Animekhor top-chart 2013 – Best Opening Theme – Guren no Yumiya (Shingeki no Kyojin)

২০১৩ সাল যেন Shingeki no Kyojin-এ মাতাল হওয়া এক বছর। আর সবাইকে মাতিয়ে রাখার জন্যে এই আনিমের যেসব দিক সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, তার একটি হল এর প্রথম ওপেনিং ট্র্যাক Guren no Yumiya। Linked Horizon-এর পারফর্ম করা এই ট্র্যাকটি এবারের এনিমখোর বেস্ট ওপেনিং সং (২০১৩) পোলে ৩৫.৭১% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা Psycho-Pass এর ওপেনিং সং Abnormalizeকে (১৬.০৭% ভোট) বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে।

দেড় মিনিটের এই ওপেনিং ট্র্যাকটির জনপ্রিয়তা বুঝিয়ে উঠানো সহজ নয়। একটি সুন্দর উদাহরণ হল, Shingeki no Kyojin-এর ওপেনিং ট্র্যাক হিসাবে দর্শকদের কানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই ইউটিউবে এই গানের বিভিন্ন জনের পারফর্ম করা কভার আপলোডের হিড়িক উঠে যায়। গানটির লিরিক্সে পুরো আনিমে সিরিজটির আবহ ফুটিয়ে তুলা হয়েছে। অসম্ভবকে সম্ভব করে জয় ছিনিয়ে আনার মানসিকতা প্রকাশের লিরিক্স এবং সাহস জাগানোর সুর ও ছন্দ পুরো গানটিকে সবার পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে তুলে আনে। যারা আনিমে সিরিজটি খুবই পছন্দ করে তাদেরকে তো বটেই, এমনকি যারা এই সিরিজটিকে তেমন পছন্দ করে না, তাদেরকেও গানটির তালে তালে মাথা দুলাতে দেখা গিয়েছে!  

আনিমে সিরিজ শেষ হবার বেশ কিছুদিন আগেই Linked Horizon তাদের এই গানের ফুল ভার্শন রিলিজ দেয়, এবং আবারও গানটি নিয়ে একটি ক্রেজ ছড়িয়ে পরতে দেখা যায় সবার মধ্যে।গানটি এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠে, এই গানের সুরে অন্যান্য অনেক আনিমের AMV তৈরির প্রতিযোগিতা দেখা যায় অনলাইনে। এমনকি বিভিন্ন দেশের সিনেমার নাচের অংশে এই গানের সুর ঢুকিয়ে AMV তৈরিও হয় বেশ কিছু!

২০১৩ সালটি দেখেছে বেশ কিছু দুর্দান্ত ওপেনিং সং। Psycho-Pass এর Abnormalize, Log Horizon-এর Database, Amnesia-এর Zoetrope, এমনকি Shingeki no Kyojin-এরই আরেক ওপেনিং সং Jiyuu no Tsubasa। তবে সব কিছু ছাপিয়ে দাপটের সঙ্গে প্রথম স্থানটি দখল করে নেয় আনিমে দর্শক এবং আনিমে দেখে না এমন সব মানুষের কাছেও বিখ্যাত হয়ে উঠা Guren no Yumiya গানটি। অভিনন্দন Linked Horizon ও Team Shingeki no Kyojinকে!

https://www.youtube.com/watch?v=kKzum5xCGjQ

Shingeki.no.Kyojin.full.1474341

Animekhor top-chart 2013 – Best Ending Theme – Namae no nai Kaibutsu (Psycho-Pass)

২০১৩ এর বেস্ট এন্ডিং সং এর পোলে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ৯.২৮% ভোট পাওয়া Kill la Kill-এর Gomen ne, Iiko ja Irarenai, তৃতীয় অবস্থানে ছিল ৮.২৫% করে ভোট পাওয়া Psycho-Pass এর All Alone With You, Shingeki no Kyojin-এর Great Escape এবং Machine-Doll wa Kizutsukanai এর Maware! Setsugetsuka। বেশ তুলুম জনপ্রিয় এসমস্ত এন্ডিং সং-এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইও দেখা গিয়েছে, তবে তা যেন শুধুই দ্বিতীয় বা তৃতীয় অবস্থানের জন্যে। ১৬.৪৯% ভোট পেয়ে বেশ কঠিন এই প্রতিযোগিতা বেশ সহজেই জিতে গিয়েছে বছরের অন্যতম সেরা আনিমে Psycho-Pass এর প্রথম এন্ডিং সং, EGOIST এর পারফর্ম করা গান Namae no nai Kaibutsu!

সাই-ফাই একশন ধাঁচের এই আনিমে সিরিজটির জন্যে Namae no nai Kaibutsu ছিল আদর্শ এক এন্ডিং সং। মনের অব্যক্ত অনুভূতি, যা বলতে চেয়েও বলতে পারা না পারা, ত্যাগ স্বীকার করেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া – এমন মিশ্র অনুভূতি গানে প্রকাশ করার জন্যে একটি আদর্শ সিদ্ধান্ত ছিল Supercell ব্যান্ডের সংরাইটার Ryo এবং ভোকালিস্ট Chelly -এর সমন্বয় গড়ে উঠা duo EGOIST।

সুন্দর লিরিক্স, সেই সাথে মন ছুঁয়ে যাওয়া সুর, দুটির অদ্ভুত সুন্দর মিশ্রণ ছিল Namae no nai Kaibutsu নামক গানটি। অন্য সব জনপ্রিয় গানের মতই এই গানেরও অসংখ্য cover ভার্শন নেটে ছড়িয়ে আছে অনেক।

অনেক জনপ্রিয় এবং catchy কিছু গান ছিল এবারের বেস্ট এন্ডিং সং-এর পোলের লিস্টে। আর এসকল গান পিছে ফেলে ২০১৩ সালে এনিমখোর মেম্বারদের ভোটে জিতে যায় Namae no nai Kaibutsu নামক গানটি।অভিনন্দন EGOIST এবং Team Psycho-Passকে!  

www.youtube.com/watch?v=gyJCjbXzcKc‎

 

Animekhor top-chart 2013 – Best soundtrack – Shingeki no Kyojin

বীরের বেশে জয় বোধহয় এটাকেই বলে! Shingeki no Kyojin প্রথম হয়েছে ৫০ ভোট পেয়ে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে Kill la Kill এবং Psycho-Pass উভয়ে পেয়ছে ৭টি করে ভোট!মোট ভোটের ৭১%-এরও বেশি ভোট পেয়ে জিতে যাওয়া এটাই বুঝিয়েছে যে Shingeki no Kyojin এবার শুধু আনিমে হিসেবেই নয়, এর সাউন্ডট্র্যাকও এ বছরের সব আনিমের সাউন্ডট্র্যাককে ছাপিয়ে অন্য উচ্চতায় উঠে গিয়েছে!

রক্ত গরম করা ওপেনিং ট্র্যাক Guren no Yumiya এবার এতটাই মাতিয়ে রেখেছিল সবাইকে, পুরা সিরিজের যে কয়টি পর্বে এই ট্র্যাক ওপেনিং হিসেবে ছিল, সেসব কয়টি এপিসোড দেখবার সময় প্রায় অধিকাংশ দর্শকই ওপেনিং ট্র্যাক স্কিপ না করেই পুরা এপিসোড দেখেছে!!! আনিমের ইতিহাসে খুব কম আনিমের ওপেনিং-ই এরকম ছাপ রাখতে পেরেছে দর্শকের মনে। Guren no Yumiya-এর সাফল্যের হাত ধরেই আসে দ্বিতীয় ওপেনিং ট্র্যাক Jiyuu no Tsubasa, এ বছরের আরেকটি বিখ্যাত ওপেনিং ট্র্যাক।

 

শুধু ওপেনিং ট্র্যাকই নয়, এই সিরিজের দুটি এন্ডিং Utsukushiki Zankoku na Sekai ও Great Escapeও এবার অসাধারণ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এনিমখোরের অন্যান্য পোলগুলিতে ওপেনিং এবং এন্ডিং ট্র্যাকে এই ৪টি গানের প্রত্যেকটির পাওয়া ভোট দেখলেই বলে দেওয়া যায় দর্শকদের শুধু নির্মম রক্তাক্ত উত্তেজনাই উপহার দেই নি Shingeki no Kyojin, দিয়েছে মন ছুঁয়ে দেওয়া কিছু মারাত্মক সুন্দর কিছু গানও!

Shingeki no Kyojinএর এবার দুটি OST Album এসেছে, প্রথম এলবামে ছিল ১৬টি ট্র্যাক, দ্বিতীয়টিতে ছিল ১১টি, যার অধিকাংশই প্রথম এলবামের রিমিক্সড ভার্শন। প্রথম এলবামে Bauklotze -এর মতন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গান ছিল, তেমনই ছিল টাইটানদের সামনে এনে দেবার মত মনে ভয় জাগানিয়া ট্র্যাক XL-TT। চোখে পানি এনে দেওয়ার মত ট্র্যাক Vogel im Kafig যেমন ছিল, আবার ছিল বুকে সাহস এনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরার মন্ত্র দেওয়া ট্র্যাক Rittai Kidou কিংবা Counter Attack Mankind। ছিল DOA, The Reluctant Heroes ও Call Your Name নামের আরও তিনটি গান, যা শুনে শ্রোতার মনে হবে তিনি এখন টাইটানদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন নিজের কোন এক বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে, পাশে আছে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্যে লেভি আর মিকাসা, আছে টাইটানফর্মে থাকা এরেন ও বুদ্ধি বাতলে দেওয়া আরমিন!!!

 

আরও একটি ট্র্যাকের কথা না বললেই নয়, মোট ২৭টি ট্র্যাকের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ট্র্যাক Attack on Titan, পুরো আনিমে সিরিজের প্রায় সব পর্ব মাতিয়ে রাখা এই ট্র্যাক শেষ পর্বে এসে এক বিশেষ মুহুর্তে এমন সময়ে বেজে উঠে যা শুনে রীতিমত লাফিয়ে উঠতে হয় উত্তেজনায়!  

মনের অবস্থা যাই থাকুক না কেন, শ্রোতাকে মুহুর্তেই টাইটানদের সাথে যুদ্ধের জন্যে কল্পনায় আনিমে জগতে নিয়ে যেতে সক্ষম Shingeki no Kyojinএর সব ট্র্যাকগুলি।আর শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁতে পারার এমন সাফল্যই এনে দিয়েছে এবছরের সেরা সাউন্ডট্র্যাক-এর খেতাব জিতে নিতে পারার সৌভাগ্য!

ধন্যবাদ Sawano Hiroyukiকে এমন দুর্দান্ত সব ট্র্যাক উপহার দেবার জন্যে! ধন্যবাদ Mika Kobayashi, Yoko Hikasa ও Cyuaকে, কয়েকটি মন ছুঁয়া গান আমাদেরকে উপভোগ করতে দেবার জন্যে! ধন্যবাদ Linked Horizon, mpi & CASG, Cinema Staff, Aimee Blackshlegerকে, পুরো বছর তাদের ট্র্যাক দিয়ে আমাদের মাতিয়ে তুলবার জন্যে!ধন্যবাদ Team Shingeki no Kyojinকে!  

Shingeki.no.Kyojin.full.1474341

 

Animekhor top-chart 2013 – Best Anime – Shingeki no Kyojin

২০১৩ সালের সেরা আনিমে ক্যাটাগরির বাকি সব আনিমে গুলার তুলনায় বিপুল পরিমান বেশি ভোট পেয়ে অনেক টা বাকিগুলাকে উড়িয়ে দিয়ে সেরা আনিমে নির্বাচিত হয়েছে শিঙ্গেকি নো কিওজিন (Attack on Titan)

শোনেন জেনারের আনিমে গুলার প্রতি এমনিতেই দর্শকের আকর্ষণ একটু বেশি থাকে । তার উপর শোনেন জেনারের সকল ধরনের মশলা এখানে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন উপায়ে উপস্থাপনা করা হয়েছে। ফলে এটা রিলিজের শুরু থেকেই দর্শক টানতে পেরেছে এবং শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে সক্ষমও হয়েছে।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা,অসাধারণ ফাইট,অ্যাডভেঞ্চার,রোমাঞ্চকর কাহিনী; দর্শকদের আকৃষ্ট করতে যা যা দরকার সবই আছে এর মধ্যে। এটার শুরুই হয়েছে বিশাল এক ধামাকা দিয়ে।মানব্জাতির উপর টাইটানদের হামলা।এরপর ধীরে ধীরে কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে খানিক টা এইভাবে;টাইটানদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন,এক পর্যায়ে মেইন প্রোটাগোনিস্টের নিজেরই টাইটান হয়ে যাওয়া এবং সাথে অনেক অনেক চমক দিয়ে।এই আনিমের অ্যাকশনও ছিল পুরাই চোখ ধাঁধানো।একটু ভিন্ন টাইপের অ্যাকশনই আনিমের টার সবথেকে বেস্ট পার্ট বলা যেতে পারে। থ্রি ডি গিয়ারের সাহায্যে ধারালো ব্লেডের সাহায্যে মানুষের টাইটানদের সাথে ফাইটই হোক কিনবা টাইটানের সাথে টাইটানের ফাইটই হোক সবই এক কথায় অসাধারণ।তাই এই বছরের সেরা আনিমে হিসেবে শিঙ্গেকি নো কিওজিনের জয় তা খানিক টা আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল বলা যেতে পারে।

Shingeki.no.Kyojin.full.1474341

 

“একজন এনিমখোরের জন্য ওয়ান পিসই যথেষ্ট” – Shafiul Munir

আপনার মন খারাপ, কোন কিছু ভালো লাগছে না? কনকনে ঠান্ডায় সমস্ত কাজের আগ্রহ হারিয়ে জমে বসে আছেন? বর্ষার বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় প্রকৃতির নিরন্তর অবরোধে আটকা পড়েছেন? অথবা খুব খুশিতে গদমদ হয়ে আছেন আকস্মিক সাফল্যের আতিশয্যে? যেমন থাকুন, যেখানে থাকুন, কোন কাজ না পেলে, কিংবা কোন কাজ করতে ইচ্ছা না করলে, বোরড ফিল করলে কোনরকম চিন্তা-ভাবনা না করে ‘ওয়ান পিস’ দেখতে বসুন। 

আপনার মন খারাপ থাকলে ভালো হয়ে যাবে, ভালো থাকলে আরো ভালো হবে, আর দূর্দান্ত সময় কাটবে সেটা ত বলার আপেক্ষাই রাখে না।

আপনি হাসবেন প্রাণখুলে, চিৎকার করবেন মনের আনন্দে, কখনো চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়বে জল মনের অজান্তে, নিতান্ত অনীহা থাকলেও, প্রতিটা পর্বের সাথে ভাসতে থাকবেন অদ্ভুত স্বপ্নময়তায়, বাস্তব থেকে চলে যাবেন অনেক দূরে মনের দোলনার সর্বোচ্চ বিস্তারে।

একটুও যে বাড়িয়ে বলি নি সেটা সবাই জানেন, কারণ, এই এনিমে কম বেশি সবাই দেখেছেন, সম্ভবত একাধিকবার, আর যারা দেখেন নি তারাও অপেক্ষায় আছেন উপযুক্ত সময়ের। তাই এই লেখার খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। তবু নিজেকে আটকে রাখতে পারি নি।

হঠাৎ হার্ডডিস্কের এক কোণে আবিষ্কার করলাম ওয়ান পিসের প্রথমদিককার কিছু পর্ব, কুরো, ডন ক্রেইগ, আরলং আর লগটাউন আরো কিছু। তিনদিন-দুই রাত কিভাবে চলে গেল বুঝতেই পারলাম না, হেসেছি, কেঁদেছি আর একটা মুহূর্তেও ল্যাপটপের পর্দা থেকে চোখ সরাতে পারিনি নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া।

আইএমডিবির হায়েস্ট রেটেড মুভিটির কথা বলবেন? সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালের কথা বলবেন? অসাধারণ কোন গল্প-উপন্যাসের কথা বলবেন? আমার মনে হয়, একজন এনিমখোরের জন্য ওয়ান পিসই যথেষ্ট।

Kara no Kyoukai রিভিউ by Fahim bin selim

1

 

অ্যানিমে রিভিউ – কারা নো কিওকাই/ গার্ডেন অফ সিনারস/ বাউন্ডারি অফ এম্টিনেস [Kara no Kyoukai/ Garden of Sinners/ Boundary of Emptiness]
হেপ্টালজি
প্রচারকালঃ ২০০৭-২০০৯
প্রযোজকঃ ইউফোটেবল
জনরাঃ [বেস] অ্যাকশন, অতিপ্রাকৃত, রহস্য, রোমাঞ্চ [পর্বভেদে] রোমান্স, ম্যাজিক

// কাহিনী সনক্ষেপঃ হাই স্কুলের এক বরফস্নাত দিনে কিমোনো পরা এক মেয়ে, অ্যান্টিসোসাল ও রহস্যময়, শিকি রিয়োগির প্রতি আকর্ষন জন্মালো মিকিয়া কোউকোর। যতই তার কাছে আসতে থাকল, ততই সে বুঝতে পারল শহরে ঘটে যাওয়া একের পর এক হত্যাকান্ড আর অতিপ্রাকৃত জিনিসের সাথে শিকি জড়িয়ে আছে বেশ ঘনিষ্টভাবে। রহস্যের সমাধানের যখন খুব কাছে মিকিয়া তখনই আবার এক দূর্ঘটনায় মারাত্নকভাবে আহত হল শিকি।
দুই বছর পর যখন কোমার থেকে ফিরল, তখন সে হারিয়ে ফেলেছে আগের সব স্বৃতি। একত্র হল মিকিয়ার সাথে মেইজ তোউকো আওজাকির গোয়েন্দা সংস্থা, গারান নো দৌ বা হলো’ স্রাইনে। শহরে ঘটে যাওয়া সব অতিপ্রাকৃত হত্যার রহস্য সমাধান আর একই সাথে নিজের হারানো অতীত ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় নামল শিকি রিয়োগি।

// কেন ভালো লাগবেঃ কারা নো কিয়োকাই অ্যানিমের কাহিনী “নাসু কিনোকো”-র “কারা নো কিয়োকাই” উপন্যাস সিরিজ অবলম্বনে রচিত। আর উপন্যাস হওয়ার কারণে এর কাহিনী বেশ সুদৃঢ়। অ্যানিমের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে টাইপমুনের “নাসুভার্স”-এ, যাকে বলা যায় একই লেখকের “সুকিহিমে” অ্যানিমের প্যারালাল ইউনিভার্স(দুই অ্যানিমের চরিত্রদের মধ্যেও আছে অনেক মিল! বিশেষ করে কারা নো কিয়োকাইয়ের শিকি রিয়োগি এবং সুকিহিমের শিকি তোহনোর মধ্যে; শুধু নামই না, তারা একই শক্তির অধিকারীও)! জাদু ও বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তির ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে টাইপ মুনের অন্যান্য অ্যানিমের সাথেও(ফেইট/স্টে নাইট, ফেইট/জিরো)।

কারা নো কিয়োকাই এর টাইমলাইন কিছুটা…না, বেশ অগোছালো। বাইরে থেকে দেখলে অসংযুক্ত কিন্তু একই সাথে সুনিপণভাবে নির্মিত[Disjointed but tightly-constructed]! আবার চরিত্রগুলোর মাঝেও এই বৈপরিত্য লক্ষনীয়। ব্যাপারটা খোলাশা করা যাক। মুল কাহিনী বিস্তৃত ১৯৯৫ সালের আগসষ্ট থেকে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম মুভি “ওভারলুকিং ভিউ”-এর কাহিনী ১৯৯৮ সালের। শেষ দুইটি মুভি বাদে কোন পরপর দুইটি মুভি-ই টাইমলাইনে ক্রনোলজিকাল না!

চারটি মুভি ভালোভাবে মুল কাহিনীর অংশ। বাকি তিনটি প্রথমে কিছুটা স্পিন-অফ ধাঁচের মনে হলেও শেষের দিকে কোন না কোন ভাবে মুল কাহিনীর সাথে যুক্ত। আর এই পর্বগুলোতে, রহস্য অ্যানিমে হিসেবে, খুব দ্রুত কালপ্রিটকে দেখিয়ে দেওয়ায় “রহস্য”-টা খুবই ক্ষনস্থায়ী হয়, যা আমার নিজের ব্যাক্তিগতভাবে কিছুটা খারাপ লেগেছে। কিন্তু মুল কাহিনীর রহস্যের ক্ষেত্রে আবার একেবারে শেষ পর্বের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার কাজটা অসাধারণ ভাবে করা হয়েছে।

কাহিনীর পেসিং অধিকাংশ অ্যানিমের মুভির মতই। প্রথম বিল্ড-আপ কিছুটা স্লো আর শেষের দিকে অসাধারণ সব ফাস্ট-পেসড অ্যাকশন! আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো এই অ্যানিমের আরেকটি শক্তিশালী দিক।
এর চরিত্রগুলো বিশেষভাবে বলার মত। সুনদেরে-ইশ অ্যাকশন হিরোইন হিসেবে শিকি আর শান্ত, ধিরস্থির এবং অসাধারণ নথি সংগ্রহের ক্ষমতাসম্পন্ন মিকিয়াকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই। সাথে আছে তোউকো আওজাকি, ভিলেন আরায়া সৌরেন। আর “প্যারাডক্স স্পাইরাল”-এ তোমোয়ে এনজোর ক্যামিও গল্পকে আরো শক্তিশালী করেছে।

3

আর যেকোনো আধুনিক অ্যানিমে মুভির মতই এর অ্যানিমেশনের মান বেশ উচ্চস্থানীয়। বিশেষ করে দেয়াল, মেঝে, নদীর পানি অথবা পিচের রাস্তায় জমে থাকা পানির উপর বৃষ্টি পরার দৃশ্যগুলোর(এই অ্যানিমেতে অনেক বৃষ্টি হয়। অনেক।) অ্যানিমেশন প্রায় “কোতোনোহা নো নিওয়া” পর্যায়ের, প্রায়।
ভিজুয়ালাইজেশনের দিক থেকে আবার “পাপরিকা”-র সাথে তুলনা দেওয়া যায়। “প্যারাডক্স স্পাইরাল” – ফিলোসফি, সিম্বলজিমের সাথে এই ভিজুয়াইলাইজেশনের সমন্বয় চোখ জুড়ানো এক সৌন্দর্য উপহার দিবে। আলোছায়ার খেলা, রঙের পরিবর্তন, ক্যামেরার অবস্থান আর ফোকাসিং যেকোনো মাস্টারপিচ লাইভ অ্যাকশন মুভির সাথে তুলনীয়!

আর বাকি থাকল মিউজিক। সাতটি মুভির শেষে সাতটি আলাদা আলাদা এন্ডিং সং, সবগুলোই “কালাফিনা”-র গাওয়া। এবং সবগুলোই অ্যানিমের ডার্ক থিম বজায় রাখতে অবদান রেখেছে। আর অ্যানিমের অভ্যন্তরীন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে, আলাদা ভাবে বলার মত।

// কেন ভালো নাও লাগতে পারেঃ
টাইপ মুনে ইউনিভার্স আর এর প্লট ডিভাইস সম্পর্কে একেবারেই ধারণা না থাকলে কাহিনী ভালোভাবে বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে, এক্ষেত্রে উইকিপিডিয়া বা টাইপমুন উইকিয়ার সাহায্য নিতে পারেন।
কাহিনীর অগোছালোতা। একেবারে শেষ পর্যন্ত না দেখলে সম্পুর্ন কাহিনী কিছুই বুঝবেন না। তাই পুরো সাতটি মুভি ব্যাপী মনযোগ ধরে রাখা জরুরী। এটা একটা জিগস পাজলের মত। পুরোটা সাজাতে হলে মাথা খাটানো প্রয়োজন। প্যারাডক্স স্পাইরালে আবার ফিলোসফিকাল আর সিম্বোলিজমের ছড়াছড়ি।

গোর। সাইকো থ্রিলার, খুনাখুনি নিয়ে কাহিনী বলে গোর দৃশ্যের সংখ্যা অত্যাধিক। অধিকাংশ সেইনেন মুভির মতই কয়েকটি পর্বে আছে একপ্লিসিট ম্যাচুর দৃশ্য আর কাহিনী একটি জায়াগায় আপত্তিকর জিনিস আছে।
তাই ক্লান্ত দিনের শেষে, গা এলিয়ে দিয়ে, হাসিতে গড়াগড়ি খেয়ে, মন ভালো করার মত কোন অ্যানিমে দেখতে যদি চান, তবে এটি আপনার জন্য না।

// কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যান্সাইজঃ
১। ওভারলুকিং ভিউ
২। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার প্রথম অংশ
৩। রিমেইনিং সেন্স অফ পেইন
৪। হলো’ স্রাইন
৫। প্যারাডক্স স্পাইরাল
৬। অবলিভিওন রেকর্ডার – ফেইরী টেল
৭। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার দ্বিতীয় অংশ
+৮। কারা নো কিয়োকাই এপিলোগ [এইটা এখনো দেখি নাই]
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং(যথাক্রমে)ঃ ৭.৯৭ । ৮.১৭ । ৮.৩৫ । ৮.১৯ । ৮.৭৫ । ৭.৯৪ । ৮.৬৬ । ৭.৩৪

// আমার রেটিংঃ
কাহিনী(যথাক্রমে)ঃ ৭ । ৮ । ৭ । ৭ । ৯ । ৭ । ১০ । n/a
মিউজিকঃ ১০
আনিমেশন/ আর্ট/ দৃশ্যায়নঃ ১০
পরিচালনাঃ ৯
চরিত্রঃ ৯
সমাপ্তিঃ ৯
ইনট্রিগঃ ৯
সর্বমোটঃ ৯.১২

2

কিমি তো বকু by Torsha Fariha

1511888_721449834533830_348125133_o

 

জানরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ।
সিজনঃ ২ (প্রতি সিজনে ১৩ টা করে মোট ২৬ টা এপিসোড)

কিমি তো বকু অ্যানিমেটা আবর্তিত হতে থাকে পাঁচ জন হাইস্কুল পড়ুয়া ছেলেকে কেন্দ্র করে। স্লাইস অফ লাইফ দেখে বোঝাই যাচ্ছে দৈনন্দিন হাই স্কুল জীবন নিয়েই এর কাহিনী।
এই পাঁচ ছেলে হচ্ছে- শুন, কানামে, চিজুরু আর ইউতা-ইউকি টুইন। পাঁচ জন পাঁচ রকম পার্সোনালিটির।

শুন হচ্ছে খুব ভালো একটা ছেলে। ভদ্র, বিনয়ী। যার প্রেমে ২-১ টা এপিসোড পরেই পড়ে মাসাকি নামের একটা সুনদেরে মেয়ে। কানামে হচ্ছে ক্লাস রিপ্রেসেন্টেটিভ। সিরিয়াস টাইপের এক ছেলে।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার হচ্ছে ইউকি- ইউতা টুইন। হ্যান্ডসাম, কুল। তাদের সেন্স অফ হিউমার সেইরকম। গম্ভীর মুখে তারা এমন সব পচানি কানামেকে দেয় যে পুরাই হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে আসে।

একমাত্র চিজুরু বাদে সবাই সেই এলিমেন্টারি স্কুল থেকে একজন আরেকজনকে চিনত। চিজুরু হচ্ছে খুব হাসিখুশি একটু ইডিয়ট টাইপের ছেলে। হাফ জাপানিজ ট্রান্সফার স্টুডেন্ট।
পাঁচ জন পাঁচ রকম ক্যারেক্টারের পরও তারা খুব চমৎকার একটা সার্কেল হয়ে যায়।এক সাথে হ্যাং আউট কিংবা বাসায় একসাথে আড্ডা দেয়া, মেলায় একসাথে যাওয়া, প্রেম-বিরহ, ছোট্ট বেলার ক্রাশ- সব মিলিয়ে হাইস্কুল ছেলেদের যা থাকে সবই এদের আছে।

আমাদের জীবণ স্লো পেসে চলে তেমনি এদের গল্পও খুব স্লো পেসে স্বচ্ছন্দে চলে। তাই বলে একদমই বিরক্তিকর না। এক এপিসোড দেখলে পরেরটা অবশ্যই দেখতে মন চাইবে। যারা অনেক দিন ধরে অ্যাকশন, হরর, সাইকো থ্রিলার দেখছেন তাদের জন্য এটা হতে পারে চমৎকার একটা রিফ্রেশমেন্ট।

খুব সাধারণ কিন্তু কেন যেন মনে খুব অসাধারণ একটা ইম্প্রেশন রেখে যায় অ্যানিমেটা। হতে পারে কারণটা চিজিরুর ওয়ান সাইডেড ক্রাশ কিংবা খুব ছোট ছোট অনুভূতির জন্য যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না…

সবচেয়ে সুন্দর যে জিনসটা যেটা হল এই অ্যানিমেতে খুব নরমাল একটা দৃশ্য অথবা কনভার্সেশন -এর মাঝেই হুট করে অন্য রকম স্বপ্নের মত সুন্দর কিছু দৃশ্য দেখায়। আমি এরকমটা কখনো দেখি নি তাই প্রথমবারের মত দেখে খুব চমকে গিয়েছিলাম। বলা যায় এই ছোট্ট একটা কারণেই খুব স্পেশাল হয়ে আছে অ্যানিমেটা আমার কাছে।

হাইস্কুল লাইফের কথা শুনলেই আমাদের মনে কিছু জেনারালাইজড চিন্তা মাথায়

আসে। অনেকে বলেই দিতে পারে কি কি থাকতে পারে এইসব অ্যানিমেতে। মানছি সেগুলর সবই আছে এখানে কিন্তু তারপরেও এটা অসাধারণ। একবার দেখে ফেললে সেটা আপনিও বুঝতে পারবেন।

 

1498972_721450547867092_450171162_o

মাঙ্গা- ওয়াতাশিতাচি নো শিয়াওয়াসে না জিকান/ Watashitachi no Shiawase na Jikan রিভিউ by Asfina Hassan Juicy

(Our Happy Hours/Our Happy Time)
ভলিউম- ১টি (৮ চ্যাপ্টার- মাত্র !!)
জেনরা- স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স, সেইনেন, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা

রোমান্স মাঙ্গা পড়তে গেলেই বেশিরভাগ সময় মাথায় প্রথম যে ধারণা আসে তা হল স্কুল সেটিং-য়ে একটা একটু অন্যরকম মেয়ে আর বেশ সুদর্শন একটা ছেলের ভালোবাসার কাহিনি।তবে রোমান্স জেনরারই এই মাঙ্গা আপনাকে নিয়ে যাবে এর থেকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে…বাস্তবতার অনেক কাছে কিন্তু অনেক গভীরে…উপলব্ধি করাবে জীবনের কিছু পরম সত্য, কিছু নিষ্ঠুর দিক ও কিছু সুন্দর আশাপূর্ণ মুহূর্ত…

মুতোউ জুরি একজন মাঝবয়সী ফর্মার পিয়ানিস্ট যিনি ৩ বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। জুরির মা তার কন্যার এরূপ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তাকে তার আন্টি মনিকার তত্ত্বাবধানে রেখে আসেন, যিনি একজন চার্চের পাদ্রী। আন্টি মনিকার সাথে জুরি আগে থেকেই পরিচিত এবং বলা যায় তিনিই জুরির সবচেয়ে আপনজন, এমনকি তার নিজের মা থেকেও। আন্টি মনিকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মানসিক সাহায্য করত। জীবনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য জুরিকে তিনি তার সাথে জেলে নিয়ে যান তেমনি এক আসামীর সাথে দেখা করতে। সেখানে জুরি পরিচিত হয় ইয়ু নামের সেই আসামীর সাথে যে তিনজন মানুষকে একবারে খুন করেছে এবং তার দন্ডের দিনগোনার সময় আবার বেশ কয়েকবার নিজেকেই খুন করতে চেষ্টা করেছে ! কি ধরনের নিষ্ঠুরতা জুরি আর ইয়ুকে ফেলে দিয়েছে এমন আশাহীন কষ্টকর জীবনে? কি তাদের পেছনের কাহিনী? এবং কিভাবে তারা রক্ষা পাবে পৃথিবীর এই ঘৃণা ও কষ্টের বেড়াজাল থেকে?

ডার্ক থিমের হলেও মাঙ্গাটির প্রতিটি চ্যাপ্টার রিফ্রেশিং ! সবার জীবনেই এক ধরনের কষ্ট, না পাওয়া থেকে থাকে কিন্তু আবার সবার জীবনেই থাকে একটু সুখ। স্বল্পক্ষণের জন্য হলেও প্রত্যেকের জীবনেই আসে একটু আশা, একটু ভালোবাসা, একটু মুক্তি। কষ্টের জন্য জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি ঘৃণা থেকে মুক্তি দিতে পারে সামান্য এসব জিনিসই। মাত্র ৮ চ্যাপ্টারের মধ্যে জীবনের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে! এই মাঙ্গাতে আপনি পাবেন না কোনো মাথা উল্টানো প্লট টুইস্ট, জটিল অ্যাকশন বা থ্রিল…এমনকি পাবেন না কোন মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক মুহূর্ত, গভীর ভালোবাসার বন্ধন বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা… শুধু পাবেন দুইজন মানুষের অতি সাধারণ কিন্তু একইসাথে অসাধারণ জীবনের এক অধ্যায়।

মাঙ্গার আর্টের কথা বলতে গেলে সহজভাবে বেশ সিম্পল কিন্তু সুন্দর। কাহিনীর সাথে বেশ ভালই সমন্বয় করেছে। কাহিনির জন্য একদম পর্যাপ্ত ও পারফেক্ট করে এভাবে আঁকা তবে অভাব না রাখা আসলে খুব কম মাঙ্গাকাই পারেন।

শেষে বলা যায়, এক কথায়, চমৎকার স্লাইস অফ লাইফ। ৮ চ্যাপ্টার- একদিন বসলেই খতম! মাঙ্গা পড়েন আর না পড়েন ট্রাই করে দেখতে পারেন। দিনশেষে হয়ত দিতে পারে আপনার জীবনেরই কোন প্রশ্নের উত্তর, করে তুলতে পারে আবেগি ও অনুপ্রেরণা দিতে পারে এগিয়ে যাওয়ার পথে

পরিশেষে রেটিং-
মাল রেটিং – ৯.১০
আমার রেটিং – ১০ (কাটার কিছু পাইলাম না )

 

Yuusha ni Narenakatta Ore wa Shibushibu Shuushoku wo Ketsui Shimashita. (Yuushibu) – Review By Tahsin Faruque Aninda

এপিসোড: ১২
জনরা: কমেডি, ইচ্চি, ফ্যানটাসি, রোম্যান্স

রাউল চেজার, সে এক হিরো একাডেমির স্টুডেন্ট ছিল আর স্বপ্ন ছিল একদিন হিরো হয়ে উঠবে আর ডিমন লর্ডকে হারিয়ে দিবে। কিন্তু এরই মধ্যে কেউ একজন ডিমন লর্ডকে যুদ্ধে পরাজিত করে, আর সমগ্র হিরো বনাম ডিমন সিস্টেম ভেঙ্গে পরে। এখন সে একজন সাধারণ মানুষ, আর লিওন নামক ম্যাজিক শপে সে এখন একজন সেলসম্যানের কাজ করে।
এমন সময়ে একজন দোকানে আসে চাকরির জন্যে, তার রেজ্যুমে-তে লিখা:

নাম – ফিনো
পূর্বের পেশা – ডিমন লর্ডের উত্তরাধিকারী
চাকরির আবেদনের কারণ – আমার বাবা হেরে গিয়েছে তাই

এখান থেকেই শুরু হয় হিরো হতে হতেও না হতে পেরে অবশেষে বিরক্ত হয়ে সেলসম্যানের কাজ নেওয়া রাউল এবং অতিরিক্ত পজিটিভ মানসিকতার ডিমনলর্ড-কন্যা ফিনোর কাহিনি।

পুরো আনিমের সারমর্ম এভাবে বলে দেওয়া যায়-
১/ রাউল ফিনোকে শিখায় যে এভাবে এভাবে কাজ করতে হবে, আর ফিনো সেগুলা ধীরে ধীরে শিখতে থাকে
২/ ইচ্চি
৩/ ফিনো অনেক বেশি পজিটিভ
৪/ ইচ্চি
৫/ ইচ্চি
৬/ অন্য একটা সুপারশপের সাথে লিওন শপের কর্মীদের পাট্টাপাট্টি, কারা বেশি বিক্রয় করতে পারে
৭/ ইচ্চি
৮/ মাঝে মাঝে ঝাপসা করে দেওয়া ন্যুড শট [যা হয়তো পরে আনসেন্সর্ড প্রিন্টে ঝাপসা নাও থাকতে পারে ]
৯/ সবশেষে, ইচ্চি

এত্তগুলা ইচ্চি দেখে হয়তো বুঝাই যাচ্ছে যারা ইচ্চি দেখতে পছন্দ করেন তারা এইটা দেখে মজা পাবেন। ঘটনা সেরকমই!
আমার সাজেশন, ইচ্চি আনিমে ভাল লাগলে ট্রাই দিতে পারেন, ভাল টাইম পাস হবে। আর ইচ্চি ভাল না লাগলে এইটা দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, একটি “OK” সিরিজ।

MyAnimeList রেটিং – ৭.১৬/১০ [এই মুহুর্তে]
আমার রেটিং – ৬.৫/১০

ক্যাটাগরি: “টাইমপাস”

 

এফ এ সি ১৪ – Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

হাচিকো

 

 

হিদেসাবুরো উয়েনো ছিলেন টোকিও ভার্সিটির এগ্রিকালচারাল ডিপার্টমেন্টএর প্রফেসর। প্রতিদিন উনি যখন বাড়ির পথে রওনা হয়ে শিবুইয়া স্টেশনে নামতেন, তখন তার প্রিয় কুকুর হাচিকো তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকত। কিন্তু ১৯২৫ সালের মে মাসে প্রফেসর উয়েনো আর বাড়ি ফিরতে পারলেন না, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। কিন্তু তাঁর প্রিয় কুকুর এর পরের নয় বছরের প্রতি দিন ঠিক ট্রেন আসার মুহুর্তে স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করত। বিশ্বস্ততার এই পরম নিদর্শন দেখানোর জন্য হাচিকো পরিনত হলো জাপানের অন্যতম জাতীয় প্রতীকে। তাকে নিয়ে বাঁধা হলো গান, আঁকা হলো ছবি, সে স্থান পেল পাঠ্যপুস্তকে। হাচিকো পরবর্তীতে ক্যান্সার আর ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

 

হাচিকো শিবুইয়া স্টেশনের যে জায়গাতে দাঁড়াত, সেই জায়গাটা স্থায়ীভাবে চিন্হিত করা আছে, এখনো কেউ চাইলে দেখে আসতে পারেন।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

আরাকাওয়া আন্ডার দ্য ব্রিজ(Arakawa Under The Bridge) 

 

 

ইচিনোমিয়া পরিবারের নীতি হলো ”কখনোই ঋণগ্রস্ত থাকবে না”। কিন্তু এই পরিবারের বর্তমান উত্তরাধিকারী ইচিনোমিয়া কো-কে যখন নিনো নামের এক মেয়ে আরাকাওয়া নদীতে হাবুডুবু খাওয়া থেকে বাঁচালো, তখন কো ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে ফেঁসে গেল। নিনো তার কাছ থেকে একটাই জিনিস চায়, আর তা হচ্ছে ভালবাসা কি, সেটা বোঝা। কাজেই কো আরাকাওয়া নদীর ব্রিজের নিচে নিনোর সাথে থাকতে শুরু করলো। কিন্তু এই জীবনযাপনে তার সঙ্গী শুধু ”ভেনাস গ্রহের অধিবাসী” নিনোই নয়, তার প্রতিবেশী হিসেবে আছে সবসময় মুখোশ পরে থাকা হোশি, কাকাতুয়া বিলি,  লাস্ট সামুরাই, ”সিস্টার”, আর এই সমাজের মোড়ল হিসেবে আছে রহস্যময় এক ”কাপ্পা”। কো এর জীবন কিভাবে বদলে যাচ্ছে? আর সে-ই বা কিভাবে বদলে দিচ্ছে আরাকাওয়ার অধিবাসীদের জীবন?

 

কেন দেখবেনঃ চমত্কার স্লাইস অব লাইফ আনিমে, সেই সাথে এটা সেরা হিউমারাস আনিমেগুলোর একটা। তেমন দুর্দান্ত কোনো প্লট নেই, কিন্তু  রীতিমত অদ্ভুত সেটিং, আর পিকুলিয়ার ক্যারেক্টারাইজেশন চেখে দেখার জন্য হলেও এই আনিমেটা দেখতে হবে।

 

কেন দেখবেন না: যদিও এটা খুব ভালো কমেডি আনিমে, কিন্তু সেই গ্যাগ এলিমেন্টগুলোতে ভাড়ামি  নেই, কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা নেই, কাজেই স্রেফ প্রানখুলে হাসার মত আনিমে, এটা ভেবে দেখতে বসবেন না। ক্যারেক্টারগুলোর সাথে একাত্ত হয়ে গেলেই এখানের মজাগুলো পুরোপুরি বোঝা যাবে।

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০+৭.৯৪

আমার রেটিং ৯+৯

 

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

লায়ার গেম(Liar Game)

 

কানজাকি নাও প্রচন্ড রকম সৎ একটা মেয়ে। এতই সৎ যে তাকে বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের যে অবস্থা তাতে প্রশংসা না করে বোকাই বলা যায়। তো এমন সৎ ভালোমানুষ এক মেয়েকে যদি লায়ার গেইম নামের এমন একটা খেলায় অংশ নিতে হয়, যে খেলার মূল কথায় হচ্ছে অন্য প্রতিযোগীদের ধোঁকা দেয়া, তাহলে কেমন হবে? যা হবার, তাই হলো।  নাও প্রথম রাউন্ডেই তার প্রাথমিক পুঁজি একশ মিলিয়ন ইয়েন হারালো। পেনাল্টি হিসেবে দুইশ মিলিয়ন ইয়েনের খাঁড়া যখন ঝুলছে তার উপর, সেই অবস্থায় অসহায় নাও খোঁজ পেল এক জিনিয়াস প্রতারকের, নাম তার আকিয়ামা শিনিচি। এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ যখন জুটি বাঁধলো, তার পরিনতি কি হবে? তারা কি পারবে লোভ আর প্রতারণা যার পরতে পরতে মেশানো, সেই লায়ার গেমের ভয়াবহ জগতকে জয় করতে?

 

কেন পড়বেনঃঅসাধারণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, যারা ওয়ান আউটস বা আকাগি এর মত ওয়ান ম্যান শো গুলো উপভোগ করেছেন, তাদের জন্য মাস্ট রিড।

 

কেন পড়বেন নাঃতেমন কোনো কারণ নেই।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৪

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।