অ্যানিমে রিভিউ – কারা নো কিওকাই/ গার্ডেন অফ সিনারস/ বাউন্ডারি অফ এম্টিনেস [Kara no Kyoukai/ Garden of Sinners/ Boundary of Emptiness]
হেপ্টালজি
প্রচারকালঃ ২০০৭-২০০৯
প্রযোজকঃ ইউফোটেবল
জনরাঃ [বেস] অ্যাকশন, অতিপ্রাকৃত, রহস্য, রোমাঞ্চ [পর্বভেদে] রোমান্স, ম্যাজিক
// কাহিনী সনক্ষেপঃ হাই স্কুলের এক বরফস্নাত দিনে কিমোনো পরা এক মেয়ে, অ্যান্টিসোসাল ও রহস্যময়, শিকি রিয়োগির প্রতি আকর্ষন জন্মালো মিকিয়া কোউকোর। যতই তার কাছে আসতে থাকল, ততই সে বুঝতে পারল শহরে ঘটে যাওয়া একের পর এক হত্যাকান্ড আর অতিপ্রাকৃত জিনিসের সাথে শিকি জড়িয়ে আছে বেশ ঘনিষ্টভাবে। রহস্যের সমাধানের যখন খুব কাছে মিকিয়া তখনই আবার এক দূর্ঘটনায় মারাত্নকভাবে আহত হল শিকি।
দুই বছর পর যখন কোমার থেকে ফিরল, তখন সে হারিয়ে ফেলেছে আগের সব স্বৃতি। একত্র হল মিকিয়ার সাথে মেইজ তোউকো আওজাকির গোয়েন্দা সংস্থা, গারান নো দৌ বা হলো’ স্রাইনে। শহরে ঘটে যাওয়া সব অতিপ্রাকৃত হত্যার রহস্য সমাধান আর একই সাথে নিজের হারানো অতীত ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় নামল শিকি রিয়োগি।
// কেন ভালো লাগবেঃ কারা নো কিয়োকাই অ্যানিমের কাহিনী “নাসু কিনোকো”-র “কারা নো কিয়োকাই” উপন্যাস সিরিজ অবলম্বনে রচিত। আর উপন্যাস হওয়ার কারণে এর কাহিনী বেশ সুদৃঢ়। অ্যানিমের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে টাইপমুনের “নাসুভার্স”-এ, যাকে বলা যায় একই লেখকের “সুকিহিমে” অ্যানিমের প্যারালাল ইউনিভার্স(দুই অ্যানিমের চরিত্রদের মধ্যেও আছে অনেক মিল! বিশেষ করে কারা নো কিয়োকাইয়ের শিকি রিয়োগি এবং সুকিহিমের শিকি তোহনোর মধ্যে; শুধু নামই না, তারা একই শক্তির অধিকারীও)! জাদু ও বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তির ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে টাইপ মুনের অন্যান্য অ্যানিমের সাথেও(ফেইট/স্টে নাইট, ফেইট/জিরো)।
কারা নো কিয়োকাই এর টাইমলাইন কিছুটা…না, বেশ অগোছালো। বাইরে থেকে দেখলে অসংযুক্ত কিন্তু একই সাথে সুনিপণভাবে নির্মিত[Disjointed but tightly-constructed]! আবার চরিত্রগুলোর মাঝেও এই বৈপরিত্য লক্ষনীয়। ব্যাপারটা খোলাশা করা যাক। মুল কাহিনী বিস্তৃত ১৯৯৫ সালের আগসষ্ট থেকে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম মুভি “ওভারলুকিং ভিউ”-এর কাহিনী ১৯৯৮ সালের। শেষ দুইটি মুভি বাদে কোন পরপর দুইটি মুভি-ই টাইমলাইনে ক্রনোলজিকাল না!
চারটি মুভি ভালোভাবে মুল কাহিনীর অংশ। বাকি তিনটি প্রথমে কিছুটা স্পিন-অফ ধাঁচের মনে হলেও শেষের দিকে কোন না কোন ভাবে মুল কাহিনীর সাথে যুক্ত। আর এই পর্বগুলোতে, রহস্য অ্যানিমে হিসেবে, খুব দ্রুত কালপ্রিটকে দেখিয়ে দেওয়ায় “রহস্য”-টা খুবই ক্ষনস্থায়ী হয়, যা আমার নিজের ব্যাক্তিগতভাবে কিছুটা খারাপ লেগেছে। কিন্তু মুল কাহিনীর রহস্যের ক্ষেত্রে আবার একেবারে শেষ পর্বের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার কাজটা অসাধারণ ভাবে করা হয়েছে।
কাহিনীর পেসিং অধিকাংশ অ্যানিমের মুভির মতই। প্রথম বিল্ড-আপ কিছুটা স্লো আর শেষের দিকে অসাধারণ সব ফাস্ট-পেসড অ্যাকশন! আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো এই অ্যানিমের আরেকটি শক্তিশালী দিক।
এর চরিত্রগুলো বিশেষভাবে বলার মত। সুনদেরে-ইশ অ্যাকশন হিরোইন হিসেবে শিকি আর শান্ত, ধিরস্থির এবং অসাধারণ নথি সংগ্রহের ক্ষমতাসম্পন্ন মিকিয়াকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই। সাথে আছে তোউকো আওজাকি, ভিলেন আরায়া সৌরেন। আর “প্যারাডক্স স্পাইরাল”-এ তোমোয়ে এনজোর ক্যামিও গল্পকে আরো শক্তিশালী করেছে।
আর যেকোনো আধুনিক অ্যানিমে মুভির মতই এর অ্যানিমেশনের মান বেশ উচ্চস্থানীয়। বিশেষ করে দেয়াল, মেঝে, নদীর পানি অথবা পিচের রাস্তায় জমে থাকা পানির উপর বৃষ্টি পরার দৃশ্যগুলোর(এই অ্যানিমেতে অনেক বৃষ্টি হয়। অনেক।) অ্যানিমেশন প্রায় “কোতোনোহা নো নিওয়া” পর্যায়ের, প্রায়।
ভিজুয়ালাইজেশনের দিক থেকে আবার “পাপরিকা”-র সাথে তুলনা দেওয়া যায়। “প্যারাডক্স স্পাইরাল” – ফিলোসফি, সিম্বলজিমের সাথে এই ভিজুয়াইলাইজেশনের সমন্বয় চোখ জুড়ানো এক সৌন্দর্য উপহার দিবে। আলোছায়ার খেলা, রঙের পরিবর্তন, ক্যামেরার অবস্থান আর ফোকাসিং যেকোনো মাস্টারপিচ লাইভ অ্যাকশন মুভির সাথে তুলনীয়!
আর বাকি থাকল মিউজিক। সাতটি মুভির শেষে সাতটি আলাদা আলাদা এন্ডিং সং, সবগুলোই “কালাফিনা”-র গাওয়া। এবং সবগুলোই অ্যানিমের ডার্ক থিম বজায় রাখতে অবদান রেখেছে। আর অ্যানিমের অভ্যন্তরীন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে, আলাদা ভাবে বলার মত।
// কেন ভালো নাও লাগতে পারেঃ
টাইপ মুনে ইউনিভার্স আর এর প্লট ডিভাইস সম্পর্কে একেবারেই ধারণা না থাকলে কাহিনী ভালোভাবে বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে, এক্ষেত্রে উইকিপিডিয়া বা টাইপমুন উইকিয়ার সাহায্য নিতে পারেন।
কাহিনীর অগোছালোতা। একেবারে শেষ পর্যন্ত না দেখলে সম্পুর্ন কাহিনী কিছুই বুঝবেন না। তাই পুরো সাতটি মুভি ব্যাপী মনযোগ ধরে রাখা জরুরী। এটা একটা জিগস পাজলের মত। পুরোটা সাজাতে হলে মাথা খাটানো প্রয়োজন। প্যারাডক্স স্পাইরালে আবার ফিলোসফিকাল আর সিম্বোলিজমের ছড়াছড়ি।
গোর। সাইকো থ্রিলার, খুনাখুনি নিয়ে কাহিনী বলে গোর দৃশ্যের সংখ্যা অত্যাধিক। অধিকাংশ সেইনেন মুভির মতই কয়েকটি পর্বে আছে একপ্লিসিট ম্যাচুর দৃশ্য আর কাহিনী একটি জায়াগায় আপত্তিকর জিনিস আছে।
তাই ক্লান্ত দিনের শেষে, গা এলিয়ে দিয়ে, হাসিতে গড়াগড়ি খেয়ে, মন ভালো করার মত কোন অ্যানিমে দেখতে যদি চান, তবে এটি আপনার জন্য না।
// কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যান্সাইজঃ
১। ওভারলুকিং ভিউ
২। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার প্রথম অংশ
৩। রিমেইনিং সেন্স অফ পেইন
৪। হলো’ স্রাইন
৫। প্যারাডক্স স্পাইরাল
৬। অবলিভিওন রেকর্ডার – ফেইরী টেল
৭। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার দ্বিতীয় অংশ
+৮। কারা নো কিয়োকাই এপিলোগ [এইটা এখনো দেখি নাই]
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং(যথাক্রমে)ঃ ৭.৯৭ । ৮.১৭ । ৮.৩৫ । ৮.১৯ । ৮.৭৫ । ৭.৯৪ । ৮.৬৬ । ৭.৩৪
// আমার রেটিংঃ
কাহিনী(যথাক্রমে)ঃ ৭ । ৮ । ৭ । ৭ । ৯ । ৭ । ১০ । n/a
মিউজিকঃ ১০
আনিমেশন/ আর্ট/ দৃশ্যায়নঃ ১০
পরিচালনাঃ ৯
চরিত্রঃ ৯
সমাপ্তিঃ ৯
ইনট্রিগঃ ৯
সর্বমোটঃ ৯.১২



