A Letter to Momo (Momo e no Tegami) [মুভি রিভিউ] — Torsha Fariha

A Letter to Momo

আর দশটা স্লাইস অফ লাইফ জানরার মতই শুরু হয় মুভিটা। প্রথম দৃশ্যে একটা ছোট্ট মেয়েকে দেখা যায় শীপের ডেকে দাঁড়িয়ে থাকতে। হাতে একটা সাদা কাগজ যেখানে শুধু লেখা “Dear Momo,” বুঝা যায় কারো শুরু করা চিঠি এটা। কিন্তু আর কিছুই লেখা নেই।
মোমো’র পাশে তার মা যখন এসে দাঁড়িয়ে দূরে তাদের গন্তব্য- ছোট্ট একটা দ্বীপ যখন দেখতে থাকে তখন থেকেই মোটামুটি একটা ক্লিশে স্লাইস অফ লাইফের শুরু আন্দাজ করা যায়।

কাহিনী খুব সংক্ষেপে বললে যেটা দাঁড়াবে সেটা হল অনেক দিন বাদে মোমো আর তার মা শহর থেকে ফিরছে মফস্বলে। বাবা ক’ দিন হল মারা গেছেন দুর্ঘটনায়। মা ভুগছেন অ্যাজমাতে। সবকিছু বেচাবিক্রি করে তারা তাই চলে এসেছে এখানে।

শহরের মেয়ে মোমো। জন্ম থেকে শুরু করে বড় হয়েছে সে সেখানে। তাই কৈশোর ছুঁইছুঁই বয়সটাতে সে কিছুটা গাল ফুলাতেই পারে এই হুট করে জায়গা পরিবর্তনে। এইজন্য শুরু থেকেই বেশ ঠান্ডা- চুপচাপ দেখা যায় মেয়েটাকে। জাহাজে যখন দাঁড়িয়ে ছিল তারা তখন হয়তো টুপ্টাপ বৃষ্টি পড়ছিল খানিকটা। আস্ত একটা পানির ফোঁটা যখন মাথায় পড়লো মেয়েটার সে চমকে তাকালো আকাশের দিকে।
কই বৃষ্টির নাম গন্ধ তো নেই!

পানির কণাগুলো এত সুন্দর করে প্রথমে দেখায় তাতে প্রাসঙ্গিকভাবেই মাকোতো শিনকাই এর কথা মনে পড়ে যায়। ভাবি, তার মুভিগুলার মত সুন্দর অ্যানিমেশন কি দেখতে পাচ্ছি তাহলে?

নাহ! আসলে সেরকম না মোটেও। তিনটা পানির ফোঁটা যখন ওদের পিছন পিছন টূকটুক করে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে আসে তখনই বুঝি সুপারন্যাচারাল কিছু ব্যাপারস্যাপার আছে মুভিটাতে!

এভাবেই শুরু Letter to momo এর। গল্প এগুলে দেখতে পাব বাসায় অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডগুলো কেন হচ্ছে, মোমো’র বাবা কিভাবে মারা গেছেন, কেন মোমোর তার বাবাকে বলা শেষ কথা ছিল “I hate you, dad! You don’t have to come anymore”, কিংবা মোমো’র মা কি নতুন করে জীবন শুরু করতে চাচ্ছে কিনা… ইত্যাদি ইত্যাদি।

হাতে সময় থাকলে দেখে ফেলা যায় এমন একটা মুভি এটা। মোটে ২ ঘন্টার মত। শুরুটা একটু ধীর এগুলেও, একসময় কিন্তু ভালো দৌড়োতে থাকে কাহিনী। বিরক্ত লাগবে না একটুও! যেমনটা ভেবে বসা হয় মুভিটা দেখতে, শেষ করে উঠার সময় ভিন্ন থাকে অনুভূতিটা। অ্যাডভেঞ্চার, স্লাইস অফ লাইফ, কমেডি, সুপারন্যাচারালের বেশ ভালো একটা কম্বিনেশন।

বলছি না এটা বেশ আলাদা ধরনের কোন মুভি। বরং এটা আর দশটা প্রথম সারির স্লাইস অফ লাইফের সমান মজার। খুব বেশি জীবনবোধের কিছু নেই, দর্শক নিজের জীবনের সাথে মেলাবে এমন কিছু নেই। এই মুভিটা দেখা অনেকটা জানালা দিয়ে আরেকজনের জীবন দেখার মত।

Hope you guys will like it 

IMDB rating: 7.3
My Rating: 8

Kino’s Journey: The Beautiful World [রিভিউ] — Siam Maksud

Kino no Tabi 1

কিনো নো তাবি – একটি অসাধারণ গোলমেলে যাত্রার গল্প
The world is not beautiful ; And that, in a way, lends it a sort of beauty…..

জনরাঃ এডভেঞ্চার ফিকশন, ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন
এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩ + ২ টি মুভি
ম্যাল রেটিংঃ ৮.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৮.৫
আমার রেটিংঃ আহা! রেটিং নিয়ে ঝামেলা ক্যান? অতি ভাল এনিমে তো………

কল্পনা করা যাক এমন একটি সমাজের কথা যেখানে মানুষকে জীবিকার জন্য লড়াই করতে হয় না, তারা সবদিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু তাদের কাছে কি জীবনের আর কোনো অর্থ থাকবে? অথবা এমন কোনো জায়গা যেখানে কেবল শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কদের বাস, বারো বছরের যেখানে পরেই যেখানে সরিয়ে ফেলা হয় অপ্রয়োজনীয় সব অনুভূতি, শিশুটি পরিণত হয় সমাজের ‘আদর্শ নাগরিকে’। এটা কি আসলেই সমাজের ভাল করছে? কিংবা চিরকাল সুখে থাকা এক কবি কি পারবে তার কবিতায় মানুষের দুঃখ কে তুলে ধরতে, এমনকি তাকে বাধ্য করা হলেও? এক উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণকারীর যাত্রাপথের এমন সব গোলমেলে গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে Kino’s Journey: The Beautiful World (Kino no Tabi)।

গল্পের শুরু কিনোকে নিয়ে, ভাবলেশহীন মুসাফির, যে কিনা একটি কথা বলা মোটরবাইক নিয়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়।
– কেন?
– কে জানে কেন? উদ্দেশ্য নেই।

কাজের কথায় আসি। তো কিনোর গুণাবলির মাঝে একটি অনন্য গুণ হচ্ছে বেচে থাকার প্রয়োজনে অনায়াসে মানুষ খুন করতে পারা। আর তার নির্মম নির্লিপ্ততা। সে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাচিয়ে তোলে , আবার সে মানুষটা বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাকে নির্দ্বিধায় মেরে ফেলতেও বাধে না। যাত্রাপথের কারো সমস্যাতেই নিজেকে জড়ায় না, পাশ কাটিয়ে চলে যায়।এ পাশ কাটানো কখনো মনে হয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, কখনো চরম নিষ্ঠুরতা। কিন্তু এটাই তার চরিত্রের বড় আকর্ষন। কিনো কিন্তু একা নয় এ যাত্রায় । তার সংগী মোটরবাইকের নাম হেরমেস। অতি ভাল যন্ত্র, কিনোর সব কথা শোনে। কথা বলে প্রচুর । তো এ দুজনের যাত্রার সংগী হিসেবে কিনো নো তাবি দেখার জন্য আমন্ত্রণ।

আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে এনিমেটি। এমন কিছু এনিমে মাঝে মাঝে পাওয়া যায় যা শেষ হয় কিছু চিন্তার খোরাক যুগিয়ে। হয়তো বদলে দেয় কোনো বিষয়ে পুরো দৃষ্টিভংগি। কিনো নো তাবিও এমনি একটি এনিমে কিন্তু পার্থক্যটা হলো এ পরিবর্তন ঘটবে প্রতি এপিসোডে । এপিসোডিক এনিমে, প্রতি এপিতেই নতুন নতুন গল্প, নতুন নতুন শহরের নতুন মানুষদের সাথে পরিচয়, বিভিন্ন ধরণের সমাজব্যবস্থার দেখা পাওয়া । এসবের মাঝেই কিনোর অতীত খুজে ফেরা, অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়া। মানুষের ভাল দিকগুলোর সাথে বিভৎস রূপটাও এখানে বেশ ভালভাবে দেখানো হয়েছে। ভালবাসা, করুণা , দয়ার সাথেই দেখা যায় ভয়াবহ স্বার্থপরতা, বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যায়ের অদ্ভূত মিশেল। এ যাত্রাপথে দেখা হয় কোনো এক ভবঘুরে, স্মৃতি হারিয়ে ফেলা এক জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রেমে পড়ে যাওয়া খুনী, ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সভ্যতার সর্বশেষ জীবিত মানুষটির মতোই আরো অনেকের সাথে। সমাজের বিভিন্ন নিয়মের সীমাবদ্ধতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে এনিমেটিতে। দেখতে দেখতে একসময় নিজের কাছে মনে হবে “ আরে! এটাতো এভাবেও চিন্তা করা যায়!” অন্যরকম এক বিষন্ন ভাললাগার মাঝেই যাত্রাপথ উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

গ্রাফিক্স আহামরি কিছু নয়, কিন্তু গল্পের সাথে চমৎকার ভাবে মানিয়ে গিয়েছে । আর সাউন্ডট্র্যাক অসাধারণ। বিশেষ করে এন্ডিং সং টি আমি অনেকবার ইনফিনিট লুপে বাজিয়েছি। গল্পের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অন্যরকম ভাললাগার জন্ম দেবে। এটা দেখে না থাকলে এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটি মাস্টারপিস মিস করা হবে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

বি.দ্রঃ মুশিশি ফ্যানদের জন্য এটা মাস্ট ওয়াচ এনিমে। মুশিশি টাইপের ভাইভ পাওয়া যাবে। তবে তা অনেকটাই ডার্ক।

বি.দ্র ২ঃ মুড ভাল হয়ে যাবে এ আশা নিয়ে বসলে পস্তাবেন। বিষন্নতা, হতাশা বেড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

Kino no Tabi 2

Summer Wars [Movie Review] — Mizbahuddin Rafat

Summer Wars

Summer Wars
Directed by: Mamuro Hosoda
Studio: Madhouse

Summer wars নামটা শুনলেই মনে হয় গ্রীষ্মের যুদ্ধ বা Star wars জাতীয় কিছু। মুভির শুরুতে দেওয়া মিউজিকটা শুনলে Star wars ফিলিংসই পাওয়া যায়। মুভির নাম শুনে কাহিনী কিছু একটা প্রেডিক্ট করেছিলাম কিন্তু এই মুভিটা দেখার এক্সপেরিয়েন্স সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল।

মুভিটা শুরু হয় Oz নামক একটি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড দিয়ে। মুভির প্রথম দৃশ্যেই এমন সাইবার ওয়ার্ল্ড আর ভার্চুয়াল কণ্ঠস্বর শুনে একেবারে অন্যরকম লাগলো। Oz নামক ভার্চুয়াল দুনিয়াটি আলাদিনের চেরাগের মতো। যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ রয়েছে এখানে। শপিং, ফাইটিং, বিজনেস, যোগাযোগ, বিনোদন থেকে শুরু করে বলতে গেলে সব। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মুভিটিতে সম্পূর্ণ জাপানের মানুষের কাজকর্ম চলে এখানেই। মুভিটির প্রধান চরিত্র কেনজি কইসো নামের এক হাইস্কুল ছাত্র। সে জাপানের ম্যাথ অলিম্পিয়াডের রানার-আপ। সে ও সাকুমা নামের তার এক বন্ধু ওজের দুনিয়াতে তাদের সময় কাটায়। কেনজির হাইস্কুলের একজন আপারক্লাসম্যান নাতসুকি শিনোহারা হঠাৎ তাদের একটা অতি অদ্ভুত জব অফার করে। সেটা আর কিছুই নয় বরং নাতসুকিকে তার পৈত্রিক নিবাসে যাওয়ার পথে সঙ্গ দেওয়া। হুট করে এমন অভূতপূর্ব প্রস্তাব পেয়ে কেনজি লাফ দিয়ে রাজী হয়ে যায় নাতসুকির বাড়ির দিকে তার যাত্রা শুরু হয়। নাতসুকির বাড়িটি প্রাচীন জাপানিজ ঐতিহ্যবাহী বাড়ির মত। নাতসুকির এর বিশাল ম্যানশন আকারের বাড়িটির ডিজাইন করা হয়েছে জাপানের Ueda Castle থেকে। এনিমেতে নাতসুকির পৈত্রিক নিবাসও উয়েদা শহরে। বাস্তব ওয়েদা প্রাসদটি জাপানের ওয়েদা শহরেই অবস্থিত যা আবার ডিরেক্টর মামোরু হোসোদার নিবাসের অতি কাছে। এই Ueda Castleটির মালিক ছিল Sanada clan যারা কিনা জাপানের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নাতসুকির বাড়িতে আসার কারণ ছিল তার গ্রেইট-গ্র‍্যান্ডমাদারের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন। আর এই উপলক্ষে নাতসুকির পুরো পরিবারই জড়ো হয় তাদের পারিবারিক বাসস্থানে। Natsuki এর পরিবার বিরাট বড়। তাদের সম্পূর্ণ পরিবার দেখলে আমাদের একান্নবর্তী যৌথ পরিবারের কথা মনে পড়ে যায়। তাদের পরিবারের বিস্তৃতি পুরো জাপানে ছড়িয়ে আছে। কেনজি, নাতসুকির পরিবারের সাথে বেশ ভালো সময় কাটাতে থাকে যতক্ষণ না সেই কালোরাত্রিটা আসে। ছুটির প্রথম রাতেই তার মোবাইলের ওজ আইডিতে হঠাৎ একটি বিরাট কোড আসে যেটি সে পাগলামিবশত (এবং ঘুম না ধরায়) এক রাতের ভিতরেই কমপ্লিট করে বসে। তারপরের ঘটনাটা একেবারেই অন্যরকম। তার এই ডিকোডকে কাজে লাগিয়ে একটি ভাইরাস পুরো ওজের সিস্টেমে নিজের আধিপত্য ফলিয়ে একের পর এক অপকর্ম করতে থাকে। প্রায় চল্লিশ কোটি ওজ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়ে যায় যার মধ্যে রয়েছে কেনজির অ্যাকাউন্টটিও। যেহেতু কেনজির অ্যাকাউন্ট থেকে কোডটা ডিকোড করে পাঠানো হয়েছে তাই পরেরদিনেই সে মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী হয়ে যায়! তারপর ঘটনাক্রমে এই পরিবার তরফ থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর সেই ভাইরাসের বিপক্ষে এক সম্মিলিত লড়াই।

পরিচালক মামোরু হোসোদা Oz এর আইডিয়াটি নিয়েছেন একটি সুপার মার্কেট থেকে। যদিও এর সাথে Oz এর কোনো প্রকার মিল নেই। মুভির ফাইট সিন অর্থাৎ Oz এর ব্যাটেল সিস্টেমটি মুভির ডিরেক্টর Nintendo DS এর গেইমিং সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছেন। ভাল রকমের একটি স্টোরি এবং অনেক উত্তেজনা উপভোগ করতে চাইলে এই মুভিটা একটা অসাধারণ চয়েস। রেটিং এর ক্ষেত্রে মুভিটিকে A+ দেওয়া যায়। হালকা রোমান্টিসিজমের ছোঁয়াও পাওয়া যায় মুভিটিতে। অনেকগুলো গভীর পারিবারিক মুহূর্তের সমষ্টি সামার ওয়ারস আর এটাই মুভির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। মামোরু হোসোদার মুভিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এঞ্জয় করেছি এই মুভিটিই। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া মুভিটির ঝুলিতে আছে জাপান মিডিয়া আর্টস ফেস্টিভ্যাল ও জাপান অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের বেস্ট অ্যানিমেশনের পুরস্কার। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল মুভিটি।

Macross: Do You Remember Love? (1984) [মুভি রিকমেন্ডেশন] — Tahsin Faruque Aninda

Macross Do You Remember Love

সেই ৩৩ বছর আগের একটা মুভি, অথচ এখনও দেখলে দর্শকেরা সেই যুগের মতই উপভোগ করে যায়। এটাই কি “কালজয়ী” কথাটার একটা ব্যাখ্যা ধরে নেওয়া যায়? যায় কি যায় না, সেটা না হয় দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দিব। মুভিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে বলবো, ‘মেকা’ এবং ‘স্পেস’ জনরা নিয়ে স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী হয়েও একটা জিনিস পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় – এই মুভিটি অন্যান্য ‘মেকা’ ও ‘স্পেস’ গল্প থেকে আলাদা বেশ। কীরকম, তার অল্পস্বল্প বর্ণনা দেই।

সাধারণত অন্যান্য মেকা জনরার আনিমেগুলি আমরা দেখি বিশাল বিশাল একেকটি মেকা নিয়ে বিভিন্ন চরিত্রদের মারামারি, আর এসব মারামারির পিছনে অনেক অনেক কলাকৌশল, থাকে রাজনৈতিক প্রভাব। থাকে সাইকোলজিকাল ব্যাপার, আবার থাকে মাইন্ড-গেম। উল্লেখ্য, যেসব ব্যাপার এখানে বললাম, সেগুলি “সাধারণত” দেখা যায়, কারণ ব্যাতিক্রম তো থাকেই। ম্যাক্রসের এই মুভিটিও তেমন একটি ব্যাতিক্রম।

এই মুভিটিতে ‘মেকা’ একটি সাইড জনরা হিসাবেই ধরে নেওয়া যায়। এর মূল জনরা হল রোমান্স ও স্পেস। হ্যাঁ, এটি নিখাদ একটি প্রেমকাহিনী, যার পুরা গল্পটি ঘটেছে মহাকাশীয় পটভূমির উপর ভিত্তি করে। মুভিটির আরও একটি ব্যাপার দেখা যায়, তা হল এখানে একটু পরপরই বিভিন্ন গানের ব্যবহার। ‘মিউজিক’-ও একটি বড় জনরা মুভিটির।

গানের ছন্দে ছন্দে প্রেমকাহিনীর আবর্তন, শুনতে কি আমাদের সেই পুরান যুগের বাংলা বা হিন্দি মুভির মত শুনাচ্ছে? অনেকটা সেরকমই। আবার একদম সেরকমও না। এক নায়ক ও দুই নায়িকার ত্রিভুজ প্রেমের গল্প এটি, যা মহাকাশীয় যুদ্ধের সাথে সাথে গল্পক্রমে বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়। মানবজাতি, ‘জেনত্রায়েদি’ নামের শুধু পুরুষদের নিয়ে গঠিত এক এলিয়েন জাতি ও ‘মেলত্রান্দি’ নামের শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত আরেক এলিয়েন জাতি – এই ৩ পক্ষের যুদ্ধ হল গল্পটির পটভূমি। এরই মধ্যে ৩ প্রধাণ চরিত্রের সম্পর্ক নিয়েই গল্পটি এগিয়ে যেতে থাকে।

৩৩ বছরের পুরানো মুভি হয়ে থাকলেও এর অ্যানিমেশন চোখ ধাঁধানো। চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টের সাথে সাথে স্পেসশিপের যুদ্ধ দেখার মত। কিছুক্ষণ পরপর গানের ব্যবহার অনেকটা আমাদের চেনাজানা হিন্দি সিনেমার ধারণা দিবে, নায়ক-নায়িকা গানের তালে তালে ঘুরে বেড়াবে। তবে গানগুলি সুন্দর হবার কারণে বেশ চমৎকারভাবে মানিয়ে গিয়েছে সবকিছু। আর শুধু এটুকুতেই গানের ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ থাকছে না, কারণ “গান” জিনিসটি গল্পটার একটা বেশ বড় অংশ, বেশ বড় এক প্লট পয়েন্ট, যেই ব্যাপারে কিছু বলতে গেলে হয়তো স্পয়লার হয়ে যাবে।

যতদূর শুনেছি, এই মুভিটি এর আগে মুক্তি পাওয়া টিভি সিরিজ SDF Macross-এরই এক অল্টারনেট ভার্শন। হয়তো সে কারণেই মুভির বেশ অনেক চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট ব্যাপারটি তেমন ভালমত হয়ে উঠে নি। তবে সেটা খুব বেশি বড় সমস্যার ব্যাপার হয়ে উঠে নি। মুভিটির খারাপ দিক বলতে গেলে এটুকুতেই থেমে থাকবো।

আরেকটি দিক অবশ্য সতর্ক থাকা দরকার হয়তো, যেই সময়ের মুভি, সেই সময়ে টিভি মিডিয়াতে নারী চরিত্রদের কীভাবে উপস্থাপন করা হত চরিত্র হিসাবে সেইটা মাথায় রাখা উচিৎ। এখন কিছু কিছু ব্যাপার যেগুলি অশভোনীয় বা অসম্মানজনক লাগে শুনতে, তখন সেগুলি স্বাভাবিক কথা হিসাবেই হয়তো বলা হত। এরকম কয়েকটি ডায়লগ হয়তো শুনতে পাওয়া যাবে, সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নিবেন না ক্রোধান্বিত হয়ে গ্রহণ করবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার।

ম্যাক্রস ফ্র্যাঞ্চাইজের ভক্তমহল বাংলাদেশে খুবই ছোট হয়তো, কারণ এর মুভি বা সিরিজ নিয়ে কথা শুনা যায়ই না একদম। আমি নিজেও যে দেখেছি তা না, বরং এই মুভি দিয়ে শুরু করলাম। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজটির অন্যান্য সিরিজ ও মুভিগুলি যদি এই মুভিটির মানের দিক থেকে কাছাকাছি হয়ে থাকে, আমার মনে হয় এটি বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠবে অনেক দর্শকদের কাছে।

The Anthem of the Heart [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anthem of the Heart 1

মুভি: The Anthem of the Heart (Kokoro ga Sakebitagatterunda)
জনরা: মিউজিক, ইয়ুথ ড্রামা
স্টুডিও: A-1 Pictures
দৈর্ঘ্য: ১২০ মিনিট
MAL রেটিং: ৮.৩

অ্যানথেম অফ দ্যা হার্ট।
একটি মুভির জন্য খুবই সুন্দর একটি টাইটেল। মূলত নামের জন্যই মুভি দেখার আগ্রহ জন্মেছিল। এনিমের পোস্টারের সুন্দর আর্ট সেই আগ্রহকে আরো তরান্বিত করে। অবশেষে বহুদিন পরে একটা নন-জিনবি আর নন-শিনকাই মুভি দেখা হল। মনের কথা দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখার দরুন পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তার একটা ভাল উদাহরণ মুভিটা।
*
মুভির প্লট আরো বেশি আকর্ষণীয়। কথা বলায় সদাব্যস্ত কিশোরী নারুসে জুনের শৈশবকালে এমন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যার কারণে সে রীতিমত আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দেয়। আশেপাশের মানুষ বলতে নিজের মা-ক্লাসমেট থেকে শুরু করে আত্মীয়-প্রতিবেশী পর্যন্ত কারোর সাথেই নারুসে কথা বলে না। ঘটনাক্রমে স্কুলের এক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের কমিটির সাথে নারুসেকে যুক্ত করা হয়। প্রতিবাদ করার জন্য নারুসে মুখ খোলার প্রচেষ্টা চালায় কিন্তু তার মুখ থেকে দুই-তিনটার বেশি শব্দ বের হতে পারে না। মজার ব্যাপার হল এই ঘটনার পর ক্লাসের অনেক ছেলেমেয়ে নিশ্চিত হয় যে নারুসে আসলে বোবা নয়, এতদিন অনেকে তাকে বোবাই মনে করে এসেছে। তারপর কমিটির আরেক সদস্য তাকুমি সাকাগুমির সাথে পরিচয় হয় হয় নারুসের এবং তাকুমিই প্রথম জানতে পারে নারুসে একটি অভিশাপে আক্রান্ত এবং এই অভিশাপের কারণে কথা বললেই তার পেটে মারাত্মক ব্যাথা হয়। তবে তাকুমি আবিষ্কার করে ফেলে যে, গান গাইলে নারুসের উপর এই অভিশাপ কাজ করে না আর সাথে এটাও লক্ষ্য করে যে, নারুসের কণ্ঠস্বর ভারী মিষ্টি। তাই কমিটির অন্য সদস্য আর ক্লাসমেটদের সাথে অনেক আলোচনার চড়াই-উৎরাই পার হবার পর একটি মিউজিকাল থিয়েটার (কাব্যনাট্য) আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আস্তে আস্তে অনুষ্ঠানের কাজ এগিয়ে যেতে থাকে এবং নারুসে সবার সাথে আরো বেশি সামাজিক হয়ে উঠতে থাকে। কিন্তু সেই অভিশাপ দিনে দিনে করাল থাবা বাড়াতে থাকে নারুসের হৃদয়ের উপর। কারণ নারুসের মুখ হয়তো এতদিন বন্ধ ছিল, কিন্তু তার অন্তর কখনোই চুপ করে ছিল না। এখন সঙ্গীত আর বন্ধুত্বের ছোঁয়া কি পারবে নারুসের অভিশাপ দূর করতে?
*
মুভি রিলিজ হয়েছে ২০১৫ সালে কিন্তু খোঁজ পেয়েছি অনেক দেরীতে। মুভির অ্যানিমেশন দেখেই টের পাচ্ছিলাম এটা A-1 Pictures এর তৈরি। অনেকটা আনোহানা+হিউকার স্টাইলের ছাপ ছিল মুভিটার ভিজুয়ালে। রাস্তাঘাট, গাছপালা, দিনের বিভিন্ন সময়ের আকাশের দৃশ্যগুলাতে সৌন্দর্য ছিল। নাইট সিনগুলাও মন্দ লাগে নি।
*
মুভিতে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো মুভিটাকে নারুসে জুনের মানসিক পরিবর্তনের চিত্র হিসেবে সহজেই অভিহিত করা যায়। এছাড়া কমিটির বাকী তিন সদস্যের মানসিক টানাপোড়েনের চিত্রায়নও খুব ভাল হয়েছে। আমার বেশি ভাল লেগেছে ইনজুরির কারণে বেসবল টিম থেকে ছিটকে পড়া দাইকি-কুনের চরিত্রটি। নিতো আর তাকুমির মিথস্ক্রিয়ার জায়গাগুলো প্রথম দিকে ভাল না লাগলেও পরে খারাপ লাগে নি। আর মুভির শেষের দিকের ঘটনাটা(শিপিংটা) একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। মাত্র চারটি চরিত্রকে ঘিরে কাহিনী চিত্রায়িত হলেও বিরক্তি লাগে নি কখনো।

Anthem of the Heart 2
*
মুভির মিউজিকের কথা বলতেই হবে। যেহেতু চরিত্রগুলোর প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল একটা মিউজিকাল থিয়েটার করার তাই অনেকগুলা শ্রুতিমধুর গান পরিবেশিত হয়েছে মুভির শেষাংশে একই সাথে। মোট সাতটার মত সঙ্গীতের সাহায্যে পুরো কাব্যনাট্যটি মঞ্চায়িত করা হয়। পুরো মুভিতে মোট গান ছিল এগারটা। তবে বেশিরভাগই মৌলিক নয়, বিভিন্ন ট্র‍্যাডিশনাল গানের পরিমার্জিত সংস্করণ। কাহিনীর সাথে গানগুলো এত সুন্দর করে মিশে গিয়েছিল যে আলাদা করে খেয়াল করার সুযোগ পাই নি। পুরো মুভির অনেক কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে শুধুমাত্র গানের কথার মাধ্যমে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা দিক ছিল। পরবর্তিতে সাউন্ডট্র‍্যাক অ্যালবাম নামানোর পর পুরো মজাটা পাই তবে ঝামেলাও পোহাতে হয়েছে অনেকটা। অ্যালবামের সব গুলো ট্র‍্যাকের নাম জাপানিজ অক্ষরে দেওয়া হয়েছিল তাই বারবার গুগল ট্রান্সলেটে কপি-পেস্ট করে ইংরেজি অর্থ জেনে নিতে হয়েছে। তাই মিউজিক ইনফরমেশন এডিটের পেছনে ভাল সময় দিতে হয়েছে তবে লাভই হয়েছে। কারণ অনেকগুলা গানই গেয়েছেন আমাদের কিছু পরিচিত আর প্রিয় সেইয়ু এবং মিউজিশিয়ানরা। kiyoura natsumi এর গাওয়া Over the Rainbow গানটা অনেক শ্রুতিমধুর ছিল। তবে সবচেয়ে ভাল লেগেছিল খোদ নারুসের সেইয়ুর গাওয়া ‘Watashi no koe’ (My Voice) গানটা। এই গানের সুর আবার নেওয়া হয়েছে ইংরেজি লোকগান ‘Greensleeves’ থেকে। একই গানের সুর The last Naruto the movie এর প্রোলোগে ব্যবহৃত হয়েছিল তাই চেনা চেনা লাগছিল মিউজিকটা। গান গাইতে গাইতে ক্লোকে আবৃত নারুসের স্টেজে উঠার জায়গাটা অনেকদিন মনে থাকবে।
*
সব মিলিয়ে খুবই এনজয়েবল একটা মুভি। হয়তো মুভির শেষের জায়গাটা কিছুটা ক্লিশে ছিল তবে আবেগের জায়গাগুলো ভালভাবেই ছুঁয়ে গেছে। এবং মুভিটা ভাল রকমের শিক্ষণীয়ও বটে। নিজেকে প্রকাশ না করার অক্ষমতার অসুবিধা সম্পর্কে ভাল ভাবেই অবগত করে দেয় মুভিটা। নারুসের ভয়েস অ্যাক্টিং খুব উপভোগ করেছি। বিশেষ করে কথা বলতে না চাওয়া নারুসের আকার-ইঙ্গিত, জোরে জোরে মাথা নাড়ানো আর অস্ফুট অব্যক্ত ধ্বনিগুলোর ব্যবহার খুবই কিউট(দুঃখিত, এখানে কোন জুতসই ভারী শব্দ ব্যবহার করতে পারছি না ছিল। সেন্সেইয়ের একটা কথা খুব ভাল লেগেছিল,
“Music and miracles go hand in hand”.Anthem of the Heart 3

আর মুভির শেষের এই স্বগোতক্তিগুলো ভাল ছিল,
“What’s inside the egg?
All kinds of feelings locked inside…
Then, unable to keep them locked in…
It explodes…
And the world that’s created then…
It is more beautiful than I ever thought”.

রেটিং: ৮/১০

Children Who Chase Lost Voices (Hoshi wo Ou Kodomo) [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Children Who Chase Lost Voices - 1

মুভি: Children Who Chase Lost Voices ( Hoshi o Ou Kodomo)
জনরা: অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি
সাল: ২০১১
স্টুডিও: CoMix Wave Films
দৈর্ঘ্য: ১১৫ মিনিট
MAL রেটিং: ৭.৮
IMDB রেটিং: ৭.৩

মৃত্যুর পরের দুনিয়া নিয়ে আমাদের বরাবরই একটা নিষিদ্ধ আগ্রহ রয়েছে। ছোট বেলায় এই নিষিদ্ধ সত্য থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাবা-মা আমাদের মানুষ মারা যাওয়ার পর তারা অথবা চাঁদে চলে যায় এধরণের গল্প শোনাতেন। বড় হওয়ার পর যখন এই ছেলেভুলানো কথার ভ্রান্ততা সম্পর্কে অবগত হই তখন আবার মৃত মানুষকে ইহধামে ফিরিয়ে আনার অনিয়ন্ত্রিত ফ্যান্টাসি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই সারমর্মকেই কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে Fullmetal Alchemist এর মত কালজয়ী এনিমে।
শিল্প-সাহিত্য-কল্পকথায় প্রিয় মানুষকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেকবারই মানুষের পাতালে যাওয়ার কথা বর্ণিত আছে। যেমন: সাপের দংশনে মারা যাওয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য অর্ফিয়ুসের পাতাল গমন এবং সন্তান জন্মদানের সময় পরলোকগামী হওয়া স্ত্রী ইজানামিকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেবতা ইজানাগির পাতাল অভিযান। তো ডিরেক্টর মাকাতো শিনকাই সাহেব বরাবরই তার সিনেমাতে দুটো মানুষের দূরত্বকে আলোকপাত করেন। কিন্তু Children Who Chase Lost Voices এ তিনি সেই দূরত্বকে দুনিয়াবি সীমানা থেকে বের করে এনেছেন। অন্য সিনেমাগুলোতে তিনি মানুষের মধ্যে দূরত্বের মাধ্যম হিসেবে টেনে এনেছেন মহাকাশ, শারীরিক অসক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থার অপ্রতুলতা, বয়স ও মানসিকতার পার্থক্য এবং খোদ টাইম ও স্পেসকে। কিন্তু এই মুভিতে শিনকাই সাহেব দুটো মানুষের মধ্যে দূরত্ব হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন ইহকাল ও পরকালের মধ্যের সীমাকে!

Children Who Chase Lost Voices - 2

প্লট: কাহিনী আবর্তিত হয়েছে পনের বছর বয়সের বালিকা আসুনা ওয়াতাসেকে ঘিরে। অন্য অনেক এনিমে মুভির মত আসুনাও মফস্বল এলাকার মেয়ে। আসুনা পিতৃহীন, তার মাও নার্সিং পেশার কারণে মেয়েকে বেশি সময় দিতে পারেন না। স্কুল ছুটির পরের অবসর সময়গুলা আসুনা কাটায় পাহাড়ের গায়ে আবিষ্কৃত তার সিক্রেট প্লেসে। আসুনার বাবার উপহার দেওয়া একটা ক্রিস্টাল রেডিওর মাধ্যমে শুধুমাত্র ঐ হাইডআউটেই আসুনা একটি রহস্যময় সুর শুনতে পায়। একদিন স্কুল থেকে হাইডআউটে ফেরার সময় আসুনা এক ভয়ংকর জন্তুর আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু রহস্যময় এক কিশোর এসে ঘটনাক্রমে আসুনাকে ঐ জন্তুর হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে ঐ কিশোর নিজেকে Shun নামে পরিচয় দেয় এবং জানায় যে সে Agartha নামক এক ভিনদেশ থেকে এসেছে। শুন আসুনাকে আশীর্বাদ করে এবং বলে যে তার ইচ্ছা যে, আসুনা যেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। শুনের অদ্ভুত আচরণে লজ্জিত আসুনা প্রতিশ্রুতি দেয় দেয় যে সে পরের দিন একই জায়গায় দেখা করবে শুনের সাথে। শুন তারার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং পাহাড়ের ঢাল থেকে ঝাপ দেয়!
পরের দিন আসুনা তার মার কাছ থেকে জানতে পারে পাহাড়ি নদীর তীরে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অবিশ্বাস আর দুশ্চিন্তাভরা চাহনি নিয়ে আসুনা স্কুলের দিকে রওয়ানা দেয়। ক্লাসে আসুনার নতুন শিক্ষক মিঃ মোরিসাকি পরকালের কিছু স্থানের নাম উল্লেখ করেন। সেই স্থানগুলোর নামের মধ্যে Agartha নাম দেখে আসুনা যারপরনাই অবাক হয় এবং ক্লাস ছুটির পরই মিঃ মোরিসাকির সাথে দেখা এই বিষয় নিয়ে আলাপ করার জন্য। আলাপ শেষে আসুনা পাহাড়ের হাইড আউটে গিয়ে আসুনা শুনকে আবিষ্কার করে আশ্বস্ত হয়। কিন্তু এই শুন আসুনাকে চিনতে পারে না এবং পূর্ব সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। তখনই সেখানে আক্রমণ করে একদল সশস্ত্র যোদ্ধা এবং তারা ধাওয়া করে আসুনা আর শুনকে। তারা পাহাড়ের তলদেশে লুকায় একপর্যায়ে আগার্থার প্রবেশপথে চলে আসে। শুন জানায় যে সে আগার্থার নাগরিক এবং আগার্থার মধ্যেই আছে Gate of death and life যার মধ্য দিয়ে মৃত মানুষকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে সশস্ত্র দলের কমান্ডার আসুনাকে জিম্মি করে আগার্থার গেইট দিয়ে প্রবেশ করে। কে এই কমান্ডার? কিবা তার উদ্দেশ্য? সে কি শুধুমাত্র আগার্থার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সংস্থার শক্তিবৃদ্ধি করতে চায় নাকি তার অন্য কোন
লক্ষ্য আছে? আর আসুনারই বা কি হবে এই পাতাল জগতে!

Children Who Chase Lost Voices - 3

এটি মাকাতো শিনকাইয়ের চতুর্থ মুভি এবং আমার দেখা তার বানানো মুভিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। শিনকাইয়ের বানানো ছয়টি মুভির মধ্যে এই মুভিটি যথেষ্ট স্বতন্ত্র। বরাবরের মত এই মুভির ভিজুয়ালও ঝকঝকে ছিল। তবে এই মুভির দৃশ্যগুলাতে কিছুটা জিবলি জিবলি ভাব রয়েছে। বিশেষ করে আগার্থার দৃশ্যগুলার অ্যানিমেশনে এক টুকরো জিবলিকে খুঁজে পেয়েছি। শিনকাইয়ের মুভিতে যেইরকম কিছু কমন দৃশ্যপট থাকে তা এই মুভিতেও রয়েছে। ফিনিস টেরার যে ছবিটা আপলোড করেছি সেটার সাথে কিমি নো নাওয়ার গোধূলিলগ্নের দৃশ্যের সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়। এই মুভির ক্যারেকটার ডিজাইনও বরাবরের মত চকচকে তবে আসুনার ডিজাইনে জিবলির ছাপ আবারো খুঁজে পেলাম। খেয়াল করে দেখলাম When Marnie Was There(2014) এর Annar এর চেহারার সাথে আসুনার চেহারার ভাল মিল আছে। মুভির মিউজিক আগেরগুলার মতই ভাল ছিল। অন্য মুভিগুলোর মতই এই মুভির শেষেও ছিল একটি অসাধারণ থিম সং ‘Hello Goodbye & Hello’.

আর এই মুভির ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বলার কিছু আছে। মানে আমি কাহিনী কোনদিকে যাবে তা নিয়ে যে সিদ্ধান্তেই পৌছেছি, কাহিনী ঠিক তার উল্টোদিকে গড়িয়েছে। জায়গায় জায়গায় ধরা খেয়ে আমি শেষপর্যন্ত প্রিডিকশন করা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিছু জায়গায় এসে ঠাহর করতে পারছিলাম না যে এই মুভির এন্ডিং দেওয়া যাবে কী করে!

তাই এই মুভির এন্ডিং নিয়ে কিছু কথা বলা যেতে পারে। শিনকাইয়ের অনেক মুভিতে অস্পষ্ট এন্ডিং দেওয়া হয় এবং প্রধান চরিত্রগুলোর নিয়তি দর্শকদের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই মুভিতে একটি সলিড এন্ডিং রয়েছে যা না হলে আমি কম খুশি হতাম না। মানে, সেন্সেইয়ের ইচ্ছা পূরণ হলেই আমি বেশি খুশি হতাম। কিন্তু কাহিনী অন্যদিকে চলে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষুদ্ধই হয়েছি। তবে শেষে সেন্সেইয়ের উদ্দেশ্যে শিনের বলা কথাগুলো ভাল ছিল।

এই মুভিতে Shakana Vimana (রাবণের পুষ্পরথ) বা Quetzalcoatl (মেসোআমেরিকান/অ্যাজটেক দেবতা) এর মত কিছু পৌরাণিক টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাপারটা ডিরেক্টর হিসেবে শিনকাইয়ের অগাথ জ্ঞানেরই পরিচয় দেয়। জিনিসগুলা একেবারেই অপরিচিত ছিল আমার কাছে তবে মুভিটা দেখার মাধ্যমে কিছু জিনিস জানারও সুযোগ হল।

Children Who Chase Lost Voices - 4

The King of Pigs [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

মাঝে মাঝে MAL এ হাবিজাবি ঘাঁটতে গিয়ে এমনকিছু চোখে পড়ে যেগুলো হয়ত নিজে কখনও খুঁজব না। দুইদিন আগে The King of Pigs এর কথা জানলাম এভাবে। MAL rating এ ৭ যেখানে তা ৮ এর উপরে হওয়া উচিৎ এবং হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আর একেকজনের রেটিং এও আকাশপাতাল ফারাক। মুভিটা শুরু থেকেই ডিপ্রেসিং ছিল। হয়ত অনেকে সহজভাবে নিতে পারেনি।

the-king-of-pigs
Yeon Sang-ho’র নাম হয়ত অনেকের কাছেই এখন পরিচিত এই বছরের Train to Busan নামের চলচ্চিত্রটির কারণে। তবে তিনি বিখ্যাত তাঁর কোরিয়ান এনিমেটেড মুভিগুলোর জন্যে। মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধাঁচের এই মুভিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল চরম বাস্তবতা। মানুষের জীবনের স্ট্রাগলকে কোন রকম অতিরঞ্জিত করা হয়নি। মানুষের ইম্পালসিভ ন্যাচার সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে তার মুভিগুলোতে। Satoshi Kon এর কাজগুলো দ্বারা তিনি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। তাঁর The King of Pigs মুভিটি Busan International Film Festival এ ৩টি এওয়ার্ড জিতেছে। তাছাড়া এটি Cannes Film Festival এ প্রদর্শিত প্রথম কোরিয়ান এনিমেটেড ফিল্ম। কোরিয়ান থ্রিলার মুভিগুলোর সাথে যারা মোটামুটি পরিচিত তারা নিশ্চয়ই ভায়োলেন্সের পরিমাণ অনুমান করতে পারছেন। ফিজিকাল এ্যাবিউজ থেকে শুরু করে এনিম্যাল এ্যাবিউজ কিছুই বাদ যায়নি এখানে।
নিজের স্ত্রীকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় Kyung Min এর কাহিনী। ব্যবসায় ব্যর্থতার দরুণ সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে রাতে সে কল দেয় তার একসময়ের বেস্ট ফ্রেন্ড Jung Jong-suk কে। Jung একজন জার্নালিস্ট। তবে তার লেখক হবার স্বপ্ন। কিন্তু তার বই পাব্লিশ করতে কোন প্রকাশকই রাজি হচ্ছেনা। ঐদিন রাতে বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বেরিয়ে পড়ে। এই সময়ে Kyung min এর কল পায়। দুজন একটা রেস্টুরেন্টে বসে। ১৫ বছর পর তাদের দেখা। এরপর ফ্ল্যাশব্যাকে কাহিনী আগাতে থাকে।
১৫ বছর আগে হাইস্কুলে থাকার সময় এই দুই বন্ধু বুলির শিকার হত প্রতিদিন। তখনকার সময়ে গরীব বা অসহায়দের Pigs আর ধনী বা শোষণকারীদের Dogs বলে অভিহিত করা হত। তাদের ক্লাসের ২ জন ছিল এলিট সোসাইটির। তাদের কারণে সবাই আতংকে থাকত। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না। ভুল করে যদি একবার তর্ক করে ফেলে তখন সিনিয়রদের নিয়ে এসে একসাথে পেটায় তাকে। প্রতিদিনের মত Kyung min কে হেনস্তা করছিল তারা। হঠাৎ একটা ছেলে পেছন থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং এসে ঐ ছেলেগুলোকে পেটায়। ছেলেটার নাম Chul Kim। হিংস্র হলেও এক পর্যায়ে Kyung min আর Jung এর ভাল ফ্রেন্ড হয়ে যায় সে। সবার কাছে সে হয়ে ওঠে King of pigs. একদিন ঐ ছেলেগুলোকে মারার সময় টিচার দেখে ফেলে। তাই কিছুদিনের জন্য তাকে সাস্পেন্ড করা হয়। দুই বন্ধু একটা পরিত্যক্ত গোডাউনে আসত Chul এর সাথে দেখা করার জন্য। সেখানেই তারা তাদের প্রথম ক্রাইমটি করে। আর এই ঘটনা আজও Jung কে কুড়ে কুড়ে খায়। যাই হোক ঘটনার এক পর্যায়ে স্পাইনলেস Kyung min বিট্রে করে। কিন্তু Chul তাকে কিছু বলেনা। বরং ফন্দি করে ঐ বুলিগুলোকে শিক্ষা দেয়ার। সে ঠিক করে একদিন এসেম্বলির সময় স্কুল ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সে আত্মহত্যা করবে। আর এই সিদ্ধান্ত সে নিয়েছিল এই ভেবে যে এই ঘটনা সবার মনে দাগ কাটবে। যারা আজ তাদেরকে টর্চার করছে, পরবর্তীতে এই দিনের কথা মনে করে তাদের মুখের হাসি যাতে চলে যায়। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু ঘটনার একটু আগে Chul তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলে। কেন? কারণ একদিন তার মাকে সে কাঁদতে দেখে, নির্যাতিত হতে দেখে। সে ঠিক করেছিল নিজেকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিবে। নতুন করে সব শুরু করবে। তার মায়ের পাশে থাকবে। কিন্তু তারপরও সে ছাদ থেকে লাফ দেয়। কেন? এটা কি শুধুই সুইসাইড ছিল? আর কেউ যদি তাকে হত্যাও করে কারণ টা কী?
মুভির লাস্ট ১৫ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ টুইস্ট টা থাকে এই মুহূর্তে। মুভির শেষটাও খুব ডিপ্রেসিং।
এই তিনজনের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখানো হয় কাহিনীর বিভিন্ন সময়ে যাতে করে দর্শকেরা তাদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে চিন্তা করতে পারে। এবং তাদের ভাগ্যটাও যে পরস্পর সাথে সম্পর্কিত তা অনুধাবন করতে পারে। তাদের প্রত্যেকের স্ট্রাগল দেখানো হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হবে সে এটা না করলেও পারত। কিন্তু একজন হাইস্কুলের ছাত্র হিসেবে তার মানসিক পরিপক্কতা আর কতটুকুই বা থাকবে? এছাড়া তাদের ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত। একসময়ের স্পাইনলেস ছাত্রের খুনী হয়ে ওঠা বা Jung এর মত একটা ছেলের হিংস্রতার কাছে হার মানা সবকিছু আপনাকে অভিভূত করবে, আপনাকে ভাবাবে।
এই মুভি নাকি Yeon San-ho’র জীবন থেকেই নেয়া। হয়ত এ কারণেই প্রতিটি চরিত্রের আবেগ-অনুভূতি আলাদা এবং সুচারুভাবে ফুটে উঠেছে।
গ্রুপে এটা নিয়ে অনেক আগে একজন পোস্ট দিয়েছিল যদিও। A must watch.

Perfect Blue [মুভি রিভিউ] — শতদ্রু তালুকদার

perfect-blue

চিন্তা করুন, আপনি মানসিকভাবে এতোটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে আপনার পক্ষে ঠিক কল্পনা আর বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। প্রতিটা দিনই আপনার কাছে বাস্তবতা আর কল্পনা মিলেমিশে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততটাই আপনি এই কল্পনা-বাস্তবতার ঘুরপাকের অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন।

Perfect Blue মুভিটার কাহিনীও মূলত তেমনই। মুভিটার প্রোট্যাগনিস্ট Mima Kirigoe একজন পপ আইডল গ্রুপের মেম্বার, নিজের ক্যারিয়ারকে আরও গড়ে তোলার করার জন্য সে পপ গ্রুপ ছেড়ে নিজেকে একজন এক্ট্রেস হিসেবে মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়। একে একে তার সাথে এবং তার পরিচিতদের চারপাশে নানান রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে Mima মানসিকভাবে এতোটাই ভেঙ্গে পড়ে যে তার পক্ষে আর কল্পনা-বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ থেকে খারাপতর হতেই থাকে। তার মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হওয়া কিংবা তার মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে কাটিয়ে ওঠা, তার চারপাশের রহস্যময় ঘটনাগুলোর খোলাসা করা নিয়েই “Perfect Blue” অত্যন্ত চমৎকার একটা এনিমেটেড মুভি।

আপনি যদি অনেকদিন ধরে বেশ ভালো কোন থ্রিলার দেখার অপেক্ষায় থাকেন তাহলে আপনার জন্য Perfect Blue হাইলি রিকমেন্ডেড। মুভিটার টুইস্ট এন্ড টার্নগুলো আপনাকে ভাবাবে, মুভি শেষ হওয়ার পরও বেশ ভাবাবে। প্লাস বোনাস হিসেবে মুভিটা Paprika বা Millennium Actress এর জন্য সুপরিচিত Satoshi Kon এর ডিরেক্ট করা মুভি।

আমার রেটিং –

স্টোরি – ১০/১০
মুভিটার স্টোরি এতোই সুন্দর করে বিল্ডাপ করা হয়েছে যে আপনি না চাইলেও নিজেকে Mima’র অবস্থায় চিন্তা করবেন। Mima’র প্রতিটা চিন্তা আপনি চিন্তা করবেন, ওর প্রতিটা অবস্থা আপনাকে ভাবাবে। মোটকথা Mima’র সাথে আপনি সারা মুভি জুড়ে বলা যায় এক প্রকার একাত্ম হয়ে থাকবেন।

এনিমেশন – ৯/১০
১৯৯৭ এ রিলিজ হওয়া মুভির এনিমেশনের সাথে আজকের এনিমেশনের আলবত কিছু পার্থক্য থাকবেই, তবুও মুভিটা দেখার সময় আপনি স্টোরিতে এতোই ঢুকে থাকবেন যে এনিমেশন তেমন কোন ম্যাটার করবে না।

ক্যারেক্টার – ১০/১০
প্রোট্যাগনিস্ট হিসেবে Mima’র ক্যারেক্টার বিল্ডাপ আমার কাছে এতোটাই ফ্ললেস লেগেছে যে তা নিয়ে ঠিক নতুন কিছু বলার নেই। পাশাপাশি আরও নানান সাপোর্টিং ক্যারেক্টারদেরও চমৎকারভাবে মুভিটাতে উপস্থাপন করা হয়েছে। Satoshi Kon এর ডিজাইন করা ক্যারেক্টার, এটা বললেই আর ঠিক অন্য কিছু বলা লাগে না।

মিউজিক – ৯/১০

মুভিটার সাউন্ডট্রাকগুলো, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার খুবই চমৎকারভাবে করা হয়েছে। মুভিটার ভৌতিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো মুভিটা শেষের পরও আপনার কানে বাজতে থাকবে । (Three cheers for Masafumi Mima!!!)

ওভারঅল – ৯.৫/১০
ইয়েপ মুভিটা নিঃসন্দেহে ৯.৫ থেকে ১০ পাওয়ার দাবিদার।

বিঃদ্রঃ মুভিটাতে কিছু নুডিটি, কিছুটা ভায়োলেন্স আছে। তাই ইয়ঙ্গার ভিউয়ারদের জন্য viewer discretion is advised.

Tsumiki no Ie/The House of Small Cubes [মুভি রিভিউ] — Anoy Lawliet

tsumiki-no-ie-1

১২ মিনিট

হ্যাঁ ১২ মিনিটই প্রয়োজন ।

MAL সাইটের এক ব্যাক্তির সাথে একমত হতেই হচ্ছে ২৬ পর্বের দরকার নেই। ১৩ পর্বও হতে হবে না । দরকার নেই ১ ঘণ্টা হওয়ার । আপনার দরকার মাত্র ১২ মিনিট।
এই ১২ মিনিটে বুঝিয়ে দিবে আপনার জীবনের কঠিন সত্য, সুন্দর ও শান্ত সময়গুলো (একই সময়ে)। Le Maison en Petits Cubes (The House of Small Cubes) হল এর বড় প্রমাণ।

এটি একটি Oscar বিজয়ী ছোট মুভি (হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়েছেন, ২০০৯ সালের সেরা এনিমেটেড ছোট মুভি বিভাগের বিজয়ী এই এনিমেটি) যা একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তির ভবনের তলা তৈরি করে পানি থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে। ভুলবশত তার তামাক খাওয়ার পাইপটি ঢুবে যাওয়া ভবনের তলায় পড়ে যায়। প্রিয় পাইপটি ফিরিয়ে আনার আশায় ঢুবে যাওয়া ভবনের যতো নিচের দিকে যেতে থাকে তার স্মৃতিগুলো ততো হানা দিতে থাকে। প্রতিটি তলা যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়। জীবনের চলে যাওয়া অমূল্যবান সে সময় যা মিশে ছিল অটুট হাসি আর কান্নাদিয়ে ফিরে আসতে থাকে।

tsumiki-no-ie-2

এক ঘণ্টার চার ভাগের এক ভাগেরও কম সময় হওয়ার অনেক গল্পই হয়তো তুলে ধরতে সক্ষম হয়নি কিন্তু তারমানে এই নয় যে কাহিনীতে অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তি দ্বারা উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের অতীত ভালোভাবে তুকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এই মুহূর্তে যদি আপনাকে বলা হয় এই সময়টিই আপনার জীবনের শেষ সময় তাহলে মাটিতে নিচে নিয়ে যাওয়ার মতো মুহূর্তগুলো কি হবে? আপনার প্রিয় মুহূর্তগুলো কি? যদি আপনি আজই মারা যান তবে আপনার মাটির উপর কাঁদার কেউ রয়েছে কি?

tsumiki-no-ie-3

না এই মুভিতে কোন ভয়েস নেই। তবে প্রতিটি মুহূর্তের সাথে এমন কিছু ভায়োলিন আর গিটারের সুর দেওয়া হয়েছে যা আপনাকে খুশি করে চোখ বন্ধ করে দিতে বাধ্য। নেই কোন উচ্চমাত্রার এনিমেশন স্টাইল। তবে আমি আশ্বাস দিয়ে বলতে পারি এতে আপনার মজা একটুও নষ্ট করবে না।

অবশেষে রেটিং যা না বললেই নয় । কোন ভাবনাচিন্তা ছারাই মন থেকে চলে আসবে ১০/১০

tsumiki-no-ie-4

Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya) [মুভি রিভিউ] — Etminan Kabir

the-tale-of-the-princess-kaguya

Movie: Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya)
Duration: 2 hr 17 min
MAL Score: 8.39

নার্সারিতে পড়তে একটা বই প্রাইজ পেয়েছিলাম- ‘ফোক টেলস অফ বেঙ্গল’। বই পড়ার খুব নেশা ছিল তখন, শেষ করতে বেশিদিন লাগে নি (কোন ক্লাসে পড়েছি মনে নেই)। রাজা-রাজকন্যা, সোনার কাঠি-রুপোর কাঠি, রাক্ষস-পেত্নি…গল্প পড়ার সময় আমি সত্যি সত্যি বিভোর হয়ে যেতাম, মনে হত চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছি। সে থেকেই রুপকথার প্রতি আমার আগ্রহ; এর উপর বিদেশী অনেক গল্প পড়েছি, মুভি-এনিমেশন দেখেছি; কিন্তু আজকের অভিজ্ঞতা পুরো আলাদা।
মুভিটি নিয়ে বলতে চাইলে প্রথমেই এর এনিমেশনের কথা আসবে, আর ট্রেইলারে এই আর্ট স্টাইল দেখেই আমি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়েছি। প্রতিটি সিন অনেকটা মোমরঙে আঁকা ছবির মতো, মনে হবে হয়তো সময় ছিল না হাতে, তাড়াহুড়ো করে শখের কোন আঁকিয়ের আঁকা। কিন্তু এর মাঝে যে কী ছিল! মুভিটি দেখার সময় বারবার আর্টের দিকে চোখ পরছিল, কাহিনীর দিকে খেয়ালই নেই। ‘রুপকথা’ থিমের সাথে মিলিয়ে এর চেয়ে মানানসই এনিমেশন বোধ হয় সম্ভব না। ছোটবেলায় দাদীর কাছে গল্প শোনার সময় মনে যেমন ছবি ভাসে, এর আর্ট ঠিক সেরকম।

গল্পের কাহিনী খুবই সুন্দর, পরিপক্ব। গরিব কাঠুরে(!), বাঁশ কেটে জীবন চালায়, বাঁশ কাটতে গিয়ে একদিন অতিপ্রাকৃতভাবে ছোট্ট এক মেয়ের দেখা পায়। দু হাতের মাঝে এঁটে যাওয়া মেয়েটিকে আশীর্বাদ ভেবে সে বাড়িতে নিয়ে আসে। বুড়োবুড়ি মিলে ঠিক করে এখন থেকে নিজের মেয়ে হিসেবে বড় করবে তাকে। এরপর থেকে তাদের জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেল, বুড়ো মাঝে মাঝেই বাঁশ কাটতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত সব জিনিশ পায়। তার ধারণা হয়- মেয়েটিকে ‘noble princess’ হিসেবে বড় করার জন্য স্বর্গ তাকে আদেশ করছে। যে মেয়েটি গ্রামের আর ১০টি ছেলেমেয়ের মতো নেচে-কুঁদে বেড়াত তার স্থান হয় শহরের এক জমিদার বাড়িতে। বুড়ো বাবা স্বপ্ন দেখে ‘noble princess’ হবার মাঝেই মেয়ে সুখ খুঁজে পাবে, আর মেয়ে খাঁচায় বন্দী পাখির মতো শুধু ছটফট করে। রাজকন্যার রুপ-গুণের ভূয়সী প্রশংসা রাজ্যসম ছড়িয়ে পড়ে, বড় বড় রাজপুত্র এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে যায়, কিন্তু সুখ কোথায়? আর তার অস্তিত্বের রহস্যটাই বা কী!

মুভিজুড়ে রাজকন্যার বড় হওয়াটা দেখার মতো। গ্রামের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সাথে তার উচ্ছল বিচরণ, খুনসুটি আর দলবেঁধে কোরাস গাওয়া দেখে মনে হালকা এক ধরনের পবিত্রতা এসে ভর করে। আর শহরের হাজার নিয়মের বেড়াজালে সেই স্বত্বা যখন স্তিমিত হয়ে পড়ে, তখন চাপা কষ্ট অনুভুত হয়। এর মাঝেও নিয়ম ভেঙ্গে হঠাত হঠাত তার স্বেচ্ছাচারিতা দেখলে মন ভরে যায়।

মুভির soundtrack একেবারে জুতসই। বেশিরভাগ সময়েই কোন background sound থাকে না, মাঝে মাঝে পিয়ানোর মতো কি যেন একটা বাজে, মনে খুব ধরেছে সেটা।

সব মিলিয়ে রুপকথার যথাযথ আবেশ নিয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ রুপকথা The Tale of the Princess Kaguya। আর্ট আর মিউসিক এমনই যে আপনি হয়তো রুপকথার রাজ্যে ঘুরে আসার অনুভূতি পাবেন। at least আমি পেয়েছি। মুভিজুড়ে জাপানের অনেক ঐতিহ্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যাক্তিগতভাবে আমার কোন আগ্রহ ছিল না, কিন্তু মুভির সাথে ট্র্যাডিশনাল ব্যাপারগুলো এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে দেখতে ভালো লাগে (অবশেষে কোন এক Ghibli মুভি আমার মন কাড়ল)।

পছন্দের চরিত্রঃ Kaguya (স্বাভাবিক), Me no Warawa (বেঁটে করে ভোম্বল এক মেয়ে, যাকে দেখলেই হাসি পায়)।