Code Geass রিভিউ — Amor Asad

Code Geass: কেবলই কী অ্যানিমে? নাকি অননুভূত অভিজ্ঞতার রূপকও?
▬▬
Code Geass সম্পর্কে লেখার আগে একবার উইকি আর MAL’এ ঢুঁ মেরেছিলাম প্রোডাকশন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে। অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই জেনে নেয়া দরকার ছিল কোড গিয়াস অরিজিনাল সিরিজ নাকি মাঙ্গা অ্যাডাপশন। যেহেতু কোড গিয়াসের কোন মাঙ্গা ছিল না, তাই আলাদা কোন মানদণ্ড নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

CG1Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’র প্রশংসা করতে হবে। গোপন এক সংস্থা, নেপথ্যের ভিজিলান্টে নায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলির মাঝে মূল্যবোধের পার্থক্য – বলা চলে সাদামাটা প্লট নিয়ে আগাচ্ছিলেন দুজন। অথচ সেই সাদামাটা প্লটকেই ব্যপক রূপ দিয়ে সিরিজকে এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু তো দিয়েছেনই, সেই সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবনার উদয় হবার সুযোগও রেখেছেন। এই লেখায় আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু হাইপোথিসিস এবং কাউন্টার হাইপোথিসিস প্রস্তাব করব। এছাড়াও থাকবে ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দলাগার কিছু টুকরো কথা।

Code Geass এর ঘটনাবলী অল্টারনেট টাইমলাইনের, যেখানে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার গোটা পৃথিবীর উপর একছত্র, একনায়কতন্ত্র কায়েমের তালে আছে। এটা স্পষ্টত যে এই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার আমাদের পৃথিবীতে অ্যামেরিকা; মানচিত্রে খেয়াল করলে দেখা যায়, USA এবং Latin America দুটো মিলেই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। সুতরাং ব্যপারখানা দাঁড়াচ্ছে, অ্যামেরিকা ঔপনিবেশিকের ভূমিকায় আসীন এবং এক পর্যায়ে জাপান দখল করে নেয়।

CG2

 

এই দৃশ্যপটের পেছনে কিছু ব্যপার থাকতে পারে।
এক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়ানদের উজ্জ্বীবিত করতে এবং দলে টানতে সত্য-মিথ্যার মিশেলে কিছু অ্যর প্রোপাগান্ডা ছড়ায় জাপান। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, পুঁজিবাদ ছিল যার উপজীব্য বিষয় এবং ডিকটেটরশিপটুকু বাদ দিলে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার পুঁজিবাদী এবং ঐপনিবেশিক মনোভাবের কোন এক জাতির অর্জনের চুড়ান্তরূপ হিসেবে ধরা যায়। যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায় যদি পরাশক্তিরা পৃথিবী ভাগের তালে থাকত তবে হয়ত এরকমই হতো। এই থিওরীর পিছে আরেকটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল Nagasaki Arch, সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ এপিসোডে ক্ষণিকের জন্য দেখানো হয়, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের জাপান আক্রমণের সময়কালে। এটা সেই আর্ক যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নাগাসাকিতে ফেলা অ্যাটমিক তাণ্ডবের মাঝেও আস্ত ছিল। কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ডেও চারপাশে ধ্বংসলীলা নিয়ে সদর্পে টিকে আছে। সোজা কথায়, ডিফরেন্ট টাইমলাইন, অ্যামেরিকা ইনভেডার, জাপান নির্দোষ। (পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ আমি নিউক্লিয়ার অ্যাটাককে জাস্টিফাই করছি না, ক্রাইম অনুযায়ী জাপানকে খুব বেশিরকম আর নিষ্ঠুর মূল্য দিতে হয়েছে) তবে এই থিওরীতে যে ত্রুটি নেই সে দাবী করছি না, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান-জার্মান-ইতালি জোট হেরে গেলেও, জাপানের প্রোপাগান্ডা অনুযায়ী প্রস্তাবিত সিস্টেম (ব্রিটানিয়ান) বাস্তবে রূপ নেয়ার সুযোগ ছিল না। এটা ছিল স্রেফ দলভারী করার প্রয়াসমাত্র, নিদেনপক্ষে যুদ্ধচলাকালীন সময়ে। ওই সেন্টিমেন্ট এতদিন পর কেউ অ্যানিমেতে তুলে ধরবে বলে মনে হয়না। তাছাড়া সেসময় আরেক পরাশক্তি ছিল USSR, কোড গিয়াসের দুনিয়ায় রাশিয়ার অস্তিত্ব নেই।

দুই, একবিংশ শতাব্দীর কিছু আগে থেকে এবং তারও আগে কোল্ড অ্যর চলাকালীন সময়ে অ্যামেরিকা কাগজে কলমে সাধু সাজলেও নানা ছুতোয় বিভিন্ন দেশের অ্যাফেয়ার্সে বাগড়া দিয়েছে এবং দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেকাংশ বিভিন্ন সময়ে ইউএস সরকারের দখলে ছিল এবং এখনও আছে। সেই সাথে বন্ধু রাষ্ট্রের উপরও বড়ভাইয়ের মতো আচরণ অদৃশ্য এক কলোনিস্ট জায়ান্টের কথা মনে করিয়ে দেয়। হতে পারে Code Geass’এ এই জায়ান্টের ফিজিকাল এবং ভবিষ্যৎ এক্সট্রিম রূপ ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। ২০০৬ সালে নির্মিত কোড গিয়াসের প্লট সময়কাল ২০১৭ করাটা কেবলমাত্র সাইফাই রূপ দেয়নি, এই ভীতিটার খসড়া একটা রূপও প্রদান করেছে। আবারও, ডিকটেটরশীপটুকু বাদ দিয়ে। সরাসরি আঙ্গুল তোলা থেকে বিরত থাকতে এবং সাইফাই/ফ্যান্টাসি রূপদানে গিয়াস পাওয়ার আর একনায়কতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল।
অ্যানিমে সিরিজ কম দেখা হলেও অ্যানিমে মুভি দেখা হয়েছে বেশ, এবং আনুপাতিক হারে দেখলে এমন সুপ্ত কোন প্লট থাকার সম্ভাবনা খুব কম হলেও একেবারে বাদ দেয়া যায় না। এমনকি জিবলি স্টুডিও এর বাইরে নয়। গেলো বছর দুয়েক আগে, জাপানিজ এয়ারক্রাফট এঞ্জিনিয়ার জিরো হোরিকোশির বায়োপিক The Wind Rises এ আমরা দেখেছি তরুন এক ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন সফল করার আপ্রাণ প্রয়াস আর সেই সাথে নিখাদ দেশপ্রেম আর জাতিগত আত্মসম্মানবোধের মিশ্রণ। কিন্তু পর্দার আড়ালে এই সত্যটুকু চাপা পড়ে গেছে যে, জিরো হোরিকোশির ফাইটার প্লেনগুলো ঠিক শান্তি বজায় রাখতে যায়নি, বরং জার্মান অ্যালায়েন্সের অংশ হিসেবে জাপান আক্রমণকারীই ছিল। গ্রুপে Md Asiful Haque ভাইয়ের ব্যপক এক রিভিউ আছে এই অ্যানিমে নিয়ে।

তিন, আবারও সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড অ্যরের দারস্থ হতে হবে তবে ভিন্ন দৃষ্টিকোণে। হিটলার, তার নাৎসি সাম্রাজ্যের সাথে ব্রিটানিয়ান সম্রাট চার্লসের ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের সেন্টিমেন্ট প্রায় সদৃশ বলা চলে। হিটলারের আরিয়ানদের মতই ব্রিটানিয়ানরা অন্য জাতিকে অস্পৃশ্য এবং নীচু মনে করে। আরিয়ানিজমের (Aryanism) সূতিকাগার ছিল জার্মানি, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারও তাই। লেখক ও পরিচালক Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’কী তবে কোড গিয়াসে অ্যান্টি-নাজিজম সেন্টিমেন্ট রেখেছেন? এই সেন্টিমেন্টের জন্ম কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের পক্ষে যুদ্ধ করার অপরাধবোধ থেকে? কে জানে।
আমি স্রেফ পয়েন্টগুলো উল্লেখ করলাম, গ্রহণ বা বর্জন করতে বলা আমার উদ্দেশ্য না। এগুলো হাইপোথিসিস, আগেই বলেছি। আবার অনেকটা স্বগতোক্তির মত। বাকিটা পাঠকের উপর নির্ভর করবে।

►দর্শক প্রতিক্রিয়া◄
এই অংশ সম্পূর্ণই অ্যানিমের স্টোরি রিলেটেড। এবং কিছু মাইল্ড স্পয়লার থাকবে, যিনি এখনও কোড গিয়াস দেখেননি, সামনে না এগোতে অনুরোধ করছি।

–**স্পয়লার অ্যালার্ট**–

কোড গিয়াস দেখতে গিয়ে এক ধরণের নতুন অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছি। যখন দেখা শুরু করেছি, একের পর এক এপিসোড দেখে গিয়েছি বিরতিহীন। যখন বিরতি নিয়েছি, আবার দেখতে ইচ্ছে করেনি, একরকম অনীহা কাজ করেছে। আবার যখন দেখতে বসেছি, বিরতিহীন ভাবে দেখেছি। ইন এ সেন্স, কোড গিয়াস মাদকের মত ছিল।
সবচেয়ে যে ব্যপারটা দোলা দিয়েছে, তা হল গল্পের আনপ্রেডিক্ট্যাবিলিটি। কিছু কিছু ইভেন্ট আন্দাজ করতে পারলেও বেশীরভাগেই চমকে গিয়েছি। সুপার থ্রিলিং আর টুইস্ট ভর্তি শো’ হিসেবে কোড গিয়াস সবার শীর্ষে থাকবে কোন সন্দেহ নেই। সেই সাথে ক্যারেক্টার গুলোর তারিফ করতে হবে, এক্কেবারে নিখুঁত চিত্রায়ন। যেমন, Suzaku’কে হটাৎ করে পিষে ফেলতে চাওয়ার মত পাওয়ারফুল ইমোশন এমনি এমনি তৈরী হয়না। অথচ আইডিওলজিকালি সুজাকুর স্ট্যান্ড কোনভাবেই ফেলনা ছিল না। রক্তারক্তি থামানোই মূল ইচ্ছে ছিল সুজাকুর, তাতে সার্ভোভৌমত্ব যায় যাক। কাপুরুষত্ব? হতে পারে; কিন্তু ভুল নয়।
আচ্ছা, ভিন্ন একটা কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ড বিবেচনা করা যাক যেখানে বর্তমান পৃথিবীর দেশসমূহের বদলে ফিকশনাল কিছু ল্যান্ড রয়েছে এবং এরিয়া ১১ শুরু থেকেই ব্রিটানিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত। তাহলে এরিয়া ১১’কে স্বাধীন করতে গড়ে ওঠা ব্লাক নাইট অর্গানাইজেশন আর জিরো আদতেই টেররিস্ট এবং সুজাকু আদতেই হিরো। স্রেফ ন্যাশনালিস্ট সেন্টিমেন্ট দর্শকের মনে সুজাকুর অবস্থান পাল্টে দিয়ে জিরোকে হিরো হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
এই পর্যায়ে প্রশ্ন করতে হবে, জিরো আদতেই হিরো ছিল কিনা। জিরো বা ‘লুলুচ ভাই ব্রিটানিয়া’র (ধন্যবাদ ইয়ামি আপু, নামটা পছন্দ হইছে) কোন ইচ্ছেই ছিলো না পাবলিক সার্ভিস দেয়ার, তার সবগুলো মোটিভ পারসোনাল এবং পারসোনাল গেইনেই তার সব প্লান। হ্যাঁ, সেগুলো হারানো জাপানের দমিত জনসাধারণের পক্ষেই গেছে কিন্তু সেটা জিরোর উদ্দেশ্য ছিল না এটা পরিস্কার। তাই, জিরো আসলে ভিলেইন। একেবারে শেষে আত্মাহুতি দিয়ে ভিজিলান্টিজম আর জাস্টিস আপহোল্ড করার চিহ্ন হিসেবে জিরো চরিত্রকে হিরোর মর্যাদায় উঠিয়ে দিয়ে গেলেই লুলুচের ক্রাইমগুলো মাফ হয়ে যায় না। ইনফ্যাক্ট, গিয়াস ব্যবহার করাটাই ক্রাইম, সুপারপাওয়ার নয়। জিরো তাই আমার চোখে সুপারহিরো তো নয়ই, হিরোও নয়।
হিরো সুজাকুও নয়। সেও ব্যক্তিগত আবেগের বশবর্তী হয়ে আনুগত্য পাল্টেছে বারংবার। একজন ন্যাশনালিস্টের চোখে সুজাকু রাজাকার, একজন অ্যানারকিস্টের চোখে সুজাকু অ্যান্টিহিরো, একজন ইউটোপিয়ানিস্টের চোখে সুজাকু হিরো।

লেখক ও পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিলো মূল দুই ক্যারেক্টারের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্দ্বন্দ্ব তুলে ধরা।
স্যালুট দিয়ে বলতে হবে, তারা দারুণভাবে সফল।

তবে মেকিং এ কিছু ত্রুটি ছিল। কিছু দৃশ্যের ব্যাখ্যা না চাইতেই গরুর রচনা পেশ করা হয়েছে, কিছু দৃশ্য গ্যাপ দিয়ে দেখিয়ে দর্শকের কল্পনাশক্তির উপর ভরসা করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে খুঁটিনাটি বিষয়গুলি লক্ষ্য করতে পছন্দ করি – তাও আমার কাছে রোলো, ভিলেটা আর জিরোর চুক্তির ব্যপারটা ঝাপসা – কোত্থেকে হুট কী হয়ে গেল। এরকম উদাহরণ আরো দেয়া যাবে।
আবার গল্পের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, হটাৎ করেই কাহিনীর রেশ চেপে ধরে ধীরে ধীরে এগোনো হয়েছে। এইরকম ছন্দপতনগুলি পছন্দ করতে পারিনি। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হবে প্রথম সিজনের শেষ এবং দ্বিতীয় সিজনের শুরুর সময়টা। এতই বিরক্ত হয়েছিলাম, কোড গিয়াস দেখা বন্ধ করে অ্যাটাক অন টাইটান দেখতে বসেছিলাম।

তবে এসব ট্রিভিয়াল ব্যপার ওভারলুক করতে রাজী আমি। অন্তত সম্পূর্ণ সিরিজ শেষ করার পর সেটার আফটার ইফেক্ট হিসেবে যে ঘোরের ভীতর ছিলাম, তার জন্যে হলেও। খুব বেশি মোশন পিকচার দর্শককের অবচেতনকে আপন করে নিতে পারে না। এইটুকু ক্রেডিট দিতেই হবে কোড গিয়াসকে।

আমার রেটিং ৮.৭/১০

CG3

মুভি রিভিউ: Redline (2009) — Abdullah Ar Rayhan

মুভি রিভিউ — Redline (2009)

Director: Takeshi Koike
Producers: Madhouse, Anchor Bay Films
Genres: Action, Cars, Sci-Fi, Sports
Rating: R+
MAL Score: 8.35

Redline

জনরা দেখেই মুভির প্লট সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পেয়ে যাওয়ার কথা। এ এক দূর ভবিষ্যতের গল্প। মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। এলিয়েনদের সাথেই সহাবস্থান তাদের। অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি হোভার-কার যখন স্বাভাবিক গাড়িগুলোর স্থান দখল করে নিচ্ছে, কেউ কেউ তখনও সর্বস্ব দিয়ে রেস করে যাচ্ছে। জেপি (JP) এমনই একজন রেসার। এই রেসে তার টিমমেট বন্ধু ফ্রিসবি (Frisbee) যার কাজ জেপি-র গাড়ি প্রস্তুত করে দেয়া। মুভির শুরু হয় ইয়েলো লাইনে হওয়া অ্যাকশনে ভরপুর এক রেস দিয়ে যেখানে দেখা যায় শুরুতে পিছিয়ে থাকা সত্তেও শেষ কোয়ার্টারে সবাইকে পেছনে ফেলে ঠিকই এগিয়ে যায় জেপি। কিন্তু বিধিবাম, মাফিয়ার চাপে আগে থেকেই ফিক্স করা রেসে জয়ী হওয়া তার সাধ্যে নেই। জিতে গিয়ে পরবর্তী রেডলাইন রেসে নিজের জায়গা করে নেয় মুভির আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র সোনোশি (Sonoshee), ছোটবেলা থেকেই যার লক্ষ্য রেডলাইন রেসে জেতা। রেডলাইন, গ্যালাক্সির সবচেয়ে বিখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড রেস, তাদের পরবর্তী ভেন্যু ঠিক করে বিপজ্জনক রোবোওয়ার্ল্ডে। হেরে গিয়েও কয়েকজনের ড্রপআউটের সৌজন্যে জেপি-ও জায়গা পেয়ে যায় রেডলাইনে। প্রশ্ন হল ফিক্সিং বাধা অতিক্রম করে জেপি কি রেডলাইন জিততে পারবে? তাহলে সোনোশি-র আজন্ম লালিত স্বপ্নের কি হবে? রোবোওয়ার্ল্ডের কর্তাব্যক্তিরাও বা কেন তাদের গ্রহে এ রেস হতে দিতে নারাজ?

এ মুভি নিয়ে কিছু লিখতে হলে প্রথমেই আসবে আর্টওয়ার্কের কথা। এখানে উল্লেখ্য, মুভিটি প্রোডাকশনে সময় লেগেছে সাত বছর আর এতে ব্যবহার করা হয়েছে হাতে আঁকা ১ লক্ষেরও বেশি ড্রয়িং। নিঃসন্দেহে বলা যায়, All those hard works paid off in a beautiful, mind blowing way. প্রথম দৃশ্য থেকেই আর্টস্টাইল নজর কেড়ে নেবে যা দেখলে একটা কথাই মনে আসে– ‘চোখ ধাঁধানো’। দেখে মনে হবে একেবারে কমিকবুক থেকে তুলে আনা। এত কালারফুল আর ভিন্নধর্মী আর্টওয়ার্ক আর কোথাও চোখে পড়েনি। আর্টস্টাইলই একে অন্য যেকোন অ্যানিমেশন থেকে আলাদা করে রাখবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অ্যাকশন। এক অর্থে পুরো মুভিই অ্যাকশনে ভরপুর, আর তা ফুটিয়ে তোলাও হয়েছে যথোপযুক্ত ভাবে। বারবার দেখার মত। এত ফাস্ট-পেসড যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্লো-মোশনে দেখার দরকার পড়ে। ভিন্নধর্মী আর্টস্টাইল আর দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়্যেন্সের এ মুভিটি এক কথায় একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এতই যে, রেসে কে জিতবে বা হারবে সে চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু অ্যাকশন দেখাতেই নিমগ্ন হয়ে যাবেন। [এখানে একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার শেয়ার করি। মুভিটা আমি প্রথমে ডাউনলোড করেছিলাম নরমাল 1080p Bluray প্রিন্টে যা সাইজে ছিল ১.৬১জিবি, কিন্তু সাথে আরেকটু ভালো কোয়ালিটি পাওয়ার আশায় ৭.২১জিবি-র আরেকটি ফাইল ডাউনলোড দিয়ে রেখেছিলাম। মুভি দেখার মাঝপথে এসে দ্বিতীয় ফাইলটি ডাউনলোড কমপ্লিট হয়; আমিও বেটার কোয়ালিটি পেয়ে আবার প্রথম থেকে দেখা শুরু করি। এ কথা বলার একটাই কারণ, মুভিটি ভিজ্যুয়ালি এতই সুন্দর যে ইমিডিয়েটলি আবার প্রথম থেকে দেখতে একটুও দ্বিধা করিনি।]

আর্ট আর অ্যানিমেশনের পাশাপাশি সাউন্ডের কথাও বিশেষ করে বলতে হয়। কিছুটা ইলেক্ট্রিক ঘরানার মিউজিক রেস আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে পুরোপুরি মানিয়ে গেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে কানফাটানো সাউন্ডের সিঙ্ক্রোনাইজেশনও পারফেক্ট। এখানে আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। মূল চরিত্রগুলোর ভয়েস দেয়ার ক্ষেত্রে সত্যিকারের অ্যাক্টরদের উপরে জোর দেয়া হয়েছে। জেপি-র কন্ঠ দিয়েছেন জাপানি টিভি অভিনেতা Takuya Kimura, সোনোশি-র কন্ঠ দিয়েছেন নামী অভিনেত্রী Yû Aoi আর ফ্রিসবি-র কন্ঠ দিয়েছেন বিখ্যাত Tadanobu Asano যিনি হলিউডেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বোঝাই যায়, আর্ট আর সাউন্ডে কোন ছাড় দেয়া হয়নি।

মুভিটির স্টোরি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করতে গেলে একই সাথে বলতে হয় দুর্বল কিন্তু মানানসই। দুর্বল দিকগুলোর মধ্যে আছে রোবোওয়ার্ল্ডে দেখানো কিছু সাব-প্লট যার সাথে মূল কাহিনীর সরাসরি কোন যোগাযোগ নেই, উদ্দেশ্যহীনতা এবং ক্লিশে ভাব। একই সাথে মানানসই বলার কারণ হচ্ছে রেসিং মুভিটিতে মূল ফোকাস এন্টারটেইনধর্মী অ্যাকশন বলে এর বেশি কিছু যোগ করার সুযোগও নেই। তবে রেসগুলো দেখার সময়কার অ্যাড্রেনালিন-রাশ আপনাকে এ দুর্বলতা অনেকাংশেই ভুলিয়ে দেবে। অপ্রয়োজনীয় সাব-প্লট বাদ দিয়ে দৈর্ঘ্যে আরেকটু কমিয়ে দিলে মুভিটি আরো উপভোগ্য হত, সন্দেহ নেই।

কারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সেভাবে করা হয়নি। কেবল জেপি আর সোনোশি-র কিছু ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলোর গভীরতা আরেকটু বাড়ানো যেত কিন্তু মুভিটি-তে সম্ভবত ইচ্ছে করেই কোন সিরিয়াসনেস আনা হয়নি।

শেষ কথা হচ্ছে সিরিয়াস বা ইন্টেন্স কোন কিছুর আশা করলে হতাশ হতে হবে কিন্তু পিওর ফান আর উত্তেজনাময় অ্যাকশন দেখার ম্যূডে থাকলে ১০০ মিনিট পুরো ১০০ভাগই উসুল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একটি কথা– যত ভালো কোয়ালিটি আর বেশি সাউন্ড নিয়ে দেখা যাবে তত ভালো লাগবে।
রেটিংঃ ৭.৭৫/১০ (কাহিনী আর চরিত্রায়ন আরেকটু ভাল হলে ৯ দেয়া যেত।)

IMDb(7.5): http://www.imdb.com/title/tt1483797/

Torrent Link: http://extratorrent.cc/torrent/2484482/%5BBSS%5D+REDLINE+%5B1080p%5D.mkv.html

Direct Download+Streaming Link: http://kissanime.com/Anime/Redline/Movie-BSS?id=66166

MEGA Link: https://mega.nz/#!lsh21a7D!NvlnGBfw71xdKIRR6eomXUhYqpkZ5mLiUC5EEIDgKfs

 

Behind the Voices – 04

আজকের সেগমেন্টটা বলতে পারেন একটু স্পেশাল। কারণ আজকে যে দুইজনকে নিয়ে লেখছি তারা বাস্তব জীবনেও বিবাহিত দম্পতি। আনিমে জগতে তাদের দুজনের কণ্ঠ দেওয়া এমন কাপল হল কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়াxশিকি । যাই হোক, আজকের সেগমেন্টটি পড়ে দেখুন এবং কোন মতামত থাকলে প্রকাশ করুন।

btv 1

সুযুমুরা কেনিচি

এক অনন্য কণ্ঠ নিয়ে খুব অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করেন যারা তাদের মধ্যে সুযুমুরা কেনিচি একজন। আমার প্রিয় কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যেও তিনি একজন। তিনি সাধারণত দর্শকের নজরে পরে এবং তাদের প্রিয়ও হয়ে উঠে এমন সব চরিত্রের কণ্ঠ দেন। কারণ এক অনন্য চরিত্রের সাথে তো আর সাধারণ কণ্ঠ মানায় না।

আমার কাছে তার যে চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে তা হল ডি.গ্রে ম্যানের লাভি, কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়া, কুরোকো নো বাস্কেটের মুরাসাকিবারা, প্রিজন স্কুলের শিঙ্গো, ম্যাজাই-এর কা কৌবুন এবং ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের হিকারু( যদিও চরিত্রটার কিছু সমস্যা আছে :v ) । তার আরো অনেক অসাধারণ রোল আছে তা তো নিঃসন্দেহে বলা যায়। এছাড়া তার পোকেমন, ডিজিমন, বেইব্লেডেও রোল ছিল, মূখ্য কোন চরিত্র না অবশ্য । সাধারণত তার কণ্ঠ আমাদের বাচ্চাকালেই শুনার কথা কিন্তু দঃখের বিষয়, এই আনিমেগুলোতো আমরা ইংরেজি ডাব্ড দেখেছি ।

kenichi suzumura

তার গাওয়া গানগুলাও অসাধারণ। বিশেষ করে শিরোই কারাসু (https://goo.gl/XQk3y2 এইটা কিন্তু কোড ব্রেকারএ এন্ডিং ) এবং মেসেন্জার ( https://goo.gl/5Atsyy ) এই দুইটা গান আমার খুব প্রিয়। এছাড়া তার আসুনারো ( https://goo.gl/YnnqL6 ) এবং ইন্টেনশন( https://goo.gl/2r8DmH ) এই দুইটা গানও আমার অনেক ভালো লাগে। তার আরও অনেক ভালো গান আছে শুনে দেখতে পারেন।

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে তার জন্ম। কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তার অভিষেক ১৯৯৪ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে। এই বছরও অনেক ভালো রোল পেয়েছেন তিনি আর আসা করি সামনেও পাবে।

kenichi suzumura 2

সাকামোতো মায়া

দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র তুলে ধরতে পারেন এমন কণ্ঠ অভিনেত্রী, এই ক্ষেত্রে আমার মতে যাকে শ্রেষ্ঠ বলা উচিৎ তিনি হলেন সাকামোতো মায়া। তিনি সুধু একজন অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রী না সাথে দক্ষ গায়িকাও।

আমার দেখা তার যে রোলগুলো খুব ভালো লেগেছে তা হল কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যানচাইজের রিয়োগি শিকি, মোনোগাতারি সিরিজের শিনোবু, ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের ফুজিওকা হারুহি, কুরোশিৎসুজির সিয়েল ফ্যান্টোমহাইভ, সোউল ইটারের ক্রোনা, ম্যাজাই-এর শেহেরযাদে এবং আর্স্লান সেঙ্কির ফারাঙ্গিস। এছাড়াও তার আরও অনেক ভালো রোল আছে ।

maaya sakamoto 1

আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। তামায়ুরা, গোস্ট ইন দ্যা শেল: অ্যারাইজ অল্টারনেটিভ আর্কিটেকচার, সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু এই আনিমেগুলার ওপেনিং এবং এই সিজনের নতুন আনিমে গাকুয়েন তোশি আস্টেরিস্কের একটি এন্ডিং তার গাওয়া। এছাড়া সাধারণত তার গাওয়া গানগুলাও আমার খুব ভালো লাগে। এর মধ্যে আছে ‘Melt the snow in me'( https://goo.gl/WTXnR3 ), আই সুরু কোতো ( https://goo.gl/JsXg92 ), ‘Gravity’ ( https://goo.gl/7c58f4 ) এবং ‘Platinum’ (https://goo.gl/SrwE6T ) । জাপানির পাশাপাশি ভালো পরিমাণ ইংরেজি গান তার আছে এবং তার ইংরেজি গানগুলো সুদ্ধ উচ্চারণ-ভঙ্গিতেই গাওয়া ।

যেখানে সাধারণ কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিষেক ঘটে ১৮-২১ বছর বয়সে সেই তুলনায় তার কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে অভিষেক মাত্র ১২ বছর বয়সে । ১৯৮০ সালের ৩১ মার্চ তার জন্ম। অনেক দক্ষ একজন কণ্ঠ অভিনেত্রী তিনি, আশা করি সামনে তার আরও ভালো রোল পাবো।

maaya sakamoto 2

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫০ তম পার্ট By অরিন শারমিন

জাপানিজ শিক্ষাকার্যক্রমের ৫০ তম লেসন

(ইয়সশাআআআআআ…..হাফ সেঞ্চুরী 😀 😀 ..প্রায় ২ বছর লাগল হাফ সেঞ্চুরী পূর্ণ করতে 😛 )

 

আজকের লেসনে শিখাব “japanese adjective”…

জাপানিজে ২ ধরণের adjective আছে ..

১. i-adjective
২. na-adjective

১ম কিছু i-adjective আর  na-adjective এর উদাহরণ দেই 🙂

i-adjective:

সামুই -cold
আতসুই-hot
তাকাই-expensive
ইয়াসুই-cheap
ওওকিই-big
চিসাই-small
আতারাশিই-new
ফুরুই-old
ঐশিই-tasty
মাজুই-bad

na-adjective

বেনরিনা-convenient
নিগিইয়াকানা-lively
কিরেইনা-beautiful
গেনকিনা-healthy
ইউমেনা-famous
কানতাননা-easy
আনজেননা-safe
কানজেননা-perfect

আজকে i-adjective নিয়ে একটু আলোচনা করব

i-adjective এর ৪ প্রকারের conjugation আছে.. present affirmative, present negative, past affirmative, past negative

যেমনঃ আতসুই এর ক্ষেত্রে

present affirmative-আতসুই দেসু ,present negative-আতসুকুনাই দেসু ,past affirmative-আতসুকাত্তা দেসু,past negative-আতসুকুনাকাত্তা দেসু

কিছু sentence এর মাধ্যমে উদাহরণ দেই

কিও ওয়া আতসুই দেসু-today’s weather is hot.. কিনো ওয়া আতসুকুনাকাত্তা দেসু- yesterday wasn’t hot…

সকল  i-adjective একই নিয়মে present-past,affirmative-negative এ change করা যায়..

 

নেক্সট দিনে i-adjective সম্পর্কে আরো আলোচনা করব…সাথে na-adjective সম্পর্কেও শিখাব..

Arslan Senki (TV) [আনিমে রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

 

~অ্যানিমে রিভিউ~

Anime Name: Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan
Genre: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Supernatural
Episodes: 25
MAL Rating: 7.90

মুভি, বই, মাঙ্গা বা সিরিজ যা-ই বলুন বর্তমানে ফ্যান্টাসির জয়জয়কার। এ যেন আমাদের ছোটবেলার স্বপ্নকেই একের পর এক স্ক্রিনে রূপ দেয়া। রূপকথার গল্প পড়ে নিজেকে যেমন কল্পনা করতাম অজানা কোন এক রাজ্যের সর্বজয়ী প্রিন্স হিসেবে যে কিনা রাজ্য থেকে সব খারাপ দূর করবে, মানুষ যাকে হিরোর আসনে বসাবে। আরস্লান সেনকি সেরকমই একটি ফ্যান্টাসি সিরিজ যাতে দেখানো হয়েছে এক প্রিন্সের হিরো হয়ে ওঠার গল্প।

The Heroic Legend of Arslan হচ্ছে মূলত ইয়োশিকি তানাকা-র লেখা ফ্যান্টাসি নভেল সিরিজ যা পরে দুইবার মাঙ্গায় অ্যাডাপ্ট করা হয়। এর মধ্য থেকে হিরোমু আরাকাওয়া-র ইলাস্ট্রেট করা মাঙ্গা থেকে অ্যাডাপ্ট করা হয় ২৫ এপিসোডের আরস্লান সেনকি সিরিজটি।

প্লটঃ

মধ্যযুগের ঠিক আগেকার সময়। পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যবর্তী মহাদেশীয় হাইওয়ের পাশে আছে পার্স(Pars) নামের সম্পদশালী এক দেশ যা শাসন করেন প্রতাপশালী রাজা ৩য় অ্যান্ড্রাগোরাস। রাজ্যের একমাত্র প্রিন্স, আরস্লান, যে কিনা রাজার একমাত্র উত্তরাধিকারী, এ সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র। প্রিন্সের ১৪বছর বয়সে, পার্স ইরা ৩২০ সালে, শত্রুরাজ্য লুসিতানিয়ানদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয় রাজা অ্যান্ড্রাগোরাস। পার্স চলে যায় লুসিতানিয়ানদের দখলে। কি এমন হয়েছিল যার কারণে অজেয় পার্স সেনাবাহিনীর এ অসহায় আত্নসমর্পণ? দারিয়ুন, আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রক্ষী ও সঙ্গী এবং এবং তার বন্ধু নারসাস যাত্রা করে এক অ্যাডভেঞ্চারে যার মূল লক্ষ্য হারানো রাজধানী পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সাথে যুক্ত হয় আরো অনেকেই যারা ক্রমে আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচরে পরিণত হয়। সামনে বাধা হয়ে আছে লুসিতানিয়ানরা আর সিলভার মাস্ক পরে থাকা রহস্যময় এক যুবক। ইতোমধ্যে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, ‘শক্তিশালী বাধা উপেক্ষা করে রাজ্যোদ্ধার করতে পারবে কি আরস্লান ও তার সঙ্গীরা? পারলে কিভাবে? এ জন্য যে আর্মি লাগবে তা-ই বা কোথায় পাবে?

বুঝতেই পারছেন এটি যুদ্ধ আর রাজ্যজয়ের এক চিরাচরিত গল্প। এমন কিছুই নেই যা আমরা আগে কোথাও দেখিনি। কাহিনীর গতি শুরুতে বেশ ভাল হলেও মাঝে এসে এত ধীর হয়ে যায় যে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার যখন শেষের দিকে এসে যুদ্ধের সময়গুলো দেখায় তখন বেশ ফাস্ট হয়ে যায় যে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো ঠিক বুঝে ওঠা যায় না। তাছাড়া প্রায় সব জায়গায়ই নারসাস-কে এমন এক স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে যার কিনা কখনো ভুল হতে পারে না। মূলত স্ট্র্যাটেজিগুলো খুবই সাধারণ মানের এবং কোন চমক জাগাতে পারেনি। খানিক অবাস্তবও। আরো যেটার অভাব অনুভব করেছি তা হল ইনটেনসিটি। আপনি যুদ্ধ, রাজ্য, বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কিছু একটা দেখবেন আপনি একটা টানটান উত্তেজনা আশা করতেই পারেন। এছাড়াও গল্পের সাথে রাজনীতির যে ব্যাপারটা জড়িয়ে আছে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেই আমি মনে করি। মনে হয়েছে কাহিনীর স্রোতটা মাঝে এসে কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। ছোটখাটো কিছু চমক অবশ্য আছে, তবে এগুলো আরো ভালভাবে দেখানো যেত পারতো বলে আমার বিশ্বাস।

আর্ট ও অ্যানিমেশনঃ

আর্ট আর অ্যানিমেশন এ সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। মাঙ্গার ডিজাইন করেছেন Fullmetal Alchemist আর Silver Spoon এর ইলাস্ট্রেটর হিরোমু আরাকাওয়া। সাথে প্রোডাকশনে ছিল Universal Studio-র জাপানি অঙ্গসংঠন। আর্ট ভালো হওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। ইনডিভিজ্যুয়াল ফাইটগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো আরেকটু বেশি দেখালেই ভাল হত মনে হয়। তাছাড়া কিছু হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট দেখানো দরকার ছিল। যাই হোক, কিছু কিছু জায়গায় অ্যানিমেশন কোয়ালিটি একটু ফল্টার করলেও পুরো সিরিজের তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য।

মিউজিক ও সাউন্ডঃ

Uverworld এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং আর Eir Aoi এর গাওয়া এন্ডিং আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। ২য় ওপেনিংটিও মোটামুটি কিন্তু এক্ষেত্রে এন্ডিংটা কেন যেন ভাল লাগেনি। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভাল করেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে সাউন্ডের মেলবন্ধন বিশেষ করে যুদ্ধের ক্ষেত্রে যেভাবে করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

চরিত্রায়নঃ

অগভীর চরিত্রায়ন এ অ্যানিমের আরেকটি দুর্বল দিক। মূল চরিত্র আরস্লানের চরিত্রায়নটা বেশ ভাল হলেও পার্শ্বচরিত্রগুলোর সেভাবে কোন গভীরতা দেখানো হয়নি। কেবল তাদের ভূমিকাটাই দেখানো হয়েছে। মাঝে কাহিনীকে টেনে লম্বা না বানিয়ে এ সময়টা চরিত্রায়নে ব্যয় করলে দুর্বুল স্টোরি সত্তেও খুব সুন্দর একটা অ্যানিমে হতে পারতো।

ওভারঅল, এটি কনভেনশনাল এক কাহিনী আর অসাধারণ CGI works এর সমন্বয়ে করা মোটামুটি দেখার মত একটি অ্যানিমে। রেট করলে আমি এটিকে দু’ভাবে রেট করব। এক, নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে; দুই, পার্টিকুলারলি হিস্টোরিকাল আর ওয়ার ড্রামার ভক্ত হিসেবে।

নিরপেক্ষঃ ৬.৫/১০
বায়াসডঃ ৮/১০ (অর্থাৎ আপনি ‘বিশেষভাবে এ জনরার’ অ্যানিমের ভক্ত হলে নির্দ্বিধায় দেখে ফেলুন।)

পরিশেষে, আশা করি Season-2 তে ভুলগুলো শুধরিয়ে আমাদের ক্লাসিক একটা ওয়ার ড্রামা উপহার দেবে।

Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan

Gyo [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে আছে কত প্রাণী, কত উদ্ভিদ, কত কালের হারানো রহস্য। সাগর যা ছিনিয়ে নেয় তা কখনো ফিরিয়ে দেয় না। ডুবে যাওয়া জাহাজ তীরে আসে না। আসে চার পা ওয়ালা মাছ, হাঙর, অক্টোপাস, তিমি, ইত্যাদি…
কি? কিছু ভুল বললাম নাকি?

>মাঙ্গা রিভিউ<
_______

“গিয়ো” মাঙ্গাটির মাঙ্গাকা হলেন জুনজি ইতো। গল্পেটির মূল চরিত্র তাদাশি নামের এক যুবক। গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদাশি তার গার্লফ্রেন্ড কাওরি কে সঙ্গে নিয়ে অকিনাওয়া সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছে। তার আঙ্কেলের অনেক প্রাচুর্য আছে এখানে। হলিডে কাটানোর সামার হাউজ, আর বোটে করে সমুদ্রে স্কুবা ডাইভিং এসব নিয়ে তাদাশির সময় ভালোই কাটছিল। কিন্তু, কাওরি মোটেও স্বস্তি বোধ করছে না। সে সাগরের গন্ধ, তীরে মাছের বাজারের ঘ্রাণ একদম সহ্য করতে পারে না। কাওরির ঘ্রাণশক্তি প্রখর। এমনকি তাদাশির মুখের গন্ধ নিয়েও অভিযোগ করে সে। এ নিয়ে দুজনের মাঝে মনমালিন্যও হয়। তা, এই কাওরি হটাত খুব তীব্র পচা গন্ধ পেতে লাগল। ঘরের মাঝেই কোথা থেকে গন্ধ টা আসছে, যেন কোনো মৃতদেহের পচা গন্ধ। গন্ধের উৎস বের করতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করলো অবিশ্বাস্য এক জিনিস এর। জিনিষটা কিলবিল করে খুব তারাতারি ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়ে ছুটে যায়। একটি চার পা ওয়ালা মাছ, তার মাকড়শার মত পাগুলোর নিচ দিয়ে বেরিয়ে আছে দু-তিনটি শুঁড়।

পরদিন তাদাশি দেখতে পেলো বাড়ির বাইরে একটা বিশাল শার্ক লোহার মত বড় পা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কাওরির চিৎকারে হিংস্র শার্কটি তেড়ে আসে তাদের দিকে। এদিকে অকিনাওয়ার সমুদ্র তীরের সব মাছগুলো এভাবে উঠে আসছে মাটিতে। কিলবিল করে দ্রুত গতিতে হাজার হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মানুষের লোকালয়ে হামলা চালাচ্ছে। পুলিশের ব্যারিকেড ও আটকাতে পারছেনা মাছের আক্রমণ।

শুনতে যেমন অদ্ভুত লাগছে, মাঙ্গাটি পড়তে গেলে তার চেয়েও উদ্ভট লাগবে। মাঙ্গার প্যানেলে প্যানেলে বিদঘুটে আর কিম্ভুতকিমাকার প্রাণীগুলোর অংকনে আশ্চর্য হতে হয়। কুৎসিত দৃশ্যগুলোর ডিটেইলস এ একটুও কমতি পরেনি। মাঙ্গাটির চরিত্রগুলি সাদামাটা। তাদাশি চরিত্রটির প্রতি সহানুভুতি থাকলেও, কাওরি চরিত্রটি আমার কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় লাগে নি। কিন্তু কাওরিকেই গল্পে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে। এর চাইতে তাদাশির আঙ্কেলের চরিত্র ডক্টর কায়ানাগি, একজন ম্যাড সায়েন্টিস্ট হিসেবে ভালোই ফুটে উঠেছে।

২ ভলিয়মের এই মাঙ্গাটিতে বিশেষ যেই ত্রুটি রয়েছে তা হল গল্পের প্রথমে সায়েন্স ফিকশন দিয়ে ঘটনাক্রমের বিস্লেশন করা হয়েছে। কিন্তু শেষের অংশে মাঙ্গাকা সেই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির সাথে অতিপ্রাকিতিক উপাদান জুড়ে দিয়েছেন। এবং গল্পে মাছগুলোর এই আচরণের ব্যাখ্যাটি এমন ভাবে দেয়া হয়েছে যে, এটি গোপন রাখলেই গল্পের সাসপেন্স টিকে থাকত। মাঙ্গার শেষ ভাগে সার্কাসের একটি দৃশ্য আছে যেটি কিনা গল্পের সাথে খুবই বেমানান লেগেছে আমার কাছে।

এছাড়া মাঙ্গাটিতে তেমন কোনো ত্রুটি খুঁজে পাইনি। “উজুমাকি” মাঙ্গাতে যেমন রহস্য উদ্ঘাটনের আবহ ছিল, ক্লাইম্যাক্স ছিল, এখানে সেরকম না থাকলেও, এখানে যেসব চিত্র দেখানো হয়েছে তা দেখে অস্বস্তি লাগবে। যাকে বলে সুন্দর বীভৎসতা। আমি একজনকে বলতে শুনেছি যে, “আপনি কি কখনো গন্ধ চোখে দেখেছেন? এই মাঙ্গাতে গন্ধ দেখা যাবে।” এবং সত্যিই তাই। মাঙ্গাটি অত বড় না। এক বসাতেই পড়ে শেষ করতে পারবেন। তবে পড়ার সময় কিছু খেতে বসবেন না কিন্তু।

মাঙ্গাটির ২ ভলিয়মের শেষে একটি করে ওয়ানশট মাঙ্গা আছে। প্রথমটির নাম “দা স্যাড টেল অফ দা প্রিন্সিপাল পোষ্ট”, গল্পটি হরর কমেডি বলতে পারেন। দ্বিতীয় গল্পটির নাম “দা এনিগমা অফ আমিগারা ফল্ট”, এখানে জুনজি ইতোর ঠিক আগেকার মত আদিভৌতিক আবহ পাওয়া যাবে।

গিয়ো মাঙ্গাটি একবার পড়েছি। আবার পড়তে চাইনা। এক্কেবারে খাপছাড়া দুঃস্বপ্নের মত বলতে পারেন। গিয়োর উপর ভিত্তি করে একটি এনিমে তৈরি হয়েছে। তবে এনিমেটাতে মাঙ্গার কাহিনী বদলে দেয়া হয়েছে এবং (আমার মতে) মাঙ্গার মতন বীভৎসতা ফুটে উঠেনি।

Name: Gyo
Alternative Name: Gyo: The Death-Stench Creeps, Gyo Ugomeku Bukimi
Art & Story: Junji Ito
Genre: Horror, Sci-fi, Supernatural, Psychological, Seinen, Tragedy, Mystery, Drama.
Volumes: 2
Chapters: 20 + 2 oneshots
Status: Completed
Published: Feb 28, 2002 to May 30, 2002
MAL score: 7.38Gyo

Jigokusei Remina [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

শুধু হরর আর সায়েন্স ফিকশান বললেই চলে না। “জিগোকুসেই রেমিনা” মাঙ্গাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা জনরা হিসেবে বলা যায় স্বয়ং মাঙ্গাকার নাম, জুনজি ইতো। মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর “ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম” বা “অন্ধকারের গ্রহ” পড়েছেন? তাহলে এই গল্পের কাহিনী বুঝতে বেশি অসুবিধা হবে না।

পৃথিবী থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে এক ওয়ার্মহোল এর ভেতর দিয়ে কিছু একটা এই মহাজগতে প্রবেশ করেছে। অন্য ডাইমেনশন এর জগত থেকে আসা এটি এক নক্ষত্র যা কিনা পদার্থবিজ্ঞান অথবা মহাকাশবিজ্ঞানের যেকোনো নিয়মের বাইরে আচরন করছে। এমনকি এই নক্ষত্র অনেক দূরের গ্যালাক্সির গ্রহ গিলে ফেলছে। পৃথিবীর এক মহকাশবিজ্ঞানী এই আজব নক্ষত্রের আবিষ্কার করেন। নিজের একমাত্র মেয়ের নামে এই নক্ষত্রের নাম দিলেন “লেমিনা”… থুক্কু… “রেমিনা”।

নরক-নক্ষত্র রেমিনা অসম্ভব গতিতে ধেয়ে আসছে সৌরজগৎ এর দিকে। না, এ কোনো নক্ষত্র নয়, নয় গ্রহ। এ এক জীবন্ত প্রাণী।

পৃথিবী ধ্বংস হবার ঠিক আগে দুনিয়া জুড়ে মানুষ উন্মাদ হয়ে গেল। তাদের অস্তিত্ব মুছে যাবে মহাজগতের পৃষ্ঠা থেকে। কিন্তু এর জন্য দায়ী কে? না, এখনো সময়ে ফুরায়নি। সেই দায়ী মানুষটিকে উৎসর্গ করতে হবে। রেমিনা নামের ডাইনীকে হত্যা করে রেমিনা নামের জিন্দা নক্ষত্র কে তুষ্ট করতে হবে। শহর এর সব লোক তাই রেমিনাকে শিকার করতে বেরিয়ে পরল।
রেমিনা কি আসলেই পৃথিবীর এই দুর্ভাগ্যের রচয়িতা?

বাঁধছাড়া কল্পনার এক অদ্ভুত গল্প হল্ জিগোকুসেই রেমিনা। মাঙ্গার পাতাতে আঁকা কেয়ামতের দুঃস্বপ্ন!

জিগোকুসেই রেমিনার পর একই মাঙ্গাতে আছে একটি ওয়ানশট, “আর্মি অফ ওয়ান”।

Name: Jigokusei Remina
Alternative Name: Jigokusei Lemina, Hellstar Remina, Hellstar Lemina, Army of one.
Art & Story : Junji Itou
Genre: Horror, Sci-fi, Psychological, Mystery, Seinen, Tragedy, Drama
Chapters: 6 + 1 oneshot
Status: Completed
Published: Aug 16, 2005

Jigokusei Remina

Ashita Dorobou [মাঙ্গা রিভিউ] — শাহরিয়ার শুভ

Manga: Ashita Dorobou
Other name: 再見明日; 明日泥棒; Ashita’s Thief; Tomorrow’s Thief
Genres: Action, Drama, Mature, Romance, Seinen, Supernatural
Author: Hokazono Masaya, Betten Court
Status: Completed

Summary: গল্পের নায়ক,কিয়শি মিয়াসাকো একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করে। সারাক্ষণ নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে।এমনকি কাজের জন্য প্রায়ই অফিসে রাত কাটায়। নিজেও জানেনা কেন সে নিজেকে সারাক্ষণ কাজে ব্যাস্ত রাখে, কিন্তু সে সবসময় তার Ex-Girlfriend কথা চিন্তা করে এবং তাকে অনেক মিস করে। কিয়শির GF আশিতার সাথে কিয়শির নয়বছর আগে Break Up হয় আশিতার হবির কারনে। কিন্তু নয় বছর হয়ে যাবার পরও আশিতাকে ভুলতে পারেনা। আশিতাকে আরেকবার দেখতে চায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য।
হঠাৎ একদিন আকাশে একটা অলক্ষুনে রহস্যময় বলয় উদয় হয়। সেই অলক্ষুনে রহস্যময় বলয় থেকে আশিতার আবর্তন ঘটে এবং সেখান
থেকেই কিয়শির জীবন বদলাতে শুরু হয়।

ভাল ছিল মাঙ্গাটা 😀 অনেকদিন পর ভাল একটা রোমান্স মাঙ্গা পড়লাম।
বাট পুরা কাহিনীটাই নাইকার জন্য হইছে! আগে জানতাম Yandere নাইকাগুলাই বেশি ঝামেলা পাকাইতো। বাট Tsundere নাইকাও যে এইরকম ঝামেলা করতে পারে জানতাম না । এর থেকে বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই পড়ে দেখতে পারেন। বেশি বড় না মাঙ্গাটা। মাত্র ৩১টা চ্যাপ্টার 😀 পড়ার পর সময় নষ্ট হবে না এইটার গ্যারান্টি দিতে পারি 😀

My Rating:
for storyline:5.5/10
for Romance: 9/10
for feelings: 7/10
overall rating: 7.5/10

ashita dorobou

Behind the Voices – 03

তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া

ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র কম বেশি সবার-ই ভালো লাগে আর এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্রের আকর্ষণীয় দিকগুলার একটি হল তার কণ্ঠ। এই সকল চরিত্রের ক্ষেত্রে সেরা কণ্ঠ দিতে পারেন এমন একজন হল তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া। অনেক অসাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি, এর মধ্যে বলতে পারেন আনিমে জগত-এর দুই জনপ্রিয় শৌনেন হিরো নারুতো উজুমাকি এবং কুরোসাকি ইচিগোর পিতা মিনাতো এবং ইশ্শিন এই দুইটি চরিত্র।

তিনি অনেক ভালো লাগার মত চরিত্রের কণ্ঠ অভিনেতা এবং আমার কাছে তার যে সকল রোল ভালো লেগেছে তা হল ইনু ইয়াশার নারাকু, ডি.গ্রে-ম্যানের টিকি মিক, নারুতোর মিনাতো এবং কিমিমারো, ব্লিচে তৌসেন এবং ইশ্শিন, বার্যার্কের গ্রিফ্ফিথ ( অবশ্য মুভিগুলোতে তিনি চরিত্রটির কণ্ঠ-অভিনেতা ছিলেন না ), ব্ল্যাক ল্যাগুনের চ্যাঙ, সেঙ্গোকু বাসারার কৌজিরো। এছাড়া দেখতেই পাচ্ছেন আরও কত চরিত্রের কণ্ঠ তিনি দিয়েছেন।

তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া

তার আনিমে ওএসটিতে তুলনামুলকভাবে কম কাজ আছে। এছাড়া তার সফলতা সুধু আনিমের চরিত্রের মধ্য দিয়েই নয় বরং গেম এবং হলিউড মুভির জাপানি ডাব-এও তার বড় রোল আছে।

তার জন্ম ১৯৬৭ সালের ২৬ জানুয়ারি। সে Axl One এই সেইয়ূ অ্যাজেন্সীর প্রতিষ্ঠাতা, এই অ্যাজেন্সির অংশ জুন ফুকুয়ামা, সাতোশি হিনো, নোরিয়াকি সুগিয়ামা, তাচিবানা শিন্নোসকে, নাকামুরা চিয়ে, কোশিমিজু আমি এদের মত নামকরা কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী । শুধু তাই নয় তিনি সেকি তোমোকাজু, কোনিশি কাৎসুইয়ুকি এবং হিরাকাওয়া দাইসকে এই ৩ জন দক্ষ কণ্ঠ-অভিনেতাদের পর্যন্ত প্রশিক্ষন দিয়েছেন। ১৯৯২ সালে তার অভিষেক এবং আজকে সফল কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যে তিনি একজন।

তোশিয়ুকি মোরিকাওয়া 2

আসুমি কানা
 
আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ব্যাতিক্রম কণ্ঠের অধিকারী কণ্ঠ অভিনেত্রী আছে,যাদের রোলও অনেক কিন্তু জনপ্রিয়তা কম। তাদের মধ্যে একজন আসুমি কানা। এক অনন্য কণ্ঠ দিয়ে অনেক অসধারণ চরিত্রদের তুলে ধরায় সক্ষম তিনি। তার কণ্ঠটা বেশ প্রাণবন্ত এবং সাধারণ মোএ আনিমের চরিত্রগুলার জন্য মানানসই। তবে কিছু সিরিয়াস চরিত্র সে অনেক ভালো ভাবেও তুলে ধরেছেন।
তার যে সকল রোল আমার কাছে খুব অসাধারণ লেগেছে তা ওয়ার্কিং-এর তানেশিমা পোপুরা, নিসেকোই-এর তাচিবানা মারিকা, কামি নোমি যো শিরু সেকাইয়ের চিহিরো এবং হানামোনোগাতারির নুমাচি রিয়োকা। তার আরো কিছু রোল অনেক ভালো লেগেছে সেগুলা হল মেকাকুসিটি অ্যাক্টর্সের এনে, হাইয়োরে নিয়ারুকো-সানের নিয়ারুকো, গুরেন লাগানের কিয়াল, ইয়ামা নো সুসুমেতে হিনাতা, মেইড সামার হোনোকা, ক্যাম্পফারের মিকোতো, নুরারিহিয়নের মাকি, রিয়ুগাজৌ নানানা নো মাইযৌকিনের ইক্কিউ তেনসাই এবং আরো অনেকে। তার আরো অনেক ভালো রোল আছে,যার মাঝে আপনার কোন পছন্দের চরিত্রকেও পেতে পারেন ।
আসুমি কানা 1
আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। ওয়ার্কিং, হাইয়োরে নিয়ারুকো-সান, নিসেকোই, কামি নোমি যো শিরু সেকাই, বুসৌ শিঙ্কি, হিদামারি স্কেচ এই আনিমেগুলার ওপেনিং-এন্ডিং এ তার কাজ আছে। এছাড়া কামি নোমির তৃতীয় সিজন মেগামি আর্কের শেষে স্কুল ফেস্টের শেষে চিহিরো তার ব্যান্ডের সাথে গায়,’হাজিমেতে কোই য়ো শিতা কিয়োকু’ এই গানটা আমার বেশ ভালো লেগেছে (https://goo.gl/KkZg0j) ।
আগস্ট ১২,১৯৮৩ সালে তার জন্ম। সবার কাছে কানা আসুমি হিসেবে পরিচিত হলেও জন্মগত নাম কানা হারাদা। তিনি বিবাহিত এবং বিয়ে করেছেন জানুয়ারি,২০১৪ সালে। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম সেইয়ূ অ্যাওয়ার্ডসে তিনি ‘Best Lead Actress’ খেতাব জিতেছিলেন। তার কণ্ঠ অভিনয় আমার বরাবর-ই ভালো লাগে এবং চাই যাতে সামনেও সে আরো ভালো ভালো চরিত্র পাবেন।
আসুমি কানা 2

Kyoukai no Kanata রিভিউ — Maruf Raihan

KyoAni শব্দটির সাথে কমবেশি আমরা অনেক এনিমখোরই পরিচিত। যাদের জানা নেই তাদের জন্য বলে রাখা ভালো – ‘KyoAni’ মূলত ‘Kyoto Animation’ স্টুডিও এর সংক্ষিপ্ত রূপ। KyoAni এর অনন্য কাজ নিয়ে আজকে আলোচনা করা যাক।

“Kyoukai no Kanata” ১২ এপিসোডের একটি এনিমে,যা আর পাঁচটা শর্ট লেন্থ এনিমের মত আপনার স্মৃতির এলবামের পিছনের দিকে ঢাকা পড়ে যাবার মত নয়। ভালো গ্রাফিক্স,খুব মনোরঞ্জক কিছু চরিত্র,উপস্থাপনা ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, অসাধারণ OST এর কারণে যারা দেখেছেন তাদের অনেকেরই পছন্দের প্রথম সারিতে এনিমেটি রয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

এনিমে: Kyoukai no Kanata (Beyond The Horizon)

এপিসোড : ১২

জেনরা: ফ্যান্টাসি,স্লাইস অফ লাইফ,সুপারন্যাচারাল

স্টুডিও ও প্রযোজনা: কিয়োতো এনিমেশন, পনি ক্যানিয়ন, টিবিএস

লাইট নোভেল রচয়িতা : নাগোমু টেরি

এনিমে পরিচালনা: টাইচি ইশিদাতে

Kyoukai no Kanata 1

প্রথমত,এনিমেটা দেখা শুরু করলে প্রথমে একটু কৌতূহল জাগবে। এক মেয়েকে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্নহত্যা হতে বাঁচাতে এগিয়ে গেল এক ছেলে,অথচ সেই মেয়েই কিনা ছেলেটার বুকে ছুরি ঢুকিয়ে দিল। মানুষের ভাবনা ও চিন্তাশক্তি এসকল অস্বাভাবিক
ঘটনার প্রতি সংবেদনশীল।তাই নিছক আগ্রহ নিয়ে ঘটনাটা কী- সেটা দেখার জন্য হলেও অজান্তেই দেখা শুরু করে দিতে পারেন এনিমেটা ।

প্রথমে কোন পরিচিতিমুলক অংশ নেই।যেমন-বিশেষভাবে চরিত্র পরিচিতি,সুপারন্যাচারাল পাওয়ার গুলোর সংজ্ঞা ,প্লটটার ভিত্তি ইয়াদি আলাদা করে দেখানো হয়নি।এজন্যই অনেকের কাছে প্রথম প্রথম কিছুটা বিরক্তিকর বা বিব্রতকর লাগতে পারে।
“আরে ভাই দেখা শুরু করলাম,বলা নেই কওয়া নেই,স্পীরিট হান্টার,Youmu,এগুলা কী?!” আমার ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটেছিল। তবে মজার বিষয় হল এই যে, ধৈর্য সহকারে দেখতে থাকলে নিজেই এগুলোর মানে বুঝে নিতে পারবেন,যা আরো বেশি
আনন্দদায়ক হবে।

চরিত্রগুলার কথায় আসা যাক।যারা এনিমেটি দেখেননি,তারাও বিভিন্ন ওয়েবসাইট,গ্রুপ ও ব্লগে লাল ফ্রেমের বাদামী চশমা পড়া ভারী কাওয়াই একটা এনিমে ক্যারেক্টারের ছবি হয়ত দেখে থাকবেন।অধিকাংশ রোমান্টিক AMV তেও তার উপস্থিতি দেখা যায়।
সে আর কেউ নয়, KnK এর কুরিয়ামা মিরাই। আমার দেখা সেরা Female ক্যারেক্টারগুলার মধ্যে অন্যতম।তার চশমা পরা অবস্থায় মুখের হাসি কোন অংশে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্ছির মোনালিসার হাসির চেয়ে কম নয়।

গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র কানবারা আকিহিতো। চরিত্র না বলে গল্পের সমস্ত ঘটনার উৎস বললেও অত্যুক্তি হবে না।গল্পের শুরু থেকেই আকিহিতো চরিত্রটিকে অন্ধকারে রেখে একটা সাসপেন্স তৈরি করা হয়েছিল,যা চরিত্রটির বিশেষায়ণে সাহায্য করেছে।

আর অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে কানবারা ইয়াওই কে । সে আকিহিতোর মা। আর সত্যি কথা বলতে বাস্তবে এরকম মা থাকলে যে কীরকম হত তা কল্পনা করতেই কষ্ট হয়।যারা এনিমেটি দেখেছেন তারা বোধ হয় কথাটির
মানে বুঝতে পেরেছেন। :v

এনিমেটির শেষের দুই এপিসোড খুবই বিচিত্র।এই আপনি আবেগপ্রবন হয়ে পড়লেন,চোখে জল চলে এল,এই আবার মুখের কোণে মুচকি হাসি। আর বলা বাহুল্য,এনিমেটির কোনো দুঃখজনক এন্ডিং নেই। [এটা স্পয়লার হইল নাকি?]

অসাধারণ কম্বিনেশনের তিনটি গান (একটি ওপেনিং,একটি এন্ডিং,Future Star) থাকায় সেরা মিউজিক ধারী এনিমেগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি থাকবে। গানগুলি চয়েজ যিনি বা যারা করেছেন তাদেরকে ১০০ তে ১০০ দিতেই হবে।
ওপেনিং টা “মিনোরি চিহারা” র গাওয়া । পুরোপুরি বিমূর্ত ধরনের লিরিক্স থাকায়,এনিমেটির প্রতি আকর্ষণ এই গানটিই জাগিয়ে দেয়।

গানটি এখনই দেখে ফেলুন–
https://www.youtube.com/watch?v=g-_4piNFe4M

এন্ডিং টা ওপেনিং কেও ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এন্ডিংটার ভোকাল ও লিরিক্স টা এনিমের প্লটের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় মনে বেশি রেখাপাত করেছে।আর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হল এই যে ,এনিমেটা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে কখন যে এন্ডিংটার
মিউজিক শুরু হয়ে যায় তা টেরই পাওয়া যায় না। আমার শোনা সেরা জাপানিজ গানগুলোর মধ্যে একটা

দেখে ফেলুন–
https://www.youtube.com/watch?v=nMlwer-lbow

এনিমেটা দেখে ফেলুন। ১২ এপিসোডে অনেক কিছু পাবেন যা অনেক সময় ২২০ এপিসোডেও পাওয়া যায় না——-

~~~অনন্য রিকমেন্ডস~~~

Kyoukai no Kanata 2