Annarasumanara [মানহোয়া রিভিউ] by Tahsin Faruque Aninda

 

ছোটকালে মানুষের জীবন থাকে অনেক রকমের স্বপ্নে পূর্ণ, জীবনের প্রতিটি ছোটবড় ঘটনা যেন জাদুর ছোঁয়ায় হয়ে উঠে রঙিন। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যেন সেই সব অদ্ভুত সৌন্দর্যময় দিনগুলি জায়গা ছেড়ে দেয় কর্মব্যস্ততার জীবনকে, জাদুময় পৃথিবীকে গ্রাস করে নেয় নির্মম বাস্তবতা। সমাজে সম্মানজনক অবস্থানের জন্যে বেঁছে নিতে হয় ভাল পেশা, পরিবারকে দেখে শুনে রেখে দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে হেঁটে চলবার পথ। নিজে ভালমতো খেয়েপরে নিয়ে সবাই চায় তাদের সন্তানেরাও যেন তাদের দেখানো পথে চলে, সবাই যেন ঠিকমতো “বড় হয়ে উঠে”।
তবে কেউ যদি সমাজের দেখানো পথে “বড় হয়ে উঠতে” না চায়, তাহলে কী হবে? সমাজ কি তার এই “ছোট থেকে যাওয়া” মেনে নিবে? নাকি সবাই তাকে আর সবার মতই তথাকথিত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্যে উঠেপরে লাগবে?
তারচেয়েও বড় প্রশ্ন, সবার দেখানো পথে “বড় হয়ে উঠে” জীবন গড়ে তুলার বিরোধিতা করে ছোটকালের সেই স্বপ্নময় জীবনকে তাড়া করে ছুটলে কী হবে সেই মানুষটির? তার জীবন কি সেখানেই থেমে থাকবে? নাকি কারও তোয়াক্কা না করে আপন গতিতে ছুটে চলতে পারবে জীবনের পথে?

Annarasumanara নামক মানহোয়াটি পড়ার সময়ে এরকম বিচিত্র প্রশ্ন মাথায় আসবে পাঠকদের। Ha Il-Kwon এর আঁকা ও লেখা এই ওয়েবটুনটি ৩টি ভলিউমে ২৭ চ্যাপ্টারে প্রকাশিত হয়।

কাহিনী: গল্পের নায়িকা Yoon Ah-Ee এক গরীব পরিবারের মেয়ে। পড়াশুনায় তুখোড় এই ছাত্রীর জীবন দারিদ্রতায় অসহনীয় হয়ে উঠে। পরার কাপড় ছিড়ে গেলেও নতুন কাপড় কিনতে চিনতা করতে হয় যে এই খরচের পর মাসের বাকি দিনের জন্যে খাবার কিনবার মত টাকা থাকবে নাকি হাতে। নতুন ক্লাসে তার পাশের চেয়ারেই জায়গা হয় Na Il-Deung-এর, যে শহরের অন্যতম ধনী পরিবারের ছেলেই শুধু নয়, ভাল ফলাফলে সবাইকে ছাপিয়ে স্কুলের সেরা ছাত্রও বটে। পড়াশুনার জন্যে অঢেল টাকা খরচ করে ফেলা তার কাছে কোন ব্যাপারই নয়। এদিকে এত বড় সম্পদশালী পরিবারের ছেলের পাশে বসে থেকে Ah-Ee-এর চিন্তাভাবনায় সারাক্ষণ চলে আসে তাদের দুজনের মধ্যে জীবনধারণের পথের এত বড় পার্থক্যের ব্যাপারটি।

তাদের স্কুলে একদিন হঠাৎ একটি গুজব ছড়িয়ে পরে যে পরিত্যক্ত এমিউজমেন্ট পার্কে এক জাদুকর এসে উঠেছে, আর সেখানেই থাকে এখন। জাদুকরটি একটু রহস্যময়, আর সে নাকি যেকোন মানুষকে গায়েব করে দেবার জাদু দেখাতে গেলে সত্যি সত্যি সেই মানুষকে গায়েব করে ফেলতে পারে। Yoon Ah-Ee ঘটনাচক্রে একদিন সেই জাদুকরের সামনে পরে, যে তাকে প্রথমেই একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে, “Do you believe in magic?”

Ah-Ee এর ছোটকালে সবসময়ে শখ ছিল জাদু শিখা, বড় হয়ে সে হতে চেয়েছিল একজন জাদুকর। কিন্তু তার বাবা তাকে ও তার ছোট বোনকে ফেলে চলে যায় ঋণের বোঝা মাথায় চাপিয়ে দিয়ে। সংসারের টানাটানিতে এক সময়ে ছোটকালের সেই সুন্দর স্বপ্ন ঝেড়ে ফেলে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। নুন আনতে পান্তা ফুরানো জীবনে সে জলদি বুঝে উঠে, পড়াশুনায় ভাল ফলাফল করে ভাল একটি চাকুরী পেতে হবে তাকে। আর তাই এতদিন পর ছোটকালের সেই পূরণ করতে না পারা স্বপ্নের ব্যাপারটি তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। জাদুকরের জীবন বেঁছে নিলে পরিবারকে কী খাওয়াবে? সমাজ তাকে কী চোখে দেখবে? সত্যিকারের জাদু বলতে কিছু নেই। এটি শুধুই চোখে ধুলো দেওয়া এক খেলা, যা মানুষকে বিনোদনই দিতে পারে, এর বেশি কিছুই না।

এদিকে রহস্যময় জাদুকর বারবার তাকে একটি কথাই বলে, সে সত্যিকারের জাদুকর। সে সত্যি সত্যিই জাদু জানে। কথাটি Ah-Ee মেনে নিতে না চাইলেও তাকে মাঝেমাঝেই কিছু অবাস্তব ধরণের জাদু দেখিয়ে দিতে থাকে। আর সেই সাথে Ah-Ee-কে একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, তার ছোটকালের স্বপ্ন কি সে চাইলে এখনও পূরণ করতে পারবে?

চরিত্র: গল্পের মূলে রয়েছে তিন প্রধান চরিত্র: দরিদ্র কিন্তু মেধাবী ছাত্রি Yoon Ah-Ee, বড়লোক ঘরের দেখতে হ্যান্ডসাম ও মেধাবী ছাত্র Na Il-Deung, এবং রহস্যময় জাদুকর। পুরো গল্পটি এই তিনজনকে কেন্দ্র করে গড়ে হয়ে উঠে, আর ধীরে ধীরে তিনজনেরই চরিত্রের বিকাশ দেখানো হয়েছে সুন্দরভাবে।

বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে অনেক পরিণত চিন্তার Yoon Ah-Ee জানে অনেক পরিশ্রম করে গরীব পরিবারের হাল ধরতে হবে। আবেগে গা ভাসিয়ে না দিয়ে সত্যের মুখোমুখি হওয়া তার সিদ্ধ্বান্তে লক্ষণীয়।
Il-Deung বিশ্বাস করে উন্নত সুখময় জীবনের জন্যে দরকার অনেক টাকা-পয়সা ও ভাল পেশা। আর বড়লোকের ঘরে জন্মানোতে সে সেইসব সুবিধা উপভোগ করতে পেরে নিজেকে আসলেই অনেক সৌভাগ্যবান ভাবে।
বিলাসিতার জীবন ছেড়ে আসা জাদুকর নিজের জীবনের স্বপ্নের পথেই পা বাড়ায়। বয়স বাড়লেও, মানসিকভাবে কখনও বড় হয়ে উঠতে না চাওয়া এই জাদুকর সবাইকে মনের কোনে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট শিশুটিকে জাদু দেখিয়ে আনন্দ দেখিয়ে বেড়ায়। তার বিশ্বাস জীবনে সবসময়ে স্বপ্নের পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিৎ, সমাজের বাহবা পাওয়ার লক্ষ্যে নিজেকে বিলিয়ে না ইয়ে জীবন উপভোগ করাই হওয়া উচিৎ জীবনের সত্যিকারের লক্ষ্য।

আর্ট: মানহোয়াটির আর্টের মধ্যে একটা অন্যরকম সৌন্দর্যের ছোঁয়া আছে। মাঝে মাঝে এবস্ট্রাক্ট আর্টের ব্যাপারটি চোখে পরার মত, আর সেই সৌন্দর্য অনেক বেশি উপভোগ্য! জাদুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা মানহোয়াটিতে মাঝে মাঝেই দেখা যায় একটি পুরানো বন্ধ হয়ে যাওয়া এমিউজমেন্ট পার্কের চোখজুড়ানো সৌন্দর্য! চিত্রবহুল এই মানহোয়াতে এক প্যানেল থেকে আরেক প্যানেলে অংকনের পরিবর্তনগুলি কাহিনীতে গভীর ছাপ ফেলে। সবচেয়ে বেশি চোখে যা পরবে তা হল আর্টে একটা ডার্ক থিম থাকলেও কাহিনী সেরকম ডার্ক নয়, যাতে এ দুটি জিনিসের কম্বিনেশন অসাধারণ হয়ে উঠেছে!

একজন বাস্তববাদী, একজন অভিজাত-বংশীয় এবং একজন জাদুকরের কাহিনী আপনাকে মনে করে দিবে শুধু লোকদেখানো নয়, নিজের জীবনকে নিজের মত করেও গড়ে তুলা উচিৎ। স্বপ্ন শুধু স্বপ্নে থেকে যাবার জন্যেই নয়, সেটাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারাটা জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম দিক!

মনে গভীর ছাপ রেখে যাবার মত ঘটনাবহুল একেকটি অধ্যায়, সেই সাথে চোখজুড়ানো আর্ট এই মানহোয়াটিকে স্বাভাবিকভাবেই খুব জলদি আপনার মনোযোগ কেড়ে নিবে। গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, কাহিনী আগানোর সাথে সাথে চরিত্রগুলি অনেক সুন্দর ভাবে বিকশিত হয়। চরিত্রগুলিতে দেখার মতন পরিবর্তন আসে। জাদুর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা কাহিনীতে চরিত্রগুলিও জাদুময় কিছু মুহুর্ত উপহার দিতে পারবে। 

প্রায় ৪০-৫০ পাতার একেকটি চ্যাপ্টার পড়তে খুব বেশি সময় নিবে না হয়তো। অতএব কমিক্স, মাঙ্গা, মানহুয়া ও মানহোয়া পাঠকেরা এই মানহোয়াটি না পড়ে থাকলে আর দেরী না করে এখনই পড়ে ফেলুন, আর উপভোগ করুন অসাধারণ সুন্দর একটি গল্প! জাদুময় কিছু মুহুর্তই আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে 

MyAnimeList Rating: ৮.৬৯/১০
আমার রেটিং: ১০/১০

[লেখাটি একই সাথে somewhereinblog-এও আপলোড করা হয়েছে, লিংক: http://www.somewhereinblog.net/blog/aulaaninda/29911178 ]

নারুতো (একটা প্রায় বায়াসড রিভিউ টাইপ লেখা) – Shafiul Munir

ফুটবল খেলায় হাফ টাইমে ৩-০ গোলে পিছিয়ে আছি, প্রতিপক্ষ একের পর এক আক্রমণ করছে, আমরা একটুও পেরে উঠছি না, সামনে হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। কি করব? হাল ছেড়ে দেব পরাজয় মেনে? নাকি অসম্ভবকে চ্যালেঞ্জ করে কোন বাধাকে পরোয়া না করে এগিয়ে যাব ‘হার না মানা’ মনোবল নিয়ে?

একের পর এক পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে, টিউশন পাওয়া যাচ্ছে না, যাকে খুব ভালো ফ্রেন্ড ভাবতেন সেও দূরে সরে যাচ্ছে, যেটা করছেন সেটাতেই লুজার হচ্ছেন, জীবনের প্রতিটি প্রান্তে কুয়াশা ঢাকা অশুভের ছায়ায় দিশেহারা। কি করব? কি করবেন? সবকিছু ছেড়ে বনে বাদাড়ে চলে যেতে পারেন, আত্মহত্যা করতে পারেন, হতাশ হয়ে মদ-গাজায় দুঃখ ভুলতে পারেন, কিংবা উজুমাকি নারুতোর মত নিয়তির নিষ্ঠুরতা আর চারপাশের প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলে উঠতে পারেন, “Give up trying to make me give up.”

শুধু মনোবলের দৃঢ়তা নয়, আছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ট্যালেন্টের সুউচ্চ দেয়ালকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া, অসম্ভব টার্গেটকে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে বিশ্বাস করে প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া। একটা এনিমে ক্যারেক্টার এভাবেই আমাদের নিতান্ত তুচ্ছ অবমানবতা আর মানবতার সন্ধিস্থলে নিয়ে আসতে পারে অতিমানবীয় দৃঢ়তা, আর হয়ত সত্যিই বদলে দিতে পারে অনেকগুলো জীবন। আমার কাছে তাই নারুতো এনিমেটা শুধু একটা ফিকশন নয়, আর নারুতো একটা কাল্পনিক নিনজা নয়, আমার প্রতিদিনের জীবনে একটা বিশাল অনুপ্রেরণা আর আইডল। সামুরাই এক্স, ডিবিজেড আর পোকেমন দিয়ে শুরু করলেও আমার এনিমে জগতের প্রথম প্রেম নারুতো, এরপর দেখেছি আরো অনেক ভালো কিছু এনিমেও, কিন্তু প্রথম ভালবাসায় আজো কেউ ভাগ বসাতে পারে নি।

যদি ফাইটিং আর কাহিনীর ব্যাপকতা ও সৌন্দর্য্যের কথা বলা হয় তাহলে সবসময় আসবে বিগ থ্রির সবচেয়ে বেশি সমালোচিত এই এনিমেটি, সমালোচনাগুলো যথেষ্ট যোক্তিক, বর্তমান নারুতো শিপ্পুডেনের নাম এখন অনেকে বলে থাকেন ফিলার শিপ্পুডেন কিংবা উচিহা শিপ্পুডেন। মূল কারণ, একের পর এক বিশাল বিশাল সব ফিলার আর কাহিনী নিয়ে অদ্ভুতভাবে ক্রমাগত মোচরানো। মূল চরিত্র নারুতোর চাইতে যেন উচিহারাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে একটা সময় পর, আর একদম বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে সেটাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই। তবে একদিকে যেমন সাসকে, মাদারা, ওবিতো কিংবা ইটাচির মত উচিহারা আছে, তেমনি ছিল/আছে কাকাশি, জিরাইয়া, গারা, হাশিরামা, বি, সুনাদে, শিকামারু বা অন্যান্যরা।, এই যে এত্তগুলো চরিত্র একসাথে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারাটাই, সম্ভবত এখানেই নারুতোর মূল সার্থকতা।

নারুতো ২০১৪ তে শেষ হতে যাচ্ছে। কিশি ফুরিয়ে গেছেন, তিনি এখন গাজা খেয়ে লিখেন, তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের ক্যারেক্টার স্টুপিড সাসকে, তার কাছে ভালো আর কি আশা করা যায়? তবে তারপর আমি এটাও ভাবি যে লোকটা এত্ত অসাধারণ সব প্লট সৃষ্টি করেছে, ইটাচি, জিরাইয়া, শিকামারু, মাদারা, কাকাশিদের মত অস্থির সব ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছেন, লি-গারা, নারুতো-নেজি, নারুতো-গারা, পেইন-নারুতো, ইটাচি-সাসকে সহ অসংখ্য অস্থির লেভেলের ফাইটিং সিন দেখেয়িছেন তার কাছ থেকে একটা ভয়ংকর সুন্দর আর অদ্ভুত সমাপ্তি আশা করাটা কি খুব বেশি আশা করা??

যাই হোক, আমি খুব খুশি এবং কৃতজ্ঞ যে এরকম একটা জিনিস আমি আমার জীবনে দেখে যেতে পেরেছি।

ব্যাটল রয়াল মাঙ্গা প্লাস মুভি রিভিউ – Torsha Fariha

মাঙ্গা- ব্যাটল রয়াল
ভলিউম- ১৫ (প্রতি ভলিউমে ৮ টা করে চ্যাপ্টার)
জানরা- Dystopian, thriller, horror Alternative history.
মুভি- ১১৩ মিনিট (অরিজিনাল রিলিজ)
ডিরেক্টর- কিনজি ফুকাসাকু।

১৯৯৬ সালে কউশুন তাকামি একটি নভেল লেখেন ‘ব্যাটল রয়াল’ নামে। যদিও সেটা ১৯৯৯ সালের আগে পাবলিশ করা যায় নি। যার পেছনে একটা কারণ ছিল এর কন্টেন্ট। এমনকি এই নভেলটা ১৯৯৭ সালে এক হরর বই কন্টেন্টের ফাইনাল রাউন্ড থেকে রিজেক্ট করা হয়। কারণ যেই একই- বই এর কন্টেন্ট। 

সবার আগ্রহ হতেই পারে কি সেই বিষয়বস্তু যা এত কন্ট্রোভার্সির জন্ম দিয়েছে সেই সময়।

সে এক কাল্পনিক সময়ের কথা। জাপান তখন রিপাবলিক অফ গ্রেটার ইস্ট এশিয়ার মেম্বার। Shiroiwa junior high school এর এক সেকশন ভর্তি ছেলে মেয়েকে স্টাডি ট্যুরের নাম করে স্কুল অথরিটি নিয়ে যায় একটা জনমানুষ শূন্য দ্বীপে। 

সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারে একটা মিলিটারি রিসার্চ প্রজেক্টে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। রিসার্চের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া- যাতে তারা কোন ধরণের অর্গানাইজড বিদ্রোহের কথা মাথায় না আনতে পারে। প্রত্যেক বছর খুব গোপনীয়তার সাথে কোন স্কুলের কোন সেকশান এই প্রোগ্রামে অংশ নিবে সেটা ঠিক করা হয়। 

তো এই প্রজেক্টে (গেইম বলা বেশি যুক্তিযুক্ত) তাদেরকে এই দ্বীপের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। প্রত্যেকের মূল লক্ষ্য থাকবে সারভাইভাল। সেটা প্রতিকূল পরিবেশের জন্য না বরং তাদের এতদিনের ক্লাসমেটদের জন্য। কারণ তাদের প্রত্যেকের টাস্ক হচ্ছে – একে অপরকে খুন করা। ততক্ষণ পর্যন্ত- যতক্ষণ না শুধু একজন বেঁচে থাকে। 

এটা এমন একটা গেইম যেখান থেকে কোন এস্কেপ নেই- এমনকি কেউ যদি চায়ও সে আর তার ফ্রেন্ড শুধু বেঁচে থাকবে – সেটাও সম্ভব না। একটা ট্র্যাকিং ডিভাইস সবসময় তাদের গলায় মেটাল কলার হিসেবে লাগানো থাকে। আমাদের নায়ক Shuya nanahara আর নায়িকা noriko nakagawa. পুরো কাহিনীতে আমরা দেখতে পাব কিভাবে তারা এই জটিল পরিস্থিতির ভেতর নিজেদের রক্ষার করছে। সেই সাথে আছে ক্লাসের অন্যান্যদের কাহিনীও।

সংক্ষেপে এটাই ব্যাটল রয়ালের কাহিনী। কাহিনী পড়ে কি সাম্প্রতিক কালের হাঙ্গার গেইমসের কথা মনে পড়ছে? খুব স্বাভাবিক। উইকি পড়লে সহজেই জানতে পারবেন মুভিটা রিলিজ হওয়ার পর একটা জোর সমালোচনা উঠেছিল আইডিয়া নকলের অভিযোগে। যদিও লেখিকা বলেছেন সমালোচনার আগে তিনি ‘ব্যাটল রয়াল’ এর নামই জানতেন না।  

অবশ্য এটা নতুন না। ক্রিটিকরা এরকম আরো কিছু মুভির ভেতর ব্যাটল রয়ালের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষ্য করেন। যেমন- কিল থিওরি, দ্য টুর্নামেন্ট, গান্টজ আর একটা ভিডিও গেইম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড এন্ডস উইথ ইউ’। আসলে তাকামির বইয়ের আইডিয়া এত বেশি মৌলিক যে সেটা ক্রিটিকরা লক্ষ্য না করে পারেননি। (ব্যাটল রয়ালের সাথে কিঞ্চিৎ একটা সিমিলারটি আছে স্টিফেন কিং এর ‘লং রান’ এর। স্টিফেন কিং সেটা নিজে বলেন। অবশ্য মিলটা খুবই অল্প। বই এর কাহিনী পড়ে আমার তাই মনে হয়েছে। কিং নিজেও পরে বলেছেন এটা তেমন কোন ম্যাটার না।) 
এবার আসি জনপ্রিয়তার কথায়। এটা সেসময়ের একটা বেস্ট সেলার বই ছিল – তার এমন বিষয়বস্তু থাকার কারণেও। উইকিতে সেসব বিশদ আছে। সেই নভেল ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, ইটালিয়ান,হাঙ্গেরিয়ান, রাশিয়ান- এরকম বহু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।

মাঙ্গা এডাপ্টেশনের কথায় আসি। এই নভেলের মাঙ্গা নভেলের লেখক নিজেই লিখেছেন। তিনি তার এ সম্পর্কে বলেছেন – নভেলের চেয়ে আরো বেশি বিস্তৃত মাঙ্গাটা। প্রত্যেকটি চরিত্রের উপর প্রায় সমান নজর দেয়া হয়েছে- তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে সারভাইভাল- সব। 
এটা সত্যি যে আমি মাঙ্গা পড়ি নাই। উইকি ঘেঁটে কথাগুলা বললাম।

এবার মুভির কথা। মুভি নিয়ে কথা বলার আগে আমি একটা জিনিস উল্লেখ করতে চাই। সেটা হল মুভিটা ঠিক নভেলের মতই সুন্দর। অনেক সময় মুভিতে যেটা হয় অনেক কাহিনী বাদ পড়ে যায় যেটা অনেকেই পছন্দ করেননা। এখানেও একই জিনিস হয়েছে তবে পার্থক্য আছে। মেকিংটা এত সুন্দর আর বাস্তবসম্মত যে কোন খুঁত ধরার অবকাশই থাকে না। (মুভির IMDb রেটিং ৭.৮)
মুভিটা আমি দেখেছি এবং এটা আমার খুব পছন্দের। আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই এই মুভিটা বিখ্যাত ডিরেক্টর টারান্টিনোর খুব পছন্দের। তিনি এই মুভিটা সতেরো বার দেখেছেন এবং উল্লেখ করেছেন এই মুভির মেকিং এবং কাহিনী তাঁকে খুব ইন্সপায়ার করেছে।

তাই বলছি কেউ যদি মাঙ্গা নাও পড়েন অ্যাটলিস্ট মুভিটা দেইখেন। যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। 
কেন দেখবেন/পড়বেন- কারণটা হল কাহিনীটা খুবই মৌলিক। অনেকটা সেই মধ্যযুগের গ্রিক গ্ল্যাডিয়েটরদের গেইমের মত। পার্থক্য আছে অবশ্য। ওরা ছিল গ্ল্যাডিয়েটর যারা নিজেদের পেশাই করে নিয়েছিল সেটা। আর এদিকে কিছু টিনএজ ছেলেপিলে যারা একটু আগ পর্যন্তও বন্ধু ছিল একে অপরের। এবং এই কারণেই কাহিনীটা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর, কৌতূহল উদ্দীপক। একদিকে নিষ্ঠুরতা অপরদিকে ফ্রেন্ডশিপ, প্রেম – সবার উপরে এক অমোঘ নিয়তি- সব মিলিয়ে যেমন অস্বস্তিকর তেমনই খুব মানবিক এক কাহিনী। নিজেকে ওদের জায়গায় কল্পনা করে আপনার গা শিউরে উঠবে একই সাথে কৌতূহলও জাগবে ‘শেষে কি হল?’

কেন দেখবেন/পড়বেন না- সত্যি বলতে একটা সেইরকম হরর মুভিও আপনার মনে এতটা ছাপ ফেলবে না- যতটা ফেলবে ‘ব্যাটল রয়াল’। মুভিতে প্রচুর ভায়োলেন্স সীন আছে যেগুলো দেখলে সত্যি গা গুলায় আসে। manga is far more sexually graphic than the novel and film versions, but like them, is noted for its intense, gory violence. তাই যারা এসব সহ্য করতে পারেননা তাদের না দেখাই বা পড়াই ভালো।

ব্যাটল রয়াল নিয়ে আমার অনুভূতির কথা বলি। আমি এক সকালে মুভিটা দেখে মিশ্র একটা অনুভূতি হয়েছিল। একই সাথে রাগ, ঘৃণা, ভয় – এই তিনটা এক সাথে কাজ করেছিল আমার উপর। এবং শেষ হওয়ার পর সত্যি মনে হচ্ছিল আমি যেন এই মাত্র সেই দ্বীপ থেকে আমার বাসায় এসে পড়লাম। একটা মুভি কতটা গভীরেই না মানুষকে নিয়ে যেতে পারে! 

হুট করে আমাদের মত কাউকে যখন এরকম জীবন- মৃত্যুর একটা খেলায় নামিয়ে দেয়া হবে তখন আমাদের মধ্যে কিছু স্বাভাবিক রিফ্লেক্স কাজ করবে। এই রিফ্লেক্স পারসোনালিটি অনুযায়ী ভ্যারি করে। কেউ শুরু থেকেই পাগলের মত কাউকে মারা শুরু করবে, কেউ গা ঢাকা দেবে, কেউ অপেক্ষা করবে বাকিরা কখন শেষ হবে , কেউ এই চাপ সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করবে, কেউ কেউ যৌথ বাহিনীর গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে অবিশ্বাস আর প্যানিকের মধ্যে একজন আরেকজনকে খুন করবে আর কেউ হয়তো নিজের চরিত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা খুনিটাকে এক ঝটকায়বের করবে, আর কেউ হয়তো বিদ্রোহী হয়ে পালানোর চিন্তা করবে। হ্যা এরকমই হবে আমাদের ক্ষেত্রে। কারণ আমরা ট্রেইনড না, কারণ আমরা প্রস্তুত না। 

অনেকটা এরকম সাইকোলোজি নিয়েই একটা স্টাডি আছে বইটায়, মুভিটায়। না দেখলে বা পড়লে সত্যি একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস মিস করবেন। 

(ব্যাটল রয়ালের একটা সেকেন্ড সিজন এবং মুভি আছে। কিন্তু সেটা তাকামির লেখা না বলে রিভিউ দিলাম না। )

 

এফ এ সি ১৪ – Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

হাচিকো

 

 

হিদেসাবুরো উয়েনো ছিলেন টোকিও ভার্সিটির এগ্রিকালচারাল ডিপার্টমেন্টএর প্রফেসর। প্রতিদিন উনি যখন বাড়ির পথে রওনা হয়ে শিবুইয়া স্টেশনে নামতেন, তখন তার প্রিয় কুকুর হাচিকো তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকত। কিন্তু ১৯২৫ সালের মে মাসে প্রফেসর উয়েনো আর বাড়ি ফিরতে পারলেন না, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। কিন্তু তাঁর প্রিয় কুকুর এর পরের নয় বছরের প্রতি দিন ঠিক ট্রেন আসার মুহুর্তে স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করত। বিশ্বস্ততার এই পরম নিদর্শন দেখানোর জন্য হাচিকো পরিনত হলো জাপানের অন্যতম জাতীয় প্রতীকে। তাকে নিয়ে বাঁধা হলো গান, আঁকা হলো ছবি, সে স্থান পেল পাঠ্যপুস্তকে। হাচিকো পরবর্তীতে ক্যান্সার আর ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

 

হাচিকো শিবুইয়া স্টেশনের যে জায়গাতে দাঁড়াত, সেই জায়গাটা স্থায়ীভাবে চিন্হিত করা আছে, এখনো কেউ চাইলে দেখে আসতে পারেন।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

আরাকাওয়া আন্ডার দ্য ব্রিজ(Arakawa Under The Bridge) 

 

 

ইচিনোমিয়া পরিবারের নীতি হলো ”কখনোই ঋণগ্রস্ত থাকবে না”। কিন্তু এই পরিবারের বর্তমান উত্তরাধিকারী ইচিনোমিয়া কো-কে যখন নিনো নামের এক মেয়ে আরাকাওয়া নদীতে হাবুডুবু খাওয়া থেকে বাঁচালো, তখন কো ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে ফেঁসে গেল। নিনো তার কাছ থেকে একটাই জিনিস চায়, আর তা হচ্ছে ভালবাসা কি, সেটা বোঝা। কাজেই কো আরাকাওয়া নদীর ব্রিজের নিচে নিনোর সাথে থাকতে শুরু করলো। কিন্তু এই জীবনযাপনে তার সঙ্গী শুধু ”ভেনাস গ্রহের অধিবাসী” নিনোই নয়, তার প্রতিবেশী হিসেবে আছে সবসময় মুখোশ পরে থাকা হোশি, কাকাতুয়া বিলি,  লাস্ট সামুরাই, ”সিস্টার”, আর এই সমাজের মোড়ল হিসেবে আছে রহস্যময় এক ”কাপ্পা”। কো এর জীবন কিভাবে বদলে যাচ্ছে? আর সে-ই বা কিভাবে বদলে দিচ্ছে আরাকাওয়ার অধিবাসীদের জীবন?

 

কেন দেখবেনঃ চমত্কার স্লাইস অব লাইফ আনিমে, সেই সাথে এটা সেরা হিউমারাস আনিমেগুলোর একটা। তেমন দুর্দান্ত কোনো প্লট নেই, কিন্তু  রীতিমত অদ্ভুত সেটিং, আর পিকুলিয়ার ক্যারেক্টারাইজেশন চেখে দেখার জন্য হলেও এই আনিমেটা দেখতে হবে।

 

কেন দেখবেন না: যদিও এটা খুব ভালো কমেডি আনিমে, কিন্তু সেই গ্যাগ এলিমেন্টগুলোতে ভাড়ামি  নেই, কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা নেই, কাজেই স্রেফ প্রানখুলে হাসার মত আনিমে, এটা ভেবে দেখতে বসবেন না। ক্যারেক্টারগুলোর সাথে একাত্ত হয়ে গেলেই এখানের মজাগুলো পুরোপুরি বোঝা যাবে।

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০+৭.৯৪

আমার রেটিং ৯+৯

 

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

লায়ার গেম(Liar Game)

 

কানজাকি নাও প্রচন্ড রকম সৎ একটা মেয়ে। এতই সৎ যে তাকে বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের যে অবস্থা তাতে প্রশংসা না করে বোকাই বলা যায়। তো এমন সৎ ভালোমানুষ এক মেয়েকে যদি লায়ার গেইম নামের এমন একটা খেলায় অংশ নিতে হয়, যে খেলার মূল কথায় হচ্ছে অন্য প্রতিযোগীদের ধোঁকা দেয়া, তাহলে কেমন হবে? যা হবার, তাই হলো।  নাও প্রথম রাউন্ডেই তার প্রাথমিক পুঁজি একশ মিলিয়ন ইয়েন হারালো। পেনাল্টি হিসেবে দুইশ মিলিয়ন ইয়েনের খাঁড়া যখন ঝুলছে তার উপর, সেই অবস্থায় অসহায় নাও খোঁজ পেল এক জিনিয়াস প্রতারকের, নাম তার আকিয়ামা শিনিচি। এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ যখন জুটি বাঁধলো, তার পরিনতি কি হবে? তারা কি পারবে লোভ আর প্রতারণা যার পরতে পরতে মেশানো, সেই লায়ার গেমের ভয়াবহ জগতকে জয় করতে?

 

কেন পড়বেনঃঅসাধারণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, যারা ওয়ান আউটস বা আকাগি এর মত ওয়ান ম্যান শো গুলো উপভোগ করেছেন, তাদের জন্য মাস্ট রিড।

 

কেন পড়বেন নাঃতেমন কোনো কারণ নেই।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৪

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।

Monster – The Anime, review by Monirul Islam Munna

ঠিক বুঝতে পারতেছি না আসলে, এনিমেটা নিয়ে কী লিখব আর কীভাবে পারফেক্ট শব্দ দিয়ে এনিমেটাকে অন্যের সামনে তুলে ধরবো!!! একটা এনিমে এইভাবে যে মনোযোগ টেনে ধরে রাখবে,এতো সুন্দর গুছানো, আগে কল্পনাই করতে পারি নাই। মনে হচ্ছিল যে এক একটা এপিসোড দেখছি আর পেঁয়াজের আস্তরণ একটা একটা তুলে ভীতর থেকে আরও ভীতরে প্রবেশ করছি। প্রতিটা আস্তরণ যেন আরও বেশী বোধগম্য করে তুলে এনিমেটাকে সাথে নতুন কিছু উপহার দেয়!!!

এনিমেটা একজন খুবই মেধাবী ব্রেন সার্জন ‘কেনযো টেনমা’কে নিয়ে। সার্জন হিসেবে অসম্ভব মেধা আর যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে চারদিকে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। যে হাঁসপাতালে চাকরি করতেন সেখানে নিজের মেধা পরিচয়ে চিফ সার্জন হয়ে গেলেও, পলিটিক্সের কাছে কিছুটা হার মেনে নিতে হত তাকে। কখনও কখনও দায়িত্বের চেয়ে ডাইরেক্টরের সুনাম যেন অক্ষুণ্ণ থাকে সে দিকে মননিবেশ করতে হত। সাধারণ মুমূর্ষু রুগীর চিকিৎসা না করে, নামী কোন ব্যক্তির চিকিৎসা করতে বাধ্য হতেন টেনমা। কিন্তু একদিন নিজের ভুল বুজতে পারলেন তিনি,বুজতে পারলেন যে কারণে ডক্টর হয়েছেন সে পথেই নেই তিনি!!! তাই একদিন ডক্টর হিসেবে আগে দায়িত্বকেই বেঁছে নিলেন এবং ডাইরেক্টর আদেশ অমান্য করেই, ছোট একটি ছেলের জীবন বাঁচাতে অপারেশন থিয়েটারে চলে গেলেন। কিন্তু এই একটা সিধান্ত যে তার জীবন ঘুরিয়ে দিবে, তছনছ করে নিবে তার চার পাশ হয়তো ভাবতেই পারেননি টেনমা। সৎ উদ্দেশ্যে কাউকে বাঁচাতে গিয়েই এক অভিশাপ যে নেমে আসবে, কেই বা ভাবতে পেরেছিল!!!!

এনিমের কাহিনীর বিলডআপটা আসলেই অসাধারণ!! আগে যেমন বললাম, মনে হচ্ছিলো কিছু জিনিস একই সাথে যেন পরিষ্কার হচ্ছে সাথে সাথে আবার নতুন জিনিশ যেন মাথা আউলায় দিচ্ছে!! খুবই গছানো এনিমেটা। শেষটা মনে হয় ইচ্ছা করেই এমন একটা মিস্ত্রি রেখে দিছে, এনিমেটা দেখে যে যেমন অনুভূতি পেয়েছে সে সেভাবে গুছায় নিবে!!! 

সাথে শিশু নির্যাতন, গণহত্যা, ব্রেন ওয়াশ, human experimentation কীভাবে যে একটা মানুষের মানুষিক বিকাশে পরিবর্তন আনতে, মানুষকে manipulate করে কত কিছু করা সম্ভব!!! সেটা বেশ রিয়ালিস্তিকভাবে দেখানো হইসে।

কাহিনীর সাথে চরিত্রগুলার অবদান ছিল দেখার মত। প্রতিটা চরিত্র এনিমেটার কাহিনীতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এমন একবারও মনে হয়নি যে কাহিনী লম্বা করতে অযথা কিছু চরিত্র প্রবেশ করছে। সাথে সবারই মোটামুটি বিস্তর অতিত ইতিহাস খুব সুন্দর করে দেখানো হইসে। আর কীভাবে এই ছোট ছোট কাহিনীগুলো এক সাথে মিলে একটা মাস্টার পিস হবে, আসলে না দেখে বোঝা সম্ভব না!!!

আসলেই জোশ সাইকোলজিক্যাল, মিস্ত্রী, থ্রিলার একটা এনিমে!!!
MAL rating 8.73
my rating 9.0 

Afro Samurai review – Monirul Islam Munna

এক বসায় অস্থির একশনের/সামুরাই একশন একটা ছোট এনিমে সিরিজ শেষ করতে চাইলে Afro Samurai উপর কিছু থাকবে না!!

চোখের সামনে এক sword fight এ অপারাজেয় এক ভিলেনের কাছে বাবার(যিনি ছিলেন পৃথিবীর এক নো. সামুরাই) মৃত্যু এক বিষাক্ত কাঁটার মত বুকে বিঁধে যায় ছোট্ট এফ্রর। শুধু একটা লক্ষ্য নিয়েই তার বেড়ে উঠা, বাবার মত পারদর্শী সামুরাই হয়ে সেই অপারাজেয় ভিলেনকে পরাজিত করতেই হবে। কিন্তু পারবে সেই অপারাজেয় ভিলেনকে পরাজিত করতে ছোট্ট এফ্র?
ছোট্ট থেকে বড় হয়ে সেই ভিলেনকে ফেইস করার সময়টা নিয়ে এই এনিমে সিরিজটা। এইটুকু শুনে মনে হতে পারে এমন কি আছে এই এনিমেতে!!
প্রথমে নাম দিয়েই শুরু করি  সামুরাই শুনলেই প্রথমে আমাদের মাথায় আসে জাপানিজদের, কিন্তু ‘এফ্র সামুরাই’ আসলেই একজন ‘মাথায় কোঁকড়ানো চুলের একজন এফ্র’ । লেইম পয়েন্ট, কিন্তু একটা পয়েন্ট তো 
এই এনিমের একশন যেমন অস্থির,সেই সাথে animationও !!! যারা একশনধর্মী এনিমে পছন্দ করেন, চোখ বন্ধ করে এই এনিমে ভালো লাগবে। আর শুধু একশন থাকলে চলে নাকি? সাথে একটু সেইরকম OST না থাকলে তো একটু অপূর্ণ রয়ে যায়!! চিন্তা নাই, OSTও হতাশ করবে না আপনাকে, একশনের সাথে আছে অস্থির র‍্যপ মিউজিক!!! 
এখানেই শেষ নয়! আরও আছে, ব্যাডআস চরিত্র আর অস্থির ডায়ালগ!!! যারা একটু র‍্যপধর্মী জিনিস পছন্দ করেন, খুব বেশীই মজা পাবেন এই এনিমে দেখার সময় 
তবে কিছুটা এচিনেস আর নিউডিটি আছে  তবে খুবই অল্প পরিমান আহামরি স্টোরি হয়তো পাবেন না, আসলে মাত্র ৫ এপিসোডের ছোট্ট সিরিজ। তবে এক সেকেন্ডও বিফলে যাবে না!! শুধু মনে হবে এতো জলদি শেষ হয়ে গেল!!!!
আমার রেটিং ৮.০
এম এ এল রেটিং ৭.৪১

অ্যানিমে রিভিউ: মৌরিঔ নো হাকো(Mouryou no Hako)/Box of Goblins – Fahim Bin Selim

পর্বঃ ১৩+১ ওভিএ
প্রচারকালঃ ২০০৮
জনড়াঃ সেইনেন, রহস্য, রোমাঞ্চ, অতিপ্রাকৃত
প্রোজযকঃ ম্যাডহাউস
এমএএল রেটিংঃ ৭.৪৭(#১৪৮০)

কানাকো ইউজুকি, হাইস্কুল কিশোরী, ট্রেনের সামনে ঝাপ দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করল। বাক্সাকৃতির এক রহস্যময় হাসপাতালে ড. মিমাসাকা কৌশিরোর চিকিৎসায় কোনমতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল সে। 
ইয়োরিকো কুশুমোতো, কানাকোর বান্ধবী, এই ঘটনার একমাত্র সাক্ষী। তার মা জড়িয়ে আছে এক রহস্যময় ধর্মীয় দলের সাথে।
একে একে জাপানের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট বাক্সে পাওয়া যেতে শুরু করল কিশোরী মেয়েদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ…হাত-পা!
এদিকে আবার হাসপাতালের ঘরভর্তি মানুষের সামনে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল কানাকোর দেহ!
এই সবকিছুর যোগ সুত্র কোথায়, আদৌ কি আছে? জট পাকাতে শুরু করল কাহিনী…
আর এই মাথা ঘুড়ানো রহস্য সমাধানে একজোট হল এক এন্টিক-বইসংগ্রাহক, একজন ঔপন্যাসিক, একজন পুলিশ, একজন সাংবাদিক আর একজন গোয়েন্দা।

//কেন পছন্দ হবে –
মৌরিঔ নো হাকোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র কী? অবশ্যই এর কাহিনী। আমি নিজে “অ্যামেচার” ডিটেক্টিভ ফিকশনের বড়সড় ভক্ত। কিন্তু জটিলতম রহস্যগুলোর সমাধান যে যেকোনো রাম-সাম-যদুর দ্বারা সম্ভব না, অনেক বিষয়ে ঞান থাকা প্রয়োজন, তা এই অ্যানিমে বেশ ভালো ভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নাতসুহিকো কিয়োগোকুর ১৯৯৫ সালের উপন্যাস অবলম্বনে কাহিনী। আর তাই এর গভীরতা আর ধারাবাহিকতা দুটোই বলার মত।
তারপর আসছে পেসিং এর ব্যাপার। স্লো, কিন্তু কখনোই বোরিং না। প্রথম পাঁচ পর্বে বেশ ভালোভাবে পকেটে রাখা ইয়ারফোনের তারের মত কাহিনী প্যাঁচ লাগানো। তারপর খুবই ধীরে কিন্তু সাটলী একে একে তা খোলা।

মৌরিঔ নো হাকো হল সংলাপ নির্ভর অ্যানিমে। বিশেষ করে, কাহিনীর মাঝখানে দূটো পর্ব আছে, দুটো সম্পূর্ণ পর্ব, যেখানে শুধু তিনজন মানুষ একটা ঘরের মধ্যে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলে! এবং এর সংলাপ, প্রতিটি লাইন, আপনার চোখ নিচের সাবটাইটলের দিকে আটকে রাখার মত।

প্রতিটি চরিত্র মাত্র ১৩ পর্বে যে ভাবে ডেভেলপড হয়েছে তা খুব কম অ্যানিমেই দেখাতে পেরেছে। আর প্রতিটি চরিত্রই কাহিনীর সাথে কোন না কোনভাবে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। অ্যানিমের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। রহস্য অ্যানিমের ইনটেন্স পরিস্থিতি বজায় রাখায় যা ভালো অবদান রেখেছে।

মৌরিঔ নো হাকোর আরেকটি বলার মত দিক হল এর ভিসুয়ালাইজেশন, ডিটেইলিং। প্রতিটি চরিত্রের ফেস এক্সপ্রেশন বাস্তবধর্মী করার জন্য, অ্যানিমের আর্টওয়ার্ক, কিছু কিছু থ্রিডি দৃশ্যায়ন আর ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র জিনিসের ডিটেইলিং-এ যে বেশ ভালো সময় দেওয়া হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

//কেন নাও পছন্দ হতে পারে – 
সংলাপ। অতি সংলাপ নির্ভরতা। যেটা আগেই বললাম, কাহিনীর মাঝখানে দূটো পর্ব আছে, দুটো সম্পূর্ণ পর্ব, যেখানে শুধু তিনজন মানুষ নিজেদের মধ্যে কথা বলে – এইটা অধিকাংশ মানুষেরই ভালো না লাগার কথা।
পেসিং। অল গান ব্লেজিং, স্টেরোয়েড দেওয়া শৌনেন অ্যানিমের একনিষ্ট ভক্ত হলে পছন্দ নাই হওয়ার কথা। এইটা এলএসডির মত, ধীর এবং স্বর্গীয়!

রেফারেন্স। সিম্বোলিজম। জাপানিজ ও চাইনিজ স্পিরিচুয়ালিটি আর বই সম্পর্কে বেশ বড়সড় কিছু লেকচার আছে। অধিকাংশ জিনিস প্রথমবার না বোঝাটাই স্বাভাবিক। তাই খুবই মনোযোগের দরকার হয় সংলাপ শোনার(পড়ার) সময়। আমার মাঝে মাঝে এক জিনিস দুইবার-তিনবার করে দেখতে হয়েছে। বেশ ভালোভাবেই মাথা খাটাতে হয়।
১৯৫৪ সালের কাহিনী, তাই মেইনস্ট্রিম মোয়ী জাপানিজ কালচারের কিছু পাবেন না।

গোর আর রক্তারক্তি সেভাবে দেখানো না হলেও, কাটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গর দৃশ্যগুলো সবার জন্য না। সাথে শেষের দিকে কাহিনীর কিছু ট্যাবু জিনিস পত্র দেখানো হয়েছে।

//আমার রেটিংঃ ৮.৮
কাহিনী-৯
মিউজিক-৮
আর্ট/প্রোডাকশন/অ্যানিমেশন-৯
এন্ডিং-৮
ইন্ট্রিগ-১০

//শেষ কথাঃ আমার মতে অন্যতম আন্ডাররেটেড অ্যানিমে । এর রেটিং থেকে বেশ ভালোভাবেই একটা জিনিস বোঝা যায় যে, অ্যানিমের দর্শকদের অধিকাংশই টিনেজার।
মৌরিঔ নো হাকো শুধু কিভাবে, কেন আর কে-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। ক্রিমিনাল সাইকোলজির সাথে জাপান-চাইনিজ স্পিরিচুয়ালিটি আর সবশেষে সাই-ফাই এর কিছুটা স্বাদ! রহস্য, খাঁটি রহস্য গল্পপ্রেমী হলে এ অ্যানিমে অবশ্যই দেখা প্রয়োজন। আর সাথে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের মাস্টার ম্যাডহাউসের কথাও মাথায় রাখতে পারেন।
একবার কাহিনীর মধ্যে ঢুকে গেলে আর শেষ না দেখে উঠতে পারবেন না, তাই দেখার আগে অবশ্যই সময় নিয়ে বসবেন!

*ওভিএ টাও বেশ ভালো। কাহিনীর অনেক কিছু ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

fahim_review

মাঙ্গা-আনিমে মিক্সড রিভিউ: বাকুমান (Bakuman) – ফরহাদ মহসিন

বাকুমান মাঙ্গা পড়া এবং আনিমে দেখা, দুই ধরণের অভিজ্ঞতা হওয়ার পরেই রিভিউ লিখছি। কিছুটা পার্শিয়াল হতে পারি, আমার প্রথম পড়া স্লাইস অফ লাইফ। এবং সম্ভবত প্রথম আনিমে, যেটার মাঙ্গা পড়া থাকার পরেও অনেক আগ্রহ নিয়ে আমি আনিমেটা দেখেছি। এবং সত্যি বলতে এরকম মাঙ্গা আর হওয়া সম্ভব বলেই আমার মনে হয় না। পড়া শুরু করেছিলাম শুধুমাত্র এই কারণে যে বাকুমানের লেখক-আর্টিস্ট হচ্ছেন ডেথ নোটের লেখক-আর্টিস্ট সুগুমি ওহবা, তাকেশি ওবাতা। ডেথ নোটের কারণেই হয়তো অন্য কিছু আশা করে গেছিলাম। গিয়ে পেয়েছি পুরোপুরি অন্যরকম এক জিনিস। যাই হোক শুরু করি।

মরিতাকা মাশিরো আপাতদৃষ্টিতে একজন সাধারণ জাপানিজ মিডল স্কুল ছাত্র। সে একসময় খুব ভালো ছবি আঁকাতো, হতে চাইতো তার চাচা, মরিতাকা নবুহিরোর (যে কিনা কাওয়াগুচি তারো ছদ্মনামে মাঙ্গা লেখে) মত। কিন্তু চাচার মৃত্যুর পর বড্ড বেশি উদাসীন হয়ে পড়ে সে। তার বাবা-মা ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাইলে কিছু বলতে পারে না, নিজের মত করে কোন স্বপ্ন দেখতে পারে না, পারে না আজুকি মিহো, যাকে অনেকদিন ধরে পছন্দ করে সে, তার সাথে গিয়ে কথা বলতে।

এই অবস্থায় হঠাৎ করেই তাকে অ্যাপ্রোচ করে ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র তাকাগি আকিতো। জানায় তার স্বপ্নের কথা, সে হতে চায় জাপানের সবচেয়ে বড় মাঙ্গাকা। সে চায় মাশিরো তার লেখা গল্পের সাথে ছবি আঁকাক। মাশিরোকে কনভিন্স করানর জন্য সে তাকে নিয়ে যায় আজকি মিহো’র বাসায়। সেখানের কথোপকথন থেকেই মাশিরো আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করে, যে স্বপ্ন জড়িয়ে যায় আজুকি আর তাকাগির সাথে। বাকুমানের বাকি কাহিনী তাদের স্বপ্নপূরণের কাহিনী।

bakuman-349320

সামারি দেওয়া শেষ, এবার রিভিউ:

বাকুমানের ক্যারেক্টারাইজেশন বেশ ইন্টারেস্টিং। প্রধান দুই প্রোটাগোনিস্টের চরিত্র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুবই ভালোভাবে ডেভেলপড হয়েছে। তাকাগি’র লেখার স্টাইল, মাশিরোর আঁকার স্কিল, মোটকথা তাদের মাঙ্গার ধরণ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের সাথে সাথেই যেন তারা নিজেদের জীবন নিয়েও এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকে।

এর প্যারালালি চলতে থাকে মাশিরো আর আজুকির প্রেমকাহিনী। এটা সম্বন্ধে আমি এতটুকুই বলব, বাকুমান পড়া/দেখার সময় একটা সময় গিয়ে এরকম একটা সম্পর্ক থাকার কথা আপনি নিজে চিন্তা করবেন না তা সম্ভবই না।

এবং তার সাথে আরেকটা যে সম্পর্কের কথা না বললেই না তা হল মাশিরো-তাকাগির সাথে, তাদের রাইভাল, নিজুমা এইজির সম্পর্কে। নিজুমা এইজি সম্ভবত বাকুমানের সবচেয়ে ‘রঙচঙে’ ক্যারেক্টার। পুরো সিরিজ জুড়েই যখনই প্যানেলে এইজি থাকে, মনোযোগ তার দিকে যেতে বাধ্য। ওয়ান পিস ফ্যানদের উদ্দেশ্যে বলছি, এইজির চরিত্র অনেকটাই ওয়ান পিসের মাঙ্গাকা এইচিরো ওদার কথা ভেবে লেখা। যাইহোক বাকুমান, সবকিছুর পরেও একটা শৌনেন মাঙ্গা। সুতরাং, এটাতে লড়াই থাকবেই। কিন্তু টিপিক্যাল শৌনেন লড়াই থেকে এখানকার সব লড়াইও অন্যরকম, প্রতিপক্ষরাও সবাই, শুধু এইজি না, অন্যরকম। এবং ‘Rivalry’ শব্দটা এত সুন্দরভাবে ডিফাইনড হতে আর কোন মাঙ্গা/আনিমেতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না।

বাকুমানের সাপোর্টিং কাস্ট খুবই ভালো, শুধুমাত্র মূল চরিত্রগুলো না। সাইড ক্যারেক্টার হিসেবে এসে ফুকুদা শিনতা বা আওকি কো যদি আপনার প্রিয় চরিত্র হয়ে যায়, তাও আসলে কিছু বলার নাই। বাকুমানের ব্যাপারে একটা অভিযোগ আসে যে এর নারী চরিত্রগুলো সেভাবে ডেভেলপড না। প্রথম দিকে কখনো কখনো এটা মনে হলেও পরের দিকে গিয়ে এটা মোটামোটি কাটিয়ে ওঠেন ওহবা সেনসেই।

ক্যারেক্টারাইজেশন নিয়ে অনেক কথা হয়ে গেছে। গল্প নিয়ে একটু বলি। মনে হতে পারে দুজন উঠতি মাঙ্গাকার জীবনে কি এমন ঘটতে পারে যা নিয়ে মাঙ্গাই লিখে ফেলা সম্ভব। বাস্তব-অবাস্তব সব ধরণের সিনারিও মিলিয়ে পুরো গল্পটা আসলেই অনেক অসাধারণ। আর আগে যেরকম বললাম, শৌনেন মাঙ্গার লড়াই সম্বন্ধে আপনার আইডিয়াটাই পরিবর্তিত হয়ে যাবে বাকুমানের পর। তারপর, ডেথ নোটের আর এটার মাঙ্গাকা একই শুনে যারা ভাবছেন, তাহলে নিশ্চয়ই খুব গম্ভীর ধরণের সেটাপ হবে, হাসির এলিমেন্ট থাকবে না, তারাও ভুল করছেন। বাকুমান স্টোরির সেটাপ, ডায়ালোগ, ক্যারেক্টার বিহেভিয়ার সব কিছু মিলিয়েই প্রচণ্ড হাস্যরসাত্মক একটি মাঙ্গা, গ্যাগ মাঙ্গা না হয়েও।

যাই হোক, শেষ কথা হচ্ছে: কখনো যদি আপনি লিখালিখি বা এ ধরণের কিছুর জন্য কলম হাতে নিয়ে থাকেন, ছবি আঁকা যদি আপনার প্যাশন হয়ে থাকে, যদি মারত্মক উচ্চাভিলাষী কোন স্বপ্ন থেকে থাকে আপনার, অথবা আপনি যদি এখনও ভীষণ রোমান্টিক কোন আইডিয়া নিয়ে বসে থাকেন, বাকুমান আপনার ভাল্লাগবেই।

এবং নিশ্চিত ভাবেই প্রকৃত মাঙ্গাকাদের জন্য, মাঙ্গা/আনিমের সাথে জড়িত সবার জন্য একটা অন্যরকমের সম্মান তৈরি হয়ে যাবে।

রেটিং:

মাঙ্গা: MyAnimeList rating: 8.54, আমার রেটিং: 9.5

আনিমে: MyAnimeList: 8.36, আমার রেটিং 8

Bakuman。.full.1225692

Ookami Kodomo no Ame to Yuki review by Mydul Islam Mahi

[ প্রথমেই বিশাল Spoiler Alert দিয়ে রাখি ]

এই এনিমে মুভি নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। এরপরেও বলি – “অসাধারণ মাপের মুভি”! কাহিনীর মূল চরিত্র Hana, যে কলেজে পড়াশুনা করে। আপনজন কেউ নেই। কলেজে পড়ার সময়ই তার পরিচয় হয় এক ছেলের সাথে। তার সাথে সে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে। আর এক সময় Hana সেই ছেলের কাছ থেকেই জানতে পারে, ছেলেটি আসলে Wolf (OOkami). তার মাঝে Human আর Wolf – দুই সত্ত্বাই বিদ্যমান। কিন্তু এটা জানার পরেও Hana ভালোবাসে সেই ছেলেকে। তাদের দুই সন্তান জন্ম নেয়। বড় মেয়ে Yuki, ছোট ছেলে Ame. কিন্তু Ame এর জন্মের পর পরই তাদের বাবা মারা যায়। Hana পড়ে অকূল পাথারে। এই দুই Wolf Children কে কীভাবে বড় করবে? ৪ বছর পর সে চলে যায় অনেক দূরের এক পাহাড়ে, যে জায়গায় বাস করাটা মোটামুটি সংগ্রামের পর্যায়ে পড়ে। সেখানে চলে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য – সবার চোখের আড়ালে, নিঃসঙ্গভাবে কাউকে না জানিয়ে বাচ্চাদের বড় করে তোলা। দুই বাচ্চাকে নিয়ে Hana কে অবতীর্ণ হতে হয় জীবন যুদ্ধে। আর প্রতি পদক্ষেপে সে অভাব অনুভব করতে থাকে তার স্বামীর। এক সময় দুই সন্তানকে Hana স্কুলে ভর্তি করে। Yuki যেমন দুরন্ত, Ame ঠিক তেমন চুপচাপ। কিন্তু ঘটনার প্রবাহে তাদের চরিত্রে চলে আসে বৈপরীত্য। Yuki নিজের মানব-বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আর অন্যদিকে Ame’র রক্তে খেলা শুরু হয় তার অন্য সত্ত্বার! সময় আসে তাদের নিজেদের পথ নিজেদেরই বেছে নেওয়ার।

 

আমার মনে হয় এই এনিমের মধ্যে মা-সন্তানের ভালোবাসা বেশ ভালোভাবেই তুলে ধরা হয়েছে; বিশেষ করে Yuki আর Ame কে নিয়ে Hana’র Struggle করার মুহূর্তগুলো, তাদেরকে নিয়ে ছুটে বেড়ানো, Ame’র পানিতে ডুবে যাওয়া, শেষ দিকে Ame কে জঙ্গলে খুঁজে বেড়ানো – সব দৃশ্যই মনে জায়গা করে নেওয়ার মত। এই মুভিতে আরো একটা জিনিস কিন্তু ভালো লাগার মত – মানুষের সামাজিক জীবনের উপর নির্ভরশীলতা। আবার এখানেই নিঃসঙ্গতার কষ্টটাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির জীবন? নাকি সামাজিক ধরাবাঁধা জীবন? এই চিরন্তন প্রশ্নটাই যেন এই মুভিতে ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন চিন্তার মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। জবাবটা আসলে নিজেকেই খুঁজে পেতে হবে …

এই পোস্টেই মনে হয় কাহিনীর বেশিরভাগটাই বলে দেওয়া হয়ে গেছে। যারা এই এনিমে মুভিটা দেখেন নাই তাদের নিজ দায়িত্বে পুরো মুভিটা অবশ্যই দেখে নিতে বলা হল।  [ বি.দ্রঃ এই পোস্টে উল্লেখিত মতামত একান্তই নিজস্ব। কারো সাথে কাকতালীয়ভাবে মিললে দায়ী নই, আর না মিললেও কেউ দায়ী থাকবে না! ]

Tokyo Godfathers review by Torsha Fariha

অবশেষে দেখলাম Tokyo Godfathers. 

নাম শুইন্যা মনে হইসিলো এটা কোন ফাইটিং বেইজড মুভি। (আমি সম্প্রতি Godfather পড়সি কিনা  )

যাই হোক… নামাইতে দিসিলাম এই কারণেই। পরে দেখলাম এক রত্ন খুঁজতে এসে আরেক রত্ন পাইলাম  

tokyo_godfathers

রাস্তার তিন হোমলেস মানুষ গিন, হানা আর মিয়ুকি। গিন হল ফ্যামিলি ছেড়ে আসা মধ্যবয়সী লোক, হানা হল ট্রান্সউইমেন আর মিয়ুকি বাসা থেকে পালানোর টিনএজ মেয়ে। 
এক ক্রিসমাসের আগে তারা জঞ্জালের ভেতর থেকে আবিষ্কার করে একটা বাচ্চাকে। যার বয়স বড়জোর ১-২ মাস। গিন আর মিয়ুকি সাথে সাথেই পুলিশের কাছে বাচ্চাকে দেয়ার চিন্তা করে। কিন্তু হানার জোড়াজুড়িতেই তাকে নিয়ে তাদের বাসায় আসতে হল। 

আসলে হানা চাচ্ছিলো না বাবা মার নাম পরিচয়হীন একটা মেয়ে ফোস্টার প্যারেন্টসের কাছে বড় হোক। তাই তারা তিনজন মিলে বাচ্চাটার বাবা মা খুঁজতে বের হয়। 

এভাবে যাত্রা শুরু হয় তাদের। মুভিটা শুধু কিন্তু বাচ্চাটাকে ঘিরেই আবর্তিত হয় না বরং এখানে উঠে আসে তিন হোমলেসের প্রত্যেকের নিজস্ব কাহিনী। 

এমন একটা কাহিনী নিয়েই টোকয়ো গডফাদার চলতে থাকে। এখানে হিউমার যেমন আছে তেমনি মন ভারী করে তোলার উপকরণও আছে। শেষের দিকে আছে চমৎকার টুইস্টও।

যেহেতু মুভিটা সাতোশি কোনের ডিরেকশনে তৈরি তাই না দেখার কোন কারণই নেই।  

আমি জানি প্রায় সবাই এই মুভিটা দেখে ফেলেছেন। তবু আশা করছি কেউ হয়তো দেখেননি এখনো কিন্তু এটা পড়ার পর দেখার আগ্রহটা তৈরি হবে।

 

ট্রেলার:

http://www.youtube.com/watch?v=7Q6mcx2qF4Q