The Secret World of Arrietty রিভিউ – আসিফুল হক

“আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো
ছোট ঘাসফুলের জন্যে
একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে
উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে
একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে

আমি সম্ভবতখুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
এক কণা জ্যোৎস্নার জন্যে
এক টুকরো মেঘের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো টাওয়ারের একুশ তলায়
হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজাপতির জন্যে
এক ফোঁটা সবুজের জন্যে”

দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারটা আসলে খুব মজার। কিভাবে দেখা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে একটা ঘটনাই একেক জনের কাছে একেক রকম ভাবে ধরা দিতে পারে। প্রতিদিনকার উঠোন, ঘাস, দুর্বোলতা কিংবা চিলেকোঠার ছোট্ট পুতুল খেলার ঘরটাই হয়ে উঠতে পারে সুবিন্যস্ত মই, বিস্তীর্ণ জঙ্গল অথবা ছোট্ট সুখের সংসার।

“The Secret World of Arrietty” বিলুপ্তপ্রায় ছোট মানুষদের একটা পরিবারের গল্প; ছোট্ট, সুন্দর, ছিমছাম। বাবা, মা আর ১৪ বছরের আরিয়েত্তিকে নিয়ে এই ছোট মানুষদের পরিবারের বাস শহরতলীর একটা বাগানবাড়ির কুলুঙ্গিতে, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে। সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে তাদের অগোচরে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ধার করেই এদের জীবন-যাপন। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় যখন শো নামের একটা বালক এসে উপস্থিত হয় সেই বাড়িতে; এবং ঘটনাক্রমে আরিয়েত্তিকে আবিষ্কার করে। এক অদ্ভুত কিন্তু অনন্য সাধারণ বন্ধুত্বর সুচনা হয় এদের মাঝে; যেটা কিনা দিনশেষে আরিয়েত্তির পরিবারকে বিপদের মুখেই ঠেলে দেয় এক রকম।

মুভির সবচেয়ে চমৎকার দিকটা বোধহয় ছোট মানুষদের অস্তিত্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য ছোট ছোট দিকগুলোর দিকে দেওয়া প্রচন্ড মনোযোগ। আরিয়েত্তিদের জীবনযাপনের এবং মানুষের কাছ থেকে ধার করার সময় তাদের বাড়িতে সহজে চলাচলের সৃজনশীল অথচ খুবই সহজ পদ্ধতিগুলো ছিল রীতিমত মুগ্ধ করার মতন; মাছ ধরার হুক থেকে শুরু করে ডাবল সাইডেড স্কচটেপ কিংবা ছোট ছুরি থেকে শুরু করে একটা পিন – প্রত্যেকটা জিনিস ছোট মানুষদের চরিত্রগুলোকে দেয় আলাদা মাত্রা।

সাউন্ডট্র্যাকগুলো এক কথায় অসাধারণ। প্রত্যেকটা মিউজিক পিস আমার খুব খুব খুব বেশি পছন্দ হইসে। আর এনিমেশন? দুর্দান্ত ! এনিমেশনের দিক থেকে আমার দেখা কোন জিবলী মুভিই এক বিন্দুও ছাড় দেয় নাই; এইটাও না। বাড়ির পিছনের উঠোন অথবা শান্ত জলস্রোত – সবকিছু এত উজ্জ্বল আর এতো ভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে যে ৯০ মিনিটের পুরোটা সময় স্ক্রিনের সামনে আঠার মতন আটকে রাখবে।

মুভির দুর্বলতার দিকটা বোধহয় সংঘাতের অনুপস্থিতি আর আর ভিলেন চরিত্রের প্রায় কমিকাল রুপ, যেটা মুভির অন্তরদন্দকে আরো ম্লান করে দেয়। ছোট মানুষদের প্রতি হারুর কি এত ক্ষোভ ছিল যে তাদের ধরে ধরে বয়ামে পুরে রাখতে হবে? শুধু “তারা বাসা থেকে জিনিসপাতি চুরি করে; আমার ধারনা” লাইনে এইরকম ঘটনা পুরোপুরি জাস্টিফাই হয়ে যায় না। এর বাইরে পুরো মুভির সবচেয়ে এক্সাইটিং মোমেন্ট বোধহয় ছিল মানুষ আর একটা কাকের মাঝে ছোট্ট একটা যুদ্ধ – ব্যাপারটা বেশ খানিকটা হতাশাজনকই বটে। আরিয়েত্তি একটা পিনকে তলোয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে; যদিও পুরো মুভিতে কখনই তা ব্যাবহারের প্রয়োজন পরে নি; কারণ তার শত্রুরা কম বেশি অজানা; এবং কেউই পিনের গুতো খেয়ে কুপকাত হবার মতন নয়। আরিয়েত্তির কিছু সিদ্ধান্ত খুব একটা মেক সেন্স করে না; শো যখন তাকে দেখে ফেলসে বলে মনে হল তখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সে কি করল? সরাসরি ফেইস টু ফেইস দেখা করে তাদের বিরক্ত করতে মানা করল ! কেন? কি বুঝে সে এই কাজ করল যখন তার বাবা মা তাকে ছোট বেলা থেকে যদি একটা শিক্ষাই দিয়ে থাকে তাহলে সেটা ছিল মানুষের ধারে কাছেও না যাওয়া এবং তারা প্রচন্ড রকমের ভয়ঙ্কর? এছাড়া মুভিটা অনেক জায়গাতেই অনেকের কাছে কিছুটা স্লো মনে হতে পারে; যদিও আমার কাছে স্বাভাবিকই লেগেছে।

সামগ্রিক বিচারে গভীর ভাব অথবা রুপক বর্জন করে আরিয়েত্তি বুঝি ঐন্দ্রজালিক এক রুপকথাই হতে চেয়েছে শেষতক। যদি তাই হয়ে থাকে তবে মুভিটা পুরোপুরি সার্থক তার আবেদনে। জিবলীর মুভিগুলো সবসময়েই আমাদেরকে সাথে করে অভিযানে বেরিয়ে পড়ে; কখনও বড় পরিসরে; কখনও বা একেবারে ক্ষুদ্র সীমায়। আরিয়েত্তি দুটো কাজই করেছে এই মুভিতে; পুরোপুরি সফলতার সাথেই। আর কিছু না হোক; দেড় ঘন্টার জাদুকরী অভিযান শেষে মুখের কোনে যে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠবে আপনার, আরিয়েত্তিকে অন্ততপক্ষে ভালবেসে ফেলবেন তার সরলতার জন্য, তার অভিযানগুলোর জন্য, লুকিয়ে থাকা বিষণ্ণতা কিংবা শো এর সাথে অদ্ভুত কিন্তু মিষ্টি বন্ধুত্বর জন্য; সে কথা বোধকরি লিখে দেওয়াই যায় !  🙂

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৬: Hotaru No Haka — Amor Asad

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

Hotaru No Haka (1988)
Genre: War Drama
Imdb: 8.5
MAL: 8.6
Rotten Tomatoes: 97%

যুদ্ধবিরোধী ধ্যানধারণায় নির্মিত সর্বকালের সেরা সিনেমাসমূহের মধ্যে Hotaru No Haka (Aka Grave of the Fireflies) (1988) এর নাম উচ্চারিত হয়েছে বারংবারই। ফিল্ম ক্রিটিকরা হয়েছেন প্রশংসায় পঞ্চমুখ, দর্শকরাও মজেছে সমানতালে।

Hotaru No Haka’র গল্প একমুখী এবং সরল। কাহিনীর সময়কাল ১৯৪৫ সালের জাপান, ওসাকা বে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন সমাপ্তির দোরগোড়ায় পৌছে গেছে প্রায়। শুরুটা হয় ন্যারেটিভ ভঙ্গিমায়, সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রের একজন Seita’র কাছে জানা যায় তার নিজের মৃত্যুর কথা। Seita এখানে  আত্মিক স্বত্বা, বাকি সিনেমা জুড়ে Seita’র বর্ণনায় দর্শক দেখতে পায় মৃত্যুর আগ অবধি Seita’র জীবনের ঘটনাবলী।

তৎকালীন জাপানে এমন একটা সময় চলছিল যখন মিত্র বাহিনীর অ্যামেরিকান আর্মি নিয়মিত আকাশ পথে আগুনে-বোমা মারত জাপানের শহর গুলিতে। মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকা জাপানী অধিবাসীরা সাইরেন বাজতেই জীবন বাঁচাতে পড়িমরি করে ছুটতো বম্ব-শেল্টারে। তবে সবাই যে যথাসময়ে শেল্টারে পৌছনোর মতো ভাগ্যবান ছিল না, সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার দরকার পড়েনা। এমনই একটা শহরের লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া হাজারো পরিবারের একটা Seita’দের পরিবার। বাবা যুদ্ধে, মা বোমা হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত শহরে ছোট বোন Setsuko কে নিয়ে Seita’র জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই।

যুদ্ধকালীন সময়ের কঠিন জীবনের কোন তুলনা হয়না, কল্পনাকেও হার মানায়। সাহায্য পাবার আশা প্রায় নিরাশার সমতুল্য।  Seita’র জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতাও তাই তার জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি। তবু হাল ছাড়ার পাত্র নয় সে, নিজে যেমন তেমন, প্রাণপ্রিয় ছোট বোনের দরকারগুলো নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, একরোঁখা। Seita’র চরিত্রের আত্মসম্মানবোধ, স্নেহপ্রবণতা, দায়িত্ববোধ যেকোন দর্শক হৃদয়কে আন্দোলিত করবে।

Hotaru No Haka’র বড় বৈশিষ্ট্য এতে রাজনৈতিক কোন প্রোপ্যাগান্ডা নেই, যুদ্ধে কে সঠিক, কে বেঠিক, কে জয়ী কে বিজেতা – এসবের কোন ধার ধারেনি। মূলত এটা একটা সেমি-অটোবায়োগ্রাফি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান অধিবাসী এক কিশোরের নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী সম্বলিত লেখার উপর নির্ভর করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটা। সম্পূর্ণ গল্পটাই যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং মানবসমাজে তার প্রভাব নিয়ে। মুভিটা কারো দিকে আঙ্গুল তোলে না, স্রেফ অনুধাবন করতে বলে। যুদ্ধবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশে তাই পুরোপুরি সফল বলতে হবে।

পুরো মুভি জুড়েই ছোট ছোট কিছু দৃশ্য বিশেষভাবে নজর কাড়ে। পাঁচ বছরের পিচ্চি মেয়ে Setsuko’কে করাল বাস্তবতার কুৎসিত রূপ থেকে নিষ্কলুষ রাখতে বড় ভাই Seita’র প্রচেষ্টাগুলো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিত্য নৈমত্তিক ব্যপার হলেও সিনেমার প্রেক্ষাপটে অতিমানবীয় রূপ নিয়ে দর্শকের সামনে আবির্ভূত হয়। আবার অন্য এক দৃশ্যে, জোনাকি পোকা নিয়ে Setsuko’র হাস্যোজ্জ্বল উৎসাহ এবং পরদিন পোকাগুলোকে কবর দেয়ার ছেলেমানুষী কাজটা মোটেই ছেলেমানুষী লাগে না। এ পর্যায়ে এসে সিনেমার নামকরণের কারণ এবং সার্থকতা দর্শক অনুধাবন করতে পারে যেন সহসাই।

শেষ করি নিজের একটা ঘটনা দিয়ে। অ্যানিমে পছন্দ করতাম না তেমন, আর্টগুলো ভালো লাগতো না। রটেনটম্যাটোসে অ্যানিমেশন লিস্টে পেয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেখা শুরু করেছিলাম Hotaru No Haka. লাইফ লং দৃষ্টিভঙ্গি এই এক অ্যানিমেই পালটে দিয়েছিল। যে প্রচণ্ড ভাবাবেগের সম্মুখীন করেছিলো এটা আমাকে, সেই অনুভূতির পুনরাবৃত্তি ঘটেনি আগে-পরে কখনও। মোশন পিকচারে কোন জ্যন্ত মানুষ ছাড়াই এত শক্তিশালী ভাব প্রকাশ করা সম্ভব ভাবিনি আগে। নিজেকে তিরস্কার করেছিলাম সমৃদ্ধ এক শিল্প থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখার জন্যে। বিখ্যাত ফিল্ম ক্রিটিক Rodger Ebert যেন যথার্থই বলেছিলেন, “Grave of the Fireflies” is an emotional experience so powerful that it forces a rethinking of animation.

আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৯.৫/১০

36 Grave-of-the-fireflies

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২৭: Hadashi no Gen (Bearfoot Gen) — Rafid Rahim

নামঃ Hadashi no Gen(Bearfoot Gen) [Movie]
জনরাঃTragedy,Drama,Historical
MAL  rating:  7.96

লিঙ্কঃ http://kissanime.com/Anime/Hadashi-no-Gen

৬ অগাস্ট,১৯৪৫ মানব জাতির ইতিহাসের সব চেয়ে ভয়াল দিন। এইদিনে জাপানের হিরশিমা শহরের বুকে নরক নামিয়ে আনা হয়েছিল। সেই ভয়াবহ দিনের কিছু মর্মান্তিক ঘটনা এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।

স্টোরিঃ

গল্পটি প্রধান ক্যারেক্টার একজন দুরন্ত বালক গেন(Gen) কে ঘিরেই। গেন তার পরিবার এর সাথে হিরোশিমা শহরে বাস করে।তার পরিবারে রয়েছে তার বাবা-যিনি পরিবার এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে খাদ্য যোগায়,তার ছোট ভাই সিনজি-যে সারাদিন গেন এর সাথে খেলা-ধুলায় মেতে থাকে,তার বড় বোন-যে শান্তশিষ্ট ও দায়িত্বশীল  এবং তার মা- যিনি জন্ম দিতে যাচ্ছে তাদের ৪র্থ সহোদর।অত্যন্ত অভাব-অনটন এর মধ্যে থাকলেও তারা সুখেই দিন কাটাত।

৬ই আগস্ট,নিত্য দিনের মত সে দিন সকালবেলাও তারা ঘুম থেকে উঠে তাদের নিত্য কাজকর্ম করতে শুরু করে,গেন তার স্কুল এর উদ্দেশে রউন হয়।

সকাল ৮টা বেজে ১৫মিনিট, “ইনলা গে” নামক বি২৯ বোমারু বিমান থেকে “লিটল বয়” হিরশিমা শহরের কেন্দ্রে নিক্ষেপ করা হোল। প্রকাণ্ড বিস্ফোরণে পুরো শহর তছনছ হয়ে গেল,মুহূর্তেই নিভে গেল হাজারো প্রাণ, শহরের একটিও দালানকোঠা অবশিষ্ট থাকল না।

হাল্কা কিছু ধ্বংসস্তূপ এর নিচে চাপা পরে গেন তার জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফেরার পর সে নারকীয় দৃশের সাক্ষি হয়। চারিদিকে শুধুই ধ্বংসস্তূপ এবং আহাত মানুষের হাহাকার। ক্ষতিকর তেজক্রিয়া এর আঘাতে মানুষের চামড়া পুড়ে এমন অবস্থা হয়েছে যে তাদের মানুষ বলে আর চেনা যাচ্ছে না।স্তূপ এর নিচে চাপা পরে আছে অনেকে,তাদের সাহায্য করার কেউ নেই।

গেন তার পরিবার এর কথা চিন্তা করে দৌড়ে তার বাসার দিকে রউনা হয়।তার পরিবার এর সবাই বেঁচে আছে কি? তারা কি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে?……স্পইলার না দিয়ে এখানেই বর্ণনা সমাপ্ত করলাম।

অ্যানিমেশন: মুভিটি ১৯৮৩ সালে বানানো হয়েছে তাই অ্যানিমেশনটাও সে সময় এর সাথে মানানসই । তবে এতে কিছু graphic দৃশ্য  রয়েছে। বিস্ফোরণ এর প্রতিক্রিয়া,তেজক্রিয়া এর সংস্পর্শে মানুষ এর চাপড়া বিকৃত হয়ে যাওয়া,আহাত মানুষের হাহাকার ও গোঙানি ইত্যাদি দৃশ্য ভয়ানক ভাবেই ফুটিয়ে তলা হয়েছে।

কেন আপনি এই আনিমে দেখবেন?

“Grave of fireflies” এর সাথে এই মুভি এর অনেক মিল আছে।সুতরাং যারা “Grave of fireflies দেখে অশ্রু ঝেড়ে ছিলেন,তারা এই মুভিটি দেখার আগে অবশই একটি টিস্যু বক্স নিয়ে বসবেন অশ্রু মুছার জন্য। এই মুভিটি শুধু পরমানবিক অস্ত্রের ভয়াবহতাই দেখানো হয়নি,সেই সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সতর্ক বার্তাও পাঠানো হয়েছে ।তাছাড়া দুর্ঘটনা পরবর্তী মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং অতীত কে পিছে ফেলে নতুন জীবন গড়ার অপ্রাণ চেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে।

মুভিটি অনেক ভাল হলেও তা “Grave of Fireflies” এর ছায়ায় পোরে আন্ডার রেটেড হয়ে আছে। অনেকের মতে, কিছু দিক দিয়ে এই মুভিটি GoF কেও ছাড়িয়ে যায় ।

সব মিলিয়ে বলা যায়,এই মুভিটি একটি আন্ডার রেটেড মাস্টারপিস বটে।

27 Hadashi no Gen

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২৪: Children Who Chase Lost Voices from Deep Below — Amor Asad

Children Who Chase Lost Voices from Deep Below (2011)
Original Title: Hoshi wo Ou Kodomo
Mal: 7.87

সম্ভবত সবারই একটা গল্প থাকে, গল্পগুলির মধ্যে মিল থাকার প্রতিশ্রুতি নেই; তবে সব গল্পেই আছে ইচ্ছে পূরণের আকুতি। জীবনের প্রায় পুরোটা সময় আমরা একে অন্যের উপর নির্ভরশীল হই, কারণে অকারণে, চেতনে অবচেতনে। কিন্তু দিনশেষে সবার লক্ষ্য আলাদা, চাওয়া পাওয়া গুলোও। কারোটা হয়ত কষ্টসাধ্য, কারোটা ধোঁয়াশা মাত্র। তবু স্বপ্ন পূরণে মানুষ অক্লান্ত চেষ্টা করে যায়। এটাই জীবনের সৌন্দর্য্য, এতেই জীবনের মহত্য।

Children Who Chase Lost Voices (2011) অ্যানিমের দর্শন বোধকরি অনেকটা কাছাকাছি। পিতৃহীন কঠিন পরিবেশে বড় হয়ে ওঠায় আর দশজন থেকে Asuna’র জন্যে বরং চারপাশের জগতের উপর নিয়ন্ত্রণ একটু বেশিই, তবু অপ্রাপ্তি আর আকাঙ্ক্ষা তার চরিত্রের বড় একটা অংশ। অচেনা কোন জগত থেকে উদয় হওয়া Shunঅথবা, ভারপ্রাপ্ত রহস্যময় শিক্ষক Morisaki’র গল্পেও আকাঙ্ক্ষার প্রবল আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

গল্পের দিক দিয়ে Hoshi wo Ou Kodomo এককথায় অনন্যসাধারন। মনে আছে, ছেলেবেলায় ছোটখাটো যন্ত্রাংশ, মটর চালিত নৌকা ইত্যাদির উপর দারুণ আগ্রহ ছিলো। এই নিয়ে পড়ে থাকতাম। হোমমেইড রেডিওটা দেখে ছটফটে, কৌতূহলী মেয়ে Asuna’কে তাই সহজেই ভালো লেগে গেলো। স্কুল ছুটি, দে ছুট… পাহাড়ের ঢালে তার ব্যক্তিগত ছোট্ট এক ঘর আর তার ভিতর ঠাসা দুনিয়ার জিনিষপত্র। পাশের টিলায় প্রতিদিন শেষ বিকেলের রোদে পা এলিয়ে দিয়ে রেডিওটায় সুর খুজে বের করা Asuna’র সখ। কে জানত রেডিওতে অচেনা, অন্যরকম এক সুর তার সামনে অ্যাডভেঞ্চারের এক নতুন দুনিয়া খুলে দিবে? Asuna’র পরিচয় হয় কিশোর Shun এর সাথে। শীঘ্রই Asuna জানতে পারে Shun এজগতের কেউ না, বরং সবাই যাকে রুপকথাত জগত ভাবত, সেই আগাথা বা পাতালপুরী থেকে এসেছে। কথিত আছে, Agathaএমন এক যায়গা, যেখানে মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনা যায়। মৃত প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে যুগে যুগেAgatha’র ঠিকানা খুজে মরেছে মানুষ। ঘটনাক্রমে Shun’এর মৃত্যু হয়, শুরু হয় পাতালপুরীতে Asuna’র রোমহর্ষকর অভিযান। তবে এ যাত্রায় Asuna কিন্তু একা নয়।

অ্যানিমে নির্মাতা মাকোতো শিনকাই। এই লোকের রঙয়ের ব্যবহার বরাবরই মুগ্ধ করে। তার অ্যানিমেগুলোর আর্ট খুবই উঁচুদরের এবং দেখলে  যেন রীতিমত চোখের ব্যায়াম হয়, দারুণ প্রশান্তি লাগে। তার অন্য কাজ 5 Centimeters Per Second, Garden of Words  ইত্যাদির মতো এখানেও গ্রাফিক্সের কাজ দেখার মতো। যদি শুধু সিনেম্যাটোগ্রাফির দিক দিয়ে বিচার করতে বসি, Children who chase lost voices দশে পাক্কা দশ পাবে।  সেই সাথে আছে দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। কাহিনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে চেষ্টার কোন কমতি নেই যেন। আর মাকোতো শিনকাই’তো আছেনই তার পরিচালনার মুন্সিয়ানায় এ দু’য়ের সাথে গল্পের মিশ্রণ ঘটাতে।

কল্পনার পঙ্খীরাজ ওড়ানো ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার অ্যানিমের মধ্যেও শিনকাই সিরিয়াস কিছু দর্শন আর প্রশ্ন তুলেছেন। সত্যিই যদি মৃতের দুনিয়ায় গিয়ে আপনজনকে ফেরানো যেত,  আমরা কতখানি স্যাক্রিফাইস করে আপনজনের সাথে মিলিত হবার বাসনাকে উজ্জীবিত রাখতাম?

অথবা, নিজের বা নিজ জাতির আধিপত্য পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে কতটা মানুষের নিষ্ঠুরতা কেমন হতে পারে? ইতিহাসের স্বার্থান্বেষী, মারকুটে, মানবতার কলঙ্ক শাসকদের চরিত্রায়নও করেছেন পরিচালক একটুক্ষণের জন্যে।

যাইহোক, একেবারে খাঁটি সোনা কিন্তু নয় CWCLVFDB, ক্যারেক্টার বিল্ড আপে কিছু ত্রুটি ছিলো। প্রথমাংশ এবং ৩০ মিনিট পর যেভাবে দৃশ্যপট পালটে গেলো, একটু বেমানান লেগেছে। কোথাও যেন কাহিনী একটু জোর করে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে; আবার কোথাও ডায়লগ উপযুক্ত ছিলো না। তবে এসব যদি এড়িয়ে যাওয়া যায়, এটা নিঃসন্দেহে সেরা অ্যাডভেঞ্চার/ফ্যান্টাসি অ্যানিমের তালিকায় যায়গা করে নিতে পারবে। জিবলি স্টুডিওর Spirited Away এর মত এই অ্যানিমেটা একই ঘরানার। মিয়াজাকির স্পিরিটেড অ্যাওয়ে যারা পছন্দ করেছেন, তাদের জন্য অবশ্যই দেখতব্য।

আমার রেটিং ৮.৫/১০

24 Children Who Chase Lost Voices

Laputa: Castle in the sky – মুভি রিভিউ – আসিফুল হক

কি দেখলাম – Laputa: Castle in the sky
প্রোডাকশন হাউসঃ জিবলী
ডিরেক্টরঃ হায়ায়ো মিয়াজাকি

একটা দৃশ্যর কথা চিন্তা করুন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের হাতছানি শুরু হল মাত্র। হাতের কাজ শেষ করে সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন, বাড়ি ফিরবেন বলে। হটাত করেই ঈশান কোণে অদ্ভুত এক আলো দেখতে পেলেন। খানিকটা কৌতুহল নিয়েই আলোর উৎসের কাছাকাছি হতেই দেখতে পেলেন আকাশ থেকে নেমে আসছে ছোট একটা মেয়ে। তার গলায় জ্বলজ্বল করছে উজ্জ্বল এক মণীহার, যেটা মেয়েটাকে ধীরে ধীরে ভাসিয়ে নামাচ্ছে। দস্যুদল আর সেনাবাহিনী – সবাইই তাড়া করে ফিরছে মেয়েটিকে। কারণ মেয়েটির কাছে আছে আকাশে ভেসে বেড়ানো স্বপ্নের এক জগতের চাবিকাঠি; যে জগত অসীম ধনসম্পদের হাতছানি দেয় নিরন্তর।

ঠিক এমনই এক দৃশ্যপটকে ঘিরে শুরু হয় “Laputa: Castle in the sky” এর কাহিনী। ছোট্ট মেয়েটি শীলা, এবং তাকে উদ্ধার করা ছেলেটি পাযু। সেনাবাহিনী এবং জলদস্যু – দু’দলের ধাওয়া পালটা ধাওয়া, লাপুতার খোঁজ এবং শীলা পাযুর অভিযানের গল্প মিয়াজাকির এ মুভিটি।

লাপুতার জগত স্পর্শ করেছে অনেক কিছুই – যাদু থেকে উন্নত বিজ্ঞান; খুন কিংবা দস্যুতা; ছিল জোনাথন সুইফট থেকে লুইস স্টিভেনসন কিংবা হিন্দু পুরান থেকে শুরু করে বাইবেলের শ্রুতির রেফারেন্সও। রামায়ণের ইন্দ্রর তীর কিংবা ব্রিটিশ মাইনিং এর শহর; অথবা ইউরোপীয় ঘরানার দুর্গের ডিজাইন – মিয়াজাকি মুভিতে একগাদা রেফারেন্স ব্যাবহার করেছেন নিপুণ দক্ষতায়।

ম্যাজিক মুভির একটা বিরাট ফ্যাক্টর হলেও শুরুর অর্ধেক অংশ তা থেকে কম বেশি মুক্ত ছিল। এবং এ অংশে মুভিটা বেশি আকর্ষণীয়ও ছিল; অসাধারণ কিছুর জন্য না; বরং ছিমছাম সাধারণত্বে; স্বভাবী কিছু চরিত্রের গুণে। ছোটবেলায় বাবা মা হারানো খনিতে কাজ করা পাযু এমন এক এলাকায় থাকে যেখানকার লোকজন নিজেদের স্বার্থেই কম্যুনিটিকে সবার আগে জায়গা দেয়; বিরাট কষ্ট আর পরিশ্রমের মাঝেও তারা সুখী। ঘটনাক্রমে পাযু জড়িয়ে পরে এমন এক ঘটনায়; যা তার বহুদিনের দেখা স্বপ্নের রাস্তাতেই তাকে দাঁড় করিয়ে দেয়।

বৃহত্তর গন্ডীতে লাপুতা আমাদের জীবনেরই গল্প; শীতা এবং পাযুকে আমরা পাই শত লোভ, স্বার্থপরতা আর ক্ষমতার দড়ি টানাটানির মাঝেও নিজেদের নিষ্পাপ সত্তা ধরে রাখতে; অন্যদিকে মুস্কা এবং সেনাবাহিনী যেন মনের অন্ধকার জগতের প্রতিচ্ছবি। এর মাঝে সবচেয়ে বাস্তব চরিত্র বোধহয় দস্যুদল; বিশেষ করে তাদের লিডার ডোরা। এরা সম্পদ লুটে নেবার জন্য ঘুরে বেড়ায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়; কিন্তু আবার দুটো বাচ্চাকে দলে আশ্রয় দেয় পরম মমতায়।

পুরো মুভিতে গল্প যথেষ্ট সরল; এবং টার্গেট অডিয়েন্সের কথা মাথায় রাখলে খুব চমৎকারভাবেই সেই মুভির চিত্রায়ন হয়েছে। জিবলীর নিজস্ব আর্টস্টাইল এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এই মুভিতেও ছিল বরাবরের মতনই। সাদামাটা মাইনিং শহর থেকে সবুজে পূর্ণ স্বপ্নের নগরে স্থানান্তর মুভিটি সামলেছে দক্ষতার সাথেই। মুভিটা শেষ করে ম্যালে গিয়ে আমি রীতিমত চমকে উঠেছিলাম সালের ঘরে ১৯৮৬ লেখা দেখে। আমাকে বেশ কয়েকবার ঠিকভাবে দেখে নিশ্চিত করতে হয়েছে যে আমি ভুল দেখছি না; এতটাই চমৎকার ছিল এনিমেশন। মিউজিকও যথেষ্ট ভাল ছিল; ইমোশনাল জায়গাগুলোতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো যথার্থই ছিল। এছাড়া শেষ গানটা তো খুবই প্রিয় হয়ে গেছে এর মধ্যেই !

তবে দু’ঘন্টার এ মুভিটা যে গল্প বলা শুরু করেছিল; সেটাতেই সত্য থাকার চেষ্টা করেছে; যে কারণে অনেক বড় প্রশ্নেরই আসলে উত্তর মেলে নি মুভিটায়। লাপুতা কেন জনমানবশুন্য ছিল কিংবা শীলার অতীতে কি ঘটেছিল এবং মুস্কাই বা কি করে পৃথিবীতে ছিল, কতদিন ধরে ছিল; সে লাপুতা সমন্ধে এতো কিছু জানলো কি করে – এসবের কিছুই জানা যায় নি মুভিটায়। এছাড়া শীলা একগাদা স্পেল জানলেও সেগুলোর কোনটাই ব্যাবহারের চেষ্টা করে নি পুরো মুভি জুড়েই। লাপুতা কি করে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করবে কিংবা অতীতেই বা কি করে করেছিল – এ ধরণের কোন সুত্রও মুভিটা আমাদের দেয় না।

শেষ কথা; হাতে ঘন্টা দুয়েক সময় আর সুন্দর ছিমছাম গল্প, মনোমুগ্ধকর আর্ট আর চমৎকার পেসিং এর একটা মুভি দেখার ইচ্ছে থাকলে জিবলীর যে কোন মুভিই সবসময়েই ভাল একটা চয়েস। লাপুতাও তার ব্যাতিক্রম কিছু না।

Movie Time With Yami – 59

Mononoke.Hime.full.1474844

Name: Princess Mononoke / Mononoke Hime
Duration: 2 hr. 10 min.
MAL Score: 8.81
Ranked: 24
Genres: Action, Adventure, Fantasy

বিখ্যাত ডিরেক্টর হায়াও মিয়াজাকি সম্পর্কে একটা কথা প্রচলিত আছে, তিনি সভ্যতা পছন্দ করেন না। ইট, কাঠ, পাথরের অট্টালিকা এবং যান্ত্রিক পৃথিবীর বদলে তিনি সবুজ বনাঞ্চল এবং গ্রামীণ স্নিগ্ধ পরিবেশ বেশি পছন্দ করেন। আর তার এ পছন্দের ছাপ পাওয়া যায় তার পরিচালিত অনেক মুভিতেই। প্রকৃতি ও পশুপাখির কষ্ট, তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়ে অত্যন্ত শৈল্পিক উপায়ে কাহিনী বর্ণনা করেছেন তিনি মুভিগুলোতে। দর্শককে বাধ্য করেছেন সভ্যতার দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাতে। তেমনই এক গল্প রাজকুমারী মোনোনোকের, হায়াও মিয়াজাকি পরিচালিত স্টুডিও জিবলীর বিখ্যাত মুভিগুলোর একটি।

গহীন বনের ভেতরে বাস করে এক আদিবাসী গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর ওপর একদিন অতর্কিতে হামলা চালায় এক রোগাক্রান্ত বন্য শূকর। গোত্রের রাজকুমার আশিতাকা মুখোমুখি হয় সেটির, শূকরটিকে হত্যা করে নিজের গোষ্ঠীকে বিপদ থেকে রক্ষা করে সে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে আশিতাকার হাতে কামড় দিয়ে এক অভিশপ্ত ক্ষত সৃষ্টি করে দেয় শূকরটি মরার আগে।

গোত্রের নিয়ম অনুযায়ী আশিতাকাকে নির্বাসনে যেতে হয় নিজের শরীরে প্রবেশ করা অভিশাপের প্রতিকার খুঁজতে। নিজের এলাকা থেকে অনেক দূরের পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরতে থাকে সে, আর দেখতে থাকে বিভিন্ন এলাকার পশুপাখিদের দুরবস্থা। একসময় সে এসে হাজির হয় একটি শহরে, যেখানে গোলাবারূদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হয় আশেপাশের বনাঞ্চলের ক্ষতি করে। আশিতাকা কি পারবে এই শহর ও বনাঞ্চলের মাঝে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে? তার নিজের সময়ও যে খুব জলদি শেষ হয়ে আসছে!

মুভিটির আর্টওয়ার্ক স্টুডিও জিবলীর অন্যান্য মুভিগুলোর মতই ছিমছাম, পরিপাটি, বনাঞ্চলের দৃশ্যগুলো খুব চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। আমার ভাবতেও অবাক লাগে, ১৯৯৭ সালের একটি মুভির আর্টওয়ার্ক কিভাবে এত সুন্দর হয়। সাউন্ডট্র্যাক মানানসই, সেইসাথে চরিত্রগুলো খুব সহজেই আপন করে নেয়ার মত।

মুভিটি জিবলী ফ্যানদের কাছে পুরো পৃথিবী জুড়ে অত্যন্ত সমাদৃত, এর রেটিংও তাই বলে, তবে শেষের দিকে আমার কাছে কাহিনীটা কিছুটা খাপছাড়া লেগেছে। সেটুকু বাদ দিলে বেশ ইন্টারেস্টিং একটি মুভি, হাতে সময় থাকলে দেখে ফেলতে পারেন, সময়টা ভালই কাটবে আশা করি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Mononoke-Hime

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

The Wind Rises: মুভি রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

কি দেখলামঃ The Wind Rises
প্রোডাকশন হাউসঃ জিবলী।
ডিরেক্টরঃ হায়াতো মিয়াজাকি।

ইতালীয় বৈমানিক নকশাকার কাপ্রনি দ্বারা অনুপ্রাণিত জিরোর ছোটবেলার স্বপ্ন পাইলট হবার পথে বাদ সাধে তার চোখের সমস্যা। এতে দমে না গিয়ে জিরো বরং এয়ারপ্লেন ডিজাইনকে তার জীবনের লক্ষ্য হিসেবে ঠিক করে নেন। ১৯২৭ সালে তিনি যোগ দেন জাপানিজ এক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির এয়ারক্রাফট ডিভিশনে। এবং খুব দ্রুতই তার প্রতিভার সাক্ষর রেখে এই ধারার একজন পুরোধা ব্যাক্তি হয়ে উঠেন।

জিরোর জীবনের ঘটনাপ্রবাহের সাথে সাথে এই মুভি বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা সমান্তরালে বর্ননা করে; যেমন – ১৯২৩ এর কান্তো ভুমিকম্প, যক্ষ্মার মহামারী, এবং জাপানের যুদ্ধে জড়িয়ে পরার গল্প। এর পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই নাওকোকে; জিরো যার প্রেমে মুগ্ধ হন এবং পরবর্তীতে বিয়ে করেন। এছাড়া জিরোর বন্ধু এবং সহকর্মী হোঞ্জোর সাথে তার চমৎকার সম্পর্ক এবং তৎকালীন জাপানের অনেক চিত্রই উঠে এসেছে এই মুভিতে।

wind rises 1

ব্যাক্তিগতভাবে আমি জিবলীর মুভির খুব বড় ভক্ত না। কারণ দর্শক হিসেবে আমার সাধাসিধে ছিমছাম গল্পই পছন্দ। খুব বেশি ভাবতে হয় এমন মুভির বদলে সকালে ঘুম থেকে উঠে বৃষ্টির সাথে এক মগ কফি খেতে খেতে একটা স্নিগ্ধ ভালবাসার গল্প দেখে ফেলায় আমি বরং বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জিবলীর মুভিগুলো আমার কাছে বড্ড “কঠিন” মনে হয়। সে কারণে আসলে দেখা হয়েছে খুব কমই। Wind rises ও তার ব্যাতিক্রম না। এখানে জিরোর জীবনের সাথে উঠে এসেছে একগাদা ঘটনা, ইতিহাস এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবন দর্শন আর ভালবাসা। জিবলীর মুভি তাই দেখতে হয় সন্তর্পণে; মুভির সাথে একাত্মা হয়ে। সেভাবেই দেখার চেষ্টা করলাম; এবং মুগ্ধ হলাম; আবারও।

যে কোন জিবলীর মুভির মতন এই মুভির আর্টস্টাইলও দুর্দান্ত; জলরঙ্গা ব্যাকগ্রাউন্ড এতো যত্নের সাথে আকা হয়েছে যে শুধু এনিমেশন দিয়েই এই মুভি যে কোন সমালোচনা উৎরে যাবে।

চরিত্র রুপায়নে এই মুভি সম্পূর্ণ মুন্সিয়ানাই দেখিয়েছে। প্রত্যেকটা সম্পর্কই স্বাভাবিক, সাধারণ, দৈনন্দিন জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন। সবগুলো চরিত্রই বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে সুন্দরভাবেই।

wind rises 2wind rises 3

মুভিটির সবচেয়ে বড় সমালোচনার দিক্টা বোধহয় আসবে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেই। পুরো মুভি জুড়েই জাপানীদেরকে যুদ্ধের ভিক্টিম হিসেবেই দেখানোর একটা সূক্ষ্ম চেষ্টা ছিল যেখানে জাপানিজ মিলিটারির সে সময়কারই যুদ্ধাপরাধের প্রচুর ইতিহাস একটু ঘাঁটলেই খুজে পাওয়া যায়। পুরো মুভি জুড়ে যুদ্ধবিমান বানানোর জন্য নানান রকম চেষ্টার বর্ণনা চলে এসেছে; কিন্তু সেই বিমানগুলোর ব্যাবহার মুভিতে খুব সুন্দরভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। জিরোকে আমরা দেখতে পাই তার চশমা এবং পরিপাটি কাপড়ে; খুব নম্র বিনয়ী তরুণ এক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে; যুদ্ধবিমান তৈরির আফটারম্যাথ যাকে মোটেও বিচলিত করে না; বরং মুভির মাঝখানে পিরামিডের সাথে তুলনা দিয়ে পুরো ব্যাপারটাকেই গ্লোরিফাই করার নিদারুণ একটা চেষ্টা ছিল। যেটা অনেকটাই আয়রনিক; কেননা জিরোর প্রথম যুদ্ধবিমান “জিরো” তৈরিতে মিতসুবিসি ব্যাবহার করেছিল কোরিয়ান এবং চীনা দাসদের। এছাড়া পুরো মুভি জুড়ে জার্মান এবং অন্যদের জাপানে বোম্বিং করা দেখানোর মাধ্যমে জাপানীজদের মধ্যে তারা “যুদ্ধের মদদদাতা নয়, বরং শিকার ছিল” ধাঁচের যে মেন্টালিটি বিদ্যমান (জাপান জার্মান এলায়েন্স বা “এক্সিস” যুদ্ধের একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল); সেটাকেই শৈল্পিক রুপ দেয় মাত্র।

পুরো মুভিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব বেশি সাসপেন্স, খুব বেশি টেনশন ছিল না। এমনকি জিরোর ব্যাক্তিগত অন্তর্দন্দ নিয়েও আমরা খুব একটা ইঙ্গিত পাই না। আর শেষে গল্পটা যেন একেবারে হটাত করেই থেমে যায়। কোন মেসেজ না; কোন বড় সমস্যার সমাধান না; কোন ক্লাইম্যাক্স এন্টি-ক্লাইম্যাক্স কিচ্ছু না; একেবারেই যেন হটাত করেই “আচ্ছা তবে বিদায়” বলে মুভি শেষ করে দেওয়া।

ওভারঅল; সাউন্ডট্র্যাক এবং এনিমেশন বিচারে দুর্দান্ত একটা মুভি; যার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও যথেষ্ট সন্তোষজনক; এবং দুই ঘন্টার একটা হ্যাপি জার্নি শেষে বেশ খানিকটা এব্রাপ্ট এন্ডিং এর অভিজ্ঞতা দিয়েছে এই মুভিটা।

রবার্ট ওপেনহাইমার তার ডিজাইন করা বোমার ডেমনস্ট্রেশন দেখে গভীর দুঃখ ভরে বলেছিলেন “Now I am become Death, destroyer of worlds.” একগাদা কিলিং মেশিনে ভরা আকাশের নিচে খোলা মাঠে হেটে যাওয়া জিরোর মানবহত্যার জন্য এক ফোঁটা দুঃখও জন্মায় নি; তার শেষতক দুঃখ ছিল তার কোন যুদ্ধবিমান অক্ষত ফেরত আসে নি; এই নিয়ে।
I can’t care for someone like that.

Movie Time With Yami – 58

place-promised-in-our-early-days1

Name: Kumo no Mukou, Yakusoku no Basho / The Place Promised in Our Early Days
Duration: 1 hr. 30 min.
MAL Score: 7.98
Ranked: 543
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Military

মুভিটির কাহিনী এমন এক জাপানে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেশটিকে দ্বিখণ্ডিত করে দিয়েছে। হোক্কাইডো পড়েছে ইউনিয়ন এর ভাগে, অপরদিকে হোনশু এবং দক্ষিণ দিকের অন্যান্য এলাকা পড়েছে ইউএস এর ভাগে। হোক্কাইডোতে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল এক রহস্যময় টাওয়ার, যা দক্ষিণাঞ্চলের অনেক দূর পর্যন্তও দৃশ্যমান।

এই সময়ে হোনশু এলাকায় বাস করত তিন হাইস্কুল পড়ুয়া বন্ধু। আর দশটা হাইস্কুল শিক্ষার্থীর মতই তাদের জীবন। টাওয়ারটার ব্যাপারে তাদের কৌতুহলের সীমা নেই। তারা তিনজন প্রমিস করে, একদিন একটা এয়ারক্রাফট বানিয়ে তারা এই টাওয়ারের রহস্য সমাধান করবে।

কিন্তু এর মাঝে অদ্ভুত এক রোগে আক্রান্ত হয় সাওয়াতারি। চিকিৎসার জন্যে টোকিও চলে যেতে হয় তাকে। এই ঘটনার পরে তিন বন্ধু তাদের প্রমিসের কথা প্রায় ভুলতে বসে। তারা কি কখনো জানতে পারবে, টাওয়ারের সাথে সাওয়াতারির রোগের সম্পর্কের কথা?

মুভিটির পরিচালক মাকোতো শিনকাই, এই একটা নামই যথেষ্ট এর আর্টওয়ার্কের সৌন্দর্য বুঝানোর জন্য। ঝলমলে প্রাকৃতিক দৃশ্য, খোলা আকাশ, বিস্তীর্ণ মাঠ- প্রতিটা ক্ষেত্রে মাকোতো শিনকাই এর ছাপ স্পষ্ট। ওএসটি বেশ মানানসই, এন্ডিংটা মনে রাখার মত। স্টোরিটা এই পরিচালকের অন্যান্য কাজের মতই একটু ধীরগতির, তবে মনে ছাপ রেখে যায় সহজে। আর এন্ডিংটা আমার অনেক ভাল লেগেছে।

তাই সময় পেলে দেখে ফেলতে পারেন এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/…/The-Place-Promised-in-Our-Early…

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Patema Inverted রিভিউ — শতদ্রু তালুকদার

যেখানে ফিজিক্সের সুত্র উল্টো কাজ করে, যেখানকার মানুষদের কাছে মাধ্যাকর্ষণের মানে আমাদের চিরপরিচিত মাধ্যাকর্ষণের ঠিক বিপরীত – এমন একটা জায়গার চিন্তা করে দেখুন, বেশ রোমাঞ্চকর, তাই না?

Patema Inverted/Sakasama No Patema – মুভিটার কাহিনীও পৃথিবীর অভ্যন্তরের Patema নামের একজন মেয়ে এবং পৃথিবীর সারফেসের Age নামের একজন ছেলে, দুজনকে নিয়ে, ইনভার্স দুটি জায়গাকে নিয়ে।

জনরাঃ এডভেঞ্চার, ড্রামা।

প্লটঃ ৮.৫
Patema পৃথিবীর অভ্যন্তরের একটা বিশাল ধ্বংসস্তুপের মাঝে গড়ে ওঠা এক মানব সভ্যতার একজন, বেশ কৌতুহলী, তার ক্ল্যানের বার বার মানা সত্ত্বেও এলাকার নিষিদ্ধ অঞ্চল নিয়ে তার তীব্র কৌতুহল, নিষিদ্ধ অঞ্চলে ঘুরতে গিয়েই একদিন সে একটা অদ্ভুত “বাদুড়-মানবের” (না, Batman না 😛 ) দেখা পেয়ে চমকে গিয়ে বিশাল ফাঁকা টানেলে পড়ে যায় – এবং খানিকপরেই নিজেকে আবিষ্কার করে পৃথিবীর উপরিভাগে – যেখানে মাধ্যাকর্ষণ তার বেলায় ঠিক উলটো কাজ করে, যেখানে কোন কিছুকে আঁকড়ে ধরে না থাকলে সে “আকাশে পড়ে যাবে”।
Age উপরিভাগের একজন স্টুডেন্ট, যেখানে তাদের রোজকার জীবন ছকবাঁধা, তাদেরকে বিশ্বাস করানো হয় যে তারাই পৃথিবীর প্রকৃত বাসিন্দা এবং সেখানে একসময় আরও অনেকে ছিল যারা একটা বড় পাপ করে ফেলেছিল এবং তাদের পাপের শাস্তি হিসেবেই তারা “আকাশে পড়ে গিয়েছিল”। Age-র সাথে যখন Patema-র দেখা হয় তখন Age দেখতে পায় তার সমবয়সী একটা মেয়ে বাতাসে ভেসে আছে, যেন সে ‘পড়ে যাচ্ছে’, Patema কে দেখে অবাক হওয়া সত্ত্বেও Age তাকে ধরে নিচে নামায় এবং তাদের দুজনের ওজনের কারণে একটা ব্যালেন্স তৈরি হওয়ায় Patema ও বুঝতে পারে আকাশে পড়ে না যাওয়ার জন্য এবং তার নিজের অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার জন্য তাকে Age-এর উপর নির্ভর করে থাকতে হবে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আর ধীরে ধীরে তারা তাদের নিজেদের জগতের রহস্যগুলো, সত্যগুলো সম্পর্কে জানতে থাকে – মুভিটার কাহিনীও এগোতে থাকে।

এনিমেশনঃ ৮.৮
বিভিন্ন সিনারিও, ক্যারেক্টারদের আর্টওয়ার্ক, দুই ইনভার্স ওয়ার্ল্ড এর ইন্টারপ্রিটেশন বেশ সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।

ক্যারেক্টারঃ ৮.০
মুভিটাতে খুব বেশি ক্যারেক্টারের উপর ফোকাস করা হয়নি, তবে বোধয় যেসব ক্যারেক্টারের উপর ফোকাস করা হয়েছে তাদের বিল্ডাপ – কাহিনীর জন্য যথেষ্ট ছিল বলে আমার মনে হয়।

মিউজিকঃ ৭.৫
মুভিটার বিভিন্ন সিনের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বেশ জায়গামতই ব্যবহার করা হয়েছে বলা যায়। আর এন্ডিং সং টা – উফফ!!! 😀

ওভারঅলঃ ৮.২ (আইএমডিবি রেটিং – ৭.৪ , মাই এনিমে লিস্ট স্কোর – ৮.২৭)
যদি বেশ ভালো একটা এনিমে মুভি দেখতে চান তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে এই মুভি সাজেস্ট করব। ১ ঘন্টা ৩৯ মিনিটের এই মুভিটা দেখে আপনি রোমাঞ্চিত হবেন, ক্যারেক্টারদের সাথে এডভেঞ্চার উপভোগ করবেন – মোট কথা মুভিটা আপনার বেশ ভালো লাগবে বলা যায়।

(Yasuhiro Yoshiura-র এই মুভিটাই আমি প্রথম দেখলাম আর দেখে ওনার কাজ নিয়ে আমি বেশ ইমপ্রেসড । ওনার Time of Eve, Pale Cocoon ও ওয়াচলিস্টে রাখলাম।)

patema inverted

Movie Time With Yami – 57

maxresdefault (4)

Name: K- Missing Kings
Duration: 1 hr. 15 min.
MAL Score: 8.12
Ranked: 383
Genres: Action, Super Power, Supernatural

শুরুতেই বলে রাখি, এ মুভিটি কে প্রজেক্ট নামের আনিমেটির সিক্যুয়াল, কাজেই কে প্রজেক্ট আনিমেটি না দেখে মুভিটি কোনভাবেই দেখা উচিৎ হবে না।

আনিমের ট্র্যাজেডীর পর ছন্নাছড়া অবস্থা হয় হোমুরা ক্ল্যান এর। ক্ল্যানসম্যানরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আলাদাভাবে জীবন-যাপন করতে থাকে। ইয়াতা শুধু একা তাদের আড্ডায় বসে পুরনো দিনের স্মৃতিগুলোকে মনে করে ভিডিও দেখে দেখে। ওদিকে শিরোর খোঁজে চারদিক থেকে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াতোগামি আর নেকো।

এমন সময় হঠাৎ আন্নাকে কিডন্যাপ করে গ্রীণ ক্ল্যান। তাকে বাঁচাতে ছুটে যায় ইয়াতা, নেকো ও ইয়াতোগামি। কিন্তু তারা সকলেই সম্মুখীন হয় তাদের সমতুল্য শত্রুর।

মুভিটি আনিমেটিতে থেকে যাওয়া অনেক প্রশ্নের জবাব দেয়, সে কারণে আমার এটি অনেক ভাল লেগেছে। হোমুরা ক্ল্যানের বিক্ষিপ্ত অবস্থা থেকে উত্তরণ দেখে স্বস্তি পেয়েছি, শেষদিকে আন্নাকে নিয়ে টুইস্টটা অনেক বেশি চমৎকার ছিল, এই অংশটুকু মুভিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তবে মুভিটি বেশ বড় একটা ক্লিফহ্যাঙ্গার দিয়ে শেষ হয়, একারণে শেষ করার পর কিছুক্ষণ হতাশ লাগে; আশা করছি এই হতাশা সিজন ২ দূর করে দেবে।

মুভির আর্ট আনিমেটির মতই সুন্দর, সেইসাথে ওএসটিও ভাল, যদিও আনিমের ট্র্যাকগুলো মিস করেছি আমি। কাহিনীর পেসিং ভাল, আর ফাইট সিনগুলোও ভাল।

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলুন আনিমেটি এবং এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/K-Missing-Kings

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!