Hotarubi no Mori e রিভিউ — Amor Asad

Hotaru 1

Hotarubi no Mori e
(হোতারু বিবির মৃত্যু নাই 😉 )
AKA Into the Forest of Fireflies’ Light (2011)

এই অ্যানিমে আমাকে বানাতে দিলে আমি নাম দিতুম, “হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো’, যেন মুভি শেষ করে দর্শক নামটা দেখে কাহিনীর সাথে মনে মনে সংযোগ করে নিতে পারে।

সারসংক্ষেপঃ ছোট্ট দুরন্ত এক বালিকা Hotaru, বয়স মাত্র ছ’বছর, ছুটোছুটি করতে করতে জঙ্গলে হারিয়ে গেলো। যে সে জঙ্গল না, কথিত আছে, এখানে নাকি মাউন্টেইন গড এবং স্পিরিটদের বসবাস।
Hotaru উদ্ধার পেলো, কিন্তু সেই সাথে একজন বন্ধুও জুটিয়ে ফেললো। তবে সময় নামক বেরসিক হতচ্ছাড়াটা বাগড়া না বাঁধালে বোধকরি ভালোই হত। আর না বলি, স্পয়লার দেয়া হয়ে যাবে। এমনিতেই রানটাইম অনেক কম।

Hotaru 2

অ্যানিমে শর্ট ফিল্ম কালে ভদ্রে দেখা হয়। পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যানিমে ছায়াছবির চেয়ে শর্ট ফিল্ম গুলোতে স্বভাবতই কম সময় পাওয়া যায়; এ অল্প সময়ে পরিপূর্ণ কোন ভাব প্রকাশ করা চাট্টিখানি কথা না।
উৎরে গেছে Hotarubi no Mori e. গল্পে কোন ইন্টেনসিটি নেই, অতিরিক্ত ভাবাবেগ নেই; বরঞ্চ একটা মানানসই প্রাঞ্জলতা কাজ করছে। মুভির গল্পকথন আপনাকে চেয়ারে আঠা মেরে রাখবে না, আবার উঠে যাওয়ার অনুমতিও দিবে না। ক্যারেক্টার ইন্ট্রোডিউস করতেও বাড়তি সময় নেয়া হয়নি, কাহিনী এগোনোর তালেই দর্শক ঠাওর করতে পারে।

প্রধান চরিত্র Hotaru সিনেমার শুরুতে অতীত-কীর্তন শুরু করে অর্থাৎ, শুরুটা ন্যারেটিভ ভঙ্গিমার। এবং একটা সময়ে কাহিনী ক্যাচ আপ করে বর্তমান সময়ে চলে আসে। গোটা সিনেমার কাহিনীর সাথে ফিল্ম এডিটিং এর এই অনিবার্য মিল খেয়াল করে বেশ মজা পেলাম।

তবে সময়কে অনুভব করার শিক্ষা পেলাম নতুন করে। অযথা দুশ্চিন্তা করে লাভ নাই বাহে, এসো বর্তমানে বাচি।

আমার রেটিং ৮.৫/১০

Hotaru 3

Movie Time With Yami – 56

maxresdefault (2)

 

Name: When Marnie Was There / Omoide no Marnie
Duration: 1 hr. 43 min.
MAL Score: 8.43
Ranked: 138
Genres: Mystery, Psychological

জাপানের কোন এক প্রান্তে একটি শহর স্যাপ্পোরো। এই শহরে বাস করে আন্না নামের একটি মেয়ে। কিছুটা চুপচাপ, অমিশুক স্বভাবের এই মেয়েটির কোন কাছের বন্ধু নেই; ছবি আঁকার খাতা-কলমই তার একমাত্র সঙ্গী। আন্নার জন্য তার মায়ের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই; তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দূর করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে অনিচ্ছাস্বত্ত্বেও তাকে গ্রামে আত্মীয়দের বাড়িতে কিছুদিনের জন্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন আন্নার মা, কিন্তু আন্না বরাবরের মতই তাকে ভুল বোঝে এবং কিছুটা রাগ করেই ট্রেনে চড়ে বসে গ্রামে যাওয়ার জন্য।

গ্রামের নিশ্চুপ ছিমছাম পরিবেশ, আত্মীয়দের হাসিখুশি আপন আপন ব্যবহার, সবই আন্নার পছন্দ হয়, কিন্তু একটা ব্যাপারে রয়ে যায় সেই আগের মতই, অচেনা মানুষদের সাথে কখনই সহজ হতে পারেনা সে। আন্নার দিন তাই কাটে আশেপাশের জঙ্গল এবং পুরনো বাড়িঘর দেখে আর সাগরপাড়ে বসে ছবি এঁকে।

এভাবেই সে একদিন আবিষ্কার করে একটি রহস্যময় বাগানবাড়ি। বাড়িটির প্রতি সে কেমন যেন একটা টান অনুভব করে। তাই সাগরের মাঝে একটি দ্বীপের মত জেগে থাকা বাড়িটির কাছে সে ছুটে যায় বারবার। এভাবেই সে আবিষ্কার করে এক গভীর রহস্য, যা আন্নার পুরো জীবনটাকেই বদলে দেয়।

মুভিটি স্টুডিও জীবলীর শেষ মুভি (তাদের ভাষ্যমতে), আর এই শেষ মুভিটিই তাদের এত বেশি সুন্দর হয়েছে, যে মুভিটি দেখার পর থেকেই আমার খুব আফসোস হচ্ছে যে এত সুন্দর একটা জার্নি কেন হঠাৎ করে এভাবে থেমে যাবে! মুভির কাহিনী খুব বেশি চমৎকার, জিবলী স্টুডিওর করা সেরা কাহিনীর মুভি এটি। খুব সাধারণ একটা শুরুর পরে আস্তে আস্তে অসাধারণ একটা সাইকোলজিক্যাল মুভিতে টার্ন নেয় এটি; আর সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাপারটা হল, পুরোটা সময় দর্শককে একইভাবে মন্ত্রলুগ্ধ করে রাখার ক্ষমতা আছে মুভিটির। কাহিনীর পেসিং খুব বেশি চমৎকার, অল্প সময়ের মাঝেই ভেতরে টেনে নেয় দর্শককে। এটির আর্টওয়ার্ক জিবলীর সেরা আর্টওয়ার্কগুলোর একটি; কাহিনীর রহস্যময়তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুরো মুভিতে যে আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে- এককথায় অসাধারণ! সেইসাথে কৃতিত্ব দিতে হবে এর সাউন্ডট্র্যাককেও, কাহিনীর গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মনকাড়া ওএসটি নিমেষেই যে কারও মন ভাল করে দেবে!

তাই, সময় পেলে দেখে ফেলুন আমার খুব পছন্দের এই সুন্দর মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/When-Marnie-Was-There

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Children Who Chase Lost Voices রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

Children Who Chase Lost Voices – মুলত জাপানিজ একটা উপকথার উপর ভিত্তি করে তৈরি মুভি, যেখানে গল্পের দুই প্রধান চরিত্র তাদের প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে রওনা হন মৃতদের দেশে।

অন্ধকারে অদ্ভুত আওয়াজ আর ক্রিস্টাল রেডিও থেকে ভেসে আসা অপার্থিব এক সুর – শুধু এইটুকুর উপর ভর করেই আসুনার যাত্রা শুরু হয় পৃথিবীর নিচে হারিয়ে যাওয়া কিংবদন্তীর জগতে। অদ্ভুত প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত আর রহস্য ঘেরা এক বালকের মাধ্যমে উদ্ধার পাওয়া আসুনা নিজেকে আবিস্কার করে শতাব্দী পুরোনো এক রহস্যের মাঝে; যেটা কিনা তাকে দাঁড় করিয়ে দেয় এমন এক সত্যের মুখোমুখি যেটার সাথে জড়িত আছে খোদ জীবন আর মৃত্যুর রহস্য।

আসুনা পাহাড়ী এক গ্রামের সাধাসিধে কিন্তু মেধাবী এক মেয়ে। বাবা নেই; মায়ের কর্মক্ষেত্রে বিশাল ব্যস্ততার কারণে মোটামুটি একাকীই দিন কাটে আসুনার। পড়াশুনায় ভীষণ মেধাবী আসুনা তাই সময় পেলেই মাঝে মাঝে ছুটে যায় পাহাড়ে, ক্রিস্টাল রেডিও আর একটা বিড়ালকে সঙ্গী করে একাকী সময় কাটায় দূরদেশের সুর শোনার অপেক্ষায়।

গল্পের অন্য মুল চরিত্র রিউজি – যিনি আসুনার স্কুলে বদলি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্ত্রীর মৃত্যুর ১০ বছর পরেও তার স্মৃতি আর শোক বয়ে চলা ভদ্রলোকের অন্যতম লক্ষ্যই হল মৃতদের জগত থেকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা। এই নিয়ে সব রকম গবেষণা এবং খোঁজাখুঁজিতেই সময় কাটে তার। রিয়ুজির চরিত্রের মাঝে সব সময়েই আমরা একটা অন্তদ্বন্দ্ব দেখতে পাই। সে তার লক্ষে অটল, কিন্তু সেটা পাগলামির পর্যায়ে না; কিন্তু আবার অবসেসডও। এর মাঝেও সে আসুনার দিকে খেয়াল রাখে, দেখাশুনা করে; তাকে রক্ষা করে।

মৃত ব্যাক্তিকে মৃতদের রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনা কিংবা পুনর্জন্ম – চলে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনার চিরন্তণ যে মানব আকাঙ্ক্ষা; তার কথা ঘুরে ফিরে এসেছে সব ধর্মেই, সব কালেই, সব পুরোকথাতেই। জাপানিজ, গ্রীক কিংবা রোমান – সব মিথোলজিতেই অনেক আকর্ষণীয় গল্প আছে এই বিষয়টা নিয়ে।

জাপানিজ শ্রুতিমতে, ইজানাগি আর ইজানামি জাপান এবং এর সব দেবতাদের সৃষ্টিকর্তা। এই জুটি প্রথমে আটটা ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দেন, যারা কিনা পরে জাপানের আটটা দ্বীপে পরিণত হন। ইজানাগি ইজানামি এর পর একে একে জন্ম দেন পাহাড়, উপত্যকা, জলপ্রপাত, ঝর্ণা, বাতাস, এবং অন্যান্য দেবতার। সমস্যাটা বাঁধে আগুনের দেবতা কাগুতসুচি(Kagutsuchi)র জন্মের সময়; ইজানামি খুব বাজেভাবে আগুনে পুড়ে যান। তারপরেও থেমে থাকেন নি ইজানামি; এই অবস্থাতেও আরও দেবতার জন্ম দিতে থাকেন এবং কিছুদিনের মাঝেই মারা যান।

মৃত্যুর পর ইজানামির জায়গা হয় ইয়োমি সু কুনি(Yomi-tsu Kuni)তে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ইজানাগি রওনা হন ইয়োমির পথে। সেখানে ইজানামি অন্ধকারের মাঝে তাকে বরণ করে নেন। ইজানামি তাকে অনুরোধ করেন যতক্ষণ না ইয়োমির দেবতার কাছ থেকে অনুমতি আদায় করতে পারেন ততক্ষণ যেন তার দিকে না তাকান ইজানাগি। কিন্তু স্ত্রীকে দেখার পরম আকাঙ্ক্ষায় ইজানাগি আলো জ্বেলে ইজানামিকে দেখতে উদ্যত হন। কিন্তু ইজানামির পচা গলা মৃতদেহ দেখে আতঙ্কিত ইজানাগি পালিয়ে আসেন ইয়োমি থেকে।

ফিরে এসে ইজানাগি নিজেকে পবিত্র করার জন্য স্নানের ব্যাবস্থা করেন। এ সময় ইজানাগির কাপড় এবং শরীর থেকে আরও কিছু দেবতার সৃষ্টি হয় যাদের মধ্যে ছিল সূর্যদেবী আমাতেরাসু ( Amaterasu), চন্দ্রদেবতা সুকিয়মি(Tsuki-yomi) এবং ঝড়ের দেবতা সুসানো (Susano-ô) – যাদের মাঝে পরে ইজানাগি তার রাজত্ব ভাগ করে দেন।

মুভির ঘটনাপ্রবাহ যথেষ্ট সহজ সরল এবং কিছুটা একমুখী। এবং বেশ কিছু জায়গায়ই অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টাও করে নি। ক্লাভিস নিয়ে মুভিতে এতো ঘটনা ঘটল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লাভিস কি জিনিস (“মাটির নিচের পৃথিবীর চাবি” – শুধু এইটুকুতে আসলে সব প্রশ্নের উত্তর হয় না) কিংবা আসুনা কি করে ক্লাভিসের অংশ হাত করে নিল – সেই প্রশ্নের কোন জবাব নেই গোটা মুভি জুড়ে। আসুনা আর রিয়ুজি একবার আগার্থায় (By the way, মাটির নিচের পৃথিবীর আরেক নাম আগার্থা) প্রবেশ করার পর উপরের পৃথিবীর কথা একেবারে বেমালুম ভুলে গেল সবাই। উপরে আসুনার মায়ের কি হল, রিয়ুজির সাথে থাকা সঙ্গী সাথীদের কি হল – মুভির শেষেও এইরকম কোন কিছুরই উত্তর পাওয়া যায় না। মুভির কিছু কিছু জায়গায় পানি সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল; কিছু পানিতে শ্বাস নেওয়া যায়, কিছু জায়গায় সেভাবে যায় না; আগার্থার যে যে জায়গায় দরকার সেখানে সেখানে ভিটা আকুয়া(শ্বাস নেওয়া যায় এমন পানি)র ব্যাবস্থাটা খানিক্টা হলেও কাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।

মুভিটা প্রথম প্রায় ৩০ মিনিট ব্যয় করে চরিত্রগুলোকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে; এবং এই ৩০ মিনিটে আমরা আসলে কোন আভাসই পাই না সামনে কি হতে যাচ্ছে। এবং এই প্রথম পর্বে আমরা আসুনার জীবন যাপন দেখতে পাই, তার চারপাশের পরিবেশ দেখতে পাই – যেটার আসলে বাকি মুভিতে মোটেও খুব একটা গুরুত্ব নেই। এবং এই সময়ের মাঝে এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছুও ঘটে না যেটা আসলে বাকি মুভিতে তেমন প্রভাব ফেলে। দু’তিনটে চরিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এতো লম্বা সময় নিয়ে নেওয়াটা খানিকটা হতাশাজনকই ছিল।

মুভিটা চরিত্রনির্ভরতার বদলে পুরোপুরিই গল্প নির্ভর ছিল। সমস্ত সময় জুড়েই আসুনা এবং রিয়ুজির অভিযানই ফোকাসে ছিল, চরিত্রগুলো নয়। সেই কারণে কোন চরিত্রই খুব বেশি স্বতন্ত্রতার সুযোগ পায় নি। মাঝে মাঝে ফ্ল্যাশব্যাক এবং পিছনের ঘটনার যে সব বর্ণনা এসেছে তাও গল্পের প্রয়োজনেই।

শিনকাই এর অন্যান্য মুভির মতন এই মুভিরও আর্টওয়ার্ক খুবই চমৎকার; যদিও “হারিয়ে যাওয়া জগত” কিংবা “মাটির নিচের রাজ্য” চেনাজানা পৃথিবীর মতনই ছিল অনেকটা। এনিমেশন খুব ফ্লুইড, সিজি থেকে শুরু করে সব কাজই খুব যত্ন নিয়ে করা ছিল; কোথাও কোন কিছু বেখাপ্পা লাগে নি। চরিত্র রুপায়ন অবশ্য খুব একটা আহামরি ছিল না; আসুনা, শিন, শুন বা রিয়ুজি – সবগুলো চরিত্রের ডিজাইনই কম বেশি একমুখী ছিল। তবে মিমি এবং গেটকিপারদের ডিজাইন ছিল খুব রিফ্রেশিং। আর সিমপ্লিসিটি থাকার কারণে প্রত্যেকটা চরিত্রকেই আলাদা করা গিয়েছে খুব সহজেই। কিছু কিছু দৃশ্য, বিশেষ করে আগার্থার চম্পকরথ কিংবা রাতের আকাশ অথবা সামনের খোলা প্রান্তরের নিখুঁত চিত্রায়ন – রীতিমত শ্বাসরুদ্ধকর। আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল পুরো মুভি জুড়েই উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি – পুরো গল্পটাকে একেবারে জীবন্ত করে তুলেছে যেন !

সাউন্ডট্র্যাকও বেশ ভাল ছিল, বিশেষ করে থিম সং “Hello, Goodbye and Hello” দুর্দান্ত ছিল।

খুব আহামরি কোন কিছু হয়ত না; কিন্তু শিনকাইর নামই বোধহয় জানিয়ে দেয় একটা দুর্দান্ত সেটিং এ স্নিগ্ধ একটা গল্পের কথা। দুটো চমৎকার ঘন্টা কাটাতে এর চেয়ে বেশি আর কি লাগে? :)

Colorful – মুভি রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Colorful 1

Are you alive?

মাঝে মাঝে কি এমন সময় এসেছে যখন কোন একদিন মনে হয়েছে চিরজীবন বেঁচে থাকতে পারলে বোধহয় খুব ভাল হত? অথচ ঠিক তার পরদিনই হটাৎ করে সব কিছু অর্থহীন মনে হয়েছে? বেঁচে থাকার ইচ্ছের জায়গাগুলো কি হটাৎ করেই দখল করে নিয়েছে একরাশ হতাশা, নিজের উপর; চারপাশের মানুষগুলোর উপর? নিজের ভুলগুলোর জন্য নিজের উপর প্রবল আক্রোশ এসে ভর করেছে?
আমার ধারনা আমাদের সবার জীবনেই কখনো না কখনো এমন সময় এসেছে। এবং আমরা সেই অবস্থা কাটিয়েও উঠি, আবার ফিরে যাই যান্ত্রিক জীবন যাপনে; কখনো কারো সাহায্য নিয়ে; কখনো কখনো হয়ত নিজের মনের জোরেই।

আমরা অনেক সময়েই আসলে বেচে থাকাটাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। কারণ আমরা আসলে পুরোপুরি বেঁচে থাকি না কখনই। আমরা তিন বেলা খাই, সারারাত ঘুমাই আর সারা দিন ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ুতে থাকি; ক্যারিয়ার; পড়াশুনা; দায়িত্ব; কর্তব্য – এখান থেকে সেখানে। একটু স্থির হয়ে বসে গোটা দুনিয়াটাকে, আকাশটাকে; চারপাশে মানুষগুলোকে চোখ মেলে দেখার একটুও ফুরসত মেলে না আমাদের। আমরা পুরোপুরি বেঁচে থাকি না; বেঁচে থাকার অভিনয় করি যাই আসলে।

খুব প্রিয়জন যখন বড় কোন ভুল করে ফেলে; এমন কিছু করে বসে যা জন্ম দেয় একগাদা অবিশ্বাসের; সেই ঘটনা ভুলে গিয়ে তাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিতে আসলে কত সময় লাগে? ১মাস? ৬ মাস? ১ বছর? পুরোপুরি কি ভুলে যাওয়া যায় আদৌ? যদি না যায় সেক্ষেত্রে করণীয় আসলে কি? আর সেই প্রিয়জনেরই বা কি করার থাকে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য?

Colorful 2

 

কালারফুল মুভিটা দেখতে শুনতে আট দশটা স্বাভাবিক পরিবারের মতন অথচ নানারকম মানসিক টানাপোড়েনে থাকা এক পরিবারের গল্প, যে পরিবারের সবচেয়ে ছোট, বিষাদগ্রস্থ, জুনিয়র হাই স্কুলে পড়া ছেলেটি একের পর এক খারাপ ঘটনার পিঠে জীবনের চরমতম সিদ্ধান্তটি নিয়ে নেয়। সৃষ্টিকর্তা অপর একটা অপরাধী আত্মাকে পাঠান সেই শরীরে; আত্মার শুদ্ধির জন্য। আমরা সেই আত্মার চোখে পরিবারটাকে দেখতে পাই; ছেলেটার চারপাশের পরিবেশটা দেখতে পাই; প্রতিদিনের সংগ্রামগুলো দেখতে পাই; একে একে সবার বদলে যাওয়াটা দেখতে পাই এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে একসময় আসলে জীবনের সৌন্দর্যগুলোরও খোজ পেতে আরম্ভ করি। প্রত্যেকটা মানুষের পিছনে যে আসলে অনেকগুলো মানুষের সহযোগিতা জড়িয়ে আছে; নীরবে হোক অথবা সরবে – কেউ না কেউ যে তার উপর ভরসা করে আছে, তাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছে – এই সহজ সত্যগুলো আমরা ভুলে যাই মাঝে মাঝেই। এই মুভিটা সেই সত্যগুলোকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখতে শিখায়; সব কিছুকে মেনে নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়; সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কি করে জীবনটাকে উপভোগ করতে হয় তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয় আমাদের।

জীবনের আসল উত্তরটা কি? তার সফলতা আর বিফলতাটাই বা কোথায়? একটা ভাল রেজাল্টে? ভাল চাকরিতে? একগাদা টাকা পয়সায়? নাকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে; প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে একটু ভাল থাকায়? তাদেরকে সময় দেওয়ায়? চারপাশের দুনিয়াটাকে দেখায়, মানুষজনের সাথে মেশায়, জীবনটাকে নিজের মতন করে উপলব্ধি করায়, উপভোগ করায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো আসলে কখনোই মেলে না। কিংবা আমরা হয়ত মেলাতে চাই-ও না। চারপাশের মানুষগুলোকে দেখে; তাদের চিন্তাভাবনা আর তাদের উত্তরগুলোকেই নিজের উপর চাপিয়ে নেই, অবলীলায়। অথচ নিজেকে একবারও প্রশ্ন করে দেখি না – আমি কি আসলেই এটাই চেয়েছিলাম? আমরা কখনোই বুঝতে চেষ্টা করি না যে অপরের সফলতা মানে কখনোই নিজের ব্যার্থতাও নয়; আর ৮-১০ জনের মতন হতে না পারাটা কোন বড় সমস্যাও নয়।

প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই আরেকটা মানুষ বাস করে। যে মানুষটাকে আমরা কাউকে দেখাতে চাই না; তাকে লুকিয়ে রাখতে চাই নিরন্তর। কিন্তু খুব দুর্বল মুহূর্তগুলোতে সে কি করে কি করে যেন ঠিকই বেড়িয়ে আসে। এবং সে কারণে নিজের উপর খুব অভিমান হয় পরে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মানুষের রঙ আসলে একটা না; অনেকগুলো। সবার আলাদা আলাদা রঙ মিলেই পুরো পৃথিবীটা রঙিন। সবার জন্য একই ছাঁচ, একই ব্লুপ্রিন্ট খাটে না; খাটা উচিতও না। দিনশেষে শুধুমাত্র একগাদা রঙকে ধারণ করে, নিজের সবগুলো অপূর্ণতাকে মেনে নিয়ে নিজের মত করে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি –
Yes, I am alive.

…………

মুভিঃ কালারফুল।
সময়ঃ ২ ঘন্টা ৭ মিনিট।
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৩।

Colorful 3

 

Perfect Blue রিভিউ — Saqib Shadman

PB2

খুব কম সিরিজ/মুভি থাকে (শুধু এনিমের কথা বলছি না) যেইটার প্রথম ৫ মিনিট দেখে বলা যায় বাকি অংশ চরম হবে। গত রাত Princess Mononoke শেষ করেই দেখা শুরু করলাম Perfect Blue ।

Pop Idol জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে জনপ্রিয় নায়িকা হওয়ার প্রয়াস করে Mima Kirigoe। কিন্তু মিমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে হতাশ অনেকেই। একজন stalker Pop-Idol মিমার প্রতি এতোই অন্ধকারাচ্ছন্ন, মিমার জীবনযাপন, চলাচল সব কিছুর দিকে নজর রাখে। ইন্টারনেটে সেসব আবার প্রকাশও করে। পাশে এই একি মানুষ মিমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে।

PB1

Perfect Blue হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্নের গল্প, এবং তা মানুষকে কেমনে ধ্বংস করতে পারে। ফিল্ম দুনিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য মিমাকে অনেক কাজ করতে হয় যেইটা মিমা নিজের উৎসাহে করতে চায় না। এসবের জন্য মিমাকে প্রায় বিদ্রূপ করে মানসিক বিভ্রম।

ফিল্মের বেশির ভাগ অংশ দেখা হয় মিমার পরিপ্রেক্ষিত থেকে। আশেপাশের পরিস্থিতির কারনে মিমা বাতুলতার দিকে আগাতে থাকে। প্রায় যা বাস্তব ও যা বিকল্পিত তার মাঝের দাগটা অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং প্রশ্ন দারায়ঃ সবকিছু কি মিমাই করছে?

PB3

গল্প ও চরিত্রদের সাথে সঙ্গত করা আছে যথাযথ আর্টওর্য়াক ও মিউজিক। ডার্ক ও বর্ণহীন একটা রঙ প্যালেট একটা ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি করে। মিউজিকও কম নয়, কার্যকরীভাবে টেনশনের মুহূর্তে উত্তেজনা আর বারায়।

ভাল সেইনেন এনিমে যদি খুজে থাকেন, পারলে দেখে নিয়েন। Psychological এনিমে ফ্যান্দের জন্য আমি মনে করি এই ফিল্ম আবশ্যক।

PB4

Movie Time With Yami – 55

colorful-2010

 

Name: Colourful
Duration: 2 hr. 7 min.
MAL Score: 8.13
Ranked: 371
Genres: Drama, Slice of Life, Supernatural

“আমি” মারা যাই, এবং “আমাকে” পুনর্জন্মের চক্র থেকে বের করে দেয়া হয়, “আমার” দ্বারা সংঘটিত অপরাধের কারণে। একজন স্বর্গের দূত আমাকে এসে বলে যে “আমি” একটি সুযোগ পেয়েছি আমার অপরাধ মনে করার জন্য, তাহলে হয়ত আমি প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ পাব।

পার্গেটরীতে দিকভ্রষ্ট এক আত্মা ঠিক এই ঘটনাগুলোর সম্মুখীন হয়। “পুরাপুরা” নামের সেই স্বর্গের দূতটি কিছুটা জোর করেই তাকে নিয়ে যায়, তাকে এই ইন্টার্নশীপে প্রবেশ করিয়ে দেয়ার জন্য। এবং দিকভ্রষ্ট আত্মাটির শেষমেষ ঠাই হয় কোবোয়াশি মাকোতো নামের ১৪ বছর বয়সী এক মিডল স্কুল বালকের শরীরে।

কোবোয়াশি মাকোতোর পরিবারে রয়েছে তার বাবা-মা এবং এক বড় ভাই। ভাই মেধাবী ছাত্র, বাবা পরিশ্রমী চাকুরীজীবী, মা অত্যন্ত স্নেহশীল। মাকোতো ছবি আঁকতে পারে দারুণ। স্কুলের আর্ট ক্লাসে তার অবস্থান বেশ ভাল। তাহলে এমন কি ঘটেছিল মাকোতোর জীবনে, যা তাকে ঠেলে দিয়েছিল আত্মহত্যার মত বেপরোয়া কাজের দিকে? তার শরীরে অবস্থান করা আত্মাটি খুঁজতে থাকে, নিজের অপরাধ এবং মাকোতোর অতীত।

মুভিটির আর্টওয়ার্ক বেশ ভাল, প্রতিটি দৃশ্যই যত্ন নিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন মোটামুটি, আর ক্যারেক্টারগুলোর এক্সপ্রেশনে আমার চোখে একটু সমস্যা ধরা পড়েছে; ইমোশনগুলো কিছুটা কাঠখোট্টা লেগেছে কিছু জায়গায়, তবে তাতে মুভির স্টোরিতে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কাহিনীটি খুবই চমৎকার, এই কাহিনীটির কারণেই এর বাকি সব ছোটখাট খুঁত অনায়াসে মাফ করে দেয়া যায়। কাহিনীর গতি খুবই ভাল, অতি অল্প সময়ের মাঝেই কাহিনীর ভেতরে টেনে নেয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে মুভিটি, আর সেই সাথে মুভিটি যে বার্তাটি দর্শকের কাছে পৌছাতে চেয়েছে, সেটিও সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

তাই, সময় পেলে এখনই দেখে ফেলুন আমার অত্যন্ত পছন্দের এই মুভিটি।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Colorful-Movie

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Origin: Spirits of the Past রিভিউ — Saqib Shadman

Origin Spirits of the Past 2

বেশির ভাগ এনিমে Feature-film এর বেশ কিছু সহজাত সমস্যা থাকে: প্লট ঠিক মতন ডেভেলপ হয় না, Backstory এর অভাব, চরিত্র অপূর্নগঠিত হয়, ইত্যাদি, ইত্যাদি……… Origin: Spirits of the past আমার কাছে একটা Textbook উদাহরন মনে হল যেটা ফিল্মের ভাল এবং খারাপ দিক গুল পরিবেষ্টন করে।

চাঁদে আপাতদৃষ্টিতে অপার্থিব এক ঘটনার পর সভ্যতার প্রত্যাগতি হয়। একদিন পানি আনতে গিয়ে Agito উদ্ধার করে পুরন দুনিয়ার Toola কে (Hibernation এ ছিল, or something)। Post-apocalyptic দুনিয়ায় মানুষ থাকে প্রকৃতির ভয়ে। মানবজাতি দুই ভাগ হয়ে গেছেঃ এক ভাগ প্রকৃতির সাথে সাদৃশ্যে থাকতে চায়, অন্য ভাগ চায় প্রক্রিতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আনতে।

Origin Spirits of the Past 3

গল্প মোটামোটি চলে, খুব খারাপ না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে শেষে একটা twist বাদে, খুব অসাধারণ বা চিন্তাকর্ষক কিছু মনে হয় নাই। কিছু কিছু জাইগায় plot holes ছিল আমার মতে।

চরিত্রদের তেমন আহামরি কিছু মনে হয় নাই। ভাল এনিমে ফিল্মে অন্তত প্রধান চরত্রিদের কোন না কোন স্বভাব থাকে জার কারনে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। ওইটাও পেলাম না।

Origin Spirits of the Past 4

তবে এনিমেশন এবং আর্টওর্য়াক চমৎকার হয়েছে। বেশ উজ্জ্বল একটা color scheme ব্যবহার করা হয়, যার কারনে scenery এর দৃশ্যগুল চোখে ধরে।

Would I recommend this? Well, if you have some time to kill, go ahead. But if you’re looking for something more serious, poignant and/or memorable, steer clear.

P.S. – The OP theme is pretty awesome

Origin Spirits of the Past 1

Psycho-Pass Movie রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

কি দেখলামঃ Psycho pass movie

নিহঙ্গদেশ। চারিদিকে শুধু সুখ আর আনন্দ; দুঃখ কষ্টের কুনু বালাই-ই নাই। সিবিল সিস্টেম দেশের শান্তি রক্ষার কার্জ সমাধা করিয়া আপাতত ঘটক পাখি ভাইয়ের ভাত মারার কাজেও নিয়োজিত হইয়াছে। সুনেমরি আকানে এই দেশের একজন সৎ ঈমানদার পুলিশ অফিসার। দেশে অন্যায় অপরাধের ঘাটতি হেতু উনি বান্ধবীর সাথে বিয়ের মার্কেটিং করিয়া বেড়ান, নিজের বিশাল এপার্টমেন্টে একা একা খান, ঘুমান, টিভি টুভি দেখেন আর মাঝে মাঝে সঙ্গী রোবটের সাথে কুস্তি খেলিয়া শরীরটাকে চাঙ্গা রাখেন।
বিশাল আরামের লাইফ !

PP 1

কিন্তু নিহঙ্গদেশ আর সুনেমরি; কারো কপালেই এই সুখ শান্তি বেশিদিন সহিল না। হটাত করিয়া ট্রলার ভর্তি একঝাক রিফিউজি গেরিলা আসিয়া উপস্থিত হইল সীমান্তে। চোখে তাদের একরাশ স্বপ্ন; আর তার উপরেই কুটি টেকার দামী সানগ্লাস। সুনেমরি ম্যাডাম ছুটিয়া আসিলেন খবর পাইয়াই; একগাদা লোক মারিয়া মুরিয়া দুই একটারে ধরিয়া নিয়া আসিলেন; সানগ্লাস সমেতই। স্বপ্ন পর্যন্ত ঠিকই ছিল; কিন্তু গরীব দুখী অসহায় এইসব রিফিউজির কুটি টাকার সরঞ্জাম উনাকে বড়ই চিন্তায় ফালাইয়া দিল। উনি ভাবিতে লাগিলেন এবং শেষে ভাবিয়া ভাবিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন “কুছ তো গড়বড় হ্যায়।”

এরই মধ্যে আরেক অফিসার পাকনামো করিয়া মেমোরি থেরাপি দিয়া বসিলেন একটারে; উপরমহলের আদেশে। সুনেমরি এতে গোস্বা করিলে উপরমহল জানাইলেন; থেরাপিতে কোগামির দর্শন লাভ হইয়াছে। কোগামির চেহারা দেখিয়াই সুনেমরি সব ভুলিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন, উনি ব্যাপারখানা “তদন্ত” করিতে বিদ্রোহীদের আদি নিবাস SEAUn এ পাড়ি জমাইবেন। পারমিশন মিলিল। তিনি একখানা স্যুটকেস বগলদাবা করিয়া দামী জেট প্লেনে চড়িয়া বসিলেন।

সিওনের অবস্থা অনেকটা গুলশানের মতন। একপাশে বিশাল বিশাল অট্টালিকা; আর তার পাশেই বস্তি। বস্তি এলাকায় চলিতেছে তুমুল বিদ্রোহ। এইরকমই এক বস্তির সর্দার, জনদরদী, গরীবের বন্ধু, মজলুমের সহায় কোগামি; যার লড়াই অভিজাত সম্প্রদায়ের সাথে; যারা নিজেদের সুখ শান্তির জন্য সিবিল সিস্টেম ব্যাবহার করিয়া বাকিদের নির্বিকারে হত্যা করিতেসে। কোগামি মুলত বস্তির সাধারণ মানুষকে হাতে কলমে ড্রোন মোকাবেলার জন্য কুংফু কারাতে শিক্ষা দেন; যদিও পুরো মুভিতে গুলি আর গ্রেনেড ব্যাবহার করিয়াও ড্রোন ঠ্যাকানি যায় নাই। যাই হোক; কাহিনীতে ফেরত যাই।

কোগামির দলের সাথে সিওনের মিলিশিয়া বাহিনীর লড়াইয়ের মাঝেই কোগামিকে স্ক্রিনে দেখিয়া সুনেমরি নামিয়া গেলেন গাড়ি থেকে, “তদন্তের” জন্য। কোগামির সাথে দেখা হইল, কথাও হইল। কথাবার্তা অনেকটা এইরকম –
– কোগামি সান; আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না; ইউ আর আন্ডার এরেস্ট।
– এহ; মজা নেও?
– মজা নিমু ক্যান, আপনি সন্ত্রাসী পাচার করেন না জাপানে?
– নাহ; আমি তো কিছু জানিই না। তাও এরেস্ট করবা?
– না; তাইলে করতাম না। লন; আপ্নের বাসা দেইখা আসি।
– চল; দুইটা ডাইল ভাতও খাইয়া আসবা নে।
– জোস; চলেন যাই।

PP 2

এর মধ্যে মিলিশিয়া একদল গুন্ডাপান্ডা ভাড়া করিল এই দুইজনকে মারিবার জন্য। বিপুল অঙ্কের টাকার প্রতিশ্রুতি পাইয়া তারা তাদের সকল অস্ত্র সস্ত্র ও সরঞ্জাম সহ রওনা হইয়া গেল। এবং একদিনের ভিতর আস্তানা খুজিয়া আক্রমণও করিয়া বসিল। সুনেমরি পালাইয়া গেলেন; কোগামি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়িলেন। তারে নিয়া গিয়া গুন্ডাদল আচ্ছামত বাঁশডলা দিয়া বলিল, “আমাদের দলে আইসা পড়; অন্নেক মগা হবে।” কোগামি জানাইল “কাভি নেহি।” গুন্ডাদলের সর্দার কহিল; “যাও তুমারে খেলায় নিব না। নিকোলাস ভাইয়ের কাছে তুলিয়া দিব; তখন দেখবা; কি হয়।”

সুনেমরি পালাইয়া আসিয়া নিজের রুমে বসিয়া ফন্দি আটিতেসিলেন; কী করিয়া ইহাদিগকে মজা দেখানো যায়। এরই মধ্যে তিনারে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে অজ্ঞান করিয়া ফেলিল মিলিশিয়া বাহিনী। উনাকে আর কোগামিকে একখানা বিমানে তুলিয়া দিয়া সেইখানা উড়াইয়া দেওয়া হইবেক; যাতে করিয়া কেউ বুঝিতে না পারে যে উনারা এত্তগুলা খারাপ। যেই ভাবা; সেই কাজ। কিন্তু শেষ মুহুর্তে গিয়া শুভ কাজে বাঁধা পড়িল। একঝাক পুলিশ অফিসার বিমানে করিয়া আসিয়া গুলি করিয়া সব খারাপ মানুষ মারিয়া সাফ করিয়া ফেলিতে লাগিলেন। সুনেমরি গেলেন নেতার কাছে; গিয়া বুঝাইয়া বলিলেন; “এইগুলা খারাপ; এইগুলা করতে হয় না; লোকে পচা বলে।” নেতা বুঝিলেন; এবং “সাধারণ নির্বাচন” এর ঘোষণা দিয়া ক্ষমতা ছাড়িয়া দিলেন।

অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলেন।

নটে গাছটি মুড়ালো, আমার কথাটি ফুরালো।

PP 3

Spritied Away রিভিউ — Tufika Anwar

আচ্ছা আপনার ছেলেবেলায় কি কখনো এমন হয়েছে, আপনি বাবা মার হাত ধরে মাথা নাড়তে নাড়তে বাজারে গেছেন। রং বেরঙের দোকান, হরেক রকম মানুষ, আর নানা ধরনের জিনিসপত্র দেখতে গিয়ে কখন যে মায়ের হাতটা ছেড়ে দিয়েছেন তা আর মনে নেই। আর মনে পড়তেই মা বাবার ছায়াটিরও আর খোঁজ পাচ্ছেন না। অনেক খোঁজার পরে সেই ছোট্ট আপনার একটু আগের ভীষণ রঙিন পৃথিবীটা মুহূর্তে যেন সাদাকালো হয়ে গেল।
ছোট্ট চিহিরুর সাথেও প্রায় এ রকমই ঘটে জিবলী স্টুডিও এর অ্যানিমেটেড মুভি Spirited Away তে। বাবা মার সাথে পুরনো বাড়ি ছেড়ে ভীষণ মন খারাপ করে নূতন জায়গায় নূতন বাড়ির উদ্দেশে আসছিল চিহিরু। কিন্তু পথিমধ্যে তারা এক আশ্চর্য রহস্যজনক স্থানে এসে পৌঁছে, সেখানকার সুন্দর সাজানো দোকান, মজাদার খাবার, আর জাদুকরী এক আকর্ষণে চিহিরু আর তার বাবা এতটাই মুগ্ধ হয়ে যায় যে তারা বুজতেই পারে না যে এটা একটা মায়াজাল। কিন্তু গল্পের নায়ক হাকুর সহায়তায় চিহিরুর সম্ভিত ফিরলেও এই প্রবল মায়াজালে আটকা পরে তার বাবা মা।
এখন চিহিরুর অবস্থা দাড়ায় সেই বিশাল বাজারে হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাটির মত। পার্থক্য শুধু একটাই যে চিহিরু হারিয়ে যায় মায়াজালে আচ্ছন্ন ভুত আর অদ্ভুত সব প্রাণীতে ঘেরা ভিন্ন এক জায়গায় কাজ নেয় একটা বাথ হউসে।
তারপর গল্পে আসে আরও সব মজাদার ব্যাপার- এই মায়াচ্ছন্ন জায়গায় চিহিরু পরিচিতি পায় সিন নামে, এই ছোট্ট সিন বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে বড় সব পরিবর্তন আনে এই মায়াপুরিতে। হাকুর সাথে মিলে সিন আবার তার আসল পরিচয় আর বাবা মা কে ফিরে পায়। এমনিই একটা মজাদার গল্প নিয়ে এই মুভি।
এই ছোট্ট মুভিতে হায়াতো মিয়াজাকি এত চমৎকার কিছু অ্যানিম্যাটেড ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছে যা মুভিকে করেছে আরও বেশি আকর্ষণীয়। রূপকথার পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়া রাজকুমারতো সবার পরিচিত কিন্তু এখানে আচ্ছে আকাশে উড়ে বেড়ানো সুদর্শন ড্রাগন রাজকুমার হাকু। আর অসাধারণ গুনে গুণান্বিত অনেক সাধারণ চিহিরু।
জানি অনেকেরই দেখা আছে এই অসাধারণ মুভিটি কিন্তু যাদের এখনও দেখা হয়নি তারা আর দেরি না করে দেখতে পারেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী কাহিনীর মুভি Spirited Away.

Spirited Away

Psycho-Pass: The Movie রিভিউ — Rafiul Alam

PP 1

এটা বছরের সবচাইতে প্রতিক্ষিত মুভি ছিল আমার কাছে।সেই জানুয়ারি মাস থেকে অপেক্ষা করার মেওয়া ফল পেলাম কয়েকদিন আগে।বুঝাই যাচ্ছে,ব্যাপক এক্সপেকটেশন ছিল।তাই প্রশ্ন হল এই মুভির জন্য এত অপেক্ষা স্বার্থক ছিল কিনা।আসছি সে কথাতেই।

Synopsis:যারা আনিমের প্রথম সিজন দেখেন নি,তারা না দেখলেই ভাল হয়।কাহিনী মূলত ১ম সিজনের সিকুয়াল।তো যাই হোক,ঘটনার শুরুতে দেখা যায় যে একদল বিদেশী জাপান আক্রমণ করতে আসে।আগে থেকে ঘটনা আঁচ করতে পেরে তাদের থামাতে উদ্যত হয় আকানে সুনেমরি ও তার দল।ঝটিকা মিশনে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।সুনেমরির অজান্তে মেমরি স্কুপ প্রযুক্তি ব্যাবহার করে সেই বন্দীর মাথা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন ইন্সপেক্টর সিমোটসুকি।বোঝা যায় যে সেই লোক পলাতক শিনয়া কোগামীর সাথে পরিচিত।এখন কোগামীকে ফিরিয়ে আনতে আকানে রওনা দেয় গৃহযুদ্ধরত দ্বীপ SEAUn এর উদ্দেশ্যে।যেখানে পরিক্ষামূলকভাবে জাপানের মত সিবিল সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে।কিন্তু আকানে যেমনটা চেয়েছিল,তেমন সহজে কোগামীকে ধরতে পারে না,বরং সেই দেশের বিশ্রি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে,তার সাথে উন্মোচিত করে সিবিলের আরো একটি রহস্য।
উল্লেখ্য,সম্পূর্ণ কাহিনীতেই ২য় সিজনের ভাইব স্পষ্ট।সিবিলের ও আকানের ভুমিকা আগের মতই ছিল।বোনাস ছিল কোগামীর ফিরে আসা।

PP 2

Characters Setup:মূলত সব আগের চরিত্রই।নতুন সাইড ক্যারেক্টার ছিল প্রচুর,জানি না ৩য় সিজনে (যদি বের হয়) তাদের আদৌ কোন আগমণ ঘটবে কিনা।তবে চরিত্রগুলোর বেশ ভাল সম্ভাবনা আছে।সবচেয়ে অপ্রিয় নতুন চরিত্র নিকোলাস ওং,প্রিয় কেউ নেই।আগেই জানতাম,শোগো মাকিশিমার মত অসাধারণ কেউ থাকবে না।কোগামিকে দেখার জন্যই যে আগ্রহ ছিল,ধুন্ধুমার একশনে সেই ক্ষুধা লাঘব হয়েছে আমার ক্ষেত্রে।তবে চরিত্রে বড় কোন পরিবর্তন ছিল না।আকানে সুনেমরিকে যেরকম আশা করেছিলাম,তেমনই “রেডী ফর একশন” মুডে পেয়েছি।আর ডাব দেখা ভাল অপশন হবে বলে মনে হচ্ছে।জাপানী ভয়েস এক্টরদের গলায় ইংরেজি শোনা বরাবরই পীড়াদায়ক।যদিও এর বাইরে কোন অভিযোগ করার সুযোগ নেই।সব চরিত্রই জীবন্ত লেগেছিল।

PP 3

Theme setup, Music and Animation:গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত দেশ SEAUn.দরিদ্রতা,বৈষম্য এবং সিবিলের শোষণ।পাশাপাশি মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু লোকের মরিয়া চেস্টা।নতুন প্রেক্ষাপটই বলা চলে।তবে আনিমের সাথে খুবই মানানসই, সন্দেহ নেই।ভাওলেন্স আগের তুলনায় পরিমিত ছিল।তবে একশনের কমতি ছিল না।সবচাইতে প্রিয় মুহূর্ত ছিল কোগামির বাহিনীর সাথে নিকোলাস বাহিনীর দুধর্ষ যুদ্ধ এবং পিছনে অসাধারণ ক্লাসিকাল মিউজিক, destruction goes on. শুধুমাত্র এই কয়েক মিনিটের জন্যই পুরো মুভির ভুল-ত্রুটি মাফ করে দেয়া যায়। মুভির এন্ডিংয়ে নতুন কোন গান ব্যবহার করলে আরও ভাল হত হয়ত।তবে যেটা ব্যবহার করা হয়েছে, ইগোইস্টের Namae no nai Kaibutsu গানটি আমার,সবারই অনেক প্রিয়। আর আনিমেশন,আর্টওয়ার্ক নিয়ে কি আর বলব? Production I.G আমাকে সবসময়ই ইম্প্রেস করতে সক্ষম হয়েছে,এবারও ব্যতিক্রম হয় নি।এই বছরের আমার দেখা মুভিগুলার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় আনিমেশন সো ফার।আর এই আনিমেশনে দূর্দান্ত একশন চোখের ব্যায়াম ছিল।

Overall Rating:
MAL Rating: 8.15
My Rating: 8.6

PP 4

সব মিলিয়ে বেশ হাই বাজেটের,হাইপড একটা মুভি।সেই হিসেবেও বেশ ভাল অঙ্কের আয় করতে সক্ষম হয়েছে এটি।সাইফাই কারিকুরি বরাবরের চেয়ে বেশি ভাল ছিল।তাই ১ম সিজন দেখা হয়ে থাকলে আর এক ঘন্টার বিনোদন পেতে চাইলে দেখে ফেলুন।

Destruction goes on-

https://www.youtube.com/watch?v=-cnly0dodeI

PP 5