মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Koe no Katachi, Onani Master Kurosawa ও Aku no Hana — Rezo D. Skylight

মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Koe no Katachi, Onani Master KurosawaAku no Hana

মানুষ তার নিজেকে বদলে কিভাবে নতুন মানুষে পরিণত হতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ Koe no Katachi, Onani Master Kurosawa এবং Aku no Hana এই তিনটি মাঙ্গায় খুব ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই মাঙ্গাগুলো না পড়ে থাকলে পড়তে পারেন। পড়লে অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে। এমনকি আপনার ফেভরাইট মাঙ্গাতেও পরিণত হতে পারে। যে কোন ‘স্লাইস অফ লাইফ’ জনরার ফ্যানদের জন্য এগুলো ‘Must Read’ মাঙ্গা।

3 in 1

Koe no Katachi:
প্রথমে Koe no Katachi এর কথায় আসি। Koe no Katachi তে প্রথমে কিছুটা সাইকোলজিকাল টাইপের থাকে। পরবর্তীতে অনেকটা লাইট হার্টেড হয়ে যায়। তবে এর প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং, যদিও দুই একটা অত্যন্ত বিরক্তিকর ক্যারেক্টার রয়েছে। এই মাঙ্গায় বুলি করা ব্যাপারটাকে ভালো ভাবে দেখানো হয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে গিয়ে প্রত্যেকের মধ্যেই পরিবর্তন আসে আর সবাই সবাইকে বুঝতে শুরু করে। সবমিলিয়ে, Koe no Katachi বেশ ভালো একটা মাঙ্গা। এন্ডিংও বেশ ভালো। তাই এই মাঙ্গাটা একবার পড়ে দেখুন, অবশ্যই ভালো লাগবে। আর্টও বেশ ভালো। আর সামনে বছর Kyoani এর এনিমে মুভি অ্যাডাপশন নিয়ে আসছে, এখন তার অপেক্ষায় বসে আছি।

চ্যাপ্টারঃ ৬৪
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.৬৭
আমার রেটিংঃ ১০/১০

Onani Master Kurosawa:
Onani Master Kurosawa কিছুটা বেতিক্রমধর্মী মাঙ্গা (Doujinshi)। প্রথম চ্যাপ্টার পড়ে অনেকেই এর থিম দেখে পিছপা হতে পারে। কিন্তুু আপনারা যদি ধৈর্য নিয়ে পুরো মাঙ্গাটা পড়তে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে এই মাঙ্গা আপনার অন্যতম ফেভরাইট স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গায় পরিণত হবে। তবে মাঙ্গার মেইন ক্যারেক্টার কুরোসাওয়া বেশ ইন্টারেস্টিং। তার চরিত্রের সাথে অনেকটাই ‘ডেথ নোট’ এর লাইটের মিল আছে। মাঙ্গার শুরুতে কুরোসাওয়া ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয় এবং পরবর্তীতে নানা ধরনের কুকর্ম করতে থাকে। কিন্তুু একটা সময়ে তার ভুল বুঝতে পারে এবং সে নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে। এভাবে Onani Master Kurosawa-র কাহিনী খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এর এন্ডিং খুব চমৎকার। মাঙ্গার আর্ট কিছুটা বাজে। তবে আমার কাছে ওভারওল মাঙ্গাটা খুব ভালো লেগেছে।

চ্যাপ্টারঃ ৩১
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.৬৪
আমার রেটিংঃ ১০/১০

Aku no Hana:
উপরের দুইটি মাঙ্গা থেকে Aku no Hana সবচেয়ে বেতিক্রম। তবে এর কাহিনীর শুরুটাও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে, যা অনেকটা Onani Master Kurosawa-র মতো। তবে বাকি কাহিনী সম্পূর্ণ আলাদা। এর সাইকোলজিকাল এলিমেন্ট তুলুনামূলক অনেক বেশি। তাই সাইকোলজিকাল যাদের ভালো লাগে না তাদের না পড়াই ভালো। এই মাঙ্গা প্রথমে আমার কাছে খুব ডিস্টার্বিং মনে হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুব মেজাজ গরম হয়েছিল, মনে হয়েছিল ড্রপ মারি। কিন্তুু শেষ করার পর বুঝলাম মাঙ্গাটা আসলে কত ভালো। অর্থাৎ শুরুটা কিছুটা বিরক্তিকর হলেও শেষমেশ Aku no Hana খুব ভালো একটা মাঙ্গায় পরিণত হয়। কিছু ক্যারেক্টার এখানে খুব বিরক্তিকর ছিল। তারপরেও মাঙ্গার শেষ পর্যায়ে গিয়ে সবাইকে ভালো লেগেছে। এর ১৩ এপিসোডের এনিমে অ্যাডাপশনও আছে। কিন্তুু ‘Rotoscoping animation’ ব্যাবহার করার জন্যে অ্যাডাপশন খুব বাজে হয়েছে। তাই এনিমে না দেখাই ভালো। মাঙ্গার আর্ট অনেক ভালো।

চ্যাপ্টারঃ ৫৮
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.২০
আমার রেটিংঃ ১০/১০

যারা একটু বেতিক্রমধর্মী স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গা খুঁজছেন তারা এই তিনটি মাঙ্গা পড়ে দেখতে পারেন। আমার কাছে এই তিনটি মাঙ্গার প্রতিটিই অনেক ভালো লেগেছে। বলতে গেলে এই তিনটি মাঙ্গাই আমার পড়া সেরা স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গার তালিকায় থাকবে।

অনন্য মাঙ্গা আসর – ২ (Harem Lodge)

সাসাহারা মিদোরি নামের এক মেয়ের প্রবাসী বাবা মেয়ের জন্য জীবনসঙ্গী ঠিক করে রেখেছেন এবং ,মেয়েকে ভবিষ্যৎ স্বামীর কাছে প্রেরণও করেছেন। সেই ছেলেটি হল তেতসুয়া কাতাগিরি। এক্সপ্রেশনলেস সহজ সরল এক ছেলে। আর যে বাড়িতে গিয়ে তারা ঊঠল তা রেন্টাল এপার্টমেন্ট “Harem Lodge” …………………

 

আর এভাবেই শুরু হয়ে যায় মিদোরি-তেতসুয়ার গল্প নিয়ে শর্ট লেন্থের মাঙ্গা “Harem Lodge” . ৯ চাপ্টারের শৌজো রোমান্টিক মাংগাটি সর্বোপরি ভালো। ক্যারেক্টার সাজানো,চোখে লাগার মত ব্যাকস্টোরি থাকায় গল্পরস পূর্ণ।

oma 1

 

রোমান্টিক ভাইব ও এনভারোমেন্ট মাঙ্গার প্রথম চাপ্টার থেকেই পাওয়া যাবে। আর হারেম লজের বসবাসকারীরা নিতান্তই স্বাভাবিক নন,অদ্ভুত সব চরিত্রের অবতারণা করা হয়েছে এখানে।

 

আয়ুমু ওয়াকাতসুকি যাকে অনেক সময় মানুষ মেয়ে ভেবে ফেলেন,আসলে উনি ছেলে …

 

শুইচি ওডা,এনার ব্যাপারে বললে স্পয়লার হয়ে যাবে তবে  ছবি দুটো দেখলেই বুঝতে পারবেন ক্যারেক্টার টা কেমন …

oma 2

তবে মাঙ্গার প্রথমদিকে কোরিয়ান মানহয়ার মত সরলরৈখিক রোমান্স মনে হলেও পরবর্তীতে হালকা প্লট টুইস্ট আছে,ব্যাকস্টোরী আর ফ্লাশব্যাক দিয়ে পুরো মাঙ্গার ধরনকেই যেন পালটে দেওয়া হয়েছে। আর হারেম লজের অধিবাসীদের প্রতিদিনকার জীবন এর জায়াগাগুলোয় হালকা হাসির খোরাক পেতেই পারেন।

 

আর মাঙ্গার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে এই মাঙ্গাটির ঘাটতি ব্যাপক। “””আর্টওয়ার্ক”””

 

মাংগাটির আঁকা মিশ্র,কভার ও গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলোতে আঁকা নিয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও,ফ্ল্যাশব্যাক ও ব্যাকস্টোরির সময় তেতসুয়া আর মিদোরির চেহারা দেখলে রীতিমত মেজাজ খারাপ হয়ে যেতে পারে। এত্ত সিরিয়াস অংশে এসে মাঙ্গাটির আঁকার এ বেহাল দশা কেন?? তাই আঁকা নিয়ে অতি উৎসাহী ও “দেখতেই ভালো লাগে না চেহারা তাই এটা ভালো না” এধরনের দর্শকদের ভালো লাগা সুনিশ্চিত না।

 

আর খুব তাড়াহুড়া করে মাঙ্গাটি শেষ করা হয়েছে বলে স্টোরিলাইনকে কেবল “ভালো” , আঁট ভাষায় “মোটামুটি” বললে তর্কের জায়গা নেই।

 

মাঙ্গাটি একদিন ফ্রি টাইম পেলে পড়ে ফেলতে পারেন,আশা করি ভালো লাগবে।

 

মাঙ্গাটির রচয়িতা শিজুকি ফুজিসাওয়া, মাইএনিমেলিস্টে রেটিং দেওয়া হয়েছে ৭.৬৯  ……

 

সামনে আরো একটা মাঙ্গা নিয়ে হাজির হব , সে পর্যন্ত সাইয়োনারা ^_^

 

মাঙ্গা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন………

মাঙ্গা রিভিউ :উযুমাকি (Uzumaki) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ :উযুমাকি (Uzumaki)
আমাদের যদি প্রশ্ন করা হয় যে , ছোটবেলায় কোন জেনারের বই সবচেয়ে বেশি কেনা হয়েছে? তাহলে আমার ধারনা বেশিরভাগই বলবে ভূতের । ছোটবেলায় টম সাহেবের বাংলো , সতীনাথ ভাদূড়ি ,বনফুল এর লেখা ভূতের গল্প ছোটবেলায় লেপের নিচে পড়ার অভিঙ্গতা আমাদের অনেকেরি আছে । এরপর আসে সত্যজিত্‍ রায়ের অসাধারন মাস্টারপিসগুলো যেমন ফ্রিত্‍স , খগম , ভূতো , বৃহচন্চু ইত্যাদি । এসব গল্পের বিল্ডিং এবং কাহিনী বর্ননা অসাধারন। এখন আসব মাঙ্গাকার কথায় । জুনজি ইতো জাপানের সের হরর মাঙ্গাকার মধ্যে একজন । এবং তার মাঙ্গাগুলোর স্বাদ অনেকটাই সত্যজিত্‍ রায়ের ভৌতিক ছোট গল্পের মত । উযুমাকি সেরকমের একটি গল্প । এবং এই গল্পের মেইন বিষয় হলো রহস্যময় স্পাইরাল । জ্বী এই কাহিনীর অভিশাপ কোন জীবের নয় বরং একটি জ্যামিতিক কার্ভের ।

কাহিনী : জাপানের উপকূলের একটি ছোট শহর কুরোজো । এই শহরের দুই অধিবাসী হল কিরি গোশিমা এবং তার বয়ফ্রেন্ড সুইচি সাইতো । কাহিনী শুরু হয় এই সুইচির বাবাকে নিয়েই , যে স্পাইরালে আসক্ত । সে স্পাইরালের প্যাটার্নযুক্ত কিছুই সংগ্রহ করত । এবং তার জীবনের শেষ হয় নিজেকে স্পাইরালে পরিনীত করতে গিয়ে । এবং পরে সুইচির মায়েরও মৃত্যু হয় স্পাইরাল ভীতিতে । তখন থেকে শহরে শুরু হয় স্পাইরালের কার্স ।শহরের যে কোন শবদাহ করার পর যে ধোয়া বের হয় স্পাইরাল আকৃতির । আরও শুরু হয় খুলির স্পাইরাল ভোয়েডে হারিয়ে যাওয়া , মানুষ শামুকে পরিনত হওয়া , গর্ভবতী ভ্যাম্পায়ার মায়ের দল এবং প্রেমিক সাইক্লোন যা কিরিকে নিয়ে যেতে চায় । বাকি কাহিনী মাঙ্গা পড়েই জেনে নিন ।

মাঙ্গার আর্টস্টাইল যথেষ্ট রিয়েলিস্টিক এবং ডিটেইলড , বিশেষ করে হরর পার্টগুলো । কাহিনী শেষের দিকে যথেষ্ট প্যাচালো । কিন্তু তাও না পড়ে থাকা যায় না ।
আমার রেটিং : 9/10
সুতরাং গভীর রাতে পড়া শুরু করে দিন ২০ চাপ্টারের উযুমাকি । আশা করি শৈশবের সেই গা ছমছমে অনুভূতি ফিরে আসবে ।

uzumaki

মানহয়া রিভিউ: For the Sake of Sita — Rumman Raihan

মানহয়া রিভিউ

ফর দা সেইক অফ সীতা।

তালেজু দেবী একবার মর্ত্যে এসেছিলেন রমণী বেশে । নেপালের রাজা দেবতুল্য সেই রমণীর রুপ দেখে এক অন্ধ লালসায় মত্ত হয়ে কেরে নেন দেবীর সতীত্ব। দেবী এতে ক্রুদ্ধ হয়ে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ লিখে দেন রাজার কপালে। ফিরে জান স্বর্গালোকে। অতঃপর রাজা যখন নিজের পাপ সম্পর্কে বুঝতে পারেন, তখন তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তালেজু ভবানী গড়ে তুলেন দেবীর পূজার জন্য। ( কয়দিন আগে নেপালের ভূমিকম্পে যে তালেজু ভবানী ও কুমারি মন্দিরের ক্ষতি হয়েছিল।) দয়াময় দেবী তখন এক শর্ত দেন রাজাকে। একজন কুমারী মেয়ে শিশুকে বেছে আনতে। দেবী সেই শিশুর শরীরে আগমন করবেন আর সবাই এই কুমারির কাছে আরাধনা করবে।
না, গল্পটি কোনো মিথোলজিক্যাল গল্প নয়। কিন্তু, কুমারী পূজা, রি-ইঙ্কারনেশন এর ছায়া আছে গল্প টিতে।
গল্পের নায়িকার নাম ঝর্ণা সীতা। সব কুমারির নামই হয় সীতা। তবে সব সীতাই কুমারী হয় না। কোরিয়ান এক যুবক মেডিক্যাল স্টুডেন্ট হয়ে নেপালে আসে। প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলে সীতাকে। বিয়ে করে নিজের দেশে নিয়ে আসে সীতাকে। কিন্তু ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাসে ভেঙ্গে যায় তাদের সুখের জীবন। এ কি সেই দেবীর মহাকালের অভিশাপ?

কুমারী প্রথার এক অন্য বিচিত্র রূপ ধরা পরেছে এই অসাধারন ভালোবাসার গল্পে। মানহাটির আর্টস্টাইল সম্পূর্ণ আলাদা। উপমহাদেশের সংস্কৃতির অনেক উপাদান আছে এখানে। পড়ে ফেলুন আজ তাহলে!

For the Sake of Sita
Art and Story: Haga
Genre: Mystery, Romance, Tragedy
Chapters: 14
Status: Completed
Published: From November 2014 to August 2015
LINE Webtoons Rating: 9.39

seeta 1 seeta 2

মাঙ্গা রিভিউঃ Kamisama ga Uso wo Tsuku / The Gods Lie — Rezo D. Skylight

Kamisama ga Uso wo Tsuku / The Gods Lie

Volumes: 1
Chapters: 5
Status: Finished
Published: Mar 25, 2013 to Jul 25, 2013
Genres: Drama, Romance, School, Slice of Life, Seinen
Authors: Ozaki, Kaori (Story & Art)
Serialization: Afternoon
MAL Score: 8.31
Ranked: 317

the gods lie

কাহিনীর শুরুটা হয় নাতসুরু নামের ১১ বছরের এক বালকের দৈনন্দিন জীবনের গল্প নিয়ে। সে ফুটবল খেলেতে খুব পছন্দ করত এবং মেয়েদেরকে সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করত। বলতে গেলে মেয়েরাই তাকে ইগনোর করে চলতো। তার বাবা মারা যাওয়া সত্তেও, সে ও তার মা একসাথে বেশ সুখ-শান্তিতেই বসবাস করত। এভাবেই তার দিন কাটছিল। কিন্তুু গ্রীষ্মের বন্ধের কিছুদিন আগে প্রয়োজনে পড়ে সে তার ক্লাসের সুযুমুরা নামের এক মেয়ের সাথে কথা বলা শুরু করে। আস্তে আস্তে নাতসুরু সেই মেয়ের পারিবারিক কষ্টের জীবন সম্পর্কে জানা শুরু করে। এরপর গ্রীষ্মকালের ছুটিতে সে তার বন্ধুদের সাথে স্কুল ক্যাম্পিং এ না গিয়ে সুযুমুরার বাড়ি বেড়াতে যায়। কারণ সে নিজেও চায় তাদের অংশ হয়ে তাদের এই কষ্টকর পরিস্থিতি উপ্লব্ধি করতে।

আমারা অনেকেই দারিদ্রতা কি তা সহজে উপলব্ধি করতে পারিনা। যদি আমরা তাদের সমাজে গিয়ে বসবাস করি তাহলেই আমরা তাদের দুঃখ কষ্টের ব্যাপারটা বুঝতে পারব। আর ঠিক এই ব্যাপারটাই এই মাঙ্গায় খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। এছাড়া এখানে রোমানস ও স্কুল-লাইফকেও ভালোভাবে তুলে ধরেছে।

ক্যারেক্টারের কথা বলতে গেলে সব ক্যারেক্টারকেই আমার বেশ ভালো লেগেছে। তবে বিশেষ করে সুযুমুরাকে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। কারণ এত কম বয়সের একজন মেয়ে হয়েও, সে পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিয়েছে। তার এই শক্তিশালী মনোবলের জন্যই মনে হয় তাকে অন্যান্য ক্যারেক্টারদের থেকে একটু আলাদা করে দেখেছি।

মাঙ্গার আর্টও যথেষ্ট ভালো। বিশেষ করে ক্যারেক্টার ডিজাইন আর ডিটেইলিং বেশ সুন্দর। এর মাঙ্গাকা হলেন Ozaki Kaori। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হল “Meteor Methuselah / Immortal Rain” মাঙ্গা। এছাড়াও তিনি Piano no Ue no Tenshi, Knife নামের আরও কিছু মাঙ্গা রচনা করেছেন।

যাই হোক এখন দেরি না করে মাত্র ৫ চ্যাপ্টারের এই ছোট মাঙ্গাটি পড়ে ফেলুন। আশা করি পড়ে বেশ ভালো লাগবে।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৮.৫/১০

লিঙ্ক- http://kissmanga.com/Manga/Kamisama-ga-Uso-o-Tsuku

মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse) — Rezo D. Skylight

Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse)
Chapter: 45
Status: Complete
Genres: Action, Mystery, Horror, Sci-Fi, Shounen, Psychological
Authors: Kuraishi, Yuu (Story), Inabe, Kazu (Art)
Serialization: Shounen Rival
MAL Score: 8.08
Personal Score: 8/10

ant 1

ধরুন আপনি প্রতিদিনের মতো স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছেন। তখন বাড়ি ফিরার পথেই দেখতে পেলেন একজন মানুষের লাশ আপনার ঘরের সিঁড়িতে পড়ে আছে। অথচ এই হত্যা কে করেছে, তাকে আপনি চিনেন না; অপরদিকে আপনি যে এই হত্যা করননি সেই কথাও কেউ বিশ্বাস করছে না। সেই মিথ্যা হত্যার দায় ঘাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক আপনাকে কারাগারে পাঠানো হল; আপনার উপর জারি করা হল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তখন আপনার মানুষিক পরিস্থিতি কেমন হবে একবার ভেবে দেখুন। ঠিক এইরকমই এক অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় মাঙ্গার মূল নায়ক “মায়েদা ইয়শিআকি”। এখান থকেই তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর মুহূর্ত শুরু হয়। তবে সে ধীরে ধীরে তার কারাগারের রুমমেটদের সাথে বন্ধুতপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। তার এই নতুন বন্ধুরা তার পরিস্থিতির কথা উপলব্ধি করতে পেরে তার সহায়তায় এগিয়ে আসে। ঠিক এমন সময় একধরনের মারাত্মক ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যা মানুষকে ইনফেক্টেড করলে পরিণত হয় মানুষখেকো জীব তথা যম্বিতে। এইরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কারাগারবাসিদের জন্য রয়েছে জেল থেকে পালানোর সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তুু কারাগার থেকে বের হয়ে, এইরূপ পরিস্থিতিতে তারা কি পারবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে?

ant 2

আরও জানতে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। এর কাহিনী ডার্ক থিম আর রহস্যে ভরপুর। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, ধোঁকা এককথায় মানুষের সাইকোলজি খুব ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। মাঙ্গাকা ক্যারেক্টারগুলো খুব যত্নসহকারে বানিয়েছে। প্রতিটি চরিত্রেরই দেখানো হয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট। আর হরর মাঙ্গা হিসেবে আর্টও যথেষ্ট ভালো। মাঙ্গার প্রতিটি প্যানেলই খুব স্পষ্ট এবং সহজেই কি হচ্ছে তা বুঝা যায়। শুধু একটাই সমস্যা মাঙ্গার এন্ডিংটা অনেক রাসড। এছাড়া পুরো মাঙ্গাটাই আমার ভালো লেগেছে।

ant 3

সুতরাং যারা কোন যম্বি মাঙ্গা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা এই মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে পারেন। বিশেষ করে যারা হরর-সাইকোলজিকাল জনরার ফ্যান তাদের এই মাঙ্গাটি খুব ভালো লাগবে বলে আশা করা যায়। তাই দেরি না করে পড়া শুরু করে দিন এবং হারিয়ে যান যম্বির দুনিয়ায়।

পড়ার লিঙ্ক – http://kissmanga.com/Manga/Apocalypse-no-Toride

ant 4

Behind the Voices – 06

শিমোনো হিরো

শিমোনো হিরো আমার দেখা অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনেতাদের মধ্যে একজন। তার কণ্ঠটা বেশ বিরল এবং তিনি বেশিরভাগ সময় কিশোর বয়সী চরিত্রদের কণ্ঠ দিয়ে থাকেন । আর তিনি তার চরিত্রগুলোকে এমনভাবে কণ্ঠ দেন যে অন্য কারও কণ্ঠে চরিত্রগুলোকে কল্পনা করা যায় না।

তার অনেক ভালো ভালো রোল আছে । তবে সেগুলোর মধ্যে আমার বেশ পছন্দের হল ‘Kami nomi zo Shiru Sekai’ আনিমেটির কেইমা কাৎসুরাগি চরিত্রটি, এই চরিত্রটির ক্ষেত্রে সে যে অসাধারণভাবে কণ্ঠ-অভিনয় করেছেন আমার মতে অন্য কারও কণ্ঠ-অভিনয়ের সাথে হয়তো বা চরিত্রটিকে এত ভালো লাগতো না । আরও আছে ‘SKET Dance’ সুবাকি সাস্কে চরিত্রটি, এর ক্ষেত্রে খুব অসাধারণভাবে গম্ভীর স্বরে কণ্ঠ-অভিনয় করেছেন তিনি বিশেষ করে চরিত্রটির বারবার ‘ওরোকামোনো’ বলার ধরণটা বেশ মজা লেগেছে । আরও পছন্দের রোলগুলো হল ‘Baka to Test’-এর আকিহিসা, ‘Senyuu’-এর আলবা, ‘Unbreakable Machine Doll’-এর রাইশিন, ‘Binbougami ga’-এর ইনুগামি, ‘Ace of Diamond’-এর কাওয়াকামি এবং ‘Tonari no Seki-kun’-এর সেকি-কুন ( যদিও চরিত্রটাকে পুরা সিরিজের মধ্যে একটুও কথা বলতে দেখি নাই ) । এই বছরও কিছু নতুন রোল পেয়েছেন তিনি, যেমন দুরারারার দ্বিতীয় সিজনের আওবা নামক নতুন চরিত্রটি। http://goo.gl/Fih7AV এখানে যেয়ে এক নজরে দেখেনিন তার আনিমে এবং গেম্সের সব চরিত্রগুলো ।

শিমোনো হিরো 1

তার জন্ম ২১ এপ্রিল, ১৯৮০ এবং ২০০২ সালে তিনি তার প্রথম রোল পান ‘RahXephon’ আনিমেটির কামিনা আয়াতো চরিত্র হিসেবে । তার কন্ঠ-অভিনয় নিঃসন্দহে অনেক সুন্দর । তাই সামনেও তিনি আরও কিছু ভালো ভালো রোল পাবেন এটা ধরে নেওয়াটাই স্বাভাবিক।

শিমোনো হিরো 2

নাযুকা কাওরি

আমার দেখা সবচেয়ে নরম এবং শ্রুতিমধুর কণ্ঠওয়ালা কণ্ঠ অভিনেত্রী নাযুকা কাওরি । সে শুধু একটি সুন্দর কণ্ঠেরই অধিকারী নয়, একজন অসাধারণ দক্ষ কণ্ঠ অভিনেত্রীও ।

তার পেশাগত জীবনে অনেক চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি, বলতে গেলে ৯০% কণ্ঠ অভিনেত্রীদের তুলনায় তার চরিত্রের পরিমাণ বেশি । শুধু তাই নয়, তার করা মূল চরিত্রের সংখ্যা পার্শ্বচরিত্রের চেয়ে বেশি । তার কণ্ঠ দেওয়া পছন্দের রোলগুলো হল ‘Eureka 7’-এর এউরেকা, ‘Soul Eater’-এর সুবাকি, ‘The World God Only Knows’-এর তেন্রি, ‘Kampfer’-এর সাঙ্গোউ শিযুকু, ‘Akame ga Kill’-এর চেলসি, ‘Fullmetal Alchemist Brotherhood’-এর মারিয়া রস, ‘To Love Ru’-এর কোতেগাওয়া ইউই, ‘Haikyuu’-এর কিয়োকো এবং ‘Code Geass’-এর নানালি । এছাড়া তার আরও অনেক রোল আছে বিভিন্ন আনিমে এবং গেমে, সেই রোলগুলো সব এক নজরে এই লিঙ্কে http://goo.gl/SKwl0S গিয়ে দেখে আসতে পারুন ।

 

নাযুকা কাওরি 1

তার জন্ম ২৪ এপ্রিল, ১৯৮৫ এবং আনিমেতে প্রথম রোল পান ১৯৯৯ সালে । তিনি ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিবাহিত হন এবং তার একটি কন্যাও আছে । সেই ছোটবেলা থেকে অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি এবং সামনে তিনি আরও ভালো রোল পাবেন এটা আশা রইলো ।

নাযুকা কাওরি 2

Mushishi রিভিউ — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

এনিমে রিভিউ : Mushishi (মুশিশি)
এই ছোট জীবনে আমার বহুরকম এনিমে দেখার সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য হয়েছে । নানা জনরার এনিমে দেখসি যেমন মেকা , সাইকোলজিকাল , শৌনেন , স্লাইস অফ লাইফ ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু এটা এমন এক এনিমে যাকে আমি কোন ভাগেই ঠিকমতো ফেলতে পারিনি । কোনরকম ফ্ল্যাশি মুভ , মাথা ঘুরিয়ে দেবার মত প্লট বা কোন রোমান্স কিছুই এই এনিমেতে নেই , কিন্তু তারপরও এই এনিমে একবার দেখার পর মাথা থেকে কিছুতেই বের করা যায় না । এটা দেখার পর একটা মায়াবী বা হিপনোটিক ভাব সারা মনকে ঘিরে রাখে । কি আছে এই এনিমেতে তাহলে ?

কাহিনী : এই এনিমের প্রধান বিষয়বস্তু হল মুশি । মুশিরা হল একধরনের সত্ত্বা । এরা জীবও না বা এরা আত্নাও না । এরা হল এক ধরনের পিউর লাইফ ফর্ম এবং এদের অনেক প্রকারভেদ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা আছে । আর সাধারন মানুষের খালি চোখে মুশি দেখতে পারে না কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া ।এদের বেশিরভাগই নিরীহ তবে কিছু কিছু মুশি আছে যারা মানুষের জীবনে ছোটখাট থেকে ভয়াব্হ ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে । এখন আসে আমাদের প্রধান কেন্দ্রীয় চরিত্রের কথা যার নাম হশ গিঙ্কো ( Ginko ) । সে পেশায় হল মুশি মাস্টার বা মুশির ওঝা । সে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষদের ক্ষতিকর মুশির হাত থেকে বাঁচায় এবং সাথে মুশিদের উপর গবেষনা করে বেড়ায় । তার এই ভ্রমনে নানা অভিগ্ঙতার সম্ভুখীন হয় ।
এই এনিমের প্রত্যেকটি পর্বই একেকটি আলাদা কাহিনীর মতো ।প্রত্যেকটি গল্পই হৃদয় ছোঁয়া । এরপর আছে এর অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক । জাপানের প্রাচীন ক্ল্যাসিকাল ফোক মিজজের ইন্সট্রুমেন্টের কাজ আপনাকে এনিমের দৃশ্যগুলো জীবন্ত করে তুলবে । এবং প্রধান আর মেইন আকর্ষন হলো এর আর্টওয়ার্ক , মুশিশির যে কোন সিন পজ করে দেখলেও চোখে শান্তি লাগে । এই এনিমের হালকা ভৌতিক এবং একই সাথে মুগ্দ্ধকর আব্হাওয়া এই আর্টস্টাইল সফলভাবেই তুলে ধরেছে ।
বর্তমানে যারা গত্‍বাধা কাহিনীর এনিমে দেখে ক্লান্ত ,তারা এই এনিমে অবশ্যই ট্রাই করবেন । এবং এই এনিমে দেখার পর এক অদ্ভূত মুগ্দ্ধকর অনুভূতি নিয়ে থাকবেন ।
এনিমের পর্ব সংখ্যা প্রথম সিজনে ২৬ টি ।আমার মতে সাব না দেখে ডাব দেখলেই ভালো হবে বেশি , কেননা ডাবে গিঙ্কোর গলার ভাবই আলাদা । সাথে এর ফুল সাউন্ডট্র্যাক আলাদা নামিয়ে নিলে আরো ভালো হয় ।
আমার রেটিং :১০/১০
সুতরাং হাতে সময় থাকতে দেখে ফেলুন মুশিশি ।

mushishi

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ২৮তম পাঠ

***কানজি কানজি কানজি***

আজকের কানজি “মাছ”এর কানজি… উচ্চারণ হল “সাকানা/গিও/উও”

sakana

“সাকানা” মানে হল “মাছ”

“নিন গিও”-mermaid….”কিন গিও”-gold fish…
গিওজিনতৌ-fishman island (ওয়ান পিসের ফিশম্যান আইল্যান্ড)…. গিওগান-fish-eye..
গিওরাই-torpedo

উপরের সব ক্ষেত্রে “গিও”র জায়গায় এই কানজি টা বসে…
উওইচিবা-fish market… তোবিউও-flying fish….

এখানে “উও”এর জায়গায় এই কানজি টা বসে

এই কানজি টা লিখতেই কঠিন না খুব একটা …মাছের মত দেখতে 😀

আজকে এটুকুই মাতা নে 🙂

The Wind Rises রিভিউ — Rafiul Alam

“The wind is rising! . . . We must try to live!”
– Paul Valéry’s poem, “Le Cimetière marin”

আমি জিব্লির হাতে গোনা কয়েকটা মুভি দেখেছি। কালকে যখন এই মুভিটা শেষ করলাম, মনে হল, আরো আগে দেখা উচিত ছিল। হায়াও মিয়াজাকি সাহেব পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা এটি। যা মুলত অ্যারোনটিক্যাল ডিজাইনার জিরো হিরোকশির জীবন কাহিনী। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় জাপানের জন্য যুদ্ধবিমান নকশা করেন। পর্দায় তুলে ধরা দৃষ্টিভঙ্গী, আর বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ের কারণে সিনেমাটি সমালোচিত, আমি সেই বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না, তাই সেব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না।

Synopsis : জাপানী বালক জিরো বিমান ভালবাসে। সে বিদেশী বিমানের ম্যাগাজিন ঘেটে বেড়ায় অসীম কৌতূহলে। ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার জিওভান্নি কাপ্রনি তার আদর্শ। অ্যারোনটিকাল ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন এভাবেই সে তাড়া করতে থাকে।
বছর খানেক পরের দৃশ্য, বালক এখন যুবক। ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে আসে জিরো। সবকিছু যখন স্থির ও শান্ত, তখনই ভুমিকম্প আঘাত হানে। ট্রেন দ্রুত থামানো হলে যাত্রীদের হুরোহুরি শুরু হয়ে যায়। এমন সময় এক মহিলার পা ভেঙে যায়। তাকে সাহায্য করতে গিয়ে জিরোর পরিচয় হয় নাওকো সাতমি নামের এক মেয়ের সাথে। সেবার নিজের নাম না বলেই বিদায় নেয় জিরো।
ধীরে ধীরে ভূমিকম্পের ক্ষতির রেশ কেটে যায়।শহর আবারো গড়তে শুরু হয়। বিমান ডিজাইনে মহা ব্যাস্ত হয়ে পড়ে জিরো, নিজের বোনের সাথেও দেখা করতে ভুলে যায় । কাজের প্রতি অত্যাধিক ভালবাসার কারণে জার্মানির সাথে সেই সময়ের জাপানের প্রযুক্তিগত পার্থক্য বুঝতে শুরু করে সে। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তার লক্ষ্য হয় নানান সীমাবদ্ধতার মাঝে দ্রুতগামী ধাতব বিমান নকশা করা।সিনেমার পরবর্তীতে জিরোর কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সমাপ্তি ঠিক যুতসই ছিল না।

Theme setup, Animation and Music : সিনেমার ঘটনায় ১৯২৩ এর কান্তো ভুমিকম্প থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপান স্থান পেয়েছে। তেমনিভাবে ৩০-৪০ দশকের জাপানী জীবনধারা ও সেই সময়ের সীমাবদ্ধতার বাস্তবিক চিত্রায়ন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোও চোখের আরাম ছিল। এক্ষেত্রে জিব্লির স্কিল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিটি দৃশ্য ডিটেইলড। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, একটি চারাগাছের উপর বৃষ্টির দৃশ্য, রেললাইনের উপর একটি পাথর অথবা পাখির চোখে টোকিও শহর, এসব কিছুর পেছনেই এক ধরনের শৈল্পিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আনিমেশন বরাবরের মতই রঙিন আর ফ্লুইড। টুডি, তবে জীবন্ত, জিব্লির প্রিয় একটি বৈশিষ্ট্য।মন ঠান্ডা করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও পারফেক্ট মনে হয়েছে। সর্বোপরি, মিয়াজাকি তার নামের প্রমাণ দিতে পেরেছেন।

Characters Setup : জিরো কাজের প্রতি একনিষ্ঠ, বিনয়ী। সবচেয়ে ভাল লেগেছে যখন সে তার ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করে নেয়। জিরোর প্রতি নাওকোর কমিটমেন্ট সিনেমার একটা সুন্দর দিক ছিল, শক্ত চরিত্রের প্রকাশ। জিরোর অভিমানী বোনের হঠাৎ হঠাৎ স্ক্রিনে আগমন জিরোর পরিবারের দিকে নজর না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। সাইড ক্যারেকটার গুলোর মাঝে সাপোর্টিভ হোঞ্জো এবং রাগী কিন্তু নরম মনের গুরুজন, কুরাকাওয়া উল্লেখ্য।

পরিশেষে কিছু ব্যক্তিগত মতামত দেই, আমি বাচ্চাকাল থেকে এভিয়েশনের প্রতি আগ্রহী। তাই সিনেমার সামগ্রিক গল্প খুব একটা বক্তব্যধর্মী না হলেও আমার কাছে বেশ ইন্সপায়ারিং লেগেছে। সেই সময়ের কাঠ আর ত্রিপলের তৈরি বিমান যুদ্ধ করার জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না। জিরোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রায় ২৭০মাইল/ঘন্টা বেগে উড়তে পারে এমন যুদ্ধবিমান তৈরি করা। কিন্তু এত বেশি বেগে যে ড্র‍্যগ তৈরী হবে,তা নেয়ার সামর্থ তৎকালীন কাঠের এয়ারফ্রেমের ছিল না। তাই তাকে স্টিলের বডি বানাতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হল ওজন, তৎকালিন র‍্যডিকাল ইঞ্জিনের পক্ষে তখন পর্যাপ্ত থ্রাস্ট দিয়ে স্টিলের বডিকে ২৭০ মাইল/ঘন্টা স্পিডে নেয়া সম্ভব না। পরবর্তীতে সে অ্যালুমিনিয়াম এলয় ব্যাবহার করে সহনীয় উইং লোডিংয়ের বিমান বানাতে সক্ষম হয়। A6M ZERO বিমানটি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে সেটি কনভেনশনাল এয়ারফ্রেমের বিমান, ঠিক প্রয়োজনীয় পরিমাণের ডাইহিড্রাল। কিন্তু ভাল করে তাকালে বুঝবেন যে এলোরনে পুশরড নেই। যার ফলে প্লেনের ড্র‍্যাগ অনেক কমাতে সক্ষম হয়েছেন জিরো। কয়েক বছরের সাধনার ফলস্বরূপ তার A6M5 ৩৪৫ মাইল /ঘন্টা রিচ করে। সর্বোপরি, জিরো হাল্কা ওজনের, ম্যানুভারেবল কিন্তু দ্রুতগতির বিমান বানাতে সীমিত সুবিধার মাঝেও কারিগরিকভাবে মহাসফল।যদিও অ্যালাইড ফোর্সের ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু জিরো হিরোকশির অর্জনকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। জানামতে মুভিটি “The wind has risen” উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন। উপন্যাসটি পড়িনি, তাই মুভির সাথে বৈসাদৃশ্য নিয়ে আমার কোন ধারনা নেই। তবে শুনামতে, নাওকো চরিত্রটি উপন্যাসে অন্যভাবে ছিল। যাই হোক…..সকল বিতর্ককে একপাশে রেখে দিয়ে সিনেমাটি দেখতে বসে যান, আশা করি ২ ঘন্টার অপচয় হবে না।

Overall Rating :
MAL Rating : 8.3
IMDb Rating : 7.8
My Rating : 8.0

The Wind Rises