Monster – The Anime, review by Monirul Islam Munna

ঠিক বুঝতে পারতেছি না আসলে, এনিমেটা নিয়ে কী লিখব আর কীভাবে পারফেক্ট শব্দ দিয়ে এনিমেটাকে অন্যের সামনে তুলে ধরবো!!! একটা এনিমে এইভাবে যে মনোযোগ টেনে ধরে রাখবে,এতো সুন্দর গুছানো, আগে কল্পনাই করতে পারি নাই। মনে হচ্ছিল যে এক একটা এপিসোড দেখছি আর পেঁয়াজের আস্তরণ একটা একটা তুলে ভীতর থেকে আরও ভীতরে প্রবেশ করছি। প্রতিটা আস্তরণ যেন আরও বেশী বোধগম্য করে তুলে এনিমেটাকে সাথে নতুন কিছু উপহার দেয়!!!

এনিমেটা একজন খুবই মেধাবী ব্রেন সার্জন ‘কেনযো টেনমা’কে নিয়ে। সার্জন হিসেবে অসম্ভব মেধা আর যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে চারদিকে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। যে হাঁসপাতালে চাকরি করতেন সেখানে নিজের মেধা পরিচয়ে চিফ সার্জন হয়ে গেলেও, পলিটিক্সের কাছে কিছুটা হার মেনে নিতে হত তাকে। কখনও কখনও দায়িত্বের চেয়ে ডাইরেক্টরের সুনাম যেন অক্ষুণ্ণ থাকে সে দিকে মননিবেশ করতে হত। সাধারণ মুমূর্ষু রুগীর চিকিৎসা না করে, নামী কোন ব্যক্তির চিকিৎসা করতে বাধ্য হতেন টেনমা। কিন্তু একদিন নিজের ভুল বুজতে পারলেন তিনি,বুজতে পারলেন যে কারণে ডক্টর হয়েছেন সে পথেই নেই তিনি!!! তাই একদিন ডক্টর হিসেবে আগে দায়িত্বকেই বেঁছে নিলেন এবং ডাইরেক্টর আদেশ অমান্য করেই, ছোট একটি ছেলের জীবন বাঁচাতে অপারেশন থিয়েটারে চলে গেলেন। কিন্তু এই একটা সিধান্ত যে তার জীবন ঘুরিয়ে দিবে, তছনছ করে নিবে তার চার পাশ হয়তো ভাবতেই পারেননি টেনমা। সৎ উদ্দেশ্যে কাউকে বাঁচাতে গিয়েই এক অভিশাপ যে নেমে আসবে, কেই বা ভাবতে পেরেছিল!!!!

এনিমের কাহিনীর বিলডআপটা আসলেই অসাধারণ!! আগে যেমন বললাম, মনে হচ্ছিলো কিছু জিনিস একই সাথে যেন পরিষ্কার হচ্ছে সাথে সাথে আবার নতুন জিনিশ যেন মাথা আউলায় দিচ্ছে!! খুবই গছানো এনিমেটা। শেষটা মনে হয় ইচ্ছা করেই এমন একটা মিস্ত্রি রেখে দিছে, এনিমেটা দেখে যে যেমন অনুভূতি পেয়েছে সে সেভাবে গুছায় নিবে!!! 

সাথে শিশু নির্যাতন, গণহত্যা, ব্রেন ওয়াশ, human experimentation কীভাবে যে একটা মানুষের মানুষিক বিকাশে পরিবর্তন আনতে, মানুষকে manipulate করে কত কিছু করা সম্ভব!!! সেটা বেশ রিয়ালিস্তিকভাবে দেখানো হইসে।

কাহিনীর সাথে চরিত্রগুলার অবদান ছিল দেখার মত। প্রতিটা চরিত্র এনিমেটার কাহিনীতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এমন একবারও মনে হয়নি যে কাহিনী লম্বা করতে অযথা কিছু চরিত্র প্রবেশ করছে। সাথে সবারই মোটামুটি বিস্তর অতিত ইতিহাস খুব সুন্দর করে দেখানো হইসে। আর কীভাবে এই ছোট ছোট কাহিনীগুলো এক সাথে মিলে একটা মাস্টার পিস হবে, আসলে না দেখে বোঝা সম্ভব না!!!

আসলেই জোশ সাইকোলজিক্যাল, মিস্ত্রী, থ্রিলার একটা এনিমে!!!
MAL rating 8.73
my rating 9.0 

Medaka Box- Anime review by Fahim Abir

Anime Recommendation : Medaka Box(১২ এপিসোড)

Genres : Action , Super Power , Comedy , Ecchi , Martial Art , Romance , School

প্রচারকাল : এপ্রিল ৫ , ২০১২ থেকে জুন ২১ , ২০১২

৯৮% ভোট পেয়ে হাকোনিওয়া স্কুলের স্টুডেন্ট কাউন্সিল সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয় কুরোকামি মেদাকা । নির্বাচিত হয়েই সে প্রতিশ্রুতি দেয় , সে হাকোনিওয়া স্কুলের সকল ছাত্রছাত্রীর যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে । এবং এই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে সে স্টুডেন্ট কাউন্সিল রুমে স্থাপন করে ‘সাজেশন বক্স’ । প্রথম প্রথম এই সাজেশন বক্স তেমন সাড়া না জাগালেও মেদাকা সাজেশন বক্সে আসা সমস্যাগুলো সমাধান করতে থাকে । বখে যাওয়া কেন্দো ক্লাবের সদস্যদের শায়েস্তা করা থেকে শুরু করে হারানো কুকুর খুঁজে বের করা এবং আরও নানারকম ছোটবড় সমস্যার সমাধান করে সে তার প্রতিস্রুতি পূরণে সচেষ্ট হয় । এবং এতে তাকে সাহায্য করে তার বাল্যবন্ধু হিতোয়োশি জেঙ্কিচি । ঘটনাক্রমে স্টুডেন্ট কাউন্সিলে যোগদান করে আকুনে কৌকি এবং কিকাইজিমা মোগানা । মেদাকার স্টুডেন্ট কাউন্সিলের কার্যকারীতায় হাকোনিওয়া স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের স্কুলজীবন হয়ে ওঠে আনন্দময় । কিন্তু ধীরে ধীরে মেদাকা জানতে পারে তার স্কুলের গোপন রহস্য, যার সাথে সে নিজেও জড়িত । হাকোনিওয়ার ছাত্রছাত্রীরা তাদের অজান্তেই মুখোমুখি হয় কঠিন এক সমস্যার। মেদাকা কি পারবে এই সমস্যার সমাধান করতে ?

দেখুন মেদাকা বক্স এবং নিজেই জেনে নিন উত্তর ।

লেখকের নিজস্ব মতামত : প্রধান চরিত্র সুপারপাওয়ারফুল এবং প্রাণবন্ত এক মেয়ে যার গুনের শেষ নেই । যারা স্কুললাইফ নিয়ে এনিমে দেখতে পছন্দ করেন তাদের কাছে এনিমে টা বেশ ভালই লাগবে আশা করি । কিছুটা এচ্চি আছে যা মোটামোটি সহনীয়(ব্যাক্তিভেদে ভিন্নমত হতে পারে) । ধৈর্য ধরে দেখতে থাকলে শেষ দিকে দেখতে পাবেন পিউর শৌনেন টাইপ অ্যাকশান যা পরবর্তী সীসনে পূর্ণতা লাভ করেছে ।

MyAnimeList রেটিং : ৭.২০

লেখকের রেটিং : ৮

Ace of Diamond anime review by Monirul Islam Munna

 

1526129_10200314646907159_867073266_n

Ace of diamond
Genres: Comedy, School, Shounen, Sports
মূলত বেইস বল নিয়ে এনিমে।
এনিমেটা সোউনিন ধরণের, ‘রাফ ডায়মন্ড’ Eijun Sawamuraকে ঘিরেই মূল কাহিনী, দলে যার মূল ভুমিকা একজন পিচার(ক্রিকেটে বোলার যেমন) । ছোট্ট শহরে বন্ধুদের নিয়ে বেইসবল নিয়ে মেতে থাকতো সাওামুরা,নিজের সামর্থ্যের তুলনায় নিজের দল খুব একটা ভালো না খেললেও কখনও অভিযোগ না করে উল্টো সব সময় সাহস আর প্রেরণা দিয়ে দলকে চাঙ্গা রাখতো সে।
অন্য দিকে বেইসবলের জন্য দেশের অন্যতম নাম করা Seidou High School এর Rei Takashima তখন খুজে বেড়াচ্ছেন দলের জন্য, এমন আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা গুলো।কি যেন একটা দেখলেন তিনি সাওামুরার মধ্যে, মরিয়া হয়ে উঠলেন সে রাফ ডায়মন্ডকে শহরের নিয়ে নিখুত করে তুলতে।
১ম কোন ভাবে রাজি না হলেও,এমন সুবর্ণ সুযোগ আর নিজের স্বপ্ন বাস্তব করে তোলার সম্ভাবনা দেখতে পেরে অবশেষে সাওামুরা চলল তার সাথে বড় শহরে। বড় শহরে গিয়ে যেন স্বপ্নের প্লে গ্রাউনড পেয়ে বসল, সায়ামুরা। এতো প্লেয়ার দেখে কে পায় তাকে, আরও বেশী প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল সে।
অল্প দিনের মধ্যে বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারল, সাওামুরা। সে একা নয়, স্কুলের প্রতিটা ছেলে সেই একি সপ্ন নিয়ে এছেসে, দলের ‘এইস’ হতে। এতো সহজেই দলে স্থান হবে না তার। কিছুদিন খেলেয় বুঝতে পারল, কতো না কঠোর পরিশ্রম দিয়ে টিকে আছে এক একজন। কতটা পিছে পরে আছে সাওামুরা। অন্যান্যরা যেন অন্য এক লেভেলে বেইসবল খেলে,তাদের সামনে সাওামুরা তো যেন কিছুই না। কিন্তু এমন খেলার পর মুষড়ে যাওয়ার পাত্র সাওামুরা নয়, উল্টো কয়েকগুন পরিশ্রম দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে লাগলো সাওামুরা!!! কিন্তু পারবে সে দলে নিজের স্থান করে নিতে???
এনিমের মূল কাহিনী তাকে নিয়ে হলেও দলের কোচ এবং আরও কিছু প্লেয়ার আছে যাদের চিন্তা ধারা, টেকটিকস, খেলার ধরণ খুবই জোশ!!!! ওদের নিয়ে বেশী কিছু বললাম না, স্প্যলার হয়ে যাবে
কমেডি,একশন মিলে বেশ উপভোগ্য এক এনিমে ‘ এইস অফ ডায়মন্ড’

Persona 4-Short anime review by ইশমাম আনিকা

Persona-4-p4-animation-anime-series-watch-online

 

Anime: Persona 4
Genre: action, mystery, fantasy

হাইস্কুল লাইফে ফ্রেন্ড দিয়ে ঘিরে থাকা এবং তাদের সাথে সময় কাটানো যেকোন মানুষের সবচেয়ে সুন্দর সময়। এনিমের শুরুতেই Yu Narukami কে টোকিও ছেড়ে ইনাবা নামক ছোট্ট, শান্ত শহরে আসতে হয় কারণ তার বাবা মা ট্যুরে যাচ্ছিল। সেখানে স্কুলে ভর্তি হয়ে আস্তে আস্তে যখন দু একজনের সাথে কথা শুরু হয় তার, ঠিক তখনই হঠাত্‍ অদ্ভুতভাবে মানুষ মারা যেতে শুরু করে। ইয়্যু তার নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে মিডনাইট চ্যানেলের কথা জানতে পারে এবং ওরা মৃত্যুর সাথে এই চ্যানেলের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে আজব এক দুনিয়ায় গিয়ে হাজির হয় ও সেই দুনিয়ার বাসিন্দা “কুমা” র সাহায্য নিয়ে একে একে রহস্যভেদ করতে থাকে এবং হত্যাকারীকে খুঁজতে থাকে।

N. B. – প্রথম ২ ৩ টা পর্ব মনোযোগ দিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক! ইগরকে কখনো ইগনোর করা যবে না, তাকে পাওয়া যাবে প্রতি এপিসোডের শুরুতেই!

 

 

 

Seitokoi Yakuindomo- An anime review by Kazi Rafi

Seitokoi Yakuindomo: নোংরা রসিকতাকে শৈল্পিক স্তরে নিয়ে যাওয়া এক দুষ্টু দলের গল্প !!

পর্ব- ১৩+৮টি অভিএ
জনরা- কমেডি, স্কুল, শউনেন
প্রযোজক- GoHands (K-Anime এবং ongoing Copellion এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান )

কাহিনি সংক্ষেপ- তাকাতোশি সুদা, অতি সম্প্রতি গার্লস হাই-স্কুল থেকে কো-এডে রূপান্তরিত হওয়া ঔসাই একাডেমী তে নবীন হিসেবে যোগদান করে, নিজ বাসার খুব কাছে হওয়ায় এবং কাহিনীর ফেরে প্রথম দিনেই দেখা হয়ে যায় স্কুলের স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আমাকুসা সিনো, সেক্রেটারি সিচিজোউ আরিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ হাগিমুরা সুযুর সঙ্গে! একথায় ওকথায় হঠাৎ করে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট, নতুন ভর্তি হওয়া সব ছেলেদের প্রতিনিধি হিসেবে তাকাতোশির অনুমুতির তোয়াক্কা নাহ করে, একরকম জোরপূর্বক ভাবেই তাকে ঔসাই একাডেমী স্টুডেন্ট কাওউসিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট বানানর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই একি মুহূর্তে তাকাতোশি আবিস্কার করে যে প্রেসিডেন্ট আমাকুসা আসলে অতি নোংরা রসিকতা করায় বিরাট ওস্তাদ এবং সেক্রেটারি আরিয়া অতি নম্র, ভদ্র ও কিছুটা বোকা সোকা ধরনের হওয়ার পরেও সে আসলে এক বিশাল মাপের পারভার্ট। স্টুডেন্ট কাওউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে প্রথম প্রথম কিছুটা অনিহা প্রকাশ করলেও ধীরে ধীরে এদের সঙ্গে ভালভাবেই মানিয়ে নেয় এবং এদের সঙ্গে কাজ করার অনিহাও তাকাতশির কেটে যায়। মূলত, স্কুলে এই কাওউন্সিল মেম্বারদের প্রতিদিনকার কার্যকলাপ ও নানান মজার ও হাস্যকর ঘটনা ও রীতিমতো অসময়ের ভুল বুঝাবুঝির সব ঘটনা ঘিরেই সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোর কাহিনী গড়ে উঠেছে !

রিভিউ- Shonen মাঙ্গার উপর নির্মিত, সামনের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় সিজন বের হবে, সেই উপলক্ষে Seitokai Yakuindomo নামিয়ে দেখে ফেললাম ! যেহেতু দ্বিতীয় সিজন বের হচ্ছে তাই বেশ প্রত্যাশা নিয়ে দেখতে বসছিলাম, কিন্তু এনিমের শেষে এসেও সেই প্রত্যাশার বেশ কিছুটা অপূর্ণ রয়ে গেছে !! হতাশার মূল কারন হচ্ছে এই এনিমের কোন গুরুত্বপূর্ণ স্টোরিলাইন বা কাহিনী অনুসরন করার মতন কোন প্লট নেই। প্রতিটা পর্বই একটা থেকে আরেকটা সম্পূর্ণ আলাদা, একটা পর্বের কাহিনী অন্য কোন পর্বের উপর নির্ভর করে নাহ, এর বাইরে তো মান্ধদার আমল থেকে শুরু হওয়া সেই গৎবাঁধা সমুদ্র সৈকতে ছুটি কাটানোর পর্ব, ফেস্টিভ্যাল পর্ব ইত্যাদি তো আছেই যা মাঝেমদ্ধেই দর্শকদের এনিমেটা দেখার প্রতি নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং অনেকেই এটা সময়ের অপচয় মনে করতে পারে।

এটার পাশাপাশি আরও যে বিষয়টি দর্শকদের এই এনিমে দেখার প্রতি একরকম বিশাল বাধা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু আবার একি সঙ্গে যা হচ্ছে এই এনিমের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, যার উপর ভিত্তি করেই এই সিরিজটি গড়ে উঠেছে, যা এই এনিমের সিংহভাগ কাহিনীই দখল করে আছে- তা হল এর অতিরিক্ত পরিমাণের সেক্স বিষয়ক নোংরা জোক আর রীতিমতো বেকায়দা সময়ে ঘটা ভুলবুঝাবুঝির ঘটনা! এনিমের প্রতিটা কথোপকথনের প্রতিটা লাইনেই, নোংরা কিছু ইঙ্গিতকারী, দ্বৈত অর্থ বহনকারী সেক্সুয়াল জোক থাকবেই যার কখনই কোন হেরফের হয়নাহ! এবং এইখানেই একটা বিশাল কিন্তু আছে! প্রথম প্রথম হয়তো ব্যপারটা বেশ মজার এবং রসাত্মক মনে হবে এবং আপনি সেইসব কথোপকথোন শুনে হাসবেনও কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে, একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে এই প্লটপয়েন্ট টাই অতিরিক্ত পরিমানের ব্যাবহারের ফলে বেশ রসকষহীন, একঘেয়ে হয়ে উঠে যারফলে অতি দ্রুতই আপনি জোকগুলো বলুন কিংবা এনিমের মজার মুহুর্তগুলির কথাই বলুন, আপনি তা ভুলে যাবেন, ১৩টা পর্বের প্রতিটা সেগমেন্টের প্রতিটা মুহূর্তে যদি এই জোকগুলো ব্যাপক পরিমাণে ব্যাবহার করা হয় তাইলে মনের গভীরে বা মাথায় এই ধরনের মুহুরতগুলার প্রভাব বা মনে রাখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পেতে পেতে একসময় হারিয়ে যায়! এবং একবার সমস্যাটি এই শুরু হলে এর থেকে বের হয়ে আসা বেশ দুষ্কর হয়ে উঠে, সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোও এর ব্যাতিক্রম নয়।

এইবার আসি এনিমে চরিত্রদের প্রসঙ্গে, এই সিরিজের আরেকটি ব্যার্থ দিক। তিন মেইন মেয়ে চরিত্রদের মধ্যে দুইজনেই হচ্ছে পারভার্ট এবং নোংরা জোক করায় পারদর্শী এবং আরেকজন, হাগিমুরা সুজুর হচ্ছে নিজের উচ্চতা নিয়ে ইস্যু আছে, আর মেইন ছেলে চরিত্র, তাকাতোশির একমাত্র কাজ হচ্ছে তাদের ‘straight man’ এর দায়িত্ব পালন করা; খুব সহজ কথায় বলতে গেলে ৪ মেইন চরিত্রের ২জনের কাজ নোংরা জোক বা নোংরা কোন বিষয় নিয়ে মজা করা বা নোংরা কিছু ইঙ্গিত করা আর বাকি ২জনের কাজ হচ্ছে পারভার্ট দুইজনের মুখ সামলায় রাখা, এছাড়া এদের আর কোন কাজ নাই। এদের ব্যাপারে শুধু একটাই নতুন জিনিস উল্লেখ করার মতন আছে আর তা হচ্ছে, এইখানে ছেলেদের পরিবর্তে মেয়েরা নোংরা রসিকতা করতে অভ্যস্ত। এছাড়া সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোর মেইন চরিত্রদের ব্যাপারে বলার মতন আর বিশেষ কিছুই নেই, যার কারন হচ্ছে, এটির নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য অর্জন করার মতন কোন লক্ষ্য নেই বলে এর চরিত্রদেরও কোন প্রকার অগ্রগতি হওয়ারও কোন সুযোগ নেই!! যেটি আমার মতে এই এনিমের আরেক নেতিবাচক দিক এবং আমার হতাশার আরেক কারন !

অ্যানিমেশন ও সাউন্ড- K-Anime, Coppelion এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান GoHands তাদের ব্যানারে নির্মিত সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোতেও তাদের অতি উচ্চমানের অপূর্ব অ্যানিমেশন কোয়ালিটির ধারা বেশ গৌরবের সঙ্গে বজায় রেখেছে! কিন্তু অন্যদিকে এর ওপেনিং, এন্ডিং আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অপ্রত্যাশিতরকম অতি সাধারনমানের যা এই অস্থির অ্যানিমেশনের সঙ্গেই পুরাই বেখাপ্পা লাগে, যেটা বেশ দুঃখজনকরকম এক ব্যার্থতা Go Hands এর!

শেষ কথা- Seitokai Yakuindomo হচ্ছে একদমই হালকা মেজাজের আপনার গম্ভির, বিষণ্ণ সময়ে দেখার মতন এক উৎকৃষ্ট এনিমে! কিন্তু হ্যাঁ, সেই সাথে আমি এটাও সাবধান করে রাখছি যে সেক্স বিষয়ক অতি নোংরা রসিকতায় যাদের অরুচি আছে, এই এনিমে তাদের জন্য নহে, কারন এতে সেক্স বিষয়ক প্রচুর পরিমানের অত্যন্ত নোংরা, আপত্তিকর সব টার্ম রীতিমতো অবলীলায় ব্যাবহার করা হয়েছে যা অনেকের মোটেও পছন্দ নাও হইতে পারে! কিন্তু এই সিরিজ যদি আপনার পাতেরই হয়ে থাকে তাইলে ১৩টা পর্ব শেষ হওয়ার পড়ে ৮টা অভিএ দেখতে ভুলবেন নাহ কারন এনিমের সরাসরি সিকুয়েল এই অভিএ গুলোও কিন্তু মাঙ্গার চ্যাপ্টারের উপরেই ভিত্তি করে বানানো।

Similar Anime- Lucky Star

 

544907_10200725357047340_418375712_n

 

 

Afro Samurai review – Monirul Islam Munna

এক বসায় অস্থির একশনের/সামুরাই একশন একটা ছোট এনিমে সিরিজ শেষ করতে চাইলে Afro Samurai উপর কিছু থাকবে না!!

চোখের সামনে এক sword fight এ অপারাজেয় এক ভিলেনের কাছে বাবার(যিনি ছিলেন পৃথিবীর এক নো. সামুরাই) মৃত্যু এক বিষাক্ত কাঁটার মত বুকে বিঁধে যায় ছোট্ট এফ্রর। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই তার বেড়ে উঠা, বাবার মত পারদর্শী সামুরাই হয়ে সেই অপারাজেয় ভিলেনকে পরাজিত করতেই হবে। কিন্তু পারবে সেই অপারাজেয় ভিলেনকে পরাজিত করতে ছোট্ট এফ্র?
ছোট্ট থেকে বড় হয়ে সেই ভিলেনকে ফেইস করার সময়টা নিয়ে এই এনিমে সিরিজটা। এইটুকু শুনে মনে হতে পারে এমন কি আছে এই এনিমেতে!!
প্রথমে নাম দিয়েই শুরু করি  সামুরাই শুনলেই প্রথমে আমাদের মাথায় আসে জাপানিজদের, কিন্তু ‘এফ্র সামুরাই’ আসলেই একজন ‘মাথায় কোঁকড়ানো চুলের একজন এফ্র’ । লেইম পয়েন্ট, কিন্তু একটা পয়েন্ট তো 
এই এনিমের একশন যেমন অস্থির,সেই সাথে animationও !!! যারা একশনধর্মী এনিমে পছন্দ করেন, চোখ বন্ধ করে এই এনিমে ভালো লাগবে। আর শুধু একশন থাকলে চলে নাকি? সাথে একটু সেইরকম OST না থাকলে তো একটু অপূর্ণ রয়ে যায়!! চিন্তা নাই, OSTও হতাশ করবে না আপনাকে, একশনের সাথে আছে অস্থির র‍্যপ মিউজিক!!! 
এখানেই শেষ নয়! আরও আছে, ব্যাডআস চরিত্র আর অস্থির ডায়ালগ!!! যারা একটু র‍্যপধর্মী জিনিস পছন্দ করেন, খুব বেশীই মজা পাবেন এই এনিমে দেখার সময় 
তবে কিছুটা এচিনেস আর নিউডিটি আছে  তবে খুবই অল্প পরিমান আহামরি স্টোরি হয়তো পাবেন না, আসলে মাত্র ৫ এপিসোডের ছোট্ট সিরিজ। তবে এক সেকেন্ডও বিফলে যাবে না!! শুধু মনে হবে এতো জলদি শেষ হয়ে গেল!!!!
আমার রেটিং ৮.০
এম এ এল রেটিং ৭.৪১

অ্যানিমে রিভিউ: মৌরিঔ নো হাকো(Mouryou no Hako)/Box of Goblins – Fahim Bin Selim

পর্বঃ ১৩+১ ওভিএ
প্রচারকালঃ ২০০৮
জনড়াঃ সেইনেন, রহস্য, রোমাঞ্চ, অতিপ্রাকৃত
প্রোজযকঃ ম্যাডহাউস
এমএএল রেটিংঃ ৭.৪৭(#১৪৮০)

কানাকো ইউজুকি, হাইস্কুল কিশোরী, ট্রেনের সামনে ঝাপ দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করল। বাক্সাকৃতির এক রহস্যময় হাসপাতালে ড. মিমাসাকা কৌশিরোর চিকিৎসায় কোনমতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল সে। 
ইয়োরিকো কুশুমোতো, কানাকোর বান্ধবী, এই ঘটনার একমাত্র সাক্ষী। তার মা জড়িয়ে আছে এক রহস্যময় ধর্মীয় দলের সাথে।
একে একে জাপানের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট বাক্সে পাওয়া যেতে শুরু করল কিশোরী মেয়েদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ…হাত-পা!
এদিকে আবার হাসপাতালের ঘরভর্তি মানুষের সামনে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল কানাকোর দেহ!
এই সবকিছুর যোগ সুত্র কোথায়, আদৌ কি আছে? জট পাকাতে শুরু করল কাহিনী…
আর এই মাথা ঘুড়ানো রহস্য সমাধানে একজোট হল এক এন্টিক-বইসংগ্রাহক, একজন ঔপন্যাসিক, একজন পুলিশ, একজন সাংবাদিক আর একজন গোয়েন্দা।

//কেন পছন্দ হবে –
মৌরিঔ নো হাকোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র কী? অবশ্যই এর কাহিনী। আমি নিজে “অ্যামেচার” ডিটেক্টিভ ফিকশনের বড়সড় ভক্ত। কিন্তু জটিলতম রহস্যগুলোর সমাধান যে যেকোনো রাম-সাম-যদুর দ্বারা সম্ভব না, অনেক বিষয়ে ঞান থাকা প্রয়োজন, তা এই অ্যানিমে বেশ ভালো ভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নাতসুহিকো কিয়োগোকুর ১৯৯৫ সালের উপন্যাস অবলম্বনে কাহিনী। আর তাই এর গভীরতা আর ধারাবাহিকতা দুটোই বলার মত।
তারপর আসছে পেসিং এর ব্যাপার। স্লো, কিন্তু কখনোই বোরিং না। প্রথম পাঁচ পর্বে বেশ ভালোভাবে পকেটে রাখা ইয়ারফোনের তারের মত কাহিনী প্যাঁচ লাগানো। তারপর খুবই ধীরে কিন্তু সাটলী একে একে তা খোলা।

মৌরিঔ নো হাকো হল সংলাপ নির্ভর অ্যানিমে। বিশেষ করে, কাহিনীর মাঝখানে দূটো পর্ব আছে, দুটো সম্পূর্ণ পর্ব, যেখানে শুধু তিনজন মানুষ একটা ঘরের মধ্যে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলে! এবং এর সংলাপ, প্রতিটি লাইন, আপনার চোখ নিচের সাবটাইটলের দিকে আটকে রাখার মত।

প্রতিটি চরিত্র মাত্র ১৩ পর্বে যে ভাবে ডেভেলপড হয়েছে তা খুব কম অ্যানিমেই দেখাতে পেরেছে। আর প্রতিটি চরিত্রই কাহিনীর সাথে কোন না কোনভাবে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। অ্যানিমের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। রহস্য অ্যানিমের ইনটেন্স পরিস্থিতি বজায় রাখায় যা ভালো অবদান রেখেছে।

মৌরিঔ নো হাকোর আরেকটি বলার মত দিক হল এর ভিসুয়ালাইজেশন, ডিটেইলিং। প্রতিটি চরিত্রের ফেস এক্সপ্রেশন বাস্তবধর্মী করার জন্য, অ্যানিমের আর্টওয়ার্ক, কিছু কিছু থ্রিডি দৃশ্যায়ন আর ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র জিনিসের ডিটেইলিং-এ যে বেশ ভালো সময় দেওয়া হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

//কেন নাও পছন্দ হতে পারে – 
সংলাপ। অতি সংলাপ নির্ভরতা। যেটা আগেই বললাম, কাহিনীর মাঝখানে দূটো পর্ব আছে, দুটো সম্পূর্ণ পর্ব, যেখানে শুধু তিনজন মানুষ নিজেদের মধ্যে কথা বলে – এইটা অধিকাংশ মানুষেরই ভালো না লাগার কথা।
পেসিং। অল গান ব্লেজিং, স্টেরোয়েড দেওয়া শৌনেন অ্যানিমের একনিষ্ট ভক্ত হলে পছন্দ নাই হওয়ার কথা। এইটা এলএসডির মত, ধীর এবং স্বর্গীয়!

রেফারেন্স। সিম্বোলিজম। জাপানিজ ও চাইনিজ স্পিরিচুয়ালিটি আর বই সম্পর্কে বেশ বড়সড় কিছু লেকচার আছে। অধিকাংশ জিনিস প্রথমবার না বোঝাটাই স্বাভাবিক। তাই খুবই মনোযোগের দরকার হয় সংলাপ শোনার(পড়ার) সময়। আমার মাঝে মাঝে এক জিনিস দুইবার-তিনবার করে দেখতে হয়েছে। বেশ ভালোভাবেই মাথা খাটাতে হয়।
১৯৫৪ সালের কাহিনী, তাই মেইনস্ট্রিম মোয়ী জাপানিজ কালচারের কিছু পাবেন না।

গোর আর রক্তারক্তি সেভাবে দেখানো না হলেও, কাটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গর দৃশ্যগুলো সবার জন্য না। সাথে শেষের দিকে কাহিনীর কিছু ট্যাবু জিনিস পত্র দেখানো হয়েছে।

//আমার রেটিংঃ ৮.৮
কাহিনী-৯
মিউজিক-৮
আর্ট/প্রোডাকশন/অ্যানিমেশন-৯
এন্ডিং-৮
ইন্ট্রিগ-১০

//শেষ কথাঃ আমার মতে অন্যতম আন্ডাররেটেড অ্যানিমে । এর রেটিং থেকে বেশ ভালোভাবেই একটা জিনিস বোঝা যায় যে, অ্যানিমের দর্শকদের অধিকাংশই টিনেজার।
মৌরিঔ নো হাকো শুধু কিভাবে, কেন আর কে-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। ক্রিমিনাল সাইকোলজির সাথে জাপান-চাইনিজ স্পিরিচুয়ালিটি আর সবশেষে সাই-ফাই এর কিছুটা স্বাদ! রহস্য, খাঁটি রহস্য গল্পপ্রেমী হলে এ অ্যানিমে অবশ্যই দেখা প্রয়োজন। আর সাথে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের মাস্টার ম্যাডহাউসের কথাও মাথায় রাখতে পারেন।
একবার কাহিনীর মধ্যে ঢুকে গেলে আর শেষ না দেখে উঠতে পারবেন না, তাই দেখার আগে অবশ্যই সময় নিয়ে বসবেন!

*ওভিএ টাও বেশ ভালো। কাহিনীর অনেক কিছু ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

fahim_review

মাঙ্গা-আনিমে মিক্সড রিভিউ: বাকুমান (Bakuman) – ফরহাদ মহসিন

বাকুমান মাঙ্গা পড়া এবং আনিমে দেখা, দুই ধরণের অভিজ্ঞতা হওয়ার পরেই রিভিউ লিখছি। কিছুটা পার্শিয়াল হতে পারি, আমার প্রথম পড়া স্লাইস অফ লাইফ। এবং সম্ভবত প্রথম আনিমে, যেটার মাঙ্গা পড়া থাকার পরেও অনেক আগ্রহ নিয়ে আমি আনিমেটা দেখেছি। এবং সত্যি বলতে এরকম মাঙ্গা আর হওয়া সম্ভব বলেই আমার মনে হয় না। পড়া শুরু করেছিলাম শুধুমাত্র এই কারণে যে বাকুমানের লেখক-আর্টিস্ট হচ্ছেন ডেথ নোটের লেখক-আর্টিস্ট সুগুমি ওহবা, তাকেশি ওবাতা। ডেথ নোটের কারণেই হয়তো অন্য কিছু আশা করে গেছিলাম। গিয়ে পেয়েছি পুরোপুরি অন্যরকম এক জিনিস। যাই হোক শুরু করি।

মরিতাকা মাশিরো আপাতদৃষ্টিতে একজন সাধারণ জাপানিজ মিডল স্কুল ছাত্র। সে একসময় খুব ভালো ছবি আঁকাতো, হতে চাইতো তার চাচা, মরিতাকা নবুহিরোর (যে কিনা কাওয়াগুচি তারো ছদ্মনামে মাঙ্গা লেখে) মত। কিন্তু চাচার মৃত্যুর পর বড্ড বেশি উদাসীন হয়ে পড়ে সে। তার বাবা-মা ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাইলে কিছু বলতে পারে না, নিজের মত করে কোন স্বপ্ন দেখতে পারে না, পারে না আজুকি মিহো, যাকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করে সে, তার সাথে গিয়ে কথা বলতে।

এই অবস্থায় হঠাৎ করেই তাকে অ্যাপ্রোচ করে ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র তাকাগি আকিতো। জানায় তার স্বপ্নের কথা, সে হতে চায় জাপানের সবচেয়ে বড় মাঙ্গাকা। সে চায় মাশিরো তার লেখা গল্পের সাথে ছবি আঁকাক। মাশিরোকে কনভিন্স করানর জন্য সে তাকে নিয়ে যায় আজকি মিহো’র বাসায়। সেখানের কথোপকথন থেকেই মাশিরো আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে, যে স্বপ্ন জড়িয়ে যায় আজুকি আর তাকাগির সাথে। বাকুমানের বাকি কাহিনী তাদের স্বপ্নপূরণের কাহিনী।

bakuman-349320

সামারি দেওয়া শেষ, এবার রিভিউ:

বাকুমানের ক্যারেক্টারাইজেশন বেশ ইন্টারেস্টিং। প্রধান দুই প্রোটাগোনিস্টের চরিত্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই ভালোভাবে ডেভেলপড হয়েছে। তাকাগি’র লেখার স্টাইল, মাশিরোর আঁকার স্কিল, মোটকথা তাদের মাঙ্গার ধরণ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের সাথে সাথেই যেন তারা নিজেদের জীবন নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকে।

এর প্যারালালি চলতে থাকে মাশিরো আর আজুকির প্রেমকাহিনী। এটা সম্বন্ধে আমি এতটুকুই বলব, বাকুমান পড়া/দেখার সময় একটা সময় গিয়ে এরকম একটা সম্পর্ক থাকার কথা আপনি নিজে চিন্তা করবেন না তা সম্ভবই না।

এবং তার সাথে আরেকটা যে সম্পর্কের কথা না বললেই না তা হল মাশিরো-তাকাগির সাথে, তাদের রাইভাল, নিজুমা এইজির সম্পর্কে। নিজুমা এইজি সম্ভবত বাকুমানের সবচেয়ে ‘রঙচঙে’ ক্যারেক্টার। পুরো সিরিজ জুড়েই যখনই প্যানেলে এইজি থাকে, মনোযোগ তার দিকে যেতে বাধ্য। ওয়ান পিস ফ্যানদের উদ্দেশ্যে বলছি, এইজির চরিত্র অনেকটাই ওয়ান পিসের মাঙ্গাকা এইচিরো ওদার কথা ভেবে লেখা। যাইহোক বাকুমান, সবকিছুর পরেও একটা শৌনেন মাঙ্গা। সুতরাং, এটাতে লড়াই থাকবেই। কিন্তু টিপিক্যাল শৌনেন লড়াই থেকে এখানকার সব লড়াইও অন্যরকম, প্রতিপক্ষরাও সবাই, শুধু এইজি না, অন্যরকম। এবং ‘Rivalry’ শব্দটা এত সুন্দরভাবে ডিফাইনড হতে আর কোন মাঙ্গা/আনিমেতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

বাকুমানের সাপোর্টিং কাস্ট খুবই ভালো, শুধুমাত্র মূল চরিত্রগুলো না। সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে এসে ফুকুদা শিনতা বা আওকি কো যদি আপনার প্রিয় চরিত্র হয়ে যায়, তাও আসলে কিছু বলার নাই। বাকুমানের ব্যাপারে একটা অভিযোগ আসে যে এর নারী চরিত্রগুলো সেভাবে ডেভেলপড না। প্রথম দিকে কখনো কখনো এটা মনে হলেও পরের দিকে গিয়ে এটা মোটামোটি কাটিয়ে ওঠেন ওহবা সেনসেই।

ক্যারেক্টারাইজেশন নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেছে। গল্প নিয়ে একটু বলি। মনে হতে পারে দুজন উঠতি মাঙ্গাকার জীবনে কি এমন ঘটতে পারে যা নিয়ে মাঙ্গাই লিখে ফেলা সম্ভব। বাস্তব-অবাস্তব সব ধরণের সিনারিও মিলিয়ে পুরো গল্পটা আসলেই অনেক অসাধারণ। আর আগে যেরকম বললাম, শৌনেন মাঙ্গার লড়াই সম্বন্ধে আপনার আইডিয়াটাই পরিবর্তিত হয়ে যাবে বাকুমানের পর। তারপর, ডেথ নোটের আর এটার মাঙ্গাকা একই শুনে যারা ভাবছেন, তাহলে নিশ্চয়ই খুব গম্ভীর ধরণের সেটাপ হবে, হাসির এলিমেন্ট থাকবে না, তারাও ভুল করছেন। বাকুমান স্টোরির সেটাপ, ডায়ালোগ, ক্যারেক্টার বিহেভিয়ার সব কিছু মিলিয়েই প্রচণ্ড হাস্যরসাত্মক একটি মাঙ্গা, গ্যাগ মাঙ্গা না হয়েও।

যাই হোক, শেষ কথা হচ্ছে: কখনো যদি আপনি লিখালিখি বা এ ধরণের কিছুর জন্য কলম হাতে নিয়ে থাকেন, ছবি আঁকা যদি আপনার প্যাশন হয়ে থাকে, যদি মারত্মক উচ্চাভিলাষী কোন স্বপ্ন থেকে থাকে আপনার, অথবা আপনি যদি এখনও ভীষণ রোমান্টিক কোন আইডিয়া নিয়ে বসে থাকেন, বাকুমান আপনার ভাল্লাগবেই।

এবং নিশ্চিত ভাবেই প্রকৃত মাঙ্গাকাদের জন্য, মাঙ্গা/আনিমের সাথে জড়িত সবার জন্য একটা অন্যরকমের সম্মান তৈরি হয়ে যাবে।

রেটিং:

মাঙ্গা: MyAnimeList rating: 8.54, আমার রেটিং: 9.5

আনিমে: MyAnimeList: 8.36, আমার রেটিং 8

Bakuman。.full.1225692

The Wolf Children Ame and Yuki – মুভি রিভিউ

Hana- ১৯ বছর বয়স্ক এক মেয়ে হটাত করেই তার জীবনের ভালবাসা খুজে পায়। তার ভালবাসার মানুষ kare – সবার থেকে একটু আলাদা; একজন নেকড়ে মানুষ (wolf man); এবং তার গোত্রের সর্বশেষ সদস্য। তা সত্ত্বেও তারা পরস্পরকে ভালবেসে কাছে আসতে শুরু করে এবং একটা পরিবার গড়ে তোলে। কিন্তু কিছুদিন পরেই এক ট্রাজিক ঘটনায় মারা যায় kare;yuki’র সাথে রেখে যায় এক মেয়ে-yuki আর এক ছেলে-Ame কে। যাদের দুজনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণহীনভাবেই নেকড়ে-মানুষ জগতে আসা যাওয়া করতে পারে। শহরের চারদেয়ালের মাঝে এদেরকে বড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় hana বাচ্চাদের নিয়ে একরকম পালিয়ে আসে পাহাড়ের কাছে এক বিরান গ্রামে। এখানেই শুরু হয় বাচ্চাদের নিয়ে তার সংগ্রামের গল্প; yuki আর ame’র নিজেদেরকে খুজে পাবার গল্প; নিজেদের ভবিষ্যৎ ডিসাইড করার গল্প !!!!

Studio ghibli এনিমেটেড মুভির জগতে মোটামুটি একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিয়েছে; এবং তাকে ধরাছোঁয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু Mamoru Hosodaর নির্দেশনায় Madhouse Studios এর এই মুভিটা সেই স্ট্যান্ডার্ডকে খুব সফলতার সাথেই চ্যালেঞ্জ করেছে।

মুভির মুল হাইলাইটগুলার মধ্যে ছিল – ন্যারেটিভ স্টাইল – মোটামুটি একটা অবিশ্বাস্য গল্প বেশ বিশ্বাসযোগ্য উপস্থাপন এবং এর ন্যুনতম সংখ্যক চরিত্র – প্রত্যেকটা চরিত্রই fully developed।

গল্পে বেশ কিছু চমৎকার মুহূর্ত আছে; যেখানে রীতিমত আবেগের রংধনু খেলা করে। Ame আর yuki র সরলতা; তাদের সংগ্রাম; ame’র তার ক্লাস থেকে ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যাওয়া; সংলাপহীন বেশ অনেকগুলো মুহূর্ত – দুর্দান্ত !!!

দিনশেষে The Wolf Children Ame and Yuki তাই জীবনের গল্প বলা; সংগ্রামের গল্প বলা; হাসি কান্না আর দৈনন্দিন জীবন জাপনের খুনসুটিতে বেচে থাকার গল্প; একটা must watch মুভি !!!

 

 

Ookami Kodomo no Ame to Yuki review by Mydul Islam Mahi

[ প্রথমেই বিশাল Spoiler Alert দিয়ে রাখি ]

এই এনিমে মুভি নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। এরপরেও বলি – “অসাধারণ মাপের মুভি”! কাহিনীর মূল চরিত্র Hana, যে কলেজে পড়াশুনা করে। আপনজন কেউ নেই। কলেজে পড়ার সময়ই তার পরিচয় হয় এক ছেলের সাথে। তার সাথে সে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে। আর এক সময় Hana সেই ছেলের কাছ থেকেই জানতে পারে, ছেলেটি আসলে Wolf (OOkami). তার মাঝে Human আর Wolf – দুই সত্ত্বাই বিদ্যমান। কিন্তু এটা জানার পরেও Hana ভালোবাসে সেই ছেলেকে। তাদের দুই সন্তান জন্ম নেয়। বড় মেয়ে Yuki, ছোট ছেলে Ame. কিন্তু Ame এর জন্মের পর পরই তাদের বাবা মারা যায়। Hana পড়ে অকূল পাথারে। এই দুই Wolf Children কে কীভাবে বড় করবে? ৪ বছর পর সে চলে যায় অনেক দূরের এক পাহাড়ে, যে জায়গায় বাস করাটা মোটামুটি সংগ্রামের পর্যায়ে পড়ে। সেখানে চলে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য – সবার চোখের আড়ালে, নিঃসঙ্গভাবে কাউকে না জানিয়ে বাচ্চাদের বড় করে তোলা। দুই বাচ্চাকে নিয়ে Hana কে অবতীর্ণ হতে হয় জীবন যুদ্ধে। আর প্রতি পদক্ষেপে সে অভাব অনুভব করতে থাকে তার স্বামীর। এক সময় দুই সন্তানকে Hana স্কুলে ভর্তি করে। Yuki যেমন দুরন্ত, Ame ঠিক তেমন চুপচাপ। কিন্তু ঘটনার প্রবাহে তাদের চরিত্রে চলে আসে বৈপরীত্য। Yuki নিজের মানব-বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আর অন্যদিকে Ame’র রক্তে খেলা শুরু হয় তার অন্য সত্ত্বার! সময় আসে তাদের নিজেদের পথ নিজেদেরই বেছে নেওয়ার।

 

আমার মনে হয় এই এনিমের মধ্যে মা-সন্তানের ভালোবাসা বেশ ভালোভাবেই তুলে ধরা হয়েছে; বিশেষ করে Yuki আর Ame কে নিয়ে Hana’র Struggle করার মুহূর্তগুলো, তাদেরকে নিয়ে ছুটে বেড়ানো, Ame’র পানিতে ডুবে যাওয়া, শেষ দিকে Ame কে জঙ্গলে খুঁজে বেড়ানো – সব দৃশ্যই মনে জায়গা করে নেওয়ার মত। এই মুভিতে আরো একটা জিনিস কিন্তু ভালো লাগার মত – মানুষের সামাজিক জীবনের উপর নির্ভরশীলতা। আবার এখানেই নিঃসঙ্গতার কষ্টটাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির জীবন? নাকি সামাজিক ধরাবাঁধা জীবন? এই চিরন্তন প্রশ্নটাই যেন এই মুভিতে ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন চিন্তার মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। জবাবটা আসলে নিজেকেই খুঁজে পেতে হবে …

এই পোস্টেই মনে হয় কাহিনীর বেশিরভাগটাই বলে দেওয়া হয়ে গেছে। যারা এই এনিমে মুভিটা দেখেন নাই তাদের নিজ দায়িত্বে পুরো মুভিটা অবশ্যই দেখে নিতে বলা হল।  [ বি.দ্রঃ এই পোস্টে উল্লেখিত মতামত একান্তই নিজস্ব। কারো সাথে কাকতালীয়ভাবে মিললে দায়ী নই, আর না মিললেও কেউ দায়ী থাকবে না! ]