Kino’s Journey [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Kino's Journey

Don’t judge a book by it’s cover বলে কথা আছে। ব্যাপারটা সব মিডিয়ামের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এনিমেতেও এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। যেমন মুশি শি, মাদোকা ম্যাজিকা, কাটানাগাতারি। প্রথমে আর্ট স্টাইল বা সিনোপসিস পড়ে মনে হবে আহামরি কিছু না, কিন্তু দেখার পর মন্ত্রমুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই! কিনোর যাত্রা সেইরকম এক এনিমে। আর্ট স্টাইল বেশ পুরানো, ৮০-৯০ দশকের আর্ট যদিও ২০০৩ এ মুক্তি পেয়েছে। সিনোপসিস এক পিচ্চির যাত্রা আর তার অভিজ্ঞতা কিন্তু আসলে এইটা কত বড় মাস্টারপিস তা না দেখলে বোঝা যাবে না।
কাহিনী কিনোকে নিয়ে, এক কিশোর? ও তার মোটরবাই হের্মেসকে ঘিরে। তারা এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়ায়, নতুন নতুন সংস্কৃতি, নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয়।
কিউট লাগছে না!? আসল কাহিনী বহু দূরে!
এই এনিমের মত হাসিখুশি ডার্ক এনিমে দেখি নাই। এই এনিমের এটমোস্ফিয়ার প্রাঞ্জল টাইপের, কাহিনী শুরুও হয় সুন্দরভাবে। এই এনিমেকে ডার্ক বললে ভুল হবে, বলা যায় নির্মম দর্শনের এনিমে। এই এনিমে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কিছুকেই দেখিয়েছে, তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। এই এনিমে আপনার আমার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, আমাদের উত্তর না জানা প্রশ্ন নিয়ে ভাবায়, আপনার আমার বিবেকে আঘাত হানে। অসাধারণ, অসাধারণ!!!
এই এনিমের। মেইন চরিত্র আসলে কিনো না, মেইন চরিত্র হল দর্শক। আপনিই ভ্রমন করছেন! প্রশ্ন করছেন, কখনো উত্তর পাচ্ছেন, কখোনো পাচ্ছেন না।
এপিসোড সংখ্যা মাত্র ১৩। প্রতি পর্বে এক বা দুইটা করে কাহিণী, ক্যারেক্টার অনেক। কিন্তু তাদের সবাইকে কি মনে রাখা যায়? কিন্তু এই এনিমের সব ক্যারেক্টার কোন,না কোন,ভাবে আপনার মনে দাগ কাটবে। যাদের আপনার কাছে খারাপ বা ভিলেন মনে হবে তাদের মোরাল বা যুক্তিও আপনাকে ভাবাবে যে সে ভিলেন কিনা।
৯০-এর দশকে এনিমেতে বলা যায় একটা গোল্ডেন এইজ টাইপের কিছু ছিল। Cyborg 009, Serial Experiments Lain, UFO baby, Cowboy Bebop এরপর Heidi, Little Women এর মত ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক লিটারেচার নিয়েও অনেক এনিমে হয়েছে। ২০০০-এর দিকে বের হওয়া তাদের মতই এক রত্ন হল কিনো’স জার্নি।
১৩ টা এপিসোড মাত্র। ওপেনিং আর এন্ডিং শ্রুতিমধুর। আর্ট স্টাইল পুরানো কিন্তু ফ্লুইড। অসাধারন কাহিনী। সব মিলিয়ে এই এনিমে না দেখে আপনি কি মিস করছেন তা জানেন না।
তো তাড়াতাড়ি দেখা শুরু করুন কিনোর যাত্রা আর এক আবেগময় রাইডের জন্য প্রস্তুত হন।
আমার নম্বর: 10/10!

Majin Tantei Nougami Neuro [রিএকশন/রিকমেন্ডেশন] — Bashira Akter Anima

Majin Tantei Nougami Neuro

গত কয়দিনে রাতে মশার কামড় খেয়ে-ঘুম মেরে এবং নানান হাবিজাবি করে Majin Tantei Nougami Neuro এনিমে টা দেখলাম। আমার আবার রিকমেন্ডেশন দেখে এনিমে বের করার হালকা অভ্যাস আছে আর নতুন এনিমে দেখলে সিনোপসিস বা রিভিউ একটু পড়ে ফেলি হয়তো সেটা ভালো অভ্যাস না তাও পড়ে ফেলি। এইটার রিভ্যু ভালো দেখলেও কাহিনী কেমন জানি সাদামাটা লাগতেছিলো। এনিমে এর ঘটনা হইলো নেওরো নামের এক ডেমন হেল এর সকল মিস্ট্রি সল্ভ করে পৃথিবীতে আসছে পৃথিবীর মিস্ট্রির আশায়। তার রহস্যের ক্ষুধা মিটছিলোই না যেনো। এখানে এসে সে এক হাইস্কুলের মেয়ের সাথে পার্টনারশীপ করে কারণ এখানে সে নিজের পরিচয় রিভিল করবে না। তাই সকল রহস্য সমাধানে সে মূলে থাকলেও সবাই জানে যে হাইস্কুল ডিটেকটিভ ইয়াকো ই সব রহস্যের সমাধান করে। দুনিয়ার সবার সামনে সে সেনসেই সেনসেই করে আহ্লাদ করলেও পিছনে মেয়েটারে কিলাইয়া, ঘুষাইয়া, পিডাইয়া সে অস্থির। এভাবে ঘটনা আগায় প্রতি পর্বেই নতুন রহস্য তবে একটা চলমান বিশাল রহস্যের উপস্থিতি ও পাওয়া যায় যার সাথে জড়িয়ে যায় সবাই।

আমি ভাবলাম কি না কি, দেখি এমনে এক-দুই পর্ব। এই এনিমে থেকে যদি এটা আশা করা যায় যে এখানে নানান ক্লু থাকবে এরপর সেগুলা ধরে অপরাধী ধরবে সেটা এখানে নাই। অনেক অপরাধীকে আগে থেকেই বুঝা যায়, বা নেওরো বিভিন্ন হেল থেকে আনা টুল ব্যবহার করে ধুম ধাম করে সব ধরে ফেলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হয় যখন অপরাধী ধরা পরে তখন সে তার আসল সত্ত্বার রূপ ধারণ করে। একটা সময় খেয়াল করলাম আমি এই পার্ট টার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেছি। আমার ১২ পর্বে আঁটকা পড়ার অভ্যাস আছে, অনেক এনিমে দেখতে পারি না কিন্তু দেখলাম কেমনে জানি এটা আমি ২৫ পর্ব দেখে ফেলছি। রিভ্যু পড়ে দেখলাম অনেকের ই এই অবস্থা হইছে, প্রথমে কাহিনী পড়ে লেইম লাগলেও দেখতে গিয়ে বেশ মজা পাইছে। উইকি তে পরে দেখলাম এটার মাঙ্গা টা বেশি জনপ্রিয় ছিলো, এনিমেটা এত না। অবশ্য মাঙ্গা মনে হয় না পড়বো। ভালো লাগছে এটাই আসল। আর ২৫ পর্বের এনিমে দেখে আমার সফলতা এই যে আমি নারুহোদো মানে যে I see এটা শিখছি। 😐 এরপর এনিমে শেষের দুঃখে তাদের নানান ফ্যান আর্ট ডাউনলোড করে স্বান্তনা দিছি নিজেকে।

Higurashi no Naku Koro ni [রিভিউ] — Mohammad Abir Hassan Sarker

Higurashi no Naku Koro ni

Anime Review: Higurashi no Naku Koro ni
Genre: Mystery, Horror, Psychological, Supernatural, Thriller
Status: Finished Airing
Premiered: Spring 2006
Source: Visual Novel
Sequel: Higurashi no Naku Koro ni Kai
Side Story: Higurashi no Naku Koro ni Special: Nekogoroshi-hen,
Higurashi no Naku Koro ni Kaku: Outbreak
Alternative Setting: Umineko no Naku Koro ni
Other: Higurashi no Naku Koro ni Kira

২০০৬ এ মুক্তি পায় Higurashi no Naku Koro ni অ্যানিমেটি। তাই প্রথমেই বলে নিই Graphics Resolution নিয়ে আশাহত হবেন না।
অ্যানিমেটির প্রেক্ষাপট হিনামিজাওয়া নামক পাহাড় ঘেরা এক গ্রাম নিয়ে। যেখানকার লোকেরা “ওয়াশিরোর অভিশাপ” নামক একটি রীতিতে বিশ্বাসী। যে বিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা এই অ্যানিমেকে একইসাথে Mystery, Horror, Psychological, Supernatural ও Thriller সবকটি Genre এর আওতাভুক্ত করে, এবং অবিশ্বাস্যভাবে অ্যানিমেটি সবগুলো Genre এর সুন্দর প্রতিফলন ও যোগসূত্র স্থাপন করে।
রহস্যপ্রেমীদের কাছে এই অ্যানিমেটি আরও আকর্ষণীয় হবে। Another এর মত শুধু রহস্য দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বা Shikki এর মত ট্র্যাজিডি দিয়ে শেষ করেনি। রহস্যের খোলশ উন্মোচন, ঘটনা প্রবাহের Thrill, মনস্তাত্ত্বিক Climax ও শেষে Happy Ending; সবকিছু মিলিয়ে অ্যানিমেটি অনন্য।
“সনেট”ধর্মী কবিতায় যেমন অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা আর ষটকে ভাবের পরিণতি থাকে, তেমনি এই অ্যানিমেতে ঘটনার সূত্রপাত ও রহস্যসমূহ এবং এর Sequel এ সবরকম রহস্যের জাল ভেদ করা হয়েছে।
অ্যানিমেটি প্রথমে খুবই খাপছাড়া ও বিরক্তিকর মনে হলেও, ধৈর্য্যের সাথে দেখতে থাকলে মূল ঘটনা অব্দি পৌছতে পারলে অ্যানিমেটি খুবই আকর্ষণীয় লাগবে। অ্যানিমেটির প্রতিটি ঘটনায় ও দৃশ্যে রহস্য সম্পর্কিত কিছু clue দেয়া আছে। কাহিনির পরিণতি নিয়ে যদি ভবিষ্যদ্বানী করেনও, তারপরও অ্যানিমেটি আপনাকে আশ্চর্যান্বিত করবে নিশ্চিত থাকুন।

অ্যানিমেটি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৯/১০। তাহলে আর দেরী কেন, পরবর্তী অ্যানিমে হিসেবে এই অ্যানিমেটিই দেখার পরিকল্পনা করে ফেলতে পারেন।

AIKI [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

AIKI

আপনি কি অতিরিক্ত শক্তিশালী মেইন ক্যারেক্টার এর ভক্ত? আপনি কি গড়াগড়ি খাওয়া কমেডির ভক্ত? আপনি কি কুস্তি থুক্কু মার্শাল আর্টের ভক্ত?? এবং সবশেষে ইচি ভক্ত? তাইলে আপনার জন্যই AIKI মাঙ্গা 😀 !!!
মাঙ্গা সাজেশন: AIKI
Beelzebub এর Oga এর কথা মনে আসে? সেই শয়তানি কলিজাকাপা হাসির সাথে ধুম ধারাক্কা ঘুষি!! এক কথায় পিউর Badass!!! এইরকম চরিত্র দেখলেই অস্থির লাগে। কোন মিন মিনে ভাব নাই, আসলাম, দেখলাম, ঘুষাইলাম!! সবকিছুরে তুচ্ছ কইরা দেয়। এ খারাপ না কিন্তু সাধুও না!!
তো আমাদের এই মাঙ্গার নায়ক জোকিয়ুউ। দেখতে পাড়ার বখাটে ছেলের মত। আসলেও তাই। গায়ে গতরে নরমাল। দেখলে মনে হয় হাইস্কুলে পড়ে। আসলে কি তাই?? অবশ্যই না !!! দুনিয়ার সেরা মার্শাল আর্টিস্ট সে, হ্যাঁ সেরা। তার উপরে আর কেউ গুরু নাই। তার এই বিশাল ক্ষমতা, With great power comes great responsibility. কিন্তু সে তার এই ক্ষমতা নিয়ে মেয়েদের পিছনে ছুকছুক করে বেড়ায় এবং বাপমায়ের অন্ন ধ্বংস করে। ছেলের ক্ষমতার বহর দেখে তার বাপ, এমন সিস্টেম করে যাতে জোকিয়ুউ তার শরীরের ১০ পারসেন্ট ক্ষমতাও ব্যাবহার করতে না পারে!! তাও তার সাথে কেউ পারে না । যেই মারামারি করতে যায় , লিটারেলি উড়ে যায়!! এখন দূর দুরান্ত থেকে লোক আসে তাকে দলে টানার জন্য, অথবা মার্শাল আর্ট শেখার জন্য!! আর টাকা বা নারীর ছলাকলা দেখলেই সে মাখনের মত গলে যায়। কিন্তু তার এই বজ্জাতির মধ্যেও আছে বুদ্ধির খেল , আরও জানতে হলে মাঙ্গা পড়া স্টার্ট করা দেন!!!
এই মাঙ্গা অতিরিক্ত অস্থির, এর ইচ্চিটুকু বাদ দিলে এইটা মাস্ট পড়ার মত মাঙ্গা। মাঙ্গার আকা খুব সুন্দর, এক্সপ্রেশন গুলা সেই!!!! যারা এক্সপ্রেশন এর ভক্ত তারা এই মাঙ্গা মাস্ট পড়বেন!!! ইচ্চিটা একটু বেশি কিন্তু তা বলে এই মাঙ্গা বাদ দেবার মত না। ওয়ানপাঞ্চ ম্যান, Beelzebub এর ভক্ত হয়ে থাকলে এই মাঙ্গা পড়া মাস্ট। তবে ইচ্চি কিন্তু অনেক বেশি!
চ্যাপ্টার মাত্র ৯৮টা। এর একটা সিকুয়াল ও আছে। নাম Aiki S. সেটা অনগোয়িং!!
আমার রেটিং: ৯/১০

স্পাইস অ্যান্ড উলফ [নোভেল রিভিউ ও ডিসকাশন] — Saqib Shadman

Spice and Wolf

অবশেষে শেষ করলাম স্পাইস অ্যান্ড উলফের সবকটা ভলিউম (১৭ ভলিউমের short story গুল এখনও বাকি আছে, কিন্তু সিরিজের উপর মন্তব্য করার জন্য যথেষ্ট পরা হয়েছে)। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকার একটা যাত্রা হল।

গল্পের শুরুতে ভ্রমণকারক বনিক লরেন্সের সাথে পরিচয় হয় নেকড়ে ঈশ্বর হলোর সাথে। লরেন্স হলোকে তার ভস্মভূমিতে ফিরিয়ে দেবার জন্য রাজি হয়। যাত্রার পথে প্রত্যেক গ্রাম ও শহরে আমাদের দুই প্রধান চরিত্র জায়গার সমস্যায় জরিত হয়ে যায়।

স্পাইস অ্যান্ড উলফ এক অনন্য সিরিজ। যারা এর আগে এনিমে দেখছেন কিংবা নভেলগুলো পরেছেন জানেন যে প্রত্যেক গল্পের এক কেন্দ্রিয় বিষয়বস্তু হচ্ছে ব্যাবসা, অর্থনীতি, এবং কিছু রাজনীতি। প্রথম প্রথম পুর ব্যাপারটা বুঝতে বেশ অসুবিধা হত, কিন্তু শেষে মানতে হল যে এই বিষয় সিরিজে একটা অনন্য বুদ্ধিমত্তা দেয়।

দুনিয়াটাও বেশ বিশদ ও জটিল। আগেরকালের দিনকালের ঘটনাবলি বর্তমানে এখনও বেশ প্রভাবিতও করেছে। প্রত্যেক শহর ও গ্রামের পরিস্থিতি সংযুক্ত। যুদ্ধ বাতিল হবার কারনে এক শহরে অর্থনিতিক অবস্থা একদম কাহিল হয়ে থাকে, অন্যদিকে অর্থের মান কমার কারনে শত শত ব্যবসা দেউলিয়া হয়ে যায়। অর্থনীতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আছে ধর্মের ও রাজপদের প্রতিষ্ঠান, যার ক্ষমতাও প্রচুর। এবং দুনিয়ার পরিস্থিতি যাত্রা ও চরিত্রদের উপর বেশ প্রগাঢ় ভাবে প্রভাব করে।

প্রধান দুই চরিত্র বাদেও সিরিজের বাকি চরিত্রগুলকেও বেশ ভাল লেগেছে। প্রত্যেক চরিত্র অপ্রতিম। কোন চরিত্রকে জেনেরিক বা সাধারণত বিরক্তিকর মনে হয় নাই। আছে লুদ্ধ মহিলা বণিক ইভ, আছে নরম মনের কিন্তু বুদ্ধিমত্তা কল। চরিত্রের ইতিহাস আলচনা করে চরিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি ও ব্যবহারের কারন উঠিয়ে আনা হয়। সিরিজের কিছু কিছু শর্ট স্টোরির অন্যান্য চরিত্রদের জন্যই নিবেদিত।

শর্ট স্টোরিগুলও বেশির ভাগ সময় ভাল লেগেছে, কোনটাই অপ্রয়জনিয় মনে হয় নায়। বরং প্রধান গল্পটাকে বেশ সুন্দর করে পূরক করে।

লরেন্স এবং হলোর সম্পর্কটা কিছুটা আলাদা ভাবে আলচনা করি। হইত শুরু থেকেই হইত বুঝেছেন যে এই দুইজন শেষমেশ প্রেমে পরে একসাথেই বাস করবে। ঠিক ওইটাই হয়। এবং জিনিষটা ঠিক মতন না করলে ফলাফল টা বেশ cheezy হয়। সৌভাগ্যক্রমে, ১৭ ভলিউমে character development টা বেশ ধিরে-সুস্তে নেওয়া হয়। দুজনের মধ্যেই বেশ টেনশন থাকে গল্পের বেশির ভাগ সময়। গল্প বাস্তবতাকে বেশ সুন্দর ভাবে সম্মান করে। লরেন্স এবং হলো দুজনই বেশিরভাগ সময় মাথায় রাখে যে পেশার বিনিময়ে হৃদয়ের ইচ্ছা পুরন করা যাবে না। এবং শেষে যাত্রার বিপদ থেকে উঠে আসতে পারায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় একশাথে বাশ করার। দুই চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট বেশির ভাগ সময় আশে একজন আরেকজনের থেকে। হলো পরিস্থিতি ও বিপদের মুখে জয়ি হওয়ার অনুপ্রেরণা ও জ্ঞান দেয়, মাঝে মাঝে কিছু রীতিবিরুদ্ধ ভাবে। লরেন্স হলকে সাহায্য করে নতুন দুনিয়ার বদলের সাথে, এবং হলোর স্বদেশ, পুরনো দিনকালের কিংবদন্তী ও সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

……………………………………………………

পুরো সিরিজটা শেষ করতে লাগল ৯ মাস (যদিও প্রথম ভলিউম পরেছিলাম ২০১৫ সালে)। আমি বেশ সন্তুষ্ট যে গত মার্চে কৌতূহলে সিদ্ধান্ত নিলাম ভলিউম ২ এবং ৩ কিনার। যারা নভেল পরেন, আমি পরামর্শ করলাম এইটা সিরিজটা পরে নিতে। যারা এনিমে দেখেছেন এবং নভেল পরার আগ্রহ আছে, তাদেরকে উপদেশ করলাম প্রথম থেকে পড়তে (এনিমে এডপশন হচ্ছে ভলিউম ১, ২, ৩ ও ৫)।

Keijo!!!!!!!! [রিভিউ] — Homayed Naser

Keijo

Keijo!!!!!!!!
জনরাঃ শৌনেন, স্পোর্টস

২০১৬ সালের এনিমে জগতে সারা জাগানো একটি এনিমে এটি। এনিমে জগতে এর আগে এভাবে সারা ফেলতে দেখা গিয়েছিল হাইস্কুল ডি এক্স ডি, ফেইরি টেইল এর মত এনিমেকে। হাই স্কুল ডি এক্স ডি যদিও বা আমাদের অনেকেরই প্রিয়, কিন্তু ফেইরি টেইল অধিকাংশ দর্শকদের কাছে মাস্টারপিস হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ মাস্টারপিস এনিমের ফ্যানরা এখন নিজেরাই ভয়ে আছে কারন এনিমেটি ফ্যানসারভিস জেনারের বিধায় নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে স্বার্থকভাবে সফল হয়েছে। কারণ কেইজো নামের এনিমেটি তথাকথিতভাবে ফেইরি টেইল এনিমেটির মত শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা না চালিয়ে সরাসরি ফ্যান সারভিসকেই একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করতে পেরেছে যা এনিমে জগতকে আরও সামনের দিকে অগ্রগামিতার ভার বহন করে।

এনিমেটির প্রধান চরিত্র কামিনাশি নোজোমিকে ঘিরেই মুল গল্পের সৃষ্টি।
এবং আরও তিনটি চরিত্র যারা নোজোমির রুমমেট তারাও গল্পে বহুলভূমিকা পালন করে।গল্পটি মূলত একটি শিল্পকলাকে ঘিরে। এবং এ শিল্পকলার মূলে রয়েছে কেইজো নামের একটি খেলা যেখানে পশ্চাতদেশ ও উরোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন কারুকার্যের মাধ্যমে পশ্চাতদেশ ও উরোজ এর সঠিক ব্যবহার করে একে অপরকে সেগুলো দিয়ে ধাক্কা অথবা ছোয়ার মাধ্যমে পুকুরে অথবা সুইমিং পুল এ ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে খেলাটি সম্পন্ন হয়। খেলাটি ছোট মেয়ে থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারাও খেলতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল সুগঠিত পশ্চাতদেশ, এবং বিভিন্ন বেয়ামের মাধ্যমে এনিমের চরিত্রদল তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করে যা এনিমেটিকে একটি অনন্ত মাত্রায় নিয়ে যায় যা অনেক স্পোরটস আনিমেকেই হার মানায়।

প্রতিটি চরিত্রই এক একটি অনন্য কীর্তি। তাদের দেহের শুষম বন্টন এবং পশ্চাতদেশ ও উরোজের প্রয়োগ প্রশংসার দাবিদার। লেখককে এক্ষেত্রে বলতে হবে যে সে খুব চমৎকার ভাবে প্রতিটি চরিত্রকে ধারণ করেছে এবং তার অনন্যতম শৈলীগুলোর একটি।তাদের খেলার সময় ধারনকৃত প্রতিটি বিশেষ হামলা তাদের নিজ নিজ গুনাবলীর বহিঃপ্রকাশ।
এনিমেশনের বেপারে বলতে গেলে এক কথায় অসাধারণ। কারণ অনেক এনিমেই এরকম পশ্চাতদেশ এবং উরোজের মাধুরি দেখাতে গিয়ে খুব বাজে ভাবে ব্যর্থ হয়েছে যা কেইজোর ক্ষেত্রে ঠিক উলটো।
তো এ মাস্টারপিসটিকে অন্তত এ গ্রেড তো দেয়াই যায় নাকি? আপনারা কী বলেন?

Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Neon Genesis Evangelion

Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion
পর্ব সংখ্যা- ২৬ পর্ব + ১ ছবি
জনরা-সাই-ফাই,মেকা, সাইকোলোজিকাল ড্রামা
M.A.L. রেটিং-৮.৩২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং-১০/১০

১৯৯৫ সালের গাইনেক্স প্রযোজিত হিদেয়াকি আনো পরিচালিত নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী এনিমে হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তির পর এনিমেটি প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা লাভ করে এবং জাপান সহ পৃথিবীর বহু দেশে অনেক খ্যাতি পায়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন আমার সবচেয়ে প্রিয় ৩ টি এনিমের মধ্যে একটি এবং আমার মতে সবচেয়ে সেরা ৫ এনিমের মধ্যে একটি (বাকি ৪ টি হলো কাউবয় বিবপ, মন্সটার, লেজেণ্ড অফ দা গেলাকটিক হিরোস, দা তাতামি গেলাক্সি)। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী সাহসের সাথে বিভিন্ন রকমের ধার্মিক, মনস্তাত্বিক এবং কঠিন বিষয় মোকাবেলা করে। কেবল এনিমের জন্য নয়, টিভি শো কিংবা চলচিত্রতেও এসব বিষয় দুর্লভ।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মূলত অ্যাঞ্জেল নামক দৈত্যরা পৃথিবীতে হামলা করেছে।তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মানব জাতি ইভানগেলিওন নামক রোবট বানায়। ১৪ বছর বয়সী শিনজি ইকারিকে এই ইভানগেলিওনের সাহায্যে পৃথিবী বাচাতে হবে। আপনি মনে করছেন এখানে জটিল কিংবা কঠিন কাহিনী কোথায়? এটা তো খুবই সাধারণ কাহিনী তাই না? বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ”বহিরাবরণ দেখে কাউকে বিচার করতে নেই”। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনীটাও ঠিক সেরকম। প্রথম দেখায় খুব সহজ মনে হলেও পুরোটাই জিলাপির প্যাঁচে ভর্তি।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মানুষের বিভিন্ন মনস্তাত্বিক বিষয় যেমন সমব্যথী, আত্মঘাতী, বিষাদগ্রস্ততা, অন্যান্য মানুষের কাছে নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া নিয়ে উদ্দিগ্নতা, জীবনের পরিচয় এবং অর্থ উপলব্ধি করা ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত। প্রতিটি অসাধারন কাহিনীর পেছনে অসাধারন চরিত্র সমূহের ভূমিকা থাকে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন এনিমেও এই রীতি থেকে ভিন্ন নয়। অনুষ্ঠানটির কাহিনীর মতো এর চরিত্রসমূহও প্রথম দেখাতে সাধারণের বাইরে কিছু মনে হয় না। অনুষ্ঠানটি না দেখেই খুব সহজেই বলে দেয়া যায় যে শিনজি একজন ভীত ছেলে যে নিজের জন্য কিছু করতে পারে না কিংবা আসুকা একজন নিদারুণ প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু তা সত্যি নয়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কঠিন অতীত জীবন। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নিষ্ঠুর নৈতিক প্রেষণা। এখনকার দিনে খুব সহজেই এনিমে বানানো যায় যে ১৫-১৬ বছরের কিশোরেরা বড় বড় দেয়ালের পেছন থেকে আক্রমণ করে বিশাল দৈত্যদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ের সাথে যুদ্ধ করছে। কিন্তু বাস্তবতা কি এতই সহজ? এরকম অবস্থায় একজন ১৪-১৫ বছরের কিশোরের মানসিক অবস্থা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে ফুটিয়ে তুলেছে নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন। এটি কোন পৃথিবী রক্ষার সাহসিকতার কোন রুপকথা নয় বরং এটি জীবনের নিষ্ঠুর প্রকৃতির পথ চলা নিয়ে, এরকম কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলায় ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে নিজের জীবনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে। শিনজি এবং আসুকা আমার মতে এনিমের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা দুটি কিশোর চরিত্র। লাইট ইয়াগামি এবং লেলুস যুদ্ধের ক্ষেত্রে খুবই প্রতিভাবান হলেও তাদের চরিত্র লেখার সময় প্রতিটি বিষয় এত যত্নের সাথে সবিস্তরে লেখা হয় নি যেভাবে শিনজি এবং আসুকার চরিত্রে লেখা হয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের এনিম্যাশন সেই সময়ের জন্য বৈপ্লবিক ছিল। এমনকি মুক্তি পাবার ২১ বছর পরেও ইভানগেলিওন ও অ্যাঞ্জেলদের মধ্যকার যুদ্ধ গুলো চোখ ধাদানো মনে হয়। অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত প্রযোজনা করেছে শিরো সাগিসু, এবং সে তার ভূমিকা দুর্দান্ত ভাবে পালন করেছে। এনিমেটির সূচনা গান ‘’A Cruel Angel’s Thesis” আমার খুবই পছন্দের।

আপনি যদি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিনের নাম শুনে থাকেন বা দেখে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এর শেষ দুই পর্ব নিয়ে জানেন। এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কবাদী দুটি পর্ব। প্রথম দিকে বুঝতে কিছু সমস্যা হলেও আশা হারাবেন না এই পর্ব দুটি নিয়ে। অনেকেই এই পর্ব দুটি দেখে বুঝার চেষ্টা করে না কিন্তু কিছুটা সময় নিয়ে চিন্তা করলেই আপনি পর্ব দুটির মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন

End Of Evangelion:
অনেকেই মনে করে যে এই ছবিটি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের সঠিক সমাপ্তি। কথাটিতে যেমন সত্যতা রয়েছে তেমনি ভুল রয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের শেষ পর্ব দুটি মূলত এন্ড অফ ইভানগেলিওনের কাহিনীর সময় শিনজি ইকারির মনে এবং মস্তিস্কে কি হচ্ছিল তার উপর। কাহিনীটি পুরোপুরি বুঝতে দুটিরই প্রয়োজন রয়েছে। এই দুটি ভিন্ন সমাপ্তি একত্রে মিলে আপনাকে এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে সন্তুষ্টিকর সমাপ্তি গুলোর মধ্যে একটি দিবে।
এরপর আপনার ইচ্ছা হলে আপনি রিবিল্ড ছবি গুলো দেখতে পারেন। ছবিগুলো খারাপ নয় এবং অনেক বিনোদনকারী, কিন্তু মুল অনুষ্ঠানটির মতো অসাধারণ নয়। এর মূল কারণ আমার কাছে শিনজি, আসুকা এবং রেয়ের চরিত্রের পরিবর্তনের বিষয়টি ভালো লাগে নি।

২০১৬ সালে আমার দেখা সেরা আনিমেগুলো — Imamul Kabir Rivu

২০১৬ সালে আমার দেখা সেরা আনিমেগুলো:

#4

Anime: Kono Bijutsubu ni wa Mondai ga Aru
Episodes: 12
Genres: Comedy, Romance, School

কখনও এরকম কোন ভালোবাসায় জড়িয়েছেন, যিনি কি না কখনই আপনার দিকে ফিরে তাকায়নি, konobiju 1যত ক্লুই দেন না কেন যে তার প্রতি আপনার এক অন্যরকম দূর্বলতা আছে সে কখনই বুঝেনি। নিজের দুনিয়ার চরিত্রদের নিয়েই পরে রয়েছে, আপনার সাথে ভালো খাতির থাকা সত্বেও কখনও আলাদা রকম ভালোবাসা হয়নি তাও আপনি নিজের মত ভালোবেসে গেছেন সেই মানুষটিকে। এরকম এক প্রেমের মাঝেই জড়িয়ে পরে এই আনিমের প্রধাণ চরিত্র উসামি মিজুকি। তবে কথাগুলো শুনে কোন কষ্টের প্রেমকাহিনী মনে হলেও আনিমেটা আসলে এর ১৮০ ডিগ্রি উল্টো জিনিশ। অতি সাধারণ একটা রমকম আনিমে হলেও, একটা রমকম আনিমে হিসেবে সবদিক থেকে সফল এমন কোন আনিমের উদাহরণ কোনোবিজু।

কাহিনীর মূল সেটিং এক আর্টক্লাব ঘিরে। সেখানেরই দুইজন সদশ্য উসামি মিজুকি এবং উচিমাকি সুবারু, উসামির সুবারুর প্রতি ভালোবাসা জন্মালেও, সুবারুর মন পরে থাকে একগাদা মেয়ের উপর। তবে তারা 3D নয় বরং 2D. তার 3D মেয়েদের প্রতি নুন্যতম আকর্ষনটুকুও নাই। এবং তার আর্টক্লাবে ঢুকার মূল কারণও এক পার্ফেক্ট ওয়াইফু আঁকা। বিভিন্ন রকম উপায়েই উসামি সুবারুর প্রতি যে তার ভালোবাসা আছে তা প্রকাশ করতে যায় এবং সেউ উপায়গুলো অধিক পরিমাণের হাস্যকর, যা এই আনিমের মূল আকর্ষণ। তবে কাহিনী যে এই দুই চরিত্রকে ঘিরে, তা একেবারেই না। সেই ক্লাবেই রয়েছে আরও চরিত্র যেমন তাদের অলস ক্লাব প্রেসিডেন্ট, কোলে-চান, ইমারি, ইয়ুমেকো সেন্সেই এবং আরও অনেক চরিত্র যারা আনিমেটাতে এক বড় ধরণে রোল প্লে করে। তাদের আর্টক্লাবের ভেতরেই উসামি ছাড়া আর কেউ চারুকলা নিয়ে অতটা সিরিয়াস না এবং তাদের প্রতিদিনের হাস্যকর কাজকারবারই আপনার এই আনিমে আরও বেশি করে উপভোগ করাবে।

আর্ট সবমিলায় ভালো ছিল। খুব অসাধারণ কিছু না তবে সুন্দর। মিউজিকের ব্যাপারেও একই মন্তবই। অতি সাধারণ স্তরের জিনিশ হলেও অনেক বেশি উপভোগ করার মত এক আনিমে। ওপেনিং-এন্ডিং সাধারণ মোয়ে আনিমের মতই।

আনিমেটার মূল আকর্ষণ এর কমেডিক এলিমেন্ট এবং মজাদার চরিত্রগুলো। আনিমের সবকিছু সাধারণ হলেও হাসির মুহুর্তগুল যেই সেই আনিমেতে দেখা যায় না এমন।

এর সাথে ছিল আনিমের অসাধারণ ক্যাস্ট। এরকম অসাধারণ রমকম আনিমেতে হিরোইনের কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি ওজাওয়া আরিকেই মানায়। আগে গেক্কান শোজোতেই সাকুরা চিয়োর রোলে তা প্রমাণ করে, এবার মিজুকির কণ্ঠেও তিনি সফল ছিলেন । সাথে উচিমাকি সুবারুর কণ্ঠেও ছিল নাৎস্কি সুবারুর সেইয়ু কোবায়াশি ইয়ুস্কে, এর আগেও এরকম অতি সাধারণ কিশোরদের কণ্ঠ দিয়েছেন এই লোক যেমন আর্স্লান (Arslan Senki) এবং তাকামিয়া হোনোকা (Witch Craft Works) এই থেকে বিবেচনা করলে উচিমাকির কণ্ঠে তিনি সফল তা খুবই স্বাভাবিক ছিল এবং তা হয়েছেও। সাথে কোলে-চানের কণ্ঠে উয়েসাকা সুমিরে এবং ইমারির কণ্ঠে তোয়ামা নাও দুইজনই অনেক ভালোভাবেই চরিত্রগুলোকে তুলে ধরতে পেরেছেন। সব মিলায় কাস্ট সিলেক্টিং অনেক ভালো ছিল এবং এর ফলাফলও ভালো। এছাড়া বাকি চরিত্রদের কণ্ঠেও ছিল নানা মিজুকি, কোমাৎসু মিকাকো, তোকুই সোরা এবং মাওর মত ভালো ভালো সেইয়ু।

সবমিলায় শুধু ২০১৬ না বরং যা যা আনিমে দেখেছি, সবকিছুর মাঝেই কোনবিজু আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা আনিমে। যদি রমকম আনিমে আপনার অতিপ্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে যত তারাতারি পারুন এই আনিমে শুরু করে দেন।

konobiju 2

#3

Anime: JoJo’s Bizarre Adventures Part 4: Diamond is Unbreakable
Episodes: 39
Genre: Action, Adventure, Comedy, Supernatural, Drama, Shounen

কোন সিরিজ নামকরন অনুসারে এতটা সফল না, যতটা না জোজোর ক্ষেত্রে বলা যায়। পুরো jojo 4-1সিরিজটা আসলেই জোস্টার পরিবারের কোন না কোন সদশ্য সংক্ষেপে জোজোকে ঘিরে ঘটা এক ধারাবাহিক উদ্ভট অভিযান। পার্ট ৪-ও আগের ৩ পার্টের মত এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

জোজোর এই পার্টের পটভূমি ১৯৯৯ সালে, জাপানের কোন এক স্থানে অবস্থিত কাল্পনিক এক শহর যার নাম মোরিয়োহ। প্রত্যেক পার্টের মত এই পার্টের মূল চরিত্রও এক ভিন্ন জোজো, জোস্টার পরিবারেরই একজন হিগাশিকাতা জোস্কে। যদিও এ পার্টেও পাবেন জোসেফ এবং জোতারোর ভালো পরিমান স্ক্রিনটাইম। পুরো ৩৯ পর্ব জোস্কের মোরিয়ো শহর জুড়ে বিভিন্ন রকম উদ্ভটসব অভিযান নিয়ে হলেও আগের পার্টগুলোর তুলনায় এই পার্টে রয়েছে বেশ ভালো পরিমান নতুনত্ব।

জোজোর আগের পার্টগুলোতে আগে থেকেই এক নির্দিষ্ট লক্ষ ধরেই আগাতে থাকে কাহিনী। কিন্তু এই অংশে জোস্কে, ওকুয়াসু এবং কোইচির অভিযান শুরু হয় এক অজানা লক্ষকে ঘিরেই। কাহিনীর শুরুর দিকটা কিছুটা ধীরে ধীরে আগায়, প্রথমে মনে হবে এ যেন এক স্লাইস অফ লাইফ আনিমে তবে যত পর্ব যেতে থাকে আনিমেটার কাহিনী আস্তে আস্তে জমজমাট হতে থাকে। আর আগের পার্টগুলোর সাথে তুলনা করলে, এ পার্টের ভিলেনের আগমনও তুলনামুলক পরেই ঘটে। তবে জোজো নামটা শুনলেই প্রথমে সবার মনে কোন এক মাচো ব্যক্তির ইমেজ আসে, এই পার্টে তা খুব একটা দেখা যাবে না। এই পার্ট থেকেই ক্লাসিক GAR ভাইব আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। এছাড়া আগের পার্টের তুলনায় এবার স্ট্যান্ড অ্যাবিলিটির মাঝেও দেখা যাবে নতুন অনেক কিছু। সবমিলিয়ে পুরা নতুন এক জোজো বলা যেতে পারে।

আর্টের মাঝেও রয়েছে নতুন এক ছাপ। David Productions-এর আনিমে হলেও তারা আগের পার্টের সেই আর্টস্টাইল ফলো করেনি। চরিত্র এবং স্ট্যান্ডের ডিজাইনেও এনেছে ভালো পরিমান পরিবর্তন। আগের ৩ পার্টের আর্টস্টাইলের সাথে অভ্যস্থ থাকলে, এই পার্টের আর্টের সাথে মানায় নিতে সময় লাগবে, কিন্তু পরে খাপ খেয়ে গেলে আর খারাপ লাগবে না। আর যদি আগের আর্টের সাথে অভ্যস্থ না হয়ে থাকেন কিংবা কোন কারণে পছন্দ না হয় তাহলে হয়তো ভালো লাগতে পারে। জোজোর আর্টের সাথে অভ্যস্থ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কেউ এই উইনিক আর্টস্টাইলকে খারাপ বলতে শুনিনি।

আনিমেটার থিমের সাথে আনিমের ওএসটিও মানানসই। মেইন থিমটাই বেশ রক্তগরমকারি এবং যেসকল মুহুর্তে বেজে উঠে, সেই মুহুর্তগুলো আসলেই আরও বেশি উপভোগ্য করে তুলে। এছাড়া আগের পার্টের তুলনায় ওপেনিং-এন্ডিং গানের মিউজিক স্টাইলেও অনেক পরিবর্তন আনলেও এই পার্টের থিমের সাথে তা যথাযথভাবে মেনে গেছে। আর জোজোর প্রত্যেকটা ওপেনিং-এর মত এই পার্টের ওপেনিংগুলোও প্রথমে শুনে না ভালো লাগলেও, আস্তে আস্তে যত শুনবেন ততই নেশায় ধরবে। আর এন্ডিং গান পুরো আনিমেতে একটাই, তা হল Savage Garden-এর ‘I want you’, গানটা হয়তো আগেই অনেকেরই শুনা থাকতে পারে কেননা জোজোর প্রত্যেকটা এন্ডিংই বেছে নেওয়া জনপ্রিয় কোন ইংরেজি গান। এই গানটা আমারও অনেক পছন্দের।

এই সিরিজের এক সেরা দিক হল ক্যারাক্টার ডেভলপমেন্ট। বিশেষ করে ওকুয়াসু, কোইচি, হায়াতো এবং জোসকে এই ৪টি চরিত্রের চারিত্রিক ডেভলপমেন্ট ছিল দেখার মত। এছাড়া পুরো আনিমে জুড়েই দেখা যাবে নতুন অনেক চরিত্র। এদের মাঝে পুরো সিরিজে এক বড় রকম প্রভাব রাখে রোহান কিশিবে, ইয়ুকাকো ইয়ামাগিশি, শিগেচি, রেইমি সুগিমোতো এই চরিত্রগুলো। আর খলনায়ক হিসেবে কিরা অনেক ইয়ুনিক একটি চরিত্র, বছরের সেরা খলনায়কের দাবিদার এ। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমার কিরার চেয়ে বরং ডিয়োকেই খলনায়ক হিসেবেই ভালো লাগে।

সবমিলায় বছরের অন্যতম পার্ফেক্ট আনিমে হিসেবে বিবেচনা করলে, জোজো পার্ট ৪ এই তালিকায় অবশ্যই থাকবে। ক্রেডিট বরাবরের মত এবারও ডেভিড প্রোডাকশনেরই।

jojo 4-2

#2

Anime: Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu
Episodes: 25
Genres: Psychological, Drama, Thriller, Fantasy

re zero 1গত বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় আনিমে কোনটা, এ নিয়ে একটা পোল খুললে হয়তো বেশির ভাগ ভোটই যাবে রি: জিরোর ঘরে। সত্যি বলতে আনিমেটা আসলেই উপভোগ্য ছিল বলেই এত বড় একটা ফ্যানবেজ পেয়েছে। যদিও আনিমেটা নিয়ে মতামত অনেকের অনেক রকম। শুরু থেকেই আনিমেটার একটা মাস্টারপিস হওয়ার অনেক পটেনশিয়াল ছিল তবে ২৫ পর্ব শেষে সেই পর্যায়ের কিছুই হয় নাই, কিন্তু হতাশ করার মত আনিমে একেবারেই না।

রি: জিরো তুলনামূলক ডার্ক একটা আনিমে এক ফ্যান্টাসি সেটিং এর উপর। কাহিনীর শুরু হয় আনিমের প্রধান চরিত্র নাৎসুকি সুবারুকে নিয়েই, সে হঠাৎ করেই এক স্টোর থেকে বের হয়ে বোঝার আগেই এক ফ্যান্টাসির জগতে টেলিপোর্ট হয়ে যায়। এরপর পুরা আনিমে জুড়েই দেখানো হয় সুবারুর উপর বিরতিহীন মানসিক অত্যাচার। সুবারু শুরু থেকেই এই নতুন জগত খুব পছন্দ করে এবং এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর থেকেই নতুন সব অ্যাডভেনচারের জড়িয়ে যান তিনি । যে জিনিশটা আনিমেটাকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলে সেটা হল সুবারুর মরার পর আবার জীবিত হয়ে আসার ক্ষমতা। অনেকটা রিসেট করার মতই, এর জন্যই হয়তো সিরিজের নাম Re:Zero, শূন্য থেকে আবার শুরু করা । সুবারুর এই ক্ষমতা অনেকটা গেমের এক চেকপয়েন্টে গেম সেভ করার পর যদি আপনার চরিত্র মারা যায় তাহলে সেই চেকপয়েন্ট থেকেই আবার সে রিস্পওন করবে, অনেকটা এরকমই। তবে এই এক ক্ষমতার উপর কাহিনী অনেক নির্ভরশীল। এটা কাহিনীটা অনেক ইন্টারেস্টিং করলেও বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আড়াল করে গিয়েছে। এই পুরো অ্যাডভেনচারটা সুবারুকে ঘিরে হলেও সিরিজের আরও দুইটা ভাইটাল চরিত্র আছে তারা হল গল্পের প্রধান নায়িকা এমিলিয় এবং তার ডেমন মেইড রেম। তাদের জন্যই মূলত সুবারুর এত কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পুরো সিরিজ ৩টা আর্কের উপর বানানো এবং প্রত্যেকটার কাহিনীই আলাদ আলাদাভাবে ভালো। সবমিলায় গল্পটা অনেক ইন্টারেস্টিং, যদিও অনেক গভিরে গেলে সিরিজে ফ্ল-এর অভাব নাই। কিন্তু সেভাবে না চিন্তা করলে, সিরিজটা অপছন্দ হবে না কারো।

সিরিজের আর্টটা দুর্দান্ত। খুব হাসিখুশি মুহূর্ত অনেক উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে হঠাৎ কোন ডার্ক মুহূর্তে ডার্ক আনিমেশন অনেক ভালোভাবে তুলে ধরেছে। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক সুন্দর সাথে চরিত্রের ডিজাইন মনমুগ্ধকর এবং তাদের এক্সপ্রেশনগুলোও ফাটাফাটিভাবে তুলে ধরেছে। আর্টের মাধে এত সুন্দর কালার কম্পোজিশন, সিরিজের সেরা দিকগুলোর একটি।

মিউজিকও ছিল অসাধারণ। ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলোতে যেই মিউজিকটা দেয় সেটা অনেকটা আত্মা কাপানোর মতই। পুরো সিরিজের ইন্সার্ট মিউজিকগুলো অনেক ভালো এবং দৃশ্যের সাথে মানানসই। প্রথম ওপেনিং-টাই গাওয়া কোনোমি সুজুকির, পার্সোনালি অনেক প্রিয় একজন সিঙ্গার, তার প্রত্যেকটা গানই অনেক প্রিয় রিডুও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে ওপেনিং-এন্ডিংগুলো মূলত জমজমাট করে তুলেছে Myth & Roid, এই সিরিজটির আগে তাদের খুব একটা নামডাক ছিল না। কিন্তু তাদের গাওয়া ৩ টি গান Styx Helix, Straight Bet এবং Paradisus-Paradoxum খুবই চমৎকার ছিল, যার প্রথম দুইটি সিরিজের এন্ডিং (Straight Bet যদিও একটি পর্বের এন্ডিং ছিল) এবং আবং শেষটি সিরিজের দ্বিতীয় ওপেনিং। কোন সিরিজে সেই সিরিজের সেইয়ুকে দিয়ে গাওয়ানো কোন গান ওপেনিং-এন্ডিং হিসেবে ব্য়বহর করা নতুন কিছু না। এ সিরিজেও তা ছিল, তাকাহাশি রিয়ের গাওয়া ‘Stay Alive’ এবং মিনাসে ইনোরির গাওয়া ‘Wishing’ অত্যন্ত সুন্দর দুইটা গান ছিল। সিরিজের প্রত্যেকটা গানই বছরের সেরা হওয়ার উপযোগ্য তবে Styx Helix আমার মতে এ বছরের সেরা এন্ডিং।

এন্জোয়মেন্ট এই একটা জিনিশে সিরিজটা অনেক বেশি সফল। সিরিজটা দেখে নানা রকম অনুভুতিই আসছে। কিছু কিছু মুহূর্তে চরিত্রগুলো আপনাকে হাসাবে আবার তার কিছু মুহূর্ত পরই সেই চরিত্রগুলোর কাজকর্ম আপনাকে ক্রিপ আউট করে দিবে। অনেক হরিফিক মুহূর্ত ছিল যা দেখে আপনার অসস্তিকর লাগবে কিন্তু এরপরও বসে থাকবেন “কী হয়? কী হয়?” এটা মাথায় রেখে। সুবারুর ডিপ্রেশনটা যেভাবে আনিমেতে ফুটিয়ে তুলেছে সেটা অসাধারণ ছিল, সুবারুকে দেখেই আপনার খারাপ লাগবে, আবার কিছু কিছু মুহূর্তে তাকে বড়ই প্যাথেটিক মনে হবে, আবার তার কথা বার্তায় নিজের সাথেও মিল খুজে পাবেন। এবং এরপর সিরিজের চরিত্রগুলো বুঝে ওঠার আগেই আপনার অনেক ভালো লাগা শুরু করবে। বুঝতেই পারবেন না কাকে আপনার বেশি ভালো লাগে এমিলিয় না রেম, তবে সিরিজ শেষে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত। কিন্তু আমার কাছে রেম বছরের সেরা গ্রিল চিকেন।

সিরিজের চরিত্রগুলোও অসাধারণ ছিল। সুবারু কোন ওভারপাওয়ার্ড কোন প্রধাণ চরিত্র ছিল না, তার মাঝে অনেকটা বাস্তব কোন মানুষের চরিত্রের রিফ্লেকশনই দেখা গেছে। ওর মত বারবার অপ্রিতীকর মুহূর্তের মাঝে গেলে যে কেউই সে পর্যায়ের মানসিক যন্ত্রনায় ভুগবে, স্বাভাবিক। এছাড়া এতকিছুর মাঝেও শেষ দিকে গিয়ে তার চারিত্রিক উন্নতি দেখার মত। এমিলিয়া প্রত্যেক দিক থেকেই একটা আদর্শ হিরোইন, দেখতে সুন্দর সাথে আত্মনির্ভর। রেম বছরের সেরা ফিমেল চরিত্র এমনেও জিতবে ওমনেও জিতবে, কেননা আর যাই হোক নানা স্তরের ফ্যানবয়দের মন সে কেড়ে নিয়েছে। তবে চরিত্রটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তার কাজকর্মে অনেক পার্ফেক্ট ছিল বলা যেতে পারে। সাথে তার বোন রামও এক মজার চরিত্র, যার কাজকর্ম নিতান্তই উপভোগ করার মত। এছাড়া সিরিজের বাকি চরিত্রগুলোও আলাদা করে মনে রাখার মতই।

রি: জিরো সব মিলায় একটা ভালো আনিমে বলেই এটার ফ্যানবেজটা এত বড়। আর এত বড় ফ্যানবেজ নানা রকম ভক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফ্যানবেজের আচরণের উপর বিচার করে একটা আনিমে অপছন্দ করাটা বোকামি। নিজে থেকে আনিমেটা শুরু করলে, এটা খারাপ লাগর কোন কারণ দেখি না, তাই এখনও আনিমেটা না দেখে থাকলে, শুরু করে ফেলুন এবং নিজের মতামত দিয়েই বিচার করুন।

re zero 2

#1

Anime: New Game
Episodes: 12
Genre: Slice of Life, Comedy

new game 1গত বছরের যে কয়টা আনিমে দেখেছি সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি এই আনিমেটা দেখেই। যদিও মনের ভেতর AOTY-এর ক্যান্ডিডেট আরও দুটি আনিমে, কোনোসুবা এবং আনসাৎসুর দ্বিতীয় সিজন। বাকি দুটো নিয়ে কথা হলেও, সেই তুলনায় আনিমেটা নিয়ে কম কথা বলা হয়। তাই ঠিক করলাম এটা নিয়েই লেখি।

আনিমেটার কাহিনী এক গেম ডেভেলপার কম্পানিকে ঘিরে। যেহেতু আনিমেটা মূলত ‘cute girls doing cute things’ তাই এখানে সব চরিত্রই মেয়ে। সিরিজের প্রধাণ চরিত্র সুজুকাজে আওব, যিনি কি না হাইস্কুল থেকে পাশ করে একেবারে নতুন চাকুরিজিবি হিসেবে সে কম্পানিতে কাজ করা শুরু করেছে। সেই কম্পানিতে ইয়াগামি কো নামের এক ক্যারেক্টার ডিজাইনারের অধীনে এক টিমের সদশ্য হয় আওবা, আওবার পশাপাশি টিমের বাকি সদশ্য হাজিমে, হিফুমি এবং ইয়ুন। মূলত এই টিমের নানা রকম কাজকর্মকে ঘিরেই এই আনিমের কাহিনী। কাহিনীর সাথে সাথে গল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উছে আরও কিছু চরিত্র যেমন নেনেচ্চি, আহাগন এবং তোয়ামা রিন। এই টাইপ আনিমের কথা উঠলেই অনেকেরই প্রশ্ন থাকে “শিরোবাকোর মত নাকি?” এ সিরিজের কাহিনী শিরোবাকোর মত এতটা সিরিয়াস না, পুরোটাই কেমনে গেম তৈরি করে কিংবা ডেভেলপারদের নানা রকম কষ্ট তুলে ধরে না। আবার পুরো সিরিজটা K-On!-এর মত ফুয়াফুয়া থিমও না। এই দুই আনিমে নিয়ে একটা স্কেল হিসেবে মাপলে, মাঝস্থানে থাকবে New Game। সিরিজে বেশির ভাগ সময়ই একটা লাইট হাসিখুশি থিম নিয়ে থাকলেও, আনিমের শেষের কিছু মুহূর্ত বেশ সিরিয়াস। শেষে গিয়ে আপনার সিরিজের চরিত্রগুলোর প্রতি এক আলাদা রেসপেক্ট ও ভালোবাসা, বিশেষ করে ইয়াগামি কো-এর প্রতি । এর বেশি কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে ।

সিরিজের আর্টটা অনেক সুন্দর। বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ড, সাধারণত মোয়ে আনিমেতে এনিমেশনের এত স্মুথ কাজ দেখা যায় না। সে দিক থেকে নিউ গেম ব্যতিক্রম। ডোগা কোবোর বাকি কাজগুলোর তুলনায় নিউ গেমের আর্ট সবচেয়ে সেরা। চরিত্রের ডিজাইনগুলোও অনেক সুন্দর, খালি চোখগুলো বড় বড় কিন্তু এ নিয়ে হয়তো কারও খুব একটা আপত্তি থাকার কথা না। আর যাই হোক সিরিজের, কালারিংটা পুরোই অন্যরকম এক সৌন্দর্য।

new game 2

সিরিজের সাউন্ডট্র্যাক ভালোই। খুবই আহামোরি কিছু না, অতি সাধারণ সাউন্ডট্র্যাক। ওপেনিং এবং এন্ডিং গানও অনেক কিউট সাথে মেলোডিয়াস। দুইটা গানের ক্রেডিটই সিরিজের মেইন কাস্টের। আমার কাছে অনেক বেশিই ভালো লেগেছে। সিরিজের কাস্টের ভয়েস অ্যাক্টিংও ছিল অসাধারণ। একেবারে অভিগ্য সেইয়ুগুলোর মাঝে ছিল কায়ানো আই (তোয়ামা রিন), হিকাসা ইয়োকো (ইয়াগামি কো) এবং কিতামুরা এরি (হাজুকি শিজুকু) যারা কিনা কোম্পানির অভিজ্ঞ ডেভেলপারদেরই কণ্ঠ দিয়েছে। কিন্তু সিরিজের বাকি চরিত্রদের সেইয়ু একেবারেই নবাগত, কিন্তু তাদের কাজে তা মনে হয়নি। প্রত্যেকটা চরিত্রর কণ্ঠে তাদের স্বভাব এবং ব্যক্তিত্ব অনেক সুন্দর ভাবেই তুলে ধরেছে।

চরিত্রগুলো স্টেরিওটিপিকাল মোয়ে আনিমের চরিত্রগুলোর মতই। প্রধান চরিত্র আওবা যিনি কি না উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটা চরিত্র সাধারণ মোয়ে হিরোইনদের মতই তবে খুব একটুও ক্লামজি না। সিরিজের প্রত্যেকটা চরিত্র আলাদা রকম। এত ডাইভার্স চরিত্রের ইন্টারেকশনটাই সিরিজের মূল আকর্ষণ এবং সিরিজটা এতটাই মজার করে তুলেছে।

সবমিলায় সিরিজটা এন্জয়মেন্টের দিক থেকে সফল। সিরিজের বলতে গেলে সবকিছুই অনেক উপভোগ করেছি। শুধু মোয়ে আনিমের স্ট্যান্ডার্ডেই আনিমেটা অনেক ভালো একটা আনিমে না, স্লাইস অফ লাইফের স্ট্যান্ডার্ডে মাপলেও গত বছরের সেরা আনিমেগুলোর একটা। কমেডি কিংবা এক সুন্দর স্লাইস অফ লাইফ উপভোগ করবো এরকম মোন-মানষিকতা নিয়ে বসলে যে কেউ সিরিজটি ভালো লাগবে। খুব বেশি না মাত্র ১২ পর্বের মধ্যে অনেক মজাদার এবং সুন্দর একটি কাহিনী নিউ গেম, সময় নিয়ে দেখে ফেলুন।

new game 3

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫৮ তম পার্ট By অরিন শারমিন

 

এই লেসন শুরু করার আগে ৫৪ নম্বর লেসন ১ম অংশে একটু চোখ বুলায়ে আসলে ভাল হয়
http://www.animeloversbd.com/জাপানিজ-শিখুনজীবন-গড়ে-তু-54

তাও আরেকবার রিপিট করি ….এই শব্দগুলা সবারই কমন পড়ার কথা 🙂

কিয়ৌ-today
কিনৌ-yesterday *(সাকুজিতসু মানেও yesterday)
আশিতা-tomorrow *(আসু মানেও tomorrow)
ওতোতোই- day before yesterday *(ইসসাকুজিতসু মানেও day before yesterday)
আসাততে-day after tomorrow
কোনশুউ-this week
সেনশুউ-last week
রাইশুউ-nest week
কোতোশি-this year
কিয়োনেন-last year *(সাকুনেন মানেও last year)
রাই নেন-next year
*কোন গেতসু-this month
*সেন গেতসু-last month
*রাই গেতসু-next month
*সাকিওতোতোই-three days ago
*শিআসাত্তে-three days from now
*ইসসাকুনেন/ওতোতোশি-the year before last
*সারাইনেন-the year after next
*সেনসেনগেতসু-the month before last
*সেনসেনশুউ-the week before last
*সারাইগেতসু-the month after next
*সারাইশুউ-the week after next
*সেনজিতসু-the other day
*হেইজিতসু-week day
*শুকুজিতসু/সাইজিতসু-national holiday

*দেয়া গুলা আজ নতুন দিলাম… বাকিগুলা ৫৪ নাম্বার লেসনেও আছে

Berserk (2016): [Honest Reaction, Rant, Appreciation] — Tahsin Faruque Aninda

berserk_2016_5127

সর্বকালের সেরা মাঙ্গা বলে কোন নাম উল্লেখ করতে বললে সব চাইতে বেশি নাম যেটা আসবে সেটা হল বার্সার্ক। কেন্তারো মিউরার এই অনবদ্য সৃষ্টি শুধু মাঙ্গা হিসাবেই নয়, কমিক্স/গ্রাফিক্স নোভেল হিসাব করতে গেলেও এরকম মানের জিনিস খুব কমই পাওয়া যায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে আসা এই মাঙ্গার গল্প যেমন অসাধারণ, আর্ট তেমনই অবাক করার মত সুন্দর! এত বছর ধরে চলে আসার পরেও গল্পের কোন কুলকিনারা করে উঠা যাচ্ছে না তার একটা বড় কারণ মাঙ্গাকার কয়েকদিন পরপর হায়াটাসে চলে যাওয়া। এক নৌকা ভ্রমণে গল্প ৭ বছর আটকিয়ে রাখার মত আকাম করেছে এই লোক। নাহলে কে জানে, গল্প হয়তো এতদূর এগিয়ে যেত যে গল্পের শেষের দিকে কী হতে পারে না পারে তার কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যেত।

সে যা হোক, সর্বজনবিদিত এই মাঙ্গার আনিমে এডাপশনের উপর যেন সবসময়েই একটা অভিশাপ লেগে থাকতো। অনেক নামকরা মাঙ্গার মতই এটারও আনিমে এডাপশনের ভাগ্যের শিকে ছিড়ে উঠে নি অনেকদিন। এডাপশন কনফার্ম হলেও আনিমের বাজেট খুবই কম থাকার কারণে স্টিল শট ব্যবহার করার কারণে কুখ্যাত হয়ে উঠে ১৯৯৭ সালের সেই সিরিজ। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের আনিমের খবর বের হলেও দেখা যায় সেটা মুভি ট্রিলজি, তাও আবার ১৯৯৭ সালে গল্প যতটুকু দেখিয়ে রেখে দিয়েছিল, ততটুকুই আবার রিবুট করবে। এই মুভি তিনটি বের হয়ে থাকলেও এরপর আবার খবর নেই। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের নতুন আনিমে এডাপশনের খবর বের হলেও সবাই চিন্তায় থাকে আবার রিবুট না তো! এবার অন্তত রিবুট হবে না এটা মোটামুটি কনফার্ম হবার পরেও সবার মনে আরেকটা চিন্তা উকি দেয় — CG এর ব্যাবহার আনিমের মানটাকে আবার খারাপ করে ফেলবে না তো!

তা শেষ পর্যন্ত কেমন হয়ে উঠে সিরিজটা? এডাপটেশন খারাপ বলে সবাই গলা ছাড়িয়ে বেড়ালেও আর মাঙ্গা পাঠকদের হতাশ করা হয়ে থাকলেও সব মিলিয়ে সিরিজটি কেমন হয়েছে? দেখার মত নাকি একদমই ফেলে দেবার জিনিস?

মাঙ্গা এডাপশন হিসাবে কেমন, সেই টপিক আপাতত সরিয়ে রাখি। ইন্টারনেটে গত তিন মাস উপস্থিত থাকলে যে কেউই এতক্ষণে জেনে গিয়েছে পাঠকদের রিএকশন কেমন। তাই সে কথা বাদ থাক। আগে থেকে কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, আনিমে দিয়েই শুরু করেন, তাহলে তার জন্যে এই লেখাটি একটি গাইডলাইন হতে পারে সিরিজটা সম্পর্কে বিচার করার জন্যে।

শুনতে অবাক লাগলেও, সিরিজটির বেশ ভাল কিছু দিক আছে। সেই ভাল দিকগুলি তুলে ধরার আগে অল্প কথায় সিরিজটির অনাকর্ষণীয় দিকগুলি নিয়ে আসি:

— CG মানেই খারাপ নয়, ভাল CG-এর ব্যবহার একটা সিরিজকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। বার্সার্কে CG-এর ব্যবহার খারাপ ছিল নিঃসন্দেহে, তবে তার চাইতেও বড় সমস্যা হল CG কিভাবে ব্যবহার হয়েছে এখানে। সিরিজ ডিরেক্টর এর আগে যত আনিমেতে কাজ করেছে, সেগুলি ছিল ৩-৪ মিনিটের পর্ব করে slapstick slice of life comedy সিরিজ। সেই ডিরেক্টর (এবং একই সাথে আগের আনিমেগুলির সেই একই স্টুডিওকে) এমন একটি আনিমের দায়িত্ব দেওয়া হল যা ছিল সবদিক থেকে আগের কাজগুলি থেকে একদম আলাদা। comedy slice of life এর জায়গায় dark fantasy horror, 2d এর জায়গায় 3d cg, short fast paced slapstick আনিমের জায়গায় বড় পর্বের action drama সিরিজ। এত কঠিন সব কন্ডিশনের পরেও সিরিজটা চমৎকার হয়ে উঠতে পারে যদি ডিরেক্টরের গুণ অনেক বিশেষ কিছু হয়ে উঠে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এরকম কিছুই হয়ে উঠে নি। অ্যানিমেশন, স্ক্রিনপ্লে, কোরিওগ্রাফি, কোন কিছুই ঠিকমত হয়ে উঠে নি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই ভিডিওটি দেখে ফেলুন, সুন্দর করে সবকিছুর analysis করা হয়েছে:

— গল্পের কাটছাট অনেক বেশি হয়েছে। বিশেষ করে Black Swordsman arc ও Conviction arc এই ১২ পর্বে দেখানোর কথা থাকলেও অর্ধেকের মত গল্পের উপাদানই বাদ দেওয়া হয়েছে এখানে। বাকিটুকুও যা দেখানো হয়েছে সেগুলিও অনেক rushed করে দেখিয়েছে।

— Censoring.
এটা বলার আগেই বুঝে নেওয়া যায়, মাঙ্গায় যে ভয়াবহ রকমের বেশি পরিমাণ nudity আর gore ছিল, তা আনিমেতে কোনভাবেই দেখাতো না। HBO যদি Berserk-এর কোন এডাপশন করে, তাহলেই একমাত্র সেখানে এরকম কিছু দেখা যেত [এবং যার কাছে GoT এর nudity-কে রীতিমত childish পর্যায়ে ফেলে দেওয়া যায়]। তা স্বত্ত্বেও কিছু কিছু যায়গায় সেন্সরিং চোখে পড়ার মত ছিল।

এবার আসি সিরিজটার ভাল দিকগুলির কথায়:

+ শুরুর দিকে সিনেম্যাটোগ্রাফি খারাপ থাকলেও ধীরে ধীরে ভাল হয়ে উঠতে শুরু করে। ডিরেক্টরের কাজ দেখে মনে হয়েছে, প্রথম ৪-৫ পর্ব কোনরকম হয়ে থাকলেও এর মধ্যেই সে অনেক কিছু শিখে উঠে। যার কারণে পরের দিকের পর্বগুলি তুলনামূলক বেশ ভাল হয়।

+ মিউজিক চমৎকার ছিল। এন্ডিং গানটা খুব ভাল না হলেও ওপেনিং গানটা এই বছরের অন্যতম পছন্দের গান। মিউজিকের ব্যবহার ভাল তো ছিলই, আমার কাছে সাউন্ড ইফেক্টও ভাল লেগেছে।

+ ক্যারেক্টার ডিজাইন।
হ্যাঁ, গাটসকে বেশি খারাপ লেগেছে আসলে, মুখটা বেশি চিকন করে ফেলেছে, শরীরটাকেও। কিন্তু বাকি সবাই একদম মাঙ্গার মতই রয়ে গিয়েছে।

+ একশন দৃশ্যগুলি বেশ ভাল ছিল। শুরুর দিকে একশন দৃশ্যের মান খারাপ থাকলেও, প্রথম পয়েন্টটার মত এ ক্ষেত্রেও যথেষ্ট উন্নতি ঘটে শেষের দিকে এসে। বিশেষ করে conviction arc-এর শেষের মারামারিটা বেশ মুগ্ধ করেছে আমাকে।

+ আনিমের জন্যে তৈরি নতুন অংশটি।
যেহেতু অনেকদিন পর আনিমে হিসাবে বার্সার্ক এসেছে আবার, আর তাছাড়া এর আগের সিরিজ/মুভিগুলির কারণে আর একই সাথে এইবারের সিরিজে সময়-স্বল্পতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিতে হয়েছে, এই জন্যে apostle জিনিসটা কী সেই ব্যাপারে দর্শকদের পরিষ্কার ধারণা না থাকতে পারে। এজন্যে apostle-এর ব্যাপারটা নতুন দর্শকদেরকে ভাল মত introduce করাবার জন্যে শুরুর দিকে একটি anime only mini arc দেখায়। এই অংশটি “ফিলার” বলে দাবী করতে গেলেও একে ফিলার বলা যাবে না আসলে। কারণ মিউরা নিজেই গল্পের এই অংশটুকু লিখেছে। আর এটি বেশ ভালই হয়েছিল, দেখার সময়ে বিরক্তি তো লাগেই নাই, বরং গল্পের অন্যান্য অংশের সাথে মানিয়ে যাবার মত ঘটনাই দেখিয়েছে। মাঙ্গাকা নিজে লিখেছে বলেই এই অংশটুকু ভাল হয়েছে।

+ নতুন জেনারেশনকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
আনিমেটাকে মাঙ্গার এডভার্টাইজমেন্ট হিসাবে ধরে নেওয়া হোক বা না হোক, এই সুযোগে এখনকার জেনারেশনের অনেক দর্শক এবং একই সাথে পাঠকদেরকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা ভাল উদ্যোগ। “READ THE MANGA” বলে চেঁচানোর কারণে অনেকে আনিমে দেখে এরপর আর সাসপেন্স সইতে না পেরে মাঙ্গাটা শুরু করে দিবে সন্দেহ নাই।

সব মিলিয়ে এটুকু বলবো, কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, তার কাছে এই বার্সার্ক একদম ভয়াবহ খারাপ লাগবে না। সব মিলিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং সিরিজ হিসাবেই মনে হবে। মাঙ্গা পড়তে না চাইলে এবং শুধু আনিমে দর্শক হয়ে থাকলে, সিরিজটা উপভোগ্য লাগবে পরের দিকে গিয়ে। বিশেষ করে সময়ের সাথে সাথে সিরিজটার making-এ উন্নতির ছাপটা বুঝা যাবে। তবে মাঙ্গা পড়তে আপত্তি না থেকে থাকলে অবশ্যই মাঙ্গা পড়তে অনুরোধ করবো।

সবশেষে বলবো, যেহেতু এর সিকোয়েল আসবে সামনের বছর, তার অর্থ খুব নিকট ভবিষ্যতে অন্য কোন ভাল স্টুডিওর পক্ষ থেকে এর রিবুট আসছে না। তাই প্রথম সিজনের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় সিজনটা যেন আরও ভাল করে তুলে সেটাই আশা করছি। Falcon of the Millennium Empire Arc-টা কোনভাবেই খারাপ কিছু যেন না হয়ে উঠে এই আশাতেই আছি।