মাঙ্গা রিভিউঃ Pandora Hearts — Rezo D. Skylight

Pandora Hearts

Volumes: 24
Chapters: 107
Status: Finished
Published: May 18, 2006 to Mar 18, 2015
Genres: Adventure, Fantasy, Shounen, Supernatural
Authors: Mochizuki, Jun
MAL Score: 8.69
Ranked: 52

Pandora Hearts

“Instead of sighing about the past, I’d rather be happy to face the present.” – Oz Vessalius

“Don’t try to excuse yourself by saying you’re doing it for someone else’s sake.” – Xerxes Break

এতদিন যতই মাঙ্গা পড়েছি না কেন Pandora Hearts এর মতো মাঙ্গা এখন পর্যন্ত আর পাইনি। আমার কাছে Pandora Hearts মাস্টারপিস। কেননা এই একমাত্র মাঙ্গা যার কাহিনী কোনভাবেই প্রেডিক্ট করা সম্ভব নয়। কাহিনী যে কোনদিক থেকে কোনদিকে মোড় নিবে তা বুঝাই মুশকিল। এখন মূল কথায় আসি।

Pandora Hearts এর প্লট রচিত হয়েছে ভিক্টোরিয়ান যুগে ইউরোপিয়ান সেটিংসের এক কাল্পনিক দেশে। যেই দেশের শাসন ক্ষমতা মূলত নিয়ন্ত্রণ করে প্যান্ডরা নামের এক সঙ্ঘটন। আর প্যান্ডরার সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে সেই দেশের বড় বড় চারটি রাজপরিবার। সেইরকম একটি সম্ভ্রান্ত রাজপরিবার হল ‘Vessalius Family’। এই পরিবারের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম হল ‘Oz Vessalius’। অজের বয়স যখন পনেরোর ঘরে তখন সেই দেশের রীতি অনুযায়ী ‘Coming of age ceremony’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অজকে পরিবারের পরবর্তী শাসক হিসেবে স্বীকৃত করা হয়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের দিনই নতুন এক ট্রাজেডির সৃষ্টি হয়। কিছু গুপ্তঘাতক এসে সবাইকে হত্যা করা শুরু করে আর অজকে মৃত্যুর দুয়ারে দাড়া করিয়ে তারা বলে ‘Your sin is your existence.’। অজ কি পারবে এই মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে? সে কি জানতে পারবে তার সিন কি? জানতে হলে মাঙ্গাটা পড়ুন।

অনেক মাঙ্গারই শুরুর কাহিনী দেখে আসলে কাহিনীর গভীরতাটুকু কেমন তা বুঝা যায় না। একইভাবে প্যান্ডরার কাহিনীর গভীরতাও ঠিক প্রথম প্রথম বুঝা যাবে না। মাঙ্গার প্রথম দিকটা কিছুটা লাইট-হার্টেড, তবে কাহিনী আগানোর সাথে সাথে আরও ডার্ক হতে শুরু করে। এই মাঙ্গায় বেশ ভাল পরিমাণে মিষ্টেরি রয়েছে। তবে প্রথমে এত মিষ্টেরি দেখে কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। কিন্তুু যখন এক একটা টুইস্ট এসে সামনে হাজির হবে ঠিক তখনই প্যান্ডরার কাহিনী অসাধরণ লাগবে। মূলত প্যান্ডরার টুইস্টগুলোই প্যান্ডরার সবচেয়ে উপভজ্ঞ বিষয়।

প্যান্ডরা হার্টসের যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে তা হল এর গল্প উপস্থাপন করার কৌশল। প্যান্ডরার মাঙ্গা পড়ার সময় মাথায় নানা ধরণের প্রশ্ন এসে হাজির হতে পারে। কিন্তুু মজার ব্যাপার হল প্যান্ডরার মাঙ্গা পড়তে পড়তেই নিজের অজান্তেই সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে জাবেন; যা অনেকটা পাজেলের মতো। এর আরেকটা প্লাস পয়েন্ট হল এতে কোন ধরণের প্লট হোলের উপস্থিতি নেই। আবার এর মতো এত বিশাল কাস্টের ক্যারেক্টার খুব কম মাঙ্গাতেই আছে। কিন্তুু প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইউনিক আর ইন্টারেস্টিং। তবে আমার সবচেয়ে ফেভরাইট ক্যারেক্টার হল Xerxes Break।

প্যান্ডরা হার্টসের মাঙ্গায় এলিস ইন ওন্ডারল্যান্ডের অনেক রেফারেন্স আছে। মনে হয় মাঙ্গাকা জুন ফেইরিটেলের খুব ভক্ত ছিল। এজন্যই তার মাঙ্গায় এলিস ইন অন্ডারল্যান্ডের অনেক এলিমেন্ট ব্যাবহার করেছে। আর প্যান্ডরার ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, আর্টও যথেষ্ট ভালো।

যারা প্যান্ডরা হার্টসের এনিমে দেখেছেন তারা চ্যাপ্টার ৩৩ থেকে পড়া শুরু করতে পারেন। আরেকটা কথা, এনিমের লাস্ট কয়েক এপিসোডের সাথে মাঙ্গার কোনই মিল নেই। আর কেউ যদি ক্লাম্পের Tsubasa: RESERVoir CHRoNiCLE মাঙ্গার ভক্ত হয়ে থাকেন এবং এ ধরণের মাঙ্গা খুঁজছেন তারা Pandora Hearts এর মাঙ্গা পড়ে দেখতে পারেন। কারণ এই দুই মাঙ্গার মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

আশা করি রিভিউটি পড়ে ভাল লেগেছে এবং আপনারা হাতে সময় নিয়ে Pandora Hearts এর মাঙ্গাটি পড়ে দেখবেন। পরিশেষে আমি এইটুকু বলতে পারি, আপনি যদি পুরো মাঙ্গাটা পড়ে শেষ করেন তাহলে Pandora Hearts নিশ্চয়ই আপনার অন্যতম পছন্দের মাঙ্গার তালিকায় স্থান পাবে।

আমার রেটিং – ১০/১০

আনিমে রিভিউ: Nazo no kanojo X / Mysterious Girlfriend X — Maisha Musarrat Ahmed

Nazo no kanojo X / Mysterious girlfriend X
সোজা বাংলায় একটি মিষ্টি প্রেমের কাহিনী 🙂

kanojo 2

কাহিনী : কাহিনী খুবই সাধারণ ..এক দেশে (অবশ্যই জাপান) ছিল একটি ছেলে (সুবাকি) আর একটি মেয়ে (উরাবে) … তাদের পরিচয় , ভালোলাগা , ভালবাসা ..এই নিয়েই কাহিনী…খালি একটাই টুইস্ট .. সুবাকির হৃদয়ে উরাবের জন্য ভালোলাগার সূত্রপাত হয় উরাবের ডেস্কে লেগে থাকা লালার(!!) স্বাদ গ্রহনের মাধ্যমে ….(disgusting.. I know )
যারা এটুকু দেখেই আনিমেটি ড্রপ করার চিন্তাভাবনা করছেন তাদের বলব “বিরাট বড় ভুল করতে যাচ্ছেন আপনি”…মানছি এটা একটা ভয়ংকর রকমের অকওয়ার্ড আনিমে..কিন্তু সম্পর্কের মৌলিক ব্যাপার যেমন ধৈর্য্য ,পারস্পরিক বোঝাপড়া , বিশ্বাস ..এই ব্যাপারগুলোই কিন্তু এখানে দেখানো হয়েছে.. এবং আমার মতে অনেক সৌজো এনিমের (ex:say I love you) চেয়েও ভালোভাবে দেখানো হয়েছে ^_^

আনিমের মিউজিক , অ্যানিমেশন , ব্লা ব্লা ব্লা সবই ডিসেন্ট.. ভালো লাগার মত।স্পেশালি বলতে হয় ভয়েস অ্যাক্টরদের কথা। যদিও চিনি না..তবুও বলব…উরাবের সেইয়ু কে আমার বেশ ভাল্লাগছে .. 🙂

মতামত : আনিমে ৯৯% ভালো …
..শুধু লালা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পারলে আপনার জন্য বেশ উপোভোগ্য হতে পারে আনিমেটি।

তো ঘেন্না নামক বস্তুটিকে কিছুক্ষণের জন্য বিদায় দিয়ে বসে পরুন মাত্র ১৩ পর্বের আনিমেটি নিয়ে। and trust me…its worth every bit of your time.

kanojo 1

 

অনন্য মাঙ্গা আসর — ৩ (Our Happy Hours)

জীবনে মানুষ যখন চলে যায় মধ্যবয়সে তখন চাওয়া পাওয়ার হিসেব করতে শুরু করে সবাই। কিন্তু যাদের জীবনটা এতটা স্বাভাবিক নয়,তাদের গল্পটা কেমন? তা আড়ালে থেকে যায় । অনিয়মিত “অনন্য মাঙ্গা আসরে” আরেকবার স্বাগতম । জানি অনেকেই ভুলেও গেছেন সেগমেন্টটার কথা । আজকেও আয়তনে অতি ছোট এক মাঙ্গা নিয়ে কথা বল্ব।বিখ্যাত কোরিয়ান লেখিকা Gong Ji-Young এর লেখা উপন্যাস “Our Happy Hours” এর জাপানি অনুবাদ করেন হাইসুকে কারোউ । আর সেই অনূদিত উপন্যাসের সারমর্ম রূপে মাঙ্গা অঙ্কনের কাজ করেন সাহারা মিজু । MAL এ গিয়ে মাঙ্গা টপ  সাজেশনের মধ্যে “Watashitachi no Shiawase na Jikan” নামে একটা মাঙ্গা খুঁজে পাবেন । বলছি সেই মাঙ্গার কথাই।

দৃশ্যপট

একবার নয়,দুবার নয়,তিন তিন বার সুইসাইড করার চেষ্টা করেও মরতে পারেননি জুরি মুতোউ । জীবনের প্রতি ঘেন্না চলে এসেছিল । কিন্ত কেন?……………………………

একজন বা দুজন নয়,তিন তিন জন জলজ্যান্ত মানুষকে খুন করেছে ইউ। আর এজন্য সে আফসোসও করে না বিন্দুমাত্র । কিন্ত কেন?…………………………………

কি হয়েছিল তাদের জীবনে ,তা নিয়েই শুরু হয় গল্পের । সিস্টার মনিকার সাহচর্যে কারগারে ইউউ এর কাউন্সেলিং এর দায়িত্ব পায় জুরি । কিন্ত যে নিজেই জীবনকে গলা টিপে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল সে একজন খুনিকে কিভাবে জীবন চেনাবে ??

মনে জমে থাকা কষ্ট আছে দুজনেরই , যেন একে অন্যের প্রতিবিম্ব …………

এই সুবাদে ইউউ আর জুরি এর প্রতি  বৃহস্পতিবার দেখা হত। ছিন্ন ভিন্ন কিছু কথা আর অনুভূতি ভাগাভাগি আর কি………………

safe_image

জনরা

রোমান্স, মিউজিক, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, সেইনেন ।

কেন পড়বেন

খুদে হলেও মাঙ্গাটি ব্যাপক প্রশংসার দাবিদার । জীবন নিয়ে ধারণাই পাল্টে দেওয়ার মত মোটিভেটিভ এটি । তবে আবেগের জায়গা আছে ব্যাপক । আপনি যদি এটাকে শোউজো স্টাইলের রোমান্স মনে করে থাকেন তবে বড় ভুল করবেন। রোমান্টিক হলেও মনে রেখাপাত করার মত ।কারণ অনেকেই একটানা মাঙ্গা পড়তে পছন্দ করেন না । কিন্তু আয়তন ছোট হওয়ায় পড়তে কোন বাঁধা নেই। তবে এন্ডিং কেমন সেটা না হয় পাঠকদের জন্যই থাকুক………

আর্টওয়ার্ক

আঁকা ব্যতিক্রমী না হলেও খারাপ নয়। মানে আঁকা খুব বেশি দৃষ্টিনন্দন না হলেও একেবারে খ্রাপ নয়।

অনুভূতি

Exaggerating নয় সত্যিই অনেক ভালো লাগার মত একটা মাঙ্গা । শর্ট মাঙ্গার থেকে এর বেশি আশা করাটাই যেন অন্যায়। আর মাঙ্গাটিতে এমন কিছু Quote আছে যা দেখেই বোঝা যায় এ কোন জ্ঞানী লেখকের কাজ। আর সবাইকেই বলব পড়ে ফেলতে কারণ মাত্র ৮ চাপ্টারের মাঙ্গাটি পড়তে কতক্ষণই বা লাগবে…… অল্প সময় খরচ করে পড়ে ফেলুন ,সময়ের দাম উসুল হয়ে যাবে। মাঙ্গা পড়বেন,অন্যকেও পরতে বলবেন এই প্রত্যাশা রইল ।

মাঙ্গাটি পড়েছিলাম অনেক আগে , তবে উপন্যাসটা পরখ করে না দেখে লিখতে চাইছিলাম না তাই যা দেরি । আর সাহারা মিজু-সানের উপন্যাসটি পড়ার পর অনুভূতি দিয়েই আজকের লেখা শেষ করছি ………

“I remember the time when I first read the original novel.  It was the beginning of summer in 2007. I feel as though it taught me that,because of mankind we are burdened by terrible hurt,but the way we’re able to find relief from this hurt is also through mankind……….”

                                                                        —-Sahara Mizu                                                                                                                              November,2008

মাঙ্গা রিভিউ: Intersection’s Pretty Boy — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

জুনজি ইতোর মাঙ্গা কালেকশনে এত অসাধারন গল্প রয়েছে তার মধ্যে আমার অন্যতম পছন্দ হলো ইন্টারসেকশন প্রিটি বয় । নরমাল ভাগ্যগণণাকে জুনজি যথারীতি নারকীয় রুপ দিয়েছেন !
কাহিনী : জাপানের এক কানাঘুপচি শহরে এক আজব খেলা চালু আছে । এই খেলার নাম হল ইন্টারসেকশন ফরচুন টেলিং বা গলির চৌমাথার ভাগ্যগননা । এই খেলার নিয়ম হল আপনি কোন গলির মাথায় দাড়িয়ে মুখ ঢেকে পথচারীর জন্য অপেক্ষা করবেন । পথে যে প্রথম পথচারীকে পাবেন , তাকে অনুরোধ করবেন আপনার ভাগ্য সম্পর্কে কিছু বলতে , সে যা বলবে আপনার ভাগ্য সে রকমেরই হবে । সবই ঠিকঠাক চলছিল যতদিন না পর্যন্ত এক গর্ভবতী নারীর লাশ পাওয়া গেলো শহরের এক রাস্তার মোড়ে । আসল ঘটনা শুরু হয় যখন রিয়ুসকে নামক এক সুদর্শন তরুন তার ছোটবেলার শহরে ফিরে আসে । নতুন স্কুলে ভর্তি হবার পর সে খুজে পায় তার ছোটবেলার বান্দ্ধবী মিডোরিকে এবং সুদর্শন এবং সদালাপী হওয়ায় সে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে , বিশেষ করে মেয়ে ম্হলে । কিন্তু হঠাত্‍ করেই তার এক মেয়ে সহপাঠীর ভয়াব্হ মৃত্যু হয় চৌরাস্তার মোড়ে এবং জানা যায় যে সে ইন্টারসেকশন ভাগ্য গণণা করতে গিয়ে সে এক কালোপোশাকধারী সুদর্শন যুবকের দেখা পায় যে তাকে বলে তার জীবনে কখোনো ভালবাসা আসবে না । এরপরই মেয়েটি আত্নহত্যা করে । এরপরই শুরু হয় রিয়ুসকের জীবনের এক নারকীয় অধ্যায় । এই কালোসুদর্শন যুবকের সাথে রিয়ুসকের সম্পর্ক কি তা জানতে হলে শুরু করে দিন মাঙ্গা পড়া !
এটার আর্টওয়ার্ক এবং কাহিনী দুটোই অস্থির । পড়তে গিয়ে আপনার একধরনের ভয় ও রহস্যের উত্তেজনা মিশানো অনুভূতি কাজ করবে । তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন Intersection pretty boy !
আমার রেটিং: 9/10

pretty boy

অ্যানিমে সাজেশনঃ সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10014955_577552792409231_3034083471763853742_o

অ্যানিমে- সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু / এ কর্পস বারিড আন্ডার সাকুরাকোস ফিট

অ্যানিমেটি যখন দেখা শুরু করি, এর তিন মাইল লম্বা নাম দেখে মেজাজ খারাপ হয়েছিল, ভাবতাম যে এত বড় নাম হয় কেন রে বাবা লাইট নভেল গুলার!! কিন্তু আজ শেষ পর্বটি দেখার পর মনে হচ্ছে, নাহ!! এই নামকরণ আসলেই সার্থক। ওয়ান পাঞ্চ ম্যান বা নোরাগামী আরাগোতোর হাইপের আড়ালে ঢাকা পড়ার কারণে অনেকেই হয়ত অ্যানিমেটির নামও শোনেননি, কিন্তু মিস্ট্রি জানরার ফ্যানদের জন্য এটি একটি মাস্ট ওয়াচ অ্যানিমে।

1412744_577554125742431_4213871888005648295_o

কাহিনী আবর্তিত হয় কুজোও সাকুরাকো নামের সুন্দরী অস্টিওলজিস্ট এবং তার হাইস্কুল পড়ুয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট শৌতারোকে ঘিরে। হাড়প্রেমী খামখেয়ালী সাকুরাকো সান হাড়ের সন্ধান পেলে দুনিয়া ভুলে যান, আর তার এই খামখেয়ালীপনার লাগাম টেনে ধরে শৌতারো। মৃতদেহ কথা বলে তার সাথে; হাড়ের অবস্থা দেখে সাকুরাকো সান সমাধান করে রহস্যের, বের করে আনে লুকিয়ে থাকা চাবিকাঠি।

অ্যানিমেটির গ্রাফিক্স অনেক বেশি সুন্দর, আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার পার্ফেক্ট। অ্যানিমেটিতে দেখানো মিস্ট্রিগুলো খুবই চমকপ্রদ, সেকেন্ড সিজনের জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।

মাত্র ১২ পর্বের এই অ্যানিমেটি যারা দেখেননি এখনও, দেখে ফেলতে পারেন, ভাল লাগবে আশা করি। আমার কাছে এটি এ বছরের সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি।

1933220_577553085742535_1007971363804566011_o

Behind the Voices – 11

বছর তো প্রায় শেষ, তাই আমার কাছে এই বছরে যাদের কে সেরা সেইয়ূ মনে হয়েছে তাদের নিয়ে লেখছি

মায়েনো তোমোআকি

মায়েনো তোমোআকি সাধারণত কঠোর ব্যক্তিত্বের, মুখের ভাবলেশহীন চরিত্র অন্য কারও চেয়ে বেশ অসাধারণভাবে তুলে ধরতে পারে । তার কণ্ঠ এই রকম চরিত্রের সাথে পুরোপুরি মানানসই । তবে সে অন্য ধাঁচের চরিত্র বিশেষ করে ম্যানলি চরিত্রও খুব ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন ।

যেহেতু এই বছরের আমার মতে সেরা সেইয়ূদের নিয়েই লিখছি তাই প্রথমে এই বছরে তার কোন রোলগুলো আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে তাদের নিয়েই বলি প্রথমে । তার এ বছরের তিনটা রোল আমার বেশ ভালো লেগেছে ডেথ প্যারাডের ডেচিম, আকাৎসুকি নো ইয়োনার হাক এবং ইয়োমুশি পেডালের গ্র্যান্ড রোডের ফুকুতোমি । ওহ, সাথে আওহারু কিকানজুর মাৎসুওকা মাসামুনে, ওয়ারি নো সেরাফের এক মাইনর রোল কুরেতো এবং এই বছর রিলিজ হওয়া কুরোশিৎসুজির ওভিএ বুক অফ মার্ডারে আরেক মাইনোর রোল ফিলিপ্স চার্ল্স রোলগুলোও ভালো ছিল । এই বছরে তার চেয়ে বেশি রোল করেছেন এমন অনেক সেইয়ূ আছে তবে তার রোলগুলো সে অনেক ভালোভাবে করেছে বলেই তাকে এই বছরে আমার মতে সেরা মনে হয়েছে ।

এছাড়া তার আগেও অনেক ভালো ভালো রোল ছিল যা বেশ ভালোই লেগেছে । যেমন আমাগামি 卐 আনিমের তাচিবানা জুনিচি, নারুতোর পেইন ( দেব পথ ), লগ হরাইযোনের নাওয়েৎসুগু এই রোলগুলো বেশ ভালো লেগেছে ।

1

তার জন্ম ২৬ মে, ১৯৮২ এবং ২০০৮ থেকে সে কণ্ঠ-অভিনয় করেন । একজন কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে সে বেশ দক্ষ এবং সামনে আরও রোল থাকবে তা আশা করি ।

2

তানেদা রিসা

“সেনপাই, সেনপাই, সেনপাই” এই ডাক নানা রকম আনিমেতেই বেশ ঘনঘনই শুনা যায়, এবং আনিমে কমিউনিটিতেও এইটা এখন এবোলার মত ছড়ায় যাচ্ছে নানা রকম পোস্ট, কমেন্ট সেকশনেই এখন ভাই-আপা বাদ দিয়া পোলাপান আজকাল সেনপাই বলে বেড়ায় মানুষজন যাই হোক এ নিয়া আমার কোন অভিযোগ নাই । এইবার প্রসঙ্গে আসি এই ডাক ঠিক এক এক জন বিভিন্নভাবে ডাকে, কারোটা শুনতে বেশ বিরক্তিকর লাগে আবার কারো কারো ডাক অতিরিক্ত কিউট শুনায় । ঠিক এই সেনপাই বলাতে এক্সপার্ট এরকম যদি কাউকে নির্ধারণ করতে হয় তাইলে আমার মতে সে তানেদা রিসা । তানেদা রিসার কণ্ঠটা ঠিক অন্যরকম বেশ কিউটও শোনায় আবার সে বেশ সেডাক্টিভ কণ্ঠ করায়ও এক্সপার্ট । তার কণ্ঠের পরিসীমা তেমন ব্যাপক নয় তবে নানা রকম চরিত্র তুলে ধরায় সে পারদর্শী, চরম পর্যায়ের উদাসীন থেকে সিরিয়াস মানসিকতার চরিত্র সবারই কণ্ঠ সে আসধারণভাবে দিতে পারে ।

এই বছরের সেরা চরিত্রদের মধ্যে একজন মিয়াযোনো কাওরি । অনেকেই ভাবতেই পারে হয়তো কাওরির জন্যই আমার তাকে এই বছরের সেরা কণ্ঠ অভিনেত্রী মনে হচ্ছে তবে না । প্রথমত আনিমেটা আমার একটুও পছন্দ নয় আমার মেলোড্রামা অবশ্য পছন্দ না, চরিত্রটাকেও তেমন ভাল্লাগে নাই তবে তানেদা রিসা যে চরিত্রটাকে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই । হয়তো তার মত এত ভালো কেউ-ই আর পারতো না । এই বছরে তার যে দুইটি রোল আমার বেশ পছন্দের তা হল Gate আনিমেটির ররি মার্কারি এবং Shokugeki no Souma আনিমেটির এরিনা নাকিরি এই দুইটি চরিত্র । নাকিরির ঔদ্ধত্য এবং ররির আবেদনময়ী কণ্ঠ দুইটাই সে নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে পেরেছে । এছাড়া এই বছর তার আরও ভালো ভালো রোল ছিল Highschool DXD-এর যেনোভিয়া, এই রোলটাও আমার বেশ পছন্দের এবং কেন জানি তাকে রিয়াস আর আকেনোর চেয়ে বেশি ভালো লাগে ।

কণ্ঠ অভিনয়ে সে নতুন মাত্র ২০১২ তে কিছু মাইনর রোল দিয়ে তার অভিষেক । তবে তার এক বছর পরেই কিছু ভালো ভালো রোল এবং আরও অনেকগুলো রোলই সে পেয়েছে এবং এই পর্যন্ত ২০১৪ তার জন্য সেরা বছর । তার বাকি যে রোলগুলা বেশ পছন্দের তা হল Kyoukai no Kanata-এর কুরিয়ামা মিরাই, Strike the Blood-এর হিমেরাগি ইয়ুকিনা, Inou-Battle wa Nichijou-kei no Naka de-এর সায়ুমি, Brynhildr in the Darkness-এর নেকো কুরোহা । এছাড়া KanColle গেমটাতেও তার কণ্ঠ দেওয়া সামিদারে এবং মিয়োকৌ ক্লাস ক্রুজার ( মিয়োকৌ, আশিগারা, নাচি এবং হাগুরো ) এই জাহাজগুলোতে দেওয়া কণ্ঠও আমার বেশ প্রিয়, যাই হোক এই পচা ফ্র্যানচাইজের কথায় আর না যাই । একজন গায়ীকা হিসেবেও সে অনেক দক্ষ । অনেক আনিমেতেই গান গেয়েছে তা আপনি শুনে নিয়েন

 

3

তার জন্ম ১২ জুলাই, ১৯৮৮ ইশ আমার চেয়ে মাত্র ৯ বছর ৩৬১ দিনের বড় TwT, আর ৫ দিন পর হইলে নিজের এই পছন্দের কণ্ঠ অভিনেত্রীর সাথে একই দিনেই জন্মদিন থাকতো । আর ইগুচি ইয়ুকার জন্মদিন তার চেয়ে মাত্র এক দিন আগে, এই মহিলাও আমার আরেকটি বেশ পছন্দের কণ্ঠ-অভিনেত্রী তাকে নিয়ে আজকে নয় তবে অন্য আরেকদিন লেখব নে । সামনের বছর যে তানেদা রিসা একগাদা রোল পাচ্ছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই । তার পার্ফোম্যান্স সামনে আরও ভালো হবে এটাই চাই ।

4

এনিমে মুভি রিভিউ: Wolf Children — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আপনার কি কথোনো এমন অনুভূতি হয়েছে যে কোন কিছু দেখে বা পড়ে শেষে করে উঠেছেন কিন্তু তার ঘোর লেগে রয়েছে , যেন এক সুন্দর স্বপ্নরাজ্য থেকে ভ্রমন করে বাস্তবে ফিরে আসলেও তার মোহ কেটে না যাওয়া ? আমি সেই অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছি এই উলফ চিলড্রেন দেখে শেষ করার পড় । এক অসাধারন আনিমে চলচিত্র যা হাজারবার দেখলেও পুরানো হবে না ।

কাহিনী : কাহিনীর প্রধান চরিত্র হল এক হাস্যোজ্বল , প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুনী হানা । অন্যসব বাবা মা হারা তরুনীর মত সেও খন্ডকালীন চাকরি এবং পড়াশোনার মাধ্যমে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছে । তো একদিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসে সে এক নতুন তরুনের দেখা পেলো যে কোন টেক্সট বইয়ের সাহায্য ছাড়াই নোট নিচ্ছিল । হানা আগ্রহী হয়ে ছেলেটির সাথে পরিচিত হয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো যে সে কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র না । এই গম্ভীর আকর্ষনীয় তরুনের প্রতি হানা দুর্বল হয়ে পড়লো এবং তাদের মধ্যে প্রনয় হতেও বেশি টাইম নেয়নি । একদিন সেই যুবক হানাকে তার আসল পরিচয় দিল যে সে একজন নেঁকড়ে মানব । কিন্তু হানা সেই তরুনকে অন্তর দিয়ে ভালবেসেছে , বাহ্যিক ছবি কিছু না । তাদের সংসার শুরু হয় , তারা ২সন্তানের জনকও হয় । কিন্তু হানার স্বামীর মৃত্যু সবকিছুকে যেন বদলে দেয় । দুই অর্ধমানব অর্ধনেকড়ে সন্তান আমে এবং য়ুকিকে নিয়ে হানা শুরু করে তার জীবন সংগ্রাম । তাদের পরিচয় গোপনরেখে বড় করার জন্য সে তার স্বামীর জন্মান্চলে চলে যায় এবং সেখানে তাদের বড় করতে থাকে ।সে তার সন্তানদের পথ তাদের হাতেই ছেড়ে দেয় যে তার মানব জীবন না নেঁকড়ে জীবন বেছে নেবে । এই সদাহাস্য তরুনী হানার স্ট্রাগল নিয়েই এর কাহিনী ।

এই এনিমের আর্টস্টাইল ও গ্রাফিক্স মনোমুগ্দ্ধকর ও প্রশান্তিদায়ক । পাহাড়ে হানা যে বাড়ি ভাড়া নেয় তার বেসিনটার ছবি আমি ওয়ালপেপার হিসেবে ইউজ করেছি ! আমে এবং য়ুকির দুষ্টুমি আপনাকে যেমন আপনাকে হাসাবে তেমনি তাদের মানব সত্ত্বা ও নেকড়ে সত্ত্বার দোঁটানা এবং হানার একার সংগ্রাম আপনার হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যাবে । এটা একটা অবশ্য দেখা কর্তব্য মুভি । আপনি একবার দেখুন বা বারবার দেখুন , আপনি মুগ্দ্ধ হতেই থাকবেন !!
আমার রেটিং : 10/10

Wolf Children

Hyouka রিভিউ — Rafiul Alam

Hyouka (2012) রিভিউ :

“I don’t do anything I don’t have to. What I have to do, I do quickly.”

মনে হয় আমরা সবাই কম বেশি এই উক্তির সাথে পরিচিত এবং আমরা অনেকেই হোতারুর এই অমর বাক্যের সাথে ‘লাইকের সহিত একমত’ । হিওকা এমন এক ধরনের এনিমে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে। স্লাইস অফ লাইফ জানরার হাতে গোনা যে কয়েকটি এনিমে ভালো লেগেছে তার মাঝে হিওকা সম্ভবত চিরস্থায়ী।
-“কি কারণে হিওকা দেখব?”
ওয়েল….হিওকা মূলত মিস্ট্রি/ স্লাইস অফ লাইফ জানরার আনিমে। যার প্রায় সবটুকু স্কুল কেন্দ্রিক। নিউ ইয়ার ফেস্টিভাল, কিমোনো, চেরিব্লসম, হটস্প্রিং, স্কুল ফেস্টিভালের মত ক্লিশে কন্টেন্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতেকটি এলিমেন্টের সদ্ব্যবহার করে পেসিং ধরে রেখে একের পর এক বুদ্ধির চমক উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে এনিমেটি। তাই কোন ধরনের ফ্যানসার্ভিস ছাড়া, যেকোন বয়সের উপযোগী ২২ এপিসোডের এনিমেটি অবসরে দেখতে আশা করি মোটেও খারাপ লাগবে না।

Synopsis : কামিয়ামা হাই স্কুলের ছাত্র ওরেকি হোতারু বড়ই কর্মবিমুখ। তার মতে, হাই স্কুলের জীবনকে সবাই চেরিব্লসমের মত গোলাপী মনে করে। তারুণ্য আর উদ্যমের প্রতীক। কিন্তু হোতারু নিজেকে ধুসর বলে দাবী করে। ফলে স্কুলের এত্তগুলো ক্লাব থাকা সত্ত্বেও কোন ক্লাবে সে নিজেকে জড়ায় না। কিন্তু হোতারুর শক্তি সঞ্চয় নীতিতে বাধ সাধে বিদেশ থেকে আসা বড় বোনের চিঠি। যাতে হোতারুকে বলা হয় স্কুলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাসিক ক্লাবে যোগ দিতে, যেটা নাকি বর্তমানে সদস্যের অভাবে মরণাপন্ন। হোতারুর বড় বোনও সেই ক্লাবের সদস্য ছিল। তাই বোনের নির্দেশ রক্ষা করতে হোতারু বাধ্য হয় ক্লাসিক ক্লাবে যোগ দিতে। তার সাথে যোগ দেয় তারই পুরানো বন্ধু, ফুকুবে সাতোশি।ক্লাবে পরিচয় ঘটে বিখ্যাত চিতান্দা পরিবারের চিতান্দা এরুর সাথে। পরে ক্লাবে যোগ দেয় ইবারা মায়াকা। যার সাথে আবার হোতারুর ঠান্ডা সম্পর্ক। তো এই চারজনের কল্যাণে ক্লাসিক লিটারেচার ক্লাব গতি পায়। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে নানা ধরনের হেঁয়ালী আর রহস্যের সম্মুখীন হয় হোতারু বাহিনী। যার মাঝে আবার দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মানুষের নানা ধরনের অদ্ভুত ঘটনা স্থান পায়। হোতারু কি তার শক্তি সঞ্চয় নীতি ধরে রাখতে পারে? নাকি বন্ধুত্বের খাতিরে হার মানে? এই এক দ্বন্দ তৈরী করে কাহিনী এগিয়ে যায়।

Theme setup, Animation and Music : কিয়োটো এনিমেশনের কাজ। এনিমেশনে তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। জাপানের গ্রাম ও প্রকৃতি নান্দনিক ভাবে উপস্থাপন করছে। ডেপথ অফ ফিল্ডের ব্যবহার বেশ কার্যকরী ছিল। তারা যেভাবে আলো ছায়া তুলে ধরেছে আর ফ্লুইড ক্যারেক্টার মুভমেন্ট তৈরী করেছে, তাতে এনিমেশন যেন প্রাণ পেয়েছে । ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকেও বেশ দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কল্যাণে চমৎকারভাবে সাসপেন্সের আবহ তৈরী হয়েছে। বিটোভেন আর ব্যাচের ক্লাসিকাল মিউজিক (cello suite no.1, prelude) সিনগুলোর সাথে খুব ভালোভাবে মিলে গেছে।

Characters Setup : গল্পের প্রধান চরিত্র হোতারুর উপর ফোকাসটা একটু বেশি ছিল। গম্ভীর চেহারার শক্তিসঞ্চয়ী হোতারুর নিজের অজান্তেই খোলস থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারটি দর্শকদের জন্য বেশ উপভোগ্য ছিল। হোতারুর বন্ধু সাতোশি হল হাসিখুশি, ইজিগোয়িং, অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভাণ্ডার। নিজেকে ‘ডাটাবেজ’ বলে দাবী করে। সম্পদশালী চিতান্দা পরিবারের মেয়ে চিতান্দা এরু মারাত্মক কৈতুহলী। চোখ বড় বড় করে যখন সে হোতারুকে বলে, “ওয়াতাশি কিনিনারিমাস!”, তখন হোতারু শক্তি খরচে বাধ্য হয়। ইবারা মায়াকা ছোট খাটো গড়নের সহজ সরল মেয়ে। যদিও সে নিজে, ও সবার উপর খানিকটা কঠোর। দিনশেষে, ক্লাসিক ক্লাবের এই চতুষ্টয় বেশ কর্মঠ, ক্লাবের জন্য নিবেদিত প্রাণ। আর হ্যা…হোতারুর বড় বোনের চেহারা কোন এক অজানা কারণে ঢেকে রাখা হয়। রহস্যের এনিমেতে এমন রহস্য তো থাকতেই পারে!

Overall Rating : MyAnimeList.net Rating : 8.20
IMDb Rating : 7.9

OST : https://goo.gl/MUt7f6

Hyouka

Behind the Voices – 10

দেখতে দেখতে ১০ টা লেখে ফেল্লাম । দুই ডিজিট সম্পন্ন সংখ্যার ঘরে পৌছানোর জন্যে আজকে ঠিক সেইয়্যূ নয় বরং যারা আনিমে সুন্দর সুন্দর ওপেনিং, এন্ডিং, ইন্সার্ট সং গেয়ে আমাদের উপহার দেয় তাদের নিয়ে লেখছি । 

Abingdon Boys School

এরা একটি জাপানি alternative rock ব্যান্ড যারা আনিমের জগতে D.Gray-Man, Darker than Black, Tokyo Magnitude 8.0 এই আনিমেগুলোর ওপেনিং এবং Soul Eater-এর শেষ এন্ডিং গাওয়ার জন্য পরিচিত । এছাড়া তারা Sengoku Basara আনিমেটির প্রথম সিজনেরও ওপেনিং গেয়েছেন ।

তাদের গানগুলোর মধ্যে আমার সব Strength ( https://goo.gl/7Hc1HJ ) এই গানটি, যেটা Soul Eater-এর শেষ এন্ডিং । এই পর্যন্ত তারা দুইটি অ্যালবাম বের করেছেন, Abingdon Boys School এবং Abingdon Road । তারা তাদের প্রথম গান ‘Stay Away’ ২০০৫ সালে রিলিজ করেন যা পুরাই ইংরেজিতে গাওয়া । আমার কাছে তাদের আরও কিছু গান ভালো লেগেছে রেকমেন্ড করবো শুনে দেখতে সেগুলো হল Blade Chord ( https://goo.gl/ypcuJN ) , JAP ( https://goo.gl/GvxuLz ) । তাদের সম্পর্কে আরও জানতে এই লিঙ্কে যান http://goo.gl/kClE2D

এইবার আসি মেম্বারদের কথায়, এই ব্যান্ডের ভোকাল নিশিকাওয়া তাকানোরি যিনি T.M.Revolution হিসেবেও পরিচিত । এছাড়া গিটারে আছেন Sunao এবং শিবাসাকি হিরোশি, বেস-এ আছেন Ikuo, ড্রাম-এর দায়িত্বে আছেন হাসেগাওয়া কৌজি এবং তোশিইয়ুকি কিশি আছেন কিবোর্ড, টার্নটেবল্স এবং প্রোগ্রামিং-এর দায়িত্বে । Ikuo এবং হাসেগাওয়া কৌজি ব্যান্ডের সাপোর্ট মেম্বার । তারা ২০০৫ থেকে এখন পর্যন্ত অ্যাক্টিভ । সামনে তাদের আরও ভালো কাজ দেখতে পাবো এই আশা করি ।

Abingdon Boys School

 

ROOKiEZ is PUNK’D

ROOKiEZ is PUNK’D এই ব্যান্ডটি অসাধারণ সব আনিমের সেরা সেরা ওপেনিংগুলো গাওয়ার জন্য বেশ পরিচিত । তারা একটি রক ব্যান্ড, অনেক সময় পাঙ্ক রকও গায় । Ao no Exorcist, Durarara!!, Yowamushi Pedal এই ৩ টি আনিমের একটি করে ওপেনিং এবং Yowamushi Pedal: Grande Road আর Bleach-এর ১টি এন্ডিং তারা গেয়েছেন । এই পর্যন্ত তারা ২টি অ্যালবাম এবং ৯ টা সিঙ্গেল্স রিলিজ করেছেন ।

তাদের গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় In My World ( https://goo.gl/1xfJNy ) এবং Realize ( https://goo.gl/JVh58z ) । Complication ( https://goo.gl/sEyK0P ) , Remind (https://goo.gl/QL0fjG ) , Fortune ( https://goo.gl/5ahz5k ) , Reclimb ( https://goo.gl/BtRgUu ) এই গানগুলোও বেশ পছন্দের ।

ব্যাণ্ডটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । এই ব্যান্ডে ৩টি মেম্বার SHiNNOSUKE (Vocal & Guitar), U (Drums), RYOTA (Bass) । 2RASH (Bass), Takumi এই দুইজন সাবেক মেম্বার । তাদের সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে তাদের অফিশিয়াল সাইটেই যেতে পারুন, http://www.rookiez-official.com

ROOKiEZ is PUNK'D

May’n

মেই নাকাবায়াশি যে তার স্টেজ নেম May’n হিসেবেই বেশি পরিচিত একজন J-Pop গায়িকা । নানা আনিমের ওপেনিং-এন্ডিং এবং অনেক অসাধারণ গান গাওয়ার খ্যাতি আছে তার । এই পর্যন্ত ৫ টি অ্যালবাম এবং অনেকগুলো সিঙ্গেল্স বের করেছেন তিনি । Accel World, Aquarion Logos, Blood Lad, Hidan no Aria, Inari Konkon Koi Iroha, Ookami-san to Shichinin no Nakamatachi, Phi Brain: Kami no Puzzle এই আনিমেগুলোর ওপেনিং এবং Btooom!, Love get Chu এই আনিমেগুলোর এন্ডিং তার গাওয়া । Macross Frontier সিরিজটির গানগুলো মেগুমি নাকাজিমার সঙ্গে সে গেয়েছে এবং এর জন্য একটি আলাদা অ্যালবামও আছে ।

আমার কাছে তার সবচেয়ে প্রিয় গান Blood Lad-এর ওপেনিং Vivid এই গানটা, https://goo.gl/wbsxbQ। এছাড়া তার আরও অনেক গান আছে আমার ভালো লেগেছে যেমন Ookami-san to Shichinin no Nakamatachi-এর ওপেনিং Ready Go এই গানটি, https://goo.gl/7aB2d9 । সে ২০০৫ থেকে এখন পর্যন্ত মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে অ্যাক্টিভ, আশা করি সামনে আরও ভালো ভালো গান রিলিজ করবেন ।

May'n

Konomi Suzuki

কোনোমি সুযুকি আমার দেখা অনন্য কণ্ঠ সম্পন্ন গায়িকাদের মধ্যে একজন । মাত্র ১৫ বছর বয়সে সে সাকুরাসৌ নো পেট না কানোজো আনিমেটির ওপেনিং-এন্ডিংগুলি গেয়েছে এবং এই গানগুলো অসাধারণ ছিল । অল্প বয়স থেকেই অনেক ভালো ভালো গান গেয়ে আসছেন এবং তার পটেনশিয়াল এখনও অনেক, তাকে দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় এখনও জীবনে কিসু করতে পারলাম না । যাই হোক, তার কণ্ঠটা এত সুন্দর এখন পর্যন্ত তার যে কয়টা গান শুনেছি প্রত্যেকটা বেশ ভালো লেগেছে । আনিমের মধ্যে সে Absolute Duo, Fairy Tail (2014), Freezing! Vibration, Madan no Ou to Vanadis, No Game No Life, Tasogare Otome x Amnesia, Sakurasou no Pet na Kanojo, Watemote এবং আরও দুইটি আনিমের ওপেনিং/এন্ডিং গেয়েছেন । তার সব আনিমের গানগুলোই শুনেছি এবং অসম্ভব রকমের ভালো লেগেছে ।

যাই হোক তার গাওয়া আমার মতে সেরা গান হল Days of Dash ( Sakurasou ED 1 –https://goo.gl/wRLjCt ), Choir Jail ( Tasogare Otome x Amnesia OP – https://goo.gl/rebKol ), This Game ( No game no life OP – https://goo.gl/APhPHq ), Watashi ga Motenai no wa Dou Kangaete mo Omaera ga Warui ( Watemote OP & theme song – https://goo.gl/YRgEKv ) । এছাড়া তার গাওয়া সাকুরাসৌ-এর দ্বিতীয় ওপেনিং Yume no Tsuzuki ( https://goo.gl/YRgEKv ) এবং Absolute Duo-এর ওপেনিং Absolute Soul (https://goo.gl/1P58Jo) এই গানগুলো বেশ পছন্দের ।

এছাড়া তার গাওয়া গান যে আনিমেগুলোয় আছে Fairy Tail(2014), Bubuki Buranki, Saikyou Ginga Ultimate Zero: Battle Spirits বাদে সব দেখেছি এবং যা দেখেছি প্রত্যেকটি ভালো লেগেছে । আনিমেগুলোর বাকি গানগুলো ভালো আছে তবে কোনোমি সুযুকির গানগুলোর চেয়ে নয় । তার জন্ম ৫ নভেম্বর, ১৯৯৬ আর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ২০১১ থেকে অ্যাক্টিভ । সামনে যে আরও অসাধারণ গান বের করবে সে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই । আগামী বছরও তার গাওয়া কোন ওপেনিং-এন্ডিং শুনতে পাবো এর অপেক্ষায় আছি । ওহ আর আমার সবচেয়ে প্রিয় ফিমেল সিঙ্গারদের মধ্যে সে একজন।

Konomi Suzuki

এনিমে সাজেশন: Kuroko no Basuke — Fahmida Ahmed Mou

কুরোকো নো বাসুকে (Kuroko no Basuke) 😀 খুব কমন তাইনা! 😀
নাম নিলেই আমার দুপাটি দাঁত অটোমেটিক বের হয়ে যায় 😀
আত্মার সাথে মিশে যাওয়া অ্যানিমে খুব কমই আছে যেগুলার মাঝে এইটা একটু বেশিই জোস 😀
এখন পর্যন্ত ‪#‎সিজন‬– ৩টা
নামেই বোঝা যাচ্ছে স্পোর্টস অ্যানিমে!

KnB 3
#‎ছোট্ট_সারসংক্ষেপঃ‬
এ গল্পটা বাস্কেটবল ভালোবাসার ।
পারি তাই খেলি আর খেলাটা ভালবসি তাই খেলি এদুটোর পার্থ্যকের গল্প।
গল্পটা টিমের মাঝে Ace হয়ে একাই খেলা আর Ace হয়েও টিমমেটদের সাথে মিলে খেলার তফাৎ এর গল্প!
গল্পটা সেনপাইদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর ডেডিকেশনের!
এ গল্পটা …. না থাক এত বললে ক্যামনে হবে! :v বাকিগুলা আপনারাই দেখবেন!
জাপানে বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট হয়। মিডলস্কুল, হাইস্কুল সবারই আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত।
তবে প্রায়ই মিডলস্কুলে থাকাকালীন খেলোয়াড়রা হাইস্কুলের টুর্নামেন্টে এসেও একে অন্যের সাথে দেখা হয়ে যায়!
জাপানের সমসাময়িক ইতিহাসের মিডলস্কুল টুর্নামেন্টে ★তেইগা মিডলস্কুলের ‪#‎জেনারেশন_অফ_মিরাকল (আওমিনে, মিডোরিমা, মুরাসাকিবারা, কিসে &আকাশি) এবং #‎ফ্যান্টম_সিক্সথ_ম্যান‬ (কুরোকো) নামে একটা রিউমর প্রচলিত থাকে।
যখন তারা মিডলস্কুল ছেড়ে হাইস্কুলে ওঠে ৬জনই ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে যায়!
আমেরিকা থেকে আসা ★কাগামি তাইগা #‎সেইরিন‬ হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার পরে এসব জেনে সে লক্ষ্য নেয় অই ‪#‎৬লিজেন্ড‬ কে পরাজিত করার।
But he’ve no idea what hell players they are 😛
আর একই স্কুলে ভর্তি হয় সেই জেনারশন অফ মিরাকল এর ফ্যান্টম সিক্সথ ম্যান কুরোকো তেতসুয়া! 😀
ব্যাস আরকি! খালি ব্যাক টু ব্যাক খেলা, সাসপেন্স, এক্সাইটমেন্ট সবকিছু মিলিয়ে প্রতিটা সিজন, প্রতিটা এপিসোড জমে দই হয়ে থাকে 😛

KnB 2
#‎আপনি_কেনো_দেখবেন‬?
আপনাকে দেখতেই হবে কারণ আমি বলছি 😛 (dnt be serious) আসলে যা বলার উপরেই বলে ফেলছি!
সত্যি বলতে এর প্রশংসা করার জন্য আমার কাছে সবসময় বাক্যের অভাব মনে হয়! 😀
একটা সাধারণ খেলা বাস্কেটবল নিয়ে যে এত অসাধারণ একটা অ্যানিমে বানানো যায় আপনি দেখলে উপলব্ধি করতে পারবেন না! খেয়াল করে দেখলে বা শুনলে …..
তাঁদের ছোট্ট ছোট্ট বান্দ্রামি আপনাকে হাসাবে হিউজ, তাদের মন খারাপ, কষ্ট আপনাকে টাচ করবে খুব, তাদের আনন্দে আপনি আনন্দিত হবেন কত!

KnB 1

‪#‎আমার_অভিমতঃ‬
আপনার মনে হবে আমি অতিরঞ্জন করছি! কিন্তু
হাইসেন না, টু বি অনেস্ট
প্রত্যেকটা পর্বের প্রতি মোমেন্টে আমি ওদের সাথে যেনো মিশে ছিলাম।
হাসি, দুঃখে, আনন্দে, জয়-পরাজয় সবকিছু যেনো হার্ট থেকে উপলব্ধি করেছি!
টুকটাক চোখের পানিও এসেছে আনন্দে কিংবা দুঃখে 😀
আমি যে পরবর্তীতে কিছু গেম আরো কতবার রিপিট করছি তার ইয়ত্তা নাই!
যাক
যাঁরা দেখসেন তারাতো দেখসেন যাঁরা দেখেন নাই তাঁরা অবশ্যই 😀
ধন্যবাদ