র ভাবে যে নামগুলো স্ট্যান্ডের পরিচয় তা শুনেই যেকোন একশন ফ্যান উচ্ছ্বসিত হবেন ……

পার্ট ৫ এ আমার সবচেয়ে পছন্দের ৭ টি স্ট্যান্ডের নাম উল্লেখ করা হল –

Gold Experience,Sticky Fingers,Man in the Mirror,The Walking Dead,Notorious B.I.G.,Metallica,King Crimson

vento-aureo-3

আর স্ট্যান্ডগুলোর এবিলিটি আর প্রয়োগ প্রচন্ড ভাবে সায়েন্টিফিক – একেকটি স্ট্যান্ড এর ক্ষমতা আর দুর্বলতা বের করে তাকে মোকাবেলা করা – এই এক জিনিস বারবার করালেও তার মাঝেই যে অনন্যসাধারণ Charisma কাজ করেছে যা বুঝতে হলে মাঙ্গা টি পড়তেই হবে ……

অধিকাংশ স্ট্যান্ড দেখেই মনে হবে এই স্ট্যান্ড তো Invincible ; একে হারানো সম্ভব না – ঠিক তখনই আরাকি সেন্সেই এমন এক স্ট্রাটেজি হাজির করবেন যে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াতে আপনি বাধ্য……

গল্পের বাঁকে বাঁকে উত্তেজনা আর টুইস্টের পাশাপাশি প্রধান ভিলেইন এর মত কিছু চরিত্রের মাঝে সাইকোলজিক্যাল ব্রেকডাউন এর নমুনা দেখা যায় – সেটা হতে পারে নিজের পরিচয় গোপন রেখে পুরো পৃথিবী দখলে রাখার ইচ্ছা আর সেকারণে নিজের পরিবারকেও নিশ্চিহ্ন করে দেয়াতে রাজি থাকা ইত্যাদি ইত্যাদি ………

vento-aureo-4

জোজো ফ্রাঞ্চাইজির কিছু ট্রেডমার্ক বস্ত বরাবরই আছে – পোজ এর পরিমাণ একটউ কম লেগেছে আমার কাছে । তবে আরাকির হাতে রাগান্বিত অবস্থায় চরিত্রের মুখ বা ফেইস এক্সপ্রেশন সেই Macho বা ওভার দ্যা টপ স্টাইলেরই – সেটাতে কোন পরিবর্তন নেই। আছে কিছু সংযোজন – “ নারান্সিয়া আর মিসটার Boom Chaka Boom Chaka Chaka Boom” নাচ

যেকোন একশন প্রেমী দের জন্য এটা আদর্শ মাঙ্গা – একটানা বসে ২০৪৮ পেজ শেষ করতে না পারলেও টানা ৫/৬ দিন পড়তে পারলে সহজেই শেষ করতে পারবেন ……

vento-aureo-5

পার্ট ৪ না পড়লে কি সমস্যা হবে? একটু আধটু হবে বৈকি। শুরুতেই কোইচি হিরোসে কে চিনবেন না আর “অ্যারো” বস্তটি কোথা থেকে এল তা নিয়ে বিব্রত লাগতে পারে। তবে তা এঞ্জয়মেন্টের ক্ষেত্রে কোন প্রভাবি ফেলবে না ……

ফিমেইল ক্যারেক্টারের ড্রেস আপে একটু ভিন্নতা আছে এবার! এর আগে তেমন একটা গল্পের মেইন প্লটে ফিমেইল চরিত্র না এলেও এবারের গল্পের প্রায় অর্ধেক অংশই এক ফিমেইল চরিত্রের রেসকিউ নিয়ে – আর এবার পোশাক আশাক টা বেশ Modernized করা হয়েছে – অর্থাৎ জোজোর গল্পের টাইমলাইনের সাথে গল্পের এনভায়রনমেন্টের একটা সামঞ্জস্য রাখা হচ্ছে ……

আর মাঝে মাঝেই ভলিউমের কভারের পাশে হিরোহিকো আরাকি’র মাঙ্গা আকাকালীন কিছু অভিজ্ঞতা তিনি শেয়ার করেছেন – ওগুলো পড়ে দেখা যেতে পারে।

তবে এবারের গল্প পুরোটাই দক্ষিণ ইউরোপকেন্দ্রিক হওয়ায় পার্ট ৩ এর মত সার্বজনীন ফ্লেভার টা হয়ত পাওয়া যাবে না – তবে ফাইট গুলোর intensity আর উত্তেজনা সে অভাব অনেকাংশে পূরণ করে দিয়েছে ………

সর্বোপরি ভেন্টো অরেও কে ১০ এ ৯ এর উপর না দেয়াটাই অন্যায় হবে …

একটু অন্য ফ্লেভারের একশন উপভোগ করতে চাইলে পড়ে দেখতেই পারেন তবে তার আগে দেখে বা পড়ে নিতে হবে ফ্রাঞ্চাইজির বাকি ৪ অংশ –

::: JoJo’s Bizarre Adventure (2012) [Anime- 26 Episodes] অথবা

JoJo’s Bizarre Adventure : Battle Tendency আর Phantom Blood এ মাঙ্গা দুটি

::: JoJo’s Bizarre Adventure : Stardust Crusaders (2014-15) [Anime – 48 Episodes]

অথবা একই নামধারী মাঙ্গা

::: JoJo’s Bizarre Adventure : Diamond is Unbreakable [এটার এনিমে অনগোয়িং;চাইলে মাঙ্গা পড়তে পারেন তবে এটা না পড়েও সোজা পার্ট ৫ Vento Aureo পড়তে কোন বাঁধা নেই]

অনন্য মাঙ্গা আসর-৭ (Ayeshah’s Secret)

সৎমায়ের ক্রোধ কিংবা ফ্যামিলি কমপ্লেক্সিটি – পুরনো কনসেপ্ট,গৎবাঁধা ক্লিশে আর বিরক্তি উদ্রেককারী……

কিন্ত সাধারণ কোন কনসেপ্টকে চাইনিজ আর্টিস্ট Jing Zhang অসাধারণ কিছুতে পরিণত করার ক্ষমতা রাখেন…… ডক্টর ডুমিং তার পারফেক্ট উদাহরণ…..

ayeshahs-secret-1

এবারো এক চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প – চরিত্রটি সম্পর্কে শেষ মুহূর্ত অবধি রহস্য আর সাইকোলজিক্যাল কলিশন ও জটিলতায় অঙ্গুলিসংকেত – অর্থাৎ প্যাটার্ন টা ডক্টর ডুমিং এর মত কিন্ত শিল্পগুণ বা সৃষ্টিকর্ম হিসেবে “Ayesha’s Secret” ডক্টর ডু মিং অপেক্ষা যোজন যোজন এগিয়ে………
পড়ার সময় যেন চরিত্র কথা বলে – আর্ট এতটাই জীবন্ত যে খুব সহজেই গল্পের মাঝে মিশে যেতে পারবেন……

ayeshahs-secret-2

আর Intense মুহূর্তে একটু হলেও Psychological Thrust অনুভূত হবে ……
আয়েশার মাঝে জীবনের নানা দিক,জীবনকে দেখার নানা দিক ই শুধু ফুটিয়ে তোলা হয়নি ,ভালোবাসার সংজ্ঞা,প্রতিহিংসা বা অদ্ভুত ভাবনা,Heartless নাকি realistic – বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করেছে মানহুয়াটি ……

১১ চাপ্টারে দ্বিতীয় বিবাহ কে ফোকাসে রেখে আয়েশার মধ্য দিয়ে পাঠককে বেশ সংবেদনশীল এক উপবৃত্তে ঘুরিয়ে এনেছেন Jing Zhang ….
গল্প শুরু পরিবারের মাঝে সুখ খুঁজে পাওয়া দিয়ে – তারপর অসহায়ত্ব,নির্মম ষড়যন্ত্র,কে ভালো কে খারাপ বিচার করতে গিয়ে পাঠকের দ্বিধা,খুবি বড় একটি টুইস্ট যা হৃদযন্ত্রে বেশ আলোড়ন সৃষ্টিতে সক্ষম।বারবার অস্তিত্বের সংকটে ভোগা কিংবা মনের অজান্তে জন্ম নেয়া পরশ্রীকাতরতা কে সামনে রেখে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলেছে ড্রামাটিক ও হালকা ট্র্যাজিক ঘটনাচক্র ……

গুয়েন সাহেব আর মিস নরমার কোল আলো করে আসে আয়েশা – জন্ম দিয়েই ইহলীলা সাঙ্গ করেন নরমা।তারপর দ্বিতীয় বিবাহ করেন গুয়েন,ঘরে আসে লেডি সিলভিয়া,তিনি আবার তিন পুত্রের মাতা,স্বভাবতই আয়েশার প্রতি অবহেলার সূত্রপাত – ঘোলাটে হয়ে যায় পরিবারের জীবনযাত্রা

ayeshahs-secret-3

তারপর ই গল্পের চাকা ঘুরতে শুরু করে – ইংরেজি নভেলগুলোর এনভায়রনমেন্ট থাকাটা বেশ উপভোগ্য ছিল।এতকিছুর মাঝে আয়েশা রহস্যময় – কি সেই রহস্য? সেই রহস্য দিয়েই গল্প শেষ হয়।কিভাবে কি ঘটছিল তার উত্তর দুয়ে দুয়ে চার করে মিলিয়ে দেয়া হয় যেটা ডক্টর ডু মিং এও করা হয়েছিল ডু মিং এর কনফেশনের মাধ্যমে ……

ayeshahs-secret-4

মাঙ্গার সেরা চরিত্র Sean – সংলাপ,বাহ্যিক রূপ,চিন্তাভাবনা সবকিছুতেই সে অন্য উচ্চতায় – যদিও মূল স্টোরিলাইনে সে অনেকটা দর্শকের ভূমিকাই পালন করেছে……
ডক্টর ডু মিং এর চেয়েও বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে “Ayesha’s Secret”
আয়েশা চরিত্রটির কার্যক্রম থেকে কি তাকে স্বার্থপর বলা যায়?
সিলভিয়াকে কি সত্যিই গল্পের ভিলেইন বলা যায়?
ঠিক কি কারণে কাউকে ভালোবাসা উচিত?
আমরা মুখে যতই বলি মহৎ কথা অহিংস কথা,উপযুক্ত পরিস্থিতিতে কি পারতাম প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দিতে?

ঠিক আমাদের চিন্তাভাবনার যে সংবেদনশীল জায়গাতে আঘাত করলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে বিচলিত হই সে জায়গা নিয়েই যেন ইচ্ছে করেই গল্প সাজিয়েছেন Jing Zhang – আর একারণেই হয়ত আয়েশার রহস্য পছন্দের ক্যালিবারে অনায়াসেই ঠাই পেয়ে গেছে ………

আর্ট খুবি উঁচু দরের,একটা কোট আকার সময় কোটের ভাঁজ এও কোন ভুল ছিল না,চোখের পাপড়িতেও কোন গলদ নেই – হাতে আঁকা না জানিয়ে কাউকে মুভির স্ক্রিনশট বললে অনায়াসেই বোকা বানানো যাবে ………

বেশ কঠিন কিছু কথা মনে হলেও মানহুয়াটি পড়ার সময় অনুভূতিটা এরকম জটিলই হবে – চাইলেও তাকে সহজ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না ………
প্যানেল টু প্যানেল আঁকার তারতম্য ও হয়নি এতটুকুও,আর আয়েশার ব্যাপারে একটা কথা – [চরিত্রটির প্রেমে পড়তে বাধ্য আপনি] – কারণ তাকে সেভাবেই আঁকা হয়েছে …………
মানহুয়াটি বেশ ডার্ক আর গভীর,লাইট কিছুই নেই।একটি সাধারণ সংলাপের মাঝেও লুকিয়ে আছে অনেককিছু ……
মানহুয়াটিতে রহস্য রহস্য গন্ধ থাকলেও শেষ অবধি রহস্যের চেয়ে সাইকোলজি আর ড্রামাটিক ভাইব পাওয়া গেছে ………

ayeshahs-secret-5