Hanasaku Iroha [রিভিউ] — Arafin Shanto

Hanasaku Iroha 1Anime: Hanasaku Iroha
Genre: Slice of life; Romance
Studio: P.A.Works
Episode: 26
MAL RATING: 8/10
PERSONAL RATING: 8.57/10

কাজ! বা প্রফেশন! এটা আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, কাজ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনাতীত! আমাদের জীবনে বেচে থাকার অন্যতম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়েই রয়েছে কাজ! কিন্তু প্রশ্ন হল আমরা আমাদের কাজ বা প্রফেশন কে কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি! কতটা উপভোগ করি আমাদের প্রফেশনকে! আমাদের কাজের উপর শুধু আমাদের নয়; আরো অনেকের জীবন নির্ভর করতে পারে; কিন্তু আমরা কি সেই কাজটিকে নিজের মনের মত করে উপভোগ করছি!!!

অনেকটা এই ধরণের কাহিনী নিয়ে হানাসাকু ইরোহা এনিমেটি। যেখানে এনিমের প্রধান চরিত্র ১৬ বছরের বালিকা ওহানা মাতসুমায় কে তার মা টোকিও থেকে ওহানার নানীর কাছে পাঠিয়ে দেয়, কারণটা উহ্যই থাক!

ওহানার নানী আবার বিশাল এক হোটেলের মালকিন, যে হোটেলকে এনিমেতে আপনি কিসুই নামে চিনবেন, তো ওহানাকে বাধ্য হয়ে সেখানে যেতে হয় এবং সে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হয় যাতে তাকে তাড়িয়ে দেয়া না হয়! ওহানা স্বভাবতই কিছুটা চঞ্চল এবং বাচাল প্রকৃতির, তাই সেই হোটেলে বন্ধু পেতে তার তেমন কষ্ট হয় না!! সেই সাথে চলতে থাকে তার কাজ। কিন্তু কিসুই তে কাজ করা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়, কিসুই এর কর্মচারীর সংখ্যা অনেক কম, যদিও সেই কমসংখ্যক কর্মচারীদের মধ্যে যে একতা ও বন্ধুত্ব তা অনেক হোটেল এ দেখা যায় না, কিন্তু আসলেই কি শান্তিতে আছে কিসুই ইনন!! আশে-পাশের অন্যান্য বিশাল বিশাল হোটেলগুলোর চেয়ে ব্যাবসা ও পাবলিসিটির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে কিসুই। শুধু একতা বা সেবার মান দিয়ে কতদিন চলে! তার উপর কোন একজন সাংবাদিক কিসুই নিয়ে বিরূপ আর্টিকেল লিখে তাদের আরো বিপদে ফেলে দেয়!!! কি তার উদ্দেশ্য? কিসুই কি পারবে তার জায়গা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে? কিন্তু কিভাবে?

জানতে হলে আপনাকে দেখতেই হবে এনিমিটি!!!

নিজের কাজকে কতটা উপভোগ করে করা যায়! এতে কেমন সাফল্য আসবে তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এনিমেটিতে! এনিমেটিতে রোমান্স ফ্যাক্টরটিকেও সুন্দরভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যেমন ওহানার টোকিও তে থাকা বয়ফ্রেন্ড কো, হোটেলের শেফ মিনচির সাথে আরেক শেফ তোহুরু এর একপেশে প্রেমের কাহিনী! কিছুক্ষেত্রে এনিমেটি কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে; যেমন গল্পে ওহানাকে একটু বেশিই ফোকাস করা হয়েছে! আবার ওহানার ক্যারেক্টার ডেভেলাপিং নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে:-

ওহানাকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে একজন সাধারণ বালিকা থেকে ম্যাচিউরড ওমেন এ রূপান্তর করাটা একটু বাড়াবাড়িই ছিল বটে। ওহানা ছাড়া অন্য চরিত্রগুলোকে মোটামুটি কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে! এসব ছোটখাট জিনিস বাদ দিলে এনিমিটি উপভোগ যোগ্য। এনিমিটির দুটো করে ওপেনিং ও এন্ডিং গান সবগুলোই আপনার ভাল লাগতে বাধ্য!!!

Hanasaku Iroha 2

সামুরাই চ্যাম্পলু [রিভিউ] — Rafiul Alam

Samurai Champloo

“এইটা না এদো পিরিয়ডের কাহিনী? নামের মধ্যেই সামুরাই আছে যে জিনিসে সেটা কিভাবে ওয়েস্টার্ন হয়?”
ওয়েল টাইটেলেই ভেল্কিবাজি। চ্যাম্পলু শব্দের বাংলা অর্থ হল গুলানো । তাই এনিমেটি এদো পিরিয়ডের পটভূমির, কিন্তু মডার্ন কালচার আর হিপহপ ইনফ্লুয়েন্সড। বলা যায়, দা ভেরি ডেফিনিশন অফ ইউনিক এনিমে। চ্যাম্পলু এমন একটি এনিমে, যেখানে তরবারির কোপাকুপিতে লিটারেলি রক্তের বন্যা বয়ে যায়, কিন্তু তাতেও স্ক্রিনের থেকে চোখ সরাতে পারবেন না। ভায়োলেন্স, এক্সপ্লিসিটনেস ছাড়াও অনেক বেশি ম্যাচুর থিমের শো মনে হয়েছে। সামুরাই চ্যাম্পলু অনেক দিক থেকেই কাউবয় বিবপের অনেক কাছের আত্নীয়। যার মূল কারণ, উভয়েরই ডিরেক্টর ছিলেন ওয়াতানবে শিনোচিরো। আনিমেটি বর্তমানে বিলুপ্ত ম্যানগ্লোব স্টুডিও থেকে ২০০৪-৫ সালে এয়ার হয়। ২৪ মিনিটের মোট ২৬ টি এপিসোড। সম্পূর্ণ জাপানি সেটাপের গল্প হলেও সাবের চেয়ে ডাব বেশি ভালো লেগেছে।

Synopsis:
ঘটনার অন্যতম প্রোটাগনিস্ট ১৫ বছরের ফু কাসুমি একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করে। একদিন সেই রেস্টুরেন্টে গুন্ডা পান্ডার দল ইচ্ছামত পেটপূজা করতে আসে। অবস্থা খারাপ হয় যখন ভুলক্রমে ফু একজনের মুখের উপর চা ফেলে দেয়। গুন্ডার দল ফু এর উপর চড়াও হয়, তার আঙুল কেটে ফেলবে বলে!
এখন ফুকে ফ্রি ডাম্পলিংয়ের চুক্তিতে বাঁচাতে আসে তরবার গুরু মুগেন। ব্রেকডান্সের তালে একাই গুন্ডার দলকে “কুপিয়ে” রক্তারক্তি কান্ড ঘটিয়ে দেয় সে। সেখানে থাকা জমিদারের (গভর্নর) ছেলেকেও ভয় পায় না সে। কিন্তু মারামারি আরও খারাপ আকার ধারন করে যখন সেখানে ঢুকে আরেক তরবার গুরু সামুরাই জিন। মাঝখান দিয়ে এক গুন্ডা রেস্টুরেন্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগলে সবাই জানে বাঁচলেও মারা যায় সেই জমিদারের ছেলে। ফলে সরকারি লাঠিয়াল বাহিনী জিন ও মুগেনকে বন্দি করে পরদিন পাব্লিক এক্সিকিউশন করার জন্য। তো সেই রাতে, তাদের বন্দিশালায় ফু এর আগমন ঘটে। ফু চুক্তি করে যে সে তাদেরকে পালানোর জন্য সাহায্য করবে, বিনিময়ে তাদের একজন সামুরাইকে খুজে দিতে হবে। পরদিন লংকাকান্ড বাধিয়ে জিন আর মুগেন এক্সিকিউশন থেকে পালায়। কিন্তু ফু তাদের পিছু ছাড়ে না। সে তার চুক্তি অনুযায়ী সেই সামুরাইকে খুঁজার জন্য মুগেন আর জিনকে শক্ত করে ধরে। মজার ব্যাপার হল, ফু সেই সামুরাই সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। শুধু জানে যে সেই সামুরাই থেকে নাকি সূর্যমূখী ফুলের ঘ্রাণ বের হয়। কিন্তু জিন আর মুগেন নিজেদের ফাইট নিয়ে ব্যস্ত। কয়েন দিয়ে টস করে ফু তাদের মারামারি থামায়। এবং চুক্তি হয়, সেই সূর্যমুখী সামুরাই কে না পাওয়া পর্যন্ত জিন আর মুগেন নিজেদের মাঝে ফাইট করতে পারবে না। অগত্যা মুগেন আর জিন, ফু এর সূর্যমুখী সামুরাই খোঁজে তার সহযাত্রী হতে রাজি হয়। শুরু হয় সূর্যমুখী সামুরাই অভিযান। এরপরের ঘটনাগুলো মূলত এপিসোডিক, কিন্তু মূল কাহিনী ঠিকই ফোকাসে থেকে আগাতে থাকে। এক্সাইটিং একশন সিনের সাথে ক্যারেক্টার ব্যাকস্টোরি রিভিল হতে থাকে। ফলে কয়েক এপিসোড পর চাইলেও ড্রপ দেয়া যায় না।

Theme setup, Animation and Music:
পটভূমি কেমন? সেটার এক লাইনের উত্তর হবে, “শিনোচিরোর চোখে এদো পিরিওড।”
এমন এক জাপানকে দেখানো হয়েছে, যেখানের মানুষজন চালচলনে উনিশ-বিশ শতকের কিন্তু মনের দিক থেকে ২১ শতকের। খুব লক্ষ করলে মডার্ন মিউজকের ইস্টার এগ ধরতে পারবেন। চ্যাম্পলুর আর্টওয়ার্ক, এনিমেশন বেস্ট অফ ২০০৪-৫। ব্যক্তিগতভাবে সেই সময়ের নন আই ক্যান্ডি কিন্তু রিয়েলিস্টিক মুভমেন্টের এনিমেশন আমার অনেক প্রিয়। আর চ্যাম্পলু সেই ধরনের আনিমেশনের ব্রান্ড এম্বাসেডর। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিককে সব দিক থেকে এক্সপ্লয়েট করা হয়েছে। এবং অবশ্যই তাতে হিপহপের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষণীয় ছিল। তবে আমার প্রিয় হল এপিসোড ১৪ এর রিয়ুকিউয়ান মিউজিক, অবোকুরি ইউমি ট্র্যাকটি। মিউজিকের দায়িত্বে ছিলেন জাপানিজ হিপহপ গুরু, রেকর্ড প্রোডিউসার জুন সেবা (নুজাবেস)। তার করা এনিমের ওপেনিং ট্র্যাক, ব্যাটলক্রাই, আমার শোনা বেস্ট ওপেনিং গুলার একটি। মিনমির গাওয়া এন্ডিং গানটাও বার বার শোনার মত।

Characters setup:
১৫ বছরের হাসিখুশি মেয়ে ফু, রাফ এন্ড টাফ মুগেন এবং ঠান্ডা মাথার জিন, এই ত্রয়ীর এডভেঞ্চার নিয়েই সামুরাই চ্যাম্পলু। এপিসোডিক এনিমে বিধায় সাইড ক্যারেক্টরের অভাব নেই। “ব্যাড গাই” বা “গুড গাই”, যে যাই হোক না কেন, প্রতেকটি ক্যারেক্টার ডিজাইন ইউনিক। শুরুর থেকেই সবার আলাদা বৈশিষ্ট্যগুলো অনেক বেশি স্পষ্টভাবে নজরে আসবে। একই সাথে চরিত্রগুলোর একে অপরের সাথে সম্পর্কের বিল্ডাপ দেখানো হয়েছে।
ফাইনালি আমি বলব, সামুরাই চ্যাম্পলু সব দিক থেকেই ইউনিক একটি এনিমে যা সব রুচির দর্শকের কাছেই ভালো লাগবে। কারো দেখা মাস্টারপিস এনিমের লিস্টে চ্যাম্পলু না থাকার সবচাইতে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সম্ভবত “সে চ্যাম্পলু দেখে নি”।

Opening track:

https://www.youtube.com/watch?v=OobUV9q0aDA

OST Playlist:

https://www.youtube.com/watch?v=yS6uWWrjf8c&list=PL3E1DD4F30F9D8923

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 8.5/10
IMDb: 8.7/10
My Rating : 9.5/10

Piano no Mori [মুভি রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Piano no Mori 1

Piano no Mori || Piano Forest || The Perfect World of Kai

শিগাতসু এর ভূত মাথা থেকে তাড়াতে না পেরে নিয়মিতই খুঁজতে থাকি সিমিলার কিছু। আর এভাবেই পেয়ে গেছি এ মুভিটি। প্লটে কোন মিল না থাকলেও শেষের দিকে এসে শিগাতসু এর সাথে কিছু সিমিলারিটিজ লক্ষ করা যায়। বারবার কাওরি আর আরিমা-র স্টেজ পারফর্মেন্সের কথা মনে করিয়ে দেয়।

যা-হোক, অসাধারণ, ভিন্নরকম একটা মুভি দেখলাম। কেন্দ্রে থাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া দুই বালক যারা একই সাথে ঘনিষ্ট বন্ধু এবং প্রতিদ্বন্ধী।

প্রথমেই আছে মিউজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা ধনী পরিবারের সন্তান আমামিয়া সুহেই। বাবা বিখ্যাত কনসার্ট পিয়ানিস্ট। বাবার পায়ের ছাপ অনুসরণ করবে বলে খুব ছোটবেলা থেকেই স্ট্রিক্ট লেসন এর মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে আমামিয়া। মুভির শুরুতেই দেখা যায় দাদীর অসুস্থতা উপলক্ষ্যে টোকিও থেকে গ্রামে শিফট করে আমামিয়া-র পরিবার। আরেকটি ছেলে হচ্ছে ইচিনোসে কাই। সবসময় কেয়ার-ফ্রি; সে মনের আনন্দে জঙ্গলের ভেতর একটি পুরোনো পিয়ানো বাজায়; ব্যাকগ্রাউন্ড খুবই ভিন্ন, অসচ্ছ্বল পরিবার। একজন এমনভাবে পিয়ানো বাজায় যেন তার জীবন নির্ভর করে এর ওপর, আরেকজন বাজায় অসাধারণ স্মৃতি আর পর্যবেক্ষণ থেকে।

শুরু থেকেই রহস্যময় প্লট আগ্রহ বাড়াতে থাকে। নতুন স্কুলে প্রথম দিনেই সহপাঠীরা আমামিয়া-কে চ্যালেঞ্জ ছূঁড়ে দেয় জঙ্গলের পিয়ানোটি বাজানোর জন্য। বলা হয়ে থাকে পিয়ানোটি অভিশপ্ত। বাজালেও এতে কোন শব্দ হয় না। স্কুল শেষে, একই স্কুলের ছেলে, কাই আমামিয়া-কে নিয়ে যায় জঙ্গলে। আমামিয়া ব্যর্থ হলেও কাই অদ্ভুত সুন্দর সুর তোলে একই পিয়ানোতেই। আর এভাবেই শুরু হয় এক শক্তিশালী বন্ধুত্বের। সাথে আরেক প্রধান চরিত্র, ওদেরই স্কুলের মিউজিক টিচার, আজিনো সোসুকের উপস্থিতিতে ভিন্ন মাত্রা পায় ওদের সম্পর্ক। গল্পটি এ দু’ বালকের বন্ধুত্ব, বন্ধন আর সাময়িক প্রতিদ্বন্ধিতার। ছোট্ট দুই মিউজিশিয়ানের নিজেদের পিয়ানো খুঁজে পাওয়ার গল্প।

2D মুভি হলেও অ্যানিমেশনে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছে Madhouse. চরিত্রগুলো জীবন পেয়েছে নিখুঁত অ্যানিমেশনের কল্যাণে; ইমোশনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যথার্থভাবে। এক্সপ্রেশনগুলো ছিল অলমোস্ট রিয়েল (কাই-এর প্রাণখোলা হাসি দেখে আমি নিজেই হাসি থামিয়ে রাখতে পারিনি বেশ কয়েকবার– এতই প্রাণবন্ত ছিল চরিত্রগুলো)। সে সাথে জেলাসি, হতাশা, হিউমার আর বিষণ্নতাও ছিল যেখানে যতটুকু দরকার।

নামের মধ্যেই পিয়ানো দেখে অনেকেই হয়তো দ্বিধা করতে পারেন। কিন্তু আসলে সেভাবে না বোঝার মত কিছুই নেই এ মুভিতে। আমি নিজে মিউজিক তেমন বুঝি না, পিয়ানো তো নয়ই– তা-ও দারুণ উপভোগ করেছি মুভিটি। কিছু মুভি আছে না? মনের কোণে লুকিয়ে থাকা হালকা মাপের ইমোশনগুলো ছোটখাটো নাতিদীর্ঘ একটা রোলার কোস্টারে চড়ানোর মত করে জাগিয়ে তোলে আর শেষ হলেই ভালোলাগায় মনটা পরিপূর্ণ করে দেয়? এটি সেরকমই একটা মুভি।

বাই দ্য ওয়ে, ম্যাল স্কোর দেখে মুভিটাকে জাজ করবেন না। মুভিটা আন্ডাররেটেড। গ্রুপে কোন পোস্ট/মেনশন না দেখে একটু অবাকই হয়েছি।

Download link 560MB [1080p]: https://kat.cr/kamigami-piano-no-mori-bd-x264-1920-1080-aac-sub-gb-big5-jap-eng-dut-ger-fre-ita-mkv-t7059503.html

Piano no Mori 2

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিএকশন] — Abdullah Ar Rayhan

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

[স্পয়লার-ফ্রি প্রতিক্রিয়া]

অ্যানিমেটা ওয়াচলিস্টে ছিল আগে থেকেই। গ্রুপের কভার ফটো দেয়ার সাথে সাথেই দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম। শেষ করে মনে হলো কিছু অন্তত বলা উচিত।

এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩
জনরাঃ জোসেই, ড্রামা
MAL স্কোরঃ ৮.৬৫/১০
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

অ্যানিমেটি দেখার সময় যা মনে হচ্ছিলো, গ্রীষ্মের এ তপ্ত গরমে এ যেন এক পশলা ঠান্ডা বাতাস। এক্সাম শেষ করে মূড ঠিক করতে এমন পারফেক্ট একটা অ্যানিমে দরকার ছিল।

শুরুতে একটি গম্ভীর মনে হলেও হতে পারে; তবে তা বিরক্তি তো জাগায়ই না, বরং আরো ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। ৪৭ মিনিটের পাইলট এপিসোডটা প্লট সেটিং এর জন্য একদম যথার্থ। শুরুতেই দেখা যায় কারাগার থেকে বের হওয়া এক লোক যে কিনা ভেতরে থাকা অবস্থায় “শিনিগামি” নামে একটি রাকুগো শুনে এর পারফর্মার প্রবীণ ইয়াকুমো ইউরাকুতেই এর ভক্ত বনে যায় এবং তার শিষ্য হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইয়াকুমো, যিনি কিনা কখনো শিষ্য নেননি এবং নেবেন না বলে পণ করেছিলেন, কি মনে করে একে শিষ্য হিসেবে নিয়ে নেন এবং নাম দেন ‘ইয়োতারো’। মাস্টারের ওখানেই তার সাথে দেখা হয় ‘কোনাতসু’ এর যে কিনা আরেক নামী রাকুগো পারফর্মার ‘সুকেরোকু’র একমাত্র মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ইয়াকুমো’র কেয়ারে আছে কোনাতসু। ট্রেইনিং চলাকালে মাস্টার লক্ষ্য করেন সুকেরোকু’র স্টাইলের প্রতি ইয়োতারো’র ঝোঁক; আর সে সাথে আমরা দেখি কোনাতসু’র সাথে মাস্টারের শীতল সম্পর্ক যে তার বাবার মৃত্যুর জন্য ইয়াকুমো-কে দায়ী করে। এক রাতে মাস্টার ঠিক করেন দুজনকেই তাঁর আর সুকেরোকু’র অতীত শোনাবেন। এ হলো সংক্ষেপে পাইলট এর কাহিনী।
পরের এপিসোডেই আমরা চলে যাই অতীতে, মাস্টারের জবানিতে, যেখানে আমরা দেখি কিভাবে ইয়াকুমো আর সুকেরোকুর পরিচয় হয়, কিভাবে তারা একই মাস্টারের অধীনে বেড়ে ওঠে। মাঝে মাঝেই নাতিদীর্ঘ ‘রাকুগো’ পারফর্মেন্স। [রাকুগো এক প্রকার স্টোরিটেলিং যাতে একজন পারফর্মার স্টেজে বসে একা একা পারফর্ম করে যান। স্টোরিতে সবসময়ই একাধিক ক্যারেক্টার থাকে যা পারফর্মার নিজেই ভিন্ন ভয়েস আর অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন।]

এ অ্যানিমে কেবল দু’জন মানুষের গল্পই নয়। কেবল রাকুগোর গল্পই নয়। এতে আমরা দেখি কিভাবে ট্রানজিশন পিরিয়ডে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে একটা শিল্প (বিশেষ করে টেলিভিশন এর আবির্ভাবের কারণে রাকুগোর জনপ্রিয়তা নিয়ে শংকা দেখা দেয়)। আমরা দেখি শিল্পের চিরাচরিত দ্বন্ধ। কিকুহিকো-র (ভবিষ্যতের ইয়াকুমো) ট্রেডিশন আর পারফেকশনের প্রতি ঝোঁক, সিরিয়াস আর পরিশ্রমী মনোভাব; বিপরীতে সুকেরোকু’র ফান-লাভিং আর সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার প্রবণতা। একজন মাস্টারদের প্রিয়, আরেকজন দর্শকদের। সে সাথে এটি জীবনের গল্পও। আমরা দেখি কিভাবে বিপরীতমুখী দুটি চরিত্র বাধা পড়ে যায় একে অপরের সাথে, কিভাবে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আবেগময় গভীর বন্ধুত্ব (এপিসোড ৩ এর শেষের অংশটা পার্টিকুলারলি ইমোশনাল; চোখে পানি এনে দেয়)।

অ্যানিমের নামটা নিয়েই কিছু বলা যাক। Shouwa আর Genroku হচ্ছে দুইটা টাইম পিরিয়ড। Genroku ইরা (১৬৮৮-১৭০৩) থেকে রাকুগো জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে [সম্ভবত], আর Shouwa ইরা (১৯২৬-১৯৮৯) এর মাঝামাঝি এসে এসে ‘রাকুগো’ টার্মটি পরিচিতি পায়। Shinjuu বা ডাবল সুইসাইড দেখেই শেষটা অনুমান করে ফেলা যায় (বিশেষ করে এপিসোড ৭ এর দিকে); তবে এটাকে ঠিক প্রেডিক্টিবিলিটি বলা যায় না। যে নিপুণ দক্ষতায় অনিবার্য সমাপ্তির দিকে দর্শককে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তা-ই এ অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শুরুর দিকে কিছুটা স্লো। এ অংশগুলো কারেক্টার বিল্ডিং এ ব্যয় করা হয় এবং অ্যানিমেটি তাতে বেশ সফল হয় সন্দেহাতীতভাবেই। স্টোরি আর কারেক্টার বিল্ডিং এ অ্যানিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। এমন ইনটেন্স আর সলিড স্টোরি খুব একটা দেখা যায় না, সে সাথে কিছু মন হালকা করে দেয়ার মুহুর্ত যে নেই তা নয়। পুরো অ্যানিমেতেই স্ক্রিন থেকে মনোযোগ সরানো কঠিন, তবে এপিসোড ৭ এর দিকে এসে গতি বেড়ে যায়।

আর্ট নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ডিটেইলের দিকে বেশ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। যেমন একটা দৃশ্যে মুহুর্তের জন্য দেখা যায় লাইটবাল্বের মৃদু আলোতে কিভাবে পোকামাকড় ভিড় করে, আরেকটা দৃশ্যে আমরা পানিভর্তি গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখতে পাই কিকুহিকো আর মিয়োকিচি কে। ইনসিগনিফিক্যান্ট একেকটা দৃশ্য কিন্তু মনে ছাপ ফেলে যায়।

মিউজিক আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়ে গেছে এ অ্যানিমেতে। Shamisen এর চিয়ারফুল টুংটাং যতবারই শুনেছি ততবারই মনে হয়েছে শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে দূরে কোথাও চলে গিয়েছি, মন ভালো হয়ে গেছে প্রতিবারই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মন ভরিয়ে দেয়ার মত। একটা দৃশ্যের কথা বলতেই হয়। ‘টেনেসি’ নামক একটা বারের দৃশ্য। কিকুহিকো আর সুকেরোকু আলোচনা করছিলো ভবিষ্যত নিয়ে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে জ্যাজ মিউজিক। এ ছোট্ট দৃশ্যেও যে মনোযোগ দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
ওহ, যেটা ভুলে গিয়েছিলাম; ভয়েস অ্যাক্টিং নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাইনি কখনোই এবং তেমন কিছু জানিও না তবে আমার মনে হয়েছে অ্যানিমেটিতে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন ভয়েস অ্যাক্টররা। রাকুগো তে এমনিতেই একজনকে বেশ কয়েক ভয়েসে কথা বলতে হয়, এক্ষেত্রে ভয়েস অ্যাক্টররাও কম দেখাননি। কন্ঠে এত বৈচিত্র্য দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন অ্যাক্টর দিয়ে করানো হয়েছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম ইয়াকুমো’র বিশেষ অংশ ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক কারেক্টারে একজনই কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা সিরিজ। হয়তো বুক মোচড়ানো ইমোশন নেই, হার্ট অ্যাটাক করানোর মত ক্লাইম্যাক্স বা সারপ্রাইজ নেই, তবে ড্রামা হিসেবে একটা অ্যানিমের কাছে যা আশা করা যায় তার সবই আছে। হ্যাপি ওয়াচিং।

MM! [রিভিউ] — অনন্য রায়হান

mm 1

এক ফুতারো(Pig Boy) আর সেনপাই এর গল্প

Masochism শব্দটির সাথে অনেকেই পরিচিত, আবার অনেকে নন।
আমেরিকার সাইক্রিয়াটিক এসোসিয়েশনের Diagonstic & Statistical Manual অনুযায়ী Masochism একটি মানসিক রোগ– “which refers to the recurrent & intense sexual arousal from the act of being humiliated, beaten, bound, or otherwise made to suffer, as manifested by fantasies, urges or behaviors”

উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝানো যাক–
এক ছেলেকে অনবরত মারধর, অত্যাচার, গালিগালাজ করা হচ্ছে অথচ তার মুখে হাঁসি এবং সে এটা উপভোগ করছে। এমনকি তার এ আনন্দ থেকে সে আরো বেশি করে প্রহার কামনা করছে।

ব্যাপারটাকে অদ্ভুত মনে হলেও কিছু মানুষের মধ্যে এ অদ্ভুত মানসিক ব্যাধি দেখা যায়। আমেরিকা ও মেক্সিকোতে এ রোগের রোগীর সংখ্যা একটু বেশিই।

এনিমে: MM!
এপিসোড: 12
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৪

সাডো তারোউ–
এক ছেলে যাকে কোন সুন্দরী মেয়ে—
আগুনে ফুটন্ত পানিতে চোবালে
৩ পাউন্ডের বেসবল ব্যাট দিয়ে আঘাত করলে
শরীরের জায়গায় জায়গায় গরম মোম ঢাললে
অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে
সে অদ্ভুত আচরণ শুরু করে; সে উপভোগ করতে শুরু করে এই অত্যাচার। শুধু তাই নয় তখন সে নিজ জ্ঞানেও থাকে না। অর্থাৎ কোন মেয়ে তাকে আঘাত না করলে তার মাঝে এ সিম্পটম্পস দেখা যায় না……

এখন তো হেভি সমস্যা–
তো সমাধানের জন্য সেকেন্ড ভলান্টিয়ারিং ক্লাবের শরণাপন্ন হতে হয় তারৌকে। আর সে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হলেন স্বঘোষিত কামি-সামা ইসুরুগি মিও।

ইসুরুগি মিও একটি নচ্ছার, খুবই খারাপ একটা মেয়ে– এটা চরিত্রটির প্রথম বা ফার্স্ট ইম্প্রেশন …… [১০-১১ এপিসোডের দিকে খুব বেশি ভালো লেগে যাবে]
এই সেকেন্ড ভলান্টিয়ার ক্লাবের আরেক সদস্য ইউনো আরাশিকো……
এক কথায় ইনি আংশিক ইনামি মাহিরু [Working এর]
আরো বেশি বলতে গেলে Androphobic; ছেলে দেখলেই স্টার প্লাটিনাম বের হতে থাকে…… [স্টার প্লাটিনাম: রেফারেন্স জোজোর বিজার ভ্রমণ]
তারৌ এর ফ্রেন্ড তাতসুকিচি হায়ামা–
ইনি আবার ক্রসড্রেসিং পছন্দ করেন, গলাও মেয়েদের মত। আফটার অল সেইয়ুও সাতৌ রিনা……
কিন্ত এই চরিত্রটি আরো মজার হয়ে ওঠে Personality Interchange এর মাধ্যমে – সেটা আবার কি? সব বলে দিলে এনিমেটা দেখে কী লাভ?
আর তারৌ এর মা ও বোন পুরো আজব ও গুবলেটে – অপ্রধান চরিত্র আর অনেকেরই বিরক্তিকর লাগতে পারে… রিভিউদাতার কেমন লেগেছে তা রিভিউদাতা জানাতে চান না ………
আর চরিত্র যদি বলতেই হয় তবে আছেন মিচিরু অনিগাওয়ারা……
ফিমেইল Badass

তারৌ এর Masochism সারিয়ে তুলতে শুরু হয় অভিযান! MM! এর গল্প এই অভিযান নিয়েই!

:- এচ্চি ট্যাগ আছে যে?? -:
মাইএনিমেলিস্ট সর্বজ্ঞানী, পরাক্রমশালী এমন যেহেতু নয় সুতরাং তাদের ট্যাগানো বেদবাক্য বলে মেনে নেয়া যায় না। থাক ট্যাগের উল্টাপাল্টা কার্যক্রমের উদাহরণ না টেনে সোজা বাংলায় কিছু কথা বলি……

এচ্চি বলতে যা বোঝায় তার কিছুই নেই এর মধ্যে………
আই রিপিট কিছুই নেই, এখন কিছু নব্য ইংরেজি গালি যদি এচ্চি ট্যাগ পায় আর একটু ডারটি জোক [খুবই সীমিত] যদি এচ্চি বলার জন্য এনাফ হয় তবে এটা এচ্চিই………..
এচ্চি ট্যাগ দেয়া অথচ সমতুল্য রিকমেন্ডেশন লিস্টে MAL এই উল্লেখ আছে Working! আর Toradora-এর নাম। এখন আমি যতদূর জানি এ দুটো এচ্চি নয়। আর টাইগার মুখের ভাষা আর MM! এর মিও র মুখের ভাষায় উনিশ বিশ পার্থক্য। [নোট ইট]
আরো পরিষ্কার করা যাক……
Working! যারা দেখেছেন তাদের জন্য এই তুলনা মূলক চার্ট –
MM! চরিত্র == Working! চরিত্র
সাডো তারৌ == তাকানাশি সোউতা
ইউনো আরাশিকো == ইনামি মাহিরু
মিচিরু অনিগাওয়ারা == শিরাফুজি কিয়োকো
সো ওয়ার্কিং আর তোরাডোরার টাইগার কমবো MM! এনিমেকে বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না………

একটু ফ্রিলিই বলি –
Nudity মোটেও নেই, কোন ডাইরেক্ট নেক্সট টু H মোমেন্ট নেই……
তারৌ এর মা আর বোনের কান্ড দেখে একে Incest ট্যাগিয়ে ফেলতে পারেন [আমিও এই ভুল করেছিলাম] কিন্ত দিনশেষে #‎ITS_NOWHERE_NEAR_INCEST

এনিমেটা শুরু এমনভাবে হয় যে মনে হবে বেশ মজাদার একটা সিরিজ হবে। প্লট দেখেই মনে হবে এতে নিশ্চয়ই সামনে এচ্চি থাকবে; কিন্ত সুখবর [আমার জন্য SADLY] সেরকম কিছু তো দূরে থাক, তার ধারকাছেও কোন ম্যাটেরিয়াল নেই……..

মাজখানের কিছুটা হারেম আর রোমান্স ভাইব আসে; কিন্ত তা মিলিয়ে যায় গল্পের সামনে আগানোয়…
আর এন্ডিং টা একে পিওর “স্লাইস অফ লাইফ” বলার জন্য এনাফ! অদৃষ্টের পরিহাস, সম্মানীয় MyAnimeList একে সল ট্যাগ দেননি……

:- ভয়েস এক্টিং ও OST -:
এনিমেটির সাউন্ড ডিপার্টমেন্ট এ কিছুতা আধিপত্য ই ছিল আয়ানা তাকেতাতসু’র। এনিমের অন্যতম প্রধান চরিত্র মিও’র ভয়েস এক্টিং ই কেবল নয়, ওপেনিং [দুটো ভারশন] আর শেষ এপিসোডের মন ঠাণ্ডা করে দেয়া এন্ডিং টিও তিনি গেয়েছেন…………
সেই সুন্দর এন্ডিং টি শুনে ফেলুন –
http://www.youtube.com/watch?v=rfX_Eot4Ya8

আর হেল্প! পু! পু! হচ্ছে এনিমেটির ওপেনিং –
দেয়া হল Hell’s Side আর Heaven’s Side দুই ভার্সনই

https://www.youtube.com/watch?v=TKH6d6PQv98

২য় হিভেন ভার্সন টিতে আয়ানা সানের সাথে কন্ঠ দিয়েছেন সাওরি হায়ামি, যিনি একইসাথে এনিমেটির ইউনো আরাশিকোর ও ভয়েস এক্ট্রেস।

আর নাতসুকো আসোউ এর “More! More! Lovers!” গানটা বেশ মজার! বেশ ভালো লেগেছে! কণ্ঠ অনেক অনেক ভাল!
লিংক :
https://www.youtube.com/watch?v=MMgFIAGTMso

:- পরিশেষে, হাসতে চাইলে কোন এক্সপেকটেশন ছাড়া বসে যান MM! দেখতে, উপভোগ করবেন আশা করি। আর এচ্চি বিতর্ক না হয় নিজে পরখ করেই দেখবেন; আর যদি আপনার কাছে এচ্চি মনে হয় তবে জানাবেন………

এটা নিয়ে রেটিং দিলাম না কারণ রেটিং অত্যন্ত সিরিয়াস ইস্যু আর এরকম গল্পের রেটিং দেয়া বোকামি; রেটিং এর মত ভারী জিনিসের জন্য বেশি লাইট আর কি……

mm 2

গানগ্রেভ (Gungrave) [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Gungrave

এনিমে: গানগ্রেভ (Gungrave)
জনরা:অ্যাকশন, ড্রামা, সাই-ফাই, সুপারন্যাচারাল, সেইনেন
পর্ব: ২৬
লেখক: ইয়াসুহিরো নাইতো (Trigun, Kekkai Sensen)
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

‘বন্ধুত্ব ‘। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বন্ধনের মধ্যে একটি। এ বন্ধনটির গভীরতা বোঝাতে আমরা প্রায়ই বলে ফেলি যে, ” বন্ধুর জন্য জীবনও দিতে পারি।” কিন্তু আদতেই কি তা আমরা করতে পারি?

Synopsis: হ্যারি ম্যাকডয়েল ও ব্রান্ডন হিট শৈশবকালের দুই বন্ধু। তারা দুজন ও সাথের আরো তিন বন্ধু মিলে তাদের ছোট একটি গ্যাং যাদের কাজ শহরের মানুষের জিনিশপত্র চুরি করা এবং স্থানীয় অন্য গ্যাং এর সাথে মারামারি করা।কিন্তু ঘটনাচক্রে ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, এক রাতে তারা সম্মুখীন হয় পৃথিবীর নির্মমতার।এতে তাদের সকলের জীবন পাল্টে যায়। ঘটনাক্রমে হ্যারি ও ব্রান্ডন যুক্ত হয়ে যায় সেখানকার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাফিয়া ‘মিলেনিয়ন’ এর সাথে।যার মূলমন্ত্র “বিশ্বাঘাতকতা মানেই মৃত্যু “। হ্যারি যে কিনা উচ্চাভিলাষী, তার স্বপ্ন সে এই মাফিয়া গ্রুপের ‘বস’ হবে এবং সে তার বন্ধু ব্রান্ডনকেও এ স্বপ্নের সারথি হবার আহ্বান জানায়। ব্রান্ডন কি তার বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিবে? সে কি নিজের জীবন বন্ধু হ্যারি এর জন্য উৎসর্গ করবে?

গানগ্রেভ একই সাথে একটি বন্ধুত্বের গল্প, একটি ভালবাসার গল্প এবং একটি বিশ্বাসঘাতকতার গল্প….।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
গানগ্রেভ এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর শিহরণ জাগানো স্টোরি এবং স্টোরি টেলিং।পুরো এনিমের স্টোরিকে দুভাগে ভাগ করা যায়।প্রথম ভাগ(২-১৫)
এক কথায় দূর্দান্ত। গল্প শুরু হবার সাথে সাথেই গল্পের অসাধারন পেসিং ও গভীরতায় আপনি ডুবে যাবেন ।গল্পটি চুম্বকের মত আপনাকে স্ক্রিনের সাথে আটকে রাখবে।কিভাবে যে একের পর এক এপিসোড দেখে যাবেন টের ও পাবেন না।
তবে দ্বিতীয় ভাগ অর্থাৎ ১৬তম এপিসোডের পর এর পেসে কিছুটা ভাটা পড়ে।তাছাড়া সুপারন্যাচারাল কন্টেন্টগুলো একটু খাপছাড়া মনে হলেও শেষটুকু আপনাকে একধরনের অভাবনীয় তৃপ্তি দিতে বাধ্য।যা অনেকটা ‘Bittersweet’ এন্ডিং হিসেবেও ধরে নেওয়া যায়।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে মূলচরিত্র দুজন হলো হ্যারি এবং ব্রান্ডন। চারিত্রিক বৈশিষ্টে্যর দিক দিয়ে দুজন দুই মেরুর।হ্যারি ধূর্ত, বাচাল,উচ্চাভিলাষী,নারীপ্রেমী।অসাধারন বুদ্ধিমত্তা, কুটিলতা এবং তার মাল্টিলেয়ারড পারসোনালিটি, তাকে করেছে অনন্য। অন্যদিকে, ব্রান্ডন স্বল্পভাষী,সৎ,সাহসী। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ব্রান্ডন হ্যারির বিপরীত হলেও তার চিন্তাধারা আপনাকে ভাবাতে বাধ্য করবে।

এছাড়াও এনিমেতে পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অনেক চরিত্র দেখা যায়।মারিয়া,বিগ ড্যাডি,ব্যালার্ডবার্ড লি, বেয়ার ওয়াকেন, বব, বুনজি দের পার্শ্বচরিত্র হিসেবে দেখালেও এদের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা মূলচরিত্র হতে কোনো অংশেই কম ছিল না। এবং প্রত্যেকটি চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত।যা এনিমেটিকে করেছে আকর্ষনীয়।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
গানগ্রেভ স্টুডিও ম্যাডহাউসের নির্মিত হলেও এতে স্টুডিও ম্যাডহাউসের চকচকে আ্যনিমেশন নেই।বরং এতে রয়েছে ক্লাসিক ধাঁচের আ্যনিমেশন। ব্যাকগ্রাউন্ড ইউরোপীয় ধাঁচের।হয়ত অতটা আহামরি আ্যনিমেশন নয় তবে এনিমের সাথে মানানসই।তাছাড়া গান ফাইটিং সিনগুলো যথেষ্ট ভালো।

ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টের ক্ষেত্রেও একি কথা। ক্লাসিক ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টওয়ার্ক। তবে ফিমেইল ক্যারেক্টারদের তুলনায় মেইল ক্যারেক্টারদের বিশাল দেহ (মারিয়া বাদে) একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে।এছাড়া সুপিরিয়রদের ক্যারেক্টার ডিজাইনও অনেকটা উদ্ভট ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
গানগ্রেভে হয়ত সেরকম আহামরি মিউজিক নেই কিন্তু মিউজিকগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পুরো এনিমেতেই ওয়েস্টার্ন ধাঁচের মিউজিকের ব্যবহার দেখা যায়।ওপেনিং সং হিসেবে আছে সুনেও ইমাহোরি এর
“Family” যা এই ধরনের এনিমের জন্য উপযুক্ত।এন্ডিং সং হিসেবে আছে ‘Scoobie Do’ এর “Akaneiro ga Moerutoki “। কিন্তু এই এনিমের অসাধারন দিক এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো চমৎকার ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, স্পেশালি ইমোশনাল মুহূর্তগুলোতে ব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো আপনার মনে গেথেঁ যাবে।

এন্জয়মেন্ট:
পুরো এনিমেটা আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।শিহরন জাগানো স্টোরি, দূর্দান্ত চরিএ, জোস ফাইটিং সিন, অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গল্পের উপস্থাপন এনিমেটিকে অন্য ৮-১০টি এনিমের তুলনায় করেছে অনন্য।’ট্রাইগান’ কিংবা মাফিয়া বেসড এনিমে পছন্দ হলে এটি মাস্ট ওয়াচ। তাছাড়া রোজকার স্কুল সেটআপ এনিমে থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অর্থাৎ একটু ম্যাচিউর (এচ্চি নেই) এনিমে দেখতে চাইলে ‘গানগ্রেভ ‘ আপনার জন্য আদর্শ এনিমে। তাহলে আর দেরী না করে দেখে ফেলুন ইয়াসুহিরো নাইতোর অসাধারন সৃষ্টি ‘গানগ্রেভ’!!

MyAnimelist Rating: 7.98
Personal Rating: 8.5

P.S: এনিমেটির প্রথম এপিসোড দেখবেন না!!! কেননা বিশাল স্পয়লার পেয়ে যাবেন।
তাই দ্বিতীয় এপিসোড থেকে দেখা শুরু করুন

Seirei no Moribito [রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Seirei no Moribito

এনিমে রিভিউ
নামঃ Seirei no Moribito / Guardian of the Spirit
Genre: Action, Adventure, Fantasy, Historical
MAL ranking: 8.25
personal rating: 9
Episode number : 26
Release year: 2007

শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস হল, প্রথম রাজা, সাথে আরও ৮ জন সৈনিক মিলে এক পানির অপদেবতাকে হারায় , রাজ্যকে ভবিষ্যতের খরা এর হাত থকে বাঁচাতে। এর পর এর ই উপর ভিত্তি করে এই রাজ্য গড়ে উঠে। কিন্তু, ইতিহাস অনুযায়ী, আরেকবার এই অপদেবতা আবার ফিরে আসবে এই রাজ্যে।
বর্তমান রাজা মিকাডোর ছোট ছেলে চাগুম। তার মধ্যে একদিন এই পানির অপদেবতা ভর করে অথবা বলা যায় এই অপদেবতার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই রাজপুত্রের মাঝে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। রাজা এবং রাজ্যের জ্ঞানী ব্যাক্তিরা ব্যাপারটা জানার পর রাজ্যের ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজপুত্রকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়।

বালসা নামের এক রহস্যময়ি নারী ,যে মূলত একজন দেহরক্ষীর কাজ করে, ঘটনাক্রমে তাঁর দেখা হয় রাজপুত্র চাগুম এর সাথে, এক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে যেয়ে। পরবর্তীতে চাগুমের মা বা দ্বিতীয় রানী বালসাকে রাজপ্রাসাদে ডাকে এবং বলে তাঁর ছেলের বিপদের কথা। বালসাকে দায়িত্ব দেয় তাঁর ছেলের জান বাঁচানোর জন্য। বালসা প্রথমে না করলেও পরবর্তীতে বালসার নিজস্ব কিছু কারনে দায়িত্ত্ নিতে রাজি হয়।

এর পর শুরু হয় বালসা আর চাগুম এর কাহিনি। একে তো রাজ প্রাসাদের পক্ষ থেকে বিপদ আছেই, তাঁর উপর চাগুম এর কাছে বাইরের পৃথিবীর একদম নতুন। বালসা আর চাগুম একের পর এক বিপদ এর মোকাবেলা করতে থাকে, চাগুম শিখে পৃথিবীতে মানিয়ে চলতে। এর মধ্যে নতুন কতগুলো প্রশ্ন দেখা দেয়, আসলেই কি শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস সঠিক? নাকি কাহিনি পুরই ভিন্ন বা বানানো? বালসা এর অতীত কি ? বালসা কেনই বা চাগুম এর দায়িত্ব নিতে রাজি হল?
কাহিনিতে বালসা আর চাগুম, এই ২জনের সম্পর্কের বেড়ে উঠা , তাঁদের যাত্রা আপনাকে টানবে এই গল্পের দিকে। সময়ে সময়ে উত্তেজনা কাজ করবে যা পরবর্তীতে কি হবে তা জানতে অনেকটা বাধ্য করে। পুরো এনিমে দেখে মনে হয়েছে এ এক সুন্দর ছোট কাহিনি যাতে ভালোবাসা, কল্পনা , প্রাচীন পৌরাণিক বিশ্বাস, ইতিহাস সব মিশে এক হয়ে গেছে।এছাড়া পুরো এনিমেতে দৃশ্য গুলো দেখার মত। গ্রাম থেকে শুরু করে পাহাড়ি এলাকা, নদী , বন সব নজরকারা দৃশ্য একরকম প্রশান্তি এনে দেয়।

যদি আপনি এই ধরনের গল্পের ভক্ত হন, তাহলে এই এনিমেটা দেখে ফেলুন।

Tomo chan wa onnanoko! [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Tomo chan wa onnanoko!

মাঙ্গা রিভিউ: তোমো চান তো দেখি মেয়ে ! (Tomo chan wa onnanoko!)

যাদের বাসায় প্রথমআলো রাখা হয় তাদের প্রত্যেকদিন সকালে উঠিয়া একটা কমন কাজ হল তাড়াতাড়ি মধ্যের পৃষ্ঠায় গিয়ে বেসিক আলী আর ন্যান্সি চেক করা। তো এই মাঙ্গা ডেইলি এক পৃষ্ঠা করে আপডেট হয় এবং সকালে উঠেই চেক করি যে এই মাঙ্গার আপডেট এসেছে কিনা! প্রাত্যহিক বিনোদোনের জন্য এক অসাধারণ মাঙ্গা।

এই মাঙ্গার মেইন চরিত্র হল তোমো আওয়িযাওয়া। সে হাইস্কুলে উঠে তার ছোটবেলার বন্দ্ধু এবং ক্রাশ জুনচিরোর কাছে প্রেম নিবেদন করে এবং উত্তর পায় ” কি যে বলিস দোস্ত! আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি, আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড! ,, ! এই উত্তরের রহস্য কি!? তোমো চান পুরোদস্তর টমবয়। ভয়ানক শক্তি, ভয়ের ছিটেফোটা নাই এবং সবধরণের ন্যাকামি বিবর্জিত। জনচিরো কেবল মিডলস্কুলে উঠে আবিষ্কার করে যে তোমো মেয়ে কিন্তু তোমোকে অন্য সব ছেলেদের মত জিগরী দোস্ত হিসিবে দেখে। তোমো নানা উপায়ে জুনচিরোর মন গলাতে চায়। তাদের এই খেলা উপভোগ করে মিচকি পিচকি ডেভিল ইন নারীরুপ গান্ডোও এবং তাদের সাথে পরে যুক্ত হয় হাওয়াই মিঠাই, ননীর পুতুল গুল্লু ক্যারল। তাদের কথাবার্তা কাজকর্ম দেখে হাসবে না এমন লোক পাওয়া দুষ্কর।
আর্ট বেশ পরিষ্কার। চেহারার ভঙ্গীগুলো সেইই!! এবং এই মাঙ্গার সবচেয়ে ভালো জিনিস ডেইলী এক চ্যাপ্টার বা কখোনো ২ চ্যাপ্টার করে আপডেট হয়। চ্যাপ্টার ৩৩৯+ এবং অনগোয়িং। এইরকম হাইস্কুল রোমান্স কমেডি মাঙ্গা পাওয়া দুষ্কর। সকালটা তাই এক পশলা হাসি দিয়ে শুরু হোক 😀 !!! তো পড়া শুরু করে দিন তোমো চান তো দেখি মেয়ে!

আমার রেটিং: 9/10

Read Here: http://kissmanga.com/Manga/Tomo-chan-wa-Onnanoko

Download Cbr file: https://drive.google.com/folderview?id=0B6WGbrzJ5FC3UnU2Mk10LWVPdTg&usp=sharing

 

দেনপা তেকি না কানোজো (Denpa Teki na Kanojo) রিভিউ — Rafiul Alam

Denpa Teki na Kanojo

এনিমেটির টাইটেল ইংরেজি করলে হয়, ‘electromagnetic girlfriend’. শুনতে অদ্ভুত শোনালে রাইটার সার্থক। অদ্ভুত ধরনের স্লাইস অফ লাইফ/ থ্রিলার জানরার এনিমে এটি। অনেকগুলো দিক থেকে আমার অনেক প্রিয়। তার একটি হল “ক্রাফটিং”। মাত্র ২ টা ৪৫ মিনিটের এপিসোডে যে চমৎকারভাবে গল্প সাজিয়ে একাধিক টুইস্ট ডেলিভারি করেছে, তা সত্যিই উঁচু মানের প্ল্যানিং এর ফসল। ব্রেইনস বেইস স্টুডিও থেকে ২০০৯ এর ফেব্রুয়ারিতে আসে প্রথম পর্ব, ডিসেম্বরে দ্বিতীয়টি।

Synopsis: বৃষ্টিভেজা রাত, চেহারায় রক্তের ছিটাসহ এক উভ্রান্ত তরুণ, *ফ্ল্যাশকার্ড*, একটি বৈশিষ্ট্যবিহীন ম্যানিকুইন। *ফ্ল্যাশকার্ড*। এবার কোন স্কুলের ছাদে মারামারি হচ্ছে। একাই দুইজনকে কুপোকাত করল যে রাগচটা ছেলেটি, তার নাম জু’উযাওয়া জু। জু তার লকারে একটি চিঠি পেল, একজন তার সাথে দেখা করতে চায়। চিঠির প্রেরক ওচিবানা আমে নামের চোখ ঢাকা চুলের অদ্ভুত এক মেয়ে। জুর সাথে দেখা হলে সে বললো আগের জন্মে জু রাজা ছিল এবং সে (আমে) ছিল তার নাইট। আমে বললো, সে জুর সার্ভেন্ট হিসেবে নিজেকে সমর্পণ করবে। স্বাভাবিকভাবেই জু অবাক এবং বিরক্ত হয়। কিন্তু আমে, জুর পিছু ছাড়ে না। একসময় মানসিক বিকারগ্রস্ত আমেকে জু মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর ঘটনায় আসে সিরিয়াল কিলিং, জুর এক ক্লাসমেট যার শিকার হয়। পরে? বাকি অংশ বরং এনিমেতেই দেখুন।

Theme setup, Animation and Music: টিপিকাল জাপানের কোন শহর আর হাইস্কুল। দা ভেরি ডেফিনিশন অফ ক্লিশে। একই সেটাপে হাজারটা এনিমে থাকলেও দেনপা তেকি না কানোজো কে আলাদা বলার প্রধান কারণ এর সিনেমাটোগ্রাফি। এত্ত ফ্লুইডভাবে ঘটনার পরিস্থিতি ফ্রেম বাই ফ্রেম তুলে ধরা হয়েছে যে বিষয়টাকে নজর দিন বা না দিন, এর নান্দনিকতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আরবিটারী কোন জিনিসের ইন্সার্ট শট, জলি শট এবং সময়মত কাটপেপার লেটারের ফ্ল্যাশকার্ড ইত্যাদি এর ব্যবহার কাহিনীর প্রতি দর্শকের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে।আর্টওয়ার্ক, এনিমেশনে কোন কিছু অভারডু করার চেস্টা করা হয়নি। বরং এনভায়রনমেন্টকে জীবন্ত করার ক্ষেত্রে একটা চেষ্টা লক্ষণীয়। মিউজিকের ব্যাবহার ছিল ঝোপ বুঝে কোপ দেয়ার মত। সিনগুলোর ইমোশনাল পিককে হাইলাইট করেছে।

Characters setup: আপাত দৃষ্টিতে প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই খুবই সাধারণ মনে হবে। ক্যারেকটার ডিজাইনও অনেক কমন টেমপ্লেট কাটআউট। কিন্তু মূল আকর্ষণ হল এদের উদ্ভ্রান্ত সাইকোলজিক্যাল দশা। ফলে দর্শক সেন্টিমেন্ট তৈরী হবে, কিন্তু অভারল কোন চরিত্রের সবগুলো কাজকে নিজের যুক্তিতে জাস্টিফাই করতে পারবেন না। দেনপা তেকি না কানোজো এমন একটি গল্প, যেখানে সবাই মানসিকভাবে টার্বুলেন্সড, কিন্তু সেদিকে নজর দেয়ার কোন প্রয়োজনও তৈরী হয় না। বিষয়টি একটু কেমন জানি, অসুস্থ কিন্তু সুন্দর।

Overall Rating:
MyAnimeList.net: 7.82 / 10
My Rating: 9 / 10

One Punch Man [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

One Punch Man

এনিমেঃ One Punch man
Genre: অ্যাকশন,প্যারোডি,সুপারপাওয়ার,সেইনেন
এপিসোডঃ ১২+৭ OVA
স্টুডিওঃ Madhouse
উৎসঃ One punch man নামক ওয়েবকমিক
¤
ওয়ান পাঞ্চ ম্যান এনিমেটি গত বছরের ফল সিজনে মুক্তি পায়।সম্প্রচারের সাথে সাথেই ভক্তরা হাইপের বন্যায় ভাসতে শুরু করে।অসংখ্য OPM সম্পর্কিত মেমে ও পোস্টে গ্রুপের ওয়ালকে ছেয়ে যেতে দেখা যায়।আমিও দূর থেকে এই হাইপকে অনুসরণ করতে থাকি।অবশেষে দেখেও ফেললাম এবং স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি,এই হসচ পরীক্ষার প্যারার মধ্যে এর চেয়ে ভালো এন্টারটেইনিং এনিমে আর কিছু হতে পারে না।
¤
কাহিনীর পটভূমি একটা ফিউটারিস্টিক পৃথিবী যাতে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে নানা ধরনের দানবরা ক্রমান্বয়ে আক্রমন চালিয়েই যাচ্ছে।ফলে উদ্ভব ঘটেছে হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনের যাদের কাজ হল মানবজাতিকে হুমকির হাত থেকে রক্ষা করা।কাহিনীর নায়ক ২৫ বছরের বেকার যুবক সাইতামা যে কিনা হিরোইজমকে তার জীবনের পরমব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে।তবে সে হিরোগিরি শুধুমাত্র নিজ খেয়ালেরই বশে।কিন্তু নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিদের নিয়ে সাইতামা একদমই সন্তুষ্ট নয় কারণ তার মাত্র এক ঘুষিই সব ভিলেনকে হারানোর জন্য যথেষ্ট।ভাগ্যের ফেরে সাইতামার সাথে দেখা হয়ে যায় সাইবর্গ জেনোসের যে কিনা প্রতিশোধস্পৃহার আগুনে প্রজ্বলিত।সাইতামার অতিমানবিক শক্তির নমুনা পেয়ে জেনোস সাইতামার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে।পরে জেনোসের পরামর্শেই সাইতামা হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনে যোগদান করে।অতিব শক্তিশালী হওয়ার পরও খুব কম মানুষই সাইতামার প্রতিভা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।বীরত্বসূচক কর্মকান্ডের অভাবে সাইতামাকে তার সহকর্মী এবং জনগণের সম্মান পেতে প্রচুর সংগ্রাম করতে হয়।এই C ক্লাস হিরো কি পারবে সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করতে?সাইতামা কি পারবে সকলের মন জয় করতে?
¤
মাত্র বারো পর্বের এনিমে হলেও OPM এ অসংখ্য চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে।একমাত্র শিষ্য জেনোস,আইনের সাইক্লিস্ট মুমেন রাইডার,প্রবীণ হিরো সিলভার ফ্যাং, tsundere টর্নেডো,গর্বিত তলোয়ারবাজ অ্যাটমিক সামুরাই,রহস্যময়ী মেটাল নাইট,আরো রহস্যময়ী ড্রাইভ নাইট,ঘাড়ত্যাড়া আমাই মাস্ক এবং হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য হিরোরা যথেষ্ট বিনোদনদায়ক ছিল।তাদের ভিন্নধর্মী চরিত্র ও আদর্শ আমাদেরকে যথেষ্ট হাসির খোরাক জুগিয়েছে।আর ভিলেনদের কথা তো বলাই বাহুল্য।তাদের লেকচারের তুবড়ির মুখে সাইতামার হতাশাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আপনার মুখে হাসি আনবেই।তাছাড়া অনেক ভিলেনের মধ্যেই অন্য শৌনেন এনিমের ভিলেনদের প্রতি করা ব্যঙ্গ আপনি স্পষ্ট ধরতে পারবেন।মাত্র বারো এপিসোডে এতগুলো চরিত্রকে অবশ্য ভালো করে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় নি।আশা করি স্যিকুয়েলে এ ঘাটতিটা পূরণ করা হবে।
¤
এনিমেটার সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিকের একটি হলো ফাইট সিনগুলা।যদিও সাইতামার এক ঘুষিতেই ফাইটগুলা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।কিন্তু শেষের দিকের দুইটি বস ফাইট আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।শেষ ফাইটটিতে অসাধারন গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে।মুহুর্মুহু টুডি আর থ্রিডি গ্রাফিক্সের ছড়াছড়িতে চোখ ঝলসে যাওয়ার মত অবস্থা।এছাড়া জেনোসের ফাইটগুলো খুবই ফ্ল্যাশি এবং মেইনস্ট্রিম মনে হয়েছে আমার কাছে।এনিমেটাতে কেউই আজাইরা নীতিকথার বুলি কপচাবে না,ফ্ল্যাশব্যাকও নেই আর ফিলার তো নেই ই।ফাইটের মধ্যে সাইতামার ভাবলেশহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হলেও আস্তে আস্তে মানিয়ে নিতে পারবেন।
¤
এনিমেটার সাউন্ডট্র্যাক অনেক ভালো ছিল।সাইতামা আর মুমেন রাইডারের অ্যাপিয়ারেন্সের সময় বাজা হেভি মেটাল মিউজিক আমার খুবই ভালো লেগেছে।আর জ্যাম প্রজেক্টের গাওয়া opening song ‘The Hero’ আপনার রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে বাধ্য করবে।মূলত ওপেনিং সংয়ের এই দুইটি লাইন “I don’t want applause, or people praising my name” যেন সাইতামার মাহাত্ম্যকে পুরোপরি ঘোষণা করে।এন্ডিং সংটা আশ্চর্যজনকভাবে অনেক soothing ছিল।লাস্ট ফাইটের সময় অস্থিরভাবে The hero এর ফুল ভার্সন বেজে উঠে আর আমিও পারলে লাফ দিয়ে উঠি।(লাস্ট ফাইটে গানের ফুল ভার্সন দেওয়া মেবি একটা ভালো ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে।)
¤
আপাতদৃষ্টিতে OPM কে একটি প্যারোডি শো ব্যতিত কোন কিছু আপনার মনে নাও হতে পারে।আমিও প্রথম পাঁচ-ছয় পর্বে রিভিউ লেখার মত কোন উপাদান খুঁজে পাচ্ছিলাম না।কিন্তু Deap sea king এর সাথে লড়াইয়ের পর সাইতামার স্বেচ্ছায় কৃতিত্ব বিসর্জনের জায়গাটা আমার অন্তরাত্মায় আঘাত করে।আমিও চিন্তা করতে শুরু করি, সাইতামা কি আসলেই মানুষের প্রতিক্রিয়াকে কেয়ার করে না?সেকি এতটাই ইস্পাতকঠিন স্নায়ুর অধিকারী?কৃতিত্ব দিবি না ভালো কথা তাই বলে প্রতারক বলে অপমান করবি?এইসব জিনিস এখনও আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।আমার কেন জানি মনে হয়,মানুষের এই প্রতিক্রিয়া সাইতামার মনে বিশাল দুঃখবোধের জন্ম দিচ্ছে।সাইতামা কিন্তু এই জেদকে সঙ্গী করেই সামনে এগিয়ে যায়।কিন্তু সাইতামা কি বাধ্য হবে মানুষের এই আবেগের সামনে হার মানতে?
¤
এখন এনিমের দ্বিতীয় সিজনের প্রতীক্ষায় আছি।সাইতামার best male character হওয়াতে এখন আর অত্যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।এখনই এটাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা বলাটা বোকামি হলেও একেবারে ফালতু সিরিজ বলাটাও হবে চরম বোকামি।তাই আবেগকে দমিয়ে রেখে এনিমে দেখুন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।