Macross: Do You Remember Love? (1984) [মুভি রিকমেন্ডেশন] — Tahsin Faruque Aninda

Macross Do You Remember Love

সেই ৩৩ বছর আগের একটা মুভি, অথচ এখনও দেখলে দর্শকেরা সেই যুগের মতই উপভোগ করে যায়। এটাই কি “কালজয়ী” কথাটার একটা ব্যাখ্যা ধরে নেওয়া যায়? যায় কি যায় না, সেটা না হয় দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দিব। মুভিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে বলবো, ‘মেকা’ এবং ‘স্পেস’ জনরা নিয়ে স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী হয়েও একটা জিনিস পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় – এই মুভিটি অন্যান্য ‘মেকা’ ও ‘স্পেস’ গল্প থেকে আলাদা বেশ। কীরকম, তার অল্পস্বল্প বর্ণনা দেই।

সাধারণত অন্যান্য মেকা জনরার আনিমেগুলি আমরা দেখি বিশাল বিশাল একেকটি মেকা নিয়ে বিভিন্ন চরিত্রদের মারামারি, আর এসব মারামারির পিছনে অনেক অনেক কলাকৌশল, থাকে রাজনৈতিক প্রভাব। থাকে সাইকোলজিকাল ব্যাপার, আবার থাকে মাইন্ড-গেম। উল্লেখ্য, যেসব ব্যাপার এখানে বললাম, সেগুলি “সাধারণত” দেখা যায়, কারণ ব্যাতিক্রম তো থাকেই। ম্যাক্রসের এই মুভিটিও তেমন একটি ব্যাতিক্রম।

এই মুভিটিতে ‘মেকা’ একটি সাইড জনরা হিসাবেই ধরে নেওয়া যায়। এর মূল জনরা হল রোমান্স ও স্পেস। হ্যাঁ, এটি নিখাদ একটি প্রেমকাহিনী, যার পুরা গল্পটি ঘটেছে মহাকাশীয় পটভূমির উপর ভিত্তি করে। মুভিটির আরও একটি ব্যাপার দেখা যায়, তা হল এখানে একটু পরপরই বিভিন্ন গানের ব্যবহার। ‘মিউজিক’-ও একটি বড় জনরা মুভিটির।

গানের ছন্দে ছন্দে প্রেমকাহিনীর আবর্তন, শুনতে কি আমাদের সেই পুরান যুগের বাংলা বা হিন্দি মুভির মত শুনাচ্ছে? অনেকটা সেরকমই। আবার একদম সেরকমও না। এক নায়ক ও দুই নায়িকার ত্রিভুজ প্রেমের গল্প এটি, যা মহাকাশীয় যুদ্ধের সাথে সাথে গল্পক্রমে বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়। মানবজাতি, ‘জেনত্রায়েদি’ নামের শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত এক এলিয়েন জাতি ও ‘মেলত্রান্দি’ নামের শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত আরেক এলিয়েন জাতি – এই ৩ পক্ষের যুদ্ধ হল গল্পটির পটভূমি। এরই মধ্যে ৩ প্রধাণ চরিত্রের সম্পর্ক নিয়েই গল্পটি এগিয়ে যেতে থাকে।

৩৩ বছরের পুরানো মুভি হয়ে থাকলেও এর অ্যানিমেশন চোখ ধাঁধানো। চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টের সাথে সাথে স্পেসশিপের যুদ্ধ দেখার মত। কিছুক্ষণ পরপর গানের ব্যবহার অনেকটা আমাদের চেনাজানা হিন্দি সিনেমার ধারণা দিবে, নায়ক-নায়িকা গানের তালে তালে ঘুরে বেড়াবে। তবে গানগুলি সুন্দর হবার কারণে বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে গিয়েছে সবকিছু। আর শুধু এটুকুতেই গানের ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ থাকছে না, কারণ “গান” জিনিসটি গল্পটার একটা বেশ বড় অংশ, বেশ বড় এক প্লট পয়েন্ট, যেই ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে হয়তো স্পয়লার হয়ে যাবে।

যতদূর শুনেছি, এই মুভিটি এর আগে মুক্তি পাওয়া টিভি সিরিজ SDF Macross-এরই এক অল্টারনেট ভার্শন। হয়তো সে কারণেই মুভির বেশ অনেক চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট ব্যাপারটি তেমন ভালমত হয়ে উঠে নি। তবে সেটা খুব বেশি বড় সমস্যার ব্যাপার হয়ে উঠে নি। মুভিটির খারাপ দিক বলতে গেলে এটুকুতেই থেমে থাকবো।

আরেকটি দিক অবশ্য সতর্ক থাকা দরকার হয়তো, যেই সময়ের মুভি, সেই সময়ে টিভি মিডিয়াতে নারী চরিত্রদের কীভাবে উপস্থাপন করা হত চরিত্র হিসাবে সেইটা মাথায় রাখা উচিৎ। এখন কিছু কিছু ব্যাপার যেগুলি অশভোনীয় বা অসম্মানজনক লাগে শুনতে, তখন সেগুলি স্বাভাবিক কথা হিসাবেই হয়তো বলা হত। এরকম কয়েকটি ডায়লগ হয়তো শুনতে পাওয়া যাবে, সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নিবেন না ক্রোধান্বিত হয়ে গ্রহণ করবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার।

ম্যাক্রস ফ্র্যাঞ্চাইজের ভক্তমহল বাংলাদেশে খুবই ছোট হয়তো, কারণ এর মুভি বা সিরিজ নিয়ে কথা শুনা যায়ই না একদম। আমি নিজেও যে দেখেছি তা না, বরং এই মুভি দিয়ে শুরু করলাম। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজটির অন্যান্য সিরিজ ও মুভিগুলি যদি এই মুভিটির মানের দিক থেকে কাছাকাছি হয়ে থাকে, আমার মনে হয় এটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠবে অনেক দর্শকদের কাছে।

One Outs [আনিমে/মাঙ্গা রিভিউ] — Pritom Saha

One Outs

ONE OUTS
No one wins, but I!

Anime Episodes: 25
Manga Chapters: 175
Genres: Sports, Psychological, Seinen

গল্পের মূল আকর্ষণ তোকচি তোউয়া নামক এক জুয়াড়ি যুবক, যে দীর্ঘ সময় ধরেই জুয়ার দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। তার মানুষের চরিত্র এবং আচরণ বোঝার ক্ষমতা এতই ভালো ছিল যে অনেক সময় মনে হবে সে তার প্রতিপক্ষের মন পড়তে পারে। যা তার প্রতিপক্ষের উপর প্রচন্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। তোকচি তখন সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করত। এভাবেই সে একজন সফল জুয়াড়ি হয়ে ওঠে। তার আরও এক প্রতিভা ছিলঃ অসাধারণ বল কন্ট্রোল, যা তাকে অপরাজেয় পিচার (বোলার) হিসাবে পরিচিত করে। তার ফাস্টবলের গড় গতি ছিল মাত্র ১২৫ কি.মি./ঘন্টা কিন্তু বলের উপর অসাধারণ কন্ট্রোল থাকায় সে বলের স্পিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, যাতে বলের এলিভেশন পরিবর্তন হত। এতে ব্যাটে বল লাগানোই কঠিন হয়ে যেত। এছাড়াও সে ব্যাটারদের বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করত। ওকিনাওয়ার আমেরিকান আর্মি ক্যাম্প এর কাছে একধরণের খেলা হত, ওয়ান আউটস। এটা বেসবলেরই সংক্ষিপ্ত রূপ যেখানে শুধুমাত্র একজন পিচার এবং ব্যাটার মুখোমুখি হয়, ব্যাটার বল ইনফিল্ডের বাইরে পাঠাতে পারলে জিতবে, আর ব্যাটার আউট হয়ে গেলে, বা ৬ বলের মধ্যে জিততে না পারলে পিচার জয়ী। এই খেলাও ছিল স্থানীয়দের কাছে জুয়া খেলা, যেখানে তোকচি ছিল টানা ৪৯৯ ম্যাচ অপরাজিত। এছাড়াও এই ম্যাচগুলোয় একজনও তোকচির পিচ ব্যাটেও লাগাতে পারেনি!

ঘটনাক্রমে তোকচি জাপানের প্রথম বিভাগের বেসবল লীগে লিকেয়ন্স টিমে পিচার হিসাবে যোগদান করে যেই দল কিনা হাজার বছরের পরাজিত দল হিসেবে পরিচিত। দলের মালিক তোকচির প্রতিভা সম্পর্কে অবহিত না থাকায় তোকচিকে বিনা বেতনে খেলার পরামর্শ দেয়। তোকচি তখন ওয়ান আউটস কন্ট্রাক্ট নামক পাল্টা কন্ট্রাক্ট এর প্রস্তাব দেয়। কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী প্রতি আউটের জন্য তোকচি পাবে ৫ মিলিয়ন ইয়েন, কিন্তু প্রত্যেক হারানো পয়েন্টের জন্য তোকচি দলের মালিককে ৫০ মিলিয়ন ইয়েন করে দিবে। স্ট্যাটিকস্টিকস বিবেচনা করে দলের মালিক কন্ট্রাক্টে রাজি হয়, কারণ কোন কিংবদন্তি পিচার না হলে তোকচি সহজেই দেনায় পড়ে যাবে। তোকচি কীভাবে নিজের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে প্রফেশনাল বেসবল দুনিয়ায় টিকে থাকে, এটিই মূল গল্প।
ওয়ান আউটসের মূল কথা এর নামেই রয়েছে।
No one wins, but I!
তোকচি সবসময় জিতবে, এটাই হবে। কিন্তু যদিও ফলাফল নিশ্চিত তবুও কীভাবে জিতবে এটাই মূল আকর্ষণ। তোকচির জয় নিশ্চিত, কিন্তু শুরুর পরিস্থিতি এমন হবে যে এই বাধা কাটিয়ে কীভাবে জেতা সম্ভব তা মাথায় আসবে না। কিন্তু তাই বলে ব্যাখ্যা ছাড়া অবাস্তব পথে কোন সমাধান আসবে না, সমাধান হবে সুপরিকল্পিত। ওয়ান আউটস প্রফেশনাল বেসবল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে যেখানে বেশিরভাগ এনিমেই হাইস্কুল লেভেলের স্পোর্ট কেন্দ্রিক। এদিক থেকে ওয়ান আউটস ব্যাতিক্রম। এজন্য এখানে ফেয়ার প্লে দেখবেন না সবসময়, দেখবেন বেসবলের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করা মানুষের জেতার জন্য যেকোন কিছু করার মানসিকতা। দেখবেন খেলার ব্যবসায়িক এবং রাজনৈতিক দিক, খেলার পেছনের অন্ধকার দুনিয়া। এছাড়াও অন্যান্য এনিমের মতো জিনিয়াস কিছু চরিত্র তো থাকছেই।
এনিমের সাউন্ডট্র্যাক যথেষ্ট ভালো এবং সিরিয়াস মোমেন্টে ভালো আবহ তৈরি করতে পারে।
ক্যারেক্টার এর কথা বলতে হলে তোকচি সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তোকচির নিজের দলের বাকি খেলোয়াড়রা যেন তোকচির পুতুল। প্রতিপক্ষে বেশ কিছু ভালো ডেভেলপড ক্যারেক্টার আছে, যারা না থাকলে লড়াই জমত না।
ওয়ান আউটস এনিমে দেখার পর মাংগা পড়া রেকমেন্ডেড। এনিমে মাংগার অর্ধেক পর্যন্ত কভার করে। ওয়ান আউটস এর এনিমে এডাপ্ট করেছে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্টুডিও ম্যাডহাউস। এনিমে মাংগা পুরোপুরিভাবে ফলো করে, তাই মাংগা চ্যাপ্টার ৮২ থেকে শুরু করলেই হবে। আবার মাংগা না পড়লে চলবে না, এমন নয়। শেষ এপিসোডের শেষ দশ মিনিট কিছুটা পরিবর্তন করে ফিনিশিং দেওয়া হয়েছে। তবে এনিমে যে পর্যন্ত কভার করে এই অংশটুকু মাঠের লড়াই আর এনিমে পরবর্তী অংশে মাঠের বাইরের লড়াই দেখানো হয়। তবে সেখানেও মাঠের খেলা বাদ দেওয়া হয়নি, দুইদিকই সমানভাবে দেখানো হয়। কিন্তু জাপানিজ জানা না থাকলে এনিমে বাদ দিয়ে মাঙ্গা পড়তে পারবেন না। কারণ শুরুর দিকে ভলিউম ৫,৬,৮ এবং ৯ এর স্ক্যানলেশন হয়নি এখনও। তবে এনিমে পরবর্তী বাকি সব চ্যাপ্টার কমপ্লিট।
কোনো এনিমেই পার্ফেক্ট না। ওয়ান আউটস এর মূল আকর্ষণ যেমন তোকচি তেমনি এর ফ্ল্যও তোকচি। তোকচি কখনও হারে না। সে এতই বুদ্ধিমান এবং সবকিছুই তার আগে থেকে পরিকল্পনা করা যে তার চরিত্র বাস্তব বিমুখী মনে হয়। তাই কেউ যদি শতভাগ বাস্তবতা আশা করে তাহলে হতাশ হতে হবে। তবে তোকচির ক্ষমতা এবনর্মালিটি হিসেবে ধরে নিলে বাকি এনিমে যথেষ্টই বাস্তবিক।

পরিশেষে বলতে চাই প্রিয় খেলার তালিকা করলে বেসবল আমার তালিকায় নিচের দিকে থাকবে। এরপরও আমার সবচেয়ে প্রিয় স্পোর্ট এনিমেটাই হল কিনা বেসবল নিয়ে! এর মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছি যে আপনার যদি বেসবল ভালো নাও লাগে তাও এই এনিমে দেখতে পারেন, আশা করছি হতাশ হবেন না। আরও একটা ফ্যাক্ট হল এইটা সাইকোলজিকাল + স্পোর্টস জ্যানরার যেই দুইটিমাত্র এনিমে আছে তার একটি। তাই সাইকোলজিকাল ফ্যান হলে দেখে ফেলুন।

আমার রেটিংঃ
এনিমে – ৯/১০
মাঙ্গা – ১০/১০

JoJo’s Bizarre Adventure Part 5: Vento Aureo [মাঙ্গা সাজেশন] — Arnab Basu

JoJo 5

জোজোদের অদ্ভুত অভিযানের পঞ্চম কিস্তি। সাধারণত জোজোর প্রতিটা কিস্তির নাম মূল চরিত্রের স্ট্যান্ডের সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইটালিয়ান Vento Aureo এর অর্থ Golden Wind, যা মূল চরিত্র Giorno Giovanna এর স্ট্যান্ড Gold Experience এর সাথে মিল রেখে দেওয়া হয়েছে।

Vento Aureo এর পটভূমি ইটালিতে। এবারের জোজো Giorno Giovanna এর মা জাপানিজ, সে ছোট থাকতে তার মা ইটালিতে এসে নতুন একজনকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। Giorno জানে না তার আসল বাবা কে। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন গ্যাংস্টার হওয়া। সে সময় ইটালির সবচাইতে বড় এবং কুখ্যাত গ্যাং হল Passione, যাদের বিভিন্ন ব্যাবসার মধ্যে একটি হল ড্রাগ চোরাচালান। এই ড্রাগের নেশায় মত্ত যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য Giorno সিদ্ধান্ত নেয় সে Passione গ্যাঙের বস হবে। কিন্তু সে কি পারবে? কারণ গ্যাঙের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য স্ট্যান্ডধারী, যারা পদে পদে Giorno কে রুখবার জন্য তার উপর হামলা করে। তার উপর আছে Passione এর বস, যার স্ট্যান্ডের অমিত শক্তি এবং যার পরিচয় গ্যাঙের মধ্যেও এক বিশাল রহস্য। এই আপাত অসম্ভব অভিযানে Giorno এর সঙ্গী হয় Bruno Bucciarati এবং তার দলের সদস্যরা। Bruno Bucciarati নিজেই Passione এর সদস্য, কিন্তু সে Giorono এর মত গ্যাঙ্গের নেশার ব্যাবসার প্রতি বিদ্বেষের কারণে Giorno এর পক্ষ নেয়। শুরু হয় তাদের Passione গ্যাঙের বসকে খুঁজে বের করা এবং তাকে হারানোর অভিযান যার বিস্তার প্রায় পুরো ইটালিজুড়ে।

Diamond is Unbreakable শেষ করার পর আসলে Vento Aureo এর এনিমের অপেক্ষা করার ধৈর্য হচ্ছিল না, তাই মাঙ্গা পড়ে ফেলা। মাঙ্গা পড়ার পরে যেটা মনে হচ্ছে, Vento Aureo এর এনিম যদিও বা আসে, তবে সেস্নরশিপের কাঁচিতে অনেক কিছুই বাদ যেতে পারে। এই পর্বের প্রতিটা ফাইট বেশ ব্রুটাল, আর ফাইটের সঙ্খ্যাও আগের যে কোন পর্বের তুলনায় অনেক বেশি। আরাকি সেন্সেই তার Bizzare ফ্যাশন Vento Aureo তে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। Vento Aureo এর মাঙ্গার অর্ধেকের মত কালার হয়েছে, এ কারণে শেষের দিকে একটু পড়তে কষ্ট হলেও, যারা এনিমের আশায় বসে থাকতে না চান, তারা মাঙ্গা পড়ে ফেলতে পারেন।

JoJo’s Bizzare Adventure (2012) [রিভিউ] — Zahin Mobashshir

JoJo

JoJo’s Bizzare Adventure (2012)
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
জনরা: একশন, অ্যাডভেঞ্চার, সুপারন্যাচারাল, শৌনেন

সাধারণ এনিমের সুথিং ব্যাপারটা থেকে বের হয়ে একটু বোল্ড কিছু দেখতে চাইলে এই এনিমের বিকল্প হয় না। সৌনেন এনিমে মানেই একটু ফ্ল্যাশি কিছু, রুড ডায়োলগ, আর ফাইটের সময় টাইম ল্যাপ্সের ব্যাপার স্যাপার। কিন্তু এই এনিমে সৌনেনকেই মনে হয় নতুন রূপ দিয়েছে। এর মাঝে সাধারণ সৌনেন এনিমের সব তো আছেই বরং একটু বেশি করেই আছে।

এই এনিমের আর্ট আমার দেখা আজ পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যতিক্রম আর সুন্দর আর্ট। মাঙ্গাকা ঠিক যেভাবে তার কাহিনীতে বলতে চেয়েছিল মনে হয়েছে এনিমেটা ঠিক সেভাবেই বানিয়েছে। এই এনিমের আর্ট দেখে যাতে কারওই চোখ ঝলসাতে বাদ না থাকে, সে ব্যাপারটা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে এমন সব রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে যা আসলেই কোন এনিমেতে দেখা যায় না। এনিমেটা দেখার সময়ে আমার বারবার Cadillacs and Dinosaurs গেমটার কথা মনে হয়েছে কারন এনিমেটার আর্ট স্টাইলের সাথে খানিক মিল খুজে পেয়েছি আবার ক্যারেক্টারগুলাও দেখতে প্রায় একই রকম।

Jojo’s Bizzare Adventure এর সবচেয়ে যেই জিনিসটা আমার কাছে ভাল লেগেছে তা হল এর সাউন্ডট্রাক এবং সেটার যথাযোগ্য ব্যবহার। এটার ওপেনিং এর সিড়ির উপরে নায়ক আর নিচে ভিলেন দাড়ানোর সিনটা দেখে বাংলা সিনেমার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। এর কাহিনীতেও ঐরকম কিছুটা মিল আছে, সেটা উল্লেখ করতে একটা কথা না বললেই নয়। ভিলেনকে না মেরে আগেই উদযাপন না করলেই কি হইতো না।
যাই হোক এটার সাউন্ডট্রাকের মধ্যে সেরা হলো Roundabout। এই অসাধারণ একটা সাউন্ডট্রাক ঠিক কোথায়, কিভাবে ব্যবহার করলে এটার মর্যাদা আরও বেড়ে যাবে সেটা খুবই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খেয়াল করা হয়েছে। প্রতিটা ক্লিফহ্যাঙ্গার মানেই Roundabout। এই এনিমের সবচেয়ে সেরা মুহুর্ত ছিল এক Jojo এর খুবই ঘনিষ্ট একজন মারা যাওয়ার পরে তারা আএ এন্ডিংই দিল না। আমি জানি এটা তেমন আহামরি কিছু না তাও মৃত মানুষকে শ্রদ্ধা দিতে এতটুকু করেছে বলে আমার মনে হওয়ায় এটাই আমার দেখা সেরা মুহুর্ত।

এনিমেটার কাহিনী সম্পর্কে কিছু বলার আসলে কোনই দরকার পড়ে না কারন এর নামই এই এনিমের কাহিনীর বহিঃপ্রকাশ। ২৬ এপিসোডে দুইটা আর্ক শেষ হয় এবং প্রতি আর্কে একেকটা JoJo অর্থাৎ Joestar পরিবারের একেকজন কর্ণধারের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটা কাহিনীই খুবই সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে আর এখানের ফাইট এবং সুপারন্যাচারাল জিনিসপাতির ব্যাখ্যাও খুবই সুন্দরভাবে দেওয়া হয়েছে।
সর্বপরি আমার কাছে এই এনিমেটা খুবই ভালো লেগেছে। আপনাদেরও যদি ব্যতিক্রম ধাচের কিছু দেখার ইচ্ছা থাকে তাহলে এটা দেখে ফেলুন।

Yowamushi Pedal [রিভিউ] — Farah Faruque

YowaPeda 1

আনিমে: এক দুর্বল দ্বিচক্রযানচালক (সোজা বাংলায় Yowamushi pedal)
পর্বসংখ্যা: ৩৮ +২৪ (দুটো সিজনে)

(একটি রিভিউ অথবা রিয়েকশন অথবা অন্য কিছু ছাতামাথা)

গল্পের শুরু আপনার আমার মত এক আনিমেখোর কে নিয়ে, নিতান্ত নিরীহ শান্তশিষ্ট বালক সাকামিচি ওনোদা ( যার নামের অর্থই পাহাড়ি পথ) আনিমে বড্ড ভালোবাসে, এতই ভালোবাসে যে ভালোবাসা সব আনিমের পিছে খরচ করায় বেচারা মিডল স্কুলে একটা বন্ধুও যোগাড় করতে পারেনি, তাই হাইস্কুলে এসে সে ঠিক করে এবার সে বন্ধু বানিয়েই ছাড়বে কিন্তু কেস হচ্ছে এখানেও তার আনিমুখোর বন্ধুই চাই! আর সেজন্য সে টার্গেট হিসাবে ঠিক করে আনিমে ক্লাবকে! কিন্তু কপালে না থাকলে কি আর হয়?? বেচারা মনে বড় কষ্ট নিয়ে ফেরত আসে, স্কুলের আনিমে ক্লাব যে লোকের অভাবে বন্ধই হয়ে গেছে! এমনি সময়ে স্কুলের হটশট ইমাইজুমি এসে এই নিতান্ত হাবুটাকেই কিনা চ্যালেঞ্জ করে বসে স্কুলের পিছন গেটের নিচে খাড়া পাহাড়ি ঢালে বাইক রেস লাগানোর! ওনোদার সম্বল বলতে একটা পুরোনো মামাচারি, অর্থাৎ কিনা গ্র‍্যানি বাইক, আর ইমাইজুমি রেসের পর রেস দাপিয়ে বেড়ায় তার রেসার বাইকে! তা হঠাৎ এমন রেসার খোকার এমন নিরীহ শিশুর পিছে লাগার কারণই বা কি? কারণ খোকাবাবু ইমাইজুমি যে বেচারা ওনোদা কে ওই ঢালেই “হিমে হিমে” গাইতে গাইতে বাইক চালিয়ে স্কুলে আসতে দেখে ফেলেছিল! (এবং এরপর এই গান আর সে মাথা থেকে বেরই করতে পারছিল না বুঝুন অবস্থাটা! প্রথমে কিছুতেই রাজি না হওয়া ওনোদা ইমাইজুমির ফাঁদে পা দেয় যখন ইমাইজুমি হেরে গেলে আনিমে ক্লাবে জয়েন করার প্রস্তাব দেয়! এই রেস দিয়েই শুরু হয় সাইক্লিং এর দুনিয়ায় ওনোদার যাত্রা

পুরো আনিমে জুড়ে যে জিনিসটা চোখে পড়েছে তাহল ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, যে চরিত্রটাকে প্রথমেই সাইড ক্যারা বলে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলাম তার গল্প, তার ডেভেলপমেন্ট ও মুগ্ধ করেছে শেষে, আর দশটা আনিমের মত শুধু মেইন ক্যারেক্টার বা তার টিমের উপরেই আলো ধরে রাখেনি, প্রতিপক্ষের ছেলেরাও নজর পেয়েছে ভালোই, আরো মজা হচ্ছে এই ডেভেলপমেন্ট গুলোও হয়েছে কিন্তু চরম উত্তেজনায় ভরা একেকটা রেসের মাঝেই! তাতে রেসগুলি স্লো হয়ে গিয়েছে অনেক, কিন্তু চরিত্রগুলো ফুটে উঠেছে ভালোভাবে, এই ডেভেলপমেন্ট এর জন্য এই স্লো পেসিং কে মাপ করে দেওয়াই যায়। পুরো সিরিজ দেখার সময় মনে হয়েছে “মেইন টিম” হিসেবে সোহোকুর প্রতি একচোখামি করা হয়েছে এখানে অনেক কম, এতই কম যে মাঝপথে এসে প্রতিদ্বন্দ্বী হাকোগাকু টিম কেই মেইন টিম বলে মনে হচ্ছিল এবং নিজের অজান্তেই হাকোগাকুর জন্যেই চিয়ার করে যাচ্ছিলাম!! (যারা দেখবেন তাদেরও এমন হবে বলেই বিশ্বাস) হাকোগাকু টিমের মাঝেই তোদোউ এর মাকি-চান অবসেশন দেখে যেমন মজা পাবেন, তেমনি মানামির (সানগাকু মানামি, খোকার নামটাও সুন্দর, নামের অর্থ ঢেউ পাহাড়ের প্রেম!) মুক্ত স্বাধীন যেন ডানা মেলে উড়ে চলা বাইক চালানোও ভাল্লাগবে অনেক, (তার হাসিটাও কিন্তু সুন্দর!) তবে এদের সবার চেয়ে যার ডেভেলপমেন্ট মুগ্ধ করেছে সে হল টিমের মুখখারাপ সেনপাই আরাকিতা-সান, তার গল্প নাহয় তুলেই রাখি, সবাই বরং দেখুক সেনপাই এর ব্যাডঅ্যাসনেস দ্বিতীয় সিজনে

তবে এতজনের পরেও টিকটিকি আকিরা মিদোসুজির (ওরফে কিমোসুজি) কথা না বললেই নয়! এই এক ব্যাটাই বুঝি আছে পুরো সিরিজে যাকে দেখলেই মনে হত পুঁতে ফেলি নিচে, গা গুলাতো রীতিমতো তার চেহারা টা দেখলেই! যদিও দ্বিতীয় সিজনে তার পেছনের গল্প মন খারাপ করে দেয় কিছুটা

গল্পের উত্তেজনার সাথে মানানসই ওপেনিং-এন্ডিং আনিমে টা ভালো লাগাতে হেল্প করেছে অনেক, প্রথম সিজনে তৃতীয় ওপেনিং আর এন্ডিং শুনতে গিয়ে মজাও পেয়েছি অনেক, ওপেনিং টা যে টিম সোহকু আর এন্ডিং যে টিম হাকোগাকুরই গাওয়া! এখানেও হাকোগাকুর জিত! ওদের গানই ভালো লেগেছে বেশি!!

সব মিলিয়ে সদ্য শেষ হওয়া হাইকিউ এর মজা মিস করতে থাকলে দ্রুত দেখে ফেলুন এর দুটো সিজন, নতুন সিজন যে এই জানুয়ারি তেই চলে আসছে!!! ২০১৭ তে ইওয়ামুশির নতুন সিজনের পাশাপাশি হাইকিউ এরও যদি নতুন সিজন আসে, তাহলে বেস্ট স্পোর্টস ক্যাটেগরি তে ভোট দিতে মাথা চুলকে সারা হওয়াই লাগবে!

রেটিং: ৮.৫ / ১০

YowaPeda 2

Kimi ni Todoke [রিভিউ] — Arafin Shanto

Kimi ni Todoke 1

Kimi ni Todoke
Genre: Romance/Drama
Format: 25 episodes+13 episodes
MAL Rating: S1: 8.19 and S2: 8.17
Personal Rating: 8.0 and 9.0

কুরোনোমা সাদাকো। দু;খিত নামটা কি ভুল বলে ফেললাম? মনে হচ্ছে না। সবাই তো তাকে এই নামেই ডাকে।
যার সাথে চোখাচোখি হলে আপনার জীবনে দুর্যোগ নেমে আসবে, যার চোখের দিকে তিন সেকেন্ডের বেশি তাকিয়ে থাকলে তৎক্ষণাত ডায়রিয়া-আমাশয় সহ নানাবিধ ব্যাধি আপনাকে আক্রমণ করবে,যে মহা মহা তান্ত্রিকদের মত ভূত দেখতে পারে,ভূতের সাথে কথা বলতে পারে তাকে আপনি সাদাকো না ডেকে সাওয়াকো ডাকবেন কেন! বরং তার সাথে দেখা হওয়া মাত্রই আপনার উচিত তৎক্ষণাত তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।

কিন্তু কেউ একজন মনে হয় জনসাধারণের এই থিওরিতে বিশ্বাস করেননি। কারণ থিওরি শোনার আগে উনি সম্ভবত প্র্যাকটিকেলি সাদাকোর ভুবন ভোলানো হাসি দেখতে পেয়েছিলেন।আর প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেলেন। কিন্তু তিনি কে!
তিনি আর কেউ নন, ক্লাসের সবচাইতে জনপ্রিয় চরিত্র কাজেহায়া। প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝে ফেলেন ভূত টুত কিছু নয়, সাদাকো সরি সাওয়াকো আসলে অতিমাত্রায় সহজ-সরল। ফ্রেন্ডশীপ করা তো দূরে থাক, সকল প্রকার জোকস তার মাথার উপর দিয়ে যায়। যার পরিণতি তো শুরুতেই দেখলেন।
তো সাদাকো সরি সাওয়াকোর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া কাজেহায়া সিদ্ধান্ত নেয় যেভাবেই হোক সাওয়াকোকে টিপিক্যাল নারী চরিত্রে পরিণত করতে হবে। মূলত তার চেষ্টায় সাওয়াকো বন্ধু-বান্ধবী পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ঈদের বাজারের লিস্টের মত বাড়তে থাকে সেই সংখ্যা।
আচ্ছা কাজেহায়া যে সাওয়াকোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে? সেটার কি হবে?
যেই মেয়ে সামান্য স্যারকাজম বুঝে না, সে আবার প্রেমের কি বুঝবে! Example:
Kazehaya: Will you go out with me, Sawako?
Sawako: Where?
বাদ দিন। এনিমেটা দেখে নিজেরাই বুঝে নিন এদের ফিউচার কি!

Kimi ni Todoke 3

এটা কি টিপিক্যাল শৌজো? হ্যা অবশ্যই। আমার তো শৌজো ভাল্লাগে না। দেখব কেন? সাদাকোর হাসির জন্য দেখবেন। নোতো মামিকোর কণ্ঠের জাদু শোনার জন্য দেখবেন। কাজেহায়ার মাথায় হাত দেয়া দেখার জন্য দেখবেন। চিজুর পাগলামির জন্য দেখবেন। রিয়ুর স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড উত্তর শোনার জন্য দেখবেন। চরিত্রগুলোকে আপনি ভালবাসতে বাধ্য। সেটা কুরুমিজাওয়ার মত ডাবল-মাইণ্ডেড চরিত্র হলেও। সব বাদ দিন একমাত্র সাওয়াকো চরিত্রটি আপনাকে এতটাই মোহিত করে রাখবে, ড্র্যাগ ডাউন করা হিন্দি সিরিয়ালের মত হওয়া সত্ত্বেও এনিমেটা আপনাকে একটুও বোর করবে না।

Kimi ni Todoke 2এই এনিমের সবচাইতে স্ট্রং পয়েন্ট হল মিউজিক। যদি বলেন ওপেনিং-ইন্দিং ভাল্লাগে নাই তাহলে আর কী বলব। এত ফিলস দেয়া ওপেনিং-এন্ডিং সহজে পাওয়া যায় না এনিমেগুলোতে। বিজিএম গুলো অস্থির লেভেলের।

আর্টওয়ার্ক সাধারণ। শৌজো এনিমেগুলোর মতই আকাশ থেকে বাবল(bubble) পড়ার দৃশ্য অহরহ।

Toujuushi Bestialious [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Toujuushi Bestialious 2

আপনার কি সেই গল্পের কথা মনে আছে? এক রোমান ক্রীতদাস কলোসিয়াম থেকে পালিয়ে গুহায় আশ্রয় নেয়, কিন্তু সেই গুহায় আশ্রয় নেয় এক আহত সিংহ, সেই সিংহের ক্ষত সারিয়ে দেবার ফলে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক বন্ধুত্ব,। পড়ে সেই ক্রীতদাস আবার ধরা পড়ে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় সিংহের সামনে। কিন্তু সিংহ তাকে মারে না, কেননা সে চিনেছে তার বন্ধুকে। তাদের এই বন্ধুত্ব দেখে সম্রাট তাদের মুক্ত করে দেয়।

তো এই মাঙ্গা পড়ার সময় সেই টাইপের ভাইব পেয়েছি। মাঙ্গাটা ওয়ানশট টাইপের, দুই চ্যাপ্টারে কাহিনী শেষ। বাট কাহিনী খুবই সুন্দর। এক এতিম গ্ল্যাডিয়েটর আর এক দানবের বন্ধুত্ব নিয়ে খুবই সুন্দর মাঙ্গা।

এই মাঙ্গা পড়ার প্রধান কারন হচ্ছে এর আর্ট। আপনাদের যারা আর্টের ভক্ত তাদের জন্য আদর্শ মাঙ্গা। প্রায় বার্সাকা লেভেলের আর্ট যদিও প্যানেলগুলো বেশি ডার্ক। তো চট করে মাত্র দুই চ্যাপ্টারের এই মাঙ্গা পড়ে ফেলুন! ভালো লাগবে আশা করি!

Toujuushi Bestialious 1

The Anthem of the Heart [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anthem of the Heart 1

মুভি: The Anthem of the Heart (Kokoro ga Sakebitagatterunda)
জনরা: মিউজিক, ইয়ুথ ড্রামা
স্টুডিও: A-1 Pictures
দৈর্ঘ্য: ১২০ মিনিট
MAL রেটিং: ৮.৩

অ্যানথেম অফ দ্যা হার্ট।
একটি মুভির জন্য খুবই সুন্দর একটি টাইটেল। মূলত নামের জন্যই মুভি দেখার আগ্রহ জন্মেছিল। এনিমের পোস্টারের সুন্দর আর্ট সেই আগ্রহকে আরো তরান্বিত করে। অবশেষে বহুদিন পরে একটা নন-জিনবি আর নন-শিনকাই মুভি দেখা হল। মনের কথা দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখার দরুন পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তার একটা ভাল উদাহরণ মুভিটা।
*
মুভির প্লট আরো বেশি আকর্ষণীয়। কথা বলায় সদাব্যস্ত কিশোরী নারুসে জুনের শৈশবকালে এমন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যার কারণে সে রীতিমত আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দেয়। আশেপাশের মানুষ বলতে নিজের মা-ক্লাসমেট থেকে শুরু করে আত্মীয়-প্রতিবেশী পর্যন্ত কারোর সাথেই নারুসে কথা বলে না। ঘটনাক্রমে স্কুলের এক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের কমিটির সাথে নারুসেকে যুক্ত করা হয়। প্রতিবাদ করার জন্য নারুসে মুখ খোলার প্রচেষ্টা চালায় কিন্তু তার মুখ থেকে দুই-তিনটার বেশি শব্দ বের হতে পারে না। মজার ব্যাপার হল এই ঘটনার পর ক্লাসের অনেক ছেলেমেয়ে নিশ্চিত হয় যে নারুসে আসলে বোবা নয়, এতদিন অনেকে তাকে বোবাই মনে করে এসেছে। তারপর কমিটির আরেক সদস্য তাকুমি সাকাগুমির সাথে পরিচয় হয় হয় নারুসের এবং তাকুমিই প্রথম জানতে পারে নারুসে একটি অভিশাপে আক্রান্ত এবং এই অভিশাপের কারণে কথা বললেই তার পেটে মারাত্মক ব্যাথা হয়। তবে তাকুমি আবিষ্কার করে ফেলে যে, গান গাইলে নারুসের উপর এই অভিশাপ কাজ করে না আর সাথে এটাও লক্ষ্য করে যে, নারুসের কণ্ঠস্বর ভারী মিষ্টি। তাই কমিটির অন্য সদস্য আর ক্লাসমেটদের সাথে অনেক আলোচনার চড়াই-উৎরাই পার হবার পর একটি মিউজিকাল থিয়েটার (কাব্যনাট্য) আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আস্তে আস্তে অনুষ্ঠানের কাজ এগিয়ে যেতে থাকে এবং নারুসে সবার সাথে আরো বেশি সামাজিক হয়ে উঠতে থাকে। কিন্তু সেই অভিশাপ দিনে দিনে করাল থাবা বাড়াতে থাকে নারুসের হৃদয়ের উপর। কারণ নারুসের মুখ হয়তো এতদিন বন্ধ ছিল, কিন্তু তার অন্তর কখনোই চুপ করে ছিল না। এখন সঙ্গীত আর বন্ধুত্বের ছোঁয়া কি পারবে নারুসের অভিশাপ দূর করতে?
*
মুভি রিলিজ হয়েছে ২০১৫ সালে কিন্তু খোঁজ পেয়েছি অনেক দেরীতে। মুভির অ্যানিমেশন দেখেই টের পাচ্ছিলাম এটা A-1 Pictures এর তৈরি। অনেকটা আনোহানা+হিউকার স্টাইলের ছাপ ছিল মুভিটার ভিজুয়ালে। রাস্তাঘাট, গাছপালা, দিনের বিভিন্ন সময়ের আকাশের দৃশ্যগুলাতে সৌন্দর্য ছিল। নাইট সিনগুলাও মন্দ লাগে নি।
*
মুভিতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো মুভিটাকে নারুসে জুনের মানসিক পরিবর্তনের চিত্র হিসেবে সহজেই অভিহিত করা যায়। এছাড়া কমিটির বাকী তিন সদস্যের মানসিক টানাপোড়েনের চিত্রায়নও খুব ভাল হয়েছে। আমার বেশি ভাল লেগেছে ইনজুরির কারণে বেসবল টিম থেকে ছিটকে পড়া দাইকি-কুনের চরিত্রটি। নিতো আর তাকুমির মিথস্ক্রিয়ার জায়গাগুলো প্রথম দিকে ভাল না লাগলেও পরে খারাপ লাগে নি। আর মুভির শেষের দিকের ঘটনাটা(শিপিংটা) একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। মাত্র চারটি চরিত্রকে ঘিরে কাহিনী চিত্রায়িত হলেও বিরক্তি লাগে নি কখনো।

Anthem of the Heart 2
*
মুভির মিউজিকের কথা বলতেই হবে। যেহেতু চরিত্রগুলোর প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল একটা মিউজিকাল থিয়েটার করার তাই অনেকগুলা শ্রুতিমধুর গান পরিবেশিত হয়েছে মুভির শেষাংশে একই সাথে। মোট সাতটার মত সঙ্গীতের সাহায্যে পুরো কাব্যনাট্যটি মঞ্চায়িত করা হয়। পুরো মুভিতে মোট গান ছিল এগারটা। তবে বেশিরভাগই মৌলিক নয়, বিভিন্ন ট্র‍্যাডিশনাল গানের পরিমার্জিত সংস্করণ। কাহিনীর সাথে গানগুলো এত সুন্দর করে মিশে গিয়েছিল যে আলাদা করে খেয়াল করার সুযোগ পাই নি। পুরো মুভির অনেক কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে শুধুমাত্র গানের কথার মাধ্যমে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা দিক ছিল। পরবর্তিতে সাউন্ডট্র‍্যাক অ্যালবাম নামানোর পর পুরো মজাটা পাই তবে ঝামেলাও পোহাতে হয়েছে অনেকটা। অ্যালবামের সব গুলো ট্র‍্যাকের নাম জাপানিজ অক্ষরে দেওয়া হয়েছিল তাই বারবার গুগল ট্রান্সলেটে কপি-পেস্ট করে ইংরেজি অর্থ জেনে নিতে হয়েছে। তাই মিউজিক ইনফরমেশন এডিটের পেছনে ভাল সময় দিতে হয়েছে তবে লাভই হয়েছে। কারণ অনেকগুলা গানই গেয়েছেন আমাদের কিছু পরিচিত আর প্রিয় সেইয়ু এবং মিউজিশিয়ানরা। kiyoura natsumi এর গাওয়া Over the Rainbow গানটা অনেক শ্রুতিমধুর ছিল। তবে সবচেয়ে ভাল লেগেছিল খোদ নারুসের সেইয়ুর গাওয়া ‘Watashi no koe’ (My Voice) গানটা। এই গানের সুর আবার নেওয়া হয়েছে ইংরেজি লোকগান ‘Greensleeves’ থেকে। একই গানের সুর The last Naruto the movie এর প্রোলোগে ব্যবহৃত হয়েছিল তাই চেনা চেনা লাগছিল মিউজিকটা। গান গাইতে গাইতে ক্লোকে আবৃত নারুসের স্টেজে উঠার জায়গাটা অনেকদিন মনে থাকবে।
*
সব মিলিয়ে খুবই এনজয়েবল একটা মুভি। হয়তো মুভির শেষের জায়গাটা কিছুটা ক্লিশে ছিল তবে আবেগের জায়গাগুলো ভালভাবেই ছুঁয়ে গেছে। এবং মুভিটা ভাল রকমের শিক্ষণীয়ও বটে। নিজেকে প্রকাশ না করার অক্ষমতার অসুবিধা সম্পর্কে ভাল ভাবেই অবগত করে দেয় মুভিটা। নারুসের ভয়েস অ্যাক্টিং খুব উপভোগ করেছি। বিশেষ করে কথা বলতে না চাওয়া নারুসের আকার-ইঙ্গিত, জোরে জোরে মাথা নাড়ানো আর অস্ফুট অব্যক্ত ধ্বনিগুলোর ব্যবহার খুবই কিউট(দুঃখিত, এখানে কোন জুতসই ভারী শব্দ ব্যবহার করতে পারছি না ছিল। সেন্সেইয়ের একটা কথা খুব ভাল লেগেছিল,
“Music and miracles go hand in hand”.Anthem of the Heart 3

আর মুভির শেষের এই স্বগোতক্তিগুলো ভাল ছিল,
“What’s inside the egg?
All kinds of feelings locked inside…
Then, unable to keep them locked in…
It explodes…
And the world that’s created then…
It is more beautiful than I ever thought”.

রেটিং: ৮/১০

Steins;Gate [রিএকশন] — Iftekhar Irafat Ifti

Steins;Gate Reaction

Steins gate: রিঅ্যাকশন পোস্ট
এপি ১: গ্র্যান্ড ওপেনিং
১ম এপিতেই হুকড। যা শুনছিলাম তাই। খুব সিরিয়াস ওপেনিং। মাথা নষ্ট কিছু দেখার জন্য রেডি হয়ে গেলাম।
এপি ২-১১: বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার
পরের এপিগুলা দেখি। এমন হওয়ার কথা ছিল নাকি? এটা কি মাইন্ড ফাক সাইফাই নাকি ফানি সাইফাই অ্যানিমে? অবশ্য মন্দ না। জাফর ইকবালের কিছু কমিক সাইফাই বই আছে না? বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার। ওকাবেকেও তেমন মনে হচ্ছিল। পাগলা সায়েন্টিস্ট। মাথার ভেতর কন্সপিরেসি থিওরি। অদ্ভুত সব জিনিসপত্র বানায় যেগুলার কেমনে কাজ করে নিজেও জানে না। মানুষজন ইচ্ছেমতন আবদার নিয়ে আসতেছে অতীত চেঞ্জ করার জন্য। আর বাটারফ্লাই ইফেক্টকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সেও কাউকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে না।
এক স্টুডেন্ট বলেছিলো এই সময়টা বোরড লাগবে। আমার তেমন কিছু হয়নি। মোটামুটি মজা নিয়েই এই স্টেজ পার করলাম। কিছু কথাবার্তা শুনে হাসতে হাসতে শেষ। যখন কুরিসু আর মায়ুরি রান্না করতে বসে দারু আর ওকাবের রিঅ্যাকশন মনে আছে?
-It seems I’ve released the seals that bound a dark god.
-When this meal over, I’m going to retire and get married.

(তবে বিরক্ত করেছে মিউ মিউ আর তার ভয়েস। এই ঢং গুলা অসহ্য।)
এপি ১২-২২: এটা জানতাম/টাইম ট্রাভেল নিয়ে ছিনিমিনি খেলে ইতিহাসে কেউ আজ পর্যন্ত সুখী হতে পারে নাই। তারপরেও প্রথম যখন মোয়েকা পিস্তল বের করে এবং সত্যি সত্যি ট্রিগার টেনে বসে সেটা দেখে বিশ্বাস করতেও সময় লাগে। হঠাৎ হালকা মুড থেকে এমন সিরিয়াস টার্ন নেয়ায় শক ইনটেনসিটি থাকে বেশি।
এইসময়ে ওকাগেকে আর চেনাও যায় না। আগের মতন ফাজলামি করে না। তাকে শুরুতে ওইরকম পাগল দেখা হয়েছে বলেই কিন্তু এই সময় তার পরিবর্তনগুলো বেশি চোখে লাগে।
মাঝখানে অকাবে কুরিসুর কেমিস্ট্রি। আবেগী ডায়ালগ।তারা দুজন একসাথে হলেই মনে হয় রোমান্টিক সাই ফাই।
-No matter what world line you’re in, you aren’t alone. I’m here.
২২ নং এপিতে সিরিজটা শেষ করে দিলেও চমৎকার একটা ডার্ক এন্ডিং হতো। দেখলাম আরো দুইটা এপি বাকি।

এপি ২৩-২৪: শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল = কুরিসু (জীবিত নাকি মৃত?)
শেষ দুই এপি দেখে কোয়ান্টাম লেভেলের আনন্দ পেলাম। টাইম ট্রাভেল নিয়ে কিছু দেখলেই যা আশা করি লুপ ক্লিয়ার, কোয়ান্টাম হাবিজাবি,নেটে কিছুক্ষন গবেষণা করার মতন টপিক সবই পেলাম।
আর শেষে ওকাবের এই কথাগুলো। প্লেটোনিক ভালবাসা। রোমিও দেখলেও চোখ বড় বড় করে বলবে, কেমনে পারো ম্যান?!
-You don’t remember the three weeks we spent together. But that’s okay. Right now you’re breathing, speaking, thinking your hardest about something. That’s enough. You’re watching the same world as I am.

মুভি:
অবশ্য শেষে হ্যাপি এন্ডিং দেখেও মনে হয় আরো কিছু বাকি। আরো কিছু দেখার আছে। পুরা সিরিজটা আসলে দেখা হয়েছে ওকাবের চোখে। সে সবাইকে অবজার্ভ করে গেছে। কিন্তু অন্য কারো চোখে? কুরিসুর ফিলিংস? ডেজাভু মুভিতে সব পেলাম।তবে একটা ব্যাপার আশা করিনি।মুভিটা অনেকগুলা ইমো খাইয়ে দিলো।
-Remembering something that no one else can is a painful thing. You can’t talk to anyone about it. No one will understand you. You’ll be alone.

তাই জাস্ট হারিয়ে গেলে কেমন হয়? সেই মানুষগুলো কি মনে রাখে?

আবারো হ্যাপি এন্ডিং। কিন্তু তাও ইমোশনাল করেই রাখলো শেষ পর্যন্ত।
সিরিজ, ওভিএ আর মুভির শেষের তিনটা প্রিয় দৃশ্য একসাথে জোড়া লাগালাম।তিনবারই শেষ হয়েছে এই দুইজনকে দিয়ে।অ্যানিমে দেখা বেস্ট কাপল লিস্টে এদের না রেখে উপায় নেই। মিস করি এই দুইজনের ঝগড়া।

Children Who Chase Lost Voices (Hoshi wo Ou Kodomo) [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Children Who Chase Lost Voices - 1

মুভি: Children Who Chase Lost Voices ( Hoshi o Ou Kodomo)
জনরা: অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি
সাল: ২০১১
স্টুডিও: CoMix Wave Films
দৈর্ঘ্য: ১১৫ মিনিট
MAL রেটিং: ৭.৮
IMDB রেটিং: ৭.৩

মৃত্যুর পরের দুনিয়া নিয়ে আমাদের বরাবরই একটা নিষিদ্ধ আগ্রহ রয়েছে। ছোট বেলায় এই নিষিদ্ধ সত্য থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাবা-মা আমাদের মানুষ মারা যাওয়ার পর তারা অথবা চাঁদে চলে যায় এধরণের গল্প শোনাতেন। বড় হওয়ার পর যখন এই ছেলেভুলানো কথার ভ্রান্ততা সম্পর্কে অবগত হই তখন আবার মৃত মানুষকে ইহধামে ফিরিয়ে আনার অনিয়ন্ত্রিত ফ্যান্টাসি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই সারমর্মকেই কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে Fullmetal Alchemist এর মত কালজয়ী এনিমে।
শিল্প-সাহিত্য-কল্পকথায় প্রিয় মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেকবারই মানুষের পাতালে যাওয়ার কথা বর্ণিত আছে। যেমন: সাপের দংশনে মারা যাওয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য অর্ফিয়ুসের পাতাল গমন এবং সন্তান জন্মদানের সময় পরলোকগামী হওয়া স্ত্রী ইজানামিকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেবতা ইজানাগির পাতাল অভিযান। তো ডিরেক্টর মাকাতো শিনকাই সাহেব বরাবরই তার সিনেমাতে দুটো মানুষের দূরত্বকে আলোকপাত করেন। কিন্তু Children Who Chase Lost Voices এ তিনি সেই দূরত্বকে দুনিয়াবি সীমানা থেকে বের করে এনেছেন। অন্য সিনেমাগুলোতে তিনি মানুষের মধ্যে দূরত্বের মাধ্যম হিসেবে টেনে এনেছেন মহাকাশ, শারীরিক অসক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থার অপ্রতুলতা, বয়স ও মানসিকতার পার্থক্য এবং খোদ টাইম ও স্পেসকে। কিন্তু এই মুভিতে শিনকাই সাহেব দুটো মানুষের মধ্যে দূরত্ব হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ইহকাল ও পরকালের মধ্যের সীমাকে!

Children Who Chase Lost Voices - 2

প্লট: কাহিনী আবর্তিত হয়েছে পনের বছর বয়সের বালিকা আসুনা ওয়াতাসেকে ঘিরে। অন্য অনেক এনিমে মুভির মত আসুনাও মফস্বল এলাকার মেয়ে। আসুনা পিতৃহীন, তার মাও নার্সিং পেশার কারণে মেয়েকে বেশি সময় দিতে পারেন না। স্কুল ছুটির পরের অবসর সময়গুলা আসুনা কাটায় পাহাড়ের গায়ে আবিষ্কৃত তার সিক্রেট প্লেসে। আসুনার বাবার উপহার দেওয়া একটা ক্রিস্টাল রেডিওর মাধ্যমে শুধুমাত্র ঐ হাইডআউটেই আসুনা একটি রহস্যময় সুর শুনতে পায়। একদিন স্কুল থেকে হাইডআউটে ফেরার সময় আসুনা এক ভয়ংকর জন্তুর আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু রহস্যময় এক কিশোর এসে ঘটনাক্রমে আসুনাকে ঐ জন্তুর হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে ঐ কিশোর নিজেকে Shun নামে পরিচয় দেয় এবং জানায় যে সে Agartha নামক এক ভিনদেশ থেকে এসেছে। শুন আসুনাকে আশীর্বাদ করে এবং বলে যে তার ইচ্ছা যে, আসুনা যেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। শুনের অদ্ভুত আচরণে লজ্জিত আসুনা প্রতিশ্রুতি দেয় দেয় যে সে পরের দিন একই জায়গায় দেখা করবে শুনের সাথে। শুন তারার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং পাহাড়ের ঢাল থেকে ঝাপ দেয়!
পরের দিন আসুনা তার মার কাছ থেকে জানতে পারে পাহাড়ি নদীর তীরে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অবিশ্বাস আর দুশ্চিন্তাভরা চাহনি নিয়ে আসুনা স্কুলের দিকে রওয়ানা দেয়। ক্লাসে আসুনার নতুন শিক্ষক মিঃ মোরিসাকি পরকালের কিছু স্থানের নাম উল্লেখ করেন। সেই স্থানগুলোর নামের মধ্যে Agartha নাম দেখে আসুনা যারপরনাই অবাক হয় এবং ক্লাস ছুটির পরই মিঃ মোরিসাকির সাথে দেখা এই বিষয় নিয়ে আলাপ করার জন্য। আলাপ শেষে আসুনা পাহাড়ের হাইড আউটে গিয়ে আসুনা শুনকে আবিষ্কার করে আশ্বস্ত হয়। কিন্তু এই শুন আসুনাকে চিনতে পারে না এবং পূর্ব সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। তখনই সেখানে আক্রমণ করে একদল সশস্ত্র যোদ্ধা এবং তারা ধাওয়া করে আসুনা আর শুনকে। তারা পাহাড়ের তলদেশে লুকায় একপর্যায়ে আগার্থার প্রবেশপথে চলে আসে। শুন জানায় যে সে আগার্থার নাগরিক এবং আগার্থার মধ্যেই আছে Gate of death and life যার মধ্য দিয়ে মৃত মানুষকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে সশস্ত্র দলের কমান্ডার আসুনাকে জিম্মি করে আগার্থার গেইট দিয়ে প্রবেশ করে। কে এই কমান্ডার? কিবা তার উদ্দেশ্য? সে কি শুধুমাত্র আগার্থার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সংস্থার শক্তিবৃদ্ধি করতে চায় নাকি তার অন্য কোন
লক্ষ্য আছে? আর আসুনারই বা কি হবে এই পাতাল জগতে!

Children Who Chase Lost Voices - 3

এটি মাকাতো শিনকাইয়ের চতুর্থ মুভি এবং আমার দেখা তার বানানো মুভিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। শিনকাইয়ের বানানো ছয়টি মুভির মধ্যে এই মুভিটি যথেষ্ট স্বতন্ত্র। বরাবরের মত এই মুভির ভিজুয়ালও ঝকঝকে ছিল। তবে এই মুভির দৃশ্যগুলাতে কিছুটা জিবলি জিবলি ভাব রয়েছে। বিশেষ করে আগার্থার দৃশ্যগুলার অ্যানিমেশনে এক টুকরো জিবলিকে খুঁজে পেয়েছি। শিনকাইয়ের মুভিতে যেইরকম কিছু কমন দৃশ্যপট থাকে তা এই মুভিতেও রয়েছে। ফিনিস টেরার যে ছবিটা আপলোড করেছি সেটার সাথে কিমি নো নাওয়ার গোধূলিলগ্নের দৃশ্যের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়। এই মুভির ক্যারেকটার ডিজাইনও বরাবরের মত চকচকে তবে আসুনার ডিজাইনে জিবলির ছাপ আবারো খুঁজে পেলাম। খেয়াল করে দেখলাম When Marnie Was There(2014) এর Annar এর চেহারার সাথে আসুনার চেহারার ভাল মিল আছে। মুভির মিউজিক আগেরগুলার মতই ভাল ছিল। অন্য মুভিগুলোর মতই এই মুভির শেষেও ছিল একটি অসাধারণ থিম সং ‘Hello Goodbye & Hello’.

আর এই মুভির ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বলার কিছু আছে। মানে আমি কাহিনী কোনদিকে যাবে তা নিয়ে যে সিদ্ধান্তেই পৌছেছি, কাহিনী ঠিক তার উল্টোদিকে গড়িয়েছে। জায়গায় জায়গায় ধরা খেয়ে আমি শেষপর্যন্ত প্রিডিকশন করা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিছু জায়গায় এসে ঠাহর করতে পারছিলাম না যে এই মুভির এন্ডিং দেওয়া যাবে কী করে!

তাই এই মুভির এন্ডিং নিয়ে কিছু কথা বলা যেতে পারে। শিনকাইয়ের অনেক মুভিতে অস্পষ্ট এন্ডিং দেওয়া হয় এবং প্রধান চরিত্রগুলোর নিয়তি দর্শকদের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই মুভিতে একটি সলিড এন্ডিং রয়েছে যা না হলে আমি কম খুশি হতাম না। মানে, সেন্সেইয়ের ইচ্ছা পূরণ হলেই আমি বেশি খুশি হতাম। কিন্তু কাহিনী অন্যদিকে চলে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষুদ্ধই হয়েছি। তবে শেষে সেন্সেইয়ের উদ্দেশ্যে শিনের বলা কথাগুলো ভাল ছিল।

এই মুভিতে Shakana Vimana (রাবণের পুষ্পরথ) বা Quetzalcoatl (মেসোআমেরিকান/অ্যাজটেক দেবতা) এর মত কিছু পৌরাণিক টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাপারটা ডিরেক্টর হিসেবে শিনকাইয়ের অগাথ জ্ঞানেরই পরিচয় দেয়। জিনিসগুলা একেবারেই অপরিচিত ছিল আমার কাছে তবে মুভিটা দেখার মাধ্যমে কিছু জিনিস জানারও সুযোগ হল।

Children Who Chase Lost Voices - 4