Bakemono no Ko/ The boy and the Beast [Movie Review] — Urmi Nishat Nini

Bakemono no Koমুভি: Bakemono no Ko/ The boy and the Beast
My anime list rating: 8.5/10
My personal rating: 9/10
লেখক এবং ডিরেক্টর: Mamoru Hosoda

কাহিনি বেশ ভিন্ন ধরনের। গল্পের শুরু নয় বছরের এক ছেলে রেন কে দিয়ে।যার মা মারা গিয়েছে রোড এক্সিডেন্ট এ। অনেক আগেই বাবা আর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে।বাবার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। মা মারা যাওয়ার পর রেন তার গার্ডিয়ানদের সাথে থাকতে প্রত্যাখান করে। পালিয়ে চলে আসে একা, রাস্তায় কয়দিন ভবঘুরের মত ঘুরে। এমন সময় সে রাস্তায় ২ জন “Beast” এর দেখা পায়, যাদের মধ্যে একজন তার সাথে কথা বলে এবং হটাৎ করে তার সাথে যেতে বলে। অবাক রেন এর ঘোড় কাটতে না কাটতে ওই ২ জন অদৃশ্য হয়ে যায়।
এরপর পুলিশের হাত থেকে পালাতে পালাতে একসময় হঠাৎ রেন ওই beast কে আবার দেখতে পায়। কিছুটা দোটানা আর কৌতূহলের বশে সে পিছু নেয়। তারপর এসে ঢুঁকে এক অদ্ভুত এলাকায়, যেখানে সব বাসিন্দা হল ওই কথা বলা , বৃহৎ আকৃতির প্রাণী বা Beast। সেই Beast কে রেন খুজে পায়।তার নাম হল Kumatetsu.
Kumatetsu তার শিষ্য হিসেবে মানুষ্ কে, মানে রেনকে বেছে নেয়। Kumatetsu মাস্টার হতে চায় বটে, কিন্তু তার মাঝেও ছেলে মানুষি এখনও রয়ে গেছে। রেন প্রথমে থাকতে না চাইলেও পরে থেকে যায়।
শুরু হয় রেন আর কুমাতেতসু এর কাহিনি।এটা অন্য কাহিনির মত নয়, যে master শিখাচ্ছে আর student শুধুই শিখছে। এখানে master আর student ২ জন ই একে অপর থেকে শিক্ষা নেয়। শুধু শিক্ষা নেওয়ার মাঝে গল্প সীমাবধ্য না। এর মধ্যে গল্প না না দিকে মোড় নিতে থাকে। পুরোটা সময় গল্প দর্শকদের ধরে রাখার মত। কাহিনি এর শেষে হতাশ হবেন না। 🙂
হাতে সময় থাকলে মুভিটা দেখে ফেলুন। এনিমেশন হল স্টুডিও chizu এর যারা “The Girl who Leapt Through The time”, “Wolf Children” এর মত মুভি বানিয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এনিমেশন বেশ দেখার মত। আমার আসলেই ভালো লেগেছে মুভিটা।মুভিতে মিউজিক ও সুন্দর।

Movie Time With Yami – টিং টং মুভি টাইম

12633583_591294291035081_5444090378713510034_o

টিং টং মুভি টাইম!!! (not really ;-;)

অনেকদিন কোন মুভি নিয়ে কথাবার্তা বলি না, আজকে তাই সুন্দর একটা শর্ট মুভি সাজেস্ট করি সবাইকে।

মুভির নাম- Aki no Kanade

আকি নামের মেয়েটি যখন এলিমেন্টারী স্কুলে পড়ত, তখন থেকেই তার স্বপ্ন যে সে তাইকো ড্রামার হবে। সেজন্য সে হাইস্কুলের পাঠ চুকে যাওয়ার পর তার গ্রাম ছেড়ে টোকিওতে চলে আসে এই স্বপ্নটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। কিন্তু বিধি বাম!! চাইলেই যে সবকিছু মনমত হবে তা তো নয়। টোকিওতে থাকার খরচ জোগাতে পার্ট টাইম চাকরী, সেই সাথে ড্রাম বাজানোর ট্রেনিং – এ দুটো ব্যালান্স করতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছিল আকিকে।

এর মাঝে আকিকে হঠাৎ তার হাইস্কুলের শিক্ষক ফোন করে একটি অনুরোধ নিয়ে। প্রিয় শিক্ষকের অনুরোধে তাই গ্রামে ফিরে আসে আকি, হাইস্কুলের ড্রামস ক্লাবের সদস্যদের ট্রেনিং এ সাহায্য করতে। এরপর ঘটে সুন্দর কিছু ঘটনা, এবং আকির মনে পড়ে যায় তার নিজের ছোটবেলার কথা।

আমি জানিনা আপনাদের কি মনে হচ্ছে, তবে উপরে যা বর্ণনা দিলাম, তাতে আমার মনে হয় এটির একটা পূর্ণ ২ ঘন্টার মুভি, এমনকি ১২ এপিসোড এর অ্যানিমে হওয়ার মত পটেনশিয়াল রয়েছে। ২৫ মিনিট অনেক অল্প সময়, কিন্তু অ্যানিমে মিরাই প্রজেক্ট ট্রেইনিদেরকে এইটুকুই সময় বরাদ্দ করে, আর এই অল্প সময়ের মাঝে মুভিটিতে যেভাবে কাহিনীটা দেখানো হয়েছে, আমি চমকে গেছি যে এত সুন্দর করে এত অল্প সময়ে কিভাবে এতকিছু দেখাল। আমার আকির ছোটবেলার ঘটনাগুলো আরও ডিটেইল জানতে ইচ্ছে করছিল, টোকিওতে ওর স্ট্রাগলগুলো, আনাড়ি থেকে প্রফেশনাল ড্রামার হয়ে যাওয়ার গল্প, গ্রামে তার ড্রামের সাথে জড়িত স্মৃতিগুলো, এরপর নিজেকে আবার ফিরে পাওয়ার গল্প- এ সবই আরেকটু ডিটেইলে দেখতে পেলে হয়ত ভাল লাগত। ড্রামের বাদ্যগুলো আমার এক্সেপশনালি ভাল লেগেছে, সারাদিন ধরে শুনতেও আপত্তি নেই। আশা করে লাভ নেই জানি, তাও ক্ষীণ একটা ইচ্ছা কাজ করছে মনে, যদি ডেথ প্যারেডের মত এই মুভিটাও একটা ফুল লেংথ অ্যানিমে পেত, ভাল লাগত।

আর হ্যা, ভাল কথা, মুভির শুরুতেই ওরেকি হৌতারোকে হঠাৎ দেখে চমকে গিয়েছিলাম!! ও দেখি এখন এনার্জি কনসার্ভিং ছেড়ে ড্রাম বাজানো শুরু করেছে!!

জীরোর স্বপ্ন অথবা রাগী বাতাসের কাহিনী — Anirban Mukherjee

ফুজিওকা শহর থেকে একটু দূরে ,যখন ভোরের সাদা কুয়াশাগুলো সবুজ শস্যক্ষেতের উপর গাঢ় হয়ে ভাসতে ,কাছেই একটা বাড়িতে,এক কিশোরের স্বপ্ন আর বাস্তবের সীমারেখা ধংস হয়ে যায় ।গাঢ় সাদা কুয়াশার সমুদ্রের মধ্যে বনেদি জাপানি বাড়িটা একটা বিচ্ছিন্ন ভাসমান দ্বীপের মতো লাগে ,যার বিশাল ত্রিকোনাকার ছাদের একপ্রান্তে ছেলেটাকে চড়তে দেখি ,চোখে একটা এভিয়েসন গ্লাস।সে ছাদের একপ্রান্তে একটা কাঠের এরোপ্লেনে চড়ে বসে ।প্লেনটা বেমানান, ছোট ইঞ্জিন,ডানাদুটো বাঁকানো ,শেষ প্রান্তে আবার পাখির পালকের মতো কারুকার্য করা ।ছেলেটা ইঞ্জিনটা চালু করে,প্লেনের প্রোপেলার ঘোরে ।দূরে সূর্যের প্রথম লাল আলো পড়া হলুদ -সবুজ পাহাড়গুলো ঘুরন্ত প্রপেলারের মধ্যে দেখলে মনে হবে একটা গলন্ত সুন্দর লাল – হলুদ কিছু পদার্থ ।প্লেনটা পাখির মতো ডানা ছাড়ে, আর ছেলেটা প্লেনের সঙ্গে ওড়ে ।সূর্যের প্রথম লাল -হলুদ আলো ,আর নীচের সবুজ উপত্যকা ,শস্যক্ষেত ।প্লেনটা যত এগোয় ,সেই শস্যক্ষেত থেকে অন্ধকার দ্রুত পেছনে সড়ে যেতে থাকে ।যেন প্লেনটা একটা বাজপাখি আর অন্ধার কোন ভীতু ইঁদুর ।নীচের ছোট-বড় নদী,সবুজ নদীদ্বীপ ছাড়িয়ে প্লেনটা এসে পৌছয় ফুজিওকা শহরের মধ্যে ,যেখানে কাঠের সাঁকো, রেল লাইন,মেয়েদের বোডিং হাউস পেরিয়ে দেখতে পায় কালো সারসের মতো অসংখ্য ছোট বেলুন শহরে ঢুকছে ,যার মধ্যে অদ্ভুতদর্শন কালো কাপড় পড়া মানুষ দাঁড়িয়ে ,বেলুনগুলো আবার একটা বিশাল কালো বেলুন থেকে ঝুলছে ।ছেলেটা সেগুলোকে বিপদ মনে করে লড়তে যায় ,পারেনা ,ছোট প্লেনটা ভেঙে যায়,তার এভিয়েসন গ্লাস ভেঙে পড়ে যায়,সেও পড়তে থাকে এবং একসময় তার স্বপ্ন ভেঙে যায় ।ছেলেটা জীরো হোরিকোশি ,আর দৃশ্যটা হায়াও মিয়াজাকির শেষ মাস্টারপিস উইন্ড রাইজেসের প্রথম স্বপ্নদৃশ্য ।তার সিনেমাগুলোকে প্রায়ই সিনেমার ম্যাজিক রিয়ালিজম জঁরের অন্যতম সেরা সাক্ষর মনে করা হয়,উইন্ড রাইজেসও এর বাইরে নয় ,এই সিনেমাতে বারবার স্বপ্ন আর বাস্তবের সীমানাটাকে মুছে ফেলা হয়েছে ।যেমন এর পরের স্বপ্নদৃশ্য,কায়ো,জীরোর ছোট বোন যখন জীরোর সঙ্গে বাড়ির ছাদে গাঢ় নীল রাত্রিআকাশে উল্কাবৃষ্টি দেখছিলো ,তখন জীরোর চোখ চলে যায় ইতালির রঙিন আকাশে ,একগাদা কাপ্রোনি কা 31 প্লেন ,যার পাখার রঙ ইতালির পতাকার মতো লাল-সাদা-সবুজে রাঙানো ,হয়ত কোনও যুদ্ধে যাচ্ছিল , আমরা পরে জানতে পারি এর ডিজাইনার জিয়োভাননি কাপ্রোনির মুখে ,ঐ প্লেনগুলো কেউ ফিরে আসবে না।পরের দৃশ্যে দেখব একটা শহরের ছবি ,যার গোটাটা প্লেনগুলোর বোমের লাল আগুনের শিখাতে গিলে ফেলেছে,প্লেনগুলোও বাঁচতে পারছে না ।এখানেই জীরো অনুপ্রেরনা পায় কাপ্রোনির কাছে ,পাইলট নয়,প্লেনের ডিজাইনার হওয়ায় উচিত তার লক্ষ ।আর অবশ্যই , “প্লেন কোনো যুদ্ধের যন্ত্র নয়,সেগুলো কোন টাকা কামাবার জিনিস নয়।এয়ারপ্লেন হচ্ছে সুন্দর স্বপ্ন,যার ইঞ্জিনগুলো স্বপ্নকে বাস্তবে পরিনত করে”।
পাঁচ বছর পর,জীরো নিজের স্বপ্নগুলোকে সত্যি দেখার জন্য ট্রেনে করে যাচ্ছে টোকিওতে,এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শিখতে টোকিও ইউনিভার্সিটিতে ।ট্রেনে দেখা হয় নায়োকোর সঙ্গে।দুজনেই ইটালিয়ান ভাষা জানে ।
Le vent se leve
Il faut tenter de vivere.
(The wind is rising ,we must try to live)

wind rises 1
এই আসার পথেই জীরো পরিচিত হয় প্রকৃতির ধংসের মুখের দিকে ,1923 সালের টোকিওর ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প, মিয়াজাকি তার সিনেমাতে ভূমিকম্পকে এক ভয়ঙ্কর সুন্দর মাত্রায় দেখিয়েছেন ।ভূমিকম্প যেন এক জীবন্ত সরীসৃপ, বিশাল বড় নিশ্বাস ফেলে স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসছে ,তারপর এক বিশাল শব্দ, মাটির উপর দিয়ে যেন এক বিশাল বড় ঢেউ খেলে গেল,টোকিওর বাড়িগুলো,রেলপথ আর ট্রেনটাও ও সেই ঢেউএর তালে নেচে উঠল ।দানবীয় শব্দের সঙ্গে মিয়াজাকি আমাদের পরিচয় করিেছেন ভূমিকম্প পরবর্তী বিশাল অগ্নিকান্ডের,টোকিওর রাস্তায় লক্ষ জনার ভীড়,বিশাল লাল-কালো মাশরুমের মতো আগুনের ধোঁয়া ঢেকে ফেলেছে টোকিওর আকাশ ।নায়োকোর আয়াকে বাঁচানোর পর জীরো দেখে তার বিশ্ববিদ্যালয় জ্বলে গেছে,তার বন্ধু কিরো হোনজো আরও কিছু বন্ধুদের নিয়ে কিছু বই আর গবেষনা পত্র বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে ।উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে আগুনে পোড়া কাগজ,কাঠের দরজা,পোড়া গাছের ছোট ডাল ।টোকিও শেষ ।প্রায়।
“কে জানে,সেখানে হয়ত কোনও আগুনের সমুদ্র ছিলো”
1927 সালে জীরো আর কিরো গ্রাজুয়েট হয় টোকিও ইউনিভার্সিটি থেকে ,তারপর তারা মিৎসুবিসি কোম্পানির হয়ে ফ্যালকন নামে একটা ফাইটারের ডিজাইনের উপর কাজ করতে থাকে ,যেটা পরে পরিত্যক্ত হয় ।এরমধ্যে তারা দুজনা জার্মানি যায়,সেই সঙ্গে উপলব্ধি করে যুদ্ধখাতে ব্যায় বারানোর জন্য কী দারিদ্র্যের মধ্যে যাচ্ছে জাপান ।জীরো সবসময় কাপ্রোনির কথা মনে রাখতো ,যে তাকে অনেক স্বপ্নদৃশ্য এ দেখা দিয়েছে,” এই পৃথিবীটা আরো ভালো হয়ে উঠতে পারে ,সুন্দর প্লেনের সাহায্যে”।
সিনেমার শেষ স্বপ্নদৃশ্য খুব সুন্দর, একগাদা মিৎসুবিসি এ ফাইভ সিক্সের ধংসাবশেষ পেরিয়ে জীরো এগিয়ে যাচ্ছে একটা নীল আকাশ আর সবুজ ঘাসের উঁচু প্রান্তে ,যেখানে কাপ্রোনি দাঁড়িয়ে আছে কথা বলার জন্য ।কথার ফাঁকে দেখতে পারি কিছু এ ফাইভ সিক্স উড়ে যাচ্ছে নীল আকাশে ,ফরিঙের মতো ,কিংবা অসংখ্য কাগজের প্লেনের মতো ।নীচে একটা ছাতা নিয়ে নায়োকো আসছে ।

উইন্ড রাইজেসের প্লেনগুলি:-

ক্যাপ্রোনি কা 1 বা ক্যাপ্রোনি কা 31:-
জীরোর দ্বিতীয় স্বপ্ন দৃশ্যে যে বাইপ্লেনগুলো আমরা দেখতে পায়,সেগুলো সম্ভবত ক্যাপ্রোনি কা 31 সিরিজের ।এগুলো আসলে বোমারু বিমান ,দিনের বেলায় শত্রু দেশে বোম ফেলার জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নাগাদ তৈরি হয় ।মোট 162 থেকে 166 টা তৈরি করা হয়েছিলো।এর প্রথম প্রটোটাইপের নাম ছিলো ক্যাপ্রোনি কা ওয়ান,যেটা প্রথম উড়ানেই ক্রাশ খেয়েছিলো ।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইতালির হারের পর কিছু এই সিরিজের বিমান যাত্রী পরিবহনে ব্যাবহার হতো ।মোট ছয় থেকে চারজন যাত্রী ধরতো এখানে ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এগুলো অস্ট্রিয়া -হাঙ্গেরি, লিবিয়া এবং ফ্রান্সে বোমাবর্ষণের কাজে ব্যাবহার করেছিলো ইতালি ।

ফ্যালকন প্রোটোটাইপ:-
সিনেমাতে দেখি জীরো হোরিকোশি আর কিরো হৌনজো ,দুজনেই একটা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বেসড প্লেন তৈরি করার চেষ্টা করে ,মিৎসুবিসির হয়ে,জাপানি নেভির জন্য ।সেই প্রজেক্টটার নাম ফ্যালকন, মাত্র দুটো তৈরি হয়েছিলো ।আর এটাই ছিলো জাপানের প্রথম ক্যারিয়ার বেসড এয়ার ক্রাফট তৈরির উদ্যোগ ।এই প্লেনটা নেভির দ্বারা প্রতাখ্যাত হয়,তার বদলে জাপানি নেভি বেছে নেয় নাকাজিমা এ ওয়ান এন ।যেটা 1935 অবধি জাপানিজ নেভির সঙ্গে ছিলো ।মোট একশ একান্নটা তৈরি করা হয় ।

মিৎসুবিসি এ ফাইভ এম :-
জীরো হোরিকোশির অন্যতম পিয়েটা,যে প্লেনকে দেখে সিনেমাতে তার বন্ধু কিরো বলেছিলো একটা “আঁভা গার্দ” ডিজাইন ।আমেরিকার মিত্রপক্ষ এর নাম দিয়েছিলো ক্লাউড ।
1934 সালে যখন জাপানের নেভি একটি এমন এক ডিজাইন চাইলো দুই কোম্পানি, মিৎসুবিসি আর নাকাজিমার কাছে যেটা 350 কিলোমিটার প্রতিঘন্টা গতিবেগ নিয়ে উড়তে পারবে,আর 6.5 মিনিটে পাঁচ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠতে পারবে ।আগের 1927 সালের প্রতিযোগিতায় নাকাজিমা জেতে ,মিৎসুবিসির ফ্যালকনকে হারিয়ে ।কিন্তু এবার জেতে মিৎসুবিসি ।
মোট দশটা ভারসন ছিলো,প্রথম প্রটোটাইপের ডানা অনেকটাই বাঁকানো ছিলো ।এ ফাইভ এম ফোর ভারসনের সবচেয়ে বেশি 440 কিলোমিটার প্রতিঘন্টা গতিবেগে যেতে পারতো আর 1200 কিমি এর রেনজ ছিলো ।

মিৎসুবিসি এ সিক্স এম জিরো :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ডগফাইটে যে আমেরিকার মিত্রপক্ষের শিরঁদাড়া কাঁপিয়ে দিয়েছিলো ,সেটা নেভির টাইপ জিরো ক্যারিয়ার ফাইটার ওরফে মিৎসুবিসি এ সিক্স এম জাপানিজ জিরো ।মোট দশ হাজারের উপর বানানো হয়েছিলো ।
জাপানিজ নেভি চাইছিল এমন এক ফাইটার, যেটা সাড়ে তিন মিনিটে তিন হাজার মিটার যেতে পারে এবং “600 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা” সবচেয়ে বেশি গতিবেগ হয় ।
প্রচণ্ড হালকা করা হয়েছিলো একে,যাতে শত্রুপক্ষের প্লেনকে ডগফাইটে নাস্তানাবুদ করতে পারতো সহজে ।অথবা দ্রুত দুটো ষাঠ কেজির বোম শত্রু পক্ষের ঘাঁটির উপর ফেলে চলে আসতে পারতো ।
কিন্তু এই অতিরিক্ত হালকা করার জন্য কিছু অনেক জিনিজ বাদ দিতে হয়েছিলো ।আর সেটাই হয় জিরোর দুর্বলতা ।
1942 এর 4 টা জুন,আমেরিকার ডাচ হারবারের উপর হামলা চালানোর সময় একটা জিরো তেলের অভাবে ল্যান্ডিং করে ,ডাচ হারবারের কুড়ি মাইল দূরে ।পিছলে গিয়ে ল্যান্ডিং টা ক্রাশ ল্যান্ডিং এ পরিনত হয়,পাইলট মাথার আঘাতে মারা যায় আর আমেরিকা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর তার অন্যতম ত্রাসের অপারেশনের সুযোগ পায় ।ভালোভাবে যাচাই করার পর দেখে ওজন কমানোর জন্য জিরোর পাইলট , ইঞ্জিন বা অন্য ক্রিটিক্যাল পয়েন্টের চারপাশে কোন বর্ম দেওয়া নেই,যেটা সেযুগের প্লেন এবং পাইলটের অন্যতম রক্ষাকবচ ।

মিৎসুবিসি জিথ্রিএম :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের অন্যতম সেরা বোমারু বিমান তথা পরিবহন বিমান ।এটা ডিজাইন করেছিলো জীরোর বন্ধু কিরো হৌনজো। হাজারের উপরে তৈরি করা হয় এই বোমারু বিমান ।সিক্স এম জিরোর মতো,এটাও ওজন কমানোর জন্য বেশি বর্ম (আর্মর ) দেওয়া হয়নি ।সাতজন লোক এবং আটশ কেজি বোম অথবা একটা এরিয়াল টর্পেডো নিয়ে পাড়ি দিতে পারতো চার হাজার চারশ কিলোমিটার দুরত্ব ।পার্ল হারবারের উপর আক্রমণের সময় এটার অবদান অনেক ।

ক্যাপ্রোনি কা ফোর :-
অনেকগুলো(মূলত তিনটে) মূল ডানা যুক্ত বাইপ্লেন সিনেমাতে দেখা যায়। এগুলো ক্যাপ্রোনি কা ফোর সিরিজের প্লেন, মূলত বোমারু অথবা যাত্রীবাহী এরোপ্লেন হিসাবে তৈরি করার কথা ভেবেছিলেন ডিজাইনার জিয়োভাননি ক্যাপ্রোনি ।এর যাত্রীবাহী মডেল ক্যাপ্রোনি কা 48 ,প্রথম উড়ানেই ক্রাশ করে,ইটালির ভেরনা নামক জায়গায়, চোদ্দ থেকে সতেরো জন মারা যায় ।এটা ইতালির প্রথম বিমান দুর্ঘটনা ,সিনেমাতে এই ঘটনার একটা রেফারেন্স সম্ভবত আছে ।

সব শেষে-
ক্যাপ্রোনি কা 309 জিবলি :-
সম্ভবত মিয়াজাকির সবচেয়ে প্রিয় প্লেন, যার নামানুসারে নিজের (অথবা নিজেদের) কোম্পানির নামকরণ করেন ।

wind rises 2

পোরকোর প্লেনের দুনিয়া — Anirban Mukherjee

মিয়াজাকির মতো আমারও প্লেন সম্পকে আগ্রহ অনেক দিনের ।যখন ইন্টারনেট হাতে পায় তখন এরোপ্লেন সম্পকে আমার আগ্রহকে খোরাক দি ,নাহলে তার আগে কিছু বাংলা-ইংরেজি বিশ্বকোষ ছিলো ভরসা ।ইন্টারনেট আসার পর মিয়াজাকির সিনেমা জগত সম্পকেও পরিচিত হয়,দেখি পোরকো রোসো , আড্রিয়াটিকের নীল ফেনিল জল আর ততোধিক নীল আকাশ মাতাচ্ছে একটা লাল স্যাভোয়া এস-21, একটা কুরটিস আর থ্রি সি জিরো আর একটা অজানা ডাবোহায এবং আরও আরও নাম না জানা সীপ্লেন আর তাদের পাইলটরা ।
এই লেখাতে পোরকো ,মিস্টার কুরটিস এবং সি পাইরেটদের প্লেন গুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে আমাদের উচিত কিছু পরিভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া যা এভিয়েশন জগতে প্রচণ্ড প্রচলিত ।

Porco 1

1. ফিউজিলাজ:-
ডানা বা উইং ছাড়া বিমানের মূল কাঠামো ।

2. ফিক্সড উইং এয়ারক্রাফট:-
পৃথিবীতে সব ধরনকে এরোপ্লেনই হচ্ছে ফিক্সড উইং এয়ারক্রাফট । সব সব ফিক্সড উইংএয়ারক্রাফটের উইং বা ডানা আছে । এই প্লেনের ডানা ,প্লেনের সামনে দিয়ে আসা বাতাসের সাহায্যে,প্লেনকে উপরে তোলে ।এছাড়া ফিক্সড উইং এয়ারক্রাফটের উদাহরণ হতে পারে ঘুড়ি, গ্লাইডার,ভেরিয়েবল স্যুঈপ উইং এয়ারক্রাফট বা পরিবর্তনশীল ডানাওয়ালা বিমান ।এই স্যুঈপ উইং এয়ারক্রাফট নিজের ডানাকে মূল বিমানের কাঠামো বা ফিউজিলাজের সমান্তরালে ছড়িয়ে দিতে পারে অথবা গুটিয়ে নিতে পারে । এই ধরনের বিমানের সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ হলো আমেরিকা বিমানবহরে আধুনা রিটায়ার্ড গ্রুম্যান এফ-14 টমক্যাট,যা টম ক্রুজের “টপগান” সিনেমার জন্য মোটামুটি সবার কাছে পরিচিত । এছাড়া ইউরোপের পানাভা টর্নেডো ,সোভিয়েত(এবং বর্তমানের রাশিয়ার) বিমান বহরের মিগ -23,মিগ-27 ইত্যাদি যুদ্ধবিমান ।

3. মনোপ্লেন এবং বাইপ্লেন :-
সব ফিক্সড উইং এয়ারক্রাফটের মূল ডানা আছে, কিন্তু তা একটা হতে পারে অথবা দুটো (কিংবা কিছু পুরনো ডিজাইনে ততোধিক) হতে পারে । মনোপ্লেন হচ্ছে সেই ধরনের প্লেন যার একটি মূল ডানা আছে ,যা প্লেনের মূল কাঠামো বা ফিউজিলাজের দুদিক বরাবর অবস্থান করে । যে প্লেনের ডানা মূল কাঠামো বা ফিউজিলাজের উপরের দিক বরাবর থাকে তাকে হাই উইং প্লেন ,মূল কাঠামোর মধ্য বরাবর থাকলে মিড উইং প্লেন আর নিচের দিকে থাকলে তাকে লো উইং প্লেন বলে ।
বাইপ্লেন এর মূল ডানা দুটো । একটা থাকে মূল কাঠামোর নিচের দিকে আর একটা উপরের দিকে ।উপরের মানে অনেকটা উপরে, মূল কাঠামো বা ফিউজিলাজ ছাড়িয়ে বাইপ্লেন বিখ্যাত হয়েছিল কুড়ি আর ত্রিশের দশকে, এখন কিছু যাত্রী পরিবহনকারী প্লেন বা সীপ্লেন হচ্ছে বাইপ্লেন শ্রেনির ,নাহলে এখন মোনোপ্লেনের রাজত্ব ।

4. সীপ্লেন বা সমুদ্রবিমান :-
আমরা সবাই জানি এই ধরনের প্লেনগুলো জল থেকে উড়তে(টেকিং অফ) এবং নামতে (ল্যান্ডিং)
এ সক্ষম। সীপ্লেন বা সমুদ্র বিমানকে দুভাগে ভাগ করা যায় , ফ্লোটপ্লেন আর ফ্লাইং বোট ।

5. ফ্লোটপ্লেন :-
যে ধরনের সীপ্লেনের ফিউজিলাজের নিচে ফ্লোট নামে একধরনের বায়ুর থেকে হালকা ফাঁপা কাঠামো থাকে( মূলত একাধিক) তাকে ফ্লোটপ্লেন বলে । এই ফ্লোট হতে পারে কিছু নির্দিষ্ট ফাঁপা বস্তু, মূলত প্লেনকে জলের উপর ভাসিয়ে রাখার জন্য এবং উড়তে পারা বা টেক অফ করার জন্য কাজে লাগে ।
এই ধরনের প্লেনগুলো জলে এবং স্থলে নামতে পারে,সেজন্য এগুলোকে উভচর বিমান বা এমফিবিয়াস এয়ারক্রাফটও বলে।

6. ফ্লাইং বোট:-
ফ্লাইং বোট হচ্ছে এমন এক ধরনের সী প্লেন ,যার ফিসজিলাজ বা মূল কাঠামোটা জলে ভাসে ,কাঠামোর দুপাশে বড় বড় ডানা থেকে ঝোলানো “হূল” (hull) এর সাহায্যে ।এই হূলের আক্ষরিক অর্থ হলো “জাহাজের কাঠামো”। মূলত যেকোনো ফ্লাইং বোট বা সীপ্লেনে ব্যাবহার করা হূলগুলো জাহাজের কাঠামো আকৃতিই হয় ।ল্যান্ডিং এর সময় মূল কাঠামোর সঙ্গে হূলও জলে ভাসে ।

Porco 2

এবার পোরকো রোসো সিনেমাতে ব্যাবহার করা প্লেনগুলোর দিকে চোখ বোলানো যাক ।

1. স্যাভোয়া এস -21:-
সিনেমার মূল হিরো পোরকোর লাল রঙের প্লেনটা হচ্ছে স্যাভোয়া এস-21। পোরকো যখন ইতালীয়ান এয়ার ফোর্স ছেড়ে আসে তখন এই প্লেনটাকে ফোর্স থেকে কিনে নেয় ।তার অনেক প্রিয় এই লাল রঙের প্লেনটার ইঞ্জিন হচ্ছে রোলস রয়েস ক্রেসট্রল (ক্রেসট্রল হচ্ছে বাজ জাতীয় এক ধরনের শিকারি পাখি,সেই থেকে নাম)।বারো সিলিন্ডারের আর সাতশো কুড়ি হর্স পাওয়ারের মোটর যুক্ত এই লাল “এড্রিয়াটিকের রানি”র সর্বোচ্চ গতিবেগ তিনশো কুড়িকিলোমিটার প্রতি ঘন্টা ।অস্ত্র হচ্ছে দুটো এমজি 08 টাইপের মেশিনগান ,যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান এবং তার মিত্র সেনারা ব্যাবহার করত ।পোরকোর প্লেনের পেছনে যে R চিহ্নটা আছে সেটা রোসো আর রিপাবলিক ,এই দুটোর প্রতীক ।পোরকো ফ্যাসিবাদ ঘৃণা করত ।
এই শ্রেণীর প্লেন বাস্তবে সত্যিই ছিলো ,এবং মাত্র একটাই তৈরি করা হয়েছিলো ।রেসের জন্য বানানো এই প্লেনটাকে কনট্রোল করা ছিলো খুবই মুশকিল ।তো,প্রজেক্ট বাতিল ।
দুটোই ফ্লাইং বোট হলেও মিয়াজাকি পোরকোর স্যাভোয়া এস-21তে কিছু পরিবর্তন আনে,যা আসল স্যাভোয়া এস-21 থেকে আলাদা ।পোরকোর এস-21 টা মোনোপ্লেন আর আসলটা ছিলো বাইপ্লেন ।

2. কুরটিস আর থ্রি সি জিরো:-
ডোনাল্ড কুরটিস, যার সঙ্গে সিনেমার শেষের দিকে পোরকোর রেস এবং ডগফাইট হয়,তার প্লেনটা ছিলো আর থ্রি সি জিরো সিরিজের । বারোটা টা সিলিন্ডার যুক্ত ছশো দশ হর্স পাওয়ারের মোটর সর্বোচ্চ তিনশো আটচল্লিশ কিলোমিটার প্রতিঘন্টা বেগে যেতে পারতো ।এর অস্ত্র হচ্ছে দুটো এম টু ব্রওনিং মেসিনগান,যা আমেরিকাতে তৈরি ।
পোরকোর প্লেনের মতোই ,এই শ্রেণীর প্লেনও সত্যি ছিলো,যা 1925 সালে আমেরিকায় তৈরি হয় ,মূলত রেসিং এর জন্য ।তৈরি করে “কুরটিস এরোপ্লেন এন্ড মোটর কোম্পানি”, যার প্রতিষ্ঠতা গ্লেন হ্যামনড কুরটিস, আমেরিকার এরোপ্লেন জগতের অন্যতম পায়োনিয়ার ।

3. ডাবোহায (যে) :-
এটা সিনেমার সী পাইরেটদের ফ্লাইং বোট ,যা একটা মোনো প্লেন।এর বডি স্টিলের তৈরি, যেখানে স্যাভোয়া এস -21 আর কুরটিস আর থ্রি সি জিরোর বডি কাঠের তৈরি ।দুটো রোলস রয়েস ঈগল ফোর ইঞ্জিন,বারোটা সিলিন্ডার যুক্ত তিনশো ষাঠ হর্স পাওয়ারের ক্ষমতা দিয়ে সর্বোচ্চ একশ তিরানববই কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিবেগ দিতে পারে ।
এটি একটি কাল্পনিক প্লেন, সম্ভবত মিয়াজাকির মস্তিকপ্রসূত।

Porco 3

আকিরা: জাপানের ইতিহাসের আয়না — Anirban Mukherjee

আকিরা নিয়ে আমার দু-পয়সা

প্রথমত ,”সিনেমা vs মাঙগা ” এটা সম্পূন ফালতু তুলনা আমার কাছে,কারন যে জিনিসটাকে বেস করে সিনেমা বানানো হয়(সাহিত্য অথবা মাঙগা) সেটা অনেকটা আর্ট ক্লাসের ছবি আঁকার জন্য সাজানো মডেলের মত,সিনেমা হচ্ছে মডেল দেখে আঁকা চিত্রটা । আর অবশ্যই, আমরা যদি একই মডেল দিয়ে ,তিশিয়ান, পিকাসো এবং কোন পোস্ট মর্ডান চিত্রকরকে বসিয়ে দি ছবিটা আঁকতে ,তবে আউটপুট তিনটিতেই আলাদা হবে ।এখানেই সিনেমা পরিচালকের কৃতিত্ব,যেমনটা মডেল দেখে আঁকা কোন চিত্রকরের ।সেজন্য কলা মাধ্যম হিসাবে ,সিনেমাকে ,সাহিত্যের চেয়ে চিত্রশিল্পের সবচেয়ে কাছের মনে হয়,আমার ।

দুটো আলাদা মাধ্যম ,এবং দুটো আলাদা মাধ্যমে পরিচালক এবং লেখক (দুজনা একই লোক) দুটো আলাদা ভাবে জিনিসটা দেখাতে চেয়েছে ।
আমার মনে হয় কাটসুও ওতোমো সিনেমাতে সেটা সবচেয়ে ভালো সফল হয়েছে ,
আসলে গোটা সিনেমাটা হচ্ছে জাপানের ইতিহাসের আয়না। জিনিসটা ব্যাখ্যা করা যাক ,

1/সিনেমার প্রথমে আকিরার ধংস হয়ে যাওয়া হচ্ছে হিরোসিমা আর নাগাসাকির রুপক(মেটাফোর)।
2/তারপর নিউ টোকিও গঠন, সেখানে একটা আপাত উন্নত কিন্তু ভেতরে ধংস হওয়া ভোগবাদী সমাজ গঠন হচ্ছে,সেটা 1945 থেকে 19985 এর জাপানের প্রচণ্ড উন্নত অর্থনীতি অগ্রগতির প্রতীক(লক্ষ রাখবেন সিনেমাতে যে 2019 সালে অলিম্পিক দেখানো হয়েছে সেটা 1964 টোকিও অলিম্পিক এর প্রতীক)।

3/আপাত গনতন্ত্রের প্রভাব থাকলেও নিউ টোকিও এবং জাপানে মিলিটারির প্রভাব খুব ছিলো,এই মিলিটারি আবার আকিরাকে সৃষ্টির জন্য দায়ী ।এই মিলিটারি হচ্ছে আমেরিকার প্রতীক,যে আবার হিরোসিমা, নাগাসাকির জন্য দায়ী কিন্তু যুদ্ধে জিতে যাওয়ার জন্য পোস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাপানের মিলিটারি গঠন ,সংবিধান প্রনয়ন এবং অন্য অনেক ক্ষেত্রেই ভূমিকা নেয়,যেমন নিউ টোকিওর মিলিটারি আকিরার জন্য দায়ী হয়েও পোস্ট আকিরা ঘটনার পর সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের নির্ভর যোগ্যতা পেয়েছিল ।
4/ তেটসুও এর বিশাল মাংসের ডেলাতে পরিনত হওয়া এবং তার জন্য হওয়া ক্ষতি এগুলো হচ্ছে 1980s এর জাপানের অর্থনৈতিক বাবলস ধংস হওয়ার প্রতীক,যে অর্থনৈতিক বাবলসটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি হয় ।এবং তেটসুও- পরবর্তী নিউ টোকিও এর সঙ্গে আমরা দর্শকরা 1990 দশক এর জাপানকে মিলিয়ে দিতে পারি,যাকে জাপানের লস্ট জেনারেশন বলে,যেটা 1980 দশকের অর্থনৈতিক অস্তিরতা থেকে উঠছে এবং কিন্তু চারিদিকে রুগন চেহারা।
মাঙগাতে অনেক ঘটনা আছে যেগুলো গল্প হিসাবে শুধুই গল্প, কোন বাস্তব ঘটনাকে দেখতে পাচ্ছি না ।সেজন্য সিনেমাটা হয়ে উঠেছে জাপানের ইতিহাসের আয়না ।

Akira

সিনেমাতে অনেক ধর্মীয় রেফারেন্স আছে , অন্য সিনেমার রেফারেন্সও ।যেমন প্রথম দিকে blade runner এর রেফারেন্স বা শেষে কুরবিকের 2001 এর সঙ্গে সঙ্গতি রাখা ।
সব ধরনেই ধর্মে এইরকম একটা মত আছে ,যে ধর্মে বিশ্বাসী প্রবল ভাবে ঈশ্বরের অনুসন্ধান চালাতে লাগল তখন দেখল সে আর ঈশ্বর আলাদা নয়,যেমন সুফিবাদ ।ফেসবুকে সুফিবাদ নিয়ে একটা পোস্টে কদিন আগে একজন লিখেছিলো যে সুফিবাদকে পাখির রুপক দিয়ে ব্যাখা করা যায়, পাখিরা সবাই তাদের বাদশা সী মোরগের কাছে যাচ্ছিল তাদের দলপতি হুদহুদের নেতৃত্বে ,যখন পৌছল তখন দেখল তারা নিজেরাই সবাই এক এক জন সী মোরগ হয়ে গেছে ।
কল্প বিজ্ঞানের জগতে একটা জনপ্রিয় অংশ হচ্ছে পোস্টহিউম্যানের কনসেপ্ট ।বাঁদর জাতীয় প্রানী থেকে মানুষের বিবর্তন ,এবং সেখান থেকে আরও আরও সুপিরিয়র কিছু ঈশ্বর প্রতীম এনট্রিটিতে বিবর্তন ।সেজন্য কুরবিকের 2001 এ ডেভিড ব্যোওম্যান ,আর একটা ঈশ্বর প্রতীম সভ্যতার সাহায্যে অসীম শক্তিশালী স্টার চাইল্ডে পরিনত হয়, যা আকিরাতে, আকিরার সাহায্যে তেটসুও এর ঈশ্বর হওয়ার মতনই ।মাঝে সিনেমার যা বিষয়বস্তু ,আকিরাকে খোঁজা,সেটা আমাদের মানতিকুত তৈয়ায়ের পাখিদের সী মোরগের খোঁজকেই মনে করায়,অথবা আমাদের রক্ত পিচ্ছিল মানবসভ্যতাকে ।

লেখাটা লিখতে একটা ভালো ভিডিও রিভিউ এর সাহায্য পেয়েছিলাম,যেটা অনেকদিন আগে দেখার হেতু হারিয়ে ফেলেছি ।নাহলে ভিডিওটার লিংক দিতাম ।

মুভি রিভিউ: Kiki’s Delivery Service (কিকির পরিবহন সেবা) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

সবার এনিমের টেস্ট এক না , কেউ একশান , কেউ রহস্য এবং কেউবা রোমান্স । কিন্তু অনেকসময় টানা একটাইপের কিছু দেখতে দেখতে ক্লান্তি বা বিরক্তি আসতে পারে । তখন টেস্ট পরিবর্তন করার জন্য এমন কিছু চাই যা মনকে ফ্রেশ করে দেবে এবং মনের স্ট্রেস দূর করে দেবে এবং আপনাকে কয়েকদিনের জন্য মুগ্দ্ধ করে রাখবে !!!? এবং সে কাজ করতে পারে গিবলি স্টুডিওর মুভি । এই লেজেন্ডারি স্টুডিওর সৃষ্ট অন্যতম এক মাস্টারপিস হচ্ছে কিকির ডেলভারি সার্ভিস ! অসাধারন এই মুভি অতিরিক্ত আবেগ বা ফ্ল্যাশি কোন কিছু না দেখিয়েই সিম্পল স্টোরিলাইন দিয়ে আপনাকে মুগ্দ্ধ করে দেবে !!!

Kiki 1
কাহিনী : এই মুভির প্রধান চরিত্র হল কিকি , এবং সে একজন ডাইনী । এখন ডাইনী বললেই রুপকথার যে বিদঘুটে ডাইনির কথা মনে আসে কিন্তু এখানে তা উল্টো । কিকি যে রিয়েলিটির বাসিন্দা , সেখানে ডাক্তার , ইন্জিনিয়ারের মত ডাইনীবিদ্যা বা উইচক্রাফর্ট একটা সাধারণ জিনিস । কোন ডাইনীর ১৩বছর পূর্ণ হলে তাকে একলা একবছরের ট্রেইনিং এর জন্য তাকে বাইরে যেতে হয় এবং কিকি সে বয়স এ পৌছেছে । কিকির মাও একজন ডাইনী যদিও বাবা মানুষ । কিকি ১৩বছরে পৌছেই ট্রেনিং এবং বাইরের দুনিয়াকে জানা দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ে তার ছিমছাম গ্রামের সকলের কাছ খেকে বিদায় নিয়ে এবং তার সঙ্গী হল পোষা বিড়াল জিজি এবং বাবার রেডিও । পথে নানা ঝামেলায় পড়ে এবং তা এড়িয়ে সে পৌছায় এক ব্যাস্ত শহরে । কিকি যদিও প্রথমে অনেক উত্‍সাহি থাকে নতুন জায়গায় আসার থ্রিলে । কিন্তু শহরের ব্যাস্ত মানুষদের উপেক্ষা কিকির জন্য প্রথমে কষ্টকর হয়ে দাড়ায় । কিন্তু পরে এক দয়ালু ম্হিলা ওসোনোর সাথে পরিচয় হয় যে একটি বেকারী চালায় । ওসোনো তাকে আশ্রয় দেয় এবং সেই সাথে কিকি সেখানে তার উড়ার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ডেলিভারি সার্ভিসের ব্যাবসাও শুরু করে । প্রথম ডেলিভারিতেই বেশ ঝামেলায় পড়ে কিন্তু ঠিকই উত্‍রে যায় । এভাবে শুরু হয় কিকির শহরে জীবন ।সেখানে তার পরিচয় হয় টমবোর সাথে যে আপাতদৃষ্টিতে কিকির উপর ছোটখাট ক্রাশ খাওয়া , উরসুলা নামক এক মেয়ে যে একজন মেধাবী আর্টিস্ট আরও অনেক ভালো মন্দ চরিত্র । কিকি কি পারবে নির্বীন্ঘে তার ডেলিভারী সার্ভিস চালু রাখতে ? তাহলে সময় থাকলে দেখে ফেলুন কিকির ডেলিভারী সার্ভিস !!
এর সাউন্ডট্র্যাক খুবই সুন্দর ।এর ল্যান্ডস্কেপ আর্ট অতিরিক্ত সুন্দর । এটার সাব এবং ডাব দুটোই অস্থির যদিও আমার কাছে ডাব বেশি ভালো লেগেছে । এই মুভিতে যদিও মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো প্লট নেই কিন্তু এটা দেখার পর এর রেশ ছুটাতে আপনাকে অনেক বেগ পেতে হবে !!!
আমার রেটিং : ৮.৫/১০ ।

Download link: http://www.animeout.com/majo-no-takkyuubin/

Watch online: https://kissanime.to/Anime/Kiki-s-Delivery-Service-Dub/Movie?id=49370

Kiki 2

এনিমে মুভি রিভিউ: Wolf Children — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আপনার কি কথোনো এমন অনুভূতি হয়েছে যে কোন কিছু দেখে বা পড়ে শেষে করে উঠেছেন কিন্তু তার ঘোর লেগে রয়েছে , যেন এক সুন্দর স্বপ্নরাজ্য থেকে ভ্রমন করে বাস্তবে ফিরে আসলেও তার মোহ কেটে না যাওয়া ? আমি সেই অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছি এই উলফ চিলড্রেন দেখে শেষ করার পড় । এক অসাধারন আনিমে চলচিত্র যা হাজারবার দেখলেও পুরানো হবে না ।

কাহিনী : কাহিনীর প্রধান চরিত্র হল এক হাস্যোজ্বল , প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুনী হানা । অন্যসব বাবা মা হারা তরুনীর মত সেও খন্ডকালীন চাকরি এবং পড়াশোনার মাধ্যমে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছে । তো একদিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসে সে এক নতুন তরুনের দেখা পেলো যে কোন টেক্সট বইয়ের সাহায্য ছাড়াই নোট নিচ্ছিল । হানা আগ্রহী হয়ে ছেলেটির সাথে পরিচিত হয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো যে সে কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র না । এই গম্ভীর আকর্ষনীয় তরুনের প্রতি হানা দুর্বল হয়ে পড়লো এবং তাদের মধ্যে প্রনয় হতেও বেশি টাইম নেয়নি । একদিন সেই যুবক হানাকে তার আসল পরিচয় দিল যে সে একজন নেঁকড়ে মানব । কিন্তু হানা সেই তরুনকে অন্তর দিয়ে ভালবেসেছে , বাহ্যিক ছবি কিছু না । তাদের সংসার শুরু হয় , তারা ২সন্তানের জনকও হয় । কিন্তু হানার স্বামীর মৃত্যু সবকিছুকে যেন বদলে দেয় । দুই অর্ধমানব অর্ধনেকড়ে সন্তান আমে এবং য়ুকিকে নিয়ে হানা শুরু করে তার জীবন সংগ্রাম । তাদের পরিচয় গোপনরেখে বড় করার জন্য সে তার স্বামীর জন্মান্চলে চলে যায় এবং সেখানে তাদের বড় করতে থাকে ।সে তার সন্তানদের পথ তাদের হাতেই ছেড়ে দেয় যে তার মানব জীবন না নেঁকড়ে জীবন বেছে নেবে । এই সদাহাস্য তরুনী হানার স্ট্রাগল নিয়েই এর কাহিনী ।

এই এনিমের আর্টস্টাইল ও গ্রাফিক্স মনোমুগ্দ্ধকর ও প্রশান্তিদায়ক । পাহাড়ে হানা যে বাড়ি ভাড়া নেয় তার বেসিনটার ছবি আমি ওয়ালপেপার হিসেবে ইউজ করেছি ! আমে এবং য়ুকির দুষ্টুমি আপনাকে যেমন আপনাকে হাসাবে তেমনি তাদের মানব সত্ত্বা ও নেকড়ে সত্ত্বার দোঁটানা এবং হানার একার সংগ্রাম আপনার হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যাবে । এটা একটা অবশ্য দেখা কর্তব্য মুভি । আপনি একবার দেখুন বা বারবার দেখুন , আপনি মুগ্দ্ধ হতেই থাকবেন !!
আমার রেটিং : 10/10

Wolf Children

Movie Time With Yami – 70

safe_image (1)

আনিমে মুভি যারা মোটামুটি দেখেন, তাদের কাছে মাকোতো শিনকাই নামটি অজানা নয়। এই ডিরেক্টর মূলত কোতোনোহা নো নিওয়া, ৫ সেমি / সেকেন্ড সহ তার পরিচালিত ভারী বাজেটের আনিমে মুভিগুলোর জন্যে সুপরিচিত। তার মুভিগুলোতে যে ব্যাপারগুলো খুব অহরহ পাওয়া যায়, তা হল উজ্জ্বল চোখ ধাঁধাঁনো অ্যানিমেশন, খুব সুন্দর ওএসটি আর ভালবাসার সম্পর্কের টানাপড়েন। আজ আমি এই পরিচালকের কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী কাজের কথা তুলে ধরছি আপনাদের সামনে। দুই থেকে সাত মিনিট দৈর্ঘ্যের ছোট ছোট এই অ্যানিমেশন গুলোর মাঝে প্রথম দুটি মাকোতো শিনকাই এর সিগনেচার আর্টস্টাইল ফলো করে, যা দেখলে এই এই ডিরেক্টরের কাজের সাথে পরিচিত যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবে এটি কার কাজ। আর মানবিক সম্পর্কের খুব সূক্ষ্ম দিকগুলো এই অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে তিনটি অ্যানিমেতেই।

Dareka No Manazashi

বলা হয়ে থাকে, একটি পরিবার সম্পূর্ণ হয়, যখন সেই পরিবারে সন্তানের জন্ম হয়। বাবা-মা ও সন্তাতানেরা সবাই একসাথে থেকে একে অপরকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তারপর হয়ত একটা সময় আসে, যখন সন্তানেরা নিজেদের পথ নিজেরা বেছে নিয়ে একাই সে পথে রওনা হয়ে যায়, পিছনে পড়ে থাকে সেই পুরোনো পরিবার। কিন্তু এভাবে কি সবসময় সুখ খুঁজে পাওয়া যায়? মাত্র ৬ মিনিট সময়ের মাঝে বেশ মনকাড়া অ্যানিমেশনের মধ্য দিয়ে এই সুন্দর গল্পটি দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

লিঙ্ক – https://youtu.be/KSwbnUQJGnA

Cross Road

এটি থেকে আসলে তেমন কিছু আশা করার নেই, কারণ এটি আসলে একটি কোম্পানির হাই বাজেট বিজ্ঞাপন। তারপরেও এটি সাজেস্ট করার কারণ, ২ মিনিটের মাঝে শিনকাই এর উজ্জ্বল আর্টওয়ার্ক দেখার সুযোগ ও খুব হাসিখুশি একটি স্লাইস অফ লাইফ মুভি হওয়ার পটেনশিয়াল সমৃদ্ধ একটি ট্রেলার দেখা, যা শিনকাই এর জন্য বেশ বিরল।

লিঙ্ক – https://youtu.be/AfbNS_GKhPw

Kanojo to Kanojo no Neko

অ্যানিমেটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫ মিনিট, আর পুরো অ্যানিমেটিতে শুধুমাত্র দুটো রং ব্যবহার করা হয়েছে, সাদা ও কালো। কিন্তু এই অল্প সময়ের মাঝে একটি বেশ মনকে ছুঁয়ে যাওয়া কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, শুধুমাত্র দুটো চরিত্রের মাধ্যমে! একটি মেয়ে ও তার পোষা বিড়াল, এই দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একই ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। স্টোরিতে হয়ত তেমন গভীরতা নেই, তারপরেও বেশ উপভোগ্য একটি ওভিয়ে এটি।

লিঙ্ক – https://youtu.be/jc2xSY0iBiY

এটি এই সেগমেন্টের শেষ পর্ব। অনেক ধন্যবাদ এতদিন ধরে যারা নিয়মিত সেগমেন্টটি ফলো করেছেন তাদের, সেইসাথে এনিমখোরের সকল মেম্বারকেও ধন্যবাদ আমাকে এতদিন সাপোর্ট করার জন্যে। এবং সেইসাথে শেষবারের মত- সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 69

safe_image

Name: The Case of Hana & Alice / Hana to Alice: Satsujin Jiken
Duration: 1 hr. 38 min.
MAL Score: 7.42
Ranked: 1787
Genre: Drama

যেকোন স্কুলের জন্য একটা চিত্র বোধহয় একইরকম হবে, ট্রান্সফার স্টুডেন্টের সবার সাথে মানিয়ে নেয়ার যুদ্ধ। পুরাতন স্টুডেন্টরা মনে করবে, কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসতে চেষ্টা করছে! আর ট্রান্সফার স্টুডেন্টকে বুলিইং করতে চেষ্টা করবে।

কিন্তু আরিসুজাওয়া এসবের থোড়াই পরোয়া করে। সে বুলিইংকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মত ঘুরে বেড়ায়, সবাইকে সাহায্য করতে চেষ্টা করে।
এরই মাঝে সে জানতে পারে ক্লাসের এক অদ্ভুত গল্প। বাইবেলের জুডাস ও তার চার স্ত্রী, অ্যানাফাইলেক্সিস, মৃত আত্মা ও সারাবছর অ্যাবসেন্ট থাকা স্টুডেন্ট- সবমিলিয়ে কাহিনীর আগামাথা কিছুই বুঝতে পারে না আরিসুজাওয়া। কিন্তু দমে না গিয়ে সে আস্তে আস্তে খোঁজ করতে থাকে। আর বেরিয়ে আসে এতসব আজগুবি কথার পেছনের গল্প।

মুভিটির গল্পটি বেশ ইন্টারেস্টিং, আমার বেশ ভাল লেগেছে। কাহিনীটা ঠিকমত বুঝতে হলে পুরো মুভিটিই শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়, এই ব্যাপারটা ভাল লেগেছে। পেসিং শুরুতে একটু স্লো হলেও পরবর্তীতে ঠিক হয়ে যায়। আর্টওয়ার্ক মোটামুটি, চরিত্রগুলোর নড়াচড়া করার ধরণটা আমার ভাল লাগেনি। সাউন্ডট্র্যাক মনে রাখার মত না হলেও ভাল।

মুভিটি এ বছরই মুক্তি পেয়েছে একটি লাইভ একশনের প্রিক্যুয়াল হিসেবে, তাই দেরি না করে এখনই দেখে ফেলুন, আর ভাল লাগলে টপচার্টে একে সাপোর্ট করুন!!

Movie Download Link- http://kissanime.to/Anime/Hana-to-Alice-Satsujin-Jiken

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 68

safe_image

Name: Giovanni’s Island / Giovanni no Shima.
Duration: 1 hr. 42 min.
MAL Score: 7.89
Ranked: 680
Genres: Drama, Historical

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের কথা। জাপানের এক প্রান্তে একটি শান্ত, সুন্দর অচেনা দ্বীপে হঠাৎ আগমন ঘটে রাশিয়ান সৈন্যবাহিনীর। দ্বীপের বাসিন্দারা নিরীহ মৎস্যশিকারী, সেনাবাহিনীর আগ্রাসন মাথা পেতে মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকে না।

এই গ্রামেই বাস করে জুনপেই ও কান্তা নামের দুই কিশোর। মিয়াজাওয়া কেনজির একটি বিখ্যাত উপন্যাসের দুই চরিত্র জিওভান্নী ও ক্যাম্পানেলার নাম থেকে তাদের নাম অনুপ্রাণিত। এ কারণেই হয়ত এই দুই ভাইয়ের “নাইট অন দ্য গ্যালাকটিক রেইলরোড” উপন্যাসটি অনেক প্রিয়। তারা স্বপ্ন দেখে, একদিন গ্যালাকটিক রেইলরোডের দেখা পাবে তারাও, আর সেই রেইলরোড অনুসরণ করে তারা পৌছে যাবে এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে কোন ভিনদেশী সৈন্য এসে তাদের ঘরছাড়া করবে না, পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনেক সুন্দর জীবন যাপন করবে তারা।

জিওভান্নী নো শিমা মুভিটি যুদ্ধের গল্প, নিরূপায় মানুষদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প, শত কষ্টের মাঝেও আপনজনদের কাছে পাওয়ার আকুতির গল্প, ভাষা ও সংস্কৃতির বাঁধা অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার গল্প। মিয়াজাওয়া কেনজির গল্পের বিভিন্ন লাইন ব্যবহার করে কল্পনা ও বাস্তবতার মিশেলে অনেক হৃদয়স্পর্শী একটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। জুনপেই এর স্মৃতিগুলো যেন ছড়িয়ে রয়েছে দ্বীপটির কোনায় কোনায়, এত বছর পরেও তা এখনো তাজা!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত বেশি সুন্দর, অনেক বেশি ফ্লুইড অ্যানিমেশন, যা চোখকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ক্যারেক্টারগুলো নিজের অজান্তেই কখন যে আপন হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। কাছে টেনে নেওয়ার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আছে মুভিটির। সাউন্ডট্র্যাক পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব মানানসই, বাচ্চাদের অপরিণত গলায় গাওয়া গানগুলো মনটাকে জুড়িয়ে দেয়। আর এ মুভিটির এন্ডিংটা অতিরিক্ত সুন্দর, আমার খুব বেশি পছন্দ হয়েছে কাহিনীটা; সর্বোপরি এর বর্ণনাশৈলী।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Giovanni-no-Shima

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!