Hatsukoi Zombie [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Hatsukoi Zombie

সবসময় সিরিয়াস কিছু পড়তে ভালো না লাগতেও পারে, তো টেস্ট চেইন্জ করার জন্য হালকা ইচ্চি, চাট্টিখানি ভালবাসা ভাব আর অনেকখানি হাসিযুক্ত কিছু খুজছিলাম তো পেয়ে গেলাম প্রথম প্রেমের জিন্দমড়া বা ফার্স্ট লাভ জম্বি! তো জানা যাক এই অনগোয়িং মাঙ্গার বিষয়বস্তু।
গল্পের নায়কের নাম তারো। সে হল এনার্জি সেভিং মানব, যে কাজ কোন ফল দেয় না, সেই কাজ সে করবে না। প্রেম পিরিতিও তার কাছে সময়ের অপচয়। আর এমন না যে সে অনেক পপুলার বা চেহারা সুরত ভালো। তার জীবন নরমাল ছকবাধা। তো একদিন মাঠে কিছু অন্যমনস্ক হইয়া যাওয়াতো তার দানবীনি বাল্যবন্দ্ধু এবিনোর হিট করা বেসবলের বাড়িতে ফিউজ আউট হয়ে যায়। তো ফিউজ অন হবার পরে সে মনে করে যে সে এক হিটে স্বর্গে চইলা গেছে, তার ধারণা আরও বদ্ধমূল হয় যখন একখানা সুন্দরী হুর টাইপের মেয়ে তার উপর ভাসতে ভাসতে আসে। তো হুর দেইখা চমক না কাটতেই নার্স আইসা আরও চমকায়া দেয় যে বাইচা আছে। আর পাশের হুররে ভূত মনে কইরা যেই না ছুটে বাইরে আসে। তখনই দেখে যে প্রত্যেক পোলার মাথার উপর একটা করে মেয়ে উড়তাছে এবং মেয়েগুলা তার চেনা। এবং মেয়েগুলো জ্বলজ্যান্ত তো পেত্নী হবার চান্সও নাই। এই ফাঁকে তারো আবার নিজের মাথার মেয়েটার দিকে তাকায়া দেখে যে, সে তার ছোটবেলার একমাত্র ক্রাশ ইভের মত দেখতে। কি হচ্ছে এসব! এই হুর/পেত্নীরা আসলে কি!? জানতে হলে পড়া শুরু করে দিন!
ইচ্চি বা হারেম ট্যাগ দেখে এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ। প্রচুর মজাদার একখানা মাঙ্গা এইটা। আর্ট ফ্রেশ এবং সুন্দর। কাহিনী অতি প্যাচ বা অতি গতবাধাও না এবং সর্বশেষ, নায়ক ভাবমার লুইচ্চা সাধুও না! যা ইচ্চিতে বিরল। মজাদার এই মাঙ্গা এখনই পড়া শুরু করে দিন।

আমার নম্বর: সাড়ে ৭

Sword of the Stranger [মুভি রিভিউ] — Amor Asad

Sword of the Stranger 2

Sword of the Stranger সামুরাই গল্প, আনুমানিক ১৩৬৮ হতে ১৬৪৪ সালের কোন এক সময়ে।
সোর্ড অফ দ্য স্ট্রেঞ্জার একই সাথে টানাপোড়েন ছিন্ন সামুরাই, রক্তলোলুপতা আর অমরত্বের পেছনে ছোঁটার গল্প। —
প্রোটাগনিস্ট নামহীন সামুরাই Nanashi পোড়ো মন্দিরে কুলহীন ছোট্ট Kotaru আর তাঁর কুকুরের সাথে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে Kotaru’কে নির্দিষ্ট এক মন্দিরে পৌঁছে দিতে সফরসঙ্গী এবং বডিগার্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করলে ঘটনাক্রমে মিং-ডাইনাস্টি এবং তৎকালীন কোন এক জাপানিজ প্রদেশের মাঝে বিদ্যমান অস্থিতিশীল এক পরিবেশে আঁটকে পড়ে। জানতে পারি, পিচ্চি Kotaru ব্যপারটার সাথে ভালোভাবে জড়িত।

মুভির গল্প আহামরি নতুন না— তবে গল্পের রুপায়ন প্রশংসার দাবী রাখে। বিশেষ করে সোর্ড ফাইটগুলো নান্দনিক; সচরাচর এমন সোর্ড ফাইট এবং অন্যান্য সামুরাই অস্ত্রের প্রদর্শনীর দেখা মিলে না। সিনেমার নাম অনেকটা ভিতরের বিষয়বস্তুকে প্রকাশ করে দেয়, তাই দেখতে বসে সোর্ড ফাইট আশা করবেন এ লিখে দেয়া সম্ভব। কথা হচ্ছে, হতাশ হবেন না। তাছাড়া মুভির প্রথম কয়েক মিনিটের ধাওয়া, হত্যা তথা নির্বিচারে রক্তারক্তি গোটা সিনেমার ভাষারীতির জানান দিয়ে দেয়। আপনার পছন্দের সাথে যাচ্ছে কিনা তা শুরুতেই বুঝে ফেলবেন।
অ্যানিমেশন পরিষ্কার এবং ডিটেইল্ড। মাকোতো শিনকাই লেভেলের না হলেও আর্টস্টাইল চমৎকার।

মুভির শর্টকামিং হচ্ছে কিছুটা প্রেডিক্টেবল এবং অ্যামবিয়েন্ট মিউজিকের অতিব্যবহার বা ভুল ব্যবহার। আবহকে দর্শকের মনে গেথে দিতে এপিক কোন চোখ ধাঁধানো দৃশ্যে এ-ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভালো মানায়, কিন্তু থেকে থেকেই একটুক্ষণ পরপর সাধারণ দৃশ্যে ব্যবহার করলে ভার কমে যায়, বেমানান লাগে। এছাড়া, প্রোটাগনিস্টকে নির্দিষ্ট প্রোফাইলে না ফেলে দিলে ভালো হত।
আমার রেটিং ৭.৫/১০

Sword of the Stranger 1

The Story of Mr. Sorry [মুভি রিভিউ/রিএকশন] — Bashira Akter Anima

The Story of Mr. Sorry 1

যেহেতু আমার আজাইরা লেইম অথবা উইয়ার্ড জিনিসের প্রতি একটা টান আছে সেই হিসেবে একটু আগে দেখা শেষ করলাম কোরিয়ান একটা এনিমেশন মুভি “দি স্টোরি অফ মিস্টার সরি” যদিও জিনিসটা জাপানিজ না কিন্তু এর আগে হয়তো একটা দুইটা কোরিয়ান জিনিস নিয়ে আলোচনা হতে দেখছিলাম বলে ভাবলাম দেখার রিএকশন টা লিখে যাই।

মুভির শুরুতে দেখায় এক টক শো নয়তো বিচারকের ঘর। পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন নেতা-নেত্রী। চলছে বিশাল তর্ক-বিতর্ক। চাপড়ে প্রায় ভেংগে ফেলা হচ্ছে টেবিল। আসামীর কাঠগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে একটি মাকড়শা। কারণ ঘটনাস্থলে প্রায় পাগল হওয়া রাজনীতিবিদের কাছে তখন এই মাকড়শা ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায় নি তাই সেই হইলো এক নম্বর আসামী। এসময় মনে অনেক খটকা জাগে সাথে সাথে কাহিনী পিছনে ফেরা শুরু করে। মুভির মূল চরিত্র মিস্টার সরি খুবই লাজুক, মিন-মিন স্বভাবের লোক, কাউকে জোরে কথা বলতে পারে না সাথে সাথে বেশ ভীতু। কাজ করে সে এক কান পরিষ্কার করা কোম্পানীতে। জ্বী ঠিক ই শুনছেন তাদের কাজ ই হলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবার কান পরিষ্কার করা যে যত বেশি করতে পারবে তার তত লাভ। কিন্তু সরি তার দূর্বল চরিত্রের জন্যই বারংবার পিছিয়ে যেতে থাকে সবার কাছ থেকে। কোনোরকম বাড়ী ফেরে সে দৈনিক, ঘরে ঢুকেই নিঁখোজ মানুষ খোঁজার এজেন্সীতে ফোন করে সে, সেই ছোটবেলা থেকে সে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার বড় বোনকে। বোনের একদম ন্যাওটা ছিলো যে। এজেন্সী দিন দিন বিল বাড়াতেই থাকে কিন্তু ফলাফল শূন্য। শেষ রাত কাটে তার পোষা মাকড়শার সাথে গল্প করতে করতে।

কিন্তু এই দূর্বল চরিত্রের সরি খেয়াল করতে থাকে যে মানসিক ভাবে দূর্বলতার সাথে সাথে তার শারীরিক দূর্বলতাও দেখা দিয়েছে এবং একদিন টের পায় আকারে ক্ষুদ্র হতে থাকে সে দিনকে দিন। কিন্তু এতেই যেনো শাপে বড় হয়ে আসে তার পেশা, তার মালিক সবার জন্য।

মুভিটা দেখে আসলে নিজের দেশে কি হয় তা মনে পড়লো। খুব কৌশলে ওরা পৃথিবীতে কি হচ্ছে তা ই বুঝিয়ে দিলো। এইসব টক শো, টক শো তে অসংখ্য ইস্যু, প্রশ্ন, সমাধান কি হচ্ছে এতে? একটা প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত এসে ওরা তুলে দিয়ে গেছে যে আমরা যে নাগরিকরা জাস্টিস দিচ্ছি বলে দাবী জানাই, আসলেই কি ন্যায়বিচার হচ্ছে, আমরা কি আমাদের বিবেক, বুদ্ধির উপর আসলেই আস্থা রাখতে পারি? নাকি ঘটনার আড়ালেও অনেক কিছু চাপা থাকবে যা আমরা দেখতে পাবো না কোনোদিন। আর যারা দেখতে পায় তারা হয়ে পড়ে আসামী।

The Story of Mr. Sorry 2

The Tale of the Princess Kaguya [মুভি রিভিউ] — Subrata Barman

The Tale of the Princess KaguyaName: The Tale of the Princess Kaguya
Director: Isao Takahata
Genre: Drama/Fantasy

যারা ‘Grave of the Fireflies’ মুভিটি দেখেছেন তাদের ইসাও তাকাহাতা সম্পর্কে জানার কথা! তারপরও এই মুভিটার ব্যাপারে আলাদা করে বলতে হয়। এমন সুন্দর জল রঙের কাজ, যা দেখলে সাউন্ড অফ থাকলেও তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে! প্রতিটা ফ্রেইম হাতে একে এনিমেশন করা। এক কথায় চোখের উপর চাপ কম পড়ে! 🙂
যাই হোক, কুসুমে ফিরে যাই! The Tale of the Princess Kaguya মুভিটি জাপানী লোকগল্প ‘The Tale of the Bamboo Cutter’ এর উপর বেইস করে গড়ে উঠা। মিয়াতসুকো নামের একজন কাঠুরে বাশ বাগানে একটি আলোকিত বাশের গোড়ায় দৈব ভাবে একটি ছোট আকৃতির রাজকন্যার মত মেয়ে কে খুজে পায়! বাড়িতে নেয়ার পর কাঠুরে এবং তার বউ সেই মেয়েকে নিজেদের সন্তান হিসেবে বড় করার সিদ্ধান্ত নেয়! কন্যা শিশুটির মধ্যে দৈবভাব ধারনা করে তাকে রাজকন্যা বলে ডাকা শুরু করে তারা। অলৌকিক ভাবে কন্যা শিশুটি অসাধারন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠে! তার এমন কর্মকান্ডে অত্র এলাকার শিশু কিশোররা তাকে ‘তাকেনোকো’ নাম দিয়ে দেয়। সেই সব শিশুদের সাথে তাকেনোকো হেসে খেলে বেড়ায়। এদের মধ্যে সবার বয়োজ্যেষ্ঠ Sutemaru এর সাথে ভালো বোঝাপড়া গড়ে উঠে তাকেনোকোর। এভাবে এক সময় মিয়াতসুকো বাশ বাগানে স্বর্ন এবং রাজকীয় কাপড় খুজে পেয়ে মনে করে তার কন্যা কে রাজকন্যা করে গড়ে তোলার ইংগিত দেয়া হচ্ছে তাকে! এবং সে তাকেনোকোর অনিচ্ছাতে হঠাত করেই শহরে নির্মিত তাদের নতুন বিলাসবহুল প্রাসাদে নিয়ে যায়….মিয়াতসুকো তার জীবনের পরম দায়িত্ব হিসেবে তাকেনোকোকে একজন যথার্থ রাজকন্যা গড়ে তোলার প্রয়াস নেয় এবং তার কন্যা’র সব সুখের জলাঞ্জলি দিয়ে দেয়!

Ayakashi ~ Japanese Classic Horror [রিভিউ] — Amor Asad

Ayakashi 1

রূপকথার সাথে ভৌতিক রূপকথার সাধারণ একটা পার্থক্য আছে, দুটো ধারাই সব সভ্যতায় সমান ভাবে জনপ্রিয় হলেও। ভৌতিক রূপকথায় সাধারণত নীতিকথার উপস্থিতি দেখা যায় না। আবার উপকথার “অতঃপর তাঁরা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো” ভৌতিক উপকথার শেষাংশ সবসময় রঞ্জিত করেনা।
মায়েরা রূপকথা ব্যবহার করে বাচ্চা খেতে না চাইলে — ভৌতিক রূপকথা ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়াতে। তবে দিনশেষে দুটো গল্প ধাঁরাই যে কোন সভ্যতার ইতিহাস আর কল্পনাশক্তির নিদর্শন।

জাপানিজ সংস্কৃতির ভূতুড়ে গল্পগুলোর সাথে আমাদের কতখানি মিল আছে তা সাংস্কৃতিক তুলনামূলক বিশ্লেষণই বলতে পারবে, তবে Ayakashi’র গপ্পো গুলো চেনাজানা মনে হয়। দর্শক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি সহজেই — সুদূর কোন কল্পনাপ্রসূত জায়গায় নিজেকে নিতে হয় না।

১১ পর্বের অ্যানিমে সিরিজ Ayakashi, যার মধ্যে তিনটা স্টোরি আর্ক, প্রতি আর্কে ৩-৪টা করে এপিসোড। এ পর্যায়ে জনপ্রিয় এক জনরার ভক্তগণ ঢোঁক গিলবেন বিস্ময়ে।
তিনটা গল্প তিন ধরণের। একটা মঞ্চস্থ নাটকের মতো, একটা সহজ সরল রূপকথা, আরেকটা মিস্টেরি ঘরানার।

প্রথম গল্পটার নাম Yotsuya Kaidan — বিখ্যাত জাপানিজ লোককথা অবলম্বনে। ন্যারাটিভ স্টাইলের গল্পকথন। ১৮ শতকের যাত্রা নির্মাতা Nanboku Tsuruya গল্পটাকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন। Ayakashi অ্যানিমেতে তাঁকেই ন্যারেটর হিসেবে দেখানো হয়।
Yotsuya Kaiden একজন প্রতিশোধপরায়ণ গৃহবধূর গল্প। স্বামী Tamiya Iemon এর ছলনা, বেইমানী এবং শেষমেষ খুনের স্বীকার হয়ে যার আত্মা ফিরে আসে অভিশাপের বার্তা নিয়ে। গল্পটা শুরুতেই ন্যারেটর কাহিনীটা দর্শককে জানিয়ে রাখেন মোটা দাগে— পর্বগুলো কেবল সেই গল্পের দৃশ্যায়ন করে। তাই গল্প জেনে ফেললেও স্পয়লারের ভয় নেই।

দ্বিতীয় গল্পটা ঠিক হরর বললে ভুল হবে, রূপকথার কাতারেই দাঁড় করানো যায়। তবে রূপকথার সুখি সুখি ভাবটা অনুপস্থিত। মানুষ যুবকের সাথে ইশ্বরীর প্রণয় কাহিনী। ভুল করলে চলবে না, এই ধরণের গল্প অ্যানিমেতে প্রচলিত হলেও Tenshu Monogatari’তে প্রচলিত ক্লিশেগুলো নেই। অতিরঞ্জিত আবেগ এবং বিরক্তিকর/সক্রেটিস কিশোর-কিশোরী চরিত্রও অনুপস্থিত। তদুপরি গল্পকথন জিবলি স্টুডিওর কথা মনে করিয়ে দেয়।

Ayakashi 2

সবশেষে Bake Neko— বাকে নেকোর অর্থ Changed Cat. গল্পটাও ভূতুড়ে বিড়াল নিয়ে। কন্যাদায়গ্রস্থ বুনিয়াদী পরিবারের টিকে থাকার একমাত্র উপায় যখন ঢলে পড়ে মাটিতে, বিয়ে বাড়িতে হুলস্থূল বেঁধে যায়। কে, কেন, কিভাবে হত্যা করেছে— তাঁর পেছনের গল্প মোটেই সাধারণ কিছু নয়। অ্যানিমের তিন গল্পের মধ্যে এটা রহস্য গল্প।
Bake Neko বাস্তবিকই ভয়ংকর। হরর একটা কনফিউজিং জনরা, কাটাছেড়াকেও হরর হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু এটা পিওর হরর, একদম সমার্থক শব্দ বলা যায়।
সত্যি বলতে এই আর্কের কারণে Ayakashi দেখতে বসেছিলাম। Mononoke প্রচণ্ড প্রিয় একটা অ্যানিমে। জানতে পারি Mononoke আসলে Ayakashi তথা Bake Neko-র স্পিন অফ।
আয়াকাশি দেখার পর মনে হচ্ছে মনোনোকের অ্যানিমেশন স্টাইলটা ভালোবেসে ফেলেছি। খসখসে আর্টপেপারের উপর আঁকা ছবির মতো দৃশ্যগুলো মিস করেছি মন থেকে।
Bake Neko আর্ক আর Mononoke অ্যানিমে নিয়ে একসাথে আলাদা লেখার দরকার আছে। সেখানে পিছনের গল্প, প্রোটাগনিস্ট, আর্ট স্টাইল নিয়ে আলাপ করা যাবে।

Ayakashi 3

Ayakashi ~ Japanese Classic Horror অনন্য সাধারণ অ্যানিমে।
হলিউডি/টার্কি নতুন কিছু হরর মুভির সস্তা জাম্প-স্কেয়ার দেখে চোখ উল্টানো মহামতিদের আয়াকাশির ভাব বোঝানো গেলে ভালো হত— ঈশান কোণের শ্যাওড়া গাছের মড়মড় শব্দ আর কোন শব্দ সপ্তাহখানেক কানে ঢুকতো না।

আমার রেটিং ৮.৫/১০

Ayakashi 4

অ্যানিমে সাজেশনঃ ReLIFE; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771996921

ReLIFE অ্যানিমেটা দেখে শেষ করলাম। আমি এমনিতেই হাইস্কুল স্লাইস অফ লাইফের ভক্ত, কিছু ছেলেমেয়ের দৈনন্দিন জীবনের খুনসুটি দেখতে আমার সবসময়ই ভাল লাগে; কিন্তু এরপরেও বলব, রিলাইফ এক্সেপশনালি ভাল ছিল। কাহিনীটার বিল্ড আপ অনেক ভাল ছিল, অবাস্তব একটা প্লট থেকে বেশ বাস্তব কিছু দৃশ্যপট খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর কাহিনী যত সামনে এগিয়েছে, নতুন নতুন রহস্যের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে, এটা বেশ ভাল ছিল, কাহিনী একটা নির্দিষ্ট গন্ডিতে থেমে না থেকে সামনে এগিয়েছে। হাসিমুখে জীবনকে ফেস করতে থাকা মানুষগুলোর ব্যাকস্টোরি, আপাতদৃষ্টিতে অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের হঠাৎ দেয়া সারপ্রাইজ বেশ লেগেছে। চমৎকার আর্ট, এক্সিকিউশন অসাধারণ, ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই ভাল লাগল, স্পেশালি চিবি ফর্মগুলো অনেক উপভোগ করেছি। ওএসটি খুবই সুন্দর, পরে সবগুলো ডাউনলোড করে বারবার শুনব।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং ও অনুপ্রেরণাদায়ক অ্যানিমে ছিল। অবশ্যই সেকেন্ড সিজন চাই।

FB_IMG_1469771988673

অ্যানিমে সাজেশনঃ কামিসামা নো মেমোচৌ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771063124

দেখে শেষ করলাম “কামিসামা নো মেমোচৌ”। অ্যানিমেটার নাম দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা রোমান্টিক কোন অ্যানিমে হবে (কামিসামা হাজিমেমাশিতা এফেক্ট), কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম যে এটা আসলে একটা মিস্ট্রি অ্যানিমে!

অ্যানিমের গল্প অ্যালিসকে ঘিরে, যে একজন নীট (NEET) ডিটেক্টিভ। আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হিকিকোমোরি এই মেয়েটি আরও কয়েকজন নীটের সমন্বয়ে চালায় তার “নীট ডিটেক্টিভ এজেন্সি”। পুরোনো একটি রামেন শপের ওপরে অবস্থিত এই এজেন্সির সাথে ঘটনাক্রমে যুক্ত হয়ে যায় নারুমি ফুজিমুরা, আর মুখোমুখি হতে থাকে একের পর এক কেসের। তাদের সাথে আরও রয়েছে ইয়াকুজা গ্যাং, রামেন শপের মালিক মিন-সান এবং শপের কর্মচারী ও নারুমির বন্ধু আয়াকা।

অ্যানিমেটা বেশ কয়েকটি ছোট ছোট স্টোরিতে বিভক্ত, ১২ টি এপিসোডের মাঝে বেশ কয়েকটি কেস সলভ করা হয়। কোন কোন কেস এক এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়, আবার কোনটা তিন-চার এপিসোড ধরে চলে। বলতে গেলে প্রতিটা কেসই লাইট হার্টেড ভাবে শুরু হয়ে পরে বেশ সিরিয়াস একটা টার্ন নেয়, সেজন্য অ্যানিমেটা বেশি ভাল লেগেছে। সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে প্রথম এপিসোডে ৪৭ মিনিট ধরে চলা কেসটা আর শেষ কেসটা। আর্ট ওএসটি ডিসেন্ট, আলাদা করে উল্লেখ করার মত লাগেনি।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে বেশ ভাল লাগল, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

FB_IMG_1469771054971

Basilisk [রিভিউ] — Amor Asad

Basilisk

জেনারেশনের পর জেনারেশন একে অপরকে ঘৃণা করার ইতিহাস পর্দায় দেখলে না-চাইতেই বাস্তব দুনিয়ায় মিলেনিয়াম ধরে চলে আসা সংঘর্ষগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। এসব দ্বন্দ্বের অনেকগুলিই এখনও বর্তমান এবং সমানে ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
একটা পর্যায়ে সংঘর্ষের পিছনে আদর্শগত কারণগুলোকে আর বাটিচালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় বা পরিবর্তিত হয়ে যায় — থেকে যায় কেবল সংঘর্ষটুকু।
ভায়োলেন্সে আনন্দ পাওয়া মানুষের লং ফরগটেন আদিমতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটা। সংঘর্ষের উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত পুলক লাভে গিয়ে দাঁড়ায়, তা সে অবচেতনে আদিপুরুষের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙ্গে হলে হলেও।
উদাহরণ দিতে চাচ্ছি না, তবুও কিছু একটা ভিজুয়ালাইজ করতে চৌধুরী বাড়ি আর মির্জা বাড়ির দ্বন্দ্ব ধরে নিন।
.
ব্যাসিলিস্ক-এ এমন দুটো আলাদা গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক শতাব্দীর পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে দুটো গোষ্ঠীই কল্পিত পৃথিবীর প্রসিদ্ধ দুটো নিনজা-ক্লান। দুপক্ষই মোটাদাগে সেরা দশজন নিনজা নিয়ে গঠিত এবং কোন অজানা এক কারণে দশ-দশ মোট বিশজন বাদে এই দুই ক্লানে আর কোন দক্ষ নিনজা নেই। নিনজারা সবাই অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন। ক্ষমতাগুলোর প্রদর্শনী ঠিক সুপারপাওয়ারের কথা মনে করায় না — বরঞ্চ মিউটেশনের সাথে ঢের মিল আছে। এসব যদিও নিনজা আর্ট বা নিনজুৎসু হিসেবে দেখানো হয়েছে — ক্ষমতাগুলো আপন করে নেয়ার দুর্ভাবনা কুক্ষণেও আসে না মাথায়। কদাকার, নিষ্ঠুর এবং ভয়ানক কিছু ক্ষমতা। এছাড়া চাইলেই একজন অন্যের নিজস্ব নিনজুৎসু শিখতে পারে না। সবার ক্ষমতা আর তাঁর কার্যকারণ আলাদা — কিভাবে কে কোন ক্ষমতা পেয়েছে তাঁরও কোন ব্যাখ্যা নেই। না, একে সিরিজের নেতিবাচক নয় বরং ইতিবাচক দিক হিসেবেই ধরছি।
জাপানিজ কালচারে নিনজাদের কেমন দেখা হয় হাতে-কলমে জানতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু নারুতো আর ব্যাসিলিস্ক দ্যাখার পর মনে হয়েছে তাঁদের কাছে নিনজারা মানুষ যোদ্ধা থেকে বেশী কিছু ছিলো।
গল্পে ফিরে আসি — এই দুই ক্লান বিভিন্ন সময়ে দ্বন্দ্বের সমাধান করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পুরোপুরি সফল হয়নি; উল্টো সংঘাতের ইতিহাসে নতুন রক্তের ছোপ লেগেছে। তবু যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসা গেছে, সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। অ্যানিমের গল্পের সময়টাতে দুই-ক্লান সমাধানের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। কিন্তু এত বছরের খুনোখুনি চাইলেই ভুলে গিয়ে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মেলানো যায়? দু-পক্ষের জন্যে অবস্থা জটিলতর হয়ে যায় যখন ঘটনাক্রমে যুদ্ধবিরতি যুক্তি বরবাদ হয়ে যায়। এসব প্রথম এপিসোডের প্লট — বাকিটা জানতে অ্যানিমে দেখতে হবে।
.
ব্যাসিলিস্ক বাস্তবিকই ডার্ক এবং পুরোদস্তুর ম্যাচিউরড অ্যানিমে – ভাবগত এবং চরিত্রগত দুভাবেই। চরিত্রগুলোর সবকটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ। অনড় ন্যায়নীতি আর মূূল্যবোধের মত বালখিল্যতার পরিবর্তে নিজ নিজ ক্লানের প্রতি চির আনুগত্য আর অপর ক্লানের প্রতি ঘৃণাই তাঁদের পরিচালিত করে। গল্পে প্রটাগনিস্ট অবশ্যই আছে — কিন্তু তাঁর বা তাঁদের চোখে মাঙ্গাকা কোন মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেন না। ব্যাসিলিস্ক দেখার সময় কোন চরিত্রের প্রতি আলাদা আকর্ষণ বা বিকর্ষণ কাজ করে না — উপরন্তু মোটিভেশন গুলো আমলে নিলে সবার অবস্থানকে ব্যাখ্যা করা যায়, তাঁদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা যায়। অর্থাৎ অমক চরিত্র পটল তুললে সব শেষ — এই অনুভূতি দর্শককে তাড়িত করে না।
থিম ছাড়াও সিরিজে গ্রাফিক ভায়োলেন্স অত্যাধিক বেশী যে, গোর বললে ভুল হবে না। সেই সাথে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স আর এক্সপ্লিসিটনেস উল্লেখ করার মত। সিরিজ দেখার ইচ্ছে থাকলে এটায় মাথায় রেখে বসতে হবে।
.
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঘটনাগুলোর তীব্রতা ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে। অ্যানিমেশন আর আর্টস্টাইলের প্রশংসা করা যাক। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যানিমেশন দেখতে অনেকটা জিবলি স্টুডিওর অ্যানিমেশনের মত লাগে। আলোচনা করার চেয়ে দেখালে বোধহয় ভালো হবে। অ্যানিমে থেকে কিছু স্ক্রিনশটের লিঙ্ক দিচ্ছি, চাইলে ক্লিক করে দেখা যাবে।
https://imgur.com/gallery/Zg3pW/
.
ডার্ক ফ্যান্টাসি অ্যানিমের তালিকায় উপরের দিকে রাখতে চাই ব্যাসিলিস্ককে। ভালোবাসা, বিরহগাথা, স্বজনপ্রীতি, প্রতিশোধ, ক্রোধ – সবকিছু এক মোড়কে। এখানে কোন কিছুর কোন নিশ্চয়তা নেই। দপদপে কোন হৃদয়ের আর কোন প্রতিশ্রুতির কানাকড়ি মূল্য নেই। তাই গল্পের ব্যপ্তি খুব বেশী না হলেও, ব্যাসিলিস্ক-এর দুনিয়া প্রভাবিত করে। দিনশেষে দু-পক্ষের অতীতের সবটুকু জানার ইচ্ছে যাগে মনে।
আমার রেটিং ৮/১০

Kabaneri of the Iron Fortress [রিএকশন/রিভিউ] — Amor Asad

Kabaneri

আসুন, Kabaneri of the Iron Fortress কে কয়েক বাক্যে প্রকাশ করি —
অভিমান জমিয়ে রাখা, চুলে আলতা মাখা, ফাদার-কমপ্লেক্সে ভোগা ভালোবাসাহীন তরুণ, যে পোস্ট অ্যাপাক্যালিপ্টিক যুগের ডারউইন হতে চায়;
ডারউইন তরুণকে কাঁচকলা দেখাতে বেদুইনদের উত্তরসূরি-স্টাইলিশ-নার্ড কিশোরের ওয়ান ম্যান অ্যর,
এনিমখোরের ললিখোরদের উস্কে দিতে মারকুটে পিচ্চি বালিকা, যার আবার ব্রাদার কমপ্লেক্স আছে,
সুন্দরী প্রিন্সেস আর তাঁর লজ্জ্বাবতী বডিগার্ড,
টাইটানদের উত্তরসূরি লটস অফ লাভাখোর মরা মানুষ, ব্যাডঅ্যাস ট্রেইন।

মানে, হেটাররা এমনটাই ভাবে। আমি ভাবিনা। কাবানেরি অফ দ্য আয়রন ফোর্ট্রেস আমার দারুণ ভাল্লাগছে। এইতো ওপেনিং সংটা ডাউনলোড করে রিপিট দিয়ে শুনছি। পিসি আর ফোনের ওয়ালপেপার চেঞ্জাইলাইছি। স্বয়নে স্বপনে ইউকিনাকে দেখতেছি। ফ্যান না হইলে এই কাজ কেউ করে?

এবারে Kabaneri of the Iron Fortress এর প্লট কয়েক বাক্যে প্রকাশ করি —
জোম্বি ভাইরাস অ্যাপোক্যালিপ্স,
মানব সভ্যতা বিলুপ্তির পথে,
সারভাইভাররা নিজস্ব অর্ডার বানিয়ে নিয়েছে,
কিন্তু না — আশার বাত্তি নিভে নাই, ডালমে কুছ কালা হ্যায়, মিশ্র একদল শক্তিশালী আদমি আছে।
তাগো ভীতর একজন আবার এক্সট্রা ব্যতিক্রম। দুনিয়ার যাবতীয় দায়িত্ব তেনার ঘাড়ে নিয়ে বাকীদের তিনি দায়মুক্তি দ্যান।

অ্যাগেইন, এসব হেটারদের কথা। আমার না।
===
2013 সালে একটা সাই-ফাই মুভি রিলিজ পেয়েছিলো, Snowpiercer. ওই বছরের দারুণ ফিল্ম হলেও তেমন সাড়া পায়নি। স্নোপিয়ার্সারের গল্পটাও ট্রেনে। মানব সভ্যতা চিরস্থায়ী শীতকালের বশবর্তী, পৃথিবী বাসের অনুপযোগী। সারভাইভাররা সবাই একটা জায়ান্ট ট্রেনে উঠে বছরের পর বছর ঘুরতে থাকে। যদিও ওই মুভির বাকি সব গল্প আলাদা, কাবানেরি দেখতে গিয়ে প্রথমেই ওটার কথা মনে পড়েছিলো।

এরকম দ্রুতলয়ের কিছু দেখতে আলাদারকম ভাল্লাগে। অনেকদিন পর কোন অ্যানিমে এক বসায় শেষ করেছি। তাই হয়তোবা শেষের দিকে গোঁজামিল বা রাশড হবার পপুলার দাবীর যথাযথতা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমার কাছে পুরো অ্যানিমেই সমান ভালো লেগেছে। সত্যি বলতে, ক্লিশে গুলো বাদ দিলে কাবানেরি দারুণ উপভোগ্য। চমৎকার অ্যানিমেশন, উত্তেজনাকর অ্যাকশন সিকোয়েন্স, সেই সাথে রক্ত গরম করা মিউজিক স্কোর। বিশেষ করে গল্পকথনের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের এমন সামঞ্জ্যতা সহসাই দেখা যায় না। শেষবার এই টালমাতাল অনুভূতি পেয়েছিলাম ম্যাড ম্যাক্স ফিউরি রোডে। কাবানেরির ওএসটি নামিয়েছি, কিন্তু কেবল OP টাই শোনা হয় কেন যেন।
সেই সাথে সিনেম্যাটোগ্রাফি ছিলো বোনাস, ফাঁকা দুনিয়ার মাঝখান দিয়ে ট্রেইন ছোঁটার, বিশেষ করে এপিসোড শেষে স্টেশন থেকে কোন মতে জান নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার অংশটুকু যেন অনেকটাই পোয়েটিক – দেয়ার গোজ দ্য লাস্ট হোপ অফ সারভাইভাল।

কাবানেরি পছন্দ হবার আরেকটা কারণ হচ্ছে, আডিওলোজির কনফ্লিক্ট দেখলে ভাল্লাগে, যতই পুরনো হোক না কেন। আমাতরি বিবার দর্শনটা ফেলে দিতে পারিনি। বিভিন্ন সিচুয়েশনে তাঁর ভাবনার ধরণই বেশী গ্রহণযোগ্য মনে হয়। আবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইকোমা নিজ অবস্থানে ঠিক আছে, ইকোমা সেটা ইঁদুরের মতো চিঁ চিঁ করে বললেও।

Attack on Titan এর সাথে Kabaneri of the Iron Fortress এর মিল আছে, তবে অমিলই বেশী। এটা ওটার ছোট ভার্সন, ছোট ভাই, সেকেন্ড ভার্সন – ইত্যাদি বক্তব্য ভিত্তিহীন মনে হয়। AOT থেকে Kabaneri কোন দিক দিয়েই লেসার অ্যানিমে না, বরঞ্চ কিছু দিক দিয়ে এগিয়েই থাকবে।

আমার রেটিং ৮/১০

Akatsuki no Yona [রিভিউ] — Etminan Kabir

Akatsuki no Yona

Anime: Akatsuki no Yona
Episode: 24 (S1)

শুরুতে ২টি কথা-
১। ছোটবেলা থেকেই রুপকথার গল্পের প্রতি আমার বিশেষ মোহ ছিল, এ নিয়ে দেশী-বিদেশী অনেক বই পরেছি।
২। যে কোন সিরিজে আমি খুব চাই হাসির উপাদান থাকুক যাতে প্রাণ খুলে হাসতে পারি, কিন্তু কেন যেন খুব কম এনিমে দেখে আমি সত্যিকার অর্থে তৃপ্তি পেয়েছি। অনেক নামি-দামি হাস্যকর এনিমে- সবার মুখে প্রশংসা, কিন্তু দেখা যায় আমার বিরক্তি লেগেছে।

Spoiler-free summary: যুদ্ধ-বিরোধী রাজার একমাত্র আদরের মেয়ে Yona. তার চিন্তামুক্ত বিলাসী জীবন হঠাৎ একদিন তছনছ হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে Yona তার বিশ্বস্ত সঙ্গী Hak এর সাথে পালিয়ে যায় রাজ্য ছেড়ে। ধীরে ধীরে সে রাজ্যের বাইরের নিষ্ঠুর বাস্তবতার সাথে পরিচিত হতে থাকে, দেখা যায় একসময়ের আহ্লাদী রাজকন্যা ‘strong’ হওয়ার জন্য কীভাবে সংগ্রাম করে চলে, আর তার দল ভারি হতে থাকে mythical সব চরিত্র দিয়ে।

সিরিজের একটা ব্যাতিক্রম ব্যাপার হল এর ভিলেন। অন্যায়ভাবে সে সিংহাসন দখল করে ঠিক, কিন্তু এরপর রাজ্যের জন্য দক্ষতার সাথে এমন কিছু কাজ করে যে চাইলেও তাকে ঘৃণা করা যায় না, দ্বিধায় পরে যেতে হয়।

আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর কমেডি অংশ। chibi আর কণ্ঠ পরিবর্তন করে একদম সঠিক সময়ে এত সুন্দরভাবে সেগুলো উপস্থাপনা করা হয়েছে যে হাসি আসতে বাধ্য। opening theme 2 এ কিছু একটা ছিল যার জন্য নেশা হয়ে গিয়েছিল।

আমি adventure এনিমে খুব বেশি দেখি নি, তবুও বলতে পারব- তাদের অভিযান ছিল সতেজতায় ভরা। এনিমের সবকিছুই আমার কাছে perfect মনে হয়েছে। I enjoyed every single second of the series.

Adventure, Comedy, Fantasy পছন্দ থাকলে এটা ‘must watch’ একটা সিরিজ।

Enjoyment: 9+ (কাহিনী শেষ হয় নি, নাহলে ১০ হতেও পারতো)
অতিরিক্ত কথা- অনেকদিন পর MAL এ গিয়ে ‘favourites’ list edit করতে পারলাম।