Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chika Gentou

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki – ১৯৯২ সালে নির্মিত ৫০ মিনিটের ট্রেডিশনাল জাপানিজ হরর মুভি। এই ‘disgustingly beautiful piece of art’ তৈরির নেপথ্যে মূলত একজন- Hiroshi Harada। দীর্ঘ ৫ বছরের এই প্রজেক্টের কাজে তিনি তার সারাজীবনের কামাই ঢেলে দিয়েছেন। তার এই অসামান্য ডেডিকেশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রিভিউ লেখা।

আমরা কম-বেশি সবাই নিষ্ঠুর। অন্যজনের কাছে এই নিষ্ঠুরতা কতখানি প্রকাশ করব তার উপর ভিত্তি করেই আমরা মানুষ বিচার করি। কিন্তু এমনকিছু ঘটনা থাকে যার কাছে সব ধরণের নিষ্ঠুরতা হার মানে। Shoujo tsubaki এমন একটি মুভি যার মাঝে নিষ্ঠুরতার বিভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাব।

মিদোরির মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু দিয়ে কাহিনীর শুরু হয়। তার বাবা আগেই মারা গেছে। একদিন এক ভদ্রলোক মিদোরির দুর্দশা দেখে তার খরচাপাতি বহন করার প্রস্তাব দেয়। স্কুলে যেতে পারবে- এই মিথ্যা আশায় মিদোরির নিষ্পাপ মন আনন্দে নেচে উঠে। কিন্তু হায়! তার ভাগ্যে কি এ-ই অপেক্ষা করছিল?? তার ঠাঁই হয়েছে এক ‘ফ্রিক শো’ তে, যেখানে মানুষরূপী কিছু পশুর অত্যাচার ও লাঞ্চনা ছিল প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু তার তো আর কোথাও যাওয়ার নেই। বের হলেই সে ট্রেনের দিকে হাত নাড়ত। মনে শুধু একটাই আশা ছিল কোন এক রাজপুত্র তাকে উদ্ধার করবে এই নরক থেকে। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে চরমভাবে বিপর্যস্ত হবার পর যখন মিদোরি আশা ছেড়ে দেবার কথা চিন্তা করে তখনই আবির্ভাব হয় ‘আরাশি’ নামের এক জাদুকরের। যে কিনা মিদোরির ত্রাণকর্তা।
জাদুকর আরাশি ও মিদোরির মাঝে এক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মত এমন রোমান্টিক জুটি এই জগতে মেলা ভার। তাদের একসাথে থাকার স্বপ্ন মনকে নাড়া দেয়।

কিন্তু এই নির্ভেজাল ভালবাসার মধ্যে যখন ঈর্ষা কাজ করে তখন সবকিছু একটু কঠিন হয়ে যায়। বামন জাদুকর আরাশি যখন দেখে তাদের দলের একজন মিদোরিকে পছন্দ করে, তখন তাকে অদ্ভুতভাবে মেরে ফেলে। একদিন কোন এক কারণে আরাশির মেজাজ খারাপ থাকে। তখন সে তার দর্শকদের উপর চড়াও হয়। যার ফল হয় মারাত্মক। কত ব্রুটালি মানুষকে মারা যায় তা দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মিদোরিও ক্রমশ আরাশিকে ভয় পাওয়া শুরু করে। মিদোরি কি পারবে এই নরক থেকে ফিরে আসতে? সে কি তার স্বপ্নের পথে আগাবে? নাকি জাদুকরের ধূম্রজালে আটকা পড়বে?

কোন একটি সৃষ্টির সার্থকতা তখনই যখন তা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। যখন আপনার সাথে কেউ নিষ্ঠুর আচরণ করবে তখন চুপচাপ বসে না থেকে ট্যাক্টফুলি কীভাবে তার মোকাবেলা করা যায় তা আপনাকেই ভাবতে হবে। যদি এমন কোন অবস্থায় পড়েন যেখানে চারপাশে আপনার শত্রু তখন চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নাইলে মিদোরির মতই আপনার কোন প্রিয় মানুষকে রেঁধে খাওয়ালেও আপনি হয়ত জানবেন না। এছাড়া মানুষকে সবসময় তার এ্যাপিয়ারেন্স দিয়ে বিচার করতে নেই এই সত্যিটাও আমরা শিখতে পারি এ মুভি থেকে। ট্রান্সভেস্টাইটদের অধিকার সম্পর্কেও ভাবায় এই মুভি। আর সবচেতে বড় শিক্ষা হল জীবনযুদ্ধে কখনই হার মানা যাবেনা। মিদোরি এত নিপীড়ন সহ্য করার পরও যখন সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখন মনে হয় এই পৃথাবীতে কিছুই অসম্ভব না।

সাস্পেন্স, থ্রিলার, হরর, রোমান্স এ সবকিছুর মিশেল এই মুভি। আপনার হার্ট যদি ভুল জায়গায় হয় এবং আপনি যদি স্যাডিস্ট হন, তাহলে এটা আপনার জন্য পারফেক্ট মুভি। আর এম্নিই যদি দেখতে ইচ্ছা করে তবে caution নিতে ভুলবেন না।

Vinland Saga [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Vinland Saga 1কল্পনা করুন আপনি ১১শতকের দিকে নদীর পারে একটি ছোট্ট শহরের বাসিন্দা । সকালে উঠে নদীর পাড়ে ঘুরতে গেছেন । শীতের সকাল , কুয়াশায় মোড়া সবকিছু । সেই কুয়াশা ভেদ করে এগিয়ে আসছে কিছু জাহাজ । দম দম করে দামামা বাজছে । কিছুক্ষনের মধ্যেই বোঝা গেল যে তারা আর কেউ নয় , তারা হল ডেনিশ জলদস্যু অর্থাত্‍ ভাইকিং । অসুরের মত শক্তি , হাতে কারুকাজ খচিত অস্ত্র , মাথার শিংযুক্ত শিরস্ত্রাণ যেন তাদেরকে আরও অসুরীয় করে তুলছে । তারা এগিয়ে আসছে রক্তলোলুপ নেকড়ের দলের মত । যেন হিমদল চিরশীতের দেশ থেকে তার বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে । চোখের পলকে তারা হত্যা করছে , নারী ,পুরুষ , শিশু , বৃদ্ধ কারো রেহাই নেই । পুরুষদের দাস , নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে । ভাইকিংদের লক্ষ্য তিনটি : মদ , নারী ও যুদ্ধ । এই ভয়াল জাতটিকে নিয়ে বহু কাহিনীর প্রচলন আছে , বহু গান গাওয়া হয়েছে । আরে এদের নিয়ে মাঙ্গা হবে না তা কি হয় !? এই ভয়ডরহীন রক্তলোলুপ যোদ্ধাদের নিয়েই মাঙ্গা ভিনল্যান্ড সাগা ।

Vinland Saga 4এর কাহিনী ১১শতকের ইংল্যান্ডে ডেনিশ রাজা Sweyn Forkbeard এর আক্রমন এবং তার ২পুত্র Harlard আর Canute মধ্যে চলা সিংহাসনের খেল নিয়ে । এবং এর প্রধান চরিত্র বলা যায় থরফিনকে । ভাইকিং বীর আসকাল্যাড এর অধীনে এক কিশোর হিংস্র যোদ্ধা । তার লক্ষ্য একটাই আসকাল্যাডকে সম্মুখযুদ্ধে হত্যা করা , কেননা এই আসকাল্যাডই থরফিনের পিতার ঘাতক । জ্বী , থরফিন কাজ করছে তার পিতার ঘাতকের আন্ডারে । কাহিনী তো সবে শুরু । রাজপুত্র Canute এর মসনদে বসার অভিপ্রায় । থরকেল এর মত চরিত্র যার নিষ্ঠুরতা সীমাছাড়া কিন্তু তাকে ভাল না লেগে পারবে না । এক অসাধারণ কাহিনীর জন্য যে অসাধারণ চরিত্রের দরকার তা সবই আছে ।
প্রথম কথা হল মাঙ্গার আর্ট । এর আর্ট সেরা পাঁচে থাকার যোগ্য । প্রতিটা ক্যারেকটারের অভিব্যাক্তি , এক্সপ্রেশন নিঁখুত ভাবে দেখানো হয়েছে । প্রতিটা দৃশ্য ডিটেইলড । অস্ত্র , পোষাক , জাহাজ সবকিছুর ডিজাইন ডিটেইলড যেন বইয়ের মেইন কভারের আর্টের মত । বার্সাক এর কথা বারবার মনে পড়ে যায় কিছু জায়গায় এর আর্ট দেখলে ।
ভাইকিং ইতিহাস , তাদের জীবনযাত্রা , তাদের মানসিকতা ,সে সময়কার সমাজের জীবনধারার উপর একটা কোর্সই হয়ে যাবে এই মাঙ্গা পড়লে । এরকম নিঁখুত ইতিহাস ভিত্তিক মাঙ্গা আর পড়েছি কেবল কিংডম । যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি , Game of thrones অর্থাত্‍ মসনদে বসার খেল সবই আছে এই মাঙ্গায় ।

Vinland Saga 2
এই মাঙ্গার প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের ডেভলপমেন্ট চোখে পড়ার মতো । সবচেয়ে নির্মম যে তারও অতীত ছিল হৃদয় বিদারক । এবং সবই রুঢ় বাস্তবতার আলোকে ।তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় ক্যারেকটার আসকাল্যাড ।
এই মাঙ্গা পড়ার সময় একরকম ঘোরে চলে যাবেন । যেন টাইম মেশিনে করে ভ্রমণ । খুবই কম মাঙ্গা এটা করতে পারে । তো এই মাঙ্গা না পড়ার কোন কারণ আমি দেখি না । পড়ে ভাল না লাগার কোন চান্স নেই ।
মাঙ্গার চ্যাপ্টার 127 টি এবং অনগোয়িং । রেগুলারলি আপডেট হয় ।
পড়তে পারেন এখানে :http://kissmanga.com/Manga/Vinland-Saga

পড়ার সময় Ensiferum বা Equilibrium এর যে কোন এলবাম ছেড়ে নিলে তো সোনায় সোহাগা ।
Ensiferum :https://www.youtube.com/watch…
Equlibrium:https://www.youtube.com/watch…

তো সময় থাকতে পড়ে ফেলুন অসাধারণ এক মাঙ্গা Vinland Saga!

Vinland Saga 5

Vinland Saga 3

ডিয়ার গ্রীন [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Dear Green

ডিয়ার গ্রীন

ধরণঃ ওয়ানশট
জানরাঃ ড্রামা, রোমান্স, শৌজো
মাঙ্গাকাঃ সাকুরা আমইয়ূ
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৯০
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮

মাত্র একটি চ্যাপ্টারের মাঝে কতটুকু গল্পই বা বলা সম্ভব? শৌজো ওয়ানশটগুলোতে সাধারণত নায়ক-নায়িকার ধুমধাম হঠাৎ দেখা হবে তারপর কিছু ঝক্কি-ঝামেলা পোহানোর পর মধুর মিলন হবে কাহিনী এখানেই শেষ। ভালো, নতুনত্ব থাকা গল্প পাওয়াই কঠিন। সেখানে অর্থপূর্ণ কোন ওয়ানশট মাঙ্গা তো আশা করাও ভুল। কিন্তু সাকুরা আমইয়ূ তার ডিয়ার গ্রিন মাঙ্গাটি মাত্র একটি চ্যাপ্টারেই তুলে ধরেছেন অর্থবহ একটি গল্প যেটির অভিজ্ঞতা বাস্তবে আমাদের সবারই কম-বেশি আছে।

কাউকে ভাইবোনের সাথে তুলনা করা আমাদের সমাজে নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। যখন এই তুলনা চলে তখন কেউ ভেবে দেখে না যে মানুষটিকে তুলনা করা হচ্ছে তার উপর তাদের মন্তব্য কি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অপর ভাই বা বোনটি যদি হয় মেধাবী, প্রতিভাবান তাহলে তো কথাই নেই। আওয়ি শুন এমনই এক হতভাগা মেয়ে যার সেই ছোটবেলা থেকে গুণী বড় বোনের সাথে তুলনা চলে। সারাক্ষণ এই তুলনা দেখতে দেখতে সে বিরক্ত। শুন বাঁশি বাজাতে পছন্দ করলেও বোনের কারণে তাও আত্মবিশ্বাসের অভাবে ঠিক মত চালিয়ে যেতে পারে না। সবকিছুর প্রতি উদাসীনতা, নিজের ইচ্ছামত চলা আর শহরের লুকানো এক সুন্দর জায়গায় একা একা বাঁশি বাজানো নিয়েই তার জীবন। সেখানে শুন একদিন একজন তরুণ ফটোগ্রাফারের দেখা পায়। এই ফটোগ্রাফারই শুনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনে। সবকিছু থেকে পালিয়ে বেড়ানোর স্বভাব আর হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতার চেয়ে নিজেকে আরও ভালো করে তোলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সে বুঝতে পারে।

শুন চরিত্রটির সাথে অনেকেই নিজের মিল খুঁজে পাবেন। বোন হিসেবে আওয়ি মিয়ো ভালো লাগার মত যদিও খুব ক্ষুদ্র সময়ের জন্য তাকে দেখা যায়। আর ইয়োহসুকের মত অনুপ্রেরণা জোগানো মানুষ বোধ হয় প্রতিটি মানুষের জীবনেই দরকার।
মাঙ্গাটির আর্ট খারাপ না আবার খুব আহামরি কিছুও না। একদম সচরাচর শৌজো মাঙ্গায় যেরকম আর্ট দেখা যায় তেমনটাই।

৫৪টি পৃষ্ঠা দিয়ে মাঙ্গাকা একটি কথাই বলতে চেয়েছেন। নিজেকে সম্মান করতে শিখ, নিজেকে ভালবাসতে শিখ। বড় বড় মাঙ্গাতেও এরকম সুন্দর কোন বার্তা পাওয়া যায় না। তাই ওয়ানশট হলেও এটি পড়ার মতই একটি মাঙ্গা।

Ajin [রিভিউ] — Nazmus Sakib Oyon

Ajin

আনিমের নাম : Ajin
এপিসোড : ১৩
ম্যাল রেটিং- ৭.৮৯
ব্যক্তিগত রেটিং- ৮.৪
জনরা – Seinen, Action, Horror, Mystery, Supernatural

সিনপ্সিস : আজিন নামক এক ধরনের বিশেষ প্রজাতি আবিষ্কৃত হয় আফ্রিকাতে সতের বছর আগে। এর পর পুরো দুনিয়া জুড়ে আরও বেশ কিছু সংখ্যক আজিন আবিষ্কৃত হয়। আজিনরা অমর এবং অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী। আনিমের প্রধান চরিত্র কেই, একজন সাধারণ হাই-স্কুলের ছাত্র। অবশ্য একটি ঘটনা তার পুরো জীবন কে পাল্টে দেয়।

চরিত্রসমূহ: কেই নাগাই নামের একজন ছাত্র আনিমেটার প্রধান চরিত্র। এছাড়াও কেই এর বাল্যবন্ধু কাইতো, বোন এরিকো, হেলথ মিনিস্ট্রি এর অফিসার তোসাকি, আজিন সাতউ ইত্যাদি চরিত্র সহকারী রুপে থাকে এবং কাহিনীর এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

আর্ট এন্ড এনিমেশন : আনিমেটার আর্ট বেশ পরিচ্ছন্ন ও সাবলীল। চরিত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এনিমেশন এর ক্ষেত্রে CGI এনিমেশন ব্যবহার করা হয়েছে।

সাউন্ড : আনিমেটার ওপেনিং সং ভালো। এন্ডিং মোটামুটি। কিন্তু এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। আনিমের হরর এবং সুপারন্যাচারাল আবহ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর মাধ্যমে খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে।

আনিমেটার যে দিকগুলো ভালো লেগেছে :

১। প্রধান চরিত্র ” I have done nothing wrong” ঘরানার হলেও এই ধরনের অন্য চরিত্রগূলো হতে বেশ আলাদা। যেখানে এই ধরনের চরিত্রসমূহ সহজে নিজেদের পরিবর্তনের
সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না, কেই সেদিক দিয়ে অনেকটাই ভিন্ম। সে বেশ চালাক এবং সহজেই খাপ খাইয়ে নেয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও সে নিজ বুদ্ধি খাটিয়ে বেরিয়ে আসে।

২। CGI এনিমেশনের ব্যবহারের ফলে আনিমেটার ভূতুড়ে আবহ বেশ ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

৩। অসাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরো আনিমেটাকেই ভিন্মমাত্রা দিয়েছে।

আনিমের যে দিকগুলো খারাপ লেগেছে :

১। CGI এনিমেশনের ফলে চরিত্রগুলোর চলাফেরা কিছুটা আড়ষ্ট এবং ধীরগতির মনে হয়েছে। ফলে এর বেশ ভালো একশন দৃশ্যগুলো পুরোপুরিভাবে ফুটে উঠেনি।

সবশেষে একটা কথাই বলবো, আনিমেটা বেশ ভালো। দেখে টাইম ওয়েস্ট বলে মনে হবে না।

Ichi the killer [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ichi the Killer

বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ হল সে দেশের মাফিয়া, কোন কোন ক্ষেত্র মাফিয়াই শক্তিশালি। তো বিভিন্ন গ্যাংয়ের সহবস্থানে চলে এই মাফিয়া ইন্ডাস্ট্রি। এই অন্দ্ধকারে ঢাকা এবং সকলের অগোচরে থাকা এই ইন্ডাস্ট্রির একটি ছোট্ট ঘটনা নিয়েই মাঙ্গা ইচি দ্যা কিলার।
ইচিকে প্রথম দেখায় মনে হবে চোখ টলটলে এক সদ্য কৈশোর পেরোনো যুবক। ভীত হচকিত ভাব, যেন ভাজামাছ উল্টে খেতে জানে না। আসলে তাই, ছোটবেলা থেকে বুলিয়িং এর শিকার হয়ে তার মাথার স্ক্রু ২ একটা আলগা হয়ে গেছে। বড়ধরনের মানসিক সমস্যাতে ভুগছে সে। কিন্তু সে মার্শাল আর্টে দক্ষ এবং তার পায়ে অসুরের জোর। তো এই ইচিকে কাজে লাগিয়ে জিন সান নামক এক বুড়ো লোক। ভুল বুঝিয়ে, ম্যানুপলেশনের মাধ্যমে ইচিকে কাজে লাগিয়ে সে বেশ কয়েকটা খুন করায় এবং ইচি এই খুনগুলো করে ঘোরের মধ্যে, এই ইচির শিকারের হয় যারা তাদের আর এক খন্ডে পাওয়া যায় না। তো এক গ্যাং লিডারকে খুন করে টাকার জন্য এবং সেই খুনের সূত্রে তারা এক পাগলা সাইকো গ্যাং লিডার কাকিহারার সামনে পরে যায় যাকে দেখলে মনে হবে কোন দুঃস্বপ্নের দানব এবং তাদের মধ্যে চলতে থাকে ইদুর বেড়াল খেলা।
প্রথমেই এই মাঙ্গা পড়তে হলে মানসিকতা যথেষ্ট শক্ত থাকতে হবে। নুইড্যিটি, ভায়োলেন্স, গোর টর্চার আরও প্রচুর এডাল্ট আর অবসেন্স দৃশ্য আছে যা সকলের কাছে হজম নাও হতে পারে। আর্টও বেশ ডিস্টার্বিং। এই মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে ২০০১ সালে একটি মুভিও বানানো হয়। এর ক্যারেকটারগুলো ইন্টারেস্টিং এবং চালবাজিগুলো অসাধারণ। যারা গোর এবং একশানের ভক্ত তারা পড়ে দেখতে পারেন এই ১০ভলিউমের মাঙ্গা ইচি দ্যা কিলার।

 

One Outs [রিভিউ] — MD Fahim Iftekhar

 

One Outs 3

আনিমেঃ এক আউট
জনরাঃ সাইকোলজিকাল, সেইনেন, স্পোর্টস
পর্বঃ ২৫

প্লটঃ ONE OUTS তথা এক আউট এর কাহিনি তোউয়া তোকুচি নামক একজন চরমপন্থী জুয়াড়িকে নিয়ে যার যুদ্ধ জাপানি প্যাসিফিক বেসবল লীগে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করা এবং সম্ভবত কম গুরুত্বপূর্ণভাবে একটি নিরেট বেতন উপার্জন করা।

গল্পের শুরু ওকিনাওয়া দ্বীপে, লাইকাওনস এর তারকা খেলোয়াড় কোজিমা হিরোমিচি এর অনুশীলন দিয়ে, যার ইচ্ছা আসন্ন মৌসুমে অন্ধকারময় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতানোর। এখানে প্রকাশিত হয় যে খেলাটি মূলত ব্যাটার ও পিচার এর মধ্যে বাজির খেলা যেখানে দুই পক্ষই একে অপরকে দমনের প্রচেষ্টা চালায়। তোকুচি এই খেলার অবিসংবাদিত রাজা যে কিনা লাইকাওনস এর তারকা খেলোয়াড় কোজিমা হিরোমিচির অনুরোধে লাইকাওনস এ যোগদান করে।

লাইকাওনস এর মালিক, সাইকাওয়া প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশিত হন যে কিনা কেবল মাত্র অর্থের ব্যাপারে তৎপর, দলের ব্যাপারে না। তোকুচি ও সাইকাওয়া এর মধ্যে এক আউট চুক্তি গঠিত হয় এবং একটি যুদ্ধের মঞ্চ তৈরি হয় যেখানে তোকুচিকে লীগের অন্য দলের সাথে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি জয় লাভের জন্য মোকাবিলা করতে হয়েছে। একটি মজার ব্যাপার হল প্রতিটি গেমের পর তোকুচির বর্তমান বেতন দেখানো যা দ্বারা দর্শক বুঝতে পারেন ঠিক কতটা সৈনাপত্যের সাথে সে পালাচ্ছে।

One Outs 2

এখানে দেখানো হয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জিতার বিভিন্ন উপায়, দেখানো হয় তারকা খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের গভীর পরিকল্পনা, দেখানো হয় কিভাবে প্রতারনার কৌশল অবলম্বন করে এবং কিভাবে তা ধ্বংস হয়। যেহেতু প্রতিটি দলেরই ছিল তাদের জয়ের বহু রাস্তা, তাই তিন ম্যাচ এর সিরিজ কখনই তাড়াতাড়ি শেষ হতো না বরং দেখা যেত উভয় দলের ক্রমাগত একে অপরকে ফাঁদে ফেলার প্রয়াস। অর্থাৎ বলা যায় খেলাগুলা সাইকোলজিক্যালি গ্যাম্বলিং এর মতো করে দেখানো হয়েছে, আর দেখানো হয়েছে প্রোফেশনাল খেলার জগতের কিছু নেগেটিভ দিক।

বলা বাহুল্য সিরিজ পুরোটাই একজনকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। স্পট লাইট ফেলা হয় এমন এক জনের উপর যে কিনা মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, ঠাণ্ডা মাথায় যে কিনা প্রতিপক্ষ দলকে নিজ ফাঁদে ফেলে। আপনি তখনই ভুল হবেন যখনই ভাববেন যে তোকুচি হেরে যাবে-এতে শর্ত যাই হোক না কেন।

২৫ পর্বের এই সিরিজটি তাই প্রদান করে একজন দর্শক একটি মানসিক এবং / অথবা জুয়া ভিত্তিক সিরিজ এ যা চান। সিরিজটির আর্টওয়ার্ক এবং অডিও উভয়ই ভালো।
আশা করি সবার সিরিজটি ভালো লাগবে।

One Outs 1

Yowamushi Pedal, Season 1 [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

এনিমেঃ Yowamushi pedal সিজন ১
জনরাঃ স্পোর্টস(সাইক্লিং/রোড রেসিং)
এপিসোডঃ ৩৮
স্টুডিওঃ TMS
উৎসঃ Yowamushi pedal মাঙ্গা
¤
Yowamushi pedal শব্দটির শাব্দিক অর্থ weakling pedal.যার সুন্দর বঙ্গানুবাদ করেছিল আমার বন্ধু Siam Maksud,’হে দুর্বল,প্যাডাল ঘুরা।’তো এনিমের প্রধান চরিত্র যে অতি দুর্বল দেখামাত্রই আপনি তা স্বীকার করবেন।প্রধান চরিত্র,ওনোদা সাকামিচি একজন এক্সট্রিম লেভেলের এনিমখোর অর্থ্যাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে ‘ওতাকু’।তো বেশিরভাগ ওতাকুদের মত সেও লিকলিকে শরীর এবং গোল কাঁচের চশমার অধিকারী।আশ্চর্যজনক ভাবে সমগ্র মিডল স্কুল লাইফে সে একজন এনিমখোর বন্ধুও খুঁজে পায়নি।তাই হাইস্কুলে একটি এনিমে ক্লাব প্রতিষ্ঠার ধণুকভাঙ্গা পণ নিয়ে সে তার বাইসাইকেল সহ স্কুলের দিকে রওনা দেয়।পথিমধ্যে তার সামনে পড়ে দুই কিলোমিটার ব্যপ্তি বিশিষ্ট এক ঢাল যা সে তার ‘মমা বাইক’ অর্থ্যাৎ সাধারন সাইকেল চালিয়েই গুণগুণ করে গান গেয়ে অনায়াসেই পাড়ি দিতে থাকে।এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে অবাক হয় ‘ইমাইজুমি’ ওরফে ‘হটশট’ যে কিনা মিডল স্কুল রোড রেসিং কম্পিটিশনে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে এই সোহোকু হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছে।তাই অনেকটা হিংসার বশবর্তী হয়েই সে ওনোদাকে রেসের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।অপ্রস্তুত ওনোদা,ইমাইজুমির বিপক্ষে অসাধারন ভালো ফলাফলের কারণে স্কুলের বাইসাইকেল ক্লাবের সিনিয়রদের সুনজরে পড়ে।ওনোদা আর ইমাইজুমি দুজনেই বাইসাইকেল ক্লাবে জয়েন করে।তারা কি পারবে সিনিয়রদের সাথে লড়াই করে ক্লাবে টিকে থাকতে?তারা কি পারবে ইন্টার হাই রোড রেসিং টুর্নামেন্টের মত মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করতে?
¤
Yowamushi pedal এর সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক সম্পর্কে বলতে গেলে সবার আগে বলতে হবে এর ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্টের কথা।যেহেতু রোড রেসিং একটি দলগত খেলা তাই এখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সম্পূর্ণ একটি রেস জেতা সম্ভব না।সোহোকো রেসিং ক্লাবের ছয়জন সদস্যের উপরেই স্পটলাইটের আলো সমান ভাবে পড়েছে।খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ,মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব,একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সুন্দর করেই তুলে ধরা হয়েছে।বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের উপরও সমান আলোকপাত করা হয়েছে।প্রধান খল চরিত্র ‘মিডৌসুজি আকিরা’ এর চালচলন এবং সিদ্ধান্তগুলো পুরোপরি আনপ্রেডিক্টেবল মনে হবে আপনার কাছে।সোহোকু একাডেমির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হাকোনে একাডেমির রেসারদের সিরিজের মাঝপথে দেখলে আপনি ধন্দে পড়ে যাবেন যে এরাই নায়ক কিনা।পক্ষ-বিপক্ষ প্রতিটি দলের খেলোয়াড়েরই রয়েছে অম্লমধুর অতীত যা আপনার হৃদয়কে নাড়া দেবে।দলগত খেলা হওয়ার পরও সোহোকু আর হাকোনে একাডেমির সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যকার খন্ড লড়াই আপনাকে অন্যরকম একটা থ্রিল এনে দেবে।
¤
অ্যানিমেশন কোয়ালিটির কথা বলতে গেলে একে গড়পড়তার মধ্যেই ফেলা যায়।আর এনিমের বেশির ভাগ স্ক্রিনটাইম রেসিং ট্র্যাকের ওপর হওয়ায় অ্যানিমেশনের কোয়ালিটির অতটা গুরুত্বও ছিল না।তবে পাহাড়,গাছ-পালা ও রেসিং ট্র্যাকের আশেপাশের পরিবেশের গ্রাফিক্স আরেকটু ভালো হওয়া দরকার ছিল।
¤
এনিমেটির সাউন্ডট্র্যাক যথেষ্ট থ্রিলিং ছিল।বিশেষ করে সোহোকুর রেসারদের রেসে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় অসাধারন কিছু সাউন্ডট্র্যাক ব্যবহার করা হয়েছে।চারটি ওপেনিং সংয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Rookiez Is PunkD এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং ‘reclimb’.এছাড়া এন্ডিং সংগুলোও ভালোমানের ছিল।
¤
Yowamushi Pedal দেখলে আপনি একটা জিনিস নিশ্চিত জানতে পারবেন তা হল সাইক্লিংয়ের নিয়মকানুন ও খুঁটিনাটি।বাংলাদেশে অনেকে শখ করে সাইকেল চালালেও নেশা হিসেবে সাইক্লিংকে খুব কম মানুষই বেছে নেন।তার উপর ট্র্যাকের অপ্রতুলতা এবং এসএ গেমসে চিটিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুণ্ণ। কিন্তু Yowamushi pedal সাইক্লিংয়ের প্রতি আপনার পুরনো ভালোবাসাকে জাগিয়ে তুলবে।এনিমেটা দেখে থাকলে পরিচিত হবেন gear shifting, dancing, climbing, sprinting, cadence, king of the mountain ইত্যাদি সাইক্লিং বিষয়ক টার্মের সাথে।এছাড়া সাইকেল চালানোর সময় চালকরা যে মুক্ত বিহঙ্গ মার্কা অনুভূতি পেয়ে থাকে তার সাথেও পুনরায় সুপরিচিত হবেন।তাই যারা জীবনে একবার হলেও সাইকেল চালানো শিখেছেন তাদের প্রত্যেকেরই উচিত এনিমেটা দেখা।
¤
পুরোটা এনিমে দেখে আমি একটা বিষয় খুব ভালোভাবেই বুঝেছি যে,যতদিন পর্যন্ত না এদেশের যুবসমাজ গিয়ার সাইকেল চালানোকে পার্ট ধরার সরঞ্জাম হিসেব গণ্য করা বন্ধ না করবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সাইক্লিংয়ের ভবিষ্যত অন্ধকার।(এটাকে অনেকে ধৃষ্টতা হিসেবে নিতে পারেন কিন্তু ইহাই বাস্তব সত্য।)
¤
খুবই টানটান উত্তেজনাময় এক মূহূর্তে এনিমেটার প্রথম সিজন হয়ে যাই।তাই আজকে দ্বিতীয় সিজন নামানোর খুশিতে এই লেখা।ধন্যবাদ Siam Maksud ও M.M Rezwan কে এই অসাধারন এনিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।

Kokou no Hito [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Kokou no Hito 9

কল্পনা করুন, দুর্ভেদ্য তুষারঝড় ভেদ করে বেয়ে চলছেন এক দুর্গম পাহাড়ের খাজ। আপনি পুরোই একলা , তাপামাত্রা মাইনাসের ডিগ্রি চল্লিশেরও নিচে । অসহ্য অমানুষিক পরিশ্রম করে আপনি অবশেষে পৌছালেন পাহাড়ের চূড়ায় । ভোর হয়েছে , হাইপোর্থামিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আপনার হাত পায়ের আঙ্গুল অবশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আপনার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই । আপনার চোখের সামনে সূর্য উঠছে এবং তার আলো পাহাড়ের তুষারে প্রতিফলিত হয়ে চারিদিকে এক মুগ্দ্ধকর আবহ তৈরী করছে । আপনি যেন সারা পৃথিবীর রাজা , আরোহন করেছেন আপনার সিংহাসন । এই অনুভূতির সাথে পরিচিত একমাত্র পাহাড় বাহকরা যাদের আমারা ক্লাইম্বার বলে চিনি । এটাকে একধরণের স্পোর্টসও বলা যায় , কিন্তু এ খেলা হল জীবণ মরনের খেলা , একটি সুতোর ডগায় আপনার জীবন ঝুলছে । কিন্তু যাদের শরীরে এই ভয়ঙ্কর খেলার নেশা ঢুকে যায় তখন তাকে আর কিছুতেই থামানো যায় না । এইরকম অসাধারণ এক স্পোর্টস নিয়ে Shinichi Sakamoto এবং Yoshirō Nabeda এর লেখা আর সাকামতোর আঁকা সেইরকমই এক অসাধারণ মাঙ্গার কথা বলব যার নাম কোকু নো হিতো মানে THE CLIMBER ।

Kokou no Hito 7 Kokou no Hito 12
মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম মোরি বুনটারো । রিসেন্টলি সে এক নতুন স্কুলে ট্রান্সফার হয়ে এসেছে । প্রথম দেখায় তাকে মনে হবে এন্টিসোশ্যাল টাইপের কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করে দেখা গেলে বোঝা যায় যে সে আসলে নিসঃঙ্গ নেঁকড়ে মানে লোন উলফ । তো প্রথম দিনই ক্লাসের বুলি প্লাস ক্লাইম্বার মিয়ামটো এর সাথে ঝামেলা পাকিয়ে বসে এবং তার ছুড়ে দেওয়া চ্যালেন্জ নিয়ে খালি ড্রেনেজ পাইপ বেয়ে স্কুলের ছাদে উঠতে যায় , তীরে এসে তরী ডুবতে বসে যখন ছাদের কাছে এসে তার শক্তি ফুড়িয়ে যায় , কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করার আগেই সব শক্তি জড়ো করে দেয় এক লাফ এবং লাফ দিয়েই ছাদের কার্নিশ ধরে ফেলে । তার এই সহজাত ক্লাইম্বিং ক্ষমতা চোখে পড়ে এক শিক্ষক যোগ ক্লাইম্বার ওনিশি সেন্সের এর চোখে । তখন সে মোরিকে বলে এক ক্লাইম্বিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে । ক্লাইম্বিং এর খুটিনাটি শিখায় । এখন আপনার ভাবছেন ” এই আবার এল , আরেকটা নরমাল গতবাধা স্পোর্টস মাঙ্গা ,, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করবেন না এর কিছু চ্যাপ্টার পরই কাহিনীর অসাধারণ ৩৬০ ডিগ্রি টার্ণ । সাইড ক্যারেকটারগুলোর ইউনিক ডেভলপমেন্ট এবং বিস্ময়কর পরিণতি । মোরির ধীরে ধীরে হওয়া বিবর্তন । ওর ডে টু ডে লাইফ । বাকি কাহিনীর টুইস্ট মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে ।
এই মাঙ্গাকে খালি স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গা হিসেবে পড়া যয় । জীবনের নির্মম বাস্তবতাকে বেশ নিখুত ভাবেই মাঙ্গাকা দেখিয়েছেন ! কাহিনীর পেসিং , ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট , বব মার্লির উপস্থিতি সব মিলিয়ে এক কথায় অসাধারণ একটি মাঙ্গা । মাঙ্গার আর্ট বলতে গেলে বার্সাক , ভ্যাগাবন্ডের কাছাকাছি লেভেলের। অতিরিক্ত ডিটেইলড , চেহারার ইম্প্রেশন গুলো এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দগুলোকে প্রতীকি আর্টের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন যা এক কথায় অসাধারণ । কাহিনীর মধ্যে একবার ডুবে গেলে সহজে বের হতে পারবেন না । ১৭০ চ্যাপ্টারের এই অসাধারণ মাঙ্গাটি একবার একটু ট্রাই করে দেখুন । আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে ।
এই মাঙ্গাকে আমি ১০ এ ১০ দেব ।

Kokou no Hito 1 Kokou no Hito 2 Kokou no Hito 3 Kokou no Hito 4 Kokou no Hito 5

Tamayura – Let’s Photo!! রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, ফটোগ্রাফি জিনিসটা আপনাদের কেমন লাগে? কয়েক হাজার মেগাপিক্সেলের মোবাইল ক্যামেরা বা কয়েক কোটি টাকা দামের ডিএসএলআর এর যুগে ছবি তোলা ব্যাপারটা অনেক মামুলি হয়ে গেছে এখন, কিন্তু সেই সময়টার কথা একবার মনে করুন, যখন ফিল্ম ক্যামেরা প্রচলিত ছিল। একটা ফিল্মের লিমিট মাত্র ৩৬ টা ছবি, তাও ছবিগুলো দেখতে হলে আপনাকে টাকা খরচ করে প্রিন্ট করাতে হবে! তখন ছবি তোলার একটা চার্ম ছিল, কারণ মানুষ তখন শুধুমাত্র তাদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোই বন্দী করত ক্যামেরায়। একেকটা ছবি হয়ে থাকত একেকটা গল্পের সাক্ষী।

যে অ্যানিমেটার কথা বলছি, সেটার মূল থিমও তাই, ছবির মাধ্যমে সকলের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়া।

Screenshot_2016-04-12-07-58-42

তামাইউরা- অ্যানিমেটির নামটি বেশ অদ্ভুত। কিন্তু এই নামের পেছনে রয়েছে সুন্দর একটা অর্থ। বলা হয়ে থাকে, যখন কোন ছবিতে মানুষের মনের উষ্ণতা, তাদের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে, তখন ছবিতে অনেকগুলো সাদা স্ফটিক দেখা যায়। একেই বলে তামাইউরা। আমাদের গল্পের মূল চরিত্র ফু-চান চায়, তার তোলা ছবিগুলোতে যেন এই তামাইউরা ধরা পড়ে।

Screenshot_2016-04-22-13-29-45

ফু-চান একজন হাইস্কুল ফ্রেশম্যান। বাবাকে হারিয়ে অনেকদিন পর্যন্ত সে শকের মধ্যে ছিল, যে কারণে সে তার বাবার কথা মনে করায় এমন সব জিনিস নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, এমনকি তার বাবার পছন্দের ক্যামেরাটাও।

কিন্তু একদিন বাবার তোলা ছবিগুলো দেখে ফু উপলব্ধি করে, শোক করে নয়, বরং বাবার সাথে কাটানো সুন্দর সময়গুলোকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলাটাই হল বাবার প্রতি সন্মান দেখানোর সঠিক উপায়। তাই ফু-চান ঝেড়ে ফেলে সব দুঃখ, আর বাবার প্রিয় ফিল্ম ক্যামেরাটাকে সঙ্গী করে চলে আসে তাকেহারাতে; যেখানে তার বাবার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

Screenshot_2016-04-22-13-32-04

তামাইউরা অ্যানিমেটিকে বলা যায় আরেকটি টিপিকাল কিউট গার্লস ডুয়িং কিউট থিংস অ্যানিমে, যেখানে মূল থিম হল ফটোগ্রাফি। কিন্তু এখানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির দিকে তেমন একটা ফোকাস করা হয়নি, বরং ছবির সাথে আবেগের সম্পর্কটাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেকারণে ডিজিটাল ক্যামেরার যুগেও ফু-চান ব্যবহার করে ফিল্মের ক্যামেরা, কারণ এটাই তার বাবার সবচেয়ে সুন্দর মেমেন্টো। হাইস্কুল বালিকাদের মজার জীবন, একেকজনের জীবনের লক্ষ্য, হাসিকান্নার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে এগিয়ে চলে ফু-চানের ফটোগ্রাফি, যে ছবিগুলোতে প্রায়ই সন্ধান পাওয়া যায় তামাইউরার।

অ্যানিমেটির থিম যেহেতু ফটোগ্রাফি, সেই অনুযায়ী সেটিং তৈরি করা হয়েছে খুব সুন্দর দৃশ্য আর উৎসবমুখর পরিবেশ দিয়ে। পর্বের পর পর্ব ওরা শুধু মজা করে যাবে, সেগুলো দেখে আপনারও ইচ্ছে হবে ওদের দলে ভীড়ে যেতে। ফু-চানের তোলা ছবিগুলো দেখানোর সময়টার অ্যানিমেশন অনেক সুন্দর। আর এই অ্যানিমের প্রতিটা ওপেনিং এন্ডিং এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার খুবই ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার একগাদা পার্ট আছে, তাই সকলের সুবিধার্থে আমি সিকোয়েন্সটা লিখে দিচ্ছি-

Tamayura OVA- ৪ টি পর্ব
Tamayura Hitotose- ১২ টি পর্ব
Tamayura Hitotose OVA- ১ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive- ১২ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive OVA- ১ টি পর্ব

এছাড়া এই অ্যানিমের ৪ টি মুভি আছে।

যদি মনকে শান্তি দেয়া কোন হাসিখুশি দৈনন্দিন জীবন ফোকাস করা অ্যানিমে দেখতে চান, তামাইউরাকে সুযোগ দিতে পারেন।

Screenshot_2016-04-22-18-23-29

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Asiful Alam Ayon

ShouwaGen 1

এনিম: Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu/ Shouwa and Genroku Era Lovers’ Suicide Through Rakugo
(দাঁড়ান, দাঁড়ান, নাম দেখেই উল্টো দিকে দৌড় দিবেন না। আগে পুরোটা পড়ুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন।)

জনরা: হিস্টোরিকাল, ড্রামা, জোসেই
এপিসোড: ১৩
ম্যাল রেটিং: ৮.৭
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮.৮
রিলিজ: জানুয়ারি, ২০১৬- এপ্রিল, ২০১৬
উৎস: মাঙ্গা
স্টুডিও: Studio Deen

প্লট: একসময়ের জনপ্রিয় রাকুগো আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। রাকুগো হল এক ধরনের শিল্প যার মাধ্যমে একজন শিল্পী একটি গল্পকে এবং গল্পের বিভিন্ন চরিত্রগুলোর সংলাপ উত্তম পুরুষে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। বর্তমানে রাকুগোর অষ্টম প্রজন্মের প্রধান হলেন Yurakutei Yakumo VIII যিনি বন্ধুর কাছে Bon প্রেয়সীর কাছে Kiku-san নামে পরিচিত। হঠাৎ একদিন Yotaro নামের এক তরুণ তার কাছে এসে বলে সে ইয়াকুমো সেনসেই এর রাকুগোর পাঁড় ভক্ত এবং প্রচুর অনুনয় বিনয় করে তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য। সারা জীবন অসংখ্য মানুষের এমন অনুরোধকে প্রত্যাখান করে আসলেও কেন জানি এই তরুণের অনুরোধ ফেলতে পারলেন না তিনি। গ্রহণ করলেন শিষ্য হিসেবে, থাকতে দিলেন নিজের বাড়িতে। রাকুগোর প্রতি তরুণটির ভালোবাসা আর তার প্রতি তার পালিত কন্যার ঘৃণা দেখে একদিন ঠিক করলেন নিজের জীবনের কাহিনী খুলে বলবেন তাদেরকে। রাকুগোর মাধ্যমে শুরু করলেন তার জীবনের গল্প বলা, রাকুগো শিল্পী হয়ে উঠার জন্য তার সংগ্রাম আর জীবনযুদ্ধের এক গল্প… তার জীবনের এ গল্প নিয়েই এগোতে থাকে কাহিনী…

হারুকো কুমোতার লেখা অনন্য এই প্লটটির উপরে ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয় এনিমটি। এই এনিমের মজার একটি বিষয় হলো বর্তমান থেকে কিভাবে যে আপনাকে অতীতে নিয়ে যাবে আপনি টেরই পাবেন না। এনিমের পথিমধ্যে আপনার হঠাৎ মনে হবে “একি! গল্পতো বর্তমান দিয়ে শুরু হয়েছিল…!”
এনিমের মূল আকর্ষণ আর
চমকগুলা এই অংশেই।

চরিত্র: এনিমটাতে আপনি পাবেন অসাধারণ সব চরিত্র। একদিকে কিকুর সংগ্রামময় জীবন আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, আবার অন্যদিকে ফ্রি স্টাইল জীবন যাপন করা বন্ধু সুকেরোকুর সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যক্তিত্ব। আর আছে সুন্দরী ললনা মিয়োকিচি যাকে আপাতদৃষ্টিতে বাজে বিরক্তিকর একটা চরিত্র মনে হলেও তাকে ছাড়া গল্পের পূর্ণতা আসে না। প্রচুর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট রয়েছে এনিমটাতে।

রাকুগো শিল্প আর একেক সময়ে একেক দিকে মোড় নেওয়া চমকে ভরা কিকুর জীবন এনিমটাকে নিয়ে গেছে সম্পূর্ণ অন্য এক স্তরে।

আর্টওয়ার্ক: খুব সুন্দর আর্ট লক্ষ্য করা যাবে এখানে যা মোটেই মার্কামারা বা সস্তা না। দেখলেই বুঝতে পারবেন এনিমটার আর্টওয়ার্ক আর দশটা এনিম থেকে একটু আলাদা। ব্যাকগ্রাউন্ড গুলি যেন জাপানের ঐতিহাসিক পিরিয়ডের ভাইব দিয়ে যাবে…

মিউজিক: মিউজিক নিয়ে খুব বেশিকিছু বলার নেই। ওপেনিং আর এন্ডিং সং এক কথায় পারফেক্ট ছিল। শুনলেই বুঝতে পারবেন কেন একথা বলা.. . বিভিন্ন সময়ের সাউন্ডট্র্যাক আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলোও ছিল ভালো লাগার মতো।

এনিমটাতে পাবেন মেধাবী কিছু কণ্ঠ অভিনেতাদের, যাদের নাম না উল্লেখ করলেই নয়। আছেন সহকারী চরিত্রের রোলের জন্য বিখ্যাত এবং অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সেইয়ু আকিরা ইশিদা যিনি গিনতামার Katsura Kotaro এর ভয়েস দিয়েছেন । কণ্ঠ অভিনয় ছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক ক্ষেত্রে মেধার পরিচয় দেওয়া কইচি ইয়ামাদেরা এবং ইয়োতারোর কণ্ঠ দিয়েছেন অনেক বিখ্যাত চরিত্রের (যেমন: Gilgamesh, Kogami Shinya) কণ্ঠ দেওয়া অভিজ্ঞ ও গুণী সেইয়ু তোমোকাজু সেকি।

গল্পের গাম্ভীর্যতার কারণে অনেকের কাছে এনিমটা ভালো নাও লাগতে পারে। তবে এনিমটাতে দেখানো বিলুপ্তপ্রায় রাকুগো আর এতে যুক্ত শিল্পীদের সংগ্রাম আপনাকে নতুন করে ভাবাবে, আধুনিক নানা বিনোদন মাধ্যমের ভীড়ে কি বিলুপ্ত হতে চলেছে না আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিগুলোও? কত শিল্পীর পরিশ্রমের ফসলে সমৃদ্ধ এককালের জনপ্রিয় আমাদের দেশীয় শিল্প সংস্কৃতিগুলোকে বাঁচানোর জন্য কি করতে পারি আমরা? আপনার এই চিন্তার দ্বার খুলে দিতে সাহায্য করবে Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu. অতএব, সময় নষ্ট না করে দেখে ফেলুন উইন্টার ২০১৬ এর অন্যতম এই সেরা এনিমটি।

ShouwaGen 2