রোমিও এক্স জুলিয়েট রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12513956_586684758162701_8807651964706537406_o

নায়ক এবং নায়িকা, দুজনেই শহরের দুই অন্যতম প্রভাবশালী গৃহস্থের সন্তান। এই দুই পরিবারের মাঝে আবার সাপে-নেউলে সম্পর্ক। কিন্তু তারপরেও ঘটনাক্রমে (!) নায়ক-নায়িকার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় লড়াই ও যত দুনিয়ার ঝামেলা।

শেকসপীয়ার সাহেব সেই কবে এই এক কাহিনী শুরু করে দিয়ে গেছেন, এরপরে এই কাহিনীই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সারা দুনিয়াতে অন্তত কয়েক হাজারবার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য মুভি/সিরিজ। আর এই নতুন মোড়কে পুরান কাহিনী সিরিজেরই আরেকটি হল আজকের আলোচ্য অ্যানিমে, “রোমিও এক্স জুলিয়েট”।

প্রশ্ন জাগতে পারে, রোমিও জুলিয়েট এর প্রেমকাহিনী তো জানিই, তাহলে আর এই অ্যানিমে নিয়ে এত ভেজাল করার দরকার কি? ২৪ এপিসোড সময় নষ্ট করে সেই “হোয়্যারফোর দাউ আর্ট রোমিও?” র গাপানি ভার্শন কে দেখে?

এখানেই মজাটা। সেটিংটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, আপনার মনেই হবে না যে এটা আসলে শেকসপীয়ার সাহেবের কাছ থেকে ধার করা কাহিনী। কারণ এই অ্যানিমেতে শেকসপীয়ার সাহেব নিজেই যে একজন চরিত্র!! সেটিং টা এমনভাবে করা, যেন মনে হয় যে এই ঘটনার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই উইলিয়াম শেকসপীয়ার তার বিখ্যাত উপন্যাসটি লিখেছেন।

12604943_586684761496034_684024832718483953_o

অনেক অনেক কাল আগে, মানুষ লাপুতার মত এক ভাসমান রাজ্য নিও ভেরোনাতে বসবাস করত। সেখানকার দয়ালু শাসক ছিলেন ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রধান। কিন্তু এক রাতে অতর্কিতে ক্যাপিউলেটদের প্রাসাদে হামলা চালায় মন্টাগিও ফ্যামিলি। নৃশংসভাবে তারা খুন করে ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ক্যাপিউলেট পরিবারের কয়েকজন ফলোয়ার চেষ্টা করে উদ্ধার করে আনে এই পরিবারের উত্তরাধিকারী জুলিয়েট ফিয়াম্মাটা অ্যাস্টো ক্যাপিউলেটকে।

এরপর কেটে যায় ১৪ টি বছর। রাজ্যে অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের শাসন প্রতিষ্ঠিত। জুলিয়েটের বিরূদ্ধে জারি করা হয়েছে মৃত্যু পরোয়ানা। জুলিয়েটকে তাই মানুষ করা হয় পুরো পৃথিবীর থেকে লুকিয়ে; মেয়ে নয়, তাকে সবাই চেনে ওডিন নামের এক বালক হিসেবে।

এই ওডিনের সাথে ঘটনাক্রমে দেখা হয়ে যায় মন্টাগিও পরিবারের দয়ালু সন্তান রাজপুত্র রোমিওর। এই এনকাউন্টার কি প্রভাব ফেলবে তাদের জীবনে? বিশেষত যখন ক্যাপিউলেট পরিবারের ফলোয়াররা একত্রিত হচ্ছে, জুলিয়েটকে নতুন লীডার বানিয়ে মন্টাগিও পরিবারের পতন নিশ্চিত করার আশায়?

অ্যানিমেটির শুরুটা খুবই ভাল ছিল, শুরুর ৮-১০ টা এপিসোড দেখার সময় আমি চোখের পলক ফেলতে ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। জুলিয়েটের দ্বৈত জীবন, অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের কাজকর্মের নমুনা, সেখান থেকে শহরবাসীকে বাঁচানোর জন্য জুলিয়েটের আপ্রাণ প্রচেষ্টা, রোমিওর সাথে পরিচয়, বন্ধুত্ব; আর নিজের অতীত জানার পর একটু একটু করে পরিণত হতে থাকা জুলিয়েট – সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল যে সে জুলিয়েট ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস হবে না, সে স্বাবলম্বী এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।

কিন্তু এরপর কাহিনীটা কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যেতে থাকে। ক্যাপিউলেটদের সম্মান ফেরত নেয়ার যুদ্ধ হঠাত করে রূপ নেয় জার্নি টু সেভ জুলিয়েটে। এর মাঝে রাজকুমার রোমিও তার বাবার সাথে কলহের পরিণামে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, সেখান থেকে পৃথিবীকে সে নতুন রূপে চিনতে শেখে। শেষের দিকে এসে কাহিনীটা আবার লাইনে ফেরত আসে, এবং এপিসোড ২৩ এ যদি কাহিনীটা শেষ করে দিত, তাহলে এটি আমার অন্যতম পছন্দের একটি অ্যানিমের তালিকায় যুক্ত হত। কিন্তু সুপারন্যাচারাল ফেনোমেনা ঢুকিয়ে যেভাবে কাহিনীর এন্ডিং দেয়া হয়, আমার ভাল লাগেনি, তবে এটা কেবলমাত্র আমার অভিমত, অনেকের ভাল লাগতেও পারে।

স্টুডিও গনজোর এই অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি খুবই সুন্দর, মনে রাখার মত। ওভার অল অ্যানিমেটা ভালই, সোর্ডফাইটগুলো দেখার মত ছিল। আপনি রোমান্স ফ্যান হয়ে থাকলে এই অ্যানিমেটি নিশ্চিতভাবে ভাল লাগবে।

12509602_586684801496030_1513153742687139574_n

Comments