Movie Time With Yami – 49

k38pCXNJGTFyADyMSWqOjbXREOs

Name: Summer Days with Coo / Kappa no Coo to Natsuyasumi
Duration: 2 hr. 15 min.
MAL Score: 7.68
Ranked: 1056
Genres: Adventure, Shounen

এদো আমলের জাপান। সভ্যতা তখনও পৃথিবীকে পুরোপুরি দখল করে নিতে পারেনি। পৃথিবীতে মানুষ এবং বনের পশুপাখিরা সহাবস্থান করে শান্তিপূর্ণভাবে। এই আমলেই পৃথিবীতে বাস করত “কাপ্পা” নামের একধরণের প্রাণী। বনের ভেতরের জলাশয় ছিল তাদের বাসস্থান। নির্বিবাদী এ প্রাণীগুলো সবসময় চেষ্টা করত মানুষের নজর এড়িয়ে নিজেদের মত করে বেঁচে থাকতে।এই আমলেই একদিন এক মাতাল সামুরাইয়ের অবিবেচনার শিকার হয়ে মারা যায় একটি কাপ্পা। সামুরাইয়ের হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যায় তার ছেলে, কিন্তু তখনই হঠাৎ সংঘটিত হওয়া এক ভূমিকম্পের কবলে পড়ে জীবন্ত জীবাশ্মে পরিণত হয় সে।

এরপর কেটে যায় প্রায় ২০০ বছর। পৃথিবীকে গ্রাস করেছে সভ্যতা। বনাঞ্চলকে সরে গিয়ে জায়গা দিয়েছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘরকে। এই যুগেরই স্কুলছাত্র কৌইচি। একদিন স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরার পথে জীবাশ্মে পরিণত হওয়া কাপ্পাটিকে খুঁজে পায় সে। বাড়িতে এনে জীবাশ্মটিকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতেই আবার প্রাণ ফিরে পায় সেটি। আস্তে আস্তে বিভিন্ন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ঘৃণার অবসান ঘটিয়ে কৌইচির পরিবারের অংশ হয়ে ওঠে সে। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর এত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে কিভাবে নিজের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করবে কাপ্পাটি?

মুভিটির কাহিনী খুব সহজ-সরল, হাসিকান্না, দুঃখ, অভিমান এবং টুকরো টুকরো আনন্দে ভরা, যে কারণে এটি যে কোন সময়ে বসে উপভোগ করা যায়, কিন্তু একইসাথে এতে কিছুটা নৃশংসতার উপস্থিতি রয়েছে, ঐ অল্প কিছু অংশ দেখলে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে অনেকের। কিন্তু কাহিনীটি খুবই চমৎকার, মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মত, পেসিং খুবই ভাল, একটুও বোরিং লাগেনি কখনো, প্রতিটা মূহুর্তে “কি হবে, কি হবে” ধরণের একটি উত্তেজনা কাজ করতে থাকে দেখার সময়। ক্যারেক্টার ডিজাইন ডিসেন্ট, কিন্তু ডেভেলপমেন্ট চমৎকার, তাদের কিছুক্ষণের মাঝেই আপন বলে মনে হতে থাকে। আর্টওয়ার্ক এবং ওএসটি মানানসই, কাহিনীটিকে সুন্দরভাবে চোখের সামনে তুলে ধরে।

তাই সময় পেলে দেখে ফেলুন দুই ঘন্টার এ সুন্দর মুভিটি, আর ঘুরে আসুন গ্রীস্মের সেই দিনগুলোতে; ক্যু এবং কৌইচির সাথে!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Summer-Days-with-Coo

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 48

antiqueshop

 

Name: Whisper of the Heart / Mimi wo Sumaseba
Duration: 1 hr. 51 min.
MAL Score: 8.34
Ranked: 202
Genres: Adventure, Drama, Fantasy, Romance, Slice of Life

স্টুডিও জিবলীর বেশিরভাগ মুভিতে যে কমন ব্যাপারটা পাওয়া যায়, তা হল প্রাচীন বনভূমি দিয়ে ঘেরা পৃথিবী এবং জাদুবিদ্যার উপস্থিতি। কিন্তু চোখ ধাঁধানো সেসব মুভি বাদেও এ স্টুডিওর কিছু মুভি আছে, যেগুলো ফোকাস করে আমাদের শহুরে যান্ত্রিক জীবনের ওপর, সেই জীবনের চাওয়া-পাওয়া, আনন্দ-বেদনা, সাফল্য ও ব্যর্থতার গল্পের ওপর। খুঁজে দেখলে আমাদেরই দৈনন্দিন জীবনের কাহিনীর সাথে গল্পগুলোর খুব মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। তেমনই একটি কাহিনী হল মিমি উয়ো সুমাসেবা।

কৈশোর মানুষের জীবনের অত্যন্ত চমৎকার একটি সময়। এই সময়ে তারা পৃথিবীটাকে নতুন করে চিনতে পারে, চেনা পৃথিবীটা হঠাৎ করে অচেনা হয়ে ওঠে। একদিকে থাকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং মূল্যবান স্মৃতিগুলোকে তৈরি করারও সবচেয়ে উপযুক্ত সময় এটি।

সেরকমই একটা বয়স পার করছে সুকিশিমা শিজুকু। সে একজন সাধারণ জাপানি হাইস্কুল বালিকা। জাপানের একটি সাধারণ পরিবারের অংশ সে, যেখানে বাবা-মা দুজনেই নিজেদের কাজ নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকে, বড় বোনও নিজের ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছে। শিজুকু নিজের ভবিষ্যত নিয়ে তেমন চিন্তিত নয়, তবে সঠিক পথ কোনটা হতে পারে, তা নিয়ে সংশয়ে আছে সেও।

শিজুকু ভালবাসে বই পড়তে, তাই পাবলিক লাইব্রেরীতে যাওয়া তার নিত্যদিনের অভ্যাস। একদিন লোকাল ট্রেনে চড়ে পাবলিক লাইব্রেরীতে যাওয়ার সময় সে দেখতে পায়, ঠিক তার পাশেই একটি মোটাসোটা স্বাস্থ্যবান বিড়াল বসে আছে। বিড়ালটাকে দেখে শিজুকুর মজা লাগে, তাই সে কোনকিছু চিন্তা না করেই ট্রেন থেকে নামার পর সেটিকে অনুসরণ করতে থাকে। বিড়ালটির পিছু পিছু গিয়ে সে হাজির হয় একটি অ্যান্টিকের দোকানের সামনে, আর এই দোকানের এই ভিজিটটিই শিজুকুকে পরবর্তীতে সাহায্য করে তার নিজের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে পা বাড়াতে।

মুভিটির কাহিনী খুব জটিল কিছু না, সাদাসিধে হাসিখুশি দৈনন্দিন জীবনের গল্প, যেন আমাদের কারও কারও কৈশোরকেই তুলে আনে গল্পের মাধ্যমে। উজ্জ্বল আর্টওইয়ার্ক এবং ক্যারেক্টার ডিজাইনে হায়াও মিয়াজাকির কাজের ছাপ স্পষ্ট, হালকা রমকম এবং মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মুভিটিকে হালকা মেজাজে উপভোগ করার উপযোগী করে তুলেছে। এন্ডিংটি খুব ভাল লেগেছে আমার কাছে, আর সবচেয়ে ভাল লেগেছে গায়ক “জন ডেনভার” এর “কান্ট্রি রোড” গানটির জাপানি ভার্সনটি, যা মুভিতে কয়েক জায়গায় এবং এন্ডিং সং হিসেবে ব্যাবহৃত হয়েছে।

তাই, হাতে অবসর সময় থাকলে দেখে ফেলুন এই মন ভাল করা মুভিটি, দেখার সময় অন্তত একবার হলেও নষ্টালজিয়াতে ভুগবেন আশা করি!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Whisper-of-the-Heart

Ending Song Link-
https://youtu.be/ispeh2bW1AQ

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

 

When Marnie Was There রিভিউ — Fatiha Subah

2

হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার
জানরাঃ মিস্ট্রি, সাইকোলজিক্যাল
ডিউরেশনঃ ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট
ম্যাল রেটিং: ৮.৪৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

স্টুডিও জিব্লির প্রতিটি মুভিই অসাধারণ এবং অনেক জনপ্রিয়। বিখ্যাত ডিরেক্টর হায়াও মিয়াযাকির কল্যাণেই যে এটা সম্ভব হয়েছে তা সবার জানা কথা। কিন্তু এত সব ভালো ভালো মুভির মাঝে স্টুডিও জিব্লির বানানো আমার সবচেয়ে প্রিয় দুটি মুভিরই ডিরেক্টর ছিলেন অন্য কেউ। তাই এই মুভি দুটো নিয়ে আলোচনাও কম হয় এবং অনেকেই মুভি দুটো চিনে না। এর মাঝে একটি হল “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার”।

একদিকে হায়াও মিয়াযাকি ডিরেক্টর না অন্যদিকে স্টুডিও জিব্লি তখন অনেক চরাই-উতরাই পার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই আমার মুভিটা নিয়ে তেমন একটা প্রত্যাশা ছিল না। শুধু মুভির পোস্টারটা খুব পছন্দ হয়েছিল। অনেকটা হুট করেই দেখে ফেলি মুভিটি। দেখার সময় শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরছিল। কেন এই মুভিটা আরও আগে দেখলাম না!! যদি আরও পরে দেখতাম তো সারাজীবনের একটা আফসোস থেকে যেত।

1

কাহিনীটি আন্না নামের একটি মেয়ের হাত ধরে শুরু যে অ্যানাক্সাইটি অ্যাটাকে ভুগছে। স্কুলে কারো সাথে সে খুব একটা মিশতে পারে না। নিজের প্রতি তার প্রচণ্ড ঘৃণা। তাকে নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে তার মা। কিন্তু কষ্টের বিষয় আন্না একজন দত্তক নেয়া সন্তান। তাই মায়ের এই দুশ্চিন্তা, মমতা কিংবা ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ সবই যেন আন্নার কাছে অর্থহীন ও মিথ্যার বেড়াজালে লুকানো অভিনয় বলে মনে হয়। চুপচাপ, মনমরা আন্নাকে তাই ডাক্তারের পরামর্শে তার মা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে। সেখানে গিয়েও সে বিমর্ষ ছিল। না, গ্রামের কোন মানুষের সাথে মিশে সে তার আগের উৎফুল্ল জীবনে ফিরে যায়নি। বরং কিছু ঝামেলাই বাধিয়ে ফেলে। কিন্তু আন্নার জীবন এবং কাহিনী পাল্টে দেয় অন্যকিছু। নিশ্চুপ আর শান্ত সাগরের পাড়ে বসে ছবি আঁকতে গিয়ে আন্না আবিষ্কার করে সাগরের ওপারে রয়েছে এক সুন্দর বাড়ি। বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত। কিন্তু শুধু একটি ঘরের জানালায় আলো দেখা যায়। আন্না কল্পনায় বা ঘুমের মাঝে সেই জানালার পাশে একটি সোনালি চুলের মেয়েকে দেখতে পায়। কেমন যেন এক অচেনা অনুভুতি তাকে টানে। এই রহস্যময় বাড়ির এক মেয়ে মারনির সাথে আন্নার বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু মারনির পরিচয়ও অনেক রহস্যময়।

কেউ যদি এ পর্যন্ত পড়ে ভেবে থাকেন এটা আমেরিকান কোন ভূতের গল্প তাহলে বড় ভুল করবেন। জানরায় যেমনটা বলা হয়েছে, আনিমেটা সাইকলজিক্যাল। সাথে কিছুটা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারালের মিশেল। আমেরিকান ভূতের গল্প না হলেও গল্পটি ব্রিটিশ লেখক জোয়ান জি. রবিনসনের একই নামের উপন্যাস থেকে নেওয়া। তাই আগেকার আমলের ইংরেজি সংস্কৃতির স্বাদ পাবেন বেশ ভালোই। যারা পুরাতন ইংরেজি গল্প, উপন্যাস বা তখনকার আমলের জীবনাচরণ পছন্দ করেন তাদের মুভিটি ভালো লাগবে বলে আমার ধারণা।

3

মুভিটি পুরোটা দেখে কাহিনী বুঝার পর ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমার একবারে শুরু থেকেই কাহিনীর ভিতরে না ঢুকতেই অনেক ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আমার আবার “ভিজুয়ালি প্লিজিং” আনিমে পেলে আর কিছু লাগে না। মুভিটির অ্যানিমেশন অসম্ভব সুন্দর। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। নিরিবিলি গ্রাম, শান্ত প্রকৃতি, পাখির কলকাকলি, সবুজ পাহাড়, তুলোর মত মেঘ আর নীলাকাশ, বালুচর, সাগরের ঢেউ পাড়ে আছড়ে পড়া, সাগরে নৌকা ভাসানো, বিরাট ম্যানশন, পূর্ণিমা রাত কিংবা বৃষ্টি, সোনালি চুলের গাউন পড়া একটি মেয়ে… দৃশ্যগুলো আপনাকে সম্মোহিত করে রাখবে। ছোটবেলায় পড়া রূপকথার বইয়ের ছবিগুলোর মত। সাথে তো বাকগ্রাউন্ড মিউজিক আছেই। আর আন্নার অ্যাডভেঞ্চার গল্পের মাঝে ঢুকিয়ে নিবে। যদিও আমি ধীর গতির দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী নিয়ে আনিমে দেখে অভ্যস্ত তারপরেও আমার কাছে কেন জানি শুরুতে গল্পটা বেশ ধীর গতির লাগছিল। কেননা শুরুর আধ ঘণ্টায়ও মুভিটি মূল গল্পে প্রবেশ করে না। অনেক সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে আগায়। যারা ধুমধাড়াক্কা মারামারি বা শুধু মাত্র একটা নির্দিষ্ট গল্পের জন্যই আনিমে দেখেন তাদের একটু অধৈর্য লাগার সম্ভবনা আছে শুরুতে। কিন্তু পরে গিয়ে গল্পে বেশ উত্তেজনা আসে। তাই একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে উপভোগ করতে পারবেন। আর সমাপ্তিটা বেশ হৃদয়গ্রাহী। এখানে একই সাথে দুটি মেয়ের জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। শেষের দিকে কিছু চমক অপেক্ষা করছে।

মুভিটির একই সাথে যত ভালো দিক রয়েছে তাতে এর আরও বেশি নামডাক বা জনপ্রিয়তা পাওয়া উচিত ছিল। তাই লেখাটি পড়ে যদি আপনার রুচির সাথে মিলে যায় তবে অবশ্যই দেখতে ভুলবেন না “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার” বা “ওমোইদে নো মারনি”।

7 8 9 5 6 4

Hotarubi no Mori e রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

স্মৃতি কি আমারও আছে?

স্মৃতি কি গুছিয়ে রাখা আছে
বইয়ের তাকের মত,
লং প্লেইং রেকর্ড-ক্যাসেটে
যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত
থাকে গান, আলাপচারীতা?

আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল,
দমকা হাওয়া যেন
লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি,
ওলোটপালটে মহাখুশি
দুঃখেরও দুপুরে গায়,
গাইতে পারে, আনন্দ-ভৈরবী।

সময় খুব নিষ্ঠুর সত্ত্বা। তার কাজ শুধু বয়ে যাওয়া; সে কারো জন্যই অপেক্ষা করে না; না ঝিঁঝিঁ ডাকা তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুরের জন্য, না শরতের ঝড়ে পড়া পাতার জন্য, না জীর্ণ শীর্ণ নিরুত্তাপ শীতের জন্য। কোন একদিনের ঝুম বৃষ্টি আর মাটির সোদা গন্ধ পরমুহুরতেই স্মৃতি হয়ে যায়।

Hotarubi no Mori e এর চরিত্রগুলো ঠিক এমন করেই সময়ের পাকে বাঁধা। ছেলেটি মানুষের ছোঁয়ায় বিলীন হয়ে যাবে বলে পাহাড়ী দেবতার বন ছাড়তে পারে না। মেয়েটি পুরো একটি বছর পার না করে তাকে দেখতে পায় না। তাই প্রতি গ্রীষ্মেই মেয়েটি ছুটে যায় ছেলেটির কাছে; কোন একদিন হটাত করেই আর এই ছুটাছুটির দরকার পড়বে না – এটা খুব ভালভাবে জেনেই।

Hotarubi no Mori e “ফিজিকাল ভালবাসা”র কনসেপ্টটা জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ভালবাসার যে আসল নির্যাস তাকে খুজে ফিরেছে। যে ভালবাসাকে আমরা খুজে পাই যখন আমরা প্রিয়জনের কাছাকাছি থাকি; কিঞ্চিত দুষ্টুমিতে তার মুখের হাসিটুকু দেখি; যখন কি বলব তা খুজে না পেয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে; কিংবা দুজনে পাশাপাশি নিরিবিলি বসে থাকি। ভালবাসা সব সময় সরব হতে হয় না; মাঝে মাঝে নীরবতায়, অনেক কিছু না বলাতেও ভালবাসা লুকিয়ে থাকে। Hotarubi no Mori e সেই থিমের উপর দাঁড়িয়েই আমাদের একটা ভালবাসার গল্প শোনায়; যে ভালবাসাটা কোন রকম চাওয়া পাওয়া বিবর্জিত; যে ভালবাসাটা খুব স্নিগ্ধ।

পুরো মুভিটার পরতে পরতে দুর্দান্ত আর্টওয়ার্ক; চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর দুটো ভিন্ন জগতের বাসিন্দার কথোপকথন – ৪২টা মিনিট যে কোন দিক দিয়ে পার হয়ে যাবে টেরও পাওয়ার কথা না। “ভাল না বাসাটা দুঃখের, ভাল বাসতে না পারাটা বোধহয় তার চেয়েও বেশি” – স্প্যানিশ কবি মিগুয়েলের কথাগুলো যেন এক হয়ে যায় মুভিটার সাথে।

শুরুটা করেছিলাম পুর্নেন্দ পত্রীর একটা কবিতায়। শেষ করি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার কয়েকটা লাইন দিয়ে –

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

1

Time of Eve রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

7

“Are you enjoying the time of eve?”

কিছু গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। হলিউড মুভির গল্প না; একেবারে নিখাদ বাস্তব জীবনে ঘটতে থাকা কিছু গল্প। জাপানের চুকিও ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক কিছু বাচ্চাকাচ্চা রোবট বানিয়েছেন। এই রোবটগুলো একেবারে মানুষের বাচ্চার মতন; হাসে, কাঁদে ঘুমায়ে যায়। ওল্ড হোমে থাকা নিঃসঙ্গ মানুষগুলোকে একটু সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতেই এই প্রজেক্টের উদ্ভব। ওদিকে টেরাসেম মুভমেন্ট নামে একটা সংগঠন মানুষের স্মৃতি, ব্যাক্তিত্ত, আবেগ – এগুলো রোবটের মধ্যে জমায়ে রাখার কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। আবার হোন্ডা বানাচ্ছে হাটতে চলতে সিড়ি বাইতে পারে এমন রোবট।

এতো গেল গায়ে গতরে খাটানো যায় এমন রোবট নিয়ে প্যাচাল। টেক্সাস অস্টিন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা রীতিমত কম্পিউটারকে স্কিতজোফ্রেনিকই বানিয়ে ছেড়েছেন। আর জর্জিয়া টেক স্কুলের রোনাল্ড আরকিন তো বানিয়েছেন মিথ্যেবাদী রোবট। এই রোবটে মিথ্যে আগে থেকে প্রোগ্রাম করা থাকে না; সে নিজে নিজেই পরিবেশ দেখে মিথ্যে বলাটা আয়ত্ব করে নেয় !!!

8

জি হ্যা; এতক্ষণে বোধহয় এতো রোবট আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কচকচানির উদ্দেশ্য বুঝে যাবার কথা। যে মুভিটা নিয়ে লিখতে বসেছি সেটা মানুষ, রোবট আর মনুষ্যত্ব, বুদ্ধিমত্তা – এইসব কনসেপ্টকে নিয়েই বানানো।

দেখলাম “Time of eve”. ১০৬ মিনিটের এই মুভির সেটিংস নিকট ভবিষ্যতে; যেখানে মানুষ এবং হিউম্যানয়েড রোবট “এন্ড্রয়েড” এর পাশাপাশি সহাবস্থান। বাস্তবের রোবটরা না করলেও গল্প সিনেমার বেশিরভাগ রোবটই আসিমভ সাহেবের তিনটে সুত্রই মেনে চলে; এখানেও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে সেখানে একটা “কিন্তু” থেকে যায়। আসিমভের ল গুলোতে “রোবট তাকে দেওয়া আদেশের বাইরে কিছু করা যাবে না” কিংবা “রোবট মিথ্যে বলতে পারবে না” এই ধরণের কোন বাইলজ নেই। আমাদের এই গল্পে বেশিরভাগ মানুষই রোবটকে “শুধু মেশিন” হিসেবে দেখে যেভাবে ট্রিট করার কথা – স্বার্থপর, ঠান্ডা এবং নিষ্ঠুর – সেভাবেই ট্রিট করে। কিন্তু এর মাঝেও কিছু কিছু মানুষ থাকে; যারা আসলে “শুধু মেশিন” এর ধারণার বাইরে গিয়ে এন্ড্রয়েডদের আলাদা “সত্ত্বা” হিসেবে দেখার চেষ্টা করে; বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু কেন? রোবটদেরকে অধিক বুদ্ধিমত্তা দিলে সেটা কি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে না অভিশাপ? একটা খেলনা গাড়ির প্রতিও কিছুদিন পরে একটা মায়া, একটা ভালোবাসা জন্মে যায়; সেখানে একটা বাচ্চাকে লালন পালনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোন রোবটের হাতে ছেড়ে দিলে সম্পর্কটা কি হতে পারে? মানবিক আবেগ কি শুধু মানুষের করায়ত্ত থাকবে? মানুষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটা সত্ত্বার সাথে মানবিক আবেগের সম্পর্কের মাত্রাটা কি হবে? এ ধরণের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে মুভিটিতে।

6

মুভিটা দেখার সময় আমার বার বার যে কথাটা মনে হয়েছে সেটা হল “স্নিগ্ধ”। মুভিটার সেটিং সিম্পল, আমাদের বর্তমান পৃথিবীর সাথে সমান্তরাল, কিন্তু তার মাঝেও খুব সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য আছে; যেটা মুভির অদেখা কিন্তু সম্ভাব্য ভবিষ্যতে প্লট সাজাতে সাহায্য করে। চরিত্র রুপায়ন, তাদের চলাফেরা, চারপাশের পরিবেশ এতটাই বাস্তবের সাথে মিল যে খুব সহজেই নিজের চেনাজানা জগতের সাথে মিলিয়ে ফেলতে পারবেন। কিন্তু তার মাঝেই, এই এত শত বাস্তবতার ভীড়েও ফুটপাথের বিষণ্ণ ছায়ায় কি যেন লুকনো রহস্য কিংবা উজ্জ্বল সূর্যালোকে ঝলমলে কিন্তু প্রাণহীন শহরের পথ অথবা ধূসর বাদামী আবহ অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয় যেন !!

চরিত্র, গল্প অথবা সাউন্ডট্র্যাক – কোন কিছুই নিয়েই আর আলাদা করে তেমন কিছু একটা বলার নেই আসলে। শুধু এইটুকু প্রমিজ করতে পারি মুভিটা দেখা শুরু করলে সবকিছু ভুলে গিয়ে কোন দিক দিয়ে সময়টা পার হয়ে যাবে টেরই পাবেন না !

9

Movie Time With Yami – 47

girl-who-leapt-through-time

 

Name: The Girl Who Leapt Through Time / Toki wo Kakeru Shoujo
Duration: 1 hr. 37 min.
MAL Score: 8.52
Ranked: 104
Genres: Adventure, Drama, Romance, Sci-Fi
 
সময় এক আশ্চর্য রহস্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ চেষ্টা করে গেছে সময়কে নিজের বশে আনতে। বাস্তব পৃথিবীতে যদিও তা করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, মানুষের কল্পনা তাই বলে থেমে থাকেনি। গল্প উপন্যাস, মুভি, এরকম বিভিন্ন মাধ্যমে লেখকেরা বর্ণনা করেছেন, সময়কে বশে আনার গল্প, তা দিয়ে কেউ কখনো ঘটিয়েছে বড় বড় পরিবর্তন, যা পৃথিবীর ইতিহাস নতুন করে লিখেছে; আবার কেউ দেখিয়েছেন খুব সামান্য কিছু পরিবর্তন, যা দিয়ে পৃথিবীর ওপর কোন সার্বিক প্রভাব হয়ত পড়েনা, কিন্তু কয়েকজন নির্দিষ্ট মানুষের জীবনকে পরোপুরি ওলটপালট করে ছেড়েছে। সময়ের বাঁধা অতিক্রমকারী বালিকার গল্পটি কিছুটা এমনই।
 
কোনো মাকোতো এক সাধারণ জাপানি বালিকা। আর দশটা হাইস্কুল বালিকার মতই স্বাভাবিক তার জীবন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার, বোনের সাথে খুনসুটির সম্পর্ক, স্কুলজীবন, সেখানকার বন্ধুবান্ধব, পরীক্ষার টেনশন, ক্রাশ, সবকিছু মিলে মাকোতোর জীবন চলছিল ভালভাবেই।
 
একদিন স্কুল শেষে ল্যাবরেটরী রুমের পাশের রূমে কিছু জিনিস পৌছে দিতে যায় মাকোতো। তখন হঠাত সে পাশের ঘরটিতে কিছু শব্দ শুনতে পায়। কৌতুহলী মাকোতো শব্দের উৎস খোঁজার জন্য পাশের রূমে যায়। এবং যাওয়ার পরে সে এমন একটা জিনিস আবিষ্কার করে, যা তার সাধারণ জীবনটাকে মূহুর্তেই করে তোলে অসাধারণ।
 
মুভিটির ডিরেক্টর মামোরু হোসোদা, তার অন্যান্য কাজগুলোর মাঝে রয়েছে সামার ওয়ার্স এবং উলফ চিলড্রেন আমে অ্যান্ড ইউকি। তিনটি মুভিতেই আর্টওয়ার্কের প্রচুর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। চোখকে প্রশান্তি দেয়া উজ্জ্বল ঝলমলে আর্টওয়ার্ক, বিস্তৃত খোলা আকাশের সৌন্দর্য ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা অ্যানিমেশন, এবং সেইসাথে মানানসই ওএসটি মুভিটির কাহিনীর সৌন্দর্য খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। ক্যারেক্টারগুলোর আবেগ, অনুভূতি, তাদের আনন্দ, কষ্ট সবকিছুই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যার ক্রেডিট জাপানি ও ইংরেজী, দুই ভাষার ভয়েস অ্যাক্টরদেরই প্রাপ্য। মুভিটির নামই বলে দেয়, সময়কে অতিক্রম করার সাথে মুভিটির সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু সাই ফাই মুভির পাশাপাশি রোমান্টিক মুভি হিসেবেও এটি বেশ চমৎকার! মুভিটির এন্ডিংটা আমাকে কিছুটা হতাশ করেছে, কিন্তু তারপরেও এটি ওভারঅল খুবই এঞ্জয়েবল একটি মুভি।
 
তাই, যারা এখনও মুভিটি দেখেননি, সময় করে দেখে ফেলুন এই চমৎকার মুভিটি।
 
Movie Download Link-
 
 
Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 46

Porco_Rosso_3

Name: Porco Rosso / Kurenai no Buta
Duration: 1 hr. 33 min
MAL Score: 8.03
Ranked: 495
Genres: Action, Adventure, Comedy, Drama, Historical, Romance, Military

 

স্টুডিও জিবলী এবং হায়াও মিয়াজাকি। এই দুইয়ের কম্বিনেশন যখন হয়, সাধারণত সেইসব সৃষ্টিগুলো থেকে আমরা একটু চিন্তাভাবনা করলেই কোন না কোন অন্তর্নিহিত বার্তা খুঁজে পাই। সেটা কখনো হয় প্রকৃতিকে বাঁচানোর আকুতি, আবার কখনো নারীর ক্ষমতায়নকে দর্শকের সামনে মনোমুগ্ধকর উপায়ে তুলে ধরা হয়। আবার, কিছু কিছু গল্প আছে, যেগুলোর কোন আগামাথা খুঁজে পাওয়া যায়না, কোনদিক থেকে কি হচ্ছে ঠিক ধরে ওঠা যায় না, কিন্তু প্রতিটা মূহুর্ত উপভোগ্য উপাদান দিয়ে ঠাসা থাকে, এবং কাহিনীর এক্সিকিউশন এমন হয়, যে সাধারণ এই বিজার কাহিনীটাই অসাধারণ মনে হতে থাকে। কুরেনাই নো বুতা মুভিটি এই শেষ ক্যাটাগরিতে পড়ে।

কাহিনীর সময়কাল ১৯৩০ সাল, পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে কোন এক জনশূণ্য দ্বীপে বাস করে পর্কো রোসো; একজন যুদ্ধফেরত হিরো, বর্তমানে বাউন্টি হান্টার এবং তুখোড় বৈমানিক। যার ওপর পড়েছে এক অদ্ভুত অভিশাপ, যার কারণে সে পরিণত হয়েছে শূকররূপী মানুষে।

মুভিটির কাহিনী এগিয়ে চলতে থাকে পর্কো রোসোর জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়কালের কিছু “বিজার” ঘটনা নিয়ে। যেখানে সে কখনো একদল স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর ত্রাণকর্তা, তো কখনো এয়ার পাইরেটদের সাথে লড়াইকারী এক সাহসী বৈমানিক। আবার কখনো নিজের প্রাইডকে রক্ষা করতে মরিয়া এক গর্বিত আকাশ সৈনিক, যে সবরকম নিয়ম কানুনের বাধাকে দূরে ঠেলে দিয়ে নির্ভীকভাবে পাড়ি দেয় মাইলের পর মাইল, তার ছোট্ট ভিনটেজ বিমানটাকে সঙ্গী করে। এর মাঝে সে মুখোমুখি হয় তার আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর, তার সাথে জমে ওঠে লড়াই, আবার মাঝে হালকা আভাস পাওয়া যায় তার লাভ লাইফের, আভাস দেখিয়েই যা মিলিয়ে যায়।

মুভিটির সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় অংশ আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এতে এরোপ্লেন নিয়ে যে কারসাজিগুলো দেখানো হয়েছে। প্রতিটি এরোপ্লেনের ডিজাইন অনেক বেশি ডিটেইলড এবং বাস্তবধর্মী, এগুলোর টেক অফ থেকে শুরু করে আকাশে পারফেক্টভাবে ওড়া, ল্যান্ডিং, এমনকি মেরামতের সময়ের কাজগুলো এত পরিপাটিভাবে এবং যত্ন নিয়ে দেখানো হয়েছে, মনে হওয়াটা স্বাভাবিক যে এর অ্যানিমেটর উড়োজাহাজের সাথে খুব ভালভাবে সম্পর্কিত। স্টুডিও জিবলীর ছিমছাম আর্টওয়ার্ক দেখার সময় একটা প্রশান্তির ছোঁয়া আনে, আর সাথে মানানসই ওএসটি অনুভূতিটাকে আরও গাঢ় করে।

তাই, সময় থাকলে দেখে ফেলতে পারেন এই মুভিটি।

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/Porco-Rosso-Sub

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

The Garden of Words রিভিউ — Mahsheed Noor Nini

রিভিউ (প্রথমবারের মত তাই চক্ষুতে চাপ পরলে ক্ষমা প্রার্থী 😛 )

নামঃ The Garden of Words
সময়: 46 mins
জনরা: romantic drama

প্লট:
মুভির শুরুতেই যে বিষয়টি আপনরা চোখে পরবে সেটি হল আর্ট ওয়ার্ক। অত অসাধারণ আর্ট ওয়ার্ক আমি কোন আনিমেতে পাইনি। আমি জানি অধিকাংশ আনিমে ভক্তরা জীবনে অন্তত একবার হলেও জাপানে যেতে চান এবং এই মুভিটা দেখে আপনার ইচ্ছা আরও পাকা পক্ত হবে। সব কিছু এত ডিটেইলড এখানে যে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।

এবার আসি গল্পতে। কাহিনীটি একটু ধীরগতির কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। কারণ এখানে অনেক কিছুই সাধারণের একটু বাইরে। ১৫ বছরের তাকাও নামের ছেলেটি যখন একজন শু মেকার হতে চায়, তখন আমি একটু অভিভূত না হয়ে পারি না! একটি বৃষ্টির দিনে পার্কে তার দেখা হয়ে যায় একটি নারীর সাথে। মেয়ে না বলে নারী বলছি কারণ তাদের এইজ ডিফারেন্সটা বেশী। এভাবেই বৃষ্টি হলে দুজন পার্কে চলে আসে একজন আরেকজনকে সঙ্গ দিতে। তাদের সম্পর্কটা কতটা অদ্ভুত জানতে হলে আপনার মুভিটি দেখতে হবে। মুভির শেষটি অন্তত টিপিকাল না এটা আপনাকে বলতে পারি।

Movie Time With Yami – 45

PATEMA-01

Name: Sakasama no Patema / Patema Inverted
Duration: 1 hr. 39 min
MAL Score: 8.27
Ranked: 241
Genres: Sci-Fi, Seinen

 

ভবিষ্যতের কথা। অতীতে সংঘটিত কোন এক দুর্ঘটনার ফলাফল হিসেবে মানুষ এখন বাস করে মাটির নিচে, সেখানে পেচিয়ে থাকা বিভিন্ন আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল এখন তাদের আবাসস্থল। তাদেরকে সবসময় নিজেকে অজানা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্যে বিশেষ স্যুট পরে থাকতে হয়। জীবন এখানে কিছুটা নিশ্চুপ এবং ধীরস্থির, কিন্তু তার মাঝেও মানুষ আনন্দ খুঁজে নিয়েছে।

এরকম সময়ের পৃথিবীর রাজকন্যা হল পাতেমা। সে এই পাতালপুরীর টানেলগুলোতে ঘুরে বেড়াতে ভালবাসে। প্রতিদিন তার কাজ হল নতুন নতুন টানেলে ঢুকে অভিযান চালানো। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে সে একদিন হাজির হয় এমন একটি টানেলে, যা বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যেখানে যাওয়া নিষিদ্ধ। কৌতুহলী পাতেমা টানেলের রহস্য উদ্ধার করতে সেখানে ঢোকে, এবং একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে নিচে পড়ে যায়। এরপরেই শুরু হয় পাতেমার রুদ্ধশ্বাস অভিযান, যেখানে সে আবিষ্কার করে পৃথিবী সম্পর্কে এক চমকপ্রদ তথ্য।

মুভিটির আর্টওয়ার্ক বেশ ভাল, উজ্জ্বল এবং পরিষ্কার, ডিটেইলগুলো বেশ ভালভাবে তৈরি করা হয়েছে। কাহিনীর গতি ভালই, দ্রুত এগিয়ে যায়, দর্শককে থমকানোর অবকাশ দেয়না। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট মোটামুটি, তবে কানেকশন তৈরি করে ফেলে বেশ জলদি। কাহিনীর মূল এক্সাইটিং অংশগুলো বেশ ভালভাবে এক্সিকিউট করা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তা উত্তেজনা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। রোমান্টিক অংশগুলোও সুন্দর। ওএসটি ভাল, আর এন্ডিংটাও সুন্দর।

তাই সময় পেলে দেখে ফেলতে পারেন এই মুভিটি।

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/Sakasama-no-Patema

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 44

Origin

Name- Origin: Spirits of the Past / Gin’iro no Kami no Agito
Duration- 1 hr. 34 min.
MAL Score- 7.35
Ranked- 2042
Genres- Adventure, Drama, Fantasy, Romance, Sci-Fi

 

কাহিনীর সময়কাল ভবিষ্যতে। এক ব্যর্থ ডিএনএ গবেষণার ফল হিসেবে পৃথিবীর আদ্যপ্রান্ত আমূল পাল্টে গিয়েছে। মানুষ ও প্রকৃতি এখানে সহাবস্থান করেনা, মানুষ এখানে প্রকৃতির করুণার কাছে জিম্মি। অতিপ্রাকৃত শক্তির অধিকারী বনাঞ্চল দখল করে নিয়েছে পৃথিবীর বেশিরভাগ এলাকা, কোণঠাসা করে রেখেছে মানুষকে। পুরনো পৃথিবীর থেকে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এর মাঝে কোনরকমে বসতি গড়েছে মানুষ।

সেরকমই এক বসতিতে থাকে আজিতো নামের এক কিশোর। একদিন পানির সন্ধান করতে গিয়ে ঘটনাক্রমে সে মাটির নিচে গুপ্ত এক ইউনিট আবিষ্কার করে। সেখানে ক্যাপসুলের ভেতরে কৃত্রিমভাবে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল তুলা কে। ৩০০ বছরের নিদ্রা সমাপ্ত করে তুলা পা রাখে এই বনভূমি শাসিত পৃথিবীতে।

কিন্তু পৃথিবীর এ করুণ অবস্থা দেখে হতাশ হয় তুলা। তার বাবা যে পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই পৃথিবীকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর হয় সে। আর এজন্য একটা বড় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে সে। আজিতো কি পারবে তুলাকে তার ভুল বোঝাতে?

মুভিটির আর্টওয়ার্ক বেশ সুন্দর, ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর করুণ অবস্থা বেশ বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বনাঞ্চল এবং মানব প্রজাতির মধ্যেকার সংঘাত আমাদের আরেকবার মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে হস্তক্ষেপ না করে মানুষের উচিৎ প্রকৃতিকে সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটা হল, এই মুভিটিতে বনাঞ্চল মানুষের বন্ধু নয়, বরং শত্রু। এন্ডিংটা ভাল, এই সমাপ্তির মাধ্যমে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনার আভাস পাওয়া যায়।

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলতে পারেন এই মুভিটি।

Movie Download Link-

http://kissanime.com/Anime/Origin-Spirits-of-the-Past

 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!