Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Asiful Alam Ayon

ShouwaGen 1

এনিম: Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu/ Shouwa and Genroku Era Lovers’ Suicide Through Rakugo
(দাঁড়ান, দাঁড়ান, নাম দেখেই উল্টো দিকে দৌড় দিবেন না। আগে পুরোটা পড়ুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন।)

জনরা: হিস্টোরিকাল, ড্রামা, জোসেই
এপিসোড: ১৩
ম্যাল রেটিং: ৮.৭
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮.৮
রিলিজ: জানুয়ারি, ২০১৬- এপ্রিল, ২০১৬
উৎস: মাঙ্গা
স্টুডিও: Studio Deen

প্লট: একসময়ের জনপ্রিয় রাকুগো আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। রাকুগো হল এক ধরনের শিল্প যার মাধ্যমে একজন শিল্পী একটি গল্পকে এবং গল্পের বিভিন্ন চরিত্রগুলোর সংলাপ উত্তম পুরুষে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। বর্তমানে রাকুগোর অষ্টম প্রজন্মের প্রধান হলেন Yurakutei Yakumo VIII যিনি বন্ধুর কাছে Bon প্রেয়সীর কাছে Kiku-san নামে পরিচিত। হঠাৎ একদিন Yotaro নামের এক তরুণ তার কাছে এসে বলে সে ইয়াকুমো সেনসেই এর রাকুগোর পাঁড় ভক্ত এবং প্রচুর অনুনয় বিনয় করে তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য। সারা জীবন অসংখ্য মানুষের এমন অনুরোধকে প্রত্যাখান করে আসলেও কেন জানি এই তরুণের অনুরোধ ফেলতে পারলেন না তিনি। গ্রহণ করলেন শিষ্য হিসেবে, থাকতে দিলেন নিজের বাড়িতে। রাকুগোর প্রতি তরুণটির ভালোবাসা আর তার প্রতি তার পালিত কন্যার ঘৃণা দেখে একদিন ঠিক করলেন নিজের জীবনের কাহিনী খুলে বলবেন তাদেরকে। রাকুগোর মাধ্যমে শুরু করলেন তার জীবনের গল্প বলা, রাকুগো শিল্পী হয়ে উঠার জন্য তার সংগ্রাম আর জীবনযুদ্ধের এক গল্প… তার জীবনের এ গল্প নিয়েই এগোতে থাকে কাহিনী…

হারুকো কুমোতার লেখা অনন্য এই প্লটটির উপরে ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয় এনিমটি। এই এনিমের মজার একটি বিষয় হলো বর্তমান থেকে কিভাবে যে আপনাকে অতীতে নিয়ে যাবে আপনি টেরই পাবেন না। এনিমের পথিমধ্যে আপনার হঠাৎ মনে হবে “একি! গল্পতো বর্তমান দিয়ে শুরু হয়েছিল…!”
এনিমের মূল আকর্ষণ আর
চমকগুলা এই অংশেই।

চরিত্র: এনিমটাতে আপনি পাবেন অসাধারণ সব চরিত্র। একদিকে কিকুর সংগ্রামময় জীবন আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, আবার অন্যদিকে ফ্রি স্টাইল জীবন যাপন করা বন্ধু সুকেরোকুর সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যক্তিত্ব। আর আছে সুন্দরী ললনা মিয়োকিচি যাকে আপাতদৃষ্টিতে বাজে বিরক্তিকর একটা চরিত্র মনে হলেও তাকে ছাড়া গল্পের পূর্ণতা আসে না। প্রচুর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট রয়েছে এনিমটাতে।

রাকুগো শিল্প আর একেক সময়ে একেক দিকে মোড় নেওয়া চমকে ভরা কিকুর জীবন এনিমটাকে নিয়ে গেছে সম্পূর্ণ অন্য এক স্তরে।

আর্টওয়ার্ক: খুব সুন্দর আর্ট লক্ষ্য করা যাবে এখানে যা মোটেই মার্কামারা বা সস্তা না। দেখলেই বুঝতে পারবেন এনিমটার আর্টওয়ার্ক আর দশটা এনিম থেকে একটু আলাদা। ব্যাকগ্রাউন্ড গুলি যেন জাপানের ঐতিহাসিক পিরিয়ডের ভাইব দিয়ে যাবে…

মিউজিক: মিউজিক নিয়ে খুব বেশিকিছু বলার নেই। ওপেনিং আর এন্ডিং সং এক কথায় পারফেক্ট ছিল। শুনলেই বুঝতে পারবেন কেন একথা বলা.. . বিভিন্ন সময়ের সাউন্ডট্র্যাক আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলোও ছিল ভালো লাগার মতো।

এনিমটাতে পাবেন মেধাবী কিছু কণ্ঠ অভিনেতাদের, যাদের নাম না উল্লেখ করলেই নয়। আছেন সহকারী চরিত্রের রোলের জন্য বিখ্যাত এবং অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সেইয়ু আকিরা ইশিদা যিনি গিনতামার Katsura Kotaro এর ভয়েস দিয়েছেন । কণ্ঠ অভিনয় ছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক ক্ষেত্রে মেধার পরিচয় দেওয়া কইচি ইয়ামাদেরা এবং ইয়োতারোর কণ্ঠ দিয়েছেন অনেক বিখ্যাত চরিত্রের (যেমন: Gilgamesh, Kogami Shinya) কণ্ঠ দেওয়া অভিজ্ঞ ও গুণী সেইয়ু তোমোকাজু সেকি।

গল্পের গাম্ভীর্যতার কারণে অনেকের কাছে এনিমটা ভালো নাও লাগতে পারে। তবে এনিমটাতে দেখানো বিলুপ্তপ্রায় রাকুগো আর এতে যুক্ত শিল্পীদের সংগ্রাম আপনাকে নতুন করে ভাবাবে, আধুনিক নানা বিনোদন মাধ্যমের ভীড়ে কি বিলুপ্ত হতে চলেছে না আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিগুলোও? কত শিল্পীর পরিশ্রমের ফসলে সমৃদ্ধ এককালের জনপ্রিয় আমাদের দেশীয় শিল্প সংস্কৃতিগুলোকে বাঁচানোর জন্য কি করতে পারি আমরা? আপনার এই চিন্তার দ্বার খুলে দিতে সাহায্য করবে Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu. অতএব, সময় নষ্ট না করে দেখে ফেলুন উইন্টার ২০১৬ এর অন্যতম এই সেরা এনিমটি।

ShouwaGen 2

Children who chase Lost voices [মুভি রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Children who chase Lost voices

মুভিঃ Children who chase Lost voices
Director: Makoto Shinkai
IMBD rating: 7.3/10
Personal rating : 7.9/10
Production company: CoMix Wave

জীবনের একটা অংশ হল মৃত্যু। কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয় কেউ মারা গেলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও, যারা বেঁচে আছে তাদের নিয়ে জীবনে খুশি থাকা উচিত, এই বার্তাটাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা এই ছবিতে।

Director Makoto Shinkai, যিনি “Garden of Words”, ” Five centimeters per second” তৈরি করেছেন। ছবির শুরু আসুনা নামের এক middle স্কুলের মেয়েকে দিয়ে, যে তার মা’র সাথে থাকে, বাবা মারা গিয়েছে। মা হাসপাতালে কাজের জন্য বাসায় থাকেন না প্রায় সময় ই। আসুনা একা থাকে, একাই সব কাজ করে। তার বাসার পাশে পাহাড়ে নিজস্ব একটা জায়গা আছে, যেখানে সে তার অবসর সময় কাটায়। হঠাৎ একদিন আসুনা স্কুল থেকে আসার পথে মুখমুখি হয় এক প্রানির, যা আকারে বিশাল, উদ্ভট। সুন নামের এক অদ্ভুত ছেলে তাকে বাঁচায় এই প্রানির হাত থেকে। পরে আসুনা জানতে পারে , সুন এসেছে “Agartha” নামক এক জায়গা থেকে। ওইদিন ই সুন মারা যায়। সুন মারা যাওয়ার পর স্কুলের নতুন আসা শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই এর কাছ থেকে খবর মিলে “Agartha” নামক জায়গা আসলেই আছে, যা মাটির নিচে, মৃত মানুষকে ফিরে পাওয়া যায় ওখানে। এই শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই তাঁর স্ত্রিকে হারিয়েছেন ১০ বছর আগে। তিনি তাঁর স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনতে চান। এর মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে আসুনা, মরিসাকি সেন্সেই প্রবেশ করে “Agartha” তে। আসুনা ফিরিয়ে আনতে চায় সুন কে, আর মরিসাকি সেন্সেই তাঁর অকালে মৃত্যুবরণ করা স্ত্রী কে। শুরু হয় ২ জনের adventure.

নানা ঘটনা, আর উত্তেজনার মধ্যে চলে পুরো সময় কাহিনি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শোনার মত। দেখে ভালো লাগে। সময় থাকলে দেখে ফেলতে বলব এইটা।

Atama Yama [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Atama Yama

Atama Yama (Mount Head)- ৭৫তম এ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এ শর্ট ফিল্ম এনিমেশন ক্যাটাগরি তে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ মিনিটের মুভি। গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা এই মুভি। গ্রাম-গঞ্জে যেমন সুর করে পুঁথিপাঠ করা হয়, অনেকটা তেমনই করেই রাকুগো-টেলার তাকেহারু কুনিমোতো তার দরাজ কন্ঠে গল্পের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে পুরো মুভি জুড়ে শামিশেনের সুর অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। মুভিটায় আমরা মানবমনের গভীর ভয়,উৎকন্ঠা কিংবা আত্মগ্লানির এক মিশেল দেখতে পাই।
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই বড়দের বলতে শুনেছি ফলের বিচি খেলে নাকি মাথায় গাছ উঠবে। যার কারণে কোনসময় ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়ে সারারাত ঘুম হতো না। এই মুভির প্রধান চরিত্র এক মধ্যবয়সী কৃপণ লোক যিনি কিনা কাউকে ধার দেন না এবং কোন জিনিস যতই ফেলনা হোক না কেন তা ব্যবহার করতে চান। যার কারণে তার বাড়িভর্তি আবর্জনার স্তূপ। যাই হোক একদিন তিনি কিছু চেরীফল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সেগুলো ঝুড়ি করে বাসায় নিয়ে আসেন। তো একটি চেরী খাওয়ার পর তিনি চিন্তা করেন, বিচিটা শুধু শুধু নষ্ট হবার চেয়ে বরং খেয়েই ফেলি। তো কিছুক্ষণ পর দেখলেন তার মাথায় চেরীফলের গাছ উঠছে। তিনি একবার কাটেন। কিন্তু লাভ হয়না বরং গাছটি বেড়ে উঠতে থাকে। তো একসময় তিনি ব্যাপারটা মেনে নেন। গাছটি চেরীফুলে ভর্তি হয়ে যায় এবং এর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকটির মাথা হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। সব ভালই চলছিল। একদিন ভীড় বেড়ে যায়। লোকটির মন-মেজাজও খারাপ হতে থাকে। একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি গাছটিকে উপড়িয়ে ফেলেন। এরপরের কাহিনী নিজেকেই জানতে হবে। এটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।

এবার গূঢ় অর্থটি ব্যাখ্যা করি। লোকটির মাথা যখন প্রথম পিকনিক স্পটে পরিণত হয় তখন কিন্তু লোকটির লাভ ই হয়। কারণ দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ জায়গাটি দেখতে আসে। যার ফলে লোকটি ফায়দা নিতে পারে। একসময় দেখা যায় মানুষ ঐ জায়গাটি যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, ফলস্বরূপ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এবং একসময় লোকটি গাছটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। এখন চেরীব্লসমের জায়গায় নিজেদের মেধা ও মননের কথা একটু চিন্তা করি। আমাদের প্রত্যেকের মেধা আলাদা। এই মেধা যদি মানবজাতির কল্যাণে কাজে আসে তবেই সার্থক। অনেকসময় দেখা যায় এই কল্যাণের পথ পাড়ি দেবার সময় আমাদের অন্য কোন মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। অর্থাৎ আমাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন মাধ্যম মানব কল্যাণকর কাজে তৎপর হয়। একসময় এই মেধা তাদের স্বেচ্ছাসারীতার কাছে বলি হয়। অনেকটা আমাদের মেধাস্বত্ব কিনে নেবার মত। কিন্তু এর ফলাফল হয় মারাত্মক। যার কারণে আমরা এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই যা কখনই কাম্য নয়। একসময় নিজের মেধা নিজের কাছেই অচেনা মনে হয়। ফলে আমরা ক্রমাগত অন্ধকারে ডুবতে থাকি। মানবমনের এই অন্তর্কলহ ফুটে উঠেছে এই মুভিতে।
ওয়েল, আমি এই মুভির সব রিভিউ দেখেছি। কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে এর অন্যান্য রিভিউগুলোর কোন সাদৃৃশ্যই নেই। তাই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন আমি কি আসলেই এর তাৎপর্যটা ধরতে পেরেছি?

এই মুভি একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে। তাই আপনার জীবনে যদি সময়ের মূল্য না থাকে এবং গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট এই মুভি।

Ajin [এনিমে রিভিউ] — Amor Asad

Ajin 1

Ajin: অসাধারণ! মাইন্ডব্লোয়িং!
*** (স্পয়লার নেই ) ***

মানবজাতির টলারেন্সের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। যেকোন যুগে যখনই কোন অজ্ঞাত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, কঠোর, ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্ধযুগ আগে ইউরোপজুড়ে উইচ হান্টের স্বীকার হয়েছিল হাজারে হাজারে নারী; বিভিন্ন নতুন নতুন রোগ আর মহামারীর পিছে জাদুটোনার কালোহাত দেখিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁদের – তাও চার্চের সম্মতি বা ইশারা থাকায় পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
বিজ্ঞানের যাত্রার শুরু থেকেই প্রাচীন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের অত্যাচার থেকে হত্যা পর্যন্ত করা করেছে। এ উপমহাদেশেও অতীতে বহুত প্রচলিত রীতি ছিলো যা এখন শুনলে গা শিউড়ে ওঠে। বর্তমান পৃথিবীতে এমনকি আমাদের দেশেই কাছাকাছি ঘটনা থেকে সাদৃশ্যতা দেখানো যাবে – সেদিকে আর না যাই।

মোট কথা, মানুষ যেটা বোঝে না – সেটাকে দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করে ফেলতে উপক্রম হয়; অনেকে এতে তুষ্টিও খুঁজে পায়। ব্যপারটা আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর আর অবিবেচক বলে মনে হলেও; এই রেসপন্সের মূল কারণ হচ্ছে – ভয়।
অগ্রসরমান সভ্যতা আর সামাজিক শুভবোধের দোঁহাই দিয়ে নিজেদের আসল বৈশিষ্ট্য ধামাচাপা দিয়ে রাখি বটে, কিন্তু আদতে আমরা এই গ্রহের টপ প্রিডেটর। তাই যদি অন্য কোন স্পেসিস বা এনটিটি আমাদের অবস্থানের জন্যে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় – সম্মিলিত ভয় থেকে সমস্বরে ‘kill them all” উচ্চারিত হওয়া আমাকে অবাক করবে না।

এধরণের একটা প্লটে নির্মিত Ajin, পার্থক্য হচ্ছে এখানে মানবজাতির জন্যে হুমকিস্বরূপ প্রজাতি আসলে মানুষের বিবর্তিত একটা রূপ, যেখানে এই আলাদা মানুষরা অমরনশীল – না, ঠিক অমর নয়, মৃত্যুর পর পরই পুনঃজীবন লাভ করে। এদের আলাদা একটা ক্ষমতাও রয়েছে।

ইমরটালিটি বা অমরনশীলতা অর্জনের চেষ্টা প্রাচীনকাল থেকে বহু সভ্যতার বিভিন্ন কাল্ট, ব্লাক ম্যাজিক চর্চাকারীদের মধ্যে প্রচলিত। স্বভাবতই সাহিত্য, সিনেমা বা অন্যান্য শিল্প মাধ্যমেও উঠে এসেছে। স্রেফ অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেই বহুত রেফারেন্স দেয়া যাবে। Ajin কোন দিক দিয়ে আলাদা?

ইমরটালিটির বেশীরভাগ চিত্রায়নের সাথে আজিনের পার্থক্য হচ্ছে এটা ভিত্তিহীন ফ্যান্টাসি না; বরঞ্চ সাইন্স ফিকশন – এবং গল্পকথন একেবারেই স্বতন্ত্র। পরিচালক এবং লেখক খুব যত্নের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করতে না গিয়ে অর্ধেকটা দর্শকের দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর ক্ষমতার উপর ছেঁড়ে দিয়ে গল্পের প্রয়োজন অনুসারে কাহিনী এগিয়েছেন। এধরণের অ্যানিমেতে এই চর্চাটা খুব উপভোগ্য হয়।
সেই সাথে প্রতি এপিসোডের মেকিং প্রায় নিখুঁত বলা যায় – সাসপেন্স/মিস্টেরি আর সাই-ফাই সিরিজ হিসেবে প্রতি এপিসোডে টান টান উত্তেজনা বজায় রেখেছে Ajin. সেই সাথে যোগ হয়েছে রক্তে দোলা দেয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

এছাড়াও Ajin পছন্দ করার আরো কিছু কারণ আছে।
অপ্রয়োজনীয় চরিত্র একেবারেই নেই বলতে গেলে, পার্শ্ব চরিত্রগুলোর প্রতি ফোকাস করা হয়নি বিনা দরকারে, প্রধান চরিত্রকে দুনিয়ার সেরা মানব আর শুভবুদ্ধির ডিপো হিসেবে দেখানো হয়নি, হাঁটতে চলতে দুধের বাচ্চাদের কড়া জীবনবোধ মার্কা দর্শন চিপকাতেও দেখা যায় না। এসব জিনিষ অ্যানিমেতে কষ্ট করে সহ্য করে যাই; বলাই বাহুল্য Ajin দেখতে গিয়ে তৃপ্তির হাঁসি কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমার রেটিং – ৮.৫/১০

পুনশ্চঃ সিরিজের ভিলেনকে আমার কাছে অ্যান্টিহিরো মনে হয়। তাঁর দৃষ্টিকোণ একেবারে ফেলনা না এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারি।
পুনশ্চ ২ঃ Don’t care about the art style, never did, never will. This is a trivial issue and we really don’t watch animes to praise animation style, do we?

Ajin 2

Ping Pong The Animation রিভিউ — Zahin Mobashshir

Ping Pong

কোন এনিমেকে পার্ফেক্ট কখন বলবেন?

যদি এনিমেটি দেখে আপনার খায়েশ মিটে?

যদি এনিমেটি দেখে তৃপ্তি পান?

যদি এনিমেটি দেখার সময় অন্যসব কিছু ভুলে যান এবং এরপরের এপিসোড না দেখে উঠতে পারেন না?

সবার উত্তর কখনওই এক হবে না, হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক।

Ping Pong The Animation

এপিসোড সংখ্যা: ১১

Genre: Psychological, Seinen, Sports.

এনিমেটির কাহিনী একদমই সাধারণ। দুই বন্ধু পিং পং তথা টেবিল টেনিস খেলতে ভালবাসে। তাই দুইজনেই স্কুলের টেবিল ট টেনিস ক্লাবে অংশ নেয়। একজন অনেকদিন হইল টেবিল টেনিস খেলে যার নাম Yukata Hoshino। তার প্রতিভা নিয়ে ক্লাবের কারও কোন সন্দেহ নেই কিন্তু প্রতিভা থাকলে যা হয়, অহংকারে পরিপূর্ণ Hoshino এর মন। তার মতে তার থেকে ভাল কোন প্লেয়ার থাকতেই পারে না। অহংকারবশত তাই সে নিয়মিত প্রাক্টিসে যায় না এবং খবরদারি করে ঘুরে বেড়ায়। অন্যদিকে তারই বন্ধু Makoto Tsukimoto। এই ব্যক্তি টেবিল টেনিস খেলা নতুন শুরু করলেও সে কখনওই প্রাক্টিস ফাকি দেয়া না এবং নিয়মিত খেলেই যায়।

দুই বন্ধুর পিং পং খেলার কাহিনী নিয়েই এনিমেটি এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইন্টার হাই টেবিল টেনিসে গিয়েই তাদের জীবনের ঘুড়ি পালটায় যায়।

এবার আগের কথায় ফিরে আসি।
এনিমেটি দেখার পরে অনেককেই রিকমেন্ড করেছিলাম। কেউই এখন পর্যন্ত বলল না যে এনিমেটি অসাধারণ ছিল।
সবার মতামত মিলবে তা হওয়া সম্ভবপরও নয়।

এনিমেটি যে কারনে আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে তার প্রধান কারন ছিল এর জনরা। একটা স্পোর্টস এনিমেতে কি করে সাইকোলজিক্যাল জনরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?!!!

এই প্রশ্নের উত্তর যারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের কাছেই কেবল এনিমেটির স্বার্থকতা ধরা পড়েছে।

এনিমেটির জনরায় সাইকোলজিক্যাল অন্তর্ভুক্ত করার কারন খুঁজে পাওয়ার কারনেই এটা আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে।

এবার আপনারাও এই ১১ পর্বের এনিমেটি দেখে যাচাই করে দেখতে পারেন।

Behind the Voices – 20

 

Shimazaki Nobunaga

অনেক সেইয়ূই বলে “ঠাণ্ডা মেজাজের অথবা চুপচাপ চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়া বেশ সহজ কাজ, কোন ব্যাপার না” । তবে এই ধরণের চরিত্র তুলে ধরতেও যে এক ধরণের আলাদা দক্ষত্যা লাগে তা দেখিয়েছেন শিমাজাকি নোবুনাগা । অনেক ধরণের চরিত্র করলেও সাধারণত চুপচাপ স্বভাবের চরিত্রগুলো অসাধারণভাবে তুলে ধরার জন্যই তার খ্যাতি মূলত ।

তার কণ্ঠ অভিনয় শুরু ২০০৯ থেকে, যদিও সে বছর মাত্র একটা রোল পায় সে । ২০১২ থেকে শুরু হয় তার সফলতা, সে বছর ৪ টা রোল পায় তিনি যার মধ্যে ২টা মূল চরিত্র এবং আরেকটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র । এর বছরগুলো থেকেই সে কম-বেশি ভালো রোল পেতে থাকে । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল হারু (Free!), ইজুমি শিনিচি (Parasyte), ফুরুয়া (Ace of Diamond) এবং শিদৌ ইৎসুকা (Date a Live) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল হারু (Free!), সাকুরাই (Kuroko no Basket), সৌজি (Ore, Twintails ni Narimasu) এবং ফুরুয়া (Ace of Diamond) । Ace of Diamond, Free!, Nijiro Days এই আনিমেগুলোর এন্ডিং তিনি আনিমেগুলোর বাকি সেইয়ূদের সাথে গেয়েছেন এবং Tari Tari আনিমেটিতে একটা ইন্সার্ট সং তার গাওয়া ।

তার জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৮। সামনে আরও ভালো ভালো রোল পাবেন তিনি সেই আশায় রইলাম।

Shimazaki Nobunaga

 

Kishio Daisuke

কিশিয়ো দাইস্কের তার পুরো ক্যারিয়ার জুরে সব ধাঁচের রোলই অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন কম-বেশি । কিন্তু তিনি সাধারণত প্লে-বয় স্বভাবের অথবা সুদর্শন পুরুষ এসকল চরিত্রগুলোতে কাজ করার জন্যই বেশ পরিচিত । তার কণ্ঠ বলার স্বরের মাঝেই একরকম কেমন জানি আলাদা ভাব আছে ।

তার কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ১৯৯৬ সালে এবং তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল হল Vampire Knight-এর কানামে কুরান । সে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তার শৌজো এবং রিভার্স হারেম আনিমের রোলগুলো দিয়েই । তবে অন্য জনরার আনিমেগুলোতেও তার বেশ ব্যতিক্রমি চরিত্র আছে যেমন ক্রাউযার-সানের সাধারণ ভার্শন (Detroit Metal City), ইতাকু (Nurarihyon no Mago), আওনো সুকুনে (Rosario + Vampire) ।

আমার মতে তার সেরা রোল হল নেগিশি (Detroit Metal City), চরিত্রটিকে সাধারণত ভয়ঙ্কর ব্যক্তিত্বেই ( ক্রাউজার-সামা ) চিনে থাকি আমরা তবে তার সাধারণ সেই হাস্যকর ব্যক্তিত্ব যেভাবে তুলে ধরেছে কিশিয়ো দাইস্কে, কাজটা বেশ অসাধারণ ছিল । এছাড়া তার আরও কিছু রোল আমার বেশ পছন্দের সেগুলো হল ইমাদোরি (School Rumble), ইতাকু (Nurarihyon no Mago), নাৎসুমে (Beelzebub), কুরামা (Kamisama Hajimemashitae), হাওয়ার্ড লিঙ্ক (D.Gray-Man), যাজি (Tegami Bachi) ।

তিনি La Corda D’Oro, Kamisama Hajimemashita, Shounen Hollywood, Rosario + Vampire, Cluster Edge, Diabolik Lovers এই আনিমেগুলোতে উইনিটের সাথে ওপেনিং/এন্ডিং অথবা তার চরিত্রের হওয়ে ইন্সার্ট সংগুলো গেয়েছেন ।

তার জন্ম ২৮ মার্চ, ১৯৭৪ । আজ কাল আর নতুন করে কোন রোল করেন না তিনি আর তিনি ভেটেরান সেইয়ূ হিসেবেই পরিচিত এখন সবার কাছে । তিনি এখন নতুন কণ্ঠ অভিনেতাদের কাছে রোল-মডেল ।

Kishio Daisuke

 

Ishihara Kaori

ম্যাজাই আনিমেটি যারা দেখেছেন তাদের নিশ্চই আলাদিন চরিত্রটির কণ্ঠ বেশ কিউট লেগেছেন, এরকম একটা কণ্ঠের নৈপুণ্যতার কারণেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত হল ইশিহারা কাওরি । তার কণ্ঠে তীক্ষ্ণ টান রয়েছে এবং বেশির ভাগ সময়ই পার্শ চরিত্রের রোল করে থাকলেও, যে কয়টা করেছেন ওর মাঝেই নানা রকম চরিত্রই ছিল ।

তার কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে অভিষেক ২০১০ সালে এবং সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আলাদিন(Magi) চরিত্রটি দিয়েই । আলাদিন বাদে তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য রোল হল তানিগাওয়া কান্না (Ano Natsu de Matteiru) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল সাকুরাদা কানাদে (Joukamachi no Dandelion), আলাদিন (Magi) এবং রোজালি (Cross Ange) ।

তার গানের ক্যারিয়ারের এক বড় অংশ ‘YuiKaori’ এই সেইয়ূ ইউনিটটি যার আরেক মেম্বার ওগুরা ইয়ুই । YuiKaori-র অংশ হয়ে তিনি Joukamachi no Dandelion-এর ওপেনিং এবং Kiss x Sis-এর এন্ডিং গেয়েছেন । Kono Naka ni Hitori, Imouto ga Iru! এবং Rinne no Lagrange এই দুইটি আনিমের এন্ডিং তিনি গেয়েছিলেন এবং আরেকটি সেইয়ূ গ্রুপ Stylips-এর মেম্বারও ছিলেন তিনি যাদের হয়ে তিনি Highschool DXD-এর এন্ডিং এবং Saki:Episode of Side-A-এর ওপেনিম গেয়েছিলেন । তিনি Stylips-এর হয়ে একটা এবং YuiKaori-এর হয়ে তিনটা অ্যালবাম এই পর্যন্ত রিলিজ করেছেন ।

তার জন্ম ৬ আগস্ট, ১৯৯৩ । তার কণ্ঠটা বেশ কিউট, তার আরো রোল পাওয়া দরকার ।

Ishihara Kaori

 

Ogura Yui

ললি জিনিশটা এখন আনিমের চরিত্রগুলোর মাঝে একটা আলাদা আইকন হয়ে দারিয়েছে, এই কথা সবাই মানে । এই চরিত্রগুলোর কথা-বার্তার ধরণই অনেক সময় সাধারণ চরিত্রগুলোর তুলনায় আলাদা হয়, আর এদের আনিমের মাঝে দেখা না পাওয়ায় আজ-কাল বিরল একটা বিষয় । এই ধরণের চরিত্র নির্ভুলভাবে তুলে ধরায় যাদের দক্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাদের একজন ওগুরা ইয়ুই । তার কণ্ঠটা বেশ নরম, অনেকটা হিদাকা রিনার কণ্ঠের মতই শুনাবে । সুধু কণ্ঠ দিয়ে নয়, তার ললি চরিত্রগুলো তুলে ধরার দক্ষতা দিয়েও অনেকে তাকে হিদাকা রিনার সাথে তুলনা করেন । “হিদাকা রিনা কে ?”, তিনি হল এমন একজন যাকে ধরা হয় যে ললি চরিত্রগুলো সবচেয়ে ভালো করে তুলে ধরতে পারেন এমন এক কণ্ঠ-অভিনেত্রী । তবে আজ-কাল আনিমেগুলোতে মিনাসে ইনোরি তার নাম-ডাক সব কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে ।

তার কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ২০০৯ সালে । এরপর বেশ কিছু আনিমেতে মূল চরিত্র হিসেবে রোল করে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন, যেমন আলিস (Kamisama no Memochou), সুৎসুকাকুশি সুকিকো (Hentai Ouji to Warawanai Neko) । তার কণ্ঠটা আমার কাছে বেশ কিউট লাগে এবং তার করা পছন্দের রোলগুলো হল কোকোনা (Yama no Susume), হিনাতা (Ro-Kyu-Bu), ফুসে মিদোরি (Black Bullet), আথেনা (Campione!), সাকুরাদা হিকারি (Joukamachi no Dandelion) এবং ক্রিস (Cross Ange) ।

তার গানের ক্যারিয়ারের এক বড় অংশ ‘YuiKaori’ এই সেইয়ূ ইউনিটটি যার আরেক মেম্বার ইশিহারা কাওরি । YuiKaori-র অংশ হয়ে তিনি Joukamachi no Dandelion-এর ওপেনিং এবং Kiss x Sis-এর এন্ডিং গেয়েছেন । Aquarion Evol, Campione, Oreimo 2, Unbreakable Machine Doll, Saikin Imouto no Yousu ga Chotto Okashiinda ga, Ro-Kyu-Bu!, Seiken Tsukai no World Break এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সং-এ তার কণ্ঠ ছিল । তিনি আরেকটি সেইয়ূ গ্রুপ Stylips-এর মেম্বারও ছিলেন এবং ইশিহারা কাওরির সঙ্গে একসাথেই Stylips ত্যাগ করেছিলেন, তাদের হয়ে তিনি Highschool DXD-এর এন্ডিং এবং Saki:Episode of Side-A-এর ওপেনিম গেয়েছিলেন । তিনি Stylips-এর হয়ে একটা এবং YuiKaori-এর হয়ে তিনটা অ্যালবাম এই পর্যন্ত রিলিজ করেছেন ।

তার জন্ম ১৫ আগস্ট, ১৯৯৫ । তার সবচেয়ে বড় পরিচিতি কিন্তু সেইয়ূ নয় বরং আইডল হিসেবে । আজকাল ললি চরিত্রগুলোর কণ্ঠ-অভিনয়ে দক্ষ এরকম সব কণ্ঠ-অভিনেত্রীদের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে, ওগুরা ইয়ুই এবং তাদের মাঝে রোল পাওয়ার রেসটা দেখতে বেশ ইন্টারেস্টিং হবে ।

Ogura Yui

মাঙ্গা এবং আনিমে সাজেশন: Ajin — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ajinঅমরত্ব! মানুষের জীবধনের সবচেয়ে আকাঙ্খিত জিনিস। প্রাচীনকালে নরবলি, রক্তপান, দেবতার পূজা, শয়তানের পূজা, আলকেমি কত কিছুর না মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অমরত্ব পাবার জন্য। কিন্তু একদল লোক দুনিয়াতে জন্ম নিল যারা অমর। রোলার দিয়া চাপা দিন, বড় ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন, পুড়িয়ে দিন। লাভ নেই, আবার বেচে উঠবে। এদের আর্সেনালে আরেক অস্ত্র আছে। কালো ভূত যা সাধারণ মানুষের কাছে অদৃশ্য। তো এই আজিনদের অমরত্বের কারণে তাদের মানুষ বলে বিবেচনা করা হয় না। এদের ধরে টর্চার চালানো হয় যা সবচেয়ে স্যাডিস্ট সাইকোও ভেবে বের করতে পারবে না। তো এইরকম একজন আজিন কেই কে নিয়েই কাহিনী যে সদ্য ট্রাকচাপা পড়ে আবিষ্কার করে সে আজিন।
তো এসব বকর বকর বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। আপনি আজিন দেখবেন বা পড়বেন কেন!? পড়বেন সাতোউয়েয় জন্য। দেখতে নিরীহ বুড়ো ভালমানুষ। যেন এইমাত্র মর্নিংওয়াক করে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরবে। কিন্তু এই ভালো মানুষ সাউতো একজন স্যাডিস্ট সাইকো যার হাতে ইমারটলিটির গিফট এবং ক্ষুরধার বুদ্ধি আছে। কেই কে রিসার্চ সেন্টার থেকে বের করে আনা, ভালো মানুষ মার্কা অভিনয়, এবং রক্তপিপাসা আপনার কাছে ভালো লাগতে বাধ্য। মাঙ্গায় তার প্লেন নিয়ে তেলেসভাতি কখোনো ভুলবো না। সাউতোর লক্ষ্য কি?! আসলে কোন লক্ষ্য নাই। নোলানের ডার্ক নাইটে আলফ্রেডের এক বিখ্যাত উক্তি “কিছু লোক দুনিয়াতে খালি জ্বলতে দেখেতে চায়, আর কিছু না,,। সাইতো আর জোকার একই ঘরের মানুষ। ভায়োলেন্স এদের প্রেরণা।

এনিমেটা CGI বলে অনেকে পছন্দ করছে না কিন্তু এই ইফেক্টই আজিনের উপযোগি। বিশেষ করে এনিমের হরর বা গোথিক টাইপের সাউন্ডট্র্যাক। বিষেষ করে আজিন প্রাণ ফিরে পাবার সময় যে কড় কড় শব্দ হয়। এই এনিমের মেইন ক্যারেকটার কেই আর অন্যগুলোও অস্থির। মাঙ্গাটা অবশ্যই ফলো করবেন। আর্ট কাহিনী অনেক ভালো। টোকিও ঘুউল রে এর পরে সবচেয়ে অস্থির সাইকো হরর মাঙ্গা পড়ছি আজিন!
মাঙ্গা অনগোয়িং, আনিমে কমপ্লিট তবে এন্ডিং চেইন্জ কর দিসে। ফলো করার মত জিনিস এটা।
দশে এটা নয় সহজেই পাবে। আশা করি সবার ভালো লাগবে!

গ্লাসলিপ রিএকশন; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12961176_197382797313440_1846287170956684497_o

কাল রাতে (তর্কসাপেক্ষে) এই দশকের সবচেয়ে বিতর্কিত অ্যানিমে গ্লাসলিপ দেখে শেষ করলাম। অ্যানিমেটার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনদিন কোন পজেটিভ কথা শুনিনি, অনেকটা ঝোঁকের মাথায় দেখা শুরু করেছিলাম এই ভেবে যে, ভাল না লাগলে দেখা বাদ দিয়ে দেব।

কিন্তু দেখা শুরু করার পর আবিষ্কার করলাম, আমি মোটেই বোর হচ্ছিনা। শুরুর এপিসোডে কাকেরু এসে তৌকোকে যখন বলল, “তুমি যা দেখ, আমিও তাই দেখি”, তখন একটু লেইম লেগেছিল ব্যাপারটা, পরে বুঝলাম সেটার কারণ ছিল। রোমান্স পার্টটা অতটা খারাপ ছিল না, তবে সুপারন্যাচারাল ব্যাপারটা ঢুকানোর প্রয়োজন ছিল না। ওটা ছাড়া কাহিনীটা জমত ভাল।

Screenshot_2016-04-11-22-12-11

অ্যানিমেটা খারাপ লাগার কারণ খুঁজে বের করতে আমার সত্যিই কষ্ট হয়েছে, নিজে বের করতে পারিও নি খুব বেশি, অন্যদের রিভিউ ঘাটাঘাটি করে বের করতে হয়েছে। আমি তারচেয়ে পয়েন্ট আকারে কিছু কথা বলি, বুঝতে সুবিধা হবে।

– প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে আর্টওয়ার্ক। পিএ ওয়ার্কস এর অ্যানিমেশন, কিও অ্যানির পরে এই স্টুডিওর আর্ট আমার সবচেয়ে পছন্দ। প্রতিটা ছোট ছোট ডিটেইলের দিকে নজর রাখে তারা, উজ্জ্বল চোখজুড়ানো ল্যান্ডস্কেপ থাকে, শহরের দৃশ্য হোক বা গ্রাম, সমুদ্র হোক বা পাহাড়, সব কিছু অসম্ভব যত্ন নিয়ে আঁকে। ক্যারেক্টার ডিজাইনও সুন্দর হয়, পিএ ওয়ার্কস এর কাজ যে, সেই ছাপ থাকে। এই স্টুডিওর যত অ্যানিমে আমি দেখেছি, তার মাঝে গ্লাসলিপের আর্ট সেরা।

Screenshot_2016-04-11-20-59-27

– স্টোরি খারাপ ছিল না। আমি জানি অনেকে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, তাও বলছি, স্টোরি ভালই ছিল। সুপারন্যাচারাল পার্টটা যদি বাদ দেই, বাকিটা কিন্তু বাস্তব জীবনের সাথে বেশ মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। ক্যারেক্টারগুলো বিরক্তিকর – এই কথাটার প্রেক্ষিতে আমি বলব, এই ধরণের বিরক্তিকর ক্যারেক্টার আমাদের আশেপাশে খুঁজলেই পাওয়া যায়। এই কারণেই বরং গ্লাসলিপ স্লাইফ অফ লাইফ হিসেবে সফল। সুনদেরে ইয়ানদেরে না দেখিয়ে তারা অন্তত কিছু রিলেটেবল ক্যারেক্টার দেখাতে পেরেছে, যারা ভুল করে, জেলাসও হয়, কিন্তু সেটাকে ওভারকামও করতে পারে।

– সুপারন্যাচারাল পার্টটার কথা এবার বলি, কোন দরকার ছিল না এটার। শুরুর দিকে ভালই লাগছিল, কিন্তু এপিসোড ১২-১৩ তে শুধুশুধু টুইস্টের মত কিছু একটা দেখাতে গিয়ে এন্ডিংয়ে খামাখা কাকেরুকে ভ্যানিশ করে দিল। পিএর কাজ অবশ্য এমনই, পারফেক্ট হ্যাপি এন্ডিং বোধহয় ওদের সহ্য হয়না। তবে ওইটুকু অতৃপ্তির জন্য পুরো অ্যানিমেটাকে খারাপ বলাটা খুবই অন্যায় হবে, কারণ আমি এর চেয়ে অনেক খারাপ অ্যানিমে দেখেছি। গ্লাসলিপের দোষ হল এটা স্লাইস অফ লাইফ রোমান্স, কাজেই খুব এক্সাইটিং কিছু ঘটেনা।

সবমিলিয়ে আমার মনে হয়েছে এটা দেখার যোগ্য অ্যানিমে, বাকিটা আপনারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিন। কাউকে দেখতে সাজেস্ট করব না, যেহেতু এটা এত এত মানুষের ভাল লাগেনি, যার দেখার ইচ্ছা নিজ দায়িত্বে দেখবেন, তবে খুব এক্সাইটমেন্ট পাবেন না এমনটা জেনে দেখতে বসলে ভাল লাগবে, এটা বলতে পারি।

I didn’t survive Glasslip, I enjoyed it.

12973375_197382847313435_8237480134203561675_o

Boku dake Ga Inai Machi (Erased) [Review] — Ashraful Ribat

Erased 1

অ্যানিমে: Boku dake Ga Inai Machi (Erased)
এপিসোড: 12 (complete)
জন্রা: fantasy/thriller/Seinen

গার্লফ্রেন্ড এর কন্টিনিউয়াস রিকুয়েস্ট এর জালায় শেষ পর্যন্ত দেখতে বসি বর্তমানে বিখ্যাত এবং বছরের অন্যতম সেরা অ্যানিমে *Boku dake Ga Inai Machi* বা ইংরাজিতে *Erased*
যদিও *Boku dake ga inai machi (僕だけがいない街 ..এর মানে হল :- The Town Where Only I am Missing).

 

 

 

কাহিনীঃ মাংগাকা Kei Sanbe এর মাস্টারপিস মাংগা *বোকু দাকে গা ইনাই মাচি* অবলম্বনে নির্মিত। ২৯ বছর বয়সি ফুজিনামা সাতোরু কে কেন্দ্র করে কাহিনী গড়ে ওঠে যার এক আশ্চর্য ক্ষমতা আছে। তার আশেপাশে কোনো মারাত্মক কিছু ঘটলে সে টের পায় আর সে অতীতে সেটা ঘটার ঠিক পূর্বমুহূর্তে চলে যায়, আর সেই ঘটনাটাকে পরিবর্তন করে। সে তার এই টাইম ট্রাভেলিং-কে Revival বলে। প্রত্যেকবার এই revival হওয়ার ঠিক আগে তার আশেপাশে একটা নীল মথ/প্রজাপতি উড়তে দেখা যায়। তার এই revival হতে থাকে ততোক্ষন পর্যন্ত, যতোক্ষন পর্যন্ত ওই মারাত্মক ঘটনা ঘটার কারণটা মুছে না যায়। (হয়তো এজন্যই এর আরেক নাম Erased?)

Erased 2

তো সাতোরু সান একদিন তার *ইয়োকাই* মা-এর সাথে বাজার করে বাড়ি ফিরতে থাকে ( সাতোরু তার মা কে *ইয়োকাই/ ভূত বলে… কারন তার মা ৫২ বছর বয়সী হলেও দেখতে ঠিক যেন ১৮ বছর আগের মতো… চেহারায় বয়সের কোন ছাপ নেই।) বাজার থেকে মা-র সাথে ফিরছে… হঠাৎ তার revival হল। সাতোরু খোঁজা শুরু করল কি সমস্যা, কি এমন ঘটতে চলেছে, কিন্তু এতো খুঁজেও পেল না কেন revival টা হল। কিন্তু সাতোরুর মা ঠিকই কিছু একটা টের পেল। শুধু তাই নয়, সাতোরুর মা তখনি খুঁজে পেল কে আসল খুনি, যে আজ থেকে ১৮ বছর আগে ৩ টা বাচ্চাকে খুন করেছিল। আর এ জন্যই সাতোরুর অনুপস্থিতি তে খুনি এসে খুন করে গেল সাতোরুর মা কে। সাতোরু বাসায় ফিরে দেখল তার *ইয়োকাই মা মরে মেঝেতে পরে আছে। লাশ উল্টাতেই রক্ত তার হাতে লেগে গেল। আর এমন সময় এলো তার প্রতিবেশী মহিলা, যিনি তা দেখে সাতোরু কে খুনি ভেবে পুলিশ ডাকলেন। সাতোরুর revival ঘটল… কিন্তু এইবার সে চলে গেল ১৮ বছর আগে। যেখানে সে এলিমেন্টারি স্কুলবয়। সেখানে সে দেখা পেল তার পুরনো বন্ধুদের, কেনয়া, হিরোমি, কুমি, সাচিকো আর অবশ্যই হিনাজুকি কায়ো।
সাতোরু নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে, সে শুধু তার মাকে বাচাঁবেই না, সেই সাথে ১৮ বছর আগে খুন হওয়া ৩ জনকে বাঁচাবে… সেই সাথে তাদের খুনিকেও খুঁজে বের করবে। প্রচন্ড করুন ও নির্মম ভাগ্যের অধিকারিণী হিনাজুকি কায়ো কে বাচাঁনোর চেষ্টা শুরুর মধ্যদিয়েই সে শুরু করে তার মিশন। এর পর চলতে থাকে কাহিনী যা বাঁকে বাঁকে মোড় নিতে থাকে বিভিন্ন দিকে। এই পুরো সময় তার বিশ্বস্ত বন্ধুদের সাথে সাথে তাদের সাহায্য করতে থাকে *ফাদারলি ফিগার* Yashiro সেনসেই। এই অমায়িক পিতৃতূল্য সেনসেই টি তাদের কতই না সাহায্য করেন।

Erased 3

অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর সাতোরু তার মিশন সাকসেসফুলি শেষ করে…কিন্তু…

নাহ্… কিন্তুটা নাহয় নাই বললাম যারা দেখেনি তাদের খাতিরে..? *sigh*
কাহিনীর আরেক চমকপ্রদ ক্যারেকটার কাতাগিরি আইরি যার প্রয়োজনীয়তা আমরা শেষ মুহূর্তে দেখতে পাই ।

অনেকের মতে এই অ্যানিমে টার এন্ডিং ভালো হয়নি। আমি বলব এর এমন চমৎকার এবং কম্পলিকেটেড এন্ডিং এর জন্যই বরং সবাই একে মনে রাখবে অনেকদিন। এমন দুঃখ মেশানো বাস্তবতার বেড়াজালে ঘেরা এই ফ্যান্টাসি অ্যানিমেটি, যা গল্পের মুল নায়কের ফিলিংসগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেন প্রটাগনিস্টের ফিলিংসগুলো আপনার নিজের ফিলিংস। যা হয়তো আমার মতোই আপনারো চোখের কোনে আপনারি অজান্তে এনে দিতে পারে অশ্রুবিন্দু।
ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট প্রশংসনীয়… আর স্টোরির কথা আলাদা করে নাই বললাম।আর অবশ্যই opening এবং ending সং দুটো সত্যিই *heart touching*..বিশেষ করে ending song টা (সায়ুরি-র : Sore wa Shiisana Hikari no Youna) যা আমার অশ্রুবিন্দুর কারন ছিল।

Erased 4

অ্যানিমেটা দেখে এতোই আবেগভুত হয়ে পরলাম যে লিখে ফেললাম রিভিউটি। যারা এখনো দেখেননি তারা দ্রুত দেখুন। আর যারা দেখেছেন তাদের জন্য আরেকটি বিষয়। কেউ কি পুরনো opening এবং নতুন opening খেয়াল করেছেন? প্রথমে opening song এ সাতোরু ছিল… কিন্তু পরে তাকে opening song এর ভিডিওটি থেকে মুছে দেয়া হয়।
[link of comparison between old Op & new Op :https://www.youtube.com/watch?v=wJ2ZteesF5Y]

সবশেষে আমার বাকা জিএফ-কে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এই অ্যানিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।
আমার পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০

Erased 5

Jin-Roh: The Wolf Brigade [Movie Review] — Rafiul Alam

Jin-Roh 1

“That’s the nature of counterintelligence. The side which correctly anticipates the moves of the other and strikes first has the advantage.”

৯০ দশকের মুভি, মামোরু ওশি, প্রোডাকশন আইজি। রিংস এনি বেল?
-ঘোস্ট ইন দ্যা শেল?
-ঠিক। কিন্তু আজকে যে আনিমের কথা বলব, তা উপরের তিনটি শর্তই পূরণ করেছে, কিন্তু Gits এর মত দর্শকপ্রিয় হতে পারেনি একদমই।
জিন রো (উলফ ব্রিগেড) মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে। জাপানে তার পরের বছর।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ , সিম্বোলিজমের ব্যাবহার ও এবং ওশির নিজস্ব স্টাইলের দৃশ্যায়নের কারণে মুভিটি অনন্য শৈল্পিকতা লাভ করেছে, যার কারণে আর দশটি এনিমের সাথে সরাসরি তুলনায় যাওয়া কঠিন। এনিমেটির সিনেমাটোগ্রাফি, ক্যারেক্টার ডিজাইন এবং এবস্ট্রাক্ট শটগুলো খুবই রিয়েলিস্টিক ছিল। একই সাথে আমার কাছে “ফুড ফর থট” ধরনের কোন এনিমে সাজেশন চাওয়া হলে জিন রো এর নাম সবার আগে বলব, নির্দ্বিধায়।

Synopsis : সময়টা ৫০ এর দশক। অল্টারনেটিভ হিস্টেরিক টাইমলাইন, যেখানে জাপান জার্মানির কাছে পরাধীন । ঘটনার শুরুতে ছোট্ট করে একটা ন্যারেশন দেয়া হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপান ঘুরে দাড়ানোর জন্য কি করে এবং তার সামগ্রিক ফলাফল কি ধরনের হয় তার উপর। যাতে বলা হয় জাপানের দ্রুত, আগ্রাসী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাপক শ্রেণি বৈষম্য ও বেকারত্ব দেখা দেয়। ফলে সরকার বিরোধী দাঙ্গা দেখা দেয় নিয়মিতভাবে, এবং সময়ের সাথে সাথে বিপ্লবীরা আরও সংগঠিত হতে থাকে। চূড়ান্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গঠন করা হয় “Kerberos Panzer Cops” বা এলিট পুলিশ স্কোয়াড। তো একদিন দাঙ্গা ভয়াবহ রূপ নেয়। স্ক্রীণে একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখা যায়, যে কিনা বিপ্লবীদের স্পাই। মেয়েটির সহায়তায় পুলিশের উপর বোমা নিক্ষেপ করে দাঙ্গাবাজরা। যাতে পরিস্থিতি আরও এলোমেলো হয়ে যায়, কেরবেরস স্কোয়াড আন্ডারগ্রাউন্ডে হামলা চালাতে বাধ্য হয়। জার্মান অস্ত্র MG-13 মেশিনগান, নাইট ভিশন গগলস ও পুরু আর্মরের নিচে প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের সামনে বিপ্লবীদের অবস্থা হয় ফাদে পড়া ইঁদুরের মত। গোলাগুলির মাঝে সেই মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে, কিন্তু কেরবেরস বাহিনীর এক সদস্যের হাতে পড়ে যায়। এখন মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে আত্নঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করে সে। এরপর ন্যারাটিভ বিপরীত দিকে ঘুরে যায়। সেই কেরবেরস পুলিশ,যার কাছে মেয়েটি ধরা খেয়ে যায়, সে তার মুখোশ খুলে। হতবাক, বিভ্রান্ত। জানা যায় তার নাম কাজুকি ফুসে। উপরের থেকে তার উপর নির্দেশ ছিল মেয়েটিকে গুলি করার জন্য। তার বিবেকের কারণে সে পারেনি। কিন্তু দিনশেষে এটা একটি ভুল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পুরো স্কোয়াডকে তার খেসারত দিতে হত। ভাগ্য খুবই ভাল থাকায় শুধু সামান্য চোট পায় কাজুকি। কিন্তু মনের ভিতর ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। সে বোঝার চেস্টা করে, “কেন?”। এতসব সহিংসতা, এত দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, কিসের আশায়? যা জীবনের চেয়েও মুল্যবান?
আত্না শান্ত করতে সে মেয়েটির ধ্বংসাবশেষে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। সেখানে পরিচিত হয় মেয়েটির বড় বোন কেই আমেমিয়ার সাথে। তাদের মাঝে এক অন্যরকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এইখানেই সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং মেটাফরের আগমণ ঘটে। সিনেমার মূল স্টোরির সমান্তরালে Little Red Riding hood গল্পটির বর্ণনা করা হয়। সময়ের সাথে দর্শক বুঝতে পারবেন যে তা দিয়ে কি বোঝানো হচ্ছে।

Theme setup, Animation and Music : আনিমেতে সরাসরি একবারও বলা হয়নি যে জাপানকে জার্মানি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু আকারে ইংগিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। মুভিটিতে ৫০ দশকের জাপান, তখনকার চূড়ান্ত শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন ডিরেক্টর হিরুয়ুকি। তৎকালীন সমাজের বাস্তবতা ভিন্ন পরিস্থিতিতে কিরকম হতে পারে, তার উপাস্থাপনা এক কথায় ইনজিনিয়াস ছিল। ল্যান্ডস্কেপ ও এবস্ট্রাক্ট সিনগুলো ছিল ক্ষুরধার। যেন কোন গল্প বলতে চাচ্ছে। আরও অবাক লেগেছে জেনে, যে এত মুগ্ধকর সিনেমাটোগ্রাফির সিনেমার ফ্রেমগুলি নাকি হাতে আঁকা। এবার আসি মিউজিকে, দায়িত্বে ছিলেন সবার প্রিয় ইয়োকো কানো। সিনগুলোর সাথে মিউজিক খাপ খাওয়ানো হয়েছে, কোন জোরাজুরি নেই। কথোপকথনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন শব্দ ছিল না, বরং সাইলেন্ট পজ ছিল। ফলে দর্শককে আরও মনযোগী হতে হয়।

Characters Setup : নায়ক, নায়িকা আর দুই পক্ষের লোকজন। অনেক বেশি এলিমেন্ট নেই। কিন্তু এই কয়েকজন মানুষের সম্পর্ক চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলো বাস্তব। তারা টু ডাইমেনশনাল, স্টেরিওটিপিকাল, ক্লিশে কোন ফিলসফির কারণে গতিশীল না। সবারই এজেন্ডা আছে, ইচ্ছা আছে, নিজস্ব মোরালিটি আছে। তাদের মাঝে ভাল আর খারাপের দাগ টানতে পারবেন না। জিন রো আপনাকে এমন একটা জগতে নিয়ে যাবে, যেখানে দিনশেষে কোন এট্যাকার আর ভিক্টিম নেই। যেখানে মানুষের না পাওয়ার তিক্ততা আছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন না। কারণ আপনি ক্লান্ত।

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 7.87/10
IMDb:  7.6 /10

Jin-Roh 2