Shigatsu wa Kimi no Uso রিভিউ — Iftekhar Rashed

ব্যক্তিগত রেটিং- ৯.৩/১০

“A Journey You Would Love. A Story you can’t Stop Listening. It’s Something You will Never Forget More Like you Can’t forget ( That is Something the Creator Wants too; Never to forget it).”

ক্লাসিকাল মিউজিক যা এনিমটার মুল খোড়াক এবং আকর্ষন, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক এনিমটার একটা মুহুর্তকেও অহেতুক ভাবার ক্ষ্মতা আমাকে দেয় নি। এক কথায় এতটাই Beautiful যা একমহুর্তের জন্যও চোখকে পলক ফেলতে দেয়নি। এতটাই Deep যা এক মুহূর্তের জন্য অমনোযোগী হয়ে অন্যকিছু চিন্তা করার সুজোগ দেয় নি, এবং বসন্তের বাতাসের মত এমন এক অনুভুতির সৃষ্টি করেছে যা মনের সমস্ত অনুভুতির স্তর গুলোতে আপন ক্ষিপ্রতার সাথে প্রতিটা মুহূর্তে আঘাত হানতে থাকে, ভুলার মত নয় যা। এটা একটা ব্রিজ যা প্রত্যেক মানুষের স্মৃতির কিছু না কিছু অংশের সাথে যোগাযোগ স্তাপন করতে সক্ষম হয়ে ভিতর থেকে আলতো করে নাড়া দেয়। আবার উঠে দাড়ানোর, স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার অন্যতম উদাহারন এই এনিমটি।

shiga 2

Arima Kousei সবচেয়ে কম বয়সে সাকি প্রতিযোগিতা জ়েতা একমাত্র পিয়ানিস্ট। যে তার ক্যারিয়ারের শুরুতে আকাশচুম্বি সাফল্য অর্জন করে। সুক্ষ ও নির্ভুল ভাবে বাজানো যা পার্ফেক্ট স্কোর এনে দেবে ছিল তার মুল বৈশিষ্ট। কিন্তু মা মারা যাওয়া এবং নিজের বাজানো পিয়ানোর আওয়াজ শুনতে না পাওয়ার কারনে সেই অল্প বয়সেই পিয়ানোকে চির বিদায় জানায়। আরিমার জীবন আর সবার মত চলতে থাকে। কিন্তু সবকিছুর মাঝে থেকেও অদৃশ্য। একটু সমাজ বিকেন্দ্রিক। তারপরও তার দুজন ক্লোজ ফ্রেন্ড আছে যারা ওয়াতারি এবং সোয়াবে। সোয়াবে শুধু ক্লাস ফ্রেন্ডই না একদম ছোট্ট বেলার প্রতিবেশি বন্ধু। একজন মেয় হওয়া সত্ত্বেও সোয়াবের ছেলে সুলভ আচরন একটু আলাদা মাত্রাই দিয়েছে এনিমটাতে এবং আরিমার জীবনেও। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই আরিমার প্রত্যেক্টা প্রতিযোগিতার দর্শক সে। মা মারা যাওয়া পর বলতে গেলে ওই আরিমার খারাপ ভাল সব সময় পাশে থেকে আসছে। এবং মনে প্রানে চাইতে থাকে আরিমার জীবনে যেন আবার রঙ্গিন মাত্রা যোগ হয়।
গল্পটা এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ করেই একটা নতুন মোড় নেয় যা আরিমার ধুসর জীবনকে রোলার কোস্টার রাইড বানিয়ে দেয়। সোয়াবে আরিমাকে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করানোর জন্য আমন্ত্রন জানায়, যে কিনা ওয়াতারিকে পছন্দ করে। সোয়াবে আরো যোগ করে মেয়েটাও একজন মিউজিশিয়ান তাই আরিমার মিউজিক নিয়ে কথা বলার সুজোগ থাকছে। আরিমার সময় মতই দেখা করার স্থানে চলে যেয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কাছ থেকেই ভেসে আসতে থাকা মন কাড়া মেলোডিকার শব্দ শুনে উৎপত্তি স্থানের দিকে ছুটে যায় আরিমা। এবং ঐ মুহুর্ত থেকেই আরিমার জীবনের বিশাল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে এটা হয়তো আরিমা নিজেও জানতো না। ওখানে যেয়ে দেখে একটি সোনালি কেশি মেয়ে কিছু বাচ্চাদের সাথে মেলডিকা বাজাচ্ছে। মেয়েটা মেলডিকার সুরে হাসিতে, ছেলে মানুষিতে আরিমা অদ্ভুত রঙ দেখতে পায়, এমন কিছু যা সবসময় আরিমা মনে মনে খুজতে থাকে। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্যটি আরিমা ক্যামেরা বন্দি করবে। এমন সময় দক্ষিনা তীর্ব বাতাসে মেলডিকা বাজানোর ব্যঘাত ঘটে গল্পের নাইকা কাওরি মিয়াজানোর এবং একটি অপ্রিতিকর অবস্থায় কাওরি আরিমাকে ছবি তুলতে দেখলে আরিমার ব্যাড টাইমিং এর সিকার হয়, এবং কাওরির রুদ্র মুর্তির সম্মুক্ষিন হয়। এর পরপরই দৃশ্যপটে আগমন ঘটে ওয়াতারি ও সোয়াবের।
কাওরি মিয়াজানো আসলে তোয়া হলে একটা ভায়লিন কম্পিটিশনে অংশ গ্রহন করেতে যাচ্ছিল এবং ওরা সবাই কাওরির পারফর্ম দেখতে আসছিলা। পারফর্মেন্স শুরু হলে পুরো হল নিস্তব্ধ হয়ে যায় কাওরির মনমুগ্ধকর ভায়লিনের সুরে, যেখানে সে তার একোম্পানিস্ট পিয়ানো বাজককে,গ্রামারকে গ্রায্য করে পুরো নোটটা নিজে্র করে নিয়ে বাজাতে থাকে। আরিমা মনে বিশেষ রঙ্গে আন্দলিতে হয়ে উঠে, তবে সে এও বুঝতে পারে এটা দর্শকদের নাড়া দিলেও কম্পিটিশনের ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করে না। পারফর্মেন্স শেষ হলে বেরুনোর সাথে সাথে কাওরিকে দুটো বাচ্চা ছুটে এসে ফুল দেয়। ফুল নিতে নিতে আরিমা ওয়াতারি আর সোয়াবেকে দেখে কাওরি। কিন্তু সে ছুটে সবার আগে আরিমার কাছে আসে জানার জন্য যে ওর কেমন লেগেছে।

কাওরির এই আবির্ভাব আরিমার মনে গেথে যায় প্রথম দিন থেকেই। এরপর একদুপুরে ওতারি না থাকায় কাওরি আরিমার সাথে বের হয়ে এক রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ওখানে ওদের মনোযোগ ভাঙ্গে দুটো বাচ্চার Twinkle Twinkle Little star এর পিয়ানো ভার্সন বাজাতে শুনে। কাওরি বাচ্চাদের কাছে গেলে বাচ্চারে ওদের শেখানোর জন্য বলে কিন্তু কাওরি আরিমাকে দেখিয়ে বলে ওর কাছ থেকে শিখতে, আরিমা প্রথমে না করলে কাওরির হুমকির মুখে অসহায় হয়ে শেখাতে রাজি হয়। বাজানো শুরু করলে সবার নজর আরিমার দিকে পড়ে। আরিমা হারিয়ে যেতে থাকে এবং হুঠ করেই আবার আরিমার সামনে থেকে নোট গুলো হারিয়ে যেতে থাকে আর সেই সাথে সে তার বাজানো সুর আর শুনতে না পেয়ে তৎক্ষনাত বাজানো বন্ধ করে দেয়। যা খুব ভাল মতই কাউরির চোখে ধরা পড়ে।
কাহিনি মুলত নুতুন মোড় নেয় যখন কাওরি তোয়া কম্পিটিশানে অডিয়েন্স ভোটে সেকেন্ড রাউন্ডে উঠে। সে হুঠ করেই আরিমাকে তার একম্পানিস্ট হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং একমত জোর পুর্বক আরিমাকে রাজি করায় তার সাথে পারফর্ম করার জন্য, এটা জানা সত্তেও যে আরিমা পিয়ানো বাজাতে সক্ষম নয়। আরিমাকে দিয়ে রাত দিন প্রাক্টিস করিয়ে নিতে থাকে পারফর্ম করার জন্য যার মধ্যে বেশ কিছু নজর কাড়া মুহূর্ত আছে।

কম্পিটিশনের দিন পারফর্মের সময় আরিমা আবার খেই হারিয়ে ফেলতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে বাজানো বন্ধ করে দেয় কিন্তু কাওরি তার ভায়োলিন বাজানো চালিয়ে যেতে থাকে, এক পর্যায়ে কাওরিও বাজানো বন্ধ করে দেয়। তারপর আরিমাকে সাহস জাগানোর জন্য ওকে কিছু কথা বলে। পেছন থেকে যতই ভায়লিন বাজানো রত কাওরিকে আরিমা দেখে ততটাই মুগ্ধ আর সাহস পেতে থাকে। কম্পিটিশনের নিয়ম অনুযায়ি মাঝ পথে বাজানো বন্ধ করলে ডিকোয়ালিফাইড। এবং তারা দুজনই এটা ভাল করে বুঝতে পারে। কিন্তু কাওরির উদ্দেশ্য আসলে অন্যকিছু ছিল এটা আরিমা কিছুটা আচ করতে পেরেছিল তাই আরিমা তার সব দিয়ে বাজানো আবার শুরু করে শুধু মাত্র কাওরির জন্য, এরপর দুজন একত্রে মিলে একটি মিরাকল পারফর্ম করে যা সবাইকে মুগ্ধ করে দেয় এবং একটি আনফরগেটেবল পারফর্মেন্স গিফট করে সবাইকে। তবে পারফর্মেন্স শেষে কাওরি মুখ থুবড়ে পড়ে যায় স্টেজের উপর।

আরিমার জীবনের নতুন অধ্যায় , কাওরির হস্পিটালের জীবন শুরু এখান থেকে এবং এর প্রভাব সোয়াবের উপরও পড়ে, কাহিনী আরো অনেক মোড় নিতে থাকে আমাদের দেয় অসম্ভব কিছু সুন্দর মুহুর্ত যা আমি চাইব সবাই নিজেরা দেখে অনুভুতিটা নেক, আমার মতই।

বিঃদ্রঃ এপ্রিলের বলা মিথ্যাটা কিন্তু পুরো এনিমটা দেখেই জেনে নিতে হবে। যদিও আমি মাঝ পথে আচ করতে পেরেছিলাম

Tsuritama অ্যানিমে রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tsuritama.full.1107613

জনরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ, স্পোর্টস, সাই-ফাই

“Even if the world ends tomorrow, I just want to fish!”

আচ্ছা, আপনারা কেউ কখনো বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন? কেমন লাগে ব্যাপারটা? কাঠির গায়ে সুতো বেঁধে পানিতে টোপ ফেলে চুপ করে বসে বোরিং সময় কাটানোর মাঝে কি এমন থাকতে পারে, যা নিয়ে হারু আর কোকো এত হাইপড? কিংবা বড়শিতে মাছ গাঁথার পর সেটাকে খেলিয়ে ডাঙায় তোলা কি এমন কঠিন কাজ, যার জন্যে নাতসুকিকে “প্রিন্স” উপাধি দেয়া হয়েছে?কি এমন রয়েছে এই মাছধরাতে, যে দুনিয়া উল্টে গেলেও কিছু যায় আসে না??

কিংবা মনে করুন, আপনি একজন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট। কিন্তু অনেক লোকজনের সামনে আপনি অত্যন্ত অকওয়ার্ড ফিল করেন। তাও কষ্টেসৃষ্টে ফার্স্ট ইমপ্রেশনটা ঠিক রাখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে গেলেন। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে শুনতে আপনি স্পীচ দেয়া শেষ করে কেবল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হল রাস্তায় দেখা হওয়া সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন ছেলেটি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরো ক্লাসের সামনে, হাত নেড়ে এনোশিমা ডান্স করা অবস্থায়!! গেল আপনার সাধের ফার্স্ট ইম্প্রেশন!

HorribleSubs_Tsuritama_-_10_720p.mkv_snapshot_04.04_2012.06.16_13.44.05
অথবা, সবসময় একটা হাঁস বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হারুর ব্যাপারে সে এত সতর্ক কেন? ইউকি আর নাতসুকিকে জোর করে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি ছাড়া তো আর তেমন কিছুই করেনা সে। কিংবা হারুই বা সমুদ্রে মাছ ধরতে এত আগ্রহী কেন? এনোশিমার প্রাচীন লোকগাঁথার সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে?

অ্যানিমেটার শুরুটা এমনই ওলট পালট মার্কা, কোথা থেকে কি হচ্ছে আমি কিছু ঠাহর করে উঠতে পারছিলাম না। মাথায় মাছের জার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন হারুর কাজকর্ম দেখে হাসি পাচ্ছিল, আবার ওর সরলতা দেখে মায়াও লাগছিল। কিন্তু যত এগোলাম, তত যেন কাহিনীটা আমাকে ভেতরে টানতে থাকল! ভেবেছিলাম কি, আর শেষে হলটা কি! সিম্পল একটা মনকে খুশি করে দেয়া হাসিখুশি স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে হঠাৎ হয়ে গেল একটি জমজমাট রূদ্ধশ্বাস সাইফাই অ্যানিমে! এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপারটি হল, এতকিছুর মধ্যেও অ্যানিমেটা আমার মুখ থেকে একবারের জন্যেও হাসিটা মুছতে দেয়নি!
tsuritama_by_squ_chan-d56d05l
অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত সুন্দর। উজ্জ্বল, ঝলমলে রঙ ব্যবহার করে এনোশিমা নামক সমুদ্র উপকূলের শহরটিকে খুব মনোমুগ্ধকর উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে; দেখে যে কারও মনে হতে বাধ্য, একবার যদি এনোশিমায় যেতে পারতাম! ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ উদ্ভট, আর এই উদ্ভট ডিজাইনের কারণেই যেন অ্যানিমেটা প্রাণ পেয়েছে। নাতসুকির মাছধরা বিষয়ক জ্ঞান, ইউকি ও হারুর এ বিষয়ে অজ্ঞানতা, শুধুমাত্র এই ফিশিং এর কারণে চারটা ছেলের জীবনে পরিবর্তন, তাদের মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে দেখলে নিজের অজান্তেই তাদেরকে আপন মনে হতে থাকবে!

অ্যানিমেটার ওএসটি খুবই চমৎকার, ওপেনিং এন্ডিং একটাও স্কিপ করার মত না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্রতিটা সিচুয়েশনে পার্ফেক্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাছধরা থেকে শুরু করে ক্লাইম্যাক্স, সবখানেই নিখুঁত আবহ তৈরি করেছে এর ওএসটি।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা আবার খুবই ভাল লেগেছে, ভিন্নধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ ও সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ দেখে আরও বেশি ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরেও তাপিওকার “ডাক” মনে করে আমি হাসব, নাতসুকি, ইউকি, হারু আর ইয়ামাদার বন্ধুত্বের কথা মনে করে আনন্দ পাব। আর ক্লাইম্যাক্সের সেই লোম খাড়া করা মূহুর্তগুলো তো কখনোই পুরনো হবার নয়!

tsuritama_wallpaper_by_chatlantic-d5974r8

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ২৭তম পাঠ

**কানজি কানজি কানজি**
আজকের কানজি “bird” এর কানজি ..উচ্চারণ “তোরি/চৌ”

tori

“তোরি” মানে bird (পাখি)…

“কো তোরি”-small bird
“নিওয়াতোরি”-chicken
“তোরিনিকু”-chicken meat
“ইয়াকি তোরি”-grilled chicken
“তোরিকাগো”-birdcage (ওয়ানপিস যারা দেখে তাদের নিশ্চয় দফরামিঙ্গোর বদৌলতে এই শব্দ শিখে যাওয়ার কথা 😉 )
“তোরিহাদা”-goosebumps

এসব ক্ষেত্রে “তোরি”র জায়গায় এই কানজি বসে…

কয়দিন আগে idioms and phrase এর লেসনে একটা idioms শিখাইছিলাম “ইসসেকি নি চৌ”-এক ঢিলে ২ পাখি মারা … এইখানে “চৌ”এর জায়গায় পাখির কানজি টা বসে..

আজকে এতটুকুই থাক..মাতা নে 🙂

Code Geass রিভিউ — Amor Asad

Code Geass: কেবলই কী অ্যানিমে? নাকি অননুভূত অভিজ্ঞতার রূপকও?
▬▬
Code Geass সম্পর্কে লেখার আগে একবার উইকি আর MAL’এ ঢুঁ মেরেছিলাম প্রোডাকশন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে। অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই জেনে নেয়া দরকার ছিল কোড গিয়াস অরিজিনাল সিরিজ নাকি মাঙ্গা অ্যাডাপশন। যেহেতু কোড গিয়াসের কোন মাঙ্গা ছিল না, তাই আলাদা কোন মানদণ্ড নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

CG1Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’র প্রশংসা করতে হবে। গোপন এক সংস্থা, নেপথ্যের ভিজিলান্টে নায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলির মাঝে মূল্যবোধের পার্থক্য – বলা চলে সাদামাটা প্লট নিয়ে আগাচ্ছিলেন দুজন। অথচ সেই সাদামাটা প্লটকেই ব্যপক রূপ দিয়ে সিরিজকে এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু তো দিয়েছেনই, সেই সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবনার উদয় হবার সুযোগও রেখেছেন। এই লেখায় আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু হাইপোথিসিস এবং কাউন্টার হাইপোথিসিস প্রস্তাব করব। এছাড়াও থাকবে ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দলাগার কিছু টুকরো কথা।

Code Geass এর ঘটনাবলী অল্টারনেট টাইমলাইনের, যেখানে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার গোটা পৃথিবীর উপর একছত্র, একনায়কতন্ত্র কায়েমের তালে আছে। এটা স্পষ্টত যে এই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার আমাদের পৃথিবীতে অ্যামেরিকা; মানচিত্রে খেয়াল করলে দেখা যায়, USA এবং Latin America দুটো মিলেই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। সুতরাং ব্যপারখানা দাঁড়াচ্ছে, অ্যামেরিকা ঔপনিবেশিকের ভূমিকায় আসীন এবং এক পর্যায়ে জাপান দখল করে নেয়।

CG2

 

এই দৃশ্যপটের পেছনে কিছু ব্যপার থাকতে পারে।
এক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়ানদের উজ্জ্বীবিত করতে এবং দলে টানতে সত্য-মিথ্যার মিশেলে কিছু অ্যর প্রোপাগান্ডা ছড়ায় জাপান। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, পুঁজিবাদ ছিল যার উপজীব্য বিষয় এবং ডিকটেটরশিপটুকু বাদ দিলে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার পুঁজিবাদী এবং ঐপনিবেশিক মনোভাবের কোন এক জাতির অর্জনের চুড়ান্তরূপ হিসেবে ধরা যায়। যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায় যদি পরাশক্তিরা পৃথিবী ভাগের তালে থাকত তবে হয়ত এরকমই হতো। এই থিওরীর পিছে আরেকটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল Nagasaki Arch, সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ এপিসোডে ক্ষণিকের জন্য দেখানো হয়, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের জাপান আক্রমণের সময়কালে। এটা সেই আর্ক যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নাগাসাকিতে ফেলা অ্যাটমিক তাণ্ডবের মাঝেও আস্ত ছিল। কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ডেও চারপাশে ধ্বংসলীলা নিয়ে সদর্পে টিকে আছে। সোজা কথায়, ডিফরেন্ট টাইমলাইন, অ্যামেরিকা ইনভেডার, জাপান নির্দোষ। (পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ আমি নিউক্লিয়ার অ্যাটাককে জাস্টিফাই করছি না, ক্রাইম অনুযায়ী জাপানকে খুব বেশিরকম আর নিষ্ঠুর মূল্য দিতে হয়েছে) তবে এই থিওরীতে যে ত্রুটি নেই সে দাবী করছি না, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান-জার্মান-ইতালি জোট হেরে গেলেও, জাপানের প্রোপাগান্ডা অনুযায়ী প্রস্তাবিত সিস্টেম (ব্রিটানিয়ান) বাস্তবে রূপ নেয়ার সুযোগ ছিল না। এটা ছিল স্রেফ দলভারী করার প্রয়াসমাত্র, নিদেনপক্ষে যুদ্ধচলাকালীন সময়ে। ওই সেন্টিমেন্ট এতদিন পর কেউ অ্যানিমেতে তুলে ধরবে বলে মনে হয়না। তাছাড়া সেসময় আরেক পরাশক্তি ছিল USSR, কোড গিয়াসের দুনিয়ায় রাশিয়ার অস্তিত্ব নেই।

দুই, একবিংশ শতাব্দীর কিছু আগে থেকে এবং তারও আগে কোল্ড অ্যর চলাকালীন সময়ে অ্যামেরিকা কাগজে কলমে সাধু সাজলেও নানা ছুতোয় বিভিন্ন দেশের অ্যাফেয়ার্সে বাগড়া দিয়েছে এবং দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেকাংশ বিভিন্ন সময়ে ইউএস সরকারের দখলে ছিল এবং এখনও আছে। সেই সাথে বন্ধু রাষ্ট্রের উপরও বড়ভাইয়ের মতো আচরণ অদৃশ্য এক কলোনিস্ট জায়ান্টের কথা মনে করিয়ে দেয়। হতে পারে Code Geass’এ এই জায়ান্টের ফিজিকাল এবং ভবিষ্যৎ এক্সট্রিম রূপ ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। ২০০৬ সালে নির্মিত কোড গিয়াসের প্লট সময়কাল ২০১৭ করাটা কেবলমাত্র সাইফাই রূপ দেয়নি, এই ভীতিটার খসড়া একটা রূপও প্রদান করেছে। আবারও, ডিকটেটরশীপটুকু বাদ দিয়ে। সরাসরি আঙ্গুল তোলা থেকে বিরত থাকতে এবং সাইফাই/ফ্যান্টাসি রূপদানে গিয়াস পাওয়ার আর একনায়কতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল।
অ্যানিমে সিরিজ কম দেখা হলেও অ্যানিমে মুভি দেখা হয়েছে বেশ, এবং আনুপাতিক হারে দেখলে এমন সুপ্ত কোন প্লট থাকার সম্ভাবনা খুব কম হলেও একেবারে বাদ দেয়া যায় না। এমনকি জিবলি স্টুডিও এর বাইরে নয়। গেলো বছর দুয়েক আগে, জাপানিজ এয়ারক্রাফট এঞ্জিনিয়ার জিরো হোরিকোশির বায়োপিক The Wind Rises এ আমরা দেখেছি তরুন এক ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন সফল করার আপ্রাণ প্রয়াস আর সেই সাথে নিখাদ দেশপ্রেম আর জাতিগত আত্মসম্মানবোধের মিশ্রণ। কিন্তু পর্দার আড়ালে এই সত্যটুকু চাপা পড়ে গেছে যে, জিরো হোরিকোশির ফাইটার প্লেনগুলো ঠিক শান্তি বজায় রাখতে যায়নি, বরং জার্মান অ্যালায়েন্সের অংশ হিসেবে জাপান আক্রমণকারীই ছিল। গ্রুপে Md Asiful Haque ভাইয়ের ব্যপক এক রিভিউ আছে এই অ্যানিমে নিয়ে।

তিন, আবারও সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড অ্যরের দারস্থ হতে হবে তবে ভিন্ন দৃষ্টিকোণে। হিটলার, তার নাৎসি সাম্রাজ্যের সাথে ব্রিটানিয়ান সম্রাট চার্লসের ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের সেন্টিমেন্ট প্রায় সদৃশ বলা চলে। হিটলারের আরিয়ানদের মতই ব্রিটানিয়ানরা অন্য জাতিকে অস্পৃশ্য এবং নীচু মনে করে। আরিয়ানিজমের (Aryanism) সূতিকাগার ছিল জার্মানি, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারও তাই। লেখক ও পরিচালক Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’কী তবে কোড গিয়াসে অ্যান্টি-নাজিজম সেন্টিমেন্ট রেখেছেন? এই সেন্টিমেন্টের জন্ম কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের পক্ষে যুদ্ধ করার অপরাধবোধ থেকে? কে জানে।
আমি স্রেফ পয়েন্টগুলো উল্লেখ করলাম, গ্রহণ বা বর্জন করতে বলা আমার উদ্দেশ্য না। এগুলো হাইপোথিসিস, আগেই বলেছি। আবার অনেকটা স্বগতোক্তির মত। বাকিটা পাঠকের উপর নির্ভর করবে।

►দর্শক প্রতিক্রিয়া◄
এই অংশ সম্পূর্ণই অ্যানিমের স্টোরি রিলেটেড। এবং কিছু মাইল্ড স্পয়লার থাকবে, যিনি এখনও কোড গিয়াস দেখেননি, সামনে না এগোতে অনুরোধ করছি।

–**স্পয়লার অ্যালার্ট**–

কোড গিয়াস দেখতে গিয়ে এক ধরণের নতুন অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছি। যখন দেখা শুরু করেছি, একের পর এক এপিসোড দেখে গিয়েছি বিরতিহীন। যখন বিরতি নিয়েছি, আবার দেখতে ইচ্ছে করেনি, একরকম অনীহা কাজ করেছে। আবার যখন দেখতে বসেছি, বিরতিহীন ভাবে দেখেছি। ইন এ সেন্স, কোড গিয়াস মাদকের মত ছিল।
সবচেয়ে যে ব্যপারটা দোলা দিয়েছে, তা হল গল্পের আনপ্রেডিক্ট্যাবিলিটি। কিছু কিছু ইভেন্ট আন্দাজ করতে পারলেও বেশীরভাগেই চমকে গিয়েছি। সুপার থ্রিলিং আর টুইস্ট ভর্তি শো’ হিসেবে কোড গিয়াস সবার শীর্ষে থাকবে কোন সন্দেহ নেই। সেই সাথে ক্যারেক্টার গুলোর তারিফ করতে হবে, এক্কেবারে নিখুঁত চিত্রায়ন। যেমন, Suzaku’কে হটাৎ করে পিষে ফেলতে চাওয়ার মত পাওয়ারফুল ইমোশন এমনি এমনি তৈরী হয়না। অথচ আইডিওলজিকালি সুজাকুর স্ট্যান্ড কোনভাবেই ফেলনা ছিল না। রক্তারক্তি থামানোই মূল ইচ্ছে ছিল সুজাকুর, তাতে সার্ভোভৌমত্ব যায় যাক। কাপুরুষত্ব? হতে পারে; কিন্তু ভুল নয়।
আচ্ছা, ভিন্ন একটা কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ড বিবেচনা করা যাক যেখানে বর্তমান পৃথিবীর দেশসমূহের বদলে ফিকশনাল কিছু ল্যান্ড রয়েছে এবং এরিয়া ১১ শুরু থেকেই ব্রিটানিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত। তাহলে এরিয়া ১১’কে স্বাধীন করতে গড়ে ওঠা ব্লাক নাইট অর্গানাইজেশন আর জিরো আদতেই টেররিস্ট এবং সুজাকু আদতেই হিরো। স্রেফ ন্যাশনালিস্ট সেন্টিমেন্ট দর্শকের মনে সুজাকুর অবস্থান পাল্টে দিয়ে জিরোকে হিরো হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
এই পর্যায়ে প্রশ্ন করতে হবে, জিরো আদতেই হিরো ছিল কিনা। জিরো বা ‘লুলুচ ভাই ব্রিটানিয়া’র (ধন্যবাদ ইয়ামি আপু, নামটা পছন্দ হইছে) কোন ইচ্ছেই ছিলো না পাবলিক সার্ভিস দেয়ার, তার সবগুলো মোটিভ পারসোনাল এবং পারসোনাল গেইনেই তার সব প্লান। হ্যাঁ, সেগুলো হারানো জাপানের দমিত জনসাধারণের পক্ষেই গেছে কিন্তু সেটা জিরোর উদ্দেশ্য ছিল না এটা পরিস্কার। তাই, জিরো আসলে ভিলেইন। একেবারে শেষে আত্মাহুতি দিয়ে ভিজিলান্টিজম আর জাস্টিস আপহোল্ড করার চিহ্ন হিসেবে জিরো চরিত্রকে হিরোর মর্যাদায় উঠিয়ে দিয়ে গেলেই লুলুচের ক্রাইমগুলো মাফ হয়ে যায় না। ইনফ্যাক্ট, গিয়াস ব্যবহার করাটাই ক্রাইম, সুপারপাওয়ার নয়। জিরো তাই আমার চোখে সুপারহিরো তো নয়ই, হিরোও নয়।
হিরো সুজাকুও নয়। সেও ব্যক্তিগত আবেগের বশবর্তী হয়ে আনুগত্য পাল্টেছে বারংবার। একজন ন্যাশনালিস্টের চোখে সুজাকু রাজাকার, একজন অ্যানারকিস্টের চোখে সুজাকু অ্যান্টিহিরো, একজন ইউটোপিয়ানিস্টের চোখে সুজাকু হিরো।

লেখক ও পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিলো মূল দুই ক্যারেক্টারের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্দ্বন্দ্ব তুলে ধরা।
স্যালুট দিয়ে বলতে হবে, তারা দারুণভাবে সফল।

তবে মেকিং এ কিছু ত্রুটি ছিল। কিছু দৃশ্যের ব্যাখ্যা না চাইতেই গরুর রচনা পেশ করা হয়েছে, কিছু দৃশ্য গ্যাপ দিয়ে দেখিয়ে দর্শকের কল্পনাশক্তির উপর ভরসা করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে খুঁটিনাটি বিষয়গুলি লক্ষ্য করতে পছন্দ করি – তাও আমার কাছে রোলো, ভিলেটা আর জিরোর চুক্তির ব্যপারটা ঝাপসা – কোত্থেকে হুট কী হয়ে গেল। এরকম উদাহরণ আরো দেয়া যাবে।
আবার গল্পের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, হটাৎ করেই কাহিনীর রেশ চেপে ধরে ধীরে ধীরে এগোনো হয়েছে। এইরকম ছন্দপতনগুলি পছন্দ করতে পারিনি। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হবে প্রথম সিজনের শেষ এবং দ্বিতীয় সিজনের শুরুর সময়টা। এতই বিরক্ত হয়েছিলাম, কোড গিয়াস দেখা বন্ধ করে অ্যাটাক অন টাইটান দেখতে বসেছিলাম।

তবে এসব ট্রিভিয়াল ব্যপার ওভারলুক করতে রাজী আমি। অন্তত সম্পূর্ণ সিরিজ শেষ করার পর সেটার আফটার ইফেক্ট হিসেবে যে ঘোরের ভীতর ছিলাম, তার জন্যে হলেও। খুব বেশি মোশন পিকচার দর্শককের অবচেতনকে আপন করে নিতে পারে না। এইটুকু ক্রেডিট দিতেই হবে কোড গিয়াসকে।

আমার রেটিং ৮.৭/১০

CG3

মুভি রিভিউ: Redline (2009) — Abdullah Ar Rayhan

মুভি রিভিউ — Redline (2009)

Director: Takeshi Koike
Producers: Madhouse, Anchor Bay Films
Genres: Action, Cars, Sci-Fi, Sports
Rating: R+
MAL Score: 8.35

Redline

জনরা দেখেই মুভির প্লট সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পেয়ে যাওয়ার কথা। এ এক দূর ভবিষ্যতের গল্প। মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। এলিয়েনদের সাথেই সহাবস্থান তাদের। অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি হোভার-কার যখন স্বাভাবিক গাড়িগুলোর স্থান দখল করে নিচ্ছে, কেউ কেউ তখনও সর্বস্ব দিয়ে রেস করে যাচ্ছে। জেপি (JP) এমনই একজন রেসার। এই রেসে তার টিমমেট বন্ধু ফ্রিসবি (Frisbee) যার কাজ জেপি-র গাড়ি প্রস্তুত করে দেয়া। মুভির শুরু হয় ইয়েলো লাইনে হওয়া অ্যাকশনে ভরপুর এক রেস দিয়ে যেখানে দেখা যায় শুরুতে পিছিয়ে থাকা সত্তেও শেষ কোয়ার্টারে সবাইকে পেছনে ফেলে ঠিকই এগিয়ে যায় জেপি। কিন্তু বিধিবাম, মাফিয়ার চাপে আগে থেকেই ফিক্স করা রেসে জয়ী হওয়া তার সাধ্যে নেই। জিতে গিয়ে পরবর্তী রেডলাইন রেসে নিজের জায়গা করে নেয় মুভির আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র সোনোশি (Sonoshee), ছোটবেলা থেকেই যার লক্ষ্য রেডলাইন রেসে জেতা। রেডলাইন, গ্যালাক্সির সবচেয়ে বিখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড রেস, তাদের পরবর্তী ভেন্যু ঠিক করে বিপজ্জনক রোবোওয়ার্ল্ডে। হেরে গিয়েও কয়েকজনের ড্রপআউটের সৌজন্যে জেপি-ও জায়গা পেয়ে যায় রেডলাইনে। প্রশ্ন হল ফিক্সিং বাধা অতিক্রম করে জেপি কি রেডলাইন জিততে পারবে? তাহলে সোনোশি-র আজন্ম লালিত স্বপ্নের কি হবে? রোবোওয়ার্ল্ডের কর্তাব্যক্তিরাও বা কেন তাদের গ্রহে এ রেস হতে দিতে নারাজ?

এ মুভি নিয়ে কিছু লিখতে হলে প্রথমেই আসবে আর্টওয়ার্কের কথা। এখানে উল্লেখ্য, মুভিটি প্রোডাকশনে সময় লেগেছে সাত বছর আর এতে ব্যবহার করা হয়েছে হাতে আঁকা ১ লক্ষেরও বেশি ড্রয়িং। নিঃসন্দেহে বলা যায়, All those hard works paid off in a beautiful, mind blowing way. প্রথম দৃশ্য থেকেই আর্টস্টাইল নজর কেড়ে নেবে যা দেখলে একটা কথাই মনে আসে– ‘চোখ ধাঁধানো’। দেখে মনে হবে একেবারে কমিকবুক থেকে তুলে আনা। এত কালারফুল আর ভিন্নধর্মী আর্টওয়ার্ক আর কোথাও চোখে পড়েনি। আর্টস্টাইলই একে অন্য যেকোন অ্যানিমেশন থেকে আলাদা করে রাখবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অ্যাকশন। এক অর্থে পুরো মুভিই অ্যাকশনে ভরপুর, আর তা ফুটিয়ে তোলাও হয়েছে যথোপযুক্ত ভাবে। বারবার দেখার মত। এত ফাস্ট-পেসড যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্লো-মোশনে দেখার দরকার পড়ে। ভিন্নধর্মী আর্টস্টাইল আর দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়্যেন্সের এ মুভিটি এক কথায় একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এতই যে, রেসে কে জিতবে বা হারবে সে চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু অ্যাকশন দেখাতেই নিমগ্ন হয়ে যাবেন। [এখানে একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার শেয়ার করি। মুভিটা আমি প্রথমে ডাউনলোড করেছিলাম নরমাল 1080p Bluray প্রিন্টে যা সাইজে ছিল ১.৬১জিবি, কিন্তু সাথে আরেকটু ভালো কোয়ালিটি পাওয়ার আশায় ৭.২১জিবি-র আরেকটি ফাইল ডাউনলোড দিয়ে রেখেছিলাম। মুভি দেখার মাঝপথে এসে দ্বিতীয় ফাইলটি ডাউনলোড কমপ্লিট হয়; আমিও বেটার কোয়ালিটি পেয়ে আবার প্রথম থেকে দেখা শুরু করি। এ কথা বলার একটাই কারণ, মুভিটি ভিজ্যুয়ালি এতই সুন্দর যে ইমিডিয়েটলি আবার প্রথম থেকে দেখতে একটুও দ্বিধা করিনি।]

আর্ট আর অ্যানিমেশনের পাশাপাশি সাউন্ডের কথাও বিশেষ করে বলতে হয়। কিছুটা ইলেক্ট্রিক ঘরানার মিউজিক রেস আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে পুরোপুরি মানিয়ে গেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে কানফাটানো সাউন্ডের সিঙ্ক্রোনাইজেশনও পারফেক্ট। এখানে আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। মূল চরিত্রগুলোর ভয়েস দেয়ার ক্ষেত্রে সত্যিকারের অ্যাক্টরদের উপরে জোর দেয়া হয়েছে। জেপি-র কন্ঠ দিয়েছেন জাপানি টিভি অভিনেতা Takuya Kimura, সোনোশি-র কন্ঠ দিয়েছেন নামী অভিনেত্রী Yû Aoi আর ফ্রিসবি-র কন্ঠ দিয়েছেন বিখ্যাত Tadanobu Asano যিনি হলিউডেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বোঝাই যায়, আর্ট আর সাউন্ডে কোন ছাড় দেয়া হয়নি।

মুভিটির স্টোরি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করতে গেলে একই সাথে বলতে হয় দুর্বল কিন্তু মানানসই। দুর্বল দিকগুলোর মধ্যে আছে রোবোওয়ার্ল্ডে দেখানো কিছু সাব-প্লট যার সাথে মূল কাহিনীর সরাসরি কোন যোগাযোগ নেই, উদ্দেশ্যহীনতা এবং ক্লিশে ভাব। একই সাথে মানানসই বলার কারণ হচ্ছে রেসিং মুভিটিতে মূল ফোকাস এন্টারটেইনধর্মী অ্যাকশন বলে এর বেশি কিছু যোগ করার সুযোগও নেই। তবে রেসগুলো দেখার সময়কার অ্যাড্রেনালিন-রাশ আপনাকে এ দুর্বলতা অনেকাংশেই ভুলিয়ে দেবে। অপ্রয়োজনীয় সাব-প্লট বাদ দিয়ে দৈর্ঘ্যে আরেকটু কমিয়ে দিলে মুভিটি আরো উপভোগ্য হত, সন্দেহ নেই।

কারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সেভাবে করা হয়নি। কেবল জেপি আর সোনোশি-র কিছু ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলোর গভীরতা আরেকটু বাড়ানো যেত কিন্তু মুভিটি-তে সম্ভবত ইচ্ছে করেই কোন সিরিয়াসনেস আনা হয়নি।

শেষ কথা হচ্ছে সিরিয়াস বা ইন্টেন্স কোন কিছুর আশা করলে হতাশ হতে হবে কিন্তু পিওর ফান আর উত্তেজনাময় অ্যাকশন দেখার ম্যূডে থাকলে ১০০ মিনিট পুরো ১০০ভাগই উসুল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একটি কথা– যত ভালো কোয়ালিটি আর বেশি সাউন্ড নিয়ে দেখা যাবে তত ভালো লাগবে।
রেটিংঃ ৭.৭৫/১০ (কাহিনী আর চরিত্রায়ন আরেকটু ভাল হলে ৯ দেয়া যেত।)

IMDb(7.5): http://www.imdb.com/title/tt1483797/

Torrent Link: http://extratorrent.cc/torrent/2484482/%5BBSS%5D+REDLINE+%5B1080p%5D.mkv.html

Direct Download+Streaming Link: http://kissanime.com/Anime/Redline/Movie-BSS?id=66166

MEGA Link: https://mega.nz/#!lsh21a7D!NvlnGBfw71xdKIRR6eomXUhYqpkZ5mLiUC5EEIDgKfs

 

অ্যানিমে রিভিউঃ বারটেন্ডার; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

lunar-bartender-01-x2641280x7201639e648-mkv_snapshot_04-25_2011-03-19_02-30-54

আজ দেখে শেষ করলাম “বারটেন্ডার”। রাফিউলের ভাষায় বলি, “বাউরে বাউ, কি যে দেখলাম এইটা!!” হার্ড লিকারের উপর কেউ পিএইচডি করতে চাইলে এই অ্যানিমে দেখা আবশ্যক!!

সাসাকুরা রিউ একজন বারটেন্ডার। টোকিও শহরের গিনজা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বার, “এডেন হল।” রিউ অত্যন্ত দক্ষ একজন বারটেন্ডার, যে কারণে তার তৈরি করা ককটেলকে বলা হয় “গ্লাস অফ গড”। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যারেক্টারিস্টিকের এবং ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল স্ট্যাটাসের মানুষ আসে বারে, আর এক গ্লাস ককটেলের সাথে উঠে আসে তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। সাসাকুরা রিউ নৈপুণ্যের সাথে ককটেলের গ্লাসে ফুটিয়ে তোলে তার শিল্পকর্ম, আর সেইসাথে এর সাথে সম্পর্কিত একেকটি অদ্ভুত গল্প দিয়ে মুগ্ধ করে অতিথিকে, কারণ, একজন বারটেন্ডারের যে দায়িত্ব এটা, অতিথি যেন যাওয়ার সময় একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি সাথে করে নিয়ে যান।

অ্যানিমের কাহিনী এপিসোডিক, প্রতিটা পর্বে বিভিন্ন ধরণের ককটেল আর তার সৃষ্টির ইতিহাস বেশ ইন্টারেস্টিংভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সাসাকুরা রিউ যখন ককটেলগুলো বানায়, ঐ দৃশ্যটা বেশ অ্যামেজিং। আর প্রতিটা মানুষের মনের ভেতরের কথা সে যেভাবে টেনে বের করে আনে, এটাও ইন্টারেস্টিং।

অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অনেক ভাল, সঙ্গত কারণেই “ডেথ প্যারেড” এর কথা বারবার মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন চমৎকার, আর ওএসটিও বেশ ভাল। এন্ডিং সংটা একবারও স্কিপ করতে পারিনি।

সবমিলিয়ে খুবই এক্সেপশনাল এবং ইন্টারেস্টিং একটি অ্যানিমে এটি, ১১ টা এপিসোড বেশ উপভোগ করেছি।

12022554_555071621324015_3926291896555078707_o

Behind the Voices – 04

আজকের সেগমেন্টটা বলতে পারেন একটু স্পেশাল। কারণ আজকে যে দুইজনকে নিয়ে লেখছি তারা বাস্তব জীবনেও বিবাহিত দম্পতি। আনিমে জগতে তাদের দুজনের কণ্ঠ দেওয়া এমন কাপল হল কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়াxশিকি । যাই হোক, আজকের সেগমেন্টটি পড়ে দেখুন এবং কোন মতামত থাকলে প্রকাশ করুন।

btv 1

সুযুমুরা কেনিচি

এক অনন্য কণ্ঠ নিয়ে খুব অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করেন যারা তাদের মধ্যে সুযুমুরা কেনিচি একজন। আমার প্রিয় কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যেও তিনি একজন। তিনি সাধারণত দর্শকের নজরে পরে এবং তাদের প্রিয়ও হয়ে উঠে এমন সব চরিত্রের কণ্ঠ দেন। কারণ এক অনন্য চরিত্রের সাথে তো আর সাধারণ কণ্ঠ মানায় না।

আমার কাছে তার যে চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে তা হল ডি.গ্রে ম্যানের লাভি, কারা নো কিয়োকাই মুভি সিরিজের মিকিয়া, কুরোকো নো বাস্কেটের মুরাসাকিবারা, প্রিজন স্কুলের শিঙ্গো, ম্যাজাই-এর কা কৌবুন এবং ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের হিকারু( যদিও চরিত্রটার কিছু সমস্যা আছে :v ) । তার আরো অনেক অসাধারণ রোল আছে তা তো নিঃসন্দেহে বলা যায়। এছাড়া তার পোকেমন, ডিজিমন, বেইব্লেডেও রোল ছিল, মূখ্য কোন চরিত্র না অবশ্য । সাধারণত তার কণ্ঠ আমাদের বাচ্চাকালেই শুনার কথা কিন্তু দঃখের বিষয়, এই আনিমেগুলোতো আমরা ইংরেজি ডাব্ড দেখেছি ।

kenichi suzumura

তার গাওয়া গানগুলাও অসাধারণ। বিশেষ করে শিরোই কারাসু (https://goo.gl/XQk3y2 এইটা কিন্তু কোড ব্রেকারএ এন্ডিং ) এবং মেসেন্জার ( https://goo.gl/5Atsyy ) এই দুইটা গান আমার খুব প্রিয়। এছাড়া তার আসুনারো ( https://goo.gl/YnnqL6 ) এবং ইন্টেনশন( https://goo.gl/2r8DmH ) এই দুইটা গানও আমার অনেক ভালো লাগে। তার আরও অনেক ভালো গান আছে শুনে দেখতে পারেন।

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে তার জন্ম। কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তার অভিষেক ১৯৯৪ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে। এই বছরও অনেক ভালো রোল পেয়েছেন তিনি আর আসা করি সামনেও পাবে।

kenichi suzumura 2

সাকামোতো মায়া

দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র তুলে ধরতে পারেন এমন কণ্ঠ অভিনেত্রী, এই ক্ষেত্রে আমার মতে যাকে শ্রেষ্ঠ বলা উচিৎ তিনি হলেন সাকামোতো মায়া। তিনি সুধু একজন অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রী না সাথে দক্ষ গায়িকাও।

আমার দেখা তার যে রোলগুলো খুব ভালো লেগেছে তা হল কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যানচাইজের রিয়োগি শিকি, মোনোগাতারি সিরিজের শিনোবু, ঔরান হাইস্কুল হোস্ট ক্লাবের ফুজিওকা হারুহি, কুরোশিৎসুজির সিয়েল ফ্যান্টোমহাইভ, সোউল ইটারের ক্রোনা, ম্যাজাই-এর শেহেরযাদে এবং আর্স্লান সেঙ্কির ফারাঙ্গিস। এছাড়াও তার আরও অনেক ভালো রোল আছে ।

maaya sakamoto 1

আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। তামায়ুরা, গোস্ট ইন দ্যা শেল: অ্যারাইজ অল্টারনেটিভ আর্কিটেকচার, সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু এই আনিমেগুলার ওপেনিং এবং এই সিজনের নতুন আনিমে গাকুয়েন তোশি আস্টেরিস্কের একটি এন্ডিং তার গাওয়া। এছাড়া সাধারণত তার গাওয়া গানগুলাও আমার খুব ভালো লাগে। এর মধ্যে আছে ‘Melt the snow in me'( https://goo.gl/WTXnR3 ), আই সুরু কোতো ( https://goo.gl/JsXg92 ), ‘Gravity’ ( https://goo.gl/7c58f4 ) এবং ‘Platinum’ (https://goo.gl/SrwE6T ) । জাপানির পাশাপাশি ভালো পরিমাণ ইংরেজি গান তার আছে এবং তার ইংরেজি গানগুলো সুদ্ধ উচ্চারণ-ভঙ্গিতেই গাওয়া ।

যেখানে সাধারণ কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিষেক ঘটে ১৮-২১ বছর বয়সে সেই তুলনায় তার কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে অভিষেক মাত্র ১২ বছর বয়সে । ১৯৮০ সালের ৩১ মার্চ তার জন্ম। অনেক দক্ষ একজন কণ্ঠ অভিনেত্রী তিনি, আশা করি সামনে তার আরও ভালো রোল পাবো।

maaya sakamoto 2

Movie Time With Yami – 66

5cm

Name: Byousoku 5 Centimeter / 5 Centimeters per Second
Duration: 3 episodes- 22 min per episode
MAL Score: 8.19
Ranked: 311
Genres: Drama, Romance, Slice if Life

এই মুভিটা দেখার আগে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, দুটো কারণে। প্রথমত এটি মাকোতো শিনকাই এর পরিচালিত, এটি আগে এই ডিরেক্টরের একটাই মুভি দেখেছিলাম, “গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস”, আর সেটি বেশ ভাল লেগেছিল; আর দ্বিতীয় কারণ হল এটি নিয়ে আমি সবধরণের অ্যানিমে গ্রুপে অনেক প্রশংসামূলক রিভিউ/রিএকশন দেখেছিলাম। কিন্তু মুভিটি দেখার পরে সত্যি কথা বলতে আমি কিছুটা নিরাশই হয়েছিলাম।

তাকাকি তোনো এবং আকারি শিনোহারা এলিমেন্টারি স্কুলের ক্লাসমেট এবং খুব কাছের বন্ধু। এলিমেন্টারী স্কুল পাসের পর আকারির বাবার বদলির কারণে আকারি অন্য একটি শহরে চলে যায়। দুজন যোগাযোগ রক্ষা করে একে অপরকে চিঠি লেখার মাধ্যমে।

এরপরে মিডল স্কুলে পড়ুয়া আকারি এবং তাকাকির আবার দেখা হয় তুষারঝড়ের মাঝে এক রেলওয়ে স্টেশনে, তাকাকি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে তাদের শেষ দেখা এটি। তারা একজন আরেকজনকে মনের কথা জানিয়ে চলে যায় নিজেদের দ্বিখন্ডিত পথ ধরে। এরপর দুজনের ব্যস্ততা, প্রায়োরিটি এবং বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার সাথে আবেগের সংঘাত দেখা দিতে থাকে।

মুভিটি তিনভাগে বিভক্ত, এই তিনভাগের মধ্যে তাকাকি এবং আকারির জীবনের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এলিমেন্টারি স্কুলের বাচ্চাদের অ্যাডোলেসেন্ট লাভ, মিডল স্কুলের ছেলেমেয়ের অপরিণত আবেগ ও আরেকটু পরিণত বয়সের অপ্রয়োজনীয় যুক্তিবোধ। কাহিনীকার ভালবাসা সংক্রান্ত আবেগীয় টানাপড়েন, বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ এবং দুটো ছেলেমেয়ের আস্তে আস্তে পরিণত মানুষে রূপান্তর হওয়ার ধাপগুলো ড্রামাটিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন, এবং কিছুদূর পর্যন্ত তিনি সফলও। কিন্তু আমার যে ব্যাপারটি ভাল লাগেনি তা হল, অতি নাটকীয়তা। মানুষের জীবনের কাহিনী, অর্থাৎ স্লাইস অফ লাইফ, এই ধরণের কাহিনীতে একটু নাটুকেপনা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু তাই বলে “এলিমেন্টারী” স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের আবেগে ভেসে যাওয়ার ব্যাপারটা বেশ চোখে লেগেছে। চিঠি লিখে যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারটা খুব রোমান্টিক, মানছি, কিন্তু যেখানে তোমাদের হাতে সেলফোন নামক বস্তুটা আছে, একটু কষ্ট করে বস্তুটা মাঝে মাঝে ব্যবহার করলে তো এত ভেজাল বাঁধে না! ভালবাসলে সেটার প্রকাশটা স্ট্রংভাবে বের হয়ে আসেই, আমি বিশ্বাস করি এটা, কাজেই মুভির বেশকিছু জায়গা আমার কাছে বাড়াবাড়ি রকমের অবাস্তব লেগেছে। আর, মানছি জাপানের মানুষ আমাদের দেশের প্যারেন্টস দের মত ওভারপ্রোটেক্টিভ না, তাই বলে কোন বাপ মা নিজের এলিমেন্টারি স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে তুষারঝড়ের মাঝে একা একা ট্রেনে করে ৪-৫ ঘন্টার জার্নিতে যাওয়ার অনুমতি দেয়?

মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত ভাল, মাকোতো শিনকাই এর থেকে এর কম আশাও করা যায়না, এই আর্টওয়ার্ক আমাকে সাহায্য করেছে মুভিটা শেষ পর্যন্ত দেখতে। ঠাট্টা করে একজন ইউটিউব রিভিউয়ার এই মুভির নাম দিয়েছিলেন “5 wallpapers per second”!! সাউন্ডট্রাকও চমৎকার, এন্ডিং সংটা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মুভিটি ওভারঅল খারাপ লাগেনি, তবে বেশ ওভাররেটেড লেগেছে। কে জানে, হয়তো আমার মেলোড্রামা ভাল না লাগাই এর পেছনে দায়ী!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/5-Centimeters-per-Second

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫০ তম পার্ট By অরিন শারমিন

জাপানিজ শিক্ষাকার্যক্রমের ৫০ তম লেসন

(ইয়সশাআআআআআ…..হাফ সেঞ্চুরী 😀 😀 ..প্রায় ২ বছর লাগল হাফ সেঞ্চুরী পূর্ণ করতে 😛 )

 

আজকের লেসনে শিখাব “japanese adjective”…

জাপানিজে ২ ধরণের adjective আছে ..

১. i-adjective
২. na-adjective

১ম কিছু i-adjective আর  na-adjective এর উদাহরণ দেই 🙂

i-adjective:

সামুই -cold
আতসুই-hot
তাকাই-expensive
ইয়াসুই-cheap
ওওকিই-big
চিসাই-small
আতারাশিই-new
ফুরুই-old
ঐশিই-tasty
মাজুই-bad

na-adjective

বেনরিনা-convenient
নিগিইয়াকানা-lively
কিরেইনা-beautiful
গেনকিনা-healthy
ইউমেনা-famous
কানতাননা-easy
আনজেননা-safe
কানজেননা-perfect

আজকে i-adjective নিয়ে একটু আলোচনা করব

i-adjective এর ৪ প্রকারের conjugation আছে.. present affirmative, present negative, past affirmative, past negative

যেমনঃ আতসুই এর ক্ষেত্রে

present affirmative-আতসুই দেসু ,present negative-আতসুকুনাই দেসু ,past affirmative-আতসুকাত্তা দেসু,past negative-আতসুকুনাকাত্তা দেসু

কিছু sentence এর মাধ্যমে উদাহরণ দেই

কিও ওয়া আতসুই দেসু-today’s weather is hot.. কিনো ওয়া আতসুকুনাকাত্তা দেসু- yesterday wasn’t hot…

সকল  i-adjective একই নিয়মে present-past,affirmative-negative এ change করা যায়..

 

নেক্সট দিনে i-adjective সম্পর্কে আরো আলোচনা করব…সাথে na-adjective সম্পর্কেও শিখাব..

অ্যানিমে রিঅ্যাকশন- শার্লট; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

charlotte

অবশেষে শার্লট দেখে শেষ করলাম। কালকেই শেষ হত আসলে, একেবারে শেষ এপিসোডের সাবটাইটেলে গন্ডগোল থাকায় সম্ভব হয়নি।

শুরুতে তেমন আহামরি লাগেনি, হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের চূনিবিও সিন্ড্রোমের মত কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রাপ্তি ঘটে, সেগুলো ব্যবহার করে একদল শয়তানি করে বেড়ায়, আর আরেকদল সেটা থামিয়ে তাদের পথে আনে। মনে হচ্ছিল, “ওকে, দেখা চলে, দেখা যাক এই চূনিবিওর দৌড় কতদূর।”

এরপর আগাতে থাকলাম, জিনিসটা ইন্টারেস্টিং হওয়া শুরু করল। নতুন নতুন পাওয়ার আসে, তাদের সাথে এবং স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সদস্যদের নিজেদের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি দেখে বেশ ভাল লাগছিল।

তারপর, এলো এপিসোড ৬!! হঠাৎ করে একটা হাসিখুশি অ্যানিমে পুরো ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেল। ব্যাপারটা এতটা আচমকা ঘটে যে আমারই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এরপর ইউ এর অবস্থা, রিকভারী, ঘটনাগুলো কষ্টদায়ক ছিল, আবার সুইট ছিল (ইউ নো হোয়াই)। ভাবলাম যে হ্যা, এখন বোধহয় লাভ ষ্টোরি ঢুকায়ে দিবে।

কিন্তু আবার চমক, কিসের লাভ স্টোরি, কিসের নরমাল লাইফ!! কাহিনী তো কেবল শুরু!! একের পর এক টার্ন অফ ইভেন্ট, মানসিক চাপ আর দুঃখজনক ঘটনা। এপিসোড ১২ তে পৌছে অনেক ভাল লাগল, এটা ভেবে অবাক লাগল যে এই অল্প কয়টা এপিসোডের মাঝে এতকিছু কিভাবে দেখাল!!

তবে একেবারে লাস্ট এপিসোডটার কোন প্রয়োজনীয়তা আমি খুঁজে পেলাম না। সারা দুনিয়া ঘোরাটা যেন ডাল মাখায়ে ভাত খাওয়ার মত সহজ, তাই এত ডেঞ্জারাস একটা কাজে জনাব নায়ক একাই বের হয়ে পড়লেন, জাস্ট লাইক দ্যাট!!

যাহোক, ভালই লেগেছে সবমিলিয়ে, আর্টওয়ার্ক, ওএসটি অনেক ভাল, আর স্টোরিটাও ঘোটপাকানো হলেও ভাল।

 

628927