Chirin no Suzu (Ringing Bell) [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chirin no Suzu

Chirin no Suzu (Ringing Bell)- ১৯৭৪ সালে স্টুডিও Sanrio থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি কন্ট্রোভার্শাল মুভি। এই মুভি ছোটদের জন্য টার্গেট করা হলেও এর কন্টেন্ট অনেক পাওয়ারফুল যার কারণে অনেক দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কড়া বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এই মুভিতে যা হয়ত ছোট বাচ্চাদের মনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

এর প্রধান চরিত্র হল চিরিন নামের ছোট্ট ও দুষ্টু এক ভেড়ার ছানা, ঘুরে-বেড়ানো ছিল যার অন্যতম শখ। সে তার চঞ্চলতায় আশেপাশের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এ কারণে তার মা’র তাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। একদিন কিছু সময়ের জন্য চিরিনকে খুঁজে না পাওয়ায় তার মা’র উৎকন্ঠা আমাদেরকে মা ও সন্তানের মধ্যে যে নাড়ির টান ও পবিত্র আত্মার বাঁধন রয়েছে তা নতুনভাবে জানিয়ে দেয়। ভেড়াগুলির চারণক্ষেত্র একটি বেড়ায় বেষ্টিত। বেড়ার অপরদিকে দূরের এক পাহাড়ের দিকে ইংগিত করে মা চিরিনকে একদিন বলেন ওখানে এক ভয়ংকর নেকড়ে বাস করে। ভুলেও এই বেড়ার বাইরে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করায় চিরিনকে। চিরিনও তার মা’র কথা অবজ্ঞা করেনা। এক গভীর রাতে ঐ দূর পাহাড়ের নেকড়েরাজা ‘Woe’ ভেড়ার খামারে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে চিরিনকে রক্ষা করার জন্য তার মা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আগলে ধরে রাখে। এরই মধ্যে মা-ভেড়া জখম হয় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চিরিন যখন বুঝতে পারে তার মা আর এ পৃথাবীতে নেই তখন তার হৃদয়বিদারক কান্না সত্যিই বুকে বিঁধে। এরপর চিরিনের মধ্যে পরিবর্তন আসে। সে তার মনে ঠিক করে ফেলে সে শক্তিশালী হবে। নিজের জীবন এমন সহজে বিলিয়ে দেবেনা আর। তার জন্য সে ঐ নেকড়ের কাছে যায়। নেকড়েকে শিক্ষা দিতে বলে, তাকে শিক্ষানবিশ বানানোর অনুরোধ করে। প্রথমে নেকড়ে ‘Woe’ তাকে একটুও পরোয়া না করলেও যখন সে চিরিনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সাহসী মনোভাব দেখে, তখন রাজি হয়ে যায়। তাদের মধ্যে একটি প্যাক্ট হয়। চিরিন একদিন নেকড়ের চেয়েও শক্তিশালী হবে এবং তখন সে তার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবে। নেকড়ে Woe চিরিনকে নিয়মিত ট্রেইনিং দিতে থাকে। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য ভয়ংকর সব সত্যের মুখোমুখি হয় চিরিন। এই সত্যি উপলদ্ধি করে চিরিনের মানসিকতার পরিবর্তন এবং তার জন্য অনুশোচনা আমাদেরকে ভাবায় আমাদের জীবন কী তুচ্ছ।

‘Someone has to die so that someone else can live.’ এই চরম সত্যটি আমরা কখনই হয়ত মেনে নিতে পারব না। কিন্তু আমাদের সার্ভাইভালের জন্য এটা মেনে নিতে আমরা বাধ্য। আমাদের অস্তিত্ব প্রতিদিনই সংকটের মুখে। জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়। তাই আমরা কতটুকু স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তুত তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ যেখানে আফসোসের কোন অবকাশ থাকবেনা। থাকবেনা কোন পিছুটান।। প্রকৃতির এসব নিষ্ঠুর নিয়ম মেনে নিয়ে বেঁচে থাকার সার্থকতার কথাই জানান দেয় এই মুভি।

এই মুভির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কারণ এই মুভির মেসেজগুলি এত বেশি পাওয়ারফুল যা আপনাকে বারবার রিপিট করে দেখতে বাধ্য করবে। চারপাশের কিছু সুন্দর দৃশ্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। তার সাথে সুন্দর কিন্তু করুণ ওপেনিং সং এবং ভয়েস এ্যাকটরদের নৈপুণ্যতায় আপনি মিশে যাবেন এর কাহিনীতে। এটা অবশ্যই ‘Must Watch’ লিস্টে রাখার যোগ্যতা রাখে।

Comments