Behind the Voices – 19

 

Yonaga Tsubasa

ইয়োনাগা সুবাসা সাধারণত ছোট ছেলে অথবা কিশোর এরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ব্যপকভাবে পরিচিত । তার কণ্ঠতেই আলাদা একটা বাচ্চাদের মত টান আছে এবং এর জন্যেই এরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ায় তার এত দক্ষতা । তার ট্র্যাপ চরিত্রেরও কণ্ঠ দেওয়ার খ্যাতি আছে । তবে ইয়োনাগা সুবাসা কিন্তু অনেক পরিচিত কণ্ঠ অভিনেতাদের তুলনায় বয়সে বড় ।

ইয়োনাগা সুবাসা সবচেয়ে বেশি পরিচিত তার Free! আনিমেটিতে নাগিসা চরিত্রটির জন্য । তবে এছাড়া তার আরও বেশ কিছু চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিতি আছে, চরিত্রগুলো হল Cardfight Vanguard!-এর সেন্দৌ আইচি, Ookiku Furikabutte-এর রেন মিহাশি, Chihayafuru-এর ডেস্কতোমু এবং Arcana Familia-এর নোভা । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল Yowamushi Pedal-এর মানামি, Tasogare Otome x Amnesia-এর তেইচি নিয়া, Free!-এর নাগিসা Chihayafuru-এর ডেস্কতোমু এবং Donten ni Warau-এর চূতারৌ ।

তিনি এখনও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকেন নাই । তবে Free!, Arcana Familia এবং Yowamushi Pedal এই আনিমেগুলোর কাস্টের সঙ্গে দলীয়ভাবে আনিমেগুলোর কয়েকটি এন্ডিং গেয়েছেন ।

তার জন্ম জানুয়ারি ১৫, ১৯৮৪ এবং সেইয়ূ ইয়ুকা নিশিগাকির সঙ্গে তিনি বিবাহিত । তার কণ্ঠ অভিনয়ের কাজ বেশ ভালোই লাগে, তাই সামনে তার আরো ভালো ভালো রোল দেখবো এ নিয়ে আশাবাদী ।

Yonaga Tsubasa

 

Tanaka Rie

তানাকা রিয়ে তার আবেদনময়ী কণ্ঠের জন্য ভক্তদের সবচেয়ে বেশি পরিচিত । একসময় প্রতি সিজনেই ভালো পরিমাণ রোল পেলেও আজকাল তার রোল একেবারেই নেই । তবে একজন দক্ষ কণ্ঠ অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি সে আগেই গরে নিয়েছেন ।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল Mobile Suit Gundam Seed-র ল্যাকাস ক্লাইন, Chobbits-র চি এবং ফ্রেয়া, Hayate no Gotoku-র মারিয়া, Rozen Maiden-র সুইগিন্তৌ । কিছু আনিমেতে একাধিক রোলও দিয়েছেন তিনি, তার এক উদাহরণ হল Katekyo Hitman Reborn! । এই আনিমেটিতে মূলত বিয়াঙ্কির কণ্ঠ দিলে পাশাপাশি হিবার্ড এবং উরির কিউট কণ্ঠও সে দিয়েছে । এছাড়া কুকুর এবং বিড়াল পালার জন্যও তার খ্যাতি আছে । তার অনেক রোলই আমার বেশ পছন্দ । আনিমে ইন্ডাস্ট্রির সাথে সে জড়িত ১৯৯৭ সাল থেকে । হাইস্কুল শেষ করার পরপরই, সে টোকিয়োর এক নামকরা আনিমেশন কম্পানির সাথে কাজ করে এবং তার কিছু চরিত্রের গানের রোলটাও সে নেয় ।

তবে সবচেয়ে পছন্দের রোল হল ৩ টা Katekyo Hitman Reborn!-এর বিয়াঙ্কি, Girls und Panzer-এর নিশিযুমি মাহো এবং Hayate the Combat Butler-এর মারিয়া । এছাড়া Chobbits-এর চি এবং Tears to Tiara-এর ওক্টাভিয়া এই দুইটা রোলও বেশ পছন্দ ।

অনেক আনিমের ইন্সার্ট সং, ওপেনিং এবং এন্ডিং গেয়েছেন তিনি । তবে এমনে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত হয়ে তিনি তেমন একটা সাফল্য পায় নাই । সে এই পর্যন্ত 24 Wishes এবং Garnet নামক এই দুইটা অ্যালবাম বের করেছেন । এছাড়া তিনি Steel Angels নামক এক গায়িকাদের গ্রুপের সদশ্য, যার বাকি দুইজন সদশ্য এনোমোতো আৎসুকো এবং কুরাতা মাসায়ো এই দুইজন সেইয়ূ ।

তার জন্ম ৩ জানুয়ারি, ১৯৭৯ এবং কণ্ঠ অভিনেতা কৌইচি ইয়ামাদেরার সঙ্গে বিবাহিত । তিনি একজন অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রী এবং অনেক নতুন তাকে রোল-মডেল হিসেবে দেখে ।

Tanaka Rie

অ্যানিমে সাজেশন- কামিসামা হাজিমেমাশিতা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

দেখে শেষ করলাম কামিসামা হাজিমেমাশিতা সিজন ১। বাবার খামখেয়ালিপনার কারণে গৃহহারা হওয়া নানামি হঠাৎ করে পেয়ে বসে আস্ত একটা শ্রাইন আর সেইসাথে আর্থ গড হবার সম্মান। সেই শ্রাইনের হেরাল্ড তোমোয়ের সাথে নানামির সম্পর্কের ধীরে ধীরে উন্নতি, তাদের দৈনন্দিন জীবন ও অন্যান্য হেরাল্ড এবং ইয়োকাইদের সাথে তাদের ইন্টের‍্যাকশন নিয়ে এগিয়ে চলে অ্যানিমের কাহিনী, এবং অবশ্যই সাথে রোমান্সের খুনসুটি।

Screenshot_2016-04-07-17-55-50

প্রথমেই যে কথাটা মাথায় এল শেষ করার পর, শৌজো অ্যানিমের ক্লিশে- কোন একটা ছুতা বাইর করাই লাগবে সবকয়টা বিশৌনেনের সাথে রোমান্টিক মোমেন্ট দেখানোর। -_- এই কন্ট্র‍্যাক্ট সিল করার ছুতায় যে কত কাহিনী করল :v :v যাহোক, সেটা বড় কোন সমস্যা না, কারণ ওভার অল অ্যানিমেটা অনেক ভাল লেগেছে আমার। আর্ট ডিসেন্ট, কমেডি অনেক ভাল, হেসেছি অনেক; সবচেয়ে বড় কথা একেবারেই ফোর্সড কমেডি লাগেনি।

Screenshot_2016-04-07-13-34-31

এবার বলি যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে – ওএসটি। আমি সাধারণত ওপেনিং এন্ডিং স্কিপ করে যাই, এই অ্যানিমেটার ক্ষেত্রে একটাও স্কিপ করতে পারিনি। গান দুটো যতবার শুনেছি, আমার নাচতে ইচ্ছা করেছে!! আর অ্যানিমের ভেতরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও সুন্দর; বিশেষ করে একেবারে শেষ এপিসোডের কাগুরা ডান্সটা অসম্ভব ভাল লেগেছে, রিপিট করে করে দেখেছি। কাহিনীটা কোথাও থমকে যায়নি, একটা নির্দিষ্ট পেসিং ধরে রেখেছে। আর তোমোয়ে যেভাবে নিজের জেদ বিসর্জন দিয়ে নানামিকে মন থেকে আসা কথাটা বলে দিল, এটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে।

Screenshot_2016-04-07-19-39-01

সবমিলিয়ে বেশ ভাল একটা শৌজো অ্যানিমে ছিল এটি, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

Screenshot_2016-04-07-19-42-27

 

Behind the Voices – Special Episode 01

 

Akasaki Chinatsu

আকাসাকি চিনাৎসুর অভিষেক কায়ানো আই, মায়া উচিদা এবং তানেদা রিসা তাদের সঙ্গে প্রায় কাছাকাছি সময়েই। রোলের পরিমাণ তুলনা করলে তাদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আকাসাকি চিনাৎসু। তাদের তুলনায় নাম-ডাকও তেমন নেই । তবে চিনাৎসুর কিছু কিছু সলিড রোল আছে যার মাঝে তিনি নিজের সেরাটা দিয়েই পার্ফম করেছে এবং এমনভাবে তুলে ধরেছে যে সেই চরিত্রটি তার চেয়ে আর কেউ ভালোভাবে তুলে ধরতে পারবে না। অন্তত এই রোলগুলোর জন্য আকাসাকি প্রশংসনীয়।

তার সেরা রোলগুলো হল Shokugeki no Souma-র অ্যালিস নাকিরি এবং Chuunibyou demo Koi ga Shitai-র নিবুতানি শিঙ্কা। তার করা রোলগুলোর মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দ Love Lab-এর মাকি নাৎসুয়ো। চরিত্রটা তার চেয়ে সুন্দর করে তুলে ধরতে পারবে না আর কেউ, অন্তত আমার তা মনে হয়। এছাড়া Oreshura-র হারুসাকি চিওয়া এবং Gingitsune-র ইকেগামি ইয়ুমি এই দুটো রোল বেশ পছন্দের সাথে Shokugeki no Souma-র অ্যালিস নাকিরি এবং Chuunibyou demo Koi ga Shitai-র নিবুতানি শিঙ্কা তো আছেই।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে তেমনভাবে জড়িত নয়। তবে Chuunibyou demo Koi ga Shitai, Fantasia Doll এবং Oreshura-র ওপেনিং/এন্ডিং সেই আনিমেগুলোর কাস্টের সাথে গেয়েছেন।

তার জন্ম August 10, 1987। এতদিন পর্যন্ত খুব বেশি একটা ক্ষ্যাতি না থাকলেও আজ-কাল বেশ নামডাক শুনা যাচ্ছে তার।

Akasaki Chinatsu

 

Takamori Natsumi

তাকামোরি নাৎসুমি এমন একজন সেইয়ূ যার নামডাক একেবারেই নেই বললে চলে । তার মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা মানুষ মনে রাখবে এরকম রোল আছে আর খুব কমই এমন সব রোল পান তিনি। তবে তার যে কয়টা চরিত্র চিনি ওর থেকে যাচাই করলে বেশ ভালো কণ্ঠ অভিনয়ই করেন তিনি সাথে তার কণ্ঠটা কিছুটা ব্যতিক্রমী।

তার জনপ্রীয় রোলগুলো হল Another-র মিসাকি মেই, Sakurasou no Pet na Kanojo-র কামিগুসা মিসাকি এবং Highschool DXD-র সৌনা সিট্রি। অথচ এই তিনটা চরিত্রের স্বভাব তিন রকম, আনিমে ৩টি দেখা থাকলেই বুঝতে পারবেন কি বুঝাইসি। তার সবচেয়ে পছন্দের রোল আমার Sakurasou no Pet na Kanojo-র কামিগুসা মিসাকি আর ১ পর্বের জন্য হলেও SKET Dance-এ মিসাকি নামের চরিত্রটিও আমার বেশ ভালো লেগেছে (এই মহিলা কয়টা মিসাকি করে, মাত্তাকু) সাথে Highschool DXD-র সৌনা সিট্রি রোলটাও ভালো লাগসে। Jojo’s Bizzare Adventures: Stardust Crusaders-এর কোন এক পর্বে পলনারেফের সাথে কিছুখনের জন্য জৌতারোও ছোট হয়ে যায় তখন সেই পিচ্চি জৌতারোর কণ্ঠও দিয়েছিলেন তিনি, তবে জৌতারোর আসল সেইয়ূ হল ওনো দাইস্কে। Girls und Panzer-এর মুভিতেও তার একটি রোল আছে, St.Gloriana-এর নতুন সদশ্য রোজ হিপ (Blu-ray বাইর হইয়া গেসে নেটে এখনো আসে না কেন)।

Sakurasou no Pet na Kanojo, Houkago no Pleiades, Denki ga Honya-san, Pretty Rhythm এই আনিমেগুলোর ওপেনিং অথবা এন্ডিংয়ে তার কণ্ঠ ছিল। তার জন্ম February 14, 1987। সব মিলিয়ে ভালো কণ্ঠ-অভিনেত্রী, সামনে তার আরও রোল দেখতে চাই।

Takamori Natsumi

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart [Movie Review] — Okkhor Zaman

Anthem of the Heart

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart

জনরা: ড্রামা
MAL রেটিং: 8.34
আমার রেটিং: 8.50
সময়: ১ঘন্টা ৫৯ মিনিট

আমরা নিজেদের মুখের শব্দকে ইচ্ছামত ব্যাবহার করি। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বা বিভিন্ন জায়গায় আমরা একে অন্যের নানা ভাবে আলোচনা সমালোচনা করি।।

কিন্তু কখন ও কি ভেবে দেখেছেন এই সব ছোট ছোট কথা একজন মানুষের জীবনে কত্ত বড় প্রভাব ফেলতে পারে!?

এমন ই চিন্তাকে মাথায় রেখে মুভিটার গল্পের শুরু মুভিটার মূল চরিত্র Jun Naruse। চঞ্চল দুরন্ত এই ছোট্ট মেয়েটি তার মনের সব অনুভূতি গুলো সবাইকে জানাতে চায়। কিন্তু Jun এর জীবন এক কষ্টকর অধ্যায় শুরু হয় যখন সে তার বাবাকে স্থানীয় এক ‘লাভ হোটেল’ এ অন্য এক মহিলার সাথে দেখে তা না বুঝেই তার মাকে বলে দেয়। ফল স্বরূপ তার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। বাবা মায়ের ডিভোর্স এর জন্য সে নিজেকে দায়ী করে।
এরপর কাছের এক পাহাড়ে সে এক Egg Prince এর দেখা পায়। এবং সে Egg Prince এর কাছে মিনতি করে যাতে তার কথার দ্বারা আর কেউ কষ্ট না পায়। Egg Prince, Jun কে curse দিয়ে তার কথা বলার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। এর পর জুনের জীবনের বেশ কয়েক বছর কেটে যায়…..

সে এখন হাই স্কুলে পড়ে সেই Curse এর কারণে সে এখন ও কথা বলে নি, বলতে পারে না। তবে কাহিনী এক নতুন মোড় নেয় যখন তাদের টিচার Jun সহ আরো ৩ জনকে community outreach ইভেন্ট এর দ্বায়িত্ব দেয়। এখানেই Jun এর সাথে Takumi Sakagami এর বন্ধুত্ব হয় এবং সে আস্তে আস্তে Jun এর কথা বলার ক্ষমতা পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে…….
এভাবেই কাহিনী শেষের দিকে অগ্রসর হতে থাকে…..

মুভিটা আনোহানা অ্যানিমের টিম দ্বারা তৈরী। এটিতে কথা না বলতে পারা মানুষের কষ্ট চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটিতে বেশ কিছু মোটিভেশনাল পার্ট ও আছে। তবে এন্ডিং টা অনেকের কাছে একটু ঝাপসা লাগতে পারে। কিন্তু ওভার অল চমৎকার একটা মুভি…..

না দেখে থাকলে এক্ষুণি বসে যান।

Bakemono no Ko/ The boy and the Beast [Movie Review] — Urmi Nishat Nini

Bakemono no Koমুভি: Bakemono no Ko/ The boy and the Beast
My anime list rating: 8.5/10
My personal rating: 9/10
লেখক এবং ডিরেক্টর: Mamoru Hosoda

কাহিনি বেশ ভিন্ন ধরনের। গল্পের শুরু নয় বছরের এক ছেলে রেন কে দিয়ে।যার মা মারা গিয়েছে রোড এক্সিডেন্ট এ। অনেক আগেই বাবা আর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে।বাবার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। মা মারা যাওয়ার পর রেন তার গার্ডিয়ানদের সাথে থাকতে প্রত্যাখান করে। পালিয়ে চলে আসে একা, রাস্তায় কয়দিন ভবঘুরের মত ঘুরে। এমন সময় সে রাস্তায় ২ জন “Beast” এর দেখা পায়, যাদের মধ্যে একজন তার সাথে কথা বলে এবং হটাৎ করে তার সাথে যেতে বলে। অবাক রেন এর ঘোড় কাটতে না কাটতে ওই ২ জন অদৃশ্য হয়ে যায়।
এরপর পুলিশের হাত থেকে পালাতে পালাতে একসময় হঠাৎ রেন ওই beast কে আবার দেখতে পায়। কিছুটা দোটানা আর কৌতূহলের বশে সে পিছু নেয়। তারপর এসে ঢুঁকে এক অদ্ভুত এলাকায়, যেখানে সব বাসিন্দা হল ওই কথা বলা , বৃহৎ আকৃতির প্রাণী বা Beast। সেই Beast কে রেন খুজে পায়।তার নাম হল Kumatetsu.
Kumatetsu তার শিষ্য হিসেবে মানুষ্ কে, মানে রেনকে বেছে নেয়। Kumatetsu মাস্টার হতে চায় বটে, কিন্তু তার মাঝেও ছেলে মানুষি এখনও রয়ে গেছে। রেন প্রথমে থাকতে না চাইলেও পরে থেকে যায়।
শুরু হয় রেন আর কুমাতেতসু এর কাহিনি।এটা অন্য কাহিনির মত নয়, যে master শিখাচ্ছে আর student শুধুই শিখছে। এখানে master আর student ২ জন ই একে অপর থেকে শিক্ষা নেয়। শুধু শিক্ষা নেওয়ার মাঝে গল্প সীমাবধ্য না। এর মধ্যে গল্প না না দিকে মোড় নিতে থাকে। পুরোটা সময় গল্প দর্শকদের ধরে রাখার মত। কাহিনি এর শেষে হতাশ হবেন না। 🙂
হাতে সময় থাকলে মুভিটা দেখে ফেলুন। এনিমেশন হল স্টুডিও chizu এর যারা “The Girl who Leapt Through The time”, “Wolf Children” এর মত মুভি বানিয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এনিমেশন বেশ দেখার মত। আমার আসলেই ভালো লেগেছে মুভিটা।মুভিতে মিউজিক ও সুন্দর।

Love Lab [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Love Lab 1

[ANIME REVIEW]

Anime – Love Lab
Episodes – 13
Genre – Romance, Comedy, School

এই ধাঁচের আনিমের কাহিনী সবসময়ই বেশ সিম্পল হয়, লাভ ল্যাবও তার ব্যতিক্রম নয় । কাহিনীর মুলত মাকি এবং রিকো এই দুই চরিত্রকে ঘিরেই গড়ে উঠে । কাহিনীর শুরুটা হয় ঠিক রিকো কোন এক কাজে স্টুডেন্ট কাউনসিল রুমে ঢুকেই মাকির এক ডার্ক সিক্রেট বের করে ফেলে । সেখান থেকেই শুরু হয় আমাদের মূল দুই চরিত্র মাকি এবং রিকোর ভালোবাসা নিয়ে গবেষণা । অন্তত টাইটেলের সাথে মিলিয়ে কাহিনীটা রেখেছে । শুধু যে এ দুইজনকে নিয়েই তা কিন্তু না, পর্যায়ক্রমে আনিমেটির ৫ জন প্রধাণ চরিত্রের বাকি ৩ জনও চলে আসে । কাহিনী মূলত স্টুডেন্ট কাউন্সিলদের ভালোবাসা নিয়ে গবেষণা এটা বলেই চালিয়ে দেওয়া যায় ।

তবে আনিমেটির কাহিনীতে ব্যতিক্রম কিছুও আছে । সাধারণত এই সকল আনিমের কোন নির্দিষ্ট কাহিনী থাকে না অনেকটা খাপছাড়া গতিতে চলে শেষ হয়ে যায় কিন্তু লাভ লাব কিন্তু তা নয় । পুরো ১২ টা পর্ব মনে হবে খাপছাড়া কিন্তু ১৩ নম্বর পর্বটা বেশ ব্যতিক্রমধর্মী একটি পর্ব ছিল এবং আনিমেটা যেভাবে শেষ করেছে তাকে আমার মতে পার্ফেক্ট এন্ডিং বললেও চলে । যদিও এর দ্বিতীয় সিজন অবশ্যই চাই ।

Love Lab 2

আনিমেটার মত মন খুলে হাসানোর মত আনিমে খুব কমই আছে, সিরিয়াস মুহূর্তেও হাসাবে । তবে পুরা আনিমেতেই যে ফাইজলামি সেটা বললে ভুল, অনেক মুহূর্তও ছিল যেখানে আপনার মন অনেকটা খারাপ করে দিবে অথবা চিন্তায় ফালায় দিবে । কিন্তু তাদের ফাইজলামিগুলো দেথার মত ছিল । কাহিনীটা যত পর্ব যাবে তত ভালো হতে থাকবে, তত বেশি উপভোগ্য হতে থাকবে ।

আনিমের ওপেনিংটা বেশ আনন্দদায়ক, এন্ডিংটাও ভালো ছিল । মিউজিক এবং আর্ট দুইটাই আনিমেটির উপযোগী এক পার্ফেক্ট মূড তৈরি করায় সক্ষম ছিল ।

আনিমেটির কাস্টে মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগু, হায়ামি সাওরি, সুগিতা তোমোকাজু, হিদাকা রিনা, উচিয়ামা কৌকি এদের মত বড় বড় নাম ছিল ঠিকই কিন্তু সব পার্শ চরিত্র হিসেবে, যাদের স্ক্রিনটাইম অনেকটা পর্বের মাঝে অল্প কিছু সময়েই সীমাবদ্ধ । মূল ৫ জন চরিত্রের মাঝে তানাহাশি এবং এনোর সেইয়ূ মিনাসে ইয়োরি এবং সাকুরা আয়ানেরই বেশ নামডাক আছে আর এই দুই চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয়েও বরাবরের মতই তারা অসাধারণ ছিল । মাকির কণ্ঠে আকাসাকি চিনাৎসুর কাজ নির্ভুল ছিল । সাথে রিকোর কণ্ঠে নামাকুরা মানামির কাজও বেশ প্রশংসনীয় এবং খুব বেশি একটা রোল নেই তার কিন্তু এরপর যে কয়টা রোল পেয়েছে তার বেশিরভাগই রিকোর ধাঁচের চরিত্র তো বুঝে নিন এই রোলটা তার কতটা অসাধারণ ছিল । তাইচি ইয়ৌ-এরও মিজুশিমার রোলটা বেশ ভালো ছিল, উনি যে কয়টা রোল করেছে সবগুলোর ক্ষেত্রেই এই গভীর স্বরটাই ব্যবহার করেছে তাই ধরতেও অসুভিধা হয় না যদিও রোল করেছেই খুব কম ।

সব মিলায় আমার মতে উপভোগ করার জন্য পার্ফেক্ট জিনিশ, তাই সময় নিয়ে দেখে ফেলুন লাভ ল্যাব নিশ্চিত পছন্দ করবেন ।

Love Lab 3

Gintama [Anime Review] — Asiful Alam Ayon

Gintama

এনিম: গিনতামা
এপিসোড: ৩১৬
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং
স্টুডিও: Sunrise Inc.
ম্যাল রেটিং: 9.33
ব্যক্তিগত রেটিং: 9.89

মাংগাকা হিদেয়াকি সোরাচির অনবদ্য সৃষ্টি এই গিনতামা। ২০০৩ সালে মাঙ্গা আর ২০০৬ সালে প্যারোডি এনিম হিসেবে মুক্তি পায় এটি। এরপর থেকে এর মোট তিনটি সিজন ও দুইটি মুভি মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে ম্যালের (myanimelist) শীর্ষ দশের মধ্যে পাঁচটি স্থানই দখল করে রেখেছে গিনতামা।
অনেকেই মনে করেন গিনতামার কোন স্টোরি নেই। কিন্তু, এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। গিনতামার স্টোরি আছে এবং এটা যেকোন শৌনেন এনিমের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতই।

সিনোপসিস: যখনকার কথা তখন এডো পিরিয়ড। আমান্তোরা (এক ধরনের এলিয়েন) আক্রমণ করে বসল মানবজাতির উপর। শুরু হল যুদ্ধ। যুদ্ধে যোগ দিল সামুরাইরা। কিন্তু যুদ্ধের এক পর্যায়ে বাকুফু (সরকার) বিশ্বাসঘাতকতা করে আমান্তোদের কাছে আত্নসমর্পণ করে। তারপরেও যুদ্ধ চালিয়ে যায় সামুরাইরা। যদিও ক্রমেই আমান্তোদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে তারা। তা সত্ত্বেও একজন সামুরাই ছিল যে কিনা পাথরের মত অবিচল। সাদা চুলের সেই সামুরাই, যার ডাকনাম শিরোইয়াশা (white demon) আজো অনেকের শরীরে শিহরণ এনে দেয়, বারবার যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুকে আক্রমণ করতে তিনিই আমাদের গল্পের নায়ক সাকাতা গিনতোকি। কিন্তু, এক সময় যুদ্ধ শেষ হয়। আমান্তোদের পুতুল হয়ে যায় বাকুফু। সামুরাইদের কাতানা কেড়ে নেওয়া হয়। সর্বত্র এখন আমান্তোদের প্রভাব।
সাকাতা গিনতোকিকে কেউ আর শিরোইয়াশা নামে চিনে না। কাবুকিচোর এক বাড়ির দ্বিতীয় তলায় তার অফিস। নাম ইয়োরোজুয়া (odd jobs)। অফিসের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সে। সাথে সামুরাই কাম ওটাকু শিনপাচি শিমুরা আর কাওয়াই কাগুরা-চান। “আমরা সব করি” এটার মানেই ইয়োরোজুয়া। শিনপাচি আর কাগুরাকে নিয়ে গিনতোকির জীবনে আসে পরিবর্তন। হাস্যরসে ভরা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কাহিনী নিয়েই গিনতামা।
গিনতামা ভালো লাগে এই দুইটা পার্টের অর্থাৎ অতীত আর বর্তমানের মিশ্রণের জন্যই। সিরিয়াস আর্ক যখন চলে তখন সবকিছুতেই সিরিয়াস ভাইব। সিরিয়াস আর্ক গুলা (বেনিজাকুরা আর্ক, কাবুকিচো আর্ক, শোগুন অ্যাসাসিনেশন আর্ক ইত্যাদি) না দেখলে আপনার বিশ্বাসই হবে না মজার মজার এই চরিত্র গুলা এতটা সিরিয়াস হয়ে উঠতে পারে!! আর এই মেইন প্লটের আর্ক গুলা ছাড়া বাকি পুরোটা সময় গিনতামা আপনাকে দিয়ে যাবে নিখাদ বিনোদন!! কিছু পর্বের শেষের মিনি স্পেশাল “গিনপাচি সেনসেই” যেমন আপনাকে পেটে হাত দিয়ে হাসাবে তেমনি মানানসই সাইন্ডট্র্যাকের সাথে দুর্ধর্ষ মারামারিগুলো আপনাকে যেন নিয়ে যাবে এনিমের গহীনে আর করে তুলবে উত্তেজিত। (তবে চিন্তার কারণ নেই, উত্তেজিত হয়ে হাতের চাপে গ্লাস ফাটিয়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটবে না xD ) গিনতামার স্টোরিতে আপনি কখনো কোন খুঁত খুঁজে পাবেন না, কেন জানেন? কারণ আপনাকে হাসাতে হাসাতে সেই ভুল তারা সংশোধন করে ফেলবে।

আর্টওয়ার্ক: আর্টওয়ার্ক এমন আহামরি কিছু না আবার খারাপও না। নিজেরাই নিজেদের আর্টওয়ার্ককে ট্রল করে। আসলে হাস্যরসে আর মারামারিতে আপনি এতটাই মগ্ন হয়ে থাকবেন আর্টওয়ার্ক নিয়ে খুব একটা ভাববার অবকাশ পাবেন না।

মিউজিক: গিনতামাকে মিউজিকে আমি দশে দশ দিব। নামকরা সব গায়ক আর ব্যান্ডদের দিয়ে গাওয়ানো সাউন্ডট্র্যাক আর গান গুলা আপনার ভালো লাগতে বাধ্য। প্রত্যেকটা গানই বারবার শুনতে মন চাইবে।

গিনতামার ভয়েস ক্যাস্টও ফেলনা না। আছেন অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সুগিতা তোমোকাজু (জোসেফ জোয়েস্টার, সাকাতা গিনতোকি এদের সেইয়ু) আর আমাদের অনেক চেনা ও প্রিয় ক্যারেক্টারের (আলফন্স এলরিক, আইসাকা তাইগা, হ্যাপি, কাগুরা ) ভয়েস দেওয়া কুগিয়ামা রিয়ে।

গিনতামা কেন দেখবেন তার কারণ বলি এবার। গিনতামা দেখবেন সাকাতা গিনতোকির জন্য। আর কোন শৌনেন এনিমের প্রোটাগোনিস্ট গিনতোকির মত নাক খুঁটে না!! xD সাকে পান করে কথায় কথায় মাতাল হয় না!! গিনতোকি আমার দেখা চরিত্রগুলার মধ্যে অন্যতম ব্যাডঅ্যাস। এছাড়াও এনিমটাতে ঐতিহাসিক শিনসেনগুমি আর ওনিওয়াবানশুর দেখা পাবেন । খুব কম এনিমেতেই যাদের দেখানো হয়েছে। প্রধান তিন চরিত্র গিনতোকি, শিনপাচি, কাগুরা ছাড়াও অনি নো ফুকুচো (Demon Vice Chief) তোশিরো হিজিকাতা, গরিলা কনদো ইসাও, স্যাডিস্টিক শৌগো ওকিতা, মাতসুদাইরা, শোগুন শিগেশিগে, ইয়ান্দেরে হোস্টেস ওতায়ে, শিনোবি মাসো (M) সাচ্চান, সুন্দেরে সুকুয়ো, এন্টি রেবেল ফ্যাকশনের নেতা কাতসুরা প্রত্যেকটা চরিত্রই আপনার মধ্যে এক ধরনের ইম্প্রেশন ফেলতে বাধ্য। গিনতামায় কোন সুস্থ মস্তিষ্কের ক্যারেক্টার আপনি খুঁজে পাবেন না বললেই চলে। এই জন্যেই গিনতামা দেখা আবশ্যক।

[অনেকেই ৩০-৪০ এপিসোড দেখে গিনতামা ড্রপ করেন। তাদের অনুরোধ করব পুরোটা দেখতে। তা নাহলে পরে আফসোস করবেন। আগে পুরোটা দেখেন তারপর যত খুশি গিনতামার সমালোচনা করেন আমার কোন সমস্যা নাই।]

Studio Monogatari: Episode 06

আজকের পর্বে থাকছে এমন এক স্টুডিও নিয়ে গল্প, যা আনিমের একদম প্রথম দিক থেকে শুরু করে বর্তমান যুগেও দাপটের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আজ থাকছে তোয়েই অ্যানিমেশনের গল্প।

Toei Animation

1. Toei Animation logo

১৯৪৮ সালে প্রথম যখন স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এর নাম ছিল Japan Animated Films (Nihon Douga Eiga, সংক্ষেপে Nichidou Eiga)। ১৯৫৬ সালে Toei Company Ltd. এটি কিনে নেবার পর নাম হয়ে যায় Toei Douga, তবে তখনও ইংরেজি নাম ছিল Toei Animation Co. Ltd., ১৯৯৮ সাল থেকে পুরাপুরিভাবে স্টুডিওটির নাম পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান নামের রূপ নেয়। ১৯৫৬ সালে তোয়েই দৌগা নামে যাত্রা শুরু পর সে সময়ে অনেক নামীদামী ও গুণী ব্যক্তি এখানে কাজ করে। Osamu Tezuka, Hayao Miyazaki, Isao Takahata, Yoichi Kotabe, Leiji Matsumoto, Yasuo Otsuka-এর মত নামকরা ব্যক্তিদের কর্মজীবনের শুরুর দিকটা কাটিয়েছিল তোয়েই দৌগায়। তোয়েই অ্যানিমেশনের ম্যাস্কট হিসাবে যেই বিড়ালটা দেখা যায় তার নাম Pero, তোয়েই-এর এক আনিমে ফিল্ম Puss in Boots (1969)-এর এই বিড়াল চরিত্রটিই তাদের ম্যাস্কট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আনিমে দেখার জন্যে দর্শকদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল Animax-এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অন্যতম বড় নাম তোয়েই অ্যানিমেশন [সাথে আরও রয়েছে Sunrise, TMS Entertainment, Sony, Nihon Ad Systems]। আনিমে ইন্ডাস্ট্রিকে আসলে তোয়েই অ্যানিমেশনে কাছে ঋণী হয়ে থাকতে হবে আজীবন, কারণ বিশালাকার মেকা, স্পেস অপেরা, শৌনেন, ম্যাজিকাল গার্ল-এর যে বর্তমান ধারণা সেটাকে জনপ্রিয় করার জন্যে তোয়েই অ্যানিমেশনই সবচেয়ে বড় দাবীদার।

2. Toei Big Names

তোয়েই অ্যানিমেশনের উপহার দেওয়া কিছু “প্রথম”:

  • The Tale of the White Serpent: প্রথম রঙিন আনিমে মুভিই শুধু নয়, এটি একইসাথে ছিল প্রথম রঙিন আনিমে। আমেরিকাতে প্রথম ৩টি আনিমে ফিল্ম হিসাবে যেগুলি মুক্তি পায় তার মধ্যে অন্যতম এই মুভিটি।
  • Mazinger Z: মাজিঙ্গার যি-কে প্রথম সফল মেকা আনিমে হিসাবে ধরা হয়। এর আগেও মেকা আনিমে ছিল, কিন্তু ১৯৭২ সালে শুরু হওয়া এই সিরিজই প্রথম মেকা জনরাকে জনপ্রিয় করে তুলে।

3. Toei Firsts

এবার আসি তোয়েই অ্যানিমেশন সবচেয়ে জনপ্রিয় যেসব কাজের জন্যে দর্শকদের কাছে পরিচিত সেই প্রসঙ্গে। এক দৃষ্টিতে নিচের নামগুলি পড়ে যেতে থাকুন, তাহলেই বুঝবেন দর্শক মহলে জনপ্রিয় হবার কারণ হিসাবে তোয়েই অ্যানিমেশনের সবচেয়ে বড় শক্তি কোথায়:

  1. Dragon Ball
  2. Dragon Ball Z
  3. Sailor Moon
  4. Kinnikuman (Muscleman)
  5. Transformers
  6. Pretty Cure
  7. Saint Seiya
  8. One Piece
  9. Yu-Gi-Oh!
  10. Digimon
  11. Toriko
  12. World Trigger

নামগুলি দেখে এতক্ষণে হয়তো জেনে গিয়েছেন আসল কাহিনী। সব ক্যাশকাউ ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশিরভাগই তোয়েইয়ের দখলে। উপরের সবগুলি নাম সমান জনপ্রিয় না হলেও একটা দিক থেকে ভাল মিল আছে এদের মধ্যে – সবগুলি সিরিজই অনেকগুলি পর্বের এবং এদের অনেকগুলিই একাধিক সিজনে বিভক্ত যার প্রত্যেকটিতেই রয়েছে ৫০ থেকে ১০০ করে পর্ব। লম্বা সময় ধরে এয়ার হয়ে গিয়েছে বা এয়ার হচ্ছে এগুলি, এবং দর্শক জনপ্রিয়তা না পেলে সেটা ঠিকমত সম্ভব হতও না।

4. Toei Big Shots

তবে শুধু এগুলিই তোয়েই অ্যানিমেশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ ভাবলে ভুল করবেন। দেখে নিন গত প্রায় ৫৫ বছরের সময়কালে তোয়েইয়ের রেখে যাওয়া জনপ্রিয় কিছু কাজ:

  • ১৯৬০ এর দশক: এই সময়টাতে তাদের বেশিরভাগ কাজই ছিল ডিজনি ধাঁচের বা ডিজনি অনুপ্রাণিত, শুধু কাহিনীর পটভূমি ছিল ট্রেডিশনাল জাপানিজ কালচার: Arabian Nights: Sinbad no Bouken, Samurai Kid, Space Patrol Hopper, Rainbow Sentai Robin, Cyborg 009, Mahou Tsukai Sally, GeGeGe no Kitaro series, Akane-chan, Himitsu no Akko-chan, Tiger Mask
  • ১৯৭০ এর দশক: Kick no Oni, Mahou no Mako-chan, Sarutobi Ecchan, Devilman, Mazinger Z, Cutie Honey series, Getter Robo series, Candy Candy, Space Pirate Captain Harlock, Galaxy Express 999, Dangard Ace, Jetter Mars, The Guardian of Space
  • ১৯৮০ এর দশক: Mahou Shoujo Lalabel, Ganbare Genki, Dr. Slump, Galactic Whirlwind Braiger, Asari-chan, Patalliro!, Ai Shite Knight, Kinnikuman, Stop!! Hibari-kun!, Hokuto no Ken (Fist of the North Star), Dragon Ball, Dragon Ball Z, Ginga Nagareboshi Gin, Saint Seiya, Bikkuriman series, Transformer series, Sakigake!! Otokojuku
  • ১৯৯০ এর দশক: Sailor Moon series, Marmalade Boy, Dragon Ball GT, Aoki Densetsu, Kindaichi Shounen no Jikenbo, Slam Dunk, Yu-Gi-Oh!, Phantom Thief Jeanne, Ojamajo Doremi series, One Piece, Digimon series
  • ২০০০ এর দশক: Kanon (কিয়োঅ্যানির আগে ২০০২ সালে তোয়েই কানোনের একটি আনিমে অ্যাডাপশন নিয়ে আসে), Air Master, Nadja of Tomorrow, Bobobo-bo Bo-bobo, Pretty Cure series, Air Gear, Lovely Complex, Ayakashi: Samurai Horror Tales, Mononoke, Demashita! Powerpuff Girls Z
  • ২০১০ ও এর পরবর্তী সময়: Toriko, Kyousou Giga, Marvel Disk Wars: The Avengers, Majin Bone, World Trigger
  • মুভি: The Tale of the White Serpent, Magic Boy, Alakazam the Great, Arabian Nights: The Adventures of Sinbad, The Little Prince and the Eight-Headed Dragon, Gulliver’s Travels Beyond the Moon, The Puss in the Boots trilogy, Himitsu no Akko-chan, 30000 Miles Under the Sea, Flying Phantom Ship, Ali Baba and the Forty Thieves, Interstella 5555, এবং তাদের প্রায় সব বড় ফ্র্যাঞ্চাইজগুলির প্রত্যেকটির একগাদা মুভি।

5. Toei Anime

তোয়েই অ্যানিমেশন অনেকগুলি ওয়েস্টার্ন অ্যানিমেশন ও কার্টুন সিরিজ নির্মাণে সহযোগিতা করে, যেমন: The Smokey the Bear Show (1969), Spider-Man (1981), The Pink Panther (1981), The Wizard of Oz (1981), G.I. Joe: A Real American Hero (1983–1986), Inspector Gadget (1983), Dungeons and Dragons (1983–1985), My Little Pony (specials) (1984–1985), The Transformers (1984–1987), Defenders of the Earth (1986–1987), The Smurfs (1987–1988), Dennis the Menace (1988), Superman (1988) ইত্যাদি। তাছাড়া তোয়েই অ্যানিমেশনের নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির গেমসহ বেশ কিছু গেমের অ্যানিমেশনেও কাজ করেছে। এসব গেমের মধ্যে রয়েছে One Piece-এর গেমগুলি, Dragon Ball-এর গেমগুলি, Sailor Moon-এর গেম, Chrono Trigger, Ninja Hayate, Cobra Command ইত্যাদি।

তোয়েই আনিমেশনের কাজের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

  • ক্যাশকাউ ফ্র্যাঞ্চাইজ: One Piece, Sailor Moon, Dragon Ball, Transformers, Digimon, Pretty Cure ইত্যাদি জনপ্রিয় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি তোয়েইয়ের জন্যে আর্থিক দিক থেকে বেশ লাভজনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। একারণে সিরিজ শেষ হয়ে গেলেও আমরা সেইলর মুনের রিব্যুট পেলাম গতবছর, সামনে এর আরও অনেক সিকোয়েল আসবে; ড্রাগন বল জি পুরাটা নতুন করে ড্রাগন বল কাই আকারে বের করা হয়েছে এবং এখন চলছে ড্রাগন বল সুপার; অনেক বছর চোখের আড়ালে থেকে আবার জেগে উঠলো ডিজিমন ফ্যাঞ্চাইজ; আর ওয়ান পিস তো সামনের আরও ১০-১৫ বছর আরামসে চলবে, সাথে প্রায় প্রতি এক-দুই বছরের মধ্যে এর একটি করে মুভিও রিলিজ হয়ে থাকে।
  • অ্যানিমেশন কোয়ালিটির পতন: Dragon Ball, One Piece, World Trigger, Sailor Moon – প্রায় সব বড় বড় সিরিজগুলিতে অ্যানিমেশন কোয়ালিটির অবনমন চোখে পরার মত। এর কারণও অবশ্য সিরিজগুলির পর্বের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। শত-শত পর্বের একেকটা সিরিজ বলে এগুলির প্রতি পর্বের পিছে বাজেটের পরিমাণও আর দশটা স্বাভাবিক আনিমের চাইতে কম থাকে।
  • লং রানিং আনিমে: অন্যান্য স্টুডিওগুলি যেখানে দুই কোরের বড় আনিমে সিরিজ করার কথা ভাবেই না সাধারণত, কপাল ভাল থাকলে নতুন সিজন পাওয়া যায় কোন আনিমের, সেখানে তোয়েই অ্যানিমেশন দোর্দন্ড প্রতাপে এখনও শতাধিক পর্বের একেকটি সিরিজ নিয়ে আসছে। World Trigger এখন ৭৩ পর্বে শেষ হয়ে গেলেও কিছুদিন পরেই হয়তো সিকোয়েলের ঘোষণা আসবে। ড্রাগন বল সুপার তো ১০০ পর্বের সিরিজ হবে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ানপিস তো আর কয়েক বছর পরেই হাজার পর্বের ক্লাবে পা রাখবে।
  • লাইসেন্সে অনাগ্রহ: বেশ অনেক বছর থেকেই তোয়েই অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় নিজেদের সিরিজগুলির বাইরের দেশে লাইসেন্স দেওয়াতে অনীহার ব্যাপারটা। Sailor Moon-এর ক্ষেত্রে প্রায় বিশ্বের অনেক দেশেই লাইসেন্স দেবার পর দেখা যায় লংকাকান্ড। একেক দেশে একেকধরণের ট্রান্সলেশন কোয়ালিটি, সেন্সরিং, ভুল ট্রান্সলেশন, ইচ্ছামত এডিটিং ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের কারণে লাইসেন্সিং-এর উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে তোয়েই অ্যানিমেশন। আবার One Piece-এর 4kids ডাবিং ও এডিটিং ভয়াবহ অবস্থায় রূপ নেয়। এই নতুন এডিটিং করার পর দেখা যায় তলোয়ার মানুষকে কাটে না, সিগারেটের জায়গায় চরিত্ররা ললিপপ “ফুঁকে”! মদ জাতীয় পানীয়র জায়গায় জ্যুস, পিস্তলের জায়গায় হাতুড়ি, এমনকি কোন চরিত্রের মৃত্যুর ব্যাপারটা পরিবর্তিত করে দেখানো হয় তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। বাচ্চাদের মনে আঘাত যেন না দেয় এই অজুহাতে এরকম এডিটিং করার ব্যাপারটা অনেক সমালোচিত হয়। এসব বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তোয়েই অ্যানিমেশন বাইরের দেশে নিজেদের শো-গুলি লাইসেন্সিং-এর ব্যাপারে তেমন বেশি আগ্রহ দেখায় না।
  • স্পেস অপেরা: তোয়েই আনিমেশের প্রস্তুত করা আনিমে সিরিজের অনেকগুলি স্পেস অপেরা: Space Pirate Captain Harlock, Galaxy Express 999 ও এর মুভিগুলি, Space Patrol Hopper, Captain Future, Space Emperor God Sigma ইত্যাদি।
  • মেকা আনিমেপ্রীতি: মেকা জনরার আনিমে তৈরিতে তোয়েই অ্যানিমেশনের আগ্রহ চোখে পরার মত: Mazinger Z, Transformers, Getter Robo, Gaiking, Magne Robo Gakeen, RoboDz Kazagumo Hen, Space Emperor God Sigma, Robot Girls Z ইত্যাদি।

তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে দিয়ে এর বিভিন্ন প্রাক্তন স্টাফ-মেম্বাররা পরে যেসব আনিমে স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন:

  • Mushi Production: কন্ট্রাক্ট শেষ হয়ে যাবার পর ওসামু তেজুকা তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে চলে আসেন এবং ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মুশি প্রোডাকশন।
  • Studio Ghibli: ১৯৮৫ সালে তোয়েই-এর প্রাক্তন সদস্য হায়াও মিয়াজাকি ও ইসাও তাকাহাতা প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডিও ঘিবলি।

 

তুলনামূলক খারাপ কোয়ালিটির অ্যানিমেশনের জন্যে তোয়েইয়ের কিছুটা বদনাম থাকলেও এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, অল্প বাজেট নিয়েও একের পর এক বিশালাকার এবং জনপ্রিয় আনিমে তৈরি করে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, তাও আবার ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, যেখানে কিনা অনেক জনপ্রিয় স্টুডিও হলেও বেশ কিছু স্টুডিও সময়ে সময়ে দেউলিয়া ঘোষিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়!

Ars Nova – ফগ পেট্রল বনাম সাবমেরিন I401 — অনন্য রায়হান

Where do we come from?
What are we?
Where are we going?

২০৩৯ সাল…

প্রকৃতির বিরুপ পরিবরতন,বিশ্ব উষ্ণায়ন এর কারণে সমুদ্রের কর্তৃত্ব হারিয়েছে মানব্জাতি।দেশে দেশে সামুদ্রিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন,আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বন্ধ,পুরো পৃথিবী যেন কারাগারে বন্দী।আর তার কারণ নতুন এক পরাশক্তির উত্থান — “Fleet of Fog”

কারা এই “Fleet of Fog” ,কোথা থেকে এদের উতপত্তি,কেউ জানে না।কিন্ত এটুকু সবাই জানে মুক্তভ্রমণ হোক আর বাণিজ্য হোক,কোন নৌযান সমুদ্রে নামলে তাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে এই ফ্লিটের জাহাজগুলো। “Admiralty Code” কোন এক সংবিধান অনুসরণ করে চলা এই বাহিনী পুরো পৃথিবীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।কোনকিছুই “Across The Sea” হতে দেওয়া যাবে না ,হোক সেটা বাণিজ্য,যোগাযোগ বা অন্যকিছু……

Ars Nova 1

এখন লিখছি এনিমে নিয়ে তাহলে এর নিশ্চয়ই কোন প্রোটাগনিস্ট থাকবে যে মানবজাতিকে ফ্লিট অফ ফগের হাত থেকে রক্ষা করার ব্রত নিয়েছে। আবেগের বাত্তি বা মশাল নিয়ে ফ্লিট অফ ফগদের বিনাশের জন্য লম্ফঝম্ফ করছে। না চরমপন্থা বা প্রতিশোধ ছাড়াও পরিবর্তনের তৃতীয় রাস্তা থাকে যা হল সহাবস্থান।ব্যাপারটা পরিষ্কার করার জন্য কোড গিয়াসের রেফারেন্স আনা যেতে পারে।কোড গিয়াসে লেলুশ ছিল চিরায়ত চরমপন্থার প্রতীক,যদিও পরবর্তীতে তার পরিবর্তন হয়েছে।আর সুজাকু কুরুরুগি ছিল উল্লিখিত তৃতীয় রাস্তার অনুসারী। এখন অনেকেই বলবেন সুজাকুর মত মেইন ক্যারেক্টার হলে তো এই এনিমে দেখবোই না।ব্যাপারটা খোলাসা করি,সুজাকু মোটেই একটা পছন্দসই ক্যারেক্টার নয়,আর আমাদের গল্পের নায়ক “চিহায়া গুনজৌ” মোটেই সেরকম নয়।সে তৃতীয় রাস্তায় বিশ্বাসী হলেও দেখে দেখে মার খাওয়া বা সমঝোতার অবকাশ না থাকলেও ব্যর্থ চেষ্টা করে না…

Ars Nova 2

চিহায়া গুনজৌ,একদিন তার ক্লাসরুমে এসে একটি মেয়ে তার খোঁজ করতে থাকে।নাম তার ইওনা,চোখদুটো বড় বড়,তাতে যেন কি একটা নেই,দেখতে মানুষ অপেক্ষা রোবটের মতই লাগে বেশি।আর চিহায়ার মুখোমুখি হওয়ার পর তার কথাগুলো ছিল এরকম – “চিহায়া গুনজৌর খোঁজে এসেছি।তার আদেশ মেনে চলাই আমার লক্ষ্য”

মুশকিল তো,কোত্থেকে এক মেয়ে এসে আপনার স্ত্রীর মত কথা বলে যাচ্ছে— স্বাভাবিকভাবেই বিব্রতকর অবস্থায় পরে যায় চিহায়া। পরে ঐদিন রাতেই চিহায়ার সাথে ইওনার দেখা হয় ডকইয়ার্ডে। সেখানেই নাটকীয়ভাবে জানতে পারে সে ইওনার পরিচয়,ইওনা মানবী নয়,সাবমেরিন I401 এর মেন্টাল মডেল…

তারপরেরটুকু এনিমেটা দেখে ফেললেই বোঝা যাবে। পুরো এনিমেতে ইওনা ছাড়াও আরও দুটো সাবমেরিন এবং বেশ কয়েকটি ব্যাটলশিপ আর হেভি ক্রুইজার দেখা যাবে।এনিমেটির অধিকাংশ সময়টুকুই সমুদ্রে যুদ্ধগুলো নিয়ে।ইওনা ও চিহায়া ছাড়াও ফগের নিজস্ব শিপগুলোর মাঝেও বিধ্বংসী যুদ্ধ দেখা গেছে। আশ্চর্য!! ফগরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়াবে কেন? এই কেন’র উত্তর এনিমেটা দেখলেই পেয়ে যাবেন……

Ars Nova 3 Ars Nova 4 Ars Nova 5 Ars Nova 6 Ars Nova 7 Ars Nova 8 Ars Nova 9

তবে কঙ্গো ছাড়া বাকি শিপগুলোর স্ট্রাকচার,আক্রমণের প্যাটার্ন একইরকম লেগেছে,বোমা বের হওয়া,সুপারগ্রাভিটি ক্যানন ফায়ার করার সময়ের সাউন্ড—কোনটায় পার্থক্য নেই।আর I401 ছাড়া অন্যান্য শিপগুলোর ইন্টেরিয়র এবং ফাংশনাল সিস্টেমের খুটিনাটি কিছুই দেখায়নি……

Mako Sakurai

ভয়েস এক্টিং মনে ধরেছে মাকো সাকুরাই এর…
হেভি ক্রুইজার মায়ার “কার্নিভ্যাল দায়ো” তো অন্য লেভেলের কিউটনেস।পুরো এনিমেটায় মায়ার সংলাপ এলেই বেশ কয়েকবার রিপিট করে শুনতাম।আর মাকো সাকুরাই নাতসু ড্রাগনিলের শৈশবকালের কন্ঠ দিয়েছেন।BON BON BLANCO ব্যান্ডের একজন সদস্য তিনি,এই ব্যান্ডই ওয়ান পিসের ওপেনিং “BON VOYAGE” এর আর্টিস্ট।

যারা মিলিটারি সাইন্স,যুদ্ধাস্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে আইডিয়া রাখেন,তাদের কাছে Ars Nova বেশ কম রেটিং পাবে,কারণ কিছু কিছু ঘটনা বেশ Illogical আরস নোভার, উদাহরণস্বরূপ – কঙ্গোর পানির তলদেশে গিয়ে সুপারগ্র্যাভিটি ক্যানন ফায়ার করা…

আর এনিমের অন্যতম বিশেষত্ব হল ইওনা (I401) র শক্তি ও সমরাস্ত্রে পিছিয়ে থেকেও কেবল স্ট্রাটেজি ও রণকৌশলের বদৌলতে ফগের শিপদের বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধ করা…

OST খুব বেশি অরডিনারি,তবে খারাপ বা বেমানান নয়। আর ওপেনিং টা বেশ ভালো,SAVIOR OF SONG নামের এই গানটি শুনে ফেলুন ……

Ars Nova 10

Aoki Hagane no Arpeggio Ars- Nova
১২ এপিসোড
জনরা – একশন,মিলিটারি,সেইনেন
MAL রেটিং – ৭.৫৮
ব্যক্তিগত রেটিং – ৭.৪৫

Kuroko No Basuke (Super Natural event) Explained — Santo Kun

**SPOILER ALERT**

যারা কুরকোদেখেন নাই ১০০ গজ দূরে থাকবেন।

 

অনেকেই কুরকোকে সুপার নেচারাল এনিমে বলে। আমি শুধুমাত্র স্পয়লারের জন্য কিছু বলতে চাই না। আসলে কুরকো কোন সুপার নেচারাল এনিমের ধারে কাছেও না তার ব্যাখ্যা দিব। কিভাবে দিব? যেইগুলাকে সুপার ন্যাচারাল মমেন্ট ধরা হয় ঐগুলা আসলে কি সেটা বুঝাব। কারন উনাদের বুঝার ক্ষমতা নাই দেখার পরেও।

কুরকো নো বাসুকেতে যেসব আবিলিটি ব্যবহার করা হয় সেগুলো হল মিসডিরেকসন, ফেন্টম সর্ট,ভানিশিং ড্রাইব,মিসডিরেকসন ওভারফ্লো, জোন ,ট্রু জোন, এম্পেরর আই,এঙ্কেল ব্রেক,পারফেক্ট কপি । পুরো সিরিজ জুড়ে এগুলোর ব্যবহার আমরা আস্তে আস্তে দেখতে পাই।

মিসডিরেকসনঃ নাম শুনেই বুঝার কথা এটা কি? মিসডিরেকসন হল মানুষের এটেনসনকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা মূলত আপনার চোখকে ধোঁকা দেওয়াটাই এর মূল কাজ। ম্যাজেসিয়ান ম্যাজিক সফল করার জন্য এই টেকনিক ইউস করে। কুরোকো মানুষদের অব্জার্ব করে এবং তার weak presence তার মিসডিরেকসনকে সফল করে তোলে।

KnB 1

মিসডিরেকসন ওভারফফ্লোঃ যখন মিসডিরেকসনের কার্জকারিতা শেষ হয়ে যায় তখন শুরু হয় মিসডিরেকসন ওভারফফ্লো। মিসডিরেকসন ওভারফফ্লো আসলে মিসডিরেকসনের মতই কিন্তু একটু ভিন্ন।শুধু মিসডিরেকসনে কুরকো নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে আড়ালে রাখত কিন্তু এবার নিজের প্রেজেন্সকে ঠিক রেখে তার নিজের টিম মেটদের আড়ালে রাখা। এটা করা সম্ভব কুরকো করতে পারে কারন কুরকো তার সারাজীবন মিসডিরেকসন ব্যবহার করে এসেছে। এখানে ঘটনাটা হল সব আটেন্সন কুরকো কেড়ে নিচ্ছে এতে যা ফলাফল পাওয়া যায় সেটা অসাধারণ। হ্যাঁ, মিসডিরেকসন ওভারফফ্লো। এটাই মিসডিরেকসনের আসল শক্তি এটেন্সন কেড়ে নেওয়া বা দূরে সরিয়ে দেওয়া।

KnB 2

KnB 3KnB 4

জোন এবং ট্রু জোনঃ সবার প্রশ্ন এটাই “জোন”। আসলে জোন হচ্ছে মানুষের ব্রেনের চরম পর্যায়ে ফোকাস। কুরকো নো বাসুকেতে জোন তখনি ব্যবহার হয় যখন খেলা চরম পর্যায়ে দাড়ায়। জোন আস্তে আস্তে গভীর হয় কিন্তু জোন মানুষের ৮০ শতাংশ ফোকাস অ্যাবিলিটি কার্জকর করতে সক্ষম। এর পরেই আসে ট্রু জোন। ট্রু জোন ইউজারকে তার ১০০ শতাংশ কার্যকর করতে সক্ষম এবং প্লেয়ারদের মধ্যে যোগাযোগকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। ট্রু জোন টিমমেটদের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। এগুলোকে কি সুপার ন্যাচারাল মনে হচ্ছে? না। এগুলো বাস্তবিক ব্যাপার আপনি নিজেকে যত ফোকাস করতে পারবেন তত বেশি ভাল ফলাফল আসা করা যায়। বিভিন্ন ধরনের খেলার সময় জোন ট্রু জোন দেখতে পাওয়া যায়। একটা কথা জেনে রাখা ভাল যে কেউ জোনে যেতে পারবে শর্ত হল এক্সট্রিম মোমেন্ট । যেমনঃ মৃত্যু ভয় বা এক্সট্রিম মোমেন্টে অনেকে অনেক অসম্ভব কাজ করে ফেলতে পারে (প্রমাণিত)

KnB 5

ভানিশিং ড্রাইবঃএটি একটি টেকনিক ছাড়া কিছুই না। কুরকোর অব্জার্বেসন ক্ষমতা এবং কাগামির সাহায্যে টেকনিকটি সফল হয়েছে। এটার জন্য কুরকোকে নতুন করে কিছুই শিখতে হয়নি। শুধু একটু ফাস্ট হতে হয়েছে। ধরুন আপনার সামনে একটা খরগোস আর তার পিছনে একটি বাঘ আছে আপনি কাকে নিয়ে ১ম এ চিন্তা করবেন অবশ্যই বাঘকে নিয়ে কারন বাঘ আপনাকে মেরে ফেলতে পারে।ঠিক এই ব্যাপারটাই হল ভানিশিং ড্রাইব। কুরকোকে যদি খরগোস আর কাগামিকে যদি আপনি বাঘ ধরেন তাহলে ব্যপারটা পানির মত পরিস্কার।করুকোর ভানিশিং ড্রাইব সফল হওয়ার জন্য কাগামিকে প্রয়োজন কারন কাগামি টিমের সবচেয়ে টার্গেটেড প্লেয়ার কাগামি কুরকোর পিছনে থাকলে প্লেয়ারের এটেন্সন কিছু মুহূর্তের জন্য কাগামির দিকে চলে যায় ব্যাস এইতো চান্স এখন কুরকে শুধু ভালমতো অব্জার্ব করে তাড়াতাড়ি প্লেয়ারকে পিছনে ফেলে দিতে হবে। এজন্য কিছু মুহূর্তের জন্য কুরকোকে অনেক অনেক ফাস্ট হতে হয় ।তাই বলের উপর এত প্রেসার পড়ে। একারনেই কুরকোর প্রাক্টিসের সময় এতগুলো বল ফেটে যায়।

KnB 6

ফেন্টম সর্টঃ ফেন্টম সর্ট একটি চমৎকার টেকনিক।এটি মিদরিমার ৩ স্টার সর্ট থেকেও অসাধারণ। কুরকো নো বাসুকেতে একটা জিনিস খেয়াল করে দেখবেন যে কুরকোর সমস্ত প্লেতে “ভ্যানিশিং” জুড়ে আছে। এটাও তার ব্যাতিক্রম না। ফেন্টম সর্ট এর জন্য দরকার অনেক অনেক প্রাকটিস। ফেন্টম সর্ট নরমাল সর্ট থকে একটু ভিন্ন নরামাল যেকোন সর্ট বাস্কেটে বল ২০-৭০ ডিগ্রিতে(আনুমানিক)পড়ে কিন্তু ফেন্টম সর্টে বাস্কেটে বল ৯০ ডিগ্রির অথবা তার একটু কমে পড়ে। মূল মন্ত্র হল থ্রোতে থ্রো এর সময় বলকে ৯০ ডিগ্রিতে ধরতে হয়। তাই কুরকোর বল ধরাটা ভিন্ন সর্ট এর সময়। ফেন্টম সর্ট ছবিতে এক্সপ্লেইন করা হলঃ

KnB 7KnB 8KnB 9KnB 10

এজন্য মুরাসাকিবারার ব্লক কোন কাজে আসে নি। কিন্তু  ফেন্টম সর্ট ইনভিন্সিবল না। সঠিক টাইমিং এবং প্রেডিকশন দ্বারা ফেন্টম সর্ট আটকানো সম্ভব।এজন্যই কিসে কুরকোর ফেন্টম সর্ট আটকাতে পেরেছিল।

এম্পেরর আইঃ একটা কথা জেনে রাখা ভাল যে এম্পেরর আই ফিউচার দেখতে পারে না বরং ফিউচার প্রেডিক্ট করতে পারে। এম্পেরর আই মিসডিরেকসন এর মতই। অপনেন্টকে প্রেডিক্ট করা খেলার ভিতরে নতুন কিছুই না। আকাসি শুধু অন্যদের থেকে এগিয়ে বা বেটার অপনেন্টকে প্রেডিক্ট করার সময়। ধরুন আপনি আকাশে একটি বল ছুড়ে মারলেন আপনি কিন্তু প্রেডিক্ট করতে পারবেন বলটি কোথায় পড়বে। এখন এর সাথে যদি জোন জুড়ে দেন তাহলে আকাসিতো ইনভিন্সিবল।

এঙ্কেল ব্রেকঃ এম্পেরর আইকে কাজে লাগায়ে যে টেকনিক তৈরি হয় তা হল এঙ্কেল ব্রেক। যদি আপনি অপনেন্টকে মুভমেন্ট প্রেডিক্ট করতে পারেন তাহলে এঙ্কেল ব্রেক সবচেয়ে সোজা টেকনিক।
কৌশলঃ অপনেন্ট যেদিকে মুভ করবে তার বিপরীত দিকে মুভ করতে হবে। অপনেন্ট এর রিফ্লেক্স যতই ভাল হোক না কেন সে তার ব্যালেন্স ধরে রাখতে পারবে না।

KnB 11

পারফেক্ট কপিঃ কিসে প্রচণ্ড পরিমাণে ট্যালেন্টেড তা দেখলেই বুঝা যায়। কিসে তার অপনেন্টের মুভ কপি করতে পারে এবং অপনেন্টের থেকে ভাল ব্যবহার করতে পারে। পারফেক্ট কপি এক্সপ্লেইন করা আসলে সবচেয়ে কঠিন কিন্তু বুজতে পারলে কঠিনের কিছু নেই। আসলে জেনারেসন অফ মিরাকেল এর মেম্বারদের প্রতেকেরই একটি করে বিশেষ ট্যালেন্ট রয়েছে।যেমনঃ আওমিনের খেলার স্টাইল হল Street basketball,কুরকো মিসডিরেকসন, কিসে কপি,মুরাসাকিবারার হাইট হল একধরনের ওয়েপেন(ডিফেঞ্চ),মিদরিমার থ্রো,আকাসির প্লেডিকসন।শুধু যেটা জানা দরকার তা হল কিসেকেন জেনারেসন অফ মিরাকেল কে আগে কপি করতে পারে নি বা হঠাৎ করে আবার করতে পারল কেন?

কিসে তার খেলার স্টাইল ডেবেলপ করেছে কপি করে। কিন্তু জেনারেশন অফ মিরাকেল এর ট্যালেন্ট কিসে কপি করলে তার শরীরের উপর প্রচন্ড চাপ পড়বে। প্রত্যেকটি টেকনিক খুবই হাই লেবেলের যা কিসের বডি সহ্য করতে পারবে না। তাই একটা নির্দিষ্ট টাইম লিমিট রয়েছে পারফেক্ট কপির। এজন্যই আওমিনেকে কপির করার সময় কিসের পা প্রায় ভেঙ্গেই যাচ্ছিল।কুরকোর সাথে তার প্রথম হারের হতাসা,টিমমেট এর উপর বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস তাকে জেনারেশন অফ মিরাকেলকে কপি করতে সাহায্য করেছে। কিসে সব সময় টেকনিকগুলো কপি করতে পারবে কিন্তু তার শরীরকে আনবিলিবেবল পর্যায়ে ফিট থাকতে হবে,যাতে সে টেকনিক গুলোর সাথে কিপ আপ করতে পারে।

KnB 12

অন্যান্য ব্যাপার সমুহঃ অনেই ভাবছেন যদি কুরকো সুপার ন্যাচারাল এনিমে নাই হয় তাহলে ভানিশিং ড্রাইবের সময় কুরকোকে আমরা ভ্যানিস হয়ে যেতে দেখি কেন অথবা জোনের সময় চোখ এমন হয় কেন বা আকারিস চোখের কালার চেঞ্জ হয় কেন ইত্যাদি। আসলে বাস্তবে এগুলো কিছই ঘটে না সিরিজটা দর্শকদের কাছে ড্রামাটিক আর আকর্ষণীয় করতে এই ধরনের ইলিমেন্ট অ্যাড করা হয়েছে। কুরকো যখন ভানিশিং ড্রাইব করে তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিতদর্শক ও অন্যান্য প্লেয়াররা দেখে কুরকো একজন প্লেয়ার কে পাস করে গেল কিন্তু প্লেয়ার কিছুই করতে পারে নি। অন্যান্য টেকনিকও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। জোনের সময় চোখ আসলে এমন হয় না এবং আকাসির ২ চোখ সবসময় লাল ছিল আগেই বলেছি এগুলো দর্শকদের কাছে ড্রামাটিক আর আকর্ষণীয় করতে অ্যাড করা হয়েছে। তারপর কুরকোর সাইক্লোন পাস জাস্ট আনাদার কুইক পাস বাট একটু জোরে । আর বাদ বাকি যা আছে ওই ব্যাপার গুলো যারা এনিমে দেখে এমনিতেই বুজতে পারবে। ঐগুলো না বুঝার কিছু নেই।

KnB 13

ধন্যবাদ।