রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩১: Shigatsu wa Kimi no Uso — Fatiha Subah

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – প্রথম স্থান অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো

জানরাঃ মিউজিক, শোউনেন, স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০       

“আই মেট দা গার্ল আন্ডার ফুল-ব্লুমড চেরি ব্লসমস অ্যান্ড মাই ফেট হ্যাস বিগান টু চেঞ্জ”-সিরিজটার নামের নিচের এই শিরোনামটি পড়লে মনে হয় এটি সেই চিরাচরিত “বয় মিটস গার্ল অ্যান্ড ফল ইন লাভ” ধরনের কাহিনী। কথাটা মানুষকে দেখার জন্যে আকর্ষণও করতে পারে আবার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণও হতে পারে। একই সাথে ব্যাপক প্রশংসিত এবং ওভার রেটেড খেতাব পাওয়া আনিমেটা তাই বেশ বিভ্রান্তিকরই বটে। কিন্তু এত দ্বিমত কেন? চলুন জেনে আসি

গল্পঃ ১৪ বছর বয়সী মিডল স্কুল পড়ুয়া আরিমা কোউসেই এক অসাধারণ পিয়ানো বাদক। কিন্তু যার হাত ধরে পিয়ানোর হাতেখড়ি হয়, ২ বছর আগে সেই মায়ের মৃত্যুতে শোকে বিপর্যস্ত হয়ে সে পিয়ানো বাজানো ছেড়ে দেয়। আরিমার ভাষ্যমতে সে অন্যদের পিয়ানোর সুর শুনতে পেলেও নিজেরটা শুনতে অক্ষম। বাল্যকালের বন্ধু ওয়াতারি আর বান্ধবী সুবাকি’র সাথে কোনমতে দিন পার করে। মনমরা আর বিমর্ষ আরিমাকে দেখে বিরক্ত সুবাকি ওয়াতারির সাথে আরিমাকে জোর করে নিয়ে যায় এক মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। কাওরি মিয়াজোনো, একজন ভায়োলিনিস্ট যে আরিমার জীবনে অনেকটা ঝড়ের মতই হাজির হয়ে সব ওলটপালট করে দেয়, যেই মেয়ে তার জীবনে বসন্ত আনে কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওয়াতারিকে পছন্দ করে, তার হাত ধরে গল্পের শুরু।

আর্ট এবং অ্যানিমেশনঃ এই সিরিজটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল এর অসম্ভব সুন্দর অ্যানিমেশন। সব আনিমেই তো রঙিন হয়। কিন্তু এই শব্দটি যেন নতুন করে শিখবেন এখানে। বিশেষ করে শুরুর আর শেষের দিকের কিছু পর্বে এতই রঙের খেলা আছে যা বলাই বাহুল্য। এটা নাকি এপর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বাজেটওয়ালা স্লাইস অফ লাইফ আনিমে। মজার বিষয় হল এখানে অন্য আনিমের মত চরিত্রগুলোর মুখ শুধু একটা দাগ দিয়ে দেখানো হয়নি বরং আসলেই ঠোঁট আছে! তবে ২ বছরের ব্যবধানে এত বেশি ছোট আর বড় দেখানো হয়েছে চরিত্রগুলোকে যেটা অসামাঞ্জস্য। আরিমার চশমার ডাটি সাইড থেকে দেখায় না। এ জিনিসগুলোর জন্যে মাঝে মাঝে বেশ আজগুবিও লাগে।

মিউজিক এবং সাউন্ডঃ ক্লাসিক্যাল মিউজিক নির্ভর আনিমে তাই মিউজিক নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। বেয়টোভেন, শোপান প্রমুখ মিউজিসিয়ানদের মিউজিক পিসের উপস্থিতি আছে ভালভাবেই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, ওপেনিং-এন্ডিং সবই শ্রুতিমধুর।

চরিত্রঃ আমার মতে মানুষ যদি ইয়ুনোর জন্যে মিরাই নিক্কি দেখতে পারে তাহলে শুধু কাওরির জন্যে হলেও শিগাতসু দেখা উচিৎ। আমরা যেটাকে শেষ বলে মনে করি সেটাই কি শেষ? নাকি সেটা নতুন কিছুর শুরু? জীবনের ঠিক কোনখানে গিয়ে হাল ছাড়ার অধিকার আছে? নাকি সেই মুহূর্তে গিয়ে আবার পূর্ণউদ্দ্যমে লেগে পরা উচিৎ? মিথ্যা বলা কি আসলেই খারাপ? ভালোবাসার মানে কি কাউকে নিজের কাছে চাওয়া নাকি তাকে সুখী জীবনে ছেড়ে দেওয়া? কাওরির কাছে জীবনকে নিয়ে শেখার অনেক কিছুই আছে। আপনি যদি হতাশায় ডুবে থাকেন তাহলে কাওরি হতে পারে আপনার বড় অনুপ্রেরণা। এছাড়া ওয়াতারি বাদে বাকি প্রায় ছোট-বড় সব চরিত্রের বেশ ভালো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে।

খারাপ দিকগুলোর মাঝে রয়েছে সবসময় দুঃখ-দুঃখ ভাব থাকা সত্ত্বেও অসময়ে কমেডি আনার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। শুরুতে আর শেষে বেশ দ্রুত আগালেও মাঝে কাহিনী স্থবির হয়ে যায়। শুনতে খুব রূঢ় শোনালেও সত্যি বলতে একে ওভার রেটেড বলার কারন এখানে একটা সিরিজকে জনপ্রিয় বানানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পটা অনেকটা তেমনই। তবু সেই গল্পটা শেষ পর্যন্ত উপস্থাপন করা হয়েছে খুব সুন্দরভাবে। নইলে কেন শেষ পর্ব দিয়ে ম্যাল রাঙ্কিংয়ের টপ ৫০ থেকে ১৩ নাম্বারে আসবে!

যাদের ভালোবাসার অনুভুতি আছে এমন কাহিনীযুক্ত বাস্তবতা নির্ভর মিউজিক্যাল আনিমে পছন্দ তাদের জন্যে এটা আদর্শ আনিমে।

31 Shigatsu

Comments

comments