Binbougami Ga [এনিমে রিভিউ] — Maruf D. Raihan

binbougami ga

Binbougami Ga(Poor God) / বিনবোগামি

এপিসোড সংখ্যা: ১৩
জেনরা: কমেডি,প্যারোডি,শোউনেন,সুপারন্যাচারাল
স্টুডিও: টিভি টোকিও,সানরাইজ এন্টারটেইনমেন্ট
MyAnimelist Rating: ৭.৯৫
ব্যক্তিগত রেটিং :
সর্বোপরি : ৭.৬/১০
প্লট: ৬.৯/১০
চরিত্রায়ন : ৮.৩/১০
কমেডি :৮.৮/১০

যদি পড়ন্ত কোন বিকেলে “Grave of the Fireflies ” বা “Your Lies in April” দেখার পর এক কাপ চা নিয়ে বারান্দায় বিমর্ষ মুখে বসে আছেন,চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে কিন্ত সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। বাইরে তাকিয়ে কি যেন ভাবছেন।

তাহলে মুড চেঞ্জ করুন। এত সিরিয়াস কেন???


টাডা!!!!!!!!!!!!!! ♪

ভাগ্যবান কে না হতে চায়? দুর্ভাগ্য বরণ করতে কেউ রাজি নয়। কিন্ত কেমন অবস্থা হবে যখন খুব বেশি ভাগ্যবান হওয়ার অপরাধে উপররের জগত হতে কামি-সামা এসে তার ভাগ্য চুরি করতে উদ্যত হয়!!!!!!!

কিছুই হবে না। একটি অতি মজাদার টাইপের এনিমে শুরু হবে [Binbougami Ga]

সাকুরা ইচিকো(প্রধান চরিত্র) এক অতিরঞ্জিত ধনের দুলালী তথা সেলিব্রিটি কন্যা। তার মোহিনীয়তার জোরে ছেলেরা কাবু। এই নিয়ে স্কুলের অন্যান্য মেয়েরা ঈর্ষান্বিত তার ওপর। কিন্ত এক মেয়ের কপলে এত সৌভাগ্য কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আকাশ ফেড়ে নেমে এলেন বিনবোগামি সামা, কামি-সামা। কিন্ত ইনি কারও ভালো করেন না, সাহায্যও না। ওনার কাজ দুর্ভাগ্য বয়ে আনা।

শুরু হয়ে যায় টম এন্ড জেরির লুকোচুরি খেলা। তবে বেশ মজাদার ভংগিতে। বিনবোগামি সামার টার্গেট সাকুরার ভাগ্য আর সাকুরার লক্ষ্য ভাগ্য রক্ষা। গল্পের এভাবেই শুরু হয়……..

আর কাহিনী বললে দেখার আগেই এনিমে শেষ,এমন অবস্থা দাড়াবে। তাই কিছু খুঁটিনাটি দিক নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ওপেনিং সং টা বেশ আনন্দদায়ক। গান হিসেবে কমেডি টাইপ হলেও কথা ও সুরে হাসির উদ্রেক করার জন্য যথেষ্ট।

পিকো এনাহোমার “Make my day” গানটির ইউটিউব লিনক-

হ্যা! হ্যা! হ্যা! বিনবোগামি তে এচি ও এডাল্ট ম্যাটেরিয়াল আছে। কিন্ত তাই বলে একে ফালতু বলার কোন সুযোগ নেই। কারন যা ইনক্লুড করা হয়েছে তা এনিমেটিকে হাস্যরসাত্নক করার জন্য।
ফালতু ন্যাকামি নেই বললেই চলে, যা আছে তা প্লটের সাথে মানানসই…….

ছোট আয়তনে এসেছে অনেক চরিত্র। আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, ১৩ এপিসোডের এনিমেতে এত চরিত্র আসলেও তা অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়নি। রয়েছ কিছু অদ্ভুত ও মজাদার ক্যারেক্টার :

সাকুরা ইচিকো
বিনবোদা মোমিজি
হিনকোগাওয়া
সুয়াবুকি কেইতা
ইনুগামী মোমোউ
রিন্দো রানমারু

আর এই এনিমেতে ডেথ নোট,ওয়ানপিস, ড্রাগনবল জি এমনকি ডোরেমনকে নিয়ে ব্যাপক ট্রলিং হয়েছে যা ব্যাপক হাসির খোরাক যোগাবে।।

একবারে বসে শেষ করে ফেলুন। আগেই বলেছি, এর একমাত্র উপযোগিতা হল মুডকে হাস্যোজ্জল করা। অর্থাৎ এনিমেটা দেখে আপনি বিশাল বিনবোগামি ফ্যান হয়ে যাবেন, প্রোফাইল পিকচার এ বিনবোগামি ক্যারেক্টার এর ছবি দেবেন… তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা ১/১০০……
তবে যতক্ষণ দেখবেন, ততক্ষণের বিনোদন গ্যরান্টিড। কিন্ত এনিমে শেষ করার পর যদি মনে হয়, “ধুর!!!!! ফাও ফাও টাইম ওয়েস্ট করলাম” তাহলে সেটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না। কেননা এটা আপনাকে ভাবাবেও না, কাঁদাবেও না। কিছুক্ষণের জন্য হাসাবে।

আর মানগাটা না পড়তে রিকমেন্ড করব। মানগাটির আকা কোরিয়ান এচি মানহয়ার মত ফালতু।

যাই হোক, বিনবোগামি নিয়ে আর কথা বাড়াব না।
কৌতুহল জাগলে পরখ করে দেখতে পারেন। ভালো লাগলে জানাবেন।।।

Perfect Blue রিভিউ — Saqib Shadman

PB2

খুব কম সিরিজ/মুভি থাকে (শুধু এনিমের কথা বলছি না) যেইটার প্রথম ৫ মিনিট দেখে বলা যায় বাকি অংশ চরম হবে। গত রাত Princess Mononoke শেষ করেই দেখা শুরু করলাম Perfect Blue ।

Pop Idol জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হওয়ার প্রয়াস করে Mima Kirigoe। কিন্তু মিমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে হতাশ অনেকেই। একজন stalker Pop-Idol মিমার প্রতি এতোই অন্ধকারাচ্ছন্ন, মিমার জীবনযাপন, চলাচল সব কিছুর দিকে নজর রাখে। ইন্টারনেটে সেসব আবার প্রকাশও করে। পাশে এই একি মানুষ মিমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে।

PB1

Perfect Blue হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্নের গল্প, এবং তা মানুষকে কেমনে ধ্বংস করতে পারে। ফিল্ম দুনিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য মিমাকে অনেক কাজ করতে হয় যেইটা মিমা নিজের উৎসাহে করতে চায় না। এসবের জন্য মিমাকে প্রায় বিদ্রূপ করে মানসিক বিভ্রম।

ফিল্মের বেশির ভাগ অংশ দেখা হয় মিমার পরিপ্রেক্ষিত থেকে। আশেপাশের পরিস্থিতির কারনে মিমা বাতুলতার দিকে আগাতে থাকে। প্রায় যা বাস্তব ও যা বিকল্পিত তার মাঝের দাগটা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং প্রশ্ন দারায়ঃ সবকিছু কি মিমাই করছে?

PB3

গল্প ও চরিত্রদের সাথে সঙ্গত করা আছে যথাযথ আর্টওর্য়াক ও মিউজিক। ডার্ক ও বর্ণহীন একটা রঙ প্যালেট একটা ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি করে। মিউজিকও কম নয়, কার্যকরীভাবে টেনশনের মুহূর্তে উত্তেজনা আর বারায়।

ভাল সেইনেন এনিমে যদি খুজে থাকেন, পারলে দেখে নিয়েন। Psychological এনিমে ফ্যান্দের জন্য আমি মনে করি এই ফিল্ম আবশ্যক।

PB4

Origin: Spirits of the Past রিভিউ — Saqib Shadman

Origin Spirits of the Past 2

বেশির ভাগ এনিমে Feature-film এর বেশ কিছু সহজাত সমস্যা থাকে: প্লট ঠিক মতন ডেভেলপ হয় না, Backstory এর অভাব, চরিত্র অপূর্নগঠিত হয়, ইত্যাদি, ইত্যাদি……… Origin: Spirits of the past আমার কাছে একটা Textbook উদাহরন মনে হল যেটা ফিল্মের ভাল এবং খারাপ দিক গুল পরিবেষ্টন করে।

চাঁদে আপাতদৃষ্টিতে অপার্থিব এক ঘটনার পর সভ্যতার প্রত্যাগতি হয়। একদিন পানি আনতে গিয়ে Agito উদ্ধার করে পুরন দুনিয়ার Toola কে (Hibernation এ ছিল, or something)। Post-apocalyptic দুনিয়ায় মানুষ থাকে প্রকৃতির ভয়ে। মানবজাতি দুই ভাগ হয়ে গেছেঃ এক ভাগ প্রকৃতির সাথে সাদৃশ্যে থাকতে চায়, অন্য ভাগ চায় প্রক্রিতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আনতে।

Origin Spirits of the Past 3

গল্প মোটামোটি চলে, খুব খারাপ না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে শেষে একটা twist বাদে, খুব অসাধারণ বা চিন্তাকর্ষক কিছু মনে হয় নাই। কিছু কিছু জাইগায় plot holes ছিল আমার মতে।

চরিত্রদের তেমন আহামরি কিছু মনে হয় নাই। ভাল এনিমে ফিল্মে অন্তত প্রধান চরত্রিদের কোন না কোন স্বভাব থাকে জার কারনে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। ওইটাও পেলাম না।

Origin Spirits of the Past 4

তবে এনিমেশন এবং আর্টওর্য়াক চমৎকার হয়েছে। বেশ উজ্জ্বল একটা color scheme ব্যবহার করা হয়, যার কারনে scenery এর দৃশ্যগুল চোখে ধরে।

Would I recommend this? Well, if you have some time to kill, go ahead. But if you’re looking for something more serious, poignant and/or memorable, steer clear.

P.S. – The OP theme is pretty awesome

Origin Spirits of the Past 1

Psycho-Pass Movie রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

কি দেখলামঃ Psycho pass movie

নিহঙ্গদেশ। চারিদিকে শুধু সুখ আর আনন্দ; দুঃখ কষ্টের কুনু বালাই-ই নাই। সিবিল সিস্টেম দেশের শান্তি রক্ষার কার্জ সমাধা করিয়া আপাতত ঘটক পাখি ভাইয়ের ভাত মারার কাজেও নিয়োজিত হইয়াছে। সুনেমরি আকানে এই দেশের একজন সৎ ঈমানদার পুলিশ অফিসার। দেশে অন্যায় অপরাধের ঘাটতি হেতু উনি বান্ধবীর সাথে বিয়ের মার্কেটিং করিয়া বেড়ান, নিজের বিশাল এপার্টমেন্টে একা একা খান, ঘুমান, টিভি টুভি দেখেন আর মাঝে মাঝে সঙ্গী রোবটের সাথে কুস্তি খেলিয়া শরীরটাকে চাঙ্গা রাখেন।
বিশাল আরামের লাইফ !

PP 1

কিন্তু নিহঙ্গদেশ আর সুনেমরি; কারো কপালেই এই সুখ শান্তি বেশিদিন সহিল না। হটাত করিয়া ট্রলার ভর্তি একঝাক রিফিউজি গেরিলা আসিয়া উপস্থিত হইল সীমান্তে। চোখে তাদের একরাশ স্বপ্ন; আর তার উপরেই কুটি টেকার দামী সানগ্লাস। সুনেমরি ম্যাডাম ছুটিয়া আসিলেন খবর পাইয়াই; একগাদা লোক মারিয়া মুরিয়া দুই একটারে ধরিয়া নিয়া আসিলেন; সানগ্লাস সমেতই। স্বপ্ন পর্যন্ত ঠিকই ছিল; কিন্তু গরীব দুখী অসহায় এইসব রিফিউজির কুটি টাকার সরঞ্জাম উনাকে বড়ই চিন্তায় ফালাইয়া দিল। উনি ভাবিতে লাগিলেন এবং শেষে ভাবিয়া ভাবিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন “কুছ তো গড়বড় হ্যায়।”

এরই মধ্যে আরেক অফিসার পাকনামো করিয়া মেমোরি থেরাপি দিয়া বসিলেন একটারে; উপরমহলের আদেশে। সুনেমরি এতে গোস্বা করিলে উপরমহল জানাইলেন; থেরাপিতে কোগামির দর্শন লাভ হইয়াছে। কোগামির চেহারা দেখিয়াই সুনেমরি সব ভুলিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন, উনি ব্যাপারখানা “তদন্ত” করিতে বিদ্রোহীদের আদি নিবাস SEAUn এ পাড়ি জমাইবেন। পারমিশন মিলিল। তিনি একখানা স্যুটকেস বগলদাবা করিয়া দামী জেট প্লেনে চড়িয়া বসিলেন।

সিওনের অবস্থা অনেকটা গুলশানের মতন। একপাশে বিশাল বিশাল অট্টালিকা; আর তার পাশেই বস্তি। বস্তি এলাকায় চলিতেছে তুমুল বিদ্রোহ। এইরকমই এক বস্তির সর্দার, জনদরদী, গরীবের বন্ধু, মজলুমের সহায় কোগামি; যার লড়াই অভিজাত সম্প্রদায়ের সাথে; যারা নিজেদের সুখ শান্তির জন্য সিবিল সিস্টেম ব্যাবহার করিয়া বাকিদের নির্বিকারে হত্যা করিতেসে। কোগামি মুলত বস্তির সাধারণ মানুষকে হাতে কলমে ড্রোন মোকাবেলার জন্য কুংফু কারাতে শিক্ষা দেন; যদিও পুরো মুভিতে গুলি আর গ্রেনেড ব্যাবহার করিয়াও ড্রোন ঠ্যাকানি যায় নাই। যাই হোক; কাহিনীতে ফেরত যাই।

কোগামির দলের সাথে সিওনের মিলিশিয়া বাহিনীর লড়াইয়ের মাঝেই কোগামিকে স্ক্রিনে দেখিয়া সুনেমরি নামিয়া গেলেন গাড়ি থেকে, “তদন্তের” জন্য। কোগামির সাথে দেখা হইল, কথাও হইল। কথাবার্তা অনেকটা এইরকম –
– কোগামি সান; আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না; ইউ আর আন্ডার এরেস্ট।
– এহ; মজা নেও?
– মজা নিমু ক্যান, আপনি সন্ত্রাসী পাচার করেন না জাপানে?
– নাহ; আমি তো কিছু জানিই না। তাও এরেস্ট করবা?
– না; তাইলে করতাম না। লন; আপ্নের বাসা দেইখা আসি।
– চল; দুইটা ডাইল ভাতও খাইয়া আসবা নে।
– জোস; চলেন যাই।

PP 2

এর মধ্যে মিলিশিয়া একদল গুন্ডাপান্ডা ভাড়া করিল এই দুইজনকে মারিবার জন্য। বিপুল অঙ্কের টাকার প্রতিশ্রুতি পাইয়া তারা তাদের সকল অস্ত্র সস্ত্র ও সরঞ্জাম সহ রওনা হইয়া গেল। এবং একদিনের ভিতর আস্তানা খুজিয়া আক্রমণও করিয়া বসিল। সুনেমরি পালাইয়া গেলেন; কোগামি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়িলেন। তারে নিয়া গিয়া গুন্ডাদল আচ্ছামত বাঁশডলা দিয়া বলিল, “আমাদের দলে আইসা পড়; অন্নেক মগা হবে।” কোগামি জানাইল “কাভি নেহি।” গুন্ডাদলের সর্দার কহিল; “যাও তুমারে খেলায় নিব না। নিকোলাস ভাইয়ের কাছে তুলিয়া দিব; তখন দেখবা; কি হয়।”

সুনেমরি পালাইয়া আসিয়া নিজের রুমে বসিয়া ফন্দি আটিতেসিলেন; কী করিয়া ইহাদিগকে মজা দেখানো যায়। এরই মধ্যে তিনারে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে অজ্ঞান করিয়া ফেলিল মিলিশিয়া বাহিনী। উনাকে আর কোগামিকে একখানা বিমানে তুলিয়া দিয়া সেইখানা উড়াইয়া দেওয়া হইবেক; যাতে করিয়া কেউ বুঝিতে না পারে যে উনারা এত্তগুলা খারাপ। যেই ভাবা; সেই কাজ। কিন্তু শেষ মুহুর্তে গিয়া শুভ কাজে বাঁধা পড়িল। একঝাক পুলিশ অফিসার বিমানে করিয়া আসিয়া গুলি করিয়া সব খারাপ মানুষ মারিয়া সাফ করিয়া ফেলিতে লাগিলেন। সুনেমরি গেলেন নেতার কাছে; গিয়া বুঝাইয়া বলিলেন; “এইগুলা খারাপ; এইগুলা করতে হয় না; লোকে পচা বলে।” নেতা বুঝিলেন; এবং “সাধারণ নির্বাচন” এর ঘোষণা দিয়া ক্ষমতা ছাড়িয়া দিলেন।

অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলেন।

নটে গাছটি মুড়ালো, আমার কথাটি ফুরালো।

PP 3

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – দ্বাবিংশতম পাঠ

**কানজি কানজি কানজি**

আজকের কানজি “man” এর কানজি….উচ্চারণ হল “দান/নান/ওতোকো”

otoko

“ওতোকো” মানে হল “man/male/guy”

ওতোকোরাশি-like a man,manly

ইউকি ওতোকো-snowman

ওতোকোনোকো-boy…এসব ক্ষেত্রে “ওতোকো”র জায়গায় এই কানজি টা বসে

দানজো- men and women (আরেক দানযো আছে তার কানজি মিনিং সব আলাদা)…এখানে man আর woman এর কানজি পাশাপাশি বসে…

দানইউউ-male actor

এসব ক্ষেত্রে “দান” এর জায়গায় এই কানজি টা বসে….

আজকে এতটুকুই থাক…..নেক্সট দিন “মহিলা”র কানজি নিয়ে হাজির হব …মাতা নে

Spritied Away রিভিউ — Tufika Anwar

আচ্ছা আপনার ছেলেবেলায় কি কখনো এমন হয়েছে, আপনি বাবা মার হাত ধরে মাথা নাড়তে নাড়তে বাজারে গেছেন। রং বেরঙের দোকান, হরেক রকম মানুষ, আর নানা ধরনের জিনিসপত্র দেখতে গিয়ে কখন যে মায়ের হাতটা ছেড়ে দিয়েছেন তা আর মনে নেই। আর মনে পড়তেই মা বাবার ছায়াটিরও আর খোঁজ পাচ্ছেন না। অনেক খোঁজার পরে সেই ছোট্ট আপনার একটু আগের ভীষণ রঙিন পৃথিবীটা মুহূর্তে যেন সাদাকালো হয়ে গেল।
ছোট্ট চিহিরুর সাথেও প্রায় এ রকমই ঘটে জিবলী স্টুডিও এর অ্যানিমেটেড মুভি Spirited Away তে। বাবা মার সাথে পুরনো বাড়ি ছেড়ে ভীষণ মন খারাপ করে নূতন জায়গায় নূতন বাড়ির উদ্দেশে আসছিল চিহিরু। কিন্তু পথিমধ্যে তারা এক আশ্চর্য রহস্যজনক স্থানে এসে পৌঁছে, সেখানকার সুন্দর সাজানো দোকান, মজাদার খাবার, আর জাদুকরী এক আকর্ষণে চিহিরু আর তার বাবা এতটাই মুগ্ধ হয়ে যায় যে তারা বুজতেই পারে না যে এটা একটা মায়াজাল। কিন্তু গল্পের নায়ক হাকুর সহায়তায় চিহিরুর সম্ভিত ফিরলেও এই প্রবল মায়াজালে আটকা পরে তার বাবা মা।
এখন চিহিরুর অবস্থা দাড়ায় সেই বিশাল বাজারে হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাটির মত। পার্থক্য শুধু একটাই যে চিহিরু হারিয়ে যায় মায়াজালে আচ্ছন্ন ভুত আর অদ্ভুত সব প্রাণীতে ঘেরা ভিন্ন এক জায়গায় কাজ নেয় একটা বাথ হউসে।
তারপর গল্পে আসে আরও সব মজাদার ব্যাপার- এই মায়াচ্ছন্ন জায়গায় চিহিরু পরিচিতি পায় সিন নামে, এই ছোট্ট সিন বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে বড় সব পরিবর্তন আনে এই মায়াপুরিতে। হাকুর সাথে মিলে সিন আবার তার আসল পরিচয় আর বাবা মা কে ফিরে পায়। এমনিই একটা মজাদার গল্প নিয়ে এই মুভি।
এই ছোট্ট মুভিতে হায়াতো মিয়াজাকি এত চমৎকার কিছু অ্যানিম্যাটেড ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছে যা মুভিকে করেছে আরও বেশি আকর্ষণীয়। রূপকথার পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়া রাজকুমারতো সবার পরিচিত কিন্তু এখানে আচ্ছে আকাশে উড়ে বেড়ানো সুদর্শন ড্রাগন রাজকুমার হাকু। আর অসাধারণ গুনে গুণান্বিত অনেক সাধারণ চিহিরু।
জানি অনেকেরই দেখা আছে এই অসাধারণ মুভিটি কিন্তু যাদের এখনও দেখা হয়নি তারা আর দেরি না করে দেখতে পারেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী কাহিনীর মুভি Spirited Away.

Spirited Away

Psycho-Pass: The Movie রিভিউ — Rafiul Alam

PP 1

এটা বছরের সবচাইতে প্রতিক্ষিত মুভি ছিল আমার কাছে।সেই জানুয়ারি মাস থেকে অপেক্ষা করার মেওয়া ফল পেলাম কয়েকদিন আগে।বুঝাই যাচ্ছে,ব্যাপক এক্সপেকটেশন ছিল।তাই প্রশ্ন হল এই মুভির জন্য এত অপেক্ষা স্বার্থক ছিল কিনা।আসছি সে কথাতেই।

Synopsis:যারা আনিমের প্রথম সিজন দেখেন নি,তারা না দেখলেই ভাল হয়।কাহিনী মূলত ১ম সিজনের সিকুয়াল।তো যাই হোক,ঘটনার শুরুতে দেখা যায় যে একদল বিদেশী জাপান আক্রমণ করতে আসে।আগে থেকে ঘটনা আঁচ করতে পেরে তাদের থামাতে উদ্যত হয় আকানে সুনেমরি ও তার দল।ঝটিকা মিশনে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।সুনেমরির অজান্তে মেমরি স্কুপ প্রযুক্তি ব্যাবহার করে সেই বন্দীর মাথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন ইন্সপেক্টর সিমোটসুকি।বোঝা যায় যে সেই লোক পলাতক শিনয়া কোগামীর সাথে পরিচিত।এখন কোগামীকে ফিরিয়ে আনতে আকানে রওনা দেয় গৃহযুদ্ধরত দ্বীপ SEAUn এর উদ্দেশ্যে।যেখানে পরিক্ষামূলকভাবে জাপানের মত সিবিল সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে।কিন্তু আকানে যেমনটা চেয়েছিল,তেমন সহজে কোগামীকে ধরতে পারে না,বরং সেই দেশের বিশ্রি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে,তার সাথে উন্মোচিত করে সিবিলের আরো একটি রহস্য।
উল্লেখ্য,সম্পূর্ণ কাহিনীতেই ২য় সিজনের ভাইব স্পষ্ট।সিবিলের ও আকানের ভুমিকা আগের মতই ছিল।বোনাস ছিল কোগামীর ফিরে আসা।

PP 2

Characters Setup:মূলত সব আগের চরিত্রই।নতুন সাইড ক্যারেক্টার ছিল প্রচুর,জানি না ৩য় সিজনে (যদি বের হয়) তাদের আদৌ কোন আগমণ ঘটবে কিনা।তবে চরিত্রগুলোর বেশ ভাল সম্ভাবনা আছে।সবচেয়ে অপ্রিয় নতুন চরিত্র নিকোলাস ওং,প্রিয় কেউ নেই।আগেই জানতাম,শোগো মাকিশিমার মত অসাধারণ কেউ থাকবে না।কোগামিকে দেখার জন্যই যে আগ্রহ ছিল,ধুন্ধুমার একশনে সেই ক্ষুধা লাঘব হয়েছে আমার ক্ষেত্রে।তবে চরিত্রে বড় কোন পরিবর্তন ছিল না।আকানে সুনেমরিকে যেরকম আশা করেছিলাম,তেমনই “রেডী ফর একশন” মুডে পেয়েছি।আর ডাব দেখা ভাল অপশন হবে বলে মনে হচ্ছে।জাপানী ভয়েস এক্টরদের গলায় ইংরেজি শোনা বরাবরই পীড়াদায়ক।যদিও এর বাইরে কোন অভিযোগ করার সুযোগ নেই।সব চরিত্রই জীবন্ত লেগেছিল।

PP 3

Theme setup, Music and Animation:গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত দেশ SEAUn.দরিদ্রতা,বৈষম্য এবং সিবিলের শোষণ।পাশাপাশি মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু লোকের মরিয়া চেস্টা।নতুন প্রেক্ষাপটই বলা চলে।তবে আনিমের সাথে খুবই মানানসই, সন্দেহ নেই।ভাওলেন্স আগের তুলনায় পরিমিত ছিল।তবে একশনের কমতি ছিল না।সবচাইতে প্রিয় মুহূর্ত ছিল কোগামির বাহিনীর সাথে নিকোলাস বাহিনীর দুধর্ষ যুদ্ধ এবং পিছনে অসাধারণ ক্লাসিকাল মিউজিক, destruction goes on. শুধুমাত্র এই কয়েক মিনিটের জন্যই পুরো মুভির ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেয়া যায়। মুভির এন্ডিংয়ে নতুন কোন গান ব্যবহার করলে আরও ভাল হত হয়ত।তবে যেটা ব্যবহার করা হয়েছে, ইগোইস্টের Namae no nai Kaibutsu গানটি আমার,সবারই অনেক প্রিয়। আর আনিমেশন,আর্টওয়ার্ক নিয়ে কি আর বলব? Production I.G আমাকে সবসময়ই ইম্প্রেস করতে সক্ষম হয়েছে,এবারও ব্যতিক্রম হয় নি।এই বছরের আমার দেখা মুভিগুলার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় আনিমেশন সো ফার।আর এই আনিমেশনে দূর্দান্ত একশন চোখের ব্যায়াম ছিল।

Overall Rating:
MAL Rating: 8.15
My Rating: 8.6

PP 4

সব মিলিয়ে বেশ হাই বাজেটের,হাইপড একটা মুভি।সেই হিসেবেও বেশ ভাল অঙ্কের আয় করতে সক্ষম হয়েছে এটি।সাইফাই কারিকুরি বরাবরের চেয়ে বেশি ভাল ছিল।তাই ১ম সিজন দেখা হয়ে থাকলে আর এক ঘন্টার বিনোদন পেতে চাইলে দেখে ফেলুন।

Destruction goes on-

https://www.youtube.com/watch?v=-cnly0dodeI

PP 5

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৪৪ তম পার্ট By অরিন শারমিন

জাপানিজ শিক্ষাকার্যক্রমের ৪৪তম লেসন

আজকে শিখাব হল “Japanese conjunction”

“সেতসুজোকুশি” হল “conjunction” এর জাপানিজ…”conjunction” কি জিনিস আর কি কাজে বাক্যে ব্যবহৃত হয় তা তো আমরা সবাইই জানি…আজকে কিছু জাপানিজ “সেতসুজোকুশি” কিছু বাক্যের মাধ্যমে উদাহরণ দিয়ে শিখাব :3

১.সোশিতে (and also,also)
কোনো রামেন ওয়া ঐশিই দেসু সোশিতে ইয়াসুই দেসু… (this ramen is delicious and also cheap)…এখানে ২ টা বাক্যের মধ্যে সংযোগ করিয়েছে হল “সোশিতে”…এই বাক্যে সোশিতে হল “সেতসুজোকুশি”..

২.দেমো(but)
কোনো দোরেসু ওয়া কিরেই দেসু দেমো তাকাই দেসু (this dress is pretty but expensive)…এখানে “দেমো” হল “conjunction”..

৩.দাকারা (that’s why,therefore,because of this )
আশিতা তোমোদাচি নো তানজৌবি দেসু দাকারা পুরেজেন্তো ও কাইমাশিতা (tomorrow is my friend’s birthday ,that’s why i bought present)…এখানে “conjunction” হল “দাকারা”..

৪.কারা (so)
ইমা ইসোগাশি দেসু কারা চোত্তো মাত্তে কুদাসাই.. (i’m busy right now ,so please wait a bit)

৫.সারানি (moreover)
আশিতা তোমোদাচি নো তানজৌবি দেসু সারানি রাইশুউ ওয়া ওয়াতাশি নো তানজৌবি দেসু… (tomorrow is my friend’s birthday moreover next week is mine)

৬.কেরেদেমো (but still)
আশিতা তোমোদাচি নো তানজৌবি দেসু কেরেদেমো মাদা পুরেজেন্তো ও কাত্তে ইমাসেন … (tomorrow is my friend’s birthday but still i have not bought a present)

৭.সোরেদেমো(despite that)
সোতো ওয়া আমে গা ফুত্তে ইমাসু সোরেদেমো কারেরা ওয়া এইগা ও মিনি ইকিমাসু (it’s raining outside despite that they still go to see movies)

৮.তোকোরোদে(by the way)
তোকোরোদে নানি ও শিত্তে ইমাসু কা? (by the way what are you doing?)

৯.শিকাশি (however)
শিকাশি কানোজো ওয়া কেক্কোন শিতে ইমাসু (however, she is married)

আজকে এতটুকুই থাক…নেক্সট দিন নতুন কিছু নিয়ে হাজির হব… মাতা নে..

Tamako Love Story রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

Tamako 1

কি দেখলামঃ Tamako Love Story
স্টুডিওঃ Kyoto Animation

‘Everybody loves somebody.’

হয়ত কাউকে খুব করে ভালবাসেন, হয়ত খুব কাছের কোন বন্ধু; কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হবার ভয়ে কখনই বলা হয়ে ওঠে নি? হটাত করেই জীবনে এমন মোড় চলে এসেছে যখন সবকিছু নতুন করে ভাবার সময় সামনে; সব সমীকরণ মেলাতে হবেই, জোর করে হলেও? এমন সময় হুট করেই একদিন তাকে বলে বসলেন – ভালবাসি। অপ্রত্যাশিত কনফেশনে চমকে উঠল প্রিয় মানুষটা; হয়ত সে মানুষটা ভালবাসার জন্য প্রস্তুত ছিল না। যেরকম প্রতিক্রিয়া আকাঙ্ক্ষিত ছিল সেটা পাওয়া হল না। কি করবেন তখন? আগে যেমন ছিলেন তেমন অবস্থায় ফিরে যাবেন? সব কিছু ভুলে যেতে বলবেন তাকে? নাকি দু’জন দু’জনকে এড়িয়ে চলা আরম্ভ করবেন? নাকি পুরো ব্যাপারটাকে পাশে সরিয়ে রেখে তাকে সঙ্গ দিয়ে যাবেন; অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতে সব তুলে দিয়ে, একদিন না একদিন সে আপনাকে বুঝতে পারবে – এই আশায়?

তারপর, কোন একদিন; হটাত করেই হয়ত ইয়োকোর কিন্নরী কন্ঠ মুঠোফোনে অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা অপ্রত্যাশিত ফোনের কথা জানিয়ে দেবে আশ্চর্য নির্লিপ্ততায়। “কেমন আছেন?” আর “ব্যস্ত আপনি?”র পরই শুরু হয়ে যাবে পরিচিত সেই খুনসুটি, কপট অভিমান, আর প্রাণখোলা হাসি। অনেক কথাই বলা হবে; বাকি থেকে যাবে হয়ত তার চেয়েও বেশি কিছু কথা। বিদায়টাও হয়ত হবে বিষণ্ণ রকম দ্রুততায়। কিন্তু বিদায় বেলায় শোনা একটা বাক্য কিন্তু দু’তিনটে শব্দ হয়ত বদলে দেবে পুরো জগতটাকেই।

Tamako 2

তারপর একদিন হলুদ খামে নীল কাগজে ভালবাসা চিঠি পাঠাবে অভিমানকে, ফিরবে বলে। আকাশপথে উড়ে যেতে যেতে ভালবাসা গান গাইবে গুনগুন করে; তার চোখের তারায় নীল সমুদ্রটাকে আরও একটু বেশি নীল মনে হবে তখন। অভিমান তখন পথে পথে ঘুরে বেড়াবে; ভালবাসার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানোর আকুতিতে। একটা সময় সে ঘরে ফিরবে; ভালবাসা যেখানে অপেক্ষা করছিল; চুপচাপ।
অভিমান দরজায় এসে মাথা নিচু করে দাঁড়াবে; অস্ফুট স্বরে হয়ত বলে উঠবে “দুঃখিত।” “কেন?” – শুধাবে ভালবাসা। “আমি যে শুধু তোমার আর তুমি আমার, ব্যস” – কাঁপা গলায় বলবে অভিমান।

Tamako love story – সহজ সরল খুব সাধারণ ভালবাসার গল্প, সহজ স্বীকারোক্তির গল্প, প্রতিউত্তরের গল্প, দ্বিধাদন্দ আর দোলাচলের গল্প, অনুভুতির গল্প, আর দুটো মানুষের কাছে আসার গল্প। কিয়োএনি এনিমেশন আর ক্যারেক্টার ডিজাইনে কখনই হতাশ করে না; এখানেও তাই। দুর্দান্ত এনিমেশন আর চরিত্রগুলোর অভিব্যাক্তিতে ভালবাসার রুপ প্রকাশের সাথে যুক্ত হয়েছে স্নিগ্ধ সুন্দর সাউন্ডট্র্যাক। “Yet another romantic movie, it’s gonna be cheesy, just like many others out there” বলে শুরু করা মুভিটা ১৫ মিনিটের মধ্যে এমনভাবে বেঁধে ফেলল যে ৮৩টা মিনিট কেটে যাওয়ার কথা টেরই পাই নি।

Tamako 3

Bitter memories are proof that you did something. Taste the regret, bitter as it may be, and indulge in it.
অনেক দিন মনে রাখব মুভিটা; অনেক অনেক দিন।

(নোটঃ এই মুভিটা Tamako market সিরিজের সিক্যুয়াল। জ্ঞানীগুণীজন বলে থাকেন মুভির আগে সিরিজ দেখা থাকলে মুভিটার আনন্দ আরও বেশি করে পাওয়া যাবে; এবং সিরিজটাও নাকি মন্দ না। আমি অবশ্য সিরিজ না দেখেই দেখেছি।)

Tamako 4

চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান – Caster [Fate/stay night] — Shifat Mohiuddin

আরেকটি চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান
চরিত্র: মিদিয়া (ক্যাস্টার)
এনিম: Fate/stay night,Fate/stay night [unlimited blade works]
ভূমিকাঃ খলনায়িকা
¤
আসল নামঃমিডিয়া
জাতীয়তাঃগ্রীক,কলচিয়ান
সামাজিক পদমর্যাদাঃরাজকন্যা
জন্ম ও মৃত্যুঃ১১০০-৮০০ খ্রীষ্টপূর্বের মধ্যকার যেকোন সময়ে।
মৃত্যুর ধরনঃজানা যায় নি
সময়কালঃগ্রীক অন্ধকার যুগ
¤
আমরা যারা FSN এবং FSN UBW দেখেছি তারা রূপসী এবং রহস্যময়ী চরিত্র ক্যাস্টারের সাথে সুপরিচিত।ক্যাস্টারের প্রতিটি কাজ রহস্যমন্ডিত এবং তার চরিত্রটাও অনেক জটিল একটা চরিত্র।ক্যাস্টারের আচরন অনেকের কাছেই পুরোপুরি বোধগম্য হয় নি।শেষমূহূর্তে তার নাম সকলের সামনে উন্মোচিত হয় এবং আমরা জানতে পারি যে চরিত্রটি গ্রীক মিথের একটি অত্যন্ত খ্যাতনামা গল্পের একটি প্রধান চরিত্র থেকে নেওয়া।
¤
পূর্বকথাঃগ্রীক মিথ অনুযায়ী যুদ্ধদেবতা এরেস[রোমান নাম মার্স] এর দুটি পবিত্র বনভূমি আছে।এর মধ্যের একটি বনভূমির অবস্হান গ্রীসের কলচিস রাজ্যে।কলচিস রাজ্যটি মূল গ্রীক ভূখন্ড হতে অনেক দূরে কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্হিত।কলচিসের রাজা ঈটিস ছিলেন এরেসের অনেক বড় উপাসক।তাই এরেস খুশি হয়ে ঈটিসকে একটি Golden fleece[স্বর্নমন্ডিত মেষচামড়া] উপহার দেন।এই গোল্ডেন ফ্লিস কলচিসকে যাবতীয় মহামারী,প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করত।অন্যান্য রাজ্যের মানুষরা এই ফ্লিস দখল করতে চাইতো বলে এরেস একটি নরমাংসভোজী নির্ঘুম ড্রাগনকে ফ্লিসের পাহাড়ায় রাখেন।ড্রাগনটির দাঁত ছিল বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন।এই দাঁত মাটিতে পুঁতে গোড়ায় সামান্য রক্ত ঢাললে কন্কালসদৃশ কিছু যোদ্ধা জন্ম নিত।এভাবে দাঁত রোপন করে ঈটিস এক বিশাল সেনাবাহিনীর নেতা হন।এছাড়াও এরেস ঈটিসকে একজোড়া ষাঁড় উপহার দেন।ষাঁড়গুলোর নাক থেকে আগুনের নিঃশ্বাস বের হত।এই ষাঁড়গুলোকে চাষ করাবার জন্য এরেস ঈটিসকে একটি অগ্নিনিরোধক বর্মও উপহার দেন।
¤
আমাদের কাহিনী শুরু হয় সুদূর Iolcus নগর হতে।এই নগরের রাজা ছিলেন ঈসন নামক একজন বয়স্ক ব্যাক্তি।কিন্তু তার ছেলে পেলিয়াস জোরপূর্বক তার সিংহাসন দখল করে।পেলিয়াস এর সৎ ভাই জ্যাসন সিংহাসনের দাবি জানালে পেলিয়াস মনে মনে অস্বীকৃতি জানালেও কৌশলে জ্যাসনকে গোল্ডেন ফ্লিস চুরি করে নিজেকে বীর প্রমান করার পরামর্শ দেয়।পেলিয়াস জ্যাসনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল কারন যারা এপর্যন্ত ফ্লিস উদ্ধারের অভিযানে গেছে তারা কেউই জীবিত ফেরত আসে নি।যাইহোক,জ্যাসন এই পরামর্শে রাজি হয়।[LIKE A TRUE HERO:-P]তবে এই শর্তে যে জ্যাসন যদি ফ্লিস নিয়ে আসতে পারে তাহলে পেলিয়াস সিংহাসন ছেড়ে দেবে।জ্যাসন তার সমসাময়িক বীরদের নিয়ে ‘Argonauts’ নামের একটি অভিযাত্রী দল গঠন করে।অনেকের মতে এই দলে নাকি হারকিউলিসও যোগ দিয়েছিলেন।তাঁরা ‘Argo’ নামের একটি জাহাজ তৈরি করেন এবং কলচিসের প্রতি যাত্রা শুরু করেন।যাত্রাপথের বিচিত্র ঘটনাগুলো আমি আর উল্লেখ করছি না।
¤
কলচিসের রাজা ঈটিসের মেয়ে ছিলেন মিডিয়া।তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী ডাইনী।জ্যাসন যখন দলবল নিয়ে কলচিসের রাজদরবারে গোল্ডেন ফ্লিস দাবি করেন তখন মিডিয়া জ্যাসনের প্রতি প্রথম দর্শনেই ভালোবাসার জালে আবদ্ধ হন।অনেকে মনে করেন দেবী হেরার(রোমান নাম জুনো) পরামর্শে ভালোবাসার দেবী আফ্রোদিতি(ভেনাস) মিডিয়াকে জ্যাসনের প্রতি আসক্ত করে দেন।জ্যাসন ফ্লিসের দাবি জানালে ঈটিস মৌখিকভাবে সম্মতি জানান কিন্তু মনে মনে জ্যাসনকে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেন।ঈটিস নিশ্চিত ছিলেন যে তাঁর পরীক্ষা থেকে জ্যাসন কোনমতেই বেঁচে ফিরে আসতে পারবে না।
¤
কিন্তু ভালোবাসায় অন্ধ মিডিয়া পিতার কূটচাল বুঝতে পারেন।মিডিয়া জ্যাসনের কাছে প্রেম নিবেদন করেন এবং জ্যাসনকে সাহায্য করেন প্রতিশ্রুতি দেন।জ্যাসন মিডিয়াকে গ্রহন করতে রাজি হয় একশর্তে যে মিডিয়াকে ফ্লিস উদ্ধার সাহায্য করতে হবে।প্রেমের জালে আবদ্ধ মিডিয়া পিতার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করতে সানন্দে রাজি হয়।
¤
ঈটিসের প্রথম পরীক্ষা এমন ছিল যে জ্যাসনকে আগুনের নিঃশ্বাস ফেলা ষাঁড়দুটোকে দিয়ে হালচাষ করতে হবে।কাজটি ছিল অত্যন্ত বিপদজনক কারন ষাঁড়ের নিঃশ্বাসে দেহ পুড়ে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল।কিন্তু মিডিয়া জ্যাসনের দেহে এক ধরনের মলম মেখে দেন ফলে জ্যাসন অতি সহজে ষাঁড়দুটোকে দিয়ে অতি সহজেই হালচাষ করে ফেলেন।
¤
দ্বিতীয় পরীক্ষা এমন ছিল যে ঐ চষা জমিতে জ্যাসনকে ঐ ড্রাগনের দাঁত মাটিতে রোপণ করতে হবে।জ্যাসন দাঁত রোপণ করার সাথেই একদল কন্কাল যোদ্ধা তাঁকে ঘেরাও করে ফেলে।কিন্তু মিডিয়ার পরামর্শ অনুযায়ী জ্যাসন কন্কাল যোদ্ধাদের ভিড়ের মধ্যে একটি পাথর নিক্ষেপ করেন।কোথা থেকে পাথরটি এসেছে বুঝতে না পেরে কন্কাল যোদ্ধারা নিজেদের মধ্যেই লড়াই শুরু করে এবং শীঘ্রই ধ্বংস হয়ে যায়।এইজন্যই বোধহয় এনিমেতে ক্যাস্টারকে দেখা যায় কন্কালসদৃশ কিছু প্রানীকে নিয়ন্ত্রন করতে।
¤
জ্যাসনের আসল কাজ ছিল ড্রাগনকে যেভাবেই হোক হারিয়ে ফ্লিস দখল করা।এক্ষেত্রেও মিডিয়া সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।এক রাতে জ্যাসন মিডিয়ার প্রস্তুতকৃত একধরনের ঔষধি স্প্রে ড্রাগনের শরীরে ছিটিয়ে দেয়।ফলে ড্রাগন ঘুমিয়ে পড়ে এবং জ্যাসন সহজেই ফ্লিস দখল করতে সক্ষম হন।
¤
জ্যাসন মিডিয়াকে নিয়ে কলচিস হতে পলায়ন করেন।জাহাজ দিয়ে পলায়নের সময় মিডিয়ার ভাই অ্যাপসাইরটাস তাদেরকে তাড়া করে।মিডিয়া অ্যাপসাইরটাসকে হত্যা করে তার দেহকে টুকরো করে সমুদ্রে ফেলে দেয় যাতে ঈটিস তার পুত্রের দেহাবশেষ উদ্ধারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন।এই ফাঁকে জ্যাসন এবং মিডিয়া Iolcus এ ফিরে আসেন।পথিমধ্যে অনেক বিচিত্র ঘটনা ঘটে।সেই ঘটনাগুলো এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
¤
Iolcus এ ফিরে আসার পরে জ্যাসন এবং মিডিয়া বিবাহ করেন।তাঁরা পাঁচ ছেলে এবং এক মেয়ের জনক-জননী হয়েছিলেন।কিন্তু কাহিনী এখানেই শেষ নয়।মিডিয়ার বাকী জীবনের বিবরন এই পোস্টে দেওয়া সম্ভব নয়।তাই আপাতত এখানেই সমাপ্তি ঘটাচ্ছি।
¤
এই পোস্টটা আগেরটার চেয়ে অনেক বড়।তাই অনেকেই পড়তে পড়তে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলতে পারেন।যাইহোক,সকল ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।
¤
তথ্যসূত্রঃপার্সি জ্যকসনস গ্রীক গডস(বই),উইকিপিডিয়া,গুগলের কতিপয় ওয়েবসাইট।
আবারও কৃতজ্ঞতাঃশাফিউল মুনির ভাই।

Caster Fate Stay