The Wind Rises রিভিউ — Rafiul Alam

“The wind is rising! . . . We must try to live!”
– Paul Valéry’s poem, “Le Cimetière marin”

আমি জিব্লির হাতে গোনা কয়েকটা মুভি দেখেছি। কালকে যখন এই মুভিটা শেষ করলাম, মনে হল, আরো আগে দেখা উচিত ছিল। হায়াও মিয়াজাকি সাহেব পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা এটি। যা মুলত অ্যারোনটিক্যাল ডিজাইনার জিরো হিরোকশির জীবন কাহিনী। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় জাপানের জন্য যুদ্ধবিমান নকশা করেন। পর্দায় তুলে ধরা দৃষ্টিভঙ্গী, আর বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ের কারণে সিনেমাটি সমালোচিত, আমি সেই বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না, তাই সেব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না।

Synopsis : জাপানী বালক জিরো বিমান ভালবাসে। সে বিদেশী বিমানের ম্যাগাজিন ঘেটে বেড়ায় অসীম কৌতূহলে। ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার জিওভান্নি কাপ্রনি তার আদর্শ। অ্যারোনটিকাল ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন এভাবেই সে তাড়া করতে থাকে।
বছর খানেক পরের দৃশ্য, বালক এখন যুবক। ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে আসে জিরো। সবকিছু যখন স্থির ও শান্ত, তখনই ভুমিকম্প আঘাত হানে। ট্রেন দ্রুত থামানো হলে যাত্রীদের হুরোহুরি শুরু হয়ে যায়। এমন সময় এক মহিলার পা ভেঙে যায়। তাকে সাহায্য করতে গিয়ে জিরোর পরিচয় হয় নাওকো সাতমি নামের এক মেয়ের সাথে। সেবার নিজের নাম না বলেই বিদায় নেয় জিরো।
ধীরে ধীরে ভূমিকম্পের ক্ষতির রেশ কেটে যায়।শহর আবারো গড়তে শুরু হয়। বিমান ডিজাইনে মহা ব্যাস্ত হয়ে পড়ে জিরো, নিজের বোনের সাথেও দেখা করতে ভুলে যায় । কাজের প্রতি অত্যাধিক ভালবাসার কারণে জার্মানির সাথে সেই সময়ের জাপানের প্রযুক্তিগত পার্থক্য বুঝতে শুরু করে সে। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তার লক্ষ্য হয় নানান সীমাবদ্ধতার মাঝে দ্রুতগামী ধাতব বিমান নকশা করা।সিনেমার পরবর্তীতে জিরোর কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সমাপ্তি ঠিক যুতসই ছিল না।

Theme setup, Animation and Music : সিনেমার ঘটনায় ১৯২৩ এর কান্তো ভুমিকম্প থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপান স্থান পেয়েছে। তেমনিভাবে ৩০-৪০ দশকের জাপানী জীবনধারা ও সেই সময়ের সীমাবদ্ধতার বাস্তবিক চিত্রায়ন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোও চোখের আরাম ছিল। এক্ষেত্রে জিব্লির স্কিল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিটি দৃশ্য ডিটেইলড। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, একটি চারাগাছের উপর বৃষ্টির দৃশ্য, রেললাইনের উপর একটি পাথর অথবা পাখির চোখে টোকিও শহর, এসব কিছুর পেছনেই এক ধরনের শৈল্পিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আনিমেশন বরাবরের মতই রঙিন আর ফ্লুইড। টুডি, তবে জীবন্ত, জিব্লির প্রিয় একটি বৈশিষ্ট্য।মন ঠান্ডা করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও পারফেক্ট মনে হয়েছে। সর্বোপরি, মিয়াজাকি তার নামের প্রমাণ দিতে পেরেছেন।

Characters Setup : জিরো কাজের প্রতি একনিষ্ঠ, বিনয়ী। সবচেয়ে ভাল লেগেছে যখন সে তার ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করে নেয়। জিরোর প্রতি নাওকোর কমিটমেন্ট সিনেমার একটা সুন্দর দিক ছিল, শক্ত চরিত্রের প্রকাশ। জিরোর অভিমানী বোনের হঠাৎ হঠাৎ স্ক্রিনে আগমন জিরোর পরিবারের দিকে নজর না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। সাইড ক্যারেকটার গুলোর মাঝে সাপোর্টিভ হোঞ্জো এবং রাগী কিন্তু নরম মনের গুরুজন, কুরাকাওয়া উল্লেখ্য।

পরিশেষে কিছু ব্যক্তিগত মতামত দেই, আমি বাচ্চাকাল থেকে এভিয়েশনের প্রতি আগ্রহী। তাই সিনেমার সামগ্রিক গল্প খুব একটা বক্তব্যধর্মী না হলেও আমার কাছে বেশ ইন্সপায়ারিং লেগেছে। সেই সময়ের কাঠ আর ত্রিপলের তৈরি বিমান যুদ্ধ করার জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না। জিরোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রায় ২৭০মাইল/ঘন্টা বেগে উড়তে পারে এমন যুদ্ধবিমান তৈরি করা। কিন্তু এত বেশি বেগে যে ড্র‍্যগ তৈরী হবে,তা নেয়ার সামর্থ তৎকালীন কাঠের এয়ারফ্রেমের ছিল না। তাই তাকে স্টিলের বডি বানাতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হল ওজন, তৎকালিন র‍্যডিকাল ইঞ্জিনের পক্ষে তখন পর্যাপ্ত থ্রাস্ট দিয়ে স্টিলের বডিকে ২৭০ মাইল/ঘন্টা স্পিডে নেয়া সম্ভব না। পরবর্তীতে সে অ্যালুমিনিয়াম এলয় ব্যাবহার করে সহনীয় উইং লোডিংয়ের বিমান বানাতে সক্ষম হয়। A6M ZERO বিমানটি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে সেটি কনভেনশনাল এয়ারফ্রেমের বিমান, ঠিক প্রয়োজনীয় পরিমাণের ডাইহিড্রাল। কিন্তু ভাল করে তাকালে বুঝবেন যে এলোরনে পুশরড নেই। যার ফলে প্লেনের ড্র‍্যাগ অনেক কমাতে সক্ষম হয়েছেন জিরো। কয়েক বছরের সাধনার ফলস্বরূপ তার A6M5 ৩৪৫ মাইল /ঘন্টা রিচ করে। সর্বোপরি, জিরো হাল্কা ওজনের, ম্যানুভারেবল কিন্তু দ্রুতগতির বিমান বানাতে সীমিত সুবিধার মাঝেও কারিগরিকভাবে মহাসফল।যদিও অ্যালাইড ফোর্সের ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু জিরো হিরোকশির অর্জনকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। জানামতে মুভিটি “The wind has risen” উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন। উপন্যাসটি পড়িনি, তাই মুভির সাথে বৈসাদৃশ্য নিয়ে আমার কোন ধারনা নেই। তবে শুনামতে, নাওকো চরিত্রটি উপন্যাসে অন্যভাবে ছিল। যাই হোক…..সকল বিতর্ককে একপাশে রেখে দিয়ে সিনেমাটি দেখতে বসে যান, আশা করি ২ ঘন্টার অপচয় হবে না।

Overall Rating :
MAL Rating : 8.3
IMDb Rating : 7.8
My Rating : 8.0

The Wind Rises

Movie Time With Yami – 67

Name: Bungaku Shoujo / Literature Girl
Duration: 1 hr. 40 min.
MAL Score: 7.71
Ranked: 981
Genres: Drama, Mystery, Romance, School

একটা সুন্দর মুভি বা টিভি সিরিজ দেখার পরে আপনার ভাললাগার অনুভূতিটা নষ্ট করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়টা কি বলতে পারেন? উত্তর- বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে “বিখ্যাত” ক্রিটিকদের বিশ্লেষণমূলক রিভিউ পড়া। বুঙ্গাকু শৌজো মুভিটি দেখার পর আমার এত বেশি ভাল লেগেছিল যে, আমি দৌড়ে গেছিলাম এটার রেটিং, রিভিউ ঘাটাঘাটি করতে। এবং সেগুলো দেখার পরে আমি উপলব্ধি করি, কোনরকম ধারণা ছাড়া মুভিটি দেখা শেষ করে আমি আসলেই ভাল কাজ করেছি।

ইনৌয়ে কোনোহা, আমাদের অ্যাভারেজ হাইস্কুল স্টুডেন্ট। শান্তশিষ্ট, চুপচাপ এ ছেলেটির সাথে একদিন স্কুলের ক্যাম্পাসে দেখা হয় একটি অদ্ভুত মেয়ের। নিজেকে “বুঙ্গাকু শৌজো” বা লিটারেচার গার্ল নামে পরিচয় দেয়া এ মেয়েটি প্রতীকী অর্থে নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই বই এর পৃষ্ঠা চিবিয়ে খায়। এক একটি গল্প এ মেয়েটির কাছে এক একটি সুস্বাদু স্ন্যাক!

এ পর্যন্ত শোনার পর মনে হতে পারে, এইতো, শুরু হল হাইস্কুল রোমান্স এর প্যানপ্যানানি, খালি এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটা একটু নতুন লাগছে। আমিও তাই ভেবে বসেছিলাম! এই মুভিটি দেখার আগে এর ১৫ মিনিটের একটি ওভিয়ে দেখা ছিল, সেটিও এমনই একটা আভাস দিয়েছিল। সুন্দর আর্টওয়ার্ক, প্রশান্তিদায়ক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাহিনীটাকে উপভোগ করতে বেশ সাহায্য করছিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মোড় ঘুরে গেল কাহিনীর!! বেরিয়ে এল কোনোহার অতীত জীবনের এক বেদনাদায়ক কাহিনী, হাইস্কুল রোমান্স পরিণত হল মানবিক টানাপড়েন এর এক অপরিচিত গল্পে।

আচ্ছা, অনেকেই তো বলে, ভালবাসার মানুষকে কাছে রাখার জন্য আমি সবকিছু করতে পারব। সেই সবকিছুর দৌড়টা আসলে কতদূর? মিরাই নিক্কির গাসাই ইউনোর কল্যাণে সেই কতদূরের দৌড় কিছুটা হয়ত জানা আছে আমাদের, কিন্তু সেটা আমার কাছে অতি অবাস্তবতার মত লেগেছিল। এই মুভিটিতে বরং ব্যাপারগুলো বাস্তবতার খুব কাছাকাছি রেখে দেখানো হয়েছে, আর তাই আরও বেশি ভাল লেগেছে।

এ পৃথিবীতে কোন কিছুই নিখুঁত নয়, অবশ্যই এ মুভিটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে মুভিটি তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গেছে, অবশ্য এটা রিভিউ নিয়ে ঘাটাঘাটি করার আগে তেমন বড় হয়ে চোখের সামনে আসেনি। আর তা হল, লিটারেচার গার্ল নিজে। মুভিটির মাঝখানের বড় একটা অংশে তার কোন খোঁজ নেই, যদিও ঠিক সময়ে সে তার গুরুত্ব ঠিকই ফিরে পেয়েছে। কিন্তু তার এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটায় কোন আলোকপাত করা হয়নি, এটা একটু হতাশার ব্যাপার।

যাই হোক, সবমিলিয়ে মুভিটি আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে, মানবিক সম্পর্ক ও টানাপড়েন এর ব্যাপারটা এর আগে কোন মুভিতে এত সুন্দরভাবে পাইনি, আর ভুলোমনা লিটারেচার গার্ল এর পরিণত আচরণ আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl
OVA Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl-OVA

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

মুভি রিভিউ: Redline (2009) — Abdullah Ar Rayhan

মুভি রিভিউ — Redline (2009)

Director: Takeshi Koike
Producers: Madhouse, Anchor Bay Films
Genres: Action, Cars, Sci-Fi, Sports
Rating: R+
MAL Score: 8.35

Redline

জনরা দেখেই মুভির প্লট সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পেয়ে যাওয়ার কথা। এ এক দূর ভবিষ্যতের গল্প। মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। এলিয়েনদের সাথেই সহাবস্থান তাদের। অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি হোভার-কার যখন স্বাভাবিক গাড়িগুলোর স্থান দখল করে নিচ্ছে, কেউ কেউ তখনও সর্বস্ব দিয়ে রেস করে যাচ্ছে। জেপি (JP) এমনই একজন রেসার। এই রেসে তার টিমমেট বন্ধু ফ্রিসবি (Frisbee) যার কাজ জেপি-র গাড়ি প্রস্তুত করে দেয়া। মুভির শুরু হয় ইয়েলো লাইনে হওয়া অ্যাকশনে ভরপুর এক রেস দিয়ে যেখানে দেখা যায় শুরুতে পিছিয়ে থাকা সত্তেও শেষ কোয়ার্টারে সবাইকে পেছনে ফেলে ঠিকই এগিয়ে যায় জেপি। কিন্তু বিধিবাম, মাফিয়ার চাপে আগে থেকেই ফিক্স করা রেসে জয়ী হওয়া তার সাধ্যে নেই। জিতে গিয়ে পরবর্তী রেডলাইন রেসে নিজের জায়গা করে নেয় মুভির আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র সোনোশি (Sonoshee), ছোটবেলা থেকেই যার লক্ষ্য রেডলাইন রেসে জেতা। রেডলাইন, গ্যালাক্সির সবচেয়ে বিখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড রেস, তাদের পরবর্তী ভেন্যু ঠিক করে বিপজ্জনক রোবোওয়ার্ল্ডে। হেরে গিয়েও কয়েকজনের ড্রপআউটের সৌজন্যে জেপি-ও জায়গা পেয়ে যায় রেডলাইনে। প্রশ্ন হল ফিক্সিং বাধা অতিক্রম করে জেপি কি রেডলাইন জিততে পারবে? তাহলে সোনোশি-র আজন্ম লালিত স্বপ্নের কি হবে? রোবোওয়ার্ল্ডের কর্তাব্যক্তিরাও বা কেন তাদের গ্রহে এ রেস হতে দিতে নারাজ?

এ মুভি নিয়ে কিছু লিখতে হলে প্রথমেই আসবে আর্টওয়ার্কের কথা। এখানে উল্লেখ্য, মুভিটি প্রোডাকশনে সময় লেগেছে সাত বছর আর এতে ব্যবহার করা হয়েছে হাতে আঁকা ১ লক্ষেরও বেশি ড্রয়িং। নিঃসন্দেহে বলা যায়, All those hard works paid off in a beautiful, mind blowing way. প্রথম দৃশ্য থেকেই আর্টস্টাইল নজর কেড়ে নেবে যা দেখলে একটা কথাই মনে আসে– ‘চোখ ধাঁধানো’। দেখে মনে হবে একেবারে কমিকবুক থেকে তুলে আনা। এত কালারফুল আর ভিন্নধর্মী আর্টওয়ার্ক আর কোথাও চোখে পড়েনি। আর্টস্টাইলই একে অন্য যেকোন অ্যানিমেশন থেকে আলাদা করে রাখবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অ্যাকশন। এক অর্থে পুরো মুভিই অ্যাকশনে ভরপুর, আর তা ফুটিয়ে তোলাও হয়েছে যথোপযুক্ত ভাবে। বারবার দেখার মত। এত ফাস্ট-পেসড যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্লো-মোশনে দেখার দরকার পড়ে। ভিন্নধর্মী আর্টস্টাইল আর দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়্যেন্সের এ মুভিটি এক কথায় একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এতই যে, রেসে কে জিতবে বা হারবে সে চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু অ্যাকশন দেখাতেই নিমগ্ন হয়ে যাবেন। [এখানে একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার শেয়ার করি। মুভিটা আমি প্রথমে ডাউনলোড করেছিলাম নরমাল 1080p Bluray প্রিন্টে যা সাইজে ছিল ১.৬১জিবি, কিন্তু সাথে আরেকটু ভালো কোয়ালিটি পাওয়ার আশায় ৭.২১জিবি-র আরেকটি ফাইল ডাউনলোড দিয়ে রেখেছিলাম। মুভি দেখার মাঝপথে এসে দ্বিতীয় ফাইলটি ডাউনলোড কমপ্লিট হয়; আমিও বেটার কোয়ালিটি পেয়ে আবার প্রথম থেকে দেখা শুরু করি। এ কথা বলার একটাই কারণ, মুভিটি ভিজ্যুয়ালি এতই সুন্দর যে ইমিডিয়েটলি আবার প্রথম থেকে দেখতে একটুও দ্বিধা করিনি।]

আর্ট আর অ্যানিমেশনের পাশাপাশি সাউন্ডের কথাও বিশেষ করে বলতে হয়। কিছুটা ইলেক্ট্রিক ঘরানার মিউজিক রেস আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে পুরোপুরি মানিয়ে গেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে কানফাটানো সাউন্ডের সিঙ্ক্রোনাইজেশনও পারফেক্ট। এখানে আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। মূল চরিত্রগুলোর ভয়েস দেয়ার ক্ষেত্রে সত্যিকারের অ্যাক্টরদের উপরে জোর দেয়া হয়েছে। জেপি-র কন্ঠ দিয়েছেন জাপানি টিভি অভিনেতা Takuya Kimura, সোনোশি-র কন্ঠ দিয়েছেন নামী অভিনেত্রী Yû Aoi আর ফ্রিসবি-র কন্ঠ দিয়েছেন বিখ্যাত Tadanobu Asano যিনি হলিউডেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বোঝাই যায়, আর্ট আর সাউন্ডে কোন ছাড় দেয়া হয়নি।

মুভিটির স্টোরি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করতে গেলে একই সাথে বলতে হয় দুর্বল কিন্তু মানানসই। দুর্বল দিকগুলোর মধ্যে আছে রোবোওয়ার্ল্ডে দেখানো কিছু সাব-প্লট যার সাথে মূল কাহিনীর সরাসরি কোন যোগাযোগ নেই, উদ্দেশ্যহীনতা এবং ক্লিশে ভাব। একই সাথে মানানসই বলার কারণ হচ্ছে রেসিং মুভিটিতে মূল ফোকাস এন্টারটেইনধর্মী অ্যাকশন বলে এর বেশি কিছু যোগ করার সুযোগও নেই। তবে রেসগুলো দেখার সময়কার অ্যাড্রেনালিন-রাশ আপনাকে এ দুর্বলতা অনেকাংশেই ভুলিয়ে দেবে। অপ্রয়োজনীয় সাব-প্লট বাদ দিয়ে দৈর্ঘ্যে আরেকটু কমিয়ে দিলে মুভিটি আরো উপভোগ্য হত, সন্দেহ নেই।

কারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সেভাবে করা হয়নি। কেবল জেপি আর সোনোশি-র কিছু ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলোর গভীরতা আরেকটু বাড়ানো যেত কিন্তু মুভিটি-তে সম্ভবত ইচ্ছে করেই কোন সিরিয়াসনেস আনা হয়নি।

শেষ কথা হচ্ছে সিরিয়াস বা ইন্টেন্স কোন কিছুর আশা করলে হতাশ হতে হবে কিন্তু পিওর ফান আর উত্তেজনাময় অ্যাকশন দেখার ম্যূডে থাকলে ১০০ মিনিট পুরো ১০০ভাগই উসুল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একটি কথা– যত ভালো কোয়ালিটি আর বেশি সাউন্ড নিয়ে দেখা যাবে তত ভালো লাগবে।
রেটিংঃ ৭.৭৫/১০ (কাহিনী আর চরিত্রায়ন আরেকটু ভাল হলে ৯ দেয়া যেত।)

IMDb(7.5): http://www.imdb.com/title/tt1483797/

Torrent Link: http://extratorrent.cc/torrent/2484482/%5BBSS%5D+REDLINE+%5B1080p%5D.mkv.html

Direct Download+Streaming Link: http://kissanime.com/Anime/Redline/Movie-BSS?id=66166

MEGA Link: https://mega.nz/#!lsh21a7D!NvlnGBfw71xdKIRR6eomXUhYqpkZ5mLiUC5EEIDgKfs

 

Movie Time With Yami – 66

5cm

Name: Byousoku 5 Centimeter / 5 Centimeters per Second
Duration: 3 episodes- 22 min per episode
MAL Score: 8.19
Ranked: 311
Genres: Drama, Romance, Slice if Life

এই মুভিটা দেখার আগে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, দুটো কারণে। প্রথমত এটি মাকোতো শিনকাই এর পরিচালিত, এটি আগে এই ডিরেক্টরের একটাই মুভি দেখেছিলাম, “গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস”, আর সেটি বেশ ভাল লেগেছিল; আর দ্বিতীয় কারণ হল এটি নিয়ে আমি সবধরণের অ্যানিমে গ্রুপে অনেক প্রশংসামূলক রিভিউ/রিএকশন দেখেছিলাম। কিন্তু মুভিটি দেখার পরে সত্যি কথা বলতে আমি কিছুটা নিরাশই হয়েছিলাম।

তাকাকি তোনো এবং আকারি শিনোহারা এলিমেন্টারি স্কুলের ক্লাসমেট এবং খুব কাছের বন্ধু। এলিমেন্টারী স্কুল পাসের পর আকারির বাবার বদলির কারণে আকারি অন্য একটি শহরে চলে যায়। দুজন যোগাযোগ রক্ষা করে একে অপরকে চিঠি লেখার মাধ্যমে।

এরপরে মিডল স্কুলে পড়ুয়া আকারি এবং তাকাকির আবার দেখা হয় তুষারঝড়ের মাঝে এক রেলওয়ে স্টেশনে, তাকাকি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে তাদের শেষ দেখা এটি। তারা একজন আরেকজনকে মনের কথা জানিয়ে চলে যায় নিজেদের দ্বিখন্ডিত পথ ধরে। এরপর দুজনের ব্যস্ততা, প্রায়োরিটি এবং বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার সাথে আবেগের সংঘাত দেখা দিতে থাকে।

মুভিটি তিনভাগে বিভক্ত, এই তিনভাগের মধ্যে তাকাকি এবং আকারির জীবনের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এলিমেন্টারি স্কুলের বাচ্চাদের অ্যাডোলেসেন্ট লাভ, মিডল স্কুলের ছেলেমেয়ের অপরিণত আবেগ ও আরেকটু পরিণত বয়সের অপ্রয়োজনীয় যুক্তিবোধ। কাহিনীকার ভালবাসা সংক্রান্ত আবেগীয় টানাপড়েন, বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ এবং দুটো ছেলেমেয়ের আস্তে আস্তে পরিণত মানুষে রূপান্তর হওয়ার ধাপগুলো ড্রামাটিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন, এবং কিছুদূর পর্যন্ত তিনি সফলও। কিন্তু আমার যে ব্যাপারটি ভাল লাগেনি তা হল, অতি নাটকীয়তা। মানুষের জীবনের কাহিনী, অর্থাৎ স্লাইস অফ লাইফ, এই ধরণের কাহিনীতে একটু নাটুকেপনা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু তাই বলে “এলিমেন্টারী” স্কুলের বাচ্চা ছেলেমেয়েদের আবেগে ভেসে যাওয়ার ব্যাপারটা বেশ চোখে লেগেছে। চিঠি লিখে যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারটা খুব রোমান্টিক, মানছি, কিন্তু যেখানে তোমাদের হাতে সেলফোন নামক বস্তুটা আছে, একটু কষ্ট করে বস্তুটা মাঝে মাঝে ব্যবহার করলে তো এত ভেজাল বাঁধে না! ভালবাসলে সেটার প্রকাশটা স্ট্রংভাবে বের হয়ে আসেই, আমি বিশ্বাস করি এটা, কাজেই মুভির বেশকিছু জায়গা আমার কাছে বাড়াবাড়ি রকমের অবাস্তব লেগেছে। আর, মানছি জাপানের মানুষ আমাদের দেশের প্যারেন্টস দের মত ওভারপ্রোটেক্টিভ না, তাই বলে কোন বাপ মা নিজের এলিমেন্টারি স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে তুষারঝড়ের মাঝে একা একা ট্রেনে করে ৪-৫ ঘন্টার জার্নিতে যাওয়ার অনুমতি দেয়?

মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত ভাল, মাকোতো শিনকাই এর থেকে এর কম আশাও করা যায়না, এই আর্টওয়ার্ক আমাকে সাহায্য করেছে মুভিটা শেষ পর্যন্ত দেখতে। ঠাট্টা করে একজন ইউটিউব রিভিউয়ার এই মুভির নাম দিয়েছিলেন “5 wallpapers per second”!! সাউন্ডট্রাকও চমৎকার, এন্ডিং সংটা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মুভিটি ওভারঅল খারাপ লাগেনি, তবে বেশ ওভাররেটেড লেগেছে। কে জানে, হয়তো আমার মেলোড্রামা ভাল না লাগাই এর পেছনে দায়ী!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/5-Centimeters-per-Second

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 65

8202163_orig

Name: Persona 3 Movie 2: Midsummer Knight’s Dream
Duration: 1 hr. 38 min.
MAL Score: 8.05
Ranked: 466
Genres: Action, Fantasy, Seinen, Supernatural

ডার্ক আওয়ারের ছায়ায় ঘুরে বেড়ানো ভয়ানক দানবগুলোর সাথে লড়াই করার মাধ্যমে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার স্পৃহা খুঁজে পায় ইউকি মাকোতো। কিন্তু এই ডার্ক আওয়ারের পেছনের রহস্যটা কি? কিভাবে উদ্ভব হল এই আওয়ারের? পার্সোনা ইউজাররা একসময় জানতে পারে সেই রহস্যের কথা, এবং সেইসাথে এই সময়টা বিনাশ করার উপায়। কিন্তু সত্যিই কি এই আওয়ারকে ধ্বংস করা সম্ভব? পার্সোনা ইউজারদের সবারই কি একই লক্ষ্য, যে লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে রয়েছে তাদের ক্ষমতা হারানোর সমূহ সম্ভাবনা?

মুভিটি স্প্রিং অফ বার্থ মুভিটির সিক্যুয়াল, এটি আগের মুভিটির কাহিনী খুব ভালভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। এখানে আর্টওয়ার্ক অনেক ইম্প্রুভ করেছে, ডার্ক শেডের মাঝে মাঝে কড়া রঙের ব্যবহারে যে কন্ট্রাস্টটা এসেছে সেটা অনেক নজরকাড়া ছিল। ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড ভাল ছিল, মুভির থিমের সাথে মানানসই। এই মুভিটিতে আগেরটির তুলনায় ফাইট একটু কম, এখানে মূলত রহস্যের ব্যাখার দিকে বেশি জোর দেয়া হয়েছে। পার্সোনা ইউজারদের নিজেদের মধ্যেকার সংঘাত এবং কনফিউশনটা খুব ভালভাবে দেখানো হয়েছে।

সবমিলিয়ে সিক্যুয়াল মুভি হিসেবে এটি আমার খুব ভাল লেগেছে, তাই আমি সাজেস্ট করব পার্সোনা সিরিজের দুটো মুভিই দেখে ফেলতে।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/…/Persona-3-the-Movie-2-Midsummer…

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 64

maxresdefault

Name: Persona 3 Movie 1: Spring of Birth
Duration: 1 hr. 32 min.
MAL Score: 7.93
Ranked: 616
Genres: Action, Fantasy, Seinen, Supernatural.

আমরা যে পৃথিবীতে, যে সময়ে বাস করি, চোখের সামনে যে দৃশ্যগুলো দেখতে পাই, সেটাই কি সম্পূর্ণ সত্য? এর বাইরে কি আর কিছুই নেই? হয়তো আমাদের জানার বাইরে রাতের আঁধারে থাবা মেলে রয়েছে এমন কোন অজানা বিপদ, যা আমাদের কল্পনার বাইরে। আর সেই বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য আমাদের অগোচরে কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

পুরো পৃথিবীর অগোচরে দিনের ২৪ ঘন্টা পার হওয়ার পর আসে আরও একটি নতুন সময়, “ডার্ক আওয়ার”। এই ডার্ক আওয়ারের রহস্যময় জগতে ঘুরে বেড়ায় দৈত্য দানব। যারা ক্ষতি করতে চায় পৃথিবীর। এদের সাথে তাই প্রতিদিন লড়াই করে একদল হাইস্কুলের ছেলেমেয়ে। আর চেষ্টা করে এই ডার্ক আওয়ারের রহস্য উদঘাটনের।

মুভিটি পার্সোনা ৩ গেমের অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন, এছাড়া পার্সোনা ৪ নামে একটি অ্যানিমেও আছে। আমি গেমটি খেলিনি, তাই অ্যাডাপ্টেশন কেমন সে ব্যাপারে আমার ধারণা নেই। অ্যানিমেটি দেখেছি, সেখানে মূলত হাইস্কুল লাইফের পাশাপাশি রহস্য ও একশন দেখানো হয়।

অপরদিকে এই মুভিটির থিমটা বেশ ডার্ক, আর সেকারণে এটি অনেক টানটান উত্তেজনা ধরে রাখে পুরোটা সময়। একশন সিনগুলো আমার অতিরিক্ত ভাল লেগেছে, ওদের ফাইট করার স্টাইলটা অনেক কুল ছিল। আর আর্টওয়ার্ক এবং সাউন্ডট্র্যাকও বেশ ভাল ছিল।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/…/persona-3-the-movie-1-spring-of…

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

 

Movie Time With Yami – 63

japan akira knight motor moto science fiction anime kaneda 1500x974 wallpaper_www.wall321.com_12

Name: Akira
Duration: 2 hr. 4 min.
MAL Score: 8.13
Ranked: 364
Genres: Action, Adventure, Horror, Military, Sci-Fi, Supernatural

এই মুভিটির রিভিউ/রিএকশন খোঁজ করার সময় আমি দেখেছি, দর্শকদের মাঝে এটি নিয়ে বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ এটাকে অন্যতম সেরা মুভিগুলোর একটি বলেন, তো কেউ আবার এটিকে তেমন একটা পছন্দ করেন না। তবে একটা কথা সত্যি, এই মুভিটি আসলেই অ্যানিমেটেড মুভির জগতে একটি মাইলফলকের মত, এবং ২৭ বছর আগের একটি ভবিষ্যত নির্ভর সাই-ফাই মুভি হিসেবে এর এক্সিকিউশন চমৎকার।

মুভিটি ২৭ বছর আগে তৈরি হলেও, এর পটভূমি আজ থেকে চার বছর পরে, ২০১৯ সালের জাপানে। ওয়ার্ল্ড ওয়ার ৩ এর পরে পেরিয়ে গেছে ৩১ টি বছর। জাপানে এখন চলছে অরাজকতা, দেশের শাসক শ্রেণীর মধ্যেও চলছে বিভিন্ন ধরণের গোপন এক্সপেরিমেন্ট।

এরকম সময়ে একটি তরুণ বাইকার গ্যাং এর সদস্য হঠাৎ মিলিটারীর এক্সপেরিমেন্টাল গিনিপিগে পরিণত হয়। তারা তার ওপরে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতা বৃদ্ধির পরীক্ষা চালায়। কিন্তু এই গবেষণা পরবর্তীতে ডেকে আনে এক ভয়াবহ বিপর্যয়, যা ঐ শুধু ঐ বাইকার গ্যাংকেই নয়, পুরো শহরকেই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়।

মুভিটির কাহিনী ভয়াবহ রকমের জটিল, আমি প্রথমবার দেখে কাহিনীর পুরোপুরি বুঝতেই পারিনি, অন্যদের সাথে আলোচনা করে এবং রিভিউ/এক্সপ্লানেশন পড়ে বোঝা লেগেছে। তাই মুভিটি দেখার পরে আমি বুঝতে পারছিলাম না রিএকশন কি হওয়া উচিৎ। কিন্তু পরে এটি নিয়ে গবেষণা করার পরে কাহিনীটা আমার খুব ভাল লেগেছে, তাই আমি এটা সবাইকে দেখতে সাজেস্ট করি। আশির দশকের অ্যানিমে, তাই আর্টওয়ার্কটাও ঐ আমলের মতই, অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে, তবে কাহিনীর জন্যে এটা কনসিডার করা যায়। সাউন্ডট্র্যাক আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে, আর শেষের দিকে একটা বিরক্তিকর শব্দ বেশ অনেকক্ষণ ধরে চলে, সেটা বেশ কানে লেগেছিল।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Akira

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 62

earthsea

Name: Tales from Earthsea / Gedo Senki
Duration: 1 hr. 55 min.
MAL Score: 7.21
Ranked: 2464
Genres: Adventure, Fantasy, Magic.

বলা হয়ে থাকে, চাপ নিয়ে কাজ করলে সেই কাজটা নাকি ভাল হয়। কোন একটা কাজের ওপর যখন মানুষ ভরসা করে থাকবে, সেই কাজটা ভালভাবে করার স্পৃহা তত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু, অনেক সময় দেখা যায়, বেশি প্রত্যাশার পাহাড় মাথায় নিয়ে মানুষ ভেঙে পড়ে। গেদো সেঙ্কি মুভিটার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তাই হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

মুভিটি বানানো হয়েছে তিনটি উপন্যাসের কাহিনী একত্রিত করে। স্টুডিও জিবলীর ব্যানারে তৈরি এ মুভিটি বিখ্যাত পরিচালক হায়াও মিয়াজাকির পুত্র গোরো মিয়াজাকির ডেবিউ ফিল্ম। সবমিলিয়ে মুভিটির ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল আকাশছোঁয়া, এবং খুব সম্ভবত এটিই কাল হয়েছে মুভিটির জন্য।

স্টোরির শুরুটা বেশ প্রমিজিং। হঠাৎ করেই রাজ্যে দেখা দেয় অভাব অনটন, রাজ্যের মানুষের আচার আচরণে আসে পরিবর্তন, এবং রাজ্যে ড্রাগনের দেখা পাওয়া যেতে থাকে। তবে কি শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে? রাজ্যের রাজকুমার এক ভয়াবহ অপরাধ করে রাজ্যছাড়া হল। দিশেহারা এ বালকের সাথে দেখা হল জাদুকর স্প্যারোহক এর। কিভাবে এতগুলো রহস্যের সমাধান হবে?

শুরুটা খুব প্রমিজিং হলেও মুভিটি পরবর্তীতে এই প্রমিস রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কাহিনীটা কিছুদূর আগানোর পর কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যায়, কোথা থেকে কি হচ্ছে বুঝতে বেগ পেতে হয়। কোন চরিত্রই মনে রাখার মত লাগেনি। এন্ডিংটা ভাল করেছে, তবে অনেক রহস্য অমীমাংসিত রেখে, এটা বেশ হতাশার ব্যাপার।

তাহলে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, এত সমস্যাযুক্ত মুভি তাহলে কেন দেখব? অবশ্যই দেখার পক্ষেও যুক্তি রয়েছে। মুভিটির আর্ট খুবই চমৎকার, প্রতিটা দৃশ্যে যত্নের ছাপ স্পষ্ট। স্টুডিও জিবলীর আর্টের মর্যাদা রাখতে পেরেছে এটি। আর সেইসাথে রয়েছে মনোমুগ্ধকর ওএসটি। এগুলোর কারণে শেষপর্যন্ত মুভিটি অন্তত উপভোগ্য হয়েছে। আপনি যদি প্রশ্নের ঝাঁপিটা বন্ধ রেখে দেখতে বসেন, সময়টা খারাপ কাটবে না।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Tales-from-Earthsea

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 61

ocean-waves

Name: The Ocean Waves / Umi ga Kikoeru
Duration: 1 hr. 12 min.
MAL Score: 7.01
Ranked: 3124
Genres: Drama, Romance, School, Slice of Life

মোরিসাকি তাকু একজন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। তার বাড়ি জাপানের সমুদ্র তীরবর্তী শহর কোচিতে। হাইস্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্যে সে টোকিও থেকে কোচিতে ফিরে আসার সময়টায় মুভির কাহিনী শুরু। তাকু মনে করতে থাকে তার হাইস্কুলের দিনগুলোর কথা, তার বন্ধুদের কথা, এবং তার প্রথম প্রেমের স্মৃতির কথা।

মুভিটির কাহিনী কিছুটা টিপিক্যাল হাইস্কুল প্রেমকাহিনীর মত, কিন্তু এখানে মিষ্টি মিষ্টি ভাবটা একেবারেই অনুপস্থিত, বরং কিছুটা কাঠখোট্টা এবং রূক্ষ ভাব রয়েছে। হাইস্কুল ছাত্রদের জীবনের নির্মম দিকটায় বেশি ফোকাস করা হয়েছে মুভিটাতে, আবার একইসাথে কিছু রোমান্টিক এবং হালকা দৃশ্য দিয়ে কাহিনীটাকে হালকা করতে চেষ্টা করা হয়েছে।

স্টুডিও জিবলীর আর্ট সবসময়ই সুন্দর, কিন্তু এই মুভিটির আর্ট আমার তেমন ভাল লাগেনি। ক্যারেক্টারগুলো এক্সপ্রেশনলেস, তাই সিরিয়াস কনভার্সেশনের সময় দেখে বেশ অস্বস্তি লেগেছে। কাহিনীর পেসিং বেশ খাপছাড়া, তাই মাঝে একটু বোরিং লেগেছিল, তবে এন্ডিং দেখে ভালই লেগেছে। সাউন্ডট্র্যাক ভাল, দেখা চালিয়ে যেতে বেশ সাহায্য করেছে।

সবকিছু মিলিয়ে মুভিটি আমার খুব ভাল লেগেছে বলতে পারব না, তবে একেবারে দেখার অনুপযোগীও লাগেনি। তাই, সাহস করে নিজ দায়িত্বে কেউ দেখতে চাইলে মানা করব না! tongue emoticon

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/The-Ocean-Waves

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

 

Movie Time With Yami – 60

Name: xxxHOLiC Movie- Manatsu no Yoru no Yume
Duration: 1 hour
MAL Score: 8.05
Ranked: 465
Genres: Comedy, Drama, Mystery, Psychological, Supernatural

হলিক আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি সিরিজ, সেইসাথে এই মুভিটিও আমার খুব পছন্দের।এটি মূল সিরিজের কোন সিক্যুয়াল নয়, বরং একটি সাইড স্টোরি। তবে এটি দেখার আগে আপনারা অন্তত হোলিকের সিজন ১ দেখে নেবেন, চরিত্র পরিচিতি এবং কাহিনীর ধরণের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্যে।

ইউকো সানের শপে আরেকটি সাধারণ দিনের সূচনা, বরাবরের মত ওয়াতানুকিকে খাটিয়ে নিচ্ছে ইউকো সান ও মোকোনা। এমন সময় ইউকো সানের কাছে এসে পৌছল এক অদ্ভুত নিমন্ত্রণ পত্র। সেখানে বলা হয়েছে, ইউকো সানের সংগ্রহ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। সেটিকে সম্পূর্ণ করতে চাইলে সে যেন দাওয়াত গ্রহণ করে নির্ধারিত বাড়িতে চলে আসে। কৌতুহল এবং রহস্যের হাতছানি দেখে দৌমেকি এবং ওয়াতানুকিকে নিয়ে ইউকো সান হাজির হলেন সেই রহস্যময় নিমন্ত্রণকারীর বাড়িতে।

মুভিটির কাহিনী হলিক অ্যানিমেটির মতই রহস্যময়তা এবং উত্তেজনায় ভরপুর, কাহিনীটির সেটিং দেখলে প্রথমে মনে হতে পারে গতানুগতিক হরর মুভির সেটিং, কিন্তু পরবর্তীতে কাহিনীটি অত্যন্ত দারুণ মোড় নেয়। আর্টওয়ার্ক এখানে অনেক ইমপ্রুভড, ওয়াতানুকির লাফালাফি আরও ফ্লেক্সিবল হয়েছে! সাউন্ডট্র্যাক অ্যানিমের মতই চমৎকার, মুভির কাহিনীর সাথে সুন্দরভাবে মানিয়েছে। আর সেইসাথে সারপ্রাইজ হিসেবে রয়েছে ক্ল্যাম্প ভার্সের ক্রসওভার!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/xxxHOLiC-Manatsu-no-Yoru-no-Yume

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!