Tokyo Godfathers review by Torsha Fariha

অবশেষে দেখলাম Tokyo Godfathers. 

নাম শুইন্যা মনে হইসিলো এটা কোন ফাইটিং বেইজড মুভি। (আমি সম্প্রতি Godfather পড়সি কিনা  )

যাই হোক… নামাইতে দিসিলাম এই কারণেই। পরে দেখলাম এক রত্ন খুঁজতে এসে আরেক রত্ন পাইলাম  

tokyo_godfathers

রাস্তার তিন হোমলেস মানুষ গিন, হানা আর মিয়ুকি। গিন হল ফ্যামিলি ছেড়ে আসা মধ্যবয়সী লোক, হানা হল ট্রান্সউইমেন আর মিয়ুকি বাসা থেকে পালানোর টিনএজ মেয়ে। 
এক ক্রিসমাসের আগে তারা জঞ্জালের ভেতর থেকে আবিষ্কার করে একটা বাচ্চাকে। যার বয়স বড়জোর ১-২ মাস। গিন আর মিয়ুকি সাথে সাথেই পুলিশের কাছে বাচ্চাকে দেয়ার চিন্তা করে। কিন্তু হানার জোড়াজুড়িতেই তাকে নিয়ে তাদের বাসায় আসতে হল। 

আসলে হানা চাচ্ছিলো না বাবা মার নাম পরিচয়হীন একটা মেয়ে ফোস্টার প্যারেন্টসের কাছে বড় হোক। তাই তারা তিনজন মিলে বাচ্চাটার বাবা মা খুঁজতে বের হয়। 

এভাবে যাত্রা শুরু হয় তাদের। মুভিটা শুধু কিন্তু বাচ্চাটাকে ঘিরেই আবর্তিত হয় না বরং এখানে উঠে আসে তিন হোমলেসের প্রত্যেকের নিজস্ব কাহিনী। 

এমন একটা কাহিনী নিয়েই টোকয়ো গডফাদার চলতে থাকে। এখানে হিউমার যেমন আছে তেমনি মন ভারী করে তোলার উপকরণও আছে। শেষের দিকে আছে চমৎকার টুইস্টও।

যেহেতু মুভিটা সাতোশি কোনের ডিরেকশনে তৈরি তাই না দেখার কোন কারণই নেই।  

আমি জানি প্রায় সবাই এই মুভিটা দেখে ফেলেছেন। তবু আশা করছি কেউ হয়তো দেখেননি এখনো কিন্তু এটা পড়ার পর দেখার আগ্রহটা তৈরি হবে।

 

ট্রেলার:

http://www.youtube.com/watch?v=7Q6mcx2qF4Q

Paprika: review by Tariqul Islam Ponir

পাপরিকা মনে হয় না আমার টপ তেণ এ থাকবে। শুধু আনিমে ফিল্ম এর টপ টেন লিস্ট করা হলে থাকতে পারে। 

Paprika এর খাঁটি বাংলা হল গুড়া মরিচ বাট মরিচের ঝাল/স্পাইস কম (ইন্ডিয়ান রিজিওনে), স্পাইসি (অন্যান্য রিজিওনে)। 

আমি সিনেমাটা অনেক আগে দেখেছি (২০০৯ এ যতটুকু মনে পোড়ে)। স্টোরি তেমন মনে আসছে না, আপাতত। আমার কাছে মনে হয়েছে, পাপরিকাতে দেখানো হয়েছে, মানুষের ড্রিমগুলো যদি বাস্তব হওয়া শুরু করে তাহলে কি হতে পারে। যেমন, ডিসি মিনি বিজ্ঞানী দলের প্রধান/চিফ যখন আক্রান্ত হন, তখন তিনি বাচ্চাদের মত দৌড়াতে থাকেন। আর ডিসি মিনি এর আবিষ্কারক যখন আক্রান্ত হন, তখন তিনি একটা রোবোটে পরিণত হন। যখন ড্রিম আর রিয়েল ওয়ার্ল্ড একসাথে হয়ে যায় তখন সবার ড্রিমই একটা বাস্তব ম্যানিফেস্টেশন রূপে আসে। পাপরিকা যে কিনা ড্রিমে মানুষের ত্রানকর্তা এখানেও ত্রানকর্তা হিসেবেই আসে, আর সে চিবার অল্টার ইগো হওয়ায় চিবা এর থেকে পুরো আলাদা হয়ে যায়। তখন ডক্টর ওসানাই তার ফিলিংসকে আর অবদমিত করে রাখতে পারে না, তাই করতে চায় রেপ। চ্যায়ারম্যান বাস্তবে একটি বড় ফ্যাসিলিটির কর্তা, তার কথায় প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু এতে সে খুশি নয়, তার আরো ক্ষমতা দরকার। তার ড্রিমের ম্যানিফেস্টেশনে সে পুর টোকিওকে গলে খেতে থাকে। আর অন্যান্য সবার ছোট ছোট ড্রিম মিলে এটা পরিণত হয় একটি প্যারেডে, যেখানে কোন বাঁধা নেই, তাই সেখানে থাকে ক্রিপি ডল, সেক্স এডিক্ট বা কোন ইনোসেন্ট ড্রিম। যেখানে পাপরিকা প্রটেক্টর হিসাবে নিজেই সবকিছু শুষে নেয়। কিন্তু তারপরেও প্রশ্ন থাকে, “What about the rest of it.” স্বপ্ন শেষ হবার নয়।

সবকিছু মিলে বেশ কালারফুল আর লাইভলি একটা ফিল্ম। সাতোশি কন মাস্টার। 

Anime: Paprika review by Nisharggo Niloy

[ এই লেখাটিকে আমার ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা বলে ধরে নিলে ভাল হবে। আমি অনেকটা নিজের মত করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি, কোন নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না। এটাকে রিভিঊ অথবা ক্রিটিসিজম, কোনটাই বলা যাবে না। ]

Anime: Paprika
Type: Video Animation Film
Release: 2006
Director: Satoshi Kon
Based on: Yasutaka Tsutsui’s 1993 novel of the same name.
MAL Rating: 8.20/10.0, Ranked: 277
My Rating: 8.27/10.0, Ranked: 10
Plot: উইকিপিডিয়াঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Paprika_(2006_film)#Plot

মজার ব্যাপার, পাপরিকার মূল থিমকে আমি এইভাবে ব্যাখ্যা করতে পারিঃ Paprika is a motion video artwork which has the aim to “resolve the previously contradictory conditions of dream and reality.” অর্থাৎ সাররিয়ালিজমের মূল চিন্তাধারাকেই চলচ্চিত্রের মধ্যে তুলে এনেছে পাপরিকা। সাতোশি কোন নিজে এই মুভি সম্বন্ধে বলেছেনঃ “Everything but the fundamental story was changed.” সুতরাং আমার মনে হয় ৎসুৎসুই ইয়াসুতাকার উপন্যাসটা না পড়েও আমি যদি শুধু কোনের মাস্টারপিস মুভি হিসেবে এটা নিয়ে ডিসকাস করতে যাই খুব বেশি ভুল হবে না।

সাদা চোখে দেখলে পাপরিকা একটা সায়েন্স ফিকশন, যেখানে স্বপ্নকে বাস্তবে তুলে আনার প্রচেষ্টায় যেসব অদ্ভূত ভয়াবহতার সৃষ্টি হয় সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে। অন্যভাবে যদি দেখতে যাই, এখানে আমি অনেক কিছুই দেখতে পাই। পরাবাস্তবতাকে সাহিত্য এবং চিত্রকর্মে একটি শক্তিশালী বাদ বা ism হিসেবে দাঁড়া করানো গেছে। কিন্তু চলচ্চিত্রে? আমার জানামতে এরকম কোন বড় সাফল্য চলচ্চিত্রে আর্টিস্টরা পাননি। দালি তার জীবদ্দশায় ডিজনির সাথে এইধরনের একটা কিছু সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন ১৯৪৬ সালের দিকে। তবে তিনি সেটা দেখে যেতে পারেননি। অসম্পূর্ণ অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর ২০০৩ সালে মুক্তি পায় “Destino”. [http://www.youtube.com/watch?v=1GFkN4deuZU ] প্রায় সমসাময়িক মুভি পাপরিকা (২০০৬), তবে পাপরিকা যেন পরাবাস্তবতাকে বাস্তবে নিয়ে আসার বিষয়টা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। পাপরিকায় প্রথম এই ব্যাপারটিই চোখে পড়ে।

আরো ভাল লাগে পাপরিকার মিউজিক। বিশেষভাবে, থিম সংয়ে ভোকালয়েডের ব্যবহার। মিউজিকটাও সাররিয়াল। একই সাথে অবাস্তব এবং সুন্দর।

ভিতরের দৃশ্যগুলোর মধ্যে ভাল লেগেছে পুতুলের মিছিল। দৃশ্যটা কেমন অশুভ, ভয় লাগে দেখলে। কিংবা বাস্তবের সাথে যখন আসলেই স্বপ্নগুলো মিশে যায়, তখন মানুষগুলোর ল্যাম্পপোস্ট, অদ্ভূত প্রাণী কিংবা খেলনা রোবট হয়ে নাচতে থাকা, দৃশ্যগুলোকে স্বপ্ন মনে হয় না।

আরো একটা চোখে পড়ার মত বিষয় হল রেফারেন্স। বহু ফিল্ম, আর্টওয়ার্ক, সাহিত্যকর্মের রেফারেন্স আছে। সাতোশি কোনের অন্যান্য মুভি গুলো- টোকিও গডফাদার, পারফেক্ট ব্লু; সফোক্লিসের ইদিপাস; দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ, রোমান হলিডে; পিনোচ্চিও, অ্যান্ডারসেনের মারমেইড– আরো বহু রেফারেন্স। পুরাপুরি সবগুলো সিন বুঝতে হলে কমপক্ষে শখানেক জিনিসপাতি সম্বন্ধে ভাল জানতে হবে।

মুভির নাম কেন পাপরিকা, সেটা মুভির দুইটা কোটেশন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়ঃ
“That’s right, keep running. There are no boundaries to dreams.The spirit will be freed from the constraints of the body and gain limitless freedom. Including me! I will also be free!!”
“The one I’ve been waiting for since historic times! Your flute melody is a sound for sore neurons!…….. A fragrant fat is a first class lunch…. It needs a little more spice, maybe some paprika?”

শেষ দিকের দৃশ্যে যখন দানবীয় পাপরিকা/ড. আতসুকো শুষে খেয়ে ফেলে চেয়ারম্যানকে, সেই দৃশ্যটা ভাল লাগে। পুরুষতন্ত্রের প্রতি একটা বিদ্রূপ মনে হয় দৃশ্যটাকে। সেই সাথে কেন জানি আদি টাইটান, মাদার নেচার গায়া-র কথাও মনে পড়ে। অবশ্য র‍্যাডিকাল ফেমিনিজম দিয়েও ভাল ব্যাখ্যা করা যায় এটাকে।

একটা প্রশ্ন থাকে, ড. আতসুকো কেন স্বপ্নের মাঝে পাপরিকা হয়ে যান? তিনি ডিসি মিনি-র টেকনোলজিকে সাইকোথেরাপির কাজে ব্যবহার করেন কেন পাপরিকার রূপ নিয়ে? সেই রূপ কি আসলে তাকে একটু বেশি অতিমানবে পরিণত করে? পরাবাস্তবতায় তিনি নিজের অপূর্ণ আকাঙ্খাগুলো পূরণ করতে চান? সেই জগতের নিরর্থকতাকেও তিনি অর্থপূর্ণ করতে চান? এ প্রশ্নগুলো নীৎসের ‘উবেরমেনশ’ কনসেপ্টকেও খানিকটা টেনে আনে।

শেষ কথা, সালভাদর দালি, ম্যাক্স আর্ন্সট-রা যদি জীবদ্দশায় এই মুভিটা দেখে যেতেন তবে তাদের প্রতিক্রিয়া কী হত খুব জানার ইচ্ছা হয়। আর এই অ্যানিমটা যদি কারো টপ টেনের বাইরে থাকে, তবে তা শুধুমাত্র এর দুর্বোধ্যতার জন্যই। 

এটার মর্মার্থ যাদের মাথার দুই হাত, তিন হাত, মাইল খানেক/দুয়েক উপর দিয়ে যাবে তাদের জন্য রইল আমার সমবেদনা। তারা এক কাজ করতে পার, শান্তচিত্তে ও পবিত্র দেহে কঠোর যোগসাধনা করতে থাক। একসময় লাইটবাল্বের ন্যায় তোমাদের মাথার ভেতর আবির্ভূত হবে তান্ত্রিক তরিকা। সেই তরিকা দিয়ে সবই বোঝা যাবে।
আর যারা বুঝতে পারবে, তাদের মহান পরিণতির কথা ভেবে ডেডিকেট করছি এই গানটিঃ

https://www.youtube.com/watch?v=VLnWf1sQkjY

Perfect blue : Anime Review by Torsha Fariha

কিরিগোয়ে মিমা। জাপানের খুব জনপ্রিয় এই পপ আইডল হঠাৎ করেই তার ক্যারিয়ার চেঞ্জ করে ফেলে। অ্যাকট্রেস হবার ধ্যানজ্ঞান নিয়ে সে একদম গোড়া থেকে আবার তার ইমেজ গড়া শুরু করে। কিন্তু মিষ্টি মিষ্টি হাসিখুশি কিশোরী পপ আইডল ইমেজ যেন তাকে ছেড়েই যায় না। তাই বাধ্য হয়েই সে একসময় একটি ড্রামাতে রেপ সীন করতে রাজি হয়।

এই দৃশ্যে অভিনয় করে মিমা রাতারাতি তার আগের খোলস ছেড়ে মিডিয়ার লাইম লাইটে চলে আসে। শুরু হতে থাকে একের পর এক ইন্টারভিউ আর ফটোশ্যুট। এর মাঝে কিছু ন্যুড পিকও থাকে যার কারণে দর্শকরা তাকে নতুন করে পরিণত মিমা হিসেবে ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে থাকে।

কিন্তু এতে করে খুব বাজে একটা ইফেক্ট পড়ে মেয়েটার উপর। তার ভেতর অপরাধবোধ জন্ম নেয় এই ধরণের কাজের জন্য। মনের গভীরে সে অনুতপ্ত হতে থাকে কেন সে আইডল মডেল থেকে অ্যাকটিং এর দিকে পা বাড়ালো।

ঠিক সেই সময় মিমা ইন্টারনেটে খোঁজ পায় ‘মিমা’স বেডরুম’ নামে একটা রহস্যময় হোমপেইজের। যেখানে একটা অপশন থাকে ‘মিমা’স ডায়েরি’। সে অবাক হয়ে দেখে ঠিক সে যা যা করেছিল গতকাল, কিংবা আজকে সবই নিখুঁত করে লেখা সেখানে। এবং সেই রেপ সীনের পরের দিন থেকে সেই ডায়েরিতে বারবার লেখা ‘হেলপ মি’ , ‘আমার এই জগতে আসাই ঠিক হয় নি…’ , ‘আমি পপ আইকন হিসেবেই ভালো ছিলাম…’ ইত্যাদি কথাবার্তা। ঠিক মনের গভীরে মিমা যেই সব কথা ভাবছিল সেইগুলাই সেখানে লেখা…

এভাবে ওর মনের ভেতর দুটো সত্ত্বার টানাপড়েন চলতেই থাকে । একসময় মিমা তার চারপাশের বাস্তবতা আর কল্পনাকে এক করে ফেলে…

তার মনে হতে থাকে ঘুমের মধ্যে সে যে স্বপ্নটা দেখেছে কিংবা মিমা’স ডায়েরিতে যেসব কথা লেখা হতে থাকে প্রতিদিন হয়তো সেগুলোই সত্যি… আর তার রিয়েলিটি দিন দিন ধোঁয়াটে হতে থাকে…

মোটামুটি এই রকম একটা কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘পারফেক্ট ব্লু’ অ্যানিমেশন মুভিটা। জ্যাপ অ্যানিমেশন মুভির মধ্যে এই ধরণের আর্ট আমার খুব ভালো লাগে। কাহিনীটা একটু গ্লুমি বাট আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

 

http://www.youtube.com/watch?v=eN_XcMuvOz0

Kotonoha No Niwa – অসম ভালবাসার নান্দনিক প্রকাশ [মোঃ আসিফুল হক]

A faint clap of thunder
Clouded skies, perhaps rain comes
Will you stay here with me?

KNN

আমার পূর্বের কোন এক লেখায় একজন আমার লেখার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে গিয়ে বলেছিলেন; আমি কোন কিছু দেখার সাথে সাথে সেটা নিয়ে লেখতে বসে যাই; এবং সেই কারণে অধিক আবেগে অনেক কিছুকেই অভাররেটেড করে ফেলি। উনার কথাকে গুরুত্তের সাথে নিয়েই দেখার বেশ অনেক দিন পর kotonoha no niwa নিয়ে লিখতে বসলাম।

মাকোতো শিনকাই নামটা জাপানের এনিম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ জোরেসোরেই উচ্চারিত হয় তার ভিজুয়ালি সাউন্ড মুভিগুলোর জন্য। ২০০৭ এ তার প্রথম কাজ 5 centimeter per second দিয়ে আমারও এনিম মুভি দেখার যাত্রা শুরু। তার মুভিতে অসম্ভব সুন্দর এবং ডিটেইলড ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে ইমোশনাল এবং খানিকটা ট্রাজিক কিন্তু রোমান্টিক গল্পের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়।

Kotonoha no niwa কি এই ক্যাটাগরিতে পড়ে? হুম; অবশ্যই। বরং অন্য মুভিগুলোর চেয়ে খানিকটা বেশিই। তবে আপনি যদি একটা খুব সুন্দর গল্প আশা করে থাকেন; তবে আপনাকে হয়ত খানিকটা হতাশই হতে হবে। এই মুভি তার ভিজুয়াল এফেক্ট বা আর্ট এর প্রতি যতটা গুরুত্ব দিয়েছে; একটা অসাধারণ গল্পের অসাধারণ সমাপ্তির কথাটাকে ততটাই অবহেলা করেছে।

KNN 2

১৫ বছর বয়সী এক হাই স্কুল ছাত্র তাকাও এবং ২৭ বছর বয়সী ইউকিনোর ভালবাসাই গল্পের মুল উপজীব্য । তাকাও; যার জীবনের লক্ষ এবং উদ্দেশ্য জুতো বানানোর কারিগর হওয়া; সুন্দর সুন্দর জুতার ডিজাইন করা; নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই অনিশ্চিত। ইউকিনো নিজের সমাজে; নিজের পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে না এবং নিজেকে খুজে ফেরার তাগিদে পার্কে বসে সময় কাটায়। তাদের জীবনের এই অনিশ্চয়তা; একাকীত্ব; অসহায়তা-ই তাদেরকে পরস্পরের কাছে এনে দেয়।

KNN 3

চিরাচরিত ৮-১০টা মুভি প্লট থেকে একদমই আলাদা এবং বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হওয়া এই গল্পের শেষটা হয় খানিকটা হিন্দি সিনেমার মেলোড্রামাটিক স্টাইলে। গল্পে মুল চরিত্র দুজনের আবেগ অনুভুতির জগতে খুব কমই প্রবেশ করা হয়েছে। একজন নিরপেক্ষ দর্শকের দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে; তাদের দেখা হল; তারা কথা বলল; একে অপরকে ভালবেসে ফেলল !!! কিন্তু কেন? সেই সম্পর্কের ভিত্তিটাই বা কি আর গভীরতাটাই বা কতটুকু? ঠিক কি কি ফ্যাক্টর গল্পের শেষ দিকে তাদের সম্পর্ককে এতটা তীব্র করে তুলেছে? এইরকম অনেকগুলো প্রশ্নেরই উত্তর দেয় না এই মুভিটি।

KNN 4

এখন তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে; এই মুভিটার সফলতাটা তাহলে কোথায়? প্রথম যেই জিনিসটা মাথায় আসে সেটা হল; সংলাপ। এক কথায় অসাধারণ। সংলাপে কি বলা হচ্ছে তার চেয়ে চমকপ্রদ বিষয় কি বলা হচ্ছে না সেটা। এর সংলাপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব সহজ; সীমিত এবং চরিত্রগুলোর দৈনন্দিন স্বাভাবিক একঘেয়ে আলাপচারিতায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই মুভি কোন কিছু বলার চেয়ে তা দেখানোতেই বেশি বিশ্বাস রেখেছে। তাকাওর খাতায় একের পর এক স্কেচ দেখে আমরা বুঝতে পারি; তার প্যাশন কি। অল্প দু’চারটে কথায় আমরা তাকাওর ফ্যামিলির পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া খুব সহজেই বুঝে যাই। একান্তই যখন সংলাপের প্রয়োজন তখন খুব সহজ এবং স্নিগ্ধ সংলাপ এবং সেই সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক; ঝি ঝি পোকার ডাক; সংলাপের মাঝে খানিক নিরবতা; বৃষ্টি – আমাদেরকে পুরো পরিবেশটার সাথে একাত্ম করে ফেলে।

ভিজুয়াল পারস্পেক্টিভ থেকে “kotonoha no niwa” একটা মাস্টারপিস। যারা 5 centimeter per second দেখেছেন তারা এর সাথে অনেকটাই পরিচিত থাকার কথা। মুভির অন্যতম মুল থিম হচ্ছে বৃষ্টি। সাধারণত গল্পে বৃষ্টি একাকীত্ব প্রকাশ করে। কিন্তু এখানে বৃষ্টিকে সুখ এবং মানসিক প্রশান্তির প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে ব্যাবহার করা হয়েছে।

 KNN 5

মুলত পিয়ানোর সাথে প্রাকৃতিক শব্দ; বৃষ্টি আর ঝি ঝি পোকা – এক মাতাল করা অনুভুতির সাথে পরিচয় করে দেবে এই মুভিটি।

 

সুতরাং; এক বাক্যে যদি সাম আপ করতে হয়; তবে বলা যায় – অসম্ভব সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হওয়া কিন্তু শেষ দিকে খানিক ব্যর্থ গল্পের এই মুভিটি চোখ এবং কানের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা !!!

 

শুরু করেছিলাম; তিনটে লাইন দিয়ে; তাকাওকে ইউকিনোর জিজ্ঞেস করা তিনটে লাইন। শেষ করি প্রশ্নের জবাবে তাকাওর উত্তর দিয়ে –

 

A faint clap of thunder
Even if the rain comes not,
I will stay here, together with you

KNN 6

 

Paprika — Anime Movie review by Farhad Mohsin

Zemanta Related Posts Thumbnail

Paprika মুভিটা দেখসি রিসেন্টলি। সেইটা নিয়ে সেমি-রিভিউ টাইপের পোস্ট।

ফিল্মের ডিরেক্টর সাতোশি কন। বেশ ভালো ডিরেক্টর। Perfect Blue তার ফিল্ম, সেইটাও অনেক ভালো।
যাই হোক, Paprika’র শুরুটা এমন, একটা কোম্পানির R&D বিভাগ একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছে, মিনি ডিসি, যার মাধ্যমে মানুষের স্বপ্ন দেখা যায়। একাধিক জন একসাথে সেটা ব্যবহার করলে স্বপ্ন শেয়ারও করা যায়। এই যন্ত্র ব্যবহার করে স্বপ্নের মধ্যে গিয়ে সাইকোথেরাপি দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। তো একদম শুরুতেই এই যন্ত্র দুইটা চুরি যায়। এবং সেই চুরি যাওয়া যন্ত্র দিয়ে এই যন্ত্র ব্যবহারকারী অন্যদের স্বপ্নে প্রবেশ করে ঝামেলা করা যেতে পারে বলে সেটা নিয়ে প্যানিক সৃষ্টি হয়। চোরের পিছনে খোঁজ লাগায় মিনি ডিসির প্রধান দুই ডেভলেপার ও তাদের চীফ। এবং এরপর নানা ঘটনা ঘটতে থাকে।
আরেকদিকে থাকে এক পুলিশ অফিসার, সে তার মত করে একাধিক দিক দিয়ে এর মধ্যে জড়িয়ে যায়, এবং ডিসি মিনির গল্পের মধ্যে তার স্বপ্নের গল্পও বেশ সুন্দর মত চলে আসে।
যাইহোক, রিভিউ লিখতে গিয়ে সামারি লিখা শুরু করেছিলাম। Paprika’র গ্রাফিক্স, আর্টওয়ার্ক, সব বেশ ভালো। ড্রিমওয়ার্ল্ডের প্রেজেন্টেশন বেশ সুন্দর/কালারফুল/বোল্ড। স্টোরিলাইন যথেষ্ট গ্রিপিং। ফিল্মটা মনে হয় মূলত একটা সাইফাই, কখনও স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে যাওয়ার জন্য একটা ফ্যান্টাসি ভাব আসে, আবার কখনও বা মনে হয় একটা ডিটেক্টিভ স্টোরির মত। ক্যারেক্টার বিল্ডাপ খুব ভালো।
তবে পুরোটা দেখে আমার এ মুভি সম্বন্ধে যেটা মনে হইসে, এটা সেই ধরণের মুভিগুলোর একটা যেটার logical soundness নেসেসারি না, পুরোটার সবকিছুর লজিকাল এক্সপ্লেনেশন বুঝে বুঝে দেখাটা নেসেসারি না। এটা সেই ধরণের মুভি যেটার বেলায় বলা যেতে পারে, you go with the flow. “এটা কী হচ্ছে” “কেন হচ্ছে” মনে না হয়ে জাস্ট ধরে নেওয়া যাইতে পারে, “হচ্ছে, দেখতে থাকি”। এবং তারপরেও অসাধারণ লাগবে। (কেউ যদি বুঝে না থাকেন আমি আসলে কি বলতে চাচ্ছি, তাহলে দুঃখিত। ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারছি না এরকম আমার মনে হয়েছে রিসেন্টলি আরও একটা মুভি দেখে, Donnie Darko, এনিমে না অবশ্য)
**কেউ কেউ বলে থাকে এই মুভিটার কিছু আইডিয়া হয়তো Christopher Nolan এর Inception এর জন্য inspiration হিসেবে কাজ করতে পারে। হয়তো।

প্রিন্সেস মনোনকি: প্রকৃতি ও প্রেমের অশ্রুত কণ্ঠস্বর by তুহিন তালুকদার

[লেখা টি পূর্বে মুখ ও মুখোশ ফিল্ম ম্যাগাজিন এ প্রকাশিত মূল লেখার লিঙ্ক]
প্রিন্সেস মনোনকি: প্রকৃতি ও প্রেমের অশ্রুত কণ্ঠস্বর

প্রকৃতির কোলে জন্ম মানুষের। অন্য সব প্রাণী, পাখি, উদ্ভিদ, জলজ, কীট পতঙ্গ আর সরীসৃপের মত মানুষও ছিল প্রকৃতির অভিন্ন সন্তান। পৃথিবীর মাটি, আলো, বাতাস, জলই ছিল তার জীবনের অনুষঙ্গ। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম ভেঙ্গে মানুষই প্রথম বেরিয়ে আসার দুঃসাহস করেছিল। আজকের এই সভ্যতা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎকর্ষের মূলে আছে এই দুঃসাহস। মানুষই প্রথম প্রকৃতির ইচ্ছায় নিজের জীবন যাপনের বদলে প্রকৃতিকে নিজের ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। কিন্তু এমনই সর্বনাশা মানুষের স্বভাব যে, প্রকৃতিকে বশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর, তার সাথে সদ্ভাব বজায় না রেখে একে কুক্ষিগত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত লোভের বশে গড়ে তোলে অপরিকল্পিত নগর। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে দুর্যোগের রূপে মাঝে মাঝেই প্রকাশ পেয়েছে প্রকৃতির সন্তাপ। মানুষের নির্বোধ লোভের বলি হয়েছে গাছপালা, বন্য প্রাণী, বাস্তুসংস্থান এবং ফলত মানুষ নিজে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কহীন, একরোখা নগরায়নের অশুভ পরিণামকে চিত্রায়িত করে ১৯৯৭ সালে জাপানের স্টুডিও ঘিবলিতে নির্মিত হয় মনোনকি হিমে বা প্রিন্সেস মনোনকি অ্যানিমেশন ফিল্ম। পরিবেশ রক্ষার বহু উচ্চারিত কথাগুলো আওড়ানো হয়নি এতে। মধ্যযুগের জাপানের সংস্কৃতি, এর পৌরাণিক নির্যাস, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, বন্য প্রাণী ও বনভূমির আত্মিক সম্পর্ক, বিভিন্ন জাতির মধ্যে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ, নারীর ক্ষমতায়ন, শারীরিক অক্ষমদের পুনর্বাসন সবই উঠে এসেছে কাহিনীর পরতে পরতে। একটি সার্থক মহাকাব্যে যেভাবে চরিত্রের বিকাশ, ঘটনার প্রবাহমানতা আর সুবৃহৎ দৃশ্যপট থাকে, ১৩৩ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটিতে তাই সফলভাবে করে দেখানো হয়েছে।

ফিল্মটির পরিচালক হায়াও মিয়াযাকি অ্যানিমেশন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী। অর্ধশতাধিক বছর ধরে তিনি অ্যানিমেশনের সাথে জড়িত। তাঁর অ্যানিমেশন বাণিজ্যিক সাফল্য এবং সমালোচকের প্রশংসা দুই-ই অর্জন করেছে। বিখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক রজার এবার্ট তাঁকে জাপানের জাতীয় সম্পদ (National treasure of Japan) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁকে তুলনা করা হয় ওয়াল্ট ডিজনি এবং ব্রিটিশ অ্যানিমেটর নিক পার্কের সাথে। হাতে আঁকা অ্যানিমেশন দিয়েই তিনি বাঘা বাঘা অ্যানিমেটরকে টেক্কা দিয়েছেন, যারা প্রচুর সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছিলেন।

প্রিন্সেস মনোনকির গল্পটি জাপানের ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনীর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। মুরোমাশি যুগে (১৩৩৭ – ১৫৭৩ খ্রিঃ) জাপানের পূর্বাঞ্চলে এমিশি জাতির বাস ছিল। এর রাজপুত্র আশিটাকার অভিযানই গল্পের মূল প্রসঙ্গ। শুরুতেই আমরা দেখি জঙ্গলের ভেতর থেকে এক অতিকায় শূকর বেরিয়ে আসে। এর সারা শরীর সাপের মত কিলবিলে পদার্থে ভর্তি। দানবটি এমিশি গ্রামকে আক্রমণ করতে গেলে রাজপুত্র আশিটাকা তাকে ফিরে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু অপারগ হয়ে, তীর মেরে হত্যা করতে বাধ্য হয়। কিন্তু লড়াইয়ের সময় দানবটির সর্পিলাকার শুঙ্গ তার ডান হাতে স্থায়ী দাগ রেখে যায়।

 

শূকর দেবতা বা তাতারি গামি

শূকর দেবতা বা তাতারি গামি

গ্রামের প্রবীণ, জ্ঞানী বৃদ্ধা হিসামা পাথর ও কাঠের টুকরা দিয়ে ভবিষ্যৎ গণনা করে বলেন শূকরটি ছিল পশ্চিমের দেশের বনরক্ষী দেবতা। তার ভেতরে বিষাক্ত লোহার গুলি ঢুকে তাকে পাগল করে তোলে। তীব্র কষ্টে ও ঘৃণায় তার হৃদয় পূর্ণ হয়ে তাকে দানবে পরিণত করে। আশিটাকার হাতের দাগটি বড় হতে হতে তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে এবং তাকে অবর্ণনীয় কষ্ট সয়ে মরতে হবে। ক্ষতের কষ্ট সত্ত্বেও ঘৃণার বশবর্তী না হয়ে পশ্চিমের দেশে এর আরোগ্য খুঁজতে হবে। তার গোষ্ঠীর নিয়ম অনুযায়ী তাকে চুলের গোছা কেটে, গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়ে সে রাতেই বেরিয়ে যেতে হয়।

জঙ্গল, পর্বত, বন্ধুর রাস্তা, সমতল ভূমি, নদী পেরিয়ে তার যাত্রা চলতে থাকে। একটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে সেখানে খুনে সামুরাইরা লুঠ আর হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের তীর ছুঁড়তে গিয়ে লক্ষ্য করে, তার হাতে অদ্ভুত নাড়াচাড়া। তীর মেরে সে দুই সামুরাইয়ের শরীর থেকে হাত আর ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দ্রুত সরে যায়। সে নিজেই অবাক হয়ে যায় তার অভূতপূর্ব শক্তিতে। পথে এক সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়। সন্ন্যাসী তাকে জানায়, পশ্চিমের দেশে পর্বতের উপর বনের দেবতা প্রধানের বাস। কিন্তু সেখানে সব প্রাণীই বিপুলাকার, তাই মানুষের জন্য বিপদজনক।

বনের কাছে ছিল নতুন শহর তাতারা বা (লৌহনগরী)। নেকড়ে দলের সাথে মানুষের লড়াইয়ে নেকড়ে প্রধান মোরো গুলিবিদ্ধ হয় এবং কয়েকজন মানুষ নিখোঁজ হয়। আশিটাকা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহতদের স্বজনরা উল্লসিত হয় এবং আশিটাকা বীরের অভ্যর্থনা পায়। সে দেখে তাতারা বা এক বিরাট কর্মযজ্ঞের শহর। সেখানে সে জানতে পারে এর প্রধান লেডী এবোশী গণিকালয় থেকে নারীদের কিনে এনে লৌহনগরীর হাপর চালানোর কাজ দেন। এবোশীই নাগো নামের শূকর দেবতাকে গুলি করেছিলেন। তিনি কুষ্ঠ রোগীদের পুনর্বাসন করে মারণাস্ত্র তৈরীর কাজ দিয়ে রেখেছেন। তাকে লোহা প্রক্রিয়াজাত করণ ও অস্ত্র তৈরির এলাকাটি ঘুরে দেখান হয়। আশিটাকা জানতে পারে বনের অধীশ্বর শিশি গামিকে হত্যা করলে বনের রাজকন্যা প্রিন্সেস মনোনকি আবার মানুষে পরিণত হবে। এবোশী একাজে তার সাহায্য চায় এবং তার ক্ষত সারিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। আশিটাকা নারী শ্রমিকদের কাজের এলাকাটিও দেখে এবং তাদের সাথে কিছুক্ষণ হাপর চালায়।

লেডি এবোশী

লেডি এবোশী

সে রাতে এবোশীকে হত্যা করার জন্য প্রিন্সেস মনোনকি শহরে আচমকা আক্রমণ করে বসে। সে ছিল নেকড়ে মোরোর পালক মেয়ে সান। সান ও এবোশী দ্বন্দ্বযুদ্ধে মুখোমুখি হলে আশিটাকা তাদের দুজনকে অজ্ঞান করে লড়াই থামায়। সানকে নিয়ে শহর ত্যাগ করার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। সান তাকে শিশি গামির কাছে নিয়ে গেলে তিনি গুলির ক্ষত সারিয়ে দেন কিন্তু তার হাতের দাগ আগের মতই থেকে যায়। সান মুমূর্ষু আশিটাকাকে শুশ্রূষা করে বাঁচিয়ে তোলে।

এদিকে সন্ন্যাসী জিগো বাউ বনদেবতাকে হত্যা করার জন্য তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। কারণ, রাজ্যের সম্রাট অমরত্ব পাওয়ার জন্য শিশি গামির মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সে জানতে পারে, বনের শূকর জাতি তাদের প্রধান ওক্কোটোর নেতৃত্বে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ যুদ্ধে এবোশীর মারণাস্ত্রের সামনে শূকর জাতি টিকতে পারে না। সে সাথে নিহত হয় তাতারা বার প্রচুর মানুষ। শূকরদের হারিয়ে এবোশী জিগো বাউয়ের যোদ্ধাদের নিয়ে বনদেবতা শিশি গামিকে হত্যা করতে যায়।

এবোশীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সম্রাট আসানোর যোদ্ধারা লৌহনগরী আক্রমণ করে দখল করে নেওয়া চেষ্টা করে। আশিটাকা এই খবর নিয়ে বনদেবতার সরোবরে এবোশীর কাছে যায় এবং তাকে নিজের শহরের রক্ষার্থে ফিরে যেতে বলে কিন্তু এবোশী তার কথা শোনে না। যুদ্ধে গুরুতর আহত ওক্কোটো, সান, মোরো সবাই সরোবরে ছিল। গুলিবিদ্ধ ওক্কোটো ক্রমে তাতারি গামির মত দানবে পরিণত হতে থাকে। শিশি গামি এসে ওক্কোটো এবং মোরো উভয়ের প্রাণ নিয়ে নেয়। এবোশী গুলি করে শিশি গামির মাথা আলাদা করে ফেলেন আর জিগো বাউয়ের লোকজন সেটা বাক্সবন্দী করে নিয়ে যায়। মোরো মৃত্যুর আগ মুহূর্তে এবোশীর একটি  হাত কামড়ে ছিন্ন করে ফেলে।

মাথা হারানোর পর শিশি গামি ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে যায়। তাঁর বিক্ষিপ্ত শরীর হন্যে হয়ে মাথাটি খুঁজতে থাকে। প্রলয় নেমে আসে চারদিকে। সেই বিক্ষিপ্ত শরীরের অংশ যাকে স্পর্শ করে সেই মারা যায়। জিগো বাউ মাথাটি নিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। সূর্য ওঠার মধ্যে যদি শিশি গামি মাথাটি ফের না পান তাহলে তিনি আর জীবিত থাকবেন না। আশিটাকা ও সান তাঁর মাথাটি উদ্ধার করে শিশি গামিকে ফেরত দেয়। আবার সজীব হয়ে উঠেন শিশি গামি। লৌহনগরীসহ সকল প্রকৃতিবিরোধী অশুভ প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে, বনের শ্যামলিমা ফিরিয়ে দিয়ে মিলিয়ে যান তিনি। আশিটাকা ও সানের শরীর থেকে সকল অভিশাপের দাগ সরে যায়। এবোশী নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং আশিটাকাকে নিয়ে নতুন করে আরেকটি শহর গড়ার কথা ভাবেন, এ শহরটি হবে লৌহনগরীর চেয়েও ভাল আর প্রকৃতিবান্ধব।

প্রিন্সেস মনোনকিতে অদ্ভুত সুন্দর কাহিনীর মধ্যে সন্নিবিষ্ট হয়েছে কিছু কাল্পনিক প্রাণী। শূকর দেবতা বা তাতারি গামি, যার শরীরের বাইরের দিকটা ছিল কিলবিলে সর্পিলাকার। আকাশিশি বা লাল হরিণ ইয়াক্কুল, যার শিং বাঁকানো, গলায় কেশর ও ঘোড়ার মত দৌড়ানোর ক্ষমতা। জঙ্গলের অধীশ্বর শিশি গামির দিন ও রাতের জন্য বরাদ্দ দুই রূপ। দিনে আঁকাবাঁকা একগুচ্ছ শিংযুক্ত হরিণ যার মুখটি মানুষের মত আর রাতের বেলা সুদীর্ঘ, স্বচ্ছ, নীলচে শরীর। এগুলো সবই মিয়াযাকির সৃষ্টিশীল কল্পনার ফসল।

প্রিন্সেস মনোনকির কাল্পনিক প্রাণী – ইয়াক্কুল, শিশি গামির দিন ও রাতের রূপ

প্রিন্সেস মনোনকির কাল্পনিক প্রাণী – ইয়াক্কুল, শিশি গামির দিন ও রাতের রূপ

মূলত হাতে আঁকা প্রিন্সেস মনোনকির ফ্রেমগুলো ডিজনির আধুনিকতম অ্যানিমেশনের সাথে তুলনীয়। এর সাথে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের টেক্সচার ম্যাপিং, থ্রিডি রেন্ডারিং, মরফিং, পার্টিক্যাল ও ডিজিটাল কম্পোজিশান ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোও আঁকার মধ্যে গভীর মনোযোগ পেয়েছে। পানিতে কিছু ডুবালে সৃষ্ট তরঙ্গ, জলের নিচে পায়ের ছাপ, পাতার ফাঁকে সূর্যের আলো, জঙ্গলের ভেতর আলো ছায়ার খেলা, জলের উপর দিয়ে শিশি গামি আলতোভাবে হেঁটে গেলে সুন্দর তরঙ্গ সৃষ্টি, বাতাসে ঘাসের নড়াচড়া, পাথরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করলে তার রঙ বদলে যাওয়া, বৃষ্টি এলে রোদ সরে গিয়ে আঁধার ঘনিয়ে আসা, আশিটাকা চোখের নিচে কাটা নিয়ে ভারী গেইট ঠেলে খুলতে গেলে ক্ষত থেকে রক্ত ছলকে ওঠাসহ কোন কিছুই আর্ট ডিজাইন থেকে বাদ পড়েনি। ফিল্মটির ১,৪৪,০০০ অ্যানিমেশন সেলের সবই মিয়াযাকি তত্ত্বাবধান করেছেন এবং ৮০,০০০ টি নিজে সংশোধন করেছেন।

ফিল্মটিতে কণ্ঠশিল্পীরা সম্পূর্ণ দরদ দিয়ে কাজ করেছেন। এমনকি ভাষান্তরিত ইংরেজীতেও দক্ষ কন্ঠকুশলীদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যারা এর ভাবগাম্ভীর্য খর্ব হতে দেয় নি এতটুকু। সিনেমাটির আবহ সঙ্গীত মন হরণ করার মত। বিখ্যাত সঙ্গীতকার জো হিসাইশি কাহিনীর গতিপ্রকৃতি হিসেবে যখন যে ধরণের সুর দরকার যেন তাই এনে হাজির করেছেন এবং প্রয়োজনবোধে করেছেন নিঃশব্দের ব্যবহার। ছবিটিতে দুটি গান ছিল। তাতারা মহিলাদের কাজের সময় সকলের সুর করে গাওয়া গান এবং কাহিনীর মূল গান বা থিম সং। দুটি গানের কথাই লিখেছেন গীতিকার মিয়াযাকি। প্রিন্সেস মনোনকি দেখতে গিয়ে তাঁর এই প্রতিভাটির কথাও জানা গেল। বনের প্রধান দেবতা শিশি গামির উপস্থিতির সময় কোন শব্দ ব্যবহার হয় নি, যেন চারদিকে সবাই সুনসান নীরবতায় তাঁকে প্রত্যক্ষ করছে, সেই সাথে আমরাও।

মিয়াযাকির ছবির বিশেষত্ব হল তিনি সাধারণত খলচরিত্র বা ভিলেন ছাড়া কাহিনী তৈরি করেন। এখানেও আপাতভাবে লেডী এবোশীকে খল মনে হলেও এ চরিত্রেরও আছে শুভ দিক। তিনি সমাজের অস্পৃশ্য কুষ্ঠরোগীদের মানুষ হিসেবে দেখেছিলেন। তিনিই প্রথম তাঁদেরকে নিজের শহরে এনে ক্ষত ধুয়ে ব্যান্ডেজ করে দেন এবং রাইফেল তৈরির কাজ দেন। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে নারী যৌনকর্মীদের সংগ্রহ করে তাতারা বা শহরে এনে লৌহশিল্পের কারখানায় হাপর চালানোর কাজ দেন। সেই কাজ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য হলেও নারীকর্মীরা বলেন, তাঁদের আগের কাজের তুলনায় একাজ অনেক বেশি মানবিক। এবোশীর মধ্যে ছিল নেতৃত্ব দানের অসামান্য যোগ্যতা। তাই তাঁর শহরের নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি উচ্চ শ্রদ্ধার আসনে স্থিত। জঙ্গলের দেবতাদেরও তিনি অকুতোভয়ে লড়াই করতেন। এক্ষেত্রে তিনি শুভ পক্ষ অবলম্বন না করলেও তাঁর সাহস প্রশংসনীয়।

আশিটাকা ও সানের প্রেমের চিত্রায়ন ছবিটির একটি বিশেষ দিক। তারা পরস্পর ভিন্ন মতের অনুসারী। সান চরম মানুষ বিদ্বেষী আর আশিটাকা যেকোনো ধরণের সহিংসতা বিরোধী। তারা প্রত্যেকেই একে অপরের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। সানের প্রাণ বাঁচাতে আশিটাকা গুলিবিদ্ধ হয়। মুমূর্ষু আশিটাকাকে দীর্ঘদিন শুশ্রূষা করে বাঁচায় সান। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও অপদেবতায় পরিণত হওয়া ওক্কোটোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সানকে বাঁচাতে চায় আশিটাকা। কিন্তু গল্পের কোথাও কাউকে প্রেম নিবেদন করতে দেখা যায় নি। যেন একে অপরের মনের কথা এতটাই নিশ্চিতভাবে জেনে গিয়েছিল যে, মুখ ফুটে বলার প্রয়োজন হয় নি। গল্পের শেষেও তারা একত্রে থাকার কথা বলে নি। সান তার আরণ্যক জীবন বেছে নেয় আর আশিটাকা তাতারা বা শহরকে নতুনভাবে গড়তে যায়। তারা মাঝে মাঝে দেখা করার প্রতিশ্রুতি করে। প্রত্যেকে নিজের নিজের জীবনযাত্রায় থেকে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখা পৃথিবীর যে কোন দেশের কাহিনীতেই বিরল।

পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এখানে বার বার উচ্চারিত হয়েছে ঘৃণা পুষে না রাখার কথা। ঘৃণা হচ্ছে জ্বলন্ত কয়লার মত। যার হাতে থাকে তাকেও জ্বালায়, যাকে ছুঁড়ে মারা হয় তাকেও পোড়ায়। ভবিষ্যৎ বক্তা হিসামা আশিটাকাকে বলেছিলেন, ঘৃণার বশবর্তী না হয়ে আরোগ্য খুঁজতে। আশিটাকাও এবোশী আর বনের প্রাণীদের যুদ্ধে কোন পক্ষ না নিয়ে বার বার ঘৃণাহীন সহাবস্থানের কথা বলেছিল। সান আর এবোশীর দ্বন্দ্বযুদ্ধে সে দুজনকে থামিয়ে দিয়ে শহরবাসীর উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করে সেই অমোঘ উক্তি, যা পুরো ছবিটির সার বক্তব্য। সে বলে, ‘Look, everyone! This is what hatred looks like. This is what it does when it catches hold of you. It’s eating me alive and very soon now it will kill me! Fear and anger only make it grow faster.’

সবার অধিকার রক্ষা করে মানবিক নগর গড়ার বার্তাই এখানে দেওয়া হয়েছে। মানুষ প্রকৃতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের কষ্টই শুধু বাড়িয়েছে। ছবিটিতে বনের প্রাণীরা পরস্পরের ব্যাপারে যতটা শ্রদ্ধাশীল, মানুষের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী একে অন্যের ব্যাপারে ততটা নয়। নেকড়ে ও শূকর জাতি একে অন্যকে অপছন্দ করত, তাই এড়িয়ে চলত। কিন্তু মানুষেরা রাজ্য দখল করে ধ্বংস করে দিত প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিকে। কিছু কিছু মূল্যবোধকে মানুষ পুরনো বা সেকেলে আখ্যা দিয়ে ফেলে দেওয়ার আক্ষেপ থেকে থেকে প্রকাশ পেয়েছে।

অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রিন্সেস মনোনকি জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের মত। রটেন টোমাটোসের ৮৪ জনের পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি এখনো ৯৪% তরতাজা। আই. এম. ডি. বি শীর্ষ ২৫০ সিনেমার তালিকায় ১০ এর পূর্ণমানে ৮.৪ পেয়ে এটি ৯৩ তম অবস্থানে আছে। মেটাক্রিটিক আবার ২৯ জনের পর্যালোচনায় একে ১০০ তে ৭৬ নম্বর দিয়েছে। রজার ইবার্ট ১৯৯৯ সালের সকল চলচ্চিত্রের উৎকর্ষের ক্রমে একে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রেখেছেন।

ফিল্মটি ১৯৯৮ সালে জাপানীজ একাডেমীর সেরা চলচ্চিত্র, ২০০১ সালের স্যাটার্ন পুরস্কার, ব্লু রিবন ও হোচি ফিল্ম পুরস্কারসহ বিভিন্ন বিভাগে অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নেয়। এছাড়াও অনেক আসরে বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন পায়।

২৪০ বিলিয়ন জাপানীজ ইয়েনে প্রস্তুত ছবিটি বক্স অফিসেও সফল হয়। ১৯৯৭ সালে জাপানের মধ্যে এটিই ছিল সর্বাপেক্ষা ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র, পরে টাইটানিক একে ছাড়িয়ে যায়। ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যানিমেশন ছবির মধ্যে এটি ছিল সর্বাধিক বিক্রিত। এর কাহিনী অবলম্বনে পরে মঞ্চনাটক, কমিক্স বই ও টিভির জন্য কার্টুন সিরিয়াল তৈরি হয়।

অবশ্য দ্রষ্টব্য চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রিন্সেস মনোনকি সামনের দিকে থাকার মত। কারণ, এখানে আছে প্রকৃতির কথা, শাশ্বত প্রেমের কথা, মানুষের কথা, মানবতার কথা আর অভিশপ্ত জীবনের যাতনার কথা। কোন চোখ ঝলমলে নগর যেন মানুষের স্বাভাবিক দেখার চোখকে অন্ধ করে না দেয়, তাই বার বার অনুরোধে আকুতিতে বলার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবিটি দেখতে দেখতে কবিগুরুর কবিতার চরণগুলো বার বার মনে পড়ে,

দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,
লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,
দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি,
… … …
চাই স্বাধীনতা, চাই পক্ষের বিস্তার,
বক্ষে ফিরে পেতে চাই শক্তি আপনার,
পরানে স্পর্শিতে চাই ছিঁড়িয়া বন্ধন
অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন।

শেয়ার! 

গিনতামা মুভি – ফারসিম আহমেদ

কয়েকদিন আগে গিন্তামা নিয়ে কথা উঠেছিল, কয়টা আনিমে দেখে গিন্তামা দেখা উচিত। তো ছবি মাঝে মাঝে অনেক জোরালো বক্তব্য রাখে।
কোন কোন আনিমের রেফারেন্স আছে সেগুলো কুইজ রইলো, আমি শুধু সিনেমারটা বলে দিচ্ছি, এটা রোমান হলিডের প্যারোডি। গ্রেগরী পেক আর অড্রে হেপবার্ন ভালো অভিনয় করেছিলেন, আর সিনেমাটা বেশ উপভোগ্যও ছিল।
Gin 1
Gin 2
Gin 3

আরো টুডি এনিমেশন মুভি – লেখক ব্লগার স্বাধীনতার বার্তা

টুডি এনিমেশন মুভি নিয়ে আগের পোস্টটা দিয়েছিলাম গত বছর। এবার আরো কিছু টুডি ফিল্ম নিয়ে হাজির হলাম। আগেরবারের মতই কোন নির্দিষ্ট ক্রমে লিখলাম না। যখন যেটার নাম মনে আসে তখনই সেটা লিখলাম। এগুলোর বেশিরভাগই গত এক বছরের মধ্যে দেখা। আর শিরোনাম টুডি এনিমেশন মুভি হলেও এই পোস্টের সবগুলো শুধুই জাপানীজ এনিমে। স্বাগতম আমার পোস্টে।

#১। Colorful (2010):

Colorful
মৃত্যুর পর একটি আত্মাকে সুযোগ দেয়া হয় আবার পৃথিবীতে ফেরত যাওয়ার। এই আত্মাকে মাকোতো কোবাইয়াশি নামে এক কিশোরের জায়গায় রিপ্লেস করা হয়। অন্যদিক এ মাকোতো নামের ছেলেটি আত্মহত্যা করে। তাকে বলা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাকে তার আগের জীবনের পাপকে খুঁজে বের করতে হবে। আর তাকে আরো বলে হয় ঠিক কোন ঘটনা মাকোতোকে আত্মহত্যার পথে নিয়ে গেছে তা খুঁজে বের করতে।
ডিরেক্টর Keiichi Hara এর দ্বিতীয় বিগ প্রোডাকশন। এর আগের মুভি ছিল Summer Days with Coo (২০০৭)। তারো আগে এই ডিরেক্ট কিছু টিভি সিরিজ, সেই রিলেটেড মুভি ও কিছু অল্প বাজেটের মুভি বানিয়েছেন। Colorful ছবিটি ২০১০ সালে Mainichi Film Award এ এনিমেশন গ্র্যান্ড এওয়ার্ড জিতে নেয়।
এখন আমার মন্তব্য বলতে গেলে আমি বলব খুবই unsettling মুভি। কয়েকদিন কেমন যেন খচখচ করেছে মুভিটা দেখার পর। দেখার মত।

#২। Summer Days with Coo (2007):

Summer Days with Coo

এটা বাচ্চাদের জন্য বানানো।
Kappa জাতের এক Yokai (ভূত) ২০০ বছর পর নিজেকে মডার্ন টোকিওতে আবিষ্কার করে। Kouichi Uehara নামের এক পিচ্চি তাকে খুঁজে বের করে। এরপর কাপ্পা চায় এই পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে।
খারাপ না।

#৩। Redline (2010):

Redline
“Sweet JP” প্রায় জিতে যাচ্ছিল ইয়েলো লাইন আর তার হাতে এসে যাচ্ছিলি রেড লাইনের টিকেট। কিন্তু শেষ মূহুর্তে প্রতিশ্রুত ম্যাচ ফিক্সিং এর কারনে বরন করে নিল সবার শেষ পজিশন। কিন্তু পপুলার ডিমান্ড আর কয়েক রেসারের রেড লাইন বর্জন করায় সে শেষ পর্যন্ত চান্স পেল রেড লাইনে। তার সারা জীবনের স্বপ্ন রেড লাইন জেতা। এখন সে কি আবার ম্যাচ ফিক্স করবে নাকি রেড লাইন জেতার চেষ্টা করবে?
মনে হচ্ছে খুবই সুন্দর একটা স্পোর্টস কাহিনী। কিন্তু ওয়েট এ মিনিট! এখানের সব রেসাররাই বিভিন্ন এলিয়েন। রেসটা একটা ইলিগ্যাল রিয়েলিটি শো। তার উপর পুরো এডাল্ট ওরিয়েন্টেড। এটা বানানো হয়েছে পুরোই Speed Racer সিরিজের ছায়ায়।
তবে একটা কথা আমি বলব, ছবির বিভিন্ন জায়গায় যতই গজগজ করি না কেন, শেষ আধা ঘন্টা স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে পারিনি। এটার এনিমেশন প্রশংশাযোগ্য। UK Anime Network এর রিভিউতে বলা হয়েছে “A sense of the cool and outrageous is seeped into every pore of the design” অন্যদিকে আরে রিভিউ এ বলা হয়েছে, “Speed Racer on crack”। তবে ছবি দেখা শেষ হয়ে যাওয়ার পর খুব বেশিদিন মনে থাকবে না। এটার আমেরিকান ডিস্ট্রিবিউটর ফানিমেশন এটাকে ২০১১ এর এনিমেশন বিভাগে অস্কারের জন্য সাবমিট করেছিল। আমার মতে এটার চেয়ে Colorful কে সাবমিট করলে ভালো হত। কিন্তু শুনেছি অস্কারের নিয়ম অনুযায়ী এনিমেশন বিভাগে সাবমিশনের জন্য অন্তত এক সপ্তাহের জন্য আমেরিকার কোন হলে সিনেমাটা চলতে হয়। অন্যদিক এ Colorful এখনো ইংলিশ ডাব এর জন্য লাইসেন্সই হয় নাই। :@
যাই হোক রেডলাইন খারাপ না। কিন্তু আপনার মাথা ঘুরাতে পারে এনিমেশন স্টাইলটার জন্য।

#৪। The Wings Of Honneamise (1987):

The Wings Of Honneamise
একটি দেশ স্পেস প্রোগ্রাম শুরু করেছে। এই দেশের সাথে পাশের দেশের আবার যুদ্ধ আসন্ন। প্রোগ্রামের মাঝখানে মাঝখানে অনেক সমস্যাও রয়েছে। এর মাঝেই রয়াল স্পেস ফোর্স তাদের স্পেস কার্যক্রম শেষ করতে চায়।
স্টোরিটা অনেক সিম্পল। এনিমেশন ও সিম্পল। সবকিছুই সিম্পল।

#৫। Jin-Roh the Wolf Brigade (1999):

Jin-Roh the Wolf Brigade
টোকিও শহরে চলছে দাঙ্গা। এর মাঝেই টেরোরিস্ট গ্রুপ সেক্ট এই দাঙ্গায় বোমা হামলার পরিকল্পনা করে। আর এ কাজে তারা ব্যাবহার করে ছোট ছোট মেয়েদের। যাদের বলা হয় ‘লিটল রেড রাইডিং হুড’। এমনই এক মেয়ে, করপোরাল কাযুকি এর সামনে আত্মহত্যা করে। এভাবেই শুরু হয়।
ছবিটার ডিড়েক্টর Hiroyuki Okiura এবং রাইটার Mamoru Oshii (Ghost in the Shell সিনেমা দুইটার ডিরেক্টর)। পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ১৯৫০-১৯৭০ এর জাপানকে বেছে নেয়া হয়েছে।
আমার ভালো লেগেছে সিনেমাটা। একটু পর পর লিটল রেড রাইডিং হুড থেকে কোটেশন হয়। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এটার এন্ডিং টা। দেখতে পারেন।

#৬। K-ON! The Movie (2011):

K-ON! The Movie
এটা একটা টিভি সিরিজের ফিল্ম। আল গার্লস ব্যান্ড “আফটার স্কুল টি টাইম” এর সদসদের ইংল্যান্ড এ বেড়াতে যাওয়ার গল্প। ছবিটা দেখে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন এটা সেই বিখ্যাত এবে রোড। সিরিজটা আমার খুবই পছন্দের ছিল। সেই সাথে এই মুভিটাও ভালো লেগেছে। সবসময়ই ওয়ার্ম, ফাজি। কমেডি ঘরনার। এই মুভি এর আগে ৩৯ পর্বের এক সিরিজ আছে। যেখানে দেখানো হয় ভগ্নপ্রায় এক লাইট মিউজিক ক্লাব এ চারজন এসে যোগ দেয়। এরপর তাদের দুষতামি, ফাইজলামি এর মাধ্যমে একটা মেডিকোর ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে। এইত।

#৭। Dante’s Inferno: An Animated Epic (2010):

Dante's Inferno An Animated Epic
Electronics Arts এর অর্থায়নে বিভিন্ন জাপানীজ স্টুডিও এ বিভিন্ন সেগ্মেন্ট বানানো। স্টোরিটা খুবই সিম্পল, দান্তে ক্রুসেড থেকে ফিরে এসে দেখে তার স্ত্রীকে হেল এর গার্ডরা নিয়ে যাচ্ছে। এরপর সে এক অভিযানে নেমে পড়ে তার স্ত্রী বিয়েট্রিসকে ফেরত আনার জন্য। এটা বানানো হয়েছে Dante’s Inferno গেম এর টাই ইন হিসেবে। গেমটা খেলা হয় নি কারন গেমটা পিসিতে রিলিজ পায় নি। গেমটা খেলার খুব ইচ্ছা ছিল। তাই গেমের স্বাদ এই এনিমেশন ফিল্ম এই নিতে হল। সিগ্নিফিকেন্ট দিক বলতে বিভিন্ন সেগ্মেন্ট এ বিভিন্ন এনিমেশন স্টাইল ইউজ করা হয়েছে যা প্রতিটা স্টুডিও এর সিগ্নেচার স্টাইল ফলো করেছে।

#৮। Batman: Gotham Knight (2008):

Batman Gotham Knight
এটা মনে হয় অনেকেরই দেখা আছে। ডিসি কমিক্স এর অর্থায়নে বানানো। স্টাইল এর দিক দিয়ে Dante’s Inferno এর মত। তবে একটা কথা বলতে হবে। প্রথম সেগমেন্ট Have I Got a Story for You টাকে বলতে হয়, “out of this world experience.” সম্ভবত, ব্যাটম্যান নিয়ে এখন পর্যন্ত যতগুলো জিনিসপত্র দেখেছি তার মধ্যে এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের। ডার্ক নাইট এর ফ্যানদের মধ্যে যারা এটা দেখেননি তাদের এটা দেখার অনুরোধ থাকল।

#৯। The Disappearance of Haruhi Suzumiya (2010):

The Disappearance of Haruhi Suzumiya
এটাও আরেকটা টিভি ফিল্ম। জাপান সম্পর্কে একটা পাই চার্ট নেটে খুব পপুলার তা হলেঃ What is going on in Japan? 15% – Typical Things and 75% – Some Weird Shit. Haruhi Suzumiya সিরিজটি সম্ভবত শেষের ৭৫% এর মধ্যে পড়ে। এই মুভিটি দেখার আগে যে কারো The Melancholi of Harufi Suzumiya সিরিজের প্রথম ৬/৭ পর্ব দেখা বাধ্যতামূলক। হারুহি সুজুমিয়া নামের এক মেয়ে, ধারনা করা হচ্ছে এই মেয়ে গড। অন্যদিক এ হারুহি এর তৈরি করা ক্লাবে হারুহি জড়ো করে কয়েকজনকে। একে একে দেখা যায় এই গ্রুপের একেকজন একেক ক্ষমতা সম্পন্ন। একজন টাইম ট্রাভেলার, একজন এস্পার (মেন্টালিস্ট), একজন থট ইন্টেগ্রিটি/ডাটা এন্টিটি এর একটি নোড। এতসবের মাঝে এক সাধারন মানুষ হিসেবে সিরিজের প্রধান চরিত্র কিয়ন জড়িয়ে পড়ে। হারুহি জানে না যে তাকে গড ধারনা করে। আর অন্য তিন গ্রুপের সদস্যরা হারুহিকে অব্জার্ভ করার জন্য এ ক্লাবে যোগ দেয়। এই ক্লাব নিয়েই কাহিনী। ডিজএপেয়ারেন্স অফ হারুহি সুজুমিয়া এ দেখানো হয় সম্পুর্ণ এনভায়রন্মেন্ট চেঞ্জ হয়ে গেছে। কিন্তু কিয়ন ছাড়া আর কারো এর স্মৃতি মনে নেই। অনেক লম্বা সিনেমাটা, প্রায় ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট। কিন্তু মজা লেগেছিল দেখতে গিয়ে এবং কোন্দিক দিইয়ে পুরো সময় চলে গেল টেরই পাইনি।

#১০। Hotarubi no Mori e (2011):

Hotarubi no Mori e
সামার ভ্যাকেশনে এক ফরেস্ট স্পিরিট এর সাথে দেখা হয় পিচ্চি টাকেগাওয়ার। এরপর প্রতি সামার ভ্যাকেশনই স্পিরিটের সাথে দেখা করে এই পিচ্চি। ৫০ মিনিট এর ছোট্ট একটা মুভি।

#১১। The Sky Crawlers (2008):

The Sky Crawlers
সেম নামের উপন্যাস থেকে এডাপ্টেশন করেছেন লিজেন্ডারি ডিরেক্টর Mamoru Oshii। তবে এই সিনেমায় মনে হয় অনেক সিম্বলিক ব্যাপার স্যাপার ছিল। ওশি এর অন্যান্য ফিল্মের মতই বেশ কিছু অংশ মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। স্পেশালি শেষ দশ মিনিট যে কি দেখাল আল্লাহ জানে। যাই হোক, এটা ২০০৮ এ Mainichi Film Award এ এনিমেশন গ্র্যান্ড প্রাইজ জিতে নেয়। এবং অনেকেরই প্রিয় এনিমে এর তালিকায় আছে।
একদল এরিয়াল ফাইটারদের নিয়ে গল্প। এবং সায়েন্স ফিকশন। আর সায়েন্স ফিকশন পার্ট্টাই শেষ ১০-১৫ মিনিট এর আগে দেখা যায় না। এর আগ পরযন্ত ড্রামা মুভি হিসেবে চলতে থাকে।

আজ এ পর্যন্তই। সামনে আবার আসব আরো কিছু এনিমে ফিল্ম নিয়ে।

—-

ডাউনলোড লিঙ্কসঃ
দান্টে’স ইনফার্নো ছাড়া সবগুলো বাকাবিটি এর লিঙ্ক। সবগুলোই টরেন্ট। কম সাইজেরগুলো দিলাম। তবে পেজের কোনায় অন্যান্য ভার্সন দেখা যাবে।
Colorful:720p
Summer Days with Coo: ৪৮০পি
Redline: 480p
The Wings Of Honneamise: 480p
Jin-Roh the Wolf Brigade: 480p
Dante’s Inferno: 720p
K-ON! The Movie: ৭২০পি
Batman: Gotham Knight: 720p
Hotarubi no Mori e: 720p
The Sky Crawlers: ৪৮০পি