Dojoji Temple নামের ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া ১৯ মিনিটের মুভিটি দেখলাম। যদিও এটাকে পুরোপুরি এনিমে বলা যাবেনা। ট্রেডিশনাল আর্টের সাথে পাপেট শো এর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ নিয়ে Kihachiro Kawamoto’র তৈরি এ শিল্পকর্ম দেখে মন জুড়িয়ে যায়। জাপানিজ লোকগাথা উঠে এসেছে এই মুভিতে। এই লোকগাথা নিয়ে অনেক কাবুকিও মঞ্চস্থ করা হয়।
গ্রামের মোড়ল শোজি এবং তার মেয়ে কিয়োহিমের বসবাস হিদাকা নদীর তীড়ে। খুবই অবস্থাপন্ন জীবন তাদের। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আশ্রয় এবং আপ্যায়নে কোন কমতি রাখতেন না শোজি। একদিন তরুণ ধর্মযাজক আনচিন উপস্থিত হয় শোজির বাড়িতে। কিয়োহিমে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যায় সেই তরুণটির উপর। রাত গভীর হলে কিয়োহিমে ঘুমন্ত আনচিনের কাছে আসে। আনচিন জেগে যায়। কিয়োহিমে তার ভালোবাসার কথা জানায় এবং আনচিনকে না যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু আনচিনের মনে রাজ্যের সংশয়। প্রথমে অপারগতা জানালেও পরে সে কিয়োহিমের হাত ধরে কাছে টেনে নেয়।
কিন্তু পরদিন আনচিন না বলে চলে যায় শ্রাইনের উদ্দেশ্যে। কিয়োহিমে তা দেখে ফেলে। সে রেগে তার কাছে যায়। তখন কিয়োহিমের অন্য রূপ দেখা যায়। ভেতরের ক্রোধ ফুটে ওঠে তার চেহারায়। আনচিন দ্রুত নৌকোয় করে নদী পার হয় এবং মাঝিকে বলে দেয় কিয়োহিমেকে যাতে সে না উঠায়। তো কিয়োহিমে নদীর পাড়ে আসল এবং মাঝিকে অনুরোধ করল পার করে দেয়ার জন্য। কিন্তু মাঝি সাড়া দেয়না। কিয়োহিমে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তখন কিয়োহিমের আরেক বিধ্বংসী রূপ দেখতে পাব। সে ক্রোধে এতটাই বশভর্তী হয়ে পড়ে যে সে একটি বিশাল ড্রাগনে পরিণত হয়।
ওদিকে আবার আনচিন ডোজোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানের পন্ডিতদের সব কথা খুলে বলে এবং সাহায্য চায়। তারা একটি বিশাল ঘন্টার ভেতর আনচিনকে লুকিয়ে থাকতে বলে। যাইহোক কিয়োহিমে আসে। আনচিনকে খুঁজে। কোথাও পায়না। পরে ঘন্টার কাছে আনচিনের ঘ্রাণ পায়। তখন সে পুরো ঘন্টাটিকে পেঁচিয়ে ফেলে। মুখ থেকে আগুন বের করে জ্বালিয়ে দেয়। একসময় দেখি তার চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। হয়ত কেউ যখন ক্রোধ সংবরণ করতে পারেনা তার কান্না রক্ত হয়েই ঝরে। যাই হোক সে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর পন্ডিতরা এসে ঘন্টা উঠায়। একটি কঙ্কাল ছাড়া কিছু দেখতে পায়না। ওদিকে কিয়োহিমেও দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে নদীতে ডুব দেয়। আর ওঠে না সে। এমন করুণ পরিণতির মধ্য দিয়েই শেষ হয় ছবিটি।
কোনকিছু পাবার ইচ্ছায় মানুষ এমন কিছু ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় যা তাকে এবং তার আশেপাশের সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবং না পাওয়ার ক্রোধ তার মনুষ্যত্বকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। যা এই মুভি আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে। তারপরও যখন কিয়োহিমের মনের করুণ অবস্থা ফুটে ওঠে তার জন্য আসলেই কষ্ট হয়।
সম্পুর্ণ ডায়ালগ বিহীন এ মুভি খুব কম মানুষেরই ভাল লাগবে। কিন্তু যারা একটু নতুন কিছু চান তারা সময় নিয়ে দেখে ফেলতে পারেন। আগেই বলে রাখলাম ইট ইজ নট এভ্রিওয়ানস কাপ অফ টি।




