স্পেস*ড্যান্ডী [Space*Dandy] অ্যানিমে প্রিভিউ/ফাহিম বিন সেলিম

 

জনরা: সাই-ফাই, স্পেস, কমেডি, সেইনেন
প্রচার শুরু: ৪ জানুয়ারী, ২০১৪
পর্ব: ২৬
প্রযোজক: বোনস (এফ।এম।এ, সৌল ইটার)
পরিচালক: সিনিচিরো ওয়াতানাবে (কাউবয় বীবপ, সামুরাই চ্যামপ্লু, অ্যানিমেট্রিক্স)

সিরিজের প্রধান চরিত্র ড্যান্ডী হল আন্তঃমহাকাশীয় এলিয়েন শিকারী। যে কিনা মহাকাশের আনাচে কানাচে ঘুড়ে বেড়ায় এলিয়েনের খোঁজে। আর তার এই অভিযানের সহযাত্রী, রোবট কিউ।টি আর বিড়ালা কৃতির এলিয়েন মিয়াও!
নেমে পড়ুন ড্যান্ডীর সাথে এই মহাকাব্যিক যাত্রায় যেখানে আছে নাম না জানা সব এলিয়েন, বু*ইস, হৃদয় নাড়ানো মিউজিক, বু*ইস, বোনসের চোখ জুড়ানো অ্যাকশন দৃশ্য, বু*ইস, ওয়াতানাবের ব্যাড-অ্যাসারি এবং…হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন বু*ইস!

স্পেস ড্যান্ডী জাপানে প্রচারিত হবে ৫ তারিখ থেকে। কিন্তু তার আগেই ৪ তারিখ থেকে তার ইংলিশ ডাব সিমুলকাস্ট শুরু হবে অ্যাডাল্ট-সুইমের টুনামিতে!

প্রত্যাশা: ৯+
টায়ার: পোটেনশিয়াল বেস্ট অ্যানিমে অফ দ্য ইয়ার

Towa no Quon anime review by Monirul Islam Munna

 

অল্প এপিসোডের এনিমে যাদের পছন্দ বিশেষ করে একশন, সুপার পাওয়ার,মেকা, সুপার ন্যাচারাল, সাই ফাই ধরণের এনিমে দেখতে যারা পছন্দ করেন,তাদের জন্য বিশেষ এক উপহার ৬ এপিসোডের (১২ এপিসোড এক হিসেবে, প্রতিটা এপিসোড ৪০মিনিটের ) ‘Towa no Quon’

এনিমের মূল চরিত্র তোয়া আর তার কিছু বন্ধু নিয়ে, যাদের ‘Attractors’ হিসেবে পরিচত করা হয়েছে এই এনিমে। ‘Attractors’ হচ্ছে আমাদের মতই সাধারণ মানুষ কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতে তাদের প্রত্যেকের অন্তর্নিহিত সুপ্ত শক্তি বিকশিত হয়েছে। এই শক্তির কারণে হয়তো তারা কারও কাছে ঘৃণিত বা কারও কাছে পরিতেক্ত্য হয়েছে, কিন্তু ভুল কারও হাতে এই শক্তির যেন অপব্যবহার না হয়, সে জন্য ‘তোয়া’ খুজে বেড়াচ্ছেন নিজের অজান্তে বা পরিস্থিতির কারণে জাগিয়ে তোলা অতিমানবীয় শক্তিশালি মানুষগুলোকে। কিন্তু শুধু তোয়াই নয়,সরকারের এক গুপ্ত সংস্থাও খুজে বেড়াচ্ছেন এই Attractorsদের।

এইরকম একশনধর্মী অনেক এনিমের ভালো কাহিনী না থাকায় অনেক সময় ভালো লাগে না। তবে তোয়া নো কুউন আপনাকে হতাশ করবে না। কিছুটা মিস্ত্রী রাখলেও, এনিমেটার কাহিনীর ভালো বেকগ্রাউডন আছে। সাথে চরিত্রগুলোর বিলডাপও বেশ ভালো।
মেকা আর সুপার পাওয়ারওয়ালা একশন প্রেমিরা বেশ ইঞ্জয় করবেন এনিমেটা দেখার সময়। আর এনিমটার গ্রাফিক্স/এনিমেশনও বেশ ভালো। সাথে অস্থির কিছু OST!! একটা আপানাদের সাথে শেয়ার করলাম 

http://www.youtube.com/watch?v=gof4vnF1mqU

আর EDটা- http://www.youtube.com/watch?v=g6faVLeA6cA

 

যদিও ৬টা মুভি হিসেবে এটা রিলিজ পেয়েছে। তবে মুভিগুলো সিকুয়াল, দেখার সময় ৬ এপিসোডের সিরিজ হিসেবেই দেখতে পারবেন। এবং যত দেখবেন, তত বেশী ভালো লাগবে আগের চেয়ে। 

Mal rating: 7.62+7.59+7.73+7.88+7.82+7.86
My rating: 7.4+7.5+7.8+8.0+8.0+8.0

গিন নো সাজি ২ এর অ্যানিমে প্রিভিউ/ফাহিম বিন সেলিম

 

গিন নো সাজি ২
জনরাঃ স্লাইস অফ লাইফ, শৌনেন, কমেডি,
স্কুল
প্রযোজকঃ অ্যানিপ্লেক্স
ব্যাপ্তিঃ ২৪ মিনিট/পর্ব
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
প্রচার শুরু: ১০ জানুয়ারী, ২০১৪

এফএমএ-খ্যাত হিরুমো আরাকাওয়া-সেনসের অসাধারন এই জীবনধর্মী অ্যানিমের দ্বিতীয়(এবং শেষ?) সিজন। ৩ মাস বিরতির পর আবার ফিরে আসছে ইয়ুগো হাচিকেন আর তার ইয়েজো এগ্রিকালচারাল স্কুলের বন্ধুরা। ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাব, পোর্ক বোল, কাকডাকা ভোরের প্রাক্টিকাম, জাপানের কান্ট্রি-জীবন…হাচিকেন, মিকাগে-সান  আর অনেক, অনেক লাইফ লেসন। 

প্রত্যাশা: ৯+ 
টায়ার: পোটেনশিয়াল বেস্ট স্লাইস অফ লাইফ অফ দ্যা সিজন( ইয়ার টু মেবি?), সিকুয়াল

তোনারি নো সেকি-কুন এর অ্যানিমে প্রিভিউ/ফাহিম বিন সেলিম

তোনারি নো সেকি-কুন
প্রচার শুরু: ৬ জানুয়ারী
জনরা: সেইনেন, স্কুল, কমেডি
ব্যাপ্তি: ১০ মিনিট/পর্ব
মাঙ্গা রেটিং: ৭.৯৭ (২০১০-)
স্কুলে কোন বিরক্তিকর ক্লাস চলছে? পাশের জনের সাথে যে আলাপ করবেন সেই সুযোগও নেই। কী করতেন আপনি?
আমার নিজের কথা বলি, আমার ছোটবেলার ক্লাসে সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিল কলম দিয়ে রেসলিং খেলা!
আমাদের মূল চরিত্র, যার নাম সেকি-কুন, শুধুই সেকি-কুন, সে-ও এক্ষেত্রে আর যে কারো মত। বেঞ্চের উপরের কোন গর্ত কে হোল ধরে একটা ডিটেইলড গলফ কোর্স বানানো বা কাগজের শোগি পিচ দিয়ে কোন ড্রামাটিক যুদ্ধক্ষেত্র তৈরী করা – সেকি-কুনের এসব খেলা তীব্র ভাবে আকর্ষন করে তার সিট-প্রতিবেশী ইয়োকোই কে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, সেকি-কুনের এই মজার খেলা গুলোর কারণে আবার তাকেই পরতে হয় বিপদে!
এই নিয়েই তোনারি নো সেকি-কুন।

১০ মিনিটে সম্ভবত দুই-তিনটা করে কাহিনী দেখানো হবে। বলার মত কোন প্লট নাই। গ্যাগধর্মী, সম্ভবত সংলাপহীন। কাহিনীর স্বল্প পরিসরতার কারণে ক্লিশে হয়ে যেতে পারে আবার নিচিজৌ, ডি এল এইচ বি-এর মত অনেক হাসির, আকর্ষনীয় একটা অ্যানিমে ও হতে পারে।

প্রত্যাশা: ৮
টায়ার: ফিল-গুড

 

 

Bleach anime review by Shafiul Munir

 

আমাদের আশপাশে প্রতিনিয়ত অনেক এক্সিডেন্ট হচ্ছে, কখনো গাড়ি খাদে পড়ে যাচ্ছে, কখনো নৌকাডুবি হচ্ছে। অনেকে মারা যাচ্ছে রহস্যজনকভাবে, অনেক সময়ই কারণগুলো ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। ধরুণ, একদিন হঠাৎ আপনার বন্ধু এসে আপনাকে বলল, আসলে এইসব দূর্ঘটনা আপনাআপনি হচ্ছে না, কেউ সম্পূর্ণ সচেতনভাবে এসব ঘটাচ্ছে, একদল অতৃপ্ত আত্মা, যারা আপনার কিংবা আপনার আশপাশের মানুষের আত্মা শুষে নিয়ে বাঁচতে চায়। আপনি কি বিশ্বাস করবেন তাকে? নাকি মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উড়িয়ে দেবেন? হয়ত আপনার ওই বন্ধুই প্রতিনিয়ত রাতের গভীরে বিশাল কোন সোলেমানী তরবারী নিয়ে প্রাণপণে যুদ্ধ করছে সেই প্রেতাত্মাদের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করতে !! অথবা যদি এমন হয় যে আপনি এতদিন ধরে জীবনে যা কিছু করে এসেছেন সবই কেউ আগে থেকেই প্ল্যান করে রেখেছিল?!

অপ্রতিদ্বন্দ্বী কাহিনী, এমনই যে, আপনার চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণ অন্য জগতে নিয়ে যেতে পারে, প্রতিদিনের ঘটনাকে আপনি উপলব্ধি করবেন খুব কাছ থেকে, ঠিক যেমন হ্যারি পটার পড়তে গিয়ে আপনি হয়ে যান উইজার্ড-উইচ, এক্ষেত্রেও আপনি রুপান্তরিত হতে পারেন সেই তরবারীওয়ালা যোদ্ধায়। ফাইটিং সিনগুলো সম্পূর্ণ ইউনিক আর অসাধারণ, প্রায় প্রত্যেকটি ফাইট আপনাকে টেনে রাখতে সক্ষম।

 

এনিমে জগতের অন্যতম বিস্ময়, বিগ থ্রির গর্বিত সদস্য ব্লিচ নিয়ে যে কথা হচ্ছে তা ত সবাই বুঝতেই পারছেন। ফাইটিং সিনগুলোর পাশাপাশি ব্লিচের যে ব্যাপারটা অস্থির সেটা হলো ডায়লগের এক্সেপশনাল ডেপথ আর খুব স্মার্ট হিউমার, ২-৪ টা মনোবিজ্ঞানের বই না পড়ে আপনি ব্লিচের সাধারণ ডায়লগগুলো নিয়ে একটু ভাবলেই দর্শনের তৃপ্তি পেয়ে যাবেন। আর পরস্পর বিপরীতধর্মী ফিলোসফির দ্বন্দ্ব খুবই উপভোগ্য এই এনিমের বিভিন্ন অংশে।


‘You should not dwell on the betrayal that you can see. The truly terrifying betrayal is that which lies utterly hidden from your eyes.’
‘If I were the rain that binds together the earth and sky, which in all eternity will never mingle, would I be able to bind the hearts of people together?’
‘Those who do not know what love is likens it to beauty, those who claim to know what love is likens it to ugliness.’
ব্লিচের মূল চরিত্র ইচিগো একটা জলজ্যান্ত মাস্টারপিস, সম্ভবত বিগ থ্রির হিরোদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নায়কোচিত। তবু সময় সময় তাকে অনেক দূর ছাপিয়ে গেছে অনেকগুলো অসাধারণ ক্যারেক্টার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আর বৈচিত্র্য দিয়ে, আইজেন, জারাকি, ওলকিউরা, ইউরোইচি, গিন, উরোহারাসহ আরো অনেক অসাধারণ ক্যারেক্টারের জন্ম দেওয়া এনিমেটির অন্যতম সার্থকতা।

সবশেষে বলতে চাই, বিগ থ্রির মধ্যে কোন এক রহস্যময় কারণে ব্লিচকে আমার খুব কম পছন্দ, তাই খুব একটা বায়াসড মন্তব্য করতে পারি নি। যাদের আইজেনের শেষ দিনগুলো ভালো লাগে নি, আরো দ্বিগুণ বিরক্ত হয়েছেন ফুলব্রিং আর্ক দেখে, ছেড়ে দিয়েছেন ব্লিচ নিয়ে যাবতীয় আশা-ভরসা, তাদের বলছি, ব্লিচের বর্তমান আর্কটিই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো, আশা করছি কুবো তার এই মহাকাব্য শেষ করতে যাচ্ছেন ম্যাজেস্টিক স্টাইলে, একটা বিগ ব্যাঙের মধ্য দিয়ে। তাই আমি অধীরভাবে আবার এনিমে স্ট্রিমিং শুরু হবার দিন গুনছি।
তবে বলা যায় না, এমন হতেও পারে, শিনিগামী-কুইঞ্চি আর অন্যান্যদের এত্ত জটিলতার পর আইজেন হঠাৎ একদিন এসে বলল, “হা হা হা ! It was all part of my plan….”!!

 

Coppelion anime review by Monirul Islam Munna

 

এনিমেটা শুরুর ২-১টা এপিসোড দেখে বেশ আশা নিয়ে এনিমেটা ফলো করেছি শেষ পর্যন্ত। কিন্তু সত্যি বলতে হতাশ হতে হয়েছে। এইরকম Post-apocalyptic ধরণের এনিমে আগে দেখিনি বলে একটু বেশী আগ্রহ ছিল, এনিমেটা কীভাবে আগাবে।

২০১৬ সালের টকিও শহরে পারমাণবিক এক দুর্ঘটনার কারণে যে পরিমান রেডিয়েশন চারদিকে ছড়িয়ে পরে তাতে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। শহরটি বসতি শুন্য হয়ে পড়লেও, ২০ বছর পরও মাঝে মাঝে কিছু রেডিও সিগন্যাল পাওয়া যায় যে এখনো কিছু মানুষ সেখানে বেঁচে আছে। কিন্তু রেডিয়েশনের পরিমান এতো বেশী হয়ে পরেছে যে, কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসা সম্ভব না। এই রেডিয়েশনে অল্প কয়েক সেকেন্ড থাকলেই মৃত্যু নিশ্চিত!!! তাই তাদের ফিরে নিয়ে আসার লক্ষ্যে জেনেতিকালি কিছু মানুষ তৈরি করা হয়েছে যারা এই রেডিয়েশন সহ্য করতে সক্ষম, শুধু তাই নয় তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু ক্ষমতাও আছে।এদেরকেই বলা হয় ‘Coppelion’ 

এইটুকু কাহিনী দিয়ে আসলে অনেক সুন্দর একটা Post-apocalyptic এনিমে বানানো সম্ভব ছিল। কিন্তু ধিরে ধিরে কাহিনী আসলে এনিমেটাকে একদম ডুবায় দিছে  এনিমের মূল চরিত্র হাই স্কুলের ৩ মেয়ে,যাদের কাঁধে পড়েছে ঐ শহরের সকলকে উদ্ধার করে আনা!!! এইরকম একটা মিশনের দায়িত্ব দিছে হাই স্কুলের মেয়েদের কাঁধে  , তাও আবার সবাই হাই স্কুলের ড্রেস পরেই মিশনে থাকে সব সময় :S !! ভাবলাম এনিমেতে তো সবই সম্ভব, কাহিনী কীভাবে আগায় সেটা দেখি। ২-৩ এপিসোড দেখে ভালো লাগছিলো, কিন্তু এইরকম অল্প বয়সের মেয়েদের এমন দায়িত্ব দিছে যারা অল্প কিছুতেই ভ্যা ভ্যা শুরু করে দেখতে একটু বিরক্ত লাগছিলো। তাও চালায় গেলাম ভালো কিছু হবার আসায়। তেমন একটা একশন থাকবে আশা করিনি, তবে যা ছিল আসলে বেশ ভালোই ছিল। 

সাথে এনিমেটার গ্রাফিক্স/আর্ট/এনিমেশন যেটাই বলেন না কেন, Post-apocalyptic ভাবটা বেশ সুন্দর করে ধরে রাখছিল। শুধু ক্যারেক্টার বিলডাঁপ আর কাহিনীতে ধরা। যারা সব সময় একশন বা স্লাইস অফ লাইফ বা অন্য জনরা দেখে অভ্যস্ত তেমন একটা আশা না নিয়ে, সময় কাটানোর জন্য একটু আলাদা কিছু দেখতে চাইলে, একবার দেখতে পারেন এনিমেটা। দেখতে খুব একটা খারাপ লাগে না। তেমন আহামরি কোন কাহিনী নাই, এই যা।

MAL rating: 6.69
My rating 6.5

নারুতো (একটা প্রায় বায়াসড রিভিউ টাইপ লেখা) – Shafiul Munir

ফুটবল খেলায় হাফ টাইমে ৩-০ গোলে পিছিয়ে আছি, প্রতিপক্ষ একের পর এক আক্রমণ করছে, আমরা একটুও পেরে উঠছি না, সামনে হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। কি করব? হাল ছেড়ে দেব পরাজয় মেনে? নাকি অসম্ভবকে চ্যালেঞ্জ করে কোন বাধাকে পরোয়া না করে এগিয়ে যাব ‘হার না মানা’ মনোবল নিয়ে?

একের পর এক পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে, টিউশন পাওয়া যাচ্ছে না, যাকে খুব ভালো ফ্রেন্ড ভাবতেন সেও দূরে সরে যাচ্ছে, যেটা করছেন সেটাতেই লুজার হচ্ছেন, জীবনের প্রতিটি প্রান্তে কুয়াশা ঢাকা অশুভের ছায়ায় দিশেহারা। কি করব? কি করবেন? সবকিছু ছেড়ে বনে বাদাড়ে চলে যেতে পারেন, আত্মহত্যা করতে পারেন, হতাশ হয়ে মদ-গাজায় দুঃখ ভুলতে পারেন, কিংবা উজুমাকি নারুতোর মত নিয়তির নিষ্ঠুরতা আর চারপাশের প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলে উঠতে পারেন, “Give up trying to make me give up.”

শুধু মনোবলের দৃঢ়তা নয়, আছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ট্যালেন্টের সুউচ্চ দেয়ালকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া, অসম্ভব টার্গেটকে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে বিশ্বাস করে প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া। একটা এনিমে ক্যারেক্টার এভাবেই আমাদের নিতান্ত তুচ্ছ অবমানবতা আর মানবতার সন্ধিস্থলে নিয়ে আসতে পারে অতিমানবীয় দৃঢ়তা, আর হয়ত সত্যিই বদলে দিতে পারে অনেকগুলো জীবন। আমার কাছে তাই নারুতো এনিমেটা শুধু একটা ফিকশন নয়, আর নারুতো একটা কাল্পনিক নিনজা নয়, আমার প্রতিদিনের জীবনে একটা বিশাল অনুপ্রেরণা আর আইডল। সামুরাই এক্স, ডিবিজেড আর পোকেমন দিয়ে শুরু করলেও আমার এনিমে জগতের প্রথম প্রেম নারুতো, এরপর দেখেছি আরো অনেক ভালো কিছু এনিমেও, কিন্তু প্রথম ভালবাসায় আজো কেউ ভাগ বসাতে পারে নি।

যদি ফাইটিং আর কাহিনীর ব্যাপকতা ও সৌন্দর্য্যের কথা বলা হয় তাহলে সবসময় আসবে বিগ থ্রির সবচেয়ে বেশি সমালোচিত এই এনিমেটি, সমালোচনাগুলো যথেষ্ট যোক্তিক, বর্তমান নারুতো শিপ্পুডেনের নাম এখন অনেকে বলে থাকেন ফিলার শিপ্পুডেন কিংবা উচিহা শিপ্পুডেন। মূল কারণ, একের পর এক বিশাল বিশাল সব ফিলার আর কাহিনী নিয়ে অদ্ভুতভাবে ক্রমাগত মোচরানো। মূল চরিত্র নারুতোর চাইতে যেন উচিহারাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে একটা সময় পর, আর একদম বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে সেটাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই। তবে একদিকে যেমন সাসকে, মাদারা, ওবিতো কিংবা ইটাচির মত উচিহারা আছে, তেমনি ছিল/আছে কাকাশি, জিরাইয়া, গারা, হাশিরামা, বি, সুনাদে, শিকামারু বা অন্যান্যরা।, এই যে এত্তগুলো চরিত্র একসাথে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারাটাই, সম্ভবত এখানেই নারুতোর মূল সার্থকতা।

নারুতো ২০১৪ তে শেষ হতে যাচ্ছে। কিশি ফুরিয়ে গেছেন, তিনি এখন গাজা খেয়ে লিখেন, তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের ক্যারেক্টার স্টুপিড সাসকে, তার কাছে ভালো আর কি আশা করা যায়? তবে তারপর আমি এটাও ভাবি যে লোকটা এত্ত অসাধারণ সব প্লট সৃষ্টি করেছে, ইটাচি, জিরাইয়া, শিকামারু, মাদারা, কাকাশিদের মত অস্থির সব ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছেন, লি-গারা, নারুতো-নেজি, নারুতো-গারা, পেইন-নারুতো, ইটাচি-সাসকে সহ অসংখ্য অস্থির লেভেলের ফাইটিং সিন দেখেয়িছেন তার কাছ থেকে একটা ভয়ংকর সুন্দর আর অদ্ভুত সমাপ্তি আশা করাটা কি খুব বেশি আশা করা??

যাই হোক, আমি খুব খুশি এবং কৃতজ্ঞ যে এরকম একটা জিনিস আমি আমার জীবনে দেখে যেতে পেরেছি।

ব্যাটল রয়াল মাঙ্গা প্লাস মুভি রিভিউ – Torsha Fariha

মাঙ্গা- ব্যাটল রয়াল
ভলিউম- ১৫ (প্রতি ভলিউমে ৮ টা করে চ্যাপ্টার)
জানরা- Dystopian, thriller, horror Alternative history.
মুভি- ১১৩ মিনিট (অরিজিনাল রিলিজ)
ডিরেক্টর- কিনজি ফুকাসাকু।

১৯৯৬ সালে কউশুন তাকামি একটি নভেল লেখেন ‘ব্যাটল রয়াল’ নামে। যদিও সেটা ১৯৯৯ সালের আগে পাবলিশ করা যায় নি। যার পেছনে একটা কারণ ছিল এর কন্টেন্ট। এমনকি এই নভেলটা ১৯৯৭ সালে এক হরর বই কন্টেন্টের ফাইনাল রাউন্ড থেকে রিজেক্ট করা হয়। কারণ যেই একই- বই এর কন্টেন্ট। 

সবার আগ্রহ হতেই পারে কি সেই বিষয়বস্তু যা এত কন্ট্রোভার্সির জন্ম দিয়েছে সেই সময়।

সে এক কাল্পনিক সময়ের কথা। জাপান তখন রিপাবলিক অফ গ্রেটার ইস্ট এশিয়ার মেম্বার। Shiroiwa junior high school এর এক সেকশন ভর্তি ছেলে মেয়েকে স্টাডি ট্যুরের নাম করে স্কুল অথরিটি নিয়ে যায় একটা জনমানুষ শূন্য দ্বীপে। 

সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারে একটা মিলিটারি রিসার্চ প্রজেক্টে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। রিসার্চের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া- যাতে তারা কোন ধরণের অর্গানাইজড বিদ্রোহের কথা মাথায় না আনতে পারে। প্রত্যেক বছর খুব গোপনীয়তার সাথে কোন স্কুলের কোন সেকশান এই প্রোগ্রামে অংশ নিবে সেটা ঠিক করা হয়। 

তো এই প্রজেক্টে (গেইম বলা বেশি যুক্তিযুক্ত) তাদেরকে এই দ্বীপের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। প্রত্যেকের মূল লক্ষ্য থাকবে সারভাইভাল। সেটা প্রতিকূল পরিবেশের জন্য না বরং তাদের এতদিনের ক্লাসমেটদের জন্য। কারণ তাদের প্রত্যেকের টাস্ক হচ্ছে – একে অপরকে খুন করা। ততক্ষণ পর্যন্ত- যতক্ষণ না শুধু একজন বেঁচে থাকে। 

এটা এমন একটা গেইম যেখান থেকে কোন এস্কেপ নেই- এমনকি কেউ যদি চায়ও সে আর তার ফ্রেন্ড শুধু বেঁচে থাকবে – সেটাও সম্ভব না। একটা ট্র্যাকিং ডিভাইস সবসময় তাদের গলায় মেটাল কলার হিসেবে লাগানো থাকে। আমাদের নায়ক Shuya nanahara আর নায়িকা noriko nakagawa. পুরো কাহিনীতে আমরা দেখতে পাব কিভাবে তারা এই জটিল পরিস্থিতির ভেতর নিজেদের রক্ষার করছে। সেই সাথে আছে ক্লাসের অন্যান্যদের কাহিনীও।

সংক্ষেপে এটাই ব্যাটল রয়ালের কাহিনী। কাহিনী পড়ে কি সাম্প্রতিক কালের হাঙ্গার গেইমসের কথা মনে পড়ছে? খুব স্বাভাবিক। উইকি পড়লে সহজেই জানতে পারবেন মুভিটা রিলিজ হওয়ার পর একটা জোর সমালোচনা উঠেছিল আইডিয়া নকলের অভিযোগে। যদিও লেখিকা বলেছেন সমালোচনার আগে তিনি ‘ব্যাটল রয়াল’ এর নামই জানতেন না।  

অবশ্য এটা নতুন না। ক্রিটিকরা এরকম আরো কিছু মুভির ভেতর ব্যাটল রয়ালের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষ্য করেন। যেমন- কিল থিওরি, দ্য টুর্নামেন্ট, গান্টজ আর একটা ভিডিও গেইম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড এন্ডস উইথ ইউ’। আসলে তাকামির বইয়ের আইডিয়া এত বেশি মৌলিক যে সেটা ক্রিটিকরা লক্ষ্য না করে পারেননি। (ব্যাটল রয়ালের সাথে কিঞ্চিৎ একটা সিমিলারটি আছে স্টিফেন কিং এর ‘লং রান’ এর। স্টিফেন কিং সেটা নিজে বলেন। অবশ্য মিলটা খুবই অল্প। বই এর কাহিনী পড়ে আমার তাই মনে হয়েছে। কিং নিজেও পরে বলেছেন এটা তেমন কোন ম্যাটার না।) 
এবার আসি জনপ্রিয়তার কথায়। এটা সেসময়ের একটা বেস্ট সেলার বই ছিল – তার এমন বিষয়বস্তু থাকার কারণেও। উইকিতে সেসব বিশদ আছে। সেই নভেল ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, ইটালিয়ান,হাঙ্গেরিয়ান, রাশিয়ান- এরকম বহু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।

মাঙ্গা এডাপ্টেশনের কথায় আসি। এই নভেলের মাঙ্গা নভেলের লেখক নিজেই লিখেছেন। তিনি তার এ সম্পর্কে বলেছেন – নভেলের চেয়ে আরো বেশি বিস্তৃত মাঙ্গাটা। প্রত্যেকটি চরিত্রের উপর প্রায় সমান নজর দেয়া হয়েছে- তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে সারভাইভাল- সব। 
এটা সত্যি যে আমি মাঙ্গা পড়ি নাই। উইকি ঘেঁটে কথাগুলা বললাম।

এবার মুভির কথা। মুভি নিয়ে কথা বলার আগে আমি একটা জিনিস উল্লেখ করতে চাই। সেটা হল মুভিটা ঠিক নভেলের মতই সুন্দর। অনেক সময় মুভিতে যেটা হয় অনেক কাহিনী বাদ পড়ে যায় যেটা অনেকেই পছন্দ করেননা। এখানেও একই জিনিস হয়েছে তবে পার্থক্য আছে। মেকিংটা এত সুন্দর আর বাস্তবসম্মত যে কোন খুঁত ধরার অবকাশই থাকে না। (মুভির IMDb রেটিং ৭.৮)
মুভিটা আমি দেখেছি এবং এটা আমার খুব পছন্দের। আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই এই মুভিটা বিখ্যাত ডিরেক্টর টারান্টিনোর খুব পছন্দের। তিনি এই মুভিটা সতেরো বার দেখেছেন এবং উল্লেখ করেছেন এই মুভির মেকিং এবং কাহিনী তাঁকে খুব ইন্সপায়ার করেছে।

তাই বলছি কেউ যদি মাঙ্গা নাও পড়েন অ্যাটলিস্ট মুভিটা দেইখেন। যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। 
কেন দেখবেন/পড়বেন- কারণটা হল কাহিনীটা খুবই মৌলিক। অনেকটা সেই মধ্যযুগের গ্রিক গ্ল্যাডিয়েটরদের গেইমের মত। পার্থক্য আছে অবশ্য। ওরা ছিল গ্ল্যাডিয়েটর যারা নিজেদের পেশাই করে নিয়েছিল সেটা। আর এদিকে কিছু টিনএজ ছেলেপিলে যারা একটু আগ পর্যন্তও বন্ধু ছিল একে অপরের। এবং এই কারণেই কাহিনীটা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর, কৌতূহল উদ্দীপক। একদিকে নিষ্ঠুরতা অপরদিকে ফ্রেন্ডশিপ, প্রেম – সবার উপরে এক অমোঘ নিয়তি- সব মিলিয়ে যেমন অস্বস্তিকর তেমনই খুব মানবিক এক কাহিনী। নিজেকে ওদের জায়গায় কল্পনা করে আপনার গা শিউরে উঠবে একই সাথে কৌতূহলও জাগবে ‘শেষে কি হল?’

কেন দেখবেন/পড়বেন না- সত্যি বলতে একটা সেইরকম হরর মুভিও আপনার মনে এতটা ছাপ ফেলবে না- যতটা ফেলবে ‘ব্যাটল রয়াল’। মুভিতে প্রচুর ভায়োলেন্স সীন আছে যেগুলো দেখলে সত্যি গা গুলায় আসে। manga is far more sexually graphic than the novel and film versions, but like them, is noted for its intense, gory violence. তাই যারা এসব সহ্য করতে পারেননা তাদের না দেখাই বা পড়াই ভালো।

ব্যাটল রয়াল নিয়ে আমার অনুভূতির কথা বলি। আমি এক সকালে মুভিটা দেখে মিশ্র একটা অনুভূতি হয়েছিল। একই সাথে রাগ, ঘৃণা, ভয় – এই তিনটা এক সাথে কাজ করেছিল আমার উপর। এবং শেষ হওয়ার পর সত্যি মনে হচ্ছিল আমি যেন এই মাত্র সেই দ্বীপ থেকে আমার বাসায় এসে পড়লাম। একটা মুভি কতটা গভীরেই না মানুষকে নিয়ে যেতে পারে! 

হুট করে আমাদের মত কাউকে যখন এরকম জীবন- মৃত্যুর একটা খেলায় নামিয়ে দেয়া হবে তখন আমাদের মধ্যে কিছু স্বাভাবিক রিফ্লেক্স কাজ করবে। এই রিফ্লেক্স পারসোনালিটি অনুযায়ী ভ্যারি করে। কেউ শুরু থেকেই পাগলের মত কাউকে মারা শুরু করবে, কেউ গা ঢাকা দেবে, কেউ অপেক্ষা করবে বাকিরা কখন শেষ হবে , কেউ এই চাপ সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করবে, কেউ কেউ যৌথ বাহিনীর গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে অবিশ্বাস আর প্যানিকের মধ্যে একজন আরেকজনকে খুন করবে আর কেউ হয়তো নিজের চরিত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা খুনিটাকে এক ঝটকায়বের করবে, আর কেউ হয়তো বিদ্রোহী হয়ে পালানোর চিন্তা করবে। হ্যা এরকমই হবে আমাদের ক্ষেত্রে। কারণ আমরা ট্রেইনড না, কারণ আমরা প্রস্তুত না। 

অনেকটা এরকম সাইকোলোজি নিয়েই একটা স্টাডি আছে বইটায়, মুভিটায়। না দেখলে বা পড়লে সত্যি একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস মিস করবেন। 

(ব্যাটল রয়ালের একটা সেকেন্ড সিজন এবং মুভি আছে। কিন্তু সেটা তাকামির লেখা না বলে রিভিউ দিলাম না। )

 

Animekhor topchart 2013 – Best action – Shingeki no Kyojin

অ্যাকশন এনিমে হিসেবে এনিমখোর টপচার্ট ২০১৩ এর সেরা এনিমে Shingeki No Kyojin (Attack On Titan) এর ৭৯.৩৮% ভোটে প্রথম হওয়া অবশ্যম্ভাবীই ছিল বলা চলে। দৈত্যাকায় টাইটান কর্তৃক মানবজাতির হত্যাকাণ্ডের মত লোম খাড়া হওয়া প্লটের সাথে ছিল তাদের ঠেকাতে ইউনিক থ্রিডি-গিয়ার ফাইটিং মেথড। এছাড়া টাইটানদের মারার জন্য একমাত্র দুর্বল স্পট, থ্রিডিগিয়ারের সাহায্যে ধারালো ব্লেডের অ্যাকশন, টাইটান বন্দির পদ্ধতি, অসংখ্য প্রাণবিনাশ আর ক্ষতির পরও দেয়ালের বন্দিত্ব ঘুচানোর জন্য মরিয়া আক্রমণ/অ্যাডভেঞ্চার ইত্যাদি এনিমেটিকে বছরের সেরা একশন এনিমে হিসেবে মজবুত ভিত প্রদান করে।

Animekhor top-chart 2013 – Best slice of life – Bakuman 3

এ ক্যাটেগরিতে অর্ধেকেরও বেশি ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে আছে বাকুমানের ফাইনাল সিজন। এ বছর Gin No Saji, Boku wa Tomodachi ga Sukunai Next, Yahari Ore no Seishun Love Comedy wa Machigatteiru, Watashi ga Motenai no wa Dou Kangaetemo Omaera ga Warui! এর মত বেশ কিছু ভালো স্লাইস অফ লাইফ থাকার পরেও বাকুমানের এই ল্যান্ডস্লাইড বিজয় অস্বাভাবিক কারও কাছেই ঠেকার কথা না। মাঙ্গাকাদের জীবন, তাদের স্বপ্ন নিয়ে তৈরি আনিমে বাকুমান। থার্ড সিজনে এসে আগের দুই সিজনের চেয়েও বেশি করে স্লাইস অফ লাইফ ব্যাটল জিনিসটাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে চলে গেছে। এবং অনেক ক্ষেত্রেই স্লাইস অফ লাইফের টিপিক্যাল ব্যারিয়ার ভেঙ্গে হার্ডকোর শৌনেন বা একশন ফ্যানদের, যারা হয়তো সাধারণত এই genre থেকে দূরে থাকে, তাদের কাছেও বেশ ভালো ভাবেই রিচ করেছে।