Sket Dance – মাস্ট ওয়াচ এনিম রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

SKET Dance.

নাম থেকেই আসলে সিরিজের মেইন স্টোরির একটা আইডিয়া করে নেওয়া যায়। SKET এর পুরো রুপ হচ্ছে – Support, Kindness, Encouragement, Troubleshoot. হাইস্কুলের ক্লাব স্কেট ডান্সের গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য ছিল স্টুডেন্টদের ছোট বড় নানা সমস্যায় সাহায্য করা। যদিও বেশিরভাগ সময়েই তারা ক্লাব রুমে বসে ঝিমায় এবং গল্প করে; যে কোন সমস্যা তাদের কাছে এলে সেটা সমাধানে তারা তাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে। সিরিজের মুল চরিত্র তিনটা – বসসুন, হিমেকো আর সুইচ।

প্রথমেই ছোট একটা জিনিস ক্লিয়ার করে নেয়া যাক। এই সিরিজটাকে অনেকেই গিন্তামার রিপ-অফ বলে দাবি করেন। যদিও সিরিজের মাঙ্গাকা এককালে গিন্তামার মাঙ্গাকার এসিস্ট্যান্ট ছিলেন এবং সেখান থেকে কিছুটা ইনফ্লুয়েন্সড হওয়াটাই স্বাভাবিক (এর ওর পোস্ট মারফত জানসি 😀 ) এবং সিরিজের সেটিং এও হয়ত কিছু মিল আছে; কিন্তু সেটা ও পর্যন্তই। দু’টো জিনিসের স্টাইল, টোন, টার্গেটে অনেক ভিন্নতা। গিন্তামা যেমন সবকিছুকে এক্সট্রীমে নিয়ে গিয়েছে; হোক সেটা কমেডি বা সিরিয়াসনেস; স্কেট ডান্স চেষ্টা করেছে পুরো সিরিজজুড়েই হাল্কা একটা ভাব ধরে রাখতে; যে কারণে কিছু ব্যাকস্টোরি ছাড়া পুরো সিরিজে তেমন সিরিয়াস কোন আর্ক বা স্টোরি নেই আসলে; এবং এই জায়গাটাই আমার কাছে মনে হয়েছে এই সিরিজের স্ট্রেংথ।

সিরিজের কোর স্টোরিলাইন খুব সিম্পল এবং এপিসোডিক। কিছু মাল্টিএপিসোড স্টোরি আছে; তবে সেগুলোর লেংথও খুব বেশি না। কমেডির পাশাপাশি ড্রামা এবং অন্যান্য এলিমেন্টগুলোও যত্ন নিয়েই ইঙ্কলুড করা হয়েছে।

সিরিজের প্রথম হাফে এপিসোডগুলো ছিল একদমই “ষ্টুপিড”; মানে যার যা খুশি করতেসে; আউটরেজিয়াস জিনিস আসতেসে একের পর এক (লাভ-লাভেন-লাভ জেনারেশন- মাই জেনারেশন – জেনারেশন গ্যাপ – জেনারেল জেনারেটর জেনারেশন- জেনেভা – এই সিকুয়েন্স আমি বহু দিন ভুলবো না; পৈশাচিক একটা এপি ছিল); ওইটাই বেশি ভাল ছিল। শেষঅর্ধে এরা ক্যারেক্টারগুলার মধ্যে কিছু রিলেশনশীপ ক্রিয়েট করতে গিয়েছে; এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেইটা অনেকটা ফোর্সড ছিল (পারসোনালিটি চেইঞ্জের এপিটা – রেয়ার এপিগুলার একটা যেইটা বিরক্ত লাগসে রীতিমতন :/ ); তবে সিরিজের খাতিরে সেটারও দরকার ছিল হয়তবা।

পুরো সিরিজে লক্ষ কোটি ক্যারেক্টার আসছে; থেকেও গেসে; আবার কিছু কিছু হারায়েও গেসে। সবারই কিছু না কিছু ইউনিক ট্রেইট ছিল; ইন্টারেস্টিং ছিল। কিছু কিছু এপিতেতো মেইন ক্যারেক্টারদের উপস্থিতি ছিল সাইডশো হিসেবে। মোমোকা, জো কুসারাগি ( :v ) , আগাতা, রোমান – সবগুলো ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং ছিল।

একটা সার্টেইন এপিসোডে সবাই মিলে উনিয়ুর বাসায় যায়। ওই এপিটা সম্ভবত সবচেয়ে উরাধুরা এপি ছিল আমার কাছে। লজিক মজিকরে গাট্টি বোঁচকায় বাইন্ধা তাকের উপর তুইল্লা রাইখা এপিটা বানাইসে। তাছাড়া জেনেসিস এর এপি, অনিহিমের মায়ের দাবড়ানি – পুরো সিরিজটাই জোস জোস এপিসোডে ভর্তি ছিল।

তবে পুরো সিরিজে সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র ছিল সুইচ ( অনেকেরই তাই হবার কথা 😀 )। ইউকির সাথে তার হেড-টু-হেড এঙ্কাউন্টারগুলা এবং তাদের আনউইজুয়াল রিলেশনশীপ খুবই এঞ্জয়েবল ছিল। প্লাস সুইচের উইটি কমেন্টগুলা অলওয়েজই এঞ্জয়েবল ছিল।

মিউজিক, আর্ট – এইগুলা মোটামুটি ভালই ছিল। ভয়েস এক্টিং আমার বেশ ভাল্লাগসে (সেইয়ু চিনি না; কেয়ারও করি না; সো এর বেশি কিছু আসলে বলার নাই)।

সিরিজের একটা সমস্যা হচ্ছে অনেক পান এবং প্যারোডি আসলে ধরা সম্ভব না; কারণ রেফারেন্স গুলা সমন্ধে আইডিয়ায় সবারই কম বেশি ঘাটতি থাকার কথা। প্লাস আমার মতন ম্যারাথন দিলে কিছু কিছু জোকস হয়ত ক্লিশে লাগতে পারে; আহামরি তেমন কিছু না।

ওভারঅল; চমৎকার একটা সিরিজ, যারা দেখেন নাই সবার জন্যই রিকমেন্ডেড।

গিন নো সাজি- রূপার চামচের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

000

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “অ্যানিমে কেন দেখ?” অনেক ধরণের উত্তরের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটা পাওয়া যায়, তা হল, “অ্যানিমে / মাঙ্গা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।” এই উত্তরটা আমাকে সবসময় খুব অবাক করত, কারণ আমি অ্যানিমে / মাঙ্গাকে সবসময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অন্তত এই একটি অ্যানিমে আমার ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই অ্যানিমেটা শেষ করার পর আমি মাঙ্গাটাও পড়ে ফেলি। তাই এই রিভিউটি গিন নো সাজির অ্যানিমে এবং মাঙ্গা দুটিই কভার করবে।

প্রথমে মাঙ্গা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই-
Genres: Comedy, Drama, School, Shounen
Authors: Arakawa, Hiromu (Story & Art)
Status: Publishing
Score: 8.26
Ranked: 428

Gin-no-Saji-Ep-2-Img-0016-1024x576

হাচিকেন ইয়্যুগো একজন শহুরে কিশোর। বলতে গেলে তার সারাজীবন কেটেছে চার দেয়ালের মাঝে। বাসা, স্কুল এবং পড়াশোনা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। এই শহুরে ছেলেটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সে কোন শহুরে হাইস্কুলে পড়বে না; বরং টোকিও থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি অ্যাগ্রিকালচারাল স্কুলে পড়বে, এবং সেখানে ডর্মিটরিতে থাকবে।

স্কুলের প্রথম দিন থেকেই হাচিকেন একের পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়ে! তার সহপাঠীরা সবাই খামারের কাজে ওস্তাদ; তারা সবাই এই স্কুলে এসেছে, কারণ তারা কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরিবারকে ব্যাবসায় সাহায্য করতে চায়। সেখানে হাচিকেন জীবনে কোনদিন কাছ থেকে গবাদি পশুও চোখে দেখেনি; অন্যদের কাছে যা স্বাভাবিক ঘটনা, হাচিকেনের কাছে সেগুলোই একেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ!

1

জীবনের টুকরা জনরার বিরূদ্ধে একটা সাধারণ অভিযোগ, এগুলো নাকি বোরিং। কিন্তু রূপার চামচের বিরূদ্ধে আমার অভিযোগ, এটা দেখতে বসলে খিদে পায়! আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো শুধু করার জন্য করি, সেগুলো যে আনন্দ নিয়েও করা যায়, তা গিন নো সাজি থেকে শিখেছি। একজন শহুরে ছাত্রের অ্যাগ্রিকালচার স্কুলে পড়তে যাওয়া, সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকার প্রচেষ্টা, বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক কিছু কথা- সব মিলিয়ে এই গল্পটি রূপার চামচের মতই এক টুকরো সম্পদ। সামান্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারও যে কতটা উপভোগ্য হতে পারে, আমরা যে পিজা দোকানে গিয়ে কিনে খাই, তা সবাই মিলে বানিয়ে খাওয়া কতটা মজার হতে পারে… একটা পশুকে নিজে হাতে যত্ন করে বড় করার পর তাকে খাদ্যে পরিণত হতে দেয়াটা একইসাথে কত কষ্টের এবং আনন্দের হতে পারে- জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোর গুরুত্ব এই গল্পটি আমাকে মনে করিয়েছে। সেইসাথে খামার বা কৃষিকাজ করে যারা জীবন যাপন করে, তাদের জীবনের সুখদুঃখটা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন মাঙ্গাকা, আর তা পারবেনই বা না কেন! এর আগে তিনিই যে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্টের মত অসাধারণ এক গল্প!

014

মাঙ্গাটি আরাকাওয়া সেনসেই এর কাজ, কাজেই আর্ট এবং গল্প বলার স্টাইলের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই, প্রতিটা পৃষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হালকা হাস্যরস তৈরি করেছেন, পড়ার সময় তা মনটাকে হালকা করে তোলে। সেইসাথে অ্যানিমেটিও কম যায়না, এর ঝকঝকে মন ভাল করা আর্ট এবং অসাধারণ ওএসটির কারণে।

একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মাঝে গল্প উপন্যাসকেও হার মানায়! সেই চ্যালেঞ্জ পার করতে “ও পারলে আমি পারব” ধরণের মানিসকতা কাজে দেয়না; বরং নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে সেখান থেকেই যা করা সম্ভব তা করতে হয়। নাকামা পাওয়ার নয়, এনিথিং ফর মাই নাকামা নয়, সাধ্যমত সাহায্য করা এবং না পারলে নিজের অক্ষমতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। গিন নো সাজিতে এই বার্তাটি খুব সুন্দর একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই, পারলে আজই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গাটি এবং আবিষ্কার করুন স্লাইস অফ লাইফ জনরার একটি অমূল্য রত্ন!

10847473_407429682754877_2032844622808354923_o

Barefoot Gen(1983) রিভিউ লিখেছেন মেঘময়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে, সবার প্রত্যাশা এবার যুদ্ধ শেষ হবেই। জাপানের জনগন তাকিয়ে রয়েছে তাদের সরকারের দিকে, কখন সরকার যুদ্ধ শেষ হবার ঘোষণা দেবে। কিন্তু জাপান সরকার নির্বিকার। জনগন এদিকে অভাব অনটনে নিক্ষিপ্ত। সরকারি ration প্রয়োজন অনুযায়ী একেবারেই সামান্য। এইরকম অভাব অনটনে নিক্ষিপ্ত পরিবার এর সদস্য Gen. Gen,তার মা বাবা, বড়বোন আর এক ছোট ভাইকে নিয়েই এই গল্প শুরু হয়। Gen এর বাবা নানা রকম কাজ করে তার পরিবারের চাহিদা মিটাতে বদ্ধপরিকর। কারন gen এর মা আবার অন্তঃসত্ত্বা। নতুন অতিথি কে বরন করবার জন্য gen আর তার ভাই সবসময়ই চিন্তা করে। কিন্তু Gen এর জীবনে নেমে আসে এক নির্মম দুঃখ। আর সেই দুঃখের নাম পারমানবিক বোমা। পারমানবিক বোমা কেরে নেয় Gen এর হাসি। ভাজ্ঞক্রম্রে বেচে  যায় তার মা। কিন্তু বোমার radiation চারদিকে মৃত্যুর হাহাকার তোলে। Gen কি পারবে তার মাকে বাঁচাতে? পারবে কি তার সদ্য জন্ম নেয়া ভাই কে বাঁচাতে? জানতে হলে দেখতে হবে Barefoot Gen.

              454


মুভিটা দুই পার্ট এ বিভক্ত। Barefoot Gen এর সাথে যদি আমি Ghibli এর “grave of the fireflies” এর তুলনা দেই তবে আমি বলব Barefoot Gen একটু হলেওএগিয়ে থাকবে tragedy এর দিক থেকে। Grave of the fireflies যেখানে simplicity বজায় রেখে তার গল্প সম্পন্ন করেছে সেখানে আপনি হয়ত বলতে পারেন Barefoot Gen এর স্টোরি slow আর incomplete। তবে আপনি যদি এইসব বাদ দেন তবে Barefoot Gen দেখার মত একটি মুভি এবং একটি masterpiece.

 

 

545

 

একনজরে Barefoot Gen:

 

Director:Mori Masaki(Mamoru Shinzaki)

Writer:Keiji Nakazawa(manga)

Release Date: 1983

IMDB rating:8.1

MAL Rating: 8

My rating:8.6

 

         989

 

সামার ওয়ার্স (summer wars) লিখেছেন Torsha Fariha

 1513308_725623344116479_1745633721_n
ডিরেক্টর- মামোরু হোসোদা। (যার কিছু বিখ্যাত মুভির নাম- the girl who leapt through time, wolf children ইত্যাদি।)

জানরা- সায়েন্স-ফিকশন।

IMDb rating- 7.6

প্লট- এই গল্পের নায়ক নায়িকা হচ্ছে কেনজি আর নাৎসুকি। তারা দুইজনই একই হাইস্কুলে পড়ে। কেনজি পার্টটাইম মডারেটর হিসেবে কাজ করে একটা ইন্টারনেট বেইজড ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ‘OZ’ এ। নাৎসুকি হচ্ছে স্কুলের খুব বিখ্যাত একটা মেয়ে । কেনজির সেনপাই।

এক গ্রীষ্মে সে কেনজি আর তার ফ্রেন্ড তাকাশিকে বলে তারা একটা পার্টটাইম জব করবে কিনা! যে কোন একজনকে দরকার তার। গ্রামে যেতে হবে তার সাথে। দুইজনই তো শুনে সাথে সাথে রাজি! পরে রক-পেপার-সিসর খেলে সুযোগটা জিতে নেয় কেনজি।

গ্রেট-গ্র্যান্ডমাদার সাকায় জিন্নোচির ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নাৎসুকি গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। সেই সাথে আছে কেনজি যে তখনো বুঝেনি তার পার্টটাইম জবটা কি!
যা হোক পৌঁছানোর পর জানা গেল আসল কাহিনীটা কি! নাৎসুকি কেনজিকে ধরে নিয়ে এসেছে তার ফিয়ন্সে হিসেবে অভিনয় করার জন্য!

কেনজি হতভম্ব হয়ে দেখতে থাকল আশেপাশের পরিস্থিতি। ইয়া বিশাল একটা বাড়ি নাৎসুকির আত্মীয়-স্বজনে ভর্তি! এঁদের মাঝে তাকে অভিনয় করতে হবে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে!

যা হোক কোনোমত সামলে নিয়ে ঘুমাতে গেল সে। রাতে হুট করে তার ফোনে একটা দুর্বোধ্য সংখ্যায় ভর্তি মেসেজ আসলো। ম্যাথ পাগলা কেনজি সাথে সাথে বসে গেল সলভ করতে। সলভ করে সেটা সে পাঠিয়ে দিল রিপ্লাই হিসেবে।

পরদিন সকালে কেনজি জানতে পারলো আসলে গতরাত্রে সে ‘OZ’ এর পাসওয়ার্ড সলভ করে একজনকে পাঠিয়ে দিয়েছে। ‘লাভ মেশিন’ নামে এক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কেনজির অ্যাকাউন্ট আর তার অ্যাভাটার ইউজ করে ‘OZ’ এর ইনফ্রাস্ট্রাকচার হ্যাক করে ফেলে। যার ফলে সারা পৃথিবীতে নানারকম সমস্যা শুরু হয়।

কেনজি বুঝতে পারে সে যদি এই লাভ মেশিনকে থামাতে না পারে তবে সামনে আরও বড় বিপদ হবে। তাই সে, নাৎসুকির কাজিন কাজুমা আর নাৎসুকির বিশাল পরিবার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক যুদ্ধে- যে যুদ্ধ পিসির চারকোণার পর্দার ভেতর সীমাবদ্ধ হলেও এর উপর নির্ভর করে আছে পুরো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।

সংক্ষেপে এই হল কাহিনী। সত্যি বলতে যেমন জটিল শুনাচ্ছে কাহিনীটা আসলে দেখলে সেরকম মোটেও মনে হবে না। নাম সামার ওয়ার্স হলেও এটা কোন সিরিয়াস ধরনের মুভি না। বরং খুবই মজার, হালকা মেজাজের। পৃথিবীর এত বড় বিপদের মাঝেও তারা যেমন মন-প্রাণ ঢেলে সেটা ঠেকানোর চেষ্টার করছে তেমনি মজা-মস্করাও করছে। এই মুভির মূল থিমটাই হল- একতাই বল।

নাৎসুকিদের জিন্নোচি ক্ল্যান টা দেখে আপনি একবার হলেও আফসোস করবেন ‘ইশ! এরকম একটা জয়েন্ট ফ্যামিলি যদি থাকতো আমার!’ হ্যা। আমারও সেরকম মনে হয়েছে। সবাই হাত-পা ছড়িয়ে গল্প করছে, কাজ করছে, একসাথে খাওয়াদাওয়া করছে- ইশ! কি মজারই না ব্যাপারটা ! অ্যানালগ আর ডিজিটাল- দুই রকম ওয়ার্ল্ডের এত সুন্দর সমন্বয় আর কোথাও দেখিনি এখন পর্যন্ত!
একদম স্বপ্নের মত সুন্দর, হাশিখুশি আর রঙিন মুভিটা।

 

1512250_725623977449749_967160331_o

রিভিউ নয়, ব্যক্তিগত অনুভূতি_ বাকুমান – লিখেছেন সাদিয়া হুমায়রা মৌনতা

1558622_10201703298878787_1222419740_n

Baku(chi) Man(ga)- Gambling Manga
রাইটারঃ অহবা সুগুমি
আর্টিস্টঃ অবাতা তাকেশি
আনিমে জেনারে স্লাইস অফ লাইফের উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘বাকুমান’ আনিমেটি। জীবনের প্রতিটা দিকই এই আনিমেতে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ডেথ নোট এর পরেই অহবা সুগুমি আর অবাতা তাকেশি কম্বোর আরেকটি সৃষ্টি এই মাঙ্গা। যদিও ডেথ নোট নামটাই একটা সেলিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে দেখার আগেই, কিন্তু যা পাবেন তাতে আশাহত হবেন না, বরং বিস্মিত ও মুগ্ধ করবে মাঝে মাঝে। তারা তাদের জনপ্রিয়তা ও মানদন্ড অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

প্লট সংক্ষেপঃ মাশিরো মরিতাকা ও আকিত তাকাগি দুই নাইন গ্রেডের ছাত্র। তাকাগির প্রেরণায় ও আগ্রহে মাশিরো রাজি হয় তাকাগির লেখা কাহিনীকে মাঙ্গার রূপ দিতে। তাকাগি-রাইটার ও মাশিরো-আর্টিস্ট, এভাবেই একদিন ওদের জীবনের যুদ্ধ শুরু হয় এমন এক মাঙ্গা সৃষ্টির যা মাস্টারপিস হিসেবে আলোচিত হবে, এবং পরবর্তীতে আনিমে হবে। প্রেরণা হিসেবে করেছিল মাশিরোর চাচা এবং আযুকি মিহোর সাথে তার প্রতিশ্রূতি এবং অনুঘটক হিসেবে ছিল তাকাগির উচ্ছাভিলাষ। এইযাত্রার শুরু থেকে শেষ নিয়েই এই আনিমেটা।
প্রেরণা, প্রতিদ্বন্দিতা, প্রতিযোগিতা, সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, অনুরাগ, ভালোবাসা সবই খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু অংশে আলোকপাত করা হলো-

1512349_10201703181475852_2092669348_n

প্রেরণাঃ three rule of being mangaka if you arn’t genius
1. be conceited (believe you can do better than anyone else)
2. work hard
3. be lucky
এই কথাটি আসলে যেকোন লক্ষ্য পুরণ করার জন্য সত্যি, শুধু মাঙ্গাকা হওয়ার জন্যই না। সবসময়ই আমরা লক্ষ্য তৈরি করি, পরিশ্রম করি। কিন্তু ভুলে যাই সৌভাগ্যও একটা বড় অবদান আছে। তাছাড়া আমাদের হীনমন্যতাই মাঝে মাঝে আমাদেরকে পিছিয়ে নিয়ে যায়, সামনে আগাতে হলে কিছু দাম্ভিকতা থাকতেই হবে। তাকাগি ও মাশিরোর মাঙ্গা এডিটর কে নিয়ে আমরা ভাগ্যের উদাহরণ দেখতে পাই। একটা ভালো মাঙ্গা সৃষ্টী করার জন্য একজন ভালো এডিটর ও দরকার। এবং একজন উইনার এডীটর পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার। আর দেখা যাবে তাদের দুজনের একগুয়েমি সিদ্ধান্ত তাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে! তাদের পরিশ্রম তাদেরকে সহয়তা করেছে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগের কারণেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছে।

1531599_10201703200756334_1864367_o

অনুরাগঃ Love has many different types of form
এই আনিমেতে অনেক ধরনের রোমান্স দেখতে পাই। প্রতিটাই প্রতিটা থেকে আলাদা এবং অনন্য। মাশিরো-মিয়োর প্ল্যাটোনিক ভালোবাসা যেমন আপনাকে বিস্মিত করবে তেমন তাকাগি-কায়া’র সহজ সম্পর্ক আপনাকে আনন্দিত করবে। তাছাড়া পার্শ্ব চরিত্রের প্রেমের একটা বিরাট ভূমিকা আছে এই আনিমেতে। আইকো, হিরামারু, নাকাই, আওকি এদের প্রত্যেকের অনুভূতির গভীরতা, উত্থান-পতন, কৌতুক, হাস্যরস, দৃঢ়তা, কলহ খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

 

1537414_10201703198116268_1552219425_o

প্রতিদ্বন্দিতাঃ “Eternal rivals, it should be written as formidable enemy but pronounced friend.”
শক্তিশালী ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দির উপস্থিতি এই আনিমেতে এক আকর্ষিত ও ভিন্ন দিক। ততকালীন মাঙ্গাকাদের নিয়ে গঠিত ফুকুদা টিম এর যেকাউকেই পছন্দ হবে,তারা তাদের পরস্পরের কাজকে সম্মান করে, অনুপ্রেরণা দেয়, সাহায্য করে আবার প্রতিযোগিতাও করে।এইযি দ্য জিনিয়াস ও তাকাগি-মাশিরো দুই পক্ষই অপর পক্ষকে দেখে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে যায়। নাকামা শব্দের নতুন এক দিক তুলে ধরা হয়েছে। টিপিকাল শৌনেন এর মত ব্যাটেল ফিল্ড না থাকলেও নিজেদের দক্ষতা দিয়ে তাদের মাঝের যে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ, সেটা কোন অংশে কম না।

সবশেষে, এই আনিমে থেকে আপনি ইন্সপায়ার হওয়ার প্রচুর কারণ ও সুযোগ পাবেন। আপনার জীবন বদলে যাওয়া টাইপ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।এবং স্বাগতম আপনাকে এই দুই তরুণের মাঙ্গাকা হওয়ার সফর-যাত্রায়। 🙂

 

Kara no Kyoukai রিভিউ by Fahim bin selim

1

 

অ্যানিমে রিভিউ – কারা নো কিওকাই/ গার্ডেন অফ সিনারস/ বাউন্ডারি অফ এম্টিনেস [Kara no Kyoukai/ Garden of Sinners/ Boundary of Emptiness]
হেপ্টালজি
প্রচারকালঃ ২০০৭-২০০৯
প্রযোজকঃ ইউফোটেবল
জনরাঃ [বেস] অ্যাকশন, অতিপ্রাকৃত, রহস্য, রোমাঞ্চ [পর্বভেদে] রোমান্স, ম্যাজিক

// কাহিনী সনক্ষেপঃ হাই স্কুলের এক বরফস্নাত দিনে কিমোনো পরা এক মেয়ে, অ্যান্টিসোসাল ও রহস্যময়, শিকি রিয়োগির প্রতি আকর্ষন জন্মালো মিকিয়া কোউকোর। যতই তার কাছে আসতে থাকল, ততই সে বুঝতে পারল শহরে ঘটে যাওয়া একের পর এক হত্যাকান্ড আর অতিপ্রাকৃত জিনিসের সাথে শিকি জড়িয়ে আছে বেশ ঘনিষ্টভাবে। রহস্যের সমাধানের যখন খুব কাছে মিকিয়া তখনই আবার এক দূর্ঘটনায় মারাত্নকভাবে আহত হল শিকি।
দুই বছর পর যখন কোমার থেকে ফিরল, তখন সে হারিয়ে ফেলেছে আগের সব স্বৃতি। একত্র হল মিকিয়ার সাথে মেইজ তোউকো আওজাকির গোয়েন্দা সংস্থা, গারান নো দৌ বা হলো’ স্রাইনে। শহরে ঘটে যাওয়া সব অতিপ্রাকৃত হত্যার রহস্য সমাধান আর একই সাথে নিজের হারানো অতীত ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় নামল শিকি রিয়োগি।

// কেন ভালো লাগবেঃ কারা নো কিয়োকাই অ্যানিমের কাহিনী “নাসু কিনোকো”-র “কারা নো কিয়োকাই” উপন্যাস সিরিজ অবলম্বনে রচিত। আর উপন্যাস হওয়ার কারণে এর কাহিনী বেশ সুদৃঢ়। অ্যানিমের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে টাইপমুনের “নাসুভার্স”-এ, যাকে বলা যায় একই লেখকের “সুকিহিমে” অ্যানিমের প্যারালাল ইউনিভার্স(দুই অ্যানিমের চরিত্রদের মধ্যেও আছে অনেক মিল! বিশেষ করে কারা নো কিয়োকাইয়ের শিকি রিয়োগি এবং সুকিহিমের শিকি তোহনোর মধ্যে; শুধু নামই না, তারা একই শক্তির অধিকারীও)! জাদু ও বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তির ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে টাইপ মুনের অন্যান্য অ্যানিমের সাথেও(ফেইট/স্টে নাইট, ফেইট/জিরো)।

কারা নো কিয়োকাই এর টাইমলাইন কিছুটা…না, বেশ অগোছালো। বাইরে থেকে দেখলে অসংযুক্ত কিন্তু একই সাথে সুনিপণভাবে নির্মিত[Disjointed but tightly-constructed]! আবার চরিত্রগুলোর মাঝেও এই বৈপরিত্য লক্ষনীয়। ব্যাপারটা খোলাশা করা যাক। মুল কাহিনী বিস্তৃত ১৯৯৫ সালের আগসষ্ট থেকে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম মুভি “ওভারলুকিং ভিউ”-এর কাহিনী ১৯৯৮ সালের। শেষ দুইটি মুভি বাদে কোন পরপর দুইটি মুভি-ই টাইমলাইনে ক্রনোলজিকাল না!

চারটি মুভি ভালোভাবে মুল কাহিনীর অংশ। বাকি তিনটি প্রথমে কিছুটা স্পিন-অফ ধাঁচের মনে হলেও শেষের দিকে কোন না কোন ভাবে মুল কাহিনীর সাথে যুক্ত। আর এই পর্বগুলোতে, রহস্য অ্যানিমে হিসেবে, খুব দ্রুত কালপ্রিটকে দেখিয়ে দেওয়ায় “রহস্য”-টা খুবই ক্ষনস্থায়ী হয়, যা আমার নিজের ব্যাক্তিগতভাবে কিছুটা খারাপ লেগেছে। কিন্তু মুল কাহিনীর রহস্যের ক্ষেত্রে আবার একেবারে শেষ পর্বের শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার কাজটা অসাধারণ ভাবে করা হয়েছে।

কাহিনীর পেসিং অধিকাংশ অ্যানিমের মুভির মতই। প্রথম বিল্ড-আপ কিছুটা স্লো আর শেষের দিকে অসাধারণ সব ফাস্ট-পেসড অ্যাকশন! আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো এই অ্যানিমের আরেকটি শক্তিশালী দিক।
এর চরিত্রগুলো বিশেষভাবে বলার মত। সুনদেরে-ইশ অ্যাকশন হিরোইন হিসেবে শিকি আর শান্ত, ধিরস্থির এবং অসাধারণ নথি সংগ্রহের ক্ষমতাসম্পন্ন মিকিয়াকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই। সাথে আছে তোউকো আওজাকি, ভিলেন আরায়া সৌরেন। আর “প্যারাডক্স স্পাইরাল”-এ তোমোয়ে এনজোর ক্যামিও গল্পকে আরো শক্তিশালী করেছে।

3

আর যেকোনো আধুনিক অ্যানিমে মুভির মতই এর অ্যানিমেশনের মান বেশ উচ্চস্থানীয়। বিশেষ করে দেয়াল, মেঝে, নদীর পানি অথবা পিচের রাস্তায় জমে থাকা পানির উপর বৃষ্টি পরার দৃশ্যগুলোর(এই অ্যানিমেতে অনেক বৃষ্টি হয়। অনেক।) অ্যানিমেশন প্রায় “কোতোনোহা নো নিওয়া” পর্যায়ের, প্রায়।
ভিজুয়ালাইজেশনের দিক থেকে আবার “পাপরিকা”-র সাথে তুলনা দেওয়া যায়। “প্যারাডক্স স্পাইরাল” – ফিলোসফি, সিম্বলজিমের সাথে এই ভিজুয়াইলাইজেশনের সমন্বয় চোখ জুড়ানো এক সৌন্দর্য উপহার দিবে। আলোছায়ার খেলা, রঙের পরিবর্তন, ক্যামেরার অবস্থান আর ফোকাসিং যেকোনো মাস্টারপিচ লাইভ অ্যাকশন মুভির সাথে তুলনীয়!

আর বাকি থাকল মিউজিক। সাতটি মুভির শেষে সাতটি আলাদা আলাদা এন্ডিং সং, সবগুলোই “কালাফিনা”-র গাওয়া। এবং সবগুলোই অ্যানিমের ডার্ক থিম বজায় রাখতে অবদান রেখেছে। আর অ্যানিমের অভ্যন্তরীন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে, আলাদা ভাবে বলার মত।

// কেন ভালো নাও লাগতে পারেঃ
টাইপ মুনে ইউনিভার্স আর এর প্লট ডিভাইস সম্পর্কে একেবারেই ধারণা না থাকলে কাহিনী ভালোভাবে বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে, এক্ষেত্রে উইকিপিডিয়া বা টাইপমুন উইকিয়ার সাহায্য নিতে পারেন।
কাহিনীর অগোছালোতা। একেবারে শেষ পর্যন্ত না দেখলে সম্পুর্ন কাহিনী কিছুই বুঝবেন না। তাই পুরো সাতটি মুভি ব্যাপী মনযোগ ধরে রাখা জরুরী। এটা একটা জিগস পাজলের মত। পুরোটা সাজাতে হলে মাথা খাটানো প্রয়োজন। প্যারাডক্স স্পাইরালে আবার ফিলোসফিকাল আর সিম্বোলিজমের ছড়াছড়ি।

গোর। সাইকো থ্রিলার, খুনাখুনি নিয়ে কাহিনী বলে গোর দৃশ্যের সংখ্যা অত্যাধিক। অধিকাংশ সেইনেন মুভির মতই কয়েকটি পর্বে আছে একপ্লিসিট ম্যাচুর দৃশ্য আর কাহিনী একটি জায়াগায় আপত্তিকর জিনিস আছে।
তাই ক্লান্ত দিনের শেষে, গা এলিয়ে দিয়ে, হাসিতে গড়াগড়ি খেয়ে, মন ভালো করার মত কোন অ্যানিমে দেখতে যদি চান, তবে এটি আপনার জন্য না।

// কারা নো কিয়োকাই ফ্র্যান্সাইজঃ
১। ওভারলুকিং ভিউ
২। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার প্রথম অংশ
৩। রিমেইনিং সেন্স অফ পেইন
৪। হলো’ স্রাইন
৫। প্যারাডক্স স্পাইরাল
৬। অবলিভিওন রেকর্ডার – ফেইরী টেল
৭। মার্ডার স্পেকুলেশন/ এ স্টাডি ইন মার্ডার দ্বিতীয় অংশ
+৮। কারা নো কিয়োকাই এপিলোগ [এইটা এখনো দেখি নাই]
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং(যথাক্রমে)ঃ ৭.৯৭ । ৮.১৭ । ৮.৩৫ । ৮.১৯ । ৮.৭৫ । ৭.৯৪ । ৮.৬৬ । ৭.৩৪

// আমার রেটিংঃ
কাহিনী(যথাক্রমে)ঃ ৭ । ৮ । ৭ । ৭ । ৯ । ৭ । ১০ । n/a
মিউজিকঃ ১০
আনিমেশন/ আর্ট/ দৃশ্যায়নঃ ১০
পরিচালনাঃ ৯
চরিত্রঃ ৯
সমাপ্তিঃ ৯
ইনট্রিগঃ ৯
সর্বমোটঃ ৯.১২

2

কিমি তো বকু by Torsha Fariha

1511888_721449834533830_348125133_o

 

জানরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ।
সিজনঃ ২ (প্রতি সিজনে ১৩ টা করে মোট ২৬ টা এপিসোড)

কিমি তো বকু অ্যানিমেটা আবর্তিত হতে থাকে পাঁচ জন হাইস্কুল পড়ুয়া ছেলেকে কেন্দ্র করে। স্লাইস অফ লাইফ দেখে বোঝাই যাচ্ছে দৈনন্দিন হাই স্কুল জীবন নিয়েই এর কাহিনী।
এই পাঁচ ছেলে হচ্ছে- শুন, কানামে, চিজুরু আর ইউতা-ইউকি টুইন। পাঁচ জন পাঁচ রকম পার্সোনালিটির।

শুন হচ্ছে খুব ভালো একটা ছেলে। ভদ্র, বিনয়ী। যার প্রেমে ২-১ টা এপিসোড পরেই পড়ে মাসাকি নামের একটা সুনদেরে মেয়ে। কানামে হচ্ছে ক্লাস রিপ্রেসেন্টেটিভ। সিরিয়াস টাইপের এক ছেলে।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার হচ্ছে ইউকি- ইউতা টুইন। হ্যান্ডসাম, কুল। তাদের সেন্স অফ হিউমার সেইরকম। গম্ভীর মুখে তারা এমন সব পচানি কানামেকে দেয় যে পুরাই হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে আসে।

একমাত্র চিজুরু বাদে সবাই সেই এলিমেন্টারি স্কুল থেকে একজন আরেকজনকে চিনত। চিজুরু হচ্ছে খুব হাসিখুশি একটু ইডিয়ট টাইপের ছেলে। হাফ জাপানিজ ট্রান্সফার স্টুডেন্ট।
পাঁচ জন পাঁচ রকম ক্যারেক্টারের পরও তারা খুব চমৎকার একটা সার্কেল হয়ে যায়।এক সাথে হ্যাং আউট কিংবা বাসায় একসাথে আড্ডা দেয়া, মেলায় একসাথে যাওয়া, প্রেম-বিরহ, ছোট্ট বেলার ক্রাশ- সব মিলিয়ে হাইস্কুল ছেলেদের যা থাকে সবই এদের আছে।

আমাদের জীবণ স্লো পেসে চলে তেমনি এদের গল্পও খুব স্লো পেসে স্বচ্ছন্দে চলে। তাই বলে একদমই বিরক্তিকর না। এক এপিসোড দেখলে পরেরটা অবশ্যই দেখতে মন চাইবে। যারা অনেক দিন ধরে অ্যাকশন, হরর, সাইকো থ্রিলার দেখছেন তাদের জন্য এটা হতে পারে চমৎকার একটা রিফ্রেশমেন্ট।

খুব সাধারণ কিন্তু কেন যেন মনে খুব অসাধারণ একটা ইম্প্রেশন রেখে যায় অ্যানিমেটা। হতে পারে কারণটা চিজিরুর ওয়ান সাইডেড ক্রাশ কিংবা খুব ছোট ছোট অনুভূতির জন্য যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না…

সবচেয়ে সুন্দর যে জিনসটা যেটা হল এই অ্যানিমেতে খুব নরমাল একটা দৃশ্য অথবা কনভার্সেশন -এর মাঝেই হুট করে অন্য রকম স্বপ্নের মত সুন্দর কিছু দৃশ্য দেখায়। আমি এরকমটা কখনো দেখি নি তাই প্রথমবারের মত দেখে খুব চমকে গিয়েছিলাম। বলা যায় এই ছোট্ট একটা কারণেই খুব স্পেশাল হয়ে আছে অ্যানিমেটা আমার কাছে।

হাইস্কুল লাইফের কথা শুনলেই আমাদের মনে কিছু জেনারালাইজড চিন্তা মাথায়

আসে। অনেকে বলেই দিতে পারে কি কি থাকতে পারে এইসব অ্যানিমেতে। মানছি সেগুলর সবই আছে এখানে কিন্তু তারপরেও এটা অসাধারণ। একবার দেখে ফেললে সেটা আপনিও বুঝতে পারবেন।

 

1498972_721450547867092_450171162_o

মাঙ্গা- ওয়াতাশিতাচি নো শিয়াওয়াসে না জিকান/ Watashitachi no Shiawase na Jikan রিভিউ by Asfina Hassan Juicy

(Our Happy Hours/Our Happy Time)
ভলিউম- ১টি (৮ চ্যাপ্টার- মাত্র !!)
জেনরা- স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স, সেইনেন, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা

রোমান্স মাঙ্গা পড়তে গেলেই বেশিরভাগ সময় মাথায় প্রথম যে ধারণা আসে তা হল স্কুল সেটিং-য়ে একটা একটু অন্যরকম মেয়ে আর বেশ সুদর্শন একটা ছেলের ভালোবাসার কাহিনি।তবে রোমান্স জেনরারই এই মাঙ্গা আপনাকে নিয়ে যাবে এর থেকে সম্পূর্ণ অন্য এক জগতে…বাস্তবতার অনেক কাছে কিন্তু অনেক গভীরে…উপলব্ধি করাবে জীবনের কিছু পরম সত্য, কিছু নিষ্ঠুর দিক ও কিছু সুন্দর আশাপূর্ণ মুহূর্ত…

মুতোউ জুরি একজন মাঝবয়সী ফর্মার পিয়ানিস্ট যিনি ৩ বার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছেন। জুরির মা তার কন্যার এরূপ আচরণ সহ্য করতে না পেরে তাকে তার আন্টি মনিকার তত্ত্বাবধানে রেখে আসেন, যিনি একজন চার্চের পাদ্রী। আন্টি মনিকার সাথে জুরি আগে থেকেই পরিচিত এবং বলা যায় তিনিই জুরির সবচেয়ে আপনজন, এমনকি তার নিজের মা থেকেও। আন্টি মনিকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মানসিক সাহায্য করত। জীবনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য জুরিকে তিনি তার সাথে জেলে নিয়ে যান তেমনি এক আসামীর সাথে দেখা করতে। সেখানে জুরি পরিচিত হয় ইয়ু নামের সেই আসামীর সাথে যে তিনজন মানুষকে একবারে খুন করেছে এবং তার দন্ডের দিনগোনার সময় আবার বেশ কয়েকবার নিজেকেই খুন করতে চেষ্টা করেছে ! কি ধরনের নিষ্ঠুরতা জুরি আর ইয়ুকে ফেলে দিয়েছে এমন আশাহীন কষ্টকর জীবনে? কি তাদের পেছনের কাহিনী? এবং কিভাবে তারা রক্ষা পাবে পৃথিবীর এই ঘৃণা ও কষ্টের বেড়াজাল থেকে?

ডার্ক থিমের হলেও মাঙ্গাটির প্রতিটি চ্যাপ্টার রিফ্রেশিং ! সবার জীবনেই এক ধরনের কষ্ট, না পাওয়া থেকে থাকে কিন্তু আবার সবার জীবনেই থাকে একটু সুখ। স্বল্পক্ষণের জন্য হলেও প্রত্যেকের জীবনেই আসে একটু আশা, একটু ভালোবাসা, একটু মুক্তি। কষ্টের জন্য জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি ঘৃণা থেকে মুক্তি দিতে পারে সামান্য এসব জিনিসই। মাত্র ৮ চ্যাপ্টারের মধ্যে জীবনের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে! এই মাঙ্গাতে আপনি পাবেন না কোনো মাথা উল্টানো প্লট টুইস্ট, জটিল অ্যাকশন বা থ্রিল…এমনকি পাবেন না কোন মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক মুহূর্ত, গভীর ভালোবাসার বন্ধন বা তীব্র আকাঙ্ক্ষা… শুধু পাবেন দুইজন মানুষের অতি সাধারণ কিন্তু একইসাথে অসাধারণ জীবনের এক অধ্যায়।

মাঙ্গার আর্টের কথা বলতে গেলে সহজভাবে বেশ সিম্পল কিন্তু সুন্দর। কাহিনীর সাথে বেশ ভালই সমন্বয় করেছে। কাহিনির জন্য একদম পর্যাপ্ত ও পারফেক্ট করে এভাবে আঁকা তবে অভাব না রাখা আসলে খুব কম মাঙ্গাকাই পারেন।

শেষে বলা যায়, এক কথায়, চমৎকার স্লাইস অফ লাইফ। ৮ চ্যাপ্টার- একদিন বসলেই খতম! মাঙ্গা পড়েন আর না পড়েন ট্রাই করে দেখতে পারেন। দিনশেষে হয়ত দিতে পারে আপনার জীবনেরই কোন প্রশ্নের উত্তর, করে তুলতে পারে আবেগি ও অনুপ্রেরণা দিতে পারে এগিয়ে যাওয়ার পথে

পরিশেষে রেটিং-
মাল রেটিং – ৯.১০
আমার রেটিং – ১০ (কাটার কিছু পাইলাম না )

 

Yuusha ni Narenakatta Ore wa Shibushibu Shuushoku wo Ketsui Shimashita. (Yuushibu) – Review By Tahsin Faruque Aninda

এপিসোড: ১২
জনরা: কমেডি, ইচ্চি, ফ্যানটাসি, রোম্যান্স

রাউল চেজার, সে এক হিরো একাডেমির স্টুডেন্ট ছিল আর স্বপ্ন ছিল একদিন হিরো হয়ে উঠবে আর ডিমন লর্ডকে হারিয়ে দিবে। কিন্তু এরই মধ্যে কেউ একজন ডিমন লর্ডকে যুদ্ধে পরাজিত করে, আর সমগ্র হিরো বনাম ডিমন সিস্টেম ভেঙ্গে পরে। এখন সে একজন সাধারণ মানুষ, আর লিওন নামক ম্যাজিক শপে সে এখন একজন সেলসম্যানের কাজ করে।
এমন সময়ে একজন দোকানে আসে চাকরির জন্যে, তার রেজ্যুমে-তে লিখা:

নাম – ফিনো
পূর্বের পেশা – ডিমন লর্ডের উত্তরাধিকারী
চাকরির আবেদনের কারণ – আমার বাবা হেরে গিয়েছে তাই

এখান থেকেই শুরু হয় হিরো হতে হতেও না হতে পেরে অবশেষে বিরক্ত হয়ে সেলসম্যানের কাজ নেওয়া রাউল এবং অতিরিক্ত পজিটিভ মানসিকতার ডিমনলর্ড-কন্যা ফিনোর কাহিনি।

পুরো আনিমের সারমর্ম এভাবে বলে দেওয়া যায়-
১/ রাউল ফিনোকে শিখায় যে এভাবে এভাবে কাজ করতে হবে, আর ফিনো সেগুলা ধীরে ধীরে শিখতে থাকে
২/ ইচ্চি
৩/ ফিনো অনেক বেশি পজিটিভ
৪/ ইচ্চি
৫/ ইচ্চি
৬/ অন্য একটা সুপারশপের সাথে লিওন শপের কর্মীদের পাট্টাপাট্টি, কারা বেশি বিক্রয় করতে পারে
৭/ ইচ্চি
৮/ মাঝে মাঝে ঝাপসা করে দেওয়া ন্যুড শট [যা হয়তো পরে আনসেন্সর্ড প্রিন্টে ঝাপসা নাও থাকতে পারে ]
৯/ সবশেষে, ইচ্চি

এত্তগুলা ইচ্চি দেখে হয়তো বুঝাই যাচ্ছে যারা ইচ্চি দেখতে পছন্দ করেন তারা এইটা দেখে মজা পাবেন। ঘটনা সেরকমই!
আমার সাজেশন, ইচ্চি আনিমে ভাল লাগলে ট্রাই দিতে পারেন, ভাল টাইম পাস হবে। আর ইচ্চি ভাল না লাগলে এইটা দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।

সব মিলিয়ে, একটি “OK” সিরিজ।

MyAnimeList রেটিং – ৭.১৬/১০ [এই মুহুর্তে]
আমার রেটিং – ৬.৫/১০

ক্যাটাগরি: “টাইমপাস”

 

Hyouka – The Curious Case of Chitanda Eru~~ লেখক রেড এলার্ট

[Writer’s Note: With little editing and cropping writer directly translated this from an English version of this review which belongs to him as well as the Bangla version. So you may find some English word/sentence in between. Writer begs pardon for this inconvenience.]

 ব্যক্তিগত ভাবে আমার পছন্দ হলেও, বহুবার বহু আনিমেকে রিভিউর স্বার্থে কম রেটিং দিতে হয়েছে। আমি মনে করি একটি রিভিউ লিখার সময় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কথা না ভেবে আনিমেটির প্রাপ্য মূল্যায়ন করা উচিত। আমি নিজেও যে সব সময় তা মেনে চলতে পারি সেটা নয় তবে চেষ্টা করি। শুরুতেই এসব বলার কারণ হল এই Hyouka রিভিউ দেখে অনেকে আমায় মনে মনে গালমন্দ করতে পারেন। তবুও আপনার যদি মনে হয় আমি Hyouka অপছন্দ করি, দেন ইউর আর্গুমেন্ট ইজ ইনভেলিড। ¯(ツ)/¯

 Hyouka_2What do you think they are looking at?

২০১০ সালের দিকে একটা আজিব SUBGENRE গজিয়ে উঠে যেটাকে এর আগে কেউ তেমন একটা পাত্তা দেয়নি, কিন্তু হঠাৎই এই SUBGENRE এর আনিমে তৈরিতে প্রোডাকশন হাউসগুলোর মাঝে একরকম হুলুস্থুল বেধে যায়। ললি (Loli) গোয়েন্দার দল আর তাদের খাঁজুরে রহস্য গল্প, এই হল সেই SUBGENRE এর মূল কনসেপ্ট। খুবই অল্প সময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো চারদিকে ভরে যাওয়া এই আনিমেগুলোর মধ্যে কয়েকটা উল্লেখ্যযোগ্য হলঃ

        Un-Go by BONES STUDIO

        Loups=Garous by IG PRODUCTION

        Dusk Maiden of Amnesia by SILVER LINK

        Heaven’s Memo Pad by JC STAFF

        Dantalian by GAINAX (I love you but, fuck this shit GAINAX!)

        Tantei Opera Milky Holmes by JC STAFF

        Gosick by BONES STUDIO

উল্লেখ করা দরকার যে এগুলো আমি নিজে দেখেছি, এসব ছাড়াও আরও কত এই টাইপের আনিমে আছে কে জানে। এই আনিমেগুলোর কোনটাই আর দশটা গড় মানের আনিমে থেকে ভাল নয় এবং দর্শকদের জন্য নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারেনি। এ ধরনের একেকটা আনিমে বের হয়, হইরই হয়, এবং যথারীতি কয়েক মাস পর ফ্যানদের হইচই স্তিমিত হয়ে আসে। তারপর আবার অন্য কোন প্রোডাকশন স্টুডিও আরেকটা আনিমে বের করে, এভাবেই চলতে থাকে এই অশুভ চক্র। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে স্টুডিওগুলো একত্র হয়ে বাজি ধরেছে কে কত নিকৃষ্ট ললি গোয়েন্দা আনিমে তৈরি করতে পারে। এবং সেই বাজির খেলায় সর্বশেষ সংযোজন কিওটো এনিমেশন (Kyoto Animation) এবং তাদের Hyouka। এবার দেখা যাক খেলায় তারা জেতে নাকি হারে।

 Hyouka_1

প্রথমত, যদি আপনি K-ON প্রসূত MOE স্টাইলের ফ্যান হয়ে থাকেন তবে এই আনিমে আপনার পছন্দ হবে। আনিমেটির বাজেট আকাশ ছোঁওয়া এবং দেখতেও অত্যন্ত ডিটেইল্ড, জীবন্ত, পরিষ্কার এবং কাওয়াই দেসু~। ভয়েস অ্যাক্টিং আর মিউজিকও তাদের কাজ সফল ভাবে করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আপনি যদি নতুন কিছু চান তবে তা এখানে খুজে পাবেন না। হাইস্কুল MOE জিনিষটার শুরু হারুহি সুজুমিয়ার দ্বারা। আর খামখেয়ালি MOE এর উদ্ভব K-ON থেকে। এবং এই দুটোর মিশ্রণ হল Hyouka। Hyouka-র সেই একই স্কুল গ্রাউন্ড আর MOE স্টাইল আর্টওয়ার্ক যেটা ২০০৬ সালে হারুহি সুজুমিয়া থেকে শুরু করে গত প্রায় এক দশক ধরে বহু আনিমেতে আমরা দেখে আসছি, তাই আমার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এই আনিমেগুলোর কোন একটাতে না আবার হারুহি এসে হাজির হয়। যেহেতু আর্ট তো আছেই, এমনকি দৃশ্যপটগুলোও হুবহু প্রায় একরকম, তো কেন নয়? এবং অবশ্যই আমি বলছিনা যে এই স্টাইল কুৎসিত কিংবা বিরক্তিকর; একই স্টুডিও KyoAni-র অন্যান্য টাইটেলগুলোর সাথে Hyouka-র এত মিল যে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আগের আনিমেগুলোকেই ঘসে-মেজে আবার দেখাচ্ছে, এই আর কি। তাই KyoAni-র এবার প্রয়োজন নতুন ধাঁচের কিছু করা।

তবে লাখ টাকার হাতি কিনা। বিক্রি করবে কে।

আনিমেটির কাহিনী হচ্ছে চার কাওয়াই টিনএজার, তাদের দৈনিক জীবন ও কিছু “নেই কাজ তো খই ভাজ” জাতিও রহস্য ঘিরে যেগুলো নিয়ে কোন স্বাভাবিক ব্যক্তি ২ মিনিটের বেশী ভাববে না। রহস্যগুলো কেমন তা এক কথায় বর্ণনা করতে গেলে বলতে হয় সেগুলো অনেকটা এরকম, “Why did the chicken cross the road?” এবং সমাধান হল “Because it saw a worm on the other side”।

তো সর্বকালের সবেচেয়ে বোরিং রহস্যগল্প অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী… Hyouka!!

 Hyouka_3

আর বাকি নন-মিস্টরি সময়টায় এর চরিত্রসমূহ আর তাদের পারসোনালিটি সম্পর্কে আমাদের জানার সুযোগ হয়। আনিমেটির মূল চরিত্র ওরেকির কাছে সবকিছু একঘেয়ে মনে হয় তবুও নতুন কিছু করতে সে আগ্রহী নয়। জীবন সম্পর্কে সে উদাসীন ও অলস। হঠাৎই এক কিউট মেয়ে চিতান্দার উদয় হয় এবং তাকে ক্লাব কর্মকাণ্ডে যোগদান আর নানারকম রহস্য সমাধান করতে উৎসাহিত করতে চেষ্টা করে। যদিও ওরেকি তাকে সবসময় এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে কিন্তু চিতান্দা তার “কেন মুরগী রাস্তা পাড় হয়” জাতিও রহস্য দ্রুততার সাথে সমাধান করবার অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা দেখে যারপরনাই মুগ্ধ। বিধায় ওরেকি কে চিতান্দা সর্বদা জ্বালাতন করে।

আপনি কি একজন অ্যান্টি-সোসিয়াল, যার জীবন সুখী কিন্তু একঘেয়ে? আপনি কি মনে করেন আপনি খুবই ক্যারিশম্যাটিক এবং বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের উচিত আপনার প্রতি আরও আগ্রহী হওয়া, যদিও আপনি ভাব ধরে রাখেন যে আপনি কারও ব্যাপারে কেয়ার করেন না এবং অন্য সবাই এ কারণে আপনাকে নিয়ে পরিশ্রান্ত? তাহলে Hyouka আপনার জন্যই! টা-ডা!

জী না। ওটা কোনও কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন ছিল না।

 Hyouka_4

আমি বলবোনা যে পুরো জিনিষটাই আমার অপছন্দ হয়েছে, যেহেতু আনিমেটি শুধুই কমেডি আর গল্পহীন কিউটনেস নয়। প্রত্যেকটা পর্বেই কাহিনীর খানিকটা হলেও অগ্রগতি হয় এবং চরিত্রদের সম্পর্কেও কিছুটা জানা যায়। ব্যাপারটা হল, অগ্রগতিটা বেশ অপ্রতুল এবং যতটুকু হয় তার বেশীর ভাগই খামখেয়ালী আর MOE-MOE। যখনি চিতান্দা তার উজ্জ্বল চোখ জোড়া নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাবে আপনার মন চাইবে তাকে জড়িয়ে ধরতে। এই অনুভূতি থেকে রক্ষা পাবার কোন উপায় নেই। তাই এই আনিমেটা দেখতে হলে একটা নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল থেকে এগোনো গুরুত্বপূর্ণ; একদল MOE চরিত্র টানটান উত্তেজনাময় রহস্যের সমাধান করছে এই হিসেবে নয়, বরঞ্চ খাঁজুরে সব রহস্যগল্প আর কিছু কিউট খেয়ালী চরিত্র নিয়ে একটা MOE আনিমে হিসেবে দেখতে হবে।

প্লট তেমন একটা নেই আগেই বলেছি, এন্ডিংটাও নিরেট হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। আবার প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব আর পটভূমি তিন লাইনে বর্ণনা করে দেয়া সম্ভব। তো Hyouka হল সেই আনিমেগুলোর মতো, যেগুলো আয়েশ করে বসে দেখা যায়, দেখতে দেখতে মাথায় নানারকম উদ্ভট চিন্তা খেলে যায়না এবং দু’ মিনিট পরপর চিতান্দা-র নানান কাওয়াই মুখভঙ্গি দেখে মোহাবিষ্ট হয়ে ওঠা যায়। আর অন্যসব ললি গোয়েন্দা আনিমে থেকে এ কারণেই Hyouka শতগুণে উত্তম। এখানে কোন ম্যাজিকাল কিংবা টেকনোলজিক্যাল নন্সেন্স নেই, অথবা কেউ কোন মার্ডার রহস্য ১০ মিনিটে সমাধান করে বসে থাকে না। রহস্য যা আছে তা আসলে চরিত্রগুলোকে কিছু একটা করতে দেবার জন্য হালকা একটা অজুহাত মাত্র, ফলে তারা যাতে স্কুলে লেখাপড়া করা ও একঘেয়ে জীবন থেকে রক্ষা পাওয়ার একটা সুযোগ ও লক্ষ্য পায়। তবে সেটাও Hyouka খুবই সুক্ষ ও সুন্দর ভাবে করেছে। তাই কোন NEET ললি গোয়েন্দা গোপন ক্যামেরা দিয়ে লোকের উপর গুপ্তচরগিরি করে বেড়াচ্ছে কিংবা কোন ছেলে মেয়ে সেজে  অভিযুক্ত আসামীকে ব্রেইনওয়াশ করে তার মুখ থেকে স্বীকারোক্তি বের করছে এই ধরণের আবর্জনা থেকে Hyouka হাজারোগুনে ভাল নয় কি? আর হ্যাঁ, ওই দুই ধরণের আনিমে দেখবার দুর্ভাগ্য আমার আসলেই হয়েছে।

Hyouka_5

তো KyoAni সবচেয়ে বাজে ললি গোয়েন্দা আনিমে তৈরির প্রতিযোগিতায় শেষ স্থান লাভ করেছে। দ্যাটস রাইট, এই SUBGENRE এর অন্যসব আনিমে থেকে Hyouka তার মূল কনসেপ্ট সঠিক ভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, সুতরাং সব কিছু লেজগোবরে না করে ফেলবার জন্য Hyouka পাশ মার্ক পেয়ে যাবে। তবে যেহেতু রহস্যগল্প হিসেবে আনিমেটায় সত্যিকারের উত্তেজনা, বিপদ কিংবা কোন বৃহৎ লক্ষ্য নেই তাই লেজগোবরে করে ফেলবারও আসলে কোন সুযোগ নেই। এটাই MOE-র অসম শক্তি, MOE কখনই ভুল হতে পারেনা। শুধু মাত্র অত্যন্ত একঘেয়ে, যা মিলিওন মিলিওন মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। প্রতিটি দিন নানান এক্সাম, বোরিং ক্লাস, ক্লাসের মস্তান টাইপ ছেলে, ডিমান্ডিং টিচার, বসের ঝাড়ি, কাজের চাপ আর ফেরার সময় রাস্তার হইহুল্লোর ইত্যাদি সামলে বাসায় এসে কম্পিউটারের সামনে আয়েশি ভঙ্গিতে বসে কেন মুরগীটা রাস্তা পাড় হল এই চিন্তা করা ছাড়া আর তেমন মাথা খাটাতে হয়না এমন একটা রিলাক্সিং আনিমে দেখতে নেহাতই মন্দ লাগেনা। আর হ্যা, যতবার চিতান্দা স্ক্রিনের দিকে চেয়ে মুচকি হাসবে ততবার গলে পানি হয়ে যাবার কথা বাদ দিব কেন।

যদি আপনি কোন টানটান উত্তেজনাপূর্ণ আনিমে দেখতে চান যেটা দেখতে দেখতে আপনার মাথায় শত রকমের চিন্তা খেলে যাবে তাহলে Hyouka থেকে দূরে থাকুন। তবে Slice of Life ফ্যানদের জন্য আনিমেটি উপভোগ্য হবে।

Hyouka_6

আমি চিতান্দাকে অত্যন্ত পছন্দ করি, তাই নিম্নের রেটিং দেখে আপনার যদি মনে হয় আমি অবিচার করছি, দেন কুল স্টোরি ব্রো, আই এম জাস্ট বিইং ফেয়ার অ্যান্ড স্কয়ার।

  • ART SECTION: 9/10

General Artwork 2/2 (well made, looks awesome)

Character Figures 1/2 (generic but ok)

Backgrounds 2/2 (basic but fitting with the feeling of the series)

Animation 2/2 (very smooth)

Visual Effects 2/2 (nice cinematic)

  • SOUND SECTION: 9/10

Voice Acting 3/3 (fitting perfectly with the feeling of the series)

Music Themes 3/4 (not great but fitting with the feeling of the series)

Sound Effects 3/3 (not great but good, fine support in cinematic)

  • STORY SECTION: 2/10

Premise 0/2 (boring as fuck)

Pacing 1/2 (slow as shit)

Complexity 1/2 (what?)

Plausibility 0/2 (who?)

Conclusion/Ending 0/2 (where?)

  • CHARACTER SECTION: 6/10

Presence 2/2 (super cute)

Personality 2/2 (cheesy but well founded)

Backdrop 1/2 (generic and simplistic but it’s there)

Development 1/2 (subtle but it’s there)

Catharsis 0/2 (doesn’t exist)

  • VALUE SECTION: 3/10

Historical Value 0/3 (none)

Rewatchability 1/3 (low because of too little plot)

Memorability 2/4 (a well made slice of life show but nothing worthy to remember it past that)

  • ENJOYMENT SECTION: 4/10

Art 1/1 (looks great)

Sound 1/2 (sounds ok)

Story 0/3 (what story?)

Characters 2/4 (sweet but that is all)

  • TOTAL: 6/10 [DECENT]