Taro the Dragon Boy [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

Taro 1

ফ্রেঞ্চ এনিমেশন মুভি খুঁজতে গিয়ে এটাকে পেয়ে গেলাম হঠাত করে। এটা যে জাপানিজ তাও বুঝি নি প্রথমে।
১৯৭৯ সালে নির্মিত মুভি “Taro the Dragon Boy” প্রথম থেকেই কিছুটা জিবিলি, বেয়ারফুট জেন বা প্রথমদিকের দেখা এনিমে গুলোর ভাইব দিচ্ছিলো। গ্রামের পরিবেশ, বা হেলতে দুলতে গান গাওয়া দেখে কেনো জানি “The Tale of the Princess Kaguya” এর কথাও মনে পড়লো। মুভিটি জাপানের এক বিখ্যাত লোকগাঁথা এর অবলম্বনে করা।
গল্পের মূল চরিত্র ছোট ছেলে তারো হলো সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমোনোর দলের লোক। বুড়ো নানী আর সে মিলেই তাদের ছোট্ট সংসার। জীবনে তার নেই কোনো লক্ষ্য নেই কোনো কাজ। সারাদিন হয় পড়ে পড়ে ঘুমোয় সে নয়তো উঠে নানান খাবার নিয়ে সে নিজে খায় এবং বনের পশুপাখিদের খাওয়ায়। তার সব বন্ধু হলো বনের পশুপাখি, তাদের সাথে খেলে বেড়ায়, সুমো রেসলিং করে। এর মাঝে সে একদিন এক বর পায়, যার কারণে সে একাই ১০০ জন মানুষের শক্তি অর্জন করে কিন্তু তা শুধু সে ব্যয় করতে পারবে মানুষের কল্যানেই নিজের জন্য নয়। পরিচয় হয় চমৎকার এক মেয়ের সাথে, খুব সুন্দর বাঁশী বাজায় সে, পাহাড়ের বনের সব পশুপাখি সে সুরে মোহিত হয়ে ছুটে আসে তার সাথে।

Taro 2
এভাবে ভালোই চলছিলো সবকিছু কিন্তু একরাতে সে এক তীব্র সত্যের সম্মুখীন হয়। জানতে পারে যে তার মা হয়তো বেঁচে আছে কোথাও, এই ই সব নয়। সে জানতে পারে তার মা কোনো এক অজ্ঞান কারণে ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তার জন্মের সময়ই। কিন্তু সে থাকতে পারে নি এখানে চলে গেছে বহুদূরে শুধু বৃদ্ধ মা কে বলে গেছে তার ছেলেকে দেখে রাখতে এবং সে চিরজীবন তারোর অপেক্ষা করবে। তারো এ শুনে আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারে না। কেনো তার মা ড্রাগন হলো, তার মাকে দেখার জন্য এবং ফিরিয়ে আনার জন্য সে ঘরছাড়া হয়।
তখনো সে বুঝে উঠতে পারে নি যে তার সামনে অপেক্ষা করছে এক দীর্ঘ এডভেঞ্চার। কিন্তু এই এডভেঞ্চার, একেকটা গ্রাম দেখা, নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার মাধ্যমে তারো যেনো আরো বড় হয়ে উঠে, বুঝতে পারে তার জীবনের লক্ষ্য কি। আরো বুঝতে পারে যদি মনে আশা থাকে এবং তীব্র ইচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো বাঁধা পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। তারো আসলেই তার মা কে খুঁজে পায় কিনা বা কেনো তার মা ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তা জানতে হলে দেখে ফেলুন মুভিটি।
মুভিটি হয়তো অনেকে বাচ্চাকাচ্চাদের জিনিস বলতে পারে কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। আমার ধারণা যারা জিবিলী মুভি পছন্দ করে তাদের এটা ভালো লাগবে।

Taro 3

Dojoji Temple [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Dojiji 1

Dojoji Temple নামের ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া ১৯ মিনিটের মুভিটি দেখলাম। যদিও এটাকে পুরোপুরি এনিমে বলা যাবেনা। ট্রেডিশনাল আর্টের সাথে পাপেট শো এর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ নিয়ে Kihachiro Kawamoto’র তৈরি এ শিল্পকর্ম দেখে মন জুড়িয়ে যায়। জাপানিজ লোকগাথা উঠে এসেছে এই মুভিতে। এই লোকগাথা নিয়ে অনেক কাবুকিও মঞ্চস্থ করা হয়।

গ্রামের মোড়ল শোজি এবং তার মেয়ে কিয়োহিমের বসবাস হিদাকা নদীর তীড়ে। খুবই অবস্থাপন্ন জীবন তাদের। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আশ্রয় এবং আপ্যায়নে কোন কমতি রাখতেন না শোজি। একদিন তরুণ ধর্মযাজক আনচিন উপস্থিত হয় শোজির বাড়িতে। কিয়োহিমে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যায় সেই তরুণটির উপর। রাত গভীর হলে কিয়োহিমে ঘুমন্ত আনচিনের কাছে আসে। আনচিন জেগে যায়। কিয়োহিমে তার ভালোবাসার কথা জানায় এবং আনচিনকে না যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু আনচিনের মনে রাজ্যের সংশয়। প্রথমে অপারগতা জানালেও পরে সে কিয়োহিমের হাত ধরে কাছে টেনে নেয়।
কিন্তু পরদিন আনচিন না বলে চলে যায় শ্রাইনের উদ্দেশ্যে। কিয়োহিমে তা দেখে ফেলে। সে রেগে তার কাছে যায়। তখন কিয়োহিমের অন্য রূপ দেখা যায়। ভেতরের ক্রোধ ফুটে ওঠে তার চেহারায়। আনচিন দ্রুত নৌকোয় করে নদী পার হয় এবং মাঝিকে বলে দেয় কিয়োহিমেকে যাতে সে না উঠায়। তো কিয়োহিমে নদীর পাড়ে আসল এবং মাঝিকে অনুরোধ করল পার করে দেয়ার জন্য। কিন্তু মাঝি সাড়া দেয়না। কিয়োহিমে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তখন কিয়োহিমের আরেক বিধ্বংসী রূপ দেখতে পাব। সে ক্রোধে এতটাই বশভর্তী হয়ে পড়ে যে সে একটি বিশাল ড্রাগনে পরিণত হয়।
ওদিকে আবার আনচিন ডোজোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানের পন্ডিতদের সব কথা খুলে বলে এবং সাহায্য চায়। তারা একটি বিশাল ঘন্টার ভেতর আনচিনকে লুকিয়ে থাকতে বলে। যাইহোক কিয়োহিমে আসে। আনচিনকে খুঁজে। কোথাও পায়না। পরে ঘন্টার কাছে আনচিনের ঘ্রাণ পায়। তখন সে পুরো ঘন্টাটিকে পেঁচিয়ে ফেলে। মুখ থেকে আগুন বের করে জ্বালিয়ে দেয়। একসময় দেখি তার চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। হয়ত কেউ যখন ক্রোধ সংবরণ করতে পারেনা তার কান্না রক্ত হয়েই ঝরে। যাই হোক সে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর পন্ডিতরা এসে ঘন্টা উঠায়। একটি কঙ্কাল ছাড়া কিছু দেখতে পায়না। ওদিকে কিয়োহিমেও দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে নদীতে ডুব দেয়। আর ওঠে না সে। এমন করুণ পরিণতির মধ্য দিয়েই শেষ হয় ছবিটি।

Dojiji 2

কোনকিছু পাবার ইচ্ছায় মানুষ এমন কিছু ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় যা তাকে এবং তার আশেপাশের সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবং না পাওয়ার ক্রোধ তার মনুষ্যত্বকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। যা এই মুভি আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে। তারপরও যখন কিয়োহিমের মনের করুণ অবস্থা ফুটে ওঠে তার জন্য আসলেই কষ্ট হয়।

সম্পুর্ণ ডায়ালগ বিহীন এ মুভি খুব কম মানুষেরই ভাল লাগবে। কিন্তু যারা একটু নতুন কিছু চান তারা সময় নিয়ে দেখে ফেলতে পারেন। আগেই বলে রাখলাম ইট ইজ নট এভ্রিওয়ানস কাপ অফ টি।

Dojiji 3 Dojiji 4

The Cat Returns [মুভি রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

The Cat Returns 1

ছোটবেলায় সুকুমার রায়ের একটা অসাধারণ চীনা লোকগাথার অনুবাদ পড়সিলাম । গল্পটার নাম লোলির পাহারা । গল্পটার কেন্দ্রীয় চরিত্র হল লোলি নামক এক কুড়ের হদ্দ ছেলে ।তো লোলির বাবা তাদের একমাত্র শুয়োরটাকে বিক্রি করবে এবং সেইটা পাহাড়ার দায়িত্ব দিয়ে যায় লোলিকে । তো লোলি ওই পাহারার ধার না ধেরে সোজা দিল ঘুম । ঘুম থেকে উঠে দেখে শুয়োর হাওয়া । তো শুয়োর খুজতে গিয়ে দুর্ভাগ্যক্রমে নিজেই শুয়োর হয়ে যায় । তো কল্পনা করুন আপনি যদি একদিন হঠাত্‍ করে বিলাই হয়ে যান !!?

The Cat Returns 6
তো দ্যা ক্যাট রিটার্নস এর কাহিনী হল হারুকে নিয়ে । হারু স্কুলপড়ুয়া এক মেয়ে ।সে কিছুটা আলসে , অনেকখানি ছটফটে এক মেয়ে । তো একদিন স্কুল থেকে ঝাড়ি বকা খেয়ে বাসায় ফেরার পথে দেখে একটা অদ্ভুত দেখতে বিলাই প্রায় ট্রাকচাপা পড়তে যাচ্ছে । তো হারু অসম্ভব ক্ষিপ্রতার সাথে বিড়ালটাকে বাচায় । তো বিড়ালটাকে বাঁচানোর পর যখন হারু ধাতস্থ হতে থাকে তখন দেখে বিড়ালটা দুই পায়ের উপর দাড়িয়ে গা ঝাড়ছে । এরপর চমক আরও বাকি । বিড়ালটা মানুষের ভাষায় হারুকে কৃতঙ্গতা প্রকাশ করে । হারুর তো মাথা খারাপ হবার যোগাড় । কেউ বিশ্বাস করে না হারুকে । তো হারুর দেখে যে সে বিলাইয়ের সাথে কথা বলতে পারে । তো একদিন রাতে বাদনা-বাজ্য বাজিয়ে হারুর বাসার সামনে উপস্থিত হয় একদল বিড়াল ।হেই বিড়ালদের মধ্যে থাকে একটা বিশাল ধুমসো বুড়ো হুলো । সে হল বিলাইদের রাজা ।সে হারুকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছে কারণ হারু যে বিড়ালকে বাচিয়েছে সে হল স্বয়ং বিড়াল রাজ্যের রাজপুত্র । এবং চমকের আরও কথা হচ্ছে তারা হারুকে চায় রাজপুত্রের কনে হিসেবে নিতে ! তো এখন কি করবে হারু !? নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে যায় হারু । পরিচিত হয় মুটকো বিড়াল নাম মুটো এবং হৃদয়ের স্বরের সেই ব্যারন বিড়াল । উপস্থিত হয় বিড়ালের রাজ্যে এবং ঘটতে থাকে নানা মজার ঘটনা ।

The Cat Returns 2
মুভি স্টুডিও গিবলির । এর আর্টওয়ার্ক মানে ক্যারেকটার ডিজাইন নরমাল জিবলীর আর্ট থেকে বেশ আলাদা , যা সুন্দরই লেগেছে । এর আছে খুব সুন্দর এবং মজার সাউন্ডট্র্যাক এবং এর কাহিনীও সেরকমই । এর ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট জিবলীর মতই অর্থাত্‍ অসাধারণ । এই মুভি হল মনে শান্তিদায়ক মুভি । মনের স্ট্রেস নামক জিনিস ধুয়মুছে নিয়ে যায় ।কাহিনী ,ক্যারেকটার সবই সুন্দর । ব্যারন বিলাইয়ের উপস্থিতি ( হ্যা Whisper of the hearts এর সেই ব্যারন বিড়াল ) ! যারা বিলাই প্রেমিক তাদের জন্য এই মুভি দেখা সুন্নত 🙂 ! যারা দেখেননি তারা তাড়াতাড়ি দেখে ফেলুন । তবে একটা কথা । এটাকে গিবলির মাস্টারপিস ভেবে দেখতে বসলে হতাশ হতে পারেন । তাই আশার পারদ বেশি না রেখে শুধু উপভোগ করুন । বিলুই প্রেমিকদের জন্য এটা স্পেশাল ট্রিট ।

The Cat Returns 3

ডাউনলোড করুন: https://torcache.net/torrent/CC6F9B40B0FC173EC3774F4C68EC7E68C6D8B6C4.torrent?title=%5Bkat.cr%5Dthe.cat.returns.2002.dual.audio.1080p.hevc.x265

অনলাইনে দেখুন: https://kissanime.to/Anime/The-Cat-Returns-Dub
আমার রেটিং: ৮/১০

The Cat Returns 4

The Cat Returns 5

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chika Gentou

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki – ১৯৯২ সালে নির্মিত ৫০ মিনিটের ট্রেডিশনাল জাপানিজ হরর মুভি। এই ‘disgustingly beautiful piece of art’ তৈরির নেপথ্যে মূলত একজন- Hiroshi Harada। দীর্ঘ ৫ বছরের এই প্রজেক্টের কাজে তিনি তার সারাজীবনের কামাই ঢেলে দিয়েছেন। তার এই অসামান্য ডেডিকেশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রিভিউ লেখা।

আমরা কম-বেশি সবাই নিষ্ঠুর। অন্যজনের কাছে এই নিষ্ঠুরতা কতখানি প্রকাশ করব তার উপর ভিত্তি করেই আমরা মানুষ বিচার করি। কিন্তু এমনকিছু ঘটনা থাকে যার কাছে সব ধরণের নিষ্ঠুরতা হার মানে। Shoujo tsubaki এমন একটি মুভি যার মাঝে নিষ্ঠুরতার বিভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাব।

মিদোরির মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু দিয়ে কাহিনীর শুরু হয়। তার বাবা আগেই মারা গেছে। একদিন এক ভদ্রলোক মিদোরির দুর্দশা দেখে তার খরচাপাতি বহন করার প্রস্তাব দেয়। স্কুলে যেতে পারবে- এই মিথ্যা আশায় মিদোরির নিষ্পাপ মন আনন্দে নেচে উঠে। কিন্তু হায়! তার ভাগ্যে কি এ-ই অপেক্ষা করছিল?? তার ঠাঁই হয়েছে এক ‘ফ্রিক শো’ তে, যেখানে মানুষরূপী কিছু পশুর অত্যাচার ও লাঞ্চনা ছিল প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু তার তো আর কোথাও যাওয়ার নেই। বের হলেই সে ট্রেনের দিকে হাত নাড়ত। মনে শুধু একটাই আশা ছিল কোন এক রাজপুত্র তাকে উদ্ধার করবে এই নরক থেকে। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে চরমভাবে বিপর্যস্ত হবার পর যখন মিদোরি আশা ছেড়ে দেবার কথা চিন্তা করে তখনই আবির্ভাব হয় ‘আরাশি’ নামের এক জাদুকরের। যে কিনা মিদোরির ত্রাণকর্তা।
জাদুকর আরাশি ও মিদোরির মাঝে এক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মত এমন রোমান্টিক জুটি এই জগতে মেলা ভার। তাদের একসাথে থাকার স্বপ্ন মনকে নাড়া দেয়।

কিন্তু এই নির্ভেজাল ভালবাসার মধ্যে যখন ঈর্ষা কাজ করে তখন সবকিছু একটু কঠিন হয়ে যায়। বামন জাদুকর আরাশি যখন দেখে তাদের দলের একজন মিদোরিকে পছন্দ করে, তখন তাকে অদ্ভুতভাবে মেরে ফেলে। একদিন কোন এক কারণে আরাশির মেজাজ খারাপ থাকে। তখন সে তার দর্শকদের উপর চড়াও হয়। যার ফল হয় মারাত্মক। কত ব্রুটালি মানুষকে মারা যায় তা দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মিদোরিও ক্রমশ আরাশিকে ভয় পাওয়া শুরু করে। মিদোরি কি পারবে এই নরক থেকে ফিরে আসতে? সে কি তার স্বপ্নের পথে আগাবে? নাকি জাদুকরের ধূম্রজালে আটকা পড়বে?

কোন একটি সৃষ্টির সার্থকতা তখনই যখন তা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। যখন আপনার সাথে কেউ নিষ্ঠুর আচরণ করবে তখন চুপচাপ বসে না থেকে ট্যাক্টফুলি কীভাবে তার মোকাবেলা করা যায় তা আপনাকেই ভাবতে হবে। যদি এমন কোন অবস্থায় পড়েন যেখানে চারপাশে আপনার শত্রু তখন চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নাইলে মিদোরির মতই আপনার কোন প্রিয় মানুষকে রেঁধে খাওয়ালেও আপনি হয়ত জানবেন না। এছাড়া মানুষকে সবসময় তার এ্যাপিয়ারেন্স দিয়ে বিচার করতে নেই এই সত্যিটাও আমরা শিখতে পারি এ মুভি থেকে। ট্রান্সভেস্টাইটদের অধিকার সম্পর্কেও ভাবায় এই মুভি। আর সবচেতে বড় শিক্ষা হল জীবনযুদ্ধে কখনই হার মানা যাবেনা। মিদোরি এত নিপীড়ন সহ্য করার পরও যখন সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখন মনে হয় এই পৃথাবীতে কিছুই অসম্ভব না।

সাস্পেন্স, থ্রিলার, হরর, রোমান্স এ সবকিছুর মিশেল এই মুভি। আপনার হার্ট যদি ভুল জায়গায় হয় এবং আপনি যদি স্যাডিস্ট হন, তাহলে এটা আপনার জন্য পারফেক্ট মুভি। আর এম্নিই যদি দেখতে ইচ্ছা করে তবে caution নিতে ভুলবেন না।

Dareka no Manazashi [রিভিউ] — Shahoriar Rafi Amil

Dareka no Manazashi 1

Dareka no Manazashi

Genre : Drama, Slice Of Life
Duration : 6min
MAL Rating : 7.6
Directed By Makoto Shinkai

পরিবারে জন্ম হলেও অন্যান্য জিনিসের জাঁকজমকে আমরা সেটার মর্ম ভুলে যাই। শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবতে থাকি। আর পরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক না চাওয়া দূরত্ব। তখন কি আর এই জাঁকজমক ভালো লাগে?

এমনই স্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে “আয়া অকুমার” জীবনে যে পড়ালেখা শেষ করে নতুন চাকরি তে ঢুকেছে। চাকরির খাতিরে সে আলাদা বাসায় থাকে। তার মা ও চাকরির সুবাদে দূরে থাকে। আর তাদের বাসায় শুধু থেকে যায় আয়ার বাবা আর তার ছোট বেলার খেলার সাথী “মি” নামের বিড়াল যে কিনা এখন শেষ বয়সে। এক ঝামেলাপূর্ন দিন শেষে আয়া তার বাসায় এসে বিছানায় কেবল গা এলিয়েছে আর তার বাবা ফোন আসলো!! কেমন আছে না আছে আলাপে মেয়ে বাবা দুই জনেই নিজেদের মিথ্যা সুখের কথা বলে। কিন্তু তার পর এমন কিছু ঘটে যা তাদের আবার এক হতে বাধ্য করে!!

Dareka no Manazashi 4

আর্ট দেখে সহজেই মাকোতো শিনকাই এর কাজ বোঝা যায়, এই মাত্র ৬ মিনিটে অনেক তাড়াতাড়ি একটা গল্প বলা হয়েছে যার সাথে আপনি তখনই মিশে যাবেন এবং সব শেষে এটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। বুঝতে পারবেন পরিবারের কাছে ফিরে যেতে কারন লাগে না চাইলেই যাওয়া যায়। কেননা পরিবার পরিবারই!!

লিংক: https://kissanime.to/Anime/Dareka-no-Manazashi/Episode?id=51158

Dareka no Manazashi 2

Chirin no Suzu (Ringing Bell) [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chirin no Suzu

Chirin no Suzu (Ringing Bell)- ১৯৭৪ সালে স্টুডিও Sanrio থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি কন্ট্রোভার্শাল মুভি। এই মুভি ছোটদের জন্য টার্গেট করা হলেও এর কন্টেন্ট অনেক পাওয়ারফুল যার কারণে অনেক দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কড়া বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এই মুভিতে যা হয়ত ছোট বাচ্চাদের মনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

এর প্রধান চরিত্র হল চিরিন নামের ছোট্ট ও দুষ্টু এক ভেড়ার ছানা, ঘুরে-বেড়ানো ছিল যার অন্যতম শখ। সে তার চঞ্চলতায় আশেপাশের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এ কারণে তার মা’র তাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। একদিন কিছু সময়ের জন্য চিরিনকে খুঁজে না পাওয়ায় তার মা’র উৎকন্ঠা আমাদেরকে মা ও সন্তানের মধ্যে যে নাড়ির টান ও পবিত্র আত্মার বাঁধন রয়েছে তা নতুনভাবে জানিয়ে দেয়। ভেড়াগুলির চারণক্ষেত্র একটি বেড়ায় বেষ্টিত। বেড়ার অপরদিকে দূরের এক পাহাড়ের দিকে ইংগিত করে মা চিরিনকে একদিন বলেন ওখানে এক ভয়ংকর নেকড়ে বাস করে। ভুলেও এই বেড়ার বাইরে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করায় চিরিনকে। চিরিনও তার মা’র কথা অবজ্ঞা করেনা। এক গভীর রাতে ঐ দূর পাহাড়ের নেকড়েরাজা ‘Woe’ ভেড়ার খামারে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে চিরিনকে রক্ষা করার জন্য তার মা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আগলে ধরে রাখে। এরই মধ্যে মা-ভেড়া জখম হয় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চিরিন যখন বুঝতে পারে তার মা আর এ পৃথাবীতে নেই তখন তার হৃদয়বিদারক কান্না সত্যিই বুকে বিঁধে। এরপর চিরিনের মধ্যে পরিবর্তন আসে। সে তার মনে ঠিক করে ফেলে সে শক্তিশালী হবে। নিজের জীবন এমন সহজে বিলিয়ে দেবেনা আর। তার জন্য সে ঐ নেকড়ের কাছে যায়। নেকড়েকে শিক্ষা দিতে বলে, তাকে শিক্ষানবিশ বানানোর অনুরোধ করে। প্রথমে নেকড়ে ‘Woe’ তাকে একটুও পরোয়া না করলেও যখন সে চিরিনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সাহসী মনোভাব দেখে, তখন রাজি হয়ে যায়। তাদের মধ্যে একটি প্যাক্ট হয়। চিরিন একদিন নেকড়ের চেয়েও শক্তিশালী হবে এবং তখন সে তার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবে। নেকড়ে Woe চিরিনকে নিয়মিত ট্রেইনিং দিতে থাকে। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য ভয়ংকর সব সত্যের মুখোমুখি হয় চিরিন। এই সত্যি উপলদ্ধি করে চিরিনের মানসিকতার পরিবর্তন এবং তার জন্য অনুশোচনা আমাদেরকে ভাবায় আমাদের জীবন কী তুচ্ছ।

‘Someone has to die so that someone else can live.’ এই চরম সত্যটি আমরা কখনই হয়ত মেনে নিতে পারব না। কিন্তু আমাদের সার্ভাইভালের জন্য এটা মেনে নিতে আমরা বাধ্য। আমাদের অস্তিত্ব প্রতিদিনই সংকটের মুখে। জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়। তাই আমরা কতটুকু স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তুত তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ যেখানে আফসোসের কোন অবকাশ থাকবেনা। থাকবেনা কোন পিছুটান।। প্রকৃতির এসব নিষ্ঠুর নিয়ম মেনে নিয়ে বেঁচে থাকার সার্থকতার কথাই জানান দেয় এই মুভি।

এই মুভির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কারণ এই মুভির মেসেজগুলি এত বেশি পাওয়ারফুল যা আপনাকে বারবার রিপিট করে দেখতে বাধ্য করবে। চারপাশের কিছু সুন্দর দৃশ্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। তার সাথে সুন্দর কিন্তু করুণ ওপেনিং সং এবং ভয়েস এ্যাকটরদের নৈপুণ্যতায় আপনি মিশে যাবেন এর কাহিনীতে। এটা অবশ্যই ‘Must Watch’ লিস্টে রাখার যোগ্যতা রাখে।

Children who chase Lost voices [মুভি রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Children who chase Lost voices

মুভিঃ Children who chase Lost voices
Director: Makoto Shinkai
IMBD rating: 7.3/10
Personal rating : 7.9/10
Production company: CoMix Wave

জীবনের একটা অংশ হল মৃত্যু। কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয় কেউ মারা গেলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও, যারা বেঁচে আছে তাদের নিয়ে জীবনে খুশি থাকা উচিত, এই বার্তাটাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা এই ছবিতে।

Director Makoto Shinkai, যিনি “Garden of Words”, ” Five centimeters per second” তৈরি করেছেন। ছবির শুরু আসুনা নামের এক middle স্কুলের মেয়েকে দিয়ে, যে তার মা’র সাথে থাকে, বাবা মারা গিয়েছে। মা হাসপাতালে কাজের জন্য বাসায় থাকেন না প্রায় সময় ই। আসুনা একা থাকে, একাই সব কাজ করে। তার বাসার পাশে পাহাড়ে নিজস্ব একটা জায়গা আছে, যেখানে সে তার অবসর সময় কাটায়। হঠাৎ একদিন আসুনা স্কুল থেকে আসার পথে মুখমুখি হয় এক প্রানির, যা আকারে বিশাল, উদ্ভট। সুন নামের এক অদ্ভুত ছেলে তাকে বাঁচায় এই প্রানির হাত থেকে। পরে আসুনা জানতে পারে , সুন এসেছে “Agartha” নামক এক জায়গা থেকে। ওইদিন ই সুন মারা যায়। সুন মারা যাওয়ার পর স্কুলের নতুন আসা শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই এর কাছ থেকে খবর মিলে “Agartha” নামক জায়গা আসলেই আছে, যা মাটির নিচে, মৃত মানুষকে ফিরে পাওয়া যায় ওখানে। এই শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই তাঁর স্ত্রিকে হারিয়েছেন ১০ বছর আগে। তিনি তাঁর স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনতে চান। এর মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে আসুনা, মরিসাকি সেন্সেই প্রবেশ করে “Agartha” তে। আসুনা ফিরিয়ে আনতে চায় সুন কে, আর মরিসাকি সেন্সেই তাঁর অকালে মৃত্যুবরণ করা স্ত্রী কে। শুরু হয় ২ জনের adventure.

নানা ঘটনা, আর উত্তেজনার মধ্যে চলে পুরো সময় কাহিনি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শোনার মত। দেখে ভালো লাগে। সময় থাকলে দেখে ফেলতে বলব এইটা।

Atama Yama [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Atama Yama

Atama Yama (Mount Head)- ৭৫তম এ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এ শর্ট ফিল্ম এনিমেশন ক্যাটাগরি তে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ মিনিটের মুভি। গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা এই মুভি। গ্রাম-গঞ্জে যেমন সুর করে পুঁথিপাঠ করা হয়, অনেকটা তেমনই করেই রাকুগো-টেলার তাকেহারু কুনিমোতো তার দরাজ কন্ঠে গল্পের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে পুরো মুভি জুড়ে শামিশেনের সুর অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। মুভিটায় আমরা মানবমনের গভীর ভয়,উৎকন্ঠা কিংবা আত্মগ্লানির এক মিশেল দেখতে পাই।
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই বড়দের বলতে শুনেছি ফলের বিচি খেলে নাকি মাথায় গাছ উঠবে। যার কারণে কোনসময় ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়ে সারারাত ঘুম হতো না। এই মুভির প্রধান চরিত্র এক মধ্যবয়সী কৃপণ লোক যিনি কিনা কাউকে ধার দেন না এবং কোন জিনিস যতই ফেলনা হোক না কেন তা ব্যবহার করতে চান। যার কারণে তার বাড়িভর্তি আবর্জনার স্তূপ। যাই হোক একদিন তিনি কিছু চেরীফল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সেগুলো ঝুড়ি করে বাসায় নিয়ে আসেন। তো একটি চেরী খাওয়ার পর তিনি চিন্তা করেন, বিচিটা শুধু শুধু নষ্ট হবার চেয়ে বরং খেয়েই ফেলি। তো কিছুক্ষণ পর দেখলেন তার মাথায় চেরীফলের গাছ উঠছে। তিনি একবার কাটেন। কিন্তু লাভ হয়না বরং গাছটি বেড়ে উঠতে থাকে। তো একসময় তিনি ব্যাপারটা মেনে নেন। গাছটি চেরীফুলে ভর্তি হয়ে যায় এবং এর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকটির মাথা হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। সব ভালই চলছিল। একদিন ভীড় বেড়ে যায়। লোকটির মন-মেজাজও খারাপ হতে থাকে। একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি গাছটিকে উপড়িয়ে ফেলেন। এরপরের কাহিনী নিজেকেই জানতে হবে। এটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।

এবার গূঢ় অর্থটি ব্যাখ্যা করি। লোকটির মাথা যখন প্রথম পিকনিক স্পটে পরিণত হয় তখন কিন্তু লোকটির লাভ ই হয়। কারণ দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ জায়গাটি দেখতে আসে। যার ফলে লোকটি ফায়দা নিতে পারে। একসময় দেখা যায় মানুষ ঐ জায়গাটি যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, ফলস্বরূপ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এবং একসময় লোকটি গাছটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। এখন চেরীব্লসমের জায়গায় নিজেদের মেধা ও মননের কথা একটু চিন্তা করি। আমাদের প্রত্যেকের মেধা আলাদা। এই মেধা যদি মানবজাতির কল্যাণে কাজে আসে তবেই সার্থক। অনেকসময় দেখা যায় এই কল্যাণের পথ পাড়ি দেবার সময় আমাদের অন্য কোন মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। অর্থাৎ আমাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন মাধ্যম মানব কল্যাণকর কাজে তৎপর হয়। একসময় এই মেধা তাদের স্বেচ্ছাসারীতার কাছে বলি হয়। অনেকটা আমাদের মেধাস্বত্ব কিনে নেবার মত। কিন্তু এর ফলাফল হয় মারাত্মক। যার কারণে আমরা এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই যা কখনই কাম্য নয়। একসময় নিজের মেধা নিজের কাছেই অচেনা মনে হয়। ফলে আমরা ক্রমাগত অন্ধকারে ডুবতে থাকি। মানবমনের এই অন্তর্কলহ ফুটে উঠেছে এই মুভিতে।
ওয়েল, আমি এই মুভির সব রিভিউ দেখেছি। কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে এর অন্যান্য রিভিউগুলোর কোন সাদৃৃশ্যই নেই। তাই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন আমি কি আসলেই এর তাৎপর্যটা ধরতে পেরেছি?

এই মুভি একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে। তাই আপনার জীবনে যদি সময়ের মূল্য না থাকে এবং গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট এই মুভি।

Jin-Roh: The Wolf Brigade [Movie Review] — Rafiul Alam

Jin-Roh 1

“That’s the nature of counterintelligence. The side which correctly anticipates the moves of the other and strikes first has the advantage.”

৯০ দশকের মুভি, মামোরু ওশি, প্রোডাকশন আইজি। রিংস এনি বেল?
-ঘোস্ট ইন দ্যা শেল?
-ঠিক। কিন্তু আজকে যে আনিমের কথা বলব, তা উপরের তিনটি শর্তই পূরণ করেছে, কিন্তু Gits এর মত দর্শকপ্রিয় হতে পারেনি একদমই।
জিন রো (উলফ ব্রিগেড) মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে। জাপানে তার পরের বছর।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ , সিম্বোলিজমের ব্যাবহার ও এবং ওশির নিজস্ব স্টাইলের দৃশ্যায়নের কারণে মুভিটি অনন্য শৈল্পিকতা লাভ করেছে, যার কারণে আর দশটি এনিমের সাথে সরাসরি তুলনায় যাওয়া কঠিন। এনিমেটির সিনেমাটোগ্রাফি, ক্যারেক্টার ডিজাইন এবং এবস্ট্রাক্ট শটগুলো খুবই রিয়েলিস্টিক ছিল। একই সাথে আমার কাছে “ফুড ফর থট” ধরনের কোন এনিমে সাজেশন চাওয়া হলে জিন রো এর নাম সবার আগে বলব, নির্দ্বিধায়।

Synopsis : সময়টা ৫০ এর দশক। অল্টারনেটিভ হিস্টেরিক টাইমলাইন, যেখানে জাপান জার্মানির কাছে পরাধীন । ঘটনার শুরুতে ছোট্ট করে একটা ন্যারেশন দেয়া হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপান ঘুরে দাড়ানোর জন্য কি করে এবং তার সামগ্রিক ফলাফল কি ধরনের হয় তার উপর। যাতে বলা হয় জাপানের দ্রুত, আগ্রাসী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাপক শ্রেণি বৈষম্য ও বেকারত্ব দেখা দেয়। ফলে সরকার বিরোধী দাঙ্গা দেখা দেয় নিয়মিতভাবে, এবং সময়ের সাথে সাথে বিপ্লবীরা আরও সংগঠিত হতে থাকে। চূড়ান্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গঠন করা হয় “Kerberos Panzer Cops” বা এলিট পুলিশ স্কোয়াড। তো একদিন দাঙ্গা ভয়াবহ রূপ নেয়। স্ক্রীণে একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখা যায়, যে কিনা বিপ্লবীদের স্পাই। মেয়েটির সহায়তায় পুলিশের উপর বোমা নিক্ষেপ করে দাঙ্গাবাজরা। যাতে পরিস্থিতি আরও এলোমেলো হয়ে যায়, কেরবেরস স্কোয়াড আন্ডারগ্রাউন্ডে হামলা চালাতে বাধ্য হয়। জার্মান অস্ত্র MG-13 মেশিনগান, নাইট ভিশন গগলস ও পুরু আর্মরের নিচে প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের সামনে বিপ্লবীদের অবস্থা হয় ফাদে পড়া ইঁদুরের মত। গোলাগুলির মাঝে সেই মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে, কিন্তু কেরবেরস বাহিনীর এক সদস্যের হাতে পড়ে যায়। এখন মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে আত্নঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করে সে। এরপর ন্যারাটিভ বিপরীত দিকে ঘুরে যায়। সেই কেরবেরস পুলিশ,যার কাছে মেয়েটি ধরা খেয়ে যায়, সে তার মুখোশ খুলে। হতবাক, বিভ্রান্ত। জানা যায় তার নাম কাজুকি ফুসে। উপরের থেকে তার উপর নির্দেশ ছিল মেয়েটিকে গুলি করার জন্য। তার বিবেকের কারণে সে পারেনি। কিন্তু দিনশেষে এটা একটি ভুল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পুরো স্কোয়াডকে তার খেসারত দিতে হত। ভাগ্য খুবই ভাল থাকায় শুধু সামান্য চোট পায় কাজুকি। কিন্তু মনের ভিতর ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। সে বোঝার চেস্টা করে, “কেন?”। এতসব সহিংসতা, এত দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, কিসের আশায়? যা জীবনের চেয়েও মুল্যবান?
আত্না শান্ত করতে সে মেয়েটির ধ্বংসাবশেষে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। সেখানে পরিচিত হয় মেয়েটির বড় বোন কেই আমেমিয়ার সাথে। তাদের মাঝে এক অন্যরকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এইখানেই সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং মেটাফরের আগমণ ঘটে। সিনেমার মূল স্টোরির সমান্তরালে Little Red Riding hood গল্পটির বর্ণনা করা হয়। সময়ের সাথে দর্শক বুঝতে পারবেন যে তা দিয়ে কি বোঝানো হচ্ছে।

Theme setup, Animation and Music : আনিমেতে সরাসরি একবারও বলা হয়নি যে জাপানকে জার্মানি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু আকারে ইংগিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। মুভিটিতে ৫০ দশকের জাপান, তখনকার চূড়ান্ত শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন ডিরেক্টর হিরুয়ুকি। তৎকালীন সমাজের বাস্তবতা ভিন্ন পরিস্থিতিতে কিরকম হতে পারে, তার উপাস্থাপনা এক কথায় ইনজিনিয়াস ছিল। ল্যান্ডস্কেপ ও এবস্ট্রাক্ট সিনগুলো ছিল ক্ষুরধার। যেন কোন গল্প বলতে চাচ্ছে। আরও অবাক লেগেছে জেনে, যে এত মুগ্ধকর সিনেমাটোগ্রাফির সিনেমার ফ্রেমগুলি নাকি হাতে আঁকা। এবার আসি মিউজিকে, দায়িত্বে ছিলেন সবার প্রিয় ইয়োকো কানো। সিনগুলোর সাথে মিউজিক খাপ খাওয়ানো হয়েছে, কোন জোরাজুরি নেই। কথোপকথনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন শব্দ ছিল না, বরং সাইলেন্ট পজ ছিল। ফলে দর্শককে আরও মনযোগী হতে হয়।

Characters Setup : নায়ক, নায়িকা আর দুই পক্ষের লোকজন। অনেক বেশি এলিমেন্ট নেই। কিন্তু এই কয়েকজন মানুষের সম্পর্ক চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলো বাস্তব। তারা টু ডাইমেনশনাল, স্টেরিওটিপিকাল, ক্লিশে কোন ফিলসফির কারণে গতিশীল না। সবারই এজেন্ডা আছে, ইচ্ছা আছে, নিজস্ব মোরালিটি আছে। তাদের মাঝে ভাল আর খারাপের দাগ টানতে পারবেন না। জিন রো আপনাকে এমন একটা জগতে নিয়ে যাবে, যেখানে দিনশেষে কোন এট্যাকার আর ভিক্টিম নেই। যেখানে মানুষের না পাওয়ার তিক্ততা আছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন না। কারণ আপনি ক্লান্ত।

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 7.87/10
IMDb:  7.6 /10

Jin-Roh 2

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart [Movie Review] — Okkhor Zaman

Anthem of the Heart

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart

জনরা: ড্রামা
MAL রেটিং: 8.34
আমার রেটিং: 8.50
সময়: ১ঘন্টা ৫৯ মিনিট

আমরা নিজেদের মুখের শব্দকে ইচ্ছামত ব্যাবহার করি। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বা বিভিন্ন জায়গায় আমরা একে অন্যের নানা ভাবে আলোচনা সমালোচনা করি।।

কিন্তু কখন ও কি ভেবে দেখেছেন এই সব ছোট ছোট কথা একজন মানুষের জীবনে কত্ত বড় প্রভাব ফেলতে পারে!?

এমন ই চিন্তাকে মাথায় রেখে মুভিটার গল্পের শুরু মুভিটার মূল চরিত্র Jun Naruse। চঞ্চল দুরন্ত এই ছোট্ট মেয়েটি তার মনের সব অনুভূতি গুলো সবাইকে জানাতে চায়। কিন্তু Jun এর জীবন এক কষ্টকর অধ্যায় শুরু হয় যখন সে তার বাবাকে স্থানীয় এক ‘লাভ হোটেল’ এ অন্য এক মহিলার সাথে দেখে তা না বুঝেই তার মাকে বলে দেয়। ফল স্বরূপ তার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। বাবা মায়ের ডিভোর্স এর জন্য সে নিজেকে দায়ী করে।
এরপর কাছের এক পাহাড়ে সে এক Egg Prince এর দেখা পায়। এবং সে Egg Prince এর কাছে মিনতি করে যাতে তার কথার দ্বারা আর কেউ কষ্ট না পায়। Egg Prince, Jun কে curse দিয়ে তার কথা বলার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। এর পর জুনের জীবনের বেশ কয়েক বছর কেটে যায়…..

সে এখন হাই স্কুলে পড়ে সেই Curse এর কারণে সে এখন ও কথা বলে নি, বলতে পারে না। তবে কাহিনী এক নতুন মোড় নেয় যখন তাদের টিচার Jun সহ আরো ৩ জনকে community outreach ইভেন্ট এর দ্বায়িত্ব দেয়। এখানেই Jun এর সাথে Takumi Sakagami এর বন্ধুত্ব হয় এবং সে আস্তে আস্তে Jun এর কথা বলার ক্ষমতা পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে…….
এভাবেই কাহিনী শেষের দিকে অগ্রসর হতে থাকে…..

মুভিটা আনোহানা অ্যানিমের টিম দ্বারা তৈরী। এটিতে কথা না বলতে পারা মানুষের কষ্ট চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটিতে বেশ কিছু মোটিভেশনাল পার্ট ও আছে। তবে এন্ডিং টা অনেকের কাছে একটু ঝাপসা লাগতে পারে। কিন্তু ওভার অল চমৎকার একটা মুভি…..

না দেখে থাকলে এক্ষুণি বসে যান।