
গতকাল রাতে একটানা দেখে শেষ করলাম বারাকামোন। দেখা শুরু করার আগে এইটা নিয়ে কোন রিভিউ পড়া হয়নি। গ্রুপে কিছু পোষ্ট দেখেছি, স্ক্রল করে নিচে নেমে গিয়েছি, পড়িনি। প্রচন্ড মন মেজাজ খারাপ নিয়ে ইউটুব ব্রাউজ করতে গিয়ে সাজেশনে এইটার একটা এপিসোড চোখে পড়লো FunAnimation এর আপলোডে- কী ভেবে প্রথম পর্বে গিয়ে চালু করে দিয়ে বসলাম।
মিথ্যে বলবো না, হুট করে মন ভালো করে দেয়ার টনিক এই এনিমেটা, অন্তত আমার জন্য সেভাবেই কাজ করেছে। ইন্ট্রোতে- নারু যখন কষ্টে সৃষ্টে দরজা খুলে সেনসেই’র ঘরে উঁকি দেয়- ঐ জায়গাটা দেখেই কেমন জানি মন ভালো হয়ে যায়।
খুব সাদামাটা গল্প, প্যাচগোছ নেই। কিন্তু, আছে উচ্ছাস, নিজেকে খুঁজে নেয়ার গল্প, দুরন্তপনা, একটু পর পর হেসে উঠবার বাহানা… পুরো সিরিজটার প্রাণ আমার কাছে হান্দা সেইসু আর নারু। নারুকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই; উপরি হিসেবে বলবো- এই দুরন্ত, হাসিখুশী পুচকে ছুঁড়িকে দেখলেই আমার পিচ্চি কাজিনটার কথা মনে পড়ে যায়- প্রায় কাছাকাছি বয়সী- কিন্তু একই রকম প্রাণশক্তি, পোকামাকড়ের ভক্ত, নানাবাড়ির এমাথা থেকে ওমাথা দৌড়ে বেড়াবে।
পুরো সিরিজটা ধরেই নিজেকে নতুন ভাবে চেনার কাজটুকু করে যাবে হানদা, সহজ সরল- পরোপকারী দ্বীপের মানুষগুলোর কাছে থেকে একটু একটু করে জীবনকে নতুন ভাবে শিখতে শুরু করবে। প্রথম পর্বে উঁচু দেয়ালের উপরে উঠতে গিয়ে হানদার উদ্দেশ্যে নারুর বলা শিশুমনের সরলোক্তিগুলো কিছুটা হলেও নিজেকে নাড়া দিয়ে গেছে; পুরোটা সিরিজেই এমন অনেক বার্তা রেখে গেছে দর্শকদের জন্য। একেবারে শেষ পর্বে হানদার মা’র কথাটুকু শেষটায় খুব সত্য মনে হয়- “হানদার ক্যালিগ্রাফি কেবল পরিণত হয়নি, মানুষ হিসেবে সেও পরিণত হয়েছে ঐ দ্বীপে গিয়ে…”
মাত্র ১২ টা পর্ব দেখে শেষটায় নিজেরই মন খারাপ হয়ে গেছে। ধুচ্ছাই, শেষ হয়ে গেল।

