A Poet’s Life [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

a-poets-life

A Poet’s Life নামে একটা শর্ট স্পপ মোশন মুভি দেখে শেষ করলাম এখন। বরাবরের মতোই আমার এমন জিনিস ভালো লাগে, সেটা যদি এরকম উইয়ার্ড হয় তাহলে তো কথাই নাই।
গল্পের শুরুতে দেখা যায় এক কারখানার শ্রমিককে যে কিনা চাকরী হারায় কারখানার মালিকের সাথে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাক-বিতন্ডায়। বিষন্ন শ্রমিক বাড়িতে পড়ে থাকে হতাশায়। বাড়িতে তার সাথে থাকে বৃদ্ধা মা যে কিনা সর্বদায় সুতা তৈরীতে ব্যস্ত।

সুতো বুনতে বুনতে তিনি ক্লান্ত যেনো, একদম তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে গিয়েছেন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে। তেমনি সেদিন ক্লান্ত মা সুতো বুনে শেষ করলেন, বরাবরের মতোই ক্লান্ত ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে মেঝেতেই। ঠিক তখনই এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে গেলো, হঠাৎ করে নিজেই যেনো সুতোতে বনে গেলেন তিনি। অবশ্য এটা হওয়াই হয়তো বাকী ছিলো। সবার অন্তরালে ঘুমন্ত ছেলেকে পাশে রেখে সুতোর বান্ডিলে পরিণত হলেন তিনি। সেই সুতো এই হাত থেকে সেই হাতে হলো স্থানান্তর।
কারখানার মালিকরা তাদের আনন্দে মশগুল, সেই আনন্দে পিষে যাচ্ছে কারখানার শ্রমিকেরা। বিষন্ন-হতাশ-দরিদ্র শ্রমিকেরা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যেখানে হেরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেখানে উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা ব্যস্ত কি করে ব্যবসাতে আরো লাভ করা যায়। কিন্তু সেই হতাশা-বিষন্নতা যেনো পৃথিবীকে ঘিরে ফেললো, ঘিরে ফেললো শহরবাসীকে শুরু হলো প্রচন্ড তুষারঝড় এবং ঠান্ডা। যার কাছে কোনো শ্রেণীর ভেদাভেদ নেই, ধনী-গরীব কাউকে সে মানে না, কখনো মানেও নি। এইখানে হেরে যেতে লাগলো সেই উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা।
সিনেমাটাতে প্রচন্ড বিষন্নতায় ভরপুর হলেও কি করে যেনো শেষ দৃশ্যে এক টুকরো আনন্দ যেনো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখানো হয়েছে বৃদ্ধা মা এর ছেলের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং সবশেষে কবি হিসেবে নিজেই যেন আবিষ্কার করা নিজের কাছে।

**এনিমেশন টা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে, সবচেয়ে বেশি ভাল্লাগছে আমার সুতো হয়ে যাবার অংশটা। গল্প লেখলে এই অংশটা বলা যত সহজ কিন্তু ভিজ্যুয়ালি এই জিনিসটাই পোট্রে করা এবং দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করা ততটাই কঠিন বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমি দেখে পুরা ওয়াও অবস্থা। আহ ভাল্লাগছে।

Movie Time With Yami – Nerawareta Gakuen (টিং টং মুভি টাইম)

tumblr_np3536OnP71tdyyjco1_500

আজ সকালে দুই ঘন্টা ক্লাস সাসপেন্ড ছিল (যা ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়ার মত বিরল ঘটনা আমাদের জন্য), ভাবলাম দুই ঘন্টা লেন্থের কোন মুভি দেখে ফেলি। ফোনের গ্যালারি ঘেটে পেলাম নেরাওয়ারেতা গাকুয়েন, ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের অ্যানিমে মুভি। তো শুরু করলাম দেখা।

শুরুতেই মার্কিং দিয়ে দেই, বাকি পোস্টে কী আছে হিন্ট পেয়ে যাবেন।
ভিজ্যুয়াল- ৯/১০
ওএসটি- ৮/১০
ক্যারেক্টার ডিজাইন- ৯/১০
ভয়েস অ্যাক্টিং- ১০/১০
স্টোরি- ৩/১০
ক্যারেক্টার- ০/১০

গ্রাফিক্স /ভিজ্যুয়াল/আর্টওয়ার্ক, জিনিসটাকে যাই বলা হোক না কেন, মোদ্দা কথা হল অসম্ভব সুন্দর। মাকোতো শিনকাই ফিল্ম ভেবেছিলাম শুরুতে, পরে দেখি সেটা নয়। সাকুরার গাছ ন্যাড়া করে ঢেলে ঢেলে পাঁপড়ি ছেড়ে দিয়েছে কিছুক্ষণ পরপর, স্কুল, বাড়ি, সমুদ্র বা তাদের আজগুবি জায়গা গুলা, সব দেখে চোখে ধাঁধাঁ লেগে গেছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই সুন্দর, ছেলেগুলো হ্যান্ডসাম, মেয়েগুলো কিউট। ব্যাকগ্রাউন্ডে যাই বাজছিল, কর্ণকুহরে ভালই লেগেছে।

গেল প্রশংসা। এখানেই শেষ। আর কিছুই নাই প্রশংসা করার মত। এবার বিরক্তির পালা শুরু।

আমি অ্যানিমে মুভির ব্যাপারে মোটামুটি সর্বগ্রাসী। ছাইপাঁশ যাই হোক গিলে ফেলি। তাই এই মোটামুটি ছাইপাঁশ লেভেলের মুভিটাও গিললাম। আই মিন সিরিয়াসলি?!! কাহিনীটা আসলে কী ছিল? আদৌ কি কোন কাহিনী ছিল? সারাক্ষণ তো দেখলাম “কেতাই কেতাই” করেই সময় পার করে দিল। তাও যদি কারণটা বলত। আগের বছর কোন এক ঘটনা ঘটেছিল স্কুলে, সেজন্য স্কুলে ফোন আনা নিষিদ্ধ। ঠিক আছে, কোন সমস্যা নেই, আমাদের যুগে বাই ডিফল্ট এটাই নিয়ম ছিল। কথা হচ্ছে যে কাহিনীটা কী হয়েছিল যে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল? পুরো মুভিতে আমি এটা জানার জন্যই বসে ছিলাম; আফসোস, কারণ বলার ধার দিয়েও গেল না। কোন কারণে সো কল্ড ফিউচার আর্থলিং এলিয়েনদের টেলিপ্যাথিতে কিছু একটা সমস্যা হয়, সেজন্য তারা এসে একটা স্কুলে সেলফোন ব্যান করতে লেগে গেল, হাউ প্যাথেটিক ক্যান ইউ গেট?

অ্যানোয়িং ক্যারেক্টার লাইফে কম দেখিনি, কিন্তু একটা মাত্র ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিটের মুভির প্রতিটা ক্যারেক্টারকে এত বেশি বিরক্তিকর লাগবে, কোনদিন ভাবিনি। নাতসুকি মেয়েটার প্রব্লেমটা কী?!!
স্টেটমেন্ট ১- জাপানী ছেলেরা হয় বেশি ভাল।
স্টেটমেন্ট ২- না হলে জাপানী মেয়েরা বেশি শয়তান।
স্টেটমেন্ট ৩- ওভাররেটেড সুন্দেরে একটা দেয়া লাগবে তাই দিয়ে রেখেছে স্টোরিতে।

আই মিন, এই মেয়ে তার ছোটবেলার “বন্ধু” সেকিকে যেভাবে জ্বালিয়ে গেছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, এরকম প্রতিবেশী থাকলে আমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাড়ি ঘিরে রাখতাম। ছেলেটা আবার সেগুলা সহ্য করে মেয়েটাকেই স্যরি বলে, ঢঙের শেষ নাই।

আর শেষ পর্যন্ত কাহিনী কী দাঁড়াল? বাবা তোমরা তোমাদের মাদার মুন ছেড়ে মাদার আর্থের কেতাই ব্যান কইরা কী হাসিল করলা? এ বিগ ফ্যাট জিরো -_-

যাই হোক, আমার মেজাজ খারাপ হয়েছে, তাই একটু র‍্যান্টিং করলাম, এমনও হতে পারে যে আমি আসলে কাহিনী বুঝিনি তাই না বুঝে কথা বলছি, তবে আমার মনে হয়না এই কাহিনীর আগামাথা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কেউ পেয়ে থাকলে কমেন্ট সেকশনে আমার কনফিউশন গুলো ক্লিয়ার করে দেবেন অনুগ্রহ করে।

Bakemono no Ko/ The Boy And The Beast [মুভি রিভিউ] — Iftekhar Rashed

Bakemono no Ko 2

Bakemono no Ko/ The Boy And The Beast
Studio : Studio Chizu
Other Works: Wolf Children, The girl who leapt Through the time
MAL Score: 8.61

আমারা রুপ কথার গল্প সবাই পছন্দ করি কম বেশি। এটা আসলে আমাদের বেড়ে উঠার সময়টার সাথের অংশীদার। সমাজের গতানুগতিক জীবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার একটা বিদ্রহীভাব আমাদের শেকড়ে গাড়া। এমনি কিছু সাধারন ব্যাপারগুলো বিদ্যমান থাকে আমাদের কল্পনারাজ্যের গল্পের জগতে।

রেন নামের ছেলেটির বাবা মাকে হারিয়ে বসে মাত্র নয় বছর বয়সেই একটা সড়ক দুর্ঘটনায়। এতিম রেনের দেখাশুনা করার দায়িত্ব তার যৌথ পরিবারের অনান্য সদস্যরা নিতে চাইল ঠিকই কিন্তু একটা দুরের ভাব থেকেই যায় যা রেন বুঝতে পেরে বিদ্রোহী হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। অসহায় রেন বুকের মাঝে বিশাল একটা খালী জাগা নিয়ে বেচে থাকার লড়াইয়ের সামনাসামনি হয়ে পড়ে। খাবার নেই থাকার জাগা নেই বড়ই অসহায় অবস্থায় পড়ে যায়। কিন্তু রেনর ভিতর আছে বেচে থাকার একটা অসম্ভব অদম্য ইচ্ছা সেই সাথে তার একরোখা ভাব।

Bakemono no Ko 3

কুমাতেসু একটা ভাল্লুক যার বাসস্থান বিষ্ট রিআর্লম। প্যারালাল ভাবে চলতে থাকা আরেকটা দুনিয়া যা একটা সুরঙ্গ পথা দ্বারা মানুষের দুনিয়ার সাথে যুক্ত। কুমাতেতসু স্বভাব চরিত্রের দিক থেকে একদম রেন। একরোখা কারো কথা শুনার নয়, ভদ্রতা শিষ্টাচার বলতে কোন শব্দ বা এর ব্যবহার সে জানে না। তার জীবনের একটাই লক্ষ শক্তিশালী হওয়া এবং ইওজেনকে হারানো। ইওজেন(সোনালী শুকর) সমাজের বেশ সম্মানিত এবং দক্ষ যোদ্ধা। ইওজেন আর কুমাতেসুর মধ্যে একটা লড়াই হবে যা কিনা বিজয়ীকে দিবে গ্রান্ড মাস্টার খেতাব কারন বর্তমান যিনি আছেন উনি আবার এই পদ ছেড়ে নতুন করে পুনর্জনম নেয়ার চিন্তায় আছে। ঊনি হলেন বিষ্ট রিআর্লমের হত্তা কর্তা বা মহাজগতিক নেতা শৌশি (একটা খরগোশ)। কিন্তু ইওজেন যতটাই সমাজে সম্মানীত কুমাতেসু তার স্বভাবের কারন বসত পুরো উল্টোটাই, তাকে দেখলে সবাই তাকে ভয় করে এবং যার কারন বশত এখন পর্যন্ত কোন শীষ্য তার কপালে জোটেনি। কিন্তু মাস্টার শৌশী আবার বলে দিয়েছে কামাতেসু লড়াইয়ে নামবে তখনি যখন সে একটা শিষ্য জোগাড়্র কতে পারবে।

এভাবে শিষ্য খুজতে খুজতে কামাতেতসু মানুষের রিআর্লমে প্রবেশ করে রেনের দেখা পায়।

বাকিটা দেখে নিবেন। গল্পটা খুব সুন্দর এবং তার সাথে আর্ট ওয়ার্কটাও।
কিছু মুর্হুত আছে যা মনের গভীরে গেথে যাওয়ার মত।

Bakemono no Ko 1

Sword of the Stranger [মুভি রিভিউ] — Amor Asad

Sword of the Stranger 2

Sword of the Stranger সামুরাই গল্প, আনুমানিক ১৩৬৮ হতে ১৬৪৪ সালের কোন এক সময়ে।
সোর্ড অফ দ্য স্ট্রেঞ্জার একই সাথে টানাপোড়েন ছিন্ন সামুরাই, রক্তলোলুপতা আর অমরত্বের পেছনে ছোঁটার গল্প। —
প্রোটাগনিস্ট নামহীন সামুরাই Nanashi পোড়ো মন্দিরে কুলহীন ছোট্ট Kotaru আর তাঁর কুকুরের সাথে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে Kotaru’কে নির্দিষ্ট এক মন্দিরে পৌঁছে দিতে সফরসঙ্গী এবং বডিগার্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করলে ঘটনাক্রমে মিং-ডাইনাস্টি এবং তৎকালীন কোন এক জাপানিজ প্রদেশের মাঝে বিদ্যমান অস্থিতিশীল এক পরিবেশে আঁটকে পড়ে। জানতে পারি, পিচ্চি Kotaru ব্যপারটার সাথে ভালোভাবে জড়িত।

মুভির গল্প আহামরি নতুন না— তবে গল্পের রুপায়ন প্রশংসার দাবী রাখে। বিশেষ করে সোর্ড ফাইটগুলো নান্দনিক; সচরাচর এমন সোর্ড ফাইট এবং অন্যান্য সামুরাই অস্ত্রের প্রদর্শনীর দেখা মিলে না। সিনেমার নাম অনেকটা ভিতরের বিষয়বস্তুকে প্রকাশ করে দেয়, তাই দেখতে বসে সোর্ড ফাইট আশা করবেন এ লিখে দেয়া সম্ভব। কথা হচ্ছে, হতাশ হবেন না। তাছাড়া মুভির প্রথম কয়েক মিনিটের ধাওয়া, হত্যা তথা নির্বিচারে রক্তারক্তি গোটা সিনেমার ভাষারীতির জানান দিয়ে দেয়। আপনার পছন্দের সাথে যাচ্ছে কিনা তা শুরুতেই বুঝে ফেলবেন।
অ্যানিমেশন পরিষ্কার এবং ডিটেইল্ড। মাকোতো শিনকাই লেভেলের না হলেও আর্টস্টাইল চমৎকার।

মুভির শর্টকামিং হচ্ছে কিছুটা প্রেডিক্টেবল এবং অ্যামবিয়েন্ট মিউজিকের অতিব্যবহার বা ভুল ব্যবহার। আবহকে দর্শকের মনে গেথে দিতে এপিক কোন চোখ ধাঁধানো দৃশ্যে এ-ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভালো মানায়, কিন্তু থেকে থেকেই একটুক্ষণ পরপর সাধারণ দৃশ্যে ব্যবহার করলে ভার কমে যায়, বেমানান লাগে। এছাড়া, প্রোটাগনিস্টকে নির্দিষ্ট প্রোফাইলে না ফেলে দিলে ভালো হত।
আমার রেটিং ৭.৫/১০

Sword of the Stranger 1

The Story of Mr. Sorry [মুভি রিভিউ/রিএকশন] — Bashira Akter Anima

The Story of Mr. Sorry 1

যেহেতু আমার আজাইরা লেইম অথবা উইয়ার্ড জিনিসের প্রতি একটা টান আছে সেই হিসেবে একটু আগে দেখা শেষ করলাম কোরিয়ান একটা এনিমেশন মুভি “দি স্টোরি অফ মিস্টার সরি” যদিও জিনিসটা জাপানিজ না কিন্তু এর আগে হয়তো একটা দুইটা কোরিয়ান জিনিস নিয়ে আলোচনা হতে দেখছিলাম বলে ভাবলাম দেখার রিএকশন টা লিখে যাই।

মুভির শুরুতে দেখায় এক টক শো নয়তো বিচারকের ঘর। পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন নেতা-নেত্রী। চলছে বিশাল তর্ক-বিতর্ক। চাপড়ে প্রায় ভেংগে ফেলা হচ্ছে টেবিল। আসামীর কাঠগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে একটি মাকড়শা। কারণ ঘটনাস্থলে প্রায় পাগল হওয়া রাজনীতিবিদের কাছে তখন এই মাকড়শা ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায় নি তাই সেই হইলো এক নম্বর আসামী। এসময় মনে অনেক খটকা জাগে সাথে সাথে কাহিনী পিছনে ফেরা শুরু করে। মুভির মূল চরিত্র মিস্টার সরি খুবই লাজুক, মিন-মিন স্বভাবের লোক, কাউকে জোরে কথা বলতে পারে না সাথে সাথে বেশ ভীতু। কাজ করে সে এক কান পরিষ্কার করা কোম্পানীতে। জ্বী ঠিক ই শুনছেন তাদের কাজ ই হলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবার কান পরিষ্কার করা যে যত বেশি করতে পারবে তার তত লাভ। কিন্তু সরি তার দূর্বল চরিত্রের জন্যই বারংবার পিছিয়ে যেতে থাকে সবার কাছ থেকে। কোনোরকম বাড়ী ফেরে সে দৈনিক, ঘরে ঢুকেই নিঁখোজ মানুষ খোঁজার এজেন্সীতে ফোন করে সে, সেই ছোটবেলা থেকে সে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার বড় বোনকে। বোনের একদম ন্যাওটা ছিলো যে। এজেন্সী দিন দিন বিল বাড়াতেই থাকে কিন্তু ফলাফল শূন্য। শেষ রাত কাটে তার পোষা মাকড়শার সাথে গল্প করতে করতে।

কিন্তু এই দূর্বল চরিত্রের সরি খেয়াল করতে থাকে যে মানসিক ভাবে দূর্বলতার সাথে সাথে তার শারীরিক দূর্বলতাও দেখা দিয়েছে এবং একদিন টের পায় আকারে ক্ষুদ্র হতে থাকে সে দিনকে দিন। কিন্তু এতেই যেনো শাপে বড় হয়ে আসে তার পেশা, তার মালিক সবার জন্য।

মুভিটা দেখে আসলে নিজের দেশে কি হয় তা মনে পড়লো। খুব কৌশলে ওরা পৃথিবীতে কি হচ্ছে তা ই বুঝিয়ে দিলো। এইসব টক শো, টক শো তে অসংখ্য ইস্যু, প্রশ্ন, সমাধান কি হচ্ছে এতে? একটা প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত এসে ওরা তুলে দিয়ে গেছে যে আমরা যে নাগরিকরা জাস্টিস দিচ্ছি বলে দাবী জানাই, আসলেই কি ন্যায়বিচার হচ্ছে, আমরা কি আমাদের বিবেক, বুদ্ধির উপর আসলেই আস্থা রাখতে পারি? নাকি ঘটনার আড়ালেও অনেক কিছু চাপা থাকবে যা আমরা দেখতে পাবো না কোনোদিন। আর যারা দেখতে পায় তারা হয়ে পড়ে আসামী।

The Story of Mr. Sorry 2

The Tale of the Princess Kaguya [মুভি রিভিউ] — Subrata Barman

The Tale of the Princess KaguyaName: The Tale of the Princess Kaguya
Director: Isao Takahata
Genre: Drama/Fantasy

যারা ‘Grave of the Fireflies’ মুভিটি দেখেছেন তাদের ইসাও তাকাহাতা সম্পর্কে জানার কথা! তারপরও এই মুভিটার ব্যাপারে আলাদা করে বলতে হয়। এমন সুন্দর জল রঙের কাজ, যা দেখলে সাউন্ড অফ থাকলেও তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে! প্রতিটা ফ্রেইম হাতে একে এনিমেশন করা। এক কথায় চোখের উপর চাপ কম পড়ে! 🙂
যাই হোক, কুসুমে ফিরে যাই! The Tale of the Princess Kaguya মুভিটি জাপানী লোকগল্প ‘The Tale of the Bamboo Cutter’ এর উপর বেইস করে গড়ে উঠা। মিয়াতসুকো নামের একজন কাঠুরে বাশ বাগানে একটি আলোকিত বাশের গোড়ায় দৈব ভাবে একটি ছোট আকৃতির রাজকন্যার মত মেয়ে কে খুজে পায়! বাড়িতে নেয়ার পর কাঠুরে এবং তার বউ সেই মেয়েকে নিজেদের সন্তান হিসেবে বড় করার সিদ্ধান্ত নেয়! কন্যা শিশুটির মধ্যে দৈবভাব ধারনা করে তাকে রাজকন্যা বলে ডাকা শুরু করে তারা। অলৌকিক ভাবে কন্যা শিশুটি অসাধারন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠে! তার এমন কর্মকান্ডে অত্র এলাকার শিশু কিশোররা তাকে ‘তাকেনোকো’ নাম দিয়ে দেয়। সেই সব শিশুদের সাথে তাকেনোকো হেসে খেলে বেড়ায়। এদের মধ্যে সবার বয়োজ্যেষ্ঠ Sutemaru এর সাথে ভালো বোঝাপড়া গড়ে উঠে তাকেনোকোর। এভাবে এক সময় মিয়াতসুকো বাশ বাগানে স্বর্ন এবং রাজকীয় কাপড় খুজে পেয়ে মনে করে তার কন্যা কে রাজকন্যা করে গড়ে তোলার ইংগিত দেয়া হচ্ছে তাকে! এবং সে তাকেনোকোর অনিচ্ছাতে হঠাত করেই শহরে নির্মিত তাদের নতুন বিলাসবহুল প্রাসাদে নিয়ে যায়….মিয়াতসুকো তার জীবনের পরম দায়িত্ব হিসেবে তাকেনোকোকে একজন যথার্থ রাজকন্যা গড়ে তোলার প্রয়াস নেয় এবং তার কন্যা’র সব সুখের জলাঞ্জলি দিয়ে দেয়!

Hotarubi no Mori e [মুভি রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

ছোট্ট হোতারু বনে হারিয়ে গেছে, বাড়ি ফেরার কোনো উপায় পায় না। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হঠাৎই আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন, মুখ ঢাকা মুখোশে। নাম গিন।

গল্পটা কোনো এক গ্রীষ্মকালের। সে’বার হোতারুকে বাড়ি যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছিল গিনই। ভালো বন্ধু হয়ে যায় তারা।

মজার ব্যাপার হলো, গিনকে স্পর্শ করা যায় না। কোনো মানবসন্তান যদি ওকে ছুঁয়ে দেয় তাহলে ও অবলিটারেটেড হয়ে যাবে।

Hotarubi no Mori e

Title: Hotarubi no Mori e (蛍火の杜へ)
Alternative Title: Into the Forest of Fireflies’ Light
Release Date: September 17, 2011
Director: Takahiro Omori
Music: Makoto Yoshimori
MAL: 8.63 (http://myanimelist.net/anime/10408/Hotarubi_no_Mori_e)
Running Time: 44 min
Genre: Romance, Supranatural, Drama
Studio: Brain’s Base

কিছুটা অটোকনক্লুসিভ এই মুভির সোর্স হলো ইয়ুকি মিদোরিকাওয়ার সেম টাইটেল্ড ওয়ান-শট ম্যাঙ্গা। গল্পের সাথে রিলেটেড কীপসেক এডিশন ম্যাঙ্গাও রিলিজ পেয়েছিল যদিও। যারা ম্যাঙ্গাকাকে চেনেন না, তাদের বলি, নাতসুমে ইয়ুজিনচৌ – এর স্রষ্টা তিনি। মুভিটা যথেষ্ট প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয় দেশে বিদেশে। গল্পের সেটিং ছিল জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারের কামিশিকিমি কুমানোয়মাসু শ্রাইন।

জাপানীজ ফোকলোর, মিথোলজি বা ফ্যান্টাসির গল্পে অ্যাডাপ্টেশন খুব বিরল কিছু না। হোতারুর পারসপেক্টিভ থেকে বলতে চাওয়া গল্পতে মানুষ এবং অতিপ্রাকৃত সত্তার সম্পর্ক উঠে এসেছে। আর্টওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো। রং ব্যবহারে কোমলতা, আলোর প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো। এবং সব ফিগারই চমৎকারভাবে ডিটেইলড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্রেইন’স বেস তাদের অ্যাবিলিটি দেখিয়েছে বটে। অ্যানিমেশন ক্রুরা মুভিটা তৈরির পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। ছোট ব্যাপ্তির এই মুভির কাহিনীতে দর্শক ডুবে যায়, বশীভূত হয় আবেগের। মুভিতে পুরোটা সময় জুড়ে একটা সারল্য বিরাজ করে। হায়াও মিয়াজাকি বা মাকোতো শিনকাইয়ের কাজ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন। সেইয়ুদের কাজও চমৎকার হয়েছে। হোতারুর ভয়েস দিয়েছে আয়ানে সাকুরা, গিনের কোউকি উচিইয়ামা।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই ইনটেন্স। এক একটা দৃশ্যের সাথে এর মিউজিক যে প্রণোদনা সৃষ্টি করে তা লিখে বোঝানো সম্ভব হবে না কখনোই। এন্ডিং সংটা মনে দাগ কেটে যায়। মেলানকোলিক আবহে ইনস্ট্রুমেন্ট প্লেয়িং — লিরিক্যাল থিমকে রিফ্লেক্ট করেই তা করা। ট্র্যাকটা শুনতে শুনতে ঘণ্টার পর ঘন্টা পার করেছি। শিজুরু য়ুকাতার গাওয়া “Natsu wo Miteita” ঠিক এতটাই প্রিয়। গল্পের প্রগ্রেশনের সাথে সাথে পিয়ানো আর ভায়োলিনের শব্দব্যঞ্জনা আচ্ছন্ন করে রাখে দর্শককে। কাহিনীর সারল্য, উত্তেজনাশূন্য শান্ত সময়কে ডিপিক্ট করতে বা রোমান্টিসিজমে — হোতারুবি নো মোরি এর সাউন্ডট্র্যাক অসম্ভব ব্রিলিয়্যান্ট কিছু কাজের একটি। ব্যাকগ্রাউন্ডে যখন “Kanakana Shigure” প্লে হচ্ছিল, আবেগে, অবসন্নতায় চোখ বুজে ফেলেছিলাম।

কাহিনীর প্রাঞ্জলতা একটা রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করে। মুভিটা দেখতে বসে রিল্যাক্সড ফিলিংস চলে আসাটা অসম্ভব কিছু না। এই মুভির একটাই নেগেটিভিটি — শর্ট লেন্থ।

আর কোনো মুভিতে নায়িকা মনে হয় না এতবার ধপাস করে পড়ে গেছে, রেকর্ড বটে! রোমান্স জনরাতে খুব প্রিয় কিছু মুভির মাঝে এটা একটা। এতটা ভালোলাগা আর কখনোই কাজ করেনি।

কেউ কাউকে ছুঁয়েছে কি ছোঁয়নি, গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে, চেতনার গভীরে।

Glass no Hana to Kowasu Sekai [মুভি রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

Glass no Hana to Kowasu Sekai

Name: Glass no Hana to Kowasu Sekai
Length: 1 hour 7 mins (movie)
Genres: Sci-Fi

কাহিনীটা হল অন্য এক ডিমেনশনে, যাকে “Box of Wisdom” বলা হয়। সেখানে আমার প্রধাণ দুই চরিত্র ডুয়াল এবং ডরথির বসবাস। এবং তাদের মূল কাজ হল সেখানে সব ভাইরাস মারা, কেন না তারা দুইজন হল অ্যান্টি-ভাইরাস। মোয়ের ভেতর যখন জাহাজ, ট্যাঙ্ক, অস্ত্র আরও অনেক কিছুই ঢুকানো হয়েছে তখন অ্যান্টি-ভাইরাস কি দোশই বা করলো। এভাবেই তাদের সাথে একদিন দেখা মিলে আরেকটি মূল চরিত্র রেমোর সাথে। তাদের কাছে আমাদের এই পৃথিবী হল তৃতীয় ডিমেনশন, তো এভাবেই তারা তিন জন মিলে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকে। কিন্তু, পৃথিবীকে শুধু সবকিছুই সুন্দর? এত কিছুর মাঝে তো পৃথিবীর নৃশংসতাও তাদের চোখে পরে। সব শেষে যা হয় আর কি ঘটনা ক্রমে পৃথিবীর ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে আসে, যার মূল কারণ সেই ভাইরাস। আর এই পৃথিবীকে বাচানোর দায়িত্ব পরে এক সফ্টওয়েরারের উপর এবং যার ভেতরই কি না, আমাদের মূল দুই চরিত্র অ্যান্টি-ভাইরাস। এত কিছুর মাঝেও রয়েছে অনেক অনাকাঙ্খিত প্লট টুয়িস্ট, তবে সেটা তো দেখে নেওয়ার দায়িত্ব আপনার।

আর্টটা খুবই অসাধারণ। A-1 Pictures-এর কাজ বরাবরই অসাধারণ। ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজটা এ সিরিজের সেরা জিনিশগুলোর একটা ছিল। পৃথিবীর প্রায় সব বিক্ষাত জায়গাই তুলে ধরেছে এবং অত্যাধিক সুন্দর করেই সেটা করেছে। শুধু তাই নয় “Box of Wisdom”-এর ব্যাকগ্রাউন্ডও ছিল চোখ ঝলসানো। ডার্ক মুহুর্তগুলোর অ্যানিমেশনের কাজ ছিল বলার মত। চরিত্রের ডিজাইন অনেক সুন্দর ছিল, চরিত্রগুলোকে বেশ কিউট করেই তৈরি করা হয়েছে। সব মিলায়, অত্যন্ত অসাধারণ আর্টওয়ার্ক যাকে কি না ১০-এ ৯-এর নিচে দেওয়াই যায় না।

BGM-গুলোও ছিল অ্যানিমেশনের পাশাপাশি অত্যাধিক মানের। শুরুতেই শুনতে পাবেন পিয়ানোর এক সূথিং শুর যেটা কি না এন্ডিং গানটারই পিয়ানো ভার্শন। এবং এই শুরটা এতটাই ভালো, শুরুতেই আপনার মন ভালো করে দিতে বাধ্য, যে কোন সময়ই শুনে ভাল্লাগবে এরকম একটি শুরই ছিল (https://goo.gl/jN2V6M)। শেষের দিকের BGM ও দৃশ্যের সাথে অত্যন্ত মানানসই হওয়াই, যতটুকু না ভালো লাগার কথা তার চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। আর এই মুভির সেরা জিনিশগুলোর একটি হল তার এন্ডিং সং ‘Yume no Tsubomi’ যেটা কি না গেয়েছে এই আনিমের মূল ৩ জন চরিত্রের সেইয়ূ তানেদা রিসা, সাকুরা আয়ানে এবং হানামোরি ইয়ুমিরি। সবারই ভালো লাগবে এমন গানই ছিল এই গানটা (https://goo.gl/vKoKLe)।

যখন কোন সিরিজ শুরুই হয় কায়ানোর অত্যাধিক মোয়ে কণ্ঠটা এবং রিসার সূথিং কণ্ঠটা দিয়েই, তখন সেই আনিমের চরিত্রগুলোর কণ্ঠটা ভালো লাগাই স্বাভাবিক। মূল দুই চরিত্রের কণ্ঠে ছিল তানেদা রিসা এবং সাকুরা আয়ানে। দুইজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই বরাবর অনেক আনিমেতেই কোন না কোন রিলেশন থাকতে দেখা যায় যেমন রিজে-কোকোয়া (গোচিয়ুসা), কাওরি-সুবাকি (শিগাৎসু), মিয়োকৌ ক্লাস-সেন্দাই ক্লাস (কাঙ্কোলে) তাই এখানেও যে দুইজন অসাধারণভাবেই ডুয়াল এবং ডরথির কণ্ঠে সিঙ্ক্রোনাইজ করবে এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি ছিল রেমোর সেইয়ূ হানামোরি ইয়ুমিরি, নতুন একজন সেইয়ূ তিনি এবং তার কণ্ঠের সাথে অপিরিচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক কেননা ১০টার বেশি রোল নেই তার, দ্বিতীয়তা কোন চেনা-জানা আনিমেতে উল্লেখযোগ্য চরিত্রেরও কণ্ঠ দেয় নাই তিনি। তার কণ্ঠটার মাঝে বেশ ভালো পরিমানেই কায়ানোর টান আছে, অন্তত আমার কাছে শুনে যতটা লেগেছে।

সবমিলায় এক ঘন্টার মাঝে বেশ উপভোগ্য একটা মুভি। সময় নিয়ে দেখে ফেলুন তবে মোয়ে ভালো না লাগলে, একটু বিবেচনা করে দেখা শুরু করাটাই ভালো। কেননা এই এক কারণে অনেকেরই একটা আনিমে যতটা উপভোগ করার কথা তার চেয়ে খুব কম উপভোগই করে। যদি মাদোকা মাজিকা, গাক্কৌ গুরাশির মত কোন আনিমে খুজতে থাকেন তাহলে আজই দেখে ফেলুন মাত্র ১ ঘন্টার এই মুভিটি।

Piano no Mori [মুভি রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Piano no Mori 1

Piano no Mori || Piano Forest || The Perfect World of Kai

শিগাতসু এর ভূত মাথা থেকে তাড়াতে না পেরে নিয়মিতই খুঁজতে থাকি সিমিলার কিছু। আর এভাবেই পেয়ে গেছি এ মুভিটি। প্লটে কোন মিল না থাকলেও শেষের দিকে এসে শিগাতসু এর সাথে কিছু সিমিলারিটিজ লক্ষ করা যায়। বারবার কাওরি আর আরিমা-র স্টেজ পারফর্মেন্সের কথা মনে করিয়ে দেয়।

যা-হোক, অসাধারণ, ভিন্নরকম একটা মুভি দেখলাম। কেন্দ্রে থাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া দুই বালক যারা একই সাথে ঘনিষ্ট বন্ধু এবং প্রতিদ্বন্ধী।

প্রথমেই আছে মিউজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা ধনী পরিবারের সন্তান আমামিয়া সুহেই। বাবা বিখ্যাত কনসার্ট পিয়ানিস্ট। বাবার পায়ের ছাপ অনুসরণ করবে বলে খুব ছোটবেলা থেকেই স্ট্রিক্ট লেসন এর মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে আমামিয়া। মুভির শুরুতেই দেখা যায় দাদীর অসুস্থতা উপলক্ষ্যে টোকিও থেকে গ্রামে শিফট করে আমামিয়া-র পরিবার। আরেকটি ছেলে হচ্ছে ইচিনোসে কাই। সবসময় কেয়ার-ফ্রি; সে মনের আনন্দে জঙ্গলের ভেতর একটি পুরোনো পিয়ানো বাজায়; ব্যাকগ্রাউন্ড খুবই ভিন্ন, অসচ্ছ্বল পরিবার। একজন এমনভাবে পিয়ানো বাজায় যেন তার জীবন নির্ভর করে এর ওপর, আরেকজন বাজায় অসাধারণ স্মৃতি আর পর্যবেক্ষণ থেকে।

শুরু থেকেই রহস্যময় প্লট আগ্রহ বাড়াতে থাকে। নতুন স্কুলে প্রথম দিনেই সহপাঠীরা আমামিয়া-কে চ্যালেঞ্জ ছূঁড়ে দেয় জঙ্গলের পিয়ানোটি বাজানোর জন্য। বলা হয়ে থাকে পিয়ানোটি অভিশপ্ত। বাজালেও এতে কোন শব্দ হয় না। স্কুল শেষে, একই স্কুলের ছেলে, কাই আমামিয়া-কে নিয়ে যায় জঙ্গলে। আমামিয়া ব্যর্থ হলেও কাই অদ্ভুত সুন্দর সুর তোলে একই পিয়ানোতেই। আর এভাবেই শুরু হয় এক শক্তিশালী বন্ধুত্বের। সাথে আরেক প্রধান চরিত্র, ওদেরই স্কুলের মিউজিক টিচার, আজিনো সোসুকের উপস্থিতিতে ভিন্ন মাত্রা পায় ওদের সম্পর্ক। গল্পটি এ দু’ বালকের বন্ধুত্ব, বন্ধন আর সাময়িক প্রতিদ্বন্ধিতার। ছোট্ট দুই মিউজিশিয়ানের নিজেদের পিয়ানো খুঁজে পাওয়ার গল্প।

2D মুভি হলেও অ্যানিমেশনে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছে Madhouse. চরিত্রগুলো জীবন পেয়েছে নিখুঁত অ্যানিমেশনের কল্যাণে; ইমোশনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যথার্থভাবে। এক্সপ্রেশনগুলো ছিল অলমোস্ট রিয়েল (কাই-এর প্রাণখোলা হাসি দেখে আমি নিজেই হাসি থামিয়ে রাখতে পারিনি বেশ কয়েকবার– এতই প্রাণবন্ত ছিল চরিত্রগুলো)। সে সাথে জেলাসি, হতাশা, হিউমার আর বিষণ্নতাও ছিল যেখানে যতটুকু দরকার।

নামের মধ্যেই পিয়ানো দেখে অনেকেই হয়তো দ্বিধা করতে পারেন। কিন্তু আসলে সেভাবে না বোঝার মত কিছুই নেই এ মুভিতে। আমি নিজে মিউজিক তেমন বুঝি না, পিয়ানো তো নয়ই– তা-ও দারুণ উপভোগ করেছি মুভিটি। কিছু মুভি আছে না? মনের কোণে লুকিয়ে থাকা হালকা মাপের ইমোশনগুলো ছোটখাটো নাতিদীর্ঘ একটা রোলার কোস্টারে চড়ানোর মত করে জাগিয়ে তোলে আর শেষ হলেই ভালোলাগায় মনটা পরিপূর্ণ করে দেয়? এটি সেরকমই একটা মুভি।

বাই দ্য ওয়ে, ম্যাল স্কোর দেখে মুভিটাকে জাজ করবেন না। মুভিটা আন্ডাররেটেড। গ্রুপে কোন পোস্ট/মেনশন না দেখে একটু অবাকই হয়েছি।

Download link 560MB [1080p]: https://kat.cr/kamigami-piano-no-mori-bd-x264-1920-1080-aac-sub-gb-big5-jap-eng-dut-ger-fre-ita-mkv-t7059503.html

Piano no Mori 2

Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট — Mehedi Hasan Himel

Bungaku Shoujo 4

Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট (কোনো রিভিউ না)

এনিমের উপরঃ

  • Bungaku Shoujo Movie

সিরিয়ালওয়াইজ প্রথমে আসে এই মুভি, কোনোহা আর তোহকোর প্রথম পরিচয় থেকে শুরু, তারপর একে একে আসতে থাকে অন্যান্য চরিত্ররা। তোহকো হচ্ছে বুক গার্ল, সহজ কথায় সে বই খায়, বই খাবার মাধ্যমেই সে তার খাবারের প্রয়োজন মেটায়, সাধারণ খাবারের কোন স্বাদ সে নিতে পারে না। আর তার রাইটার হচ্ছে কোনোহা, প্রতিদিন ক্লাসের পর বুক ক্লাবের রুমে তাকে ৩ টি শব্দের উপর ভিত্তি করে ৫০ মিনিটের মধ্যে তোহকোর জন্য খাবার ( 😛 ) তৈরি করতে হয়, আর তোহকো তার পুরাটা খায়, যতই না খারাপ হোক। আর খাবার খাওয়ার সময় যা বর্ণণা দেয় তা আরেক জিনিস।

কোনোহার আরেকটা পরিচয় আছে, ২ বছর আগে সে ছিলো এক নভেল কন্টেস্টের বিজয়ী, মাত্র ১৪ বছর বয়সে সে জয়ী হয় এবং তার নোভেল অন্যতম বেস্ট সেলার হয়। যদিও তার নোভেল লেখার উদ্দেশ্য ছিলো অন্য একটা, তার বাল্যবন্ধু আসাকুরা মিউ এর প্রতি তার অনুভূতির কথা জানানো। যদিও তা তার উপর ব্যাকফায়ার করে। আসাকুরা মিউ এতই মানসিকভাবে নির্যাতিত হয় যে সে আর সহ্য করতে না পারে কোনোহার সামনের তাদের স্কুলের ছাদ থেকে লাফ দেয়। এই ঘটনা কোনোহাকে এতই বিপর্যস্ত করে যে সে এক বছরের জন্য আর ঘর থেকে বের হতে পারে নি।

হাইস্কুলে এসে তার জীবন অনেক চেঞ্জ হয়, বুক ক্লাবে যোগদান করে আর তোহকোর সাহায্যে সে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠে এবং আরেক সহপাঠী নানাসের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ( -_- ) গড়ে উঠে।

এদিকে তারপর আগমন ঘটে মিউ এর, ২ বছর পর, কোনোহার সুখ ভাঙ্গার এবং কোনোহাকে নিজের করে নিতে সে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায়, অনেকাংশে সফল ও হয়।

বুঙ্গাকু শৌজো এর প্রতিটা ভলিউম ই একটি নির্দিষ্ট নোভেলকে ঘিরে আবর্তিত হয়, ঐ নোভেলের চরিত্র গুলোর সাথে সিরিজের চরিত্রগুলোর একটা মিল তৈরি করে কাহিনীকে পূর্ণতা দেয়া হয়। এই মুভির ভিত্তি ছিলো কেঞ্জি মিয়াকাওয়ার Night on the Galactic Railroad.

মুভিটার সবচেয়ে ভালো দিক ছিলো এনিমেশন, অসাধারণ এনিমেশন লেগেছে, ভাইব্র্যান্ট ছিলো, তারপর ট্রেনের সিনটা অনেক ভালোভাবে দেখিয়েছে। তারপর সাউন্ডট্র্যাক আর শেষের এন্ডিং সংটা। আর কানাজাওয়ার ভয়েস যা ছিলো <3 , তোহকোর সাথে কীবারে মিলে গিয়েসে, বোনাস হিসেবে ছিলো মিজুকি নানা।

এই মুভির অনেক কিছুই খাঁপছাড়া লাগবে। অনেক কিছুই হঠাৎ করে আনা হয়েছে বা করা হয়েছে, কিছু ব্যাখা যদিও Memoire তে দেয়া হয়েছে তাও আশানূরূপ নয়।

রেটিং: ৬.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 3

  • Bungaku Shoujo Kyou no Oyatsu: Hatsukoi

১৫ মিনিটের একটা অভিএ, মুভির সাথে শুধু একটি কাহিনীরই মিল আছে, এছাড়া তেমন গুরুত্বপূর্ন না, দেখার জন্য দেখা আর কি।

Bungaku Shoujo 1

রেটিং: ৬/১০

  • Bungaku Shoujo Memoire

৩ পর্বের সিরিজ, ৩ টি পর্ব ৩ জন ভিন্ন নায়িকার উপর। প্রথম পর্ব তোহকো, ২য় পর্ব মিউ আর ৩য় পর্ব নানাসেকে নিয়ে।

মুভির কাহিনী অনেকাংশেই ব্যাখা করেছে পর্বগুলো। তোহকোর যে কোনোহার অতীত জানতো, সে যে তার প্রথম ফ্যান ছিলো, তাকে বুক ক্লাবে যোগদানে বাধ্য করাতে সে নাটকও সাজায় :3 । তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিলো কোনোহাকে আবার নোভেল লিখাতে অনুপ্রাণিত করে এবং সে সার্থক হয়েছিলোও।

তারপর মিউ এর পর্ব। মিউ এর পারিবারিক দূর্দশা ই এখানেই প্রথম প্রকাশ পায়। তার বানোয়াট গল্পের প্রতি একমাত্র কোনোহাই আগ্রহ প্রকাশ করে, সে হয়ে উঠে কোনোহার প্রতি ওভারপ্রটেক্টিভ। কিন্তু যখন কোনোহা তাকে ছাড়িয়ে পুরস্কার জিতে নেয়, তখন সে চূড়ান্ত হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়, শুধুমাত্র কোনোহাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।

রেটিং: ৭.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 2
র‍্যান্ট — নভেলের ভিত্তিতে (স্পয়লার এলার্ট)

প্রথমেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়েছে মুভি করার সময়। ৮ ভলিউমের একটা সিরিজ। ২-৩ ভলিউম থেকে হয়তোবা শুরু করতে পারতো। নাহ একেবারে পঞ্চম ভলিউম!!!! জীবনেও দেখি নাই, অর্ধেক ম্যাটেরিয়াল পুরো স্কিপ। তাতে যা ক্ষতি হইলো প্রথম দিলের চরিত্রগুলোর। চিয়া ছিলো প্রথম ভলিউমের নায়িকা, তার কোনো ডেভেলপমেন্ট নাই, কিছু উল্লেখ ও করে নাই। অথচ এই হাসিখুশি মেয়েটাই নিজের বয়ফ্রেন্ডকে বুকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাও ভরা রাস্তায়, সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড ক্যারেক্টারগুলোর একটা।

তারপর রিইউতো। সিরিজের অন্যতম মেইন চরিত্র, শেষ ৩ ভলিউমের ভিলেইন আর কোনো উল্লেখই নাই এ ব্যাপারে। তোহকোর বাবা মা র সুইসাইডের পিছনে যে ওর হাত আছে তাও কেউ জানলো না। ও আর মাকি সিরিজের সবচেয়ে অসাধারণ কাপল, ২ জনকে অন্তত একবার সামনাসামনি হইলেও দাঁড় করাইতো এনিমেতে। অনেক আশা ছিলো যে মাকি কে নিয়ে একটা পর্ব কি, কিসের কি। পুরা সিরিজে ৫ মিনিটের বেশি টাইম ই পায় নাই। মাকি যে দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছিলো শেষের দিকে, অন্তত একটি পর্ব তার পাওয়া উচিত ছিলো। টাইমলাইন তো এনিমে আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে, আর একটু করতো।

সবচেয়ে খারাপ দিক ছিলো মুভির এন্ডিংটা। প্রথমে মিউ এর প্রতি কোনোহার কনফেশন পুরো বাদ। কোনোহা নোভেল এ এটা লিখছিলো যদিও ফাইনাল সিলেকশনে এই অংশ বাদ পড়ে যায়। কিন্তু তোহকো পুরো পার্টটা প্লানেটারিয়মে পরে শোনায়। আর এনিমতে শুধু শেষ ২ টা লাইন মনে হয় দেখালো।

তারপর হলো মুভির এন্ডিং। মুভি ছিলো ভলিউম ৫ এর, এরপর শেষ ৩ মিনিট মানে এণ্ডিং টা আসলো ভলিউম ৮ এর থেকে, এইটা অবিশ্বাস্য। ৩ ভলিউম স্কিপ করে এন্ডিং দেখানো!!!! ওয়াও। আর এই সময় কোনোহার সাথে তোহকোর কোন রিলেশন কি, কেউ কাউকে পছন্দ করার বিন্দুমাত্র চিহ্ন ছিলো না, কোনোহার তখন কোতোবুকির সাথে প্রেম করতেছিলো। পুরাতন ভালবাসাকে অনুভূতির কথা জানিয়ে বর্তমান প্রেমিকাকে ফেলে আরেকজন মেয়ের পিছনে দৌড়ানো। ওয়াও, ৩ ভলিউমের ডেভেলপমেন্ট ৫ মিনিটে বিসর্জন।

Bungaku Shoujo 5