(এই আনিমেটি কেউ সাব করেনি সুতরাং ইউটিউবে শুধু এর ইংরেজি পাওয়া যায়,অন্য কোন সাইটে পাওয়া যায় না)
ব্যক্তিগত রেটিং: ৭.০/১০
পটভূমিঃ সময়টা ৭০ দশকের দিকেই স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন,আমেরিকা একটি অত্যাধুনিক পরমানবিক সাবমারিন তৈরি করে। সাবমারিনটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কিছু জাপানিজ ক্রুদের।কিন্তু তারা সাবমারিনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।সাবমারিনটির মধ্যে পরমানবিক অস্ত্র আছে বলে সবাই তাদের ভয় করতে শুরু করে।
আমেরিকান নৌবাহিনী তাদের সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে সাবমারিনটি ধাওয়া করলেও প্রতিবারি বিভিন্ন চৌকশ কৌশল অবলম্বন করে তারা বার বার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।কিন্তু জাপানিজ ক্রুরা সাবমারিনটি নিয়ে পালালো কেন?তাদের লক্ষ কি?তারা কি Defect করার চেষ্টা করেছে নাকি বিশ্বযুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছে? রহস্যটি জানতে হলে অবশ্যই আনিমেটি দেখতে হবে।
মুভিটিতে দেখার মত যা যা আছে-
# কমব্যাট দৃশ্য গুলো খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। সাবমারিন নিয়ে যে কত ধরনের চতুর কৌশল ব্যবহার করা যায় তা এই মুভি না দেখলে কল্পনাও করা যাবে না।
# পুরো মুভি জুড়ে প্রচুর অ্যাকশান, ড্রামা, সাসপেন্সে এবং থ্রিলার দৃশ্য রয়েছে।
#৭০ দশক এর বিভিন্ন হিস্তরিকাল ফিগারদের এই মুভিতে দেখানো হয়েছে।
বিদ্রি-
# এই আনিমেটি হলিউড মুভি “The Hunt for Red October” এর সাথে কিছু মিল পাওয়া যায়। তবে আনিমেটির মাঙ্গা হলিউড মুভিটি বের হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল।
# এই আনিমেটি “The Silent Service” মাঙ্গা থেকে ৩টি OVA হিসেবে বের হয়েছিল। ৩টি OVA একসাথে করেই মুভিটি পাওয়া যায়।
# আনিমেটা কিছুটা জাপানিজ পক্ষপাতপূর্ণ যা অনেকের কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে।
আমাদের মানুষদের মধ্যে একটা এরোগ্যান্ট ভাব আছে যে , মানুষ ছাড়া অন্য কোন কিছু ইমোশন অনুভব করতে পারবে না । মানুষ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরী করতে পারবে এবং মনে করতে পারে যে এই বুদ্ধিমত্তাকেও আমারা নিয়ন্ত্রনও করতে পারবে । কিন্তু সবসময় সবকিছু প্ল্যান অনুয়ায়ী হয় না । এখন এই এনিমের কাহিনী আগায় ভবিষ্যত নিয়ে যেখান এন্ড্রয়েড রোবট প্রাত্যহিক জীবনে সহজলভ্য ,এন্ড্রয়েড থেকে মানুষকে আলাদা করা যায় শুধু তাদের মাথার উপরকার হলোগ্রাফিক রিং দেখে । এদের মধ্যকার অজানা অনুভূতি নিয়েই এনিমের কাহিনী ।
এই এনিমের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে রিকোও সাকিসাকা । সে একজন মেধাবী ছাত্র এবং ট্যালেন্টেড পিয়ানোবাদক । কিন্তু এক অনুষ্ঠানে একটি রোবটের পিয়ানো বাজানো শুনে সে একই সাথে মুগ্দ্ধ এবং বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে । তার বাসায় অন্যসবার মতোও একটি এন্ড্রয়েড কাজ করে । এই এন্ড্রয়েড এর প্রত্যেকদিনকার কর্মকান্ড চেক করতে গিয়ে একদিন সে খাপছাড়া কিছু লক্ষ্য করে । একটি নির্দিষ্ট টাইমের জন্য তাদের স্যামি নামের এন্ড্রয়েড রোবটটি অনুপস্থিত ছিল এবং সে সময়কার জাগায় একটি অদ্ভুত কথা লেখা ” Are you enjoying the time of eve ? ,, এবং তার বন্দ্ধুকে নিয়ে খুজে বের করে এক ক্যাফে যার নাম ” Time of eve ,, এবং সেখানের নিয়ম হচ্ছে মানুষ এবং রোবটের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না । সেখানে গিয়ে সে আবিষ্কার করে যে রোবটদের মধ্যেও মনুষ্য আবেগ আছে এবং রোবোটিক্সের ৩ আইনের মধ্যকার কয়েকটি ফাকাফোকড় এর ফলে রোবটরাও মালিকের কাছ থেকে মিথ্যা বলে তথ্য গোপন রাখতে পারে ।রিকোও এটা প্রথমে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না । কেননা রিকোওর আশংকা রোবটরা মানুষকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে । কিন্তু তা কি সত্যিই , নাকি রোবটরা শুধু চায় একটু স্নেহ , ভালবাসা পেতে ? কি হয় সামনে ?
এটি একটি অসাধারন সায়েন্স ফিকশন স্লাইস অফ লাইফ । এটার মাত্র ৬টি এপিসোড এবং একেকটি ১৫মিনিটের । এটাকে আবার মুভি হিসেবেও রিলিজ দেওয়া হয়েছে । এই এনিমের আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর এবং বেশ ঠান্ডা ধরনের এনিমে । যদিও এন্ডিংটা কিছু প্রশ্ন রেখে যায় মনে ।সময় থাকলে এবং মাথা ঠান্ডা করা নরমাল কিছু দেখতে চাইলে শুরু করে দিন দেখা Time of Eve !
আমার রেটিং: 7/10
আমার সাধারনত রোমান্স বা সেইনেন টাইপের মাঙ্গা বেশি ভালো লাগেনা । কিন্তু সব রোমান্স মাঙ্গাই যে একরকম নয় তা এই মাঙ্গা পড়ার পরে বুঝতে পেরেছি । হিস্টোরি , রোমান্স এবং স্লাইস অফ লাইফ এর অপূর্ব সংমিশ্রন এবং আরব বেদুঈনদের জীবন কাহিনী নিয়ে খুবই সুন্দর মাঙ্গা ।
এই মাঙ্গার কাহিনীর পটভূমি ১৮০০ শতকের শেষের দিককার । এই কাহিনীর মূল ক্যারেকটার হচ্ছে আমিরা হালগাল । সে একজন ২০ বছর বয়সী যাযাবর নারী এবং তার স্বামী কারলুক তার চেয়ে বয়সে ৮ বছরের ছোট । তখনকার যুগে এইজ ডিফারেন্স কোন ব্যাপার ছিল না । আমিরা এবং কারলুকের বিয়ের আগে কেউ কাউকে চিনতো না , এখন হয়তো অনেকে ভাবছেন তাদের মধ্যকার ঝামেলা নিয়ে কাহিনী , কিন্তু আসলে তা নয় । ২জনের কারও এইজ ডিফারেন্স নিয়ে মাথাব্যাথা নেই এবং তাদের মধ্যকার যে ভালবাসা তাতেও কোন খাদ নেই । আমির এবং কারলুক ও তাদের পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নিয়েই এই কাহিনী । এর মধ্যে কিছু সাইড স্টোরি আছে এবং তাও যথেষ্ট সুন্দর ।
এই মাঙ্গার চোখে পড়ার মতো প্রথম জিনিস হলো আর্ট । অতিরিক্ত সুন্দর এবং ডিটেইলড আর্ট আপনার চোখকে মাঙ্গায় আঁটকে রাখবে । আরব ক্যালিগ্রাফী এবং ডিজাইন এলিমেন্টের সুন্দর ব্যাবহার মাঙ্গায় করা হয়েছে । এবং আরব বেদুঈনদের দৈনন্দিন জীবন যাপন সম্পর্কে রিয়েলস্টিক ধারনা পাবেন ।কিছু ইচি এলিমেন্ট আছে এবং ২একটা সাইড স্টোরি কিছুটা খাপ ছাড়া লেগেছে কিন্তু সবদিকদিয়ে মাঙ্গাটা আমার খুবই ভালো লেগেছে । যারা হাইস্কুল টিনএজার রোমান্স বা গতবাধা লাভস্টোরি পড়ে ক্লান্ত তারা অবশ্যই এই মাঙ্গাটা ট্রাই করে দেখবেন । তাহলে পড়তে শুরু করুন , চ্যাপ্টার ৫০টা বের হয়েছে এবং অনগোয়িং ।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে ।
you guys do not notice
that we are gifted just
by being humans,
we are absolute predator
এনিমের ওপেনিং যদি এইরকম লাইন দিয়ে শুরু হয় তাহলে আপনা আপনিই এই এনিমে দেখার জন্য আপনার মন ছটফট করা শুরু করবে । এই ওপেনিং শুরুই হয়েছে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষনা দিয়ে । আমরা অন টপ অফ দা ফুড চেইন । এই নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই । কিন্তু সত্যিই কি আমরা শ্রেষ্ঠ ? এখন আমরা যদি পৃথিবীকে একটি জীবন্ত বস্তু বলে বিবেচনা করি তাহলে আমরা পৃথিবীর কাছে কি ? ভাইরাস , ব্যাকটেরিয়সহ আরও নানা ধরনের পরজীবি জীব কোন প্রাণীর শরীরে বাসা বাধে , বংশবৃদ্ধি করে লক্ষ লক্ষ হারে শরীরে ছড়িয়ে পরে এবং পোষকদেহকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে । তাহলে দেখা যায় যে মানুষরাও একধরনের পরজীবিই । আমাদের পৃথিবীকে রোগাক্রান্ত করে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছি । কিন্তু প্রকৃতি কি প্রতিরোধ করবে না ?
এখন আসি এনিমের কাহিনীতে । প্যারাসাইটের মূল নায়ক ইজুমি শিনচি একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট । প্রত্যেকদিনের মতোই ঘুম থেকে উঠে স্কুলে গেলেন , কিন্তু খেয়াল হলো তার ডান হাত কিছুটা অবশ । তো অসুস্থ বোধ করে বাসায় ফেরার পথে চোখের সামনে দেখতে পেলেন একটি বাচ্চা গাড়ির নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছে । কিছু বোঝার আগেই ইজুমি বাচ্চাটাকে আগলে ডান হাত দিয়ে গাড়ি থামিয়ে দিল এবং আবিষ্কার করল তার ডান হাত আসলে ডান হাত নেই । পরিনত হয়েছে আরেকটি জীবন্ত সত্ত্বায় । এই প্যারসিটিক সত্ত্বার নাম সে দিল মিগি যার অর্থ ডান হাত । এবং এই মিগির কাছ থেকে জানতে পারলো যে মিগির উদ্দেশ্য ছিল তার ব্রেইন দখল করা যা করতে মিগি ব্যার্থ হয়েছে এবং মিগি শুধু একলাই নয় , আরও প্যারাসাইট আছে যাদের জন্মমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ হত্যা । কে এই প্যারাসাইটদের পাঠিয়েছে ? এদের উদ্দেশ্য কি ? এরাই কি প্রকৃতির ডিফেন্স মেকানিজম । এবং শিনচির জীবনে কি নারকীয় কান্ড ঘটতে যাচ্ছে ? জানতে হলে দেখা শুরু করুন।
প্যারাসাইটের পর্ব সংখ্যা ২৪টি । এর ওপিনেং সং ই বলতে গেলে এর ৫০% আকর্ষন । পাঙ্ক মেটালকোর টাইপের ব্যান্ড Fear and lothin in lusvegas এর ট্র্যাক Let me hear গানটি একবারও কেটে যেতে পারবেন না বলে আমি মনে করি । আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর । তবে কাহিনী শেষের দিকে কিছুটা ইনকম্প্লিট লেগেছে । এর সাইড ক্যারেকটারগুলোও আকর্ষনীয় যেমন : তামুরা রিওকো , কানা এবং গৌটো । এই সাইকোলজিকাল হরর আপনাকে নিরাশ করবে না বলে দিতে পারি ।
আমার রেটিং : 8/10
Op:
মানুষের মন বড়ই বিচিত্র । কখোনো তা কল্পানপ্রবন , শিশুতোষ এবং শিল্পমনার প্রকাশ এবং কখোনো তা অবসেসিভ এবং স্যাডিসটিক এবং তা কখোনো বাইরের রুপ দেখে বোঝা যায় না । ধরুন বাসে এক সুন্দরী মেয়ে আপনার পাশে বসল , আপনার সাথে গায়ে পড়ে আলাপ করা শুরু করল এবং একসপ্তাহ পর আপনার লাশ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ড্রেনে খুঁজে পাওয়া গেল । মানুষের মন সত্যিই বড় বিচিত্র । ইবিতসু তেমনি এক সাধারন পরস্থিতি থেকে নারকীয় পরিস্থিতিতে মোড় নেওয়া কাহিনী ।
কাহিনী : কাজুকি একজন তরুন মাঙ্গাকা । বাবা-মা এবং ছোটবোন নিয়ে তার সুখী পরিবার । একদিন রাতে আবর্জনা ডাস্টবিন ফেলার সময় খেয়াল করে ডাস্টবিনে কসপ্লের পোশাক পড়ে এক মেয়ে বসে আছে । যথারীতি পাগল ভেবে কাজুকি ময়লা ফেলে ফিরতি পথ ধরে বসল তখন হঠাত্ মেয়েটা জিঙ্গাসা করল “তোমার কি ছোটবোন আছে ? .. তখন কাজুকি উত্তর না দিতে গিয়েও বলল আছে । কাজুকি কি জানে সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছে এই উত্তর দিয়ে এবং প্রবেশ করেছে এক স্যাডিসটিক সাইকোপ্যাথ মেয়ের ভ্রাতাশিকার তালিকায় । বাকি কাহীনি জানতে হলে শুরু করে দিন মাঙ্গা পড়া ।
আমার পড়া সাইকোপ্যাথ হররের মধ্য সেরাগুলোর একটি । মাঙ্গার আর্ট বেশ ভালো । ১৪ চ্যাপ্টারের ছোটমাঙ্গা । এবং এর মধ্য দুটো সাইডস্টোরি আছে । প্রচলিত ভৌতিক গুজব যদি সত্যি হয় তাহলে যে তার মাত্রা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা রিয়ো হারুকা এ মাঙ্গায় দেখিয়েছেন । সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ইবাসুকি !
আমার রেটিং : ৮/১০
Homunculus কথাটা শুনলেই প্রথমে দুটা জিনিস মনে আস । প্রথম হল এর আসল অর্থ যার মানে হল কৃত্রিমভাবে তৈরি মিনিয়েচার মানুষ , আর আমরা যারা কম বেশি এনিমে দেখসি তাদের মনে আসে ফুলমেটাল এলকেমিস্টের ৭মহাপাপের Homunculus . এখন এই মাঙ্গায় আমাদের সাইকোলজিকাল হোমানকুলাস নিয়েই কাহিনী ।
কাহিনীর কেন্দ্র হচ্ছে সুসুমু নাকাশি যাকে কাহিনীর শুরুতে দেখা যাবে একজন বেকার সহায় সম্বলহীন মানুষ হিসেবে । তার সম্বল বলতে একটা ছোট গাড়ি যেটার মধ্যেই সে থাকে । অর্থাত্ মাথায় ছাদ নাই কিন্তু গাড়ি আছে ! তো একদিন আরামসে ঘুমানোর আয়োজন করার সময় এক অদ্ভুত্ বেশধারী লোক তার সাথে দেখা করে . এবং প্রস্তাব দেয় যদি নাকাশি তার নিজের মাথায় সেই ব্যাক্তি যার নাম মানাবু ইতো কে পরীক্ষা করতে দিতে রাজি হয় তাহলে সে তাকে ৭মিলিয়ন ইয়েন দেবে । আর পরীক্ষটা হলো তার মাথার খুলিতে সে একটি ফুটো করে দেবে , এর ফলে মস্তিকে রক্ত চলাচল বাড়বে এবং যার ফলে হয়তোবা সুসুমু তার ষষ্ঠইন্দ্রিয়কে আবিষ্কার করতে পারবে । হ্যাঁ , এই অদ্ভুত দেখতে মেডিকেল স্টুডেন্ড মানাবুর আগ্রহ হচ্ছে মানুষের সিক্সথ সেনস নিয়ে গবেষনা করা । যা হোক প্রথমে নাকাশি রাজি না হলেও , পড়ে পেটের দায়ে রাজি হয় । অপারেশন সফল হলেও প্রথমে তার কোন সিক্সথ সেনসই টের পায় না । তো কয়েকদিন পর রাস্তায় হঠাত্ করে চলার সময় তার বা চোখে বালি ঢোকে এবং বাঁ চোখ বন্দ্ধ করার সাথে সাথে দেখে যে তার চারপাশের মানুষের চেহারা বডি ফিগার অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছে । কেউ কাগজের মত পাতলা , কেউ বালুর বডি দিয়ে তৈরি আবার কেউ নরমালই আছে । এটাই কি তার নতুন পাওয়া ক্ষমতা ? পরে মানাবু ইতোর সাথে যোগাযোগ করার পর যে হাইপোথিসিস দাড়া করানো যায় তা হলো নাকাশির চোখে তার আশেপাশের সানারন মানুষগুলো বাইরের খোলস ভেদ করে তাদের ভিতরকার বেদনা , কামনা এবং অবদমিত অনুভূতি তার চোখে মানসিক Homunculus হয়ে ধরা দিচ্ছে । এরপর কি হয় ? নাকাশির আসল কাহিনী কি ? জানতে হলে পড়া শুরু করে দিন Homunculus ।
মাঙ্গার কাহিনী খুবই ভালো এবং মাঙ্গার আর্টও উন্নত মানের । তবে এর মধ্যে যথেষ্ট ম্যাচিউর এবং বেশ কিছু ডিস্টার্বিং সিন আছে যা অনেকের কাছে খারাপ লাগতে পারে । তবে মাঙ্গাটা ধৈর্য ধরে পড়লে ভালোই লাগবে । ভলিউম সংখ্যা মাত্র ১৬টি । তা হলে সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ইয়ামাতা হিদেওর সৃষ্ট Homunculus .
আমার রেটিং : 8/10 ।
(যদিও শব্দগুলা খুবই সোজা আর সবার এতদিনে জানা থাকার কথা তাও আগের লেসন গুলা ঘেটে দেখলাম আমি কখনো আগে দেইনি তাই দিয়ে রাখলাম 🙂 )
এবার আসি কঠিন পার্টে… এখন শিখাব “নাকেরেবা নারিমাসেন”… (আজকে শুধু একটা উদাহরণ দিব ..বাকি বিস্তারিত আলোচনা পরের লেসনে করব..)
ইহা আবার কি জিনিস… একদা ভার্ব শিখাইছিলাম ইহা তার সাথে সম্পর্কিত… কোন কিছু যখন করতেই হয় (must) তখন ভার্বের সাথে এই পার্ট টুকু লাগায় .. এখন কেমনে লাগায় দেখায়…ভার্ব তো অনেক আগে শিখাইছি.. কিছু মনে থাকার কথা না..আমি নিজেও ভুলে গেছি.. ১ম থেকেই কিছুটা বলি আবার ..
১মে একটা type 1 verb নেই “iku” … “iku” মানে হল “go”
“iku” এর “masu form” হল “ikimasu”…(“polite form” আরকি)
“nai form” হল “ikanai” (“nai form” মানে হল “negative form”)…”ika nakereba narimasen” মানে হল “must go”
একটা উদাহরণ দেই… “আশিতা গিনকো নি ইকা নাকেরেবা নারিমাসেন”- “i must go to the bank tomorrow.” (গিনকো-bank)
আজকে এটুকুই …নেক্সট দিন আরো আলোচনা করব এটা নিয়ে..মাতা নে..
–নাইলে কি? আমি মাত্র কুইজ দিয়া বাসায় আসছি। এখন আমার মরা দাদা কবর ফেড়ে বাইর হইলেও এই সোফা থেকে নড়তেছি না।
–ওই,ওই,(চুল টানারত) এত্ত ঘাড়ামি কইরো না… ওই! ওই!
–আরে ধুর,আনতেসি……
এটা হল আমার আর আমার ছোট বোনের ক্লান্ত বিকেলের কথোপকথন। জ্বালাতন বললেও বলতে পারেন তবে দিনশেষে অসুস্থ হলে ঘুমের ঘোরে কোমল হাতে ঠিকই জলপট্টি দিতে তাকে দেখা যায়।যদিও সুস্থ হবার পরে তার বক্তব্য — “হুহ! ঠেকা পড়ছে তোমার মাথায় পানি দিতে আমার”
যাদের ছোট বোন নেই,তারা হয়ত সেন্টিমেন্টটা ধরতে নাও পারেন।কিন্তু ছোট বোন আর ভাইয়ের সম্পর্কের কেমিস্ট্রি Maze Box এর চেয়েও অস্পষ্ট।
এত্তগুলা কথা বললাম ১২ পর্বের এক এনিমে সিরিজ এর কথা বলার জন্য।মাশাহিকো ওহতা পরিচালিত “Himouto! Umaru-Chan”,যা ইতোমধ্যেই বছরের সেরা কমেডি সিরিজের খেতাবের বেশ ভালো দাবিদারে পরিণত হয়েছে। পুরো গল্পটা প্রিয় উমারু দোমা কে নিয়ে। সুশীলা,সুন্দরী,মেধাবী আর পরিপাটি মেয়ে হিসেবে স্কুলে,ঘরে ,বাহিরে তার নাম-ডাক। কিন্তু চারদেয়ালের ভেতর মানুষের আসল চেহারা বোঝা যায় তো……
উমারুর কথা
১২ এপিসোডের হাস্যরসাত্নক,পাগলাটে এই এনিমেটা নিয়ে লিখতে গেলে বলতে হয় উমারু চ্যান এর কথোপকথন আর কাজ-কারবার,তার এহেন সব কান্ড কারখানাই দর্শক জমিয়ে রাখতে যথেষ্ট।আরেক চরিত্র তাইহেই দোমা,উমারুর (হতভাগা নাকি ভাগ্যবান) ওনি-চ্যান।গল্প শুরু হয় উমারুর বিখ্যাত প্রত্যাবরতন(স্কুল থেকে বাসায়)।কিভাবে সেকেন্ডের মধ্যে দীপ্তিময়ী পারফেক্ট হাইস্কুল আইডল গুটি গুটি হাত পা আর ডিম্বাকার মুখ নিয়ে পরিণত হয় অন্যরকম এক চরিত্রে।উমারুর কম্পিউটারের কীবোর্ডের জন্য বড্ড মায়া হয়- কেননা এ ব্যাটার ওপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার যায়।আর কোকা-কোলা,পেপসি কোম্পানিগুলোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তো উমারু-চ্যান নিজেই।উমারু চ্যানের সাথে সাক্ষাত পেতে চটজলদি শুরু করে দিন উমারু-চ্যান।
উমারু ছাড়া আর কি কেউ নাই??
“উমারু ছাড়া কি আর কোন চরিত্র নাই?” না,আছে।অবশ্যই আছে,আমাদের মধ্যে যারা ওয়াইফুখোর(এচ্চিখোর আর হারেমখোর) আছেন তারা এবিনা নানা চরিত্রটির সাথে অবশ্যই পরিচিত।গ্রাম থেকে টোকিও তে পড়ালেখার জন্য আসা,সর্বক্ষণ ভুলত্রুটির চিন্তায় ব্যস্ত,ঠিকমত কথা গুছিয়ে উঠতে না পারা,Dialect বা উপভাষা পাছে মুখ ফসকে বেরিয়ে না যায় সেজন্য সর্বদা তটস্থ থাকা— এমন দিকগুলোর কারণে চরিত্রটি চোখে লাগার মত।
তবে উমারুর পরপরই আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হল মতোবা বোম্বার।বিশেষত তার চুলের স্টাইলটাই বেশি ভালো লেগেছে।আর কথায় কথায় তার মুখভঙ্গি আর সংলাপের তো কথাই নেই……
আর বিরক্তিকর লেগেছে তাচিবানা সিলফিনফোরডকে।তার চোখের আইরিস,কথাবার্তা,মনে হয় এখনই লাফ দিয়া পানিতে পড়বে এমন উদ্ভট-চাঞ্চল্য থাকায় যতক্ষণ এনিমেটা দেখেছি,এই চরিত্রটি আসলেই— “দরকার ছিল এই চরিত্রটার!! -_-
আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল,উমারু-চ্যান আবার অতিমাত্রায় অলরাউন্ডার,দিনরাত গেইম,এনিমে,মুভি আর খাওয়া নিয়ে পরে থাকলেও এনিমু লজিক অনুসারে তিনি ১০০ তে ১০০ বরাবরই পান।আর প্যারোডির কথা বলতেই হয়।জুন পিস মাঙ্গার বড় ভক্ত উমারু তাই স্ট্র হ্যাট পরা অবস্থায়ও দেখা গেছে তাকে। আর উমারু-চ্যানের গেমিং স্কিল তো লাজবাব।
OST
ওপেনিং টা নিয়ে বলতে গেলে—-
“এনিমেটা দেখার সময় একটা এপিসোডেও ওপেনিং স্কিপ করা হয়নি”
অর্থাৎ ওপেনিং টা না দেখলে চলেই না। দেখে ফেলুন ওপেনিংটা—
এন্ডিং টাও বেশ ভালো।
https://www.youtube.com/watch?v=H-5L6Ffp2Ko
উমারুপাখ্যান ও কিছু কথা—
সাম্প্রতিক সময়ে উমারু নিয়ে এনিমখোরে কিছু মন্তব্য—
“আমি তাইহেই এর জায়গায় থাকলে থাপরাইয়া উমারুর গাল ফাটায়া দিতাম”
“উমারু ইজ লাভ,উমারু ইজ লাইফ”
“উমারু চ্যান হল Double-Bladed Sword”
“উমারুকে ঘৃণা করা মানে যে নিজের এক সত্ত্বাকে ঘৃণা করা তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন??”
“উমারু-চ্যান সারক্ষণ গেইম খেইলাও ১০০ পায় আর আমি।হায়রে!!”
এখন কাজের কথায় আসা যাক,উমারু-চ্যানের ভক্তের অভাব নেই,আমি নিজেই তাদের মধ্যে একজন। আর উমারুর প্রতি বিরক্ত আর উমারু-হেটারও আছেন অনেকে।আমরা গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করি(যদিও সরকার হয় ভোট ছাড়া) তাই সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কিছু কথা বলা যাক।আপনার যদি ছোট বোন না থাকে তাহলে আপনার কাছে উমারু বিরক্তিকর লাগতেই পারে।কারণটা শুরুতে বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে।যারা ছোট বোন আছেন,এবং বড় ভাই আছেন তাদের ব্যপারে উমারু খারাপ লাগার কারন—
১।ভাইয়ের কাছে ইচ্ছামত আবদার ………
২।আমি আমার ভাইরে জ্বালাতন করে কিছু আদায় করতে পারলাম না সারাজীবন আর এই উমারু কিনা………
৩।অসামাজিক বা ঘরকুনো জীবনযাপন পছন্দ করেন না
৪।অজানা কারণ –“কেন জানি উমারুকে ভালো লাগে নাই” এই কারণ
উমারু নিয়ে এত কথা বললাম কেন,হ্যা কেন……
ছোট বোন বড় ভাইকে জ্বালাবে বা আবদার করবে সেটা সহজাত ব্যাপার।এটাকে সহজভাবে নিতে না পারাটা ব্যরথতা,আর উমারু-চ্যান এনিমের শেষের দিকের কয়েকটা এপিসোড দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন উমারু চ্যান এতটাও খারাপ না যতটা ভাবছেন।
রেটিং-(ব্যক্তিগত) ৭.৮
গল্প- ৭.২ চরিত্র- ৮.৮
আমরা কানেকির সম্পর্কে টোকিও ঘোউল সিরিজ এ যা কিছু জেনে এসেছি তার অনেকটাই ছিল বলতে গেলে কানেকির অভিনয় । অথবা এক স্বপ্ন। কানেকি কখনোই কানেকি হয়ে বাঁচতে চায়নি। শান্ত শিষ্ট , ভীরু কানেকি , যাকে আমরা মানুষ থেকে ঘোউল হতে দেখেছিলাম, সেই কানেকি আসলে ছিল ট্রাজেডি নভেল এর এক চরিত্র মাত্র। সেই ট্রাজেডির নায়ক হয়ে কানেকি নিজের অতীত কে চাপা দিয়েছিল, মরতে চেয়েছিল কানেকি। ইয়ামরি (জেসন) এর কাছে মরতে চেয়েছিল কানেকি। কিন্তু তার মাথার ভেতরকার রিজে সান তাঁকে মরতে দিল না। মাকে সে কত্ত ভালবাসত, সেই মায়ের কথা মনে করিয়ে দিল, যখন কানেকি চোখের সামনে মা ঘোউল আর ছেলে ঘোউল কে ইয়ামরির হাতে খুন হতে দেখল। অতীতের কথা মনে পরে গেল কানেকির। বাস্তবতায় যেই স্বপ্নের জগত গড়ে তুলেছিল কানেকি , তা ভেঙ্গে গেল। ইয়ামরি কে কানেকি শেষ করল নিজের হাতে।
এন্টার, সাদা চুলের কানেকি। এই কানেকি নতুন এর গল্পের নায়ক এর অভিনয়ে করতে লাগল। যেই নায়ক ভীরু নয়, যেই নায়ক সবাইকে বাঁচাবে। নতুন এক স্বপ্ন। এবার সুকিয়ামা, বা তোউকা, কেউই তাঁকে থামাতে পারবে না। কিন্তু এ স্বপ্নে বাঁধ হয়ে দাঁড়াল সিসিজি আর আওগিরি। হিদে ছিল কানেকির বন্ধু, তার অতীতের সাক্ষী। একেও পথ থেকে সরিয়ে যখন কানেকি ছুটে চলল তার স্বপ্ন পূরণের পথে ( সবাইকে রক্ষা করার উদ্দ্যেশ্যে) ঠিক তখন সিসিজির রিপার আরিমা এসে বাধা হয়ে দাঁড়াল। কানেকির স্বপ্নের জগত আবার ধ্বংস হয়ে গেল। মাথার ভিতর চেকারবোর্ড আকাশের নিচে দাড়িয়ে কানেকি অতীতের সব কথা আবার মনে করল। মায়ের কথা মনে পড়ল আবার। মাকে সে কত্ত ভালোবাসত। কানেকি যা চেয়েছিল তা পেল। কানেকি আরিমার হাতে মারা গেল।
এন্টার, সাদা- কালো চুলের হাইসে সাসাকি । এই কানেকি আরেক নতুন গল্পের নায়ক। আরিমা সেই গল্পের রচয়িতা। গল্পে, সাসাকি হয়ে বাঁচতে হবে কানেকি কে, অতীতের কথা সব মুছে গেছে তার চেতনা থেকে। কিন্তু হায়! অবচেতন মনে যেই কানেকি বসত গড়েছে, তাকে মুছে ফেলা আরিমারও সাধ্য নেই। অবচেতন মনের সেই কানেকি সাসাকিকে অতীতের প্রতি কৌতূহলী করে তুললো। সাসাকি এবার জানতে চায় তার অজানা অতীত। সুকিয়ামার কাছ থেকে অতীত সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল কানেকি, কিন্তু এবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল কানায়ে। হিস্টোরি রিপিটস ইটসেলফ। এখন সাসাকি আবার তার ভুলে যাওয়া অতীত মনে করতে পারল। তার মায়ের কথা মনে পড়ল। সে কত্ত ভালোবাসত তার মাকে… আসলেই কি তাই? কানেকি কখনোই তার মাকে ভালোবাসে নি। ওটা ছিল কানেকির অভিনয়। ( থুতনি তে হাত দিয়ে কানেকি মিথ্যে কথা বলত।) কানেকি এখন আবার মরে যেতে চায়। আর নয় কোনো অভিনয়। স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে রক্তে মাখা লাল চুলের কানেকির। এই কানেকি নয় কোনো নায়ক। বরং এক হিংস্র পিশাচ/ ঘোউল। যে কিনা মরে যেতে চেয়েছিল।