নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 1] — Rahat Rubayet

 

নারুটো ফ্যান-ফিকশান (Naruto Fan-Fiction)
————————- Part- 1—————————-
—————————————————————————–
ইচিরাকুর রামেনশপে আজ যেন মেলা বসেছে। হইহুল্লোড়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে সেই বিকেল থেকেই। স্বয়ং ৪র্থ হোকাগে উপস্থিত আজ। সপরিবারে গোগ্রাসে রামেন গিলে চলেছে ওঁরা। এর মাঝেই লিজেন্ডারী সাননীন দের একজন, জিরাইয়া এসে প্রবেশ করলো। মিনাটো- মানে ৪র্থ হোকাগে আর তার ছেলে নারুটো দুজনেই ওঁর ছাত্র। মিনাটোর হাতে খড়ি হয় জিরাইয়া সেন্সের কাছে। তারপর থেকে ওঁকে গরে পিটে একদম গ্রামের প্রধান-অর্থাৎ হোকাগে হওয়া পর্যন্ত, সবসময়ই জিরাইয়া ওঁর পাশে ছিল একজন দায়িত্ববান শিক্ষক হিসেবে।
ওদিকে নারুটো নিঞ্জা একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েট হয়ে তার নিঞ্জা স্কিল বাড়াতে জিরাইয়ার কাছে জুতসু শেখা শুরু করে। আর তার বাবা হোকাগে হিসেবে ব্যস্ত থাকলেও, সময় পেলেই নারুটোর খোঁজ নিতে ছুটে যায় তার টেলিপোরটেশান জুতসু দিয়ে।
জাজ্ঞে, ফিরে আসি ইচিরাকুর রামেনশপে।
কুশিনা আর মিনাটো বহু আগেই খাওয়া শেষ করেছে, তবে নারুটো তার ১১ নম্বর পেয়ালাটা খালি করে মাত্রই তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। ফুলে ওঠা পেটে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবল, আজ বোধয় একটু বেশিই খাওয়া হয়ে গেছে। আর চোখে একবার মায়ের দিকে তাকায় ও। রাতের খাবারের যদি একটা ফোঁটাও নষ্ট করে নারুটো আজ ওর কপালে বেধড়ক মার আছে। ঘুরে বাবার দিকে তাকাতেই দেখল, জিরাইয়া সেন্সের সাথে কি নিয়ে যেন নিচু গলায় কথা বলছে সে। নারুটো তাতে যোগ দিতে গেলে দুজনেই কথা থামিয়ে দিল।
-‘নারুটো, তোমার মাকে নিয়ে বাড়ি যাও। আমার একটু জরুরী কাজ পরে গেছে। এক্ষুনি বেরোতে হবে। আর কুশিনা, আমার ফিরতে রাত হবে, খাবার ঢেকে রেখে ঘুমিয়ে পোরো।”
কপট রাগ আর অভিযোগের সুরে কিছু বলতে গেলো কুশিনা। কিন্তু, কাকে বলবে? এর মধ্যেই যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে মিনাটো আর জিরাইয়া সেন্সে। কুশিনা জানে, মিনাটো তার ফ্লাইং রাইজিন জ্যুতসু ইয়ুজ করেছে। ক্লান্ত চোখে নারুটোর দিকে তাকাল।
নেই, সুযোগ বুঝে কেটে পরেছে সে। আজ আসুক বাড়িতে, ওর একদিন কি আমার একদিন, ভাবতে থাকে কুশিনা। কি এমন জরুরী কাজ পরে গেল- এত তারাহুরো করল মিনাটো? ভাবতে ভাবতেই বাড়ির পথ ধরল। কপালে চিন্তার রেখা।
ওদিকে নারুটো গেছে ইরুকা সেন্সের সাথে দেখা করতে। ইরুকা, নারুটোর নিঞ্জা একাডেমিতে থাকাকালীন টিচার, বড় স্নেহ করে ওকে। ইরুকা সেন্সের ঘরের সদর দরজায় তালা ঝুলছে, বাসায় নেই। পথে নেজি, শিকামারু, সাই, কাকাশি-সেন্সে সবার বাসায়ই একবার করে ঢু মারল। অবাক হয়ে দেখল, এদের কেউই বাসায় নেই।
সবাই গেল কোথায়-ভাবতে ভাবতে হোকাগের অফিসের নিচে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখল এই সময়েও লাইট জলছে সেখানে। মানে, তার বাবা এখন অফিসেই এসেছেন। কি মনে করে গিয়ে অফিসে ঢুকল ও। ভেতরে ঢুকেই দেখল গ্রামের সব জোনিন আর চুনিন নিঞ্জারা হাজির। নিশ্চয় কোন জরুরী মিশন। কিন্তু তাই বলে সবাই এভাবে জড় হবার মানে হয় না। ব্যাপারটা কি? ভাবতে থাকে নারুটো। তার উত্তর পেতে হলে, বাবার সাথে কথা বলতে হবে। ভীর ঠেলে সামনে এগিয়ে যায় নারুটো। মিনাটো একবার তাকাল শুধু ওর দিকে, কিন্তু কিছু বলল না। কপালে চিন্তার ভাঁজ। জিরাইয়া সেন্সে- নারুটোর ভাষায় এরো সেননীন কথা বলছেন।
আড়চোখে একবার পুরো রুমটা দেখে নেয় নারুটো। ৩য় হোকাগেও আছেন রুমে। সব ক্লানের নিঞ্জাই আছে শুধু উচিহা ক্লান বাদে। উচিহাদের ভেতর শুধু শিসুই আর ইটাচি রয়েছে এখানে। বাকিদের জানানো হয় নি। কারন, আজকের সংকটের মধ্যমণি ওই উচিহারাই। জিরাইয়া সেন্সে তার ব্রিফিং মাত্রই শেষ করলেন। তবু, নারুটো নামিকাজে আর আমার পাঠকের সুবিধার জন্যে জিরাইয়া সেন্সের ব্রিফিঙের চুম্বকাংশ আমিই তুলে ধরছি।
আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে মাদারা উচিহা স্বয়ং গ্রাম-আক্রমন করেন। মাদারার সাথে ফেইস ট্যু ফেইস ব্যাটেল করেন ৪র্থ হোকাগে মিনাটো। মাদারা শুধু যে নিজে গ্রাম আক্রমন করে তাই না, সাথে নাইন টেইল ফক্সকেও নিয়ে আসে।
৪র্থ হোকাগে মাদারার সাথে লড়াই করতে থাকার এক পর্যায়ে নাইন টেইল ফক্স কে মাদারার কমপ্লিট সুসানো থেকে আলাদা করে ফেলে। সাথে সাথে ৩য় হোকাগে, ডানযো আর উচিহা ক্ল্যান লিডার ফুগাকু সবাই মিলে নাইন টেইলকে সিল করতে চেষ্টা করতে থাকে। অপর দিকে ওরোচিমারু(রোগ নিঞ্জা) ভিলেইজ এটাক করে বসে, উদ্দেশ্য নাইন টেইল এর চাকরা নিয়ে তার জিনঝুরিকি হওয়া। তার সাথে লড়াই হয় তারই একসময়ের সতীর্থ জিরাইয়ার।
আর এদিকে মিনাটো লড়তে থাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা আর ভয়ংকর ধুরন্ধর শিনোবি মাদারা উচিহার সাথে। ওঁর ফুল বডি সুসানোর সাথে ফাইট করতে ভীষণ বেগ পেতে হয় মিনাটোর। শেষ ৩০ সেকেন্ডে সে ক্রমাগত-সেকেন্ডে ২ বার করে ফ্লাইং রাইজিন ইয়ুজ করেছে। শুধুমাত্র মাদারাকে কনফিউজড করে দেবার জন্যে সে গত আধ মিনিটে ৬০ বার টেলিপোরট করেছে নিজেকে। পৌঁছে গেছে ক্লান্তির চরম মাত্রায়। কিন্তু তার পরেও থামে না, মিনাটো। চোখের সামনে কুশিনা আর ছোট্ট নারুটোর মুখ টা ভেসে উঠতেই ভেতর থেকে দায়িত্ববোধের বিশাল একটা ধাক্কা অনুভব করে সে।
মিনাটো জানে, যতই বাড়াবাড়ি মনে হোক, এটুকু পরিশ্রম প্রাপ্য- অসম্ভব বুদ্ধিমান শিনোবি ওই মাদারা উচিহার। তাই আক্রমন না করে শুধু বাতাসে ভেসে বেড়াতে লাগলো। সেইজ মোডের চাকরাটুকু নিঃশেষ হতেই তার রিজার্ভ করা চাকরার বাকিটুকু সামোন করল। ওঁর টেলিপোরটেশান জ্যুতসুর একটা অনন্য বৈশিষ্ট হল, এর মার্কার তার ইয়ুজারের ইচ্ছা অনুসারে মুভ করতে পারে। ক্রমাগত ফ্লায়িং রাইজিন ইয়ুজ করার পাশাপাশি ওঁর জ্যুতসু মার্কারকে মাদারার সুসানোর ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিতে থাকে মিনাটো।
ওদিকে মাদারা তার দৈত্যাকৃতির সুসানো নিয়ে দাড়িয়ে আছে। চারপাশে শুধু মিনাটোর আফটার ইমেজ দেখছে। বুঝতে পারছে, ভয়ংকর কোন ফাঁদ আঁটছে এই হলুদ-চুলো ছোকরা। টেলিপোরটেশানের প্যাটার্ন বের করতে গিয়েও হতাশ হল। অবশ্য অবাক হলেও থেমে নেই তার ক্ষুরধার বুদ্ধি আর এটারনাল মাঙ্গেকিয়্যু শারিঙ্গান। একবার ভাবল, গেনজ্যুতসু কাস্ট করবে। পরক্ষনে বাদ দেয় চিন্তাটা। ‘স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু’র ওপর মোটেই এফেক্টিভ নয় গেনজ্যুতসু। তার থেকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন করে কোর্স অব একশান ঠিক করে নেয় সে।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আমার ফুলবডি সুসানো ভাঙার মতো শক্তিশালী কোন জ্যুতসু নেই এই ছোকরার কাছে, ভাবতে থাকে মাদারা। কাজেই সোরড গুলো ইয়ুজ করা যেতে পারে।
সুসানোর দু’হাতের সোরড দুটো দিয়ে বিশেষ ভঙ্গিমায় বাতাসে আঘাত করতে থাকে সে। লক্ষ্য, চারপাশে, মিনাটোর আফটার ইমেজ। সোরডের ধারালো অংশ সাময়িক সময়ের জন্য ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মতো তৈরি করল সুসানোর চারিপাশে। মিনাটোর আফটার ইমেইজগুলো যেন কর্পূরের মতন উবে গেল। ঠোঁটে বাকা একটা হাসি ফুটতে শুরু করে মাদারা উচিহার।
ওদিকে, মিনাটো যেন এরই অপেক্ষা করছিল। অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতা, ন্যাচারাল স্পীড আর ফ্লাইং রাইজিনের সমন্বয়ে সেকেন্ডের ২০ ভাগেরও কম সময়ের ভেতর ৫০ গজ দূরত্ব পেরিয়ে যায় সে। হাজির হয় তার মার্কার এর ঠিক ওপর, অর্থাৎ মাদারার ঠিক পাশেই। সঙ্গে সঙ্গে হাতে চলে আসে রাসেঙ্গান। পাশ ফেরারও সময় পায় না মাদারা, তার আগেই মিনাটোর রাসেঙ্গান সাদা হতে শুরু করে দিয়েছে, ওতে তার চাকরা নেচ্যার অ্যাড হচ্ছে অতি দ্রুত। একইসাথে সুসানোর কাস্টার আর কোর অংশে আঘাত করতে থাকে ভয়ংকর মারাত্মক ওই জ্যুতসু।
ঘটনার আকস্মিকতায় মূর্তির মতো জমে গেছে মাদারা। প্রতিক্রিয়া দেখাতে মূল্যবান আধা সেকেন্ড সময় নষ্ট করে ফেলেছে সে। কিন্তু এরই মাঝে মিনাটো তার সুসানো আর ‘এদো টেন্সে’র শরীর গুড়িয়ে দিয়েছে। শূন্য থেকেই যেন আবার তৈরি হতে থাকে মাদারার শরীর। মিনাটো বুঝতে পারে, ওঁকে সিল করার এটাই মোক্ষম সময়। কুশিনার কাছ থেকে শেখা- উজ্যুমাকিদের বিশেষ ফ্যুইনজ্যুতসু দিয়ে সিল করে ইতিহাসের দুর্ধর্ষ এই শিনোবিকে!
—————————————————————————–

Comments