এফ এ সি ৪২

রান্ডম টপিক

 অন্সেন[Onsen]

 

 

অনসেন হচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে [জিওথার্মালি] উত্তপ্ত পানির উৎস, যার মধ্যে থাকে বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান। আউটডোরে প্রাকৃতিক উত্সেই এটা থাকে। এর সাথে পাবলিক বাথের তফাত হলো, সেখানে পানি কৃত্তিমভাবে গরম করা হয়, আর তাতে খনিজ নাও থাকতে পারে. অন্সেন আগেকার দিনে মিক্সড ছিল[হে হে], এখনো বেশ কিছু মিক্সড অন্সেন আছে, তবে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা অন্সেনই বেশি দেখা যায়.

 

 

আনিমে সাজেশন

 ম্যাজিক কাইতো[Magic Kaito]

রাতের বেলায় উড়ে বেড়ায় সে শহরে, চুরি করে মহামুল্যবান রত্ন! ফ্ল্যাশি, রহস্যময়, ড্যাশিং, ঝলমলে সাদা কোট-প্যান্ট! মনোকলের ওপাশে বুদ্ধিদীপ্ত চোখ! নাম তার কাইতো কিড!

 

কেন দেখবেনঃ ডিটেকটিভ কোনানের একটা ক্যারেক্টার নিয়ে বারো পর্বের এই স্পিন অফ সিরিজ, বুঝতেই পারছেন, একটা ক্যারেক্টার কত জনপ্রিয় হলে নিজের একটা আলাদা সিরিজ পায়। ক্যারেক্টার ডিজাইন আকর্ষণীয়, শউনেন জন্রায় ফেলা যায়, সময় কাটানোর জন্য বেশ ভালো।

 

কেন দেখবেন নাঃ এখানে জাদু বলতে শুধুই চোখের ধাঁধা নয়, নিয়ে আসা হয়েছে অতিপ্রাকৃত শক্তির ব্যবহার, যেটা আমার বাজে লেগেছে। বেশিরভাগ জাদুই উদ্ভট টাইপ, সম্ভবত বাস্তব জগতে ইমপ্লিমেন্ট করা সম্ভব না।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩৭

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন 

 প্যারাসাইট[Parasyte]

পরজীবী এলিয়েনরা আমাদের অজান্তে নেমে এসেছে পৃথিবীতে, ঢুকে পড়ছে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে। আপনিও তার শিকার নন তো?

 

কেন পড়বেনঃ যতটুকু পড়লাম, প্রমিসিং কনসেপ্ট, আঁকার ধরন ডার্ক, ইতউ জুঞ্জির মতো, হরর-গোর জন্রার বেশ ভালো উদাহরণ।

কেন পড়বেন নাঃ শিউর না, আগে পুরোটা পড়ে নিই, তারপর আপডেট করব।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩২

আমার রেটিং নেই, আগে পড়ে নিই.

 

এফ এ সি ৪১

রান্ডম টপিক

 উইয়াবু[Weeaboo]

 

এরা এমন এক প্রজাতি, যাদের সংজ্ঞা দেয়া খুব সহজ না, তবে নিচের কয়েকটা বৈশিষ্ট্য এদের মধ্যে দেখা যায়। [মূলত বাংলাদেশের বেসিসে দেয়া হল]

১। এরা প্রধানত নারুটো আর গকুর ফ্যান, যে কোন আলোচনায়ই তারা এই ক্যারেক্টারগুলো নিয়ে আসে[কার্টুন নেটওয়ার্কে নারুটো আর ড্রাগনবল জি দেখানোর ফল আর কি]।

২। এরা শউনেন আর এচি ছাড়া তেমন কিছু দেখে না।

৩। বাবা-মার প্রদত্ত নাম বাদ দিয়ে তারা আজব আজব সব জাপানি ফেসবুক নাম দেয়।

৪। জাপানী পারে না, তবুও খিচুড়ি কথাবার্তা বলে, যেমনঃ মিন্না, ওয়াতাশি হাংরি দেসু, পিজ্জা খাব দেসু বা হ্যাপি তানজবি ইত্যাদি।

৫। এরা কোন যুক্তি ছাড়া বাজে তর্ক করতে খুব পছন্দ করে। গকুর গ্রহ ধ্বংসের যুক্তি এদের অন্যতম পছন্দের যুক্তি।

আরও বৈশিষ্ট্য আছে, সেগুল আপাতত মনে পড়ছে  না।

 

 

আনিমে সাজেশন

 এমা-আ ভিক্টরিয়ান রোমান্স[Eikoku Koi Monogatari Emma]

এক হাউজমেইডের প্রেমে পড়ে গেলো এরিস্টোক্র্যাট পরিবারের এক তরুণ। এই অসম প্রেমের পরিণতি কি হবে?

 

কেন দেখবেনঃ শউনেন সিরিজ না, কিন্তু কাহিনী যথেষ্ট গতিময়, টানটান একটা ব্যাপার আছে, ঝুলে যায়নি কোথাও। ক্যারেক্টারগুলোর পোরট্রেয়িং বেশ আকর্ষণীয়, সেই সাথে আছে উনবিংশ শতাব্দীর ইংল্যান্ডের আবহ।

কেন দেখবেন না: বুঝতেই পারছেন, বাংলা সিনেমা গোছের একটা ভাইব আছে [অবশ্যই অতটা লেইম নয়]।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮৭+৮.১০

আমার রেটিং ৮+৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন 

স্কুল নিঙ্গিও[School Ningyo]

 

গুজব আছে, স্কুলে গভীর রাতে হাজির হয় মৎস্যকন্যারা, যাদের মাংস খেলে পাওয়া যাবে ভালবাসার খোঁজ। দুই বান্ধবী যখন এই উদ্দেশ্যে স্কুলে রয়ে গেলো, এর পরিণতি কি হল?

কেন পড়বেনঃ বেশ ভালো হরর, আঁকাও ভালো, এন্ডিঙটা পুরোই অপ্রত্যাশিত। এছাড়া মাত্র ৩ চ্যাপ্টার, এক বসায় পড়ে ফেলার মতো।

কেন পড়বেন নাঃ ক্লিশে মনে হলেও হতে পারে।

 

ম্যাল রেটিং ৬.৭৮

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ৪০

রান্ডম টপিক

ধর্ম

 

জাপানের বেশিরভাগ মানুষ শিন্তো আর বৌদ্ধ ধর্মের সংকরের অনুসারী। খ্রিস্ট ধর্ম আছে এর পরেই, তবে তারা বড়দিন সামাজিকভাবে পালন করে. মুসলিমও আছে, যারা বেশিরভাগই অন্য দেশ থেকে মাইগ্রেট করেছেন। আছে হাতে গোনা ইহুদী আর হিন্দু ধর্মের অনুসারীও।

 

আনিমে সাজেশন

কিংডম[Kingdom]

গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে ছোটবেলার বন্ধুকে চোখের সামনে মরতে দেখল জিন। কিন্তু দমে গেলো না সে, তার বন্ধুর স্বপ্ন হৃদয়ে রেখেই পথ চলা শুরু করল সে। কি সেই স্বপ্ন? চীনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ওয়ার জেনারেল হওয়া।

কেন দেখবেনঃ ঐতিহাসিক টাচ আছে, খুব ভালো সেইনেন, শউনেন ভাইবও আছে, মানে দুর্বল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হওয়া। একবার শুরু করলে শেষ না করে ওঠার জো নেই।

কেন দেখবেন নাঃ এনিমেশন একটু অদ্ভুত গোছের।

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৮+৮.৬৫

আমার রেটিং ৮+৯

 

মাঙ্গা সাজেশন

 লাইচি হিকারি ক্লাব[Litchi☆Hikari Club]

মানসিকভাবে বিকৃত কয়েকজন জার্মান তরুণের এক ক্লাবে ঘটনাচক্রে এসে হাজির হল ভাগ্যাহত এক তরুণী। এতে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে কি পরিবর্তন আসল? আর ক্লাবের রেসিডেনট রোবটের মেয়েটাকে ভালবেসে ফেলার পরিণতিই বা কি হবে?

 

কেন পড়বেনঃ একটু অন্যরকম কাহিনী, ডার্ক, গোর। এর একটা আনিমে ছিল, সেটা মাঙ্গাকে কোনোভাবেই জাস্টিফাই করতে পারেনি।

কেন পড়বেন নাঃ কেন পড়বেন অংশটার দিকে তাকান। ক্লাবের সদস্যরা সবাই মানসিকভাবে বিকৃত। খুবই জঘন্য গোছের কিছু প্যানেল আছে।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ৩৯

রান্ডম টপিক

সুইকাওয়ারি

 

আনিমেতে বীচ এপিসোডগুলোতে একটা আবশ্যিক অনুসঙ্গ হলো তরমুজ ফাটানো। গ্রীষ্মকালে তরমুজ ফাটানো জাপানের ঐতিহ্যগুলোর একটা। একজনের চোখ বেঁধে হাতে একটা লাঠি দেয়া হয়, অন্যরা ডিরেকশন দেয়, আর সে আন্দাজে ফাটানোর চেষ্টা করে। তবে এর চেয়ে ভালো উপায় আছে। একটা তরমুজ নিন. সেটার সাথে একটা পেন্সিল বেঁধে খানিকক্ষণ গড়াতে দিন. একটু পরে সেটাকে থামিয়ে দিন একটা ঘুষি মেরে। তারপর এর নাজুক অংশে দুই বুড়ো আঙ্গুল ঢুকিয়ে চাপ দিতে থাকুন। ব্যস, “মাইন্ড ব্লোইং” ব্যাপারস্যাপার দেখার জন্য রেডি হয়ে যান.

 

 

 

আনিমে সাজেশন

গা-রেই জিরো[Ga-Rei Zero]

ভালবাসার মানুষকে কি খুন করা সম্ভব, ভালবাসার কারণেই?

 

কেন দেখবেনঃ ধুমধাড়াক্কা প্রথম পর্বের পরে কয়েক পর্ব দেখে মনে হবে ইয়ুরি স্লাইস অব লাইফ, তারপরেই ক্লাইম্যাক্স। আবার ধুমধাড়াক্কা অবস্থা। বেশ অনেকখানি ডিফরেন্ট টেস্টের একটা আনিমে।

কেন দেখবেন নাঃ চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের আগে তুলনামূলক স্লো এবং ক্লিশে বিলড আপ।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯৩

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

কারনিভোরাস প্রিন্সেস ইয়েগ্রিনা[Carnivorous Princess Yegrinna]

আনিম্যাল কিংডম থেকে রাজকুমারী ইয়েগ্রিনাকে পাঠানো হল মানবজাতিকে শাস্তি দিতে, বদমাশের দল সব প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছে। ইয়েগ্রিনা প্রথমেই যে মানুষটার বাড়িতে এসে ঢুকল, সে হচ্ছে মহা আঁতেল, পড়াশুনা ছাড়া পৃথিবীর আর কোন ব্যাপারে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তাদের সংঘর্ষের ফলাফল?

 

কেন পড়বেনঃ মানহুয়া আর্টিস্টরা আঁকে দারুন সুন্দর, বিশেষ করে মেয়েদের, সেটা তো জানেনই। কাহিনীও ভালো, বেশ ভালো একটা টাইম পাস ম্যাটেরিয়াল। কয়েকটা ভালো ফাইট সিনও আছে।

কেন পড়বেন নাঃ নুডিটি, আনিম্যাল গার্ল, স্লাইস অব লাইফ, এগুলোতে এলারজি  থাকলে পড়বেন না।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৪৭

আমার রেটিং ৭

 

এফ এ সি ৩৮

রান্ডম টপিক

কাজিউরান

 

ইউকি কাজিউরার নামের সাথে অপরিচিত এমন কেউ বোধ হয় গ্রুপে নেই। কাজিউরা তার কাজে প্রায়ই ল্যাটিন ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। আপনি কি জানতেন, এটাকে “কাজিউরান” বলা হয়?

কাজিউরানের একটা খুব ভালো উদাহরণ হলো এটা http://www.youtube.com/watch?v=Jxnf5uaeRDE

 

 

আনিমে সাজেশন

ডিটেকটিভ কোনান[Detective Conan]

এক অপরাধী চক্রের পাল্লায় পড়ে ১৭ বছর বয়সী জিনিয়াস গোয়েন্দা কুদো শিনিচি হয়ে গেল ৭ বছরের এক বাচ্চা! কিন্তু তাতেই কি সে দমে গেল? প্রফেসর হিরোশির তৈরী বিভিন্ন গ্যাজেট, আর চাইল্ডহুড সুইটহার্ট রানের সাথে মিলে শিনিচি হয়ে উঠলো এক অপ্রতিরোধ্য গোয়েন্দা, নাম নিল এদোগাওয়া কোনান! সাবধান অপরাধীরা, সাবধান!

 

কেন দেখবেন: খুব অল্প পিউর ডিটেকটিভ আনিমের মধ্যে এটা একটা। ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গ্যাগ, এবং সর্বোপরি বেশ ভালো ভালো কেস. এপিসোডিক, কাজেই টানা দেখার ঝক্কি নেই.

কেন দেখবেন না: কোনো কারণ নেই.

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৬

আমার রেটিং নেই, কারণ অনগোয়িং।

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 দ্য প্রিন্স’স ক্যাকটাস[The Prince’s Cactus]

বোনের বিয়েতে গিয়ে দানিয়া পরিচিত হলো তার নতুন ভাগ্নে, মানে বোনের সৎ ছেলের সাথে। সেই ছেলে এক রাজপুত্র, মহা এরোগ্যান্ট, সারাক্ষণ দানিয়াকে তাচ্ছিল্য করে বেড়াচ্ছে। এই দুইয়ের অসম জুটি কি আসলেই সম্ভব?

 

কেন পড়বেনঃ বুঝতেই তো পারছেন, অসম প্রেমের এক উদ্দাম কাহিনী, হেহে।

কেন পড়বেন না: এখানে যে রিলেসনশিপ দেখানো হয়েছে সেটা সবার মনোপূত হবে না, আগে  কয়েকটা রিভিউ পড়ে শিউর হয়ে নেবেন।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৬৯

আমার রেটিং ৮[বায়াস্ড রেটিং]

All Fiction 1: Random Topic

র‍্যান্ডম টপিক

স্পিরিচুয়াল সাকসেসর/Spiritual Successor

কোন সাহিত্যকর্ম বা কল্পকাহিনীর সাথে অপর একটি সাহিত্যকর্মের কাহিনিসুত্রে মিল না থাকা সত্ত্বেও উভয়েই একই ভাব বহন করে, অথবা অনেক কিছুতেই সাদৃশ্য থাকে , এরূপ একটি কাহিনীকে পূর্ববর্তী কাহিনীর স্পিরিচুয়াল সাকসেসর বলা হয়ে থাকে। একে স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়ালও বলা হয়। দেখা যায় যে উভয় কাহিনীর সুপারন্যাচারাল ব্যাপারগুলো, অথবা কাহিনীর অগ্রগতিতে অনেকখানি মিল থাকে, কিন্তু তাকে সম্পূর্ণ এক বলা যায়না। গতানুগতিক সিক্যুয়ালগুলোতে যেমন একই কাহিনীধারাই বজায় রাখা হয়, এটা ঠিক সেরকম না।

এই ‘স্পিরিচুয়াল সাকসেসর’ টার্মটাতে বুঝানো হয় যে কোন সাহিত্যকর্মের স্পিরিট অপর কোন সাহিত্যকর্মে পরবর্তীতে সঞ্চালিত হয়, কিন্তু কাহিনীসূত্র হুবহু থাকেনা।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, জনপ্রিয় “প্রিন্স অফ পার্সিয়া” সিরিজের স্পিরিচুয়াল সাকসেসর হল “অ্যাসাসিন্স ক্রিড”। অ্যাসাসিনস ক্রিড গেমটিকে প্রিন্স অফ পার্সিয়ার গতানুতিক সিক্যুয়াল বানানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে তাকে একই ভাবধারার একটি গেম সিরিজ হিসেবে তৈরি করা হয়, সরাসরি সিক্যুয়াল নয়।

যুগে যুগে অনেক সাহিত্যকর্মই প্রকাশিত হয়েছে। হয়তোবা দেখা গেছে, এক প্রজন্মের সাহিত্যিকরা পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু সাহিত্য রচনা করেছেন, তাই তাতে পূর্বসুরির প্রভাব রয়ে গেছে।

অনেক জায়গাতেই দেখা যায়, মানুষজন তাদের প্রিয় সিরিজের ভাবধারার সাথে মিল থাকা অপর কোন সিরিজকে নকল বলছে। কিন্তু আদতে তা হল পূর্ববর্তী সিরিজটির স্পিরিচুয়াল সাকসেসর, নকল নয়।

All Fiction 1 – Character Spotlight: Kumagawa Misogi

ক্যারেক্টার স্পটলাইট –

কুমাগাওয়া মিসোগি / Kumagawa Misogi

মাঙ্গা : মেদাকা বক্স / Medaka Box

মেদাকা বক্স (Medaka Box) মাঙ্গার সবচেয়ে ডার্ক ক্যারেক্টার কুমাগাওয়া মিসোগি (Kumagawa Misogi)। ‘Born Loser’ বলতে যা বুঝা যায় , কুমাগাওয়া তার যথার্থ উদাহরণ। ভয়ংকর অ্যাবিলিটির অধিকারী বিকৃত মানসিকতার এই ক্যারেক্টারটি জীবনে সবকিছুতেই ব্যর্থ , সকলের কাছে সকল বিষয়ে হেরেছে , এমন একটি মানুষ।

মেদাকা বক্স মাঙ্গাতে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এবং ক্ষমতার(অ্যাবিলিটি) উপর ভিত্তি করে ক্যারেক্টার দের ‘Plus’, ‘Minus’, ‘Special’, ‘Normal’ ও ‘Not Equal’ এই কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যারা নেতিবাচক মানসিকতার ও ক্ষমতার অধিকারী , তাদের বলা হয় ‘Minus’। এবং এই মাইনাসদের মধ্যে সবচেয়ে মাইনাস , সবচেয়ে শক্তিশালী/নেতিবাচক হল কুমাগাওয়া। একজন মানুষের পক্ষে যতটা নেতিবাচক হওয়া সম্ভব , কুমাগাওয়া ঠিক ততটাই বিকৃত , নেতিবাচক মানসিকতার অধিকারী।

বলা হয় যে , কুমাগাওয়া জীবনে যত মানুষের সাথে মেলামেশা করেছে , তাদের সব নেতিবাচক দিকগুলোই সে নিজের করে নিয়েছে।

নাস্তিবাদি এই ক্যারেক্টারটির প্রধান ‘Ability’ হল ‘All Fiction’ , যার সাহায্যে সে যেকোনো কিছুর অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলতে পারে , নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে নিমেষেই । হাসতে খেলতে সে মানুষকে খুন করতে পারে। যেকোনো কিছুকে নাই করে দেওয়ার মত এই ক্ষমতার সৃষ্টি হয়েছে তার নেতিবাচক মানসিকতা থেকেই।

বিতর্কের খাতিরে বলতে গেলে, কুমাগাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী মাঙ্গা ক্যারেক্টার, কারণ তার রয়েছে যেকোনো কিছুর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দেবার ক্ষমতা।

তার কাছে মানুষের জন্মমৃত্যুর কোন মুল্য নেই। বেঁচে থাকার , জীবনকে উপভোগ করার অর্থ সে জানেনা। মাইনাসদের ছাড়া সে অন্য কোন মানুষকে বিশ্বাস করেনা , কারন শুধু মাইনাসরাই বুঝতে পারে অপর মাইনাস দের দুঃখ। মাইনাসদের সচরাচর অনুভূতি (emotion) প্রকাশ করতে দেখা যায়না , তারা হাসিমুখে সব অপমান , অপবাদকে অগ্রাহ্য করে।

স্বঘোষিত সবচেয়ে দুর্বল ক্যারেক্টার, কিন্তু আদতে শক্তিশালী , ভয়ংকর এবং আনপ্রেডিকটেবল ক্যারেক্টার কুমাগাওয়া মিসোগির হৃদয়েও রয়েছে নমনীয়তা। সে যাদের বিশ্বাস করে তাদের জন্য যেকোনো কিছুই করতে পারে। মাঙ্গার এক পর্যায়ে গিয়ে তার চরিত্রের নমনীয় এই দিকগুলোর পরিচয় পাওয়া যায়। তার নিজের ব্যর্থতা থেকে অন্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে মানুষকে সামনে অগ্রসর হবার কথা বলে সে…

কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে কুমাগাওয়ার দারুণ কিছু পান (Pun) যা পড়ে আপনারা না হেসে পারবেননা।

পারভার্টনেস তার অনন্য বৈশিষ্ট্য । পুরো মাঙ্গা জুড়েই রয়েছে তার এরোগিরি । কৌহাইদের নিয়ে সে গঠন করেছিল ‘Naked Apron Alliance’ নামক সংঘ। নাম শুনেই বুঝতে পারবেন সংঘটি কেমন :v ।

কিছু কিছু জায়গায় তার মাত্রাতিরিক্ত পারভার্টনেস নির্মল আনন্দের উৎস হিসেবে কাজ করবে।

তার অ্যাবিলিটিগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অ্যাবিলিটি হল ‘Hundred Gauntlet’ , যার মাধ্যমে কতগুলো বড় বড় স্ক্রু নিয়ে কুমাগাওয়া তার শত্রুদের আক্রমন করে। এই স্ক্রুগুলো কোন ক্ষতের সৃষ্টি করেনা , তবে যার গায়ে বিঁধে , তার মনটা কুমাগাওার মতই নেতিবাচক মানসিকতায় ভরে ওঠে। আর তার এই অ্যাবিলিটির মাধ্যমে শ্লেষাত্মকভাবে সে যেন মুণ্ডুপাত করে, স্ক্রুগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ (He sarcastically screws others with his large screws)।

মেদাকা বক্সের লেখক নিশিও ইশিন, যিনি মোনোগাতারি সিরিজের জন্য বিখ্যাত , সুপারন্যাচারাল কাহিনীসূত্র ও পাগলাটে ক্যারেক্টার সৃষ্টিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। আমার মতে কুমাগাওয়াই তাঁর সৃষ্ট সর্বোৎকৃষ্ট ক্যারেক্টার।

তাই পড়ুন মেদাকা বক্স মাঙ্গা , নিজেই উপভোগ করুন অসাধারণ, পাগলাটে ক্যারেক্টার কুমাগাওয়ার অবিশ্বাস্য সব কাণ্ডকারখানা।

All Fiction 1: Author Spotlight: Narita Ryohgo

লেখক সমাচার –

নারিটা রিয়োগো / Narita Ryohgo

ব্যক্তিগত তথ্য :

নারিটা রিয়োগো একজন নভেলিস্ট। তাঁর জন্ম ১৯৮০ সালের ৩০ই মে, জাপানের টোকিওতে। তিনি গিনতামা মাঙ্গার পাঁড়ভক্ত, তাঁর লেখার মধ্যেও গিনতামার প্রভাব রয়েছে ।

তাঁর দুটো লাইট নভেল ‘ডুরারারা’ এবং ‘বাকানো’র জন্য তিনি বিখ্যাত, কারণ এই দুটো নভেলই এনিমে অ্যাডাপশন পেয়েছে । ২০০৩ সালে যখন ‘বাকানো’র প্রথম ভলিউম প্রকাশিত হয়, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২২ বছর। তার পরের বছরেই প্রকাশিত হয় তাঁর নভেল ‘ডুরারারা’র প্রথম ভলিউম ।

এর মধ্যে ‘বাকানো’ লাইট নভেলটির জন্য তিনি ‘9th Dengeki Novel Prize’ এ গোল্ডেন প্রাইজ পেয়েছেন।

লেখার ধরণ :

তাঁর লেখার স্টাইল একটু ভিন্নধাঁচের, মূলত স্যাটায়ার টাইপের(যদিও খুব কম মানুষই স্যাটায়ারিক স্টাইলের ব্যাপারটা ধরতে পারে)।

তিনি তাঁর গল্পের কাহিনীকে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে পুরো ভলিউমে ছড়িয়ে দেন। প্রতিটি অংশের কাহিনী এবং ক্যারেক্টারদের কার্যকলাপ স্বতঃস্ফূর্ত মনে হলেও শেষ পর্যন্ত দেখা যায় সবগুলো অংশই একসূত্রে বাঁধা। টুকরো টুকরো কাহিনীগুলো যেমন রসে ভরা, আনন্দদায়ক, তেমনি তার ভেতর লুকিয়ে থাকে সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের অজ্ঞতা ও বিকৃত মানসিকতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। ক্যারেক্টারগুলোকে মনে হবে হাস্যকর, পাগলাটে অথবা অতিসাধারণ। কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় তাদের মাহাত্ম্য কতোটুকু, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারবেন, হাস্যরসের আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোন অর্থ।

নারিটা সেন্সেইর লেখায় কাহিনীপ্রবাহ কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত থাকেনা, যার ফলে কেউ কেউ হয়তো পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। প্রত্যেকটা অংশের কাহিনী পুরোপুরি শেষ হবার আগেই তিনি অপর একটি অংশে কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাই প্রত্যেকটি অংশেরই সমাপ্তি জানতে হলে একেবারে শেষ পর্যন্ত না পড়ে উপায় থাকেনা।

শেষে যখন কাহিনীর প্রতিটা অংশ জোড়া লেগে যায়, তখন সবকিছু স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটাই নারিটা সেন্সেইর বিশেষত্ব।

নারিটা সেন্সেইর নভেল :

বাকানো ! /  Baccano!

ডুরারারা !! /  Durarara!!

ভাম্প ! /  Vamp!

তাঁর লেখা অন্যান্য সিরিজগুলোর ব্যাপারে জানতে-

http://en.wikipedia.org/wiki/Ryohgo_Narita

All Fiction 1- Durarara review

লাইট নভেল রিভিউ –

ডুরারারা / Durarara!!

লেখক : নারিটা রিয়োগো / Ryohgo Narita

জানরা : অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, মিস্টেরি, রোমান্স

ভলিউম : ১৩

সময়কাল : এপ্রিল ১০, ২০০৪ – জানুয়ারি ১১, ২০১৪

স্ট্যাটাস : কমপ্লিটেড

কাহিনীসূত্র :

ডুরারারার পটভূমি টোকিওর ইকেবুকুরো শহরে । ইকেবুকুরো, যেখানে জীবন কোন বিরাম জানেনা, ঘরে-বাহিরে, সড়কে-দপ্তরে, সবখানেই প্রানের জোয়ার বয়ে যায়।

ব্যস্ত এই শহরে রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্থান… বাতাসে নানারকম গুজবের ছড়াছড়ি, মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বিপদের গন্ধ। রয়েছে বিভিন্ন গুন্ডাবাহিনী, তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব… কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় এক শহুরে কিংবদন্তি। এই কিংবদন্তি এক মুণ্ডুবিহীন মোটরবাইকচালকের, যার আপাদমস্তক কুচকুচে কালো রাইডার স্যুটে ঢাকা, এমনকি তার হেডলাইটবিহীন বাইকটিও কালো। এতটাই কালো যে তাতে কোন আলো প্রতিফলিত হয়না।

কাহিনীর শুরু রিউগামিনে মিকাদোকে দিয়ে, যে তার বাল্যবন্ধু কিদা মাসাওমির আমন্ত্রণে ইকেবুকুরোতে আসে, হাইস্কুলে পড়ার জন্য। এবং ধীরে ধীরে সে মিশে যায় ইকেবুকুরোর ব্যস্ত নগরজীবনে, এর অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন ঘটনাক্রমে সে পরিচিত হয় ডুরারারার ক্যারেক্টারদের সাথে।

প্রথমদিকে স্কুললাইফ বেসড মনে হলেও দ্রুতই নভেলটি অ্যাকশন-সাইকোলজিক্যাল-সুপারন্যাচারাল-রোমান্স জানরায় পদার্পণ করে এবং অসাধারণ একটি নভেলে রুপ নেয়।

ক্যারেক্টার :

প্রধান ক্যারেক্টারদের মধ্যে রিউগামিনে মিকাদো, সোনোহারা আনরি, কিদা মাসাওমি, ওরিহারা ইযায়া, হেইওয়াজিমা শিজুও, সেলটি স্টারলুসন, শিনরা কিশিতানি, কাদোতা কিয়োহেই অন্যতম।

ডুরারারার ক্যারেক্টারদের প্রত্যেকেরই রয়েছে মৌলিক কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তাদের বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রাণবন্ত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই জমে উঠেছে ডুরারারার কাহিনী । ইকেবুকুরোর ব্যস্ত জীবনে তাদের কর্মচাঞ্চল্য, ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ডগুলো শেষ পর্যন্ত একসুত্রে গেঁথে যায়, যা নভেলের কাহিনীকে নিয়ে যায় এক অনন্য মাত্রায়।

ডুরারারার প্রথম ৩ ভলিউম মূলত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই । ভলিউম ৪ থেকে আরও বৈচিত্র্যময় নতুন ক্যারেক্টারদের আবির্ভাব ঘটে, আগের ক্যারেক্টারদেরও দারুণ ডেভেলপমেন্ট হয়।

নিজস্ব মতামত :

আর্ট ভালো নয়, ক্যারেক্টার ডিজাইন মোটামোটি। তবে নভেলে আর্টের তেমন একটা প্রভাব নেই। নারিটা সেন্সেইর কাহিনী বর্ণনায় অসাধারণ দক্ষতার কারনে প্রতিটি ভলিউমই একেবারে শেষ পর্যন্ত না পড়ে পারা যায়না। তবে যাদের বই পড়ে অভ্যাস নেই, তারা বিরক্ত বোধ করতে পারেন। কারণ কাহিনীর প্রতিটি অংশ কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত নেই, এক অংশের কাহিনী একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার পর অন্য একটি অংশের কাহিনী শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত না পড়লে প্রতিটি কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, ঘটনাগুলোর সমাপ্তি জানতে পারবেন না। পড়তে শুরু করলে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলবেন, না শেষ করে উঠতে পারবেননা,

এমনটাই মনোমুগ্ধকর ডুরারারার কাহিনীবিন্যাস।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, সুপারন্যাচারাল ক্যারেক্টারদের সাধারণ জীবনযাপন, নিখাদ অ্যাকশন, সাধারণ ক্যারেক্টারদের অসাধারণ কর্মকাণ্ড, কোন অংশেই কম নয় এমন একটি নভেল ডুরারারা।

তাই আমি বলব, দ্রুতই পড়া শুরু করুন। পড়লে পস্তাবেন না, অন্তত এটুকু আশ্বাস দিতে পারি।

কাহিনিসুত্র : ১০

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট : ৯.৭

আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন : ৭.৫

সর্বমোট : ৯.৫/১০

মাইএনিমেলিস্ট রেটিং : ৮.৬৭

All Fiction 1: Claymore Review

মাঙ্গা রিভিউ –

ক্লেমোর / Claymore

মাঙ্গাকা : ইয়াগি নোরিহিরো / Norihiro Yagi

জানরা : অ্যাকশন , ট্র্যাজেডি , সুপারন্যাচারাল , ডার্ক-ফ্যান্টাসি , হরর , ড্রামা

প্রকাশনা : Jump Square (former Monthly Shounen Jump)  

চ্যাপ্টার : ১৫২

স্ট্যাটাস : অনগোয়িং

কাহিনিসুত্র এবং ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট :

মানুষের ভিড়ে লুকিয়ে আছে মনুষ্যরূপী নরখাদক দানব, আর সেই দানব নিধনে বেরিয়ে পড়েছে তলোয়ারধারী এক রমণী। পিঠে বিশাল তলোয়ার, পরনে যুদ্ধের সাজপোশাক, রমণীর রণমূর্তিতে ত্রস্ত জনসাধারণ। কারণ সেই রমণীও যে অর্ধ-দানব, তাই দানবের মোকাবিলা করাও যে তাকেই মানায়। এগিয়ে যায় মানব-দানব সংকর যোদ্ধা, মুখোমুখি হয় নরখাদক বর্বর দানবের। অর্ধ-দানব হলেও মানবজাতির একমাত্র ত্রাতা এই যুদ্ধংদেহী রমণীরাই।

ক্লেমোরের পটভূমি রচিত হয়েছে একটি মধ্যযুগীয় দ্বীপে , যেখানে বসবাস করে “ইয়োমা” নামক এক ধরনের দানব। ইয়োমারা তাদের আকৃতি বদলে মানুষের রুপ ধারন করতে পারে এবং মানুষের মাঝেই বসবাস করে। যার দেহে ইয়োমা বসবাস করে , তার স্মৃতি এবং বিবেক বহন করে বলে ইয়োমারা মানুষের মাঝে সম্পূর্ণরুপে মিশে যেতে পারে , তাদের শনাক্ত করার কোন উপায় থাকেনা। ইয়োমারা মানুষের নাড়িভুঁড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় না খেয়ে থাকতে পারেনা। তাই নাড়িভুঁড়ি খাওয়ার জন্য নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করতে হয় তাদের।

“দ্যা অর্গানাইজেশন” নামক এক রহস্যময় সংগঠন অর্ধ মানব-অর্ধ ইয়োমা নারীযোদ্ধা তৈরি করে। এই যোদ্ধারা অর্থের বিনিময়ে ইয়োমা মারে , সেই অর্থ অর্গানাইজেশন থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এই নারীযোদ্ধাদের বলা হয় “ক্লেমোর” , কারন তারা সবসময় পিঠে ক্লেমোর নামক বড় এবং ভারী তলোয়ার বহন করে এবং এই তলোয়ার দিয়ে ইয়োমা খুন করে। তাদের রুপালি বর্ণের চোখের জন্য লোকে তাদের “রুপালি চোখের ডাইনী” বলেও অভিহিত করে।

ইয়োমাদের মধ্যে একধরনের আসুরিক শক্তি বিদ্যমান , যাকে বলা হয় “ইয়োকি”। এই ইয়োকি তাদের অতিমানবীয় শক্তি এবং আকৃতি বদলের ক্ষমতা প্রদান করে। শুধু ক্লেমোররাই পারে মানুষের রূপধারণকারী ইয়োমাদের শনাক্ত করতে , কারন ইয়োমাদের মত ক্লেমোররাও ইয়োকি বহন করে। তবে ক্লেমোররা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই শক্তি ব্যবহার করতে পারে । এই নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে তারা তাদের মনুষ্যরুপ হারায় এবং “Awakened Being” নামক একধরনের উৎকৃষ্ট ইয়োমায় পরিণত হয়। এই ঘটনাকে বলা হয় “Awakening”।

ক্লেমোররা মানুষের হৃদয়, কিন্তু ইয়োমার শক্তি বহন করে। যখন তাদের মনুষ্যহৃদয় ইয়োমার শক্তি দমিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয় , তখনি তারা সীমা অতিক্রম করে এবং Awakened being এ পরিণত হয়।

নিয়ম রয়েছে যে, যদি কোন ক্লেমোর অর্গানাইজেশন পরিত্যাগ করে অথবা মানুষ খুন করে, অথবা Awakened Being এ পরিণত হয় , তবে অন্য ক্লেমোররা তাকে অবশ্যই মেরে ফেলবে।

ক্লেমোর মাঙ্গার দ্বীপটি ৪৭টি অঞ্চলে বিভক্ত। প্রত্যেকটি অঞ্চল অর্গানাইজেশনের একজন ক্লেমোরের দায়িত্বাধিন। মোটমাট ৪৭ জন ক্লেমোর তাদের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে পদমর্যাদা পেয়ে থাকে , তাদের পদমর্যাদা দিয়েই তাদের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

ক্লেমোর মাঙ্গার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অসাধারণ। মাঙ্গাটির কাহিনী শুরু হয় অর্গানাইজেশনের সবচেয়ে দুর্বল/নিম্ন পদমর্যাদার ক্লেমোর ক্লেয়ারের একটি ইয়োমা শিকারের মধ্য দিয়ে । ধীরে ধীরে জানা যায় ক্লেয়ারের হৃদয়বিদারক অতীত, তার বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য, ক্লেমোর হয়ে ওঠার মুল কারণ। সময়ের সাথে সাথে ক্লেয়ারের বেশ কিছু বন্ধু হয়, মরণপণ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা হয়। ক্যারেক্টাররা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে , নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে , নতুন রহস্যের সম্মুখীন হয়।

এক পর্যায়ে জানা যায় অর্গানাইজেশনের আসল পরিচয়, ইয়োমা উৎপত্তির রহস্য এবং আরও অনেক উত্তেজনাকর তথ্য। সবচেয়ে শক্তিশালী Awakened being – “The Abbysal Ones” এবং তাদের চেয়েও শক্তিশালী , প্রিসিলা… এদেরকে ঘিরেই বাড়তে থাকে উত্তেজনা।

প্রথমদিকে মাঙ্গাটিকে সাধারণ অ্যাকশন-সুপারন্যাচারাল মাঙ্গা মনে হলেও ধীরে ধীরে তা পাঠকের আগ্রহ বাড়াতে থাকবে। মাঙ্গাটির আসল আকর্ষণ এর মারমার-কাটকাট ব্যাটলের দৃশ্য এবং হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। সব ব্যাটলই “Survival of the fittest” এর নিদর্শন । মাঙ্গাটিতে প্রচুর রক্তপাত ও মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে , কিন্তু তা এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লেমোর মাঙ্গায় প্রচুর রিয়াল সোর্ডফাইটিং স্কিল ব্যবহৃত হয়েছে , সোর্ডফাইটিং টেকনিকগুলো বাস্তবে ব্যবহৃত হত একসময়।

তাই যারা সোর্ডফাইটিং এনিমে/মাঙ্গা পছন্দ করেন , তাদের জন্য ক্লেমোর মাঙ্গা বেশি রিকমেনডেড।

আর্ট :

ক্লেমোর মাঙ্গার আর্ট এর কাহিনীর মতই অসাধারণ। সব অ্যাকশন দৃশ্যই সুনিপুণভাবে আঁকা এবং স্পষ্ট । ক্লেমোরের দৃষ্টিনন্দন ব্যাকগ্রাউনড এর অন্যতম আকর্ষণ , কিছু কিছু জায়গায় ফটোগ্রাফিক স্কেচ মনে হবে , এতোটাই পারফেক্ট।

প্রথম দৃষ্টিতে ক্যারেক্টার ডিজাইন তেমন একটা চোখে লাগবেনা । কারো কারো কাছে খারাপ লাগতেও পারে , কিন্তু আমি আশ্বাস দিচ্ছি , ক্লেমোরের ক্যারেক্টার ডিজাইন আসলে খুবই ভালো।

সব ক্লেমোরেরই চুল এবং চোখ রুপালী , তাদের পোশাকও এক-অর্গানাইজেশন থেকে সরবরাহকৃত আর্মার। এইসব বাধ্যবাধকতা নিয়ে, চেহারা-হেয়ারস্টাইলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পার্থক্য রেখে এতগুলা ক্লেমোর ক্যারেক্টার আঁকা, এবং এতগুলো চ্যাপ্টারে তা অবিকৃতভাবে বজায় রাখার প্রায় অসম্ভব কাজটাই করেছেন মাঙ্গাকা ইয়াগি নোরিহিরো সেন্সেই। কাহিনীসূত্রানুসারে মাঙ্গায় যথেষ্ট রক্তপাত থাকলেও নোরিহিরো সেন্সেই অসাধারণ স্পষ্ট আর্টের দ্বারা গোরকে(Gore) শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

কেন পড়বেন :

চরম উত্তেজনাকর সোর্ডফাইটিং , ধুমধাড়াক্কা অ্যাকশন , দৃষ্টিনন্দন আর্ট এবং মনোমুগ্ধকর কাহিনী…

আমার মতে, ক্লেমোরের স্টোরিলাইন অনেক জনপ্রিয় নভেলের চেয়েও ভালো , তাই দেরি না করে পড়া শুরু করুন।

যথেষ্ট আন্ডাররেটেড , না পড়লে পস্তাবেন।

আমার রেটিং :–

স্টোরিলাইন: ১০

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট: ১০

ক্যারেক্টার ডিজাইন: ৯.৮

আর্ট: ৯.৮

ওভারঅল: ১০/১০

মাইএনিমেলিস্ট রেটিং : ৮.৪৪