Kara no Kyoukai রিভিউ by Fahim bin selim

1

 

অ্যানিমে রিভিউ – কারা নো কিওকাই/ গার্ডেন অফ সিনারস/ বাউন্ডারি অফ এম্টিনেস [Kara no Kyoukai/ Garden of Sinners/ Boundary of Emptiness]
হেপ্টালজি
প্রচারকালঃ ২০০৭-২০০৯
প্রযোজকঃ ইউফোটেবল
জনরাঃ [বেস] অ্যাকশন, অতিপ্রাকৃত, রহস্য, রোমাঞ্চ [পর্বভেদে] রোমান্স, ম্যাজিক

// কাহিনী সনক্ষেপঃ হাই স্কুলের এক বরফস্নাত দিনে কিমোনো পরা এক মেয়ে, অ্যান্টিসোসাল ও রহস্যময়, শিকি রিয়োগির প্রতি আকর্ষন জন্মালো মিকিয়া কোউকোর। যতই তার কাছে আসতে থাকল, ততই সে বুঝতে পারল শহরে ঘটে যাওয়া একের পর এক হত্যাকান্ড আর অতিপ্রাকৃত জিনিসের সাথে শিকি জড়িয়ে আছে বেশ ঘনিষ্টভাবে। রহস্যের সমাধানের যখন খুব কাছে মিকিয়া তখনই আবার এক দূর্ঘটনায় মারাত্নকভাবে আহত হল শিকি।
দুই বছর পর যখন কোমার থেকে ফিরল, তখন সে হারিয়ে ফেলেছে আগের সব স্বৃতি। একত্র হল মিকিয়ার সাথে মেইজ তোউকো আওজাকির গোয়েন্দা সংস্থা, গারান নো দৌ বা হলো’ স্রাইনে। শহরে ঘটে যাওয়া সব অতিপ্রাকৃত হত্যার রহস্য সমাধান আর একই সাথে নিজের হারানো অতীত ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় নামল শিকি রিয়োগি।

// কেন ভালো লাগবেঃ কারা নো কিয়োকাই অ্যানিমের কাহিনী “নাসু কিনোকো”-র “কারা নো কিয়োকাই” উপন্যাস সিরিজ অবলম্বনে রচিত। আর উপন্যাস হওয়ার কারণে এর কাহিনী বেশ সুদৃঢ়। অ্যানিমের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে টাইপমুনের “নাসুভার্স”-এ, যাকে বলা যায় একই লেখকের “সুকিহিমে” অ্যানিমের প্যারালাল ইউনিভার্স(দুই অ্যানিমের চরিত্রদের মধ্যেও আছে অনেক মিল! বিশেষ করে কারা নো কিয়োকাইয়ের শিকি রিয়োগি এবং সুকিহিমের শিকি তোহনোর মধ্যে; শুধু নামই না, তারা একই শক্তির অধিকারীও)! জাদু ও বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তির ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে টাইপ মুনের অন্যান্য অ্যানিমের সাথেও(ফেইট/স্টে নাইট, ফেইট/জিরো)।

কারা নো কিয়োকাই এর টাইমলাইন কিছুটা…না, বেশ অগোছালো। বাইরে থেকে দেখলে অসংযুক্ত কিন্তু একই সাথে সুনিপণভাবে নির্মিত[Disjointed but tightly-constructed]! আবার চরিত্রগুলোর মাঝেও এই বৈপরিত্য লক্ষনীয়। ব্যাপারটা খোলাশা করা যাক। মুল কাহিনী বিস্তৃত ১৯৯৫ সালের আগসষ্ট থেকে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম মুভি “ওভারলুকিং ভিউ”-এর কাহিনী ১৯৯৮ সালের। শেষ দুইটি মুভি বাদে কোন পরপর দুইটি মুভি-ই টাইমলাইনে ক্রনোলজিকাল না!

চারটি মুভি ভালোভাবে মুল কাহিনীর অংশ। বাকি তিনটি প্রথমে কিছুটা স্পিন-অফ ধাঁচের মনে হলেও শেষের দিকে কোন না কোন ভাবে মুল কাহিনীর সাথে যুক্ত। আর এই পর্বগুলোতে, রহস্য অ্যানিমে হিসেবে, খুব দ্রুত কালপ্রিটকে দেখিয়ে দেওয়ায় “রহস্য”-টা খুবই ক্ষনস্থায়ী হয়, যা আমার নিজের ব্যাক্তিগতভাবে কিছুটা খারাপ লেগেছে। কিন্তু মুল কাহিনীর রহস্যের ক্ষেত্রে আবার একেবারে শেষ পর্বের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার কাজটা অসাধারণ ভাবে করা হয়েছে।

কাহিনীর পেসিং অধিকাংশ অ্যানিমের মুভির মতই। প্রথম বিল্ড-আপ কিছুটা স্লো আর শেষের দিকে অসাধারণ সব ফাস্ট-পেসড অ্যাকশন! আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো এই অ্যানিমের আরেকটি শক্তিশালী দিক।
এর চরিত্রগুলো বিশেষভাবে বলার মত। সুনদেরে-ইশ অ্যাকশন হিরোইন হিসেবে শিকি আর শান্ত, ধিরস্থির এবং অসাধারণ নথি সংগ্রহের ক্ষমতাসম্পন্ন মিকিয়াকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই। সাথে আছে তোউকো আওজাকি, ভিলেন আরায়া সৌরেন। আর “প্যারাডক্স স্পাইরাল”-এ তোমোয়ে এনজোর ক্যামিও গল্পকে আরো শক্তিশালী করেছে।

3

আর যেকোনো আধুনিক অ্যানিমে মুভির মতই এর অ্যানিমেশনের মান বেশ উচ্চস্থানীয়। বিশেষ করে দেয়াল, মেঝে, নদীর পানি অথবা পিচের রাস্তায় জমে থাকা পানির উপর বৃষ্টি পরার দৃশ্যগুলোর(এই অ্যানিমেতে অনেক বৃষ্টি হয়। অনেক।) অ্যানিমেশন প্রায় “কোতোনোহা নো নিওয়া” পর্যায়ের, প্রায়।
ভিজুয়ালাইজেশনের দিক থেকে আবার “পাপরিকা”-র সাথে তুলনা দেওয়া যায়। “প্যারাডক্স স্পাইরাল” – ফিলোসফি, সিম্বলজিমের সাথে এই ভিজুয়াইলাইজেশনের সমন্বয় চোখ জুড়ানো এক সৌন্দর্য উপহার দিবে। আলোছায়ার খেলা, রঙের পরিবর্তন, ক্যামেরার অবস্থান আর ফোকাসিং যেকোনো মাস্টারপিচ লাইভ অ্যাকশন মুভির সাথে তুলনীয়!

আর বাকি থাকল মিউজিক। সাতটি মুভির শেষে সাতটি আলাদা আলাদা এন্ডিং সং, সবগুলোই “কালাফিনা”-র গাওয়া। এবং সবগুলোই অ্যানিমের ডার্ক থিম বজায় রাখতে অবদান রেখেছে। আর অ্যানিমের অভ্যন্তরীন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে, আলাদা ভাবে বলার মত।

// কেন ভালো নাও লাগতে পারেঃ
টাইপ মুনে ইউনিভার্স আর এর প্লট ডিভাইস সম্পর্কে একেবারেই ধারণা না থাকলে কাহিনী ভালোভাবে বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে, এক্ষেত্রে উইকিপিডিয়া বা টাইপমুন উইকিয়ার সাহায্য নিতে পারেন।
কাহিনীর অগোছালোতা। একেবারে শেষ পর্যন্ত না দেখলে সম্পুর্ন কাহিনী কিছুই বুঝবেন না। তাই পুরো সাতটি মুভি ব্যাপী মনযোগ ধরে রাখা জরুরী। এটা একটা জিগস পাজলের মত। পুরোটা সাজাতে হলে মাথা খাটানো প্রয়োজন। প্যারাডক্স স্পাইরালে আবার ফিলোসফিকাল আর সিম্বোলিজমের ছড়াছড়ি।

গোর। সাইকো থ্রিলার, খুনাখুনি নিয়ে কাহিনী বলে গোর দৃশ্যের সংখ্যা অত্যাধিক। অধিকাংশ সেইনেন মুভির মতই কয়েকটি পর্বে আছে একপ্লিসিট ম্যাচুর দৃশ্য আর কাহিনী একটি জায়াগায় আপত্তিকর জিনিস আছে।
তাই ক্লান্ত দিনের শেষে, গা এলিয়ে দিয়ে, হাসিতে গড়াগড়ি খেয়ে, মন ভালো করার মত কোন অ্যানিমে দেখতে যদি চান, তবে এটি আপনার জন্য না।

// কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যান্সাইজঃ
১। ওভারলুকিং ভিউ
২। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার প্রথম অংশ
৩। রিমেইনিং সেন্স অফ পেইন
৪। হলো’ স্রাইন
৫। প্যারাডক্স স্পাইরাল
৬। অবলিভিওন রেকর্ডার – ফেইরী টেল
৭। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার দ্বিতীয় অংশ
+৮। কারা নো কিয়োকাই এপিলোগ [এইটা এখনো দেখি নাই]
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং(যথাক্রমে)ঃ ৭.৯৭ । ৮.১৭ । ৮.৩৫ । ৮.১৯ । ৮.৭৫ । ৭.৯৪ । ৮.৬৬ । ৭.৩৪

// আমার রেটিংঃ
কাহিনী(যথাক্রমে)ঃ ৭ । ৮ । ৭ । ৭ । ৯ । ৭ । ১০ । n/a
মিউজিকঃ ১০
আনিমেশন/ আর্ট/ দৃশ্যায়নঃ ১০
পরিচালনাঃ ৯
চরিত্রঃ ৯
সমাপ্তিঃ ৯
ইনট্রিগঃ ৯
সর্বমোটঃ ৯.১২

2

কিমি তো বকু by Torsha Fariha

1511888_721449834533830_348125133_o

 

জানরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ।
সিজনঃ ২ (প্রতি সিজনে ১৩ টা করে মোট ২৬ টা এপিসোড)

কিমি তো বকু অ্যানিমেটা আবর্তিত হতে থাকে পাঁচ জন হাইস্কুল পড়ুয়া ছেলেকে কেন্দ্র করে। স্লাইস অফ লাইফ দেখে বোঝাই যাচ্ছে দৈনন্দিন হাই স্কুল জীবন নিয়েই এর কাহিনী।
এই পাঁচ ছেলে হচ্ছে- শুন, কানামে, চিজুরু আর ইউতা-ইউকি টুইন। পাঁচ জন পাঁচ রকম পার্সোনালিটির।

শুন হচ্ছে খুব ভালো একটা ছেলে। ভদ্র, বিনয়ী। যার প্রেমে ২-১ টা এপিসোড পরেই পড়ে মাসাকি নামের একটা সুনদেরে মেয়ে। কানামে হচ্ছে ক্লাস রিপ্রেসেন্টেটিভ। সিরিয়াস টাইপের এক ছেলে।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার হচ্ছে ইউকি- ইউতা টুইন। হ্যান্ডসাম, কুল। তাদের সেন্স অফ হিউমার সেইরকম। গম্ভীর মুখে তারা এমন সব পচানি কানামেকে দেয় যে পুরাই হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে আসে।

একমাত্র চিজুরু বাদে সবাই সেই এলিমেন্টারি স্কুল থেকে একজন আরেকজনকে চিনত। চিজুরু হচ্ছে খুব হাসিখুশি একটু ইডিয়ট টাইপের ছেলে। হাফ জাপানিজ ট্রান্সফার স্টুডেন্ট।
পাঁচ জন পাঁচ রকম ক্যারেক্টারের পরও তারা খুব চমৎকার একটা সার্কেল হয়ে যায়।এক সাথে হ্যাং আউট কিংবা বাসায় একসাথে আড্ডা দেয়া, মেলায় একসাথে যাওয়া, প্রেম-বিরহ, ছোট্ট বেলার ক্রাশ- সব মিলিয়ে হাইস্কুল ছেলেদের যা থাকে সবই এদের আছে।

আমাদের জীবণ স্লো পেসে চলে তেমনি এদের গল্পও খুব স্লো পেসে স্বচ্ছন্দে চলে। তাই বলে একদমই বিরক্তিকর না। এক এপিসোড দেখলে পরেরটা অবশ্যই দেখতে মন চাইবে। যারা অনেক দিন ধরে অ্যাকশন, হরর, সাইকো থ্রিলার দেখছেন তাদের জন্য এটা হতে পারে চমৎকার একটা রিফ্রেশমেন্ট।

খুব সাধারণ কিন্তু কেন যেন মনে খুব অসাধারণ একটা ইম্প্রেশন রেখে যায় অ্যানিমেটা। হতে পারে কারণটা চিজিরুর ওয়ান সাইডেড ক্রাশ কিংবা খুব ছোট ছোট অনুভূতির জন্য যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না…

সবচেয়ে সুন্দর যে জিনসটা যেটা হল এই অ্যানিমেতে খুব নরমাল একটা দৃশ্য অথবা কনভার্সেশন -এর মাঝেই হুট করে অন্য রকম স্বপ্নের মত সুন্দর কিছু দৃশ্য দেখায়। আমি এরকমটা কখনো দেখি নি তাই প্রথমবারের মত দেখে খুব চমকে গিয়েছিলাম। বলা যায় এই ছোট্ট একটা কারণেই খুব স্পেশাল হয়ে আছে অ্যানিমেটা আমার কাছে।

হাইস্কুল লাইফের কথা শুনলেই আমাদের মনে কিছু জেনারালাইজড চিন্তা মাথায়

আসে। অনেকে বলেই দিতে পারে কি কি থাকতে পারে এইসব অ্যানিমেতে। মানছি সেগুলর সবই আছে এখানে কিন্তু তারপরেও এটা অসাধারণ। একবার দেখে ফেললে সেটা আপনিও বুঝতে পারবেন।

 

1498972_721450547867092_450171162_o

মাঙ্গা- ওয়াতাশিতাচি নো শিয়াওয়াসে না জিকান/ Watashitachi no Shiawase na Jikan রিভিউ by Asfina Hassan Juicy

(Our Happy Hours/Our Happy Time)
ভলিউম- ১টি (৮ চ্যাপ্টার- মাত্র !!)
জেনরা- স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স, সেইনেন, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা

রোমান্স মাঙ্গা পড়তে গেলেই বেশিরভাগ সময় মাথায় প্রথম যে ধারণা আসে তা হল স্কুল সেটিং-য়ে একটা একটু অন্যরকম মেয়ে আর বেশ সুদর্শন একটা ছেলের ভালোবাসার কাহিনি।তবে রোমান্স জেনরারই এই মাঙ্গা আপনাকে নিয়ে যাবে এর থেকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে…বাস্তবতার অনেক কাছে কিন্তু অনেক গভীরে…উপলব্ধি করাবে জীবনের কিছু পরম সত্য, কিছু নিষ্ঠুর দিক ও কিছু সুন্দর আশাপূর্ণ মুহূর্ত…

মুতোউ জুরি একজন মাঝবয়সী ফর্মার পিয়ানিস্ট যিনি ৩ বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। জুরির মা তার কন্যার এরূপ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তাকে তার আন্টি মনিকার তত্ত্বাবধানে রেখে আসেন, যিনি একজন চার্চের পাদ্রী। আন্টি মনিকার সাথে জুরি আগে থেকেই পরিচিত এবং বলা যায় তিনিই জুরির সবচেয়ে আপনজন, এমনকি তার নিজের মা থেকেও। আন্টি মনিকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মানসিক সাহায্য করত। জীবনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য জুরিকে তিনি তার সাথে জেলে নিয়ে যান তেমনি এক আসামীর সাথে দেখা করতে। সেখানে জুরি পরিচিত হয় ইয়ু নামের সেই আসামীর সাথে যে তিনজন মানুষকে একবারে খুন করেছে এবং তার দন্ডের দিনগোনার সময় আবার বেশ কয়েকবার নিজেকেই খুন করতে চেষ্টা করেছে ! কি ধরনের নিষ্ঠুরতা জুরি আর ইয়ুকে ফেলে দিয়েছে এমন আশাহীন কষ্টকর জীবনে? কি তাদের পেছনের কাহিনী? এবং কিভাবে তারা রক্ষা পাবে পৃথিবীর এই ঘৃণা ও কষ্টের বেড়াজাল থেকে?

ডার্ক থিমের হলেও মাঙ্গাটির প্রতিটি চ্যাপ্টার রিফ্রেশিং ! সবার জীবনেই এক ধরনের কষ্ট, না পাওয়া থেকে থাকে কিন্তু আবার সবার জীবনেই থাকে একটু সুখ। স্বল্পক্ষণের জন্য হলেও প্রত্যেকের জীবনেই আসে একটু আশা, একটু ভালোবাসা, একটু মুক্তি। কষ্টের জন্য জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি ঘৃণা থেকে মুক্তি দিতে পারে সামান্য এসব জিনিসই। মাত্র ৮ চ্যাপ্টারের মধ্যে জীবনের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে! এই মাঙ্গাতে আপনি পাবেন না কোনো মাথা উল্টানো প্লট টুইস্ট, জটিল অ্যাকশন বা থ্রিল…এমনকি পাবেন না কোন মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক মুহূর্ত, গভীর ভালোবাসার বন্ধন বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা… শুধু পাবেন দুইজন মানুষের অতি সাধারণ কিন্তু একইসাথে অসাধারণ জীবনের এক অধ্যায়।

মাঙ্গার আর্টের কথা বলতে গেলে সহজভাবে বেশ সিম্পল কিন্তু সুন্দর। কাহিনীর সাথে বেশ ভালই সমন্বয় করেছে। কাহিনির জন্য একদম পর্যাপ্ত ও পারফেক্ট করে এভাবে আঁকা তবে অভাব না রাখা আসলে খুব কম মাঙ্গাকাই পারেন।

শেষে বলা যায়, এক কথায়, চমৎকার স্লাইস অফ লাইফ। ৮ চ্যাপ্টার- একদিন বসলেই খতম! মাঙ্গা পড়েন আর না পড়েন ট্রাই করে দেখতে পারেন। দিনশেষে হয়ত দিতে পারে আপনার জীবনেরই কোন প্রশ্নের উত্তর, করে তুলতে পারে আবেগি ও অনুপ্রেরণা দিতে পারে এগিয়ে যাওয়ার পথে

পরিশেষে রেটিং-
মাল রেটিং – ৯.১০
আমার রেটিং – ১০ (কাটার কিছু পাইলাম না )

 

Yuusha ni Narenakatta Ore wa Shibushibu Shuushoku wo Ketsui Shimashita. (Yuushibu) – Review By Tahsin Faruque Aninda

এপিসোড: ১২
জনরা: কমেডি, ইচ্চি, ফ্যানটাসি, রোম্যান্স

রাউল চেজার, সে এক হিরো একাডেমির স্টুডেন্ট ছিল আর স্বপ্ন ছিল একদিন হিরো হয়ে উঠবে আর ডিমন লর্ডকে হারিয়ে দিবে। কিন্তু এরই মধ্যে কেউ একজন ডিমন লর্ডকে যুদ্ধে পরাজিত করে, আর সমগ্র হিরো বনাম ডিমন সিস্টেম ভেঙ্গে পরে। এখন সে একজন সাধারণ মানুষ, আর লিওন নামক ম্যাজিক শপে সে এখন একজন সেলসম্যানের কাজ করে।
এমন সময়ে একজন দোকানে আসে চাকরির জন্যে, তার রেজ্যুমে-তে লিখা:

নাম – ফিনো
পূর্বের পেশা – ডিমন লর্ডের উত্তরাধিকারী
চাকরির আবেদনের কারণ – আমার বাবা হেরে গিয়েছে তাই

এখান থেকেই শুরু হয় হিরো হতে হতেও না হতে পেরে অবশেষে বিরক্ত হয়ে সেলসম্যানের কাজ নেওয়া রাউল এবং অতিরিক্ত পজিটিভ মানসিকতার ডিমনলর্ড-কন্যা ফিনোর কাহিনি।

পুরো আনিমের সারমর্ম এভাবে বলে দেওয়া যায়-
১/ রাউল ফিনোকে শিখায় যে এভাবে এভাবে কাজ করতে হবে, আর ফিনো সেগুলা ধীরে ধীরে শিখতে থাকে
২/ ইচ্চি
৩/ ফিনো অনেক বেশি পজিটিভ
৪/ ইচ্চি
৫/ ইচ্চি
৬/ অন্য একটা সুপারশপের সাথে লিওন শপের কর্মীদের পাট্টাপাট্টি, কারা বেশি বিক্রয় করতে পারে
৭/ ইচ্চি
৮/ মাঝে মাঝে ঝাপসা করে দেওয়া ন্যুড শট [যা হয়তো পরে আনসেন্সর্ড প্রিন্টে ঝাপসা নাও থাকতে পারে ]
৯/ সবশেষে, ইচ্চি

এত্তগুলা ইচ্চি দেখে হয়তো বুঝাই যাচ্ছে যারা ইচ্চি দেখতে পছন্দ করেন তারা এইটা দেখে মজা পাবেন। ঘটনা সেরকমই!
আমার সাজেশন, ইচ্চি আনিমে ভাল লাগলে ট্রাই দিতে পারেন, ভাল টাইম পাস হবে। আর ইচ্চি ভাল না লাগলে এইটা দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, একটি “OK” সিরিজ।

MyAnimeList রেটিং – ৭.১৬/১০ [এই মুহুর্তে]
আমার রেটিং – ৬.৫/১০

ক্যাটাগরি: “টাইমপাস”

 

এফ এ সি ১৪ – Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

হাচিকো

 

 

হিদেসাবুরো উয়েনো ছিলেন টোকিও ভার্সিটির এগ্রিকালচারাল ডিপার্টমেন্টএর প্রফেসর। প্রতিদিন উনি যখন বাড়ির পথে রওনা হয়ে শিবুইয়া স্টেশনে নামতেন, তখন তার প্রিয় কুকুর হাচিকো তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকত। কিন্তু ১৯২৫ সালের মে মাসে প্রফেসর উয়েনো আর বাড়ি ফিরতে পারলেন না, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। কিন্তু তাঁর প্রিয় কুকুর এর পরের নয় বছরের প্রতি দিন ঠিক ট্রেন আসার মুহুর্তে স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করত। বিশ্বস্ততার এই পরম নিদর্শন দেখানোর জন্য হাচিকো পরিনত হলো জাপানের অন্যতম জাতীয় প্রতীকে। তাকে নিয়ে বাঁধা হলো গান, আঁকা হলো ছবি, সে স্থান পেল পাঠ্যপুস্তকে। হাচিকো পরবর্তীতে ক্যান্সার আর ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

 

হাচিকো শিবুইয়া স্টেশনের যে জায়গাতে দাঁড়াত, সেই জায়গাটা স্থায়ীভাবে চিন্হিত করা আছে, এখনো কেউ চাইলে দেখে আসতে পারেন।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

আরাকাওয়া আন্ডার দ্য ব্রিজ(Arakawa Under The Bridge) 

 

 

ইচিনোমিয়া পরিবারের নীতি হলো ”কখনোই ঋণগ্রস্ত থাকবে না”। কিন্তু এই পরিবারের বর্তমান উত্তরাধিকারী ইচিনোমিয়া কো-কে যখন নিনো নামের এক মেয়ে আরাকাওয়া নদীতে হাবুডুবু খাওয়া থেকে বাঁচালো, তখন কো ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে ফেঁসে গেল। নিনো তার কাছ থেকে একটাই জিনিস চায়, আর তা হচ্ছে ভালবাসা কি, সেটা বোঝা। কাজেই কো আরাকাওয়া নদীর ব্রিজের নিচে নিনোর সাথে থাকতে শুরু করলো। কিন্তু এই জীবনযাপনে তার সঙ্গী শুধু ”ভেনাস গ্রহের অধিবাসী” নিনোই নয়, তার প্রতিবেশী হিসেবে আছে সবসময় মুখোশ পরে থাকা হোশি, কাকাতুয়া বিলি,  লাস্ট সামুরাই, ”সিস্টার”, আর এই সমাজের মোড়ল হিসেবে আছে রহস্যময় এক ”কাপ্পা”। কো এর জীবন কিভাবে বদলে যাচ্ছে? আর সে-ই বা কিভাবে বদলে দিচ্ছে আরাকাওয়ার অধিবাসীদের জীবন?

 

কেন দেখবেনঃ চমত্কার স্লাইস অব লাইফ আনিমে, সেই সাথে এটা সেরা হিউমারাস আনিমেগুলোর একটা। তেমন দুর্দান্ত কোনো প্লট নেই, কিন্তু  রীতিমত অদ্ভুত সেটিং, আর পিকুলিয়ার ক্যারেক্টারাইজেশন চেখে দেখার জন্য হলেও এই আনিমেটা দেখতে হবে।

 

কেন দেখবেন না: যদিও এটা খুব ভালো কমেডি আনিমে, কিন্তু সেই গ্যাগ এলিমেন্টগুলোতে ভাড়ামি  নেই, কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা নেই, কাজেই স্রেফ প্রানখুলে হাসার মত আনিমে, এটা ভেবে দেখতে বসবেন না। ক্যারেক্টারগুলোর সাথে একাত্ত হয়ে গেলেই এখানের মজাগুলো পুরোপুরি বোঝা যাবে।

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০+৭.৯৪

আমার রেটিং ৯+৯

 

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

লায়ার গেম(Liar Game)

 

কানজাকি নাও প্রচন্ড রকম সৎ একটা মেয়ে। এতই সৎ যে তাকে বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের যে অবস্থা তাতে প্রশংসা না করে বোকাই বলা যায়। তো এমন সৎ ভালোমানুষ এক মেয়েকে যদি লায়ার গেইম নামের এমন একটা খেলায় অংশ নিতে হয়, যে খেলার মূল কথায় হচ্ছে অন্য প্রতিযোগীদের ধোঁকা দেয়া, তাহলে কেমন হবে? যা হবার, তাই হলো।  নাও প্রথম রাউন্ডেই তার প্রাথমিক পুঁজি একশ মিলিয়ন ইয়েন হারালো। পেনাল্টি হিসেবে দুইশ মিলিয়ন ইয়েনের খাঁড়া যখন ঝুলছে তার উপর, সেই অবস্থায় অসহায় নাও খোঁজ পেল এক জিনিয়াস প্রতারকের, নাম তার আকিয়ামা শিনিচি। এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ যখন জুটি বাঁধলো, তার পরিনতি কি হবে? তারা কি পারবে লোভ আর প্রতারণা যার পরতে পরতে মেশানো, সেই লায়ার গেমের ভয়াবহ জগতকে জয় করতে?

 

কেন পড়বেনঃঅসাধারণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, যারা ওয়ান আউটস বা আকাগি এর মত ওয়ান ম্যান শো গুলো উপভোগ করেছেন, তাদের জন্য মাস্ট রিড।

 

কেন পড়বেন নাঃতেমন কোনো কারণ নেই।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৪

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।

Monster – The Anime, review by Monirul Islam Munna

ঠিক বুঝতে পারতেছি না আসলে, এনিমেটা নিয়ে কী লিখব আর কীভাবে পারফেক্ট শব্দ দিয়ে এনিমেটাকে অন্যের সামনে তুলে ধরবো!!! একটা এনিমে এইভাবে যে মনোযোগ টেনে ধরে রাখবে,এতো সুন্দর গুছানো, আগে কল্পনাই করতে পারি নাই। মনে হচ্ছিল যে এক একটা এপিসোড দেখছি আর পেঁয়াজের আস্তরণ একটা একটা তুলে ভীতর থেকে আরও ভীতরে প্রবেশ করছি। প্রতিটা আস্তরণ যেন আরও বেশী বোধগম্য করে তুলে এনিমেটাকে সাথে নতুন কিছু উপহার দেয়!!!

এনিমেটা একজন খুবই মেধাবী ব্রেন সার্জন ‘কেনযো টেনমা’কে নিয়ে। সার্জন হিসেবে অসম্ভব মেধা আর যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে চারদিকে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। যে হাঁসপাতালে চাকরি করতেন সেখানে নিজের মেধা পরিচয়ে চিফ সার্জন হয়ে গেলেও, পলিটিক্সের কাছে কিছুটা হার মেনে নিতে হত তাকে। কখনও কখনও দায়িত্বের চেয়ে ডাইরেক্টরের সুনাম যেন অক্ষুণ্ণ থাকে সে দিকে মননিবেশ করতে হত। সাধারণ মুমূর্ষু রুগীর চিকিৎসা না করে, নামী কোন ব্যক্তির চিকিৎসা করতে বাধ্য হতেন টেনমা। কিন্তু একদিন নিজের ভুল বুজতে পারলেন তিনি,বুজতে পারলেন যে কারণে ডক্টর হয়েছেন সে পথেই নেই তিনি!!! তাই একদিন ডক্টর হিসেবে আগে দায়িত্বকেই বেঁছে নিলেন এবং ডাইরেক্টর আদেশ অমান্য করেই, ছোট একটি ছেলের জীবন বাঁচাতে অপারেশন থিয়েটারে চলে গেলেন। কিন্তু এই একটা সিধান্ত যে তার জীবন ঘুরিয়ে দিবে, তছনছ করে নিবে তার চার পাশ হয়তো ভাবতেই পারেননি টেনমা। সৎ উদ্দেশ্যে কাউকে বাঁচাতে গিয়েই এক অভিশাপ যে নেমে আসবে, কেই বা ভাবতে পেরেছিল!!!!

এনিমের কাহিনীর বিলডআপটা আসলেই অসাধারণ!! আগে যেমন বললাম, মনে হচ্ছিলো কিছু জিনিস একই সাথে যেন পরিষ্কার হচ্ছে সাথে সাথে আবার নতুন জিনিশ যেন মাথা আউলায় দিচ্ছে!! খুবই গছানো এনিমেটা। শেষটা মনে হয় ইচ্ছা করেই এমন একটা মিস্ত্রি রেখে দিছে, এনিমেটা দেখে যে যেমন অনুভূতি পেয়েছে সে সেভাবে গুছায় নিবে!!! 

সাথে শিশু নির্যাতন, গণহত্যা, ব্রেন ওয়াশ, human experimentation কীভাবে যে একটা মানুষের মানুষিক বিকাশে পরিবর্তন আনতে, মানুষকে manipulate করে কত কিছু করা সম্ভব!!! সেটা বেশ রিয়ালিস্তিকভাবে দেখানো হইসে।

কাহিনীর সাথে চরিত্রগুলার অবদান ছিল দেখার মত। প্রতিটা চরিত্র এনিমেটার কাহিনীতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। এমন একবারও মনে হয়নি যে কাহিনী লম্বা করতে অযথা কিছু চরিত্র প্রবেশ করছে। সাথে সবারই মোটামুটি বিস্তর অতিত ইতিহাস খুব সুন্দর করে দেখানো হইসে। আর কীভাবে এই ছোট ছোট কাহিনীগুলো এক সাথে মিলে একটা মাস্টার পিস হবে, আসলে না দেখে বোঝা সম্ভব না!!!

আসলেই জোশ সাইকোলজিক্যাল, মিস্ত্রী, থ্রিলার একটা এনিমে!!!
MAL rating 8.73
my rating 9.0 

Medaka Box- Anime review by Fahim Abir

Anime Recommendation : Medaka Box(১২ এপিসোড)

Genres : Action , Super Power , Comedy , Ecchi , Martial Art , Romance , School

প্রচারকাল : এপ্রিল ৫ , ২০১২ থেকে জুন ২১ , ২০১২

৯৮% ভোট পেয়ে হাকোনিওয়া স্কুলের স্টুডেন্ট কাউন্সিল সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয় কুরোকামি মেদাকা । নির্বাচিত হয়েই সে প্রতিশ্রুতি দেয় , সে হাকোনিওয়া স্কুলের সকল ছাত্রছাত্রীর যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে । এবং এই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে সে স্টুডেন্ট কাউন্সিল রুমে স্থাপন করে ‘সাজেশন বক্স’ । প্রথম প্রথম এই সাজেশন বক্স তেমন সাড়া না জাগালেও মেদাকা সাজেশন বক্সে আসা সমস্যাগুলো সমাধান করতে থাকে । বখে যাওয়া কেন্দো ক্লাবের সদস্যদের শায়েস্তা করা থেকে শুরু করে হারানো কুকুর খুঁজে বের করা এবং আরও নানারকম ছোটবড় সমস্যার সমাধান করে সে তার প্রতিস্রুতি পূরণে সচেষ্ট হয় । এবং এতে তাকে সাহায্য করে তার বাল্যবন্ধু হিতোয়োশি জেঙ্কিচি । ঘটনাক্রমে স্টুডেন্ট কাউন্সিলে যোগদান করে আকুনে কৌকি এবং কিকাইজিমা মোগানা । মেদাকার স্টুডেন্ট কাউন্সিলের কার্যকারীতায় হাকোনিওয়া স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের স্কুলজীবন হয়ে ওঠে আনন্দময় । কিন্তু ধীরে ধীরে মেদাকা জানতে পারে তার স্কুলের গোপন রহস্য, যার সাথে সে নিজেও জড়িত । হাকোনিওয়ার ছাত্রছাত্রীরা তাদের অজান্তেই মুখোমুখি হয় কঠিন এক সমস্যার। মেদাকা কি পারবে এই সমস্যার সমাধান করতে ?

দেখুন মেদাকা বক্স এবং নিজেই জেনে নিন উত্তর ।

লেখকের নিজস্ব মতামত : প্রধান চরিত্র সুপারপাওয়ারফুল এবং প্রাণবন্ত এক মেয়ে যার গুনের শেষ নেই । যারা স্কুললাইফ নিয়ে এনিমে দেখতে পছন্দ করেন তাদের কাছে এনিমে টা বেশ ভালই লাগবে আশা করি । কিছুটা এচ্চি আছে যা মোটামোটি সহনীয়(ব্যাক্তিভেদে ভিন্নমত হতে পারে) । ধৈর্য ধরে দেখতে থাকলে শেষ দিকে দেখতে পাবেন পিউর শৌনেন টাইপ অ্যাকশান যা পরবর্তী সীসনে পূর্ণতা লাভ করেছে ।

MyAnimeList রেটিং : ৭.২০

লেখকের রেটিং : ৮

Ace of Diamond anime review by Monirul Islam Munna

 

1526129_10200314646907159_867073266_n

Ace of diamond
Genres: Comedy, School, Shounen, Sports
মূলত বেইস বল নিয়ে এনিমে।
এনিমেটা সোউনিন ধরণের, ‘রাফ ডায়মন্ড’ Eijun Sawamuraকে ঘিরেই মূল কাহিনী, দলে যার মূল ভুমিকা একজন পিচার(ক্রিকেটে বোলার যেমন) । ছোট্ট শহরে বন্ধুদের নিয়ে বেইসবল নিয়ে মেতে থাকতো সাওামুরা,নিজের সামর্থ্যের তুলনায় নিজের দল খুব একটা ভালো না খেললেও কখনও অভিযোগ না করে উল্টো সব সময় সাহস আর প্রেরণা দিয়ে দলকে চাঙ্গা রাখতো সে।
অন্য দিকে বেইসবলের জন্য দেশের অন্যতম নাম করা Seidou High School এর Rei Takashima তখন খুজে বেড়াচ্ছেন দলের জন্য, এমন আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা গুলো।কি যেন একটা দেখলেন তিনি সাওামুরার মধ্যে, মরিয়া হয়ে উঠলেন সে রাফ ডায়মন্ডকে শহরের নিয়ে নিখুত করে তুলতে।
১ম কোন ভাবে রাজি না হলেও,এমন সুবর্ণ সুযোগ আর নিজের স্বপ্ন বাস্তব করে তোলার সম্ভাবনা দেখতে পেরে অবশেষে সাওামুরা চলল তার সাথে বড় শহরে। বড় শহরে গিয়ে যেন স্বপ্নের প্লে গ্রাউনড পেয়ে বসল, সায়ামুরা। এতো প্লেয়ার দেখে কে পায় তাকে, আরও বেশী প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল সে।
অল্প দিনের মধ্যে বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারল, সাওামুরা। সে একা নয়, স্কুলের প্রতিটা ছেলে সেই একি সপ্ন নিয়ে এছেসে, দলের ‘এইস’ হতে। এতো সহজেই দলে স্থান হবে না তার। কিছুদিন খেলেয় বুঝতে পারল, কতো না কঠোর পরিশ্রম দিয়ে টিকে আছে এক একজন। কতটা পিছে পরে আছে সাওামুরা। অন্যান্যরা যেন অন্য এক লেভেলে বেইসবল খেলে,তাদের সামনে সাওামুরা তো যেন কিছুই না। কিন্তু এমন খেলার পর মুষড়ে যাওয়ার পাত্র সাওামুরা নয়, উল্টো কয়েকগুন পরিশ্রম দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে লাগলো সাওামুরা!!! কিন্তু পারবে সে দলে নিজের স্থান করে নিতে???
এনিমের মূল কাহিনী তাকে নিয়ে হলেও দলের কোচ এবং আরও কিছু প্লেয়ার আছে যাদের চিন্তা ধারা, টেকটিকস, খেলার ধরণ খুবই জোশ!!!! ওদের নিয়ে বেশী কিছু বললাম না, স্প্যলার হয়ে যাবে
কমেডি,একশন মিলে বেশ উপভোগ্য এক এনিমে ‘ এইস অফ ডায়মন্ড’

Persona 4-Short anime review by ইশমাম আনিকা

Persona-4-p4-animation-anime-series-watch-online

 

Anime: Persona 4
Genre: action, mystery, fantasy

হাইস্কুল লাইফে ফ্রেন্ড দিয়ে ঘিরে থাকা এবং তাদের সাথে সময় কাটানো যেকোন মানুষের সবচেয়ে সুন্দর সময়। এনিমের শুরুতেই Yu Narukami কে টোকিও ছেড়ে ইনাবা নামক ছোট্ট, শান্ত শহরে আসতে হয় কারণ তার বাবা মা ট্যুরে যাচ্ছিল। সেখানে স্কুলে ভর্তি হয়ে আস্তে আস্তে যখন দু একজনের সাথে কথা শুরু হয় তার, ঠিক তখনই হঠাত্‍ অদ্ভুতভাবে মানুষ মারা যেতে শুরু করে। ইয়্যু তার নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে মিডনাইট চ্যানেলের কথা জানতে পারে এবং ওরা মৃত্যুর সাথে এই চ্যানেলের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে আজব এক দুনিয়ায় গিয়ে হাজির হয় ও সেই দুনিয়ার বাসিন্দা “কুমা” র সাহায্য নিয়ে একে একে রহস্যভেদ করতে থাকে এবং হত্যাকারীকে খুঁজতে থাকে।

N. B. – প্রথম ২ ৩ টা পর্ব মনোযোগ দিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক! ইগরকে কখনো ইগনোর করা যবে না, তাকে পাওয়া যাবে প্রতি এপিসোডের শুরুতেই!

 

 

 

Seitokoi Yakuindomo- An anime review by Kazi Rafi

Seitokoi Yakuindomo: নোংরা রসিকতাকে শৈল্পিক স্তরে নিয়ে যাওয়া এক দুষ্টু দলের গল্প !!

পর্ব- ১৩+৮টি অভিএ
জনরা- কমেডি, স্কুল, শউনেন
প্রযোজক- GoHands (K-Anime এবং ongoing Copellion এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান )

কাহিনি সংক্ষেপ- তাকাতোশি সুদা, অতি সম্প্রতি গার্লস হাই-স্কুল থেকে কো-এডে রূপান্তরিত হওয়া ঔসাই একাডেমী তে নবীন হিসেবে যোগদান করে, নিজ বাসার খুব কাছে হওয়ায় এবং কাহিনীর ফেরে প্রথম দিনেই দেখা হয়ে যায় স্কুলের স্টুডেন্ট কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আমাকুসা সিনো, সেক্রেটারি সিচিজোউ আরিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ হাগিমুরা সুযুর সঙ্গে! একথায় ওকথায় হঠাৎ করে কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট, নতুন ভর্তি হওয়া সব ছেলেদের প্রতিনিধি হিসেবে তাকাতোশির অনুমুতির তোয়াক্কা নাহ করে, একরকম জোরপূর্বক ভাবেই তাকে ঔসাই একাডেমী স্টুডেন্ট কাওউসিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট বানানর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই একি মুহূর্তে তাকাতোশি আবিস্কার করে যে প্রেসিডেন্ট আমাকুসা আসলে অতি নোংরা রসিকতা করায় বিরাট ওস্তাদ এবং সেক্রেটারি আরিয়া অতি নম্র, ভদ্র ও কিছুটা বোকা সোকা ধরনের হওয়ার পরেও সে আসলে এক বিশাল মাপের পারভার্ট। স্টুডেন্ট কাওউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে প্রথম প্রথম কিছুটা অনিহা প্রকাশ করলেও ধীরে ধীরে এদের সঙ্গে ভালভাবেই মানিয়ে নেয় এবং এদের সঙ্গে কাজ করার অনিহাও তাকাতশির কেটে যায়। মূলত, স্কুলে এই কাওউন্সিল মেম্বারদের প্রতিদিনকার কার্যকলাপ ও নানান মজার ও হাস্যকর ঘটনা ও রীতিমতো অসময়ের ভুল বুঝাবুঝির সব ঘটনা ঘিরেই সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোর কাহিনী গড়ে উঠেছে !

রিভিউ- Shonen মাঙ্গার উপর নির্মিত, সামনের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় সিজন বের হবে, সেই উপলক্ষে Seitokai Yakuindomo নামিয়ে দেখে ফেললাম ! যেহেতু দ্বিতীয় সিজন বের হচ্ছে তাই বেশ প্রত্যাশা নিয়ে দেখতে বসছিলাম, কিন্তু এনিমের শেষে এসেও সেই প্রত্যাশার বেশ কিছুটা অপূর্ণ রয়ে গেছে !! হতাশার মূল কারন হচ্ছে এই এনিমের কোন গুরুত্বপূর্ণ স্টোরিলাইন বা কাহিনী অনুসরন করার মতন কোন প্লট নেই। প্রতিটা পর্বই একটা থেকে আরেকটা সম্পূর্ণ আলাদা, একটা পর্বের কাহিনী অন্য কোন পর্বের উপর নির্ভর করে নাহ, এর বাইরে তো মান্ধদার আমল থেকে শুরু হওয়া সেই গৎবাঁধা সমুদ্র সৈকতে ছুটি কাটানোর পর্ব, ফেস্টিভ্যাল পর্ব ইত্যাদি তো আছেই যা মাঝেমদ্ধেই দর্শকদের এনিমেটা দেখার প্রতি নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং অনেকেই এটা সময়ের অপচয় মনে করতে পারে।

এটার পাশাপাশি আরও যে বিষয়টি দর্শকদের এই এনিমে দেখার প্রতি একরকম বিশাল বাধা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু আবার একি সঙ্গে যা হচ্ছে এই এনিমের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, যার উপর ভিত্তি করেই এই সিরিজটি গড়ে উঠেছে, যা এই এনিমের সিংহভাগ কাহিনীই দখল করে আছে- তা হল এর অতিরিক্ত পরিমাণের সেক্স বিষয়ক নোংরা জোক আর রীতিমতো বেকায়দা সময়ে ঘটা ভুলবুঝাবুঝির ঘটনা! এনিমের প্রতিটা কথোপকথনের প্রতিটা লাইনেই, নোংরা কিছু ইঙ্গিতকারী, দ্বৈত অর্থ বহনকারী সেক্সুয়াল জোক থাকবেই যার কখনই কোন হেরফের হয়নাহ! এবং এইখানেই একটা বিশাল কিন্তু আছে! প্রথম প্রথম হয়তো ব্যপারটা বেশ মজার এবং রসাত্মক মনে হবে এবং আপনি সেইসব কথোপকথোন শুনে হাসবেনও কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে, একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে এই প্লটপয়েন্ট টাই অতিরিক্ত পরিমানের ব্যাবহারের ফলে বেশ রসকষহীন, একঘেয়ে হয়ে উঠে যারফলে অতি দ্রুতই আপনি জোকগুলো বলুন কিংবা এনিমের মজার মুহুর্তগুলির কথাই বলুন, আপনি তা ভুলে যাবেন, ১৩টা পর্বের প্রতিটা সেগমেন্টের প্রতিটা মুহূর্তে যদি এই জোকগুলো ব্যাপক পরিমাণে ব্যাবহার করা হয় তাইলে মনের গভীরে বা মাথায় এই ধরনের মুহুরতগুলার প্রভাব বা মনে রাখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পেতে পেতে একসময় হারিয়ে যায়! এবং একবার সমস্যাটি এই শুরু হলে এর থেকে বের হয়ে আসা বেশ দুষ্কর হয়ে উঠে, সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোও এর ব্যাতিক্রম নয়।

এইবার আসি এনিমে চরিত্রদের প্রসঙ্গে, এই সিরিজের আরেকটি ব্যার্থ দিক। তিন মেইন মেয়ে চরিত্রদের মধ্যে দুইজনেই হচ্ছে পারভার্ট এবং নোংরা জোক করায় পারদর্শী এবং আরেকজন, হাগিমুরা সুজুর হচ্ছে নিজের উচ্চতা নিয়ে ইস্যু আছে, আর মেইন ছেলে চরিত্র, তাকাতোশির একমাত্র কাজ হচ্ছে তাদের ‘straight man’ এর দায়িত্ব পালন করা; খুব সহজ কথায় বলতে গেলে ৪ মেইন চরিত্রের ২জনের কাজ নোংরা জোক বা নোংরা কোন বিষয় নিয়ে মজা করা বা নোংরা কিছু ইঙ্গিত করা আর বাকি ২জনের কাজ হচ্ছে পারভার্ট দুইজনের মুখ সামলায় রাখা, এছাড়া এদের আর কোন কাজ নাই। এদের ব্যাপারে শুধু একটাই নতুন জিনিস উল্লেখ করার মতন আছে আর তা হচ্ছে, এইখানে ছেলেদের পরিবর্তে মেয়েরা নোংরা রসিকতা করতে অভ্যস্ত। এছাড়া সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোর মেইন চরিত্রদের ব্যাপারে বলার মতন আর বিশেষ কিছুই নেই, যার কারন হচ্ছে, এটির নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য অর্জন করার মতন কোন লক্ষ্য নেই বলে এর চরিত্রদেরও কোন প্রকার অগ্রগতি হওয়ারও কোন সুযোগ নেই!! যেটি আমার মতে এই এনিমের আরেক নেতিবাচক দিক এবং আমার হতাশার আরেক কারন !

অ্যানিমেশন ও সাউন্ড- K-Anime, Coppelion এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান GoHands তাদের ব্যানারে নির্মিত সেইতোকাই ইয়াকুইন্দমোতেও তাদের অতি উচ্চমানের অপূর্ব অ্যানিমেশন কোয়ালিটির ধারা বেশ গৌরবের সঙ্গে বজায় রেখেছে! কিন্তু অন্যদিকে এর ওপেনিং, এন্ডিং আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অপ্রত্যাশিতরকম অতি সাধারনমানের যা এই অস্থির অ্যানিমেশনের সঙ্গেই পুরাই বেখাপ্পা লাগে, যেটা বেশ দুঃখজনকরকম এক ব্যার্থতা Go Hands এর!

শেষ কথা- Seitokai Yakuindomo হচ্ছে একদমই হালকা মেজাজের আপনার গম্ভির, বিষণ্ণ সময়ে দেখার মতন এক উৎকৃষ্ট এনিমে! কিন্তু হ্যাঁ, সেই সাথে আমি এটাও সাবধান করে রাখছি যে সেক্স বিষয়ক অতি নোংরা রসিকতায় যাদের অরুচি আছে, এই এনিমে তাদের জন্য নহে, কারন এতে সেক্স বিষয়ক প্রচুর পরিমানের অত্যন্ত নোংরা, আপত্তিকর সব টার্ম রীতিমতো অবলীলায় ব্যাবহার করা হয়েছে যা অনেকের মোটেও পছন্দ নাও হইতে পারে! কিন্তু এই সিরিজ যদি আপনার পাতেরই হয়ে থাকে তাইলে ১৩টা পর্ব শেষ হওয়ার পড়ে ৮টা অভিএ দেখতে ভুলবেন নাহ কারন এনিমের সরাসরি সিকুয়েল এই অভিএ গুলোও কিন্তু মাঙ্গার চ্যাপ্টারের উপরেই ভিত্তি করে বানানো।

Similar Anime- Lucky Star

 

544907_10200725357047340_418375712_n